দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো । দুর্নীতির দায়ে সাবেক( পদত্যাগী) একজন প্রধান বিচারপতিকে দণ্ডিত হতে হলো। নজিরবিহীন ঘটনা। আইন ও বিচারাঙ্গনে এ নিয়ে চলছে নানামুখী আলোচনা। খোদ আইনমন্ত্রীও এ নিয়ে মনোকষ্টে ভুগছেন। বলেছেন, বিচার বিভাগের জন্য এটা নিশ্চয়ই ভাল নজির নয়। তবে কেউই যে আইনের উর্ধে নয় এটাও প্রমাণিত হলো।
বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা যিনি এস কে সিনহা নামেই বেশী পরিচিত। মফস্বল জেলা বারের একজন আইনজীবী থেকে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তারপর হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। বলা যায় ভাগ্যের বরপুত্র। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম যিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক তার আমলেই নজির স্থাপন করেছিলেন এস কে সিনহাকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে। সংবিধান অনুযায়ী যদিও প্রধানবিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিতে হয় না, যেখানে অন্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চলতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি ও শাসন ক্ষমতা এবং সংসদীয় পদ্ধতিতে যেহেতু প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই ক্ষমতা ঘুরপাক খায়, ফলে এ ক্ষেত্রেও অর্থাৎ প্রধানবিচারপতি নিয়োগেও রাষ্ট্রপতিকে হয়তো প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ শুনতে হয়েছে। আর এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উদারতার পরিচয় দিয়েছিলেন তা ইতিহাসে প্রথম। কিন্তু প্রধানবিচারপতি নিযুক্ত হয়ে মি. সিনহা সেই উদারতার সম্মান রাখেন নি। নিজে দুর্নীতির জালে জড়িয়েছেন পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ করে বসেন রাষ্ট্রের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়েও। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায়ে তিনি যে মন্তব্য করেন, মত প্রকাশ করেন তাতে বঙ্গবন্ধুর অস্তিত্ব নিয়েই টান দেন। এতে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষুব্ধ হন বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরা।
কোন মোহে পড়ে বিচারপতি সিনহা এমন আচরণে মেতেছিলেন তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক রহস্য। তবে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার ঘটনা ঘটে। নানামুখি চাপে তিনি দেশ ছাড়েন আর বিদেশে বসেই পদত্যাগ করেন। গুঞ্জন ছিলো তিনি জুডিশিয়াল ক্যু করতে চেয়েছিলেন। এক অলীক স্বপ্নে তিনি বিভোর ছিলেন।
অথচ মি. সিনহা বিচারাঙ্গনের প্রধানের দায়িত্ব পেয়ে ভুলে গিয়েছিলেন তার পথ পরিক্রমার কথা। তিনি কৃতজ্ঞতার পরিবর্তে কৃতঘ্নতার পরিচয় দেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দুর্ভাগ্যই বলা যায়। বিশ্বাস করে তার উদারতায় যাকে দায়িত্ব দেন তিনিই ক্ষমতায় বসে ভুলে যান কৃতজ্ঞতার কথা। এর আগে বিচারপতি সাহবুদ্দিন আহমদকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিলেন দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ কী প্রতিদান দিয়েছেন তা সবাই জানি।
একই ভূমিকা রাখলেন বিচারপতি এসকে সিনহা। শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন দেশের ইতিহাসে নজির স্থাপন করতে। সংখ্যালঘু মণিপুরী সম্প্রদায়ের লোক এস কে সিনহাকে তিনি প্রধানবিচারপতি করলেন। কিন্তু দায়িত্ব পেয়েই চোখ উল্টালেন মি. সিনহা। দুর্নীতিতেও জড়ালেন। এমন আরও নজির দেখি বিভিন্ন ক্ষেত্রে। শেখ হাসিনা বিশ্বাস করে অনেককে মন্ত্রী বানিয়েছেন, পিএস, ডিপিএসসহ বিভিন্ন পদে বসিয়েছেন। কিন্তু দায়িত্ব পেয়ে তারা নিমজ্জিত হয়েছেন দুর্নীতিতে, নানা অনিয়মে।
বিচারপতি সিনহা বিচারাঙ্গনে যে নোংরা ইতিহাস রচনা করে গেলেন এর ঘানি বিচারবিভাগকে টানতে হবে।
শুধু বিচারপতি এস কে সিনহাই নন, উচ্চ আদালতের আরও কয়েকজন বিচারপতির বিরুদ্ধে এমন আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এমন কী হাইকোর্ট বিভাগের কর্মরত তিন জন বিচারপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত দুবছর ধরে তাদের বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। এটাও এক নজিরবিহীন ঘটনা। কর্মরত তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ দুই বছরেও নিস্পত্তি করা সম্ভব হয় নি। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিস্পত্তি করা হচ্ছে না, আবার তাদের বিচারকাজ পরিচালনা করতেও দেয়া হচ্ছে না। অথচ প্রতি মাসে রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ টাকা যা জনগণের করের টাকা তাদের পেছনে খরচ হচ্ছে। এটা শুধু অনৈতিকই নয় এটাও দুর্নীতি। এ ছাড়া এই বিচারকরাও আছেন মানসিক ও সামাজিক অশান্তিতে। এ নিয়ে আদালত পাড়ায় শোনাযায় নানা কানাঘুসা। সর্বোচ্চ আদালত মানুষের বিচার চাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল। নির্বাহী বিভাগের দাপটে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে,তাদের মৌলিক অধিকার হরণ হয় তখন আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসে মহান আদালতে। আর সেই আশ্রয়স্থল আদালত ও বিচারক সম্পর্কে মানুষের মনে যদি সন্দেহ, আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয় তা হলে মানুষ আর যাবে কোথায়? তাকে নিস্পেষিত হয়ে অধিকারহারা হয়ে থাকতে হবে। কোনো সভ্য সমাজে এটা কাম্য হতে পারে না। মাননীয় বিচারকরা কী এটা বুঝেন না?
