একক ও সমকামী নারীদের সন্তানধারণের অনুমুতি দিয়ে একটি নতুন আইন পাস করেছে ফরাসি পার্লামেন্ট। আইভিএফ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সন্তানধারণ করতে পারবেন একক ও সমকামী নারীরা।
এতদিন আইভিএফ চিকিৎসা পদ্ধতি ফ্রান্সে আইনসিদ্ধ ছিল। অর্থাৎ, স্বাভাবিকভাবে সন্তান না হলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সন্তান নেওয়ার ব্যাবস্থা। এ ছাড়া স্পার্ম ডোনারও ছিল আইনসিদ্ধ। কিন্তু সমকামী কিংবা একক নারীদের ক্ষেত্রে আইভিএফ চিকিৎসা আইনসিদ্ধ ছিল না। যদিও ফ্রান্সে সমকামী বিবাহ বৈধ। এর কারণে অনেক নারী অন্য দেশে গিয়ে আইভিএফ চিকিৎসা করিয়ে সন্তান নিয়ে ফিরতেন।
দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়টি নিয়ে ফরাসি পার্লপমেন্টে বিতর্ক চলছিল। শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে একটি আইন তৈরির কথা হয়। কিন্তু রক্ষণশীলরা কোনোভাবেই এই আইনের পক্ষে ছিল না। নানাবিধ আন্দোলোনের পর প্রায় দুই বছর ধরে এই আইনটি নিয়ে ফরাসি পার্লামেন্টে বিতর্ক চলছিল। প্রায় ৫০০ ঘণ্টার বেশি সময় বিতর্ক হয় এবং ১২ হাজার বার আইনটির পবিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে।
অবশেষে বিপুল ভোটে ফরাসি নিম্নকক্ষে আইনটি পাস হয়েছে। এই আইনের পক্ষে সর্বমোট ৩২৬টি ভোট পড়েছে। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ১১৫টি। সর্বশেষ মাক্রো এবং তার মন্ত্রিসভার চেষ্টায় আইনটিকে পাস করানো সম্ভব হয়েছে।
ফ্রান্সে সমকামী নারীরাও সন্তান নিতে পারবেন,সংসদে আইন পাস
ফেসবুক লাইভে এসে পরীমণিকেই দোষলেন জয়নাল হাজারী
অভিনেত্রী পরীমণি প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করে ফের আলোচনায় এলেন ফেনীর আলোচিত রাজনীতিবিদ জয়নাল হাজারী। সম্প্রতি সাভারের বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন এই অভিনেত্রী। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে জয়নাল হাজারী এ ঘটনার জন্য পরীমণিকেই দায়ী করেন।
ফেসবুকে পরীমণিকে অভিযুক্ত করে তিনি বলেন, ‘মেয়েটা বোট ক্লাবে না গেলে এ ঘটনা ঘটতো না। তাকে যদি ধর্ষণ করা হয় বা নির্যাতন করা হয়, তা তার দোষেই হয়েছে। সে তো জানে ওই ক্লাবে কী হয়। মদ খাওয়া হয়, জুয়া খেলা হয়। আমি যদি জেনে-শুনে বাঘের মুখে পড়ি, বাঘ তো আমাকে খাবেই। সাপের গায়ের ওপর পা দিলে তো কামড়াবেই। এটা তো জানা কথাই, তাহলে সে কেনো গেলো। মূলত এ ঘটনার জন্য আমি তাকেই অপরাধী মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘একটি কথাতেই সব শেষ হয় যে, এই মেয়ে বোট ক্লাবে গিয়েই অপরাধ করেছেন। তিনি বোট ক্লাবের ঘটনার পর থানায় গিয়েছিলেন মামলা করতে। তবে পরীমণি অসংলগ্ন, মাতাল ছিলেন বলে সেই মামলা নেননি থানার ওসি সাহেব। আমার প্রশ্ন, সে যদি মাতাল হয় তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে নিয়ে ওয়াশ করার নিয়ম; কিন্তু তখন তা কেন করা হলো না।’
এ মন্তব্যের বিষয়ে ফেনীর স্থানীয় রাজনৈতিকরা মনে করছেন, রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাওয়া জয়নাল হাজারী সব সময় আলোচনা-সমালোচনায় থাকতে পছন্দ করেন। এই কারণেই তার এমন ফেসবুক ভাষণ। এ বিষয়ে ফেনীর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা জানান, ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক তরুণীকে প্রকাশ্যে নিপীড়নকারী যুবকদের পক্ষ নিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন এই রাজনীতিবিদ।
শেষ হলো জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন
সংবিধান অনুযায়ি অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ঘোষণা পাঠ করে শোনানোর মাধ্যমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা দেন।
শেষ দিনে রেওয়াজ অনুযায়ি সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাপনি ভাষণ দেন।
এছাড়া বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও বক্তৃতা করেন।
অধিবেশন সমাপ্তির আগে ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলায় দেয়া ভাষনের অডিও ভিডিও শোনানো ও প্রদর্শন করা হয়।
