ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 104

পেগাসাস কাণ্ডে ওয়াশিংটনপোস্টে বাংলাদেশের নামও রয়েছে: আতঙ্কে সাংবাদিক ,অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ আমলারা

0

পেগাসাস কাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশেও। দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ,আমলা অনেকেই এই অতঙ্কের মধ্যে আছেন। কার মোবাইল নজরদারিতে পড়েছে, কে কখন কী বলেছেন এ নিয়ে নিজেরাই এখন আতঙ্কিত। কবে আবার কী ফাঁস হয়ে যায় এ নিয়েও রয়েছে চিন্তা।
প্রসঙ্গত ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের তৈরি ‘পেগাসাস’ সফটওয়ার ব্যবহার করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, এমনকি কোনো দেশের ক্ষমতাসীন পরিবারের সদস্যদের ওপরও ফোনে আড়িপাতা হয়েছে এমন খবর প্রকাশ হয়েছে সম্প্রতি। যা নিয়ে তোলপাড় চলছে বিশ্বজুড়ে। ৫০ হাজারের বেশি ফোন নম্বরের একটি তালিকা ফাঁস হয়েছে যাদের স্মার্টফোনে আড়িপাতা হয়েছে ।
দ্য গার্ডিয়ান’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’, ‘দ্য ওয়ার’সহ ১৭ টি সংবাদমাধ্যমের একটি সম্মিলিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘পেগাসাস’ নামে পরিচিত একটি ফোন হ্যাকিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষকে নিশানা করা হয়েছিল।
ইজরায়েলের ‘এনএসও গ্রুপ’ নামে একটি সংস্থা ‘পেগাসাস’ সফটওয়ার তৈরী করেছে। এই সফটওয়ার মোবাইলে আড়িপাতার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এ তথ্য ফাঁস হওয়ার পর এনএসও দাবি করেছে তারা নিজেরা কারো ফোনে আড়ি পাতে না। তাদের সফটওয়ার কেউ কিনে নিয়ে ব্যবহার করতে পারে। সেই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি ক্রেতাদেরই বিক্রি করা হয় সেই ফোন হ্যাকিং সফটওয়ারটি। অর্থাৎ কোনো দেশের সরকার ছাড়া এই সফটওয়ার কেউ কিনতে পারেনা এবং ব্যবহারও করতে পারে না।

অতীতে ফোন হ্যাকিংএর জন্য যেসব সফটওয়ার ব্যবহার করা হতো
ইসরায়েলের এনএসও গ্রুপের তৈরি পেগেসাস সফটওয়্যার সেগুলোর চেয়ে অনেক বেশি আপডেট। এর আগের স্পাইওয়্যার ঘরানার সফটওয়্যারগুলো কার্যকর হওয়ার জন্য ব্যবহারকারীর দিক থেকে অন্তত একটি ক্লিকের দরকার হতো। কিন্তু পেগেসাসের ক্ষেত্রে তা দরকার পড়ছে না। লক্ষ্যবস্তুর ব্যবহৃত ডিভাইসের যেকোনো নিরাপত্তা ত্রুটির ফাঁক গলে এই নজরদারি চালু হয়ে যাবে। ব্যক্তির ব্যক্তিগত বলে কিছুই আর থাকবে না। যখন যাকে খুশি, তার অন্দরেই উঁকি মারতে পারবে। দরকার শুধু গ্রাহকের দিক থেকে একটি সবুজ সংকেত।

পেগাসাস কি বাংলাদেশেও ব্যবহৃত হয়েছে?