বিচার বিভাগের কলঙ্কজনক অধ্যায়
প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শি নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে: আইনমন্ত্রী
দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীকে একজন যোগ্য আর্কিটেক্ট (স্থপতি) বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রজ্ঞা ও দূরদর্শি নেতৃত্বে দেশ দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এর অডিটোরিয়ামে সিনিয়র কৃষিবিদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের ঢাকা মেট্রোপলিটন শাখা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০১৫ সালে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ উন্নয়শীল দেশের কাতারে যুক্ত হবে। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে দেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করা এবং ২০৪১ সালে দারিদ্র অবসান করে উচ্চ আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এমন কোন পরিকল্পনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ নেয়নি। তিনি একটা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা নিয়েছেন যেটা ২০২১ সাল পর্যন্ত। এটি ব্যতিক্রম। এতে বুঝা যায়, তিনি একজন আর্কিটেক্ট।’’ ১২ নভেম্বর দুটি কারণে উল্লেখযোগ্য দিন বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দিনে ইনডেমনিটির মত কালো আইন বাতিল করে আইনের শাসনের দ্বার উন্মোচন হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে এই কালো আইন বাতিল করা হয়। তার ফলেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও জেল হত্যার বিচার হয়েছে। তিনি বলেন, আজকে দিনটি আরেকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হলো ১৯৭০ সালের এই দিনে ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় হয়েছিল। সেই ঘুর্ণিঝড়ে বহু মানুষ হতাহত হয়। তখন কিন্তু পাকিস্তান সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বঙ্গবন্ধু সে দিন পদক্ষেপ নেয়ায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তার বেশ প্রভাব পড়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গবেষণাবান্ধব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গবেষণায় গুরুত্বারোপ করেন। ২০০৯ সালে তিনি গবেষণার জন্য প্রচুর টাকা দিয়েছেন। মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে আমি দেখেছি, গবেষণার জন্য তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। আইনমন্ত্রী কৃষিবিদদের উদ্দেশ্য বলেন, আপনারা গবেষণা চালিয়ে যাবেন। সেই জন্য সরকার আপনাদের সব ধরণের সহযোগিতা করবে। ১৯৯৬ সালের ২৬ লাখ টন খাদ্য সংকট থেকে এখন খাদ্য শস্যে উদ্বৃত্ত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী সারের দাম কমিয়েছেন। তিনি কৃষক বান্ধব নীতি গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম জনবহুল দেশ। যেখানে প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে। নগরায়ন হচ্ছে, শিল্পায়ণ হচ্ছে, কৃষি জমি কমছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন জনিত প্রভাবও রয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে খাদ্য সংকট হওয়া স্বাভাবিক। এটা মোকাবেলা করা আপনাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রীর দেখানো গবেষণা আপনারা চালিয়ে যাবেন। আপনাদের গবেষণার জন্য যে অর্থ প্রয়োজন হবে, সেই অর্থ সরকার সব সময় দেবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই ,যার জন্য মানুষ গর্ব করবে। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোঃ লিয়াকত আলী জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শের-ই- বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া, কেআইবি’র মহাসচিব মো. খায়রুল আলম (প্রিন্স), আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. তাসদিকুর রহমান সনেট প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে মামলা ৯০ দিনের মধ্যে বিচার হবে: প্রধান বিচারপতি
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার চার্জশিট প্রদানের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়ারির অবস্থান জিরো টলারেন্স। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত বিজয়া পুণর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন ‘ধর্ম আমাদের শিক্ষা দেয় উদারতা, মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সহিষ্ণুতা। আমাদের দীর্ঘকালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্য আমাদের ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘এই দেশ সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে নাকি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে তা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পার্মানেন্টলি সেটেল হয়ে গিয়েছে। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের সংবিধানে মাইনরিটি বলে কোন শব্দ নেই। আসুন আমরা সবাই এটা ভাবি যে, আমরা বাঙালি ও বাংলাদেশের নাগরিক। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন পদ্মা-মেঘনা-যমুনা বহমান থাকবে ততদিন এদেশে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিতে পারবে না। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।’
