ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 136

করোনায় হার্টের রোগীদের অবস্থা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে, আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের

0

করোনা ভাইরাসের কারণে হার্টের রোগীদের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণের ফলে হার্ট ফেলিওরেরে রোগীদের সমস্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
তবে যাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে, তাঁরা এখন রুটিন চেকআপে যাবেন না,
দরকার হলে অনলাইন কনসালটেশনের মাধ্যমে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
এমন আশঙ্কা কথা জানিয়েছেন ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতালের  সিনিয়র কনসালটেন্ট ইনটারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, ডক্টর বিকাশ মজুমদার।
তিনি বলেন, দেখুন হার্টের রোগে যাঁরা ভুগছেন ওষুধ চালিয়ে যাওয়া তাঁদের খুব জরুরি। ধরুন যাঁদের স্টেন বসানো রয়েছে হার্টে তাঁদের ক্ষেত্রে তো ওষুধ অত্যাবশ্যক। তাই লকডাউনের সময়ে ওষুধের সংকট দেখা দিলে খুবই মুশকিল। তবে আমার  কী মনে হয়  জানেন, আমরা একটু বেশিই ভয় পাচ্ছি। একসঙ্গে বেশি ওষুধ কিনে ফেলছি। সেটাও এই সংকটের একটা কারণ। যদিও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করার ব্যবস্থা সরকার করছে।
তা, যাই হোক। এই সময়ে হার্টের রোগী যাঁরা বাড়িতে রয়েছেন, যাঁদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে, রুটিন ভিজিটের জন্য তাঁদের এখন আর হাসপাতালে আসার প্রয়োজন নেই। মানে ধরুন, এই তিনমাস হয়ে গিয়েছে, এবার একবার ডাক্তারকে দেখিয়ে নেওয়া দরকার, এর কিন্তু কোনও দরকার নেই এখন। সে হাসপাতাল হলেও নয়, চেম্বার হলেও নয়।  তেমন কিছু জানার থাকলে আপনার ডাক্তারকে ফোন করুন নির্দ্ধিদায়।
আমরা এখন আমাদের হাসপাতালের তরফ থেকে অনলাইন কনসালটেশনের উদ্যোগ নিয়েছি। বিশেষ করে যাঁরা পুরনো রোগী, যাঁদের আমরা চিনি জানি তাঁদেরকে। সেক্ষেত্রে মেডিকেল কাউনসিল অব ইন্ডিয়া বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করেছে। একটা পোর্টাল থাকবে, সেখানে ভিডিও কলের মাধ্যসে কনসালটেশন চলবে। তবে সেখানে একটা বিষয় খুব পরিষ্কার থাকবে যে, আমরা যেহেতু রোগীকে সরাসরি পরীক্ষা করতে পারছি না, তার একটা ঝুঁকি থাকবে। আর দুপক্ষকেই সেই ঝুঁকি মেনে নিতে হবে।
তবে কারো যদি ইমার্জেন্সি কোনও পরিস্থিতি দেখা দেয়, তখন কিন্তু এই ব্যবস্থা চলবে না। সেক্ষেত্রে বাড়িতে বসে থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। করোনার প্রকোপ চলছে বলে যে হার্ট অ্যাটাক হবে না তার তো কোনও গ্যারান্টি নেই। তাই আমরা যা বলে থাকি–  বুকে ব্যাথা যদি দশমিনিটের বেশি থাকে, আর বুকের মাঝখানে চাপ ধরে থাকে, জিভের নিচে সরবিট্রেট দেওয়ার পরও যদি তা না-কমে, তাহলে সবচেয়ে  কাছের কোনও হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে দেরি না-করে।
ডা. মজুমদার বলেন, আমি সবাইকে একটা কথাই বলছি, বাড়িতে থাকুন, ওষুধ গুলো চালিয়ে যান। আর সেরকম কোনও কিছু হলে অবশ্যই ইমার্জেন্সিতে আসুন।
তবে এক জায়গায় আমার একটা ভাবনা রয়েছে। বলা ভালো দুশ্চিন্তা। অনেক হার্ট ফেলিওরের রোগী আছেন।  যাঁদের শ্বাসকষ্ট থাকে, হার্টের পাম্পিং কম। তাঁদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু অন্যদের থেকে বেশি।  তাঁরা যখন শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন বোঝা মুশকিল হয়ে যায়, করোনার সংক্রমণের জন্য শ্বাসকষ্ট হচ্ছে নাকি হার্ট ফেলিওরের কারণে হচ্ছে।  এই একটা জায়গায় আমাদের চিন্তা রয়েছে। অন্যান্য হার্টের রোগীদের নিয়ে এই সমস্যা নেই।  সেক্ষেত্রে অবশ্যই দুটোর মধ্যে ফারাক করা সহজ হয়।  কিন্তু হার্ট ফেলিওরের রোগীদের ক্ষেত্রেই এই ধন্দটা কাজ করে।  আমরা আশঙ্কা করছি, আগামী কিছুদিনের মধ্যে হয়তো হার্ট ফেলিওরের রোগীদের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে ভাইরাল ইনফেকশনের জন্য । কারণ, যদি রোগীর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হয় তাহলে হার্ট ফেলিওয়ের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আর যাঁদের হার্ট ফেলিওরের রোগ নেই, তাঁদেরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের জন্য় পাম্পিং এবিলিটি কমতে পারে।  ভাইরাল মায়োকার্ডাইটিস বলে একটা কনডিশন রয়েছে। যার থেকে জটিলতা বাড়তে পারে। আর  হার্ট ফেলিওর একটা ক্রনিক কনডিশন  বা রোগ, যা নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকতে পারে। ভাইরাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই রোগীদের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এবার করোনাভাইরাস কতটা হামলা করবে আগামিদিনে, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।

