ঢাকা   , ,     

Home Blog

ঢাকায় বায়ুদূষণ বন্ধে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ

0

ঢাকার বায়ুদূষণ বন্ধে আদালতের  দেয়া ৯ দফা নির্দেশনার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে আদালতে দুই সপ্তাহের মধ্যে  প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট ।
ঢাকার বায়ু দূষণ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর  বাংলাদেশ এর দায়কৃত রিট পিটিশন শুনানি শেষে ২০২০ সালে বিবাদীদের প্রতি নয় দফা নির্দেশনা জারি করেছিলেন আদালত । যার মধ্যে অন্যতম হলো শহরের বিভিন্ন জায়গায় পানি ছিটানো, বালু  পরিবহন এর  ট্রাককে ঢেকে রাখা, নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে এলাকাকে ঘিরে রাখা, বিভিন্ন মার্কেট থেকে যে ময়লা অপসারণ করা হয় এগুলো ব্যাগে করে সুনির্দিষ্ট সময় অপসারণ,  ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকার  অবৈধ  ইট ভাটা বন্ধ করা ইত্যাদি।  এইচ আর পি বি এর পক্ষে দায়ের করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে আদালত ৯ দফা অনুসারে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিবাদীদেরকে এবং ব্যর্থতায় ৫ জেলা প্রশাসককেও আদালতে তলব করা হয়েছিল। উক্ত আদেশের ধারাবাহিকতায় আদালতে কম্প্লাইন্স রিপোর্ট দাখিলের জন্য আজ সোমবার বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়া এর আদালতে মামলাটি আদেশের জন্য  তালিকায় আসে । শুনানি শেষে আদালত মৌখিক আদেশে বিবাদীদেরকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইতিপূর্বে দেয়া বায়ু দূষণ বন্ধে নয় দফা নির্দেশনার ব্যাপারে পদক্ষেপ  গ্রহণ করে আদালতে এফিডেভিট আকারে দাখিলের নির্দেশনা দেন এবং পরবর্তী শুনানি ১৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন সিজন  পরিবর্তনের ফলে  বর্তমানে ঢাকা শহরের বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু আদালতের ইতিপূর্বের  নির্দেশনা অনুসারে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। যার ফলে ঢাকার বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ দূষনের কারণে  নাগরিকদের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
<span;>রিট মামলায় আবেদনকারী হলেন এইচ আর পি বি এর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোঃ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী এবং এডভোকেট রিপন বাড়ৈ। বিবাদীরা হলেন পরিবেশ সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ  সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ফায়ার সার্ভিসের ডিজি, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সহ অন্যান্যরা ।
আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মন্ডল।

গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, ‘রাসেল লজ’ অবসায়নে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে রায় প্রকাশ

0

 

 

গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে অকার্যকর হয়ে পড়া রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ‘রাসেল লজ’ অবসায়নে হাইকোর্টের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রেখে রায় প্রকাশ করেছেন আপিল বিভাগ। গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা, জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে এই কোম্পানির বিরুদ্ধে।
বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় প্রকাশ করেন। রোববার (১ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও ব্যারিস্টার রিফাত রহমান।
এর আগে গত ১৪ জুন অকার্যকর হয়ে পড়া এই ডেভেলপার কোম্পানিটি অবসায়নের নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছিলেন আপিল বিভাগ।
সেদিন আইনজীবী সাকিব মাহবুব জানান, একজন ক্ষুব্ধ জমির মালিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া এই রায়টি একটি বিরল ও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাতের আইনি অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মামলার বিবরণ তুলে ধরে ওই আইনজীবী জানান, ২০০২ সালে সম্পাদিত একটি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট চুক্তির মাধ্যমে এ ঘটনার সূত্রপাত। ওই চুক্তির অধীনে ভাষা সৈনিক ড. সৈয়দ আবদুল মালেকের পরিবার একটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ঢাকার ধানমন্ডি রায়ের বাজার শেরেবাংলা রোডের ২৮৮ নম্বর সম্পত্তিটি রাসেল লজের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু প্রাথমিক ভিত্তি (পিলার) স্থাপনের পর ডেভেলপার কোম্পানিটি প্রকল্প এগিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ পর্যন্ত সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে ভবনটির কাঠামো অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং প্রকল্পটি পরিত্যক্ত হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোনো অর্থবহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম না থাকায় কোম্পানিটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে ভবন অনির্মিত অবস্থায় ফেলে রেখে রাসেল লজের কথিত মালিক এনায়েত করিমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা পালিয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে জমির মালিকেরা বকেয়া ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও সম্পত্তি রক্ষার খরচসহ সব আর্থিক বোঝা বহন করতে বাধ্য হন। পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার তথ্যও সামনে আসে। অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়ার নামে ঢাকা শহরের বহু প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়েন কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা। পরবর্তীতে তারা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বিভিন্ন জালিয়াতির আশ্রয় নেন এবং আদালতের নির্দেশের পরও হাজির হননি।
২০০২ সালে মূল জমি মালিকের মৃত্যুর পর, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তার চিকিৎসক ছেলে পরিবার ও পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে এসে আইনি লড়াই চালিয়ে যান।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগ (কোম্পানি ম্যাটার নং ৩৩/২০১৬) কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর অধীনে ডেভেলপার কোম্পানিটি অকার্যকর হয়ে পড়া এবং চুক্তিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে অবসায়নের নির্দেশ দেন। তৎকালীন বিচারপতি এ এফ এম আব্দুর রহমান রাসেল লজ বিলুপ্তকরণের এই আদেশ দিয়েছিলেন। এই আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সেই রায় প্রকাশ হয়েছে। সূত্র- ঢাকা পোস্ট।

