আদালতের ‘সময় নষ্ট করায়’ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে হাইকোর্ট যে জরিমানা করেছে এই আদেশের বিরুদ্ধে তিনি আইনী লড়াই করবেন বলে জানিয়েছেন। মি. ইউনুছ বলেন,ভার্চুয়াল আদালতের ইন্টারনেটের জুম লাইনে তিনি ঢুকতে পারেন নি। এ ছাড়া তিনি যে লকডাউন নিয়ে রিট করেছিলেন তা ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় এই রিট এমনিতেই অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে তার অনুপস্থিতিতে যে জরিমানা করা হয়েছে তা সঠিক হয়নি এবং আদেশটি তিনি প্রত্যাহার ও পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন।
উল্লেখ্য মামলা করার পর শুনানি না করে এবং আদেশের সময় হাজির না থেকে আদালতের ‘সময় নষ্ট করায়’ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে বুধবার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে হাই কোর্ট।
নির্ধারিত সময়ে তার অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারক প্রশ্ন করেছেন, গণমাধ্যমকে দেখানোর জন্যই তিনি মামলা করেন কি না।
আদালত অবমাননার দায়ে এর আগেও সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ তিনমাসের জন্য তার আইনপেশার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো। আর এবার হাইকোর্ট তাকে জরিমানা করলো।
মহামারী সামাল দিতে সরকারের বিধিনিষেধ জারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫ এপ্রিল হাই কোর্টে এই রিট করেছিলেন মি.ইউনুছ আলী। কিন্তু এরপর তিনি এই মামলার শুনানি করতে আদালতে আসেন নি। ফলে বুধবার ওই রিট আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল বেঞ্চ। সেই সঙ্গে আদালতের সময় নষ্ট করায় ‘খরচ বাবাদ’ আদালত ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
রিট মামলায় মি.ইউনুছ দাবি করেছিলেন,জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া লকডাউন দেওয়ার সুযোগ নেই। চলমান লকডাউনের ওপর স্থগিতাদেশ এবং আর যাতে লকডাউন দেওয়া না হয়, সে জন্য নির্দেশনা চেয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটিকে বিবাদী করা হয়েছিল তার ওই রিট আবেদনে।
সেখানে তিনি যুক্তি দেখান, “জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া জনগণের চলাফেরার অধিকার, আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সরকার স্থগিত রাখতে পারে না। এটা সংবিধান পরিপন্থি। কিন্তু সরকার জরুরি অবস্থা জারি না করেই লকডাউন দিয়েছে, যা সংবিধানের ২৭, ২৮, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫ ও ৩৬ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।”
বিডি নিউজ জানিয়েছে, গত ২৭ এপ্রিল রিট আবেদনটি উপস্থাপন করলে শুনানির জন্য তা কার্যতালিকায় ওঠে। গত রোববার আদালত কার্যতালিকার ক্রমানুসারে ইউনুছ আলী আকন্দকে ডাকে। সেদিনও তিনি ছিলেন না। তখন আদালত মামলাটির শুনানি না করে মঙ্গলবার আদেশের জন্য রাখেন।
কিন্তু মঙ্গলবারও কার্যতালিকা ধরে ডেকে ইউনুছ আলী আকন্দকে পায়নি আদালত। বুধবার কার্যতালিকার প্রথমেই এ রিট মামলাটি ছিল।
এদিনও কার্যতালিকা ধরে কয়েকবার ডেকে রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের সাড়া পাচ্ছিল না আদালত। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খানের কাছে পরামর্শ চান যে, শুনানি বা আদেশের সময় আদালতে আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় মামলা খারিজের সাথে খরচ বাবদ জরিমানা করা যায় কিনা।
জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার এবং আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, জনস্বার্থের মামলায় এ রকম হলে খরচ বাবদ জরিমানা করা যায়।
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম তখন বলেন, “এই আবেদন (লকডাউন চ্যালেঞ্জ করা রিট) দিয়ে চার দিন পাঁচ দিন (তিনি) নাই। লকডাউন চ্যালেঞ্জ করে মাঝে মাঝে উঁকি দেন, আর মামলা ধরলে থাকেন না। প্রতিদিনই এ কাজ করেন। ঠিক আছে, ডিসমিস ফর ডিফল্ট কস্ট অব টাকা টেন থাউসেন্ড।”
তখন একজন আইনজীবী খরচ বাবাদ জরিমানার ১০ হাজার টাকা মাফ করে দেওয়ার আর্জি জানান।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম তখন বলেন, “কেন মাফ করবো? কোর্ট কাচারি নিয়ে ফাজলামো নাকি? লকডাউনের মধ্যে একটা মামলা করেছেন, উনাকে একদিনও পাওয়া যায় না। উনি মামলা করে মিডিয়ায় আগে বলে দেন যে মামলা ফাইল করা হয়েছে।
“পাঁচ দিন ছয় দিন ধরে মামলা লিস্টে, উনি আসেন না। কী ধরনের কথা! লিস্টে দিয়ে উনি পেপার পত্রিকায় নিউজ দেবেন!”
ভার্চুয়াল আদালতে উপস্থিত একজন আইনজীবী তখন বলেন, “তাকে (ইউনুছ আলী আকন্দকে) সিরিয়াসলি সতর্ক করা উচিৎ। আপিল বিভাগ থেকেও তাকে একবার সতর্ক করা হয়েছে।”
আদেশের পর যোগাযোগ করা হলে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি তো লাইন টাইন পাই নাই জুমে। এখন মিডিয়ার মাধ্যমেই শুনলাম যে ১০ হাজার টাকা ফাইন ফর ডিফল্ট।
“এখন আমার কথা হইল, আমি যে মোশনটা ফাইল করেছিলাম, সেটা প্রথম এবং দ্বিতীয় লকডাউন চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু এই মামলার শুনানি হতে হতে আরও দুইবার লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। সেগুলো আমি চ্যালেঞ্জ করি নাই। ফলে এই রিটটা এমনিতেই অকার্যকর হয়ে গেছে।”
আর শাস্তির বিষয়ে ইউনুছ বলেন, “মোশন মামলা ডিফল্ট ফর ডিসমিস (আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় খারিজ) হতে পারে। কিন্তু কস্ট (খরচ বাবদ জরিমানা) দেওয়ার কোনো বিধান নাই। এরকম কোনো নজির নাই।”
হাই কোর্ট রুলস অনুযায়ী এ আদেশটি প্রত্যাহার (রিকল) চেয়ে এই বেঞ্চেই আবেদন করবেন বলে জানান আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।
আর যদি তাতে ব্যর্থ হন, তাহলে আদেশটি পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জনস্বার্থের মামলায় খরচ বাবদ জরিমানা করা যায় কিনা তা জানতে চেয়েছিলেন হাই কোর্ট। আমি বলেছি যে, কস্ট ইমপোজ করা যায়।”
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “লকডাউনের সময় কোর্ট সীমিত আকারে চলছে জরুরি সব মামলা শোনার জন্য। আমরা সবাই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে থাকি। জনস্বার্থের নামে মামলা করে আদালতের সময় নষ্ট করার তো কোনো মানে হয় না।”
বিচার বিভাগ নিয়ে ফেইসবুকে কিছু মন্তব্যের কারণে গতবছর অক্টোবরে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে গুরুতর আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সর্বসম্মত ওই রায়ে ইউনুছ আলীকে তিন মাস তাকে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশা থেকে বিরত থাকার শাস্তি দেওয়া হয়।
দেশে বিভিন্ন ঘটনার পর রিট মামলা করে আলোচিত ইউনুস আলী আকন্দ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচন করে হেরে যান। গতবছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে আবেদন করে তিনি নতুন আলোচনার জন্ম দেন।
আদালতের সময় নষ্ট করায় আইনজীবী ই্উনুছ আলীকে হাইকোর্টের জরিমানা
ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে নারীর মৃত্যু
রাজধানীর মতিঝিলে ‘ব্যাগ ধরে’ প্রাইভেট কারে থাকা ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত সুনিতা রাণী দাস থাকতেন ঢাকার গোপীবাগে। একটি বাসায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন ৫০ বছর বয়সী এই নারী।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার নূরুল ইসলাম জানান, বুধবার ভোর ৬টার দিকে মতিঝিল বাস ডিপোর কাছে ছিনতাইয়ের ওই ঘটনা ঘটে।
“একটি প্রাইভেটকার থেকে ওই নারীর ব্যাগ টান মেরে নিয়ে যায়। এসময় তিনি রিকশা থেকে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুরের পর তিনি মারা যান।”
গোপীবাগের বাসা থেকে বের হয়ে রিকশায় শান্তিনগর যাচ্ছিলেন সুনিতা রাণী। সাথে তার ভাগনে ছিলেন। ওই ঘটনার পর সুনিতাকে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, “খবরটি আমরা ঘটনার বেশ পরে পেয়েছি। পুলিশ ছিনতাইকারীদের ধরতে কাজ করছে।”
এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রাইভেট কারটি শনাক্তের জন্য আশেপাশের সিসিটিভির ভিডিও সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
উল্লেখ্য কয়েকবছর আগে একইভাবে রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় রিকশাযাত্রী এক মহিলার ব্যাগ ধরে ছিনতাইকারীরা টান দিলে তিনি পড়ে যান,পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মুক্তি ও ভাগ্য উন্নয়নে আজীবন লড়াই করে গেছেন। তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রতিটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, দুর্দিনে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য তিনি তাঁর তহবিল থেকে খাদ্য উপহার পাঠিয়েছেন। মন্ত্রী মহামারি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানিয়ে সকলকে অগ্রীম ঈদ শুভেচ্ছা জানান।
বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় টি.আলী কলেজ মাঠে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য উপহার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি কসবার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের কোভিড- ১৯ এর প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজার নিম্ন আয়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক খাদ্য সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
তাছাড়া কৃষি বিভাগের ৬টি ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বৃহত্তর কুমিল্লা মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে ৫৪০টি সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলা চেয়ারম্যান এডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ উল আলম, কসবা পৌর মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক এমজি হাক্কানী ও আলহাজ্ব রুহুল আমিন ভূইয়া বকুল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাছিবা খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা সিদ্দিকী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-সাংবাদিক, মু্ক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
হেফাজতের মামুনুল দুই মামলায় আরও ৫ দিনের রিমান্ডে
পল্টন থানার নাশকতার দুই মামলায় হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও ৫ দিনের হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।
ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার মঙ্গলবার এ আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু জানান।
এ সময় আসামির পক্ষে আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ড বাতিল করে তার জামিন চাইলে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন।
এর আগে দুই দফায় ১৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার মামুনুলকে আদালতে হাজির করে চলতি বছর মার্চে বায়তুল মোকাররম মসজিদে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় দুটি মামলায় ১০ দিন ও সাত দিন করে রিমান্ড চায় পুলিশ।
শুনানি শেষে বিচারক এক মামলায় ৩ দিন ও আরেক মামলায় ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামুনুল হকের পক্ষে তার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধীতা করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।
১৮ এপ্রিল দুপুরে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
বাঁশখালী সংঘর্ষ: নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দিতে এস আলমকে হাই কোর্টের নির্দেশ
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এস আলম গ্রুপের নিমার্ণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে ‘আপাতত’ ৫ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতিসহ (বেলা) পাঁচটি সংগঠনের আলাদা দুটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
নিহতদের পরিবারকে ওই টাকা পরিশোধ করতে এস আলম গ্রুপকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এস আলম গ্রুপের আইনজীবী মো. আরশাদুল রউফ শুনানিতে বলেন, নিহতদের পরিবারকে ইতোমধ্যে ৩ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, “৩ লাখ টাকা করে দিয়েছেন, আরও ২ লাখ টাকা করে দেন।”
গত ১৭ এপ্রিল বাঁশখালীর গণ্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের নির্মাণাধীন ১৩২০ মোগাওয়াট ক্ষমতার ‘এস এস পাওয়ার প্ল্যান্টে’ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। সে সময় গুলিতে ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে আরও দুজন মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত শ্রমিকদের ভাষ্য, বকেয়া বেতন ও রোজায় কাজের সময় পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ থেকে সেদিন সেখানে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও নারীবিদ্বেষী করা হচ্ছে, বললেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি
শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন, “আমরা যখন কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন, ২০১০ সালের শিক্ষানীতি অনুসরণ করার চেষ্টা করছি, তখন কওমি মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের জাতিবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নারীবিদ্বেষী গুজবের কারখানা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চূড়ান্ত অপব্যবহার করছে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।”
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এক আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করে। সেখানেই শিক্ষামন্ত্রীর এমন পর্যবেক্ষণ আসে বলে নির্মূল কমিটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
‘সকল কওমি মাদ্রাসা সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে’- এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ওয়েবিনারে নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি মওলানা জিয়াউল হাসানও বক্তব্য দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা একমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক শিক্ষাব্যবস্থার চিন্তা দেখতে পাই। কিন্তু সেই শিক্ষাভাবনা নিয়ে আমরা আর এগোতে পারিনি’ ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীনতাবিরোধী, একাত্তরের পরাজিত মৌলবাদী গোষ্ঠীর রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক শিক্ষার বিস্তার করে।”
দীপু মনি বলেন, সামাজিক আন্দোলনের মানুষ হিসেবে সত্য-মিথ্যার হিসাব করা ‘সহজ’ হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় তা সহজ হয় না। সরকার নতুন যে কারিকুলাম করছে, তার ভিত্তি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু।
“এই মুহূর্তে একবারে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা সম্ভব নয়। কিন্তু সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছি, একটি দেশের মধ্যে যেন দুটো জাতি গড়ে না ওঠে। যে মূল্যবোধের কারণে বাঙালি হিসেবে আমরা গর্ব করি, সেই অসাম্প্রদায়িক মানবিকতা, পরমতসহিষ্ণুতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা শিক্ষা আইন ও শিক্ষানীতি প্রণয়ন করছি।”
