ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 108

মিতু হত্যা: এসপি বাবুলের সোর্স মুছাসহ ৩ আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

0

চট্টগ্রামের আলোচিত মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলার তিন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তিন আসামি হলেন কামরুল শিকদার ওরফে মুছা, এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা ও মো. কালু।
নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, মাহমুদা হত্যার তিন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুনানি শেষে আদালত তিন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। আদালতের আদেশটি স্থল ও বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মুছা। পুলিশ বলছে তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। যদিও মুছার স্ত্রী পান্না বেগম ঘটনার পর থেকে দাবি করে আসছেন তাঁর স্বামীকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুছার খোঁজ এখনো মেলেনি। আসামি কালু ঘটনার পর থেকে পলাতক। এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা জামিনে রয়েছেন।
২০১৬ সালের ৫ জুন বড় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড় এলাকায় মাহমুদাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ছিল ১২ বছর বয়সী বড় ছেলে। মাহমুদা হত্যাকাণ্ডের পর তাঁর স্বামী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তার বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ডিবি পুলিশের পর গত বছরের মে মাস থেকে মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই।
চলতি বছরের ১২ মে এ মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। এতে বলা হয়, তিন লাখ টাকা দিয়ে স্ত্রীকে খুন করান বাবুল। ওই দিন বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। এই মামলায় বাবুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে হাজির করা হলে তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। গত ১৭ মে থেকে কারাগারে আছেন বাবুল।

স্ত্রী হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন রাখলো আপিল বিভাগ

0

স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছিলেন স্বপন কুমার বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২০০৬ সালে তাকে দেওয়া এ দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পাশাপাশি তাকে কনডেম সেল থেকে সাধারণ সেলে স্থানান্তরেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে বিনা ফিতে আসামির পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমান উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ।
গত ৮ জুলাই এ মামলার শুনানিতে আসামির পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে বলেন, স্ত্রী স্বপ্না ঘোষকে পূর্ব পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়নি। পারিবারিক ঝগড়ার এক পর্যায়ে উত্তেজিত অবস্থায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে আসামি স্বপন কুমার বিশ্বাসকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ড কোনোটাই দেওয়া সমীচীন হবে না। এ মামলায় প্যানাল কোডের ৩০৪/২ ধারা অনুযায়ী আসামির সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছরের বেশি হতে পারে না।
ওইদিন মামলাটি বিনা ফিতে পরিচালনার কথা জানিয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন আদালতকে জানান, কারাগার থেকে স্বপন কুমার বিশ্বাস নামে ওই ফাঁসির আসামি অনেক কাকুতি-মিনতি জানিয়ে তাকে চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে স্বপন জানিয়েছে, তিনি দরিদ্র মানুষ। আইনজীবী রেখে মামলা পরিচালনা করার সামর্থ্য তার নেই।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবর নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার নয়াটোল গ্রামে প্রথম স্ত্রী স্বপ্না ঘোষকে (৩৫) হত্যা করেন তার স্বামী স্বপন। তার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে খুন করেন। পরে লাশ ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখা হয়। একই বছরের ২৮ অক্টোবর সৈয়দপুর থানার এসআই শফিউল হক নিহতের স্বামী স্বপনের নামে মামলা করেন। ওইদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর নীলফামারীর দায়রা জজ আদালত স্বপনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
এরপর ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল বিচারিক আদালতের দেওয়া ওই রায় বহাল রাখেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে স্বপন আপিল করেন। একই সময়ে তার মামলাটি বিনা ফিতে পরিচালনা করতে আইনজীবীকে চিঠি দেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে সোমবার রায় দিলেন আপিল বিভাগ।

বেসরকারি ৩ বিমানসংস্থার কাছে বেবিচকের পাওনা সাড়ে ৭শ কোটি টাকা, নিলামে উঠছে অকেজো ১২ বিমান , সাড়া নেই মালিকদের

0

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) দেশের বেসরকারি ৩টি বিমান সংস্থার কাছে শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিমানের পার্কিং চার্জ, ল্যান্ডিং ফি বাবদ সাড়ে ৭শ কোটি টাকা পায়। বিমান সংস্থাগুলো বছরের পর বছর পার্কিং চার্জ দিচ্ছে না। বেবিচক থেকে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও টনক নড়ছে না তাদের। এবার কর্তৃপক্ষ ৩টি বিমান সংস্থার ১২টি বিমান নিলামে বিক্রি করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই বিমানগুলো কয়েকবছর ধরে বিমানবন্দরে পার্কিং করে ফেলে রাখা হয়েছে। এগুলো অকেজোও হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।সবচেয়ে বেশি টাকা বকেয়া পড়ে আছে জিএমজি এয়ারলাইন্সের কাছে। এরপরই আছে রিজেন্ট এয়ারলাইন্স ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স।

বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২ টি বিমান পার্কিং চার্জ না দিয়েই দীর্ঘদিন পড়ে আছে কার্গোতে।
এগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে ১০টিই গত ৮ বছর ধরে কার্গো ভিলেজের জায়গা দখল করে আছে। এসব পরিত্যক্ত বিমানের কারণে কার্গোর মাল ওঠা-নামায় সমস্যা হয়। তাই জায়গা খালি করতে দীর্ঘদিন ধরে উপায় খুঁজছিল বেবিচক। সর্বশেষ এ বিষয়ে গঠিত ৪ সদস্যের কমিটি বিমানগুলো নিলাম করার সুপারিশ করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাভিয়েনা এয়ারলাইন্সের একটি করে প্লেন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। এদের মধ্যে রিজেন্ট বাদে সবগুলোই ৮ বছর ধরে একই অবস্থায় স্থান দখল করে আছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তারা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ থেকে ১৯০ কোটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স থেকে ৩৬০ কোটি এবং রিজেন্ট থেকে ২০০ কোটি টাকা পাবে। এই টাকা আদায়ের জন্যে তারা প্লেনগুলো নিলামে তুলতে চায়।
বছরের পর বছর পড়ে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিলামে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে বিমানগুলো কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হবে।
বেবিচক সূত্র সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে নিলামের প্রক্রিয়া ঠিক করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নিলামের কর্মপদ্ধতি এবং সুপারিশমালাও দিয়েছে। এখন কেবল নিলাম আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পালা।
এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান বলেন, এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্লেনগুলো সেখান থেকে সরিয়ে না নেয় এবং টাকাও পরিশোধ না করে সেক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশনের রুল অনুযায়ী চেয়ারম্যান প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করার ক্ষমতা রাখেন। এয়ারলাইন্সগুলোকে বেশ কয়েকবার প্লেন রাখার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে অথবা প্লেন সরিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে’ বলে সতর্কও করা হয়েছে। তারা কোনো সাড়া দেয়নি। বর্তমানে প্লেনগুলোর ডি-রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে বেবিচকের কমিটি যে কর্মপদ্ধতি সুপারিশ করেছে, সেই অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালালের বড় অংশ দখল করে রাখা ১২টি প্লেন নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পার্কিং চার্জ না দিয়েই এই বিমানগুলো দীর্ঘদিন পড়ে আছে কার্গোতে। বছরের পর বছর পড়ে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিলামে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে বিমানগুলো কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হবে।
আজ সোমবার বেবিচক সূত্র গণমাধ্যমকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে নিলামের প্রক্রিয়া ঠিক করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি নিলামের কর্মপদ্ধতি এবং সুপারিশমালাও দিয়েছে। এখন কেবল নিলাম আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পালা।
বেবিচক জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরে মোট ১২টি এয়ারক্রাফট পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর মধ্যে ১০টিই গত ৮ বছর ধরে কার্গো ভিলেজের জায়গা দখল করে আছে। এসব পরিত্যক্ত প্লেনের কারণে কার্গোর মাল ওঠা-নামায় সমস্যা হয়। তাই জায়গা খালি করতে দীর্ঘদিন ধরে উপায় খুঁজছিল বেবিচক। সর্বশেষ এ বিষয়ে গঠিত ৪ সদস্যের কমিটি প্লেনগুলো নিলাম করার সুপারিশ করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮টি, রিজেন্ট এয়ারওয়েজের দুটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স ও অ্যাভিয়েনা এয়ারলাইন্সের একটি করে প্লেন দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে। এদের মধ্যে রিজেন্ট বাদে সবগুলোই ৮ বছর ধরে একই অবস্থায় স্থান দখল করে আছে।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তারা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ থেকে ১৯০ কোটি, জিএমজি এয়ারলাইন্স থেকে ৩৬০ কোটি এবং রিজেন্ট থেকে ২০০ কোটি টাকা পাবে। এই টাকা আদায়ের জন্যে তারা প্লেনগুলো নিলামে তুলতে চায়।
এ বিষয়ে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক তৌহিদ-উল আহসান বলেন, এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্লেনগুলো সেখান থেকে সরিয়ে না নেয় এবং টাকাও পরিশোধ না করে সেক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশনের রুল অনুযায়ী চেয়ারম্যান প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করে নিলাম করার ক্ষমতা রাখেন। এয়ারলাইন্সগুলোকে বেশ কয়েকবার প্লেন রাখার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে অথবা প্লেন সরিয়ে নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘প্লেনগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে’ বলে সতর্কও করা হয়েছে। তারা কোনো সাড়া দেয়নি। বর্তমানে প্লেনগুলোর ডি-রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে বেবিচকের কমিটি যে কর্মপদ্ধতি সুপারিশ করেছে, সেই অনুযায়ী নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের রেস্টুরেন্টে মরা মুরগি, ব্যাখ্যা চায় বিমান কর্তৃপক্ষ

