ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 10

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনে ক্ষতি কার, লাভ কার?

0

 হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা এখন আর শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান কিংবা তার বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কে। সাম্প্রতিক সময়ে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সেই অস্বস্তিকে আরও প্রকাশ্য করেছে। একই সঙ্গে সামনে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যদি দীর্ঘদিন অবিশ্বাস ও টানাপোড়েনের মধ্যে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে কে?
গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগী শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনুষ্ঠানের নিন্দা করেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে ভারত বলেছে, ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে দেশটির সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং এফসিসি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ব্যাখ্যা যা-ই হোক, বাস্তবতা হলো—এর ফলে আগে থেকেই কঠিন অবস্থায় থাকা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
ভারত থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি জানানোর পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। তাকে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রেও এ ঘটনা ঢাকার অবস্থানকে আরও জোরালো করতে পারে। কিন্তু এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করা এবং সেই সমস্যাকেই দুই দেশের পুরো সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা এক বিষয় নয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি, আবার একজন ব্যক্তিকে ঘিরে এর ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, পরিবহন, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বহু দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ।
এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিকল্প নেই। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। একইভাবে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা সমস্যার সমাধানেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারত কোনো দেশই অন্য দেশকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে পারে না।
জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের কোনো সমস্যাই সমাধানের বাইরে নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এরই মধ্যে একাধিকবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এরপর আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এই আমন্ত্রণগুলো বাংলাদেশের জন্য নিছক আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়। বরং এগুলো ঢাকার কূটনৈতিক পরিপক্বতা ও জাতীয় স্বার্থকে কতটা বাস্তববাদীভাবে সামনে রাখা যায়, তারও পরীক্ষা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখনো নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ তাই ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
এই সফরকে শুধু দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে না দেখে একটি বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। ফলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি আলোচনা ও যোগাযোগের একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অবশ্য এ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। দেশের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলতে পারে—শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করার সময় তারেক রহমানের ভারত সফরের যৌক্তিকতা কী? কিন্তু অন্যদিকে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে এমন ধারণাও তৈরি হতে পারে যে শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিরোধই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগের পথ নির্ধারণ করছে।
একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রের কূটনীতি এমন হওয়া উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থ যেখানে জড়িত, সেখানে আপত্তি ও মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখাই অধিক কার্যকর।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ ভারত পেয়েছে এবং নয়াদিল্লি বিষয়টি নিজেদের আইনি কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন অনিশ্চিত থাকলে বাংলাদেশে সন্দেহ ও অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।
শেখ হাসিনা নিজেও একাধিকবার বলেছেন, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরতে চান। তিনি দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। বিচারিক প্রক্রিয়াও নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশের আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিষয়—ভারতের নয়।
তবে শেখ হাসিনা যতদিন ভারতে থাকবেন, ততদিন তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবেন। শুধু কঠোর বিবৃতি দিয়ে কিংবা ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ সীমিত রেখে এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
বরং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অবস্থান ভারতের কাছে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যার ক্ষেত্রেও নিজেদের স্বার্থ আদায়ের সুযোগ বাড়াতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি আবারও একই জায়গায় ফিরে আসে—বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন খারাপ থাকলে লাভবান হবে কে?
নিশ্চিতভাবেই দুই দেশের রপ্তানিকারকরা নয়। আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ভোক্তারাও নয়। নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা দরকার এমন ব্যবসায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ কিংবা পানি বণ্টনের সমাধানের অপেক্ষায় থাকা জনগোষ্ঠীও নয়।
দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা কোনো দেশের নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক নয়। বরং অবিশ্বাস যত বাড়বে, ততই অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সহযোগিতার সুযোগ সংকুচিত হবে।
লাভবান হতে পারে তারাই, যারা বিভাজন ও উত্তেজনা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়। দুই দেশের রাজনৈতিক কট্টরপন্থীরা তাদের মধ্যে অন্যতম। একই সঙ্গে বিভক্ত ও দুর্বল দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খোঁজা বাইরের শক্তিগুলোরও এতে স্বার্থ থাকতে পারে। তাই বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে না অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে হবে, না অকারণ বিরোধকে নীতিতে পরিণত করতে হবে। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থ স্পষ্টভাবে তুলে ধরে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। মতবিরোধ থাকবে, কঠিন প্রশ্নও থাকবে, কিন্তু যোগাযোগের দরজাও খোলা রাখতে হবে।
কারণ কূটনীতির অর্থ সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়; বরং মতবিরোধের মধ্যেও নিজের স্বার্থ রক্ষা করে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়া।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তাই কোনো একজন ব্যক্তির চেয়ে অনেক বড়। শেখ হাসিনার বিষয়টির একটি আইনি ও কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, কিন্তু সেটিকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একমাত্র নির্ধারক বানানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক যদি স্থায়ীভাবে খারাপ হয়ে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে কারা—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ সেই তালিকায় বাংলাদেশ বা ভারত—কোনোটিকেই রাখার কারণ নেই। বরং দুই দেশের বিভাজন থেকেই সুবিধা নেবে তারা, যারা এই বিভাজনকে নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।

