লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপেজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসের আলমারি থেকে কয়েক লাখ টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই টাকার উৎস নিয়ে যেমন প্রশ্ন ওঠেছে তেমনি কতোটাকা খোয়া গেছে তাও পরিস্কার নয়। তবে টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনায় পিআইও তার অফিস সহকারির বাড়ি গিয়ে তল্লাশী ও ভাঙচুর করেছেন। পুলিশ দিয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়েছেন। তবে তিনি থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নি। ফলে এই টাকা নিয়ে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। বলা হচ্ছে পিআইও তার আলমিরায় ঘুষের টাকা রেখেছিলেন আর এই টাকাই কেউ হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকটা চোরের ওপর বাটপারির মতো।
পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে রামগতির উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কমলনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি অনিয়মসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। গত সোমবার রাতে টাকা চুরির অভিযোগে তার কার্যালয়ের চার কর্মচারীকে থানায় নিয়ে যান। পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দিলেও মঙ্গলবার সকালে আবার চারজনকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কত টাকা খোয়া গেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি পিআইও। অর্থের উৎস সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি। ওসি জানান, পিআইও রিয়াদ তার অফিস সহকারী আবদুল বাকেরসহ চারজনকে নিয়ে সোমবার রাত ৯টার দিকে থানায় হাজির হন। তিনি অভিযোগ করেন, কার্যালয়ে তার কক্ষের আলমারি থেকে কয়েক লাখ টাকা গায়েব হয়েছে। এই চার কর্মচারী টাকা চুরি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘রিয়াদ বলেছেন, ঠিক কত টাকা ছিল সে হিসাব তার নেই। কখনো বলেন, ৭ লাখ টাকা, কখনো ১০ লাখ টাকা। রিয়াদ ও চার কর্মচারীকে আলাদাভাবে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কেউই পরিষ্কার কোনো তথ্য দেননি। কারও সঙ্গে কারও কথাও মেলেনি। এ কারণে চারজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবার তাদের থানায় আনা হয়।’
ওসি মোসলেহ উদ্দিন আরও বলেন, ‘টাকা চুরির অভিযোগ করলেও রিয়াদ হোসেন কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দেননি। এত নগদ টাকা কোথা থেকে এলো জানতে চাইলে রিয়াদ দাবি করেন, এগুলো বিভিন্ন লাইসেন্স ও কালেকশনের টাকা। তবে সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি।’
এসব বিষয়ে জানতে পিআইও রিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে, পিআইওর অফিস সহকারী আবদুল বাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, সোমবার বিকেলে রিয়াদ হোসেন নিজেই তাদের বাড়ি গিয়ে টাকা খোঁজার নামে তল্লাশি চালান। এ সময় ঘরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এরপর জানতে পারেন যে, তার স্বামীকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
তবে ঠিকাদাররা জানান, টেন্ডারের পে-অর্ডার হয় চেকের মাধ্যমে। ঠিকাদারের সঙ্গে সব লেনদেন হয় চেকে। তার সঙ্গে নগদ লেনদেন হয় না। তবে বিলের চেক সই করতে তিনি যে কমিশন নেন এই নগদ টাকাই খোয়া গেছে। এগুলো ঘুষের টাকা। ঠিকাদারদের অভিযোগ, পিআইও রিয়াদ ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল বা বিলের চেকে সই করেন না। কয়েক দিন আগে কয়েকটি কাজের বিলের চেকে সই করার জন্য কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। তার মূল কর্মস্থল রামগতি উপজেলায়। এখন কমলনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। দুই উপজেলার ঠিকাদার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তার কাছে জিম্মি।
ঠিকাদারদের একজন জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের জুন ক্লোজিং-এ প্রকল্প সভাপতি, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যেদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন পিআইও। এসব টাকা তার হয়ে কালেকশন করতেন তার অফিস সহকারী আবদুল বাকের। পরে বাকেরের সঙ্গে ঘুষের টাকা নিয়েই পিআইওর মনোমালিন্য হয়। এর জেরে টাকা গায়েবের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘পিআইওর অফিসের আলমারি থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। চারজনকে থানায় ডাকা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি কী, সেটা জানার চেষ্টা করছি। আসলে কিসের টাকা বা কত টাকা সেটাও জানি না।’
