একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে ২৫ মার্চ প্রথম প্রহরে ভার্চুয়াল এক প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন হয়েছে।
সেই সঙ্গে একাত্তরের গণহত্যার ৫০তম বছর সামনে রেখে একটি উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ।

যার যার টাইম জোন অনুযায়ী ২৫ মার্চ রাত ১২টা ১মিনিটে এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি এবং একই দিনে ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আইসিএসএফের ট্রাস্টি ড. রায়হান রশিদ।
এই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচিতে শামিল হতে নিজ নিজ ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নির্ধারিত সময়ে ফেইসবুক লাইভে এসে, অথবা আগে ধারণ করা ভিডিও/স্থিরচিত্রে একটি প্রদীপ কিংবা মোমবাতি জ্বালতে হবে। সেই ছবি বা ভিডিও পোস্ট করতে হবে #recognise1971genocide এবং #RecogniseBangladeshGenocide হ্যাশট্যাগের সাথে।
বাঙালির মুক্তির আন্দোলনের শ্বাসরোধ করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের সেই অভিযানে কালরাতের প্রথম প্রহরে ঢাকায় চালানো হয় গণহত্যা।
২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান; শুরু হয় বাঙালির প্রতিরোধ পর্ব।
নয় মাসের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান, আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি এবং জাতির অসাধারণ ত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
সেই বাংলাদেশ আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পৌঁছাচ্ছে, আর তার আগের দিন পূর্ণ হচ্ছে ২৫ মার্চের সেই কালরাতের ৫০ বছর।
সেই দিনটি স্মরণে ২৫ মার্চ আইসিএসএফ এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ আয়োজিত মুক্ত আলোচনার বিষয় থাকছে ‘১৯৭১ এর গণহত্যার স্মরণ, এবং ১৯৭১ এর গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জনে কর্মসূচি নির্ধারণ’।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংসদে গণহত্যা দিবস প্রস্তাবক সাংসদ শিরিন আখতার, বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ড. নমিতা হালদার, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান, এমিরেটাস অধ্যাপক (ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়) ড. রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আহমেদ, আইসিএসএফ ট্রাস্টি ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন ও রায়হান রশিদ আলোচনায় অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে- শুভেচ্ছা বক্তব্য; গণহত্যার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা; মোমবাতি/প্রদীপ প্রজ্জ্বলন; তথ্যচিত্র ‘Creed for Justice’ প্রদর্শন; আইসিএসএফ এর পক্ষ থেকে ‘গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি’ প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন; নির্ধারিত প্যানেল বক্তাদের বক্তব্য উপস্থাপন; মন্তব্য ও প্রশ্নোত্তর পর্ব। সমাপনী বক্তব্য দেবেন কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ফ্যাকাল্টি সদস্য ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
সঞ্চালনায় থাকবেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও কলামিস্ট ড. এজাজ মামুন। ফেইসবুকে এ আলোচনায় মতামত দেওয়া এবং প্রশ্ন করার সুযোগ সবার জন্য উম্মুক্ত থাকছে। (https://www.facebook.com/events/878750522913089/)।
বিভিন্ন টাইমজোন অনুযায়ী এ আলোচনার সময়সূচি ঠিক হয়েছে- ক্যানবেরা/ সিডনি/ মেলবোর্ন সময় রাত ৯টা; ব্রিসবেন সময় রাত ৮টা; ঢাকা সময় বিকেল ৪টা ও লন্ডন সময় সকাল ১০টা।
আইসিএসএফের ট্রাস্টি ড. রায়হান রশিদ নিজের ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, “১৯৭১ এর গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি বাস্তবায়নের দাবিতে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি শহর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসছেন ২৫ মার্চ।”
