দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানের ১৩ বছরের কারাদণ্ড ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের ৩ বছরের দণ্ডের রায় বহাল রেখে রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারিক আদালতে রায় পৌঁছানোর ১৫ দিনের মধ্যে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ ২৮১ পৃষ্ঠার প্রকাশিত রায়ে এ নির্দেশনা এসেছে। রায়টি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে আজ প্রকাশ করা হয়েছে।
দুর্নীতির মামলায় বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানের ১৩ বছরের কারাদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্ট গত ৩০ মে রায় দেয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রী সাবেরা আমানের ৩ বছরের সাজাও বহাল রাখেন আদালত। আজ (৭ আগস্ট) পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলো।
সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আমান দম্পতির বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ৬ মার্চ রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। ওই বছরের ২১ জুন বিশেষ জজ আদালতের রায়ে আমানকে ১৩ বছরের ও সাবেরাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট সেই আপিল মঞ্জুর করে তাদের খালাস দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করলে ২০১৪ সালের ২৬ মে আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল করে হাইকোর্টকে মামলাটির আপিল পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী হাইকোর্টে মামলাটির পুনঃশুনানি শেষে রায় হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমান দম্পতি ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সম্পত্তি অবৈধভাবে অর্জন করেন। এর মধ্যে আমান জ্ঞাত আয়ের বাইরে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার ৯ টাকা এবং সাবেরা আমান ৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার সম্পত্তি অর্জন করেন। বাসস।
আমান দম্পতিকে ১৫ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ : হাইকোর্ট রায় প্রকাশ
সুপ্রিম কোর্টে বারে ভাঙচুর, বিএনপিপন্থী ১৪ আইনজীবীর জামিন ৪ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষে ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপিপন্থী ১৪ আইনজীবীর আগাম জামিন ও ৪ জনকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। যারা আগাম জামিন পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলামসহ ১৪ জন। তাদের ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে ভাঙচুরের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকায় আইনজীবী নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ, আব্দুল কাইয়ুম ও উজ্জল হোসেনকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ আগস্ট) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
গত ৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষে ভাঙচুর ও আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের ওপর হামলার অভিযোগে বিএনপির ১৮ আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। রাজধানীর শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহকারী সুপাররিনটেনডেন্ট মো. রফিকুল্লাহ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৯ বছর ও তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
এদিকে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরাও সুপ্রিম কোর্টে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষের সামনে আওয়ামীপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মিছিল মুখোমুখি হয়। পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ চলাকালে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক আব্দুন নূর দুলালের কক্ষ ভাঙচুর করেন এবং তার নেমপ্লেট খুলে ফেলেন। এরপর সভাপতির কক্ষের নেমপ্লেটও খুলে ফেলা হয়।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সব মামলা চলমান থাকবে: অ্যাটর্নি জেনারেল
বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ পরিবর্তন করে নতুন আইন করার সিদ্ধান্ত নিলেও এই আইনে চলমান মামলাগুলো বাতিল হবে না। মামলাগুলোর বিচার আগের আইনেই চলবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
সোমবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে তার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি একথা বলেন। রাষ্ট্রের প্রধান এ আইন কর্মকর্তা বলেন, যখন কোনো আইন বাতিল বা পরিবর্তন করা হয় সেখানে একটা সেভিং ক্লোজ দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, যে মামলাগুলো চলমান আছে সেই মামলাগুলোর ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে এই আইনটা বিলুপ্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত যত আইন বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়েছে সবগুলোর ক্ষেত্রে একই অবস্থা হয়েছে। আইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে তিনি ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ পরিবর্তনে নতুন খসড়া আইনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এটি ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ নামে প্রতিস্থাপিত হবে।
সোনিয়া-শোয়েবের বিচ্ছেদ কি হয়েই গেল?