বিবিসি বাংলা জানিয়েছে বিশ্বের ১৭টি প্রথম সারির মিডিয়া, সাংবাদিকতা বিষয়ক প্যারিস-ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘ফরবিডেন স্টোরিজ‘ এবং সেইসাথে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের পুরোটা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
অনুসন্ধানে যেসব দেশে ব্যাপকহারে এই নজরদারি চালানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে তেমন ১০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু ভারতের নাম রয়েছে। তবে তালিকা আরো লম্বা কিনা তা এখনো অপরিষ্কার।
বিশ্বের প্রায় যে ৫০টি দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি মোবাইল ফোনে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও‘র তৈরি পেগাসাস নামের সফটওয়ারটি ঢুকিয়ে নজরদারির নজির এই অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে তাতে বাংলাদেশের কোনো টেলিফোন নম্বর রয়েছে কিনা তা এখনও অস্পষ্ট।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট, যারা এই অনুসন্ধান প্রকল্পের অন্যতম অংশীদার, সোমবার প্রকাশিত তাদের এক রিপোর্টে বাংলাদেশের নাম লেখা হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের ঐ রিপোর্টে ‘কারা এনএসও‘র ক্রেতা?‘ – এ উপ-শিরোনামে (সাব- হেড) ৪৫ টি দেশের নাম লেখা হয়েছে যেখানে পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে নজরদারি হয়েছে বা হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সেই তালিকায় ভারত, পাকিস্তানের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার আর যে দেশটির নাম রয়েছে তা বাংলাদেশ।
তবে এই তালিকার সূত্র হিসাবে সিটিজেনস ল্যাব নামে ক্যানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বলা হয়েছে।
২০১৮ সালের তালিকায় বাংলাদেশ:
জানা গেছে, সিটিজেনস ল্যাব, পেগাসাসের ব্যবহার নিয়ে তাদের ২০১৮ সালের এক অনুসন্ধানের পর প্রথম বাংলাদেশের নাম করেছিল। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের রিপোর্টে বলা হয়েছে, “কোনো দেশে কোনো মোবাইল ফোনে পেগাসাসের উপস্থিতি পাওয়ার অর্থ এই যে সেদেশের সরকারই পেগাসাসের ক্রেতা।“
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত রিপোর্টে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য না দেয়া হলেও, সরকারের একজন মন্ত্রী পেগাগাস কেনা বা ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
সরকারের টেলি যোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারকে উদ্ধৃত করে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার লিখেছে, “টেলিযোগাযোগ বিভাগ বা তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ এই ধরণের কোনো স্পাইওয়্যার কেনেনি। কেনার কোনো প্রশ্নই আসেনা… বাংলাদেশের মানহানির চেষ্টা হচ্ছে।
ইমসি ক্যাচার:
অবশ্য এ বছরের গোড়ার দিকে কাতারের আল জাজিরা টিভি তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলে নজরদারির জন্য বাংলাদেশ গোপনে ইসরায়েলি প্রযুক্তি কিনেছে – যে খবর নিয়ে সেসময় দারুণ হৈচৈ হয়।
জানুয়ারির শেষ দিকে প্রচারিত আল জাজিরার এক দীর্ঘ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, পিকসিক্স নামের একটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ইমসি ক্যাচার নামে এই যন্ত্র দিয়ে ওয়াই-ফাই, সেলুলার এবং ভিডিও নজরদারি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি হয় এবং ২০১৯ সালে পূর্ব ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরিতে দু’জন ইসরায়েলি গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর চারজন বাংলাদেশি গোয়েন্দাকে প্রশিক্ষণ দেয়।
আল জাজিরা তাদের প্রমাণ হিসাবে নথিপত্র-ছবি-ফুটেজ প্রচার করে, তবে বাংলাদেশে সরকার অবশ্য সেসময় তা অস্বীকার করে।

পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র তৈরির অভিযোগে বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী গ্রেফতার

0

পর্নোগ্রাফিক চলচ্চিত্র তৈরি ও একটি অ্যাপের মাধ্যমে সেগুলো সরবরাহ করার অভিযোগে নামকরা বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠির স্বামী ও ব্যবসায়ী রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই পুলিশ।
মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত রাজ কুন্দ্রাকে ২৩ শে জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চের অধীনে মামলা করা হয়েছিল। এই মামলার তদন্ত চলাকালীন সোমবার রাজ কুন্দ্রাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে যে, মামলায় রাজ কুন্দ্রার জড়িত থাকার বিষয়টির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে তাদের হাতে।
পুলিশ তার বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত রাজ কুন্দ্রার পরিবার বা শিল্পা শেঠির পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি দেয়া হয়নি।

এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুম্বাই পুলিশের একটি দল গ্রিন পার্ক নামে একটি বাংলোয় অভিযান চালিয়েছিল। সেখানে পর্নো চলচ্চিত্রের শুটিং হওয়ার বিষয়ে জানতে পেরে পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়।
সেসময় পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ জনের মধ্যে দুজন অভিনেতা ও দুই তরুণীও ছিলেন।
রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে অভিযোগ কী?
আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলায় বলা হয়: “রাজ কুন্দ্রা হটশট নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও নিয়ে ব্যবসা করছিলেন। যখন গিহান ভাশিষ্ট নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন তিনি উমেশ কামাত নামে একজনের নাম নেন। উমেশ কামাত রাজ কুন্দ্রার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী-পিএ। তিনিই এসব বিষয়ে রাজ কুন্দ্রার জড়িত থাকার কথা পুলিশকে অবহিত করেছিলেন।”
রাজ কুন্দ্রা দাবি করেছেন যে, তিনি তার হটশট অ্যাপটি প্রদীপ বকশী নামে একজন ওয়ান্টেড আসামীর কাছে বিক্রি করেছেন।
তবে পুলিশের এক বিবৃতি বলছে: “তদন্তে জানা গেছে যে, রাজ কুন্দ্রা নিয়মিত এই অ্যাপের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে খবরাখবর নিয়ে আসছিলেন। তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করেছিলেন যার অ্যাডমিনও ছিলেন তিনি নিজেই। এই গ্রুপে তিনি হটশটের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছিলেন। এসম্পর্কিত বিতরণ এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে সেখানে আলোচনাও করতেন তিনি।”
পুলিশের বিবৃতি আরও জানাচ্ছে: “গিহান ভাশিষ্ট ও উমেশ কামাত দুজনই প্রযোজক ও পরিচালক ছিলেন এবং হটশটের জন্য তারা গল্প লিখতেন এবং সেগুলো ইমেইলের মাধ্যমে অন্যদের কাছে পাঠানোর সময় সিসিতে রাজ কুন্দ্রাকে উল্লেখ করা হতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে অনেক আলোচনাও হয়েছে।”

আইপিএল স্পট ফিক্সিংয়েও জড়িত থাকার অভিযোগ:
২০১২ সালে, রাজ কুন্দ্রা আইপিএল স্পট ফিক্সিংয়ের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এবং তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আইপিএল দল রাজস্থান রয়্যালসে রাজ কুন্দ্রার একটি অংশীদারিত্ব ছিল। রাজ কুন্দ্রা ছাড়াও স্পট ফিক্সিংয়ের মামলায় পুলিশ অনেক খেলোয়াড়কে গ্রেপ্তার করেছিল।
আদালতে ২০১৫ সালের ২২ শে জানুয়ারি, বিসিসিআইয়ের তৎকালীন সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের জামাতা এবং চেন্নাই সুপার কিংসের দলের প্রিন্সিপাল গুরুনাথ মেইয়াপ্পান এবং রাজস্থান রয়্যালসের কো-ওনার রাজ কুন্দ্রার বিরুদ্ধে স্পট ফিক্সিং এবং ম্যাচ সম্পর্কিত তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
মুদগাল কমিটির রিপোর্টের পরে সুপ্রিম কোর্ট প্যানেল চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। সেই সাথে মেইয়াপ্পান ও রাজ কুন্দ্রাকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়।
শাল এবং হীরা বাণিজ্য:
রাজ কুন্দ্রার বাবা বালকৃষ্ণ ব্রিটেনে ছোটখাটো একজন বাস কন্ডাক্টর হিসাবে কাজ করতেন। ১৯৯৪ সালে রাজ নেপালে যান এবং এখানে পশমিনা শাল তার ভাগ্য বদলে দিয়েছিল।
নেপাল থেকে তিনি যখন ব্রিটেনে ফিরে আসেন, তখন তিনি কন্টেইনার ভর্তি করে পশমিনা শাল নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বড় বড় সব ব্রিটিশ ফ্যাশন হাউসগুলোতে এই শাল সরবরাহ করেছিলেন। প্রথম বছরেই তিনি প্রায় ২০ মিলিয়ন পাউন্ড লাভ করেছিলেন।
এখন অন্যান্য ব্যবসায়ে হাত দেয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ রাজের কাছে রয়েছে। তবে রাজ কুন্দ্রা কেবল শাল আমদানির ব্যবসাতেই থেমে থাকেননি।
তিনি হীরার ব্যবসাতেও হাত দিয়েছিলেন এবং সেখানেও সফল হন।
রাশিয়া, ইউক্রেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলিতে ব্যবসায়ের সুযোগ দেখে রাজ খনিজ, রিয়েল এস্টেট এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবসার দিকেও ঝোঁকেন।
কথিত আছে যে, মধ্যবিত্ত অবস্থা থেকে ধনী ব্যবসায়ী হওয়ার যাত্রা তার জন্য সহজ ছিল না।
উদাহরণস্বরূপ বলা হয়, তিনি তার কলেজের পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি এবং মাত্র দেড় লাখ রুপি মূলধন দিয়ে তার ব্যবসা শুরু করেন।
শিল্পা শেঠির সাথে বিয়ে:
২০০৪ সালে, সাকসেস ম্যাগাজিনে এশিয়ান বংশোদ্ভূত ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ১৯৮ তম স্থানে উঠে আসেন রাজ কুন্দ্রা। ২৯ বছর বয়সে এই তালিকায় উঠে আসা সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন তিনি।
তিন বছর পরে, অর্থাৎ ২০০৭ সালে, তিনি তার প্রথম স্ত্রী কবিতার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। এর পরে লন্ডনে শিল্পা শেঠি বিগ ব্রাদার নামে একটি টিভি শোতে অংশ নিতে গেলে সেখানে তার সাথে সাক্ষাত হয় রাজ কুন্দ্রার। ধীরে ধীরে তারা কাছে আসতে শুরু করেন।
শিল্পা ও কুন্দ্রা ২০০৯ সালের নভেম্বরে ভারতে বিয়ে করেন এবং একই বছর রাজ কুন্দ্রা আইপিএল টিম রাজস্থান রয়্যালসে ১১.৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নেন।
রাজ বর্তমানে দুই সন্তানের জনক এবং শিল্পা শেঠি ফাউন্ডেশন নামে একটি দাতব্য সংস্থাও পরিচালনা করেন।
পর্নো এবং আইন
পর্নোগ্রাফি বিশ্বজুড়ে একটি বড় ব্যবসা। এতে যৌন ক্রিয়াকলাপ এবং নগ্ন ছবি, ভিডিও, টেক্সট, অডিও এবং অন্যান্য উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পর্নোগ্রাফি বিরোধী আইন এ জাতীয় উপাদান ইলেকট্রনিক্যালি প্রকাশ, কাউকে পাঠানো বা সম্প্রচার এবং বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
বিশ্বের বৃহত্তম পর্ন ওয়েবসাইট হিসাবে বিবেচিত ‘পর্নহাব’-এর মতে, ভারত তার দ্রুত বর্ধনশীল বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, ক্রমবর্ধমান যৌন সহিংসতার পিছনে পর্নো দায়ী। ২০১৮ সালে, ভারতের টেলিযোগাযোগ অধিদফতর দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারী সব কোম্পানিকে ৮২৭টি পর্নো ওয়েবসাইট ব্লক করার নির্দেশ দেয়।
দিল্লি হাইকোর্টে এক ধর্ষণ মামলার শুনানির সময় আসামি বলেছিলেন যে, তিনি ধর্ষণ করার আগে পর্নো ভিডিও দেখেছিলেন। বিবিসি বাংলা।

মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসে বিশ্বজনমত গড়ায় ১২ জন পেলেন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

0

স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রবাসে বিশ্ব জনমত গঠনে ভূমিকা রাখায় দেশের বিশিষ্ট ১২ ব্যক্তিকে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।

সোমবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। এর ফলে এখন থেকে সরকার নির্ধারিত প্রাপ্য সম্মানী ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পাবেন তারা।

স্বীকৃতিপ্রাপ্তরা হলেন- বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক,

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ড. এনামুল হক, দৈনিক মানবকণ্ঠের সাবেক সম্পাদক সদ্য প্রয়াত জাকারিয়া চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজিউল হাসান, বিশিষ্ট গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবদুল মজিদ চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের অন্যতম সহসভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, পাট ও পাটজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী আবুল খায়ের নজরুল ইসলাম, যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেট মাহমুদ আব্দুর রউফ, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী (কায়সার) ও হবিগঞ্জ জেলা আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর আফরাজ আফগান চৌধুরী।
গেজেটভুক্ত সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং পাকিস্তানি গণহত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গঠনে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন। তারা তৎকালীন যুক্তরাজ্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদেরও সদস্য ছিলেন।

জলাধার সংরক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায় প্রকাশ: নতুন দুটি মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ

0

নদী, খাল, বিল, হাওরসহ সব জলাভূমি ও জলাধার সংরক্ষণ ও রক্ষায় ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ ও ‘জলাভূমি’ নামে দুটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে হাই কোর্টের এক রায়ে।
একই সঙ্গে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি’ ও ‘জলাভূমি রক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে পৃথক আইন প্রণয়নেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রায়ে জলাধার বা জলাভূমি দূষণ বা ক্ষতিগ্রস্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প ও শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবাসন ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ‘সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি ও সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের’ মাটি ভরাট কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা সংক্রান্ত হাই কোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ এসেছে।
বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর এই রায় দিয়েছিল।
রোববার রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। ১৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি লিখেছেন বিচারপতি মো. আমরাফুল কামাল। রায়ের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন বিচারপতি রাজিল আল জলিল।
রায়ে সুপারিশের পাশাপাশি কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আদালত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেছে, “এই রায়ের অনুলিপি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণের জন্য পাঠানো হোক, যাতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাংলাদেশের সব জলাভূমি রক্ষায় জরুরিভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।“
হাই কোর্ট গত ডিসেম্বরে শুনানি শেষে রায়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর, জৈনপুর, চরহিস্যা, চরভবনাথপুর, ভাটিয়াবান্দা ও রতনপুরের কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমিতে মাটি ভরাট অবৈধ ঘোষণা করে।
ইউনিক প্রপার্টিজ এই ছয় মৌজার কৃষিজমি, জলাভূমি ও মেঘনা নদীর অংশবিশেষ ভরাট করে সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি নির্মাণের কাজ শুরু করে।
এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৪ সালে রিট করে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)।
শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২ মার্চ হাই কোর্ট রুল জারির পাশাপাশি ওই এলাকায় ইউনিক প্রপার্টিজের মাটি ভরাট কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
এরপর সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের জন্য প্রাক্-যোগ্যতার অনুমোদন পেয়েছে জানিয়ে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড হাই কোর্টের আগের আদেশ সংশোধন চেয়ে আবেদন করে।
এই আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট নিষেধাজ্ঞার আদেশ সংশোধন করে কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ দেয়।
এই আদেশের বিরুদ্ধে বেলা আপিল করলে আপিল বিভাগ হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রাখে। পরে রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রায় দেওয়া হয়।
আদালতে বেলার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মিনহাজুল হক চৌধুরী, আলী মুস্তফা খান ও সাঈদ আহমেদ কবীর।
সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের পক্ষে রুল শুনানি করেন আইনজীবী মুরাদ রেজা ও আহসানুল করিম। ইউনিক প্রপার্টিজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আবু তালেব।
রায়ে ওই ছয় মৌজার কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমি কী পরিমাণ দখল ও বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে, সেটির পরিমাণ ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করার জন্য যৌথভাবে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়া রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে ওই ছয়টি মৌজায় বালু দিয়ে ভরাট করা কৃষিজমি, নিচু ভূমি ও জলাভূমি সোনারগাঁ রিসোর্ট সিটি ও সোনারগাঁ ইকোনমিক জোনের খরচে পুনরুদ্ধার করে আগের অবস্থায় ফেরত আনতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে রায়ে বলা হয়, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ ১১ ও ১২ নম্বর প্রতিপক্ষ থেকে আদায় করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হল।“
জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না
পূর্ণাঙ্গ রায়ে সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, “দেশের সব জলাভূমির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।“
আর ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংরাদেশ বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য’ রিট মামলার রায় তুলে ধরে বলা হয়েছে, “পাবলিক ট্রাস্ট সম্পত্তি তথা জনগণের ন্যস্ত সম্পত্তি তথা জাতীয় সম্পত্তি।
ফলে প্রকৃতি, পরিবেশ, জলবায়ু, জলাভূমি, সমুদ্র, সৈকত, নদ-নদী, নদ-নদীর পাড়, খাল-বিল, হাওর-বাওর, নালা, ঝিল, ঝিরি এবং সব প্রকার উন্মুক্ত জলাভূমি, পাহাড়-পর্বত, বন, বন্যপ্রাণী এবং বাতাস বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সকল পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০ এর ৫ ধারা মোতাবেক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গায় শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না।“
জলাধার বা জলাভূমি দূষণ বা ক্ষতিগ্রস্ত করে উন্নয়ন প্রকল্প, শিল্পাঞ্চল বা অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়
‘জলাধার কনভেনশন’ নামে পরিচিত আন্তরাষ্ট্রীয় বৈশ্বিক চুক্তি ‘রামশার কনভেনশন’ অঙ্গীকার তুলে ধরে রায়ে বলা হয়েছে, “রামশার কনভেনশন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সকল জলাভূমির তালিকা করে তা রামশার কনভেনশনের তালিকাভূক্তিকরণ, সংরক্ষণ এবং বিচক্ষণ ব্যবহার (ওয়াইজ ইউজ) করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিকট অঙ্গিকারাবদ্ধ।“
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ এর ৩৩ ধারা তুলে ধরে বলা হয়েছে, “পরিবেশ আইন ও সরকার স্বীকৃত, অনুমোদিত পরিবেশগত আন্তর্জাতিক সব কনভেনশন, প্রটোকল এবং আইন মেনে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কোনোভাবেই এসব আইনের পরিপন্থি কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।“
সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ, অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন ২০১০, রামশার কনভেনশন, তুরাগ নদীর রায় অনুযায়ী প্রকৃতি ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো উন্নয়ন প্রকল্প, শিল্পাঞ্চল এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা যাবে না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
সুপেয় বা পানযোগ্য, নিত্য ব্যবহার উপযোগী পানি, ফলন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সেচের পানি তেলের চেয়েও মূল্যবান উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, “তেল বা জীবাশ্ম জ্বালানি ছাড়া মানবজাতি চলতে পারে। কিন্তু সুপেয় বা পানযোগ্য পানি বা নিত্য ব্যবহার উপযোগী পানি ছাড়া মানবজাতি, প্রাণীকুল, জীবজগৎ এক মুহূর্ত চলতে পারবে না।“
বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সুপেয় পানির ভাবিষ্যত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে রায়ে।
এতে বলা হয়েছে, “সৌদি আরব যদি তেলের খনির অধিকারী হয়, তাহলে বাংলাদেশ সুপেয় পানি বা ব্যবহার উপযোগী পানির অধিকারী। ভবিষ্যতে এক গ্যালন তেলের দামের চাইতেও দশগুন বেশি দাম দিয়ে পানি কিনতে হতে পারে।“
তাই সুপেয় পানি বা ব্যবহার উপযোগী পানির ক্ষেত্র বা উৎসের ক্ষতি করে কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনা না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে রায়ে।
পাশাপাশি নবায়ণযোগ্য জ্বালানি আইন প্রণয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি কমিশন গঠনসহ ১৪টি সুপারিশ করা হয়েছে রায়ে।
এগুলো হল-
>> জার্মানির নীতি অনুসরন পূর্বক বাংলাদেশকে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা;
>> এই সংক্রান্ত রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন;
>> ‘সাইকেল লেন ছাড়া কোনো সড়ক নয়’ নীতি অবলম্বন করে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সকল সড়ক ও মহাসড়কে বাধ্যতামূলক বাইসাইকেল লেন এবং সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণ;
>> বাংলাদেশের সকল নদ-নদী এবং খালের উভয় পাড়ে পার্ক স্থাপন, হাঁটার পথ এবং বাইসাইকেলের জন্য পৃথক লেন করা;
>> বাংলাদেশকে নেদারল্যান্ডসের মত বাইসাইকেলের দেশ হিসেবে তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
>> বাংলাদেশের সকল বিল, হাওর-বাওর, নালা, ঝিল, ঝিরিসহ সকল জলাভূমির চারপাশে সুরক্ষা বেষ্টনী দিয়ে পায়ে চলার পথ তৈরি করা’
>> প্লাস্টিক ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে ১ হাজার ২০০ বছরের পুরনো জাপানের ঐহিত্যবাহী ফুরসকি ব্যাগ তথা বাজার করার ব্যাগ তথা মোড়ানো কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের প্রচলন করা;
>> সকল উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইকোসেন্ট্রিক তথা প্রকৃতিকেন্দ্রীক পন্থা অবলম্বন গ্রহণ করা;
>> জেনোসাইডের মত ইকোসাইডকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন, ১৯৭৩ এর ৩ ধারায় অন্তর্ভূক্তকরণ;
>> বাংলাদেশের সকল জাতীয় পার্কে, জাতীয় উদ্যানকে পৃথক ব্যবস্থাপনা, রক্ষণ, সংরক্ষণ এবং পারিচালনার নিমিত্তে পৃথক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করে আমেরিকার জাতীয় উদ্যানের আদলে বিশেষ করে ইয়োসমেটিক ন্যাশনাল পার্কের আদলে তৈরি করা;
>> বাংলাদেশের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যগুলো (সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ শহর এবং পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার) বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে রক্ষণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে পৃথক কর্তৃপক্ষ তথা বিশ্ব ঐতিহ্যগুলো সুন্দরবন, বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ শহর এবং পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহার রক্ষণ, সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা।
মামলাটি চলমান (কন্টিনিউয়াস মেন্ডামাস) রেখে রায়ে জলাভূমির সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে আলাদা ‘জলাভূমি মন্ত্রণালয়’ সৃষ্টির পাশাপাশি জলাভূমি সুরক্ষা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় দ্রুত আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ ‘রামশার কনভেনশন’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন করেছে সেহেতু উক্ত অঙ্গীকার এবং চুক্তি বাস্তবায়নে দ্রুত জাতীয় নীতিমালা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব ও কর্তব্য।
রায়ের আরও কিছু নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত। এতে বলা হয়েছে, “অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০ এর ৩৩ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আবেদন করলে আবেদনপত্রের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র সংযুক্তকরণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।“
ডিজিটাল ডাটাবেজ প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসপিএ, আরআর এসও সেটেলাইটের সাহায্যে আরএস/জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশেল সব জলাভূমির ভৌগলিক অবস্থান নির্ণয় এবং জীব বৈচিত্র বিষয়ক তথ্যাদি সংগ্রহ করে দেশের সকল ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলার ম্যাপ প্রস্তুত করে উন্মুক্ত স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
আদালত সরকারি–বেসরকারি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই মাস অন্তর এক দিন এক ঘণ্টাব্যাপী জলাভূমির প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা, রক্ষা ও দূষণ বিষয়ে সচেতনতামূলক ক্লাস নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
নির্দেশ অনুসারে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্লাস নিচ্ছে কি না, তা তদারক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলায় প্রতি তিন মাস অন্তর এক দিন জলাভূমির প্রয়োজনীয়তাবিষয়ক দিনব্যাপী র‍্যালি, চিত্র প্রদর্শনী, বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা, আলোচনা ও সেমিনার করতে পরিষদগুলোর চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। বিডি নিউজ ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশকাণ্ডে মাসুদসহ ৭ প্রকৌশলীর জামিন বাতিলে হাইকোর্টের রুল

0

‘বালিশকাণ্ড’ হিসেবে বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে হওয়া মামলায় পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ ৭ প্রকৌশলীর জামিন কেন বাতিল করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
সোমবার জামিন বাতিলে দুদকের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ এই দুই সপ্তাহের রুল দেন।
দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
পাবনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিন সিটি প্রকল্পের ২০ ও ১৬ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক দামে বালিশসহ আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী কেনায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর পাবনায় পৃথক চারটি মামলা করে দুদক।
দুদকের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন ও উপ-সহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে পাবনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এসব মামলা করেন।
ওই প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে ২০১৯ সালের ১৬ মে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লীতে ২০ তলার ১১টি ও ১৬ তলার আটটি ভবন হচ্ছে। এরই মধ্যে ২০ তলার আটটি ও ১৬ তলার একটি ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।
ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য একটি বৈদ্যুতিক চুলার দাম ধরা হয়েছে সাত হাজার ৭৪৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ টাকা, একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং তা ভবনে তুলতে খরচ ধরা হয়েছে ৭৩০ টাকা। একটি বৈদ্যুতিক কেটলির দাম পাঁচ হাজার ৩১৩ টাকা, যা তুলতে খরচ দেখানো হয়েছে দুই হাজার ৯৪৫ টাকা।
৭ প্রকৌশলী হলেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আহমেদ সাজ্জাদ খান ও মোস্তফা কামাল, উপ সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল কবীর, শফিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. তারেক ও আমিনুল ইসলাম।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না,জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়