লক্ষীপুরে পিআইও’র আলমারি থেকে ঘুষের কয়েক লাখ টাকা খোয়া; অভিযোগ, ঠিকাদারদের কমিশনের টাকা ছিলো এগুলো
পরীমণিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা : নাসির ও অমির জামিন, তবে মুক্তি পাচ্ছেন না
ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিন পেয়েছেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু তুহিন সিদ্দিকী অমি।
মঙ্গলবার পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার থানার পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন।
অন্যদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহজাদী তাহমীদা তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

তবে নাসির ও অমি দুজনেই বিমানবন্দর থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার আছেন এবং অমি মানব পাচার ও পাসপোর্ট জালিয়াতির আরেক মামলায় গ্রেফতার আছেন। ফলে পরীমণির মামলায় জামিন পেলেও তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।
এর আগে গত ২৩ জুন তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছিলেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসান।
গত ১৪ জুন ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন ও অমির নাম উল্লেখ করে এবং চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমণি।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরায় তুহিন সিদ্দিকী অমির বাসায় অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ডিবি। অমির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা, বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়।
সে রাতে ডিবির গুলশান জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক কুমার সিকদার বাদি হয়ে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় নাসির, অমিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ১৫ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি নাসির ও অমির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৩ জুন রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ঘটনার বিচার চান পরীমণি। এরপর বিষয়টি নিয়ে রাতে সংবাদ সম্মেলন করেন। পরীমনি অভিযোগ করেন, ‘আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। পরে তিনি মামলা করেন।
দুদকের আবেদন; আদালতের নির্দেশে ওসি প্রদীপের সব সম্পত্তি থাকবে ডিসির জিম্মায়
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর জব্দ করা সম্পত্তি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের ডিসির জিম্মায় থাকবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সিনিয়র স্পেশাল জজ শেখ আসফাকুর রহমান দুই জেলা প্রশাসককে ‘জিম্মাদার’ নিয়োগের আদেশ দেন।
দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এজাহারভুক্ত এসব সম্পত্তি জব্দ করতে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আদেশ দিয়েছিল একই আদালত।
দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল হক মাহমুদ বলেন, “দুদকের মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে। ওই মামলায় আগে সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেসব সম্পত্তিতে রিসিভার নিয়োগের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।”
তিনি জানান, চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশের জমি, পাথরঘাটার একটি বাড়ি ও দুটি গাড়ি আদালতের আগের আদেশের পরই জব্দ করা হয়। সেসবের ‘রিসিভার’ হিসেবে থাকবেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। আর কক্সবাজারের একটি ফ্ল্যাটের ‘রিসিভার’ থাকবেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক।
সিনহ হত্যা মামলায় প্রদীপ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত বছরের ২৩ অগাস্ট দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় ওসি প্রদীপের সঙ্গে তার স্ত্রী চুমকি কারণকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রদীপ কুমার দাশ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে অর্জিত অর্থ গোপন করার জন্য নগরীর কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার একটি ছয়তলা বাড়ি শ্বশুরের নামে নির্মাণ করেন।
পরবর্তীতে ওই বাড়িটি প্রদীপ দাশের শ্বশুর তার মেয়ে চুমকি কারণের নামে দান করেন। দানপত্র দলিল হলেও বাড়িটি প্রদীপ দাশ ও স্ত্রী চুমকি কারণ কর্তৃক অর্জিত বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা প্রদীপ গ্রেপ্তার হলেও তার স্ত্রী চুমকি এখনও পলাতক।
কক্সবাজারের টেকনাফের কাছে বাহারছড়া চেকপোস্টে গত ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
ওই ঘটনার পর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস গত ৫ অগাস্ট কক্সবাজারের হাকিম আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সেখানে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলিকে ১ নম্বর এবং টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।
মামলা হওয়ার পর ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্য ৬ অগাস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর প্রদীপকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর হত্যা মামলায় ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয় র্যাব। গত ২৭ জুন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
হুমায়ূন আহমেদের চিত্রকর্ম আত্মসাৎ: দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করলেন শাওন
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের চিত্রকর্ম আত্মসাতের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তার স্ত্রী’ মেহের আফরোজ শাওন।
মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি মামলাটি করেন। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে ২৯ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে মেহের আফরোজ শাওন জানান, এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে রুমা চৌধুরী ও তার স্বামী মঞ্জুরুল আজিম পলাশকে। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১২ সালে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আমেরিকার নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় গিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। সেখানে তিনি তার পুত্র নিষাদকে নিয়ে বেশকিছু ছবি এঁকেছিলেন। ওই সময়ে রুমা চৌধুরী ও তার সাবেক স্বামী বই ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সাহার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সে সূত্রে হুমায়ূন আহমেদ তার আঁকা ২৪টি ছবি তাদেরকে দেন প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য।
যেগুলো ২০১২ সালের জুন মাসে রুমা চৌধুরী জিম্মায় দেওয়া হয়। শর্ত ছিল প্রদর্শনী শেষে তারা ছবিগুলো হু’মায়ূন আহমেদের কাছে ফেরত দিবেন। প্রদর্শনীর দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে রুমা চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ সাহার উদ্দেশ্য ছিল প্রাথমিকভাবে ছবিগুলো বিক্রি করে কমিশন লাভ করা এবং পরবর্তীতে ছবিগুলো আত্মসাৎ করে। এভাবে তারা বারবার হুমায়ূন আহমেদকে প্রস্তাব দিলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ছবিগুলো তিনি এঁকেছেন তার নিজের এবং পুত্র নিষাদের আনন্দের জন্য। বিক্রি করে অর্থ লাভের জন্য নয়। এ সময়ে রুমা চৌধুরী গুজব রটান প্রদর্শনীর ২৪টি ছবির মধ্যে ৪টি ছবি হারানো গেছে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর শাওন দেশে ফিরে আসেন। তিনি রুমা চৌধুরী ও বিশ্বজিৎ সাহার কাছে ছবিগুলো ফেরত চান। বারবার চাওয়া সত্ত্বেও তারা ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু করে। পরবর্তীতে অভিনেতা ও তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তির সহায়তায় তারা ২০টি ছবি ফেরত দেন হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজের জিম্মায়। এ ঘটনা ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের। মঞ্জুরুল আজিম পলাশ গত ৩১ মার্চ তার ফেসবুকে কুমিল্লায় লিংকবাংলা শিল্প প্রদর্শনীর বিজ্ঞাপন দেন। ১ থেকে ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে একটি ছবি হুমায়ূন আহমেদের আঁকা ছবি ছিলো। যে ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের আঁকা হারিয়ে যাওয়া চারটি ছবির একটি বলে প্রতীয়মান হয়। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় রুমা চৌধুরীর যোগসাজশে মঞ্জুরুল আজিম পলাশ ছবিগুলো অসাধুভাবে আত্মসাৎ করেছেন। যা দন্ডবিধির ৪০৬/৪১১/৪২০/৩৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