সোনিয়া মির্জা ও শোয়েব মালিকের বিচ্ছেদ নিয়ে জল্পনা চলছে বছর খানেক ধরেই। তবে এবার চর্চা তুঙ্গে উঠল পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক নিজেই বিরাট ইঙ্গিত দেয়ায়। শোয়েব নিজের ইনস্টাগ্রাম বায়োতে পরিবর্তন এনেছেন। যা নেটিজনদের নজর এড়ায়নি। সোনিয়া বা শোয়েব কেউই নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেননি। তবে শোয়েবের বায়োতে বিচ্ছেদেরই ইঙ্গিত স্পষ্ট।
সোনিয়া ও শোয়েবের বিয়ে হয়েছিল ২০১০ সালে। ২০১৮ সালে তাঁদের সন্তান ইজহানের জন্ম। শোয়েব মালিকের সঙ্গে অভিনেত্রী আয়েশা ওমরের ছবি ভাইরাল হয়েছিল। সুইমিং পুলে শোয়েবের বক্ষলগ্না অবস্থায় আয়েশাকে দেখা যায়। সোনিয়া ও শোয়েব এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে আয়েশা দাবি করেন, এটি পুরোনো ছবি। রোমান্টিক ফোটোশ্যুট মাত্র, তার বেশি কিছু নয়। আয়েশার সঙ্গে শোয়েবের নয়া সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা চলাকালীনই সোনিয়া ও শোয়েবকে দেখা গিয়েছিল পাকিস্তানের টিভি রিয়ালিটি শো, যার নাম ছিল দ্য মির্জা মালিক শো। এই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের সেলিব্রিটিদের সাক্ষাৎকার নেন সোনিয়া ও শোয়েব। নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে জল্পনার কোনও প্রভাব পড়তে দেননি সোনিয়া-শোয়েব, চূড়ান্ত পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েই। এরই মধ্যে ৪১ বছরের পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক ইনস্টাগ্রাম বায়োতে পরিবর্তন এনেছেন। আগে সেখানে লেখা ছিল “Husband to a superwoman Sania Mirza”, অর্থাৎ সোনিয়ার স্বামী হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন। এই অংশটি মুছে দিয়েছেন শোয়েব। এখন শুধু ইজহানের পিতৃপরিচয় দিয়ে “Father to One True Blessing” লেখা রয়েছে। এর জেরেই সোনিয়া-শোয়েবের তালাক নিয়ে জল্পনা জোরদার হয়েছে। সোনিয়া আগেই নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে শোয়েবের ছবি ও ভিডিওগুলি ডিলিট করে দিয়েছিলেন। তবে শোয়েবের অ্যাকাউন্টে এখনও সোনিয়ার ছবি রয়েছে। ৩৬ বছরের সোনিয়া গত মার্চে হায়দরাবাদে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে টেনিসকে গুডবাই জানিয়েছেন।
সোনিয়ার পরিবারের এক ঘনিষ্ঠ সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, যেহেতু বিষয়টি তাঁদের একান্তই ব্যক্তিগত সে কারণে সোনিয়া ও শোয়েব একসঙ্গে বা আলাদা করে নিজেদের সম্পর্কের কথা জনসমক্ষে আনতে চাইছেন না। ছেলে ইজহানের কথা ভেবেই। ফলে সকলের উচিত তাঁদের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ব্যক্তিগত পরিসরে প্রবেশ না করা। যদিও তাতে জল্পনা থামার কোনও ইঙ্গিতই নেই।
চন্দ্র জয়ের পথে ভারত
আর খুব বেশি দূরে নয় ডেস্টিনেশন চাঁদ। চন্দ্রযান ৩ চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছেছে গত ৫ই আগস্ট। বর্তমানে চাঁদের কক্ষপথে এটির অবস্থান ১৭০ কিলোমিটার × ৪৩১৩ কিলোমিটার। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৯০০ কিমি বেগে ঘুরছে। এই চন্দ্রযান ৩ পাঠিয়েছে চাঁদের প্রথম ছবি। সেই ছবিতে ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন একটি সোনালী রঙের যন্ত্র। এই সোনালী যন্ত্রটি হল চন্দ্রযানের সোলার প্যানেল। এই ছবিতে চাঁদের গর্ত ও তার পৃষ্ঠদেশ বেশ ভালোভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চন্দ্রযান ৩ চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কিলোমিটার কক্ষপথে অগ্রগতি লাভ করবে ৯ আগস্ট দুপুর ২.৪৫ মিনিটে।
তখন এই চাঁদের ছবি আরো বড় ভাবে দেখতে পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই, চাঁদের গা-ঘেঁষে থাকা অবস্থায় সেই ছবি পাঠিয়েছে ইসরোর মহাকাশযান। রবিবারে সেই ছবি টুইট করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।চন্দ্রযান ৩ চন্দ্রের ১০০০ কিলোমিটারের মধ্যে নেমে আসবে ১৪ই আগস্ট। প্রপালশন মডিউল এবং ল্যান্ডার মডিউল আলাদা হয়ে যাবে ১৭ই আগস্ট। ডিওরবিটিং হবে ১৮ ই ও ১৯ শে আগস্ট। অর্থাৎ আরো কমে যাবে চাঁদের কক্ষপথের সাথে দূরত্ব। ১০০×৩৫ কিমি কক্ষপথে যাবে ল্যান্ডার মডিউলটি। এরপর চাঁদের মাটিতে চন্দ্রের অবতরণ হবে ২৩ তারিখ বিকেল ৫.৪৭ মিনিটে। চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশের জন্য চন্দ্রযান-৩-এর গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৩৬০০ কিলোমিটার বাড়ানো হয়েছিল। তবে কক্ষপথে প্রবেশের পর এর গতি দুই থেকে এক কিলোমিটার কমানো হয়। কারণ চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পৃথিবীর ৬ ভাগের এক ভাগ। তাই গতি বেশি থাকলে সেটি চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করতে অক্ষম হত।
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখে সেঞ্চুরী
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ সেঞ্চুরী করেছে তদন্তকারী সংস্থা। সোমবার (৭ আগস্ট) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু র্যাবের পক্ষ থেকে আজও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। এ নিয়ে এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় ১০০ বারের মতো পেছাল।
আদালত আগামী ১১ই সেপ্টেম্বর এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রাশিদুল আলম এই তারিখ ঠিক করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ ও তথ্য বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, র্যাবের পক্ষ থেকে কোনো অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
আদালতের নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আদালত ১০০ তম বার সময় দিলেন।
২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।
সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।
এস আলমের ‘অর্থপাচার’: দুদককে অনুসন্ধানের নির্দেশ হাই কোর্টের
এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিপুল অংকের সম্পদ বিদেশে স্থানান্তর করেছেন বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা অনুসন্ধানের জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ রোববার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এই আদেশ দেয়।
গত ৪ অগাস্ট ‘এস আলমের আলাদিনের চেরাগ’ শিরোনামে ডেইলি স্টারে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এদিন হাই কোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।
প্রতিবেদনটি শোনার পর আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, “বিদেশে অর্থপাচারের ঘটনায় দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও সংক্ষুব্ধ।”
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুদ্দিন খালেদ এবং দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান শুনানিতে ছিলেন।
সৈয়দ সায়েদুল হক পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এস আলমের অর্থ পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধান করে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) সংশ্লিষ্টদের আগামী দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে এই অর্থ পাচার ঠেকাতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলম সিঙ্গাপুরে ‘কমপক্ষে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন। যদিও বিদেশে বিনিয়োগ বা অর্থ স্থানান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোনো অনুমতি তিনি নেননি।
ডেইলি স্টার লিখেছে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের বাইরে বিনিয়োগের জন্য এ পর্যন্ত ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিলেও চট্টগ্রামভিত্তিক বৃহৎ এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম সেই তালিকায় নেই। নথি থেকে দেখা যায়, এক দশকে সিঙ্গাপুরে এস আলম অন্তত দুটি হোটেল, দুটি বাড়ি, একটি বাণিজ্যিক স্পেস এবং অন্যান্য সম্পদ কিনেছেন। এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপায়ে কাগজপত্র থেকে তার নাম বাদ রাখা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নথির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশ থেকে ৪০ দশমিক ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে বিনিয়োগের জন্য নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বৈধ উপায়ে সিঙ্গাপুরে এক লাখ ৭ হাজার মার্কিন ডলার পাঠিয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানও এস আলমের মালিকানাধীন নয়।
রিজভীর বিরুদ্ধে হিরো আলমের ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা,তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।
রিজভী ‘অর্ধপাগল ও অর্ধশিক্ষিত বলায়’ ৫০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে আরজিতে দাবি করেছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে গিয়ে আইনজীবী আবদুল্লাহ মনসুর রিপনের মাধ্যমে এই মামলার আবেদন করেন ঢাকা-১৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম।
মহানগর হাকিম সাইফুল ইসলাম বাদীর জবানবন্দি শুনে গোয়েন্দা পুলিশকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেন গোয়েন্দা পুলিশকে।
এর আগে রোববার রিজভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন হিরো আলম। তবে মামলা না নিয়ে হিরো আলমকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন ডিবি কর্মকর্তারা।
