ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 9

রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

0

 

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবনে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করান।
এর আগে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে বঙ্গভবনের সামরিক সচিব এবং অন্যান্য সচিবরা অক্টাগনে অভ্যার্থনা জানান এবং ভিভিআইপি-১ আসনে নিয়ে যান। পরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান। এরপর রাষ্ট্রপতি ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি একসঙ্গে দরবার হলে প্রবেশ করলে রাষ্ট্রপতির আগমনী সুর বাজিয়ে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভ্যার্থনা জানানো হয়। এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
অতিথিদের আসন গ্রহণের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির অনুমতিক্রমে পবিত্র কোরান তেলওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু করেন।
এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন উপস্থিত অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন এবং স্পিকারকে (ভারপ্রাপ্ত) নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করানোর অনুরোধ জানান।
শপথ গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি পরস্পরের আসন পরিবর্তন করেন এবং স্পিকার ও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি শপথ-সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর করেন।
দায়িত্ব গ্রহনের পর বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ও নতুন রাষ্ট্রপতি ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহনের শপথ পাঠ করান।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হয়। বাসস।

নতুন চার মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ

0

 

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।
শপথ গ্রহণকারী মন্ত্রীরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এমপি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, বান্দরবানের এমপি সাচিং প্রু জেরি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি।
নতুন দুইজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পিএমও
শপথ গ্রহণকারী দুই প্রতিমন্ত্রী হলেন- প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। এ সময় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণের শপথ এবং গোপনীয়তা রক্ষার শপথ পাঠ করান।

ভারতনীতি কি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে?

0

 

হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়। এ বিষয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধও জানানো হয়েছে। ভারত বিষয়টি তাদের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন দুই দেশের সম্পর্কের একটি স্পর্শকাতর অধ্যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো—একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণ-ই কি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে? বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে এর উত্তর হওয়া উচিত—না।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় থাকতেই পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি, পানি, সীমান্ত, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোও স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে নিতে হবে। পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য নির্ভর করে একই সঙ্গে একাধিক স্বার্থ পরিচালনার সক্ষমতার ওপর। একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে পুরো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সংকুচিত করে ফেলা কৌশলগতভাবে বিচক্ষণতার পরিচয় হতে পারে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ( বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী) হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশের কূটনীতির পরিধি যদি এই একটি প্রশ্নকে ঘিরেই আবর্তিত হতে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের মধ্যে যেমন রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে, তেমনি রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার অসংখ্য ক্ষেত্র। ভারত হাসিনার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটির অপেক্ষায় বাণিজ্য, জ্বালানি, পানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কিংবা আঞ্চলিক যোগাযোগ থামিয়ে রাখা বাংলাদেশের নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধেই যাবে।
পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্য সব জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দেওয়ার নাম নয়। বরং পরস্পরবিরোধী স্বার্থের মধ্যেও নিজের দেশের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা বের করে আনার নামই বাস্তববাদী কূটনীতি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো ভৌগলিক অবস্থান। বাংলাদেশের তিন দিকজুড়েই ভারতের অবস্থান। এই বাস্তবতা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও কেবল বাণিজ্য ঘাটতির হিসাব দিয়ে বিচার করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১.৩৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারত থেকে প্রায় ৯.৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে এবং রপ্তানি করেছে প্রায় ১.৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭.৮৬ বিলিয়ন ডলারে।
এই ঘাটতি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তবে আমদানির বড় অংশের সঙ্গে দেশের উৎপাদন, শিল্প ও ভোক্তা অর্থনীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। খাদ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণের সরবরাহে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। ফলে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল হতে হবে বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি; হঠাৎ করে সম্পর্ককে সংঘাতপূর্ণ করে তোলার মাধ্যমে নয়।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১২.১৫ লাখ টন সুতা আমদানি করেছে, যার প্রায় ৯৫ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ভারতীয় সুতার ওপর নির্ভর করার পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ উল্লেখ করেন—মূল্য তুলনামূলকভাবে কম, বড় চালান পাওয়া যায় এবং দ্রুত সরবরাহ সম্ভব হয়।
অন্য দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করা তাত্ত্বিকভাবে সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে তার সঙ্গে যুক্ত হয় অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়, দীর্ঘ সরবরাহ সময় এবং বেশি মজুদ রাখার প্রয়োজন। বাংলাদেশের পোশাকশিল্প যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ও সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে আছে, সেখানে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কাঁচামালের ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া আত্মঘাতী হতে পারে। অবশ্য এর বিপরীত সমস্যাটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। দেশের স্থানীয় বস্ত্রকলগুলো ভারতীয় সুতার প্রতিযোগিতা এবং গ্যাসের স্বল্পচাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। আবার তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিরা সতর্ক করেছেন, সুতা আমদানি হঠাৎ সীমিত হলে সরবরাহ ঘাটতি ও উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে।
অতএব বাংলাদেশের নীতি হওয়া উচিত—দেশীয় শিল্পকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেওয়া এবং একই সঙ্গে রপ্তানি শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা। এর জন্য প্রয়োজন তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বাণিজ্যনীতি, আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত নয়।
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বস্ত্র খাতসহ বিভিন্ন শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বস্ত্র খাতে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। অথচ গ্যাস সংকট, অর্থায়নের উচ্চ ব্যয় এবং অন্যান্য কাঠামোগত সমস্যার কারণে খাতটি ইতিমধ্যে চাপের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহকে আরও অনিশ্চিত করে এমন কোনো নীতি গ্রহণ করা বাংলাদেশের শিল্প অর্থনীতির জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।
কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে হলে নির্ভরযোগ্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমে এবং নতুন বিনিয়োগও নিরুৎসাহিত হয়।
রাজনৈতিকভাবে ভারতকে কঠোর বার্তা দেওয়া সহজ হতে পারে। কিন্তু সেই নীতির কারণে যদি কোনো কারখানার কাঁচামাল ব্যয় বাড়ে, উৎপাদন কমে বা রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে সরকারকেই।
ভারত প্রশ্নে বিএনপির সামনে আরেকটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি ভারতের বিষয়ে কঠোর জাতীয়তাবাদী অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। ফলে বিএনপির ওপরও আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এখানেই সরকার ও বিরোধী রাজনীতির পার্থক্য।
বিরোধী দল কঠোর বক্তব্য দিতে পারে। কিন্তু সরকারকে সেই বক্তব্যের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিণতি সামলাতে হয়। জামায়াত বা এনসিপিকে কোনো কারখানা চালু রাখতে হবে না, গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে না, সীমান্ত বাণিজ্য সচল রাখতে হবে না কিংবা পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হবে না। এগুলো সরকারের দায়িত্ব।
তাই বিএনপির উচিত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় নিজেদের জাতীয়তাবাদ প্রমাণ করার জন্য এমন অবস্থান না নেওয়া, যার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মূল্য পরে সরকারকেই দিতে হবে।
জাতীয়তাবাদে কোনো সমস্যা নেই। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় থাকা অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু জাতীয়তাবাদ আর ভারতবিরোধিতাকে এক করে দেখা ভুল।
জাতীয়তাবাদের মৌলিক প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশের জন্য কোন সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে ভালো?
অন্যদিকে উগ্র জাতীয়তাবাদ অনেক সময় প্রশ্নটিকে দাঁড় করায়—কে ভারতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর?
একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রথম প্রশ্নটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতবিরোধী রাজনৈতিক বয়ানের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি জটিল সমস্যাকে সহজ ব্যাখ্যায় পরিণত করতে পারে। গ্যাস সংকট, বাণিজ্য সমস্যা, মূল্যস্ফীতি কিংবা বিনিয়োগের দুর্বলতা—সবকিছুর সঙ্গে ভারতের যোগসূত্র খোঁজা রাজনৈতিকভাবে সহজ। কিন্তু বাস্তব অর্থনীতি এত সরল নয়।
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, সরবরাহ সীমাবদ্ধতা ও পরিকল্পনার দুর্বলতা। ব্যাংকিং খাতের সংকটের সঙ্গে জড়িত খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি ও নিয়ন্ত্রক দুর্বলতা। শিল্পের প্রতিযোগিতা কমার পেছনে রয়েছে উচ্চ ব্যয়, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, অর্থায়নের সমস্যা এবং উৎপাদনশীলতার ঘাটতি। ভারতের নীতি এসব সমস্যার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু দেশের সব অর্থনৈতিক সমস্যার দায় ভারতের ওপর চাপালে সমস্যার প্রকৃত কারণগুলো আড়াল হয়ে যায়।
সরকারের দায়িত্ব হলো অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর কাঠামোগত সমাধান করা। কোনো ব্যর্থতা বা জনঅসন্তোষকে কেবল ভারতকেন্দ্রিক রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত করা সেই দায়িত্ব পালনের বিকল্প হতে পারে না।
অতিরিক্ত ভারতবিরোধিতা শেষ পর্যন্ত বিএনপির জন্যই ব্যয়বহুল হতে পারে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি হলে তার প্রভাব শুধু কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যোগাযোগের খরচ বাড়তে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমতে পারে।
এর প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর।
পণ্যের দাম বাড়তে পারে, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে, রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতা কমতে পারে এবং কর্মসংস্থানের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে পারেন।
তখন ভোটারদের প্রশ্ন হবে না—সরকার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর হয়েছে কি না। বরং প্রশ্ন উঠবে—জীবনযাত্রার ব্যয় কেন কমছে না, কর্মসংস্থান কেন বাড়ছে না, ব্যবসার পরিবেশ কেন উন্নত হচ্ছে না।
এখানেই সরকার ও বিরোধী দলের রাজনীতির মৌলিক পার্থক্য।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দায়িত্ব হলো শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট রাখা, কিন্তু একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোকে সচল রাখা।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অস্বস্তির একাধিক জায়গা রয়েছে—এ কথা খলিলুর রহমান নিজেও বলেছেন। অর্থাৎ সম্পর্কের সংকট যে শুধু শেখ হাসিনার ইস্যুকে ঘিরে নয়, তা উপলব্ধি করার সুযোগ রয়েছে। এখন প্রয়োজন সেই উপলব্ধিকে বাস্তব কূটনৈতিক উদ্যোগে রূপ দেওয়া।
একইভাবে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরেরও রাজনৈতিক আবেগ ও জনমতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সরকারকে পরামর্শ দিতে হবে।
কোনো নীতি আজ জনপ্রিয় কি না, সেটিই শেষ কথা নয়। আসল প্রশ্ন হলো—সেই নীতি পাঁচ বা দশ বছর পর বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যাবে?
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। নদীর পানি, কৃষি, পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকার প্রশ্নে দুই দেশের ধারাবাহিক আলোচনা প্রয়োজন। গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়নও একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বিষয়।
এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনার প্রশ্নকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে রাখা বাংলাদেশের জন্য কোনো কৌশলগত সুবিধা তৈরি করবে না।
একই কথা প্রযোজ্য সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও। চোরাচালান, মাদক পাচার, মানবপাচার, জঙ্গিবাদ ও বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় দুই দেশেরই স্বার্থ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এসব সহযোগিতা দুর্বল করা হলে ক্ষতি হবে উভয় দেশের। বাংলাদেশের জন্য এর মূল্য আরও বেশি হতে পারে, কারণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতকে এড়িয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আন্তঃসীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করা সম্ভব নয়।বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বহুমুখীকরণ অত্যন্ত জরুরি। কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমিয়ে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা প্রয়োজন।
কাঁচামালের বিকল্প উৎস তৈরি করতে হবে। দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। বন্দর, সড়ক, রেল ও লজিস্টিক সক্ষমতা উন্নত করতে হবে।
কিন্তু বহুমুখীকরণের অর্থ ভারতকে বাদ দিয়ে অন্য একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া নয়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান বদলাবে না। নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভারতের ভূখণ্ডের গুরুত্ব থাকবে। বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে চায়, তাহলে ভারতের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক অপরিহার্য।
সুতরাং লক্ষ্য হওয়া উচিত—ভারতের ওপর অতি-নির্ভরতা কমানো, কিন্তু ভারতের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংঘাত সৃষ্টি না করা।
বিএনপির ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি এখন বাস্তব পরীক্ষার মুখে। এই নীতির প্রকৃত অর্থ যদি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে তার মধ্যে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই থাকতে হবে।
শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা, সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখা, পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আলোচনা করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়ানো, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা—এসবই ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’-এর অংশ।
ভারতের সঙ্গে প্রয়োজন হলে কঠোর অবস্থান নেওয়াও এর মধ্যে থাকবে। কিন্তু একই সঙ্গে ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ সব গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাও প্রয়োজন।
অর্থাৎ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কোনোভাবেই ‘হাসিনা ফার্স্ট’ হতে পারে না।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি গুরুত্বপূর্ণ। তার বিচার নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও স্পষ্ট থাকা উচিত। কিন্তু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যর্পণকে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশের উচিত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি অব্যাহত রাখা এবং এ বিষয়ে আইনি ও কূটনৈতিক অবস্থান শক্তভাবে তুলে ধরা। কিন্তু একই সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রও এগিয়ে নিতে হবে।
বাণিজ্য সচল রাখতে হবে। শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক বিরোধের কাছে জিম্মি করা যাবে না। পানি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে। আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াতে হবে। নয়াদিল্লির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রাখতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে যেন পররাষ্ট্রনীতির চালিকাশক্তিতে পরিণত করা না হয়। জামায়াত বা এনসিপি চাইলে আরও কঠোর ভারতবিরোধী বক্তব্য দিতে পারে। বিরোধী দল হিসেবে তাদের রাজনৈতিক দায় সীমিত। কিন্তু সরকারের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সরকারের প্রতিটি নীতির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিণতি জনগণকে বহন করতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক দায়ও সরকারকেই নিতে হয়।
বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি ভারতনীতি, যা নতজানু নয়, আবার অকারণ সংঘাতপ্রবণও নয়; যা আবেগের পরিবর্তে তথ্য ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে; যা প্রয়োজন হলে দৃঢ় হবে, আবার প্রয়োজন হলে সমঝোতার পথও খোলা রাখবে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি এবং বাংলাদেশের বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থ—এই দুটি বিষয় পরস্পরের বিরোধী নয়। বরং বিচক্ষণ কূটনীতির মাধ্যমে দুটোকেই একই সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সাফল্য তখনই প্রমাণিত হবে, যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান রেখেও দেশটি তার বাণিজ্য, জ্বালানি, পানি, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শেখ হাসিনাকে ঘিরে নয়—প্রশ্নটি বাংলাদেশকে ঘিরে।
বাংলাদেশের স্বার্থ যেন কোনো এক ব্যক্তি, কোনো এক রাজনৈতিক বিতর্ক কিংবা কোনো এক দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ওঠানামার কাছে জিম্মি না হয়—এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।

