ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাইকোর্ট একটি মামলায় বিচারব্যবস্থাকে কুলষিত করার অভিযোগে রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বহুল আলোচিত নন্দীগ্রাম মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন মমত্ বন্দোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা। রায় ঘোষণার পরই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বিচারপতি কৌশিক চন্দ। এই বিচারপতির সঙ্গে বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগে সরব তৃণমূল। চরমে ওঠে বিতর্ক। অভিযোগ-পালটা অভিযোগে সরগরম হয় রাজ্য রাজনীতি। অবশেষে মামলা থেকে সড়ে দাঁড়ালেন বিচারপতির কৌশিক চন্দ। পাশাপাশি বিচার ব্যবস্থাকে কলুষিত করার অভিযোগে মামলাকারী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করলেন তিনি। বার কাউন্সিলে সেই টাকা জমা দিতে হবে।
বুধবার নন্দীগ্রাম মামলা থেকে সড়ে দাঁড়ানোর আগে বিচারপতি কৌশিক চন্দ বলেন, ‘যদি একজন আইনজীবী কোনও দলের হয়ে দাঁড়াতে পারেন। তখন তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে না। একজন বিচারপতিও সাধারণ মানুষ। তাঁরও কাউকে ভাল লাগতে পারে। তবে কাজের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।’ এখানেই শেষ নয়, বিচারপতি বদলের দাবিকে ঘিরে যা যা অভিযোগ করেছেন শাসকদলের নেতা-নেত্রীরা। বুধবার সেই বিষয়টিও উল্লেখ করেন বিচারপতি। তিনি জানান, একজনের কথা মত বিচারপতি পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে যান না। এরপর মামলাকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতকে কলুষিত করার অভিযোগ করেন তিনি। সঙ্গে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। করোনায় সেবামূলক কাজে ব্যবহার করা হবে সেই টাকা। যদিও জরিমানার বিষয়টির বিরোধিতা করেছে তৃণমূল। শাসকদলের নেতা শেখ সুফিয়ান বলেন, ‘একজন সাংবিধানিক প্রধানকে জরিমানা করা হচ্ছে কr কারনে ! আমরা এটা রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে আবেদন করব’।
কৌশিক চন্দের এজলাসে নন্দীগ্রাম মামলা উঠলে, বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে তৃণমূল শিবির। বিজেপির একটি অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষের সঙ্গে কৌশিক চন্দের দুটি ছবি টুইট করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন । এর পাশাপাশি আরও একটি টুইটে তিনি দাবি করেন, ১০টি মামলায় বিজেপির হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করেছেন আইনজীবী কৌশিক চন্দ। কৌশিক চন্দের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ দিন হাইকোর্টে বিক্ষোভ দেখান আইনজীবীদের একাংশ।
বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাস থেকে মামলা অন্যত্র সরানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আর্জি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে প্রধান বিচারপতির কাছে তাঁর আইনজীবী জানান, ‘২০২১ সালের এপ্রিলে কৌশিক চন্দকে স্থায়ী বিচারপতি করার জন্য চিঠি দেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। তখন আপত্তি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি ওই বিচারপতি বিজেপির সক্রিয় সদস্য। অতএব তিনি পক্ষপাতদুষ্ট। পরিশেষে অনুরোধ করছি, পক্ষপাত এড়ানোর জন্য মামলাটি অন্য বেঞ্চে পাঠানো হোক।’ সূত্র-জি২৪ ঘন্টা।
বিচারব্যবস্থাকে কুলষিত করার অভিযোগ, মমতা বন্দোপাধ্যায়কে ৫ লাখ টাকা জরিমানা কলকাতা হাইকোর্টের
সালিশে কিশোরীকে বিয়ে : পটুয়াখালির সেই চেয়ারম্যানের বরখাস্তের আদেশ হাইকোর্টে স্থগিত
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এক মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
সালিশ-বৈঠকে অসহায় এক পরিবারকে প্রভাবিত করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করায় ঘটনায় আলোচিত হন এ চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছিলো।
আদালতে শাহীন হাওলাদারের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
গত ২৮ জুন সালিশ-বৈঠকে অসহায় এক পরিবারকে প্রভাবিত করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ নম্বর কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এতে বলা হয়, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ নম্বর কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৪ বছর ২ মাস ১৪ দিন) কিশোরীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না পত্রপ্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তার জবাব সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে মরতে হলো মেয়র খোকাকে, পরিচিতি ছিলো মি. টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে, উত্তরসূরি খোকনও গেলেন সেপথে, লুট হয়েছে শত শত কোটি টাকা
অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনে সর্বশেষ মেয়র ছিলেন বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সব মিলিয়ে ১০ বছরের বেশি সময়। কিন্তু সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে ওঠে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ। সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকা তিনি লুটপাট করেন এবং আমেরিকায় পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতির মামলা হয় এবং একটিতে ১৩ বছরের কারাদণ্ড হয়। বাজেয়াপ্ত হয় সব সম্পত্তি। দেশ থেকে পালিয়ে যান এবং ১৩ বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়েই ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর আমেরিকায় মৃত্যুবরণ করেন। একজন রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দুর্নীতিতে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হয়। দেশমাতৃকার টানে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে যিনি দেশ স্বাধীন করলেন সেই তিনি দেশ সেবার দায়িত্ব পেয়ে কেনো দুর্নীতিতে জড়ালেন এমন প্রশ্নের কোনো জবাব পাওয়া যায় নি। মি.খোকার আমলে ঢাকা সিটি করপোরেশন দুর্নীতির আখড়া হয়ে ওঠে। তিনি মেয়র থাকাকালে সিটি করপোরেশনের সব বিভাগে ‘মিস্টার টুয়েন্টি পার্সেন্ট’ নামেও আখ্যায়িত হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে উন্নয়নমূলক টেন্ডার কার্যক্রম থেকে শুরু করে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই মেয়রের টুয়েন্টি পার্সেন্ট পরিশোধ করে তবেই কাজ শুরুর নির্দেশনা ছিল।

সাবেক মেয়র খোকার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও ডিসিসির ৮০০ কোটি টাকার সম্পদ ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ, দোকান বরাদ্দ,বাস টার্মিনাল ইজারা,যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে মেয়র খোকার বিরুদ্ধে। তার মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে দুর্নীতির মামলা, অভিযোগ, কারাদণ্ড সবকিছুই তামাদি হয়ে গেলেও দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি সিটি করপোরেশন। ২০১১ সালে সরকার আইন করে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে বিভক্ত করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দু ভাগে ভাগ করে। আর এর মধ্যে দিয়ে মেয়র খোকার শাসনের অবসান হয়। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের পুত্র সাঈদ খোকন আর উত্তরে নির্বাচিত হন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক।
উত্তর সিটি নিয়ে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না ওঠলেও দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন যেতে না যেতেই দক্ষিণ সিটি নিয়ে ফের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠতে থাকে। অনেকটা মেয়র খোকার উত্তরসূরি হিসেবে নাম ওঠতে থাকে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে। বরং আরেকদফা এগিয়ে চলতে থাকেন সাঈদ খোকন। কমিশন ছাড়া তিনি কোনো কাজেই হাত দেননি। খোকার পরিচিতি ছিলো মি.টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে আর সাঈদ খোকনের পরিচিতি পায় মি. টুয়েন্টি ফাইভ পার্সেন্ট হিসেবে। সিটি করপোরেশনে দুর্নীতিকে তিনি অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে দেন। এমন অভিযোগ ওঠায় তাকে দ্বিতীয় বার আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় নি। মনোনয়ন পান ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এবং তিনি নির্বাচিত হন।
মেয়র হিসেবে ব্যারিস্টার তাপস দায়িত্ব গ্রহণের পর বের হতে থাকে সাঈদ খোকনের দুর্নীতির চিত্র। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে সেক্টরেই হাত দেয়া হয় সেখানেই মেলে সাঈদ খোকনের দুর্নীতির প্রমাণ। অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। আর মিলে চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ। শুধু সিটি করপোরশেনের ফুলবাড়িয়ার মার্কেট নির্মাণ এবং আরো দুটি মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দিয়েই কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাঈদ খোকন।