এ অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে আইসিএসএফের এর ট্রাস্টি বলেন, “গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতি আন্দোলনের যে রূপরেখা অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত হতে যাচ্ছে, তা বিশ্বের সব শহর এবং দেশের ক্ষেত্রেই কমবেশি প্রাসঙ্গিক হবে বলে আমরা মনে করছি। এ উদ্যোগ ও আলোচনায় আপনার মতামত যেমন গুরুত্বের, তেমনি আপনার কাছে আমাদের প্রত্যাশা- বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, এতে নিজে শামিল হওয়ার পাশাপাশি পরিচিত সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে ২৫ মার্চ কালরাতের প্রথম প্রহরে একটি প্রদীপ জ্বালুন
ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা ১৯৭১ নিয়ে আলোচনাই করতে দিল না লাহোরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে পাকিস্তানের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এক অনলাইন সম্মেলন কিছু মহলের আপত্তির কারণে বাতিল করে দেয়া হয়েছে।
লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস এই সম্মেলনটির শিরোনাম ছিল ‘যুদ্ধ, সহিংসতা এবং স্মৃতি’ – এবং তা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল মার্চ মাসের ২৩ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত।
এতে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলার জন্য গবেষক ও ইতিহাসবিদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সম্মেলনটির সহ পৃষ্ঠপোষক ছিল লাহোরের ওই বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব হিউম্যানিটিজ এ্যান্ড সোশাল সায়েন্সেস এবং কায়েদে আজম বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাকিস্তান স্টাডিজ।
কিন্তু স্কুল অব হিউম্যানিটিজের ডিনের এক ইমেইল বার্তায় বলা হয়, “অনিবার্য কারণে” সম্মেলনটি বাতিল করা হয়েছে।
এর পরই টুইটার সহ সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে শুরু হয় নানামুখী আলোচনা।
টুইটারে অনেকে এ ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লংঘন বলে আখ্যায়িত করে প্রশ্ন তুলেছেন – ১৯৭১এর পর ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও কেন এখনো পাকিস্তানে এ নিয়ে অবাধে আলোচনা করা যাবে না?
“পাকিস্তান-বিরোধী পদক্ষেপ”
ঘটনা হচ্ছে যে এই সম্মেলনটির কথা ঘোষণার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে কিছু ব্যবহারকারী লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস (এলইউএম এস)-এর সমালোচনা করেছিলেন।
তারা একে “পাকিস্তান-বিরোধী পদক্ষেপ” বলে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালের যুদ্ধ ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা এখনো পাকিস্তানে একটি স্পর্শকাতর প্রসঙ্গ
এলইউএমএসের অধ্যাপক আলি উসমান কাসমি টুইটারে ওই সম্মেলনটির কথা ঘোষণা করে বলেছিলেন, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে ১৯৭১ সালের ওই সংঘাতকে বোঝা, এবং এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা যেসব গবেষণা করেছেন তার পর্যালোচনা করা।
“এ সম্মেলনে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস, অধিকারের জন্য গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, সামরিক অভিযানের ফলে সংঘটিত গণহত্যা এবং বিপুল পরিমাণ মানুষের ঘরছাড়া হওয়া নিয়ে আলোচনা হবে” – টুইটারে লেখেন অধ্যাপক কাসমি।
তিনি আরো লেখেন, “১৯৭১ সালের পর ওই ঘটনা পাকিস্তানের সাহিত্য, স্মৃতি ও ইতিহাস রচনার ওপর কিভাবে প্রভাব ফেলেছে তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।”
যেভাবে বিতর্কের শুরু
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ১৯৭১ নিয়ে এই সম্মেলনের ঘোষণা টুইটারে অনেক ব্যবহারকারীর সমালোচনার মুখে পড়ে।
এলইউএমএস-এর সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাংবাদিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইজাজ হায়দার অনেকগুলো টুইট করেন । এতে তিনি লেখেন, “এলইউএমএস যদি ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি কী আচরণ করা হচ্ছে তা উপেক্ষা করতে চায় – তাহলে তাদের ভারতে পাঠিয়ে দেয়া উচিত।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের কাশ্মীরে যা হচ্ছে তা নিয়ে কি”এলইউএমএস একটি দু-দিনের সেমিনার করবে?”
তিনি আরো বলেন, “ভারত আর আম্বেদকরের গণতন্ত্র নেই।”
মি. হায়দার প্রশ্ন তোলেন, “কাশ্মীরকে উপেক্ষা করে এলইউএমএস কেন পূর্ব পাকিস্তান নিয়ে সম্মেলন করছে?”
