ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 131

এসপি বাবুল মত্ত থাকতেন পরনারীতে; ঠাণ্ডা মাথায় খুন করান স্ত্রী মিতুকে,বেরুচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

0

এক নারী লিপ্সু পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার। ২০ বছরের চাকরি জীবনে যেখানেই চাকরি করেছেন সেখানেই জড়িয়েছেন নারী কেলেংকারিতে। এসব জানতেন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। জানতো দুই পরিবারের লোকজনও। বাবুলের অসৎ চরিত্র থেকে ফিরিয়ে আনতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু নারী লিপ্সু বাবুলকে কোনো ভাবেই নিবৃত্ত করা যায় নি। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগেই থাকতো। দুই সন্তানের দিকে তাকিয়ে সবকিছু সহ্য করেছেন মিতু। কিন্তু তাতেও তার শেষ রক্ষা হলো না। পরিকল্পিত ভাবে ঠাণ্ডা মাথায় ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাকে খুন করা হলো। আর এর মধ্যে দিয়ে বাবুলের ভয়ঙ্কর চরিত্রের প্রকাশ পেলো।

বুধবার মিতুর বাবা তার মেয়েকে হত্যার জন্য বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরর পর পিবিআই বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার জাহানের আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। একই সময় আদালত রিমান্ডের প্রতিবেদন ১০ দিনের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।’
২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু। খুনিরা গুলি করার পাশাপাশি ছুরিকাঘাতে তাকে হত্যা করে। ঘটনার সময় বাবুল আক্তার ঢাকায় ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল আক্তার নিজে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পায়। এরপর গত ১০ মে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআই।
অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে মিতু হত্যা মামলায় বাবুলের দায়ের করা হত্যা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। এরপর দুপুর ১টার দিকে পাঁচলাইশ থানায় হাজির হয়ে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন। মামলায় বাবুল আক্তারসহ আট জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর বাদী মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলায় বাবুলের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় আট জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামিদের সঙ্গে সমন্বয় করে সে তার স্ত্রীকে হত্যা করে। কক্সবাজার থাকা অবস্থায় ২০১৩ সাল থেকে অন্য নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে বাবুল। এটি নিয়ে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। ওই ঘটনার জের ধরেই সে মিতুকে হত্যা করে।’ তিনি বলেন, ‘একজন এনজিও কর্মীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। ওই নারী মিতুকে মোবাইলে এসএমএস দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। বাবুল আক্তারের অন্তরঙ্গ ছবি পাঠিয়ে বাবুলের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা জানায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়।’ এতদিন পর কেন মামলা করলেন জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘একটি ঘটনায় দুটি মামলা হয় না। আসামি ছাড়াও মামলা হতে পারে। আইও তদন্ত করে আসামি বের করবে। আর যেহেতু প্রথম মামলাটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাই আমি মামলাটি দায়ের করেছি। না হলে সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশকে মামলাটি করতে হতো। যেহেতু পুলিশ করেনি, তাই আমি মামলাটি দায়ের করেছি। আগের মামলায় কয়েকজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো এই মামলায় যোগ হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত দুই বছর ধরে তার (বাবুল) সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। শুনেছি সে একটা বিয়ে করেছে।’ মামলার বাকি আসামিরা হলেন—কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসা, এহতেশামুল হক ভোলা, মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, খায়রুল ইসলাম ওরফে কালু, সাইফুল ইসলাম সিকদার ওরফে শাকু ও শাহজাহান মিয়া। বাবুল ছাড়া এই সাত আসামি আগের দায়ের করা মামলারও আসামি ছিলেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে ঢাকায় পিবিআই সদর দফতরে এক প্রেস ব্রিফিং এ সংস্থাটির ডিআইজি বনজ কুমার সাংবাদিকদের জানান, বাবুল আক্তার বর্তমানে চট্টগ্রামের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হেফাজতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তারের করা মিতু হত্যার মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে আমাদের সামনে কিছু প্রশ্ন এসেছে। সেগুলোর সমাধান খুঁজতে গিয়ে মামলা অন্যদিকে মোড় নিয়েছে। তাই বাবুল আক্তারের মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় মিতুর বাবা একটি মামলা করবেন, সেই মামলায় প্রধান আসামি হবেন বাবুল আক্তার। এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।’ মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাবুল আক্তার খ্যাতিমান পুলিশ অফিসার ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। এই হত্যা মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। এই মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। হাইকোর্টেও এই মামলা নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তখন এই মামলাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। সেই সময় মামলার বাদী হয়েছিলেন মাহমুদা খানমের স্বামী বাবুল আক্তার। সেই মামলায় দুজন আসামি আনোয়ার ও ওয়াসিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে বাবুল আক্তারের কোনও সম্পৃক্ততা আসেনি। দেড় বছর ধরে কোভিড-১৯-এর কারণে তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়। মামলাটি নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে, দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। তাই মামলাটি নিষ্পত্তি করতে কিছু প্রশ্ন আমাদের সামনে আসে। সেই প্রশ্নগুলো সমাধানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আরও যা জানা যায়:
২০১৩ সালে কক্সবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ভিনদেশি এক এনজিও কর্মীর সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন বাবুল আক্তার। বিষয়টি তার স্ত্রী মিতুর কান পর্যন্ত পৌঁছে। ২০১৪ সালে বাবুল আক্তার সুদানে জাতিসংঘের মিশনে যান। তখন তার বাসায় দুটি বই উপহার পাঠান ওই নারী। বাংলাদেশে রেখে যাওয়া বাবুলের মোবাইল ফোনেও একাধিক মেসেজও পাঠান তিনি। একটি বইয়ে ওই নারী লিখেছেন- আমাদের ভালো স্মৃতিগুলো অটুট রাখতে তোমার জন্য এই উপহার। আশা করি এই উপহার আমাদের বন্ধনকে চিরস্থায়ী করবে। ভালোবাসি তোমাকে…। ওই নারী বাবুল আক্তারের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণও করেন। মিতুর বাবা জানান, এসব ঘটনায় বাবুল ও মিতুর পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছে। বাবুলের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তিনি মিতুকে নির্যাতন করেন বলে মিতু মৃত্যুর আগে তাদের জানান।

সংসদ ভবনে তলোয়ার নিয়ে হামলার পরিকল্পনা: গ্রেপ্তার দুই জঙ্গি ফের রিমান্ডে

0

জাতীয় সংসদ ভবনে ‘জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ও উসকানির’ ঘটনায় গ্রেপ্তার আবু সাকিব ওরফে আল আমিন এবং আলী হাসান ওসামাকে দ্বিতীয় দফায় দুইদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।
প্রথম দফায় পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে বুধবার আসামিদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ফের সাতদিন করে তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক কাজী মিজানুর রহমান।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান তাদের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে ৬ মে দুই আসামিকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিল আদালত। দুইজনের মধ্যে আবু সাকিব ওরফে আল আমিন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য এবং আলী হাসান ওসামা একজন ‘উগ্রবাদী বক্তা’ বলে পুলিশের ভাষ্য।
গত ৫ মে সন্ধ্যায় শেরে বাংলা নগর থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। এ ছাড়া এই হামলার পরিকল্পনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে একইদিন উগ্রবাদী বক্তা আলী হাসান ওসামাকে রাজবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামিলার নথি থেকে জানা যায়, গত ৫ মে সন্ধ্যার পর সংসদ ভবনের সামনে থেকে ‘তলোয়ার এবং কালো পতাকাসহ’ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উগ্রবাদী বক্তা আলী হাসান ওসামার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সে শহীদ হতে সংসদ ভবনে হামলার জন্য এসেছি

