ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 128

ভারত সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে হোয়াটসঅ্যাপের মামলা

0

ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরকার আজ থেকে যে নতুন শর্তাবলী মানার নির্দেশ দিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হোয়াটসঅ্যাপ দিল্লিতে মামলা করেছে।
দিল্লি হাইকোর্টে দায়র করা ওই মামলায় হোয়াটসঅ্যাপ বলেছে, ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের যে প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা রক্ষার অধিকার দেওয়া হয়েছে সরকারের নির্দেশ তার পরিপন্থী।
অন্য দিকে ভারতের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যুক্তি দিচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়াতে ”ফেক নিউজ” কারা ছড়াচ্ছে বা কোন উৎস থেকে তা সৃষ্টি হচ্ছে সেটা জানার পূর্ণ অধিকার তাদের আছে।
বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এই বিতর্কে দুপক্ষের কথাতেই কিছু যুক্তি আছে – এবং সম্ভবত মাঝামাঝি একটা জায়গাতেই তাদের রফা করতে হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, টুইটার বা গুগলের পেরেন্ট সংস্থা অ্যালফাবেটের মতো টেক জায়ান্টগুলোকে ভারতে বুধবার (২৬শে মে) থেকে যে কিছু নতুন বিধিনিষেধ মেনেই চলতে হবে – সরকার তা জানিয়ে দিয়েছিল প্রায় মাসতিনেক আগেই।
দেশের আইনমন্ত্রী ও তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রবিশঙ্কর প্রসাদ পার্লামেন্টেই ঘোষণা করেছিলেন, ভারতের আইনকে পাশ কাটিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এদেশে ব্যবসা করতে পারবে না।
গত ফেব্রুয়ারিতেই তিনি পার্লামেন্টে বলেন, “আমরা এই প্ল্যাটফর্মগুলোকে সমালোচনা করার অধিকারও দিয়েছি – প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের যে কাউকে আপনি সেখানে আক্রমণ করতে পারেন, ভারতের সংবিধানও সেই অধিকার দেয়।”
“কিন্তু যদি সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার করে কেউ হিংসা ছড়ায়, ফেক নিউজ প্রচার করে বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে উসকানি দেয় তাহলে আমাদের তার তদন্ত করতেই হবে।”
“আপনারা ভারতে ব্যবসা করুন কোনও সমস্যা নেই, এখানে আপনাদের কোটি কোটি ফলোয়ার আছে, যত খুশি টাকাও কামান – কিন্তু দেশের সংবিধান ও আইনকেও আপনাদের মেনে চলতে হবে।”
এই নতুন বিধিনিষেধ বলবৎ হওয়ার কথা আজ থেকেই। কিন্তু ঠিক তার আগে হোয়াটসঅ্যাপ দিল্লি হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে।
তারা যুক্তি দিচ্ছে, সরকারের দাবি অনুসারে যদি কোনও মেসেজের ”অরিজিনিটের” কে, অর্থাৎ কার হাতে সেটির সৃষ্টি তা জানাতে হয় – তাহলে তাদের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ভাঙতে হবে এবং গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে আপষ করতে হবে।
ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কোনও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মামলা রুজু করার ঘটনা এই প্রথম।
তবে বিতর্কটাও যে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক, তা স্বীকার করতে দ্বিধা নেই ইন্ডিয়ান স্কুল অব এথিক্যাল হ্যাকিংয়ের অধিকর্তা সন্দীপ সেনগুপ্তর।
তিনি বিবিসিকে বলছিলেন, “আসলে দুতরফেই কিছু বৈধ যুক্তি আছে। সরকারকে যেমন ফেক নিউজ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে, এটা ভারতে একটা মারাত্মক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।”
“ফেক নিউজ থেকে দেশে দাঙ্গা শুরু হতে পারে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, এমন কী বিদেশি শত্রুরাও এটাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ভারতে গন্ডগোল বাঁধিয়ে দিতে পারে।”
“এই জন্যই সরকার সোশ্যাল মিডিয়াগুলোকে দুতিনটে শর্ত দিচ্ছে – যেমন, কোনও পোস্টকে সরকার ফেক নিউজ বলে চিহ্নিত করা মাত্র সেটাকে সরিয়ে নিতে হবে।”
“আর সেই সঙ্গেই জানাতে হবে কে প্রথম সেটি আপলোড করেছিল, অর্থাৎ ওই পোস্টের অরিজিনেটর কে!”
এর পাশাপাশি প্রতিটি সংস্থায় একজন নোডাল অফিসার রাখার শর্তও দেওয়া হয়েছে – যার সঙ্গে ফেক নিউজ বা আপত্তিকর কোনও পোস্ট নিয়ে সরকার সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।
কিন্তু এই সব শর্তে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিপন্ন হবে বলেই মনে করছে হোয়াটসঅ্যাপ বা টুইটার।
মি সেনগুপ্ত বলছিলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টগুলোর পাল্টা যুক্তি হল, আমরা যদি কোনও পোস্টের অরিজিনেটর কে, সেই নামধাম একটা বন্ধ খামে করে আপনাদের জানিয়ে দিই তাহলে বাকস্বাধীনতার সঙ্গে অবশ্যই আপোষ করা হবে।”