অনুসন্ধানে নেমে সাঈদ খোকনের দুই সহকারি একান্ত সচিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। তারা হলেন এপিএস আবুল কালাম আজাদ এবং আব্দুল কুদ্দুস। চলতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারি আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার বিরুদ্ধে সাঈদ খোকনের দুর্নীতিতে সহযোগিতা করা ছাড়াও অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্তার প্রমাণ মিলে।
চলতি বছর ২১ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এপিএস শেখ আব্দুল কুদ্দুসকে। তিনিও সাঈদ খোকনের দুর্নীতির বিষয়ে তথ্য প্রমাণ দেন। সাঈদ খোকন ঘনিষ্ট লোকজনের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেন। তার কমিশনের টাকা এসব অ্যাকাউন্টে লেনদেন হতো। দুদকের অনুসন্ধানে বের হয়েছে, বিভিন্ন সময় বাল্যবন্ধু ভুট্টো, পরিমল ও অতুলের মাধ্যমে এক্সিম ব্যাংক পল্টন শাখা থেকে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা নগদ উত্তোলন করে নেন সাঈদ খোকন। পুরান ঢাকার আলু বাজারের শিট ব্যবসায়ী মো. নাসিমের নামে বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টেও সাঈদ খোকন রাখেন কোটি কোটি টাকা। এটি সাবেক মেয়রেরই বেনামী একাউন্ট এবং এই একাউন্টে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন তথ্য পায় দুদক। এভাবে ২০১৫ সালের ২১ জুন থেকে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে চার দফা নগদ ও ৪২টি চেকের মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৫ টাকা তুলে নেয়া হয়। এ অর্থ সাঈদ খোকনেরই আরেকটি বেনামি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের প্রমাণ পায় দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন তিনটি মার্কেটে দোকান নির্মাণের ঠিকাদারি প্রদান, দোকান বরাদ্দ, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি করেন। চলতি বছর মার্চ মাসে একজন ব্যবসায়ীর দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উদঘাটিত হয় সাঈদ খোকনের ‘ঘুষ কেলেঙ্কারি’। ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দিলু আদালতে এ মামলা করেন। মামলায় সাঈদ খোকন কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন-মর্মে উল্লেখ করা হয়।

এই শত কোটি টাকার মধ্যে অন্তত ৩৫ কোটি টাকা লেনদেন হয় ব্যাংকিং চ্যানেলে। কোটি কোটি টাকার চেক, পে-অর্ডারে রূপান্তরের মাধ্যমে বেনামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরে এ অর্থ স্থানান্তর হয়। সাঈদ খোকন তার অনুগত বিশ্বস্ত প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদারের মাধ্যমে এই লেনদেন করতেন। বিনিময়ে ইউসুফ আলী সরদারও কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। ব্যারিস্টার তাপস মেয়রের দায়িত্ব নিয়েই বরখাস্ত করেন রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলীকে।
চাকরিচ্যুত এই রাজস্ব কর্মকর্তার ‘সেকেন্ড হোম’ রয়েছে কানাডায়। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। তার স্ত্রী রাশিদা আক্তার (পাসপোর্ট নং-বিকে-০৪৬৪৩৩৩), মেয়ে ইশরাত ইয়াসমিন ইরা (পাসপোর্ট নম্বর বিকে-০৪৬৪৯৬০) বর্তমানে কানাডা প্রবাসী। তাদের বিষয়েও পৃথক অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক।
ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন দেলু নিজেও সাঈদ খোকনকে ঘুষ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার এজাহারে। ঘুষ দিয়েও কাজ না পাওয়ায় তিনি মামলা করতে বাধ্য হন। দুদকের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে , অর্থের বিনিময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি মার্কেটে অবৈধভাবে ৯১১টি দোকান তৈরি করেন দেলোয়ার হোসেন দিলু ও তার সহযোগিরা।
এসব দোকান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দিয়ে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকাই মেয়র সাঈদ খোকনকে দিতে হয়। মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মার্কেটে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান ভাঙার নির্দেশ দিলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসে।