দীর্ঘ অবকাশ শেষে রোববার খুলছে হাইকোর্ট, গঠন ৫৭ বেঞ্চ

0

 

দীর্ঘ অবকাশকালীন ছুটি শেষে রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রমে ফিরছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। এ উপলক্ষে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ৫৭টি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। নতুন বেঞ্চগুলোতে রোববার বেলা আড়াইটা থেকে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অবকাশকালীন ছুটি ও সরকারি ছুটির কারণে সুপ্রিম কোর্টে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। অবকাশ শেষে ২৫ অক্টোবর থেকে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের জন্য গঠিত ৫৭টি বেঞ্চের মধ্যে ৩৮টি দ্বৈত বেঞ্চ এবং ১৯টি একক বেঞ্চ। দ্বৈত বেঞ্চে দুজন বিচারপতি এবং একক বেঞ্চে একজন বিচারপতি বিচারকার্য পরিচালনা করবেন। এসব বেঞ্চের জন্য পৃথক বিচারিক এখতিয়ারও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
আদালত প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবকাশ শেষে প্রথম কার্যদিবসে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের ইনার কোর্ট ইয়ার্ডে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ আইনজীবীদের সঙ্গে মিলিত হবেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের কারণে প্রথম কার্যদিবসে আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বেলা আড়াইটায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ অবকাশের পর নিয়মিত আদালত চালু হওয়ায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আবারও স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রমের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নতুন বেঞ্চগুলোর নির্ধারিত এখতিয়ার অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের মামলা ও আবেদনের শুনানি পরিচালিত হবে।
অবকাশকালীন সময়ে সীমিত পরিসরে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য হাইকোর্টে অবকাশকালীন বেঞ্চ গঠন করা হয়েছিল। নিয়মিত কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে এখন থেকে নির্ধারিত নতুন বেঞ্চগুলোতে মামলার শুনানি চলবে।
সূত্র: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট ও পরিবেশে মুগ্ধ ক্যারিবীয়রা

0

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার পথে এগিয়ে চলছে এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম। প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে এই স্টেডিয়াম। মাঠের মনোরম পরিবেশ, উইকেটের মান ও খেলার উপযোগী সুযোগ-সুবিধা প্রশংসা কুড়িয়েছে ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে বিসিবি একাদশের সঙ্গে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নেমে স্টেডিয়ামটির প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছে বিসিবি একাদশ। কালাম সিদ্দিকীর দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং জিশান আলম ও চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ানের অর্ধশতকে ৯০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান সংগ্রহ করেছে দলটি। কালাম ১৩৫, জিশান ৮৬ এবং রিজওয়ান ৫৯ রান করেন। ম্যাচের শুরুতে বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দিনভর বোলিংয়ের পাশাপাশি আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিবেশ উপভোগ করেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটাররা।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির সাবেক প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার মাঠে উপস্থিত থেকে প্রস্তুতি ম্যাচ দেখেন। এ সময় স্টেডিয়ামের উইকেটের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপযোগী এবং মানের দিক থেকে বেশ ভালো।
ক্যারিবীয় বোলারদের বিপক্ষে সাবলীল ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন কালাম সিদ্দিকী অলিন। ১৮৪ বলে ২০টি চার ও একটি ছক্কার সাহায্যে ১৩৫ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি। উইকেটের প্রশংসা করে কালাম বলেন, ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেটটি বেশ ভালো ছিল। স্পিনাররা এখান থেকে সুবিধা পেয়েছেন, পাশাপাশি পেস বোলারদের জন্যও সুযোগ ছিল।
আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এবারই প্রথম কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশ ক্রিকেট খেলছে। এর আগে গত আগস্টে আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ মালয়েশিয়া এখানে তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিল। এ ছাড়া দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিযোগিতা ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের একাধিক ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মাঠে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ ভেন্যু হিসেবে স্টেডিয়ামটিকে গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে। এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ইতোমধ্যে ফ্লাডলাইট স্থাপন করা হয়েছে এবং গ্যালারি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ক্রিকেটের পাশাপাশি ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে এবিজি স্পোর্টস সিটি। এখানে বাস্কেটবল, স্কোয়াশ, প্যাডেল টেনিস, ফুটসাল ও সাঁতারের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া জুলকারনাইন বক্সিং ও স্কোয়াশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও আয়োজন করা হয়েছে এই ক্রীড়া কমপ্লেক্সে।
এবিজি স্পোর্টস সিটিকে দেশের একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পরিচালক ইমরুল হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা এবং একটি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস হাব গড়ে তোলাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। এই কেন্দ্র থেকে উঠে আসা ক্রীড়াবিদরা যেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
ভবিষ্যতে এবিজি স্পোর্টস সিটিতে শুটিং ইভেন্ট আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন খেলার উপযোগী অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় পতাকা প্রদর্শণের ক্ষেত্রে জরুরি নির্দেশনা