রিয়াজ-উল-হক নামে আরেকজন টুইটার ব্যবহারকারী লেখেন,”এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে আপনাদের কেউ বাধা দিচ্ছে না, কিন্তু এলইউএমএস এই সম্মেলনটির জন্য ২৩শে মার্চকে তারিখ হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটা নির্বুদ্ধিতা।”
পাকিস্তানে এই ২৩শে মার্চ একটি বিশেষ দিন – কারণ ১৯৫৬ সালের এ দিনটিতে দেশটি একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয় এবং তার প্রথম সংবিধান গৃহীত হয়।
কিন্তু অন্য অনেক ব্যবহারকারী আবার এ সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য এলইউএমএসের প্রশংসা করেন।
গজল আসিফ নামে একজন লেখেন, ইভেন্টটি তার পছন্দ হয়েছে এবং যে বক্তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তা-ও চমৎকার।
তাহলে সম্মেলনটি বাতিল হলো কেন?
এলইউএমএসের স্কুল অব হিউম্যানিটিজ এ্যান্ড সোশাল সায়েন্সেসের ডিন এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘অনিবার্য কারণে’ এবং ‘দু:খের সঙ্গে’ তাদের সম্মেলনটি বাতিল করতে হচ্ছে।
এই “অনিবার্য কারণ”গুলো কি তা জানতে এলইউএমএসের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন জবাব পাওয়া যায়নি।
সম্মেলন বাতিল নিয়ে বীণা ডি কস্তার টুইট
তবে এলইউএমএসের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফ্যাকাল্টি সদস্য বিবিসিকে বলেছেন, এই অনুষ্ঠানটি বাতিল করার জন্য কিছু মহল থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল এবং এরকম অবস্থায় সম্মেলনটি করা সম্ভব ছিল না।
“আমরা লক্ষ্য করলাম যে ব্যাপারটা একটা কঠিন জায়গায় চলে গেছে। তখন সম্মেলনটি করা উচিত হবে না বলে পরামর্শ দেয়া হয়” – বলেন তিনি।
কোন মহল থেকে তাদের চাপ দেয়া হচ্ছিল – জানতে চাইলে তারা তাদের নাম উল্লেখ না করে বলেন, “এ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।”
“এটা কোন রাষ্ট্র-বিরোধী বা উস্কানিমূলক কিছু হবার কথা ছিল না। এখানে বিশিষ্ট পণ্ডিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এবং গবেষণার ফল উপস্থাপন করার কথা ছিল – যাতে ১৯৭১এর ঘটনাবলী থেকে কিছু শিক্ষা নেয়া যায়।”
“আমরা কি ৫০ বছর পরেও বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতে পারবো না?”
সামাজিক মাধ্যমে এই সম্মেলন বাতিলের খবরে দু:খ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।
এলইউএমএসের একজন অধ্যাপক নিদা কিরমানি বলেন, “ওরা ১৯৭১ এর ওপর সম্মেলনটি বাতিল করে দিয়েছে। এদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আর একাডেমিক স্বাধীনতার কফিনে আরেকটি পেরেক মারা হলো।”
সামাজিক আন্দোলনকারী এবং অধ্যাপক আম্মার আলি জান লেখেন, ” ওই ট্রাজেডির ৫০ বছর পরও বাংলাদেশে নিয়ে কথা বলা এত কঠিন – ব্যাপারটা দু:খজনক।”
“আমরা বুঝতে পারছি – সেই সময় যারা এ নিপীড়নের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তাদের জন্য ব্যাপারটা কতটা কঠিন ছিল।”
সাংবাদিক গারিদা ফারুকি টুইট করেন: “এলইউএমএসের বাংলাদেশকে নিয়ে সম্মেলনে অন্যায় তো কিছু ছিল না। একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তিই হচ্ছে বাকস্বাধীনতা এবং এ সম্মেলন বাতিল করা বা এর বিরোধিতা করা এর সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দেয়া।”
মরিয়ম জিয়া বালোচ লেখেন, তিনি এ জন্য দু:খিত কিন্তু বিস্মিত নন। “এখানে মানুষ মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে।”
“ওই ঘটনার পর ৫০ বছর পার হয়ে গেছে” লেখেন সাংবাদিক তালাত আসলাম – “কিন্তু দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ কেন বাংলাদেশের অংশ হয়েছিল তার কারণ নিয়ে আমাদের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ এখনো একটি সেমিনার করতে পারছে না।”
এই সম্মেলনে যাদের অংশ নেবার কথা ছিল তাদের একজন বীণা ডি কস্তা টুইট করেন, “অবিশ্বাস্য ! পঞ্চাশ বছর পরেও ওই যুদ্ধ নিয়ে কথা বলা যাবেনা।” বিবিসি বাংলা।
শ্রমজীবি মানুষের অধিকার রক্ষায় আইএলওসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা আইনমন্ত্রীর
সকল শ্রমজীবি মানুষের অধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে আইএলও-সহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।
সোমবার রাতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডির ৩৪১ তম সেশনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনাকালে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় এই সহযোগিতা কামনা করেন।
ভার্চুয়াল বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী আইএলও- কে আশ্বস্ত করে বলেন, শ্রম অধিকার ও নিরাপদ কর্ম পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে বাংলাদেশ একটি ছয় বছর মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার আওতায় কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, কর্মপরিকল্পনাটির মেয়াদ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তোরণের সাথে সংগতি রেখে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন, শ্রম পরিদর্শন বিভাগের ক্ষমতায়ন এবং শ্রমিক স্বার্থ-বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিহার সংক্রান্ত ৪টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনা সভায় তুলে ধরেন।
আইনমন্ত্রী জানান টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের আলোকে বাংলাদেশ শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আইএলও গভর্নিং বডি’র বর্তমান চেয়ার ভারতের শ্রম সচিব অপূর্ব চন্দ্রে’র সভাপতিত্বে বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি সম্পর্কিত এ আলোচনায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও ভারত, চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, মরক্কো, কিউবা, ইরাক, বাহরাইন, আজারবাইজান, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও মেক্সিকোর প্রতিনিধি অংশ নেন।
আলোচনাকালে অনেক বক্তা কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রশংসা করেন।
আমেরিকাকে টপকে বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর শীর্ষে চীন, ভারত ৪র্থ, ধারেকাছেও নেই পাকিস্তান
বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর তালিকায় আমেরিকাকে টপকে শীর্ষে ওঠে এসেছে চীন। দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে আমেরিকা ।রাশিয়ার রয়েছে তৃতীয় স্থানে আর ভারতের অবস্থান চতুর্থ । পাকিস্তান এর ধারেকাছেও নেই। ১৫ নম্বরে আছে পাকিস্তান। পঞ্চম স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। সামরিক তথ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট মিলিটারি ডাইরেক্ট এসব তথ্য জানিয়েছে।
শীর্ষ দশে রয়েছে সউদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ব্রিটেন ও জার্মানি। প্রতিরক্ষা বাজেট, সক্রিয় এবং অ-সক্রিয় সেনা সদস্য, বিমান, সাগর ও ভূমিতে থাকা প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক সামগ্রী, সৈন্যদের গড় বেতন, সরঞ্জামের ওজনসহ বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে প্রতিবছর ‘আলটিমেট মিলিটারি স্ট্রেনথ ইনডেক্স’ সূচক প্রকাশ করা হয়। সূচকে ১০০ পয়েন্টের মধ্যে চীনের পয়েন্ট ৮২। বিশ্বে প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে যুক্তরাষ্ট্র (প্রতিবছর ৭৩২ বিলিয়ন ডলার)। চীন বছরে ব্যয় করে ২৬১ বিলিয়ন। ভারত ব্যয় করে ৭১ বিলিয়ন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষা খাতে নৌ-বাহিনীতে এগিয়ে রয়েছে চীন, বিমান বাহিনীতে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীতে এগিয়ে রাশিয়া।
গতবছর প্রকাশিত তালিকায় সামরিক শক্তিতে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল রাশিয়া। অন্যদিকে, তৃতীয় চীন ও চতুর্থ স্থানে ছিল ভারত।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫ নাম্বারে। আর মিয়ানমারের অবস্থান ৩৫ নাম্বারে।
৫০টিরও বেশি মাপকাঠির ভিত্তিতে জিএফপি নামের একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিলিটারি স্ট্রেন্থ র্যাংকিং’ তালিকা প্রকাশ করে।
১৩৮টি দেশের মধ্যে সামরিক শক্তিতে সর্বশেষ, ১৩৮তম অবস্থানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটান। সামরিক বাহিনীর মোট সদস্যের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছে ভারত। ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ জন।
গ্লোবাল মিলিটারি প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে বিশ্বের তিন শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী অর্থাৎ সেনা নৌ ও বিমান বাহিনী রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের।
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার (জিএফপি) কোনো দেশের অর্ধশতাধিক বিষয় বিবেচনা করে এ তালিকা প্রকাশ করে। যেসব বিষয় তারা বিবেচনা করে তার মধ্যে রয়েছে জনশক্তি, ভৌগলিক অবস্থান, উন্নয়ন, স্থল, সাগর ও বিমানবাহিনীর প্রচলিত যুদ্ধ করার সামর্থ্য।
বিশ্বের শক্তিশালী ২০ সশস্ত্র বাহিনীর তালিকার মধ্যে রয়েছে।
১. চীন ২. যুক্তরাষ্ট্র ৩.রাশিয়া ৪. ভারত ৫. ফ্রান্স ৬. জাপান ৭. দক্ষিণ কোরিয়া ৮. যুক্তরাজ্য ৯. তুর্কী ১০. জার্মানি ১১. ইতালি ১২. মিশর ১৩. ব্রাজিল ১৪. ইরান ১৫. পাকিস্তান ১৬. ইন্দোনেশিয়া ১৭. ইসরায়েল ১৮. উত্তর কোরিয়া ১৯. অস্ট্রেলিয়া ২০ স্পেন।
