ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 130

সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ন্যায়বিচার পাবেন, আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

0

অফিসিয়াল সিক্রেটস আইনে গ্রেপ্তার সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ন্যায়বিচার পাবেন বলে সাংবাদিক নেতাদের আশ্বাস দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদল গুলশানের আইনমন্ত্রীর অফিসে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আশ্বাস দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমি সবই শুনেছি। আমি এটুকু বলব যে এ রকম একটা ঘটনায় সরকার ও সাংবাদিকদের সঙ্গে দুরত্ব সৃষ্টি হোক, এরকম কোনো কাজ, যদি কোনো সন্দেহ থাকে, এটা দূরীকরণের জন্য সরকার চেষ্টা করে। আর এ ঘটনার যে তদন্তের কথা বলেছেন নিশ্চয়ই আলাপ-আলোচনা করব।” আইনমন্ত্রী বলেন, “আপনারা জানেন, আগামী পরশুদিন এটার জামিনের শুনানি রয়েছে। আদালত জামিনের শুনানি দেখবেন। নিশ্চয়ই আদালত সব কিছু বিবেচনা করবেন। আমি প্রসিকিউশনকে মামলাটা খতিয়ে দেখার জন্য বলব। ন্যায় বিচার অবশ্যই পাবে, এটুকু আমি আপনাদের বলতে পারি।”
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি তপন বিশ্বাসের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদল রাত নয়টার দিকে আইনমন্ত্রীর অফিসে যান।
তারা রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে জামিনের জন্য আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এসব দাবি জানানোর পর আইনমন্ত্রী আশ্বাস দেন রোজিনা ইসলাম শতভাগ ন্যায়বিচার পাবেন, কোনো অবিচার করা হবে না। এ ছাড়া কারাগারে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে যাতে রোজিনা ইসলামের কোনো অসুবিধা না হয় সেটিরও নিশ্চয়তা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
সাক্ষাৎ শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে সাক্ষাতের বিষয়বস্তু ও দাবির কথা তুলে ধরেন।

সাংবাদিক রোজিনা গোপন নথি নিয়েছিলেন, বাইরে গেলে দেশের ক্ষতি হত, বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ‘নির্যাতন করা হয়নি’ দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদক টিকা আমদানি সংক্রান্ত এমন কিছু নথি ‘সরিয়েছিলেন’ যেগুলো প্রকাশ হলে ‘দেশের ক্ষতি’ হতে পারত।
সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মধ্যে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করলেন।
রোজিনাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এদিন বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) তা বর্জন করে।
পরে দুপুরে আগারগাঁওয়ে একনেক সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
জাহিদ মালিক বলেন, সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে যেটুকু তিনি শুনেছেন, তাতে স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের অনুপস্থিতিতে সোমবার দুপুরে তার কক্ষে ঢুকেছিলেন রোজিনা।
“ওখানে যে ডিউটিতে ছিল, সে দেখল যে একজন ব্যক্তি ওখানে ফাইলের ছবি তুলতেছে, ফাইল কিছু বের করে ব্যাগে ঢুকাইছে, শরীরেও ঢুকাইছে। তখন সে চিল্লাচিল্লি করছে, আমাদের মহিলা অফিসাররা আসেছে, এসে তারা ধরছে যে ‘আপনি কেন এইসব করছেন?’ তখন তার কাছ থেকে ওই কাগজ আর ফাইলগুলো নিছে।
“এর মধ্যে পুলিশে খবর দিছে, পুলিশ কর্মকর্তারা আসছে, তারা এটা টেকওভার করছে। প্লাস মোবাইলটাও নিছে, মোবাইলেও অনেক ছবি পাইছে।”
সোমবার দুপুরের পর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের একান্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞার কক্ষে রোজিনাকে প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন উপসচিব তার বিরুদ্ধে মামলা করেন।
সেখানে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় চুরি এবং ১৯২৩ সালের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ ৩ ও ৫ ধারায় গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি নিজের দখলে রাখার অভিযোগ আনা হয় এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
এজাহারে বলা হয়েছে, রোজিনা যেসব নথির ‘ছবি তুলেছেন’, তার মধ্যে ‘টিকা আমদানি’ সংক্রান্ত কাগজপত্রও ছিল।
সেই প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এই জিনিসটাও দুঃখজনক। কেননা এই ফাইলগুলো ছিল টিকা সংক্রান্ত। আমরা যে রাশিয়ার সাথে টিকার চুক্তি করছি, চায়নার সাথে টিকার চুক্তি করছি। সেগুলো নন ডিসক্লোজার আইটেম। আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে বলেছি, আমরা এটা গোপনে রাখব, এগুলো বলব না।
“তো সেইগুলো যদি বাইরে চলে যায়, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলাম, এবং আমরা টিকা নাও পেতে পারি। এতে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য বিরাট ক্ষতি হতে পারে। এগুলো সিক্রেট ডকুমেন্ট, বাইরে যাওয়া ঠিক হয় নাই।”
রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ে আটকে রেখে ‘শারীরিকভাবে হেনস্তা’ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু।
ওই অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, “যেটা শুনলাম, তাকে অনেকক্ষণ আটকাইয়ে রাখছে। এটা পুলিশ ছিল… সে নিজেই শুয়ে পড়ছে, বসে পড়ছে। তাকে নিতে পারছিল না। শারীরিকভাবে কোনো নির্যাতন বা আঘাত করা হয়নি। এটা সঠিক নয়।”
রোজিনা ইসলাম ওই অফিস থেকে কোনো নথি সরানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আর তার সহকর্মীরা বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করায় এখন ‘অন্যায়ের’ শিকার হচ্ছেন এই সাংবাদিক।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতির রিপোর্টিংয়ের জন্য তো আজকের ঘটনা না। ওটা ওখানের ঘটনার, এর উপরই পরবর্তী ঘটনা ঘটতেছে।”
তিনি বলেন, “সিনিয়র অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি ও ডেপুটি সেক্রেটারি লেভেলের দুইজন ছিল, প্রাথমিকভাবে তারাই ডিল করছে। পরে যখন রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তার বিষয় আসছে, তখন তারা পুলিশ ডেকেছে।”
বর্তমান সরকার যেখানে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের পুরস্কৃত করার নিয়ম করেছে, সেখানে রোজিনার বিরুদ্ধে কেন ঔপনিবেশিক আমলের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে মামলা দেওয়া হল- সেই প্রশ্ন রেখেছিলেন একজন সাংবাদিক।
উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তো আইনজ্ঞ না। আইনের বিষয়ে কিছু বলব না।” তথ্য সূত্র-বিডি নিউজ টোয়েন্টফোর ডটকম।

সাংবাদিক রোজিনা কারাগার, জামিন শুনানি বৃহস্পতিবার

0

রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুরের পর প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার জামিন আবেদনের ওপর বৃহস্পতিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালতের আদেশের পর তাকে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার একটু পরে রোজিনা ইসলামকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেওয়া হয়। পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম তার রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আগামী বৃহস্পতিবার তার জামিনের শুনানি হতে পারে।

এর আগে সকাল ৮টা বাজার আগেই শাহবাগ থানা হাজত থেকে থানার পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান সরদার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সিএমএম আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে রোজিনার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসানুল হক সামাজি, আশরাফ উল আলম, প্রশান্ত কুমার কর্মকার। এ ছাড়া, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রশীদ, ব্লাস্টের পক্ষে আইনজীবী মশিউর রহমান এবং আইনজীবী সুমন কুমার রায় শুনানিতে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু।
উল্লেখ্য পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকেরা বিকেলে সচিবালয়ে এবং রাতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। এর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
মামলার প্রতিবেদন ১৫ জুলাই:
রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি নথি ‘চুরির চেষ্টার’ অভিযোগে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস’ আইনে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৫ জুলাই দিন ধার্য করেছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসীম মামলার এজাহার গ্রহণ করে প্রতিবেদন দাখিলের এ দিন ধার্য করেন। এর আগে একই বিচারক সকালে রোজিনার রিমান্ডের আবেদন নাকচ করেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন ‘বয়কট’:
প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে আটকে রেখে পুলিশে দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন ‘বয়কট’ করেছে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।
রোজিনাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এই সংবাদ সম্মেলন ডাকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হয় তাদের বয়কটের কথা জানান।
বিএসআরএফ এর এক নোটিসে ওই সংবাদ সম্মেলন ‘বয়কটের’ ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, ফোরামের সদস্য রোজিনা ইসলামকে ‘হেনস্তা’ করে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনের সংবাদ সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি করলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জরিমানা, হবে ফৌজদারি মামলা,সংশোধন হচ্ছে আইন

