ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 3

পাকিস্তানের আকাশসীমা নিয়ে রহস্য: রূপপুরের ইউরেনিয়ামবাহী রুশ বিমান কেন আটকে ছিল?

0

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার, ২ অক্টোবর রাত প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে রুশ নির্মিত ইলিউশিন-৭৬ উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরদিন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থায় চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
কিন্তু এই চালানটির বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল আরও আগে—২৪ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ে বিমানটি বাংলাদেশে আসতে পারেনি। কারণ হিসেবে সামনে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পাকিস্তান কেন রুশ বিমানটিকে তার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি?
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম তখন জানান, রাশিয়া থেকে আসা বিমানটির নির্ধারিত রুটে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করার অনুমতি পাওয়া যায়নি। মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। পরে পাকিস্তান হাইকমিশন ঢাকায় জানায়, বিষয়টি রাজনৈতিক নয়; বরং বিমান চলাচলের রুট ও আকাশসীমার অনুমোদনসংক্রান্ত কারিগরি ও পদ্ধতিগত বিষয়।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—একটি নিয়মিত আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এমন সমস্যা হলো কেন? বিশেষ করে যখন একই ধরনের রুশ বিমান এর আগে রূপপুরের পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে?
যে রুটে আসার কথা ছিল:
রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি পরিবহনের পরিকল্পনায় বিমানটির সম্ভাব্য রুট ছিল রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে এমন রুটের কথা জানিয়েছেন।
অর্থাৎ রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার পথে পাকিস্তানের আকাশসীমা ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো দেশের আকাশসীমা ব্যবহার স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের অনুমতি প্রয়োজন হয়। আর পারমাণবিক জ্বালানি বহনকারী বিশেষ কার্গো বিমানের ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা, রুট, কার্গোর ধরন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের বিষয় থাকে।
এই জায়গাতেই তৈরি হয় জটিলতা।
২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ফ্লাইটটি পাকিস্তানের ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে উড্ডয়ন করতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি পৌঁছানোর সময়সূচি পিছিয়ে যায়।
ঘটনার পর পাকিস্তান সরাসরি বলেনি যে কোনো রাজনৈতিক কারণে বিমানটিকে আটকে দিয়েছে।
ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রেস কাউন্সেলর শাবিদ উল্লাহ ওয়াজির লিখিত বক্তব্যে বলেন, পাকিস্তান কূটনৈতিক ও ওভারফ্লাইট অনুমোদনের আবেদন নির্ধারিত নিয়ম এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের প্রটোকল অনুযায়ী বিবেচনা করে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচিত ঘটনাটি সম্ভবত বিমান চলাচলের রুট এবং আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের বিষয়ে বিভিন্ন বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে এবং এর ফলে ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তনও হতে পারে।
পাকিস্তান একই সঙ্গে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ঘটনাটিকে অতিরিক্ত রাজনৈতিক অর্থ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার: পাকিস্তান প্রকাশ্যে বলেনি যে ইউরেনিয়াম বহন করার কারণে তারা বিমানটিকে নিষেধ করেছে।
তাহলে আসল কারণ কী?
পাকিস্তান ‘কারিগরি ও পদ্ধতিগত’ কারণের কথা বললেও ঠিক কোন কারিগরি সমস্যা হয়েছিল, সেটি বিস্তারিত জানায়নি।
ফ্লাইট রুটের সমস্যা ছিল?
ক্লিয়ারেন্সের আবেদন দেরিতে হয়েছিল?
কার্গোর প্রকৃতি নিয়ে অতিরিক্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হয়েছিল?
নির্দিষ্ট রুটে কোনো বিমান চলাচল-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ ছিল?
নাকি পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় হয়নি?
প্রকাশ্যে পাওয়া তথ্য দিয়ে এসব প্রশ্নের কোনো একটির উত্তর নিশ্চিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের কর্মকর্তারাও প্রথম দিকে বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, রুশ কর্তৃপক্ষও ফ্লাইট পিছিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
তবে ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন মহলে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে।
রূপপুর প্রকল্প রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাগুলোর একটি। প্রকল্পটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান রোসাটম বাস্তবায়ন করছে। ফলে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনের একটি বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘটনা কূটনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে ওঠে।
তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্তমান আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং বাংলাদেশ-রাশিয়া পারমাণবিক সহযোগিতা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
যদিও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা অন্য কোনো রাষ্ট্র পাকিস্তানকে রুশ বিমানটির আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দিতে চাপ দিয়েছিল।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীও তখন এমন কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি। বরং তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ার সঠিক কারণ তখনও জানা যায়নি।
২৪ সেপ্টেম্বরের ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। কিন্তু পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ২ অক্টোবর রাতে ইউরেনিয়ামবাহী রুশ বিমান বাংলাদেশে পৌঁছে যায়।