এ অধিবেশনে গত ৩ জুন অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বর্তমান সরকারের এ মেয়াদের তৃতীয় বাজেট পেশ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে বাজেট তৈরিতে মানুষের জীবন-জীবিকাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শ্লোগান শীর্ষক ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর ১১ জুন অর্থমন্ত্রী ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেন।
এবারো বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণের (কোভিড-১৯) দুর্যোগের মধ্যেই অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে জীবন-জীবিকাকে প্রাধান্য দিয়ে বাজেট পেশ করা হয়।
এবারের বাজেট অধিবেশন গত ২ জুন শুরু হয়ে মোট ১২ কার্য দিবস চালানো হয়। সম্পূরকসহ বাজেটের উপর মোট ১৫ ঘন্টা ৩২ মিনিট আলোচনা হয়েছে। এর ওপর আলোচনায় অংশ নেন ৮৫ জন সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য।
বাজেট পাসসহ এ অধিবেশনে ৭টি সরকারি বিল পাস হয়। আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কার্যাবলী সম্পাদনের পাশাপাশি কার্য প্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে ৪০টি নোটিশ পাওয়া যায়।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সর্বমোট ৭৩টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনি ৩০টি প্রশ্নের উত্তর দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য প্রাপ্ত মোট ১০৫৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৭শ’টি প্রশ্নের জবাব দেয়া হয়।
এর আগে স্পিকার বলেন, নানা বিচারে এবারের বাজেট দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা প্রসূত একটি আর্থিক প্রস্তাবনা।‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ এর অগ্রাধিকারসমূহের সাথে সঙ্গতি রেখেই এবারের বাজেট প্রণীত হয়েছে। অতীতের অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী দিনের আশা জাগানিয়া সকলের জন্য সমৃদ্ধির ভিত্তিভূমি স্থাপনের এক কৌশলী দলিল।
তিনি বলেন, বাজেটে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের প্রতিফলন ঘটেছে। ২০৩০ সালে এসডিজি’র লক্ষ্যসমূহ অর্জনের সময়সীমা, ‘রুপকল্প-২০২১’ এর মত ‘রুপকল্প-২০৪১’কে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণীত হয়েছে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। যেখানে অর্থনীতির চালিকা শক্তি হবে উন্নত প্রযুক্তি ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি।
এ অধিবেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সংসদ সদস্যদের সর্বাত্মক সহযোগিতার জন্য স্পিকার সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সংসদ অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতা প্রদানের জন্য স্পিকার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়া তিনি চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, বিরোধী দলীয় নেতা, উপনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর পর স্পিকার অধিবেশন সমাপ্তি সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করেন। বাসস।
বগুড়ায় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকট, হাইকোর্টের বিচারপতির হস্তক্ষেপে সমাধান হচ্ছে ; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ কী?
বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার জন্য হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে জানানোর পর এটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে বিষয়টি স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে জানানো হয়। এর পর তারা কথা দেন রোববারের মধ্যে বগুড়ার এই হাসপাতালের হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংকট সমাধান হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন হাইকোর্টের বিচারপতি যদি বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ না করতেন তা হলে এ সমস্যার সমাধান হতো না। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কী এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এ ছাড়া যেসব জায়গায় হাইকোর্টে বিচারপতিরা হস্তক্ষেপ করবেন না এখানে এসব সমস্যার সমাধান হবে কী ভাবে ? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোনো দায়িত্ব নেবে না?
সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস পরিবেশিত খবরে জানান গেছে, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটে ৭ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আরো ১০ জন রোগীর অবস্থা মুমূর্ষ, এমন সংবাদ গণমাধ্যমে দেখে শনিবার মধ্যরাতেই সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিমকে অবহিত করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। এর পর বিষয়টি এটর্নি জেনারেলকে দেখতে বলেন আদালত। মনজিল মোরশেদ বলেন, রাতেই এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেন। কাল রোববারের মধ্যে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা সংকটের সামাধান হবে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, বগুড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে ৭ জন মারা গেছে। আরো ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত গেল ১৬ ঘণ্টায় চাহিদা অনুযায়ী উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন না পাওয়ায় ৭ করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে উচ্চ আদালতের নজরে আনেন এডভোকেট মনজিল মোরশেদ।
উল্লেখ্য, ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত চলমান লকডাইনে উচ্চ আদালতে অতীব জরুরি বিষয় শারিরীক উপস্থিতি ব্যাতিরেকে ভার্চুয়ালি শুনানি ও নিস্পত্তির জন্য বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিমের বেঞ্চসহ তিনটি বেঞ্চকে সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা নিজ নিজ বাসা থেকে ভার্চূয়ালী শুনানিতে সংযুক্ত হবেন বলে প্রধান বিচারপতির নির্দেশক্রমে জারি করা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। যা সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে চলমান লকডাউনে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের না আসতে অনুরোধ জানান হয়।
একইসঙ্গে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করতে পারবেন দক্ষিণ আফ্রিকার নারীরা,সমকামীদের বিয়েও বৈধ, প্রতিবাদ রক্ষণশীলদের
দক্ষিণ আফ্রিকা একজন নারীর একসঙ্গে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করার বৈধতা দেয়ায় এ নিয়ে সামাজিক শৃংখলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। দেশটির রক্ষণশীল সমাজে প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। এই প্রস্তাবে এত ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় ওঠায় অনেক বিশ্লেষকই বিস্মিত নন। এ বিষয় নিয়ে কাজ করেন সুপরিচিত শিক্ষাবিদ কলিস মাচোকো বলেছেন, এই আপত্তির মূলে রয়েছে পুরুষদের ‘নিয়ন্ত্রণের’ সংস্কৃতি। আফ্রিকান সমাজ এখনো সমান অধিকারের জন্য তৈরি হয়নি। যে নারীকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না তার সাথে কী ধরনের আচরণ করা উচিত, সেটা আমরা জানি না। বিশ্বে খুবই উদারপন্থী সংবিধান যেসব দেশে রয়েছে তার একটি হলো দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির সংবিধানে সমকামী নারী ও সমকামী পুরুষদের মধ্যে বিয়ে এবং পুরুষদের জন্য বহুবিবাহ বৈধ।
টিভি ব্যক্তিত্ব এবং ব্যবসায়ী মুসা এমসেলেকুর চার বউ। তিনি নারীদের বহুবিবাহের বিরোধী। তিনি বলেন, এটা আফ্রিকার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে দেবে। এদের সন্তানদের কী হবে? তারা কীভাবে জানবে তাদের পিতা কে? দক্ষিণ আফ্রিকায় রিয়ালিটি টিভির পর্দায় তার একাধিক স্ত্রীর সাথে সংসারবিষয়ক অনুষ্ঠান করে তারকা খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নারীরা এখন পুরুষের ভূমিকা নিতে পারে না। এমন কথা কেউ আগে কখনও শোনেনি। মেয়েরা কি এখন বিয়ে করার জন্য পুরুষদের লোবোলা (দেনমোহর) দেবে? পুরুষরা ওই নারীর পদবি (সারনেম) গ্রহণ করবে এমনটাই কি এখন আশা করা হবে?