ঠিকাদার দিলু দাবি করেন, তিনি ১০০ কোটি টাকার বেশি সাঈদ খোকনকে দিয়েছেন। খোকন ২০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে এককালীন ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন। দিলুর মালিকানাধীন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের (হৃদি কনস্ট্রাকশন) বিল ছাড় করাতেও সাঈদ খোকনকে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে দাবি করেন। ১৩ কোটি টাকার একটি বিল ছাড় করাতে ৪ কোটি টাকা ঘুষ দেয়ারও দৃষ্টান্ত রয়েছে তার। দেলোয়ার হোসেন দিলুর মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই। কিন্তু এখনো তদন্ত শেষ হয় নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানায়, ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত নগর প্লাজা, সিটি সুপার মার্কেট ও জাকির সুপার মার্কেটের মালিক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পর্যায়ক্রমে নির্মাণ শেষে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে দোকানগুলোর পজেশন বিক্রি করা হয়। এর বাইরেও বিভিন্ন প্রকল্পের নামে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য রয়েছে দুদকের হাতে।
অনুসন্ধানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে, দুদকের উপ-পরিচালক জালালউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি ‘অনুসন্ধানাধীন’ বলে কোনো তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান।
তবে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের সদস্যদের ৮টি ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।
২৭ জুন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েস একাউন্ট জব্দের আদেশ দেন। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক জালালউদ্দিন আহমেদ এ আবেদন জানান। দুদক সূত্র জানায়, সাঈদ খোকন, তার স্ত্রী ফারহানা আলম, বোন শাহানা হানিফ ও মা ফাতেমা হানিফের ৮টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেন আদালত।
জব্দকৃত অ্যাকাউন্টের মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এছাড়া তার মা ফাতেমা হানিফের একটি, বোন শাহানা হানিফের দু’টি ও স্ত্রী ফারহানা আলমের দু’টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে বলেন, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে।

বলা যায়, মেয়র খোকা তার দুর্নীতির যোগ্য উত্তরসুরি হিসেবে রেখে যান সাঈদ খোকনকে। খোকার পরিচিত ছিলো মি.টুয়েন্টি পার্সেন্ট হিসেবে আর খোকনের পরিচিতি আরেক ধাপ এগিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন মি. টুয়ৈন্টি ফাইভ পার্সেন্ট।
যদিও সাঈদ খোকন তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগকে মেয়র তাপসের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছেন। তিনিও তাপসের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার( মেয়র তাপস) নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তরিত করেছেন এবং শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন। গত ৯ জানুয়ারী ফুলবাড়িয়া মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িদের মানববন্ধনে সাঈদ খোকন বলেছেন, ব্যারিস্টার তাপস মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলবো রাঘব বোয়ালের মুখে চুনাপুটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত করুণ, তারপর চুনোপুটির দিকে দৃষ্টি দিন।
নগরবাসী চায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র সাদেক হোসেন খোকা ও মেয়র সাঈদ খোকনের আমলে যে দুর্নীতি লুটপাট হয়েছে এর সুষ্টু তদন্ত হউক,বিচার হউক।
সুপ্রিম কোর্টের করোনা টেস্ট বুথে আইডি কার্ড দেখে আইনজীবীরা টেস্ট করতে পারবেন, পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধান বিচারপতি
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, ‘করোনায় দেশের অবস্থা খুবই খারাপ।’
আদালত খুলে দেয়ার আর্জি জানানোয় সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে উদ্দেশ্য করে মঙ্গলবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।
শুনানির শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল হাইকোর্ট বিভাগের অধিকসংখ্যক বেঞ্চ খুলে দেয়ার দাবি তোলেন। তখন প্রধান বিচারপতি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আপনি খবর রাখেন? দেশের অবস্থা খুব খারাপ।’
জবাবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মাই লর্ড সেটা তো জানি। আমি অন্য একটা বিষয়ে বলতে চাই। সেটা হলো লকডাউন ঘোষণার পূর্বে দেয়া হাইকোর্টের আদেশগুলো পাঠানো/কমিউনিকেট করার ব্যবস্থা করুন। অন্যটি হলো সুপ্রিম কোর্টের করোনা টেস্টের বুথটি খোলা রেখে আইনজীবীদের টেস্টের সুযোগ করে দিন।
তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি তো বাইরের লোক আসতে দিতে চাই না। এ সময় বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, ‘করোনা টেস্ট তো হচ্ছে।’
বেঞ্চের আরেক বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, বারের মেম্বাররা (সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি) কি আসেন?