0

সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পতাকা ব্যবহারের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও তা প্রদর্শন, সূর্যাস্তের পরও পতাকা ঝুলিয়ে রাখা এবং নির্ধারিত আকার, অনুপাত ও রং অনুসরণ না করার মতো অনিয়মের পর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি এ বিষয়ে সব সিনিয়র সচিব ও সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের কিছু কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী না হয়েও অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে খুঁটিতে খাড়াভাবে পতাকা প্রদর্শন করছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী, মোটরগাড়ি, জলযান ও বিমান ছাড়া জাতীয় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। কিন্তু কিছু অফিসে দিন-রাত সার্বক্ষণিক পতাকা ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি নজরে এসেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় পতাকার নির্ধারিত আকার, অনুপাত ও রং বজায় না রেখে অফিস কক্ষের সাজসজ্জা, অলংকরণ কিংবা ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক পটভূমি হিসেবে ব্যবহারের ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা এবং প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পাশাপাশি অধীন দপ্তর, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে।

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন

0

দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রিকেট ও ফুটবলের প্রসার, নতুন প্রতিভা অন্বেষণ এবং পেশাদার ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হতে যাচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে অধিনায়ক সম্মেলন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এবিজি স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারী ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিকেট ও ফুটবল দলের ২০ জন অধিনায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি, খেলার নিয়মাবলি ও প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ক্রিকেট ও ফুটবলের গ্রুপ নির্ধারণে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক জার্সি ও ট্রফি উন্মোচন এবং অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে জার্সি বিতরণ করা হয়।
আয়োজকদের তথ্যমতে, এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে ফ্লাডলাইটের আলোয় ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন করা হচ্ছে।
টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট ও ফুটবলের পৃথক বিভাগে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
বি’ গ্রুপে খেলবে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) এবং ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।
ফুটবল প্রতিযোগিতার ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স।

তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়াচর্চায় উৎসাহ জোগাতে ক্রিকেট ও ফুটবলের পৃথক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। দুই বিভাগে রানার্সআপ দল পাবে পাঁচ লাখ টাকা করে।

অধিনায়ক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান। এ ছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী, এবিজি স্পোর্টস সিটির উপদেষ্টা মো. লিয়াকত হোসেন ও মো. নাজমুল আলম ভূঁইয়া, টি স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার (ফুটবল) সালমান হাসান এবং অপারেশন্স ম্যানেজার (ক্রিকেট) ইকরাম হোসেন রাফি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. ইমরুল হাসান বলেন, ক্রিকেট ও ফুটবল দিয়ে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের যাত্রা শুরু হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট যুক্ত করে আয়োজনটিকে বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে তাঁরা নিজেদের দক্ষতা ও সামর্থ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বসুন্ধরা গ্রুপের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা, বিশ্বমানের ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছে। উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া অবকাঠামো এবিজি স্পোর্টস সিটি সেই উদ্যোগ ও অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনায় শুরু হতে যাওয়া এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত ও সমৃদ্ধ হবে। একপর্যায়ে এটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিনায়কদের প্রত্যাশা, এ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলগত সংহতি, নেতৃত্বের দক্ষতা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব বিকাশে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ের জন্য প্রতিভাবান ক্রিকেটার ও ফুটবলার উঠে আসার পথও সুগম হবে।

পিএসসির গাড়িচালক আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড

0

 

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীর এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম।
পাশাপাশি তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
একইসঙ্গে তার নামে থাকা ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আসামির বয়স বিবেচনায় নিয়ে আদালত এ সাজা দিয়েছেন।
জানা যায়, রায় ঘোষণার আগে সিয়ামকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে রায় ঘোষণার পর আপিলের শর্তে সিয়ামের জামিন চান তার আইনজীবী রফিকুল ইসলাম। তবে আদালত সেটি নাকচ করে দেন।
সিয়াম সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত সংস্থাটির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ছেলে। সিয়াম একসময় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এর আগে, গত বছরের ৫ জানুয়ারি সিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। তদন্তে সিয়ামের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে।
গত ১৭ জুন এ মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় একই আদালত।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় ১১ সাক্ষীর সবার সাক্ষ্য নেয় আদালত। আত্মপক্ষ শুনানিতে ২৪ সেপ্টেম্বর সিয়াম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
পরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ রায় দেওয়া হলো।

মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

0

পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৮৩টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ পাওয়া অন্যান্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও মনিরুল ইসলামের স্ত্রী সায়লা ফারজানা, মনিরুলের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা।
এর আগে, দুদকের পক্ষে উপপরিচালক ও অনুসন্ধান টিমের দলনেতা মোজাম্মিল হোসেন এসব আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, মনিরুল ইসলামের নামে ১১টি হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা এবং ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড, সায়লা ফারজানার ৫টি হিসাবে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা, শাহীনের নামে ৪০টি হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং টুম্পার নামে ২৭টি হিসাবে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা রয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা লোপাট, জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামক এনজিওর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ পূর্বক অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন দুর্নীতি মাধ্যমে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে আছেন বলে তথা পাওয়া গেছে। তারা ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের নামে অসংখ্য ব‍্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। এই অর্থ তারা উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। বর্ণিত সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতির কারণ রয়েছে। এমতাবস্থায়, তাদের এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে নতুন অধ্যাদেশ জারি করলো এনবিআর

0

মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।
নতুন বিধান অনুযায়ী, সাধারণ নিবন্ধিত, তালিকাভুক্ত, নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারবে।
গত ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৩ অক্টোবর অধ্যাদেশটি জারি করেন। এতে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪ ধারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত ১৫তম দিনে সরকারি ছুটি থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে তা জমা দেওয়া যাবে।
এ ছাড়া জনস্বার্থে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদেশের মাধ্যমে সুদ ও জরিমানা ছাড়া রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়াতে পারবে।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, মূসক রিটার্নে সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি এনবিআর আদেশের মাধ্যমে কোনো নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির জন্য ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করতে পারবে।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ অধিবেশনে না থাকায় এবং জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের ১ উপ-অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এটি জারি করেছেন। সূত্র: বাসস

চীনের গুয়াংসি ইউফেংয়ের সঙ্গে বসুন্ধরা গ্রুপের চুক্তি, বাড়বে উৎপাদন দক্ষতা

0

 

দেশের সিমেন্টশিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে চীনের গুয়াংসি ইউফেং কোং লিমিটেডের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি ও বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স লিমিটেড (বিআইসিএল)। এ চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর, কারিগরি জ্ঞান বিনিময় এবং কৌশলগত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা হবে।
বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা সুপারগলফে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান। অন্যদিকে গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন।
সমঝোতা অনুযায়ী, মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএলকে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সিমেন্ট উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে দুই পক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে। সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে পরবর্তী সময়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাদেশ অ্যান্ড চায়না: বিল্ডিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ অংশীদারি বাংলাদেশ ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দেশের সিমেন্টশিল্পের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখতে পারে। দুই দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়ে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে যৌথ বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্সের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) শাহেদ জাহিদ বলেন, সিমেন্ট কারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুয়াংসি ইউফেংয়ের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, নৌপথে পণ্য পরিবহনের জটিলতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থায় যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এ সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তিনি বলেন, গুয়াংসি ইউফেংয়ের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরবরাহব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করাও এ অংশীদারির অন্যতম উদ্দেশ্য।
গুয়াংসি ইউফেংয়ের চেয়ারম্যান লেই ঝেনবিন বলেন, চীনের সিমেন্ট উৎপাদনশিল্পে সিনোমা শিয়ামেন অন্যতম পুরোনো ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠান। সিমেন্টশিল্পে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা ও উন্নত উৎপাদনপ্রযুক্তি রয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সিমেন্টশিল্পের রূপান্তর ও উন্নয়নে অবদান রাখতে চান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে মেঘনা সিমেন্ট মিলস পিএলসি, বিআইসিএল ও সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গুয়াংসি ইউফেংয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান প্রকৌশলী দেং ইউলিয়ানসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিনো বিডি এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছিন ইয়ানশিয়ং, জেনারেল ম্যানেজার ইয়ে ঝেনহং এবং ইয়ুনহাই মাইনিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়ে গুয়াংহাই উপস্থিত ছিলেন।
মেঘনা সিমেন্ট ও বিআইসিএল জানিয়েছে, গুয়াংসি ইউফেংয়ের সঙ্গে এ সমঝোতা প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর মাধ্যমে সিমেন্ট উৎপাদনে সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ সম্প্রসারণের পথ তৈরি হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি।