অভিনেতা মোশাররফ করিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনজীবী ও আইন পেশাকে অসম্মান করায় তার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন কুমিল্লা বারের ১০ আইনজীবী। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কান্তি নাথ বাদী পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি আমলে নিয়ে পিআইবিতে তদন্ত করে আগামী ১৮ ই আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অপর চার বিবাদী হলেন- অভিনেতা জামিল হোসাইন, অভিনেতা ফারুক আহমেদ, পরিচালক আদিবাসি মিজান এবং বৈশাখী টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
মামলাটি প্রসঙ্গে আইনজীবী রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বৈশাখী টিভিতে ‘হাই প্রেশার-২’ নামের একটি নাটক প্রচার হয়েছিল। সে নাটকে বিভিন্নভাবে আইন পেশাকে অসম্মান ও আইনজীবীদের মানহানি করা হয়েছে। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে আদালতে ৫০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক চন্দন কান্তি নাথ মামলাটি আমলে নিয়েছেন। আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।।
নাটকে আইনজীবীর অসম্মান ; অভিনেতা মোশাররফ করিমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
করোনার দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, জনপ্রতিনিধি সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাকালে তাঁর সরকারের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষ যাতে কোনো রকম কষ্ট না পায়। তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অর্থাৎ তাদের করোনা থেকেও যেমন মুক্তি দেওয়া, তেমনি আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করা। যে কারণে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ সরকার ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের এ কাজে সহায়তা করায় সব মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সচিবদের তিনি ধন্যবাদ জানান।
সরকারপ্রধান রোববার সকালে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং এপিএ ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান-২০২১–এর প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

করোনার দুর্যোগ মোকাবিলায় তিনি প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী থেকে জনপ্রতিনিধি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সাহসী ভূমিকা রেখেছে এবং এত বাধার মধ্যেও অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেও সবাই নিজ নিজ কাজ চালিয়ে গেছে। বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটি হলেও করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধকল্পে এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাঁর সরকারেরর অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থা গতিশীল রেখে জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়াটাই তাঁর সরকারেরর লক্ষ্য।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সেবক হিসেবে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার জন্য কোনো কিছু নয়, শুধু একটা সুযোগ মানুষের জন্য কাজ করার, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করার এবং যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী করোনা প্রতিরোধকল্পে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর পুনরায় গুরুত্বারোপ করে পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের বাড়ি যেতে ইচ্ছুক যাত্রীদের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। ইনশা আল্লাহ কেউ বাদ যাবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আমি জানি, আমাদের মানুষগুলো একটু গ্রামের উদ্দেশে ছুটতে পছন্দ করে, মাস্ক পরতে চায় না। কিন্তু প্রশাসনের যাঁরা যেখানে দায়িত্বরত আছেন, তাঁরা একটু চেষ্টা করবেন মানুষকে বোঝাতে এবং তারা যেন মাস্কটা অন্তত পরে আর যেন সাবধানে থাকে।’
