কয়েদি শনাক্তে অঙুলের ছাপ, হাতের তালুর ছাপ, চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি যুক্ত করে দেশের কারাগারগুলোতে বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবস্থাপনা চালু করতে কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব ও কারা মহাপরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।
চট্টগ্রামে এক হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজায় দণ্ডিত কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু আক্তার নামের এক বিধবার প্রায় তিনবছর সাজা খাটার মামলার শুনানিতে সোমবার এই রুল আসে।
তিন সন্তানের ভরণ-পোষণের আশ্বাসে অন্যের হয়ে সাজা খাটতে রাজি হয়েছিলেন মিনু আক্তার। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ায় তিনি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে সব ঘটনা খুলে বলেন। পরে হাই কোর্টের আদেশে গত ৭ জুন চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
হাই কোর্টের সেই আদেশে কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকেও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাছাড়া বিচারিক আদালতে কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু আক্তারের আত্মসমর্পণ এবং পরে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে কুলসুমীর আপিল দায়েরের প্রক্রিয়ায় প্রতরণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে কিনা, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয় সংশ্লিষ্ট তিন আইনজীবী ও এক আইনজীবী সহকারীর কাছে।
তারা হলেন, আইনজীবী এম এ নাসের, নুরুল আনোয়ার, বিবেকানন্দ এবং আইনজীবীর সহকারী সৌরভ।
এর মধ্যে নুরুল আনোয়ার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর।
আদেশ অনুযায়ী তিন আইনজীবী ও আইনজীবীর সহকারী সোমবার আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে ব্যাখ্যা দাখিল করে।
তাদের আইনজীবী ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল।
ঘটনার পূর্বাপর
মোবাইল ফোন নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ২০০৬ সালের ৯ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের রহমতগঞ্জ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পোশাককর্মী কোহিনুর আক্তার ওরফে বেবিকে হত্যা করা হয়।
ওই ঘটনায় কতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওই বছরের ২৬ অক্টোবর কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কুলসুমীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি কুলসুমী জামিনে বের হয়ে আসেন।
কুলসুমী জামিন পাওয়ার প্রায় আট বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলার রায় দেয়। রায়ে কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ের দিন কুলসুমী আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এরপর ২০১৮ সালের ১২ জুন কুলসুমী সেজে মিনু আক্তার সংশ্লিষ্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়।
২০১৯ সালের ২৩ কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমী রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আপিল করেন। ওই বছরের ৩০ এপ্রিল হাই কোর্ট আপিল গ্রহণ করে। পরে দণ্ডিত কুলসুমী জামিন আবেদন করলে চলতি বছর ১১ ফেব্রুয়ারি হাই কোর্ট তার জামিন আবেদনটি বাতিল করে দেয়।
এদিকে গত ২১ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার চট্টগ্রামে জজ আদালতকে চিঠি দিয়ে জানান, কারাগারে থাকা নারী দণ্ডিত কুলসুম আক্তার ওরফে কুলসুমী নন।
এরপর ২২ মার্চ আদালত কারাগারের নিবন্ধন দেখে হাজতী আসামি কুলসুমী ও সাজাভোগকারীর মধ্যে অমিল খুঁজে পায়। তখন আদালত কারাগারের নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট কিছু নথি হাই কোর্টে কুলসুমীর করা আপিলের সাথে যুক্ত করার জন্য পাঠায়।
এ ঘটনা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে আইনজীবী মো. শিশির মনির তা আপিল সংশ্লিষ্ট হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন। পরে ১ এপ্রিল এ বিষয়ে শুনানির পর ৫ এপ্রিল আদেশের জন্য রাখে।
কিন্তু আদেশের আগে এই বেঞ্চের এখতিয়ার পরিবর্তন হলে তা হাই কোর্টের এই বেঞ্চে (যে বেঞ্চ থেকে আদেশ হল) উপস্থাপন করা হয়। দুইদিন শুনানির পর গত ৭ মার্চ আদেশ দেয় উচ্চ আদালত।
শুনানিতে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “কুলসুমীর পরিবর্তে মিনু আক্তারের জেল খাটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি সমাজের নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়।”
শুনানিতে তিনি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আদালতে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান তুল ধরেন।
সেখানে তিনি ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর থেকে গত বছর ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের ২৬টি ঘটনা তুলে ধরেন।
এ আইনজীবী সেদিন দাবি করেন, আসামি শনাক্তে উন্নত ব্যবস্থার ঘাটতি এবং তদন্তকারী সংস্থার অবহেলার কারণে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে নিরাপরাধ বা অন্য ব্যক্তিরা এ ধরনের হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কারাগারে বায়োমেট্রিক ডেটা ব্যবস্থাপনা চালু করতে কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট
সালিশ করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে: সেই ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন বরখাস্ত
সালিশে গিয়ে এক কিশোরীকে বিয়ে করলেও তা টেকাতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার; এখন চেয়ারম্যান পদও খোয়ালেন তিনি
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারকে বরখাস্ত করে সোমবার আদেশ হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে।
শহীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. হায়দার আলী জানিয়েছেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’র কারণে এ চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহীন হাওলাদার সালিশ করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে বিয়ে করে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করেছেন।
সাময়িক বরখাস্তের কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না, তা পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তার জবাব সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ওই কিশোরী গত বৃহস্পতিবার প্রেমের টানে এক কিশোরের সঙ্গে বাড়ি ছাড়লে তার বাবার নালিশ পেয়ে চেয়ারম্যান শাহীন শুক্রবার সালিশ ডাকেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
সেই সালিশে বসার পর মেয়েটিকে পছন্দ হয়ে যায় ৬০ বছর বয়সী চেয়ারম্যানের। তখন তিনি ওই কিশোরীকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন।
এই ঘটনা তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করায় পরদিন চেয়ারম্যানকে তালাক দিয়ে ওই কিশোরী বাড়িতে ফিরে যান। তালাকের ব্যবস্থা নিজেই করেছিলেন বলে শাহীন দাবি করেন।
এদিকে গণমাধ্যমে ঘটনা দেখে হাই কোর্ট এক আদেশে চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে কিনা, তা তদন্ত করতে রোববার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়।
একই সঙ্গে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে ‘বাল্য বিবাহ’ ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করতে জেলা নিবন্ধককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের ৮ ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ আদালতের
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ও তার পরিবারের তিন সদস্যের আটটি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রোববার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ নির্দেশ দেন।
আটটি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে সাঈদ খোকনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ৩টি অ্যাকাউন্ট আছে। এছাড়া তার মা ফাতেমা হানিফের একটি, বোন শাহানা হানিফের দুটি ও স্ত্রী ফারহানা আলমের দুটি অ্যাকাউন্ট আছে।
এর আগে, রোববার (২৭ জুন) তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক জালাল উদ্দিন আহমেদ ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দের আবেদন করেন। পরে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা তার আবেদনে বলেন, ওই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অস্বাভাবিক বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে যেন অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করা না যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্যাংক হিসাবগুলো জরুরিভিত্তিতে জব্দ করা প্রয়োজন।
আবেদনে তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তরা ওই ব্যাংক হিসাবের অর্থ স্থানান্তর করার চেষ্টা করেছেন; যা তদন্তে উঠে এসেছে।
বিচারের নামে সালিশে কিশোরীকে বিয়ে করা সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
প্রেমের টানে বাড়ি ছেড়েছিলেন পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের এক তরুণ ও কিশোরী। ঘটনাটির সুরাহায় ডাকা সালিশে গিয়ে কিশোরীকে দেখে পছন্দ হওয়ায় খোদ চেয়ারম্যানই বিয়ে করে ফেললেন। এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নেটিজনরা সমালোচনায় নামেন। খবর হয় সংবাদ মাধ্যমেও।নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। নানা সমালোচনার মুখে পরদিনই ৬০ বছর বয়েসী চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার ১৪ বছরের মেয়েটিকে তালাক দেন। কিন্তু দায় এড়াতে পারছেন না। হাইকোর্টের নজরে আসায় ঘটনা তদন্ত করে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত কনকদিয়া ইউনিয়নের নির্বাচনে দ্বিতীয়বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন শাহিন হাওলাদারের (৬০)। তিনি আবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও সভাপতি।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, জেলা নিবন্ধক ও পিবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করে পৃথক প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দাখিল করতে বলেছে হাইকোর্ট।
রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ জারি করেন। রুলে ক্ষমতার অপব্যবহার করায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আরেক আদেশে ওই কিশোরীকে নিরাপত্তা দিতে এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সালিশে কিশোরী বিয়ে নিয়ে শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম ও ইকরামুল হক টুটুল। পরে আদালত আদেশের পাশাপাশি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সুত্রে জানা যায়, কনকদিয়া ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের রমজান নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুজন পালিয়ে যান। বিষয়টি কিশোরীর বাবা কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। পরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে ছেলে ও মেয়ের পরিবারকে যেতে বলেন। সে অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে কিশোরী মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান এবং দুপুরেই বিয়ে করে ফেলেন।
এদিকে বিয়ের পর তা জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তেই। এ কারণে পরদিন শনিবার ওই একই কাজীর মাধ্যমেই তাদের তালাক সম্পন্ন হয়। পরে মেয়েটি তার প্রেমিকের ঘরে ফিরে যায় এবং রোববার আবার তাদের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানীতে ভয়ঙ্কর মাদক এলএসডি ও ডিএমটিসহ ৪জন গ্রেপ্তার
রাজধানীর তেজগাঁও থানা এলাকা থেকে নতুন মাদক এলএসডি ও ডিএমটিসহ চারজনকে আটক করেছে র্যাব। রোববার দুপুরে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-২-এর অধিনায়ক খন্দকার সাইফুল আলম।
আটক চারজন হলেন সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব (২৯), মো. আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের (২৫), স্বপ্নীল হোসেন (২২) ও সিমিয়ন খন্দকার (২৩)।
র্যাব কর্মকর্তা জানান, গত ২৬ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-২-এর একটি বিশেষ দল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার লাভ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নতুন মাদক ৪০ ব্লট এলএসডি, ৬০০ মিলিগ্রাম ডিএমটি, ৬২ গ্রাম আমেরিকান ক্যানাবিজ এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এলএসডি সম্বন্ধে ইতিমধ্যে আমরা জেনেছি। এটি মূলত বিদেশ থেকে পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশে আনা হয়। এর উচ্চমূল্য হওয়ায় এটি মূলত উচ্চবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘অভিযানে আরেকটি নতুন ধরনের মাদক পাওয়া গেছে, যার নাম ডিএমটি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি হ্যালুসিনোজেনিক ট্রিপটামাইন ড্রাগ। মূলত এটি এলএসডি সেবনের মতো। এটি সেবনের পরে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট গভীর আসক্তি তৈরি করে।’
আটককৃতদের বরাতে র্যাব-২-এর অধিনায়ক বলেন, ‘এটি সেবনের পর খুব দ্রুত হ্যালুসিনেশন হয় এবং তারা কল্পনার জগতে প্রবেশ করে। মূলত এ থেকে মারাত্মক দুর্ঘটনা হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।’
তিনি জানান, ‘গ্রেপ্তার সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ ওরফে শাদাব রাজধানীর উত্তরার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হতে ও লেভেল শেষ করে ভারতের দার্জিলিংয়ে ২০১৩ সালে এ লেভেল পড়েন। এরপর তিনি ২০১৫ সালে পড়ালেখা করতে থাইল্যান্ডে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের সঙ্গে এলএসডি ও ডিএমটি গ্রহণে আসক্ত হয়ে পড়েন। বাংলাদেশে এসেও ওই মাদক গ্রহণ অব্যহত রাখেন। তিনি এই মাদক বিদেশ থেকে বিভিন্ন পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশে এনে নিজে গ্রহণ ও বিক্রি করেন। ’
অপর দিকে মো. আব্রাহাম জোনায়েদ তাহের রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ও লেভেল শেষ করে মালেয়েশিয়া যান এবং ২০১৫-২০১৬ সাল পর্যন্ত পড়ালেখার জন্য অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান এবং সেখানে নিয়মিত এলএসডি ও ডিএমটি গ্রহণ করেন। ২০২০ সালে দেশে ফিরে আসেন ও এলএসডি-ডিএমটি সেবন ও বিক্রি করেন।
এ ছাড়া স্বপ্নীল হোসেন এবং সিমিয়ন খন্দকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। গ্রেপ্তার চারজন মাদক সেবন ও বিক্রি করতেন। এসব মাদকের উৎস এবং এর সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক খন্দকার সাইফুল আলম।
আদালতের নির্দেশ ছাড়া দুদক কারও ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে পারে না, হাইকোর্টের রায়
কোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার ক্ষমতা দুদকের নেই। আইন অনুযায়ি এই এখতিয়ার আদালতের। কক্সবাজারের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কর্মকর্তার দেয়া নির্দেশ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাকিবুল হাসান। দুদকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শাহীন আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। পরে আইনজীবী রাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, কোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে আদেশ দেয়ার এখতিয়ার সিনিয়র স্পেশাল আদালত বা স্পেশাল জজ আদালতের। এ ক্ষেত্রে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী কোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব জব্দে নির্দেশ দিতে পারেন না। আইন অনুসারে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে আদালতের আদেশে কোনো ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা যাবে।
তবে বেলায়েতের ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। তাই তাঁর ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তার নির্দেশ অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এর আগে, দুদকের চট্টগ্রাম-২ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের কক্সবাজার শাখার ব্যবস্থাপককে বেলায়েত হোসেন নামের এক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফার্মেসি ব্যবসায়ী বেলায়েত কক্সবাজারের বাসিন্দা। ব্যাংক হিসাব জব্দের ওই নির্দেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেলায়েত হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। ২৩ জুন রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৭ জুন তারিখ ধার্য করেন। সে অনুসারে রায় দেয়া হলো।
সীমিত পরিসরে লকডাউন; নির্দেশনা জারি, জেনে নিন কী কী খোলা থাকবে
সীমিত পরিসের লকডাউকে কী কী খোলা থাকবে রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই বিধি-নিষেধের মেয়াদ শেষে ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা রয়েছে।
উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার থেকে সারাদেশে ‘কঠোর লকডাউন’ জারির ঘোষণা শুক্রবার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শনিবার জানানো হয়, সেই লকডাউন ১ জুলাই থেকে শুরু হবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আগের তিন দিনের বিষয়ে নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানাল।
নির্দেশনা অনুযায়ী
>> সোমবার থেকে পণ্যবাহী গাড়ি ও রিকশা ছাড়া সারাদেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।
>> সব শপিং মল, মার্কেট, পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার, বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।
>> খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা নাগাদ শুধু খাবার বিক্রি করতে পারবে।
>> সরকারি-বেসরকারি সব অফিস খোলা থাকবে সীমিত জনবল নিয়ে। সেই সব কর্মচারীদের অফিসের ব্যবস্থাপনায় আনতে হবে।
এরপর কঠোর লকডাউন প্রাথমিকভাবে সাত দিনের জন্য জারি করা হলেও প্রয়োজনে এর মেয়াদ বাড়তে পারে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।
বিধি-নিষেধ মানাতে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে বলে জানান তিনি।
বাজেটের কাজে সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক শাখা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ কয়েকটি অফিস আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত খোলা থাকবে বলে আগেই জানানো হয়।
বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর গত বছর মার্চের শেষ দিকে সরকার সাধারণ ছুটির আদলে লকডাউন জারি করে, যা মে মাস পর্যন্ত ছিল।
এর মধ্যে সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় বিধি-নিষেধও শিথিলতা আসে।
২০২১ সালের শুরুতে সংক্রমণের নিম্নগতিতে বিধি-নিষেধ ছিল না বললেও চলে। এই সময় স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া পরিকল্পনাও সরকার করেছিল।
কিন্তু মার্চ মাসের শেষে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ পরিস্থিতি নাজুক করে তুললে এপ্রিলে সারাদেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও তা ছিল আগের বছরের তুলনায় শিথিল।
পরিস্থিতির সাময়িক উন্নতিতে সেই বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলেও করোনাভাইরাসের ভারতে উদ্ভুত ডেল্টা ধরনের সংক্রমণে সীমান্ত জেলাগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
স্থানীয় পর্যায়ে লকডাউন দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে একটানা ১৪ দিন ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ ঘোষণার সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। তার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে কঠোর লকডাউন এসেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যার বিচার শুরু, ওসি প্রদীপ,লিয়াকতসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে।
রোববার সকালে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার চার্জ গঠন করা হয়; একই সঙ্গে আদালত ছয় আসামির জামিন আবেদন বাতিল করে আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর মাধ্যমে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হলো বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটির শুনানি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ফৌজদারী দন্ডবিধির ৩০২/২০১/১০৯/ ১১৪/১২০-খ এবং ৩৪ ধারায় মামলাটির চার্জ গঠন করা হয়েছে। মামলায় আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই পরপর ৩ দিন সাক্ষ্য গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