চীনে উইঘুর শিশুদের জোর করে এতিমখানায় পাঠানো হচ্ছে, দাবি অ্যামনেস্টির
উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোকে আলাদা করছে চীনা প্রশাসন এবং তাদের সন্তানদের সরকার নিয়ন্ত্রিত এতিমখানায় পাঠাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, এক মিলিয়নের বেশি সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষকে বন্দি করে রেখেছে চীন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান। তাদের দিয়ে সেখানে জোরপূর্বক শ্রম খাটানো, নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে। -বিবিসি
বিবিসি জানিয়েছে, অঞ্চলটি থেকে পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নেয়া কয়েকজন নির্যাতিত মানুষের বরাত দিয়ে রিপোর্টটি করা হয়েছে। হুমকির মুখে ওই নারীরা তাদের সন্তানদের নিজ দেশে দাদা-দাদির কাছে রেখে এসেছে। কিন্তু ওই শিশুগুলোকে জোর করে ধরে নিয়ে এতিমখানায় পাঠাচ্ছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এদিকে, শিশুদের এতিমখানা থেকে মুক্ত করে দিতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। অবশ্য বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি এটাও দাবি করা হয়েছে যে, ক্যাম্পগুলোতে তাদের সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষা দেয়া হয়। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, মিহরিবান কাদের এবং আবলিকিম মেমতিনিন নামের দুই উইঘুর নারী পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৬ সালে ইতালিতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তাদের চার সন্তানকে দাদা-দাদির কাছে রেখে যান।
কিন্তু দাদিকে ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দাদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ অবস্থায় অন্য আত্বীয়রা সন্তানদের দেখভালোর দায়িত্ব নেয়নি। ২০১৯ সালের নভেম্বরে এই দুই নারী ইতালিতে বৈধভাবে থাকার অনুমতি পান। একইসঙ্গে সন্তানদেরও দেশটিতে নিয়ে আসার জন্য বলে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শিশুদের আটকে রেখেছে চীনা পুলিশ এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত এতিমখানায় পাঠিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে আমার সন্তানরা চীন সরকারের হাতে বন্দি। জীবিতকালে তাদের আর দেখতে পাবো কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান বলছিলেন মিহরিবান কাদের।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে নারী পাচার: হাই কোর্টে জামিন মিলল নৃত্যশিল্পী ইভানের
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আড়ালে বিদেশে নারী পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট ।
বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের ভার্চুয়াল বেঞ্চ রোববার তাকে জামিন দেয়। ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশানের নিকেতনে নিজের ড্যান্সক্লাব ‘সোহাগ ড্যান্সট্রুপ’ থেকে দুবাইয়ে নারী পাচারের অভিযোগে ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রেফতার করে সিআইডি।
সিআইডি বলছে, দুবাইয়ের চারটি ড্যান্সবার ফরচুন পার্ল হোটেল অ্যান্ড ড্যান্সক্লাব, হোটেল রয়েল ফরচুন, হোটেল ফরচুন গ্র্যান্ড ও হোটেল সিটিটাওয়ারে নারী পাচার করতো ইভান। উচ্চ বেতনে কাজের কথা বলে নিয়ে অল্প বয়সী মেয়েদের দেহব্যবসায় বাধ্য করতো চক্রটি। সিআইডি জানতে পেরেছে, দুবাইয়ের বিভিন্ন হোটেলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির কথা বলে মেয়েদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে তাদের পাঠানোর পরে দেহব্যবসা করানো হয়েছে।’
গত বছরের ১২ জুলাই এ চক্রের মূলহোতা এবং দুবাইয়ের ৪টি হোটেলের অন্যতম মালিক আজম খানসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। সিআইডি বলছে, গ্রেফতার হওয়া একাধিক আসামি ইভানের জড়িত থাকার কথা বলেছে। দুবাইয়ে পালিয়ে থাকা আজম খানের ভাই নাজিম, তার ম্যানেজার এরশাদ ও আলমগীরকে ধরতে ইটারপোলে রেড এলার্ট জারি করে সিআইডি।
বাংলাদেশি নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার এবং জোর করে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গত বছর ২ জুলাই আজম খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে লালবাগ থানায় মামলা করে সিআইডি।

মামলার অপর আসামিরা হলো- আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড (২৬), স্বপন হোসেন (২৮), নাজিম (৩৬), এরশাদ ও নির্মল দাস (এজেন্ট), আলমগীর, আমান (এজেন্ট) ও শুভ (এজেন্ট)।
এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের জবানবন্দিতে নাম আসায় ইভান শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
পরে ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২০১৭ সালে ‘ধ্যাততেরিকি’ চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ইভান শাহরিয়ার সোহাগ।
তিনি ‘সোহাগ ড্যান্স গ্রুপ’ নামে একটি নাচের দল পরিচালনা করেন। ‘এক্সপ্রোজার বিডি’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন তিনি।
ইভানের জামিনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী তুষার রায়; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশ গুপ্ত।
মামলাজট কমিয়ে আনাই বিচার বিভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ, বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বিচার বিভাগকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে অনেক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আদালত ভবন নির্মাণ, নতুন বিচারক নিয়োগ এবং বিচারকদের বেতন বৃদ্ধিসহ দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ ও গাড়ি সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বিচার বিভাগের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগসমূহ তখনই সফল হবে যখন বিচার বিভাগ জনগণের প্রত্যাশা মেটাতে সক্ষম হবে। জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে আদালত তার মর্যাদা ধরে রাখতে পারবে। দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষ থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও সততা দিয়ে বিচারকরা আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক হবেন।
রোববার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য অনলাইনে আয়োজিত ৭ম ওরিয়েন্টশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মামলাজট কমিয়ে আনাকে বিচার বিভাগের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বিচারকদের উদ্ভাবনীমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ মামলাজট কমাতে সাহায্য করবে। বিচারিক কর্মঘন্টার সঠিক প্রয়োগ,কার্যকর মামলা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, দক্ষ আদালত ব্যবস্থাপনা এবং সর্বোপরি বিচারকদের ‘আইডিয়াল লিডারশিপের’ মাধ্যমে মামলার বোঝা কমতে পারে। বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় সাধনের মাধ্যমেও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, মামলাজট কমাতে বিচার ব্যবস্থায় বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে অধিক কার্যকর করার লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনে সংশোধনী এনে মামলার বিভিন্ন স্তরে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ে সাক্ষীর হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য গত দুদিন পূর্বে বিদ্যমান সমন জারি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মোবাইল এসএমএস-এর মাধ্যমে মামলার তারিখ সম্পর্কে সাক্ষীকে অবগতকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং-এর মাধ্যমে নরসিংদী ও কুমিল্লা জেলায় উক্ত কার্যক্রম শুরু করা হলেও এর কার্যকর মূল্যায়নের পর তা সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সরকার ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করে জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকারকে সমুন্নত রেখেছে। অধিকন্তু ২৮০০ কোটি টাকার ই-জুডিসিয়ারি প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা। এই আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মূসা খালেদ এর সভাপতিত্ব আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সাওয়ার এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. গোলাম কিবরিয়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
ক্যাসিনোকাণ্ডঃ আরও দুই মামলায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদের বিচার শুরু
ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভুইয়াঁর বিরুদ্ধে আরও দুই মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম রোববার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান থানার ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মতিঝিল থানার এই দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১ জুন দিন রেখেছেন।
এদিন বিচারক আসামিকে অব্যাহতির ও তার পক্ষে সময়ের আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সালাহউদ্দিন হাওলাদার জানান।
এর মধ্য দিয়ে খালেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়ার মোট পাঁচটি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।
এর আগে গত বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গুলশান থানার আরেকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়।
খালেদ মাহমুদ ছিলেন আওয়ামী লীগের যুব সংগঠন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক।
ঢাকার ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে চলা অবৈধ ক্যাসিনো বন্ধে র্যাবের অভিযানের শুরুতেই গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন খালেদ ভূঁইয়া।
ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে ক্যাসিনো তিনিই চালাতেন বলে র্যাব জানায়। গ্রেপ্তারের পর যুবলীগও বহিষ্কার করে তাকে।
গ্রেপ্তারের সময় খালেদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (এর মধ্যে একটি অবৈধ), গুলি এবং ইয়াবা জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ইয়ংমেন্স ক্লাব থেকে বিদেশি মদ ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম জব্দ করে র্যাব। তার বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা হয়।
এর মধ্যে গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন ও মুদ্রা পাচার আইনে মোট তিনটি মামলা হয়। মতিঝিল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি মামলা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হাবীবুর রহমান ও ভাইকে হত্যা মামলায় ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড
দুই দশক আগে শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেনকে হত্যার ঘটনায় ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
শরিয়তপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শফিক হোসাইন রোববার আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলার ৫৩ আসমির মধ্যে তিনজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে ৩৭ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুরের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা কে এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গসহ তিন আসামি বিচার চলাকালেই মারা যান।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ছয় আসামি হলেন- শহীদ কোতোয়াল, শহীদ তালুকদার, শাহীন কোতোয়াল, শফিক কোতেয়াল, মজিবুর রহমান ও সোলেমান সর্দার।
আর বাবুল তালুকদার, ডাবলু তালকুদার, বাবুল খান ও টোকাই রশিদকে যাজ্জীবন কারদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাদের ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে তাদের জেল খাটতে হবে।
আসামিদের মধ্যে দুই বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে মণ্টু তালুকদার, আসলাম সর্দার ও জাকির হোসেন মঞ্জুর। জীবিত আসামিদের বাকি সবাই খালাস পেয়েছেন।
সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনার মধ্যে ২০০১ সালের ৫ অক্টোবর শরীয়তপুরের জেলা জজ আদালতের সাবেক পিপি হাবীবুর রহমান এবং তার ভাই মনির হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
হাবীবুর রহমান ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার ভাই মনির হোসেন ছিলেন পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
ওই হত্যাকাণ্ডের পর হাবীবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত রহমান বাদী হয়ে সাবেক সাংসদ আওরঙ্গসহ ৫৫ জনকে আসামি করে এই হত্যা মামলা করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
পিকে হালদারসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের আরও ৫ মামলা, ৪৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধভাবে ৪৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদার ও তার সহযোগী ৩৭ জনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক।
বৃহস্পতিবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ৪৩৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদারসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে ৫ মামলা করেছেন দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।
পি কে হালদার ছাড়াও এই মামলাগুলোতে আসামি করা হয়েছে তার অন্যতম সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, এমডি মো. রাশেদুল হক, ভারপ্রাপ্ত এমডি মো. আবেদ হোসেন এবং প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য বোর্ড সদস্যদের।
এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, দৃনান এ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান কাজী মমরেজ মাহমুদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু রাজীব মারুফ, ইমেক্সোর প্রোপাইটর ইমাম হোসেন, লিপরো ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উত্তম কুমার মিস্ত্রি, উইন্টেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের দুই পরিচালক সুকুমার সাহা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা সাহা, আর্থস্কোপ লিমিটেডের চেয়ারম্যান প্রশান্ত দেউরী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরা দেউরী, ওকায়ামা লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুব্রত দাস, আরবি এন্টারপ্রাইজের মালিক রতন কুমার বিশ্বাস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের পরিচালক পাপিয়া ব্যানার্জী ও তার স্বামী পরিচালক বাসুদেব ব্যানার্জী।
ওই ৩৭ জন আসামির তালিকায় আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক মো. নওশের-উল ইসলাম, পরিচালক নাসিম আনোয়ার, পরিচালক মো. নুরুজ্জামান, পরিচালক মোহাম্মদ আবুল হাসেম ও পরিচালক জহিরুল আলম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোনো মর্টগেজ না নিয়ে দশটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মালিককে ঋণ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। এই প্রক্রিয়ায় বেনিফিশিয়ারিরা ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে প্রায় ৪৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ভুয়া ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিপুল পরিমাণ এই অর্থ পরবর্তিতে বিভিন্ন লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ভুয়া কোম্পানি ও বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।
গত বছরের ৮ জানুয়ারি প্রশান্ত কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৫৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে দুদক। মামলার এজাহারে ১ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা পাচারেরও অভিযোগ আনা হয়।
অন্যদিকে চলতি বছরের গত ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি পাঁচটি ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ৩৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে পিকে হালদারসহ ৩৩ জনকে আসামি করে পাঁচটি মামলা করে দুদক।
পি কে হালদার ছাড়াও এসব মামলায় ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হাশেম, সাবেক এমডি মো. রাশেদুল হক, নয় জন বোর্ড সদস্য, পিপলস লিজিংয়ের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীসহ ৩৩ জনকে আসামি করা হয়।
দুদক সূত্রে জানা যায়, পিকে হালদারের আরও ৩৩ জন সহযোগীর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। শিগগির এদের বিরুদ্ধে এই নোটিশ জারি করা হবে।
আর গত ১৬ মার্চ পি কে হালদারের বান্ধবী ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট নাহিদা রুনাই, একই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত এমডি সৈয়দ আবেদ হাসান ও সিনিয়র ম্যানেজার রাফসান রিয়াদ চৌধুরীকে মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক।
অন্যদিকে পিকে হালদারের সহযোগী ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমসহ ৪৫ জনের ইমিগ্রেশন বন্ধ চেয়ে ইমিগ্রেশন অথরিটির কাছে পত্র দেয় সংস্থাটি।
গত ৯ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পিকে হালদার ও তার ৩৭ সহযোগীর বিরুদ্ধে দশটি মামলার অনুমোদন করে দুদক।
একইসঙ্গে পিকে হালদারের সহযোগী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মোয়াজ্জেমসহ ৪৫ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি দেয়।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলায় পি কে হালদারের তদন্তের অংশ হিসেবে তার ৭ হাজার ৮০ শতাংশ জমিসহ একটি ১০তলা ভবন জব্দে আদালত থেকে আদেশ পায় দুদক।
দুদকের এক আবেদনে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
এ চার কোম্পানি হল- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।
এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।
এর মধ্যে আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে গত বছরের শুরুতে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ২৭৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে। এ মামলায় এরই মধ্যে পি কে হালদারের বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে দুদক।