ডিবি কার্যালয় থেকে রোববারই মামলা করতে আদালতের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন হিরো আলম। তবে আদালতে না গিয়ে পাশের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় গাড়িতে বসেছিলেন তিনি। সেখানেই আইনজীবীর সঙ্গে মামলার বিষয়ে পরামর্শ করেন। পরে সোমবার সকালে আদালতে এসে মামলার আবেদন করেন।
ডিবি কার্যালয়ে দেয়া অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ অগাস্ট সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও দেখেন হিরো আলম, যেখানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী হাজারো জনতার সামনে বক্তব্যে তার প্রসঙ্গ টানেন।
“বক্তব্য প্রদানকালে বলেন যে, ‘হিরো আলমের মত একটা অর্ধ পাগল, অর্ধ শিক্ষিত, একটা লোক, সে নির্বাচন করছে, মানে রুচি কতটা বিকৃত হলে পরে এরা এ কাজ করতে পারে।”
হিরো আলম বলছেন, ওই ভিডিও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তে ভাইরাল হয় ।
“আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ২০১৮ সালে বগুড়া-০৪ আসন থেকে এবং ২০২৩ সালে বগুড়া ০৪ আসন ও বগুড়া ০৬ আসন এবং ঢাকা ১৭ আসনের উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি । বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের চুলচেরা বিশ্লেষণে আমি একজন সুস্থ, নিবার্চন করার জন্য উপযুক্ত নাগরিক হিসাবে তিনবার প্রমাণিত হয়েছি।
“তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলে বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান প্রচার করি। যাতে আমার অসংখ্যা ভক্তবৃন্দ আছে। বর্ণিত বক্তব্যের কারণে আমি হতাশা অনুভব করছি, আমার ভক্তবৃন্দের মাঝেও যথেষ্ট হতাশাসহ ক্ষোভ বিরাজ করছে।”
হিরো আলম লিখেছেন, “জনাব রুহুল কবির রিজভীর আক্রমণাত্মক মানহানিকর বক্তব্যের কারণে আমি মান-সম্মানহানিসহ সামাজিকভাবে চরম হেয় প্রতিপন্ন হয়েছি। উল্লেখ্য যে, বিএনপির বিভিন্ন প্রোগ্রামে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে আমাকে নিয়ে কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের মাধ্যমে অপমান-অপদস্থ করেছে ।
“তাছাড়া তার (রিজভী) এই অপমানকর/আপত্তিকর বক্তব্যের কারণে আমি বিএনপির নেতা/কর্মী তথা রাজনৈতিক সন্ত্রাসীদের হামলা/হয়রানির আশঙ্কা করিতেছি।”
হিরো আলমের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রোববার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তো তার পক্ষে ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এই অভিযোগটাই মিথ্যা।
“২৪/২০ দিন আগে রাজশাহীতে দলীয় একটি কর্মসূচিতে বলেছিলাম যে, হিরো আলমের মতো একটা নিরীহ ছেলেকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আঘাত করল। কেন? সে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আরাফাতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন।”
রিজভী বলেন, “এখন ওই বক্তব্যকে হঠাৎ ভিন্নভাবে কালার দেয়ার জন্য এই অভিযোগ আনা হয়েছে। উদ্দেশ্য কী? উদ্দেশ্য একটাই, আন্দোলন থেকে জনদৃষ্টি ফেরানো।
“আমি মনে করি, এসব করে কোনো লাভ হবে না। আমরা জানতে পেরেছি, সরকারের এজেন্সিরা ডেকে এনে এসব কাজ করাচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে, দেয়া হচ্ছে। সুতরাং সরকারের নির্দেশনায় আরো মামলা হলে তাতে আমরা ভীত নই।” বিডি নিউজ।
সুপ্রিম কোর্ট বারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতি, ভাঙচুর
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতি হট্টগোল, ধস্তাধস্তি, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (০৩ আগস্ট) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সমিতির সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হট্টগোলের এক পর্যায়ে সমিতির সম্পাদকের কক্ষে ভাঙচুর চালান বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের সাজার রায় নিয়ে সমিতির দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
এদিকে বিএনপির নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামীলীগ পন্থী আইনজীবীরাও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। দুপুর পৌনে ২টার দিকে মিছিল নিয়ে তারা সভাপতি-সম্পাদকের কক্ষের সামনে এলে সেখানে বিএনপিপন্থীদের মিছিলের মুখোমুখি হন।
পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। এক পর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরে তা রূপ নেয় ধস্তাধস্তিতে। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সমিতির সম্পাদক আব্দুন নূর দুলালের কক্ষে ভাঙচুর চালান। তারা সম্পাদক ও সভাপতির কক্ষে সাঁটানো নেমপ্লেটও খুলে ফেলেন।