গোপন বিয়ে
প্রফেসর মাচোকোর জন্ম প্রতিবেশী জিম্বাবুয়েতে। সেখানে নারীদের বহুবিবাহ নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। তিনি এমন ২০ জন নারীর সাথে কথা বলেছেন, যাদের একাধিক স্বামী রয়েছে। এরকম ৪৫ জন স্বামীর সাথে তিনি কথা বলেছেন যারা অন্য স্বামীদের সাথে মিলে স্ত্রীর ঘর করেন। এ ধরনের বিয়ে জিম্বাবোয়ের সমাজে অগ্রহণযোগ্য এবং আইনগতভাবে স্বীকৃত নয় বলেছেন অধ্যাপক মাচোকো।
তিনি আরও বলেন, নারীদের বহুবিবাহ যেহেতু সমাজের একটা অংশ ভালো চোখে দেখে না, তাই সেখানে এ ধরনের বিয়ে হয় গোপনে, এ ধরনের সংসারের খবরও গোপন রাখা হয়। তিনি আরো বলেন, কেউ যদি এধরনের সংসার দেখলে প্রশ্ন তোলেন- বিশেষ করে এমন কেউ যাদের তারা চেনেন না বা বিশ্বাস করেন না, তারা এরকম কোনো বিয়ের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে যান। তাদের মধ্যে প্রতিশোধ বা নির্যাতন ও হয়রানির ভয় কাজ করে।
প্রফেসর মাচোকো যাদের ওপর তার গবেষণার কাজ করেছেন তাদের সবার ক্ষেত্রেই স্বামীরা স্ত্রীর ঘরে একসাথে থাকেন না। তারা থাকেন আলাদা আলাদাভাবে সমাজ যাতে তাদের বিয়ের কথা না জানে। কিন্তু তারা সবাই একই স্ত্রীর সাথে সংসর্গ করেন এবং স্বামীরা নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে খোলাখুলিই কথাবার্তা বলেন।
তিনি আরো বলেন, এদের মধ্যে একজন নারী বলেন তার বয়স যখন ১২, যখন তিনি স্কুলের ছাত্রী, তখন থেকেই তিনি একাধিক পুরুষকে একসাথে বিয়ে করার চিন্তা লালন করতে শুরু করেন। লেখাপড়ার সময় তিনি জেনেছিলেন, মৌচাকে রানি মৌমাছি থাকে একজন আর তাকে ঘিরে থাকে বহু পুরুষ মৌমাছি। তারা সবাই একসাথে ওই রানির সঙ্গে সহবাস করে।
প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর ওই নারী একাধিক পুরুষসঙ্গীর সাথে যৌন সংসর্গ শুরু করেন। ওই পুরুষরা সবাই পরস্পরকে চিনতেন এবং বিষয়টা জানতেন।
‘তার বর্তমানে যে ৯ জন স্বামী রয়েছেন, তাদের মধ্যে চারজন ওই পুরনো দলে ছিলেন।’
জিম্বাবুয়েতে অধ্যাপক মাচোকো দেখেছেন, নারীদের বহুবিবাহের ক্ষেত্রে সাধারণত নারীরাই সম্পর্ক শুরু করেন এবং পুরুষদের সবাইকেই বিয়ের পর তার সাথে সহবাসের আমন্ত্রণ জানান। কেউ কেউ বিয়ের জন্য নারী দেনমোহর দেন, কেউ আবার তা না দিয়ে ওই নারীর জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খরচের অংশ বহন করেন।
ওই নারী যদি দেখেন তার কোনো স্বামী, অন্য স্বামীদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধাবার বা তার সংসারে অশান্তি সৃষ্টির করছেন, তাকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেবার ক্ষমতাও ওই নারী রাখেন।
অধ্যাপক মাচোকো বলছেন, তিনি যাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারা বলেছেন অন্য স্বামীদের সাথে মিলে এক স্ত্রীর ঘর করার পেছনে তাদের মূল কারণ ছিল ওই নারীর প্রতি তাদের ভালোবাসা। তারা কেউই ওই নারীকে হারানোর ঝুঁকি নিতে চাননি।
কয়েকজন পুরুষ বলেছেন, তারা তাদের স্ত্রীদের যৌন চাহিদা মেটাতে অক্ষম ছিলেন, কিন্তু ডিভোর্স মেনে নেওয়ার বদলে বরং অন্য স্বামীদের সাথে মিলেমিশে থাকাটাই ভালো বলে মেনে নিয়েছেন।
কোনো কোনো পুরুষের সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ ছিল তাদের বন্ধ্যাত্ব। স্ত্রী যাতে সন্তানধারণ করতে পারেন তার জন্য স্ত্রীর আরেক বিবাহ তারা মেনে নিয়েছেন। এভাবে ওই বন্ধ্যা পুরুষরা সমাজে নিজেদের ‘মুখ রক্ষা’ করেছেন এবং তাদের ‘পৌরুষের’ অভাব নিয়ে সমাজে আলোচনার হাত থেকে বেঁচেছেন।