“ধরা যাক, কেউ কোনও পোস্টে সরকারের কিছু সমালোচনা করল – তাহলে নতুন শর্ত অনুসারে সরকারের কাছে তার পরিচয় জানাতে এই কোম্পানিগুলো বাধ্য থাকবে। আর স্বৈরতন্ত্রের শুরু তো এভাবেই হয়!”
বিজেপির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র এমপি বিনয় সহস্রবুদ্ধে আবার পাল্টা যুক্তি দিচ্ছেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যে কেউ নিজের ইচ্ছেমতো স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারেন – প্রথাগত মিডিয়ার সঙ্গে তাদের এটাই মূল পার্থক্য।”
“কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলো যদি শুধু প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার বদলে কে কী বলছেন, কেন বলছেন তার খবরদারি করতে বসে তাহলে তারাও একরকম প্রথাগত মিডিয়াই হয়ে যায়।”
“সে ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিলের নিয়মকানুন বা বিদেশি বিনিয়োগের শর্ত কেন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না?”, প্রশ্ন তুলছেন তিনি।
ভারতের আগে চীন-সহ বিভিন্ন দেশেই এই ধরনের শর্ত আরোপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টরা সরকারের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে।
কোনও দেশে তারা পাট গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে, কোথাও বা ব্যবসা করছে কিছুটা আপস করেই।
কোটি কোটি ইউজারের বাজার ভারতেও শেষ পর্যন্ত তারা একটা মাঝামাঝি রাস্তায় আসবে বলেই পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন।

বাবুনগরী, মামুনুলসহ ৪৬ হেফাজত নেতার সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক, তদন্ত হচ্ছে উগ্রবাদে জড়িত ১৩ সংগঠনের

0

হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনায়েদ বাবুনগরীসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের ৪৬ জন নেতা-কর্মীর সম্পদের তথ্য চেয়ে সরকারের ৪টি দপ্তরে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পরিচালক মো. আকতার হোসেন গতকাল সোমবার এই চিঠি পাঠান।

সরকারি দপ্তরগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ), চার জেলার (ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নেত্রকোনা) পুলিশ সুপার, তিন থানার (ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও পটিয়া) সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারকে পাঠানো চিঠিতে হেফাজত নেতাদের পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমির দাগ, খতিয়ানসহ নথি চাওয়া হয়েছে। আর বিএফআইইউ-এর প্রধানকে পাঠানো চিঠিতে সবার ব্যাংক হিসাবের তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে।
হেফাজতে ইসলাম ছাড়াও আরো ১৩ সংগঠন ও মাদ্রাসার বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তার ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জানতে চেয়েছে বিএফআইইউ। সাথে ৩০টি মাদ্রাসার অর্থ আদান প্রদানের তথ্যও জমা দিতে হবে।

জুনায়েদ বাবুনগরী ছাড়া যেসব নেতার অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদকের এই তৎপরতা শুরু হয়েছে, তাঁরা হলেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আহমেদ আবদুল কাদের ও মাহফুজুল হক, যুগ্ম মহাসচিব জুনাইদ আল হাবিব, মামুনুল হক, নাসির উদ্দিন মনির, জালাল উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক মনির হোসাইন কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামবাদী, আইনবিষয়ক সম্পাদক শাহীনুর পাশা চৌধুরী, সহকারী মহাসচিব ফজলুল করিম কাসেমী ও আজাহারুল ইসলাম, মুসা বিন ইসহাক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আতাউল্লাহ আমিন ও সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মীর মুহাম্মদ ইদ্রিস, সহকারী অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক হারুন ইজাহার, সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক শোয়াইব আহমেদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম কাসেমী, ইসলামি বক্তা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, নুর হোসাইন নুরানী, মাহমুদুল হাসান গুনবী, হেফাজত আমিরের ব্যক্তিগত সহকারী ইনামুল হাসান ফারুকী, কেন্দ্রীয় নেতা জাকারিয়া নোমান, আজহারুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম কাসেমী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষাসচিব আবদুর রহিম কাসেমী, ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মুহসিনুল করিম, জামিয়া ইসলামিয়া হলিমিয়া মধুপুর মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামীম ওবায়দুল্লাহ কাসেমী, মধুপুরের পীরের ছেলে আবু আম্মার আবদুল্লাহ, হেফাজতের কর্মী মো. আহম্মেদ কাশেমী, এহসানুল হক, রাবেতাতুল ওয়ায়েজিনের সাধারণ সম্পাদক হাসান জামিল, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমান মাদানি, আশরাফ উদ্দিন মাহদি (মুফতি ফজলুল হক আমিনীর নাতি, বর্তমানে মিশরপ্রবাসী), মোহাম্মদ উল্লাহ জামি, বাহিরদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহ আকরাম আলী, শামসুল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান, সদস্য কেফায়েত উল্লাহ, জয়নাল আবেদীন ও সামছুল ইসলাম জিলানী, গাজী ইয়াকুব ওসমানী, আসাদুল্লাহ আসাদ, আলী হাসান উসামা ও আসাদুল্লাহ অসাদ। তাঁদের মধ্যে অনেকে সহিংসতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে শুরুতে বিক্ষোভের কর্মসূচি। বিক্ষোভ পরবর্তীতে রূপ নেয় ভাঙচুর ও সহিংসতায়। দেশজুড়ে হেফাজত কর্মীদের তাণ্ডবে মারা যান ১৩ জন। এরপরই সরকারি এক সংস্থার চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের সব ব্যাংকের কাছে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় বিএফআইইউ।
বিএফআইইউ নিজস্ব উদ্যোগেও সন্দেহজনক ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাইতে পারে। এছাড়া, সিআইডি, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং এনবিআর এই তিন সংস্থা বিএফআইইউর কাছে যে কোনও ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাইতে পারে। মূল উদ্দেশ্য জঙ্গি অর্থায়ন আর অর্থ পাচারে জড়িত কী না দেখা।
হেফাজতে ইসলাম ছাড়াও আরো ১৩ সংগঠন ও মাদ্রাসার বিভিন্ন নেতা ও কর্মকর্তার ব্যাংক লেনদেনের তথ্য জানতে চেয়েছে বিএফআইইউ। সাথে ৩০টি মাদ্রাসার অর্থ আদান প্রদানের তথ্যও জমা দিতে হবে

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য ১৭ মে দুদক পরিচালক মো. আকতার হোসেনকে প্রধান করে ছয় সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। অন্য সদস্যরা হলেন উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ ও মো. সাইদুজ্জামান, উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান।
অনুসন্ধান দল তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করবে। তারপর যেসব অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে আসবে, সেগুলোর তদন্ত হবে। যত দ্রুত সম্ভব, তদন্ত শেষ করা হবে।