ব্যবসায় স্থবিরতা: অর্থনীতির অশনিসংকেত

0

অর্থনীতির প্রাণশক্তি হলো আস্থা। ব্যবসায়ীরা যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকেন, তখন তারা নতুন কারখানা গড়েন, বিনিয়োগ করেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন। বিপরীতে, যখন অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন অর্থনীতির চাকা ধীর হয়ে যায়। আজ বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে তাকালে এমনই এক বাস্তবতা চোখে পড়ে। বাজারে অর্থের প্রবাহ কমেছে, নতুন বিনিয়োগের গতি শ্লথ, শিল্পকারখানার সম্প্রসারণ থমকে আছে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক শিল্প কারখানা। এই পরিস্থিতি কেবল ব্যবসায়ীদের সংকট নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।
বাংলাদেশ গত দুই দশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক উল্লেখযোগ্য যাত্রা অতিক্রম করেছে। তৈরি পোশাক শিল্প, প্রবাসী আয়, কৃষি উৎপাদন এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোগ দেশের উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই গতিতে দৃশ্যমান ভাটা পড়েছে। ব্যবসায়ীদের বড় একটি অংশ নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী নন। অনেকেই বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখাকেই এখন প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।
এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। মানুষ এখন বিলাসী বা অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পরিবর্তে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসেই ব্যয় সীমাবদ্ধ রাখছেন। ফলে বাজারে চাহিদা কমে যাচ্ছে। চাহিদা কমলে উৎপাদন কমে, উৎপাদন কমলে বিনিয়োগও কমে—এটাই অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম।
ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার ব্যবসায়ীদের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন শিল্প স্থাপন কিংবা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন অপরিহার্য। কিন্তু ঋণের ব্যয় বেড়ে গেলে উদ্যোক্তারা স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি নিতে চান না। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, কারণ তাদের পুঁজি সীমিত এবং বিকল্প অর্থায়নের সুযোগও কম।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারের চাপও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা, এলসি খোলার সমস্যা এবং ডলারের উচ্চমূল্য উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। ফলে রপ্তানি খাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ শিল্প উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতে সামান্য অনিশ্চয়তাও উৎপাদন ব্যাহত করে, ব্যয় বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কমিয়ে দেয়। বিদেশি ক্রেতারা সময়মতো পণ্য না পেলে বিকল্প উৎস খুঁজে নেন। একবার বাজার হারালে তা পুনরুদ্ধার করা সহজ নয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা। একজন উদ্যোক্তা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেন। তিনি জানতে চান, আগামী কয়েক বছরে নীতিগত পরিবেশ কেমন থাকবে, করনীতি পরিবর্তিত হবে কি না, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে কি না এবং ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি কতটা থাকবে। যখন এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগের গতি কমে যায়।
ব্যবসায় স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ে কর্মসংস্থানের ওপর। নতুন শিল্প না হলে নতুন চাকরিও সৃষ্টি হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। কোথাও কোথাও কর্মী ছাঁটাইও হচ্ছে। এর প্রভাব বিশেষ করে তরুণদের ওপর বেশি পড়ে। কর্মসংস্থান সংকুচিত হলে সামাজিক অস্থিরতা ও হতাশাও বাড়তে পারে।
তবে সংকট যত গভীরই হোক, সমাধানের পথও রয়েছে। প্রথমত, নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা যেন দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা করতে পারেন, সে পরিবেশ সৃষ্টি জরুরি। দ্বিতীয়ত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে। তৃতীয়ত, উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে হবে। চতুর্থত, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমাতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অবকাঠামো খাতে নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এখানকার উদ্যোক্তারা। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা দেশের শিল্পায়নকে এগিয়ে নিয়েছেন। সেই উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে অর্থনীতির চাকা আবারও গতি পাবে। কারণ সরকারি ব্যয় দিয়ে একটি অর্থনীতি দীর্ঘদিন সচল রাখা যায় না; টেকসই প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি বিনিয়োগ।
<span;>অর্থনীতির ভাষায় একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ—Confidence breeds investment, and investment creates growth. অর্থাৎ আস্থা বিনিয়োগ সৃষ্টি করে, আর বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তোলে। তাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আস্থার পরিবেশ পুনর্গঠন।
ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান স্থবিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে তার প্রভাব রাজস্ব আদায়, কর্মসংস্থান, শিল্পোৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর পড়বে। তাই সময় থাকতেই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী সমাজ—সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ ব্যবসা বাঁচলে কর্মসংস্থান বাঁচবে, কর্মসংস্থান বাঁচলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, আর সেই পথ ধরেই অর্থনীতি আবার নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে।

মানবাধিকারের বুলি, বাস্তবতায় পাকিস্তানের দ্বিচারিতা

0

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রতি বছর ৫ আগস্ট পাকিস্তান ‘ইউম-ই-ইস্তাহসাল’ বা ‘শোষণ দিবস’ পালন করে। ২০১৯ সালের এই দিনে ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং কাশ্মিরের জনগণের প্রতি সংহতি জানাতে পাকিস্তান দিনটি পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পাকিস্তানের বক্তব্য—কাশ্মিরের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার জন্যই তাদের এই অবিস্কার। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানবাধিকারের এই দাবি কতটা সার্বজনীন? নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের একটি কৌশল? কারণ, যে রাষ্ট্র অন্য দেশের নাগরিকদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়, সেই রাষ্ট্রের নিজের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে যখন জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তার অবস্থান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সেই সংশয়কে আরও গভীর করেছে। সেখানে রাজনৈতিক অধিকার, প্রতিনিধিত্ব এবং ইসলামাবাদের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা নিছক একটি স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ নয়; বরং এটি পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের বড় পরীক্ষা।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরের আইনসভায় কাশ্মিরের বাইরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করা। তাদের অভিযোগ, এই আসন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসলামাবাদ কাশ্মিরের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বজায় রাখে। দীর্ঘদিনের এই অসন্তোষ যখন রাস্তায় নেমে আসে, তখন সরকারের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল সংলাপের পথ খোলা রাখা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পরিবর্তে শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এবং শত শত আহত হয়েছেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের এমন ব্যাখ্যা তখনই গ্রহণযোগ্যতা পায়, যখন সেখানে স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি এবং জনগণের আস্থা নিশ্চিত করা হয়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কি নাগরিকদের দাবি মোকাবিলায় প্রথমে অস্ত্র ব্যবহার করবে, নাকি সংলাপ ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেবে?
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভাষা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ যখন পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরের বিক্ষোভকারীদের ‘শত্রু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন, তখন তা শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য থাকে না; বরং এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের গভীর সংকটকে প্রকাশ করে। গণতন্ত্রে ভিন্নমত কখনো শত্রুতা নয়। প্রতিবাদী কণ্ঠকে দেশবিরোধী বা শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকেই দুর্বল করে।
মানবাধিকারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দ্বৈত মানদণ্ড। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাশ্মিরের মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সময় ইসলামাবাদ মানবিক মূল্যবোধের কথা তুলে ধরে। কিন্তু নিজ দেশের ভেতরে বেলুচিস্তান, সিন্ধু, খাইবার পাখতুনখোয়া কিংবা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে একই নীতির প্রতিফলন কতটা ঘটছে—সেই প্রশ্নের উত্তর তারা এড়িয়ে যেতে পারে না।
বেলুচিস্তানের পরিস্থিতি এই বৈপরীত্যের সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বছরের পর বছর ধরে সেখানে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারগুলো তাদের স্বজনদের সন্ধান এবং জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো জোরপূর্বক গুম, নির্বিচার আটক এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ তুলে আসছে। পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগের জবাবে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। কিন্তু নিরাপত্তার অজুহাতে নাগরিক অধিকার উপেক্ষিত হলে কোনো রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারে না।
ইতিহাসও পাকিস্তানের সামনে বড় শিক্ষা রেখে গেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে ছিল রাজনৈতিক অধিকার অস্বীকার, নির্বাচনী রায়কে উপেক্ষা করা এবং জনগণের ন্যায্য দাবির জবাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের দীর্ঘ ইতিহাস। জনগণের কণ্ঠকে দমন করে কোনো রাষ্ট্র স্থায়ী ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। শক্তি দিয়ে সাময়িক নীরবতা তৈরি করা যায়, কিন্তু মানুষের অধিকার ও মর্যাদার আকাঙ্ক্ষাকে কখনো নিশ্চিহ্ন করা যায় না।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পাকিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা শুধু বাইরের বিশ্ব থেকে আসছে না। দেশটির ভেতর থেকেও প্রশ্ন উঠছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি এবং বিভিন্ন বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সরকারের নীতি ও আচরণের মধ্যে অসঙ্গতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এসব সমালোচনাকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়া বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল।
অবশ্যই পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ ও নিরাপত্তা সংকটের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগ তাকে নাগরিক অধিকারের প্রতি উদাসীন হওয়ার লাইসেন্স দিতে পারে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্তি কেবল তার সামরিক সক্ষমতায় নয়; বরং সংকটের সময় নাগরিকদের অধিকার কতটা রক্ষা করতে পারে, তার ওপর নির্ভর করে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা স্পষ্টভাবে বলে—রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ হতে হবে প্রয়োজনীয়, সীমিত এবং জবাবদিহিমূলক। রাজনৈতিক দাবি ও নাগরিক অসন্তোষ মোকাবিলার প্রধান মাধ্যম হওয়া উচিত আলোচনা, সমঝোতা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
পাকিস্তান যদি সত্যিই মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে চায়, তবে সেই অবস্থানের শুরু হতে হবে নিজের ভূখণ্ড থেকেই। পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মির, বেলুচিস্তান, সিন্ধু কিংবা খাইবার পাখতুনখোয়ায় নাগরিক স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে না পারলে আন্তর্জাতিক ফোরামে মানবাধিকারের পক্ষে তাদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
মানবাধিকারের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘোষণা কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মঞ্চে নয়; বরং একটি রাষ্ট্র তার নিজের নাগরিকদের সঙ্গে কী আচরণ করে, তার মধ্যেই প্রকাশ পায়। পাকিস্তানের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—মানবাধিকারের ভাষণ দেওয়া নয়, বরং সেই মূল্যবোধ বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা।

নারী ও শিশু হত্যা মামলা শুনতে হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ: ভালো বলছেন আইনজীবীরা

0

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা শুনতে হাইকোর্টে বেঞ্চ সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১০ জুন এই বেঞ্চ গঠন করে দেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চ ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করবে।

বেঞ্চ গঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অনুসারে, এই বেঞ্চ আগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফার্মেশনের রেফারেন্স এবং একই রায় হতে উদ্ভূত ফৌজদারি বিবিধ ও ফৌজদারি রিভিশন যদি থাকে এবং উল্লেখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল,আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অ্যটর্নি জেনারেল সো. রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতনের যেসব মামলার বিচার নিষ্পত্তি  করতে হাইকোর্টে বিলম্ব হচ্ছে এগুলোর বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি  হবে।
হাইকোর্টের আইনজীবীরাও প্রধানবিচারপতির এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্তা বাড়বে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর পল্লবীতে গত ১৯ মে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন তুলে।  ক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ আসাসী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটির দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে  পাঁচ কার্যদিবস শুনানি শেষে ৭ জুন রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসামীদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু হাইকোর্টে এ ধরনের মামলা কয়েক হাজার বিচারাধীন রয়েছে আর কোনো বেঞ্চও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে না। ফলে এসব মামলা নিষ্পত্তি হতে বিলম্ব হয়। চাঞ্চল্যকর অনেক মামলার বিচার নিষ্পত্তি না হওয়ায় জনমনে আস্থাহীনতা দেখা দেয়।
হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠনের ফলে এই শ্রেণির মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এমন প্রত্যাশা করছেন বিচারপ্রার্থীরা

শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশবাহিনী আধুনিকায়ন করা হবে- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

0

বাসস:প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেনছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান।
প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। কিন্তু এবার বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি থাকায় ১০ জুন দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশি ১৭৫ জন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে বিশ্বে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ সৈন্যদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে, শুধু মাতৃভূমির স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বই নয়; জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে যেকোনো মূল্যে শান্তিরক্ষায় বদ্ধপরিকর।
বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যে শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যে গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা–ও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আজ বুধবার আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শহীদ সেনাসদস্যদের নিয়ে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ২ লাখের বেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ৪৩টি দেশের প্রায় ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হাইতিতে নতুন একটি মিশনে যোগ দেওয়ারও প্রস্তুতি চলছে।
পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য যে যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, তা–ও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে একটি প্রতিকূল পরিবেশে আপনারা নিষ্ঠা, সাহস ও পেশাদারত্বের সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আপনাদের এই অবদানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের সামরিক বাহিনীর অবদান তুলে ধরা হয়। শহীদ হওয়া শান্তিরক্ষীদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। তাই এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেটি রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য।’
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে দেশে সশস্ত্র বাহিনীর কিংবা সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কিছু অপতৎপরতা কখনো কখনো জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির কারণ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ১৯৭৫–এর সাত নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেনছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
তারেক রহমান বলেন, এরপরও বিভিন্ন সময়ে নানা রকম ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্য বিনষ্টের তৎপরতা চলেছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর সর্বগ্রাসী আঘাতটি এসেছিল। সেই আঘাতের ফলে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল, সেটি সবার জানা। তাই ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রধান বার্তাটি হলো, ‘প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অব কমান্ড’ ছাড়া সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে টিকে থাকা কঠিন।
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সামনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁরা সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা সরকারে বা জনপ্রশাসনে রয়েছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানে যে দায়িত্ব পালন করছি, সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।’
বর্তমান বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রযুক্তির দ্রুত বিবর্তনের ফলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের চ্যালেঞ্জগুলো এখন অনেক বেশি বহুমুখী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, মিডিয়া অপপ্রচার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা সংকট বিশ্বশান্তির নতুন অন্তরায়।
বাংলাদেশ সব সময় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদার নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই আমাদের ভবিষ্যৎ মিশনগুলো হতে হবে আরও আধুনিক, দূরদর্শী এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এমন পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্ব পালনের জন্য সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনী আধুনিক করতে সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।’
সংবিধানে বিশ্বশান্তি, আন্তর্জাতিক সহাবস্থান ও ন্যায়বিচারের প্রতি যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে, তা বজায় রাখতে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ অনুষ্ঠানে অংশ নেনছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যেকোনো আগ্রাসন ও সংঘাতের বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ ও শান্তিময় পৃথিবী গড়ে তুলতে বহুপক্ষীয় কূটনীতি ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল।
শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের প্রত্যেক সদস্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশের মুখ আরও উজ্জ্বল করবেন বল আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সেনাকুঞ্জের এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সেনা–নৌ–বিমানবাহিনীর প্রধানসহ সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকেরা উপস্থিত ছিলেন। * কৃতজ্ঞতা – প্রথম আলো।

সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব পাচ্ছে আমেরিকান কোম্পানি এক্সনমোবিল!

0

সমুদ্রের গ্যাস অনুসন্ধানের দায়িত্ব পাচ্ছে আমেরিকান কোম্পানি এক্সনমোবিল!

জ্বালানীখাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আমেরিকান কোম্পানি এক্সনমোবিল( ExxonMobil) বঙ্গপোসাগরে বাংলাদেশের সীমানায় ১৫ টি ব্লকে গ্যাস অনুসন্ধানের প্রস্তাব দিয়েছিলো বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে। তাদের প্রস্তাবটি নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিল এবং ঝুলিয়ে রাখে।
ফলে নিস্পত্তি হয়নি বঙ্গোপসাগরের গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ। সেই ১৫ টি ব্লক শেষ পর্যন্ত আমেরিকান কোম্পানিই পাচ্ছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য মতে বর্তমানে দেশের তেল গ্যাস অনুসন্ধান ব্লকের সংখ্যা ৪৮টি। এর মধ্যে স্থলভাগে ব্লকের সংখ্যা ২২ টি। বঙ্গোপসাগরে ব্লক রয়েছে ২৬ টি। এর মধ্যে ১৫ টির অবস্থান গভীর সমুদ্রে আর ১১ টির অবস্থান অগভীর সমুদ্রে। বর্তমানে অগভীর সমুদ্রের অংশে দুটি ব্লকে ভারতীয় দুটি কোম্পানি ওএনজিসি ভিদেশ লিমিটিড এবং ওয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড অনুসন্ধানকাজ চালাচ্ছে। স্থলভাগের চারটি ব্লকের মধ্যে ৩ টিতে অনুসন্ধান চালাচ্ছে আমেরিকান কোম্পানি শেভরন এবং ১ টিতে সিঙ্গাপুরের কোম্পানি ক্রিস এনার্জি।
জ্বালানী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গভীর সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য মার্কিন কোম্পানির প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ সামনে এসেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে তেল গ্যাসের এই অনুসন্ধানের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোম্পানি এক্সনমোবিল এগিয়ে এসেছে। তারা দু’বছর টু-ডি সিসমিক সার্ভে এবং তিনবছর থ্রি-ডি সিসমিক সার্ভে চালাবে। সরকারের সঙ্গে পিএসসি (উৎপাদন অংশীদারীত্ব চুক্তি) সই হবে। সেখানে নিশ্চিত লেখা থাকবে তেল গ্যাসের খনি পেলে কার ভাগে কতোটুকু থাকবে।
বাংলাদেশ গ্যাসের ওপর ভাসছে, তেলের ওপর ভাসছে এমন নানাকথা গত কয়েকদশক ধরে শুনে আসছি। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। বেশ কয়েকটি বিদেশী কোস্পানী তেল গ্যাস অনুসন্ধান করে লাভজনক না হওয়ায় সরে গেছে। অনেক কোম্পানির পর্যাপ্ত সামর্থ নেই অনুসন্ধানের। অর্থাৎ অর্থ ও প্রযুক্তিগত সামর্থ নেই। সে অবস্থায় মার্কিন জায়ান্ট কোম্পানির প্রযুক্তি সক্ষমতা ও আর্থিক সামর্থ দুটোই রয়েছে। বিশেষ করে গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানের জন্য। ভূতত্ব বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন গভীর সমুদ্রে বিপুল পরিমাণ তেল গ্যাস মজুদ আছে। কিন্তু সেটা অনুসন্ধানের মতো আর্থিক সামর্থ ও প্রযুক্তি নেই আমাদের। আমারিকান কোম্পানি এক্সনমোবিল যদি সফল হয় সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক নতুন দীগন্তে পৌঁছবে।
বাংলাদেশের গ্যাস রফতানির কোনো সুযোগ নেই কারণ আমরা নিজেরাই গ্যাস সংকটে ভূগছি। আর ৯ বছরের মধ্যে গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যাবে। এ অবস্থায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার হলে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে তেল গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন কাজে নিয়োজিত মার্কিন এই জায়ান্ট কোম্পানি এক্সনমোবিল।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা নিয়ে যে বিরোধ ছিল আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে তার মীমাংসা হয়েছে। আমাদের বিশাল সমুদ্রসীমায় আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সমুদ্রসীমায় তেল গ্যাসের খনির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যে মিয়ানমার তার সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান করে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে উত্তোলন শুরু করেছে এবং উত্তোলিত গ্যাস চায়নাতে রফতানি করছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনও অনুসন্ধানই শুরু করতে পারে নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যতো দ্রুত অনুসন্ধান শুরু করে গ্যাস উত্তোলন শুরু হবে দেশের জন্য ততো লাভ হবে।
শংকর মৈত্র: সিনিয়র সাংবাদিক।

