ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 107

ফুড কারখানায় আগুনে মৃত্যু: ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ভূমিকায় অসন্তোষ হাইকোর্টের, নারায়ণগঞ্জ আদালতে ২ আসামির জামিন

0

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ এই অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর আগে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। শুনানিতে অংশ নেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক।

হাইকোর্ট বলেন, এতজন শ্রমিক মারা গেলেন, এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো কোনো শোক জানাল না। শোক জানিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কোনো বিবৃতি চোখে পড়ল না। কোনো বিবৃতি দেখি নাই। তাদের ন্যূনতম দায়বদ্ধতা নেই। তারা আছেন শুধু সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় আর ব্যাংকের ঋণ লোন কীভাবে মওকুফ পাওয়া যায় সে চেষ্টায়।
হাইকোর্ট আরও বলেন, এফবিসিসিআই শ্রমিকদের মৃত্যুর বিষয়ে শোক জানাল না। তাদের কোনো প্রতিনিধি দল সেখানে গেল না। আমার মনে হয় এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর রোল প্লে করার প্রয়োজন এসব ক্ষেত্রে। ঠিকমতো ফ্যাক্টরিগুলো রান করছে কি না। কোথায় কী দুর্বলতা এগুলো তাদের দেখা উচিত।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি পত্রপত্রিকা ফলো করার চেষ্টা করি। তাদের (ব্যবসায়ী সংগঠন) কোনো পজিটিভ ভূমিকা দেখি না। আমার মনে হয় যে আমাদের এই জায়গাগুলোতে কাজ করার সুযোগ আছে।
২ ছেলের জামিন, বাবাসহ কারাগারে ৬ :
সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দুজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমসহ গ্রেপ্তার ৮ জনের মধ্যে বাকি ৬ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার বিকালে তাদের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষ সব আসামির জামিনের আবেদন করলে আদালত শুনানী শেষে দুই জনের জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন প্রাপ্তরা হলেন, আবুল হাশেমের ছেলে তাওসীব ইব্রাহীম (৩৩) ও তানজীম ইব্রাহীম (২১)। কারাগারের পাঠানো আসামিরা হলো- সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেম (৭০), তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম ওরফে সজীব (৩৯), তারেক ইব্রাহীম (৩৫), প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শাহ আজাদ (৪৩), হাসেম ফুড লিমিটেডের ডিজিএম মামুনুর রশিদ (৫৩) ও এডমিন প্রধান সালাউদ্দিন (৩০)। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১০শে জুলাই গ্রেপ্তার হওয়া ৮ জনকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত প্রত্যেকের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের চেষ্টায় ২৯ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় অন্তত ৫২ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এখনো বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

এরশাদের জাতীয় পার্টিতে গৃহবিবাদ তুঙ্গে, মা-ভাইদের নিয়ে নতুন কমিটি দিলেন এরিক এরশাদ

0

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে গৃহবিবাদ আরেক দফা বাড়লো। এরশাদের মৃত্যুর দ্বিতীয় বার্ষিকীতে তাঁর পুত্র এরিক এরশাদ জাতীয় পার্টির নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন। এতে এরশাদের স্ত্রী সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। কো-চেয়ারম্যান করা হয়েছে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক এবং এরশাদের ছেলে সংসদ সদস্য রাহগীর আল মাহি সাদকে। আর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদকে।
বুধবার রাজধানীর বারিধারায় এরশাদের বাড়ি প্রেসিডেন্ট পার্কে এই নতুন কমিটির ঘোষণা দেন এরশাদ ও বিদিশার ছেলে এরিক এরশাদ। এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিল শেষে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এই কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় এরশাদের ছোট ভাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘রাজনৈতিক দল করার অধিকার সবারই আছে, তবে একসঙ্গে দুটি দল করা যায় না। এ ছাড়া দল করতে হলে নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধনও নিতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘কে, কাকে, কী ঘোষণা দিয়েছে তা জানি না। যে কেউ যেকোনো ঘোষণা দিতে পারে।’

এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট পার্কের অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে রওশন এরশাদের নাম লেখা থাকলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এরিক বলেন, ‘আমার বাবা যখন অসুস্থ, তখন রাতে আমার বাবাকে জিম্মি করে আমার চাচা জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান পদ লিখেয়ে নিয়েছেন। জাতীয় পার্টি আজ ধ্বংসের মুখে। তিনি অবৈধভাবে চেয়ারম্যান পদটি নিয়েছেন আমরা তাকে মানি না।’
এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর মিলাদ মাহফিলে রওশন উপস্থিত না থাকলেও তার ছেলে সাদ এরশাদ ছিলেন। এ ছাড়া এরিকের মা বিদিশাও ছিলেন। জাতীয় পার্টিকে ‘জঞ্জালমুক্ত’ করার কথা উল্লেখ করে সাদ এরশাদ বলেন, ‘বেশি পলিটিক্যাল কথা বলতে আসিনি। আজ আমার আব্বার মৃত্যুবার্ষিকী। সবাই আমাদের দলের প্রতিষ্ঠার জন্য দোয়া করবেন। আমার আম্মা বিরোধীদলীয় নেতা, উনার বয়স হয়েছে। উনার জন্য দোয়া করবেন। আজকে আসতে পারেননি।’
মিলাদ মাহফিলে জাতীয় পার্টির বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে ‘অবৈধ’ দাবি করে এরিক বলেন, ‘তার কাছ থেকে দলকে বাঁচাতে হবে। আমার মা রওশন এরশাদকে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে এবং কো-চেয়ারম্যান হিসেবে আরেক মা বিদিশা এরশাদ ও ভাই রহগীর আল মাহি সাদ ওরফে সাদ এরশাদের নাম ঘোষণা করছি। আর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা করছি এরশাদ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান কাজী মামুনুর রশীদের নাম।’
এরিকের এই ঘোষণার সময় তার পিঠ চাপড়ে উৎসাহ দেন বিদিশা। তিনি বলেন, ‘এরিকের প্রস্তাবিত নতুন কমিটি কাজ শুরু করবে। আমার দুই ছেলে সাদ ও এরিককে নিয়ে এরশাদের স্বপ্নের দেশ গড়তে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করব আমরা।’
এইচ এম এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন খানও উপস্থিতি ছিলেন।

পাকিস্তানে চীনা ইঞ্জিনিয়ার বহনকারী বাসে বোমা, সৈন্যসহ নিহত ১৩

0

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে কোহিস্তানে নামে একটি শহরে চীনা ইঞ্জিনিয়ার বহনকারী একটি বাসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দেশটির সৈন্যসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, কোহিস্তানে একটি বাস যাত্রী নিয়ে সেখানকার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে যাচ্ছিল। বাসটিতে কয়েকজন চীনা প্রকৌশলী ছিলেন। এ ছাড়া দেশটির দুজন সেনা ছিলেন। বোমা হামলায় ৯ চীনা নাগরিক এবং ওই দুই পাক সেনা নিহত হয়েছেন। মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে সেখানে।
বোমা হামলার ঘটনায় নিজ দেশের নাগরিকের মৃত্যুতে নিন্দা জানিয়েছে চীন সরকার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রদের মধ্যে একজন ঝাও লিজিয়ান জানান, পাকিস্তান এ হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং সে দেশে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে তারা আশা করেন।
পাকিস্তান সরকারের এক মুখপাত্র এ হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে বর্ণনা করেছেন।
বোমা হামলার ঘটনার পর হামলাস্থল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পুলিশ। তবে, এখন পর্যন্ত বোমাটি কীভাবে বিস্ফোরণ হয়েছে তা নির্ণয় করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। বোমাটি রাস্তার পাশে পেতে রাখা হয়েছিল, না কি বাসের মধ্যেই ছিল তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাকিস্তানী কর্মকর্তারা বলছেন, বিস্ফোরণের পর বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। বাসটিতে কয়েক ডজন যাত্রীর মধ্যে চীনা প্রকৌশলীরাও ছিলেন যারা কোহিস্তানের ঐ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন।

রাজধানীতে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৪ ডাকাত রিমান্ডে

0

রাজধানীতে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি করে আসা চার ডাকাতের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী এ রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- জাহিদ হাসান ওরফে রেজাউল, মানিক ব্যাপারী ওরফে দারোগা মানিক, ফারুক হোসেন ওরফে নাসির উদ্দিন ও রুবেল সিকদার ওরফে রুস্তম। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মাহবুবুল হক আসামিদের আদালতে হাজির করে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। এছাড়া অস্ত্র আইনের মামলায় আসামি মানিক বেপারীর আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে খেলনা পিস্তল হওয়ায় অস্ত্র মামলায় মানিকের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। শুনানিকালে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বসিলা এলাকায় অস্ত্র ও পুলিশের সরঞ্জামসহ ডিবির জ্যাকেট পরে চেকপোস্টের মাধ্যমে ডাকাতি করার প্রস্তুতিকালে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিম। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বন্দুক, একটি চাপাতি, দুটি ছোরা, তিনটি ডিবি লেখা জ্যাকেট, একটি খেলনা পিস্তল ও কভার, একটি ওয়্যারলেস সেট, সেলাইরেঞ্চ চাবি ও এক জোড়া হ্যান্ডকাফসহ নগদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

পাকিস্তানে দুটি কুকুরের ‘মৃত্যুদণ্ড’

0

আবাসিক এলাকায় প্রাতঃভ্রমণে বের হয়েছিলেন মির্জা আখতার নামের এক আইনজীবী। এ সময় পাকিস্তানের করাচির এক সড়কে দুটি কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এর বিচারে ওই দুটি কুকুরকে ‘মৃত্যুদণ্ড’ দেওয়া হয়। তবে এই শাস্তি কোনো আদালতে দেওয়া হয়নি। বরং কুকুরের মালিক হুমায়ুন খান ও আইনজীবী মিলে এই শাস্তি দিয়েছেন।
গাল্ফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিনের মতো গত মাসের এক সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন মির্জা আখতার। এ সময় দুটি কুকুর তার ওপর হামলা করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফাঁকা সড়কে দুটি কুকুর আইনজীবীর ওপর চড়াও হয়। ওই ভিডিওটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়।
এরপর কুকুরের মা‌লিক হুমায়ুন খানের সঙ্গে ও আইনজীবী মির্জার মধ্যে সমঝোতা হয়। শেষ পর্যন্ত কুকুরের মালিককে ক্ষমা করে দিতে রাজি হয়েছেন, তবে শর্তসাপেক্ষে। প্রধানতম শর্তই হলো কুকুর দুটিকে কোনো পশু চিকিৎসকের সাহায্য নিয়ে বিনা যন্ত্রণায় মেরে ফেলতে হবে। ওই ধরনের আরও কুকুর তার কাছে থাকলে তাকেও দিতে হবে।
এ ছাড়া আইনজীবীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে কুকুরের মালিককে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো হিংস্র কুকুর তিনি পুষবেন না। আরেকটি শর্ত ছিল, যদি তার কোনো পোষ্য থাকে, তবে ক্লিফটন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে সেটির নাম নথিভুক্ত করতে হবে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হ্যান্ডলার ছাড়া সেই পোষ্যকে রাস্তায় বের করা যাবে না।
এমনই নানা শর্তের মাধ্যমে বোঝাপড়া হয়েছে। সাক্ষীদের দিয়ে সইও করানো হয়েছে। তা আদালতে জমাও দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের বোঝাপড়ার ঘটনায় পশুপ্রেমীরা হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

কঠোর লকডাউনেও কমেনি মাদক পাচার, একদিনে শুধু তেজগাঁও থেকেই ৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার

0

একদিনে শুধু রাজধানীর তেঁজগাও থানা এলাকা থেকে প্রায় ৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। কঠোর লকডাউনের মধ্যেই রাজধানীতে অবাধে চলছে মাদক বেচাকেনা। গাঁজা আর ইয়াবায় ছেয়ে গেছে রাজধানী। সোমবার হাতিরঝিল থানা এলাকা থেকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ আবু জাহের ও মোঃ শাহাদত হোসেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় হাতিরঝিল থানার শেখ দিলু বেপারী ওয়া্কফ এষ্টেট জামে মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, কুমিল্লা হতে গাঁজা সংগ্রহ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে। এদিকে সোমবার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা থেকে ৮ কেজি গাঁজাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ শাহাদত মোল্লা, মোঃ মাসুম মিয়া ও মোঃ কবির বিশ্বাস। দুপুরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার তিব্বত কলোনী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে একই দিন তেজগাঁও থানা এলাকার খামারবাড়ি খেঁজুর বাগান থেকে ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে তেজগাঁও থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ হানিফ ও মোঃ ওয়াশিকুর রহমান তালাশ। এসময় গাঁজা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার ও চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
তেজগাঁও থানার ওসি মোঃ সালাহ উদ্দিন মিয়া জানান, সোমবার সকালে খামারবাড়ি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের সার্জেন্ট মোঃ নাজমুল হুদা ও কনস্টেবল মোঃ শাহজাহান।এ সময় খামারবাড়ির খেজুর বাগান মোড়ে একটি প্রাইভেট কারকে থামার জন্য সিগন্যাল দেন সার্জেন্ট মোঃ নাজমুল হুদা। এরপর গাড়ির কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা অসংলগ্ন আচরণ করতে থাকে। পুলিশের সন্দেহ হলে গাড়ির ব্যাক ডালা খুললে সেখানে দুইটি বস্তায় বিভিন্ন সাইজের ২৫টি প্যাকেটে গাঁজা রাখা দেখতে পান। যার পরিমাণ ৪০ কেজি। উক্ত গাঁজাসহ হানিফ ও ওয়াশিকুর রহমান তালাশকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকা হতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেরিবাঁধ এলাকায় এ গাঁজা নিয়ে যাচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।

ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে ৯ দিন সব খোলা, এর পর ফের ‘কঠোর বিধিনিষেধ’

0

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার এক প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছে, ঈদুল আযহা উদযাপনের জন্য চলমান বিধি-নিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
১৪ই জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩শে জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত সব ধরণের বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে।
কারণ হিসেবে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে এ সময়ে অর্থনৈতিক সব কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এরপর ২৩শে জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ই অগাস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সরকার বলছে ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
ওই সময়ে জনগণকে মাস্ক পরা এবং কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এসময় জনসাধারণের যাতায়াতে বাধা থাকবে না, এবং ঈদ সামনে রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।
২৩শে জুলাই থেকে আবার ‘কঠোর’ লকডাউন:
প্রজ্ঞাপনে ২৩শে জুলাই ভোর ৬টা থেকে ৫ই অগাস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন করে যে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলেছে, তাতে ২৩টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
এর মধ্যে কয়েকটি:
* সকল সরকারি, আধাসরকারী, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে
* সড়ক, রেল ও নৌ-পথে গণপরিবহন, অভ্যন্তরীণ বিমান ও সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে
* শপিংমল মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে
* সকল পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে
* সব শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে

* জনসমাবেশ হয় এমন সামাজিক অনুষ্ঠান, যেমন বিয়ের অনুষ্ঠান-জন্মদিন-পিকনিক ইত্যাদি, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে
* আইনশৃঙ্খলা, জরুরি পরিষেবা, খাদ্যদ্রব্য পরিবহণ ত্রাণ বিতরণ, রাজস্ব আদায়, সরকারি ও বেসরকারি টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।
* অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেমন ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকারের মত কাজ ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে
* কাঁচা বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে
* খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রি করতে পারবে
* বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় সেনাবাহিনী মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে
* আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকেট দেখিয়ে গাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে
* পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান, কার্গো ভেসেল নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকব
* বন্দরসমূহ অর্থাৎ বিমান, নৌ ও স্থল বন্দর এবং এর সাথে সম্পৃক্ত অফিস বিধিনিষেধের আওতার বাইরে থাকবে
* টিকা কার্ড দেখিয়ে কোভিডের টিকা গ্রহণ করতে যাওয়া যাবে
* বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে
* প্রত্যেক জেলার ম্যাজিস্ট্রেট নিজ জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলের অধিক্ষেত্র, সময় ও এলাকা নির্ধারণ করবেন।
* মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ নিশ্চিত করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
* স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করতে পারবেন।
* ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ নির্দেশনা দেবে
* বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ নির্দেশনা দেবে
* সরকারি কর্মচারীগণ নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে হবে, এবং দাপ্তরিক কাজসমূহ ভাচুয়ালি সম্পন্ন করতে হবে
শর্তাবলী পালনের জন্য ‘সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল আইন- ২০১৮’ এর আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ করোনাভাইরাসের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ঠেকাতে পহেলা জুলাই থেকে আরোপ করা এক সপ্তাহের ‘কঠোর লকডাউন’ পরে আরেক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৪ই জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়েছে।
তবে এপ্রিল মাসের পাঁচ তারিখ থেকে দেশে বিভিন্ন নামে লকডাউন বা চলাচলে বিধিনিষেধ চলছে।

যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রিপোর্ট নিয়ে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চিঠি দেয়া হবে,জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার রিপোর্টে বাংলাদেশ অংশের ভুল ও বানোয়াট তথ্যের প্রতিবাদ জানাবে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে ঢাকাস্থ ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে ডেকে এনে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চিঠি পাঠানো হবে। আর এর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন ভুল তথ্যের মধ্যে সরকারের কাছে সবচেয়ে আপত্তিজনক মনে হয়েছে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গটি। রিপোর্টে বলা হয়েছে খালেদা জিয়াকে হাউজ অ্যারেস্ট বা গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।
বিষয়টিকে চরম বিভ্রান্তিমূলক বলছে সরকার। কারণ খালেদা জিয়া গৃহবন্দি নন। তিনি দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাগারে ছিলেন। তার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বয়স,অসুস্থতা এবং করোনা মহামারি বিবেচনা করে সরকার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড প্রথমে ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। তিনি বিদেশ যেতে পারবেন না এবং দেশের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারবেন। পরবর্তীতে তার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তিনি এখন সাজা স্থগিতের সুযোগ নিয়ে বাসায় আছেন। ক’দিন আগে চিকিৎসার জন্য হাসাপাতালেও ভর্তি হয়েছেন । তাঁর সঙ্গে দলের লোকজন এবং আত্মীয় স্বজন দেখা করতে পারছেন। কাজেই খালেদা জিয়া গৃহবন্দি বলে যে তথ্য বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক।
সোমবার গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খালেদা জিয়া গৃহবন্দি নন। বাংলাদেশের ভেতরে চলাফেরায় তাঁর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তারপরও তারা (যুক্তরাজ্য ) এ কথা লিখেছে, সেটি আমি আপত্তি করে লিখবো ও প্রতিবাদ করবো। এ নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে চিঠি পাঠাবো।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেনও যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রিপোর্টটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন । তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের উচিত এই ধরনের চর্চা বন্ধ করা।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের ওই রিপোর্ট তথ্যনির্ভর নয়। নিজের দেশের অবস্থা ভালো করতে পারে না কিন্তু অন্যদের উপদেশ দেয়। গঠনমূলক তথ্য দিলে সেটি কাজে আসবে। কিন্তু বানোয়াট তথ্য দিলে সেটি কোনো উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেওয়া হয়েছে বলে সবাই মনে করবে। তারা উপদেশ দিতে আসে কিন্তু এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’
এর আগে রোববার (১১ জুলাই) ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেলকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। সেখানে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনের কিছু অংশে বিভ্রান্তিকর বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘গৃহবন্দি’ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে মন্তব্য করাটা চরম বিভ্রান্তিমূলক বলে ব্রিটিশ দূতকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়া হয়।
ব্রিটিশ দূতকে জানানো হয়, খালেদা জিয়া বিদেশ যাবেন না, দেশে চিকিৎসা নেবেন, এই শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য কারাদণ্ড স্থগিত করে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ও ২০২১ সালের মার্চে দুই দফায় তাঁর কারাদণ্ড স্থগিত করে মুক্তির আদেশের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থানের বিষয় নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার যাতে বাংলাদেশ সরকার কিংবা সরকারি দল আওয়ামী লীগের বিষয়ে কটাক্ষমূলক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে, সেটি তলবের সময় ব্রিটিশ দূতকে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে মন্তব্য নিয়েও সরকার উদ্বেগ জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অবস্থানের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের যেভাবে অভিহিত করা হয়েছে, তা যেমন আন্তর্জাতিকভাবে ঠিক নয়, তেমনি তা বাংলাদেশের আইনেও স্বীকৃত নয়।
যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার জাভেদ প্যাটেল বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো তাঁর দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরবেন বলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেছেন।

রাজধানীর বাড্ডায় জাল টাকার কারখানায় গোয়েন্দাদের হানা, ৪৩ লাখ জাল টাকাসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

