ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 182

আদালতের কার্যক্রম সীমিত করার অনুরোধ

0

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে জনসমাগম এড়াতে নিম্ন আদালতের কার্যক্রম সীমিত রাখতে প্রধানবিচারপতির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ আইন সমিতি। শনিবার সমিতির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক কেশব রায় চৌধুরী এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ আহবান জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন ও রিমান্ড শুনানির মতো অপরিহার্য বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে চলমান রেখে অন্য কার্যক্রমগুলো মুলতবি করার নির্দেশনা দিলে মানুষ উপকৃত হবে। এ বিষয়ে প্রধানবিচারপতির দৃষ্টি কামনা করেন তারা।

ঢাকার বায়ুদূষণের একগাদা কারণ

0

রাজধানীর বায়ুদূষণের একগাদা কারণের কথা জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহাম্মদ। হাইকোর্টে দেয়া এক প্রতিবেদনে তিনি জানান,২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ঢাকার বায়ুমান বেশি খারাপ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে লিখিত প্রতিবেদনে তিনি জানান,ইটভাটা,রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি,যানবাহন,অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ,বর্জ্য পোড়ানো বায়ুদূষণেরর অন্যতম উৎস।

বায়ুদূষণ রোধে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে আদালতের তলবে রোববার হাজির হয়ে এসব তথ্য জানান মহাপরিচালক।

প্রতিবেদনে বলা হয় যানবাহন ও নির্মাণকাজ বর্তমান সময়ে বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। এ ছাড়া রাজধানীর চারপাশে ইটভাটা,অনেক জায়গায় বর্জ্য পোড়ানোর ফলে দূষিত হচ্ছে বায়ু।

শুনানিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের জনবল এবং অভিযান পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের স্বল্পতার কথা তুলে ধরা হয়। জানানো হয় অধিদপ্তরের জনবল কাঠামোতে ৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা কিন্তু আছেন মাত্র ৩ জন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়কে অনুরোধ জানানো হলেও তা কার্যকর হয় নি।

আদালত পরিবেশ রক্ষায় অভিযান পরিচালনার জন্য ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিতে জনপ্রশাসন সচিবকে নির্দেশ দেন। একমাসের মধ্যে এই পদায়ন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

চলে গেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী

0

চলে গেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ধানমন্ডির নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

সুপ্রিমকোর্টের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় ধানমন্ডির নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন মাহমুদুল আমিন চৌধুরী। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর । তিনি এক ছেলে , মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার মরদেহ সিলেটে নিয়ে যাওয়া হবে। এদিন বাদ এশা সিলেট হজরত শাহজালাল (রা.)-এর মাজারে তাকে দাফন করা হবে।

বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বাংলাদেশের ১১তম প্রধান বিচারপতি ছিলেন। ১৯৮৭ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০১ সালের ১ মার্চ প্রধান বিচারপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন ও ২০০২ সালের ১৭ জুন অবসর গ্রহণ করেন।

তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ জুন সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার রনকেলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে আইনজীবী হিসেবে সিলেট জেলা বারে যোগ দেয়া মাহমুদুল আমিন চৌধুরী ১৯৮৭ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন এবং ১৯৯৯ সালের জুনে আপিল বিভাগের বিচারপতি নিযুক্ত হন।

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন থামাওঃ আইসিজে

0

আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরর ওপর সহিংসতা ও বৈষম্য অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।

নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ শহরে শান্তি প্রাসাদে ২৩ জানুয়ারী সকালে আদালতের আনুষ্ঠানিক অধিবেশনে আইসিজের প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুলকোয়াই আহমেদ ইউসুফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই রায় ঘোষণা করেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘ কয়েকদশক ধরে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাচ্ছে মিয়ানমার সরকার।

২০১৭ সালে সেনা অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হয়। অন্তত ১০ লাখ রোহিঙ্গা নারী পুরুষ বাস্তুভিটা ত্যাগ করে বাংলাদেশে চলে আসে।

আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা চেয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজিতে এই মামলা করে।

টানা কয়েকদিন শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমান রেখে ২৩ জানুয়ারী রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে সর্বসম্মতিক্রমে মিয়ানমারের প্রতি চারদফা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলা মিয়ানমারের জন্য বাধ্যতামূলক।