পবিত্র কোরানের ২৬টি আয়াত নিষিদ্ধের দাবি সরাসরি খারিজ করলো ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, রিজভি”র জরিমানা

0

ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানের ২৬টি আয়াত নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে করা একটি জনস্বার্থ পিটিশন সোমবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।
শুধু তাই নয়, এরকম একটি ‘সম্পূর্ণ অর্থহীন’ পিটিশন দাখিল করার জন্য আবেদনকারী সৈয়দ ওয়াসিম রিজভির ৫০,০০০ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে।
সৈয়দ ওয়াসিম রিজভি উত্তরপ্রদেশের শিয়া ওয়াকফ বোর্ডের একজন সাবেক চেয়ারম্যান এবং দেশের শিয়া মুসলিম সমাজের একজন প্রভাবশালী নেতা।
গত ডিসেম্বরে তিনি কোরানের বিশেষ কয়েকটি আয়াত অসাংবিধানিক ঘোষণার দাবিতে শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। এই আয়াতগুলো মূল কোরানের অংশ নয় বলেও পিটিশনে দাবি করা হয়েছিল।

(ছবি-রিট আবেদনকারি শিয়া ধর্মিয় নেতা সৈয়দ রিজভি)
তার যুক্তি ছিল, এই আয়াতগুলি মুসলিমদের তরুণ প্রজন্মকে শিখিয়ে বিধর্মীদের, বিশেষত মূর্তিপূজায় বিশ্বাসীদের হত্যা করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী বিধর্মীদের ওপর হামলা চালানোর ‘সাফাই’ হিসেবে এই আয়াতগুলো কাজে লাগাচ্ছে বলেও যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে সোমবার প্রথম দিনের শুনানিতেই তিনজন বিচারপতির বেঞ্চ আবেদনটিকে ‘পুরোপুরি ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন।
বেঞ্চের নেতৃত্বে ছিলেন জাস্টিস রোহিংটন নরিম্যান, তিনি এমনও প্রশ্ন তোলেন, “আবেদনকারী কি এই পিটিশন নিয়ে সত্যিই সিরিয়াস? আমরা তো বিশ্বাসই করতে পারছি না!”
অর্থহীন বিষয় নিয়ে মামলা রুজু করে আদালতের সময় নষ্ট করার জন্য আবেদনকারীর আর্থিক জরিমানা করারও সিদ্ধান্ত নেয় শীর্ষ আদালত।
তবে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির আগেই ভারতের নানা মহলে সৈয়দ ওয়াসিম রিজভির পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছিল।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মৌলানা মাহমুদ দরিয়াবাদী বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, “পবিত্র কোরানের কোনও আয়াত মানুষকে সহিংসতায় প্ররোচিত করে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।”
অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ড এবং আরও নানা মুসলিম সংগঠনের পক্ষ থেকেও অভিযোগ আনা হয়েছিল, সৈয়দ ওয়াসিম রিজভি ‘সম্পূর্ণ প্রসঙ্গ-বহির্ভূতভাবে কোরানের অপব্যাখ্যা’ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
ভারতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার অভিযোগে মি রিজভিকে নোটিশ পাঠিয়েছিল দেশের জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনও।
দক্ষিণ ভারতের আর্কটের নবাব মহম্মদ আবদুল আলিও বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট যদি এই আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে তাহলে সেটা হবে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন।
শুধু ভারতে নয়, প্রতিবেশী বাংলাদেশেও খেলাফত মজলিস-সহ বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন কোরানের আয়াত নিষিদ্ধ করার দাবিকে ‘আল্লাহ-র সাথে চরম ধৃষ্টতার শামিল’ বলে বর্ণনা করেছিল।
গত মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের সময় সে দেশে যে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়েছিল, সেখানেও এই ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে এসেছিল বিভিন্ন সংগঠন।