0

দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের শুধু ফৌজদারি মামলাই নয় বড় অংকের জরিমানার মুখে পড়তে হবে। এমন বিধান রেখে ‘ব্যাংক-কোম্পানি (সংশোধন) আইন, ২০২১’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে ব্যাংক কোম্পানি পুনর্গঠন ও একত্রীকরণের বিধানও রাখা হয়েছে।
সোমবার (১৭ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত ব্যাংক কোম্পানিসমূহের কার্যক্রম ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর আওতায় পরিচালিত হয়। ব্যাংকসমূহের মোট সংখ্যা, মোট সম্পদ, আমানত, ঋণ, লিজ, বিনিয়োগ ইত্যাদি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ওই আইন সবকিছু কাভার করছিল না।
সেজন্য ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালনা, তদারকি, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দেশের আর্থিক খাতের সুশাসন এবং স্থিতিশীলতার জন্য এই আইনটি করা প্রয়োজন ছিল। সেজন্য এই সংশোধনী আনা হয়েছে। সেই আলোকে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক কোম্পানি আইন সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে আইনের সংশোধনী খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো জিনিস রয়েছে, তা হলো- ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতার সংজ্ঞা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এই জিনিসটি আগের আইনে অতটা স্পষ্ট ছিল না। যেহেতু ১৯৯১ সালের অবস্থায় আইনটি করা হয়েছিল। নতুন আইনে সেটা পরিষ্কারভাবে বলে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংক কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত নতুন একটি ধারা সংযোজন করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানির জন্য সংকটাপন্ন অবস্থার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি আছে। ব্যাংক কোম্পানি পুনর্গঠন ও একত্রীকরণের বিধানও নতুন আইনে আছে।
খসড়া আইনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, যদি ব্যাংকের পরিচালকরা বা যেই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকবে তাকে বড় জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি ক্রিমিনাল প্রসিডিংও (ফৌজদারি মামলা) তার বিরুদ্ধে চলবে। এটা আজকের মিটিংয়ে বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কারো ১ কোটি টাকা জরিমানা হলে সে জরিমানা দিয়ে বেঁচে যেতে পারে, সে যদি ১০ বা ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে থাকে। সেজন্য প্যানাল কোডের আইনও তার জন্য প্রযোজ্য হবে। তার যে জরিমানা হলো, সেটা ক্রিমিনাল প্রসিডিংয়ের জন্য কোনো বাধা হবে না।

সহিংসতার আরেক মামলায় মামুনুল হক ৩ দিনের রিমান্ডে

0

হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার আরেকটি মামলায় মামুনুল হককে ৩ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম ফারহানা ফেরদৌসের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার একটি মামলায় মামুনুল হককে গ্রেফতার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পিবিআই। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান জানান, এক আসামি তার জবানবন্দিতে হেফাজতে ইসলামের সাবেক কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার নাম প্রকাশ করেন। তারা জানান, হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জ্বালাও-পোড়াওসহ গাড়ি ভাঙচুরের নির্দেশ দেন মামুনুল হক। তাই তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ মার্চ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে হেফাজতের কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সংঘর্ষের জেরে সহিংসতা হয় নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জসহ আরও কয়েক জেলায়।
পরে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে এক নারীসহ স্থানীয়দের হাতে অবরুদ্ধ হন মামুনুল। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুলকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। গত ১২ মে পাঁচ মামলায় মামুনুলকে ১৫ দিনের রিমান্ডে পায় পুলিশ।

বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা ও তাদের সন্তানরা পাবেন এসএসএফের নিরাপত্তা

0

ক্ষমতায় না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরা এসএসএফের বিশেষ নিরাপত্তা পাবেন। আর বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরা হলেন তাঁর দুই কন্যা ও তাদের সন্তানেরা। সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ মে) মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব আনোয়ারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ৮৬ সালের এক অধ্যাদেশ অনুযায়ী এসএসএফ পরিচালিত হতো। তবে সামরিক সরকারের অধ্যাদেশ আইনে পরিবর্তন করার জন্য আদালতের রায় রয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এটিকে আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এই আইনে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ মেহমানদের দৈহিক নিরাপত্তা দেবে এসএসএফ। এর বাইরে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদেরকেও দৈহিক নিরাপত্তা দেবে এই বিশেষ বাহিনী।
তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য হিসেবে তার দুই মেয়ে, তাদের সন্তান ও তাদের সন্তানরা বিশেষ বাহিনীর এ নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন।
এসময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা আইন রয়েছে, এরপরেও আলাদাভাবে এই সুবিধা কেন?
জবাবে সচিব বলেন, ওইটি আলাদা একটি আইন। সেই আইনের সঙ্গে এই আইনের সম্পর্ক নেই। এসএসএফ আইনে বঙ্গবন্ধুর সদস্যরা নিরাপত্তার সুবিধা পাবেন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন। অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা সচিবালয় থেকে যুক্ত হন।