সচিবালয়ে ঢুকে বিক্ষোভের ঘটনায় ২৬ শিক্ষার্থী গ্রেফতার

0

এইচএসসিতে ‘বৈষম্যহীন’ ফলাফলের দাবিতে সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভের ঘটনায় মামলা হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা এই মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আর ২৮ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানান।

তালেবুর রহমান বলেন, গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অবৈধ প্রবেশ করে বিক্ষোভের ঘটনায় ৫৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। এই ঘটনায় শাহবাগ থানার মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি ২৬ জনকে তাঁদের অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় আরও অজ্ঞাত ৬০-৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

দুই মাস আগে সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে স্থগিত এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষাগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল শিক্ষা বিভাগ। ফল প্রকাশের পর এসএসসির সব বিষয় ‘ম্যাপিং’ করে নতুনভাবে ‘বৈষম্যহীন’ এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দাবিতে গতকাল সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করেন একদল শিক্ষার্থী।

গতকাল সচিবালয়ের ভেতরে এই বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেয় পুলিশ। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনেককে মারধর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরাও শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় পুলিশ ৫৪ জনকে আটক করে।

এ বছরের এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ৩০ জুন। সাতটি পরীক্ষা হওয়ার পর সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে কয়েক দফায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। তখন পর্যন্ত ছয়টি বিষয়ের পরীক্ষা বাকি ছিল। ব্যবহারিক পরীক্ষাও বাকি ছিল। একপর্যায়ে স্থগিত পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে গত ২০ আগস্ট সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। তখন স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয় শিক্ষা বিভাগ।

স্থগিত হওয়া বিষয়গুলোর পরীক্ষা আন্দোলনের মুখে বাতিলের কারণে এবার এইচএসসি পরীক্ষার মূল্যায়ন হয় ভিন্ন পদ্ধতিতে। বাতিল হওয়া পরীক্ষাগুলোর মূল্যায়ন হয়েছে পরীক্ষার্থীদের এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষার নম্বরের ভিত্তিতে (বিষয় ম্যাপিং)। অর্থাৎ এসএসসিতে যে নম্বর পেয়েছিলেন শিক্ষার্থী, সেটি এইচএসসিতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আর এইচএসসিতে যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা হয়েছিল, সেগুলোর উত্তরপত্রের ভিত্তিতে মূল্যায়ন হয়েছে। এ দুই মূল্যায়ন মিলে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৮ জন। এর মধ্যে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন শুধু এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ জন। এর মধ্যে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

