ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 134

হাইকোর্টে জামিন শুনানি হয় নি, ভাড়া বিমানে দেশ ছাড়লেন বসুন্ধরার এমডির স্ত্রী-সন্তানসহ ৮ জন

0

আগাম জামিন চেয়ে করা কোনো আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ না করায় বসুন্ধরা শিল্প গ্রুপের এমডির জামিন আবেদন শুনানি হয় নি। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ থেকে এ কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী এবং তার পরিবারের সাত সদস্যসহ ৮ জন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ভাড়া বিমানে দেশ ছেড়েছেন।

সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বড় বোন বাদী হয়ে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া’র অভিযোগ এনে বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় আগাম জামিনের জন্য হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চে আবেদন করেন আনভির। বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার কার্যতালিকায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার আগাম জামিন চেয়ে করা আবেদনটি ১৪ নম্বরে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কিন্তু বৃহস্পতিবার আদালতের শুরুতেই বিচারপতি মামনুন রহমান বলেন, করোনা পরিস্থিতি এবং বিধিনিষেধ চলাকালে আদালত কোনো আগাম জামিনের ওপর শুনানি করা হবে না। ভুলবশত কিছু আগাম জামিনের আবেদন আজকের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।’
সায়েম সোবহান আনভীরের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আদালত বলেছেন, আগাম জামিন আবেদন শুনবেন না। তাই আমরা মুভ করিনি।’ আনভীর অবশ্য আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে মনসুরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে তা ক্লায়েন্টের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।’
বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মামুন চৌধুরীর মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই জামিন আবেদন করা হয়েছিলো।
দেশ ছেড়েছেন এমডির স্ত্রী সন্তানঃ
বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের স্ত্রী এবং তার পরিবারের সাত সদস্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ভাড়া বিমানে দেশ ছেড়েছেন।
এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভিএসইসি) এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, চার্টার্ড বিমানটি সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা বলেন, সায়েম সোবহানের পরিবারের আট সদস্য বৈধ কাগজপত্র নিয়েই দেশের বাইরে গেছেন।
তিনি আরও জানান, ছয় ডানার বেসরকারি জেট বিমানটি রাত ৮টা ৫৬ মিনিটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। এটি পরিচালনা করে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান স্কু সলিউশন লিমিটেড।
তিনি আরও বলেন, সায়েম সোবহান আনভীর যেন দেশ ছাড়তে না পারেন সে জন্য নিরাপত্তা ও অভিবাসন কর্মকর্তারা সজাগ ছিলেন।
এক নথি থেকে জানা যায় ওই ফ্লাইটে ছিলেন, সাবরিনা সোবহান, আহমেদ ওয়ালিদ সোবহান, আরিশা আফরোজ সোবহান, ঈয়াশা সোবহান, রানিয়া আফরোজ সোবহান, ডিয়ানা হেরনানদেজ কাকানানদো, মোহাম্মদ কাদের মীর এবং হোসনেআরা খাতুন।
এই আট জনের মধ্যে ডিয়ানা হেরনানদেজ কাকানানদো, মোহাম্মদ কাদের মীর এবং হোসনেআরা খাতুন তাদের পরিবারের গৃহকর্মী বলে জানা গেছে।

সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান বলেন, তারা একটি বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতি নিয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ছাড়পত্র পাওয়ার পর চার্টার্ড ফ্লাইটটি ছেড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার থেকে তারা বিশেষ ফ্লাইটের অনুমতি চাইছিলেন।

 

বিনামূল্যে সরকারের আইনী সহায়তা, আইনমন্ত্রনালয়ের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

0

গত ১২ বছরে ছয় লাখ সাত হাজার ৮’শ ৮০ জন অসহায় মানুষকে বিনামূল্য আইনি সহায়তা প্রদান করেছে সরকারি আইনগত সহায়তা সংস্থা। যার মধ্যে ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে ২,৮৯,৯৬৮ জনকে সরকারি খরচে মামলা দায়ের ও আইনজীবী নিয়োগসহ প্রাসঙ্গিক সকল খরচ নির্বাহ করতে সহায়তা করেছে। সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১,৪৬,৪১১ জন নারী ও ১,৪২,৪১৫ জন পুরুষ এবং ১১৪২ জন শিশু। সংস্থাটি ২০১৫ সালের জুলাই মাস থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট ৪৭,১২৮টি বিরোধ মোকদ্দমার মধ্যে ৪১,০০২টি বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করেছে এবং উপকারভোগীদের সাতান্ন কোটি নয় লাখ পনেরো হাজার দুইশত আটষট্টি টাকা আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৩৪ টি মোকদ্দমা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ অসহায় দরিদ্র বিচারপ্রার্থিদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার করেছে।
তবে আইন মন্ত্রণালয়ের এই ভালো উদ্যোগটি প্রচারের আভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে না। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ অনেকেই জানেনা সরকারের এই সহায়তার কথা। এমন বাস্তবতা নিয়েই আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস আজ। করোনাভাইরাসের কারণে সীমিত পরিসরে উদযাপিত হবে দিবসটি।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে শেখ হাসিনার সরকার।”
আর্থিকভাবে অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা প্রদান করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০’ প্রণয়ন করেন এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। কিন্তু ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর এ আইনের বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে যায়। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুনরায় সরকার গঠন করলে আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম সক্রিয়করণের জন্য ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০১৪ সালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে আনিসুল হক দায়িত্ব গ্রহণের পরেই সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব ও সম্প্রসারিত করার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন । তাঁর দিক-নির্দেশনায় সুপ্রীম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, চৌকি আদালত বিশেষ কমিটি, শ্রম আদালত বিশেষ কমিটি, উপজেলা ও ইউনিয়ন লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন ও সক্রিয়করণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলোতে একজন করে সিনিয়র সহকারী জজ/সহকারী জজ পদমর্যাদার বিচারককে লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মামলা জট কমানোর লক্ষ্যে লিগ্যাল এইড অফিসগুলোকে ‘এডিআর কর্নার’ বা ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কেন্দ্রস্থল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৬ সালে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রমকে ডিজিটাইজেশন করা হয়। এ ব্যবস্থাপনার আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টার ১৬৪৩০।সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় লিগ্যাল এইড সেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু করা হয় লিগ্যাল এইড অনলাইন কার্যক্রম।

তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের জনকল্যাণমূলক আইনি সেবার বার্তা পৌঁছে দেয়া ও সরকারি আইনি সেবার বিষয়ে অধিকতর জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৩ সালের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ এপ্রিলকে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং প্রতি বছর দেশব্যাপী রেলি, লিগ্যাল এইড মেলা, রক্তদান কর্মসূচি, পথনাটক, সভা-সেমিনার আয়োজনের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালন করা হয়। করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর সীমিত পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব বাণী দিয়েছেন। দরিদ্র, অসহায় ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে আইনি সহায়তা প্রদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হয়, এবং দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরতে দেশের বিভিন্ন জেলায় সীমিত পরিসরে স্ব স্ব কর্মসূচি পালিত হয়।
এদিকে এ দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা তাদের আইনি সহায়তা কার্যক্রমের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছে।

আইনগত সহায়তা প্রদান কার্যক্রম : সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত সংস্থাটি সর্বমোট ৬,০৭,৮৮০ (ছয় লক্ষ সাত হাজার আটশত আশি) জনকে সরকারি আইনি সেবা প্রদান করেছে; যার মধ্যে ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে ২,৮৯,৯৬৮ জনকে সরকারি খরচে মামলা দায়ের ও আইনজীবী নিয়োগসহ প্রাসঙ্গিক সকল ব্যয় নির্বাহ করতে সহায়তা করেছে। সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১,৪৬,৪১১ জন নারী ও ১,৪২,৪১৫ জন পুরুষ এবং ১১৪২ জন শিশু।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রম: সংস্থাটি জুলাই ২০১৫ হতে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত সর্বমোট প্রাপ্ত ৪৭,১২৮টি বিরোধ/মোকদ্দমার (প্রি-কেইস+পোষ্ট কেইস) মধ্যে ৪১,০০২টি বিরোধ/মোকদ্দমা বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করে উপকারভোগীদের ৫৭,০৯,১৫,২৬৮/- (সাতান্ন কোটি নয় লক্ষ পনেরো হাজার দুইশত আটষট্টি) টাকা আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৩৩৪ টি মোকদ্দমা বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

লিগ্যাল এইড মামলা নিষ্পত্তি : ২০০৯ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত পারিবারিক, দেওয়ানি, ফৌজদারিসহ সর্বমোট ১,৩৭,৬৫৪ (এক লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার ছয়শত চুয়ান্ন) টি লিগ্যাল এইডের মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে দেওয়ানি ১৮,৬৭২ টি, ফৌজদারি ৮৯,৩৯৯ টি, পারিবারিক ২৮,৬৮৭ টি এবং অন্যান্য ৮৯৬ টি। তাছাড়া ২০০৯ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত সুপ্রীম কোর্টে ২০৪৬ টি মামলায় সরকারি খরচে আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে এবং ১৯,৭৩৭ জনকে আইনি পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রীম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল : দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংস্থা ২০১৩ সালে ঢাকার শ্রম আদালতে ও ২০১৬ সালে চট্টগ্রামস্থ শ্রম আদালতে শ্রমিক আইন সহায়তা সেল স্থাপন করেছে। এ দু’টি সেলের মাধ্যমে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১৪,৯৫৫ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান, ৩৩৭০ টি মামলা দায়ের, ৩০০ টি মামলা নিষ্পত্তি, ২৫৮ জনকে চাকুরিতে পুনর্বহাল এবং ৭১ টি সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ১১৭৭ টি বিরোধ বিকল্প পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ ৪,৭৮,৯৯,২৩৭/- (চার কোটি আটাত্তর লক্ষ নিরানব্বই হাজার দুইশত সাঁইত্রিশ) টাকা আদায় করা হয়েছে।

কারাবন্দিদের আইনগত সহায়তা : জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ২০১২ সাল থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত কারাগারে আটকে থাকা ৮৫,৭৫১ জন অসহায় কারাবন্দিকে সরকারি আইনগত সহায়তা প্রদান করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে আইনি সেবা কার্যক্রম: করোনাভাইরাসের এ প্রাদুর্ভাবকালে আইন ও বিচার বিভাগের অধীন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা সাধারণ মানুষের জন্য আইনগত পরামর্শ কার্যক্রম আরো জোরদার করেছে। এ উদ্দেশ্যে ১২ ই এপ্রিল ২০২০ তারিখে জাতীয় হেল্পলাইন ১৬৪৩০ টোলফ্রি নম্বরটি ৮ ঘন্টার পরিবর্তে ২৪ ঘন্টার জন্য চালু করা হয়েছে। ফলে যে কোন সময়ে অসহায় শ্রমিকরা ফোন করে তাদের আইনগত সমস্যা জানাচ্ছে এবং শ্রম আইন অনুসারে তাদের আইনগত অধিকার কি সে বিষয়ে জানতে পারছে। পারিবারিক সহিংসতা বা যে কোনো আইনি বিষয়ে সাধারণ মানুষ ১৬৪৩০ হেল্পলাইন নম্বরের সহায়তা নিচ্ছে। সারাদেশের লিগ্যাল এইড অফিসারদের এ সেবার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। জরুরি আইনি সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী লিগ্যাল এইড অফিসারদের কাছে কল ট্রান্সফার করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকালে মার্চ ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত এ সংস্থার মাধ্যমে ৫৪,৩০৩ জনকে আইনি পরামর্শ প্রদান, ২৩,১৬৯ জনকে আইনগত সহায়তা প্রদান এবং ১৩,৩৫৪টি মামলা বিকল্প বিরোধ পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সময়ে সংস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত বিচারপ্রার্থিদের ২৪,৩২,৩৯,৯৮০ (চব্বিশ কোটি বত্রিশ লক্ষ উনচল্লিশ হাজার নয়শত আশি) টাকা আদায় করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্যভাবে ৯,৬৪৫ টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। করোনাকালীন সংস্থা অনলাইনে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে কারাবন্দিসহ অসহায় বিচারপ্রার্থীদের জন্য প্যানেল আইনজীবী নিয়োগসহ সকল কার্যক্রম সম্পাদন করেছে। এছাড়াও অনলাইন মেডিয়েশনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের এ বৈশ্বিক বিপর্যয়ের সময়ে ৭,৩৬০ জন কারাগারে আটককৃত ব্যক্তিকে আইনগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
করোনাকালে জাতীয় হেল্প লাইনের মাধ্যমে আইনি সেবা কার্যক্রম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার অসহায়, দরিদ্র ও নির্যাতিত সকল শ্রেণীর মানুষের বিচারে প্রবেশাধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে সর্বোত্তম সহজ পন্থায় আইনি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২৮ এপ্রিল, ২০১৬ তারিখে সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় হেল্পলাইন কলসেন্টার ১৬৪৩০ উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই উক্ত হেল্পলাইন নম্বরে সারা দেশ হতে অসহায় ও সাধারণ মানুষ আইনি পরামর্শ ও তথ্যের জন্য ফোন কল করে যাচ্ছেন। এ হেল্প লাইনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত ২৯,২৩৩ জন নারী, ৮১,১৮৬ জন পুরুষ, ১,২৯২ শিশু এবং ২৭ জন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিসহ মোট ১,১১,৭৩৮ (এক লক্ষ এগারো হাজার সাতশত আটত্রিশ) জনকে বিনামূল্যে আইনগত তথ্য সেবা ও পরামর্শ প্রদান করেছে।

মুনিয়ার মৃত্যু রহস্যঃ আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় বসুন্ধরা এমডির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

0

গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে কলেজ শিক্ষার্থী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায়, ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
পুলিশের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হলে বিচারক শহীদুল ইসলাম তা মঞ্জুর করেন।
ঢাকার মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার জাফর হোসেন এ তথ্য জানান।
সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান-২ এর একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই তরুণীর বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় পরে মামলা করেন। সেখানে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান ২ এর ১২০ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের ২১বছরের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
কুমিল্লার উজির দিঘির
পাড় গ্রামে তাদের বাড়ী। মাস দুয়েক আগে রাজধানীর গুলশানের উল্লেখিত ফ্ল্যাটটি মাসে এক লাখ টাকা ভাড়া নেন তরুনী মোসারাত। সে মিরপুর ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী। মামলার এজাহারে বলা হয় দুই বছর আগে বসুন্ধরা গ্রুপের এম ডি সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে তার বোন মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাঁরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে আরো বলা হয়,২০১৯ সালে। মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আনভীর রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তাঁরা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আনভীরের পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আনভীরের মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং তাঁকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আনভীরে মোসরাতকে বিয়ে করা আশ্বাসে দিয়ে তাকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন। দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ১ মার্চ মোসারাতকে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিতে আনভীর প্ররোচিত করেন। মোসরাত বাসা বাসা ভাড়া নিতে বোন নুসরাত ও তাঁর স্বামীর পরিচয়পত্র ব্যবহার করেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তাঁর বোন স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখা হয়। আসামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।
নিহতের বোন নুসরাত এজাহারে আরো বলেন, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তাঁকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন। কারণ, দেশে থাকলে আসামির মা,বাবা আসামিকে কিছু না করলেও তাঁর বোনকে মেরে ফেলবেন। গত ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝে মধ্যে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।
এজাহারে তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। মোসারাত তাঁকে বলেছেন, আনভীর তাঁকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি ‌পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তাঁর মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি এখন দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে মোসারাতকে মেরে ফেলবেন।

এজাহারে যা আছে ঃ
গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, ঠিক কী কারণে তরুণী আত্মহত্যা করলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রাতেই তাঁরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করেছেন।
বাদী মামলার এজাহারে বলেন, মোসারাত জাহান (২১) মিরপুর ক্যান্ট. পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। দুই বছর আগে মামলার আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে মোসারাতের পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাঁরা বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় দেখা করতেন এবং সব সময় মোবাইলে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালে মোসারাতকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আসামি রাজধানীর বনানীতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সেখানে তাঁরা বসবাস করতে শুরু করেন। ২০২০ সালে আসামির পরিবার এক নারীর মাধ্যমে এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর আসামির মা মোসারাতকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান এবং তাঁকে ঢাকা থেকে চলে যেতে বলেন। আসামি কৌশলে তাঁর (বাদী নুসরাতের) বোনকে কুমিল্লায় পাঠিয়ে দেন এবং পরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সবশেষ গত ১ মার্চ মোসারাতকে প্ররোচিত করেন আসামি। তিনি বাসা ভাড়া নিতে বাদী নুসরাত ও তাঁর স্বামীর পরিচয়পত্র নেন। ফুসলিয়ে তিনি মোসারাতকে ঢাকায় আনেন। তিনি গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কে বাসা (ফ্ল্যাট-বি-৩) ভাড়া নেন। ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আসামি ও তাঁর (বাদীর) বোনের স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবি তুলে তা বাঁধিয়ে রাখা হয়। আসামি বাসায় এলে কক্ষটি পরিপাটি করে রাখা হতো।
বাদী নুসরাত এজাহারে বলেন, বোনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তাঁকে বিয়ে করে বিদেশে স্থায়ী হবেন। কারণ, দেশে থাকলে আসামির মা–বাবা আসামিকে কিছু না করলেও তাঁর বোনকে মেরে ফেলবেন। গত ১ মার্চ থেকে আসামি মাঝেমধ্যে ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করতেন।
বাদী এজাহারে বলেন, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। মোসারাত তাঁকে বলেছেন, আনভীর তাঁকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি ‌পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তাঁর মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আসামি) দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে তাঁকে (মোসারাত) মেরে ফেলবেন।
এজাহারে নুসরাত বলেন, দুদিন পর ২৫ এপ্রিল মোসারাত তাঁকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাঁকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আসামি তাঁকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তাঁর শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আসামি তাঁকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তাঁর বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাঁরা (বাদী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, নুসরাত তাঁর আত্মীয়স্বজন নিয়ে বেলা দুইটার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তাঁরা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাটের মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তাঁর বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ এসে ওড়না কেটে মোসারাতের মৃতদেহ নামায়। আলামত হিসেবে আসামির সঙ্গে ছবি, আসামির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে লেখা ডায়েরি ও তাঁর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোন নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ সূত্র বলছে, আসামির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টার মধ্যে যেকোনো সময় মোসারাত মারা যান। বাদী নুসরাত মামলার আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

মাওলানা মামুনুলের কথিত স্ত্রী ঝর্ণাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ, দেয়া হয়েছে বাবার জিম্মায়

0

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্নাকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। 
ছেলে ও তার বাবার করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মোহাম্মদপুরের বসিলার একটি বাসা থেকে ঝর্ণাকে উদ্ধার করে।
গত ১১ এপ্রিল জান্নাত আরা ঝর্নার বড় ছেলে আব্দুর রহমান জামি রাজধানীর পল্টন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।এছাড়া সোমবার ঝর্নার বাবা মেয়েকে উদ্ধারের জন্য কলাবাগান থানায় আরেকটি জিডি করেন। এরপরই গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জান্নাত আরা ঝর্নার অবস্থান জানার চেষ্টা করেন।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে মোহাম্মদপুরের বসিলায় একটি বাসায় ঝর্নাকে আটকে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই বাসাটি মামুনুল হকের বোন দিলরুবার বাসা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, ঝর্নাকে উদ্ধারের পর ডিবি কার্যালয়ে আনা হয় পরে তার আইনগত অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঝর্ণার বাবা ওলিয়ার রহমান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি সাবেক সেনাসদস্য এবং ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন। তাকে সম্প্রতি দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।

হেফাজতের বহুল আলোচিত নেতা মামুনুল হককে ১৮ এপ্রিল ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ১৮ মামলা রয়েছে।
এর আগে ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের রয়্যাল রিসোর্টে এই নারীসহ আটক হন মামুনুল হক। ওই নারীকে তিনি ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে দাবি করেন। 

আরও ৭ দিনের রিমান্ডে মামুনুল, ছিল পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততা

0

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে আরো দুই মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পল্টন ও মতিঝিল থানার নাশকতার দুই মামলায় রিমান্ডের জন্য সোমবার তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে তাকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে মামুনুলের সঙ্গে পাকিস্তানের একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ২০০৫ সালে মামুনুল হক পাকিস্তানে যান। সেখান থেকে পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সংহিতার ঘটনা ঘটান। এছাড়া হেফাজতের এই নেতা সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করেছিলেন বলেও দাবি পুলিশের।

রবিবার বিকালে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডে থাকা মামুনুল হকের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘মামুনুল হকের ভগ্নিপতি মুফতি নেয়ামতউল্লাহর সঙ্গে ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলায় অভিযুক্ত তাজউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। নেয়ামতউল্লাহ দীর্ঘদিন পাকিস্তানে ছিলেন। সেখান থেকে এসে জামিয়া রাহমানিয়ার শিক্ষক হন। এরপর মামুনুল হকের বোনকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে এই হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেয়ামতউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। তৎকালীন সরকারের সঙ্গে মামুনুল হকের বাবা দেনদরবার করে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।’
হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘নেয়ামতউল্লাহ ও মামুনুল হক একসঙ্গে ৪৫ দিন পাকিস্তানে ছিলেন। সেখানে একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠনকে মডেল হিসেবে বাংলাদেশে এনে সালাফি, মওদুদি, হানাফি, কওমি, দেওবন্দসহ সকল মতাদর্শের লোকদের একত্রিত করেন। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা টাকা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। সেই যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামুনুল হকের আপন ভায়রা রয়েছেন জামায়াতপন্থী। তার নাম কামরুল ইসলাম আনসারি। তার বাড়ি টেকেরহাটে। তিনি জামায়াতের নেতা। তার মাধ্যমে মামুনুল হক জামায়াতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেন।’

পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শকে মডেল এনে হেফাজতকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন মামুনুল হক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কওমি মাদ্রাসার ধর্মভীরু মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়ে এমন একটি অবস্থা তৈরি করেছে। তিনি সংসদ ভবন, গণভবন, বঙ্গভবন, বড় বড় সংসদ সদস্য, মন্ত্রীদের তোয়াক্কা করতেন না। তিনি এমনও বলতেন যে, প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কেউ কটূক্তি করলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে গুম হয়ে যায়। কে গুম হয়েছে জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিতে পারেননি। তিনি শাহরিয়ার কবিরকে মুরগী চোর বলেছেন, বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপিদের বলেছেন, তার দিকে তাকালে চোখ উপরে ফেলবেন। এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো উত্তর দিতে পারেননি মামুনুল হক।’

দক্ষিণ কোরিয়ার পাকিস্তান দূতাবাসের ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ

0

এবার দক্ষিণ কোরিয়ার পাকিস্তান দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দোকান থেকে পণ্য চুরির অভিযোগ ওঠেছে। দেশটির রাজধানী সিউলের একটি স্টোর থেকে ওই দুই কর্মকর্তা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পণ্য চুরি করেন। দোকানির কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে পাকিস্তানি দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) দ্য কোরিয়া টাইমসের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
খবরে বলা হয়, শনিবার (২৪ এপ্রিল) পুলিশ জানিয়েছে, কোরিয়ায় পাকিস্তান দূতাবাসের দুজন কূটনীতিকের বিরুদ্ধে সিওলের একটি দোকান থেকে পণ্য চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইওংসান পুলিশ স্টেশন থেকে বলা হয়েছে, ওই দুই কর্মকর্তা ইওংসানের একটি স্টোর থেকে ভিন্ন ভিন্ন দিন ১১ হাজার উয়ন (১০ মার্কিন ডলার) এবং ১ হাজার ৯০০ উয়ন (১.৭০ মার্কিন ডলার) দামের পণ্য চুরি করেন। তাদের একজনের বিরুদ্ধে চকলেট এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে হ্যাট চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়।
হ্যাট চুরি হওয়ার পর ওই স্টোরের এক কর্মচারী পুলিশে অভিযোগ জানায়। পরে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হয় সন্দেহভাজন ব্যক্তি পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তা।
দূতাবাসের ওই কর্মকর্তার কূটনৈতিক দায়মুক্তি সুবিধা থাকার কারণে পুলিশ মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
পুলিশ জানায়, কূটনৈতিক দায়মুক্তি সুবিধার আওতায় থাকা অপর কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।

একমাসেই করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, জানিয়েছে ‘হু’; মানতে হবে বিধিনিষেধ, নিতে হবে টিকা

0

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। প্রতিদিনই ভাঙছে আক্রান্তের রেকর্ড। এই পরিস্থিতিতে ক্রমেই বাড়ছে আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই লকডাউনের রাস্তায় হেঁটেছে বাংলাদেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশ। বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যেই এবার আশার কথা শোনালেন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’র প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রিয়েসুস (Tedros Adhanom Ghebreyesus)। তাঁর দাবি, মারণ ভাইরাসের এই অতিমারীকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ঠিকমতো ব্যবস্থা নিতে পারলে মাস খানেকের মধ্যেই এটা করা যাবে বলেই আশাবাদী তিনি।
সম্প্রতি এক সাংবাদ সম্মেলনে এবিষয়ে মুখ খোলেন ঘেব্রিয়েসুস। তবে ‘হু’ প্রধানের গলায় এদিন কার্যতই ছিল উদ্বেগের সুর। যেভাবে সারা বিশ্বেই ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সিদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করেছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঘেব্রিয়েসুস। তিনি জানান, যেখানে অতিমারী শুরু হওয়ার পরে প্রথম ৯ মাসে ১০ লাখ মানুষ মারা যায়, সেখানে পরবর্তী ৪ মাসেই তা পৌঁছে যায় ১০ লাখে। এদিকে পরবর্তী ৩ মাসেই তা পেরিয়ে গিয়েছে ৩০ লাখের গণ্ডি। করোনার মৃত্যুছোবলের এই দ্রুত বাড়তে থাকা ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তবে সেই সঙ্গে আশার বাণীও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। ‘হু’ প্রধানের কথায়, ‘‘এই অতিমারীকে মাস খানেকের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনার উপায় রয়েছে আমাদের কাছে। তবে সেটা ধারাবাহিক ভাবে ও সমান ভাবে প্রয়োগ করতে হবে।’’
এদিকে এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে অতিথি হিসেবে সুইডেন থেকে যোগ দিয়েছিলেন পরিবেশবিদ গ্রেটা থুনবার্গ (Greta Thunberg)। টিকা নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তুলে সরব হতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি বলেন, ধনী দেশগুলি তাদের তরুণ প্রজন্মের টিকাকরণের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা মানুষরা টিকা পাচ্ছেন না।
গ্রেটার কথায়, ‘‘এই পরিস্থিতিতে যে মানুষদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাঁদেরই টিকাকরণে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। সে তাঁরা ধনী কিংবা দরিদ্র যে দেশেরই বাসিন্দা হোন না কেন।’’ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ধনী দেশগুলিতে এক চতুর্থাংশ মানুষদের টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে। সেখানে দরিদ্র দেশগুলিতে এই পরিসংখ্যান একেবারেই আলাদা। সেখানে প্রতি ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের মধ্যে একজনের টিকাকরণ হয়েছে। এই ধরনের অসাম্যের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তীব্র প্রতিবাদ করেন এই পরিবেশবিদ।

যুক্তরাষ্ট্রে আত্মঘাতি বিস্ফোরণের মামলায় বাংলাদেশি যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0

নিউ ইয়র্কে বাস টার্মিনালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের চেষ্টার সময় আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি যুবক আকায়েদ উল্লাহর দণ্ড ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।
রয়টার্স বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ম্যানহাটনের ফেডারেল জজ ৩১ বছর বয়সী আকায়েদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ৩০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ মোটামুটি ২৫ বছর; আকায়েদকে তার সঙ্গে আরও ৩০ বছর কারাভোগ করতে হবে। অর্থাৎ তার বাকি প্রায় গোটা জীবনটা কারাগারেই কাটবে।
আকায়েদ দাবি করেছিলেন, তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে ওই তৎপরতা চালিয়েছিলেন। তার সঙ্গে আইএস কিংবা কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র ছিল না।
তবে দণ্ড ঘোষণার সময় বিচারক রিচার্ড সুলিভান বলেন, এই হামলা ছিল বর্বরোচিত এবং ভয়ানক অপরাধ।
২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর সকালে অফিসগামী যাত্রীদের ব্যস্ততার মধ্যে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে ম্যানহাটনের পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালে যাওয়ার সংকীর্ণ ভূগর্ভস্থ পথে নিজের শরীরে বাঁধা ‘পাইপ বোমায়’ বিস্ফোরণ ঘটান আকায়েদ।
বোমাটি ঠিকমত বিস্ফোরিত না হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন আকায়েদ। তার বিস্ফোরণে আহত হন তিন পুলিশ সদস্য।
তাকে গ্রেপ্তারের পর নিউ ইয়র্ক পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
আকায়েদ ব্রুকলিনে তার মা, বোন ও দুই ভাইর সঙ্গে থাকতেন। গ্রিনকার্ডধারী আকায়েদের স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে রয়েছে বাংলাদেশে।
চট্টগ্রামের আকায়েদ বড় হয়েছেন ঢাকার হাজারীবাগে। আট বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর প্রথমে ট্যাক্সিক্যাব চালালেও পরে একটি আবাসন নির্মাতা কোম্পানিতে বিদ্যুৎ মিস্ত্রির কাজ নেন।

আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যা: শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিন দোষী সাব্যস্ত

0

মিনেয়াপোলিসের রাস্তায় গত বছর আফ্রিকান-আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে মার্কিন আদালত।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, গত বছর মে মাসে মি. ফ্লয়েডকে গ্রেফতারের সময় তার গলার উপর ৯ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাঁটু গেড়ে বসে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী পুলিশ অফিসার ডেরেক চাওভিন।
এই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে বিশ্বজুড়ে।
চৌভিনকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়: সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার, থার্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং নরহত্যা।
শাস্তি ঘোষণা না করা পর্যন্ত তিনি পুলিশি হেফাজতে থাকবেন। সাজা হিসেবে কয়েক দশক জেল খাটতে হতে পারে তাকে।

এই রায়ে পৌঁছাতে ১২ সদস্যের বিচারকের প্যানেল পুরো একদিন সময় নেন। এর আগে তিন সপ্তাহ ধরে বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
রায় ঘোষণার পর উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালতের বাইরে জড়ো হওয়া কয়েক শত মানুষ রায়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
ফ্লয়েড পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প বলেন, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার মতো একটি ঘটনা।
এক টুইটে তিনি বলেন, “কষ্ট দিয়ে অর্জিত ন্যায়বিচার অবশেষে হাতে এলো।”
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও যে জবাবদিহিতা থাকা দরকার সেটিই এই রায়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলো।”
রায় ঘোষণার পর পরই ফ্লয়েড পরিবারকে টেলিফোন করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিস।
মি. বাইডেনকে বলতে শোনা যায়, “অবশেষে ন্যায়বিচার হলো।”
“আমাদের আরো অনেক কিছু করতে হবে। পদ্ধতিগত বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এটি ছিল প্রথম পদক্ষেপ,” প্রেসিডেন্ট বলেন।
টেলিভিশনে দেয়া জাতীর উদ্দেশ্যে ভাষণে মি. বাইডেন বলেন: “পদ্ধতিগত বর্ণবাদ পুরো জাতীয় আত্মার উপর একটি কলঙ্ক।”
এরইমধ্যে মিস হ্যারিস আইনপ্রণেতাদের জর্জ ফ্লয়েড নামে একটি বিল পাসের নির্দেশ দিয়েছেন যা যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশিং ব্যবস্থায় সংস্কার আনবে। তিনি বলেন, “এই বিল জর্জ ফ্লয়েডের লিগ্যাসির অংশ। এটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় ছিল।”
মিনেয়াপোলিসের পুলিশ ফেডারেশন নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যারা পুলিশের প্রতিনিধিত্ব করে তারা জুরিদের তাদের “নিবেদিত কাজ সম্পন্ন করায়” এবং “বিশাল একটি বোঝা” বহনে সহায়তা করার জন্য ধন্যবাদ জানায়।
ফেডারেশন বলে, “আমরা ওই ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে আমাদের দুঃখিত হওয়ার বিষয়টি জানাতে চাই যা আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করেছি। এই মামলায় কেউই আসলে বিজয়ী নয়, সেই সাথে জুরিদের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।”
মার্কিন মিডিয়াগুলো বলছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন চাওভিন।
বিবিসির হোয়াইট হাউস বিশেষক প্রতিবেদক তারা ম্যাককেলভি তার বিশ্লেষণে বলেন, রায় ঘোষণার দিন মানুষ চিৎকার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল এবং গোলাপি রঙের জামা পরা ছোট একটি মেয়ে শিশু খুশিতে ছোট মুঠি শক্ত করে ধরে ছিল।
২১ বছর বয়সী কেনেথ নয়াচি বলেন, “মিনেয়াপোলিসে আজ একটি শুভ দিন।” “এটা একটা আশীর্বাদ।”
অধিকারকর্মীরা বলছেন, ন্যায়বিচার সাধিত হয়েছে এবং তাদের কাঁধ থেকে একটি বোঝা নেমে গেছে।
তাদের এই তুষ্টি শহরের আরো অনেকেই ভাগ করে নেন যেখানে মানুষ গত কয়েক মাস ধরে এটি বয়ে বেড়াচ্ছিল। কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে পুলিশের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগের ক্ষেত্রে এই মামলা উল্লেখযোগ্য এবং এই রায় অতীতের প্রথাকে ভেঙ্গে ফেলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।
এর আগে খুব কম সংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নরহত্যার অভিযোগ এসেছে এবং এদের মধ্যে আরো কম সংখ্যককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই রায় ঘোষণার সাথে সাথেই জর্জ ফ্লয়েডের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা শেষ হয়ে যায় না।