রিমান্ড শেষে কারাগারে বাবুল আক্তার,স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নি, সোর্স মুছাকে চিনতে পেরেছেন

0

চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তার স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আক্তারকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন- পিবিআই।
পুলিশ বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি বাবুল আক্তার। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকেও নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়নি।
পরে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহান পিবিআইয়ের আবেদনে বাবুল আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিচারকের খাস কামরা থেকে বের হওয়ার সময় বাবুল আক্তারকে বিমর্ষ দেখা যায়। এসময় তিনি কিছু বলতে চেষ্টা করলেও পুলিশের ঘেরাওয়ের মধ্যে সুযোগ পাননি।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুলকে আদালত থেকে প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নেওয়ার সময়ও ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী সাহাবুদ্দিন আহমদ বলেন, “উনাকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে বলা হলেও তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। আমরা কোনো রিমান্ডের আবেদন করিনি। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।”
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতস্ত্রী হত্যার বিচার চেয়ে বাবুল আক্তার নিজে বাদী হয়ে যে মামলা করেছিলেন, তার তদন্ত করতে গিয়ে সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানায় পিবিআই। এরপর সেই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। বাবুলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা করেন তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন।
গত ১২ মে ওই মামরায় বাবুলকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বেশ কিছু প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন, আবার কিছু এড়িয়েও গেছেন। সবকিছু তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না।”
তবে মিতু হত্যার আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুছা যে বাবুলের ‘সোর্স’ ছিলেন, সে কথা তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে তদন্ত কর্মকর্তার দাবি।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় উপস্থিত ছিলেন, এমন একজন পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, “প্রথম কয়েকদিন বাবুল আক্তার মুখ খোলেননি। তিনি শুধু বলে গেছেন, সবকিছু যেহেতু আমরা জানি, সেহেতু তদন্ত করে বের করা হোক।”
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও দেখে ওই খুনে একাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছিল পুলিশ। যাদের মধ্যে ছিলেন বাবুলের ‘সোর্স’ মুছাও। কিন্তু তখন তাকে ‘চিনতেই পারেননি’ বাবুল। কিন্তু রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে মুছাকে তিনি চিনতে পেরেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
পাঁচলাইশ থানায় মোশাররফ হোসেনের করা নতুন মামলায় বাবুলের পাশাপাশি মুছাকেও আসামি করা হয়েছে। তাকে পাঁচ বছর আগে পুলিশ ‘তুলে নিয়ে যায়’ বলে দাবি করে আসছেন মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার। তবে পুলিশের দাবি, তারা মুছাকে ‘খুঁজছে’। তথ্য সূত্র-বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

রাজধানীর পল্লবীতে জমি নিয়ে বিরোধ, ছেলের সামনে বাবার মাথা বিচ্ছিন্ন করল সন্ত্রাসীরা