প্রধান বিচারপতি বলেন, আচ্ছা আমরা এটা বুঝে বলব, এটা করলে অনেক লোক চলে আসবে। আইনজীবীরা তো অ্যাফেক্টেড হচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে দেখেন আইনজীবীদের জন্য আলাদা একটা বুথের ব্যবস্থা করতে পারেন কি-না?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘ওখানে পারা যাবে না।’
পরে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের করোনা টেস্ট বুথে আইনজীবীদের আইডি কার্ড দেখে করোনা টেস্টে সম্মতি জানান।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম: টনক নড়ছে সরকারের শীর্ষ মহলে, ৫ কর্মকর্তা ওএসডি, তদন্ত হচ্ছে
মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সরকারের যে উদ্যোগটি মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে,ভূমিহীনদের জন্য সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির ঘটনায় সচেতন মানুষ বিষ্মিত। এমন একটি প্রকল্পেও যে দুর্নীতি হতে পারে তা যেনো অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। এই প্রকল্পটির সঙ্গে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবেগ অনুভূতি জড়িত। কিন্তু দুর্নীতিবাজরা সেই প্রকল্পেও দুর্নীতি করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণ করা ঘর ভেঙ্গে পড়ছে। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। নেটিজেনরা এসব অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বিচার চাচ্ছেন। এমন সুন্দর একটি প্রকল্প কারা নষ্ট করে দিচ্ছে, তাও তদন্ত করে খুঁজে বের করা এবং শাস্তিমূলক ব্যাবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্য টনক নড়েছে সরকারের শীর্ষ মহলে। দোষিদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে অনিয়মে জড়িত ১৮০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রয়েছেন। দুইজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। ওএসডি করা হয়েছে পাঁচজনকে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিদর্শন দলের সদস্যরা। তাদের প্রতিবেদনে ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে।
এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেছেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের স্লোগান হলো, ‘আশ্রয়ণের অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার’। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। এর সঙ্গে আমাদের সবার আবেগ জড়িয়ে আছে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ক্রটিবিচ্যুতি, অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৈথিল্যের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
প্রতিবেদনে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, বরগুনার আমতলী, বগুড়ার শেরপুর, শাজাহানপুর, হবিগঞ্জের মাধবপুর, সুনামগঞ্জের শাল্লা ও মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় ঘর নির্মাণে অনিয়ম, অবহেলা ও দুর্নীতির ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। গত রোববার সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে ইউএনওর দায়িত্ব পালন করে আসা শফিকুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়েছে। বরগুনার আমতলীর ইউএনও আসাদুজ্জামানকে ওএসডি করা হয়েছে সোমবার। এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।

এছাড়া বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসা লিয়াকত আলী সেখকে গত রোববার ওএসডি করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ সদরে ইউএনওর দায়িত্ব পালন করে আসা রুবায়েত হায়াত শিপলু ওএসডি হয়েছেন সোমবার। মুন্সীগঞ্জ সদরে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ মেজবাহ-উল-সাবেরিন ওএসডি হয়েছেন সোমবার। এই উপজেলার প্রকৌশলী, সংশ্নিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও মাহমুদা পারভীন, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সাবেক ইউএনও তাসনুভা নাশতারান, সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ইউএনও আল-মুক্তাদির হোসেনকে ওএসডি এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে এ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
ভূমিহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়ম করার ঘটনার সঙ্গে ৩৬ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জড়িত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্নিষ্ট জেলা প্রশাসকদের জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আরও ২৯টি উপজেলায় ঘর নির্মাণ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এ উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- বগুড়ার আদমদীঘি, কুমিল্লার দেবিদ্বার, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি, মাদারীপুরের কালকিনি, লালমনিরহাট সদর, গাজীপুরের শ্রীপুর, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী, মোহনগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, জামালপুরের ইসলামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, ময়মনসিংহ সদর, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, চুনারুঘাট, ভোলার লালমোহন, পাবনার সাঁথিয়া, মানিকগঞ্জের ঘিওর, নাটোর সদর, কুড়িগ্রামের রৌমারী, বরিশাল সদর এবং ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলেছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘর নির্মাণের বেলায় নীতিমালা মানা হয়নি। অনেক ঘরে নির্মাণে ক্রটি রয়েছে, গুণগত মান ঠিক হয়নি। ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। পিলার ভেঙে গেছে। দেয়াল ধসে পড়েছে। ঘর নির্মাণে ব্যবহৃত মালামালও ছিল নিম্নমানের। নিচু এলাকায় ঘর নির্মাণ করায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আবার ভূমির মালিকরাও ঘর বরাদ্দ পেয়েছে।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮০ জন ভূমিহীনকে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মের খবর বিভিন্ন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অনিয়মকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
দু’দিন ভার্চ্যুয়ালি চলবে আপিল বিভাগ
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে চলমান বিধি-নিষেধের মধ্যে আজ মঙ্গল ও আগামিকাল বুধবার দুইদিন ভার্চ্যুয়ালি বিচারকাজ চলবে আপিল বিভাগে। তবে এ ক্ষেত্রে বিচারপতি ও আইনজীবীদের নিজ বাসা থেকে যুক্ত হতে হবে।
এ দুই দিনের জন্য ৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৪৫টি মামলার অনলাইন কজলিস্ট (কার্যতালিকা) প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুন দেওয়া সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আপিল বিভাগ ও আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে।
আগামী ৬ ও ৭ জুলাই অনলাইন কজলিস্ট অনুযায়ী আপিল বিভাগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল শুনানি হবে। আপিল বিভাগের বিচারপতি, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ বাসগৃহ থেকে ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে শুনানিতে সংযুক্ত হবেন।
অপরদিকে, চলমান বিধিনিষেধে হাইকোর্ট বিভাগে ৩ একক বেঞ্চ ভার্চ্যুয়ালি বিচার কাজ পরিচালনা করছেন। অতি জরুরি বিষয়ে রিট ও দেওয়ানি বিষয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, ফৌজদারি বিষয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান এবং কোম্পানি ও অ্যাডমিরালিটি সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করছেন বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার।
ই-কমার্সে ১০ দিনে পণ্য ডেলিভারি না হলে মূল্য ফেরত দিতে হবে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা জারি, ফিরবে শৃংখলা
রাজধানীর ভেতরে পাঁচ দিনের মধ্যে এবং রাজধানীর বাইরের শহরে ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির নিশ্চিত করা এবং সময় মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হলে সাত দিনের মধ্যে মূল্য ফেরত দেওয়ার বিধানসহ ‘ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা-২০২১’ জারি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সোমবার এ নির্দেশিকা জারি করে মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে ইতিমধ্যে যেসব ই-কমার্স কোম্পানিতে আগাম মূল্য পরিশোধের পর ক্রেতা পণ্য ডেলিভারি কিংবা মূল্য ফেরত কোনোটিই সময়মত পাচ্ছেন না তাদের দ্রুত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করার পরামর্শ দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত নির্দেশিকাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে হাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ই-কমার্স কোম্পানিগুলো আগে থেকে ক্রেতাদের থেকে যে অগ্রিম মূল্য নিয়েছে, সেগুলোর পণ্য ডেলিভারি বা মূল্য ফেরতের ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা কার্যকর হবে। যেসব ক্রেতা অগ্রিম মূল্য পরিশোধের পরও পণ্য বা মূল্য ফেরত পাচ্ছেন না, আমাদের পরামর্শ হলো- তারা যেন দ্রুত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ক্রেতার অগ্রিম মূল্য পরিশোধের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্যটি ডেলিভারিম্যান বা ডেলিভারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করে তা টেলিফোন, ই-মেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে জানাবে ই-কমার্স কোম্পানিগুলো। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডেলিভারিম্যান পণ্যটি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো পণ্য বা সেবা ডেলিভারিম্যানের কাছে হস্তান্তর করার মতো অবস্থায় না থাকলে সে ক্ষেত্রে ই-কমার্স কোম্পানিগুলো ওই পণ্যমূল্যের ১০ শতাংশের বেশি অর্থ অগ্রিম নিতে পারবে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত এসক্রো সার্ভিসের মাধ্যমে পুরো অর্থই অগ্রিম নিতে পারবে। অগ্রিম মূল্য আদায়ের ক্ষেত্রে অফারে প্রদর্শিত পণ্য অবশ্যই দেশের ভেতরে ‘রেডি টু শিপ’ (মার্কেট প্লেসের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে বা মার্কেটপ্লেসে নিবন্ধিত থার্ড পার্টি বিক্রেতার নিয়ন্ত্রণ) পর্যায়ে থাকতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ডেলিভারির সময়সীমা আরও সংক্ষিপ্ত হবে এবং ক্রয়াদেশ গ্রহণকালে ডেলিভারির সময় সুস্পষ্টভাবে ক্রেতাকে জানাতে হবে। কোনো একটি ক্রয়াদেশে একাধিক পণ্য থাকলে আলাদা আলাদা ডেলিভারি চার্জ আরোপ করা যাবে না। তবে মার্চেন্ট ভিন্ন ভিন্ন হলে আলাদা ডেলিভারি চার্জ নেওয়া যাবে এবং ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করার আগেই তা ক্রেতাকে জানাতে হবে।