0

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’-এ সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু তাদের চোখ ‘ফাঁকি’ দিয়েই দিনের পর দিন সেখানে রান্না করা হতো মরা মুরগি। আর সেই খাবার ভোক্তাদের পরিবেশন করত হোটেল কর্তৃপক্ষ। শেষ রক্ষা অবশ্য হয়নি। গত ১২ জুন ওই রেস্টুরেন্ট থেকে ১৮৬টি মরা মুরগি উদ্ধার করে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। গ্রেপ্তার করা হয় রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার, বাবুর্চি, মৃত মুরগির জোগানদাতা, মুরগি বহন করা গাড়ির চালকসহ সাতজনকে। সংরক্ষিত ওই এলাকায় ভোক্তাদের সঙ্গে নজিরবিহীন এ প্রতারণায় বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ায় ‘এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট’ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (ববিচক)।
গত রবিবার এক চিঠির মাধ্যমে রেস্টুরেন্ট সংশ্লিষ্ট আমিন মোহম্মদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রমজানুল হক নিহাদের (লিজ মালিক) কাছে এ ব্যাখ্যা চেয়েছেন বেবিচকের উপপরিচালক (সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ইসরাত জাহান পান্না। আগামী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউসের পশ্চিম পাশে ইজারাকৃত এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টে গত ১২ জুন বিকালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট। এ সময় ওই রেস্টুরেন্টের সামনে ১৩৩টি মৃত, ৫৩টি জবাই করা ও কিছু জীবিত মুরগি পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে রেস্টুরেন্টের অ্যাকাউন্ট্যান্ট রবিউল ইসলাম ও হিসাব সহকারী ইস্রাফিল হোসেন, বাবুর্চির সহকারী সালাউদ্দিন ও মরা মুরগি বহনকারী ট্রাকের সহকারী রানাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সালাউদ্দিন ও রানা মরা মুরগি বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেন। এতে বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়েছে। সেই সঙ্গে এ ধরনের কর্মকা- ইজারায় সম্পাদিত চুক্তির ১৪ নম্বর শর্তের পরিপন্থী। এ অবস্থায় এয়াপোর্ট রেস্টুরেন্টে মৃত মুরগি পাওয়া যাওয়াসহ এ ধরনের অনৈতিক কাজ সংঘটনের বিষয়ে চিঠি জারির সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে। অন্যথায় বিধিমতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রিপোর্টে খালেদা জিয়ার অবস্থান সম্পর্কে অপব্যাখ্যা করা হয়েছে, ব্রিটিশ দূতকে ডেকে জানালো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