ধর্মীয় নেতারা অসন্তুষ্ট
অধ্যাপক মাচোকো বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বহুবিবাহ সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল নন। তবে, নারী-পুরুষ সমানাধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা নারীর সমানাধিকার ও ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেবার দাবিতে নারীদের বহুবিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেবার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।
দেশটির বর্তমান আইনে একাধিক নারীকে বিয়ে করার অধিকার আছে শুধু পুরুষের। দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের গ্রিন পেপার নামে সরকারি নথিতে এই প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৯৯৪ সালে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের শাসনকালের অবসানের পর এই প্রথম দেশটির বিবাহ আইনে বড় ধরনের রদবদল আনার পরিকল্পনা সরকার নিয়েছে। তাই সরকার এই নথিটি জনসাধারণের মতামত জানানোর জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
‘এই গ্রিন পেপারের মূল লক্ষ্য হল মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন। কাজেই মানবাধিকারের এই দিকটাও মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ,’ বলছেন শার্লিন মে, যিনি নারীদের জন্য একটি আইনি কেন্দ্রে উইমেন্স লিগ্যাল সেন্টারের আইনজীবী। এই সংস্থা নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে।
‘আইনের সংস্কার যেখানে লক্ষ্য সেখানে পুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে নারীদের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয় সেটাও দেখতে হবে,” তিনি বলেন।
বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
এই নথিতে মুসলিম, হিন্দু, ইহুদি এবং রাস্ট্রাফেরিয়ান সব জনগোষ্ঠীরই বিবাহকে আইনগত স্বীকৃতি দেবার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও ধর্মীয় নেতারা নারীদের বহুবিবাহকে আইনগত স্বীকৃতি দেবার বিষয়টিকে নিন্দা জানিয়েছেন।
বিরোধী দল আফ্রিকান ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রাটিক পার্টির নেতা রেভারেন্ড কেনেথ মেশো বলেছেন এই পদক্ষেপ ‘সমাজ ধ্বংস’ করে দেবে।
”এমন পর্যায়ে আমরা পৌঁছাব যখন একজন স্বামী স্ত্রীর কাছে অভিযোগ করবেন, ‘তুমি অন্য স্বামীর সাথে বেশি সময় কাটাও, আমাকে যথেষ্ট সময় দাও না’ তারপর দুই স্বামীর মধ্যে শুরু হবে দ্বন্দ্ব,” তিনি বলছেন।
ইসলামিক আল-জামা পার্টির নেতা গানিয়েফ হেনড্রিক্স বলেছেন, চিন্তা করে দেখুন, ওই নারীর সন্তান জন্মের পর ডিএনএ পরীক্ষা করে নির্ধারণ করতে হবে কোন স্বামী ওই সন্তানের বাপ!
শিশু ও পরিবার
এমসেলেকু যুক্তি দেখাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকায় সমানাধিকার নীতির নামে ‘বাড়াবাড়ি করাটা’ সঠিক হবে না।
‘বিষয়টা সংবিধানে আছে বলেই যে সেটা আমাদের সমাজের জন্য ভালো এমনটা মনে করার তো কোনো কারণ নেই।’
তাকে প্রশ্ন করা হয় তার নিজের তো চারজন স্ত্রী। তাহলে একজন নারীর বেলায় এই বৈষম্য কেন? নারীর চারজন স্বামী থাকলে সমস্যা কোথায়?