এই নির্দেশিকা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন, ভ্যাট নিবন্ধন বাতিল করাসহ সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেস নিষিদ্ধ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্রেতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য আদালতে আইনানুগ প্রতিকারের জন্য মামলা করতে পারবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সকল ধরনের ডিজিটাল ওয়ালেট, গিফট কার্ড, ক্যাশ ভাউচার বা অন্য কোনো মাধ্যম, যা অর্থের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া তৈরি, ব্যবহার বা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো ধরনের অর্থ ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।
ই-কমার্স কোম্পানিগুলো যেসব পণ্য বিক্রির অফার দেবে, তা ওই ই-কমার্স কোম্পানি বা তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মার্চেন্টদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। কোনো পণ্য বিক্রির অফারে কী পরিমাণ পণ্য স্টকে আছে, তা উল্লেখ করতে হবে এবং প্রতিটি বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই পণ্যের স্টক আপডেট করতে হবে।
এতে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পর মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো কারণে ক্রেতার চাহিদামতো পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব না হলে অর্ডার দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা ক্রেতাকে ফোন, এসএমএস বা ইমেইলে জানাতে হবে। এক্ষেত্রে অন্য কোনো পণ্য কেনার জন্য ক্রেতাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাধ্য করা যাবে না।
পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ডিসকাউন্ট, ফ্রি ডেলিভারি বা অন্য কোনো সুবিধা থাকলে তা পরিষ্কারভাবে পণ্যের বর্ণনায় থাকতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, পণ্য ও সেবার বিষয়ে ক্রেতা যাতে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করতে পারেন, সেজন্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রেতা সংখ্যার অনুপাতে কাস্টমার কেয়ার কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। কোনো পণ্য ও সেবার বিষয়ে ক্রেতার অভিযোগ রেকর্ডেও যথাযথ ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং যেকোনো অভিযোগ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করে ক্রেতাকে জানাতে হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার সময় মুদ্রিত বিল প্রদান করতে হবে, যাতে প্রদত্ত ভ্যাট ও অন্যান্য কর (যদি থাকে) উল্লেখ করতে হবে। কোনো বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা করতে চাইলে তাদের অবশ্যই নিবন্ধন নিতে হবে।
স্ত্রীর যৌতুকের মামলায় চিকিৎসক স্বামী কারাগারে; জামিন মিললো হাইকোর্টে
যৌতুক চাওয়ার অভিযোগে স্ত্রীর করা মামলায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের কারাবন্দি চিকিৎসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বপনকে ভর্ৎসনা করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই মামলায় তাকে ছয় মাসের জামিনও দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ড. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী ও মো. ইলিয়াস হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
শুনানিকালে চিকিৎসককে উদ্দেশ করে তার আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদীকে আদালত বলেন, আপনি (চিকিৎসক) একজন শিক্ষিত মানুষ। আপনার বিরুদ্ধে যৌতুক চাওয়ার অভিযোগ উঠবে কেন? আপনার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আসবে কেন? আপনি একজন ব্যর্থ স্বামী!
এ পর্যায়ে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী বলেন, গত ৪ মার্চ স্বামী-স্ত্রীর (চিকিৎসক দম্পতি) মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনার পর গত ৬ মার্চ স্ত্রীকে তিনি তালাক দেন। এরও প্রায় দুই মাস পর যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। এই চিকিৎসক একজন করোনাযোদ্ধা। তিনি ২৫তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চিকিৎসক হিসেবে কর্তব্যরত আছেন।
তখন ওই চিকিৎসকের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে তুষার কান্তি রায় আদালতকে বলেন, নথিপত্রে দেখা যায়, এই চিকিৎসক তার স্ত্রীকে মারধর করেছেন। যৌতুকের অভিযোগের মামলার আগে একটি জুডিশিয়াল অনুসন্ধান হয়েছে। তাতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপর মামলা রেকর্ড হয়েছে। পরে আদালত চিকিৎসকের জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।
সরকারি খরচায় ৩ মাসে ৩৫ হাজারের বেশি অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীকে আইনি সহায়তা, আইনমন্ত্রণালয়ের ভালো একটি উদ্যোগ