0

রাজধানীর পল্লবীতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ৭ বছরের ছেলের সামনে প্রকাশ্যে তার বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মো. শাহিনউদ্দিন (৩৪)। রোববার বিকেলে পল্লবীর ১২ নম্বর ডি-ব্লকে ৩১ নম্বর রোডের ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন ও তার বাহিনী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগেও সুমনের বাহিনী শাহিনউদ্দিনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ওই সময় পল্লবী থানায় সুমন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলাও হয়। এ ছাড়া গত কয়েক মাসের ব্যবধানে সুমন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজীসহ অন্তত চারটি মামলা হয়েছে পল্লবী থানায়।
ব্যাটারিচালিত রিকশার টোকেন বাণিজ্য, মাদক ও জুয়া খেলাসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে সুমন বাহিনীর বিরুদ্ধে। কিন্তু স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় সুমন ও তার বাহিনীর সদস্যরা হয়ে ওঠেন বেপরোয়া।
পুলিশের ধারণা, জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে অভিযুক্ত সুমন পলাতক রয়েছেন। তবে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাতে অভিযুক্ত সুমনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ওপাশ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।
হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী নিহত শাহিনউদ্দিনের ৭ বছরের ছেলে মাশরাফি ও তার স্বজনরা জানায়, পল্লবীর ১২ নম্বর সিরামিক রোডে সপরিবারে থাকতেন শাহিনউদ্দিন। রোববার বিকেলে বাসা থেকে ছেলে মাশরাফিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বের হন শাহিনউদ্দিন। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে সুমন নামের এক যুবক মোবাইল ফোনে কল দিয়ে শাহিনউদ্দিনকে পল্লবীর ১২ নম্বর ডি-ব্লক ৩১ নম্বর রোডে দেখা করার জন্য আসতে বলেন।
সেখানে পৌঁছালে মাশরাফিকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে তার বাবার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ায় সুমন। একপর্যায়ে মাশরাফির চোখের সামনেই তার বাবাকে লাথি মেরে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয় সুমনসহ আরও ৬ থেকে ৭ জন। এরপর তারা শাহিনউদ্দিনকে মাটিতে ফেলে বড় বড় ছুরি (চাপাতি, রামদা) দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। একজন বড় একটি পাথর ছুঁড়ে মারে তার বাবার ওপর। বাঁচার জন্য শাহিনউদ্দিন পাশের একটি বাড়ির গ্যারেজে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা সেখানে ঢুকেও তাকে কোপায়। এ সময় ধর থেকে তার বাবার মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সুমন গ্রুপের সঙ্গে প্রভাব বিস্তার নিয়ে শাহিনউদ্দিনের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ছাড়া সরকারি জমি দখল নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনায় পল্লবী থানায় উভয়ের নামেই একাধিক মামলা রয়েছে। চলমান বিরোধের জেরে রোববার বিকেলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে শাহিনউদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন পলাতক খুনীদের গ্রেপ্তার করলেই ঘটনার আদ্যপান্ত পরিস্কার হওয়া যাবে।
পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শাহিনউদ্দিন নামের ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যার পেছনে সম্ভাব্য সব বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। তথ্য সূত্র-আমাদের সময়।

মিতু হত্যা: নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে দুই আসামি ওয়াসিম ও আনোয়ারকে

0

রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহান এই আদেশ দেন। এই দুই আসামি মোতালেব মিয়া ওয়াসিম ও আনোয়ার হোসেন ‘সরাসরি হত্যাকাণ্ডে’ অংশ নিয়েছিলেন বলে গ্রেপ্তারের পর দাবি করেছিল পুলিশ।
২০১৬ সালের ২৬ জুলাই থেকে তারা চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী সাহাবুদ্দিন আহমদ জানান, পিবিআই মিতু হত্যা মামলায় আনোয়ার ও ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেছে।
মিতু হত্যার ২০ দিন পর ২০২৬ সালের ২৬ জুন ওয়াসিম ও আনোয়ারকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। ওই দিনই মহানগর হাকিম হারুন অর রশীদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন তারা।
হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার বাদি হয়ে করা মামলায় চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেছিল।
গত ১২ মে মিতুর বাবা মোশারফ হোসেনের করা মামলাতেও তারা যথাক্রমে ৪ ও ৫ নম্বর আসামি।
এই দু’জন ‘সরাসরি হত্যাকাণ্ডে’ জড়িত ছিলেন বলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তৎকালীন কমিশনার ইকবাল বাহার জানিয়েছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মোটরসাইকেলে যে তিনজনকে পালাতে দেখা গিয়েছিল, ওয়াসিম তাদের একজন। সেই (ওয়াসিম) মিতুকে গুলি করেছে। আনোয়ার অনুসরণকারীদের একজন ছিলেন বলে ওই সময় জানিয়েছিলেন ইকবাল বাহার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানায়, নবী, কালু, মুছা ও তিনি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন, নবী ও কালু মিতুকে ছুরিকাঘাত করে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে পরিচিত নগরীর বাকলিয়া এলাকার এহেতেশামুল হক ভোলা সরবরাহ করেছিল বলেও জবানবন্দিতে ওয়াসিম জানায়।
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন চট্টগ্রামে বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এবং পরে পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।
প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় তাকে।
এদিকে মামলার প্রথম তদন্তকারী সংস্থা চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ মিতু হত্যারহস্যের কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তে আসে পিবিআই।
দেড় বছর তদন্তের পর গত ১২ মে পিবিআই জানায়, ভাড়াটে খুনি দিয়ে বাবুল আক্তার স্ত্রীকে খুন করিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন তারা।
এরপর চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করেন শ্বশুর মোশাররফ হোসেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বাবুলের ‘সোর্স’ কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, মো. আনোয়ার হোসেন, সাইদুল আলম শিকদার ওরফে সাক্কু, শাহজাহান ও খায়রুল ইসলাম কালু।
এদের মধ্যে বাবুল আক্তার বাদি হয়ে করা মামলায় জামিনে থাকা সাইদুল আলম শিকদার ওরফে শাক্কুকে গত সপ্তাহে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তথ্য সূত্র-বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