তার উত্তর ছিল : ‘আমার চারটে বিয়ে, তাই এ ব্যাপারে আমার মতামতকে অনেকে বলছে ভণ্ডামি। কিন্তু আমার জবাব হলো- নারীদের জন্য বহুবিবাহ আফ্রিকান সমাজ ও সংস্কৃতিবিরোধী। আমাদের সংস্কৃতিকে আমরা বদলাতে পারি না।’
কিন্তু অধ্যাপক মাচোকো বলছেন নারীদের বহুবিবাহ প্রথা একসময় চালু ছিল কেনিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং নাইজেরিয়ায়। গ্যাবোনে নারীরা এখনও বহুবিবাহ করে, সেটা ওই দেশে আইনসিদ্ধ।
‘খ্রিস্টান ধর্মের আগমন এবং ঔপনিবেশিক শাসন, সমাজে নারীর ভূমিকাকে খাটো করে দিয়েছিল। তাদের সমান চোখে দেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর সমাজে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল বিবাহপ্রথা।’
প্রফেসর মাচোকো বলেন, একাধিক স্বামীর সাথে নারীর সহবাসের মধ্যে দিয়ে জন্মানো সন্তান নিয়ে যেসব উদ্বেগ সমাজে প্রকাশ করা হয় তার কারণ হলো পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা।
‘এ ধরনের সংসারে জন্মানো শিশু নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কেন? যে শিশু ওই নারীর গর্ভে আসছে সে তো তার পুরো পরিবারেরই সন্তান।’
বিবিসি বাংলা।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরেক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটিতে ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিলো।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় গণতন্ত্রপন্থী সমর্থকদের ওপর সরকারী দলের মারণাস্ত্র ব্যবহারের জন্য সাতজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার ওপর আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পূর্বের নিষেধাজ্ঞা আরোপিত কর্মকর্তাদের পরিবারের ১৫ জন সদস্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এদের ‘আর্থিক যোগাযোগ’ সামরিক কর্মকর্তাদের অসাধু উপায়ে অর্জিত অর্থে অবদান রেখেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নয়। এর লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে এই ২২ জনের যে সব সম্পদ থাকতে পারে তা থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর আর্থিক বোঝা বৃদ্ধি করা। পরিপূরক পদক্ষেপ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চলমান পদক্ষেপকে সমর্থন করে এমন চারটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য রফতানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
স্বল্পবাস পুরুষও মেয়েদের চঞ্চল করে, যদি না তারা রোবট হয়; ইমরান খানের ছবি দিয়েই প্রতিক্রিয়া জানালেন তসলিমা নাসরিন
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে এক হাত নিলেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এক টুইটে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের যৌবনবয়সের একটি অনাবৃত ঊর্ধ্বাঙ্গ ছবি দিয়ে তসলিমা নাসরিন মন্তব্য করেছেন– ছেলেরা শরীর প্রদর্শন করলে তা দেখে মেয়েদের মনও চঞ্চল হয় যদি না তারা রোবট হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ক’দিন আগে। দেশে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে চলার জন্য মেয়েদের স্বল্পবাসকেই দায়ী করেছিলেন ইমরান খান। একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে ইমরান বলেছিলেন, ‘স্বল্পবাস মহিলাকে দেখে পুরুষের মন চঞ্চল হওয়াটাই স্বাভাবিক, যদি না সেই পুরুষ রোবট হয়। সাধারণ বুদ্ধি অন্তত তাই বলে।’ ইমরান খানের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তসলিমা নাসরিন পাল্টা মন্তব্য করলেন।
একটি টুইটে ইমরানের যৌবনকালের একটি ‘শার্টলেস’ ছবি তুলে ধরে তসলিমা নাসরিন ইমরানের সুরেই কথা বলে ‘শিক্ষা’ দিয়েছেন ইমরানকে। বলেছেন, ছেলেরা দেহ প্রদর্শন করলে মেয়েদের মন চঞ্চল হওয়াও স্বাভাবিক।
রাজনীতিতে প্রবেশের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে ইমরান খানকে। তাতেই সাম্প্রতিক সংযোজন ধর্ষণের জন্য মেয়েদের স্বল্পবাসকে দায়ী করার তাঁর এই মন্তব্য। যে মন্তব্য নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। এবং যে মন্তব্যের নিজের মতো প্রতিবাদ করলেন তসলিমা। পাকিস্তানের নারীবাদি সংগঠনগুলোও ইমরান খানের এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ করছে।
ইয়াবাসহ কাশিমপুর কারাগারের কারারক্ষী গ্রেপ্তার
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের মূল ফটকে ১৮৭ পিস ইয়াবাসহ এক কারারক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনাবাড়ি থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ইয়াবা নিয়ে কারাগারে প্রবেশের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্রেপ্তার শাহিনুর ইসলাম ঢাকার ধামরাই থানা বাধানগর এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ এ কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গাজীপুর মেট্টোপলিটন কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, ‘কারাগারের বাইরে থেকে আন্ডারওয়ারের ভেতর লুকিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে কারাগারের ভেতর প্রবেশ করছিলেন কারারক্ষী শাহিনুর ইসলাম। একপর্যায়ে কারাগারের মূল ফটকে দায়িত্বরত কারারক্ষীরা তাকে তল্লাশী করেন। এসময় ১৮৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ’