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি নষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। তিনি যেই হোন না কেন, তাকে নূন্যতম ছাড় দেয়া হবে না। কেউ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করতে পারে, সেটাও সফল হবে না।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন,’ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবার সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমরা সবাই এটাকে প্রতিহত করবো। এবিষয়ে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ রয়েছে এবং এধরণের কোন মামলার আমরা ছাড়া দেইনি।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ধর্মীয় বক্তা স্বামী পূর্ণতাত্মানন্দজী মহারাজ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি মুহম্মদ শফিক উল্যাহ, বিজয়া পুণর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহবায়ক জয়া ভট্টাচার্য।
তালেবানের সঙ্গে চুক্তিঃ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ডেকে এনে ভর্ৎসনা করলো পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্ট
পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তি করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আদালতে ডেকে এনে ভর্ৎসনা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। নিষিদ্ধ ঘোষিত কট্টরপন্থী সংগঠন টিটিপির সঙ্গে অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে যাওয়ায় এ ভর্ৎসনা করা হয়েছে। ডন অনলাইনের খবরে বলা হয়, বুধবার ইমরান খানকে তলব করেন সুপ্রিম কোর্ট। এদিন নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর আদালতে পৌঁছান তিনি।
মঙ্গলবার পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে এক মাসের অস্ত্রবিরতি চুক্তি করেছে ইমরান খান সরকার।
২০১৪ সালে দেশটির আর্মি পাবলিক স্কুলে হামলা এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সরকারের চলমান আলোচনা নিয়ে ইমরানকে প্রশ্ন করেন আদালত।
পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদের নেতৃত্বে বিচারপতি কাজী মোহাম্মদ আমিন আহমেদ ও বিচারপতি জিয়াউল হাসানকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চে হাজির হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
প্রধান বিচারপতি গুলজার আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনি বর্তমানে ক্ষমতায় আছেন। দেশের সরকার আপনার নেতৃত্বে চলে। কিন্তু তারপরও কিছু স্বীকৃত অপরাধীকে আপনি আলোচনার টেবিলে নিয়ে এলেন। এটা আপনি কী করলেন? কীভাবে করতে পারলেন? আমরা কি আবারও তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করছি?
বিচারপতি কাজী মোহাম্মদ আমিন আহমেদ ইমরান খানকে স্মরণ করিয়ে দেন, পাকিস্তান কোনো ছোট দেশ নয়।
তিনি বলেন, আমাদের রয়েছে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ সেনাবাহিনী। কিন্তু তাদের (টিটিপি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে কেন ফের আলোচনার টেবিলে ডাকা হলো?
২০১৪ সালে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারের এপিএস ওয়ারসাক স্কুলে হামলা চালিয়ে ১৪৭ জনকে হত্যা করেছিল টিটিপি। নিহতদের ১৩২ জনই ছিল শিশু।
শুনানির পুরো সময়ে ইমরান খানকে একের পর এক প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন তিন সদস্যের ওই বেঞ্চ। একপর্যায়ে সমন জারি করে শুনানি হচ্ছে জানিয়ে ইমরান খানকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া অনুরোধ করা হয়। কিন্তু বিচারপতিরা সেই সুযোগ না দিয়ে ইমরান খানকে একের পর এক এমন প্রশ্ন করতে থাকেন।
আদালতের প্রশ্নের জবাবে ইমরান বলেন, ২০১৪ সালের হামলা তার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক স্মৃতি, কারণ সে সময় পেশোয়ারে তার দল ক্ষমতাসীন ছিল।
ইমরান খান বলেন, পাকিস্তানের সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) পারভেজ মোশাররফ যখন যুক্তরাষ্ট্রের কথিত সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধের সঙ্গে পাকিস্তানকে জড়ান, তখন তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আর্মি স্কুলে ওই হামলার পর ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের একটি খসড়া হিসাব অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের কারণে পাকিস্তানের ৮০ হাজার প্রাণহানি হয়েছে। গভীর মানসিক অসুস্থতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিল মানুষ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তারা।
প্রধানমন্ত্রীকে ভর্ৎসনার পাশাপাশি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিও উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, যখন নিজের দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন আসে, তখন গোয়েন্দা সংস্থা কোথায় থাকে? পেশোয়ারের ঘটনায় সাবেক সেনা প্রধান বা সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কি কোনো মামলা করা হয়েছিল?