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ২ সদস্য গ্রেফতার

0

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ আব্দুল্লাহ (২৬) ও আনোয়ার হোসেন (৪৮)। এসময় তাদের হেফাজত হতে ০৯ টি মোবাইল ফোন, ১টি হার্ড ডিস্ক ও নগদ ২ লাখ ১ হাজার ১৮৫ টাকা উদ্ধার করা হয়।
২৩ মে, (শনিবার) চট্টগ্রাম নগরীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে সিটিটিসির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। সিটিটিসি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে রুজুকৃত একটি মামলা তদন্ত শুরু করে কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। উক্ত মামলার ঘটনায় জড়িত আব্দুল্লাহ ও আনোয়ারকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতরা আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য। এর মধ্যে আব্দুল্লাহ একজন আইটি এক্সপার্ট। সে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার আড়ালে আনসার আল ইসলাম সংগঠনের হয়ে কাজ করতো। কারাগারে আটক সদস্যদের জামিন, অর্থ সংগ্রহ, সংগঠনের প্রচার ও নতুন সদস্য সংগ্রহের জন্য কাজ করতো। গ্রেফতারকৃত আব্দুল্লাহর কাছ থেকে উদ্ধারকৃত হার্ড ডিস্কে উগ্রবাদী বার্তা সম্বলিত অডিও, ভিডিও, পিডিএফ বই এবং সংগঠনের অন্য সদস্যদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের তথ্য রয়েছে। উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হারুন ইজাহার এর নির্দেশে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এদের আদালতের মাধ্যমে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ডিএমপির ৪ থানায় নতুন ওসি

0

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল, বাড্ডা, রুপনগর ও পল্লবী থানায় ৪ ওসিকে বদলি করা হয়েছে।
বদলিকৃত কর্মকর্তারা হলেন-মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল খায়েরকে অফিসার ইনচার্জ, বংশাল থানা; শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুর রহমান সরদারকে অফিসার ইনচার্জ, রুপনগর থানা; রূপনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কালাম আজাদকে অফিসার ইনচার্জ, বাড্ডা থানা ও বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ পারভেজ ইসলাম পিপিএম (বার) কে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি করা হয়।
একই আদেশে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী ওয়াজেদ আলীকে ডিবি গুলশান বিভাগ, ডিবি গুলশান বিভাগের পরিদর্শক মোঃ আব্দুল মালেককে ডিএমপির ডেভেলপমেন্ট বিভাগ ও রুপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেনকে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহীন ফকির বরিশাল র‌্যাঞ্জ এ বদলি হওয়ায় গত ১৮ মে থেকে পরিদর্শদক (তদন্ত) অফিসার ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন।

শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা: দণ্ডিত ৭ আসামিকে হাইকোর্টের জামিন .

0

ঊনিশ বছর আগে ২০০২ সালে সাতক্ষীরায় তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত ১৮ আসামির মধ্যে ৭ জনকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে চার মাসের জন্য জামিন পেয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, গোলাস রসুল, আব্দুস সামাদ, আব্দুস সাত্তার, রাকিব, শাহাবুদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (২৫ মে) বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার অন্য ১১ আসামির জামিনের আদেশের জন্য আগামী রবিবার (৩০ মে) দিন ধার্য করেন।
আদালতে জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও অ্যাডভোকেট গাজী মহসীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইয়াহিয়া দুলাল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শাহীন।
এর আগে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই দিনই কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় তদন্ত শেষে হাবিবুল ইসলামসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে এই হামলা হয়েছে। এরপর মামলার আসামি রাকিবের আবেদনে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একইসঙ্গে রাকিবের ক্ষেত্রে মামলার কার্যক্রম কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। পরে রাকিবকে জামিন দেওয়া হয়।
এদিকে রাকিবের জামিন আবেদনের মাধ্যমে হাইকোর্টকে জানানো হয়েছিল, ২০০২ সালে ঘটনার সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর। সুতরাং তার বিচার হতে হলে শিশু আইনে হবে।পরে ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর রাকিবের মামলার বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাকিবুল।
রাকিবুলের আবেদনে আপিল বিভাগ তিন মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতকে মামলাটির বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এরপর বিচার শেষে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ৪ ফেব্রুয়ারি এ মামলায় সব আসামিকে সাজা দিয়ে রায় দেন।
রায়ে হাবিবুল ইসলামকে কয়েকটি ধারায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তারসহ অপরাপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
পরে মামলা থেকে খালাস চেয় আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করে এবং জামিন চেয়ে আবেদন জানান।

উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগে মুফতি আমির হামজা আটক

0

ধর্মীয় উগ্রবাদ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে বিতর্কিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজাকে আটক করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। সোমবার (২৪ মে) তাকে কুষ্টিয়া থেকে আটক করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৫ মে তলোয়ার নিয়ে সংসদ ভবনে হামলা চালানোর চেষ্টারত সাকিব নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাকিবকে আটকের পর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সাকিবসহ আলী হাসান উসামা ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুনবীকে আসামি করা হয়।
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘সাকিব মোবাইল ফোনে উগ্রবাদ বার্তা সংবলিত ভিডিও প্রচারকারী আলী হাসান উসামা, মাহমুদুল হাসান গুনবী, আমির হামজা, হারুন ইজহার প্রমুখ ব্যক্তির উগ্রবাদী জিহাদি হামলার বার্তা সংবলিত ভিডিও দেখে উগ্রবাদে আসক্ত হয়।’
ওই এজাহারে মুফতি আমির হামজার নাম ছিল। তার সূত্রে ধরেই তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটিটিসি সূত্র।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য মোজাম্মেল হক স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, রোববার বিকেলে মুফতি আমির হামজা বাড়িতে আসেন। এরপর সোমবার বিকালে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের রিয়াজ সর্দারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসীর পরিষদের কেন্দ্রিয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। ওয়াজের নামে তিনি ধর্মের অপব্যাখ্যা দেন বলে ধর্মীয় পণ্ডিতরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোক

0

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
শোকবার্তায় মন্ত্রী জানান, হাবীবুল্লাহ সিরাজী ছিলেন অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। একজন প্রকৌশলী হয়েও তিনি একাধারে কবিতা, উপন্যাস ও শিশুসাহিত্য লিখেছেন। কবিতা ও কর্মে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও প্রগতিশীলতাকে চমৎকারভাবে উপস্থাপন করেছেন। কর্মগুণেই তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। সৃজনশীলতা ও কর্মের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য জগতে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।
আইনমন্ত্রী শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীর জীবনাবসান

0

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী আর নেই। শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে এক মাস হাসপাতালে থাকার পর সোমবার তার মৃত্যু হয়েছে। একুশে পদকে ভূষিত হাবীবুল্লাহ সিরাজীর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।
হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক শোক বার্তায় তিনি বলেছেন, “হাবীবুল্লাহ সিরাজী কবিতা ও কর্মে মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রগতিশীলতাকে তুলে ধরেছেন, যা পাঠকমহলে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ১১টার দিকে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মৃত্যু হয় বলে বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান জানিয়েছেন। “প্রায় এক মাস উনি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

“শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে এপ্রিলের ২৫ তারিখ তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে উনার শরীরের টিউমারের সার্জেরি ও এন্ডোসকপি করা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন বাসায় চিকিৎসা নেওয়ার পর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে নেওয়া হয়।”

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক নিযুক্ত হয়েছিলেন।

বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে হাবীবুল্লাহ সিরাজীর মরদেহ রাখা হবে। জানাজার পর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

হাবীবুল্লাহ সিরাজীর জন্ম ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলার রসুলপুর গ্রামে।

ফরিদপুর জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, রাজেন্দ্র কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক ডিগ্রি নেন ১৯৭০ সালে।

পেশাজীবনে হাবীবুল্লাহ সিরাজী ১৯৭২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত দেশ ও দেশের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।

তিনি বাংলা একাডেমি এবং ইনস্টিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ার্সের ফেলো ছিলেন। ২০০৭-২০১৫ মেয়াদে জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি এবং সর্বশেষ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। 

২০১৮ সালে ২০ ডিসেম্বর সরকার তাকে তিন বছর মেয়াদে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেয়।

তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৩২টি। এছাড়া তিনি দুটি উপন্যাস, দুটি প্রবন্ধ, একটি স্মৃতিকথা এবং ১০টির মতো ছড়াগ্রন্থ রচনা করেছেন।

হাবীবুল্লাহ সিরাজীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে দাও বৃক্ষ দাও দিন, মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি, হাওয়া কলে জোড়া গাড়ি, নোনা জলে বুনো সংসার, স্বপ্নহীনতার পক্ষে, পোশাক বদলের পালা, বিপ্লব বসত করে ঘরে, ছিন্নভিন্ন অপরাহ্ন, সারিবদ্ধ জ্যোৎস্না, মিথ্যে তুমি দশ পিঁপড়ে, আমি জেনারেল ইত্যাদি।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ২০১৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