0

যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার বিষয়ক একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে অসন্তোষ ব্যক্ত করার জন্য রোববার ঢাকাস্থ ব্রিটিশ ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অপব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে যে, তিনি এখন ‘গৃহবন্দি’ রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা উল্লেখ করতে ‘গৃহবন্দি’ শব্দগুলোর ব্যবহার একটি বড় ধরনের বিভ্রান্তি।’
এতে আরো বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসি রিপোর্ট ২০২০-এর বাংলাদেশ অধ্যায়ে উল্লেখিত ইস্যুগুলোর ব্যাপারে সরকারের মনোভাব ও অসন্তোষ ব্যক্ত করার জন্য ব্রিটিশ দূত জাভেদ প্যাটেলকে তলব করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র দফতর দূতকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, (বেগম জিয়া) তার বাড়িতে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং বিদেশে ভ্রমন করতে পারবেন না এই শর্তে সরকার ২০২০ সালের মার্চ মাসে তার সাজা স্থগিত করে তাকে ‘মুক্তি’ দেয়।
এতে আরো বলা হয়, বেগম জিয়াকে তার ভাইয়ের একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের একটি ধারায় শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দূতকে আরো অবহিত করা হয়েছে যে, প্রাথমিকভাবে খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয়া হয়েছিল। তবে, পরবর্তীতে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর ও ২০২১ সালের মার্চ মাসে দুই বার তার মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
বিৃবতিতে বলা হয়, ‘হাইকমিশনারকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরণের আইনি বিষয়ে যে কোন ধরনের বিভ্রান্তির ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন শাখার মহা-পরিচালক ফাইয়াজ মুর্শিদ কাজী বৃটিশ দূতকে মন্ত্রণালয়ে তলব করার পর তার সাথে কথা বলেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরো পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে, যুক্তরাজ্য সরকারের যে কোন দাপ্তরিক তথ্যে বাংলাদেশ সরকার অথবা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দল সম্পর্কে ‘কোন ধরনের ইঙ্গিতপূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
ঢাকা এই বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রতিবেদনে উল্লেখিত বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় গ্রহনকারী রোহিঙ্গাদের সংখ্যার ব্যাপারেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
প্যাটেল মানবাধিকার ও গভর্নেন্সের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতির মাধ্যমে একটি গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশকে একটি ‘পরিপক্কতামুখী গণতন্ত্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেনি।
উভয় পক্ষের কর্মকর্তারা সরকারি নথি বা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ক্ষেত্রে তথ্যের প্রামাণ্য সূত্রের ব্যবহারের গুরুত্বের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন। বাসস।

হাসপাতালের দুর্নীতি নিয়ে নিউজ করায় আইসিটি আইনে মামলা; জামিনে মুক্ত ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিক তানভীর

0

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের খাবার পরিবেশনে অনিয়মের সংবাদ করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক তানভীর হাসান তানু আদালত থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়েছেন।
রোববার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিক তানুকে ঠাকুরগাঁও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ডালিম কুমার রায় তানভীর হাসান তানুর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে তার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে তার জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ঠাকুরগাঁও সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়ার পর তানুর আইনজীবী আরিফুল ইসলাম তার জামিননামা আদালতে দাখিল করেন। এরপরই আদালতের হাজতখানা থেকে সাংবাদিক তানু মুক্ত হন।
গত শনিবার (১০ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. নাদিরুল আজিজ বাদী হয়ে সদর থানায় তিন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় জাগোনিউজ২৪.কম, ইত্তেফাক ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি তানভীর হাসান তানুকে এক নম্বর আসামি করা হয়।
মামলার অন্য দুই আসামি হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি আব্দুল লতিফ লিটু ও নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের জেলা প্রতিনিধি রহিম শুভ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(১)(ক) ২৫(১)(খ) ২৯(১)/৩১(১)/৩৫(১) ধারায় করা ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ জুলাই জাগোনিউজ২৪.কম, নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন সংস্করণে করোনা রোগীর খাবার নিয়ে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট, জনরোষ সৃষ্টিকারী মানহানিকর’ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।
দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে খবর নিতে গেলে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ শনিবার রাত ৮টায় সাংবাদিক তানুকে গ্রেফতার করে। রাতে তানু থানা হাজতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি

0

পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বদলির আদেশ জারি করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর গুলশান বিভাগে উপ-কমিশনারের দায়িত্বে থাকা সুদীপ কুমার চক্রবর্তীকে বগুড়ার এসপি করে পাঠানো হয়েছে। বগুড়ার এসপি মো. আলী আশরাফ ভুঞাকে বরিশাল মহানগর পুলিশে পাঠানো হয়েছে।
পিরোজপুরের এসপির দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইদুর রহমান। পিরোজপুরের এসপি হায়াতুল ইসলাম খানকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খানকে মানিকগঞ্জ জেলার এসপি করে পাঠানো হয়েছে। মানিকগঞ্জের এসপি রিফাত রহমান শামীমকে ঢাকা মহানগর পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি মো. শহীদুল ইসলামকে নোয়াখালীর এসপি করা হয়েছে। নোয়াখালীর এসপি মো. আলমগীর হোসেনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকার এসবিতে।
শিল্পাঞ্চল পুলিশের ৪ নম্বর ইউনিটের পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে এক নম্বর ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।

সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজ ভার্চ্যুয়ালি করার নির্দেশ,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা জারি

0

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজসমূহ ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমসহ ভার্চুয়ালি পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
রোববার (১১ জুলাই) এই নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিবদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বিস্তার রোধে আরোপিত বিধি-নিষেধ সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিসমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান এই পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম হিসেবে সকল জরুরি অফিস ও সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ‘এক্ষণে সকল সরকারি অফিসের দাপ্তরিক কাজসমূহ ভার্চ্যুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ’
করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় গত ১ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ ছিল ৭ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত। পরে বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও ৭ দিন অর্থাৎ ১৪ জুলাই মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২১টি শর্ত দেয়া হয়। শর্ত অনুযায়ী, এ সময়ে জরুরি সেবা দেয়া দফতর-সংস্থা ছাড়া সরকারি-বেসররকারি অফিস, যন্ত্রচালিত যানবাহন, শপিংমল দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে হাসেম ফুডসে অগ্নিকাণ্ড: শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাই কোর্টে রিট

0

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এবং সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির পক্ষ থেকে শনিবার রিট আবেদনটি করা হয়।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রোববার আবেদনটির শুনানির জন্য রাখা হয়েছে বলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান জানান।

তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাস মহামারী পরিস্থিতিতে জরুরি কোনো আবেদন থাকলে তা শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠাতে হয়। যে কারণে শনিবার রাতে রেজিস্ট্রার জেনারেলের ই–মেইলে রিট আবেদনটি পাঠানো হয়েছে।”

শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের মহাপরিদর্শক,রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার,রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস, হাসেম ফুডস লিমিটেড এবং হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
আবেদনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা এবং আহত শ্রমিকদের প্রত্যেককে ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ হিসাবে নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে আবেদনে।
এছাড়া রিট আবেদনে হাসেম ফুড লিমিটেড ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম এবং তার পারিবারের অন্য সদস্যদের ব্যাংক হিসাব চিহ্নিত করে তা জব্দ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও চিকিৎসা খরচ দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে হাই কোর্টে আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে নারায়ণগেঞ্জের সিভিল সার্জনের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে
এছাড়া দুই সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশসহ এ ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের ব্যর্থতা ও অবহেলা কেন ‘আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না এবং কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না- তা জানতে রুলও চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের কারখানায় আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক নিহত হন। আহত হন আরও অনেক শ্রমিক।
এ ঘটনায় শনিবার পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে। ‘আগুনে পুড়িয়ে হত্যার’ অভিযোগ এনে ৩০২ ধারাসহ কয়েকটি ধারায় এই মামলা করা হয়।
ওই মামলায় কারখানা মালিক মো. আবুল হাসেম ও তার চার ছেলেসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নরেন্দ্র মোদির নতুন মন্ত্রিসভার প্রায় অর্ধেকের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা, ৯০ শতাংশ মন্ত্রী কোটিপতি

0

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল এনেছেন। গত ৭ জুলাই রাষ্ট্রপতি ভবনে শপথ নেন ভারতের নতুন ৪৩ জন মন্ত্রী। নতুন ৪৩ জনসহ মোদির মন্ত্রিসভায় এখন মোট সদস্য ৭৮। মন্ত্রিসভার ৭৮ জনের মধ্যে ৪২ শতাংশের বিরুদ্ধেই রয়েছে ফৌজদারি মামলা।
শনিবার মোদির মন্ত্রীদের নিয়ে এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (এডিআর)। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমসের
এডিআর এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদির মন্ত্রিসভার ৯০ শতাংশ মন্ত্রী কোটিপতি। আর ৪২ শতাংশ সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে ফৌজদারি মামলা। যার মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার ৭৮ সদস্যের মধ্যে ফৌজদারি মামলা রয়েছে মোট ৩৩ জনের বিরুদ্ধে। এদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন বার্লা, নিশীথ প্রামাণিক-সহ চারজনের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লার বিরুদ্ধে গুরুতর ৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া ৩৮টি অন্য মামলাও রয়েছে। কোচবিহারের সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার পাঁচ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সাত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ৭০ জনই কোটিপতি। মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, পীযূষ গোয়েল, নারায়ণ তাতুরেন ও রাজীব চন্দ্রশেখরের ৫০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ রয়েছে।