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “লক্ষ লক্ষ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে মূলধারায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। মানুষ শুধু দারিদ্র্যের কারণে নয়, ধর্মের কারণেও সন্তানকে কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এই বাস্তবতাও আমাদের বুঝতে হবে। “আমাদের সবার দায়িত্ব সমাজে সচেতনতার ক্ষেত্র তৈরি করা। মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষা না জিহাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে- সে সম্পর্কে বাবা-মাকে জানাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই যথাসময়ের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাংলাদেশকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন। সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজ হবে।”
জামায়াত-হেফাজতিরা বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বা পাকিস্তানের মতো ‘জঙ্গি-মৌলবাদী-সন্ত্রাসী’ রাষ্ট্র বানানোর জন্য কওমি মাদ্রাসার ছাত্রদের ‘ব্যবহার করছে’ বলে অভিযোগ করেন শাহরিয়ার কবির।
তিনি বলেন, “২৫ হাজারের বেশি কওমি মাদ্রাসার ৩০ লক্ষাধিক ছাত্র-শিক্ষককে আমরা জামায়াত-হেফাজতের সন্ত্রাসী রাজনীতিক অভিলাষ পূরণের জন্য তাদের কাছে জিম্মি রাখতে পারি না।”
হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ অবস্থানের পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসায় সরকারের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি।
তিনি বলেন, “দেশে পৃথক পৃথক আলিয়া-কওমি-নূরানি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার কোনো প্রয়োজন নেই। সব মাদ্রাসায় একই পাঠ্যসূচি প্রচলন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-চেতনা, জাতির পিতার জীবনী, বাংলাদেশের সংবিধান, বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য পাঠ, জাতীয় সংগীত গাওয়া এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন সকল মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক করতে হবে।”
শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, জামায়াত-হেফাজতের একমাত্র উদ্দেশ্য ‘ক্ষমতায়’ যাওয়া এবং স্বাধীনতাকে ‘ভূলুণ্ঠিত’ করা।
“কিন্তু ৩০ লক্ষ শহীদ ও প্রায় সোয়া ৪ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আমরা তা মেনে নেব না। মাদ্রাসার ছাত্ররা পাকিস্তানি ভাবধারায় গড়ে উঠছে। শিক্ষার মূলধারায় তাদের আনতে হবে।”
অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, “প্রকৃতপক্ষে হেফাজত রাজনৈতিক দল। সুযোগ পেলেই তারা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়বে। তাদের বিশাল কর্মীবাহিনী আছে। এই কর্মীবাহিনীরা হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্র, যাদের লেখাপড়া করার কথা।
“কিন্তু লেখাপড়ার বাইরে গিয়ে কওমি মাদ্রাসায় তারা ধর্মান্ধ, মৌলবাদী হিসেবে গড়ে ওঠে। এজন্য আমরা দায়ী। বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে তাদেরকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিচ্ছে। তাদের সাধারণ শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা করে দিতে পারছি না।”
বাবা-মার যেন সন্তানকে মাদ্রাসায় পাঠাতে না হয়, সেজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হোস্টেলের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক বলেন, “খবরের কাগজে মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতনের খবর পড়ে আমার খুব কষ্ট লেগেছে। এ সব থেকে পরিত্রাণের জন্য বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।”বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি মওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, “কোরআন অনুযায়ী ‘হেফাজত-ই ইসলাম’ নামটি পরিপন্থি। কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষক ছাত্রের বৈষম্য প্রকট। কওমি মাদ্রাসায় মানবতার শিক্ষা, দেশপ্রেমের শিক্ষা দেওয়া হয় না। জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কোনো মাদ্রাসায় এখন পর্যন্ত একটি চিঠি যায়নি।“মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি যাদের আনুগত্য নেই, তাদেরকে আমরা কেন স্বীকৃতি দিলাম? মাদ্রাসাগুলোতে মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, যে বিষয়ে ইসলামে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে। শিক্ষামন্ত্রীকে আহ্বান জানাই, অবিলম্বে কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক মানবতাবাদী শিক্ষা ব্যবস্থায় গড়ে তুলতে হবে।” অন্যদের মধ্যে ডাকসুর প্রাক্তন ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি মমতাজ লতিফ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা হাসান রফিক, সুইডেন প্রবাসী লেখক-সাংবাদিক সাব্বির খান, নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুলও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এর আগে সকালে মিরপুরে শহীদজননী জাহানারা ইমামের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
ভেঙে গেলো বিল গেটস ও মেলিন্ডার সংসার, প্রেম আর বিয়ে ৩৪ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলেন বিশ্বের ধনাঢ্য ও দাতা এই দম্পতি
বিশ্বের ধনাঢ্য দম্পতি বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস তাদের ৩৪ বছরের সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিলেন। এর মধ্যে ৭ বছরের প্রেম আর বিবাহিত জীবন ২৭ বছরের । বিশ্বের চতুর্থ ধনাঢ্য ও দাতা হিসেবে পরিচিত এই দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা মানবহিতৈষী জগতকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে দেশী বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল মিডিয়াতেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের টুইটার অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে দুজন বলেন, “আমাদের সম্পর্ক নিয়ে অনেক চিন্তা ও কর্মের পর আমরা বিয়ের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

“আমাদের জীবনের পরবর্তী পর্বে দম্পতি হিসেবে একসঙ্গে জীবন এগিয়ে নিতে পারব বলে আমরা আর বিশ্বাস করি না। নতুন জীবনের পথে চলা শুরুর কালে আমাদের পরিবারের জন্য একান্ত পরিসর চাইছি।”
আশির দশকের শেষ দিকে মেলিন্ডা যখন বিল গেটসের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে যোগ দেন, তখন থেকে তাদের পরিচয়। এই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে।
২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত সিয়াটল-ভিত্তিক অলাভজনক দাতব্য প্রতিষ্ঠান বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার ও ট্রাস্টি তারা।
সর্বশেষ হালনাগাদ আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ২০১৯ সাল শেষে ফাউন্ডেশনের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার।
বিল ও মেলিন্ডার গড়ে তোলা এ দাতব্য প্রতিষ্ঠান বিশ্বজুড়ে সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই ও শিশুদের টিকাদানে উৎসাহিত করতে কাজ করছে।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বয়সী বিল ও ৫৬ বছর বয়সী মেলিন্ডা মিলে ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এই ফাউন্ডেশনে ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন।
গেটস দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদের পর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বিষয়ে জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে কোনো জবাব মেলেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আর আদালতে তারা যে আবেদন জমা দিয়েছেন তাতেই দেখা গেছে যদি বিচ্ছেদ হয় তাহলে সম্পদ তাদের মধ্যে কিভাবে ভাগ হবে সে সম্পর্কে কোনো চুক্তি নেই। উল্লেখ্য, এই দম্পতির রয়েছে ৫টি এস্টেট, একটি প্রাইভেট জেট, বিস্ময়কর সব আর্ট কলেকশন এবং বিলাসবহুল গাড়ির ভাণ্ডার।

সাত বছরের চুটিয়ে প্রেম অতপর বিয়ে:
নিউ ইয়র্কে ১৯৮৭ সালের একটি ব্যবসায়িক নৈশভোজের অনুষ্ঠান। তাতে একটি টেবিলে পাশাপাশি মাত্র দুটি আসন খালি। একটিতে গিয়ে বসলেন মেলিন্ডা অ্যান ফ্রেঞ্চ। এর দু’চার মিনিটের মধ্যে ফাঁকা আসনে গিয়ে বসলেন বিল গেটস। পাশাপাশি, খুব পাশাপাশি বসা মেলিন্ডা আর বিল গেটস। মেলিন্ডা তারই প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের একজন প্রজেক্ট ম্যানেজার। কোথা থেকে যেন প্রেম উড়ে এলো। বিল গেটস তার দিকে তাকালেন অন্যচোখে। ভাল লেগে গেল মেলিন্ডাকে। ভাল লাগলো মানে, একেবারে হৃদয়ে গেঁথে গেল। সেই থেকে দু’জনের প্রেম। চুটিয়ে প্রেম। এক বছর প্রেম করার পর বিল গেটস কিছু প্রস্তাবনার তালিকা তৈরি করলেন। বিয়ে করলে কি কি হবে, তার একটি তালিকা। টানা ৭টি বছর তারা প্রেমে হাবুডুবু খেলেন। এরপর ১৯৯৪ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তারা। মেলিন্ডা অ্যান ফ্রেঞ্চ হয়ে গেলেন মেলিন্ডা গেটস। তারপর থেকে সুখে-দুঃখে একসঙ্গে কেটে গেছে দীর্ঘ ২৭টি বছর। সব মিলে তাদের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন নিয়ে কেটে গেছে ৩৪টি বছর। এ সময়ে তারা তিনটি সন্তানের পিতামাতা হয়েছেন। বড়মেয়ে জেনিফারের বয়স এখন ২৫ বছর। এরপরে রয়েছে ছেলে রোরি (২১) এবং ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ফোইবি (১৮)। ভরপুর সংসার, হাসিখুশি মাখা সন্তান, অর্থবিত্তে সয়লাব পরিবার, দাতা হিসেবে ব্যাপক সুনাম বিশ্বজুড়ে, দাতব্য সংস্থা পরিচালনায় আছে সুনাম। তারপরও এত বছর পরে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস। কিন্তু কেন? কি রহস্য এই বিচ্ছেদের? এর কোনো কুলকিনারা পাওয়া যাচ্ছে না। অ্যামাজন বস জেফ বেজোসের সংসার ভেঙেছে লঁরা সানচেজ নামে এক যুবতীর সঙ্গে গোপন প্রেমের কারণে। কিন্তু মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সংসার ভাঙছে কি কারণে, তা কঠিন এক রহস্যে ঘেরা। যার চোখে চোখ রেখে বিল গেটস দেখেছিলেন তার ভালবাসার স্বর্গ, তার সঙ্গেই ২৭ বছর সংসার করার পর দু’জনেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দিলেন! এ খবরে বিশ্বজুড়ে তুমুল আগ্রহ। পশ্চিমা সব অনলাইন বা প্রিন্ট ভার্সনের পত্রিকায় প্রধান সংবাদ শিরোনাম হয়ে উঠে এসেছেন তারা। সবাই জানার চেষ্টা করছে কি কারণে এই বিচ্ছেদ ঘটতে পারে। তবে এর আগে এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা বলেছিলেন, নিজের কাজ এবং পরিবারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে ভীষণ সমস্যা হচ্ছে তার স্বামী বিল গেটসের।
সোমবার তারা ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটানোর ঘোষণা দেন। আকস্মিক এ ঘোষণায় বিস্মিত মানুষ। তাদের সন্তানদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা। তবু সংসার অপ্রত্যাশিতভাবে ভেঙে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মেলিন্ডা। তিনি বিচ্ছেদ আবেদন করে দরখাস্ত করেছেন। এতে বলেছেন, তিনি এবং বিশ্বে চতুর্থ শীর্ষ ধনী মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতার মধ্যে বিয়ের আগে কোনো লিখিত চুক্তি হয়নি। ফলে এই দম্পতির গড়ে তোলা প্রায় ১৩০০০ কোটি ডলার কিভাবে ভাগ হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। বিল গেটসের বয়স এখন ৬৪ বছর। মেলিন্ডা ৫৬। আদালতে তারা যে আবেদন জমা দিয়েছেন তাতেই দেখা গেছে যদি বিচ্ছেদ হয় তাহলে সম্পদ তাদের মধ্যে কিভাবে ভাগ হবে সে সম্পর্কে কোনো চুক্তি নেই। উল্লেখ্য, এই দম্পতির রয়েছে ৫টি এস্টেট, একটি প্রাইভেট জেট, বিস্ময়কর সব আর্ট কলেকশন এবং বিলাসবহুল গাড়ির ভাণ্ডার। বড়মেয়ে জেনিফার গেটস (২৫) জানিয়েছেন তার পরিবার কঠিন এক হতাশাজনক চ্যালেঞ্জিং সময় পাড় করছে। এরপরই মেলিন্ডা গেটসের বিচ্ছেদের আবেদন আলোর মুখ দেখে। সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে ইন্সটোগ্রামে পিতামাতার বিচ্ছেদের ঘোষণা নিয়ে তিনি হতাশার কথা লিখেছেন।
বিল গেটস এবং মেলিন্ডা দু’জনেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে তাদের বিচ্ছেদের যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করেছেন। এতে তারা লিখেছেন, অনেক চিন্তাভাবনা এবং অনেক বিষয়ে কাজ করে আমরা সিদ্ধান্তে এসেছি বিবাহ বিচ্ছেদের। এতে তারা আরো লিখেছেন, ২৭টি বছর ধরে আমরা বড় করেছি অসাধারণ তিনটি সন্তানকে। গড়ে তুলেছি একটি ফাউন্ডেশন। এটি সারা বিশ্বে মানুষকে সুস্থ এবং উৎপাদনক্ষম জীবন যাপনে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এই মিশন সম্পর্কে আমাদের অভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে। তা হলো, আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও একসঙ্গে অব্যাহতভাবে এই ফাউন্ডেশনের জন্য কাজ করে যাবো। কিন্তু আমরা জীবনের বাকিটা অংশ একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে কাটাতে পারবো না। আমাদের পরিবার এবং এর গোপনীয়তা অটুট রেখে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছি। বিল এবং মেলিন্ডার মধ্যে সর্বশেষ দু’সপ্তাহেরও কম সময় আগে জনসমক্ষে একত্রে দেখা গেছে। এ সময় তারা স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনা বিষয়ক একটি ইভেন্টে ভার্চুয়ালি অংশ নিচ্ছিলেন।
বিল গেটস ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন মাইক্রোসফট। এর মধ্য দিয়ে ১৯৮৭ সালে মাত্র ৩১ বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী বিলিয়নিয়ার হন। এ বছরেই নিউ ইয়র্কে এক ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎ হয় নিজের কোম্পানিতে চাকরি করা মেলিন্ডার সঙ্গে। বিল গেটস তখন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এর ৬ বছর পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহিত জীবন কাটিয়েছেন কোয়ার্টার সেঞ্চুরিরও বেশি সময়। তারপর কেন এই বয়সে এসে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে হচ্ছে তা অজানা। সোমবার ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টিতে সুপ্রিম কোর্টে বিচ্ছেদের আবেদন জমা দিয়েছেন মেলিন্ডা। এতে তিনি বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেদিন থেকে ‘আমাদের বিচ্ছেদের চুক্তি হয়েছে’ সেদিন থেকে এই বিয়ে বিচ্ছেদকে কার্যকর হিসেবে ধরার জন্য। তবে এই আবেদনে বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত কবে হয়েছে, সেই তারিখটি পরিষ্কার নয়। বিয়ের আগে যদি সম্পত্তি ভাগাভাগির কোনো চুক্তি না থাকে, তখন বিবাহ বিচ্ছেদের চুক্তি বা কন্ট্রাক্টকে চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। এই আবেদনে মেলিন্ডা ভরণপোষণের কোনো সাপোর্ট দাবি করেননি। ফলে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদের বিষয়টি ট্র্যায়াল ছাড়াই সম্পন্ন হতে পারে।
প্রথম প্রেমের সেই সময়কে স্মরণ করে ২০১৯ সালে নিজের জীবনী ‘দ্য মোমেন্ট অব লিফট’-এ মেলিন্ডা বর্ণনা করেছেন তাদের প্রেমের প্রথম সেই মুহূর্তকে। অন্যদিকে নেটফ্লিক্স ডকুমেন্টারিতে নিজের জীবন সম্পর্কে বিল বলেছেন, আপনি জানেন, আমরা একে অন্যের খুব যত্ন নিই। সে যা-ই হোক, ১৯৯৪ সালে লানাইয়ের হাওয়াই দ্বীপে একটি গলফ কোর্সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই দুনিয়াজোড়া খ্যাতিমানরা। এর দু’বছর পরেই তাদের প্রথম সন্তান জেনিফার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯৬ সালে। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহের রজতজয়ন্তীর অল্প পরে মেলিন্ডা দ্য সানডে টাইমসকে একটি বিরল সাক্ষাৎকার দেন। এতে তিনি বলেন, কাজ আর সংসার এই দুটির মধ্যে সমতা রক্ষা করতে একরকম লড়াই করছেন বিল। তার ভাষায়- বিশ্বাস করুন এমন কিছু দিন আছে আমাদের দাম্পত্য জীবনে, তা অসম্ভব কঠিন। সেখানে আপনাকে ভাবতে হবে আমি কি এটা করতে পারি? এ বছরেই প্রকাশিত হয় তার স্মৃতিকথা। তাতে একজন পাবলিক আইকনের স্ত্রী হিসেবে এবং একই সঙ্গে তিনটি সন্তানের মা হিসেবে বাসায় অবস্থান করার মধ্যে একরকম ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজেকে লড়াই করতে হয়েছে।
১৯৭৫ সালে পল অ্যালেনকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন বিল গেটস। ২০০০ সাল নাগাদ এখানে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর পরিচালকের ভূমিকায় চলে যান। আস্তে আস্তে সমাজহিতৈষী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর তিনি মাইক্রোসফটের পরিচালনা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেন বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে থেকে ।
১৯৬৪ সালে টেক্সাসের ডালাসে একজন এরোস্পেস প্রকৌশলী এবং একজন গৃহবধূর কন্যা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন মেলিন্ডা অ্যান ফ্রেঞ্চ। ১৯৮৭ সালে মাইক্রোসফটে যোগ দেয়ার আগে নর্থক্যারোলাইনার অভিজাত ডিউক ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন। বিল গেটস বড় হয়েছেন সিয়াটলে। তার জন্ম ১৯৫৫ সালে। তার পিতা একজন সুপরিচিত আইনজীবী। আর মা ফাইন্যান্স হোল্ডিং কোম্পানির পরিচালনা পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। বিল গেটসের পড়াশোনা ভাল লাগলো না। তিনি ১৯৭৫ সালে মাইক্রোসফট চালু করবেন বলে হার্ভার্ডের পড়াশোনা বাদ দেন।
এদিকে, বিচ্ছেদ আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করতে দু’জনেই আইনজীবীদের পাওয়ার হাউজ বলে পরিচিত এমন প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করেছেন। মেলিন্ডার প্রতিনিধিত্ব করছেন নিউ ইয়র্কভিত্তিক এটর্নিরা। তারা হলো কোহেন ক্লেয়ার লেন গ্রিফেফার থর্প অ্যান্ড রোটেনসট্রিচ এলএলপি এবং পল, ওয়েইস, রিফকাইন্ড, ওয়ারর্টন অ্যাল্ড গ্যারিসন এলএলপি’র আইনজীবী। অন্যদিকে বিল গেটসের প্রতিনিধিত্ব করবেন লস অ্যানজেলেস ভিত্তিক তিনজন আইনজীবী। তারা মাঙ্গার টোলস অ্যান্ড ওলসনের আইনজীবী। এর মধ্যে একজন আইনজীবী চার্লস টি মাঙ্গার বিল গেটসের বিলিয়নিয়ার বন্ধু ওয়ারেন বাফেটের দীর্ঘদিনের অংশীদার।
শারুনের বিরুদ্ধে আদালতে মুনিয়ার ভাইয়ের হত্যা মামলা, তবে কার্যকারিতা স্থগিত
কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়াকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছিলেন তার বোন; আর এখন তার ভাই হত্যা মামলার অভিযোগ নিয়ে গেলেন আদালতে।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান তানিয়া আসামি করেছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে।
অন্যদিকে মুনিয়ার ভাই আশিকুর রহমান সবুজ হত্যামামলায় আসামি করেছেন হুইপ শামসুল হক চৌধুরীর ছেলে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক নাজমুল করিম চৌধুরী শারুনকে (শারুন চৌধুরী)।
মুনিয়ার লাশ উদ্ধারের পাঁচ দিন পর রোববার আশিকুর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হত্যা মামলার আবেদন নিয়ে যান।
মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুঁইয়া আবেদনটি নিলেও মুনিয়ার বোনের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার তদন্ত চলায় আপাতত এটির কার্যকারিতা স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন।
আদালতের পেশকার মাসুদ পারভেজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। এ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০২ ধারার হত্যা মামলার আবেদনটি স্থগিত থাকবে।”
হত্যামামলার আবেদনে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাতে শারুন কীভাবে জড়িত ছিল, তার বিবরণ জানা যায়নি।
এবিষয়ে আশিকুরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার আইনজীবী সালাউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালালেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মামলার প্রতিক্রিয়ায় শারুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপ ইস্যুটাকে ভিন্ন খাতে নিতে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনায় সম্পৃক্ত নই। আইন এবং বিচারের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা আছে।”
“আমি দেড় মাস ধরে চট্টগ্রামে আছি, আমি কীভাবে এই ঘটনায় জড়িত,” বলেন তিনি।
কুমিল্লার বাসিন্দা ঢাকার এক কলেজের ছাত্রী মুনিয়াকে গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নম্বর সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তার বোন তানিয়া কুমিল্লা থেকে এসে সেদিনই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বসুন্ধরা এমডি আনভীর ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে মুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তাকে ওই বাসায় রেখেছিলেন। কিন্তু বিয়ে না করে তিনি উল্টো ‘হুমকি’ দেওয়ায় মুনিয়া আত্মহত্যা করেন।
এই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে মুনিয়া-আনভীরের একটি ফোনালাপ সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি মুনিয়া-শারুনের হোয়াটসঅ্যাপে কথিত কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশটও আসে।
তখন শারুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জিজ্ঞাসায় বলেছিলেন, তার সাবেক স্ত্রী সাইফা রহমান মিমের সঙ্গে আনভীরের ‘সম্পর্ক’ গড়ে ওঠার খবর জানাতে মুনিয়া গত বছর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তিনি তখন বলেছিলেন, সাবেক স্ত্রীর বিষয়ে তার কিছু করার নেই।
মুনিয়ার সঙ্গে সেই কথোপকথন মেসেঞ্জারে হয়েছিল জানিয়ে শারুন দাবি করেন, হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের যে স্ক্রিনশট এখন ছড়িয়েছে, তা ভুয়া।
এদিকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলা করলেও মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত এর আগে বলেছিলেন, এটা আত্মহত্যা, নাকি হত্যা, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে।
মামলা তুলে নিয়ে মীমাংসা করতে আসামি আনভীরের পক্ষে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন নুসরাত। এই অভিযোগ করে শনিবার কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ পুলিশ বলছে, তারা মুনিয়ার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভার্চুয়াল জগতে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা উচিত নয়: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট
ভার্চুয়াল জগতে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরতেই পারেন সাধারণ মানুষ, সেখানে দমননীতি চালানো উচিত নয়। করোনা পরিস্থিতিতে ভারত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়ার পেছনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ভার্চুয়াল জগতে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
আর এর জেরে ফেসবুক-টুইটারে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সেই সব অভিযোগ আটকানোর অভিযোগ উঠছে। ঠিক ওই সময় এমন মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট।
শুক্রবার আদালতে শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, দেশের নাগরিক এবং বিচারপতি হিসেবে একটা বিষয় নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন আমি। তা হল, দেশের কোনও নাগরিক যদি নেটমাধ্যমে অভাব-অভিযোগ তুলে ধরেন, সেক্ষেত্রে তথ্যের ওপর দমন নীতি নেওয়াকে সমর্থন করি না। নাগরিকদের কথা আমাদের কানে পৌঁছতে দিন। আগামী দিনে হাসপাতালে শয্যা এবং অক্সিজেনের অভাব নিয়ে নেটমাধ্যমে মুখ খুলে কাউকে যদি হেনস্থার শিকার হতে হয়, তা আদালতের অবমাননা বলে গণ্য হবে।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, করোনা ভাইরাস মহামারী পরিস্থিতি নিয়ে দেশ জুড়ে যে অব্যবস্থার ছবি সামনে এসেছে, তা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দিয়েছে করেছে ভারতের শীর্ষ আদালত।
শুক্রবার শুনানি চলাকালীন নেটমাধ্যমে নাগরিকদের অভাব-অভিযোগের কথা উঠে আসে। সেখানেই আদালত সাফ জানিয়ে দেয় কোনও ধরনের তথ্য ধামাচাপা দেওয়াকে সমর্থন করে না। সূত্র: ইন্ডিয়ান টুডে
মামুনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ ঝর্ণার, তার কুপরামর্শে সংসার ভেঙ্গেছে
হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন তার কথিত ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ জান্নাত আরা ঝর্ণা।
শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করা হয় বলে জেলার পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান।
এজাহারে বলা হয়েছে, শহীদুল ইসলামের সঙ্গে ঝর্ণার দাম্পত্য জীবন ‘সুখে শান্তিতে’ অতিবাহিত হচ্ছিল। তাদের ১৭ ও ১৩ বছর বয়সী দুই সন্তান আছে। স্বামীর ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে ২০০৫ সালে মামুনুল হকের সঙ্গে ঝর্ণার পরিচয় হয়।

বাদীর অভিযোগ, তাদের বাসায় অবাধ যাতায়াত থাকার সুবাধে ছোটখাটো সাংসারিক মতানৈক্যের মধ্যে মামুনুল ‘সুকৌশলে’ প্রবেশ করে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। সাংসারিক টানাপড়েনের এক পর্যায়ে মামুনুলের ‘কুপরামর্শে’ ২০১৮ সালের ১০ অগাস্ট শহীদুলের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়।
এই নারী অভিযোগ করেছেন, বিচ্ছেদের পর ‘তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে’ মামুনুল তাকে ঢাকায় আসার জন্য ‘প্ররোচিত’ করেন। ঢাকায় আসার পর তার পরিচিত বিভিন্ন অনুসারীর বাসায় রেখে মামুনুল নানাভাবে তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন।
এর ধারাবাহিকতায় মামুনুলের পরামর্শে কলাবাগানে এক বাসায় সাবলেট থাকতে শুরু করেন জানিয়ে বাদী অভিযোগ করেছেন, ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে এবং ‘অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে’ মামুনুল হক তার সঙ্গে ‘শারীরিক সর্ম্পকও’ করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল ‘করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ’ করতে থাকেন।
এজাহারে বলা হয়, ঘোরাঘুরির কথা বলে ২০১৮ সাল থেকে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে বাদীকে নিয়ে যেতেন। ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়েল রিসোর্টে ঘুরতে নিয়ে গিয়েও মামুনুল তাকে ‘ধর্ষণ করেন’।
সেদিন সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টের একটি কক্ষে ওই নারীসহ মামুনুলকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় খবর পেয়ে হেফাজত ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ঝর্ণাকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন মামুনুল। পরে তাকে তাদের বাসায় উঠতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় আটকে রাখেন; কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেননি। পরে তার বাবার আবেদনের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই দিনের ঘটনায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভাঙচুর করেছে। পুলিশ গিয়ে তাদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।
রিসোর্টে মামুনুল হককে অবরুদ্ধ ও সহিংস ঘটনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিএম মোশাররফ হোসেনকে বদলি করা হয়।
এর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ।
পুলিশ তখন জানায়, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
জান্নাত আরা ঝর্ণা শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে (ভিক্টোরিয়া) সাংবাদিকদের বলেন, “আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক আমার সাথে অন্যায় করেছে ও প্রতারণা করেছে। আমি রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাই।”