বাজেট অধিবেশন বসছে ২ জুন

0

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন আগামি ২ জুন বসবে। সংসদ সচিবালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মঙ্গলবার এই অধিব্শেন আহ্বান করেছেন।
২ জুন বিকাল পাঁচটায় অধিবেশন শুরু হবে। এই অধিবেশনে ২০২১-২২ অর্থ বছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।
পুরো অধিবেশন জুড়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা।
গত বছর বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১০ জনু।
সংক্ষিপ্ত ওই অধিবেশনে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তাফা কামাল। পরে ৩০ জুন আকার ঠিক রেখে ওই বাজেট পাস হয় সংসদে। ওই বাজেট আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৩.২৪ শতাংশ বেশি ছিল।
বাজেট অধিবেশন সাধারণ দীর্ঘ হয়। তবে করোনাভাইরাস মাহামীরর মধ্যে গত বছর বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হয়। নয় কার্যদিবসের ওই অধিবেশন ছিল ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহামারীকালের এই অধিবেশনও সাম্প্রতিক সময়ের অধিবেশনগুলোর মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে। গত অর্থবছরের মতো এবারও বাজেট অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

জীবাণুঅস্ত্র তৈরীর পরীক্ষানিরীক্ষা; চীনা সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস, দাবি চীনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞের

0

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে জীবাণুঅস্ত্র ব্যবহারের পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছিলো চীন। চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র গবেষণাগার এ নিয়ে চলছিলো গবেষণা। আর সেই গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনা ভাইরাস। যা আজ বিপর্যয় নেমে এসেছে পৃথিবীজুড়ে। চীনা সেনাবাহিনী ও বিজ্ঞানীরা ধারনাই করতে পারেন নি করোনাভাইরাসের এই ভয়ংকর রূপ হবে। দেশটির হুবেই প্রদেশের উহান শহরের গবেষণাগার থেকে যখন ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে, হাসপাতালে বাড়তে থাকে রোগির সংখ্যা তখন টনক নড়ে চীন সরকারের। শুরুতে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় এক চিকিৎসক এই ভাইরাসের কথা প্রকাশ করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তার আর খোঁজ পাওয়া যায় নি। সংবাদ মাধ্যমেও কোনো খবর প্রকাশ করতে দেয়নি সরকার। দুজন সাংবাদিক খবরটি সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন এবং তাদেরও পরে খোঁজ মেলেনি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ছড়িয়ে পড়া এই করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩৫ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পৃথিবী।
বিশ্বজুড়ে এই মহাবিপর্যয়ের জন্য শুরু থেকে চীনকে দায়ি করে আসছে বিভিন্ন দেশ। দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ। কিন্তু চীন বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। তবে শেষ পর্যন্ত চীনের একজন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ স্বীকার করেছেন চীন সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। আর জীবানুঅস্ত্র বানানোর জন্য এই গবেষণাগারে গবেষণা চলছিলো। জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে তা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিবেশে।
chaina corona


অষ্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন ২০১৫ সালে। ‘দ্য আন-ন্যাচারাল অরিজিন অব সার্স অ্যান্ড নিউ স্পেসিস অব ম্যান-মেড ভাইরাসেস অ্যাজ জেনেটিক বায়োউইপনস’ শীর্ষক এক ডকুমেন্টে বলা হয়েছে, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে এই জীবাণুঅস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ করা যাবে। ওই ডকুমেন্টটি ২০১৫ সালে লিখেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এতে বলা হয়েছে সার্স করোনা ভাইরাস হলো নতুন এক জেনেটিক অস্ত্র। যাকে কৃত্রিমভাবে মানবরোগের ভাইরাস হিসেবে আবির্ভাব করানো যেতে পারে। তারপর তাকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে অবমুক্ত করা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার উইকলি অস্ট্রেলিয়ান-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে এসব কথা লিখেছে এনডিটিভি।
এতে দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর ৫ বছর আগে সার্স করোনা ভাইরাসকে জীবাণুঅস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন চীনের সামরিক বাহিনীর বিজ্ঞানীরা। এ বিষয়ে উইকলি অস্ট্রেলিয়ানের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে news.com.au এই সাইটে। এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পলিসি ইনস্টিটিউট (এএসপিআই)-এর নির্বাহী পরিচালক পিটার জেনিংস বলেছেন, আমরা যা পেয়েছি এই ডকুমেন্ট থেকে তা বন্দুকের গুলি ছুড়ে দেয়ার সময় যে ধোয়া বের হয় তারই মতো। আমি মনে করি এটা খুব উল্লেখযোগ্য বিষয়। কারণ এ ডকুমেন্ট খুব পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দেয় যে, করোনাভাইরাসের বিভিন্ন স্ট্রেইনের সামরিক ব্যবহারের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন চীনা বিজ্ঞানীরা।

তারা চিন্তাভাবনা করছিলেন এই করোনা ভাইরাসের স্ট্রেইনকে কিভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায়। আমরা এখন যে অবস্থায় আছি, এটা হতে পারে সামরিক ব্যবহারের প্যাথোজেন (করোনা ভাইরাস) দুর্ঘটনাক্রমে অবমুক্ত হয়ে থাকতে পারে। তিনি আরো বলেন, এই ডকুমেন্টই বলে দেয় কেন কোভিড-১৯ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর তদন্তের ক্ষেত্রে চীন এত অনীহা প্রকাশ করে। যদি চীনের সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তো তাহলে নিজেদের স্বার্থেই তদন্তে সহযোগিতা করার কথা ছিল চীনের।কিন্তু আমরা চীনকে দেখতে পাচ্ছি বিপরীত অবস্থানে।
সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রবার্ট পটার চীন সরকারের ফাঁস হওয়া ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ করেছেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন দ্য অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক। জবাবে রবার্ট পটার বলেছেন, এই ডকুমেন্টটি কোনোভাবেই ভুয়া হতে পারে না। আমরা উচ্চ পর্যায়ে আস্থায় পৌঁছেছি যে, এটা প্রকৃত ডকুমেন্ট। এটা ভুয়া নয়। কিন্তু এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে অন্যদের। পটার আরো বলেন, চীন সরকার যে এই গবেষণাকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়নি বা নিতে চায়নি তা এই ডকুমেন্ট বলে না। রবার্ট পিটার বলেন, এই ডকুমেন্ট চমৎকার মজার একটি বিষয়। এটা বলে দেয় চীনের বৈজ্ঞানিক গবেষকরা কি চিন্তাভাবনা করছেন।
উল্লেখ্য, সার্স-কোভ-২ নামের করোনা ভাইরাস সারাবিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারি সৃষ্টি করেছে। এর উৎপত্তি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে। করোনা ভাইরাস ভাইরাসের বিশাল একটি পরিবার। এর মধ্যে আছে নানা রকম স্ট্রেইন। এর মধ্যে কিছু স্ট্রেইন মানবদেহে শ্বাসপ্রশ্বাসে মারাত্মক সঙ্কট সৃষ্টি করে। এর মধ্যে সাধারণ ঠাণ্ডা থেকে শুরু করে সেভার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) পর্যন্ত সংক্রমণ রয়েছ
**সেনাবাহিনীর গবেষণাগার থেকেই ছড়ানো হয় করোনাভাইরাস, দাবি চীনা ভাইরাস বিশেষজ্ঞের:

মহামারি শুরুর ঠিক পরেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (‘হু’)-র বিবৃতি চীনকে বাঁচিয়েছিল। হু বলেছিল, চীনের কোনও গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়েনি করোনাভাইরাস। কিন্তু এ বার চীনের এক ভাইরাস বিশেষজ্ঞই অভিযোগ করলেন, করোনাভাইরাসকে ইচ্ছাকৃত ভাবেই পরিবেশে ছড়িয়েছিল বেইজিং। একটি সর্বভারতীয় ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লে-মেং-ইয়ানের অভিযোগ, বাদুড়, প্যাঙ্গোলিন বা পরিবেশ থেকে অন্য কোনও ভাবে ছড়িয়ে পড়েনি সার্স-কোভ ২ ভাইরাস। তা ছড়িয়ে পড়েছিল চীনের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি(পিএলএ)-র গবেষণাগার থেকেই। আর জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে তা ইচ্ছাকৃত ভাবেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল পরিবেশে।
এ ব্যাপারে প্রমাণিত তথ্যাদি আমেরিকার বিদেশ দফতরের হাতে রয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল মহামারি শুরুর পরপরই। তাতে বলা হয়েছিল, চীনা সেনাবাহিনীর বিজ্ঞানীরা জীবাণুযুদ্ধের মহড়া হিসাবে করোনাভাইরাসকে ব্যবহার করার পরীক্ষা নিরীক্ষা গবেষণাগারে শুরু করেন ২০১৫ থেকে। বেইজিং ওই অভিযোগ অস্বীকার করতে দেরি করেনি। এমনকি চীন ঘুরে এসে হু-র বিশেষজ্ঞ দলও ঘোষণা করেছিল সার্স-কোভ ২ ভাইরাস উহানের বাজার থেকেই বাতাসে ছড়িয়েছিল। তা কোনও গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে আসেনি। আর তা ইচ্ছাকৃত ভাবেও ছড়ানো হয়নি। হু-র সেই বিবৃতিতে চীনের আপাত স্বস্তি মিলেছিল।
কিন্তু সেই সন্দেহটাকেই ফের উস্কে দিলেন চীনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক লে-মেং-ইয়ান। তিনি বলেছেন, ‘‘আমেরিকার বিদেশ দফতরের হাতে আসা ওই তথ্যাদি একেবারেই সঠিক। গোটা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অপ্রচলিত জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের কর্মসূচি বেইজিংয়ের অনেক দিনের পুরনো। কী ভাবে সেই জীবাণু অস্ত্র ধাপে ধাপে বানানো যায় আর তা ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে চীন দীর্ঘ দিন ধরে কী কী পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছে, গত মার্চে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে আমিও সবিস্তারে তার উল্লেখ করেছি। করোনাভাইরাস গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে এটা রটে গেলে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে কী কী পদক্ষেপ জরুরি বেইজিং তা-ও অনেক আগেই ভেবে রেখেছিল।’’
কিসের ভিত্তিতে তাঁর এই অভিযোগ, জানতে চাওয়া হলে ইয়ান বলেন, ‘‘আমি গত জানুয়ারি থেকেই তথ্যপ্রমাণসহ এই সব কথা ইউটিউবে বলে চলেছি। এও বলেছি, এই ভাইরাস আবিষ্কারের জন্য প্রচুর পরিমাণে অর্থবরাদ্দ করেছিল বেইজিং। আর ইচ্ছাকৃত ভাবেই তা বাতাসে ছড়ানো হয়েছিল, যাতে মানুষের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেওয়া যায় এবং যাতে শত্রু দেশগুলির চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও নড়বড়ে করে দেওয়া যায়।’’

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা; গাছ কাটা বন্ধ থাকবে,জানালেন মন্ত্রীও

0

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা ও দোকান নির্মাণের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে করা আদালত অবমাননার আবেদনটি শুনানির জন্য ২০ মে দিন রেখেছেন হাইকোর্ট। এ সময়ে যাতে গাছ কাটা না হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত জানান। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের উদ্দেশে আদালত বলেন, ২০ তারিখে আবেদনটি শুনানির জন্য আসবে। আপনি মৌখিকভাবে বলে দেবেন এ সময় পর্যন্ত যেন গাছ না কাটে। আপাতত যেন গাছ না কাটে।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা আপাতত বন্ধ থাকবে। দরকার হলে নকশারও পরিবর্তন করা হতে পারে। আমি নিজে সরেজমিন পরিদর্শন করবো এবং পরিবেশবিদদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো। এছাড়া এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’ মঙ্গলবার (১১ মে) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আদালত অবমাননার অভিযোগে গত রোববার দুই আইনজীবীর পক্ষে মনজিল মোরসেদ আবেদনটি করেন। যা মঙ্গলবার শুনানির জন্য ওঠে। আদালতে আবেদনের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
গত রোববার উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মেনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটার অভিযোগ তুলে এক সচিবসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী। সেই সঙ্গে উদ্যানে গাছ কাটা ও রেস্তোরাঁ বা দোকান নির্মাণের কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়। যাঁদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদনটি করা হয়েছে, তারা হলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. শামিম আখতার ও প্রধান স্থপতি মীর মনজুর রহমান।
এর আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাছ কাটা বন্ধ করে রেস্টুরেন্ট বা দোকান স্থাপনের কার্যক্রম বাতিল চেয়ে সচিবসহ তিন কর্মকর্তার বরাবর ৬ মে আদালত অবমাননার নোটিশ পাঠান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আবেদনকারীদের আইনজীবীর ভাষ্যমতে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সংরক্ষণের নির্দেশনা চেয়ে ২০০৯ সালে রিট করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৬ জুলাই হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন। রায়ে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের স্থান এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের স্থান সংরক্ষণ করার নির্দেশনা ছিল। রায়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে বিদ্যমান সব ধরনের স্থাপনা অপসারণ করে চিহ্নিত স্থানগুলোতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও বিবেচনাপ্রসূত দৃষ্টিনন্দন ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ করতে বলা হয়ে। অন্য সব স্থাপনা অবিলম্বে অপসারণ করতেও বলা হয়। গাছ কেটে উদ্যানের মধ্যে ব্যবসায়িক স্বার্থে রেস্টুরেন্ট বা দোকান নির্মাণ শুধু আদালতের রায়ই নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনেরও পরিপন্থী। মূলত এসব দিক বিবেচনায় আদালত অবমাননার আবেদনটি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী মোজাম্মেল হক:
এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন,


‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা আপাতত বন্ধ থাকবে। দরকার হলে নকশারও পরিবর্তন করা হতে পারে। আমি নিজে সরেজমিন পরিদর্শন করবো এবং পরিবেশবিদদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো। এছাড়া এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’ মঙ্গলবার (১১ মে) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৫০টি গাছ কাটা হয়েছে। আরও ৫০টি গাছ কাটা হতে পারে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সরেজমিন পরিদর্শন ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা না বলে আপাতত কোনও গাছ কাটবো না বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যদি শুধু ওয়াকওয়ে নির্মাণের জন্য গাছ কাটা হয়ে থাকে তাহলে সে ঘটনা দুঃখজনক। এমনটি ঘটে কার পরামর্শে তা হয়েছে তাকে খুঁজে বের করে তার বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি নিজে জায়গাটি ভিজিট করি নাই, যা আমার করা উচিত ছিল। এজন্য আমি দুঃখিত। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হবে আমি ভাবিনি। আশা করি আমার এই সংবাদ সম্মেলনের পর গাছ কাটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।’ তিনি আরও বলেন, গাছ কাটার আইন অত্যন্ত কঠোর। সেইটি অনুসরণ করেই গাছ কাটা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় এখানে ১৯টি টয়লেট, একটি মসজিদ ও কয়েকটি ফুড কর্নার করা হবে। সেখানে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে না। দাঁড়িয়ে খেতে হবে। যেটি নির্মিত হচ্ছে সেটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দলিল। শুধু ‘৭১ না ৪৮-৭১ এই ২৩ বছরের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের যে সংগ্রাম সেটি জানা যাবে এই জায়গা পরিদর্শন করলে। আমরা সেই আদলেই এটি গড়ে তুলছি। আমাদের উচিত ছিল প্রকল্প সম্পর্কে জনগণকে আগে থেকেই ধারণা দেওয়া। সেটি আমরা পারিনি। সেটা আমাদের ব্যর্থতা। বাংলাদেশের ইতিহাস জানতে সরকারের খরচে প্রতিদিন ২ হাজার শিশুর এখানে পরিদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া দৈনিক ৫০ হাজার দর্শনার্থী এখানে আসতে পারবেন।