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তদন্তকারী দল ঘটনার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি।
রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ, আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলেসহ সব আসামি খালাস
রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচজনকেই খালাস দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম কামরুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
খালাসপ্রাপ্ত বাকিরা হলেন, নাঈম আশরাফ (পুলিশের কাছে এস এম হালিম নামে চিহ্নিত), সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন।

এর আগে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই রায় পড়া শুরু করেন বিচারক এবং পুরো রায় পড়েন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে এ মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছেন। ভিকটিমদের ডাক্তারি রিপোর্টে কোনো সেক্সুয়াল ভায়োলেশনের বিবরণ নেই। ভিকটিমের পরীধেয়তে পাওয়া ডিএনএ নমুনা আসামিদের সঙ্গে মিললো না। … ৩৮ দিন পর এসে তারা বললো ‘রেপড হয়েছি’, বিষয়টি তদন্ত কর্মকর্তার বিবেচনা করা উচিত ছিল।”
তা না করে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের ‘পাবলিক টাইম নষ্ট’ করেছেন পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিচারক বলেন, পুলিশ যেন ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পরে কোনো ধর্ষণের মামলা না নেয়।
গত ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সিনিয়র আইনজীবী বাসেত মজুমদার মারা যাওয়ায় আদালতের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তাই বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ১১ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
গত ৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়।
২০১৭ সালের ৭ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক ইসমত আরা এমি পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন। ওই বছরের ১৯ জুন একই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
অভিযোগপত্রে আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচ এম হালিমের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া মামলার অন্য তিন আসামি সাফাত আহমেদের বন্ধু সাদমান সাকিফ, দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে ওই আইনের ৩০ ধারায় ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত অভিযুক্তরা মামলার বাদী, তার বান্ধবী ও বন্ধুকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয় প্রদর্শন ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। বাদী ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ ও তার বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ধর্ষণ করে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাদমান সাকিফকে দুই বছর ধরে চেনেন মামলার বাদী। তার মাধ্যমেই ঘটনার ১০ থেকে ১৫ দিন আগে সাফাতের সঙ্গে দুই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। ওই দুই শিক্ষার্থী সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যান। সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও দেহরক্ষী তাদের বনানীর ২৭ নম্বর রোডে রেইনট্রি হোটেলে নিয়ে যান। হোটেলে যাওয়ার আগে বাদী ও তার বান্ধবী জানতেন না যে সেখানে পার্টি হবে। তাদের বলা হয়েছিল, এটা একটা বড় অনুষ্ঠান, অনেক লোকজন থাকবে। অনুষ্ঠান হবে হোটেলের ছাদে।
সেখানে যাওয়ার পর তারা কাউকে দেখেননি। সেখানে আরও দুই তরুণী ছিলেন। বাদী ও তার বান্ধবী সাফাত ও নাঈমকে ওই দুই তরুণীকে ছাদ থেকে নিচে নিয়ে যেতে দেখেন। এসময় বাদীর বন্ধু ও আরেক বান্ধবী ছাদে আসেন। পরিবেশ ভালো না লাগায় তারা চলে যেতে চান। এসময় অভিযুক্তরা তাদের গাড়ির চাবি শাহরিয়ারের কাছ থেকে নিয়ে নেয় এবং তাকে মারধর করেন। ধর্ষণের সময় গাড়িচালককে ভিডিও করতে বলেন সাফাত। বাদীকে নাঈম আশরাফ মারধর করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ বলেন, “আমরা আদালতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি এ মামলার বিচারে। আদালত ঘটনা এবং নথিপত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে মামলার রায় দিয়েছেন। মামলার সত্যায়িত কপি পাওয়ার পরে আমরা কী করব, সেই সিদ্ধান্ত নিব।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, “সাক্ষ্যপ্রমাণ এখানে হাজির করার পরও মেডিকেলে রিপোর্ট, ডিএনএ রিপোর্ট, ২২ জনের সাক্ষী, ঘটনাস্থল, ২২ ধারায় বাদীর জবানবন্দি এবং সব কিছুর আলোকে এটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এবং মাননীয় আদালত চূড়ান্তভাবে খালাস প্রদান করেছেন। আমরা আনন্দিত।”
করোনা ভাইরাসের মুখে খাওয়ার ওষুধ মলনুপিরাভির সম্পর্কে যা জানা গেলো