জামিন পেলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম

0

সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে জামিন দিয়েছে আদালত।
রোববার ভার্চুয়াল আদালতে শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম বাকী বিল্লা পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা এবং পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
রোজিনার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। তবে বিচারক সেদিন কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি রোববার আদেশের জন্য রাখেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবদুল্লাহ আবু রোববার শুনানিতে বলেন, সাংবাদিক রোজিনাকে জামিন দেওয়া হলে তাদের আপত্তি নেই। তবে তার পাসপোর্ট যেন জমা রাখা হয়।
পরে বিচারক সেই শর্তেই রোজিনার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।   
রোজিনার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এহসানুল হক সমাজি ও আশফ উল আলম। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রশান্ত কর্মকার ও আমিনুল গণি টিটো।
তবে ভার্চুয়াল শুনানি হওয়ায় রোজিনাকে আদালতে আনা হয়নি। তাকে রাখা হয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে।

রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গত ১৭ মে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তার কক্ষে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
পরে রাতে তাকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে ব্রিটিশ আমলের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও দণ্ডিবিধির কয়েকটি ধারায় মামলা করে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
রোজিনা ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর তার সহকর্মীরা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘অনিয়ম-দুর্নীতি’ নিয়ে প্রতিবেদন করায় তাকে ‘হয়রানি’ করা হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের এক আইন ব্যবহার করে।
সচিবালয়ে আটকে রাখার সময় রোজিনাকে ‘শারীরিকভাবে হেনস্তা’ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
তাকে ‘হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের’ প্রতিবাদে সারা দেশেই রাস্তায় নামেন ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। দেশে ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে’ প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলের নেতারা।
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট- সিপিজে এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) রোজিনাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেয়।
আর জাতিসংঘ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলে, সাংবাদিকদের ‘হয়রানিমুক্তভাবে’ কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।
রোজিনাকে কেন সেদিন দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হল, সেই ব্যাখ্যা জানতে চায় বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। তথ্যসূত্র – বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পল্লবীর সাহিনুদ্দিন হত্যার আসামি মনিরও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

0

রাজধানীর পল্লবীতে সাহিনুদ্দিন হত্যা মামলার আসামি মনির গ্রেপ্তার হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানের মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত ২টার দিকে পল্লবীর সাগুফতা হাউজিং এলাকায় গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখারুল ইসলামের ভাষ্য।
এর আগে শুক্রবার ভোরে রূপনগর এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন এ মামলার আরেক আসামি মানিক।
ওই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মানিক ও মনিরকে সরাসরি হামলায় অংশ নিতে এবং সাহিনুদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপাতে দেখা যায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য।
পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখারুল জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মনিরকে শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পল্লবীর ২২তলা গার্মেন্টসের পেছনে ঈদগাহ মাঠের পাশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“রাতেই মনিরকে নিয়ে পল্লবীর সাগুফতা হাউজিং এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গেলে ডিবি পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়। এসময় সে পালানোর চেষ্টা করলে গোলাগুলির মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়।”
পরে মনিরকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গত ১৬ মে বিকালে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ৩১ নম্বর সড়কে সাহিনুদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তার ছেলের সামনে। ওই ঘটনায় তার মা আকলিমা বেগম ২০ জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন।
ঢাকার পল্লবীর উত্তর কালশীর সিরামিক এলাকার বাসিন্দা আকলিমার দুই ছেলের মধ্যে সাহিনুদ্দিন ছোট। বাউনিয়া মৌজার উত্তর কালশীর বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকায় ১০ একর জমি রেখে গেছেন আকলিমার প্রয়াত স্বামী। সেই জমি দখল করতেই তার সন্তানকে খুন করা হয়েছে বলে আকলিমার অভিযোগ।
তিনি বলেছেন, ওই জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন হাভেলি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মালিক, লক্ষ্মীপুরের সাবেক এমপি এম এ আউয়াল। তিনি ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান ও তরীকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব।
এ হত্যা মামলায় প্রধান আসামি আউয়ালকে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ভৈরবের একটি মাজার থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে চারদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসবাদ করছে পুলিশ।
সাহিনুদ্দিন খুন হওয়ার পর আউয়ালসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া মামলার দুই আসামি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন। তথ্যসূত্র -বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।