জর্জ ফ্লয়েডের কী হয়েছিল?
২০২০ সালের ২৫শে মে মিনেয়াপোলিসের একটি দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট কিনেছিলেন ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড।

দোকানের এক সহায়তাকর্মী মনে করেছিলেন যে, তিনি ২০ ডলার মূল্যের একটি নকল বিল ব্যবহার করছিলেন এবং মি. ফ্লয়েড যখন সিগারেটের প্যাকেটটি ফেরত দিতে চাননি তখন তিনি পুলিশ ডাকেন।
পুলিশ পৌঁছানোর পর তারা মি. ফ্লয়েডকে তার পার্ক করে রাখা গাড়ি থেকে নামতে বলেন এবং তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয়া হয়।
পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় মি. ফ্লয়েড চিৎকার করার চেষ্টা করলে ধ্বস্তাধস্তি হয়। তারা তাকে জোর করে মাটিতে ফেলে দেহের ওজন দিয়ে চেপে ধরেন।
চাওভিন তার হাঁটু মি. ফ্লয়েডের পিছনের ঘাড়ের উপর ৯ মিনিট ধরে চেপে ধরে বসে থাকে। এসময় ফ্লয়েড অন্তত কুড়িবার বলেছিলেন যে ,তিনি শ্বাস নিতে পারছেন না। ফ্লয়েড বলছিলেন, “দয়া করুন, দয়া করুন, দয়া করুন”।
যখন অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায় ততক্ষণে মি. ফ্লয়েড নিথর হয়ে গেছেন। এর এক ঘণ্টা পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বিচারে কী হয়?

চৌভিনের বিচারের সময় বিচারকেরা ৪৫ জন প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দী শোনেন এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে ভিডিও ফুটেজ দেখেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে অনেকেই ঘটনাটির নিখুঁত বর্ণনা দেন। অনেকেই ভিডিও ফুটেজটি দেখার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং সেসময় তারা “অসহায়” বোধ করার কথা জানান।
মি. ফ্লয়েডের প্রেমিকা কোর্টনি রস এবং তার ছোট ভাই ফিলোনিস ফ্লয়েড মিলে মৃত মি. ফ্লয়েডের অতীত জীবন বর্ণনা করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, মি. ফ্লয়েড অক্সিজেন না পেয়েই মারা গেছেন এবং এটা হয়েছে চাওভিন ও তার সহকর্মীদের কারণে।
শুনানিতে কোন বক্তব্য না দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মি. চাওভিন।

অভিযোগগুলো কী?

নরহত্যা হচ্ছে যখন কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্য আরেক ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ হয়।

সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি ইচ্ছেকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত ছিল। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ৪০ বছর।

থার্ড ডিগ্রি মার্ডার মানে হচ্ছে, কোন ব্যক্তি এমন কোন কাজ করেছে যার কারণে অন্য এক বা একাধিক ব্যক্তির প্রাণনাশ হয়েছে।

পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ঘটনাও কম। তবে ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনার ক্ষেত্রে মার্কিন বিচার ব্যবস্থা কিভাবে নেবে তার একটি উদাহরণ হিসেবে এই রায়কে দেখা হচ্ছে।

জুরিরা কিভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন?

চাওভিন কারাগারে যাবেন নাকি তাকে মুক্তি দেয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১২ জন জুরিকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

কোন জুরিরই পরিচয় প্রকাশ হয়নি এবং পুরো বিচার প্রক্রিয়ায় তারা কেউ সামনেও আসেননি, তবে বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে বলতে গেলে এদের মধ্যে তরুণ, শ্বেতাঙ্গের আধিক্য এবং নারী বিচারক বেশি ছিলেন।

সোমবার দুপক্ষই যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ করার পর, জুরিরা একটি হোটেলে অন্য সবার থেকে আলাদা হয়ে একটি রায় প্রদান করেন।

বিচারকেরা সবাই সর্বসম্মতভাবে এই রায়ে পৌঁছান এবং এর আগ পর্যন্ত তারা কেউ ঘরে ফিরতে পারবেন না বলেও জানানো হয়।

“সব দোষ ওই সাংবাদিকের “

0

ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নুরু ফেসবুকে লাইভ করে আওয়ামী লীগকে গালাগালি করলো, কোনো প্রকৃত মুসলমান আওয়ামী লীগ করতে পারেনা বলেও জানালো। ঘটনার তিন দিন পর থেকে নূরুর বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ,পল্টনথানাসহ ঢাকার বাইরেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলো। কিন্তু নুরু রয়েছে বহাল তবিয়তেই। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় নি। বরং পল্টন থানার মামলটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আদালত ৬ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে খুলনার সাংবাদিক আবু তৈয়ব মুন্সী ( একটি টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান) ফেসবুকে খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সম্পর্কে কি একটা লিখেছেন যাতে মেয়র মহোদয়ের সম্মানহানি ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। আর মামলা দায়েরের কয়েকঘন্টার মধ্যেই রাত সাড়ে ১০ টায় সাংবাদিককে বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরাধ কোনটা বড় বুঝতে পারলাম না। তবে এক যাত্রায় যে পৃথক ফল তা বুঝতে পেরেছি। আইনের প্রয়োগও যে সমানভাবে বা সবার জন্য আইন সমান নয় তাও বুঝতে পেরেছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় অন্যেরা যা কিছুই বলুক সাংবাদিক বললে রক্ষা নেই। তাকে মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করতে হবে, এটাই হচ্ছে নীতিগত সিদ্ধান্ত ।
“সব মিথ্যা, গুজব ছড়ায় সাংবাদিকরা। সবার সব ভালো কাজে জল ঢেলে দেয় সাংবাদিকরা।” এমন খেদোক্তি অনেক আমলা কামলার মুখে শুনেছি। জনসভা, মিটিং এ সেমিনারে প্রকাশ্যে কথা বললেন সেই কথা সাংবাদিক লিখলে, প্রচার করলে তা যদি ওই ব্যক্তির মনপুত না হয় তা হলেই বলেন, উনার কথা বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে, যা বলেননি তা প্রচার করে এডিটেড করে প্রচার করা হয়েছে। কথা বলে অস্বীকার করা এ ক্ষেত্রে নেতা, আমলা সবাই সিদ্ধহস্ত।
এর সর্বশেষ নজির বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস। অনলাইন মিটিংয়ে প্রকাশ্যে তিনি বললেন, তার দলের নেতা ইলিয়াস আলীকে সরকার নয়, বিএনপির লোকজনই গুম করেছে। এমন কী, কি কারণে তাকে গুম করা হয়েছে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে সব বললেন। গুম হওয়ার আগের দিন দলীয় কার্যালয়ে কার সঙ্গে ইলিয়াস আলীর ঝগড়া হয়েছে তাও জানালেন। বিচার চাইলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে। এ নিয়ে যখন তোলপাড়, বিএনপির থলের বিড়াল যখন বের হয়ে গেলো তখন মির্জা আব্বাস সবকিছু অস্বীকার করে সুর পাল্টিয়ে তার দায় চাপালেন সাংবাদিকদের ঘাড়ে। বললেন, তিনি এসব বলেন নি, তার বক্তব্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
অথচ দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ মির্জা আব্বাসের অনলাইন মিটিংয়ে দেয়া বক্তব্য শুনেছেন। আমরাও স্পষ্ট শুনতে পেয়েছি মির্জা আব্বাসের বক্তব্য।
আরও একটা নজির। লকডাউনে বের হওয়া নিয়ে রাস্তায় পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও ডাক্তারের ‘বড়ত্ব” নিয়ে বিতণ্ডার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হয়েছে। এই ভিডিওর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম, কথিত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের শ্রেণি দ্বন্দ্ব আর মানসিকতার অবস্থাটি। এলিফ্যান্ট রোডের এই ভিডিও প্রচার না হলে কেউই হয়তো জানতে পারতেন না দেশের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মনোজগতের খবর। দেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় তাদের পড়িয়ে, এখন চাকরির বেতন পর্যন্ত জনগণের ট্যাক্সের টাকায় হয়। সেই খবর তাদের নেই, তারা কে কার চেয়ে বড় এ নিয়ে রাস্তায় প্রকাশ্যে ঝগড়া করেন। সেই ঝগড়ার ভিডিও সাংবাদিক কেনো ধারণ করলো, প্রচার করলো এ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, নৈতিকতা শেখাচ্ছেন। কোথায় সেই সাংবাদিককে ধন্যবাদ দেয়ার কথা, সমাজের কদর্য চিত্রটি তুলে ধরার জন্য, তা না করে উল্টো সাংবাদিককে শূলে চড়ানোর চেষ্টা চলছে। সুযোগ থাকলে হয়তো এই সাংবাদিককেও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হতো।
তাই বলছিলাম, যতো দোষ সব সাংবাদিকদের। চুরি করেন, ডাকাতি করেন, মানবিক বিয়ে করেন, বলৎকার করেন কোনো সমস্যা নেই। খালি সাংবাদিক কিছু লিখুক, সোজা মামলা। আর বেশী ক্ষমতা থাকলে পিটিয়ে হাড়গোড় ভেঙ্গে দেয়া।
সাংবাদিকের পক্ষে আসলে কেউ নেই। সত্য আর বিশ্বাসযোগ্যতা ছাড়া কেউ নেই। দেশের আম জনতা ছাড়া কেউ নেই। এমনও দেখেছি, নেতার কাছে বিচার পায় নি, পুলিশের কাছে বিচার পায়নি, কোথাও বিচার না পেয়ে শেষে আসা হয় সাংবাদিকের কাছে, প্রেসক্লাবে, সংবাদ সম্মেলনে। মনে হয় শেষ ভরসা সাংবাদিক। এর আগ পর্যন্ত সবাই গালি দেয় সাংবাদিককে।
মাঝে মাঝে ভাবি, দেশের রাজনীতি, সংসদের যে অবস্থা তাতে যদি সাংবাদিকরাও লেখা বন্ধ করে দেয় তা হলে আমলা- কামলারা পিসে মেরে ফেলবে সাধারণ মানুষকে। কেউ খবরই পাবে না। ঈশ্বরের কাছে শুকরিয়া আদায় করেন, ভালো হোক খারাপ হোক এখনও এই সাংবাদিকদের কল্যাণেই অন্যায় অনিয়মের কিছু খবরাখবর পান। সাংবাদিকদের পথ রুদ্ধ করে দিয়েন না। এর ফল দেশের জন্য ভালো হবে না।