পর্যায়ক্রমে সবাইকে ভ্যাকসিন দিতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো মানুষ যেন ভ্যাকসিন থেকে বাদ না পড়ে। সেভাবে কিন্তু আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি বলেন, ‘আমরা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি। ভ্যাকসিন আসছে। আমাদের দেশের সবাই যেন ভ্যাকসিন নিতে পারে, তার জন্য যত ভ্যাকসিন দরকার আমরা কিনে আনব এবং দেশের সবাইকে সেই ভ্যাকসিন দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আমাদের দেশের মানুষ যেন কোনো রকম ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যক্তিপর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম শ্রেষ্ঠ বিভাগ হিসেবে এপিএ সম্মাননা পাওয়ায় অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সব সময় একটা লক্ষ্য ছিল সরকার জনগণের সেবা করবে। কাজেই যারা সেবা করবে, তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অর্থাৎ জনগণের সেবামূলক প্রশাসন গড়ে তোলা। তিনি বলেন, ‘সরকারে থেকে শুধু সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করব তা নয়, এখানে আমাদের একটা দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের প্রতি। জনগণের কল্যাণে, স্বার্থে এবং ভাগ্য পরিবর্তনে। সেই কথা চিন্তা করেই আমরা সব কর্মকাণ্ড-বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন বাজেট দিই এবং প্রশাসনে নানা কর্মকাণ্ড আমরা পরিচালনা করি, সেগুলো যেন গতিশীলতা পায়, সেগুলো যেন জনকল্যাণমুখী হয় এবং জনগণ যেন এর সুফল ভোগ করতে পারে—সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করি।’ তিনি বলেন, ‘২০১৪–১৫ সালে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমরা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ যে কাজগুলো করব, সেটার একটা জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কাজগুলো যাতে সঠিকভাবে হয়, সেটা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি করেছি। যেখানে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবেরা এবং আমাদের মন্ত্রণালয়য়ের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বাক্ষর করবেন। এর পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের নানা দপ্তর এবং বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট সচিব এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব স্বাক্ষর করে কাজগুলো যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, দেখবেন।’
ধারাবাহিকভাবে সরকারে থাকায় দেশের উন্নতি এমনটাই হয়, অভিমত ব্যক্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘তাঁর সরকার পরিচালনায় আজকে করোনা নামের এমন একটা বাধা এসেছে যেটি সমগ্র বিশ্বেই সংকটের সৃষ্টি করেছে। তবে এই সংকটের সময় কীভাবে আমাদের চলতে হবে, সব সময় সেই কর্মপন্থা সুনির্দিষ্ট করেছি। কারণ, করোনার ফলে সব থেকে বেশি আঘাত এসেছে আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে।’
আমাদের দুঃখ হলো, বাংলাদেশকে আমরা যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম সেখানে করোনা নামক একটা অদৃশ্য শত্রুর বিরাট ধাক্কা লেগেছে, বলেন তিনি।
ওয়ান–ইলেভেনের প্রেক্ষাপটে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিনা বিচারে তাঁর সাবজেলে অন্তরীণ থাকতে বাধ্য হওয়ার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন এমন একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় যে আওয়ামী লীগকে আর কখনো বোধ হয় ক্ষমতায় আসতে দেবে না। কিন্তু জনগণের ওপর আমার বিশ্বাস ছিল, তাই ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন শুরু করি।’ বাসস।
রূপগঞ্জে হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মত্যুর মামলার তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের প্রাণহানির ঘটনার কারণ শনাক্ত করতে ১০ টি বিষয় প্রাধান্য দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। শনিবার দুপুরে আগুনে পোড়া কারখানা পরিদর্শন শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান সিআইডির ডিআইজি ইমাম হোসেন।

সিআইডির ডিআইজি বলেন,তদন্তভার পেয়ে বিভিন্ন আলামতসহ মাঠ পর্যায়ে স্বাক্ষ্য ও তথ্য সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ শনাক্ত করতে কয়েকটি বিষয় চিহ্নিত করে তদন্ত কাজ চলছে। সিআইডির তদন্তে যে কোন ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত কাজ সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেন সিআইডির এই কর্মকর্তা। এ সময় অন্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জেলা পুলিশের দায়ের করা মামলাটির তদন্তভার পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে সিআইডির তদন্ত দল আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।