অন্তর্বর্তীকালীন ৪ দফা নির্দেশনা হচ্ছে :

১.গণহত্যার সনদ অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের হত্যাসহ সবধরণের নিপীড়ন থেকে নিবৃত্ত থাকতে হবে মিয়ানমারকে।

২.সেনাবাহনী বা অন্য কেউ যাতে গণহত্যা সংগঠন, ষড়যন্ত্র বা উসকানি দিতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

৩.গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ রক্ষা করতে হবে।

৪.রায় অনুযায়ী মিয়ানমার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে তা চারমাসের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে।

বিশ্বে আইনের শাসন ও মানবতার মর্যাদা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক রায় দিল আন্তর্জাতিক বিচার আদালত।

সালমান শাহ’র অপমৃত্যু মামলার প্রতিবেদন ২ ফেব্রুয়ারি

0

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র অপমৃত্যু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ঠিক করেছেন আদালত।

রোববার (২২ ডিসেম্বর) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার এই মামলার পুনঃতদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ঠিক ছিল। তবে তিনি এদিন প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকা মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ঠিক করে দেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চলচ্চিত্র নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। ওই সময় অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত।

এরপর ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই প্রতিবেদন গৃহীত হয়। কিন্তু সিআইডি’র প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। প্রায় ১৫ বছরে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।

এরপর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহ’র মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।

২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহ’র হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।

মামলাটিতে ‌র‌্যাবকে তদন্ত ভার দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র‌্যাব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন।

পথশিশুদের পুনর্বাসনে কি ব্যবস্থা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

0

সারাদেশে পথশিশুদের পুনর্বাসনে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এবিষয়ে ৪০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় গত ১৬ ডিসেম্বর ১০ বছর বয়সী পথশিশু সেলিমের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে(ওসি) মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামানের করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। রিট আবেদনকারী নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

পথশিশু সেলিমের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এ রিট আবেদন করা হয়। আবেদনে সারাদেশে পথশিশুদের পুনর্বাসনে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগুনে দগ্ধ সেলিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি। তার শরীরের ২৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। সেলিম নিজের নাম ছাড়া অন্য পরিচয় বলতে পারেনি। বাবা-মার নাম বা বাড়ির ঠিকানা বলতে পারে না। সে কমলাপুর রেল স্টেশন এলাকায় থাকতো। শিশুটি জানায়, একজন রিকসা চালক ম্যাচের কাঠি দিয়ে তার আগে আগুন দিয়েছে।

ব্যারিস্টার সুমনকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

0
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় ব্যারিস্টার সুমনকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট। ভবিষ্যতে ফেসবুকে বিচার বিভাগ ও আইনজীবীদের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো পোস্ট না দিতে বলা হয়েছে তাকে।

সূত্র জানায়, বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে ব্যারিস্টার সুমনকে সতর্ক করেন। একজন বিচারপতির ছেলের বিরুদ্ধে করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে তাকে সতর্ক করেন আদালত।

বুধবার শুনানির এক পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর উল ইসলাম আদালতকে বলেন, ব্যারিস্টার সুমন ফেসবুকে ক্যাম্পেইন করে সুপ্রিম কোর্ট ও আইনজীবীদের হেয় করছেন। একজন আইনজীবী অপর একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে এভাবে প্রচারণা চালাতে পারে না।

এসময় আদালত বলেন, ফেসবুকে এসব দিবে কেন? আর এরকম করবেন না।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাকে সতর্ক করে আদালত কোনো আদেশ দেননি। শুনানিকালে আদালত বলেছেন বিচার বিভাগ বা একজন সিনিয়র আইনজীবী নিয়ে এভাবে পোস্ট দেওয়া ঠিক হয়নি। ভবিষ্যতে এটা করবেন না।’

হাইকোর্টের নির্দেশনা দ্রুত কার্যকর হোক

0

র‍্যাগিংবিরোধী কমিটি
রাষ্ট্রের অব্যাহত নীরবতার প্রেক্ষাপটে হাইকোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিংবিরোধী কমিটি গঠন করতে একটি যথার্থ নির্দেশনা দিয়েছেন। র‍্যাগিং ও বুলিয়িং কমবেশি বেদনাদায়ক বৈশ্বিক প্রবণতা। এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘনও বটে।