সাম্প্রতিক বাংলাদেশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করেই বাংলাদেশে এসেছে।
অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের ঘটনাকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রাশিয়া বা বাংলাদেশের জন্য স্থায়ী আকাশসীমা নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বরং ঘটনাটি থেকে আপাতত যে চিত্র পাওয়া যায় তা হলো—একটি নির্দিষ্ট ফ্লাইটের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন সময়মতো পাওয়া যায়নি; পরে বিষয়টি সমাধান হয়েছে।
এই তথ্য পাকিস্তানের ‘কারিগরি ও পদ্ধতিগত’ ব্যাখ্যাকে অন্তত আংশিকভাবে সমর্থন করে। কারণ যদি এটি কোনো স্থায়ী রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা হতো, তাহলে কয়েক দিন পর একই ধরনের রুশ পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনকারী বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারত না।
তবে এখানেও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—প্রথম ফ্লাইটের অনুমোদন কেন আটকে গেল এবং পরের ফ্লাইট

রূপপুর প্রকল্পে দুটি VVER-1200 রিঅ্যাক্টর রয়েছে এবং মোট উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ ২০২৩ সালে সম্পন্ন হয়েছিল। এখন দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের ধাপ চলছে।

দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ডিএনসিসি, ফুটপাত উদ্ধারে চলবে অভিযান

রাজধানীর ফুটপাত দখল করে অবৈধ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির দীর্ঘদিনের চক্র ভাঙতে এবার কঠোর অবস্থানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নগরবাসীর চলাচলের পথ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও হকার উচ্ছেদে ধারাবাহিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি দখলদারদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। মিরপুর-১০-এ উচ্ছেদ অভিযানে হামলার পর ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন আরও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে ‘আমার লাশের ওপর দিয়ে হলেও’ ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান চলবে। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজধানীর ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে ডিএনসিসির কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে যারা নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগরবাসীর সুবিধা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধা বা হামলা মেনে নেওয়া হবে না।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর হোপ মার্কেটের সামনের ফুটপাতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে প্রশাসক বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মিরপুর-১০-এর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ডিএনসিসি ও পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায়ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছে। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, নগরবাসীর প্রতি সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্বও। তাই দায়িত্ববোধ থেকেই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের ফুটওভার ব্রিজের নিচের অংশ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের পর সেখানে গাছ লাগিয়ে নাগরিকদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসির অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছেন প্রশাসক।
মিরপুরবাসীর উদ্দেশে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে, সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চান। ভবিষ্যতে কারও ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হকারদের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, হকারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসভা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে কেউ ফুটপাতে বসবেন না। তাঁদের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে বৈধভাবে ব্যবসার সুযোগ দিতে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ২০৪টি রেজিস্ট্রেশন কার্ডও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর অনেকেই সেই সিদ্ধান্ত মানেননি।

তিনি বলেন, ‘ফুটপাত জনগণের চলাচলের পথ। এখানে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না।’

ডিএনসিসির এ অবস্থান মূলত ফুটপাতকে পুনরায় দখলমুক্ত রাখার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা তৈরির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ অতীতে একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও কিছু এলাকায় আবার দখল ফিরে আসার অভিযোগ রয়েছে।