বাংলাদেশের বাজারে এসেছে করোনা ভাইরাস বা কোভিড চিকিৎসায় মুখে খাওয়ার প্রথম ঔষধ মলনুপিরাভির। দেশের বেশ কয়েকটি ওষুধ কোম্পানি ইতিমধ্যে এর বাজারজাত শুরু করেছে। আর দেশের ঔষুধ প্রশাসনও এর অনুমোদন দিয়েছে। মলনুপিরাভির এর কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ বিস্তারিত জানিয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে। বিবিসি বাংলায় প্রচারিত প্রতিবেদনটি পাঠকের স্বার্থে তুলে ধরা হলো।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস এই ঔষধটি ‘এমোরিভির ২০০’ নামে মঙ্গলবারই বাজারে এনেছে বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।
এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের বরাত দিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে, বুধবার নাগাদ তাদের তৈরি মলনুপিরাভির বাজারে চলে আসবে।
আর স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস বিবিসিকে জানিয়েছে, তারা দু-তিনদিনের মধ্যেই ঔষধটি বাজারে নিয়ে আসতে পারবে।
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বিপনন বিভাগের পরিচালক আহমেদ কামরুল আলম বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা প্রতিটি পিলের দাম ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে রাখবেন বলে পরিকল্পনা করছেন।
তিনটি প্রতিষ্ঠানকেই মলনুপিরাভির উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের অনুমোদন এরই মধ্যে দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঔষধটির জরুরি ব্যবহার ও উৎপাদনের অনুমোদন দেয়ার কথা জানান।
তিনি বলেন, “কোভিডের চিকিৎসায় জরুরি ব্যবহারের জন্য অ্যান্টি-ভাইরাল হিসেবে মুখে খাওয়ার ঔষধ মলনুপিরাভিরকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।”
মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান এই ঔষধটি প্রস্তুত ও বাজারজাত করার আবেদন করেছিল। বেক্সিমকো, স্কয়ার ও এসকেএফকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে, বাকী সাতটি প্রতিষ্ঠানও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।
এর আগে মলনুপিরাভিরকে রোগীদের জন্য ব্যবহারের অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
মলনুপিরাভির একটি অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ যা কোভিডের বিরুদ্ধে কার্যকর।

মলনুপিরাভির কী?
মলনুপিরাভির একটি ট্যাবলেট বা বড়ি। করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এই ঔষধটি দিনে দুইবার ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদেরকে দেয়া হয়। মূলত এই ঔষধটি ফ্লু এর চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অনুযায়ী, এই ঔষধটি রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুঝুঁকি অর্ধেক কমিয়ে দেয়।
করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এটাই প্রথম ঔষধ যেটি শিরায় প্রয়োগ নয় বরং মুখে সেবন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মার্ক, শার্প এন্ড ডোম (এমএসডি) এবং রিজব্যাক বায়োথেরাপিউটিকস-এর তৈরি করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এটিই মুখে খাওয়ার প্রথম ঔষধ।
যুক্তরাজ্য এরইমধ্যে ঔষধটির চার লাখ ৮০ হাজার কোর্স কিনতে সম্মত হয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে, নভেম্বরেই এর প্রথম চালান আসবে।
যুক্তরাজ্যের জাতীয় গবেষণার আওতায় প্রাথমিকভাবে এই ঔষধটি টিকা নেয়া এবং না নেয়া-দুই ধরণের রোগীদেরকেই দেয়া হবে। তাদের থেকে পাওয়া তথ্যের বিশ্লেষণের পরই এই ঔষধটি সম্পর্কে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
রোগীর মধ্যে কোভিডের উপসর্গ দেখা দেয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে ঔষধটি দেয়া গেলে সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়।
কিভাবে কাজ করে মলনুপিরাভির?
নতুন এই চিকিৎসায় ভাইরাসের একটি নির্দিষ্ট এনজাইমকে লক্ষ্য করে কাজ করে। ওই এনজাইমটি ব্যবহার করে ভাইরাসটি নিজের মতো আরো ভাইরাস তৈরি করে সংখ্যা বৃদ্ধি করে।
এই ঔষধটি ভাইরাসটির জেনেটিক কোডে একটি ত্রুটি তৈরি করবে যা ভাইরাসটিকে বিভাজিত হতে বাধা দেয়। যার কারণে দেহে ভাইরাসের পরিমাণ কমে যায় এবং এর কারণেই রোগের তীব্রতাও কমে যায়।
মার্ক বলছে, এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি ভাইরাসটির নতুন ভ্যারিয়ান্টের উপরও সমানভাবে কার্যকর হওয়ার কথা।
যুক্তরাজ্যের ঔষধ এবং স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ জানায়, এই ট্যাবলেটটি সেসব রোগীদের ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে যাদের মৃদু থেকে মাঝারি উপসর্গ রয়েছে এবং কমপক্ষে একটি স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে যেমন স্থূলতা, বার্ধক্য, ডায়াবেটিস কিংবা হৃদরোগ।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জুন রাইন বলেন, “কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই ঔষধটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে যোগ হল।”
তিনি বলেন, “এটি এই রোগের জন্য বিশ্বের প্রথম অনুমোদিত অ্যান্টি-ভাইরাল যা শিরায় না দিয়ে মুখে খাওয়া যেতে পারে।”
“এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মানে কোভিড-১৯ একটি গুরুতর পর্যায়ে যাওয়ার আগেই হাসপাতালের বাইরেই এর মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব।”
কতটা কার্যকর?
বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, মলনুপিরাভির ঔষধটি কোভিডের চিকিৎসায় রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুহার অর্ধেক কমিয়ে আনতে পারে।
বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, সম্প্রতি কোভিড আক্রান্ত ৭৭৫ জন রোগীর ওপর মলনুপিরাভিরের ক্লিনিকাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়েছে। এতে যা পাওয়া গেছে তা হলো:
•যাদের ঔষধ দেয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে ৭.৩% হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল
•যা ১৪.১ % রোগীকে দেয়া সাধারণ পিলের তুলনায় অর্ধেক।
•মলনুপিরাভির যাদেরকে দেয়া হয়েছিল তাদের কারো মৃত্যু হয়নি। তবে পরীক্ষায় অন্য ঔষধ রোগীদের মধ্যে আটজন কোভিড-এ মারা গিয়েছিল।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের এই ফলাফলগুলি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এখনও পিয়ার-রিভিউ বা পর্যালোচনা করা হয়নি।
তবে তথ্য-উপাত্ত থেকে যে বিষয়টি জানা যায় সেটি হচ্ছে ঔষধটির কার্যকারিতা পাওয়ার জন্য উপসর্গ দেখা দেয়ার পর পরই মলনুপিরাভির সেবন করতে হবে। এর আগে এরইমধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের উপর পরিচালিত একটি গবেষণা আশানুরূপ ফল না আসার কারণে স্থগিত করা হয়।
ঔষধটির অনুমোদনের নথিতে, এমএইচআরএ সুপারিশ করে যে, কোভিড পরীক্ষায় পজিটিভ আসার পর যত দ্রুত সম্ভব ঔষধটি সেবন শুরু করতে হবে। উপসর্গ দেখা দেয়া শুরু হওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যে ব্যবহার শুরু করার পরামর্শ দেয়া হয়।
কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পেনি ওয়ার্ড, যিনি এই গবেষণায় জড়িত ছিলেন না, তিনি বলেছেন: “যদি এই ফলাফল যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার উপরও একইভাবে কাজ করে, তবে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় এমন রোগীর সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যেতে পারে এবং মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে যেতে পারে।”
“সম্ভবত মনে হচ্ছে যে এটি রোগের জটিলতার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা হবে – উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বয়স্ক ব্যক্তি যারা হৃদরোগ, ফুসফুস বা কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস বা ক্যান্সারসহ অন্য রোগে ভুগছেন।”
যুক্তরাজ্য ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশও মলনুপিরাভির ক্রয়ে চুক্তি করেছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
এই ঔষধটির খুব জটিল কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান।
তিনি বলেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে স্বাভাবিক ধরণের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, মাথাব্যথা, বমি এবং মাথা ঝিমঝিম করার মতো হালকা থেকে মাঝারি ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
তবে এগুলো জটিল কিছু নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই ঔষধটি সেসব রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে যারা ১৮ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়সী।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুপারিশ ছাড়া কোন রোগীকে নিজে নিজে মলনুপিরাভির কিংবা অন্য কোন ঔষধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কেউ আইনের ঊর্ধে নয়, তবে আমি খুশী নই- আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তবে বিচার বিভাগের জন্য দিনটি সুখকর নয়। আই এম নট ভেরি হ্যাপি। দুর্নীতির দুই মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার সাজার রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যেহেতু তিনি আইনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, আমি মোটেও আজকে খুশি নই।
“কিন্তু এটাও সঠিক, অন্যায় করলে তাকে তার শাস্তি পেতেই হবে। আদালত তার অপরাধ পেয়েছে, রায় দিয়েছে।”
বাংলাদেশে কোনো প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলার নজির নেই বলে জানান আইনমন্ত্রী।
আনিসুল হক বলেন, “যে সরকার বা রাষ্ট্র কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে নিযুক্ত থাকে, তাকে সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হয়। এটাই আজকের রায় থেকে শেখার বিষয়বস্তু।”
দেশের আইনব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আমরা দেখেছি, এই দেশে জাতির পিতাকে তার সপরিবারে হত্যা করলেও একটা মামলা হয় না। এই সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হয়ে এসেছি।
“পর্যায়ক্রমে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেল হত্যা মামলা, মানবতাবিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং অন্যান্য দুর্নীতির বিচার- এইসবের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, দেশে এখন আইনের শাসন আছে।”
সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, “অন্যায় করলে আইন আদালতও তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অন্যায় করলে কোনোভাবেই পার পাওয়া যাবে না।”
দুর্নীতির দায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ১১ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাত ও পাচারের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে দুটি ধারায় ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালতে। এসকে সিনহাই বাংলাদেশের প্রথম সাবেক প্রধান বিপারপতি, যিনি দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত হলেন। গত চার বছর ধরে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন।
ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম মঙ্গলবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) এই ঋণ আত্মসাতের মামলার ১১ আসামির মধ্যে আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত, খালাস পেয়েছেন দুজন।
সাত আসামি হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী, ব্যাংকের সাবেক এমডি একেএম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান ও একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা।
এর মধ্যে শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুই দফা রায় ঘোষণার দিন পরিবর্তন হয়। দ্বিতীয় দফায় গত ২১ অক্টোবর রায় প্রস্তুত না হওয়ায় এবং প্রথম দফায় গত ৫ অক্টোবর বিচারক অসুস্থ থাকায় রায় ঘোষণা হয়নি।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ (দুদক) ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য প্রথম দফায় ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।
এ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্র জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংক থেকে ঋণের নামে চার কোটি টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে এসকে সিনহার ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তরের অভিযোগে গত বছরের ১০ জুলাই মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তদন্ত শেষে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর দুদক পরিচালক মো. বেনজীর আহমেদ আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট মামলায় এসকে সিনহাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। গত ২৪ আগস্ট এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ২১ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে নজিরবিহীন টানাপড়েনের মধ্যে ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর সেখানে থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন এস কে সিনহা। আর কখনও কোনো প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ বাংলাদেশ দেখেনি।
পদত্যাগের চার বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক দুদিন আগে আত্মসাতের এ মামলায় তার সাজার রায় এল, যে অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে এসেছেন।
এস কে সিনহা বিদেশে যাওয়ার দুই বছর পর এ মামলা দায়ের করেছিল দুদক। এরপর গতবছর ১৩ অগাস্ট ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এসকে সিনহাকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার চলে।
মন্দিরে হামলা-লুটপাট, ভিডিও দেখে চারজনকে গ্রেফতার, লুটের বিপুল সামগ্রী উদ্ধার
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনী এলাকার শ্রী শ্রী রাধামাধব জিউর মন্দিরে হামলা ও লুটপাটে জড়িত চারজনকে ভিডিও ফুটেজ দেখে গ্রেফতার করেছে র্যপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
এসময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মন্দিরের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। গত দুদিন রাজধানীর ডেমরা, নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মনির হোসেন ওরফে রুবেল (২৮), জাকের হোসেন ওরফে রাব্বি (২০), মো. রিপন (২১) ও মো. নজরুল ইসলাম ওরফে সোহাগ (৩৬)।

তাদের কাছ থেকে মন্দির থেকে লুট হওয়া সাতটি পিতলের প্রতিমা, তিনটি সিদুঁরে কৌটা, ২০টি বাতির কৌটা, দুটি দ্রুপতি, পাঁচটি পঞ্চ বাতির দানি, দুটি হাত ঘণ্টাসহ পূজার বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করে জনসাধারণের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চালায়। গত ১৫ অক্টোবর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার চৌমুহনী এলাকায় দুষ্কৃতিকারীরা শ্রী শ্রী রাধামাধব জিউর মন্দিরে হামলা ও লুট চালায়। ঘটনার কিছু ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা হয়। ঘটনার পর হামলা ও লুটকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে।
