ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 138

লকডাউনে সীমিত পরিসরে আদালত চলবে, হাইকোর্টে ৪ টি বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচার কাজ হবে

0

করোনাভাইরাস মহামারী সামাল দিতে সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে সীমিত পরিসরে দেশের আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত এসেছে।
রোববার রাতে এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
এসব বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুধু আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত, হাই কোর্টের চারটি বেঞ্চ চালু থাকবে।
আর মুখ্য বিচারকি হাকিম বা মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত সীমিত পরিসরে চালু থাকবে, তবে সব অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞার স্বাক্ষরে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার থেকে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকাজ সীমিত পরিসরে পরিচালিত হবে। তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধুমাত্র ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে চেম্বার আদালত জরুরি বিষয়ে শুনানি করবে।
হাই কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে- রিট, দেওয়ানী ও ফৌজদারী সংক্রান্ত একটি করে ডিভিশন বেঞ্চ এবং কোম্পানি অ্যাডমিরালটি সংক্রান্ত আরও একটি বেঞ্চ অর্থাৎ মোট চারটি বেঞ্চে ভার্চুয়ালি শুনানি চলবে। সংশ্লিষ্ট আদালত মামলার শুনানির তারিখ ও সময় নির্ধারণ করবে। এ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।
আর হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার মো. গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে মুখ্য বিচারিক হাকিম বা মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতের কার্যক্রম সীমিত করার পাশাপাশি সব ধরনের অধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক মুখ্য বিচারিক হাকিম বা মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালতে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন।
এ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যেসব মামলার আসামিদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেওয়া হয়েছে, সেসব মামলার জামিন এবং সকল প্রকার অন্তবর্তী আদেশের কার্যকারিতা আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
অধস্তন আদালতের বিচারক ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এ বিজ্ঞিপ্তিতে।

হেফাজতের তাণ্ডবের চিত্র সংসদে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী, বললেন তারা আগুন নিয়ে খেলছে

