বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা ২ মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামি ৩ মার্চ দিন ধার্য করেছে আদালত। ‘ভূয়া’ জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে দায়ের করা মানহানি সংক্রান্ত ২ মামলায় অভিযোগ গঠনের জন্য নতুন এদিন ধার্য করা হয়।
বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর হাকিম (এসিএমএম) আসাদুজ্জামান নুরের আদালতে ২ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় তার পক্ষে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন।
মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামাতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি (খালেদা জিয়া) রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি-গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।
২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির এ মামলা দায়ের করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী। আদালত বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন।
পরের বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক মশিউর রহমান (তদন্ত) অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দেন। মামলার অন্য আসামি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মৃত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
ভূয়া জন্মদিন পালন সংক্রান্ত মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দু’টি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এসএসসি পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর।
১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট লেখা হয়। তার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী, তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে (১৫ আগস্ট) আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন।
২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ৩১ জুলাই এ ২টি মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন।বাসস।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩ মার্চ
গাজীপুরের বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য, ভূয়া ব্যাংক হিসাবে লেনদেন
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে। ভূয়া নামে ব্যাংক হিসেব খুলে সিটি করপোরেশেনর হোল্ডিং ট্যক্সের টাকা এসব ব্যাংক হিসেবে লেনদেন করেছেন। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা গেছে প্রিমিয়ার ব্যাংকের গাজীপুর কোনাবাড়ি শাখায় খোলা ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামে ওই অ্যাকাউন্টে সদ্য বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলম লেনদেন করেছেন। কিন্তু গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নামে এমন ব্যাংক হিসাব নেই। ভুয়া এ অ্যাকাউন্টে ‘ফিন-বাংলা এ্যাপারেলস’ এবং ‘জিএসএম কম্পোজিট লিমিটেড’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অগ্রিম হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ দুই কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে জমা দিয়ে তুলে নিয়েছেন জাহাঙ্গীর।
এ ছাড়া ইস্পাহানী ফুডস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা ৪০ লাখ ২৫ টাকাও করপোরেশনের অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে তার গোপন অ্যাকাউন্টে জমা দিয়ে আত্মসাৎ করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান তিনটি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, করপোরেশনের দুজন কর্মকর্তার অগোচরে তাদের নামে ৯১ লাখ টাকার পৃথক দুটি চেক ইস্যু করে সেগুলোও নিজের পকেটে ঢুকিয়েছেন জাহাঙ্গীর। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ অ্যাকাউন্টের বিবরণী পাওয়া গেছে। অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে বন্ধ। এ সংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্ত আমাদের সময়ের হাতে পৌঁছেছে।
সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক ‘প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা’ মো. রেজাউল বারীর নামে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতে অগ্রিম ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অথচ রেজাউল বারী চেকের বিষয়টি জানতেন না। বিষয়টি জানেন না উল্লেখ করে তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে চিঠি লিখেছেন। একই অনুষ্ঠানের জন্য সিটি করপোরেশনের সাবেক সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নামেও ৪৬ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে, যা মোস্তাফিজ জানেন না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মোট খরচ দেখানো হয়েছে ২ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৫৭২ টাকা। দুই কর্মকর্তার অগোচরে ইস্যুকৃত চেক দুটি নগদায়নের জন্য অনুরোধ করেন করপোরেশনের প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়া। এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোন করা হলে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘আপনি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে কথা বলেন। আমি কিছুই জানি না।’