ভিন্নমত ও জঙ্গিবাদ: রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্তে জনগণকে দিতে হয় মাশুল

0

 

 

ফাইল ছবি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর  সমন্বয়হীনতার সুযোগে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমের আলামত দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠার সৃষ্টি হচ্ছে।
উগ্রবাদ ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে একই পাল্লায় মাপা বা রাজনৈতিক স্বার্থে উগ্রপন্থাকে প্রশ্রয় দেওয়া যে কোনো রাষ্ট্রের জন্য চরম আত্মঘাতী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে যে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়, তার সুযোগে উগ্রবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অনেকেই ধারাবাহিকভাবে জামিনে মুক্তি পান। আসামির জামিন পাওয়ার আইনি অধিকার থাকলেও জামিন-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের যে নিবিড় তদারকি, নিয়মিত হাজিরা এবং গোয়েন্দা নজরদারি নিশ্চিত করার কথা ছিল, সেখানে চরম প্রশাসনিক শিথিলতা দেখা গেছে। ​এ কারণে পুরনো নেটওয়ার্কের পুনর্জাগরণ ঘটেছে বলে ধারণানকরা হচ্ছে।।
উগ্রবাদ কখনো হঠাৎ করে শূন্য থেকে তৈরি হয় না, বরং সুযোগের সদ্ব্যবহার করে। এর প্রত্যক্ষ উদাহরণ নব্য জেএমবির সমন্বয়ক নাজমুল হাসান মামুন (বোমারু মামুন)। ২০১৭ সাল থেকে কারাবন্দি থাকা এই ব্যক্তি ২০২৪ সালের পর মুক্তি পেয়েই কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকায় নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের তদন্ত অনুযায়ী, ১৫ জনের একটি দল গঠন করে কেরানীগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লা, ডেমরা ও সাভারে বিস্ফোরক ও আইইডি হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন তিনি।
জামিনে মুক্তির পর উগ্রপন্থী নেতাদের জনসমক্ষে উপস্থিতি মতাদর্শিক স্বাভাবিকীকরণের পথ তৈরি করছে। আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানী দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার পর জামিনে বের হয়ে শাহবাগের মতো জায়গায় প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ২০২১ সালের সংহিসতার একাধিক মামলার আসামি হেফাজত নেতা হারুন ইজহারও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জামিন পান এবং এখনো বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনলাইন উগ্র প্রচারণা এবং ব্লাসফেমির অভিযোগে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে যুক্ত আতাউর রহমান বিক্রমপুরীর ভূমিকা আরও উদ্বেগজনক। আগস্টের পর কাশিমপুর কারাগারের সামনে ‘বৈষম্যবিরোধী কারামুক্তি আন্দোলন’-এর সমন্বয়ক পরিচয়ে বন্দি জঙ্গিদের মুক্তির দাবিতে তাকে প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে দেখা যায়। পরবর্তীতে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ সময় লেগেছে, যা তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
পরিসংখ্যানের ভয়াবহ বার্তা ও তদারকির ধস নেমেছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষিদ্ধ সংগঠনের ১,৬১১ জন জঙ্গি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫ আগস্টের পর মুক্তি পাওয়া প্রায় ৩৮০ জন আসামি আদালতে নিয়মিত হাজিরাই দিচ্ছেন না। জেএমবি, আনসার আল ইসলাম, হিযবুত তাহরীর ও হুজির মতো সংগঠনের বহু সদস্যের এভাবে আত্মগোপনে যাওয়া প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রের প্রশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামো কতটা ভঙ্গুর।
রাজনীতি ও বিচার ব্যবস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যমের শব্দচয়নও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়। রাজনৈতিক হয়রানির মামলার সমালোচনা করা যৌক্তিক, কিন্তু সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সংবাদমাধ্যমে ‘মজলুম’ হিসেবে উপস্থাপন করলে অনুসারীদের কাছে তার অপরাধ আড়াল হয়ে যায়। উগ্রপন্থীদের প্রধান হাতিয়ার কেবল বিস্ফোরক নয়, বরং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে তৈরি করে এই সহানুভূতিশীল ‘বয়ান’।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থকদের মতে, আদালত স্বাধীন হওয়ায় সরকার জামিনে হস্তক্ষেপ করেনি। আইনি প্রক্রিয়ার বিচারে এটি সঠিক হলেও রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে এটি অসম্পূর্ণ। আদালত জামিন দিলেও মুক্তিপ্রাপ্ত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধি তদারকি করা এবং অনলাইন বা অফলাইন উগ্র প্রচারণা ঠেকানো সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব, যেখানে চরম ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে অবশ্যই ভিন্নমতের রাজনৈতিক বন্দি এবং রাষ্ট্রের অস্তিত্বের হুমকি তৈরি করা উগ্রবাদীদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখতে হবে। সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো মামলা প্রত্যাহারের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু রয়েছে, সেখানে বিএনপির জন্য একটি বড় শিক্ষা রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলার সঙ্গে প্রকৃত উগ্রবাদের মামলাকে এক করে ফেলার প্রলোভন এড়াতে হবে; অন্যথায় এটি নিজেদের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়াবে।
​সাময়িক জোটের আত্মঘাতী ফলাফলও ঘটে থাকে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, উগ্রপন্থী ও উগ্র আদর্শভিত্তিক দলগুলো কখনো কোনো মূলধারার রাজনৈতিক দলের স্থায়ী মিত্র হয়নি। সাময়িক ক্ষমতার সমীকরণে তারা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে কেবল নিজেদের ভিত্তি শক্ত করে। ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রের মূল চরিত্র পরিবর্তনই থাকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
উগ্রবাদ দমন ভবিষ্যতের নৈতিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি সভ্য ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের পরিচিতি শুধু সে কতজনকে বন্দি রাখল তা দিয়ে হয় না, বরং সে কাকে মুক্তি দিচ্ছে এবং মুক্তির পর আইনের শাসন কতটা কঠোরভাবে বজায় রাখছে তা দিয়ে নির্ধারিত হয়। উগ্রবাদ দমনের নামে যেমন বিরোধী মতামত দমন করা যাবে না, তেমনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে সহিংস উগ্রবাদকে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না—এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

0

 

বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভোট গণনা প্রক্রিয়া শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
সিইসি ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন। অব্যবহৃত ব্যালট ৬টি। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে আইনের মধ্যে থেকে ৪টি ব্যালট রিপ্লেস করা হয়েছে। নির্বাচনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। এ সময় সিইসি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করেন।
এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিরোধী দলীয় নেতাসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান।
ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালে সংসদ সদস্যরা নিজ আসনে বসে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।
বিভিন্ন মহলের অভিনন্দন:
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রদূত, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অভিনন্দন জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী, ১১ দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ও এলডিপি’র চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
এছাড়াও অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এ নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে আগামী দিনগুলোতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইনসাফ কায়েম, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ সময় তিনি  দল ও মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির স্বার্থে দায়িত্ব পালনের জন্য নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির প্রতি আহবান জানান।
এছাড়াও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সমমনা জোটের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপির)  চেয়ারম্যান ও সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ড.ফরিদুজ্জামান ফরহাদ ও জোটের নেতৃবৃন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি), ইসলামী ঐক্যজোট।
বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় চীনা দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাইকমিশন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই পৃথক ফেসবুক পোস্টে তাকে শুভেচ্ছা জানায় দুই দেশের কূটনৈতিক মিশন।
ফল ঘোষণার প্রায় ১৫ মিনিট পর চীনা দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশ ও জনগণের কল্যাণে ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত চীন।
এর পর মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানায় ব্রিটিশ হাইকমিশন। পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন। দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে যুক্তরাজ্য।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

 

 

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, সংশোধিত বিধান অনুযায়ীই ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
<span;>বর্তমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো এমপি দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যায়। এ বিধানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক চলে আসছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে এ অনুচ্ছেদ নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭০ অনুচ্ছেদে সম্ভাব্য পরিবর্তন এমপিদের ভোটাধিকার প্রয়োগে অধিক স্বাধীনতা এনে দিতে পারে, যা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর দেশে সাংবিধানিকভাবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে, যেখানে বিরোধী দলের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকা উচিত। এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক চর্চার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাবে।
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে গঠিত কমিটিতে এখনো বিরোধী দল অংশ নেয়নি। তবে সরকার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার বিষয়টি প্রক্রিয়ার মধ্যেই রেখেছে এবং ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ীই হবে।

জামায়াত শিবিরকে নিষিদ্ধের দাবি নূরের

0

 


জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। এজন্য প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করতে হবে বলেও জানান তিনি।
নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এখন নির্বাচিত সরকারকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান নুরুল হক। পরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ দাবি জানান।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে উল্লেখ করে নুরুল হক বলেন, ১৯৭১ সালে এর চেয়েও ভয়াবহ গণহত্যা, লুটপাট ও গণধর্ষণ হয়েছে। এসবের জন্য জামায়াত-শিবিরেরও নিষিদ্ধ হওয়া দরকার।
জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করলে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে এবং বৈশ্বিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন নুরুল হক।
সম্প্রতি জাতিসংঘের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ বলেছে, আল-কায়েদা বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা অস্ত্র পরিচালনাকারী ক্যাডার বলেও দাবি করেন তিনি।