‘পরে কারা কর্তৃপক্ষ খবর দিলে রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কারারক্ষী শাহিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এ ব্যাপারে কোনাবাড়ি থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে’, বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার ৭৬৭ জন নারী, হত্যা ৩৪ জনকে, নির্যাতনের শিকার ৭২২ শিশুর মধ্যে হত্যা ৩১৭ জনকে; আসকের প্রতিবেদন
দেশে গত ছয় মাসে ৭৬৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, নির্যাতনের পর ২৪ জনকে হত্যা করা হয় এবং ৫ জন আত্মহত্যা করেছেন। ৭২২টি শিশু শারিরীক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে ৩১৭ শিশুকে। আইনশৃংখলা বাহিনীর ক্রসফায়ারে মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসস্থানে ,মন্দিরে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৯৯টি । আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আসকের এই সংখ্যাগত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে করা হয়েছে।
আসকের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামাল স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তি বৃহস্পতিবার পাঠানো হয়, যেটিতে প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদনটি ১০টি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ ও আসকের নিজস্ব উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
গত ছয় মাসে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ ছিল উল্লেখ করে আসকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সময় ৭২২ শিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার শিকার হয় এবং হত্যা করা হয়েছে ৩১৭ শিশুকে। সব মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৯ শিশু নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে।
“যাদের মধ্যে ৪২০ শিশুকে ধর্ষণ করা হয়, আত্মহত্যা করেছে ৫১ শিশু, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫০ জন ছেলে শিশু, উত্যক্তকরণ, শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন, শিক্ষকের কাছে নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের শিকার হয়েছে আরও ২০৯ শিশু।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে নির্যাতিত ৭৬৭ জন নারীর মধ্যে ৬১১ জন একক ও ১৫৬ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন।
এছাড়া একই সময়ে আরও ১৬৬টি ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ছয় মাসে ৬৪ নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং এদের মধ্যে পরে আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৫৭ জন পুরুষ, যাদের মধ্যে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে ২ নারীও হত্যার শিকার হন।
এই সময়ে ৩৫০ নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে স্বামী, স্বামীর পরিবার এবং নিজ পরিবার থেকে হত্যার শিকার হন ২১০ নারী এবং পারিবারিক নির্যাতনের কারণে ৭৮ নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এছাড়া যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন ১২১ নারী। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৪১ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন নারী। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ৭১ জন।
জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের তথ্য উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘হেফাজতে’ এবং ‘ক্রসফায়ারে’ ৩২ জন মারা গেছেন।
এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ‘ক্রসফায়ার’, ‘বন্দুকযুদ্ধ’, ‘গুলি বিনিময়’ কিংবা ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হন ২০ জন। এ সময়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‘গুলিতে’ ৯ জন এবং ‘নির্যাতনে’ ৩ জন মারা যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ছয় মাসে কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে ৪১ জন মারা যান। এর মধ্যে ১৩ কয়েদি এবং ২৮ জন হাজতি ছিলেন।
গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ৬ জন অপহরণ কিংবা গুমের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে এদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও এখও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত ছয় মাসে ১২০ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, নির্যাতিত সাংবাদিকদের মধ্যে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আক্রান্ত হন। নির্বাচনী সহিংসতায় ১৩ জন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমন উপলক্ষে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ১৮ জন সাংবাদিক আহত হন।
অন্যরা স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময়ে গুলিবিদ্ধ এক সাংবাদিক মারা যান বলে প্রতিবেদনের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ছয় মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসস্থানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ৯৯টি ঘটনা ঘটেছে বলে আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়।