0

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনের মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে হেফাজতে ইসলামের চালানো তাণ্ডবের চিত্র জাতীয় সংসদে তুলে ধরে তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার দুপুরে সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় ‘হেফাজতের একটি অংশের তাণ্ডবের পেছনে বিএনপি-জামায়াত জড়িত’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে, সেই সময় যে ঘটনাগুলো এখানে ঘটানো হলো… এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয় যে যেখানে স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করছি সেই সময়..হ্যাঁ আমাদের অনেক বিদেশি অতিথি আসছেন; অনেকে বার্তা দিচ্ছেন। সেই ব্রিটেনের রানি থেকে শুরু করে, সৌদি আরবের বাদশা থেকে শুরু করে সকলের বার্তা আমরা পাচ্ছি- এত বড় একটা সম্মান বাংলাদেশ পাচ্ছে। সেখানে কারা খুশি হতে পারলেন না?”
কওমি মাদ্রাসা ধারা প্রভাবাধীন হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আজকে হেফাজতে ইসলাম কর্মসূচি দেয়… তারা কি দেওবন্দে যায় না শিক্ষাগ্রহণ করতে? তাই এই সমস্ত ঘটনা যদি ঘটায়, তাহলে উচ্চশিক্ষায় দেওবন্দ যাবে কীভাবে? সেটা কি তারা একবারও চিন্তা করেছে।”
শিক্ষা সনদ, পাঠক্রম নির্ধারণ ও দেশে-বিদেশে চাকরি ব্যবস্থাসহ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে  শেখ হাসিনা বলেন, “তারপরও তারা এই তাণ্ডবটা কেন ঘটাল? তাদেরকে.. প্রথমেই আমরা দেখলাম কি বিএনপি তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত জোট কীভাবে সমর্থন দিচ্ছে, সেটাই আমার প্রশ্ন।
“হেফাজত তো একা না, হেফাজতের সঙ্গে জামাত বিএনপিও জড়িত এবং তাদের প্রত্যেকটা কর্মকাণ্ডেই তো দেখা যায়। হেফাজতের সকলেই যে এর মধ্যে জড়িত তাও কিন্তু নয়- এটা হলো বাস্তবতা।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬-৩১ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের সহিংসতা এবং ২৭-২৮ মার্চ হেফাজতের পক্ষে বিএনপি-জামায়াতের বিবৃতি ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিক অংশ’।
সেসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ অফিস, দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িঘর, সরকারি অফিস-আদালত এবং গণপরিবহনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিত্রও সংসদে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, “এখন আমার প্রশ্ন? ইসলাম তো শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্মের নামে এই যে জ্বালাও-পোড়াও এটা কীভাবে আসলো। তবে এটা নতুন কিছু না, ২০১৩ সালে আমরা দেখেছি এই বিএনপি-জামায়াত কীভাবে চলন্ত গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়েছে, কীভাবে মানুষের উপর আক্রমণ করেছে, সেগুলো আমরা দেখেছি।”
হেফাজতে ইসলাম আগুন নিয়ে খেলছে মন্তব্য করে তাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এক ঘরে আগুন লাগলে তো সেই আগুন তো অন্য ঘরেও চলে যেতে পারে। সেটা কি তাদের হিসাবে নেই?
“আজকে রেলস্টেশন থেকে শুরু করে ভূমি অফিস থেকে শুরু করে ডিসি অফিস থেকে শুরু করে সব জায়গায় যে আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের মাদ্রাসা, তাদের বাড়িঘর- সেগুলোতেও যদি আগুন লাগে তখন তারা কি করবে? জনগণ কি বসে বসে এগুলো শুধু সহ্য করবে? তারা তো সহ্য করবে না।”
শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে এক রিসোর্টের কক্ষে নারীসহ হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে ঘেরাও করে জনতা। পুলিশ তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয়’ তার অনুসারীরা।
সংসদে ওই হেফাজত নেতার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, “এরা একদিকে ইসলামের নাম, ধর্মের নাম, পবিত্রতার নাম ..এতোকিছু বলে যত অপবিত্র কাজ করে আজকে ধরা পড়ে সোনারগাঁওয়ে একটা রিসোর্টে।
“পার্লারে কাজ করা এক মহিলা। তাকে আবার এখন এদিকে তার বউ হিসেবে পরিচয় দেয়, আবার নিজের বউয়ের কাছে বলে যে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমি এটা বলে ফেলেছি।”
তিনি বলেন, “যারা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন এই রকম মিথ্য কথা, অসত্য কথা তারা বলতে পারেন কিনা। তারা তো বলতে পারে না। তাহলে এরা কি ধর্মপালন করে? মানুষকে কি ধর্ম শেখাবে?
“তাই হেফাজতের যারা সদস্য, তাদেরকেও আমি অনুরোধ করি, তারাও একটু বুঝুক কোন নেতৃত্বে তারা। আগুন জ্বালাও পোড়াও করে তিনি বিনোদন করতে গেলেন একটা রিসোর্টে একজন সুন্দরী মহিলা নিয়ে- এটাই তো বাস্তবতা।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা ইসলাম ধর্মের নামে কলংক। ইসলামকে তারা ছোট করে দিচ্ছে। কিছু লোকের জন্য আজকে এই ধর্মটা জঙ্গির নাম, সন্ত্রাসের নাম। এখন তো যেই চরিত্র দেখালো তাতে দুশ্চরিত্রের নামও জুড়ে দিচ্ছে।
“এরা ধর্মের নামে ব্যবসা শুরু করেছে এবং এত অর্থ কোথা থেকে আসে এই বিনোদনের, সেটাও একটা প্রশ্ন। এটা দেশবাসী বিচার করবে। আর আইন তার আপন গতিতে চলবে। সেটুকু আমি বলতে চাই।”
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “এধরনের অপকর্মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে- এইটুকু আমি শুধু বলতে পারি। এর বেশি বলতে চাই না।
“আর আমি বলব, যারা মুখে ধর্মের কথা বলে, ইসলামের নাম বলে চলবেন, আর অধর্মীয় কাজ করবেন- এটা কখনো গ্রহণযোগ্য না।”