পিপি ফরিদুল আলম জানান, এই মামলার আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলী, নন্দদুলাল রক্ষিত, সাগর দেব, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ ছয় আসামির জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন। এছাড়া সাত আসামিকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও শুনানি শেষে নাকচ করে দেন আদালত।
গত বছরের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
হত্যার পাঁচ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাশকে করা হয় দুই নম্বর আসামি। মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে। আদালত থেকে মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় র্যাব-১৫ কে।
মামলার তদন্তের সময় আসামি পুলিশের ৭ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ৩ জন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য সহ আরো মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গত ২৪ জুন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেব আদালতে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই এখন আইনের আওতায় কারাগারে রয়েছেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর চাজশীট দাখিল করেন র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম। ১৫ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় কারাগারে থাকা ১৫ আসামি হলেন- বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, তার দেহরক্ষী বলে পরিচিত কনস্টেবল রুবেল শর্মা, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাগর দেব, এপিবিএনের এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহ, পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নিজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।
রোববার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি অ্যাডডভোকেট ফরিদুল আলম, বাদী শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস এর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তফা। অন্যদিকে আাসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, অ্যাডভোকেট দিলীপ দাস, অ্যাডভোকেট প্রতিভা দাশ, অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, শহীদুল আলম, শফিউল আলম সহ ২১ থেকে ২২ জন আইনজীবী।
আদালতে শুনানিকালে চার্জশীটভুক্ত ১৫ আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই মামলার ধার্য দিন উপলক্ষে সব আসামিকে আদালতে আনায় এদিন সকাল থেকেই আদালত অঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
তালাক নোটিসে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ শব্দ নিয়ে হাই কোর্টের প্রশ্ন, রুল জারি
তালাক নোটিসে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর, অমানবিক ও অযৌক্তিক’ শব্দের ব্যবহার কেন ‘আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।
আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান “প্রচলিত রীতি অনুযায়ী নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাঠানো তালাক নোটিসে এ ধরনের শব্দের ব্যবহার একজন নারীর প্রতি চরম অবমাননাকর; যা পারিবারিক জীবনে এবং পরবর্তীতে বিয়ে করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার মধ্যে ফেলে।
“রিট আবেদনকারীই এ ধরনের অসম্মানজনক, বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখী হয়েছেন। যে কারণে তিনি রিট আবেদন করেন। সে আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেছে।”
২০১১ সালে পরিচয়ের পর ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বরে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় কানাডার উইনজা ইউনিভার্সিটির অডেট স্কুল অব বিসনেসে কর্মরত রিট আবেদনকারীর। দুই বছরের মাথায় ২০১৭ সালের অক্টোবরে আবেদনকারীকে তালাক নোটিস পাঠান তার স্বামী।
সে নোটিসে তালাক দেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয় “স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য– যাহা শরিয়তের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। তাহার উক্ত চাল-চলন পরিবর্তন করার জন্য আমি নিজেই বহুবার চেষ্টা করিয়াছি। কিন্তু অদ্যবধি তাহার কোনো পরিবর্তন সাধিত হয় নাই।”
তালাকের পর আবেদনকারী নারী ফের বিয়ে করতে গেলে তালাক নোটিসে ব্যবহৃত শব্দের কারণে তাকে বিব্রত ও অবমাননাকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে তালাক নোটিসে ব্যবহৃত ‘স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য’, ‘শরিয়তের সম্পূর্ণ পরিপন্থি’ এ ধরনের শব্দকে ‘অবমাননাকর, অমানবিক, অযৌক্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করে গত ২ জুন হাই কোর্টে এই রিট করেন সেই নারী।
রুলের পাশাপাশি তালাক নোটিস থেকে নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর, অমানবিক এবং অযৌক্তিক’ শব্দের অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।
তাতে বলা হয়, ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন এবং ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিয়ে এবং তালাক (নিবন্ধন) আইন অনুযায়ী তালাক নোটিসে ‘অবমাননাকর, অমানবিক, অযৌক্তিক’ শব্দের ব্যবহার স্পষ্টভাবে নারীর ‘মানবাধিকার ও তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে’, যা একই সঙ্গে সংবিধানের ২৭, ২৮ এবং ৩২ অনুচ্ছেদেরও ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।
“নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাঠানো এ ধরনের তালাক নোটিস কেবল অইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূতই না আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ১৯৮১ সালের সিডও সনদ অনুযায়ী তা মৌলিক ও মানবাধিকারেরও চরম লঙ্ঘন।
“আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং সিডও সনদে সাক্ষর করে সরকার নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য বিলোপের নীতি গ্রহণ করেছে। ফলে সংবিধান, আইন, চুক্তি ও সনদের শর্ত রক্ষায় সর্বোপরি নারীর মানবিক মৌলিক অধিকার তালাকের নোটিসে এ ধরনের শব্দের ব্যবহার বন্ধ করা সরকারের আইনগত দায়িত্ব।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বঙ্গবন্ধুর দর্শনের আলোকে আইন প্রণয়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব- আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কোন জাতির স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন ও মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার লক্ষ্যমূলে সক্রিয় থাকে রাষ্ট্রদর্শন যা নতুন রাষ্ট্রের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বুনিয়াদ রচনা করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় তৈরি করা হয়েছিল যা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি নির্মাণ করেছে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশের মূল সংবিধানসহ তাঁর আমলে প্রণীত আইনসমূহের সাথে ঐতিহাসিকভাবে সম্পৃক্ত। বঙ্গবন্ধু আজ আমাদের মাঝে না থাকলেও সামাজিক শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর দর্শনের আলোকে আইন প্রণয়ন করা রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ আয়োজিত লেজিসলেটিভ ডেস্কবুকের খসড়া উপস্থাপন বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম-সচিব ও প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় লেজিসলেটিভ ডেস্কবুকের খসড়া উপস্থাপন করেন ডেস্কবুকের খসড়া প্রস্তুতকারী টিমের টিম লিডার এ.কে. মোহাম্মদ হোসেন।
বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অন্যতম স্লোগান হচ্ছে, ‘আইনের মাধ্যমে উন্নয়ন, জনগণের ক্ষমতায়ন’। সরকারের এ স্লোগানকে সাফল্যমণ্ডিত করে তোলার লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় দ্রুত মানসম্পন্ন ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সময় প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা, আচার- আচরণ, দাবি-দাওয়াসহ সকল বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির বিকাশ ঘটছে, বিনিয়োগ পরিবেশ পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন শিল্প বিপ্লব ঘটছে, কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধের ধরণ বদলে যাচ্ছে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। বিশ্বায়ন হচ্ছে। এসবকে এড্রেস করার জন্য সরকার নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করছে, পুরাতন আইনগুলো সংশোধন করে সময় উপযোগী করছে। সময়ের চাহিদার প্রেক্ষিতেই সরকার করোনার প্যান্ডেমিক পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করার জন্য আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ সহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, আইনের খসড়া প্রস্তুত ও ভেটিং এর কাজ সহজ বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষ ধরণের নীতি ও কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। আইনের প্রত্যেকটি শব্দের অর্থ এবং গুরুত্ব আছে। তাই আইনের বাক্যে শব্দ ব্যবহার করার ব্যাপারে পদ্ধতিগত অভিজ্ঞতা এবং অনুশীলনের প্রয়োজন। লেজিসলেটিভ ভাষা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চর্চা, বিভিন্ন লিগ্যাল সিস্টেম যেমন- কমন ল, সিভিল ল, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও ইসলামিক লিগ্যাল সিস্টেম সম্পর্কে ধারণা থাকতে হয়। লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং টেকনিক, টুলস্, লেজিসলেটিভ ব্যাখ্যা, চুক্তি সম্পাদন পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হয়। এ ধারণা যতবেশি গভীর ও বিস্তৃত হয় আইনের গুণগত মান ও গ্রহণযোগ্যতা তত ভাল হয়। তাই উল্লিখিত নীতি, কর্মপদ্ধতি, চুক্তি সম্পাদন পদ্ধতি ইত্যাদি সুলিখিত ও সুবিন্যস্ত আকারে হাতের কাছে থাকা প্রয়োজন। থাকলে আইনের খসড়া প্রস্তুত ও ভেটিং কার্য দ্রুত ও দক্ষতার সাথে করা যায়।
আইনমন্ত্রী জানান, আইন প্রণয়ন কার্যক্রমকে আরো গতিশীল, পরিশীলিত ও সময়োপযোগী করার জন্য আইন মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহিৃতকরণপূর্বক উহা সংস্কার বিষয়ক একটি প্রকল্প’ প্রকল্পের মাধ্যমে একটি লেজিসলেটিভ ডেস্কবুক তৈরি করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ডেস্কবুক অনুসরণ করে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তাগণ সরকারের আইন, বিধিমালা, প্রবিধানমালা, প্রজ্ঞাপন, চুক্তি ইত্যাদির খসড়া প্রস্তুত এবং ভেটিং কার্য দক্ষতার সঙ্গে ও স্বল্প সময়ের মধ্যে করতে সক্ষম হবেন।