করপোরেশনের রাজস্বের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীরের নির্দেশে তিনি নিজের কাছে রাখতেন এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কিবরিয়া বলেন, করপোরেশনের কোনো টাকাই আমার কাছে রাখার সুযোগ নেই। এমন অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা।
জাহাঙ্গীরের বক্তব্য : বরখাস্ত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলম আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। যারা আমাকে দায়িত্ব থেকে সরানোর ষড়যন্ত্র করেছেন, তারাই এখন নতুন নতুন অভিযোগ তুলছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকে আমার নামে কে বা কারা অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করেছেন তা আমার জানা নেই।’
‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামের অ্যাকাউন্ট লেনদেনের বিবরণী এবং যারা টাকা তুলেছেন তাদের নাম জানানো হলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সিটি করপোরেশনে শত শত লোক চাকরি করে। আমি তাদের দেখলে চিনব, আবার নাও চিনতে পারি। আমি যদি নিজেই সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে থাকি তা হলে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরায় নিশ্চয়ই আমাকে দেখা যাবে। আপনারা ব্যাংকের সাহায্য নিয়ে সিসি ক্যামেরা দেখুন।
দুই কর্মকর্তার নামে যথাক্রমে ৪৬ লাখ ও ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হলেও তারা তা জানেন না কেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশর্তবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আমি করেছি। অনুষ্ঠানের পুরো ভিডিও আছে। খরচের জন্যই টাকা তোলা হয়েছে। কর্মকর্তারা যদি এখন বলেন, তারা জানেন না, তা হলে সেটিও ষড়যন্ত্র।
অগ্রিম হোল্ডি ট্যাক্স এবং লে-আউট প্লান তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়েও কেন সমন্বয় করেননি, এমন প্রশ্নে বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স অগ্রিম নেওয়া হয়নি। এগুলো সবই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
করপোরেশনের পে-অর্ডার জাহাঙ্গীরের অ্যাকাউন্টে জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মেয়রকে লেখা অভিযোগের চিঠিতে জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানের ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বাবদ ২ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মেয়র জাহাঙ্গীর হোল্ডিং ট্যাক্স হিসেবে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা অগ্রিম জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ টাকা পরে সমন্বয় করার আশ্বাস দেন তিনি। মেয়রের নির্দেশে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে তিনটি পে-অর্ডারে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দেয় জিএমএস। ২০২০ সালের ১৯ জুলাই তারিখের ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ৫৯০ টাকা এবং ৮৫ লাখ টাকার পে-অর্ডারটি ২৯ জুলাই প্রিমিয়ার ব্যাংকের কোনাবাড়ি শাখায় ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামে হিসাবে জমা দেওয়া হয়। আর ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৪১০ টাকার পে-অর্ডারটি আগস্টের ৩ তারিখ জমা হয়। ব্যাংকের হিসাব বিবরণী অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলেছেন হিসাবধারী নিজে, শহিদুল, প্লোটো চাকমা এবং শামীম হোসাইন।
ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে লেখা চিঠিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান ইস্পাহানী ফুডস লিমিটেড জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠানের লে-আউট প্লানের জরিমানা বাবদ ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ অ্যাকাউন্টের অনুকূলে ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার করা হয়। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পে-অর্ডারটি ইস্যু করা হয়, যার নাম নম্বর এমটিবি-১৪৭৪৫৪২। প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন থেকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ওই চিঠি পাঠানো হয়।
আরেক প্রতারিত প্রতিষ্ঠান ফিন-বাংলা এ্যাপারেলস লিমিটেডের চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে মেয়র জাহাঙ্গীর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কাজের কথা বলে হোল্ডিং ট্যাক্স হিসেবে অগ্রিম ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। এক্সিম ব্যাংকের পে-অর্ডারে ৫০ লাখ টাকা দেয় ফিন-বাংলা। মেয়র এ টাকা পরে সমন্বয় করার আশ্বাস দিলেও তিনি সমন্বয় করেননি এবং নতুন করে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়ার আসাদুর রহমান কিরণ আমাদের সময়কে বলেন, আপনি যা শুনেছেন তা সত্য। প্রিমিয়ার ব্যাংকে ‘মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশন’ নামে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। অথচ সেই অ্যাকাউন্টে সাবেক মেয়র লেনদেন করেছেন বলে আমরা জেনেছি। ব্যাংক স্টেটমেন্টে দেখা গেছে উনি নিজে (জাহাঙ্গীর) এবং তার লোক শহিদুল, প্লোটো চাকমা ও শামীম হোসাইন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলেছেন।