২০১৫ সালে বিশ্বজিৎ সাহার সাথে বিচ্ছেদের পর দেশে ফিরে রুমা চৌধুরী কুমিল্লায় মঞ্জুরুল আলম পলাশের সাথে থাকতে শুরু করেন। রুমার সাবেক স্বামী বিশ্বজিৎ সাহা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা বইয়ের পাইকারী সরবরাহকারী এবং নিউইয়র্ক বই মেলার আয়োজক।
কারও প্ররোচণায় নয়, সাবেক মেয়র খোকনের বিষয়ে দুদক স্বাধীনভাবে অনুসন্ধান করছে, জানিয়েছেন সংস্থাটির সচিব
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনকে কারও প্ররোচণায় হয়রানী করা হচ্ছে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীনভাবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অনুসন্ধান করছে। এর অংশ হিসেবেই মি.খোকনসহ তার পরিবারের সদস্যদের ৮টি ব্যাংক হিসাব আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে এই দুদক সচিব মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন “দুদক স্বাধীন সংস্থা, তারা কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করে না, নিজের প্রয়োজনে অনুযায়ী কাজ করে।“
দুদকের আবেদনে আদালতের আদেশে ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) হওয়ার পর সাঈদ খোকন এজন্য বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে দুষেছেন। দুদকের মাধ্যমে ‘হয়রানি’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন খোকন।

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবেক মেয়র খোকন অভিযোগ করেন, “মেয়র তাপস নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাকে হয়রানি করছেন।“
এরপর বিকেলে এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে দুদক সচিব বলেন, “এই রকম কোনো বিষয় নেই।“
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দুদক সব সময় সবার স্বার্থ রক্ষা করে কাজ করে। প্রয়োজন হলে তার স্বার্থ রক্ষা করবে।
“দুদক মানুষকে অযথা বা একচেটিয়া, একদিক থেকে কোনো কিছু করে না।”
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের শুরু থেকেই অনুসন্ধান চালাচ্ছে দুদক। এই অভিযোগে ইতোমধ্যে মেয়র থাকাকালীন সময়ে তার পিএস ও এপিএসকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।
সাঈদ খোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা আছে কিনা, এমন প্রশ্নে দুদক সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, “তদন্তকারী অফিসার প্রয়োজন মনে করলে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।”
সাবেক মেয়রের অবরুদ্ধ আটটি ব্যাংক হিসাবে কত টাকা রয়েছে সেই বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি তিনি।
দুদক সচিব বলেন, “আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হল- শাহানা হানিফের নামে দুটি, একটি সিটি ব্যাংক, একটি এক্সিম ব্যাংক লিমিটেডে। ফারহানা আলমের নামে একটি, তারপর সাঈদ খোকন প্রপার্টিজ লিমিটেড নামে সিটি ব্যাংকে, ফোর এ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে ন্যাশনাল ব্যাংকে, মেসার্স এইচ এম এস করপোরেশনের নামে সিটি ব্যাংক বনানী শাখা এবং ফাতেমা খাতুনের নামে ব্যাংক এশিয়া বনানী শাখায় একটি। এই আট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।“
দুদুকের আবেদনে আদালত এগুলো অবরুদ্ধ করেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “একাউন্টগুলো ফ্রিজ থাকবে। মনে করা হচ্ছে যে, অতীতে বেশ টাকা পয়সার অস্বাভাবিক লেনদেন আছে। ভবিষতে সেখান থেকে টাকা-পয়সা.. ইয়ে হয়ে যেতে পারে বিভিন্নভাবে।
“অনুসন্ধানের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করেছেন এবং আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।”
ব্যাংক হিসাব জব্দ: তাপসের বিরুদ্ধে ‘প্ররোচনার’ অভিযোগ তুললেন সাঈদ খোকন
দুদকের আবেদনে আদালত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন সংবাদ সম্মেলন করে দুষলেন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে।
খোকনের অভিযোগ, মেয়র তাপস নিজের ‘ব্যর্থতা ঢাকতে’ দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে তাকে ‘হয়রানি’ করছেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে সাবেক মেয়র বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের এক আদেশ বলে আমার এবং আমার পরিবারের আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। যে আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আমার এবং আমার পরিবারের সাত কোটি ৬২ লক্ষ ৭৪ হাজার ৬০৩ টাকা রক্ষিত রয়েছে।
“আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই, দুদক আমার এবং আমার পরিবারের কোনো সদস্যকে কোনোরূপ নেটিস প্রদান না করে, কোনোরূপ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সরাসরি আদালতের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।”
খোকন বলেন, “আমি মনে করি, এহেন কর্মকাণ্ডে আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেনের মেয়র তাপস নগর পরিচালনায় তার সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে আমার প্রতি বিভিন্ন হয়রানিমূলক এবং বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছে। আমি ও আমার প্রাণপ্রিয় ঢাকাবাসী এবং প্রিয় দেশবাসী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দুদকের এহেন কর্মকাণ্ড তাপসের প্ররোচনায় সংঘটিত হয়েছে।”
দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুদকের একজন উপপরিচালক গত রোববার খোকন ও তার পরিবারের কয়েকজন সমস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করার আবেদন করেছিলেন। ঢাকা মহানগরের একজন জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ওইদিনই তা মঞ্জুর করেন।
এর মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তিনটি তার মা ফাতেমা হানিফের একটি, বোন শাহানা হানিফের দুটি এবং স্ত্রী ফারহানা আলমের দুটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে ‘অস্বাভাবিক ও বিপুল অংকের অর্থ লেনদেন করা হয়েছে, যা ‘সন্দেহজনক’।
“তাই সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা হস্তান্তর বন্ধ রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।”
ওই ব্যাংক হিসাবের অর্থ এরইমধ্যে ‘স্থানান্তরের চেষ্টা হয়েছে’ দুদকের আবেদনে আদালতে জানানো হয়েছে। তবে সেখানে টাকার কোনো অংক উল্লেখ করা হয়নি।
খোকন তার সংবাদ সম্মেলনে অবরুদ্ধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে দুদকের প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, “বর্তমান করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে আমার এবং আমার পরিবারের ব্যংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকলে আমার ও আমার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বকেয়া পাওনা বন্ধ হয়ে যাবে। আমার সংসার পরিচালনা দুরূহ হয়ে পড়বে। বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
“আমি দুদককে অনুরোধ করব, আপনারা আদালতের মাধ্যমে আমার জব্দকৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দিয়ে আমাকে স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুযোগ করে দেবেন, যেটা আমার এবং আমার পরিবারের সাংবিধানিক অধিকার।”
আমাকে মেরে বড় হতে হবে?’
তাপসকে কীভাবে ব্যর্থ মেয়র বলছেন- এমন প্রশ্ন সাংবাদিকরা রেখেছিলেন সাবেক মেয়র খোকনের সামনে।
উত্তরে তিনি বলেন, “এই তাপস কতটুকু ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন এই শহরের মানুষ জানে। কত পার্সেন্ট ভোট পেয়েছেন এই শহরের মানুষ জানে। যাই হোক, ক্ষমতায় আছেন। মানুষের কাজ করেন।
“ঢাকার মরা লাশটার ওপরও ট্যাক্স বসিয়ে দিয়েছে এই মেয়র। ঢাকার মরা মানুষের উপর ট্যাক্স বসিয়ে দিয়েছে। আপনি কীভাবে ভালোবাসা আশা করেন। আপনার ব্যর্থতার দায় ঢাকার জন্য আর মানুষ পান না? বারবার শুধু আমার উপরেই? কেন? কেন? আমার ঢাকাবাসী দাফনের পয়সাটুকু দিতে পারে না। আমি দাফন ফ্রি করে দিয়েছিলাম।
“আজকে আজিমপুরে গিয়ে দেখেন একটা লাশ নামানোর আগে টিকেট লাগে। ব্যর্থ বলব না তো কি বলব? আজকে এই শহরের মোড়ে মোড়ে একটা স্লিপ নিয়ে লোকজন চাঁদা তোলার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। নেয় কি নেয় না?”
বর্তমান মেয়রের সমালোচনা করে সাবেক মেয়র বলেন, “মানুষের কথা শুনে আমি লক্ষ লক্ষ ব্যানার ফেস্টুন ফেলে দিয়েছিলাম। আর সিটি করপোরেশন নিজের নামে ব্যনার ফেসটুন লাগাচ্ছে। নগর পরিচালনা করতে পরেন না, আরো বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখ? আরে তোমার বড় হওয়ার পথে সাঈদ খোকন বাধা নাকি? তুমি বড় হও, তাতে আমার কী? আমাকে মেরে বড় হতে হবে নাকি?
দুদক কীভাবে চলছে, প্রশ্ন খোকনের
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাঈদ খোকন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুদক কীভাবে চলছে তা দেশবাসী ‘জানে’।
“তদন্ত করতে আমার কিংবা আমার পরিবারের কোনো আপত্তি নেই। দুদক তদন্ত করতেই পারে। কিন্তু কারও প্ররোচনায় কোনো দলাদলিতে নিজেকে দুদক জড়াবে, একজন নাগরিক হিসোবে আমি এটা প্রত্যাশা করি না। একজন নাগরিক হিসেবে আমি কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখতে চাই।
“এই শহরের যেমন লক্ষ নাগরিক রয়েছে, কোটি নাগরিক রয়েছে, আমিও একজন সাধারণ নাগরিক। একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে যে প্রাপ্য অধিকারটুকু রয়েছে, আমি সেই প্রাপ্য অধিকারটুকু ফিরে পেতে চাই।
দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাবেক মেয়র বলেন, “আমার এবং আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কী সন্দেহ স্পষ্টভাবে বলতে হবে। আরে ভাই, এই শহরে কী হচ্ছে মানুষ কি জানে না? দেখে না? দুর্নীতি দমন কমিশনে কী হচ্ছে মানুষ কি দেখে না? জানে না? কী দিয়ে কী করতে চান? শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চান? এটা এই শহরের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না।”
সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে খোকন বলেন, “আপনারা জানেন, আমার পরিবার এই শহর, এই নগরী সেবা করে আসছি প্রায় এক শতাব্দি ধরে। প্রায় ৭০ বছরের উপরে হবে, ঢাকার শেষ সরদার মাজেদ সরকার, তার মেয়ে আমার মা ফাতেমা হানিফের অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। আমার বৃদ্ধ মাকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়।
“ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হানিফের স্ত্রী লাঞ্ছিত হবে? এটা ঢাকাবাসী মেনে নেবে না। আমরা যদি ব্যবসা বাণিজ্য করতাম, এই শহরের ধনাঢ্য ব্যক্তি হতাম। ৩৩ বছরের রাজনীতিতে এই শহরের মানুষের জন্য আমার নেত্রীর জন্য মামলা হামলার শিকার হয়ছি। চরম সংগ্রামে রাজপথ ছেড়ে যাইনি। আজকে এই সময় দেখবার জন্য? আজকের এই অবস্থা দেখবার জন্য?
প্রয়োজনে ‘আন্দোলনের পথ’ বেছে নেওয়ার হুমকি দিয়ে খোকন বলেন, “কারও ব্যর্থতা ঢাকবার জন্য আরেক জনের মাথায় কালিমা লেপন করে দেবেন? আমরা এটা মেনে নিতে পারি না।… আইনি মোকাবেলা করব, সাথে সাথে ঢাকাবাসীকে নিয়ে প্রয়োজন হলে আরেকবার সংগ্রাম হবে।”
প্রেক্ষাপট
অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের ছেলে খোকন ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মে পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালের নির্বাচনেও তিনি মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে তার জায়গায় যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মনির ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপসকে প্রার্থী করে আওয়ামী লীগ। তিনিই এখন দক্ষিণের মেয়র।
গত বছরের শেষ দিকে গুলিস্তান এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ নিয়ে সাবেক ও বর্তমান মেয়রের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
দোকান উচ্ছেদ শুরু হলে সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলে মালিকরা। প্রায় ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খোকনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এরপর ফুলবাড়িয়া মার্কেটে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এক মানববন্ধনে যোগ দিয়ে মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন সাবেক মেয়র খোকন।
ক্ষমতাসীন দলের এই দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে তাপসের সমর্থক দুই ব্যক্তি সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলার আবেদন করেন আদালতে।
মেয়র তাপস সে সময় বলেছিলেন, ‘অতি উৎসাহীদের‘ ওই মামলায় তার সায় নেই। পরে একটি মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, অন্যটি খারিজ করে দেয় আদালত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
রাজনীতিবিদদের কর্তৃত্ব ম্নান হয়ে যাচ্ছে, সংসদে দূ:খের কথা জানালেন তোফায়েল আহমেদ
করোনাভাইরাসে জেলাওয়ারি স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি কার্যক্রম সমন্বয় করতে সচিবদের দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের প্রবীণ সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ। এতে রাজনীতিবিদের কর্তৃত্ব ম্লান হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। অবশ্য দায়িত্ব দেওয়া হলেও সচিবদের অনেকেই সংশ্লিষ্ট জেলায় যাননি বলেও তোফায়েল আহমেদ উল্লেখ করেন।
সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবকিছু দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। যারা জাতীয় সংসদ সদস্য এখানে উপস্থিত, এমন একজনও নাই যিনি নিজস্ব অর্থায়নে বা যেকোনোভাবে গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াননি। সবাই দাঁড়িয়েছে, আমরাও দাঁড়িয়েছি।
তিনি বলেন, এখন আমাদের জেলায় জেলায় দেওয়া হয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তা। মানুষ মনে করে আমরা যা দেই এগুলো দেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। অথচ প্রশাসনিক কর্মকর্তা কিন্তু দেননি। অনেকেই যায়নি। আমার নিজের জেলা ভোলায় যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তিনি এখন পর্যন্ত যাননি। এটা কিন্তু ঠিক না! এটা একটা রাজনৈতিক সরকার। রাজনীতিবিদদের যে একটা কর্তৃত্ব বা কাজ সেটা কিন্তু ম্লান হয়ে যায়।
সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল বলেন, আমাদের পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন ফেরাউনের সময়েও আমলা ছিল। তিনিও একজন আমলা ছিলেন। আমরা যেসব কথাবার্তা বলি মানুষ এসব পছন্দ করে না। ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স (রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম)-এ এমপিরা সচিবদের ওপরে। বিষয়টি খেয়াল করতে হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাকবে। বিএনপির বন্ধুরা আছেন, দুঃখ পাবেন না। জাতির পিতার হত্যার পরে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেবো। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেটি করেছিলেন। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক সরকার। যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের জন্য নির্ধারিত স্থান যেখানে আছে সেখানে থাকা উচিত। আমাদের জেলায় একজন সচিব যাবেন। তাকে গ্রহণ করবো, বরণ করে নেবো এটা ঠিক আছে। কিন্তু যারা একদিনের জন্যও যায় না, তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। আর আমাদের মতো লোক আমরা.. তারা যাবে ফোন করবে তারপর ইত্যাদি.. এগুলো আমি বললাম না।
নিজের মন্ত্রিত্বকালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরাও মন্ত্রী ছিলাম। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরে আমি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমারও দায়িত্ব ছিল একটি জেলায়। তখন মন্ত্রীরা জেলার দায়িত্ব পালন করতো। একটি জেলায় মন্ত্রীরা গেলে নেতাকর্মীরা আসতো। তাদের সঙ্গে কথাবার্তা হতো। আমরা গ্রামে-ইউনিয়নে সব জায়গায় যেতাম। কোথায় যেন সেই দিনগুলো হারিয়ে গেছে।
এমপি হিসেবে শপথ নিলেন নুর উদ্দিন চৌধুরী
জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনে লক্ষীপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন শপথ নিয়েছেন।
সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে শপথ বাক্য পাঠ করান সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আনোয়ার হোসেন খান এমপি এবং এ কে এম শাহাজাহান কামাল এমপি উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণ শেষে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন রীতি অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
দেশ চালাচ্ছে আমলারা, রাজনীতির নামে পালাগান হচ্ছে, সংসদে কাজী ফিরোজ রশীদ
দেশে বর্তমানে কোনো রাজনীতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ। রাজনীতির নামে আওয়ামী লীগের সাধারণ ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পালা গান শুনতে হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ফিরোজ রশিদ এ মন্তব্য করেন।
কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘আজকে দেশে কোনো রাজনীতি নেই। রাজনীতির নামে এখন পালাগানের অনুষ্ঠান হয়। সন্ধ্যার সময় ওবায়দুল কাদের সাহেব এক পালাগান। বিএনপি ওই গান শুনে। এর একটু পরেই টেলিভিশনে ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আরেক পালা গান। আমরা রাজনীতিবিদরা ঘরে বসে টেলিভিশনে পালা গানের রাজনীতি দেখছি। এ পালা গান চলছে দেড় বছর। রাজনীতি শূন্য, কোথাও রাজনীতি নেই। ডান, বাম, মধ্যপন্থী সব এক হয়ে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতা থেকে নামিয়েছিল। এ সময় তিনি জাসদের হাসানুল হক ইনুকে দেখিয়ে বলেন, ওনারা মধ্যস্থতা করে বুদ্ধি দিয়েছিলেন ৫ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে, ৫ বছর বিএনপি ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরে দেখলো এভাবে করতে গেলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যাবে না। আওয়ামী লীগের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। ’
তিনি বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদ সাহেব ঠিকই বলেছেন। প্রত্যেকটা জেলার রাজনীতি দেওয়া হয়েছে সচিবদের। প্রধানমন্ত্রী ডিসি সাহেবদের সঙ্গে কথা বলেন, আর এমপিরা পাশে বসে থাকেন দূরে। তারা বলেন, ‘ডিসি সাহেব আমি একটু কথা বলবো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে’। এ হচ্ছে রাজনীতিবিদদের অবস্থা। প্রধানমন্ত্রী যখন ডিসিদের সঙ্গে কথা বলেন, তখন এমপিদের কোনো দাম থাকে না। রাজনীতি না থাকায় রাজনীতির মঞ্চগুলো আস্তে আস্তে ব্যবসায়ীরা দখল করেছেন। ব্যবসায়ীদের হাতে তো ব্যবসার চালিকা শক্তি ছিলই। অর্থনীতির চালিকা শক্তি তাদের কাছে। এখন রাজনীতিও তাদের হাতে। এখন দেশ চালাচ্ছে জগৎ শেঠরা, দেশ চালাচ্ছে আমলারা। আমরা রাজনীতিবিদরা এখন তৃতীয় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এ হচ্ছে আমাদের দুর্ভাগ্য। অথচ রাজনীতিবিদরা দেশটা স্বাধীন করেছে। রাজনীতিবিদ ছাড়া ব্যবসায়ীদের মধ্যে পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট থাকে না। ’
কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘এ বাজেটটা আগাগোড়া ধনীদের স্বার্থে ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালে এ সংসদে রাজনীতিবিদদের সংখ্যা ছিল ৯৫ পারসেন্ট, আর ৫ পারসেন্ট ছিল ব্যবসায়ী। আর আজকে ২০২১ সালে ৭৫ পারসেন্ট ব্যবসায়ী আর ২৫ পারসেন্ট রাজনীতিবিদ। এ হচ্ছে অবস্থা বাজেটের। অর্থমন্ত্রী একজন ধর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী। স্বভাবত কারণেই তাদের স্বার্থেই এবং তাদের জন্যই বাজেট প্রণয়ন করা হবে। এখানে বৈষম্যের কোনো রূপরেখা থাকবে না। এ বাজেট দেওয়ার ফলেই ধনী আরো ধনী হবে, গরিব আরো গরিব হবে। ’
জঙ্গি সংগঠন হেফাজতকে নিষিদ্ধ করার দাবি শেখ সেলিমের
হেফাজতে ইসলামকে স্বাধীনতা বিরোধী জঙ্গি সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম।
সোমবার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিএনপি, জামাত, হেফাজত দেশের বিভিন্নস্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকার পতন। স্বাধীনতা দিবস ওরা সহ্য করতে পারে না, ওদের বুকে ব্যথা লাগে। কথা নাই বার্তা নাই বায়তুল মোকাররমে জমা হয়ে তাণ্ডব চালায়। সেখানে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারেন না। বায়তুল মোকাররমে এ ধরণের সমাবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত। তারা বায়তুল মোকাররমকে প্লাটফর্ম বানিয়েছেন। কোরান শরিফ পুড়িয়েছে, মানুষ পুড়িয়েছে। এই হেফাজতে ইসলাম এরা ছিল স্বাধীনতা বিরোধী নেজামে ইসলামি। মানুষ মেরে এরা ইসলামকে হেফাজত করবে কিভাবে। এটা জঙ্গি সংগঠন, এ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হোক। যেভাবে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হয়েছে সেভাবে।
শেখ সেলিম বলেন, আমাদের প্রধান শত্রু সাম্প্রদায়িকতা। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করা, সম্প্রাদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। জিয়াউর রহমান এসে এদের রাজনীতি করার অনুমতি দেন, সম্প্রদায়িক রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি গঠন করেছেন যার বাংলা করলে দাঁড়ায় বি মানে বাংলাদেশ, এন মানে না এবং পি মানে পাকিস্তান। অর্থাৎ বাংলাদেশ না পাকিস্তান। জিয়া জঙ্গি সন্ত্রাসীদের স্থান করে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ করা।