ফলাফল প্রকাশের পর একদল শিক্ষার্থী বলে আসছেন, ইতিমধ্যে যে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, তা বৈষম্যমূলক। এ জন্য এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সব বিষয়ের ওপর ‘ম্যাপিং’ করে ফলাফল নতুন করে প্রকাশ করতে হবে। এই দাবিতে রোববার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে বিক্ষোভ করেন এসব শিক্ষার্থীর একটি অংশ। শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে সেদিন চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার। সেই অনুযায়ী সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমাও দেন তিনি।

একই ধরনের দাবিতে আরও কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডেও বিক্ষোভ, তালা দেওয়া, ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, সেদিন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে কর্মসূচি চলাকালে তাঁদের ওপর হামলা হয়। হামলায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। অন্যদিকে বোর্ডের কর্মকর্তারা বলে আসছেন, শিক্ষার্থীরা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কক্ষে, এমনকি কক্ষের সামনেও ভাঙচুর চালান।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই দাবি আদায়ে গতকাল সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বেলা তিনটার দিকে দেখা যায়, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভবনের নিচে (সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবন) মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের দেখা যায়।
সচিবালয় রাষ্ট্রের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর (কেপিআই) একটি। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই সচিবালয় থেকে মূলত দেশ পরিচালিত হয়। তাই সচিবালয়ে ঢুকতে গেলে বিশেষ পাসের (অনুমতিপত্র) প্রয়োজন হয়। সূত্র- প্রথম আলো।

আপিল খারিজ : শ্রম আদালতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা চলবে

0

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ প্রতিষ্ঠানটির চার পরিচালকের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে করা আবেদন আপিল বিভাগেও খারিজ করে দিয়েছে।
প্রধান বিচারপতি হিাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ আজ (২০ আগস্ট) এ আদেশ দেন।

ফলে শ্রম আদালতে এ মামলার বিচার চলবে বলে জানান আইনজীবীরা।
গত বৃহস্পতিবার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজ দিন ধার্য ছিল।
আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন এডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের চারজনের নামে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার শ্রম আদালত। শ্রম আদালতের আদেশটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূস।
গত ২৫ জুলাই চেম্বার কোর্ট স্থগিতাদেশ না দিয়ে ৩ আগস্ট পর্যন্ত মামলাটিতে স্থিতাবস্থা দেয়া হয়। একইসঙ্গে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ আগস্ট মামলাটির রুল শুনানির জন্য হাইকোর্টে নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন আপিল বিভাগ। সে অনুযায়ী শুনানি শেষে ৮ আগস্ট রায় দেয়া হয়। রায়ে গত ১৯ মে শ্রম আদালতের আদেশটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে করা আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর ড.ইউনূস আপিল বিভাগে আবেদন করেন।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে ড. ইউনূসসহ চারজনের নামে এ মামলা করেন। মামলায় শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে নির্দিষ্ট লভ্যাংশ জমা না দেয়া, শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী না করা ও গণছুটি নগদায়ন না করায় শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় অপর তিন আসামি হলেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুরজাহান বেগম ও মো. শাহজাহান। বাসস।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়: অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন

0

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মূলহোতা ও বাস্তবায়নকারী ১৯ জনকে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ওপর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্যে প্রায় প্রস্তুত।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এ কথা বলেন।
বাসস’কে তিনি আরো বলেন, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ এখন নিম্ন আদালতের ৩ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক নিয়ে কাজ করছে যেখানে মামলার বিস্তারিত সবকিছু রয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, আমরা আশা করছি ডেথ রোফারেন্স শুনানির জন্যে মামলা প্রস্তুত করতে মাত্র একদিন শুনানির পর বাকি পৃষ্ঠাগুলো পড়া শেষ হবে।
আমিন উদ্দিন বলেন, আমি মনে করি মামলাটি নিষ্পত্তির জন্যে হাইকোর্টের ১০ থেকে ১২টি শুনানি লাগতে পারে।
তিনি আরো বলেন, তার ধারনা চলতি অক্টোবরের মধ্যে হাইকোর্টে শুনানি শেষ হতে পারে।
ঢাকার একটি আদালত ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এই হত্যা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরো ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
তৎকালীন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন এবং তার রায়ে হামলার পটভূমি, উদ্দেশ্য ও পরিণতি সম্পর্কে ১২ দফা পর্যবেক্ষণ ছিল।
বিচারিক আদালতের রায় অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন যদিও তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। তবে তিনি শ্রবণশক্তি হারান।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সমাবেশে এই হামলায় দলের মহিলা শাখার প্রধান এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং ৫শ’ জন আহত হন।
এই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা থাকায় এবং দোষীরাও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল একসঙ্গে শুনানি হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘দুই সদস্যের হাইকোর্ট বেঞ্চের সিনিয়র বিচারপতির অসুস্থতার কারণে মামলার শুনানি আংশিকভাবে বিলম্বিত হয়, তবে আশা করা যায় একবার বেঞ্চ পুনরায় শুনানি শুরু করলে এতে বেশি সময় লাগবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা (অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়) পুরো রায়টি দেখেছি, একে যথার্থ বলে মনে হয়েছে। আমরা আইনের পয়েন্টগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার পরে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার জন্য আবেদন করব।’
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মতে, প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী কর্তৃক মনোনীত বিচারপতি শহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ তারিখে ডেথ রেফারেন্স এবং দোষীদের আপিলের শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আমিন উদ্দিন বলেন, ‘এখানে আসলে দুটি মামলা রয়েছে; একটি খুন এবং অন্যটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে, দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ চক্রান্তকারীরা সেই নজিরবিহীন আক্রমণের মাধ্যমে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল।’
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন- তৎকালীন উপ-মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই জঙ্গি হুজি নেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাবেক মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাকি আসামিরা হলেন জঙ্গি মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, আবদুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক, শওকত ওসমান, মহিবুল্লাহ, আবু সাঈদ, আবুল কালাম আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ আবু তাহের, হোসেন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ, রফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ উজ্জল এবং পরিবহন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ।
তারেক রহমান ছাড়াও যেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তারা হলেন-সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক উপদেষ্টা হারিছ চৌধুরী এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। জঙ্গি শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, আবদুর রউফ, সাব্বির আহমেদ, আরিফ হাসান, হাফেজ ইয়াহিয়া, আবু বকর, আরিফুল ইসলাম, মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মুরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মোহাম্মদ ইকবাল, লিটন, শফিকুর রহমান, আবদুল হাই ও রাতুল আহমেদ বাবুকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে হামলাকারীরা ‘আর্জেস’ গ্রেনেড দিয়ে হামলা চালায়।
গ্রেনেড হামলার পরদিন ২২ আগস্ট, ২০০৪ এ হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করা হয়।
ভয়াবহ ওই ঘটনার পর আনীত মামলায় নিরীহ জজ মিয়াকে দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিয়ে মূল ঘটনা ও অপরাধীদের আড়ালের অপচেষ্টা চালায় বিএনপি-জামায়াত জোট আমলের প্রভাবশালী মহল।
২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেনেড হামলার তদন্ত ফের শুরু করলে হামলার নেপথ্যের অনেক তথ্যই দেশবাসীর সামনে বেরিয়ে আসে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উচ্চপর্যায়ের মদদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, সিআইডি ও পুলিশের তখনকার উচ্চ পদস্থ অনেক কর্মকর্তা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ব্যাপারে অবহিত ছিল এবং অনেকেই প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে এতে জড়িতও ছিলেন।
সাক্ষ্য প্রমাণে বের হয় যে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর বাসভবনে বৈঠক করেই এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করার। আবদুল সালাম পিন্টুর ভাই জঙ্গি তাজউদ্দিনের সম্পৃক্ততা এবং আর্জেস গ্রেনেড ঘাতকদের হাতে হস্তান্তর করার তথ্য প্রমাণ বের হয়ে আসে। আসামিদের জবানবন্দীতেই হামলার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের ওই সময়ের পরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার ও এনএসআইয়ের মহাপরিচালক আবদুর রহিম, জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল ও মন্ত্রী আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ (যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), জঙ্গীনেতা তাজউদ্দিন, মাওলানা ফরিদ, মুফতি আবদুল হান্নান (অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর), মাওলানা আবদুল সালাম এবং কাশ্মীরী জঙ্গী আবদুল মাজেদ ভাটের নামসহ সংশ্লিষ্ট সব ঘটনা ও জড়িতদের বৃত্তান্ত উঠে আসে।

১১ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৩ সেপ্টেম্বর

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ ১১টি মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। রোববার (২০ আগস্ট) অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জানান, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সাল আতিক বিন কাদের শুনানি মুলতবি করে নতুন এই দিন ধার্য করেন।
বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি মুলতবি করা হয়। সরকারের নির্বাহী আদেশে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
১১টি মামলার মধ্যে ২০১৫ সালের প্রথম ৩ মাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ১০টি এবং মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে দেশদ্রোহী মন্তব্যের অভিযোগে ঢাকার আদালতে একটি মামলা করা হয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো, নাইকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির আরও ৩টি মামলা বর্তমানে ঢাকার ৩টি বিশেষ আদালতে বিচারাধীন। তা ছাড়া, দ্বিতীয় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও আরও ২টি মামলা বিচারাধীন।