তিনি বলেন, ইস্পাহানী ফুডস লিমিটেডের লে-আউট প্লানের জরিমানা বাবদ ৪০ লাখ ২৫ হাজার টাকা, জিএমএস কম্পোজিট নিটিং লিমিটেডের ১ কোটি ৭০ লাখ, ফিন বাংলা এ্যাপারেলস লিমিটেডের ৫০ লাখ টাকা হোল্ডি ট্যাক্স বাবদ অগ্রিম টাকা নিয়ে করপোরেশনের হিসাবে জমা দেননি জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া করপোরেশনের সাবেক সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমানের নামে ৪৬ লাখ এবং সাবেক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রেজাউল বারীর নামে ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হলেও তারা বিষয়টি জানেন না।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরও বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বিষয়গুলো তদন্ত করছে। নিশ্চয়ই তদন্তে অনিয়মগুলো বের হয়ে আসবে।
এদিকে জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন অনুবিভাগ) মোস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী আমাদের সময়কে বলেন, আমরা তদন্ত করছি। বেশ কিছু কাগজপত্র হাতে পেয়েছি। যাচাই-বাছাইয়ে সবকিছুই বের হয়ে আসবে। এর বেশি কিছু জানাতে পারব না।
জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের খরচ ২ কোটি ১১ লাখ
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে খরচ করেছেন ২ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৫৭২ টাকা। কিন্তু খরচের টাকা তুলে নিয়েছেন নামে-বেনামে চেকের মাধ্যমে। কে-স্পোর্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩টি স্থানে কাউন্টডাউন স্থাপন করতে ৫৪ লাখ টাকার চেক দিয়েছেন মেয়র। সিটি করপোরেশনের সাবেক সচিব মোস্তাফিজুর রহমানের নামে একই অনুষ্ঠানের খাত দেখিয়ে ৪৬ লাখ টাকা এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা রেজাউল বারীর নামে ৪৫ লাখ টাকার চেক ইস্যু করা হয়। কিন্তু এ দুই কর্মকর্তাই তাদের নামে ইস্যুকৃত চেকের বিষয়ে জানতেন না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে পোস্টার মুদ্রণের জন্য বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির নামে ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ইস্যু করা হয়েছে। ১৭ মার্চ রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠান বাবদ ‘গোল্ডেন কনস্ট্রাকশনের নামে ২৯ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭২ টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন উপলক্ষে মানুষ দ্বারা জাতীয় পতাকা ও ম্যাপে বঙ্গবন্ধুর ছবি তৈরি করে ওয়ার্ল্ড গ্রিনেজ বুকে রেকর্ডের জন্য ম্যানেজার, সোনালী ব্যাংক কোর্ট বিল্ডিং শাখা গাজীপুরের অনুকূলে ২৩ লাখ ৯১ হাজার ২০০ টাকার চেক ইস্যু করা হয়েছে।
করোনা তহবিল আত্মাসাতের অভিযোগ
করোনা মোকাবিলার তহবিল নিয়ে নয়-ছয় করার অভিযোগ রয়েছে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। সংক্রমণ মোকাবিলায় সরঞ্জাম কিনতে ৩৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধান করে কমিটি করা হয়। কাউন্সিলরের অনুকূলে সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৯টি চেকে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ইস্যু করা হয়েছে। ৫টি চেক অগ্রিম ভাউচারে নগদায়ন করা হয়েছে। এসব টাকা কোন কোন খাতে খরচ করা হয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই করপোরেশনের কাছে। কর্মকর্তারা জানান, করোনা মোকাবিলার বিপুল পরিমাণ এ টাকা লুটপাট হয়েছে।
মেয়র ঘনিষ্ঠ ২৩ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট
২০১৮ থেকে ২০২১ অর্থবছর পর্যন্ত মেয়রের ঘনিষ্ঠ ২৩ প্রতিষ্ঠান ১২৯ কোটি টাকার কাজ করে। এ ২৩ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনে কাজ পায়নি। নতুন করে আর কোনো প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সও দেওয়া হয়নি। পুরনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সও নবায়ন করা হয়নি। মেয়রের ঘনিষ্ঠ ৫ ব্যক্তি ঠিকাদারি সিন্ডিকেট দেখাশোনা করত। তারা হলেন- আমিনুল ইসলাম, আল আমিন, শহিদুল ইসলাম জয়, আশরাফুল ইসলাম রানা, রুহুল আমিন ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মনির। ঘুরে ফিরে এ ২৩ প্রতিষ্ঠানই সব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ভাগবাটোয়ারা করত।
গত নভেম্বরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে। পরে তাকে জমি দখল, জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী কাজ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মতো অভিযোগে মেয়রের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তার অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্ত করতে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়। জাহাঙ্গীরের অনিয়ম-দুর্নীতির খতিয়ান অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কমিটির আহ্বায়ক। (সৌজন্যে ‘দৈনিক আমাদের সময়’, প্রতিবেদক- ইউসুফ আরেফিন)।
সার্চ কমিটিতে দেয়া নাম ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে
যে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এখনো সার্চ কমিটিতে নাম প্রস্তাব করেনি, সে সকল দলকে ১৪ ফেব্রুয়ারী সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে নাম দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইসি গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির সঙ্গে দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠক শেষে কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফকালে একথা জানান।