সিআইডি পূলিশের ডিআইজি জানান, জুস কারখানায় আগুনে পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন আলাতম সিআইডি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছে। এগুলো ফরেনসিক করা হবে। তদন্তের প্রয়োজনে আগুন লাগার পর ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত শ্রমিকসহ উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের সাথে কথা বলে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। এতো হতাহতের জন্য কোম্পানীর ব্যক্তিগত গাফিলতি কতটুকু ছিলো তাও খতিয়ে দেখা হবে। মালিকপক্ষসহ অন্যকারো গাফিলতি পেলে ব্যবস্হা নেয়া হবে।
গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎঃ ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডির বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের আবেদনে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দিয়েছেন, যা শনিবার জানা যায়।
৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এর আগে গত ৮ জুলাই ইভ্যালির শীর্ষকর্তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছিল দুদক।

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের বলেন, “দুদক যখন জানল, তারা বিদেশ চলে যেতে পারেন, তখন দুদক ব্যবস্থা নেয়।
“তখন এখতিয়ার সম্পন্ন কোর্ট খোলা ছিল না। বৃহস্পতিবার এখতিয়ার সম্পন্ন কোর্ট থেকে নিষেধাজ্ঞার আদেশ এসেছে।” দুদকের নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশের পর ইভ্যালির এমডি রাসেল ফেইসবুকে লিখেছিলেন, তাদের বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে তিনি ‘পজিটিভলি’ দেখছেন।
তবে সরকার ও দুদকের পদক্ষেপের পর ইভ্যালির কার্যালয়টি বন্ধ রয়েছে কিছু দিন ধরেই। হটলাইনে ফোন করেও কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম এবং মার্চেন্টের পাওনা ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগে ইভ্যালির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।
দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালামকে এই অনুসন্ধানের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে ইভ্যালির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠির সঙ্গে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদনও যুক্ত করে দেওয়া হয়।
সেই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, “গত ১৪ মার্চ দেখা যায়, ইভ্যালি ডটকমের মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা (চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা।
“উক্ত তারিখে ইভ্যালি ডটকমের গ্রাহকের নিকট দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকের নিকট থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহিত ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির নিকট কমপক্ষে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির নিকট সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা ।”
দুদকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, “ইভ্যালি ডটকমের চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক ও মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা উক্ত কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।
“তদুপরি গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে কোনো আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে দুদককে অনুরোধ করা হয়।
জীবন জীবিকার মধ্যে ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার লকডাউন শিথিল করেছে: আইনমন্ত্রী
জনগণের জীবন এবং জীবিকার মধ্যে ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা করার জন্য সরকার লকডাউন শিথিল করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।
‘সরকার ঈদের আগে লকডাউন ও বিধিনিষেধ শিথিল করে করোনাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে ব্যবস্থা করেছে, তাতে শেষ পর্যন্ত দেশ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হতে পারে’-বিএনপির এমন মন্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সারা পৃথিবীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে বিরাট চাপ পড়ছে। সরকার জনগণের সেবার জন্য, জনগণ যাতে ভালোভাবে থাকে সেজন্য জনগণকে সময়ে সময়ে ঘরে রাখতে হয়। আবার জনগণের জীবিকার জন্যেও সরকারকে সচেষ্ট থাকতে হয়, সচেতন থাকতে হয়। জনগণের জীবন এবং জীবিকার মধ্যে ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা করা দরকার সরকার তাই করছে।
শনিবার সকালে আখাউড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুইটি আনন্দের দিন। ঈদুল আযহার সময় মানুষ আল্লাহর নামে পশু কোরবানি দেয়। এটা সারা বিশ্বের মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই কোরবানির ঈদ পালন করার জন্য যদি একটু শিথিল করা হয় তাহলে সেটা কি অন্যায়?
এ ছাড়া মানুষের জীবন-জীবিকার মধ্যে ব্যালেন্স আনা সরকারের কাজ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘সরকার ঈদের আগে বিধিনিষেধ শিথিল করে দেশ মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হতে পারে’ বলে যারা মন্তব্য করেছেন তারা কতটা বিবেকবান?- প্রশ্ন ছুড়ে দেন আনিসুল হক।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আক্তার, পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূঁইয়া, উপজেলা সহকারী কমিশন (ভূমি) মো. সাইফুল ইসলাম, ওসি মিজানুর রহমানসহ উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার ইমাম, মুয়াজ্জিম ও খতিবগণ। সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাথে কোরবানির ঈদ উদযান করার জন্য ইমামদের প্রতি আহবান জানান আনিসুল হক।
পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জেএমবি জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা রাহুল সেন গ্রেফতার, তার আইনজীবী স্ত্রী নজরদারিতে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ এমন এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্যদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়ার যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গ্রেফতার এই ব্যক্তির নাম রাহুল কুমার সেন ওরফে লালু সেন। তার স্ত্রী বাংলাদেশী নাগরিক এবং একজন আইনজীবী। তাকে জেরা করে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য পেয়েছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাক্স ফোর্স ,এসটিএফ। এমন খবর দিয়েছে ভারতের পত্রপত্রিকা।
গত বৃহস্পতিবার বারাসত তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটো ল্যাপটপ, একটি আইপ্যাড, দুটো মোবাইল ফোন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে।
এসটিএফ জানায়, বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসা জঙ্গিদের টাকার যোগান দিতে লালু। এমনকি তারা কোথায় থাকবে, কোথায় আত্মগোপন করবে, নতুন পরিচয়পত্র তৈরি, সব দায়িত্ব সামাল দিতো সে।
পুলিশ জানিয়েছে লালু মূলত জঙ্গিদের ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া এবং আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করত। সেক্ষেত্রে লালু ঠিক কতজনকে এই ব্যবস্থা করে দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের নজরে লালুর স্ত্রীর ভূমিকাও। লালুর স্ত্রী আদৌ তার স্বামীকে জঙ্গি কার্যকলাপে সহায়তা করত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের এসটিএফ লালুকে জেরা করে মোট ২২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেয়েছে। ওই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে জেএমবির সঙ্গে লালু টাকা আদানপ্রদান করত বলে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এছাড়াও তার কাছ হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আসত বলে আগেই জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। জানা যায়, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভারতে জঙ্গিদের গা ঢাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করত সে। তৈরি করে দিত ভুয়ো পরিচয়পত্র। ঠিক কতজনকে এভাবে লালু পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে সাহায্য করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও লালুর স্ত্রীর গতিবিধির দিকে নজর রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, লালুর স্ত্রী সাথী সেন বাংলাদেশের বাসিন্দা। তিনি পেশায় বাংলাদেশের আইনজীবী। সেই সূত্রে একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছে লালু। তার স্ত্রী সাথী স্বামীকে সম্পূর্ণরূপে জঙ্গি কার্যকলাপে সহায়তা করেছে বলেই মনে করছে গোয়েন্দারা।
এছাড়াও জেএমবির অন্যতম নেতা আনোয়ার আলি ওরফে হৃদয়ের সঙ্গেও লালুর যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, মাসদুয়েক আগে হৃদয় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে এসেছিল। সেই সময় প্রায় সপ্তাহখানেক লালুর বাড়িতে ছিল সে। পরে যদিও কোনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোন আসে হৃদয়ের কাছে। তারপরই সে সোজা বাংলাদেশে চলে যায়। কে ফোন করেছিল তাকে, ঠিক কী কথোপকথন হয়েছিল হৃদয়ের তা এখনও জানা যায়নি। কলকাতা পুলিশের এসটিএফ সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছে। হৃদয় তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ এবং আইপ্যাডটি ফেলে যায় লালুর বাড়িতে। সেগুলি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে কোনও তথ্য পাওয়া যায় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে তদন্তকারীরা।
ইভ্যালি গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে অগ্রীম যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে তার হদিস মিলছে না – বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালি গ্রাহক ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে অগ্রীম যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মি. মুনশি বলেন, “তারা মানুষের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে এবং তাদের সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নিয়েছে, তার মোট অঙ্ক প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বেশি। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে তাদের কাছে সেই টাকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।”

“তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করে।”
তদন্ত শেষে গ্রাহকদের ও সাপ্লায়ারদের কাছ থেকে নেয়া টাকার খুব সামান্য অংশের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান মি. মুনশি।
“সেজন্যই প্রশ্ন উঠেছে যে এই বিশাল দায় কীভাবে তারা শোধ করবে?”
ইভ্যালি এর মধ্যে যেই পরিমাণ টাকা গ্রাহক ও ব্যবসায়িক পার্টনারদের কাছ থেকে নিয়েছে, তা ফেরৎ পাওয়ার নিশ্চয়তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বাণিজ্য মন্ত্রী।
“তাদের ফান্ড কোথায় রেখেছে, অন্য কোনো উৎস আছে কিনা সেটা তদন্তের পর জানা যাবে। তবে এখন সেই পরিমাণ টাকার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।”
এ বছরের জানুয়ারি মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে যে পণ্য বেচাকেনার ক্ষেত্রে ইভ্যালি আইন ভঙ্গ করেছে।
এর পর জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত দল ইভ্যালির কার্যক্রমের কিছু অনিয়ম চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
এর পরদিনই বেশ কয়েকটি ব্যাংক ইভ্যালি সহ আরো কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার ভিত্তিতে সেসব প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেন বাতিল করে।
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে দুদক সহ বিভিন্ন সংস্থা যখন নানা অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে, তখন আগাম টাকা দিয়েছেন, এমন গ্রাহকদের পণ্য সরবরাহ পাওয়ার ব্যাপারে নতুন করে উদ্বেগ বা সংকট তৈরি হয়েছে।
গ্রাহকদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, ইভ্যালির সাথে যোগাযোগ করে কোন সাড়া মিলছে না এবং তারা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বন্ধ পাচ্ছেন।
রুবাইয়াত হাসান নামের একজন গ্রাহক জানান, মে মাসের শেষদিকে একটি মোটরসাইকেল কেনার জন্য ইভ্যালিতে প্রায় তিন লাখ টাকা দেন। প্রতিশ্রুতি মত ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারি না দেয়ায় ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার নম্বরে যোগাযোগ করেও সাড়া পাননি।
তবে ইভ্যালির মুখপাত্র শবনম ফারিয়া বিবিসি বাংলাকে জানান, তাদের কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস এখনও ২৪ ঘণ্টা চালু আছে।
মিজ ফারিয়া বলেন, “লকডাউন থাকার কারণে আমাদের অফিসে কেউ যাচ্ছে না, আমরা হোম অফিস করছি। কিন্তু আমাদের ডেলিভারি চালু আছে এবং কাস্টমার কেয়ার ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে।”
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক এসময় কাস্টসার কেয়ারে ফোন করে কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চান মিজ ফারিয়ার কাছে।
এই প্রশ্নের উত্তরে মিজ ফারিয়া বলেন, “আমরা খুব কঠিন সময় পার করছি। অনেকে অনেক কিছু নিয়ে ভীত, তারা ফোন করে বিভিন্ন বিষয়ে খবর জানতে চাইছে। তাই ফোন অনেক সময় ব্যস্ত দেখাচ্ছে। কিন্তু আসলে সবসময় ফোন ব্যস্ত থাকছে, বিষয়টা তেমন নয়।”
ভার্চুয়াল শুনানিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা, কলকাতা হাই কোর্ট কর্তৃপক্ষকে শো-কজ বিচারপতির, বললেন ন্যায়বিচারের শপথ নিয়েছি
বিচার পাওয়ার আশায় বা বিচার পেতে যাঁরা আদালতে আসেন, বিচারপতি সাধারণত তাঁদের দোষগুণ বিচার করেন। তার পর তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রায় দেন। এ বার কোনও বিচারপ্রার্থী নন, বিচারপতি স্বয়ং নিজেকে ও আদালতকে দোষী দাগিয়ে কাঠগড়ায় তুললেন, রায়ও দিলেন। শুক্রবার এমনই ঘটনার সাক্ষী থাকল কলকাতা হাই কোর্ট। ভার্চুয়াল শুনানিতে ব্যাঘাত ঘটার কারণেই বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের রোষের মুখে পড়ে হাই কোর্ট কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয় সেন্ট্রাল প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে শো-কজ করেন বিচারপতি। এমনকি এই ঘটনায় জড়ানো হয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দলকেও।
করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের অন্যান্য আদালতের মতো কলকাতা হাই কোর্টেও চলছে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি। শুক্রবার হাই কোর্টের সাত নম্বর কোর্টে বিচার করছিলেন বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য। অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন আইনজীবীরাও। সেই সময় প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় শুনানি। এজলাসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেন বিচারপতি। অবশেষে পরিষেবা ঠিক না হওয়ায় ভার্চুয়াল পরিচালকদের উপর রুষ্ট হন বিচারপতি। অসন্তোষের সুরে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি হচ্ছে। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক যে আদালত যথাযথ ন্যায়বিচার সরবরাহ করতে ন্যূনতম পরিষেবা ও সংযোগ দিতে অক্ষম।” বিচারপতি আরও বলেন, “আমি এ জাতীয় সার্কাসের অংশ থেকে নিজেকে প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ আদালত ও বিচারকদের থাকার জন্য শীততাপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষের বাইরে অনেক মেহনতি মানুষ রয়েছেন। যাঁরা এই রোদ্দুরে, ধুলাবালি মাখা অবস্থায়ও বিচারের বাণী গুনছেন। আমি ওই মানুষদের ন্যায়বিচার দেওয়ার শপথ নিয়েছি। তাই যতক্ষণ না সমস্যাগুলি পুরোপুরি সমাধান হয়, ততক্ষণ আমি খালি স্টেজ শো করতে কোর্টে বসতে পারব না।”
শুধু এখানেই থেমে থাকেননি বিচারপতি ভট্টাচার্য। ভার্চুয়াল মাধ্যম দেখভালের দায়িত্বে থাকা সেন্ট্রাল প্রোজেক্ট কো-অর্ডিনেটরকে তিনি শো-কজও করেন। তিনি বলেন, “এই ধরণের সমস্যা দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী হাই কোর্টের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে। আমি এই আদালতের অংশ হিসাবে এর জন্য নিজেকে ব্যক্তিগত ভাবে দোষী বলে মনে করি। যে কোনও কারণেই হোক এটা আদালতের কাজে বাধা এবং হস্তক্ষেপ করা। তাই এটা অপরাধ হিসাবে গণ্য হতেই পারে। তাছাড়া এই ধরণের ঘটনা এই প্রথম নয়, আগেও একাধিকবার ঘটেছে। তারপরও নিজেদের ত্রুটি সংশোধন করেনি কো-অর্ডিনেটর। তাই তাদেরকে কেন আদালত অবমাননার দায়ে পড়তে হবে না তার জবাবে শো-কজ নোটিস দেওয়া হবে
এই ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিন্দল ও হাই কোর্টের রেজিস্টার জেনারেলও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। তিনি নির্দেশ দেন, তাঁর আদেশের প্রতিলিপি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পাশাপাশি আদালতের রেজিস্টার জেনারেলকেও দেওয়া হবে। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চান বলেও জানান বিচারপতি ভট্টাচার্য। বিষয়টি নিয়ে বিচার চলার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার এ বিষয়ে বিচারের দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি। আনন্দ বাজার পত্রিকা অনলাইনের সৌজন্যে ।
অধস্তন আদালতের বিচারকসহ সবাইকে করোনার টিকা নিতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা
করোনা মহামারি প্রতিরোধে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোর বিচারক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে টিকা (ভ্যাকসিন) গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালসমূহের বিচারক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা এখনও কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন গ্রহণ করেননি, তাদেরকে নিবন্ধন সম্পন্ন করে আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
‘বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, অধীনস্থ বিচারক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারক তার এবং তার অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোভিড-১৯ টিকাদান কার্ডের কপি সংগ্রহপূর্বক ভ্যাকসিন গ্রহণ সংক্রান্ত তথ্যাবলী সংযুক্ত ছক অনুযায়ী আগামী ১২ আগস্টের মধ্যে সফটকপি এবং হার্ডকপি অত্র কোর্টের রেজিষ্ট্রার, হাইকোর্ট বিভাগের নিকট প্রেরণ করতেও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৬০, বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার
রাজধানীতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৬০ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর বিভিন্ন থানা গোয়েন্দা বিভাগ।
গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত থেকে ১৪,৪২৪ পিস ইয়াবা, ২০০ গ্রাম ১৪০ পুরিয়া হেরোইন, ৮ কেজি ৭০০ গ্রাম গাঁজা ও ১২০ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে শুক্রবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতারসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪১ টি মামলা রুজু হয়েছে।