তবে সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট হওয়ার পর এই বিতর্কের অবসান হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবারের শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী আর কে রাইজাদা অবশ্য যুক্তি দিয়েছিলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনার সীমিত লক্ষ্য নিয়েই এই পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার সাবমিশন হল এই বিশেষ আয়াতগুলো বিধর্মী বা কাফিরদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হয়ে সওয়াল করে।”
“খুব অল্প বয়স থেকে যে বাচ্চাদের মাদ্রাসায় থেকে পড়াশুনো করতে হয়, তাদের এগুলো শিখিয়ে মগজধোলাই করা হয় – যা কখনওই কাম্য নয়”, যুক্তি দেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ অবশ্য এরপরও পরিষ্কার জানিয়ে দেয় তারা এই বিষয় নিয়ে কোনও তর্কবিতর্ক শুনতেও আগ্রহী নয়।
আবেদনকারীকে ৫০,০০০ রুপির প্রতীকি জরিমানা করে তারা আবেদনটিকে পত্রপাঠ খারিজও করে দেন। বিবিসি বাংলা।

আসামি কারাগারে রেখেই ভিডিও কনফারেন্সে রিমান্ড-জামিন শুনানি হবে

0

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কারাগারে থাকা আসামিকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেখে রিমান্ড শুনানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আসামিদের আদালত কক্ষে হাজির না করে কারাগারে রেখেই জামিন শুনানি করতে বলা হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের এই আদেশে কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জামিন শুনানি এবং মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
“বর্ণিতাবস্থায়, জামিন শুনানিকালে এবং মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে হাজতি আসামিদের কারাগার হতে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত কক্ষে হাজির না করে কারাগারে রেখেই জামিন শুনানি করতে হবে। অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনে মামলার কার্যক্রম মুলতবি করতে হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে জামিন শুনানিকালে এবং মামলার অন্যান্য কার্যক্রমে হাজতি আসামিদের কারাগার হতে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত কক্ষে হাজির না করার নির্দেশ প্রদান করা হল।”
আর রিমান্ড শুনানির বিষয়ে বলা হয়েছে, “হাজতি আসামির রিমান্ড শুনানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কারাগারে ভিডিও কনফারেন্সের লিংক প্রেরণ করে শুনানি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কারাগার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ভার্চুয়ালি দেখে রিমান্ড শুনানি করতে পারবেন।”
এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত বছর মার্চে সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির সাথে সমন্বয় করে দেশের সব আদালতেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। তাতে দেশের বিচার ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়ে গত বছর ৯ মে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
এরপর ১০ মে সুপ্রিম কোর্ট ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘প্র্যাকটিস’ নির্দেশনা জারি করে। পরদিন দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি কমতে থাকলে প্রথমে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিধি মেনে শারীরীক উপস্থিতিতে নিম্ন আদালত চালু করা হয়। এক পর্যায়ে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে হাই কোর্টেও চালু করা হয় কয়েকটি বেঞ্চ। পাশাপাশি ভার্চুয়াল কোর্টও চালু থাকে। 
তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চ এবং চেম্বার আদালত এখন পর্যন্ত ভার্চুয়ালিই চলছে। বিডিনিউজ।

আহমদ শফী হত্যা: বাবুনগরী-মামুনুলসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট পিবিআইর