ডিএনসিসির কঠোর অবস্থানের মধ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত নিয়ে পরিচালিত অনুসন্ধানে দখল ও চাঁদাবাজির বিস্তৃত অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শত শত ফুটপাত ও ফুটপাতসংলগ্ন জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও দোকানপ্রতি দৈনিক ১৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ বা বাতি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কথাও উঠে এসেছে।

অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদা আদায়ের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং অপরাধী চক্রের সদস্যদের নামও এসেছে। তবে অনুসন্ধানে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মিরপুর-১০ নম্বর হোপের গলি ও পার্শ্ববর্তী ফুটপাতে কয়েক শ দোকান রয়েছে বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মিরপুর-১০-এর আইডিয়াল স্কুল ও সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের ফুটপাত, রাড্ডা ও ফায়ার সার্ভিসসংলগ্ন এলাকাতেও একই ধরনের অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে।
এ ছাড়া নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, গাউছিয়া, চন্দ্রিমা মার্কেট, ধানমন্ডি, গুলশান, বাড্ডা, শ্যামপুর, শনিরআখড়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, আগারগাঁও, ফার্মগেট, রামপুরা, মগবাজার ও কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল ও চাঁদা আদায়ের অভিযোগের কথা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাতের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নীলক্ষেত মোড়, গাউছিয়া, চন্দ্রিমা মার্কেট ও নূরজাহান মার্কেট এলাকার ফুটপাতকে কেন্দ্র করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নীলক্ষেত মোড় থেকে নিউমার্কেটের বিভিন্ন গেটসংলগ্ন ফুটপাতে শত শত দোকান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট থেকে গ্লোব শপিং সেন্টার, গাউছিয়া থেকে ইস্টার্ন মল্লিকা, রাফিন প্লাজা থেকে চাঁদনি চক এবং নীলক্ষেতের বিভিন্ন অংশেও ফুটপাত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, নিউমার্কেটের ভেতরের ফুটপাতেও অবৈধ দখল ও অর্থ আদায়ের একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে।
রাজধানীর দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকাতেও ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ধূপখোলা বাজার ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক দোকানকে ঘিরে অর্থ আদায়ের অভিযোগের কথা পুলিশের একটি নথির বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্যামপুর মাইক্রো স্ট্যান্ডে যানবাহন থেকে দৈনিক অর্থ আদায় এবং শ্যামপুর কাঁচাবাজারের দোকানগুলো থেকেও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শনিরআখড়া, মোহাম্মদপুর, আদাবর, আগারগাঁও, ফার্মগেট, রামপুরা, মগবাজার ও কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন ফুটপাতেও একই ধরনের অভিযোগের কথা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
কারওয়ান বাজার এলাকায় জনতা টাওয়ার, স্টেশন রোড, তেজকুনিপাড়া, ডিআইটি মার্কেট, মাছের আড়ত, ফলের বাজার ও বিভিন্ন দোকানসংলগ্ন ফুটপাতে দখল এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে রামপুরা, মগবাজার ও আগারগাঁওয়ের বিভিন্ন ফুটপাতেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও লাইনম্যানদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অভিযোগের স্বাধীন যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত প্রয়োজন।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ থাকলেও সময়ের সঙ্গে ছত্রছায়ার পরিচয় পরিবর্তিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে অর্থ আদায়ের কাজে অনেক ক্ষেত্রে একই লাইনম্যান ও ম্যানেজাররা সক্রিয় থাকলেও নতুন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ফুটপাত দখলের সুযোগ করে দিয়ে একটি অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়। এ কারণে উচ্ছেদ অভিযানে ফুটপাত খালি করা হলেও কিছুদিন পর আবার সেখানে দোকান বসে যায়।

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, শুধু প্রান্তিক পর্যায়ের হকারদের উচ্ছেদ করলে ফুটপাত দখলের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে হকাররা চাঁদা দিয়ে ফুটপাতে বসেন। ফলে উচ্ছেদ অভিযানের সময় তাদের সরিয়ে দিলেও এর পেছনে থাকা প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় থাকলে আবারও দখল তৈরি হতে পারে।
তাঁর মতে, ফুটপাত দখলের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, নির্দিষ্ট এলাকায় ও নির্দিষ্ট সময়ে হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া এবং হলিডে মার্কেট ব্যবস্থাকে কার্যকর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে দখল ফিরে আসার সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, ফুটপাত দখলের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী শক্তির ভূমিকা থাকলে তা শনাক্ত করা জরুরি। অন্যথায় শুধু হকার উচ্ছেদ করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া কঠিন।

ফুটপাত দখল নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা।
মাইসফট হ্যাভেনের (বিডি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত ও বাজার এলাকায় স্মার্ট সিসিটিভি এবং এআইভিত্তিক ভিডিও অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা বা নতুন দখল শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠানো সম্ভব।
তিনি প্রতিটি ফুটপাতের নির্দিষ্ট ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করে জিআইএসভিত্তিক ডেটাবেসে সংরক্ষণেরও পরামর্শ দেন। এতে কোন ফুটপাতের কতটুকু অংশ বৈধভাবে ব্যবহারযোগ্য এবং কোথায় অবৈধ দখল হয়েছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ জানানোর জন্য একটি অ্যাপ বা হটলাইন চালু করা যেতে পারে বলেও তিনি মত দেন।
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়টি শুধু উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে হকারদের জীবিকা, চাঁদাবাজি, স্থানীয় প্রভাব, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা এবং নগর ব্যবস্থাপনার মতো একাধিক বিষয় জড়িত।
তবে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সংস্থাটির অবস্থান স্পষ্ট—নগরবাসীর চলাচলের পথ হিসেবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। উচ্ছেদ অভিযানে বাধা, হামলা কিংবা পুনরায় দখলের চেষ্টা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এখন ডিএনসিসির সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো উচ্ছেদ অভিযানকে নিয়মিত ও কার্যকর রাখার পাশাপাশি দখল পুনরায় ফিরে আসা ঠেকানো, দখলের পেছনে থাকা অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা এবং হকারদের জন্য বাস্তবসম্মত বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা। প্রশাসকের কঠোর ঘোষণার পর সেই অবস্থান মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটিই এখন নগরবাসীর আগ্রহের বিষয়।

সুপার সেল কার বাজারে নতুন গাড়ির সঙ্গে মিলছে রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়িও

0

ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া এবং গাড়ির বাজারে বাড়তি আগ্রহের কারণে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘সুপার সেল কার বাজার’-এর সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে প্রতি শুক্রবারের এ আয়োজন চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রতি শুক্রবার আইসিসিবিতে বসছে গাড়ি কেনাবেচার এ বিশেষ বাজার। টানা চার সপ্তাহের সাড়া পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার পঞ্চম সপ্তাহেও বসে ‘সুপার সেল কার বাজার’। এবার মেলায় নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে এশিয়ান ইমপোর্ট’এর আমদানি করা নতুন গাড়ি। নতুন গাড়ির পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি নিয়েও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে। উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কার বাজার এতদিন প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলত। আয়োজকরা জানান, একই স্থানে নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি দেখা এবং কেনাবেচার সুযোগ থাকায় আয়োজনটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাঁদের বাড়তি সাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাজারের সময় আরও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

‘সুপার সেল কার বাজারে’ প্রবেশ করতেই দেখা যায় বিভিন্ন মডেল ও ব্র্যান্ডের সারি সারি গাড়ি। একদিকে রয়েছে নতুন গাড়ি, অন্যদিকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। আরেক অংশে রাখা হয়েছে ব্যবহৃত গাড়ি। এসব ব্যবহৃত গাড়ির অনেকগুলোই আগে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। পুরনো গাড়ি বিক্রি করে নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থেকেই মালিকরা এসব গাড়ি বাজারে এনেছেন।

মাত্র ১২৭টি গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বাজারে পঞ্চম সপ্তাহে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬০টিতে। ফলে একই জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।
<span;> বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেউ নতুন গাড়ির খোঁজ করছেন, আবার কেউ ব্যবহৃত গাড়ি কেনার আগে এর বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করছেন। পছন্দের গাড়ি চূড়ান্ত করার আগে অনেক ক্রেতাকেই একাধিক গাড়ির মডেল, দাম, বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধা তুলনা করতে দেখা যায়। এবারের আয়োজনে সাড়ে ছয় লাখ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত দামের গাড়ি রয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফারও দিচ্ছেন বিক্রেতারা।

এশিয়ান ইমপোর্ট’সের কর্মকর্তারা জানান, ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে এবার মেলায় নতুন ইভি কার যুক্ত করা হয়েছে। জাপানি ও চায়নিজ—দুই ধরনের ইভি কারের পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড গাড়িও পাওয়া যাচ্ছে।

আইসিসিবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, গত চার সপ্তাহের সফল আয়োজনের পর এবার পঞ্চম সপ্তাহে চলছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। এরই মধ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল ৩৫০টিরও বেশি গাড়ি মেলায় এসেছে। আগের চার সপ্তাহের তুলনায় এবার ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি ও আগ্রহ বেশি হওয়ায় মেলার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

এক ছাদের নিচে নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি দেখার পাশাপাশি সরাসরি কেনাবেচার সুযোগ থাকায় ‘সুপার সেল কার বাজার’ ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য গাড়ি কেনাবেচার একটি বড় আয়োজন হিসেবে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে জমজমাট গুলশান-চট্টগ্রাম ক্লাব দ্বৈরথ

0

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে গুলশান ক্লাব ও চট্টগ্রাম ক্লাবের সদস্য ও খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া উৎসব। উৎসবে প্যাডেল টেনিস, ফুটবল, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, টেনিস, স্কোয়াশ ও ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির প্যাডেল ও ফুটসাল কোর্টে একই সময়ে একাধিক খেলা চলায় পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিভিন্ন খেলায় দুই ক্লাবের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই দেখা গেলেও পুরো আয়োজন ছিল বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যে ভরা। প্যাডেল টেনিসে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ১১-১ ব্যবধানে জয় পায় গুলশান ক্লাব।
ফুটবল ম্যাচেও ছিল উত্তেজনা। গুলশান ক্লাবের হয়ে ইশমাম এবং চট্টগ্রাম ক্লাবের হয়ে সাগর গোল করেন। শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় ম্যাচটি ড্র হয়। অন্যদিকে, বৃষ্টির কারণে ক্রিকেট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে না পারায় সেটিও ড্র হিসেবে গণ্য হয়।
একসঙ্গে বিভিন্ন খেলা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ ক্রীড়া উৎসব ক্লাব ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য বহুমাত্রিক ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনাও তুলে ধরেছে। এমন আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাব, প্রতিষ্ঠান ও ক্রীড়াপ্রেমীদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে প্রাণবন্ত ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় জানিয়েছে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি।

সাভারে বনভূমি ও কৃষিজমি দখলের তোড়জোড়; এগ্রো ট্যুরিজমের নামে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের ফাঁদ

0

সাভারের ছোট কালিয়াকৈর এলাকার কামালপুরে ১৭ একর বনভূমির জমিতে “এগ্রো ট্যুরিজম ও রিসোর্ট” নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে কতিপয় ব্যাক্তি।

বাইরে থেকে তাদের প্রচারণা দেখে এটিকে আকর্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ মনে হলেও গভীরে রয়েছে মারাত্মক আইনি ও পরিবেশগত ঝুঁকি।
<span;> এই প্রজেক্টটি বাণিজ্যিক স্বার্থে পরিবেশ আইন ও সরকারি ভূমি নীতি লঙ্ঘন করে গড়ে তোলা হচ্ছে, এমন অভিযোগ পরিবেশবাদিদের।
বিদ্যমান বন আইন অনুযায়ী, সরকারি বনভূমি বা সাব-বিটের অন্তর্ভুক্ত জমি বাণিজ্যিক রিসোর্ট, পর্যটন বা ব্যক্তিস্বার্থমূলক প্রজেক্টের জন্য ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বেআইনি। বন বিভাগের জমি সাধারণত সামাজিক বনায়ন বা নির্দিষ্ট পরিবেশগত উদ্দেশ্যে সাময়িক চুক্তিতে দেওয়া হয়। সেখানে সদস্য বা কোনো বেসরকারি স্বত্বাধিকারীর নামে বাণিজ্যিক রিসোর্ট বা পশুপালনের দোহাই দিয়ে জমি ব্যবহারের দাবি আইনি পর্যালোচনায় টিকবে না। সরকার যেকোনো মুহূর্তে এই লিজ বাতিল করে জমি পুনঃদখল করতে পারে, যার ফলে প্রজেক্টের পুরো বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে।
​রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণের জন্য পাশেই ব্যক্তিগত কৃষি জমি কেনার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা দেশের “কৃষি জমি সুরক্ষা আইন”-এর চরম পরিপন্থী। উর্বর কৃষি জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাভারের বিরুলিয়া ও বন বিট সংলগ্ন এলাকাটি প্রাকৃতিক লেক, বনাঞ্চল ও কৃষিজমির জন্য পরিচিত। এখানে প্রতিদিন শত শত পর্যটকের সমাগম ঘটে। বর্জ্য নিষ্কাশন ও শব্দদূষণ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, পশুপাখি এবং বনাঞ্চলকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, মাত্র ২০টি শেয়ার বিক্রি করে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ নেওয়ার কথা বলা হলেও প্রজেক্টের মোট বাজেট, লভ্যাংশ বণ্টন পদ্ধতি কিংবা জমি হস্তান্তরের কোনো স্পষ্ট ও আইনি ফ্রেমওয়ার্ক নেই।
লিজ নেওয়া বনভূমির কোনো মালিকানা বিনিয়োগকারীদের দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে কোনো আইনি জটিলতায় প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা তাদের অর্থ ফেরত পাবেন না। কেবল ক্রয়কৃত সামান্য কৃষিজমির ওপর নির্ভর করে এত বড় রিসোর্ট চালানো একটি চরম অদূরদর্শী ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়িক মডেল।
​প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকের লাভ হবে। কিন্তু বাস্তবে বন ও কৃষিজমি দখল করে কৃত্রিম রিসোর্ট বানালে স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের মূল জীবিকা ও জমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আধুনিক রিসোর্টের কোলাহল ও পর্যটকদের আনাগোনায় স্বাভাবিক চাষাবাদ ব্যাহত হবে এবং স্থানীয় গ্রামটির প্রাকৃতিক পরিবেশ চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে।সাভার বন বিটের পাশে কামালপুরের এই এগ্রো ট্যুরিজম প্রজেক্টটি একটি আইনি জটিলতায় ঘেরা ও পরিবেশবিরোধী উদ্যোগ। বনভূমির জমিতে রিসোর্ট পরিচালনা করা যেকোনো সময় সরকারি অভিযানের মুখে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত আইনি অনুমোদন, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (EIA) ছাড়পত্র এবং স্পষ্ট আর্থিক গ্যারান্টি ছাড়া এই প্রজেক্টে শেয়ার কেনা বা বিনিয়োগ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

0

 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম ও অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ১৫তম জাতিসংঘ অপরাধ প্রতিরোধ ও ফৌজদারি বিচার কংগ্রেসের অধীনে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের থিমেটিক সভা “সোর্স থেকে শেলফ: বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে মানবপাচার মোকাবিলা” শীর্ষক আলোচনায় প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণকালে এ কথা বলেন।
বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মানবপাচার, জোরপূর্বক শ্রম এবং অভিবাসী পাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদারকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০২৬ প্রণয়ন, জাতীয় রেফারেল মেকানিজম শক্তিশালীকরণ, মানবপাচার সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন এবং অভিবাসী কর্মী ও মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইনমন্ত্রী কার্যকর বাস্তবায়ন, আন্তঃসংস্থা সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC) এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আইনের শাসন সমুন্নত রাখা ও মানবিক মর্যাদা সুরক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক একীভূতকরণ ও বৈশ্বিক শ্রম চলাচল যাতে শ্রমিক ও মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে পরিচালিত হয় এবং শোষণ থেকে কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিচারমন্ত্রী, ইউএনওডিসি ও ইন্টারপোলের নির্বাহী পরিচালক এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও প্যানেলিস্ট হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

ভার্গো ট্যোবাকোর ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি; কর গোয়েন্দাদের অভিযান

0

ভার্গো ট্যোবাকোর ৭২ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট গোয়েন্দা)। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক অভিযান চালায় গোয়েন্দা দল।

এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত দলিলাদি জব্দ করে প্রাথমিক গণনায় অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বিপণন থেকে প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের রক্ষিত দলিলাদি ঠিক রেখে অভিনব পদ্ধতিতে রাজস্ব ফাঁকির নতুন উপায় বের করে।

ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দুটি টিম একযোগে সিগারেট কারখানা এবং কাছাকাছি আরেকটি গুদামে অভিযান চালায়। এ সময় বাইরে থেকে গেট বন্ধ রেখে ভিতরে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। বারবার গেট খুলতে বলার পরেও কেউ সাড়া দেয়নি। পরে দেয়াল টপকে গোয়েন্দা দল ভিতরে ঢুকে দেখতে পায় যে, সিগারেট উৎপাদন হচ্ছে। গোয়েন্দা দল কারখানা চত্বরে ধোঁয়া দেখে চেক করতে গিয়ে দেখেন ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পোড়ানো সিগারেটের দলিলাদি উপস্থাপন করতে বললে তারা তা দেখাতে পারেননি। এ বিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কিনা তা জানতে চাইলে কোন অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে তারা নিশ্চিত করেন।

আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোল যুক্ত সিগারেট পুড়িয়েছে বলে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার নিশ্চিত করেন। গোয়েন্দা দল তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ আলামত হিসেবে জব্দ করে।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে কারখানা এবং সংলগ্ন গুদাম/আবাসিক ভবন থেকে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল, সিগারেট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিতে কিছু বিদেশী ব্রান্ডের সিগারেটের নমুনা এবং খালি প্যাকেট পাওয়া যায়।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জব্দকৃত আলামত পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যবহৃত স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে গোপনে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছিল। মূসক গোয়েন্দার আইটি ও সাইবার ফরেনসিক টিম উক্ত মোবাইল ফোনসমূহের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয় সংক্রান্ত গোপন মেসেজ এবং হিসাবের ছবি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে। প্রাপ্ত ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ কোনো রকম ভ্যাট চালান (মূসক-৬.৩) ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করে আসছিল, যা তাদের মূল হিসাব বইয়ে গোপন রাখা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পণ্য ও প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সরকারের প্রাপ্য মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং: ১৭/২০২৬, তারিখ: ১৪/০৯/২০২৬ খ্রি.)।

অবৈধ সম্পদ অর্জন; স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের তথ্য ও নথি চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

0

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয়, অর্থপাচারসহ দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তথ্য ও নথি চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পাশাপাশি তার স্ত্রীর তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের স্বাক্ষরিত চিঠির সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
চাওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে দেশের সব ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাদের নামে থাকা সব ধরনের হিসাবের (চালু, সুপ্ত বা বন্ধ) বিস্তারিত বিবরণ। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিপত্র। পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি গঠনসংক্রান্ত দলিল ও রেকর্ডপত্র, এবং বিদেশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে ওই পাঁচ দেশে তাদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, সে সংক্রান্ত সংগৃহীত তথ্য।
তাদের বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শুরুর কথা জানায় দুদক।
এদিকে অনুসন্ধান চলাকালে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দেশ ছাড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছে দুদক।
এ কারণে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দুদকের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।
দুদকের এক কর্মকতা জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

র‌্যাব বিলুপ্ত, আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল এসআরবি

0

 


র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তির পর নতুন আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ইউনিটটির অভিযানিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সদস্যদের ন্যায়-নিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক আহসান হাবীব।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এসআরবি সদর দফতরে উপস্থিত সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি এবং দেশব্যাপী সব ব্যাটালিয়নের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।
এ সময় মহাপরিচালক নতুন আইনের আলোকে এসআরবির সব অভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এসআরবি ফোর্সের শুভ যাত্রা ঘোষণা করেন।
আহসান হাবীব জানান, নতুন আইনের আলোকে এসআরবির লোগো, পতাকা ও পোশাক পরিবর্তনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের অনুমোদনক্রমে শিগগিরই এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি এসআরবির প্রতিটি সদস্যকে ন্যায়-নিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে জননিরাপত্তা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এর মাধ্যমে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন সাধারণ মানুষের পূর্ণ আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন এসআরবি মহাপরিচালক।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এদিকে, বাহিনীর লোগোতে ইংরেজি ‘আরএবি’ অক্ষরগুলো সরিয়ে বসানো হয়েছে ‘এসআরবি’। র‌্যাবের ফেসবুক পেজগুলোর নাম পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে এসআরবি।
পেজগুলোর প্রোফাইলে দেওয়া হয়েছে নতুন লোগোর ছবি।  সূত্র- বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

0

 


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। -সূত্র জাগো নিউজ।
প্যানেলের দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে ৫৫৭ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পাঠ করেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান।

রায় পড়ার শুরুতেই ওবায়দুল কাদেরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। এরপর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন আদালত।
সবশেষ নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানেরও মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার সব আসামিই পলাতক।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম ও গাজি এমএইচ তামিম। মামলায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও আইনজীবী ইসরাত জাহান।
এর আগে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ চেয়েছেন প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। আসামি পক্ষ থেকে তাদের খালাস চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এই মামলায় আসামি ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম। ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক ও যুবলীগ সভাপতি-সম্পাদকের পক্ষে শুনানি করেন ইশরাত জাহান।
উভয় পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ থাকার পর আজ রায় ঘোষণা হলো।
রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
চিফ প্রসিকিউটর জানান, রায়ে বলা হয়েছে, ‘আমাদের রুলস অ্যান্ড স্ট্যাটিউটসে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত করার বিধান আছে। এবারই প্রথম আমাদের ট্রাইব্যুনাল তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করে। সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা বিধিবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শহীদ ও আহতদের মধ্যে বিলি-বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এরপর রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট এবং মনে করি, এটি একটি প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। আজ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, ২৫ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এই শহীদ ও আহতদের প্রতি আজ ন্যায়বিচার করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’
আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বলেন, ‘সব সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ডকুমেন্টের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের খালাস করানোর জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
আইন অনুযায়ী যেভাবে এগোনো যায়, সেভাবেই আর্গুমেন্ট ও জেরা করেছি। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আমার চার আসামির বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।’
সাদ্দাম, ইনান, নিখিল ও পরশের আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রায় মানতে আইনজীবী হিসেবে আমরা বাধ্য। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো ধৃষ্টতা আমাদের নেই। ট্রাইব্যুনালের রায় মানি, মান্য করি। কিন্তু আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই।’
কাদের, নাছিম ও আরাফাতের আইনজীবী হাসান ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চভাবে চেষ্টা করেছি। জেরা করেছি, আর্গুমেন্ট করেছি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রিন্সিপাল অব কমন রেসপনসিবিলিটির সুবিধা-অসুবিধা সবকিছু ট্রাইব্যুনালে ব্যাখ্যা করেছি। রায়ে আমাদের এসব বক্তব্য নেওয়া হয়েছে কি না, রায় না দেখে বলতে পারব না।’
আইনজীবী হাসান ইমাম বলেন, ‘আমি একজন জজ ছিলাম। সেই হিসেবে বলছি, বিচারপতিদের জাজমেন্টের বিরুদ্ধে কথা বলার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই, কিংবা বলার মতো ধৃষ্টতাও নেই। তবে আমিও এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারিনি।’
আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থাকলে হয়তো আরও ভালো করা যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আইনজীবী বলেন, আসামিরা পলাতক, তাই ‘আপিলের সুযোগ নেই।’ তাই মন্তব্য করারও কোনো সুযোগ নেই।
মামলার বিবরণ
মামলায় ২০২৫ সালের ১৮ জুন থেকে তদন্ত শুরু হয়। একই বছরের ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর ১৮ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়। এরপর ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
এরপর ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আনা মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ২ আগস্ট শেষ করা হয়। এরপর মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয় ৪ আগস্ট।
এরপর ১৭ আগস্ট পর্যন্ত নয় কার্যদিবস মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রায় ঘোষণা করা হলো।