‘এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাত থেকে অভিযান শুরু করে। রাজধানীর ডেমরা, নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে চৌমুহনীর মন্দিরে হামলা ও লুটপাটে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে।’
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতার রুবেল, রাব্বী ও রিপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উসকানিমূলক বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে প্রত্যক্ষভাবে হামলায় অংশগ্রহণ করে। হামলার পরবর্তীতে গ্রেফতার এ তিনজন দুটি বস্তায় মন্দিরের বিভিন্ন পিতলের পূজার সামগ্রীসহ লুট করে নিয়ে যায়। তারা ধাতব জিনিসগুলো বিক্রির পরিকল্পনা করছিল। মন্দিরে মালামাল লুট করার সময় রুবেলের ভিডিও ফুটেজ মিডিয়াতে ভাইরাল হয়। গ্রেফতার রুবেল, রাকিব, রিপন ও সোহাগ বিভিন্ন পেশায় জড়িত। রুবেলের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার মনির হোসেন সরাসরি হামলায় জড়িত ছিলেন। বাকি তিনজনও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এমন কোনো তথ্য পাইনি। মূলত তারা বিভিন্ন বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে এ হামলায় অংশ নেন। আগে তারা বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইয়ে জড়িত ছিল। পেশায় তারা কেউ ট্রাক ড্রাইভার, কেউ বাসের হেলপার।’ আল মঈন জানান, গ্রেফতার রুবেল, রাব্বী ও রিপন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উসকানিমূলক বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে প্রত্যক্ষভাবে হামলায় অংশগ্রহণ করে। হামলার পর গ্রেফতার হওয়া এ তিনজন দু’টি বস্তায় করে মন্দিরের বিভিন্ন পিতলের পূজার সামগ্রীসহ মূল্যমান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে আল মঈন বলেন, গ্রেফতার হওয়া মনির হোসেন সরাসরি হামলায় জড়িত ছিলেন। বাকি তিনজনও তাদের সঙ্গে ছিলেন। মূলত তারা বিভিন্ন বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে এ হামলায় অংশ নেন।
নোয়াখালীর চৌমুহনীতে হামলার আগে রংপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রামে হামলার ক্ষেত্রেও ফেসবুকে উসকানি ছড়িয়ে মন্দিরে হামলা করা হয়েছে বলেও জানায় র্যাব। খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘মন্দিরে হামলার ঘটনা ও সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
‘ভ্যাক্স’কে চলতি বছরের সেরা ইংরেজি শব্দ ঘোষণা অক্সফোর্ড ডিকশনারির
ভাষা ভেসে বেড়ায় মানুষের মুখে মুখে। পৃথিবীর যে কোনও জীবীত ভাষাই আসলে সমকালীন সমাজের আয়না। তাই কালস্রোতেই বাতিল হয়ে যায় বহু শব্দ, জন্ম হয় কলোকিয়াল নতুন শব্দের। সময়ের দাবিতে প্রতিদিনের কথোপকথনে ফিরে ফিরে আসে যে শব্দ, তাকেই বছরের সেরা শব্দের তকমা দিয়ে থাকে অক্সফোর্ড ইংরেজি ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালে সেই শিরোপা পেল ‘ভ্যাক্স’ (Vax) শব্দটি। যা ভ্যাকসিন (Vaccine) শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ।
২০২০ সাল থেকে করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত হয় গোটা পৃথিবী। স্বাভাবিক ভাবেই ওই বছরে সবথেকে বেশি ব্যবহৃত শব্দগুলির মধ্যে ছিল ‘প্যান্ডেমিক’ ও ‘লকডাউন’। তবে গত বছরে আলাদা করে কোনও শব্দকে সেরা হিসেবে বেছে নেয়নি অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে চলতি বছরে ‘ভ্যাক্স’ শব্দটিকে বছরের সেরা শব্দ হিসেবে বেছে নেয়া হল। অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় ৭২ গুণ বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ‘ভ্যাক্স’ শব্দটি। মহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে করোনার ভ্যাকসিনই একমাত্র অস্ত্র। মানুষের জীবনে তার অবিকল্প ব্যবহারই শব্দটির বহুল ব্যবহারের অন্যতম কারণ। ফলে সেই শব্দের সবচেয়ে বেশি করে উচ্চারিত হওয়াই স্বাভাবিক।
ইংরেজি ভাষায় ১৭৯৯ সালে অন্তর্ভুক্ত হয় ‘ভ্যাকসিন’ শব্দটি। পেছন পেছন অন্তর্ভুক্ত হয় ‘ভ্যাকসিনেশন’, ‘ভ্যাকসিনেট’ ইত্যাদি শব্দও। ল্যাটিন শব্দ ভ্যাকা (Vacca) থেকে এসেছে ‘ভ্যাকসিন’ শব্দটি। যে শব্দের হল অর্থ গরু। পদার্থবিদ এডওয়ার্ড জেনার স্মল পক্সে টিকা আবিষ্কার করেছিলেন আঠারো শতকে। যার পর বদলে গিয়েছিল গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। এরপরই ব্যবহার বাড়তে থাকে ‘ভ্যাকসিন’ শব্দটির। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিধানে স্থায়ী জায়গাও করে নেয় শব্দটি।
‘ভ্যাক্স’ বা ‘ভ্যাকসিনে’র সমার্থক শব্দ হল ‘জ্যাব’। যেটিও গত বছরের অন্যতম জনপ্রিয় শব্দ ছিল। জানিয়েছে অক্সফোর্ড ইংরেজি ডিকশনারি কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালে ‘সেলফি’কে বর্ষসেরা শব্দের তকমা দিয়েছিল। ভারতীয় পত্রিকা সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে।