বুয়েটে আবরার হত্যাকাণ্ডের পর এটা আশা করা স্বাভাবিক ছিল যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজ গরজে র‌্যাগিংবিরোধী কমিটি করবে। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং ছাত্ররাজনীতি–বিষয়ক বিতর্কে অংশ নিতে কার্যত তাদের অনেককে উৎসাহী দেখা গেছে। গত ৯ অক্টোবর রিটকারী সাত দিন সময় দিয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। আইনি নোটিশ বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

আমরা আশা করব, আবরার হত্যাকাণ্ডের পটভূমিতে হাইকোর্ট আগামী তিন মাসের মধ্যেই কমিটি গঠনের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা তামিল হোক। এই বিষয়ে যেকোনো ধরনের কালক্ষেপণ অমার্জনীয় বিবেচিত হওয়া উচিত। কারণ, যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে একইভাবে হাইকোর্ট কমিটি করতে বলেছিলেন। কিন্তু বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই কমিটি গঠিতই হয়নি। আবার কোথাও গঠিত হলেও তা কাগজে-কলমে রয়ে গেছে। এই মনোভাব পরিহার করতে হবে।

এই জনগুরুত্বসম্পন্ন মামলাটির শুনানি যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয়, সে জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে সক্রিয় ও অগ্রণী ভূমিকা প্রত্যাশিত। কারণ, তাঁর দপ্তর তৎপর না হলে প্রস্তাবিত কমিটি গঠন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাবে। আমরা তখন দেখব, রাষ্ট্রপক্ষ রুটিনমাফিক সময় বাড়ানোর দরখাস্ত হাতে হাজির হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রসচিব, শিক্ষাসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তঁারা এই বিষয়ে প্রতিবেশী ভারতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০০১ সালে র‍্যাগিংবিরোধী নীতিমালা জারি করেন। তবে বুয়েটের ঘটনায় আমরা ২০০৯ সালে হিমাচল প্রদেশের উদাহরণটিকে সব থেকে প্রাসঙ্গিক মনে করি। সেখানে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়ুয়া নবাগত শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় তাঁর চার অগ্রজ ছাত্রের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি কলেজের অধ্যক্ষ, যাঁর কাছে নিহত ছাত্রটি অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি, তঁাকে বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে হয়েছে। বুয়েটের ঘটনায় ভিসির অপসারণের দাবি অপূর্ণই থেকেছে।

র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০০৭ সালে ভারতের রাঘবন কমিটির কিছু পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের ঘাটতি র‍্যাগিং বাড়ার জন্য দায়ী। এ ধরনের অপরাধ কমাতে নবাগত ও জ্যেষ্ঠদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার সুযোগ তৈরি, আবাসন সংকট দূর, ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা ছাত্রাবাসগুলোর নিবন্ধন ও তদারকি দৃঢ় করা প্রয়োজন। এসব আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটেও প্রযোজ্য। ভারত আমাদের ৯৯৯–এর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ২৪ ঘণ্টা খোলা র‍্যাগিংবিরোধী বিশেষ সেল খুলেছে। এ ধরনের সেল খোলা থাকলে তা র‍্যাগিং বা যৌন হয়রানি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে।

তবে সার্বিক বিচারে জনস্বার্থে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক সৃষ্ট আইন বা নীতিমালা অনুসরণে আমাদের দেশের রেকর্ড প্রীতিপ্রদ নয়। এটা অনিচ্ছুক ঘোড়াকে পানি খাওয়ানোর মতো একটি বিষয়। আমরা মনে করি, সংসদের চলতি অধিবেশনে নির্দিষ্টভাবে র‍্যাগিংবিরোধী নির্দিষ্ট আইন করার বিষয়টি আইনপ্রণেতারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে পারেন।

যদি এমনটা প্রতীয়মান হয় যে, র‍্যাগিং বা বুলিংয়ের সঙ্গে জড়িতরা ক্যাম্পাসগুলোতে বোধগম্য কারণে প্রভাবশালী, তাহলে সংসদীয় আইন শ্রেয়তর। এটি সংশ্লিষ্টদের প্রতি বেশি জোরালো বার্তা পৌঁছাবে।