তিনি বলেন, যে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এখনো সার্চ কমিটিতে নাম প্রস্তাব করেনি সে সকল দলকে সোমবার ৫টার মধ্যে নাম দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নাম প্রস্তাব এসেছে। যে সকল দল নাম প্রস্তাব করেনি, তাদের ফের অনুরোধ জানানোর জন্য বিশিষ্ট নাগরিক ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী সার্চ কমিটির সঙ্গে বৈঠককালে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কমিটি এরপর ফের নাম চেয়ে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির কাছে ৩২৯ টি নামের প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ১৩৬ নাম, পেশাজীবীদের কাছ থেকে ৪০ নাম, ব্যক্তিপর্যায় থেকে ৩৪ নাম, মতামত দেয়াকালে ২০ এবং বিভিন্ন ই-মেইলের মাধ্যমে ৯৯ নাম। তিনি বলেন, এমনও হতে পারে একই নাম চার পাঁচ বারও রয়েছে। কমিটি বসে এগুলো সর্টআউট করবে। এসব নাম সোমবার বিকেলে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটায় সার্চ কমিটির পরবর্তী বৈঠক হবে। বিকেল সোয়া ৪ টা থেকে তিন ঘন্টা দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের মতামত নেয়ার অংশ হিসেবে তৃতীয় বৈঠক করেন ইসি গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটি। সুপ্রিমকোর্টের কনফারেন্স রুমে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সার্চ কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন সার্চ কমিটির সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক। বাসস।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারদের বিদায়ী সাক্ষাত
রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। রাষ্ট্রপতি রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে তিনি একথা বলেন।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, তাই নির্বাচন কমিশনকে নির্বাহী বিভাগ, রাজনৈতিক দল ও জনসাধারণের সহযোগিতা নিয়ে এই কাজটি সম্পন্ন করতে হবে। রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন সব ক্ষেত্রে সকল পর্যায়ে আরো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সক্ষম হবে।
সাক্ষাৎকালে তারা কমিশনের নির্বাচনী কার্যক্রমসহ তাদের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তারা দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা ও দিক নির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং কবিতা খানম।
নির্বাচন কমিশন মুজিব বর্ষ উপলক্ষে, “বীর মুক্তিযোদ্ধা” সম্বলিত একটি পরিচয় পত্র রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে প্রদান করেন।
এছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ ও জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন ২০২১ এর (বাংলা ভার্সন) দুটি কপি রাষ্ট্রপতিকে হস্তান্তর করেন। বাসস।
ইনোসেন্ট কনভারসেশনকে পুঁজি বানানোর চেষ্টা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া একটি অডিও প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, একটা ইনোসেন্ট কনভারসেশনকে পুঁজি বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ তাদের হাতে আর কিছু নেই।’ রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলছি। তিনি আমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি সেগুলোর জবাব দিচ্ছি…। যারা দেউলিয়া তারাই এগুলো প্রচার করছে। অবশ্যই এটির তদন্ত হবে, এর গুরুত্ব দেওয়া দরকার।’
আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং স্নেহের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ কালে আইনজীবীদের দূরাবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁর ত্রাণ তহবিল থেকে ২০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন। চেক গ্রহণ করেন বাংলাদশে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও এটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন এবং ভাইস-চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনজীবী মুহাম্মদ ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। এসময় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান বাদলসহ বার কাউন্সিলের অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে রায় দেয়ার সময় বলা হয়েছিল একবার-দুইবার এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করা যেতে পারে, যদি সংসদ রাজি থাকে। কিন্তু সংসদ এটি গ্রহণ করেনি। কেয়ারটেকার সরকারের কোনো বৈধতা নেই। তাই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে এই কেয়ারটেকার সরকারে ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই।’ ইসি গঠনের জন্য পছন্দের তালিকায় বিএনপির নাম না দেয়া নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে যারা নাম দেয়নি তাদের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে আমি রাজি নই।’
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নির্বাচন, ইসিকে সব ধরণের সহায়তা করা হবে: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার বিশ্বাস করে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি নির্বাচন। তাই সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সব ধরণের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ খচিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (বাংলা পাঠ) ও জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১ এর একটি সংকলনের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন ততদিন নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সহযোগিতা করবেন। নির্বাচন কমিশনের জন্য বর্তমান সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার ফল হচ্ছে আজকের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র, নির্ভুল ভোটার তালিকা, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), নির্বাচন কমিশনের আধুনিক অবকাঠামো, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন ২০২১, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন আইন ২০২২ ও নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালীকরণ। আনিসুল হক বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশে অনেক সরকার এসেছে, কিন্তু কেউ এই আইন করার সাহস দেখায়নি যা দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি যতদিন ক্ষমতায় থাকবেন ততদিন নির্বাচন কমিশনকে এভাবেই সহযোগিতা করে যাবেন।’ আইনমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, যা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে রচনা করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন, মর্যাদা দিয়েছেন। তাদের অবদান ভুলে গেলে চলবে না। নতুন প্রজন্মের কাছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান তুলে ধরতে হবে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
ইসি গঠনে ৩২৯ নামের প্রস্তাব সার্চ কমিটিতে, বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ৩২৯ নামের প্রস্তাব পেয়েছে সার্চ কমিটি। শনিবার দুই দফায় দেশের ২৫ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংক্রান্ত সার্চ কমিটি। বৈঠক শেষে সার্চ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
তিনি বলেন, শনিবার দুই দফায় মোট ২৫ জন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সার্চ কমিটি। প্রথম বৈঠকে ছিলেন ১৪ জন, দ্বিতীয় বৈঠকে ছিলেন ১১ জন।
তিনি জানান, সবারই মূল বক্তব্য হলো এমন নির্বাচন কমিশন করা যেন সবার আস্থাভাজন হয়। যারা ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ নিতে পারে। তিনি বলেন, রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারী) বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে আরো একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন সংক্রান্ত সার্চ কমিটির কাছে ৩২৯ টি নামের প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে ১৩৬ নাম, পেশাজীবীদের কাছে থেকে ৪০ নাম, ব্যক্তিপর্যায় থেকে ৩৪ নাম, বিভিন্ন ইমেইলের মাধ্যমে ৯৯ নাম। তিনি বলেন, এমনও হতে পারে একই নাম চার পাঁচ বারও রয়েছে। কমিটি বসে এগুলো সটআউট করবে।
রোববার সকাল ১১ টা ২৫ মিনিট থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রথম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশের ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তারা হলেন: বিশিষ্ট আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, এ এফ হাসান আরিফ, ফিদা এম কামাল, মনসুরুল হক চৌধুরী, এম কে রহমান, ড. শাহদীন মালিক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক মাহফুজা খানম, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ, ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান।
দুপুর ১ টার দিকে দ্বিতীয় বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা আড়াইটার দিকে। দ্বিতীয় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজকের পত্রিকার সম্পাদক ড. গোলাম রহমান, যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু, ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক জাগরণের সম্পাদক আবেদ খান, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, এনটিভির বার্তাপ্রধান জহিরুল আলম, সিনিয়র সাংবাদিক স্বদেশ রায় ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
সুপ্রিমকোর্টের কনফারেন্স রুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সার্চ কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বৈঠকে সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সার্চ কমিটির সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।
বৈঠক থেকে বের হয়ে বিশিষ্ট নাগরিকগন গণমাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা বলেন, অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। সেখানে তারা আগামী ইসি গঠন বিষয়ে তাদের স্ব স্ব মতামত দিয়েছেন।
ইসি যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ মোট ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব করেছে।পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১১ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে নাম দেয়ার অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিল ইসি গঠন সংক্রান্ত সার্চ (অনুসন্ধান) কমিটি।
সার্চ কমিটির সাচিবিক দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম সাংবাদিকদের বলেন, ২৪টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন। এ ছাড়া ছয়টি পেশাজীবী সংগঠন থেকে প্রস্তাব এসেছে। এই পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ), কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন ও ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনও আছে। এর বাইরেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেশ ও বিদেশ থেকে অনেক বড় সংখ্যায় প্রস্তাব পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব শফিউল আজিম। এগুলো এসেছে মূলত ই-মেইলে। শফিউল আজিম বলেন, নামগুলোর তালিকা করে এখন সার্চ কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর ঠিকানায় গত বুধবার চিঠি দিয়ে নাম দেয়ার অনুরোধ করে সার্চ কমিটি। চিঠিতে প্রতিটি দলকে শুক্রবার বিকেল ৫ টার মধ্যে অনধিক ১০ জনের নাম (প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার হওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি) পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনে দলগুলোর যে কার্যালয়ের ঠিকানা দেয়া আছে, সে ঠিকানায় ওই চিঠি দেয়া হয়।