0

ইভ্যালির বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ইভ্যালিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় পাশাপাশি কোম্পানিটির ব্যবসা পদ্ধতিও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের কাছে এ চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।১ আগস্টের মধ্যে ইভ্যালিকে নোটিশের জবাব ও ব্যবসা পদ্ধতি জানানোর সময় দেওয়া হয়েছে। কারণ দর্শানোর সঙ্গে ছয়টি বিষয় আবশ্যিকভাবে জানাতে হবে ইভ্যালিকে—নোটিশে এ কথাও বলা হয়েছে।

ছয় প্রশ্ন
১. প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়েছে, গত ১৪ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক ও মার্চেন্টদের নিকট মোট ৪০৭ কোটি টাকা দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির কাছে মাত্র ৬৫ কোটি টাকা চলতি সম্পদ থাকার কারণ কী? বাকি টাকা ইভ্যালির কাছে আছে কি না। থাকলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে, না থাকলে দিতে হবে পরিপূর্ণ ব্যাখ্যা।
২. ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকের কাছে মোট দায়ের পরিমাণ কত, গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের বিনিময়ে যে পণ্য দেওয়ার কথা, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা কী এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
৩. ১৫ জুলাই পর্যন্ত মার্চেন্টদের নিকট দায়ের পরিমাণ কত এবং তা পরিশোধের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
৪. ব্যবসা শুরুর পর থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি কী টাকা নিয়েছে, মার্চেন্টদের কত অর্থ পরিশোধ করেছে এবং প্রশাসনিক ও অন্যান্য খাতে কী পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ।
৫. ইভ্যালির ব্যবসা পদ্ধতি এবং বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের পরিকল্পনা।
৬. ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো ব্যবসা পদ্ধতি বা কার্যক্রম ইভ্যালিতে এখনো আছে কি না, থাকলে কী—এসব বিষয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে ইভ্যালি গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়েও যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করছে না। যেসব মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য নেওয়া হয়েছিল, তাদেরও অর্থ পরিশোধ করছে না ইভ্যালি। এসব কার্যকলাপের ফলে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা এবং বিক্রেতার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৬ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, সে অনুযায়ী গ্রাহকের কাছে ২১৪ কোটি এবং মার্চেন্টের কাছে ১৯০ কোটি টাকার দায় রয়েছে ইভ্যালির। এ দায়ের বিপরীতে ইভ্যালির মোট সম্পদ ৯২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৬৫ কোটি টাকা মাত্র চলতি মূলধন। নোটিশে এ তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইভ্যালির বিভিন্ন কার্যকলাপের ফলে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা এবং বিক্রেতার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি এবং এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কিত এক বৈঠকে ইভ্যালিকে এই নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় রোববার। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) এবং ই–কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল ফোন উদ্ধার

0

ছিনতাইয়ের ৫০ দিন পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান ডিএমপি রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান।
সাজ্জাদুর রহমান বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করেছে ডিএমপি। একই সঙ্গে ফোন চোরাই চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার  করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ছগির, সুমন মিয়া, জাকির, আরিফ ও জীবন। আরিফের ল্যাপটপে থাকা ছবির সূত্র ধরে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ১২ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় একজনের ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ মামলা তদন্ত করতে গিয়ে সগির ও সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসা করে জাকির নামের একজনের নাম জানা যায়। জাকিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরিফের নাম জানা যায়। পরে আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, আরিফের ল্যাপটপ অনুসন্ধান করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এর মোবাইল ফোনের একটি ছবি পাওয়া যায়। পরে আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জীবনের নাম পাওয়া যায়। আর জীবনকে গ্রেপ্তার করার পর পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের চুরি হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, জীবনের কাছ থেকে আরও কয়েকটি চোরাই মোবাইল জব্দ করা হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রীর ফোনটি কে ছিনতাই করেছিল, এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনা মন্ত্রীর মুঠোফোনটি উদ্ধারের পর আমরা মিরপুর বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা জানিয়েছে, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এর মুঠোফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজনকে তারা গ্রেপ্তার করেছে। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় আমরা এখনো জানতে পারিনি। তবে আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মোবাইলফোন ছিনতাইয়ের সঙ্গে ছগির ও সুমন জড়িত ছিলেন।’
এর আগে গত ৩১ মে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে বের হয়ে বিজয় সরণির ট্রাফিক সিগন্যালের যানজটে আটকা পড়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানকে বহনকারী গাড়িটি। তখন গাড়ির গ্লাস খুলে মোবাইলফোনে কথা বলছিলেন মন্ত্রী।

এ সময় হঠাৎ এক ছিনতাইকারী ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পরপরই পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারী কাফরুল থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনার ৫০ দিন পর ফোনটি উদ্ধার করা সম্ভব হলো।

বিশ হাজার টাকার জন্য বাড়ির মালিককে খুন, দু’দিনেই হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ গ্রেফতার হলো খুনী

0

বিশ হাজার টাকার জন্য বাড়ির মালিককে খুন। তারপর সেই মৃতদেহ বাথরুমে ফেলে উধাও হত্যাকারী। কিন্তু তার সেই পলায়ন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি, হত্যার দুইদিনের মধ্যে সে ধরা পড়ে পুলিশের জালে। উদঘাটন হয় একটি ক্লুলেস হত্যা মামলার মূল রহস্য।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এর কাশিমপুর থানার ওসি মাহবুব এ খোদা জানান, গত ১৫ জুলাই,বিকেল সাড়ে পাঁচটায় দক্ষিণ পানিশাইল পদ্মা হাউজিং প্রকল্পে এ ব্লকে নির্মাণাধীন একটি ভবনের ৩য় তলার বাথরুমে অর্ধ গলিত গলাকাটা একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। যা স্থানীয়রা উক্ত বাড়ির মালিক আমিনুল ইসলাম খন্দকার ওরফে বাবুল (৬০) এর বলে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়।
গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া অপরাধ (উত্তর) বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রেজওয়ান আহমেদ জানান, নির্মাণাধীন ভবনের এই হত্যা মামলাটি ছিল সম্পূর্ন ক্লুলেস। তাই থানা পুলিশের পাশাপাশি একাধিক টিম এই ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মৃতদেহ পাওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ১৭ জুলাই ভোর রাতে আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয় হত্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম সোহাগকে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি।
হত্যাকান্ডের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ১৩ জুলাই, রাত অনুমান আটটায় আসামী জাহাঙ্গীর আলম সোহাগ ভিকটমের নির্মাণাধীন ৫ম তলা ভবনের ৩য় তলায় উঠে ভিকটিমকে ফোন করে বলে আপনার নির্মাণাধীন ভবনে ২/৩ জন লোক উঠেছে। ভিকটিম তখন উপরে উঠে মোবাইল ফোনের আলোতে লোক খুঁজতে থাকেন। কাউকে না পেয়ে ৩য় তলায় ঘটনাস্থল কক্ষে চেক করার সময় পেছন থেকে জাহাঙ্গীর তার মুখ চেপে ধরে বিশ হাজার টাকা দাবি করে। আমিনুল ইসলাম টাকা দিতে না চাইলে আসামীর কাছে থাকা ধারালো গার্মেন্টস এর কাটিং ছুরি গলায় ধরে ভয় দেখায়। তখন তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এতে করে জাহাঙ্গীরের হাত সামান্য কেটে ও ছিলে যায়। আমিনুল ইসলাম বাঁচার জন্য আসামীর ডান হাতের আঙ্গুলে কামড় দিলে জাহাঙ্গীর ভিকটিমের গলায় ধারালো কাটিং ছুরি দিয়া আঘাত করে। ভিকটিম এর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর জাহাঙ্গীর ভিকটিমের পাঞ্জাবীর পকেট থেকে ৯৯৭ টাকা নিয়ে নেয় এবং মৃতদেহটি বাথরুমের ভিতর লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ বেশকিছু সূত্র ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই খুনের রহস্য উদঘাটন করতে ও খুনিকে ধরতে সক্ষম হয়।

দুদকের মামলা: পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডিএডি মোতালেব স্ত্রীসহ কারাগারে

0

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহানকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন। দুদকের আদালত পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পরিদর্শক বলেন, রোববার আদালতে দুই আসামি আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ৩০ জুন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ সংস্থাটির উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে মোতালেব হোসেন ও তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ আনা হয় মোতালেব দম্পতির বিরুদ্ধে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, মোতালেব হোসেন ২০০৪ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৭৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৯ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। তিনি দুদকে জমা দেওয়া সম্পদের হিসাব বিবরণীতে ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৮ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেন। এ ছাড়া জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত ৪১ লাখ ২৩ হাজার ৩৮৯ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভোগদখল করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। অন্য মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোতালেব হোসেনের স্ত্রী ইসরাত জাহান ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেন। দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ২৫৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন। সব মিলিয়ে তিনি জ্ঞাত আয়ের উৎসবহির্ভূত ৩ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকার সম্পদ অর্জন ও দখলে রেখেছেন।

একুশে পদক ২০২২ এর জন্য মনোনয়ন প্রস্তাব আহবান

0

শিল্প-সংস্কৃতি,মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি (জীবিত/মৃত), গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার নিকট হতে একুশে পদক ২০২২ এর জন্য মনোনয়ন প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
রোববার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা, সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সকল জেলা প্রশাসক এবং স্বাধীনতা পদক/ একুশে পদকে ভূষিত সুধীবৃন্দকে আগামী ১৫ অক্টোবর, ২০২১ এর মধ্যে মনোনয়ন প্রস্তাব সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলি ও একুশে পদক নীতিমালা এবং মনোনয়ন প্রস্তাবের ফরম সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে পাওয়া যাবে।
একুশে পদক প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছর ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সংগীত, নৃত্য, অভিনয়, চারুকলাসহ সকল ক্ষেত্র), মুক্তিযুদ্ধ, সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, অর্থনীতি, সমাজসেবা, রাজনীতি, ভাষা ও সাহিত্য এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন ক্ষেত্রে এ পদক প্রদান করা হয়ে থাকে।