জানুয়ারি থেকে মার্চ এই তিন মাসে অসহায়, দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ৩৫ হাজার ১৩৭ জন বিচারপ্রার্থীকে সরকারি খরচায় আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের অধিনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাটি পরিচালিত হয়। এর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কল সেন্টার বা হট লাইনের মাধ্যমে আইনি পরামর্শ ও তথ্য সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ হাজার ৯৬৩ জন। এছাড়াও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) করা হয়েছে ৫১৯৮টি। এর মধ্যে মামলা দায়েরের পূর্বে (প্রি-কেইস ম্যানেজমেন্ট) ৪৪৪৬ টি এবং মামলা দায়েরের পর ৭৫২টি।
মহামারি করোনা সংকটেও জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার আইনি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। করোনার মধ্যে সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে করোনার এই প্রাদুর্ভাবের কারণে আইন সহায়তা প্রত্যাশীরা অফিসের নির্ধারিত নাম্বারে (০১৭০০-৭৮৪২৭০) যোগাযোগ করলেই আইনি পরামর্শ পাচ্ছেন। জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নির্ধারিত হটলাইন নাম্বার ১৬৪৩০ নম্বরে (টোল ফ্রি) আইনি সেবা অব্যাহত রয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সুপ্রিমকোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসে আগত আইনগত সহায়তা প্রত্যাশীদের অফিসে মাস্ক পরিধান তথা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা আছে । তবে বিচারপ্রার্থীদের অফিসে প্রবেশের ক্ষেত্রে হাত ধোয়া ও জীবাণুমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় হ্যান্ড সেনিটাইজারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় অফিস থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গনে স্থাপিত এ অফিসের প্রবেশ মূখেই প্রয়োজনীয় হ্যান্ড সেনিটাইজারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় রাখা আছে।
আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল,সহায় সম্বলহীন,অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগনকে সরকারি খরচে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন-২০০০’ প্রনয়ন করে। ২০০০সালে তৎকালীন শাসন আমলে আইনটি প্রনয়ন করে আওয়ামী লীগ। তারপরের সরকার গুলো আইনটি কার্যকরে উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেয়নি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্টিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আওয়ামীলীগ দরিদ্র ও অসচ্ছল জনগণের বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিতে আইনটি কার্যকরে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।
২০০০ সালে প্রনীত আইনটি অনুযায়ি ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা’ গঠন করা হয়। রাজধানীর ১৪৫, নেউ বেইলী রোডে এ সংস্থার প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এর ব্যাপ্তি সুপ্রিমকোর্ট, দেশের অধঃস্তন আদালত, শ্রম আদালত, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এখন প্রতিষ্ঠিত। জেলা কমিটি গঠন, প্রতিটি জেলা জজ আদালতে এর কার্যালয় রয়েছে। নানা প্রচার, প্রচরণা, সেমিনার-কর্মশালা ও প্রকল্পের মধ্য দিয়ে এ সেবা এখন মানুষের দোরগোড়ায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে । এ ওয়েবসাইটে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ে বিস্তরিত সকল তথ্য জানা যায়।
করোনার টিকার অগ্রাধিকার তালিকায় আইনজীবীরাও
করোনাভাইরাসের টিকা পেতে অগ্রাধিকারের জন্য দেশের সব আইনজীবীদের তালিকাভুক্ত করতে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বরাবর এ চিঠি দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস ও লাইন ডাইরেক্টর, এইচআইএস অ্যান্ড ই হেলথ) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান।
গত ৩০ জুন এক আদেশে করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকার তালিকায় (সুরক্ষা অ্যাপস) অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘উপরিউক্ত বিষয়ের আলোকে আপনার সদয় অবগতি ও কার্যার্থে জানানো যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ অতিমারিতে আইনপেশায় নিয়োজিত আইনজীবীরা কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে আইনসেবা ও পরামর্শ কার্যক্রম চালু রেখেছেন। নিরবচ্ছিন্ন আইনসেবা কার্যক্রম চালু রাখতে সব আইনজীবীর টিকাদানের আওতায় আনা আবশ্যক। যেসব আইনজীবী এখনো সুরক্ষা সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেননি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদানের জন্য তাদের সুরক্ষা সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করা প্রয়োজন। রেজিস্ট্রেশনের আগে তাদের সুরক্ষা সিস্টেমে হোয়াইটলিস্টিং করা আবশ্যক। এমতাবস্থায় তালিকা প্রণয়নের জন্য আপনার আওতাধীন সব রেজিস্টার্ড আইনজীবীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংযুক্ত ছক মোতাবেক নিম্ন লিখিত ই-মেইলে এক্সেল ফরমেটে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।’
করোনা টিকার অগ্রাধিকার তালিকায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি চেয়ে গত ১১ এপ্রিল রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. আবু তালেব। এ রিটে গত ১৩ এপ্রিল রুল জারি করেন হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৩০ জুন রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। বাসস।