এই হট্টগোল-ভাঙচুরের ঘটনায় এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দায়ী করছে। সমিতির সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল সাংবাদিকদের বলেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, কায়সার কামাল ও গাজী কামরুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে আইনজীবীদের ওপর হামলা হয়েছে। পরে তারা সম্পাদকের কক্ষ ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের পর সম্পাদকের কক্ষের সামনে দিয়ে শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলাম।
এ সময় তারা (আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা) আমাদের এক নারী আইনজীবীকে হেনস্তা করেন। এর প্রতিবাদ করলে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা তেড়ে আসেন। এক পর্যায়ে তাদের কিছু আইনজীবী সম্পাদকের কক্ষের জানালা ভাঙচুর করেন। এখন তারাই আবার আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে কর্মসূচি ঘোষণা:
এর আগে তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের সাজার রায়কে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘সরকার চলমান আন্দোলন ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম বন্ধ করার হীন চক্রান্তে আদালতকে ব্যবহার করে একের পর এক ফরমায়েশি সাজা প্রদান করে চলেছে, যা দেশের কোনো মানুষ বিশ্বাস করে না।’
লিখিত বক্তব্যে কায়সার কামাল আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে দিনকে রাত আর রাতকে দিন বানাচ্ছে। সরকার বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারকদের দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করছে। ফলে এ রায় আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’
পরে সংবাদ সম্মেলন থেকে রায়ের বিরুদ্ধে কর্মসূচি ঘোষণা করেন এই বিএনপি নেতা। আগামী ৬ আগস্ট দেশের সব জেলা আইনজীবী সমিতিতে কালো পতাকা মিছিল এবং ৮ আগস্ট অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সূত্র- কালের কণ্ঠ।
সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ, বৃটিশ হাইকমিশনারকে জানালেন আইনমন্ত্রী
সুষ্ঠু, অবাধ এবং ভায়োলেন্স ফ্রি নির্বাচন করার ব্যাপারে জনগণের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে বৃটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক-কে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
বৃহস্পতিবার (০৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে
আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বৃটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সৌজন্য সাক্ষাতকালে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, বৃটিশ হাই কমিশনের গভর্নেন্স উপদেষ্টা মো. রফিকুজ্জামান, বৃটিশ হাই কমিশনের ২য় সেক্রেটারি ( রাজনৈতিক) ভেনেসা বিউমন্ট উপস্থিত ছিলেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, সারাহ কুক বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাই কমিশনার হিসেবে যোগ দেয়ার পর এটাই হচ্ছে আমার সাথে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ। তিনি যখন বাংলাদেশে ডিএফআইডির প্রধান ছিলেন তখন আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল।
আনিসুল হক বলেন, সারাহ কুক বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে অত্যন্ত খুশি। বাংলাদেশের উন্নয়নের ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে । হাই কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রাখবেন।
বাংলাদেশের আইনি অবকাঠামোর অনেক কিছুই ব্রিটিশ আইনের উপর নির্ভরশীল। এখন আইনের ক্ষেত্রে অনেক রকম উন্নয়ন হয়েছে এবং এটা কিভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে ব্যাপারে পুরস্পর আলাপ-আলোচনা করেছি। আলোচনায় বাংলাদেশের জুডিশিয়াল অফিসার ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে ।
তারেক রহমানের সাজা নিয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের সাজার বিষয়ে হাই কমিশনারের সঙ্গে কোনো আলাপ হয়নি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি তথ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করি এরপর আপনাদের জানাবো।
নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না, এ প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমার সাথে সেইভাবে কথা হয়নি।
বৃটিশ হাই কমিশনার আমাকে শুধু এ কথাই বলেছেন, তিনি খুব ইন্টারেস্টিং সময়ে বাংলাদেশে এসেছেন। আমি বলেছি, হ্যাঁ। এখন কম-বেশি আমাদের মনোযোগ হচ্ছে নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার একটি সুষ্ঠু, অবাধ এবং ভায়োলেন্স ফ্রি নির্বাচন করার ব্যাপারে জনগণের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ।