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে এনএসআই’র সদস্যদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এনএসআই-এর কর্মীদের দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত করতে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করায় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই এনএসআই’র প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আপনাদের কর্তব্য পালন করবেন। কর্তব্য পরায়নতা এবং শৃঙ্খলা বজায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকালে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) নবনির্মিত বহুতলবিশিষ্ট প্রধান কার্যালয় ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে ভার্চুয়ালি এই ভবন উদ্বোধনে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার নেতত্বে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা এদেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু ’৭৫ এর পর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ থেকে বাংলাদেশকে বিচ্যুত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবার আমরা জাতির পিতার সেই আদর্শকে ফিরিয়ে এনেছি। বাংলাদেশ আজকে সারা বিশে^ একটা মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই মর্যাদাটা ধরে রাখা একান্তভাবে অপরিহার্য।
তিনি এনএসআই সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, একটা বিষয়ে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি এবং এসব ব্যাপারে আপনাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে, যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জান-মাল রক্ষা করা এবং জনগণের জীবনের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় যা যা করণীয় সেটা আপনাদের করতে হবে। এই সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক বা দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে, দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। সেই বিষয়ে অবশ্যই আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে- সেটাই আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করবো।
করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশের উন্নয়নে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করলেও এই অবস্থা থেকেও বাংলাদেশ উত্তোরণ ঘটাতে পারবে, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকা দান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে এবং দেশের মানুষ যাতে নিজেদের আরো সুরক্ষিত করে সেজন্য তাদের মধ্যে আরো সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তাই, সকলকে একযোগে কাজ করার আমি আহ্বান জানাচ্ছি।
গণভবন প্রান্ত থেকে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টিএম জোবায়ের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করার পর থেকে এনএসআই এর গুরুত্ব বিবেচনায় এনে অনেক নতুন পদ সৃষ্টি এবং সংস্থার জনবল দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছি। একইভাবে আগের মঞ্জুরীকৃত পদকে দ্বিগুণ করা হয়েছে। এনএসআই সদস্যদের কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালের পরে বিভিন্ন পদে মোট ১৬০১ জনকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে, যা ইতিপূর্বে কখনই সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
তাঁর সরকার এ সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, বিভিন্ন পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির জন্য সমন্বিত নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে ও বেতন স্কেল সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার এনএসআই এর সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা কার্যকর করেছে। যা আগে নির্দিষ্ট কিছু পদের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত ছিল।
তিনি বলেন, এই সংস্থার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে ঝুঁঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে আপনাদের জন্য ৩০ শতাংশ বিশেষ ভাতা মঞ্জুর করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবল ও কর্মপরিধি বৃদ্ধি পেলেও এনএসআই প্রধান কার্যালয়ের জন্য পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান ছিল না। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ এবং স্পর্শকাতর গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে তাঁর সরকার এর প্রধান কার্যালয় ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তদানুযায়ী তিনি ১৭ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে প্রধান কার্যালয় ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় এনএসআই এর নিজস্ব ভবন ছিল না উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার প্রধান কার্যালয় ছাড়াও সকল বিভাগ ও জেলা এনএসআই অফিসের জন্য জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নিজস্ব জমিতে ৩টি বিভাগীয় কার্যালয় এবং ২০টি জেলা কার্যালয়ের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে ২১টি জেলা কার্যালয় ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতে দ্রুত কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এতে করে কর্মদক্ষতা বাড়বে, জনগণের নিরাপত্তা বাড়বে এবং গোয়েন্দা কাজের মধ্যদিয়ে যেকোন তথ্য জোগাড় করাও সম্ভব হবে।
গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়টি বিবেচনায় এনে আমরা জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের জন্য ঢাকার ধামরাইয়ে ৯ দশমিক ৫৬ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছি।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের নতুন জনবল, যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির অনুমোদন ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এর মাধ্যমে এনএসআই সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদেরকেও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যগণও এই প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন এবং তাদের সাথে প্রশিক্ষণলব্ধ তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী এনএসআই সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও কর্মকা-ের কারণে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ফলশ্রুতিতে দেশে অব্যাহত উন্নয়ন এর পরিবেশ বিরাজমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী করোনার প্রথম দফা আগ্রাসনের মত দ্বিতীয় দফাতেও এনএসআই সদস্যদের যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘নতুন করে দ্বিতীয় দফায় করোনা দেখা দিয়েছে। করোনা মহামারি ব্যবস্থাপনায়ও আপনারা অক্লান্তভাবে কাজ করেছেন। এখন যে অবস্থাটা হয়েছে সেখানেও দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে মন্দাভাব পরিলক্ষিত হলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। অতিমারীর এই সংকট কালেও আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, দারিদ্র্যের হার কমছে এবং বৈদেশিক রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, করোনা সংকট মোকাবিলায় সময় উপযোগী যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণেই অর্থনৈতিক উন্নতির এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার সুপারিশ লাভ করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা এই অগ্রযাত্রা বজায় রাখায় গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, তাঁর সরকার ইতোমধ্যে করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেকগুলো নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছে। সেই নির্দেশরা যাতে যথাযথভাবে সবাই পালন করে সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। পাশাপাশি দেশের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডও যেন সচল থাকে সে বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন। তবে, মানুষের জীবনটা আগে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবন যদি না বাঁচে তাহলে অর্থনীতিই বা কি আর রাজনীতিই বা কি। মানুষের জীবন আগে বাঁচাতে হবে। কাজেই স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিয়মনীতি মেনে চলে নিজেকে সুরক্ষিত করা এবং অন্যকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং সকলে যেন এটা সারাদেশে মানে সেটা নিশ্চিত করায় আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক যুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। কিন্তু যারা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি এখনো তারা দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমি বলতে চাই, রাজনীতি আর সন্ত্রাসবাদ কখনো এক হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, জনগণের জানমাল রক্ষায় যা করা প্রয়োজন সরকার তাই করবেন। আমি এবং আমার সরকার সবসময় আপনাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা চাই, ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। জাতির সেই লক্ষ্য পূরণে আপনাদের আরও বেশি কর্মতৎপর হতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ পরিণত করবো। বাসস।

রিসোর্টের নারী মামুনুলের স্ত্রী নন, আরও ঘটনা জানানো হবে, সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের এক রিসোর্টে গিয়ে তাকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেছেন, ওই তথ্য সঠিক নয়।
রোববার জাতীয় সংসদে তিনি বলেন, “সোনারগাঁও উপজেলার একটি বেসরকারি হোটেলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হক একজন মহিলাকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। টেলিভিশনে ওই মহিলা কে তা নিজের মুখে স্বীকার করেছেন। তিনি তার স্ত্রী নন। এ বিষয়ে আরো ঘটনা জেনে সবাইকে জানাব।”
হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব নিয়ে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে গিয়ে মামুনুল হকের ওই ঘটনা মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “ওই ঘটনার পর দেখলাম ওই রিসোর্টের ওপর আক্রমণ। কেন এই আক্রমণ আমার জানা নেই। সেখানে বিদেশি কয়েকজন ছিল। পুলিশ ও বিজিবি গিয়ে তাদের রক্ষা করেছেন।”
হেফাজতের তাণ্ডবের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ করে ওই ধরনের তাণ্ডব কেন, নিশ্চয় এর কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। যেই তাণ্ডব করে থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছি।”
শনিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টের এক কক্ষে এক নারীসহ হেফাজত নেতা মামুনুলকে ঘেরাও করে স্থানীয়রা।
পরে ওই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হেফাজতের কর্মীরা হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।
রাত ৮টার দিকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে, গাড়ি ভাঙচুর করে সড়ক অবরোধ করে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সময় হেফাজতের তাণ্ডব নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ভাঙচুর করেছে। আমাদের পুলিশ বিজিবি চরম ধৈর্য্য সহকারে সেগুলো মোকাবেলা করেছেন। আমরা চিহ্নিত করেছি। যারা এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত ছিল, আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করেছি। আমরা সবগুলোই আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সবরকমের ব্যবস্থা নিয়েছি।  
“আমরা ২২ জনকে আটক করেছি। এর মধ্যে বিভিন্ন ছবি আমরা দেখেছি। একজন ঘোড়ায় চড়ে তলোয়ার নিয়ে হাঁটতেছেন। তাকে ধরা হয়েছে। আমরা একজনকে দেখেছি পিস্তল উঁচু করে ফায়ার করছেন। আমরা সবগুলোকে শনাক্ত করেছি এবং ধরছি। আমরা কাউকে বাদ দেব না। আইন অনুযায়ী সবার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “হঠাৎ করেই এরকম… নিশ্চয় উদ্দেশ্য আছে। যারাই করে থাকেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সব প্রচেষ্টা নিয়েছি। ঘটনাগুলো সবগুলোই উদ্দেশ্য প্রণোদিত। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এক হয়ে করে যাচ্ছে। তদন্ত করে উদঘাটন করে মিডিয়ায় জানিয়ে দেব।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

হজ ব্যবস্থাপনায় নতুন আইন করতে সংসদে বিল, থাকছে নানা ধরনের শাস্তি,জরিমানা

0

কোনো হজ ও ওমরা এজেন্সি সৌদি আরব গিয়ে অপরাধ করলেও বাংলাদেশে সেই অপরাধের বিচার করার বিধান রেখে নতুন আইনের খসড়া সংসদে তোলা হয়েছে।
রোববার ধর্মপ্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিল-২০২১ সংসদে তোলেন। পরে বিলটি ৪০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলে বলা হয়েছে, হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার এ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি গঠন করবে। হজ ও ওমরাহ এজেন্সিকে শর্ত মেনে নিবন্ধন নিতে হবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, দেশে হজের চুক্তি হওয়ার পরে কেউ সৌদি গিয়ে ঠকালে ওই অপরাধ বাংলাদেশে হয়েছে বলে গণ্য করে আইন অনুযায়ী বিচার করা হবে।
প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, নিবন্ধন পেতে হলে হজ এজেন্সিকে ৩ বছর এবং ওমরাহ এজেন্সিকে দুই বছরের ট্র্যাভেল এজেন্সি পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
হজ এজেন্সিগুলো অনিয়ম করলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার সুযোগ রাখা হয়েছে এ বিলে। আর ওমরা এজেন্সি অনিয়ম করলে তারা নিবন্ধন হারানোর সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়বে। এছাড়া জামানত বাজেয়াপ্ত, নিবন্ধন স্থগিত, সতর্কীকরণ ও তিরষ্কারের শাস্তি রয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো এজেন্সি পরপর দুইবার তিরষ্কৃত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার নিবন্ধন দুই বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যাবে। কোনো এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল হলে ওই এজেন্সির অংশীদার বা স্বত্বাধিকারীরা পরে কখনও হজ বা ওমরা এজেন্সির নিবন্ধন পাবেন না। অন্য কোনো এজেন্সির কাজেও সম্পৃক্ত হতে পারবেন না। হজ এজেন্সিগুলো স্বত্ত্ব পরিবর্তন করতে চাইলে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে হজ ও ওমরা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কোনো সংবিধিবদ্ধ আইন নেই। নির্বাহী আদেশ, নীতিমালা, পরিপত্র ইত্যাদি দ্বারা এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সংবিধিবদ্ধ আইন ও বিধি-বিধানের প্রয়োজন দীর্ঘদিন যাবৎ অনুভূত হচ্ছে।
“হজ ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়, বিভাগ, ও অন্যান্য সরকারি সংস্খাসমূহের দায়-দায়িত্ব আইনি বিধি-বিধান দ্বার সুস্পষ্ট করা হলে তা হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সংসদে গর্জে ওঠলেন শেখ সেলিম, আর ছাড় নয়, ট্রাইব্যুনাল করে হেফাজতের বিচার দাবি

0

বিএনপি-জামাত-হেফাজত ইসলামকে ‘ইসলাম ধর্ম বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনাল করে এদের বিচার করতে হবে।
শনিবার সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উদযাপনের সময় হেফাজতে ইসলামের ‘তাণ্ডব’ নিয়ে কথা বলেন শেখ সেলিম।
তিনি বলেন, “নামে হেফাজতে ইসলাম। এরা ইসলাম বিরোধী, জঙ্গি, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। দরকার হলে ট্রাইব্যুনাল করে অবিলম্বে তাদের বিচার করতে হবে।”
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে তাণ্ডবের পর হেফাজতের ‘জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তার দ্রুত তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলেন শেখ সেলিম।
তিনি হেফাজত ও বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরও কঠোর হওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আর সুবর্ণজয়ন্তীর জন্য অনেক কিছু আমরা সহ্য করে গেছি। আর কোনো কিছু সহ্য করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আরও কঠোর হতে হবে। আপনার পেছনে ১৪ কোটি মানুষ আছে। এই অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া যাবে না।”
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে আসছিল হেফাজতে ইসলাম ও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। সেই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা দিবস থেকে তিন দিন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। সংঘাতে তিন দিনে অন্তত ১১ জন নিহত হন।
এই ‘ধর্মীয় উন্মাদনা ও উচ্ছৃঙ্খলতা’ বন্ধ না করলে সরকার কঠোর অবস্থানে যাবে বলে হুঁশিয়ার করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় আমির জুনাইদ বাবুনগরী হুমকি দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে তারা ‘কঠিন কর্মসূচি’ দেবেন।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম বলেন, “হেফাজতের নামে যারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, বিএনপি-জামাত যাদের সহযোগী হিসেবে.. যারা ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে। ইসলামকে হেফাজত কোনো সন্ত্রাসী জঙ্গিরা করতে পারে না। ইসলাম হেফাজত করবে আল্লাহ। হেফাজতের জঙ্গিরা যেসব মাদ্রাসা থেকে রাস্তায় বের হয়ে মানুষকে হত্যা করে, মানুষের বাড়িঘর ও স্থাপনায় আক্রমণ করে ও পুড়িয়ে দেয়। সেইসব মাদ্রাসা বন্ধ করে দিতে হবে। ইসলাম কখনও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিতে পারে না।”
সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার ছবি সংসদে দেখিয়ে তিনি বলেন, “এই জঙ্গিরা তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ার ওপর উঠে পেছনে শত শত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তাণ্ডব চালিয়েছে। ছবি দেখে মনে হচ্ছে প্রাচীনকালের মতো কোনো যুদ্ধে যাচ্ছে, বিজয় করার জন্য।
“তাদের মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্র নয়। এটা পাকিস্তান নয়। সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের বাংলার মাটিতে কোনো স্থান নেই। সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাধীন দেশে এভাবে চলতে পারে না।”
বিএনপি ২৪ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত স্বাধীনতা দিবসের সব কর্মসূচি বন্ধ করে দিয়েছে অভিযোগ করে সেলিম বলেন, “কারা এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ করে? যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে তারা স্বাধীনতার কর্মসূচি ২৬ মার্চ বন্ধ করতে পারে? পারে না। বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত এরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বিএনপি ২৬ মার্চ স্মৃতি সৌধে যায়নি। কারণ তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।”
বিএনপির সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বিএনপির নেতারা এখানে আছে। তাদের বাপ-দাদার হিসাব নেওয়া হোক। একাত্তরে তারা কোন দলে ছিল, শান্তিবাহিনীতে কারা ছিল। এর অনেক হিসাব আছে। এখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আছেন তাকে বলব এগুলো বের করে জনসম্মুকে প্রকাশ করুন।”
পরে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, “যে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে এই প্রসঙ্গে জানতে চাই আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি থাকবে? পঞ্চাশ বছর পূর্তি-আমাদের সুবর্ণজয়ন্তী। এই সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা লাশ উপহার দিলাম। আমরা কি শান্তিপূর্ণভাবে সারা বাংলাদেশের কোথাও সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে পেরেছি? ”
এসময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা হারুনের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন।
শেখ সেলিমের বক্তব্যের জবাবে হারুন বলেন, “বিএনপি থেকে মোদীবিরোধী কোনো স্লোগান বা মোদীর আগমন করা যাবে না- এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। যেহেতু ১৭ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ঢাকায় সমস্ত কর্মসূচি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন, সেই কারণে আমরা জাতীয় স্মৃতি সৌধে সীমিত আকারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। জিয়াউর রহমানের মাজারেও খুবই সীমিত আকারে শ্রদ্ধা জানিয়েছি, কারণ করোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার কারণে আমাদের জায়গা থেকে কর্মসূচিগুলো সীমিত করে দেওয়া হয়েছে।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ যারা করলে তাদের সাথে আলোচনা করতে পারতেন। যখন ভাস্কর্য-মূর্তি নিয়ে দেশে একটি সংঘাত তৈরি হল তখন হেফাজতের সাথে তো সরকার আলোচনা করেছে। এর আগেও তো সরকার হেফাজতের সাথে আলোচনা করেছেন। আলোচনা করতেন যে, বিদেশি মেহমানরা আসছে তোমরা আন্দোলন বিক্ষোভ বন্ধ রাখো,  সেই ক্ষেত্রে বিএনপিকে কেন জড়ানো হচ্ছে?” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

অনুমোদনহীন ডে-কেয়ার সেন্টার চলবে না: থাকছে জরিমানা, সংসদে বিল উত্থাপন

0

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ডে-কেয়ার স্থাপন করতে হলে সরকারের কাছ থেকে অনুমোদন ও সনদ নিতে হবে- এমন বিধান রেখে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছ।
ডে-কেয়ার থেকে শিশু হারিয়ে গেলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদাণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে বিলে।
এ আইন পাস হওয়ার পর অনুমোদন ছাড়া কেউ শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে না। অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র চালালে ২ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে খসড়ায়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা শনিবার ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বিল-২০২১’ সংসদে তোলেন। দুই মাসের মধ্যে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
এ আইন হলে, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত শ্রেণির কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার নিবন্ধন সনদ নিয়ে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করতে পারবে।
যেসব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র এখন পরিচালিত হচ্ছে, নতুন আইন পাস হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে সেগুলোকে নিবন্ধন নিতে হবে। তখন সব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আসবে।
বিলে বলা হয়েছে, শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে সংক্রামক রোগের বিস্তার ঘটালে, তাতে সহায়তা করলে বা তথ্য গোপন করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
এছাড়া শিশু এবং ক্ষেত্রমতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রয়োজনীয় সেবা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিনোদন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও শিশুর অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি ৩ মাসে একবার শিশুর অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে হবে।
বর্তমানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১১৯টি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত থমকে আছে, বিচার হয়নি গণহত্যার

0

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচার করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা থেমে আছে।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এমন একটা উদ্যোগ নিয়েছিল।
১৯৭১ সালে ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর পরাজয় বরণ করে পাকিস্তানি সৈন্যরা আত্মসমর্পন করে। এসব সৈন্যকে যুদ্ধের পর আটক করা হয়েছিলো। পরে ভারত পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় এক চুক্তির আওতায় তাদেরকে বিচার করার শর্তে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
কিন্তু গত ৫০ বছরেও তাদের কোনো বিচার হয়নি। যদিও মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে অপরাধীদের বিচার করা হচ্ছে। ২০১০ সালে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে গত ১১ বছরে মোট ৪২ টি মামলার রায় প্রদান করে। দণ্ডিত হয় শতাধিক যুদ্ধাপরাধী। এরমধ্যে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে ৬ জনের। যাদের মধ্যে রয়েছে মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, সালাউদ্দিন কাদের চৌধূরী, আব্দুল কাদের মোল্লা, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও মীর কাসেম আলী। আমৃত্যু কারাভোগ করছেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী আর ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত গোলাম আযম কারাগারে মারা যান।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তার সমালোচনা করে বিবৃতি দেওয়া হলে পাকিস্তানি সৈন্যদের বিচারের বিষয়টি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়। বাংলাদেশ পাকিস্তানের এ প্রতিক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। তখনই তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৯৫ সেনা কর্মকর্তা যাদের নেতৃত্বে গণহত্যা চালানো হয়েছিল তাদের বিচার কাজ শুরু করবে।
অান্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক আইনজীবী তুরিন আফরোজ “আইন আদালত”কে জানিয়েছেন, ১৯৭৩ সালের আইন অনুসারে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি কেউ মানবতাবিরোধী অপরাধ করে থাকে এবং সে যে দেশেরই নাগরিক হোক না কেনো বাংলাদেশে তার বিচার করা সম্ভব।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনেও বলা আছে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা যেকোনো রাষ্ট্রেই হোক না কেনো, অন্য কোনো রাষ্ট্রও তার বিচার করতে পারে।
তুরিন আফরোজ বলেন, পাকিস্তানি এই সৈন্যদের বিচার করা যাবে কীনা তার আইনগত বিষয়গুলো তারা বিশ্লেষণ করে দেখেছিলেন। এর মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন মামলায় পাকিস্তানি সৈন্যদের নামও এসেছে।
তিনি জানান, এসব সৈন্যের ব্যাপারে তারা তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছিলেন। কিন্তু নানাবিধ কারণে তদন্তটি শেষ হয় নি।
ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি সৈন্যদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিলো।

ওই চুক্তিতে সৈন্যদের পাকিস্তানের মাটিতে বিচারের কথা উল্লেখ করা না হলেও পাকিস্তান সরকার তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করবে এরকম সমঝোতা হয়েছিলো।
কিন্তু এই চুক্তিটি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার মতো অপরাধকে কেউ ক্ষমা করতে পারে না। এ ধরনের কোনো চুক্তি হলে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সেটা বাতিল বলে গণ্য হবে।
এ ছাড়া এই চুক্তিটি বাংলাদেশের সংসদে অনুমোদিত হয়নি। ফলে কোনো আদালত বিচারের সময় ওই আইনটিকে গ্রহণ করতে পারে না। এই ১৯৫ সৈন্যের মধ্যে এখনও অনেকে বেঁচে আছে বলে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ধারণা করছে। তাদের কে কোন পদে এবং কোথায় যুদ্ধ করেছে সেসব দলিল তদন্ত সংস্থার হাতে রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষকরা বলছেন, আদতে ১৯৫ পাকিস্তান সেনা কর্মকর্তার কথা বলা হলেও তালিকায় মোট ২শ’ জন ছিলো। তারা কিভাবে, কি কারণে বাদ পড়ে সংখ্যাটি ১৯৫ হলো তা জানা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করেন ড. এম হাসান জানান, আমাদের কাছে যে অভিযুক্তের তালিকা আছে সেটি যুদ্ধপরবর্তী সময়ে তৈরি হওয়া। তখন আমাদের কাছে অনেক তথ্যপ্রমাণ ছিল না, পরবর্তীতে যেগুলো এসেছে। ফলে এখন নতুন তদন্ত এবং বিদ্যমান তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে তালিকা হতে পারে। তবে এটা করতে গিয়ে সময় বেশি নিলে চলবে না। দ্রুতই বিচারটা হওয়া জরুরি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি: লন্ডনে একজনের ৩ বছরের কারাদণ্ড

0

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনে উসকানির দায়ে যুক্তরাজ্যে এক ব্যক্তিকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত মুন্না হামজাকে (৫০) ২০১৮ সালের জুলাইতে দক্ষিণ লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করেন লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম কমান্ডের সদস্যরা। 
সন্ত্রাসবাদে উসকানি দেওয়ার তিন অভিযোগে শুক্রবার উলউইচ ক্রাউন কোর্ট তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেয় বলে এক পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ যোগাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামজার পোস্ট নিয়ে এক নাগরিক পুলিশকে জানালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশকে সতর্ককারী ওই ব্যক্তির প্রশংসা করে কাউন্টার টেররিজম কমান্ডের প্রধান কমান্ডার রিচার্ড স্মিথ বলেন, এর ফলে সহিংসতা ও সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার মতো আর কোনো কিছু প্রকাশ করা থেকে তাকে আমরা বিরত রাখতে পেরেছি। তা নাহলে ভয়াবহ কিছু ঘটে যাওয়ার শঙ্কা ছিল।”
২০১৮ সালের ১৭ মে হামজার আগের দিনের একাধিক পোস্ট নিয়ে সতর্ক করেন একব্যক্তি। কাউন্টার টেররিজম কর্মকর্তারা তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি উদ্বেগজনক পোস্ট খুঁজে পায়। সেসব পোস্টে হামজা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের বিরুদ্ধে ‘মারাত্মক সহিংসতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটনে’র অন্যদের প্রতি আহ্বান জানান। 
৪ জুলাই দক্ষিণ লন্ডনের কর্মস্থল থেকে হামজাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তার কম্পিউটার, ফোন ও মেমোরি কার্ড জব্দ করে। তিনি ওই সব পোস্ট প্রকাশের দায় স্বীকার করেন এবং পরে জামিন পান।
তার ওইসব পোস্ট পর্যালোচনা করে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক আইনের লঙ্ঘন খুঁজে পেলে পরের বছর ২৮ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ‘টেররিজম অ্যাক্ট’ এর ১(২) ধারায় সন্ত্রাসবাদে উৎসাহ যোগানোর চার ধরনের ঘটনায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
এবছর ১৩ জানুয়ারি তিনটি ঘটনায় হামজার বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। আরেকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি।
যেসব পোস্টের জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেগুলোতে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশিত তিনটি পোস্ট (একটি অভিযোগ হিসেবে গণ্য), ২০১৮ সালের ৩ মে ও ১৬ মে প্রকাশিত আরেকটি পোস্ট রয়েছে। যেটিতে নির্দোষ ছিলেন, সেই পোস্ট ২০১৮ সালের ২৪ জুন প্রকাশিত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় ১৪ জঙ্গির ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড

0

দুই দশক আগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ১৪ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান মঙ্গলবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা  হলেন- মো. আজিজুল হক ওরফে শাহনেওয়াজ (পলাতক), মো. লোকমান (পলাতক), মো. ইউসুফ ওরফে মোছহাব মোড়ল (পলাতক), মোছহাব হাসান ওরফে রাশু (পলাতক), মো. আনিসুল ইসলাম, সারোয়ার হোসেন মিয়া, শেখ মো. এনামুল হক (পলাতক), মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ, মো. মাহমুদ আজহার ওরফে মামুনুর রশিদ, মো. রাশেদুজ্জামান ওরফে শিমুল, মো. তারেক হোসেন, মো. ওয়াদুদ শেখ ওরফে গাজী খান, মাওলানা আমিরুল ইসলাম ওরফে জেন্নাত মুন্সী এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
দণ্ডিতরা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) নেতা-কর্মী। ফায়ারিং স্কোয়াডে প্রকাশ্যে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলা হয়েছে রায়ে। কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে প্রচলতি নিয়মে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলেছেন বিচারক।

ঢাকার মহানগর আদালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু বলেন, “ন্যায়বিচার পেয়েছি। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।”

এদিন কারাগারে থাকা আসামিদের সকালে রায়ের জন্য আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালত এলাকার নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়।
শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছনে এ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা, হত্যার ষড়যন্ত্র এবং বিস্ফোরক আইনে কোটালীপাড়া থানায় তিনটি মামলা করে পুলিশ।
এর মধ্যে হত্যাচেষ্টা মামলায় ২০১৭ সালের ২০ অগাস্ট নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন দল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের (হুজি-বি) দশ নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল।  
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আপিলের রায়েও ১০ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে হাই কোর্ট। যাবজ্জীবন সাজার এক আসামি এবং ১৪ বছর কারাদণ্ডের দুই আসামির সাজাও বহাল রাখা হয়েছে। ১৪ বছর সাজার এক আসামিকে খালাস দেয় হাই কোর্ট।
আর হত্যার ষড়যন্ত্রের এ মামলায় ২০০১ সালের ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। আদালত ২০০৪ সালে ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।
রাষ্ট্রপক্ষে ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলে ১১ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়। সেই শুনানি শেষে বিচারক রায়ের জন্য ২৩ মার্চ দিন রাখেন।