দু’ধরনের ভ্যাকসিনের ডোজ নেওয়া কতটা ক্ষতিকর? অক্সফোর্ডের গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

0

করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলছেন চিকিৎসকরা। সব দেশেই জোরকদমে চলছে টিকাকরণও। কিন্তু এরই মধ্যে একাধিক বার এমন খবরও এসেছে যে, একই ব্যক্তি দু’বারে, দু’টি ভিন্ন টিকার ডোজ পেয়েছেন। প্রথমে কোভিশিল্ড নিলেও পরে হয়তো ভুলবশত কোভ্যাক্সিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে তাকে। কিংবা ঘটেছে উল্টোটাও। যেমন অ্যাস্টেজেনিকার কোভিশিল্ট টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন কিন্তু দ্বিতীয় ডোজটি পাওয়া যায় নি। সে ক্ষেত্রে অন্য কোম্পানির টিকা দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ধরনের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে পরিণতি সম্পর্কে। স্বাস্থ্যের কোনও সংকট ঘনিয়ে আসবে না তো, এই প্রশ্নই জেগেছে টিকা প্রাপকদের মনে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষা রিপোর্টে সেই সব প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়া হয়েছে।

ওই রিপোর্টে জানা গিয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ‘ভ্যাকসিন মিক্সআপ’—এর ঘটনা ঘটেছে, তাদের বড় ধরনের কোনও বিপদ না ঘটলেও অল্প থেকে মাঝারি কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। আর এই তালিকায় রয়েছে জ্বর, কাঁপুনি, ক্লান্তি, মাথাব্যথা প্রভৃতি। এই রিপোর্টটি ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। আর সেখানে গবেষকরা জানিয়েছেন, দু’ধরনের ভ্যাকসিন ডোজ নিলে, ঠিক সেই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলিই দেখা যাচ্ছে, যা, যে কোনও প্রতিষেধকের প্রথম ডোজ গ্রহণের পর ঘটছে। পার্থক্য একটাই। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি বার বার ঘটছে। এমনটাই জানিয়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির, পেডিয়াট্রিক্স ও ভ্যাকসিনোলজির অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, ডা. ম্যাথিউ স্ন্যাপ। যিনি এই সমীক্ষার ফলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছেন।

যে সমীক্ষা থেকে এই রিপোর্ট জানা গিয়েছে, সেটি পরিচালনা করেছিল অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের কম কভ ভ্যাকসিন ট্রায়াল। ব্যবহৃত হয়েছিল চারটি বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি টিকা এবং ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি টিকা। সমীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ৮৩০ জন। প্রথম দফায় একটি দলকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজ এবং ২৮ দিন পরে, তাদের ফাইজারের টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল। আবার অন্য দলকে, দু’বারই হয় অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডোজ বা ফাইজারের টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছিল। দেখা যায়, যাদের ‘মিক্সড’ ডোজ দেওয়া হয়েছিল, অন্যদের তুলনায় তাঁদের শরীরে বেশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তবে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর প্রয়োজনীয়তা কারোই পড়েনি।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশেও এ সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা রয়েছে। ভারতের সেরাম ইন্সস্টিটিউটের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন এমন ১৪ লাখ লোক দ্বিতীয় ডোজ পাবেন না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ চুক্তি থাকলেও সেরাম ইন্সস্টিটিউট টিকা উৎপাদন করতে না পরায় বাংলাদেশে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে সেরামের টিকা পাওয়া তাদের জন্য অনিশ্চিত। এ অবস্থায় চীন থেকে পাওয়া টিকা নিলে শরীরে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয় কি না এ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত।