নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাসেম ফুডসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার সজিব গ্রুপের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ (সিইও) ৮ জনকে চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। এর আগে শনিবার বিকেলে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মোল্লা আসামিদের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠান।
দুপুরে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন মজুমদার বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাসেম, তার ছেলে হাসীব বিন হাসেম, তারেক ইব্রাহীম, তাওসীব ইব্রাহীম, তানজীম ইব্রাহীম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহান শাহ আজাদ, উপমহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ ও প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন।
রিমান্ড আবেদনে রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক হুমায়ুন করিব মোল্লা উল্লেখ করেন, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা উদ্ঘাটন করার জন্য ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার।
এর আগে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় কারখানার মালিকসহ আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার জন্য কারও ন্যূনতম অবহেলা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে এবং হবে। ভবন নির্মাণে ন্যূনতম ত্রুটি এবং কারখানা পরিচালনায় কোনো গাফিলতি থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রূপগঞ্জে আগুনে পুড়ে ৫২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৮ জন রিমান্ডে
৩৩৯ কোটি টাকা পাচার: ইভ্যালির এমডি রাসেল ও স্ত্রী শামীমার দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞা
৩৩৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল ও স্ত্রী শামীমা নাসরীনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
শুক্রবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক জানান, রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরীন যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন সেজন্য বৃহস্পতিবার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
“ইভ্যালি ডটকমের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপনে দেশ ত্যাগের প্রচেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ দেশত্যাগ করলে সার্বিক অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যহত হতে পারে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের বিদেশ গমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।”

উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্ট থেকে অনুমোদন নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, “উচ্চ আদালতের একটি রায় আছে কারো বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে আদালতের অনুমতি নিয়ে দিতে হবে, আরেকটি রায় আছে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর আদালতের অনুমতি নিতে হবে।”
দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইভ্যালির এমডি মোহম্মাদ রাসেলের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাসেল তার ফেইসবুকে লিখেন, তাদের বিদেশ যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে তিনি ‘পজেটিভলি’ দেখছেন।
তিনি বলেন, “এখন আমরা অনেকটাই প্রফিট এ বিজনেস শুরু করেছি। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী গ্রাহকদের টাকা আমাদের হাতে আসার সুযোগ নাই। এছাড়া তদন্ত করলেই সবাই দেখবেন, পুরাতন অর্ডার কি পরিমান ডেইলি যাচ্ছে।”
গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া অগ্রিম এবং মার্চেন্টের পাওনা ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ ও পাচারের’ অভিযোগে বৃহস্পতিবার ইভ্যালির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে কমিশন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী ও উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালামকে এই অনুসন্ধানের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যানকে দেওয়া এক চিঠিতে ইভ্যালি ডটকমের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের চিঠির সঙ্গে ইকমার্স প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাত পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদনও যুক্ত করে দেওয়া হয়।
দুদকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বিষয়ে তদন্ত পরিচালনা করে একটি প্রতিবেদন দেয়।
এই প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, “গত ১৪ মার্চ দেখা যায়, ইভ্যালি ডটকমের মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা (চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা।
“উক্ত তারিখে ইভ্যালি ডটকমের গ্রাহকের নিকট দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকের নিকট থেকে অগ্রিম হিসেবে গৃহিত ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের নিকট থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল গ্রহণের পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির নিকট কমপক্ষে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির নিকট সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা ।”
দুদকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়, “ইভ্যালি ডটকমের চলতি সম্পদ দিয়ে মাত্র ১৬ দশমিক ১৪ শতাংশ গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করতে পারবে বা অর্থ ফেরত দিতে পারবে। বাকি গ্রাহক ও মার্চেন্টের পাওনা পরিশোধ করা উক্ত কোম্পানির পক্ষে সম্ভব নয়।
“তদুপরি গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকার কোনো হদিস খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে গ্রাহক ও মার্চেন্টের নিকট হতে গৃহিত ৩৩৮ কোটি ৬২ লাখ ১৮ হাজার ১৭৮ টাকা আত্মসাৎ কিংবা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের আলোকে ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে কোনো আর্থিক অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে দুদককে অনুরোধ করা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ডিজিটাল আইন প্রয়োগে দক্ষতার অভাব রয়েছে, শাল্লার ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে মামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য : মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার
রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা কখনই সমাজের জন্য ভাল ফল দেয় না। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক। বঙ্গবন্ধুর লড়াই ছিল অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। কিন্তু তাকে হত্যার পর দেশে আবার সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার একাত্তরের ঘাতক দালল নির্মূল কমিটির উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির চ্যালেঞ্জ: সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে আলোচকরা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ প্রয়োগে দক্ষতার অভাব রয়েছে।

সুনামগঞ্জের শাল্লায় ঝুমন দাসকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে থানা পর্যন্ত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ সম্পর্কে দক্ষতার অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, ঝুমন দাসকে এই আইনে থানায় একটা মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধুর লড়াই ছিল অসাম্প্রদায়িক, ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্রের আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু জাতির ভিত্তি তৈরি করেছেন ৭২-এর সংবিধানের আলোকে। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২১ বছর বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর সকল ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে দারিদ্রতা মুক্ত করতে চেয়েছেন। কিন্তু সব জঞ্জাল এখনও পরিষ্কার করতে পারেননি। এখনও তাকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মামুনুল হকদের মতো কিছু লোক যারা সন্ত্রাসী, ধর্মব্যবসায়ী তাদের জন্য এই আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হচ্ছে। এজন্য সংস্কৃতির চর্চাকে বিকশিত করতে হবে। আমাদের রাজনীতির স্রোতে আমরা যদি বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িকতাকে ধরে রাখতে না পারি, তাহলে এখনকার যে অপকর্মগুলো হচ্ছে তা মারাত্মক রূপ ধারণ করবে।
সকলকে একত্রিতভাবে ডিজিটাল অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপরিচালনার নীতিই আমাদের সর্বোচ্চ দিকনির্দেশনা এবং এই নির্দেশনার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।
ওয়েবিনারে সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটি’র সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, বর্তমান বিশ্বকে, সংঘাত, সন্ত্রাস ও গৃহযুদ্ধ থেকে মুক্ত করার পূর্বশর্ত হচ্ছে আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি। বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের উল্লেখ ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক। রাষ্ট্র কর্তৃক সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করা কিংবা বিশেষ ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই হেফাজত-জামায়াতের সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা যায়নি। আমরা সাম্প্রদায়িক বঞ্চনা-বৈষম্য-নির্যাতন বিলোপ করার জন্য ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এবং ‘জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন’ প্রতিষ্ঠার কথা বলছি ২০১৪ সাল থেকে।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে তা উল্লেখ করা হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমাদের শিক্ষানীতি ও সংস্কৃতি নীতিসহ রাষ্ট্রীয় সকল কার্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন থাকতে হবে।’
নির্মূল কমিটির সহসভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি মৌলবাদীরা শিক্ষাক্ষেত্রে সুকৌশলে সাম্প্রদায়িক ধারা প্রণয়নের চেষ্টা করছে। তারা সর্বত্র ছদ্মবেশে বিচরণ করছে। হেফাজতের আজকের আস্ফালনের পিছনে এসব ছদ্মবেশী সাম্প্রদায়িক শক্তি কাজ করছে। এই সাম্প্রদায়িকতার বিষ ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের ভিতর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেন, হেফাজতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো দূর করার জন্য অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতি প্রবর্তন করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে অন্যান্য ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে এবং জাতীয় বাজেটেও অন্যান্য ধর্মের প্রতি বৈষম্য দূর করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাদার ড. তপন ডি রোজারিও বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিকভাবেই সাম্প্রদায়িকতাকে দূর করতে চেয়েছেন। কারণ রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা কখনই সমাজের জন্য ভাল ফল দেয় না, এটা তিনি দেখেছিলেন। এখন প্রত্যেকটি সরকার ধর্মকে আঁকড়ে ধরে চলার চেষ্টা করছে। ফলে স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধ উগ্রবাদী দলগুলো অপঘটনা ঘটাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ’৭২-এর সংবিধানে পুরোপুরিভাবে ফিরে যেতে হবে।
সুপ্রিম সংঘ কাউন্সিল অব বাংলাদেশ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভদন্ত এস. লোকজিৎ থেরো বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারা বজায় না থাকলে একটি দেশের মানবতা বিপন্ন হবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনীতি ও ধর্মনীতি একে অন্যের সাথে পরিপূরক হয়ে পড়ায় রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘বিধর্মী’ শব্দটি শিশুদের মনে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে। এসব দিকে লক্ষ করা প্রয়োজন। সরকারি ব্যয়ে ‘মডেল মসজিদ’ যখন হচ্ছে তখন এর মতো ‘মডেল মন্দির’, ‘মডেল প্যাগোডা’ তৈরি কারা হোক তাতে সমতা সৃষ্টি হবে।’
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শঙ্কর মঠ ও মিশন-এর অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ’৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে দেবেন এই অঙ্গীকার থেকেই সরকার গঠন করেছিলেন। কিন্তু তা পুরোপুরি ফিরে আসে নি। প্রত্যেক ধর্মেই আমরা মানবতার কথা দেখতে পাই। সবার কাছে অনুরোধ সত্যকে প্রকাশ করব। সত্যই ধর্ম আর এই সত্যই হচ্ছে মানবতা।’
বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি হাফেজ মওলানা জিয়াউল হাসান পবিত্র কোরআন, মদিনার সনদ এবং বঙ্গবন্ধুর ’৭২-এর সংবিধানে পরমতসহিষ্ণুতার কথা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। সরকারের সেরকম পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী, ধর্মব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী বাবুনগরী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তান্ডব নিয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। সরকারের কাছে দাবি করি- অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী মিথ্যাবাদী বাবুনগরীর সন্ত্রাসী জঙ্গীবাদী কার্যক্রমের বিচার করতে হবে।’
আন্তধর্মীয় সংলাপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমাজকর্মী কাজী মুকুল বলেন, ‘বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতা ও প্রতিনিধিদের নিয়ে এই ধরনের সম্প্রীতির কার্যক্রম নির্মূল কমিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যাবে। নির্মূল কমিটির বৈদেশিক শাখাগুলোকেও সেসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।’ ওয়েবিনারে লেখক মারুফ রসুলসহ বহির্বিশ্বে নির্মূল কমিটির ১২টি শাখার নেতারা যুক্ত ছিলেন।
হদিস নেই গ্রাহকের ৩৩৯ কোটি টাকার: ইভ্যালির অনিয়ম অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক
গ্রাহক ও মার্চেন্টের প্রায় ৩৩৯ কোটি টাকার হদিস না থাকার বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার দুই সদস্য বিশিষ্ট অনুসন্ধান দল গঠন করেছে সংস্থাটি।
দুদক সূত্র জানায়, গ্রাহক ও মার্চেন্টের টাকাগুলো আত্মসাৎ অথবা পাচার হয়েছে কি–না তা খতিয়ে দেখতে এই অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, ইভ্যালির দুর্নীতি অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েছেন দুদকের একজন সহকারী পরিচালক ও একজন উপসহকারী পরিচালক।
এর আগে গত ৪ জুলাই ইভ্যালির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের চার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
দুদক চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ মার্চে ইভ্যালির মোট সম্পদ ৯১ কোটি ৬৯ লাখ ৪২ হাজার ৮৪৬ টাকা (চলতি সম্পদ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং মোট দায় ৪০৭ কোটি ১৮ লাখ ৪৮ হাজার ৯৯৪ টাকা। এ সময় গ্রাহকের কাছে ইভ্যালির দায় ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টের কাছে দায় ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকা। গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ ৬ হাজার ৫৬০ টাকা এবং মার্চেন্টদের কাছ থেকে ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৪ টাকার মালামাল নেওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ ১ হাজার ৯১৪ টাকার চলতি সম্পদ থাকার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ রয়েছে মাত্র ৬৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩৬ টাকা।
বরিশালে রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে মারধর করলেন ডিবির ওসির স্ত্রী
বরিশাল নগরীতে রাস্তায় প্রকাশ্যে শিশু গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে পরিদর্শকের ছেলেও স্থানীয়দের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর চৌমাথা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীর নাম মনি (১১)। সে বাবুগঞ্জ উপজেলার মন্টু হাওলাদারের মেয়ে। ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে।
শিশু গৃহকর্মী অভিযোগ করে- সে রূপাতলী এলাকায় ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমানের বাসায় কাজ করত। এ সময় তাকে অনেকবারই বকাঝকা করা হতো। বৃহস্পতিবার সে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর তাকে নগরীর চৌমাথা এলাকায় মিজানুর রহমানের স্ত্রী রাস্তায় প্রকাশ্যে মারধর করে। এ সময় তার ছেলেও চড়-থাপ্পড় দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রফিকুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, মেয়েটি চৌমাথা বাজারের সামনের রাস্তা পার হচ্ছিল। এর মধ্যে এক মহিলা ও একজন ছেলে মেয়েটির হাত ধরে টান দেয় এবং মারা শুরু করে। এ সময় মেয়েটি বলতে থাকে- ‘মুই আমনেগো লগে যামু না, ওই বাসায় মইরা গেলেও যামু না’। এ সময় লোকজন জমা হয়ে যায় এবং শিশুটিকে মারার কারণ জানতে চান। পাশাপাশি মারধরকারী ওই মহিলা ও ছেলেকে পুলিশে দেয়ার কথা বললে ওই মহিলা ও তার ছেলে উল্টো পুলিশকে গালাগালি করে।
আরও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী রাস্তায় মেয়েটির ওপর নির্যাতনের কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মহিলার স্বামী জেলা ডিবির পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তিন দিন আগে শিশুটির মা-বাবা আমাদের বাসায় রেখে যান। আমার স্ত্রী অসুস্থ। আজ সকালে সে রিপোর্ট দেখানোর জন্য বাইরে বের হয়েছে। আমি বাসায় একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এই সুযোগে শিশুটি ঘরের বাইরে বের হয়ে যায়।
১২ বছরের শিশু আপনার বাসায় কী কারণে রেখেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুটি অসহায় হওয়ায় তার মা আমার বাসায় দিয়ে গিয়েছিলেন। আমার সন্তানদের সঙ্গী হিসেবে থাকতো শিশুটি। তাকে গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়নি।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির সঙ্গে কথা বলেছি। ৬ দিন আগে সে ওই বাসায় কাজ শুরু করেছে। সেখানে বকাঝকা করায় মেয়েটি ক্ষুদ্ধ হয়ে বাসা থেকে আজ সকালে বের হয়ে যায়। পরিদর্শকের পরিবারের লোকজন খুঁজতে বের হয়, ঘটনাস্থলে এসে শিশুটিকে পেলে তারা বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু মেয়েটি না যেতে চাইলে টানাহেঁচড়া হয়। যে বিষয়টি দৃষ্টিকটু। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। শিশুটি বর্তমানে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রয়েছে, তার পরিবার এসে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, যেহেতু শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু শিশুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। ভিকটিমের জবানবন্দি ও বাবা-মায়ের অভিযোগ সব কিছু শুনেই ঘটনার তদন্ত করে যা সামনে আসবে সেভাবেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন সবার জন্য সমান। এক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবার ব্যবসা করতে পারবেন না,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি
সরকারি কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা কোনও প্রকার ব্যবসা করতে পারবে না- মর্মে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠির প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন সিকদার স্বাক্ষরিত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবকে লেখা চিঠিতে দুদক বলেছে, “ দুর্নীতি দমন কমিশন পরিচালিত বিভিন্ন অনুসন্ধানে দেখা দেখা গেছে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যগণ সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যা সরকারি কর্মচারী চাকুরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংগত কারণে চাকুরি বিধিমালার নির্দেশনাসমূহ অনুসরণের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে কমিশন মনে করে।”
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “উপরিউক্ত অবস্থা নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার জন্য সদয় অনুরোধ করা হলো”।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই চিঠিটি গ্রহণ করে।
দুদক সচিবের লেখা এই চিঠির প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সকল মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তার আওতাধীন সংস্থা বা দফতরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মাজেদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত চলতি বছরের ৪ মার্চ লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, “ দুর্নীতি দমন কমিশন কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যগণ সরকারি অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন যা সরকারি কর্মচারী চাকুরী বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বিধায় বিষয়টি নিরসনকল্পে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করার জন্য এ বিভাগকে (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ) অনুরোধ জানিয়েছে।
এমতাবস্থায় বর্ণিত বিষয়টি নিরসনকল্পে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক তার আওতাধীন সংস্থা বা দফতরসমূহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।”
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯ এর ১৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “ ব্যক্তিগত ব্যবসা অথবা চাকরি। (১) এই বিধির অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কোন সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সরকারি কার্য ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসায়ে জড়িত হইতে অথবা অন্য কোন চাকরি বা কার্য গ্রহণ করিতে পারিবেন না। তবে একজন ননগেজেটেড সরকারি কর্মচারী উক্তরূপ অনুমোদন ব্যতিরেকে তাঁহার পরিবারের সদস্যদের শ্রম কাজে লাগাইয়া ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাইতে পারিবেন এবং এইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে সম্পত্তির ঘোষণাপত্রের সহিত ব্যবসার বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করিতে হইবে”।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিব গণমাধ্যমের কাছে এ বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, আমরা দুদকের চিঠি পেয়েছি এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য সকল মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠিও পাঠিয়েছি। যদিও চাকরি বিধিমালায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। তার পরেও যেহেতু দুদক অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে, সেহেতু সেই চিঠির বরাতে আমরাও আরেকটি নোটিশ করেছি।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সিলেটে এক প্রতারক গ্রেফতার
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতের নাম- কামরুল হাসান হিমেল। এসময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি, মোবাইল ফোন, সীম কার্ড, ফেক ফেসবুক ও হোয়াটসএ্যাপ আইডি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৭ জুলাই) সিলেট জেলার সদর থানার সুরমা টাওয়ার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম টিম।
কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম টিমের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃত হিমেল প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি হতে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে। অভিযুক্ত ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকে সংগৃহীত ছবি দিয়ে ফেইক ফেসবুক আইডি খুলে বিভিন্ন পেশার লোকদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট প্রেরণ করে পরিচিত হত। অতঃপর তাদের চাকুরীর লোভ, চাকুরীজীবিদের ভাল জায়গায় পোস্টিং, সরকারী কোয়াটার্স দেয়ার কথা বলে প্রতারণামূলকভাবে বিভিন্ন ব্যাংক এ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক।
তাকে আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ প্রেরণ করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতির দাবিতে জেনেভায় মানববন্ধন ও সমাবেশ
একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে জেনেভায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
বুধবার অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি দাবির পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা এ মানববন্ধন কর্মসূচি চলে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সর্বইউরোপীয় শাখার সভাপতি তরুণকান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বক্তব্য দেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা জুলিয়ান ফ্রান্সিস, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ভাষাসংগ্রামী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৌত্রী সমাজকর্মী আরোমা দত্ত এমপি, অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির এমপি লরি ফার্গুসন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, খেমাররুজ ট্রায়ালের কম্বোডিয়ান টাস্কফোর্সের উপদেষ্টা গণহত্যা বিশেষজ্ঞ ড. হেলেন জার্ভিস, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলিম চৌধুরীর কন্যা অধ্যাপক ডা. নুজহাত চৌধুরী, ভারতের লেখক সাংবাদিক হিরণ্ময় কার্লেকার, টার্কিশ পেন-এর সাবেক সভাপতি কবি ও নাট্যকার তারিক গুনারসেল, ভারতের জহওরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার ভরদ্বাজ, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণকারী ইরানের মানবাধিকার নেতা বানাফশে যাদ, পোল্যান্ডের মানবাধিকার কর্মী নাটালিয়া সিনায়েভা পাঙ্কোভস্কা, যুক্তরাষ্ট্রের বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী ড. জেফ মুডি, যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার নেতা ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউম্যানিজম-তুরস্কের সভাপতি লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ফেরহাত আতিক, ফোরাম ফর সেক্যুলার ইজিপ্ট অ্যান্ড মিডল ইস্টের সভাপতি মানবাধিকার নেতা সাংবাদিক মহসিন আরিশি, সুইজারল্যান্ডের আর্থ ফোকাস ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি নিকোলাস ফুরে, সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় গ্রহণকারী বেলুচ মানবাধিকার নেতা মুনির মেঙ্গাল, ওয়ার্ল্ড সিন্ধি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা ড. লাকু লুহানা, যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় গ্রহণকারী সিন্ধি মানবাধিকার নেতা ড. সাগর শেখ, ভারতের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও লেখক প্রিয়জিৎ দেব সরকার, ইংল্যান্ডের মানবাধিকার নেতা ভাল হার্ডিং এবং পাকিস্তানের মানবাধিকার নেতা তাহিরা আবদুল্লাহ।