0

রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকা থেকে জাল টাকা তৈরির একটি কারখানার সন্ধানসহ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিবি গুলশান বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- আব্দুর রহিম শেখ, ফাতেমা বেগম, হেলাল খান, আনোয়ার হোসেন ও ইসরাফিল আমিন।
সোমবার (১২ জুলাই) দুপুরে বাড্ডা থানার নুরের চালা সাঈদ নগর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ লক্ষ তৈরিকৃত জাল টাকাসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ অভিযান সম্পর্কে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন উৎসবে বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে জাল টাকা তৈরি চক্র, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি, ছিনতাইকারী এদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। আমরা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এদের তৎপরতা রুখতে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। ডিবির ডিসি মশিউরের নেতৃত্বে এ বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে।
জাল টাকায় শুধু দেশবাসী প্রতারিত হচ্ছে না রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে যারা অধিক টাকা বহন করবেন, তাঁরা নগদ ক্যাশ বহন না করে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য অনুরোধ করেন ডিবির এই কর্মকর্তা।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, অভিযানকালে কারখানাটি থেকে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের প্রায় ৪৩ লক্ষ তৈরিকৃত জাল টাকা, একটি ল্যাপটপ, দুইটি কালার প্রিন্টার, বিপুল পরিমাণে আঠা ও আইকা, বিভিন্ন ধরনের রং, জাল টাকা তৈরির জন্য A 4 সাইজের প্রচুর কাগজ, নিরাপত্তা সুতার বান্ডেল, লেমিনেটিং মেশিন, কাটার, বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সম্পন্ন বিশেষ কাগজ জব্দ করা হয়েছে। যা দিয়ে কয়েক কোটি মূল্যের জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারকৃতরা জাল টাকা ও মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে জড়িত থেকে আগেও গ্রেফতার হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত ফাতেমা বেগম ২০১৯ সালে হাতিরঝিল এলাকার একটি বাসায় জাল টাকা তৈরি করার সময় অপর সহযোগীসহ হাতে নাতে ধরা পড়েছিল। কিন্তু তার স্বামী রহিম ওই সময় পালিয়ে গিয়েছিল। ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা খুচরা এবং পাইকারি বিক্রি করতো। গত তিন বছর ধরে ঈদসহ অন্যান্য উৎসবের আগে আগে জাল টাকা তৈরির কাজে নিয়োজিত থেকে বিপুল পরিমান জাল টাকা বাজারে ছেড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে।
১০০ টি কাগজের ১ হাজার টাকার নোটের এক বান্ডেল জাল টাকা তৈরি করতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। তৈরিকারকরা প্রতি বান্ডেল পাইকারি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পাইকাররা আবার এ গুলোকে প্রান্তিক পর্যায়ের বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে প্রতি বান্ডেল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। যা রুট পর্যায়ের জাল টাকার কারবারিরা কখনো কখনো গহনা, কখনো কাপড় চোপড়, ভোজ্য পণ্য এমনকি পশুর হাটে বিক্রি করে ছড়িয়ে দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান।

যুক্তরাজ্যের রিপোর্ট তথ্যনির্ভর নয়,তারা নিজেরা ভালো করতে পারে না, অন্যদের উপদেশ দেয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রিপোর্টটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। সোমবার নিজ দপ্তরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের উচিত এই ধরনের চর্চা বন্ধ করা।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের ওই রিপোর্ট তথ্যনির্ভর নয়। নিজের দেশের অবস্থা ভালো করতে পারে না কিন্তু অন্যদের উপদেশ দেয়। গঠনমূলক তথ্য দিলে সেটি কাজে আসবে। কিন্তু বানোয়াট তথ্য দিলে সেটি কোনো উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেওয়া হয়েছে বলে সবাই মনে করবে। তারা উপদেশ দিতে আসে কিন্তু এটি গ্রহণযোগ্য নয়।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করা হয়। পরে গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে ডেকে এনে প্রতিবাদ জানানো হয়। যুক্তরাজ্যের প্রকাশিত ওই রিপোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘হাউজ অ্যারেস্ট’ করে রাখা হয়েছে বলে যা উল্লেখ করা হয় সেটা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে যে, এটি চরম বিভ্রান্তিকর। এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূতকে অবগত করা হয়, খালেদা জিয়ার ভাই একটি আবেদন করেন এবং সরকার আইন অনুযায়ী, শাস্তি স্থগিত করে ২০২০’র মার্চে তাকে মুক্তি দেয় এই শর্তে যে, তিনি দেশে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং বিদেশ সফর করবেন না। প্রথম অবস্থায় তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে দুইবার বাড়ানো হয়েছে।
এ ধরনের আইনি বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলে সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার কাছ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূতকে পরামর্শ দেওয়া হয়।
যুক্তরাজ্যের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের বরাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন বলেন, ‘তিনি স্বীকার করেছেন তাদের রিপোর্ট আরও তথ্যনির্ভর হওয়া উচিত ছিল। তিনি আমাদের উদ্বেগ তার সদর দপ্তরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।’
সাংবাদিকদের বিদেশে বিভিন্ন অনিয়ম প্রসঙ্গে লেখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের টাকা-পয়সা আছে, একটি এনজিওকে কাজে লাগিয়ে দেয়।’ কোনো দেশ ফেরেশতা নয় কিন্তু কাউকে খামোখা দোষারোপ করা নিম্ন মন-মানসিকতার পরিচয় উল্লেখ করেন আব্দুল মোমেন।