নথি, সাক্ষ্য ও স্মৃতি: একাত্তরের সত্য কেন অমোচনীয়

0

একটি রাজনৈতিক দলের বর্তমান পরিচয় তার ভবিষ্যৎ রাজনীতির পথ নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু তার অতীতকে মুছে দিতে পারে না। সময়ের সঙ্গে দল বদলায়, নেতৃত্ব বদলায়, রাজনৈতিক কৌশল বদলায়, এমনকি পুরোনো অবস্থান থেকেও সরে আসা সম্ভব। কিন্তু ইতিহাসের নথি বদলে ফেলার সুযোগ কোনো রাজনৈতিক দলের নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে ১৯৭১-এর প্রশ্নটি তাই নিছক অতীতের কোনো বিতর্ক নয়; এটি দলটির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।
কুষ্টিয়ায় ১৬ আগস্টের একটি সমাবেশে জামায়াতের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা ‘রাজাকার’ ও ‘আল-বদর’ শব্দকে ‘ভারতীয় নাটক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ধৃতিটি যদি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এমন বক্তব্যের মাধ্যমে একটি জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়ের জবাব দেওয়া যায় না। বরং এতে ইতিহাসের মূল প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়ে পুরো বিষয়টিকে ভারতবিরোধী রাজনৈতিক বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা দেখা যায়।
১৯৭১-এর ইতিহাস কোনো একটি দেশ, সরকার, সংবাদমাধ্যম কিংবা রাজনৈতিক দলের তৈরি কোনো একক বয়ানের ওপর দাঁড়িয়ে নেই। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার নথি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষ্য, পাকিস্তানি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎস, গবেষণা, ঐতিহাসিক গ্রন্থ এবং বাংলাদেশের বিচারিক নথিতে এই সময়ের বহু ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফলে কোনো একটি শব্দ বা ঘটনাকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার আগে এসব উৎসের সমন্বিত প্রমাণকে মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত বিচারিক কার্যক্রমও এই ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিলভান্ডার। কামারুজ্জামানের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আল-বদরকে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সশস্ত্র কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষের সম্পর্ক এবং আল-বদর ও আল-শামস গঠনের বিষয়ও বিচারিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।
গোলাম আযমের মামলার রায়েও মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান, শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসের কার্যক্রম এবং এসব কাঠামোর সঙ্গে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিস্তর প্রমাণ পরীক্ষা করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক থাকতে পারে। কেউ সেই বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলতেও পারেন। কিন্তু সেই বিতর্কের কারণে আদালতে উপস্থাপিত ও পর্যালোচিত ঐতিহাসিক উপাদানগুলোকে নিছক ‘ভারতীয় নাটক’ বলে বাতিল করে দেওয়া যায় না।
তাই প্রশ্নটি খুব সরল: যদি রাজাকার ও আল-বদরের ইতিহাস ‘ভারতের তৈরি’ হয়ে থাকে, তাহলে সেই ইতিহাসের কোন কোন অংশ ভারত তৈরি করেছিল? জামায়াতের ১৯৭১-এর রাজনৈতিক অবস্থান কি ভারত তৈরি করেছিল? পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে জামায়াতের অবস্থান কি ভারত বানিয়ে দিয়েছিল? ইসলামী ছাত্রসংঘের তৎকালীন ভূমিকা, পাকিস্তানি সামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির যোগাযোগ কিংবা আল-বদর-আল-শামসের অস্তিত্ব—এসবও কি ভারতীয় কল্পনা?
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে হলে রাজনৈতিক স্লোগানের বাইরে গিয়ে নথির দিকে তাকাতে হবে। কারণ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—একটি পক্ষ অস্বীকার করলেও তার প্রমাণ বিভিন্ন উৎসে টিকে থাকে।
বাংলা পিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠিত তথ্যসূত্রেও আল-বদরকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত একটি আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাধীনতার আন্দোলন দমনে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামসের ভূমিকার কথাও সেখানে আলোচিত হয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি কোনো সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রচারণার ফল নয়; এর ঐতিহাসিক ভিত্তি বহু পুরোনো।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এটি এমন একটি অধ্যায়, যার সঙ্গে অসংখ্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি জাতির গভীর শোক জড়িয়ে আছে। বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের স্থানীয় সহযোগীদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও বিচারিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।
এই জায়গায় জামায়াতের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা দাবি করেছিলেন যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ভারতীয় সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছিল, তখন পাকিস্তানি বাহিনী, রাজাকার ও আল-বদরের সদস্যরা আত্মসমর্পণ কিংবা পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন; ফলে তারা হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেননি।
এ ধরনের দাবি করা রাজনৈতিকভাবে কারও অধিকারবহির্ভূত নয়। কিন্তু ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত বিবরণকে উল্টে দেওয়ার মতো একটি বক্তব্যের সঙ্গে শক্তিশালী প্রমাণও থাকা প্রয়োজন। নতুন কোনো দলিল, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বা গবেষণা যদি এই দাবিকে সমর্থন করে, তা জনসমক্ষে উপস্থাপন করা যেতে পারে এবং অবশ্যই তা নিয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে একটি বহুল আলোচিত ঐতিহাসিক ঘটনার দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
এখানেই জামায়াতের বর্তমান রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি সামনে আসে। ২০২৫ সালের মে মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট এ টি এম আজহারুল ইসলামকে খালাস দেওয়ার পর জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব দল বা তার কর্মীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অক্টোবরে দলের শীর্ষ নেতা ১৯৪৭ সাল থেকে জামায়াতের কারণে সৃষ্ট যেকোনো কষ্টের জন্যও ক্ষমা চান এবং স্বীকার করেন যে ১৯৭১ সালে জামায়াত পাকিস্তান ভেঙে যাওয়ার বিরোধিতা করেছিল; একই সঙ্গে তিনি বলেন, সে সময় বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করা উচিত ছিল।
এই স্বীকারোক্তি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতের ভুল স্বীকার করা পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক লক্ষণ হতে পারে। কিন্তু একটি সাধারণ ক্ষমাপ্রার্থনা আর বিস্তারিত ঐতিহাসিক জবাবদিহি এক বিষয় নয়। ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন—কোন সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, কেন ভুল ছিল, সেই সময় দলের সাংগঠনিক অবস্থান কী ছিল এবং ভবিষ্যতে সেই রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কীভাবে সম্পূর্ণভাবে সরে আসা হয়েছে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য।
বিশেষ করে একই দলের নেতাদের কেউ যখন একদিকে ১৯৭১-এর জন্য ক্ষমা চান, অন্যদিকে বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো ঘটনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ও প্রচলিত ঐতিহাসিক বিবরণের বিপরীত ব্যাখ্যা দেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে—জামায়াত কি সত্যিই তার অতীতের সঙ্গে হিসাব মিটিয়েছে, নাকি শুধু রাজনৈতিক ভাষা পরিবর্তন করেছে?