এতে বলা হয়, ছয় মাসে ৪৩টি প্রতিমা, পারিবারিক মন্দির ও পূজামন্ডপে হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ জন। দখল বা দখল চেষ্টা এবং উচ্ছেদ বা উচ্ছেদ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ৬ জন। এছাড়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পরিবার ও বাড়িঘরে একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই সময়ে ভারত সীমান্তে ৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে ৪ জন, শারিরিক নির্যাতনে ১ জন এবং বিএসএফের ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে আরও ১ জন মারা যান।
এছাড়া আহত হয়েছেন ৪ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩ জন, এদের মধ্যে পরে ২ জন ফেরত এসেছে।
প্রতিবেদনে গত ছয় মাসে ২৬৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার কথাও বলা হয়েছে।
অপরদিকে ২৫ জন গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন। এই সময়ে ৮টি সালিশ ও ফতোয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ১১ নারী অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এছাড়া গত ছয় মাসে ১৯ জন গণপিটুনিতে মারা যান।
আসক করোনাভাইরাস মহামারীর এই সংকটকালীন সময়ে নাগরিকের মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি দাবি জানায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
খালেদা জিয়ার ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গ; আইনমন্ত্রীর বক্তব্য সংবিধান পরিপন্থি বলছেন ব্যারিস্টার খোকন
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেছেন, সংসদে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বক্তব্য সংবিধান পরিপন্থি, আইনমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এ বক্তব্য শপথ ভঙ্গের শামিল। এ বক্তব্য সমগ্র জাতিকে হতাশ করেছে। এটি ৭৬ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রতিহিংসা ও নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে আইনমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। সেই অনুসারে ১৪৮ অনুচ্ছেদ পর্যালোচনা করলে আমার মনে হয় আইনমন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন। একজন সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে আইনমন্ত্রীকে সবিনয়ে অনুরোধ করব, আপনার বক্তব্য ও সংবিধানের শপথ পর্যালোচনা করে পদত্যাগ করা উচিত বা উচিত কিনা সেই ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্ত নিবেন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে ছিলেন। সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে গেছেন। সরকারই তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউতে পাঠায়। বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪০১ ধারায় তাঁকে দুই শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়।
মাহবুব উদ্দিন খোকন আরও বলেন, খালেদা জিয়া তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছেন, যেগুলো এখনও বিচারাধীন আছে। এ অবস্থায় আইনমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বেগম জিয়াকে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেওয়ার মধ্যমে তিনি কী বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন খালেদা জিয়া সুপ্রিম কোর্ট থেকেও ন্যায়বিচার পাবেন না? তাঁর এ বক্তব্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে হেয় এবং অসম্মান করেছে বলে আমি মনে করি। তিনি এটা বলতে পারেন না
মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছেন নিম্ন আদালত। নিম্ন আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন। সুপ্রিম কোর্টেও বিচারক নিয়োগের কোনো নীতিমালা নেই। সরকার দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেয়। এ জন্যই কি আইনমন্ত্রী বেগম জিয়ার আপিল নিষ্পত্তির আগে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন?
‘৪০১ ধারা নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এটি আর পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। থাকলে তিনি আইন পেশা ছেড়ে দিবেন’ আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আনিসুল হক একজন ভালো আইনজীবী। আমি চাই না তিনি আইন পেশা ছেড়ে চলে যান।’
বিএনপির এই আনজীবী বলেন, একজন অসুস্থ, বয়োজ্যেষ্ঠ সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আইনমন্ত্রীর কর্কশ বক্তব্য সরকারের প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে অনেকগুলো শর্ত দিয়েছিল। সুতরাং শর্ত দেওয়া বা প্রত্যাহার করা সম্পূর্ণ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক সরকারের এখতিয়ার। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা মোতাবেক সরকারের শর্ত সংশোধন করে খালেদা জিয়াকে মুক্তভাবে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান ব্যারিস্টার খোকন।