নাম জমা দেয়ার শেষ দিনে আওয়ামী লীগের পক্ষে শুক্রবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গিয়ে নাম জমা দেয়া হয়। আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক সেলিম মাহমুদ ও উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রস্তাবকৃত নাম খামে দিয়ে আসেন।
শেষ দিনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি (জেপি)সহ বেশির ভাগ দল নাম জমা দেয়। বৃহস্পতিবার জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলসহ (জাসদ) অন্তত পাঁচটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সার্চ কমিটির কাছে নাম প্রস্তাব করে জমা দেন। বাসস।
সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করতে মামলা, সমন জারি
সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর মৃত্যুপরবর্তী সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের যাবতীয় কার্যক্রম বেআইনি অকার্যকর মর্মে ঘোষণা করতে মামলা করা হয়েছে।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি বিবাদীদের জবাব দাখিল করতে সমন জারি করেন।
মঙ্গলবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ৫ম যুগ্ম জেলা জজ জি এম নাজমুল সাদাতের আদালতে সুপ্রিম কোর্ট বারের সদস্য ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম মামলাটি করেন।
মামলার বিবাদীরা হলেন- সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল, সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন ও মোহাম্মদ শফিক উল্লাহ, ট্রেজারার ডা. জাফর ইকবাল, সহ-সম্পাদক সাফায়াতা সুলতানা রুমী ও মাহমুদ হাসান, সদস্য মাহফুজার রহমান রুমান, এ.বি.এম. শিবলী সাদেকীন, এস. এম ইফতাখের উদ্দীন মাহমুদ, পারভীন কাওছার মুন্সী, মিটু কুমার মন্ডল, রেদওয়ান আহম্মেদ রনজিব ও মুনতাছির উদ্দিন আহমেদ।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সুপ্রিম কোর্ট বারের ২০২০-২১ বর্ষের নির্বাচনে নির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু গত বছর ১৪ এপ্রিল মারা যান। এতে সভাপতির পদ শূন্য হয়। তার মৃত্যুর পর সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটি বারের গঠনতন্ত্র মোতাবেক ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কিংবা অদ্যবধি গঠনতন্ত্র মোতাবেক কোনো সভাপতি নির্বাচন করেনি। সভাপতির পদ শূন্য রেখে সম্পাদক ও ট্রেজারারসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ বেআইনিভাবে বারের অর্থ ব্যয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কার্যনির্বাহী কমিটি অবৈধভাবে কাজ পরিচালনা করে প্রায় ১২ কোটি টাকা ও বারের তহবিল থেকে আরও ১৩ কোটি টাকা বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আত্মসাৎ করেছে।
মামলার অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, সভাপতির মৃত্যুর পর গত বছরের ৪ মে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা মূলতবি হওয়ার পর থেকে বারের তহবিল থেকে মোট ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিপ্রায়ে বাজেট সভার নামমাত্র আয়োজন করা হয়। সভায় কোনো খসড়া বাজেট কোনো সদস্যের হাতে দিতে না পেরে, কোনো বাজেট পাস করতে না পেরে অন্যায়ভাবে বারের অর্থ বেআইনি ও প্রতারণামূলকভাবে ব্যয় করায় কার্যনির্বাহী কমিটির গত ১ ফেব্রুয়ারির সভাসহ পরবর্তী যাবতীয় কার্যক্রম অকার্যকর, বেআইনি চক্রান্ত। সূত্র – জাগো নিউজ।
৭১-এর হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিল জেনোসাইড ওয়াচ
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বাঙালি জনগোষ্ঠীর উপর সংঘটিত অপরাধযজ্ঞকে গণহত্যা, মানবতা বিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জেনোসাইড ওয়াচ ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এছাড়া, লেমকিন ইন্সটিটিউট ফর জেনোসাইড প্রিভেনশন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি জাতির উপরে সংঘটিত অপরাধযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
সংস্থা দুটি জাতিসংঘসহ আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যাকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
গণহত্যাবিষয়ক সংস্থাসমূহের স্বীকৃতির ফলে ২৫ মার্চ-কে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ২০১৭ সালের ১১ মার্চ তারিখে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় জোরদার হবে।
বিশ্বে গণহত্যা নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জেনোসাইড ওয়াচ’।

বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের ওই বর্বরতার ৫০ বছর পূর্তিতে জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জর্জ এইচ স্ট্যানটন তাদের ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা দেন। শহীদ সাংবাদিক সিরাজউদ্দিন হোসেনের ছেলে তৌহিদ রেজা নূর ২০২১ সালের ডিসেম্বর এ স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এলো এ স্বীকৃতি।
এর মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রেও গণহত্যার স্বীকৃতি পেলো ও বৈশ্বিক স্বীকৃতির পথ সুগম হলো।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানসহ জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশকে পাকিস্তানি বাহিনীর করা সেসব অপরাধকে ‘জোনোসাইড, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে স্বীকার করে নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সেই জেনোসাইডে নেতৃত্বদাতাদের মধ্যে যারা এখনও জীবিত, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে জেনোসাইড ওয়াচের ঘোষণায়।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে (২৬ মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে) পাকিস্তানি জেনারেল রাও ফরমান আলীর নীলনকশা অনুযায়ী নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালির ওপর ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র নামে শুরু হয় গণহত্যা। এদিন রাতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে তারবার্তা সহযোগে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে তাকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানিরা।
২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান এবং পরে মুক্তিযুদ্ধকালীন ‘জেড ফোর্সে’র সমরনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান এ ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হায়েনাদের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাইবে সার্চ কমিটি, প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাইবে সার্চ কমিটি। রোববার বিকেলে কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে অনুসন্ধান কমিটিকে সাচিবিক সহায়তার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ব্রিফ করেন তিনি। খবর বাসস।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে নাম চাওয়া হবে বলে জানান খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি জানান, ‘যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে, তাদের কাছ থেকে আমরা নাম চাইবো। তাদের কোনো চয়েজ আছে কিনা, প্রপোজাল আছে কিনা সেটা জানতে চাইবো। তারা ই-মেইল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও নাম দিতে পারবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ দিতে চাইলেও দিতে পারবে। আগামী পরশু আবার আমরা বসবো।’ আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই সার্চ কমিটি তার দায়িত্ব সম্পন্ন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সচিব।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব জানান, বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক করবে সার্চ কমিটি। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে মতামত ও নাম চেয়ে আজই ই-মেইল করা হবে। তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক হবে না। মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেন, আগামী মঙ্গলবার ৮ ফেব্রুয়ারি সার্চ কমিটির পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সার্চ কমিটির সভাপতি ও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সার্চ কমিটির হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ হক।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়ার জন্য নাম সুপারিশ করতে সার্চ কমিটি গঠন করে শনিবার ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২-এর ধারা ৩ মোতাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়ার জন্য আইনে বর্ণিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করার লক্ষ্যে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি গঠন করা হলো। ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ অনুযায়ী সার্চ কমিটি (অনুসন্ধান কমিটি) গঠন করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এই কমিটি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ মোতাবেক দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পন্ন করবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কার্য সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী, এর আগেই নতুন ইসি গঠন করা হবে। সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মনোনীত করার পর রাষ্ট্রপতি তা চূড়ান্ত করেন। তবে এবার নতুন আইনানুযায়ী সার্চ কমিটি গঠন করা হলো।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত ১৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ অনুমোদন দেয়া হয়। গত ২৭ জানুয়ারি বিলটি জাতীয় সংসদে পাসের পর ২৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি আইনটিতে সম্মতি দেন। ৩০ জানুয়ারি ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল, ২০২২’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
আইনানুযায়ী, আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠিত হবে। সে অনুযায়ী সার্চ কমিটি গঠিত হয়েছে।
আইনে বর্ণিত যোগ্যতা-অযোগ্যতা বিবেচনা করে সার্চ কমিটি ১০ জনের নাম প্রস্তাব করবেন। ১০ জনের মধ্য থেকেই পাঁচজনকে নিয়ে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেছেন, রাষ্ট্রপতি যে দায়িত্ব দিয়েছেন সংবিধান ও আইন অনুযায়ি সে দায়িত্ব পালন করবো। বাসস এর সঙ্গে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন। আন্তরিকতা ও ন্যায্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন সার্চ কমিটির প্রধান।