এ টি এম আজহারুল ইসলামের মামলাটিও এখানে আলাদাভাবে দেখা দরকার। ২০২৫ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাকে খালাস দিয়েছে—এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই আইনের শাসনের স্বার্থে সম্মান করতে হবে। কোনো ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলায় খালাস পেলে তার বিরুদ্ধে সেই মামলার অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যায় না। কিন্তু একজন ব্যক্তির মামলায় খালাস পাওয়া এবং ১৯৭১ সালে একটি রাজনৈতিক দলের সামগ্রিক অবস্থান—এই দুটি বিষয় এক নয়। একটি মামলার রায় জামায়াতের বৃহত্তর রাজনৈতিক ইতিহাসের সব প্রশ্নের উত্তর হয়ে যেতে পারে না।
জামায়াত চাইলে যুক্তি দিতে পারে যে বর্তমান জামায়াত ১৯৭১ সালের জামায়াতের মতো নয়। এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি তার পক্ষে দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রমাণ থাকে। একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রজন্ম বদলের সঙ্গে নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে। পুরোনো রাজনৈতিক অবস্থান পরিত্যাগ করতে পারে। নতুন নীতি গ্রহণ করতে পারে। এমনকি পূর্বসূরিদের সিদ্ধান্তের ভুল স্বীকার করে নতুন রাজনৈতিক দর্শনও প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
কিন্তু সত্যিকারের পরিবর্তন কেবল নতুন স্লোগানে আসে না। আসে অতীতের সঙ্গে সৎভাবে হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে। আজকের জামায়াত যদি সত্যিই ১৯৭১-এর রাজনৈতিক অবস্থান থেকে মৌলিকভাবে সরে এসে থাকে, তাহলে তাদের আরও স্পষ্টভাবে বলতে হবে—তারা ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত তথ্যকে স্বীকার করে; তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও পরিবারগুলোর কষ্টকে স্বীকৃতি দেয়; তারা পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ভুল মনে করে; এবং ভবিষ্যতের রাজনীতিতে সেই অবস্থানের কোনো স্থান নেই।
এমন স্পষ্ট অবস্থানই একটি রাজনৈতিক পুনর্গঠনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে পারে। এর পরিবর্তে যদি একদিকে ক্ষমা চাওয়া হয়, অন্যদিকে ঐতিহাসিক নথিকে ‘ভারতীয় নাটক’ বলা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থাকবে—এটি কি প্রকৃত আত্মসমালোচনা, নাকি রাজনৈতিক পুনর্ব্র্যান্ডিং?
আরেকটি যুক্তি প্রায়ই সামনে আসে—তরুণ প্রজন্ম নাকি আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আগ্রহী নয়। এই ধারণাটিও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তরুণরা হয়তো ১৯৭১ নিয়ে আগের প্রজন্মের মতো করে কথা বলে না। তারা মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে। কোনো দল বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া ব্যাখ্যা তারা মেনে নাও নিতে পারে। কিন্তু এসবের অর্থ এই নয় যে তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে গেছে বা সেটিকে অপ্রাসঙ্গিক মনে করে।
বরং ১৯৭১ নিয়ে বর্তমানের রাজনৈতিক বিতর্কই দেখায় যে বিষয়টি এখনো বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক চেতনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতিহাসকে নতুন করে ব্যাখ্যা করার এত প্রবল চেষ্টা যদি চলতেই থাকে, তাহলে বোঝা যায়—১৯৭১ এখনো গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মের ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার আছে, কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে প্রমাণ দিয়ে; ইতিহাসকে অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করে নয়।
মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। এটি বাংলাদেশের মানুষের ইতিহাস। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও উত্তরাধিকারের একক মালিক হতে পারে না। ১৯৭১ তাদেরও ইতিহাস, যারা যুদ্ধ করেছেন; তাদেরও, যারা প্রাণ হারিয়েছেন; তাদেরও, যারা স্বজন হারিয়েছেন; তাদেরও, যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন; এবং তাদেরও, যারা যুদ্ধের ভয়াবহতা নিজেদের জীবনে বহন করেছেন।
তাই ইতিহাসের অস্বস্তিকর অংশ সামনে এলেই সেটিকে বিদেশি ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করা কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বাসযোগ্য পথ হতে পারে না। বাংলাদেশিদের প্রশ্ন করার অধিকার আছে। নথি যাচাই করার অধিকার আছে। ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রমাণ ছাড়া প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসকে অস্বীকার করার প্রচেষ্টাকে প্রশ্ন করার অধিকারও তাদের রয়েছে।
জামায়াতের গণতান্ত্রিক রাজনীতি করার অধিকার আছে। তাদের সমর্থকদের দলটির পক্ষে কথা বলার অধিকার আছে। সমালোচকদের বক্তব্যের জবাব দেওয়ার অধিকারও তাদের রয়েছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতি ইতিহাসের ওপর রাজনৈতিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয় না। কোনো দলই জনগণকে বলে দিতে পারে না—কোন ইতিহাস তারা মনে রাখবে আর কোন ইতিহাস ভুলে যাবে।
জামায়াত চাইলে তাদের প্রার্থী পরিবর্তন করতে পারে, নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে পারে, প্রচারণার ভাষা বদলাতে পারে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারে। তারা অতীতের জন্য ক্ষমাও চাইতে পারে। কিন্তু এসবের কোনোটিই ১৯৭১ সালের নথিভুক্ত ঘটনাকে পরিবর্তন করে না।
ইতিহাসের পাতা রাজনৈতিক প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পাদনা করা যায় না। কোনো একটি প্রজন্ম কোনো ঘটনা অস্বীকার করলেই সেই ঘটনা মুছে যায় না। নথি থেকে যায়, সাক্ষ্য থেকে যায়, গবেষণা থেকে যায় এবং মানুষের স্মৃতিও থেকে যায়।
তাই জামায়াতের সামনে বাস্তবিক অর্থে দুটি পথ রয়েছে। একটি হলো—অস্বস্তিকর ইতিহাসকে অস্বীকার করা, বিভিন্ন ঘটনার দায় অন্যের ওপর চাপানো এবং প্রতিটি প্রশ্নকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানো। অন্যটি হলো—নিজেদের রাজনৈতিক অতীতের দিকে ফিরে তাকানো, ভুল স্বীকার করা, ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে মেনে নেওয়া এবং দেখানো যে বর্তমান জামায়াত সত্যিই তার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে মৌলিকভাবে আলাদা।
দ্বিতীয় পথটি কঠিন। কিন্তু রাজনৈতিক পরিপক্বতার জন্য সেটিই বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
কারণ একটি রাজনৈতিক দল তার অতীতকে মুছে ফেলতে পারে না; পারে শুধু সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিতে। ১৯৭১-এর ইতিহাসও তাই নতুন করে লেখার বিষয় নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সামনে সৎভাবে তুলে ধরার বিষয়। জামায়াত যদি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চায়, তাহলে তাকে প্রমাণ করতে হবে—সে ইতিহাসকে অস্বীকার করছে না, বরং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে এগোচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি খুব কঠিন হলেও সরল: জামায়াত কি সত্যিই ১৯৭১-এর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে পুনর্মূল্যায়ন করেছে, নাকি শুধু সেই উত্তরাধিকার নিয়ে কথা বলার ভাষা বদলেছে?
এই প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়, দিতে হবে নথি, অবস্থান ও কার্যক্রমের মাধ্যমে। কারণ একাত্তরকে পুনর্লিখন করা যায় না। ইতিহাসের সঙ্গে বিতর্ক করা যায়, নতুন গবেষণা করা যায়, নতুন তথ্য সামনে আনা যায়—কিন্তু প্রমাণিত অতীতকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মুছে ফেলা যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস শেষ পর্যন্ত কোনো দলের নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের মুখোমুখি হওয়া থেকেই প্রকৃত রাজনৈতিক পরিবর্তনের শুরু।

ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা ও জনপ্রত্যাশা পূরণ করবে দুদক- বিচারপতি আসাদুজ্জামান

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং কমিশনার হিসেবে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া যোগদান করেছেন।
বুধবার (১৯ আগস্ট) তারা দুদকে যোগদান করেন।
কাজে যোগ দিয়ে নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে। তারা কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই এবং দুদকের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সচেষ্ট থাকবেন। প্রথম দিন দুদকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতিপর্ব শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও কমিশন সদস্যরা।
প্রায় সাড়ে ৫ মাস দুদক নেতৃত্বশূণ্য ছিল। চলতি বছরের ৩ মার্চ পদত্যাগ করেন তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা।
গত ১৭ আগস্ট সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুদকের চেয়ারম্যান এবং সাবেক সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন।
১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরে ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
দুদকের নতুন কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৬৩ সালের ৬ জুলাই মানিকগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে পিএইচডি করেন।
১৯৮৮ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুদকে যোগদানের আগে তিনি ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে আইনের অধ্যাপক এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রকল্পে লিগ্যাল এক্সপার্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অন্য কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৩ সালের ১৫ অক্টোবর কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে বি.কম ও এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ও এবি ব্যাংকের প্রবেশনারি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবেও কর্মজীবন শুরু করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ, ব্যাংকিং বিভাগ, আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ ও আইবিএতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফিন্যান্স, বাণিজ্য, ক্যাশ ফ্লো, মার্জার অ্যান্ড অ্যাকুইজিশন, সম্পদ ও দায় মূল্যায়ন, ট্রান্সফার প্রাইসিং, মানিলন্ডারিং, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মাদক নির্মূলে দরকার মাঠ প্রশাসনের কঠোর উদ্যোগ, রূপগঞ্জ হতে পারে দৃষ্টান্ত

0

 

 মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি একটি প্রজন্মের সম্ভাবনাকেও নষ্ট করে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কার্যকর ও ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে আইন প্রয়োগে কঠোর হলে মাদকের বিরুদ্ধে যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব, তার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গত কয়েক মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক কারবারি থেকে শুরু করে সেবনকারী—কেউই ছাড় পাচ্ছেন না। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসা—উভয় ক্ষেত্রেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, ভূমিদখল এবং ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম। গত চার মাসে উপজেলাজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে চার শতাধিক মাদক কারবারি ও সেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের কারণে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আস্তানাগুলো অনেকটাই গুটিয়ে আসছে। একসময় যেসব স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা বা সেবনের অভিযোগ ছিল, সেসব জায়গায় এখন প্রশাসনের নজরদারি বেড়েছে। ফলে মাদক কারবারিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেড়েছে স্বস্তি।
উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, ‘মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে ইউএনও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। গত চার মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার শতাধিক মাদক কারবারি ও সেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি কাজ করছেন।’
তবে মাদকের বিরুদ্ধে ইউএনও সাইফুল ইসলামের ভূমিকা শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে জানান স্থানীয়রা। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও চেষ্টা করছেন তিনি। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে আসা হতদরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষকে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রাহেলা খাতুন ও জুয়েল মিয়ার মতো অসহায় মানুষের ভাষ্য, কঠোর প্রশাসকের পাশাপাশি ইউএনও সাইফুল ইসলাম একজন মানবিক কর্মকর্তা হিসেবেও মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আন্তরিকতারও বড় ভূমিকা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে মাদকের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। রূপগঞ্জে সাম্প্রতিক অভিযানের অভিজ্ঞতা সেই সম্ভাবনাই সামনে এনেছে।
তাদের মতে, দেশের প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় যদি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা রূপগঞ্জের মতো মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কারণ শুধু আইন তৈরি করলেই অপরাধ কমে না; আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রূপগঞ্জ ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সরকারকে সহযোগিতা করতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ ঠিক রাখতে আমি বদ্ধপরিকর।’ রূপগঞ্জের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি উপজেলার মাদকবিরোধী অভিযান নয়; এটি মাঠ প্রশাসনের সক্রিয়তা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে একটি বড় সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কীভাবে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, তারও একটি উদাহরণ। দেশের অন্য এলাকাতেও যদি দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা একইভাবে উদ্যোগী হন, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।