0

হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমীর আহমদ শফীকে হত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে হেফাজতের আমীর বাবুনগরীসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 
সোমবার (১২ এপ্রিল) এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে পিবিআই। 
পিবিআইয়ের তদন্তে আহমদ শফী হত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের আমীর বাবুনগরী, যুগ্ম আহ্বায়ক মামুনুল হকসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর শাহ আহমদ শফী মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর তিন মাস পর গত ১৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ আদালতে তাকে মানসিক নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগ এনে মামলা করেন আল্লামা আহমদ শফীর শ্যালক মাইনুদ্দিন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেন। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুল হকসহ ৩৬ জনকে নাম উল্লেখপূর্বক আসামি করা হয়। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামুনুল হক ছাড়াও মামলায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন নাছির উদ্দিন মুনির, আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মীর ইদ্রিস, হাবিব উল্লাহ, আহসান উল্লাহ, জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, নুরুজ্জামান নোমানী, আব্দুল মতিন, মো. শহীদুল্লাহ, মো. রিজওয়ান আরমান, মো. নজরুল ইসলাম, হাসানুজ্জামান, এনামুল হাসান ফারুকী, মীর সাজেদ, জাফর আহমদ, মীর জিয়াউদ্দিন, আহমদ, মাহমুদ, আসাদউল্লাহ, জোবায়ের মাহমুদ, এইচ এম জুনায়েদ, আনোয়ার শাহ, আহমদ কামাল, নাছির উদ্দিন, কামরুল ইসলাম কাসেমী, মোহাম্মদ হাসান, ওবায়দুল্লাহ ওবাইদ, জুবায়ের, মোহাম্মদ, আমিনুল হক, রফিক সোহেল, মোবিনুল হক, নাঈম, হাফেজ সায়েম উল্লাহ ও হাসান জামিল।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে তদন্ত করতে গত ১২ জানুয়ারি সকালে হাটহাজারী মাদ্রাসা ও ফটিকছড়ি বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শন করে পিবিআই টিম। পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তদন্তের দিন তিনি বলেন, তদন্তের অংশ হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আমরা হাটহাজারী মাদ্রাসা, ফটিকছড়ি বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শনকালে সেখানে সংশ্লিষ্ট যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আরও যারা সংশ্লিষ্ট আছেন তাদের সঙ্গে আমরা পর্যায়ক্রমে কথা বলবো।

জিয়া হত্যার ঘটনায় কোর্টমার্শালে অভিযুক্ত সেনাকর্মকর্তাদের রিটের শুনানিতে ভীত ছিলেন বিচারপতিরা, ভয়ে রাতে মেঝেতে শুইতেন বিচারপতি লতিফুর রহমান

0

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনা অভ্যুত্থানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান। এ মামলাটি কোর্ট মার্শালে বিচার হয় এবং ১২ সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির আদেশ হয়। কোর্ট মার্শালের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে সাজাপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তারা হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। ওই রিট পিটিশন মামলা শুনানি হয় বিচারপতি ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি লতিফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে। কিন্তু ওই মামলার শুনানিতে তখনকার সেনাপ্রধান হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের ভয়ে সন্তস্ত্র ছিলেন বিচারপতিরা। ক্যান্টনমেন্ট থেকে রাতে-বিরাতে তাদের ফোন করা হতো। নিরাপত্তার কারণে তাদের বাড়িতে পুলিশ প্রহরা বসানো হয়। কিন্তু তারপরও ভয় কাটেনি বিচারপতিদের। ভয়ে রাতে তারা ঘুমোতে পারতেন না। বেডরুম ছেড়ে ঘুমোতেন অন্যঘরের মেঝেতে। এমনই এক ভীত সন্তস্ত্র পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকদের মনে। বিচারপতি লতিফুর রহমান পরে প্রধানবিচারপতি ও পরবর্তীতে তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হন।

বিচারপতি লতিফুর রহমান তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, তত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলো ও আমার কথা’বইয়ে এ নিয়ে বিষদ লিখেছেন। সেখানে লিখেছেন,” আমি তখন লালমাটিয়ায় আমার নিজের বাড়িতে থাকি। হঠাৎ ঢাকার পুলিশ হেড কোয়ার্টাস থেকে ফোন করে আমাকে বলা হয় যে, আজ মধ্যরাত থেকে আমার বাসায় পুলিশ প্রহরা মোতায়েন করা হবে। সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তার জন্য এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমি একজন অস্থায়ী বিচারক হিসেবে একটু বিব্রতবোধ করতে লাগলাম। প্রত্যেক আসামির জন্য একজন করে উকিল নিয়োগ করায় শুনানি দীর্ঘায়িত হতে থাকল। ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড: জহির, সিরাজুল হক, আরও অনেকেই মামলার আইনজীবী নিযুক্ত ছিলেন। মামলা দুদিন চলার পর হঠাৎ বিচারপতি এ টি এম আফজাল এ মামলার অগ্রগতি জানার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করলেন এবং মত প্রকাশ করলেন যে, মামলাটি একটু দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করলে ভাল হয়। এতগুলো লোকের জীবন মরণের বিষয় এবং এতো আইনজীবী নিয়োজিত হয়েছে এ মামলায় স্বাভাবিকভাবে তার শুনানি একটু বিলম্বিত হবে। বিচারপতি আফজালের কথাতে আমি বুঝতে পারলাম যে, মেজর জেনারেল হোসেন মো: এরশাদ , যিনি সেনা প্রধান ছিলেন ,তিনি এ মামলাটি ত্বরান্বিত করার জন্য আফজালকে অনুরোধ করেছিলেন এবং আফজাল তার মনোভাব আমাকে জানালেন। বিচারপতি আফজাল বিশেষ ভদ্রলোক। তিনি সাধারণত এসব ব্যাপারে কাউকে অনুরোধ করার ব্যক্তি নন। তবে পরিস্থিতি নিশ্চয় খারাপ ছিল। বিশেষ করে আমার ব্যাপারে বিশেষ কোনো অসুবিধা ছিল। সেজন্য বন্ধু হিসেবে তিনি শুধু মামলাটি সত্বর নিস্পত্তি করার জন্য অনুরোধ করেন। তা ছাড়া রাত্রে ২/১টি টেলিফোন আসত। আমাকে ভয় দেখিয়ে বলা হত, মামলা দ্রুত করার জন্য। ইংরেজিতে আমাকে টেলিফোনে যেভাবে বলা হত, তাতে এ কথাগুলো ক্যান্টনমেন্টের কোনো সেনাকর্মকর্তা বলছেন বলে আমার ধারণা হল। আমি লালমাটিয়ায় আমার বাসায় সাধারণত যে বেডরুমে ঘুমাতাম, সে বেডরুম পরিবর্তন করে অন্য ঘরের মেঝেতে শুয়ে থাকতাম। আমি ও আমার বাসার সকলেরই একটু ভয় ভয় লাগত। সিনিয়র বিচারপতি ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী আমাকে জানান যে, তিনিও এরকম ফোন পেতেন। মামলা দ্রুত নিস্পত্তি করার জন্য ছুটির দিনেও আমরা কোর্ট করতাম।

এ মামলায় ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শালে ১২ জন সেনাকর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এ রিট মামলার মোটামুটি বক্তব্য ছিল যে, সেনাকর্মকর্তাদের মানবাধিকার লংঘন করে কোর্ট মার্শালে অন্যায়ভাবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু কোর্টমার্শাল আইনগতভাবে গঠিত হয়েছে বলে এটর্নি জেনারেল কে. বাকের আমাদের সামনে বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বক্তব্য উপস্থাপন করেন যে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের ৫ উপঅনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোর্টমার্শাল প্রতিরক্ষা শৃংখলা বাহিনী সংক্রান্ত আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রিট মামলা দাখিল করার কোনো এখতিয়ার নেই। তা ছাড়া এটর্নি জেনারেল বক্তব্য পেশ করেন যে, জেনারেল কোর্ট মার্শাল সঠিকভাবে গঠিত হওয়ায় আইনগত ও কার্যবিধিগত কোনো দোষ বিচার করার ক্ষমতা আমাদের নেই। দুপক্ষের বক্তব্য শ্রবণ করে আমরা মামলার রায় প্রদান করলাম যে ,ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শালের বিচার আমাদের কোর্টের এখতিয়ার বিহর্ভূত। আমার সিনিয়র জজ বিচারপতি ফয়জুল ইসলাম চৌধুরী আমাকে এ মামলার রায় লেখার জন্য বললেন এবং আমার লেখা ছোট রায়টি উনি কোর্টে পড়ে শুনান । এভাবে মামলাটি খারিজ করলাম। পরবর্তীতে সুপ্রিমকোর্ট আমাদের রায় বহাল রাখে।

রমজানে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

0

পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালতের কোর্ট ও অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১১ এপ্রিল) এ বিষয়ে তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। আপিল বিভাগের সূচিতে বলা হয়, পবিত্র রমজানে সাপ্তাহিক ও সরকার ঘোষিত ছুটির দিন ব্যতীত রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অফিসের কার্যক্রম সকাল সাড়ে আটটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলবে। তবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত বিরতি থাকবে।
অপরদিকে আদালতের সময়সূচিতে বলা হয়, সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অপরিবর্তিত থাকবে। হাইকোর্ট বিভাগের সূচিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল তিনটা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। তবে দুপুর একটা ১৫ মিনিট থেকে দুইটা পর্যন্ত যোহর নামাজের বিরতি থাকবে।
অফিসের সময়সূচিতে বলা হয়, সকাল নয়টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত অফিস চলবে। তবে দুপুর একটা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত যোহর নামাজের বিরতি থাকবে।
অধস্তন আদালতের সূচিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসে রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত চলবে। তবে দুপুর একটা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত যোহর নামাজের বিরতি থাকবে।
অপরদিকে অফিসের সময়সূচিতে বলা হয়েছে, সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে। তবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

গৃহকর্মীর মৃত্যু, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্কুলের শিক্ষিকা ফারজানা ৪ দিনের রিমান্ডে

0

রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আবাসিক ভবন থেকে এক গৃহকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা ফারজানা ইসলাম কাকলীকে ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
রোববার মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার এসআই আতিকুল বিশ্বাস ওই শিক্ষিকাকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
গত শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে কলেজের শিক্ষিকার আবাসিক ভবনের চতুর্থতলা থেকে লাইলি আক্তারের (১৬) মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় একটি মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে শিক্ষক আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে লাইলী (১৬) নামের ওই গৃহকর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার সমস্ত শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়েছে , নিহতের চোখ, মুখ, কোমর,হাঁটুসহ পায়ের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত,পোড়া, ঝলসানো আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে শারীরিক নির্যাতনেই মৃত্যু হয়েছে গৃহপরিচারিকা লাইলীর।
লাইলীর বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবার নাম সিরাজ মিয়া। ছয় মাস ধরে সে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ফারজানা ইসলামের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো।

মামুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণার খোঁজে সন্তানের জিডি, আরেক বান্ধবীর সন্ধান গোয়েন্দাদের