সৌজন্যে: প্রথম আলো

আইডিয়ালের অধ্যক্ষ শাহানার এমপিও স্থগিতের আদেশ হাইকোর্টে স্থগিত

0

আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগমের এমপিও স্থগিতের আদেশ স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতিঝিল, বনশ্রী ও মুগদা শাখায় ২০১৮ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ওই এমপিও স্থগিত করেছিলো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি সরদার রাশেদ মো. জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ আজ রবিবার ওই স্থগিতের আদেশ দেন। তবে হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিনউদ্দিন মানিক।

গত ২২ অক্টোবর শাহান আরা বেগমের এমপিও সুবিধা স্থগিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এ সংক্রান্ত স্মারকে বলা হয়, ঢাকা মহানগরীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগমের বিরুদ্ধে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানের মতিঝিল, বনশ্রী এবং মুগদা শাখায় ২০১৮ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর ১৮(খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার এমপিও স্থগিত করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। আবেদনের পক্ষে আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। শুনানি শেষে এমপিও স্থগিতের ওই স্মারক কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষিত হবে না তাও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

সৌজন্যে: দৈনিক ইত্তেফাক

মামলাজট নিরসনে দ্রুত পাঁচ হাজার বিচারক নিয়োগ দিতে হবে

0

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বলেছেন, গত ১১ বছরে বিচার বিভাগের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো প্রশংসনীয়। তবে বিচারাধীন মামলাজট কমাতে না পারাটা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। তাই বিচার বিভাগের চলমান মামলাজট নিরসনে যত দ্রুত সম্ভব অন্তত পাঁচ হাজার বিচারক নিয়োগ দিতে হবে।

বিচারপতি খায়রুল হক বলেন, আমাদের দেশের বিচার বিভাগের মামলা নিষ্পত্তির হার বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভালো। মামলার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা কম হওয়ায়ই মামলাজট বাড়ছে। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগের হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ কোটি মানুষের জন্য ৮৬ হাজার বিচারক ছিল। এখন হয়তো এটা আরও বেড়েছে।

সে হিসাবে আমাদের দেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য ৪৩ হাজার বিচারক থাকার কথা। আমাদের ১৬ কোটি মানুষের জন্য মাত্র ১৭০০ থেকে ১৮০০ বিচারক কাজ করছেন। সে তুলনায় আমাদের বিচারকরা অনেক পরিশ্রম করছেন। ফলে মামলাজট দূর করতে আমাদের এই মুহূর্তে অন্তত পাঁচ হাজার বিচারক প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, আমি জেনেছি, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু আছে। হয়তো কিছু দিনের মধ্যেই আমরা সর্বমোট ২ হাজার বিচারক পাব। তিনি আরও বলেন, বিচারক নিয়োগের পাশাপাশি বিচারকদের লজিস্টিক সাপোর্টটাও জরুরি। প্রতিটি বিচারকের জন্য পাঁচ-ছয়জন স্টাফ প্রয়োজন। এজলাস সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা খবর পাই এখনো কোনো কোনো আদালতে বিচারকরা ভাগাভাগি করে এজলাসে ওঠেন। তাই প্রয়োজনীয় এজলাস বৃদ্ধিতেও সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

মামলাজট নিরসনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু চার-পাঁচ হাজার বিচারক সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, এই সময় তো আর বিচার প্রার্থীরা বসে থাকবেন না। তাই অবসরে যাওয়া বিচারকদের মধ্যে যারা এখনো সক্ষম তাদের পরীক্ষামূলকভাবে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব জেলায় মামলা বেশি ওই জেলাগুলোতে।

উচ্চ আদালতের মামলাজট প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা দেখছি উচ্চ আদালতে যত বিচারপতি নিয়োগ হচ্ছে মামলাজট তত বাড়ছে। তাই হাই কোর্টের বিচারপতিদের উচিত হবে, যে কোনো রুল ইস্যুর আগে আবেদনটির অন্তত ৫০ শতাংশ মেরিট আছে কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া। ৫০ শতাংশ মেরিট না থাকলে আবেদনটি নট প্রেস না করে রায় দিয়ে ডিসমিস করে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটি রুল জারি করা মানে, নতুন একটি মামলা হওয়া। আর হয়রানিমূলক মামলা করলে পিটিশনারকে জরিমানা করার পাশাপাশি আইনজীবীকে তিরস্কার করার ব্যবস্থা হলেও মামলাজট কমবে বলে মনে করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।