বক্তারা বলেন, একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়ে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে।
২০১০ সালে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এ গণহত্যায় জড়িত পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর প্রত্যক্ষ সহযোগীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখনও এ কার্যক্রম চলছে। ইতিহাসের এত বড় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া না হলে বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ করলো এনবিআর
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার সংস্থাটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল থেকে সব ব্যাংকে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল করে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এনবিআরের চিঠি পাওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি পরিপালন প্রতিবেদন পাঠাতে হবে এনবিআরে।
পি কে হালদারের অনিয়মের সহযোগী হিসেবে আটক ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক এমডি রাশেদুল হক ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জল কুমার নন্দি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেন।
রাশেদুল হক তার জবানবন্দিতে বলেন, পি কে হালদারের ক্ষমতার অন্যতম উৎস ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী। তার মাধ্যমেই পি কে হালদার বিভিন্ন অনিয়ম চাপা দিতেন। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক ও বর্তমানে নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমকে প্রতি মাসে দেওয়া হতো দুই লাখ টাকা। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগের সহকারী পরিচালক থেকে যুগ্ম পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা বছরে দুই বার পরিদর্শনে আসতেন। অনিয়ম না ধরার জন্য প্রতিবার তাদের পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা দেওয়া হতো। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তাদের ও পরিবারের সদস্যদের অ্যাকাউন্ট তলব করে এনবিআর।
আদালতে জবানবন্দির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর শাহ আলমকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পরিদর্শন বিভাগের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
লকডাউনে গ্রেপ্তার, গারদে গাদাগাদি: এটর্নি জেনারেলকে স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি দেখতে বললেন হাইকোর্ট
চলমান বিধি-নিষেধ অমান্যের অভিযোগে আটকদের প্রিজনভ্যানে করে নিম্ন আদালতের গারদে নিয়ে গাদাগাদি করে রাখার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে এনেছেন এক আইনজীবী।
এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিষয়টি দেখতে বলেছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ। আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিনি পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানাবেন।
লকডাউনে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কোর্ট হাজতে না নিয়ে থানায় রেখে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপনের ব্যবস্থা করার জন্য আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. জোবায়দুর রহমান, আল রেজা মো. আমির এবং মোহাম্মদ মিসবাহ উদ্দিন।
আদালতে মো. আসাদ উদ্দিন বলেন, লকডাউনে প্রতিদিন শত শত মানুষ গ্রেফতার হচ্ছে। গত ছয়দিনে এর সংখ্যা ৩০৬৫ জন। গ্রেফতারদের প্রতিদিন প্রিজনভ্যানে গাদাগাদি করে একসঙ্গে কোর্ট হাজতে নেওয়া হয়। সেখানে শত শত মানুষ একসঙ্গে গারদের মধ্যে অবস্থান করে। পরস্পরের শরীরের সঙ্গে শরীর এবং নিশ্বাসের সঙ্গে নিশ্বাস মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। বাইরে আত্মীয়-স্বজনরাও ভিড় করেন। ফলে সেখানে আশংকাজনকভাবে করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এসময় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, পুলিশের বাধ্যবাধকতা আছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নেওয়ার। তখন আসাদ উদ্দিন বলেন, ভার্চ্যুয়াল পদ্ধতিতে সেটি সম্ভব।
পরে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে কী করা যায় তা জানতে চান। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তিনি পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানাবেন।
পরবর্তীসময়ে আসাদ উদ্দিন আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৪ ধারাটি উল্লেখ করে বলেন, এ ধারার বিধান অনুযায়ী ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতিই গ্রেফতার ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা পূরণে যথেষ্ট। তখন আদালত বলেন, সরকারতো ভালো বুঝেই আইন করেছে। কিন্তু এর বাস্তবায়নে যে জনশক্তি ও লজিস্টিক সাপোর্ট লাগবে তা তো সহসাই ব্যবস্থা করা কঠিন। আপনি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলাপ করেন, চিন্তার শেয়ার করেন দেখেন কী করা যায়। অবশ্যই বিষয়টির গুরুত্ব আছে। বাংলা নিউজ।