0

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার সন্ধান চেয়ে থানায় জিডি করেছেন ঝর্ণার বড় ছেলে। শনিবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় এই জিডি করা হয়। এতে বলা হয় তার মা পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করছেন না, মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার মায়ের কোনো সন্ধান পাচ্ছেন না।
জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, ‘পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’
জিডিতে ঝর্ণার ছেলে উল্লেখ করেন গত ৪-৫ দিন ধরে তিনি ও তার পরিবারের কেউ মায়ের (ঝর্ণা) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। তাদের মায়ের মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ। সর্বশেষ যখন মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিল, তখন তার মা তার অবস্থান বলেননি।
পল্টন থানার ৫৪৫ নম্বর জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি আমি আমার মায়ের ঘটনায় ফেসবুকে একটি লাইভ করি। এরপর থেকেই আমাকে নানা মহল থেকে ফোন দিয়ে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।
উল্লেখ্য নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে গত ৩ এপ্রিল এক নারীর (ঝর্ণা) সঙ্গে অবস্থান করার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। ওই দিন তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, সঙ্গে থাকা ওই নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছেন। কিন্তু পরে কয়েকটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় বিয়ে করার বিষয়টি মামুনুল হকের প্রথম স্ত্রী জানতেন না। দ্বিতীয় বিয়েটিও তিনি শরিয়ত মতো করেন নি।
মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণার দুই সন্তান আবদুর রহমান ও তামিম তাদের বাবার সঙ্গে খুলনায় থাকে। আবদুর রহমান কয়েক দিন আগে ফেসবুক লাইভে এসে মামুনুল হক সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিচার দাবি করে। পাশাপাশি আবদুর রহমান তার মা-বাবার বিচ্ছেদ ও তাদের পরিবার ধ্বংসের জন্য সরাসরি মামুনুল হককে দায়ী করে।
মামুনুল হক হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। রয়েল রিসোর্টে তিনি ঘেরাও থাকা অবস্থায় স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। পরে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
আরেক বান্ধবির সন্ধানঃ
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের একের পর এক নারী কেলেঙ্কারির তথ্য বের হয়ে আসছে। এবার গাজীপুরে আরেক নারীর সন্ধান পাওয়া গেছে যার সঙ্গে মামুনুলের ছিলো অবৈধ সম্পর্ক। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা মামুনুলের নতুন এই বান্ধবীর সব তথ্য উদঘাটন করেছে। তার পুরো নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। এই নারীকে এতদিন মামুনুলের প্রথম স্ত্রী ধারণা করলেও গত দুইদিন আগে বেরিয়ে এসেছে নতুন এক তথ্য। মামুনুলের ঘনিষ্ঠ অনেকের কাছে এই নারীর সম্পর্কে যাচাই-বাছাই শেষে গোয়েন্দারা আরও নিশ্চিত হয়। তবে মামুনুল হকের আগের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্না হওয়ার কারণে এই জান্নাতের পরিচয় নিশ্চিত করতে দারুণ বেগ পেতে হয়। তবে মামুনুল এবং জান্নাতের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বর্তমানে গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে। দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন’এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে , জান্নাতুল ফেরদৌসের নতুন স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্ড অনুযায়ী তার বাবার নাম জামাল। মা আকলিমা বেগম। ঠিকানা- গাজীপুর কাপাসিয়ার বানার হাওলা’য়। জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৯০।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন মামুনুলের এই বান্ধবী। মাদ্রাসার পাশেই একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন। এই বাসাতেই মাওলানা মামুনুল হক মাঝে-মধ্যেই যাতায়াত করতেন। নিয়মিত যোগাযোগও ছিল।
পাশাপাশি একান্তে সময় কাটানোর অনেক উপকরণও হাতে পেয়েছে গোয়েন্দারা। অনেক তথ্য প্রমাণও এসেছে বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে। জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদ্রাসার প্রধান উপদেষ্টা হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক।

বিয়ে না করেই ঝর্ণার সঙ্গে মিশতেন মামুনুল, কারও কেলেঙ্কারির দায় নেবেন না আলেমরা

0

বিয়ে না করেই জান্নাত আরা ঝর্নার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করতেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। তার এমন আচরণ ঝর্ণা মেনে নিতে পারেননি। পরে এ জন্য অনুশোচনাও করেন। ঝর্ণার লেখা তিনটি ডাইরি থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। শুক্রবার ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রয়্যাল রিসোর্টে গত শনিবার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক নারীসহ অবরুদ্ধ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও যুবলীগ, ছাত্রলীগ দুই নেতার বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের করার ঘটনায় শুক্রবার (৯ এপ্রিল) তিনটি মামলা করা হয়।
অন্যদিকে মামুনুলের নানা কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর থেকে হেফাজত ইসলামের মধ্যে তাকে নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠছে। প্রথম অবস্থায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা তার পক্ষ নিলেও প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসায় এখন ক্রমেই তারা দূরে সরে যাচ্ছেন। আলেমরা বলছেন কারও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি ও অপরাধের দায় হেফাজত নেবে না। মামুনুলকে কেন্দ্র করে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে হেফাজত।
সোনাগাঁও থানায় দায়ের করা একটি মামলায় মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করার ঘটনায় উপজেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক নাসির উদ্দীন বাদী হয়ে স্থানীয় হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ ১১১ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে হেফাজতে ইসলাম ও বিএনপির ১১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এছাড়া অপর মামলাটি দায়ের করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সোহাগ রনির বাবা শাহ জামাল তোতা। এ মামলায় বিএনপি ও হেফাজতে ইসলামের ৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শুক্রবার জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হেফাজতে ইসলামের কর্মী খালেদ সাইফুল্লাহ (৩৪), কাজী সমির (৩২), অহিদুল ইসলাম (৩৬), আব্দুল আউয়াল (৩৯) কে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের শান্তিনগর দারুণ নাজাত নুরানি মাদরাসায় সরকারবিরোধী গোপন বৈঠক করার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ৭ জন হেফাজতে ইসলামের কর্মীকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী রবিবার রিমান্ডের ওপর শুনানি হবে
যা আছে ঝর্ণার ডায়রিতেঃ
বিয়ে না করেই জান্নাত আরা ঝর্নার সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা করতেন হেফাজত নেতা মামুনুল হক। তার এমন আচরণ ঝর্ণা মেনে নিতে পারেননি। পরে এ জন্য অনুশোচনাও করেন। ঝর্ণার লেখা দুইশ পৃষ্ঠার তিনটি ডাইরি থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের প্রচারিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
হেফাজত নেতা মানুনুলের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণা। তাকে নিয়ে মামুনুল নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে গিয়েছিলেন অবসর কাটাতে। আর সেখানেই স্থানীয় জনগনের প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। সে সময় মামুনুল দাবি করেন তিনি দুই বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, ঝর্ণা তার স্ত্রী। তবে এর আগে কেউ তার দ্বিতীয় বিয়ের কথা জানতো না। দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা সমালোচনা।
রয়েল বিসোর্টের ঘটনা নিয়ে মামুনুল তার প্রথম স্ত্রীর কাছেও সত্য গোপন করেন। পরে ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে খুশি করতে সীমিত পরিসরে মিথ্যে বলার অবকাশ আছে দাবি করে নিজের পক্ষে সাফাইও গান। এবং নিজের ফোনালাপ ফাঁসের কথাও বলেন। যা থেকে প্রমাণ হয়, প্রথম স্ত্রী আমেনা তৈয়্যইবা ও কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী ঝর্ণার সঙ্গে কথোপকথনের ফোন রেকর্ড ফাঁস হওয়ার ঘটনা সত্য। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেই ভিডিও মুছে ফেলেন তিনি।
এদিকে শুক্রবার ঝর্ণার তিনটি ডাইরি সামনে আসায় অনেক কিছুই খোলাসা হয়েছে। সেখানে লেখা, দীর্ঘদিন ধরেই মনোরঞ্জন করেছেন মামুনুল হক। বিয়ে বর্হিভূত মেলামেশার জন্য অনুশোচনার কথাও লেখা রয়েছে ডাইরিতে। বিয়ে না করেও ঝর্ণার নিয়মিত ভরণপোষণ দিতেন মামুনুল। কিন্তু এর বিনিময়ে ঝর্ণাকে যে মাশুল দিতে হয়েছে তার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন সৃষ্টিকর্তার কাছে। সেখানে লেখা রয়েছে, আমার দাবিদার নেই, আমার শরীরের দাবিদার রয়েছে। এ জীবন শেষ করে দিতে চাই। আল্লাহ আমি কী করবো? আমার কী করা উচিত? কী করলে পাপমুক্ত হবো? ডাইরির পাতায় পাতায় লেখা রয়েছে মামুনুলের প্রতিশ্রুতি ভঙের বিরবণ আর সে কারণে ঝর্ণার আর্তনাদে ভরা কথাবার্তা।

রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জিহাদ ও সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, হুশিয়ারি আইনমন্ত্রীর

0

দেশে অরাজকতা, জনগণের সম্পদ বা জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সরকার তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলামকে প্রতিরোধের জন্য কার্যকর আইন আছে। আইন অনুযায়িই সবকিছু হবে৷ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) কোভিড-১৯ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, আবারও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কেউ যদি দেশে অরাজকতা, জনগণের সম্পদ বা জানমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করেন, এই সরকার তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিবে। আমাদেরকে, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে সেবা করার দায়িত্ব দিয়েছেন জনগণ। সেখানে যদি কেউ ব্যঘাত ঘটনোর চেষ্টা করে অবশ্যই আইনানুগভাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিকা নেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখিনি। আমি ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে ইনজেকশনটা দিয়েছেন। কারণ আমি কোনো ব্যথা বোধ করিনি। আগেও আপনাদের একথা বলেছি যে, ইনজেকশন নেওয়ার ব্যাপারে আমার এলার্জি আছে। আমি খুব ভয় পাই। দু’বারই আমি অত্যন্ত স্বাচ্ছ্যন্দে এই ইনজেকশনটা নিতে পেরেছি। সেজন্য কর্তৃপক্ষকে আমি ধন্যবাদ জানাই।
আইনমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে ভয়াবহভাবে বেড়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ডোজ নিলে আমি মনে করি অন্ততপক্ষে আক্রান্তটা কমে যাবে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে নেওয়ার জন্য।