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার হাল হকিকত

0

১. জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড
আমাদের ফৌজদারী আদালত ফৌজদারী কার্যবিধি দ্বারা তৈরি। দণ্ডবিধি আছে– এখানে অপরাধের সংজ্ঞা ও অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান আছে। কিছু বিশেষ আইন আছে, বিশেষ অপরাধের জন্য বিশেষ শাস্তি ও বিচারের বিশেষ প্রক্রিয়া নির্দেশ করে এই আইনগুলো।আছে সাক্ষ্য আইনও– ঘটনা প্রমাণে সাক্ষ্য দেওয়া ও সাক্ষ্য উপস্থাপনের ও গ্রহণের প্রক্রিয়া নির্ধারণের জন্য। অপরাধ সংঘটিত হলে বিচার করার জন্য আইনের কোন অভাব আমাদের নাই। অভাব শুধু কোন কোন ক্ষেত্রে বিচারের বা ন্যায় বিচারের। আইন নিজস্ব গতিতে না চলে, চলে চালকের গতিতে- The whole system is more or less designed for this in the colonial era. কলোনিস্টরা গেলো, কিন্তু সেই আইন ও সিস্টেম থেকেই গেল।
ফৌজদারী অপরাধ সংঘটিত হলে তার বিচারের জন্য যেমন অসংখ্য আইন আছে, সেই আইন আবার বিচারের জন্য অসংখ্য ধাপও তৈরি করেছে। শুরু হয় অভিযোগ দাখিল দিয়ে, তারপর তদন্ত, শুনানি পার করে রায়– দোষী বা নির্দোষ। ফৌজদারী মামলার বিচারে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে অপরাধ beyond reasonable doubt প্রমাণ করতে হয়। এ beyond reasonable doubt প্রমাণের একটা বড় বিষয় হলো ঘটনার তদন্ত। মামলা আদালতে বিচারে গড়ানোর আগেই তার গতিপথ ও ফলাফল অনেকটা নির্ধারণ করে দিতে পারে এ তদন্ত। এ কারণে ফৌজদারী অপরাধে তদন্ত যাতে ভালো করে হয় সেজন্য অনেক দেশেই তদন্তের জন্য স্বাধীন সংস্থা আছে। আমাদের দেশে পুলিশই তদন্ত করে। আর অভিযুক্তের রিমান্ড হলো তদন্তের প্রধান হাতিয়ার। সে হাতিয়ারে মাঝে মাঝেই হাতি হয়ে যায় ঘোড়া, আর “লুকিং ফর শত্রুজ” হয়ে যায় জজ মিয়া। এটা যেন তদন্ত সংস্থা নয়, হাতি ঘোড়া আর জজ মিয়া উৎপাদনের কারখানা। আমাদের স্বাধীন বিচার বিভাগ এ কারখানার কাছে বড় অসহায়। এত প্রতিভার দেশে শিল্পে বাংলাদেশ কেন এত পিছিয়ে সেটাই মাঝে মাঝে বোধগম্য হয় না!
ফৌজদারী মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া আছে পাবলিক প্রসিকিউটার বা সরকারী উকিলের উপর। মামলার কৌঁসুলি চাইলে পুলিশি তদন্তকে টেক্কা দিতে পারে। কিন্তু টেক্কা দিতে হলে তো ঘটে মাল থাকতে হবে! কে না জানে সরকারী উকিল বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যোগ্যতার মাপকাঠিতে হয় না, তারা নিয়োগ পান তাদের খুঁটির জোরে। কাজেই সে খুঁটি নড়লে তারা নড়েন। নইলে তারা বসেই জাবর কাটেন। তদন্ত আর প্রসিকিউশন দুইকেই প্রভাবশালীরা প্রভাবিত করতে পারবেন এমন সুযোগ আছে। হয় কিনা জানি না তবে উপসর্গ তো দেখি। আমরা দেখেছি কোন কোন মামলার তদন্ত শুরু হয় ঠিকই কিন্তু শেষ হয় না কখনো। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও কোন তাড়া থাকে না। মামলায় তারিখের পর তারিখ পরে, কিন্তু মামলা বিচারে আর উঠে না। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার স্বাধীন বিচারকরা অসহায় ভাবে লিখে যান: দেখিলাম, শুনিলাম; দরখাস্ত মঞ্জুর করিলাম। The court dances to the music of the criminal justice apparatus. The essence of criminal justice is the speed of the investigation and the trial. বলা হয়,জাস্টিস ডিলেইড, জাস্টিস ডিনাইড। কিন্তু সেই দেরি করেও যদি শেষ পর্যন্ত যদি জাস্টিস হতো তাহলেও তো হতো। শুধু দেরি-ই হয়, জাস্টিস আর হয় না। সাগর–রুনির মামলার তদন্ত শেষ হয় না, তনুর মামলার বিচার শুরু হয় না।
সম্প্রতি আরও একটা অনুসঙ্গ যোগ হয়েছে। সোস্যাল মিডিয়া। ছোট বড় সব ঘটনাতেই সোস্যাল মিডিয়া সরব। সেখানে আছে পক্ষ, বিপক্ষ আর নিরপেক্ষ। সেখানে মামলার তদন্ত, শুনানী ও রায় সবই হয়ে যায় তীব্র গতিতে। আমি এতে খারাপ কিছু দেখি না। বিচার ব্যবস্থার উপর দ্রুত ও ন্যায় বিচার করার জন্য একটা চাপ তৈরি হয়। কিন্তু আমাদের বিচার ব্যবস্থা এ চাপ নেওয়ার জন্য কতটা প্রস্তুত তা আমার জানা নাই। তবে সিম্পটম দেখে মনে হয় তারা খুব বেশি প্রস্তুত না। তার উপর আছে ডিজিটাল আইনের খড়া আর আদালত অবমাননার জ্বালা। বিচার মানে সেখানে দুই পক্ষ। বাদী আর বিবাদী। তৃতীয় পক্ষ হলো আমার মত আম পাবলিক। সোস্যাল মিডিয়ার আর আদালতের বিচারে এখানেই পার্থক্য। বিচার ব্যবস্থা মানলে বিবাদীকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত নির্দোষ মানতে হয়। কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের দেশে বিবাদী প্রভাবশালী হলে আরো বড় সুবিধা নিয়ে শুরু করে। সোস্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় ভিকটিমের বিরুদ্ধে ন্যারাটিভ তৈরি করা হয়। ক্রিমিনাল জাস্টিস অ্যাপারেটাসগুলো তাতে সহযোগিতাই করে। আইনের ফাঁক-ফোকর প্রভাবশালীদের পক্ষেই কাজ করে। তদন্ত অনন্তকালেও শেষ হয় না, তদন্ত হলেও জজ মিয়ারা আবিষ্কার হয়ে যায়। বিচারের বাণী নিভৃতেই কাঁদতে থাকে।
২. জাস্টিস স্যুড বি সিন টু বি ডান
ঘটনা খুবই সামান্য। একটা মটর সাইকেল অ্যাক্সিডেন্ট। উইটওয়ার্থ সাহেবের একটা মটর সাইকেল আছে, সেই মটর সাইকেলের পাশে আরেকটা আসন জুড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। তিনি রোমান্টিক মানুষ, তার একমাত্র স্ত্রীকে সে পার্শ্ব গাড়িতে বসিয়ে হাওয়া খেতে বেড়িয়েছেন। কিন্তু বিধি বাম। ম্যাকার্থি নামক আরেক ভদ্রলোকেরও একটা মটর সাইকেল আছে এবং সেই একই সময়ে তার সাইকেল খানা নিয়ে রাস্তায় বেরোনোর শখ হলো। সেখানে কোন সমস্যা ছিল না, কিন্তু পড়বি তো পর মালীর ঘাড়েই। ম্যাকার্থি সাহেব তার তার মটর সাইকেল উঠিয়ে দিলেন উইটওয়ার্থ সাহেবের গাড়ির উপর। বেশি কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। উইটওয়ার্থ সাহেব ও তার স্ত্রী সামান্য আহত হয়েছেন। কিন্তু যেহেতু স্ত্রী স্বয়ং পার্শ্বে উপবিষ্ট, এত সহজে তো আর ছেড়ে দেওয়া যায় না! মান সম্মান বলে কথা। দিলেন ক্ষতি পূরণের মামলা ঠুকে। সাক্ষ্য প্রমাণ বিচার বিশ্লেষণ বিবেচনা করে জজ সাহেবরা ম্যাকার্থিকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিলেন ১০ পাউন্ড জরিমানা। কিন্তু ম্যাকার্থিও কম যান না, বললেন ১০ পাউন্ড কোন সমস্যা না, তবে এখানে একটা কিন্তু আছে। বিচার এখানে ন্যায্য হয়নি। ঘটনা ঠিক হলেও বিচারের প্রক্রিয়াটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তিনি আপিল করলেন। তার যুক্তি হলো উইটওয়ার্থ সাহেব তার মামলা পরিচালনা করার জন্য যে ল ফার্মটিকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাসেক্সের নিম্ন আদালতের ল ক্লার্ক সেই ফার্মের একজন অংশীদার। ঘটনা সেখানেই শেষ না, মামলার যেদিন শুনানি হয়, সেইদিন ক্লার্ক বাবুটি ছুটিতে ছিলেন।বদলি হিসেবে তার ছোটভাই ডেপুটি ক্লার্কের দায়িত্ব পালন করেন। ঘটনাক্রমে সেই ছোট ভাইটিও ছিলেন উক্ত ল ফার্মের একজন অংশীদার। ঘটনা এখানে শেষ হলেও ম্যাকার্থির খুব একটা আপত্তির কোন কারণ ছিল না। মামলার শুনানি শেষ, জজ সাহেবরা খাশ কামরায় চলে গেলেন। সেখানে তারা সাক্ষ্য প্রমাণ, বিচার বিশ্লেষণ ও বিবেচনা করে মামলার রায় ঠিক করবেন। কিন্তু ক্লার্ক সাহেবও জজদের পিছনে পিছনে খাশ কামরায় ঢুকলেন। ম্যাকার্থি সাহেবের আপত্তি ওখানেই। তার কথা হলো ল ক্লার্ক বাদীর মামলার উকিলের ল ফার্মের অংশীদার, তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। কাজেই এখানে ন্যায় বিচার বিঘ্নিত হয়েছে।
মামলা যখন আপিল শুনানিতে তখন সাসেক্সের জজ সাহেবরা এভিডেভিট দিয়ে বলেছেন, ল ক্লার্ক খাশ কামরায় থাকলেও তিনি কোন আলোচনায় অংশ নেননি, কাজেই মামলার রায় কোনওভাবেই তিনি প্রভাবিত করেননি। আপিল বিভাগ এভিডেভিট গ্রহণ করেছেন।তা সত্ত্বেও আপিল বিভাগ ম্যাকার্থির আপিল গ্রহণ করে নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে দিলেন। সেই আপিল মামলার একজন বিচারক ছিলেন লর্ড হিউয়ার্ট। তিনি রায়ে বললেন, ল ক্লার্ক আসলেই মামলার রায়ে কোন প্রভাব বিস্তার করেছিলেন কিনা সেটা এখানে মুখ্য বিবেচ্য নয়। মূল বিবেচ্য হলো, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাধারণের কাছে কী মনে হয়েছে সেটা। আদালতে ল ক্লার্ক যদি মামলার রায়ে প্রভাবিত নাও করে থাকেন, সেটা তো কেউ দেখেন নি। মানুষ দেখেছে তিনি খাশ কামরায় ঢুকেছেন। তিনি যেহেতু আলোচনার সময় খাশ কামরায় উপস্থিত ছিলেন কাজেই একটা সন্দেহ থেকেই যায়। তিনি বলেন: “nothing is to be done which creates even a suspicion that there has been a improper interference with the cause of justice”. ১৯২৪ সালের এ মামলায় লর্ড হিউয়ার্ট আরও একটি কালজয়ী উক্তি করেন। আইন আদালত বিচার নিয়ে যারা সামান্য ঘাটাঘাটি করেন তাদের সবারই জানা। ন্যায় বিচারের জগতে ১০ পাউন্ডের মামলার সেই উক্তিটি এখন একটা স্বত:সিদ্ধে পরিণত হয়েছে: “Justice should not only be done, but should manifestly and undoubtedly be seen to be done.” Rex v. Sussex Justices, [1924] 1 KB 256
আমাদের দেশের আইন ও বিচারে অবশ্য এ ম্যাক্সিমের তেমন কোন গুরুত্ব বা প্রয়োগ নাই। আমরা বীরের জাতি, সাহসী মানুষ। লুকোছাপার কোনও কারণ নাই। আমরা যা করি নীল আকাশের নিচেই করি। মটর সাইকেল এক্সিডেন্ট হলে আবার আদালতে যেতে হবে কেন, হাত থাকতে আবার আদালত কেন! তাও আবার যদি বউ সাথে থাকে। আমারে চিনিস, আমার দাদা দারোগা।। কোন রকমে মামলা যদি পুলিশ বা আদালতে গড়ায়, ক্ষমতার খেলা বেশ প্রকাশ্যই দেখা যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে আমরা দেখি মামলার আগেই আসামী গ্রেপ্তার কিন্তু কোন কোন মামলায় আসামীকে টেলিভিশনে দেখা গেলেও পুলিশ খুঁজে পায় না। অনেক মামলার সরাসরি বা পোটেন্সিয়াল আসামীদের প্লেন ভাড়া করে সবার নাকের ডগার উপর দিয়ে হাওয়া খেতে বিদেশ চলে যেতে দেখা যায়। বিদেশ না গেলেও আমরা তাদের এখানে সদর্পে পুলিশের নাকের ডগার উপর ঘুরে বেড়াতে দেখতাম। ওই যে আমরা বীরের জাতি, সাহসী মানুষ। আমরা কিছু লুকিয়ে করি না। আকাম কিংবা শুকাম, সব কিছুই আমরা ঘোষণা দিয়েই করি। যেখানে জাস্টিস-এর কথাই আসে না, তার আবার দেখিয়ে বা না দেখিয়ে করার কি আছে। লর্ড হিউয়ার্টের কথা বলা এখানে কিছু সময় নষ্ট করা মাত্র।
৩. ভিকটিমের তথ্য প্রকাশে বিধি নিষেধ
রুদ্ধদ্বার বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর অবিচার, নিপীড়ণ, অত্যাচার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পাবলিকের চোখে যাই হোক না কেন, ফৌজদারী আইনে অভিযুক্ত যতক্ষণ পর্যন্ত দোষী প্রমানিত না হন, ততক্ষণ তিনি নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হন। কাজেই তাকে দোষী বিবেচনা করা যাবে না।কিছুদিন আগে ডেরেক শোভেনের বিচার দেখেছি টেলিভিশনে। বিচার শুরুর আগেই যে অকাট্য প্রমাণ তার বিরুদ্ধে ছিল, তাতে সে দোষী সাব্যস্ত না হলেই আমার ধারণা ডিফেন্সের আইনজীবীও অবাক হতেন। কিন্তু তাকে দেখলাম বেশ স্যুট কোট পরে আদালতে চেয়ারে বসে আছেন। বিচারের রায়ে যখন দোষী সাব্যস্ত হলেন, তখন পুলিশ তাকে হাত কড়া পরিয়ে নিয়ে গেল। আইনে যাই থাকুক, আমাদের দেশে এসব ক্ষেত্রে দুই ধরনের ব্যবস্থা দৃশ্যমান। কারও জন্য জামাই আদর বরাদ্দ আর কারও কারও কপালে জোটে গরু চোরের ট্রিটমেন্ট। বিষয়টা নির্ভর করে কার কতো টাকা আছে, সমাজে কার কী রকম দাম, কে কোন রাজনীতি করে তার উপর।
সে যাই হোক। আইন-বিচার-অপরাধ-শাস্তি ইত্যাদি নিয়ে যারা ঘাটাঘাটি করেন, তারা স্টার চেম্বার বা স্প্যানিশ ইনকুইজিশন এর কথা শুনে থাকবেন। স্টার চেম্বার ব্যবহার করা হতো রাজনৈতিক ত্যাদড়দের বিরুদ্ধে, অধিষ্ঠিত ক্ষমতাধরদের বিরুদ্ধে গেলে ক্ষমতাশালীদের বিচারের জন্যই স্টার চেম্বার বিখ্যাত ছিল। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নির্মূলের জন্য স্টার চেম্বার। আর ধর্ম বাঁচানোর জন্য স্প্যানিশ ইনকুইজিশন, যারা মূলত অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্মের বিরোধিতা করতো তাদের শায়েস্তা করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবে প্রক্রিয়াগত দিক থেকে এবং আসল উদ্দেশ্য বিবেচনায় এই দুইয়ের মধ্যে বেশ মিল আছে। দুটোতেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা মূল উদ্দেশ্য আর বিচার ছিলো অনেকটা গোপনীয়। পাবলিকের কোন স্থান ছিল না এ বিচারালয়ে। অত্যাচার, নির্যাতন করে স্বীকারাক্তি আদালত করা হতো, অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা জানতেনই কেন তাদের বিচার হচ্ছে। কিন্তু বিচার হতো এবং সাজাও হতো। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল না। উন্মুক্ত বিচার বা পাব্লিক ট্রায়াল এর ধারণা এ রুদ্ধদ্বার বা গোপন বিচারের ভয়াবহতার কারনেই আসে, মূলত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের হাত থেকে অভিযুক্তদের বাঁচানোর জন্য। বিচারালয় যেন অত্যাচারের হাতিয়ার না হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যাতে বিচারের নামে কোন রকম নির্যাতনের শিকার না হন তা নিশ্চিত করার জন্য পাবলিক ট্রায়াল আবিষ্কার করা হয় যা আজকের যুগে প্রায় সব ফৌজদারী আদালতের পূর্বশর্ত।
উন্মুক্ত বিচার মূলত অভিযুক্তের উপর অন্যায় রোধ করার জন্য। আমাদের দেশে পরিষ্কার আইন আছে। আমাদের সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে যেমন বলা আছে: “ফৌজদারী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইবুনালে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচার লাভের অধিকারী হইবেন।” তবে যারা অপরাধের ভিকটিম তাদেরও যে মামলায় স্বার্থ থাকতে পারে, ফৌজদারী অপরাধ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সেই দোহাই দিয়ে তা আমরা প্রায় ভুলতে বসেছি। কাজেই ভিকটিম বা সাক্ষী সুরক্ষার তেমন কোন ব্যবস্থা আমাদের আইনগুলোতে চোখে পড়ে না। প্রকাশ্য বিচারে অভিযুক্তের যেমন লাভ আছে, বাদীর বা ভিকটিমের তেমন ক্ষতিও হতে পারে। বাদীর ক্ষতির দিকগুলোও বিবেচনায় নেওয়া দরকার। সেই বিবেচনা থেকেই মনে হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ২০(৬) ধারা অনুযায়ী একই আইনের ৯ ধারার মামলায় (ধর্ষণ, ধর্ষণ জনিত কারণে মৃত্যু) কোন পক্ষ আবেদন করলে বা ট্রাইবুনাল স্বীয় বিবেচনায় যথার্থ মনে করলে রুদ্ধদ্বার বিচার অনুষ্ঠান করতে পারবে এ বিধান করা হয়েছে। একই রকম বিধান আছে শিশু আইন, ২০১৩– তে। আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী শুধু অনুমতি প্রাপ্ত ব্যক্তিরাই আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
রুদ্ধ বা খোলা যে দ্বারেই বিচার করা হোক না কেন বিচারক ও আইনজীবীসহ সবাই জানেন, নারী ও শিশু ট্রাইবুনালে বিচারে কী হয়। আমার অভিজ্ঞতা হয়েছিল কিছুদিন এ নাটক দেখার। জেলা শহরে অনেক ভাল আইনজীবী আছেন। ভালো আইনজীবীর খরচও ভালো, সবাই তাদের পোষাতে পারেন না। তবে আমার অভিজ্ঞতায় জেলা শহরের বেশির ভাগ আইনজীবীই আইনের ধার ধারেন না। আদালতের এজলাস তাদের কাছে কলতলা। আইন কানুন ভুলে গিয়ে ট্রাইবুনালের কল তলায় ভিকটিমের চরিত্র হনেনর কাজে নেমে যান তারা। সে যে ভাষা এবং কাহিনী! ভিকটিম যদি ভাগ্যগুণে বেঁচে যান এবং কোর্টে উপস্থিত থাকেন, তাহলে তার বেঁচে থাকার শখ মিটে যাবে। ধর্ষণের মামলার ঘটনার যে অনুপুঙ্খ বর্ণনা উকিল সাহেবরা হাজির করেন, তাতে ধর্ষণ বিষয়ে তাদের জ্ঞানের গভীরতার তারিফ করতে হয়। ভাবখানা এমন যে ভিকটিমের চরিত্রে একটু কালিমা লিপ্ত করতে পারলেই মামলা জেতা যাবে। আইন কিন্তু সেকথা বলে না। আইন অপরাধের সংজ্ঞা দিয়েছে, তার শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়ার কথা বলে দিয়েছে। ধর্ষণের সংজ্ঞায় বলা নাই- যৌনকর্মীকে ধর্ষণ করলে সেটা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে না। একজন চোরকে খুন করলে সেটা মার্ডার কেইস হবে না। আইন খুব সোজা, খুন খুনই, ধর্ষণ ধর্ষণই। ভিকটিম আল্লার ওলি বা চোর যাই হোক তাতে কিছু আসে যায় না। অভিযুক্তের বিচারে তাতে কোন প্রভাব পড়বে না।
তবে এ সমাজকে তো আমরা জানি। আর ভিকটিম যদি নারী হন এবং যৌন নিপীড়ণ বা নিগ্রহের এর স্বীকার হন, তাহলে অভিযুক্তের বিচারের চেয়ে ভিকটিমকে নিয়েই আমাদের আগ্রহ থাকে বেশি। তিনি কি মাছ দিয়ে ভাত খান, তিনি চা-তে কত চামচ চিনি খান- সবই আমাদের জানা দরকার। আমার নিজের পরিবারে আমি কী শিখলাম তা বেমালুম ভুলে গিয়ে ওই ভিকটিম নারীটির পরিবার তাকে কোন নৈতিকতা শেখালো না এ দু:খে অনেকে প্রায় আত্মহত্যা করে ফেলেন।
কাজেই অন্য অপরাধের ক্ষেত্রে না হলেও যৌন নিপীড়ণ ও নিগ্রহের ক্ষেত্রে ভিকটিমের আইডেন্টিটি প্রকাশে সতর্ক হওয়া দরকার এবং কিছু বিধি নিষেধ থাকা দরকার। আমাদের আইনে কিছু বিধানও আছে। যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ১৪ ধারায় এই আইনের অধীন কোন অপরাধের শিকার হলে সেই নারী বা শিশুর ব্যাপারে সংঘটিত অপরাধ বা আইনগত কার্যধারার সংবাদ বা তথ্য পরিবেশন এমনভাবে করতে হবে যাতে উক্ত নারী বা শিশুর পরিচয় প্রকাশ না পায় । শিশু আইনেও অনুরূপ বিধান আছে।
এখন প্রশ্ন হলো- ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশ বিচারের জন্য কতটা প্রয়োজন এবং ভিকটিমের পরিচয় না প্রকাশ না করা প্রকাশ্য বিচারের ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক কিনা। এ আলোচনায় যেসব কথাবার্তা হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ফৌজদারী বিচার প্রক্রিয়ায় মূল আলোচ্য হলো সংঘটিত অপরাধ এবং বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয় নাকি নির্দোষ প্রমাণিত হয় সেটা। এখানে ভিকটিমের নাম, পরিচয়, কোথায় থাকেন, কি খান, কখন ঘুমান সেটা খুব একটা কাজে আসে না। বিচারের জন্য যতটা প্রয়োজন সেটা মূলত আদালতে প্রকাশ্য বিচারে যারা উপস্থিত থাকেন তারা জেনে যান। কাজেই প্রকাশ্য বিচারের নিয়মের সাথে, ভিকটিমের ব্যক্তিগত কথ্য গোপন রাখার সাথে তেমন কোন বিরোধ থাকার কথা নয়। কাজেই আমাদের দেশে ভিকটিমের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশের যে ব্যাপক আগ্রহ তা বিচারে কারও কাজে আসে না। সেটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংবাদ মাধ্যমের আগ্রহ মেটানোর জন্য। যত বেশি ব্যক্তিগত তথ্য, খবরের তত বেশি কাটতি। আর একটা বিষয় হলো ভিকটিমের ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশে বিধি নিষেধ সংবাদপত্রের তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতার সাথে সাংঘর্ষিক হয় কিনা। আমেরিকায় অনেক অঙ্গরাজ্যে তথ্য প্রকাশে বাঁধা দিয়ে আইন রয়েছে আবার কোন কোন মামলায় নিম্ন আদালত মামলা চলাকালীন ভিকটিমের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে বাঁধা দিয়ে আদেশ দিয়েছেন। তবে উচ্চ আদালত বলেছেন এসব আইন বা আদেশ সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তবে প্রাকটিস হচ্ছে বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম নিজে থেকেই যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ মামলায় ভিকটিমের পরিচয় প্রকাশে বিরত থাকে। আমাদের দেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আইন আছে, উচ্চ আদালতেরও কোন বিরুদ্ধ মত নাই, তারপরেও খুঁটিয়ে খুটিয়ে ভিকটিমের তথ্য প্রকাশ হয়। অনেক বড় বড় সংবাদ মাধ্যমেও হয়। (বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সৌজন্যে)।
*আমিনুল সজল
পুরো নাম আমিনুল ইসলাম সজল! বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশুনা করে কিছুদিন বাংলাদেশ বিচার বিভাগে কাজ করেছেন! পরবর্তীতে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল থেকে এল এল এম করেছেন। বর্তমানে দেশের বাইরে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করেন! ছাত্র জীবনে ডেইলি স্টার এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেছেন।

যৌন অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্ক বিল গেটসের! তার জেরেই ভাঙল সংসার? মার্কিন দৈনিকে চাঞ্চল্যকর তথ্য

0

বিশ্বের অন্যতম ধনী দম্পতি বিল গেটস ও মেলিন্ডার বিয়ে বিচ্ছেদের আলোচনা যেনো এখনো শেষই হচ্ছে না। যারা জানতেন এই বিলিয়নার সুখি দম্পতি, বিচ্ছেদের পর কেউই যেনো তা বিশ্বাস করতে পারছেন না। তথ্যপ্রযুক্তির আইকন বিল-মেলিন্ডা দম্পতি ১৪ হাজার ৬শ কোটি ডলারের মালিক। এতো অর্থকরি,ক্ষমতা কোনোকিছুই টেকাতে পারলো না তাদের সংসারের বন্ধন। ২৭ বছরের সংসার জীবনে ইতি টানতে হলো। কেনো? কি রহস্য আছে বিল-মেলিন্ডার সংসারের ভাঙ্গনের? এ নিয়ে বিশ্বমিডিয়ায় চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।

সম্প্রতি বিবাহ বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেছেন বিল গেটস এবং মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। তবে মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে, ২০১৯ সাল থেকেই সম্পর্কে ভাঙন ধরা শুরু করেছিল। কারণ ওই বছর অক্টোবরে মেলিন্ডাকে আইনজীবীর সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে। আসলে যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিলের যোগাযোগকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি মেলিন্ডা।
মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে, জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে শিশু, কিশোর পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই শিশু কিশোরদের নাকি যৌন দাস হিসাবে ব্যবহার করা হত। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিচারাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের আগস্টে জেলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা গিয়ে
কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সঙ্গে বিল গেটসের যোগযোগ ছিল বলে অভিযোগ। এমনকী বিল গেটস, জেফরির ম্যানহাটন, নিউ ইয়র্কের বাড়িতে একাধিকবার দেখা করেছেন। সময় কাটিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও বিল গেটসের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জেফরির সঙ্গে বিলের যোগাযোগ কেবল আর্থিক কারণেই ছিল। তবে মেলিন্ডা নাকি ২০১৩ সাল থেকেই বিল এবং জেফরির যোগাযোগের বিষয়টি জানতেন। এনিয়ে মেলিন্ডা মোটেই স্বস্তি বোধ করতেন না, বরং উদ্বেগে ছিলেন। শেষে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসে যায়। এরপর মেলিন্ডা বিচ্ছেদের কথা ভাবতে শুরু করেন। আইনজীবীদের সঙ্গেও পরামর্শ করছিলেন বিষয়টি নিয়ে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও দাবি করেছে, ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকেই গেটস দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অবশেষে ২৭ বছরের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন ৩ মে। করোনা অতিমারীর সময়ে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদের সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে এখন প্রশ্ন, তাঁদের বিপুল সম্পত্তির ভাগাভাগি কীভাবে হবে। সময় হয়তো সেই উত্তর দেবে। সহায়তায় ,সংবাদ প্রতিদিন,কলকাতা।

আরব সাগরে চীন ও রাশিয়ার তৈরী অস্ত্রবোঝাই জাহাজ আটক করেছে আমেরিকার নৌবাহিনী,যাচ্ছিলো ইয়েমেন

0

আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর হাতে আটককৃত বিপুল পরিমান চীন ও রাশিয়ার তৈরী অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের হাতে পৌঁছানোর কথা ছিলো। ইয়েমেনের বিদ্রোহী শিয়া হুতিরা ইয়েমেন সরকার ও সৌদি আরবের সঙ্গে লড়াই করছে। আর এই বিদ্রোহীদের অস্ত্রের যোগান দিচ্ছে চীন ও ইরান। আর সাম্প্রতিক সময়ে যোগ দিয়েছে রাশিয়া। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এমনটাই মনে করছেন।
সম্প্রতি উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাহীন একটি নৌযান থেকে রাশিয়া ও চীনের তৈরি বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্রের চালান জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।

(আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনী)
আরব সাগরে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের পক্ষ থেকে শনিবার জানিয়েছে, গাইডেড-মিসাইল যুদ্ধজাহাজ ইউএএস মন্টারি গত ৬ ও ৭ মে-তে নিয়মিত টহলের সময় এই অস্ত্রের চালান জব্দ করে। বিবৃতিতে জানায়, “জব্দ করা এসব অস্ত্রের মধ্যে রাশিয়ার তৈরি কয়েক ডজন ট্যাংক ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র, চীনের তৈরি হাজার হাজার ‘টাইপ–৫৬’ রাইফেল, শতাধিক পিকেএম মেশিনগান, স্নাইপার রাইফেল এবং রকেট-চালিত গ্রেনেড লাঞ্চার রয়েছে।”
এসব অস্ত্র এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছে। অস্ত্রের এই চালান কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় যাচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
যে নৌযান থেকে অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়েছে, সেটিতে কোনও দেশের পতাকা ছিল না। বিবৃতিতে বলা হয়, বেআইনি চালানের কার্গোগুলো নামানোর পর আটক নৌযানটির নাবিকদের জেরা করা হয়। এরপর তাদেরকে খাবার ও পানি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে বহুপক্ষীয় লড়াই চলছে। দেশটিতে সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রিত সেনা জোটের সঙ্গে ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এ লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েমেন ওই অঞ্চলে অস্ত্র চোরাচালানের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে চীন। আটককৃত এসব অস্ত্র ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের হাতেই পৌঁছানোর কথা ছিলো।

ভার্চুয়াল আদালতে ১৯ দিনে ৩৩ হাজার বন্দি জামিনে মুক্ত

0

মহামারীর কারণে সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’র মধ্যে সীমিত পরিসরে চলা দেশের অধস্তন আদালত থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৮৫০ কারাবন্দি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর গত ১২ এপ্রিল থেকে রোববার পর্যন্ত মোট ১৯ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে শুনানি করে এসব বন্দিদের জামিন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন বলবৎ রাখতে এবং জনগণের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় করোনাভাইরাসের এই অতিমারির মধ্যেও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, চেম্বার আদালত ও হাই কোর্ট বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অনুরূপভাবে অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালগুলোতেও ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে জামিন ও জরুরি বিষয়ের শুনানি এবং নিষ্পত্তি হচ্ছে।
“শুধু তাই না, প্রধান বিচারপতির আদেশে গত ২৭ এপ্রিল দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোর আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি (সার্টিফাইড কপি)অতি স্বল্প সময়ে মধ্যে প্রদান করা হচ্ছে। ফলে মামলার পক্ষগণ খুব সহজেই তা সংগ্রহ করে উচ্চতর আদালতে দাখিল করতে পারছেন।”
এ কর্মকর্তার জানান, রোববার পর্যন্ত ১৯ কার্যদিবসে ভার্চুয়াল শুনানি করে সারাদেশে অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ৬৩ হাজার ১০৯টি মামলায় জামিন আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
এসব আবেদনে মোট ৩৩ হাজার ৮৫০ কারাবন্দি জামিনে মুক্ত হওয়ার পাশাপাশি শিশু আদালত থেকে ৪৭০ শিশুর জামিন হয়েছে।
সাইফুর রহমান জানান, গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চে ১০ হাজার ৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই চরম দুঃসময়ে বিচারক, আইনজীবী এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জীবনবাজী রেখে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছেন। অধস্তন আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে অতিমারি মোকাবেলার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দ্বার উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।”
তিনি জানান, করোনাভাইরাসের এই মহামারীকালে আদালতে বিচারকাজ পরিচালনা ও দায়িত্ব পালন করে উচ্চ আদালতের বিচারপতি, অধস্তন আদালতের বিচারক এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৯১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৭৮ জন। আর বিচারকসহ ৭ জন কর্মচারী মারা গেছেন। বাকিরা চিকিৎসাধীন।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিস্তার ঠেকাতে সরকার প্রথম দফায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে শপিং মল, দোকান-পাট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়।
ওই দিনই সীমিত পরিসরে দেশের আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত আসে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের কাছ থেকে।
বিচার বিভাগ প্রধানের আদেশে এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এসব বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ এপ্রিল থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুধু আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত, হাই কোর্টের চারটি বেঞ্চ চালু থাকবে।
আর মুখ্য বিচারকি হাকিম বা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত সীমিত পরিসরে চালু থাকবে, তবে সব অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এরপর গত ১৩ এপ্রিল আরেক বিজ্ঞপ্তিতে ভার্চুয়ালি সীমিত পরিসরে আপিল বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার কথা জানানো হয়।
এর আগের দিন অর্থাৎ গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেটিকে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ বলা হচ্ছে।
এ সময়ে ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে।
এর আগে গত বছর মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের সব আদালতেও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ওই সময় দেশের বিচার ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ ছিল।
পরে সুপ্রিম কোর্টের অনুরোধে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দিয়ে গত বছর ৯ মে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
এরপর ১০ মে সুপ্রিম কোর্ট ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘প্র্যাকটিস’ নির্দেশনা জারি করে। পরদিন দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে প্রথম ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি কমতে থাকলে প্রথমে কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে নিম্ন আদালত চালু করা হয়।
এক পর্যায়ে শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে হাই কোর্টেও চালু করা হয় কয়েকটি বেঞ্চ। পাশাপাশি ভার্চুয়াল আদালতও চালু থাকে।
তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ আপিল বিভাগ এবং চেম্বার আদালত তখন থেকেই ভার্চুয়াল প্লাটফর্মেই চলছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

লন্ডনে পলাতক বিতর্কিত সাবেক সেনাকর্মকর্তা শহীদ খানের কর্নেল পদবি বাতিল

0

লন্ডনে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) শহীদ উদ্দিন খানের কর্নেল পদবি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে বরখাস্তের পরিবর্তে স্বাভাবিক অবসর গ্রহণের যে আদেশ ২০০৯ সালে দেওয়া হয়েছিল, তা-ও বাতিল করা হয়েছে।
গত ৩ মে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ওয়াহিদা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বাতিলাদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ইতিপূর্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ১৪ ডিসেম্বর ২০০৯ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের ছকের ৩৫ নম্বর ক্রমিকের বিএ-২৪২৮ কর্নেল মো. শহীদ উদ্দিন খাঁন, পিএসসি (অব.)-এর বরখাস্তের পরিবর্তে স্বাভাবিক অবসর সংক্রান্ত আদেশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২৩ মার্চ ২০১০ তারিখে জারীকৃত প্রজ্ঞাপনের ছকের ঘ-এর ৩৫ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত কর্মকর্তার কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ অকালীন অবসর সংক্রান্ত আদেশ বাতিল করা হলো।’
শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে প্রবাসে পলাতক থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পাগলা শহীদ হিসেবে পরিচিত সাবেক এই সেনাকর্মকর্তার বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়নের অভযোগও রয়েছে।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির মামলায় শহীদ উদ্দিন খাঁনকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০-এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় দেন। তিন অর্থবছরে ১৭ কোটি ছয় লাখ ৪০ হাজার ১০৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে মামলা করেন সহকারী কর কমিশনার শেখ আলী হাসান। এই মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২০১০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
এতে বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল শহীদ উদ্দিন খাঁন ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকার আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকির অপরাধ করেছেন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে সাত কোটি সাত লাখ ১৪ হাজার ২২১ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই মামলায় ১১ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার বাদী সহকারী কর কমিশনার শেখ আলী হাসান বলেন, আসামি শহীদ উদ্দিন খাঁন একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার প্রকৃত আয়-ব্যয় এবং সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি।