ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 140

কাওরান বাজারে নূর আলীর বোরাক জহির টাওয়ার ভাঙতে বাধা নেই, জানিয়েছে হাইকোর্ট

0

রাজধানীর কাওরান বাজারে অবস্থিত ব্যবসায়ী নূর আলীর মালিকানাধীন বোরাক জহির টাওয়ারের অবৈধ অংশ থাকলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চাইলে ভেঙে ফেলতে পারবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ভবনের উচ্চতা কতটুকু হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাজউকের। অনুমোদন না নিয়ে বোরাক জহির টাওয়ারে বেআইনিভাবে নির্মাণ করা অংশ চাইলে রাজউক ভেঙে ফেলতে পারবে।
এই বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতে ভবন মালিকের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোখলেসুর রহমান। অন্যদিকে সিভিল অ্যাভিয়েশনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান শান্তনা।
জানা গেছে, রাজউক বোরাক জহির টাওয়ারের মালিককে ১৩ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়। পরে এটি অনুমোদনের জন্য রাজউক সিভিল অ্যাভিয়েশনের কাছে পাঠানো হয়। সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ১৫০ ফুট উচ্চতার ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে ভবন মালিককে চিঠি দেয়। পরে রাজউক ও সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন বোরাক জহির টাওয়ারের মালিক ব্যবসায়ী নূর আলী। ওই রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালে রাজউক ও সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চিঠি কেনও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট
তবে রুল শুনানি চলমান থাকাবস্থাতেই বোরাক জহির টাওয়ার ২০ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। এদিকে রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এই রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।

থানায় জিডি বা মামলা কীভাবে করবেন? জেনে নিন আইনি সহায়তা নিতে যেসব কাজ করতে হয়

0

নানা কারণে অনেক সময়েই অনেকের আইনের সহায়তা নেয়ার দরকার হয়ে পড়ে। সাধারণ জিডি থেকে শুরু করে মামলা করা, আদালতে আইনের দ্বারস্থ হতে হয়।
নানা কারণে অনেক সময়েই অনেকের আইনি সহায়তা নেয়ার দরকার হয়ে পড়ে। সাধারণ জিডি থেকে শুরু করে মামলা করা, আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
কিন্তু আইনগত জটিলতায় পড়ার আগে পর্যন্ত কীভাবে সহজে আইনের সহায়তা নেয়া যায়, কোন সহায়তার জন্য কোথায় যেতে হবে, সেই সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা থাকে না।
আবার ঠিক সময়ে মামলা করা সম্ভব না হলে অনেক সময় মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায়।
কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে আইনের সহায়তা নেয়া যেতে পারে- এখানে তার সংক্ষিপ্ত একটি নিয়মকানুন তুলে ধরা হলো।

পুলিশে অভিযোগ

চুরি, হুমকি, মারামারি বা যেকোনো নিরাপত্তাহীনতা দেখলেই যেকোন সচেতন নাগরিক পুলিশে খবর দিতে পারেন।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, ‘’মানুষের যেকোনো বিপদে প্রথম যোগাযোগের ক্ষেত্র পুলিশ। স্থানীয় থানার ওসি, ডিউটি অফিসার, থানার নম্বর সবার বাসায় সংরক্ষণ করে রাখা উচিত। এছাড়া ৯৯৯ নম্বরটি রয়েছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের নম্বর সবার ফোনে সেভ করে রাখা উচিত। নিজে বিপদের সম্মুখীন হলে, বা কোন অপরাধের প্রত্যক্ষদর্শী হলে সরাসরি পুলিশকে জানানো উচিত।‘
তিনি বলছেন, কোন কারণে স্থানীয় থানা থেকে দ্রুত সহায়তা না পেলে সেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানাতে পারেন।
অপরাধ সংঘটিত হলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিজেরা মামলার বাদী অথবা সাক্ষী হতে পারেন। অথবা শুধুমাত্র পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ নিজেরাও ব্যবস্থা নিতে পারে।

সাধারণ ডায়েরি বা জিডি ঃ

আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রাথমিক এবং সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে জেনারেল ডায়েরি বা জিডি।
বিশেষ করে কোন কিছু হারিয়ে গেলে, আইনগত রেকর্ড সংরক্ষণ বা পুলিশে প্রাথমিক তথ্য জানানোর জন্য করার জন্য সাধারণ ডায়েরি করা হয়ে থাকে। অনেক সময় কারো বিরুদ্ধে অভিযোগও মামলা না করে জিডি আকারে করা হয়ে থাকে।
আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রাথমিক এবং সাধারণ একটি বিষয় হচ্ছে জেনারেল ডায়রি বা জিডি।
জিডি সবসময়ে স্থানীয় থানায় করতে হয়। আপনার বাসা বা অফিস যেখানেই হোক না কেন, যে এলাকায় হারিয়ে গেছে বা ঘটনা যে এলাকায় ঘটেছে, সেখানকার স্থানীয় থানাতেই জিডি করতে হবে। অন্য কোন থানা জিডি নেবে না।
সাদা কাগজে বরাবর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, স্থানীয় থানা, বিষয়: ‘সাধারণ ডায়রি প্রসঙ্গে’ লিখে বিস্তারিত বিবরণ সহ জিডির আবেদন লিখতে হয়। সেখানে যিনি জিডি করবেন, তার নাম, ফোন নম্বরসহ বিস্তারিত থাকতে হবে। হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্রের ক্ষেত্রে যা হারিয়ে গেছে, সেসব জিনিসের বিস্তারিত বর্ণনা থাকতে হবে।
এনআইডি, আইডি কার্ড, দলিল ইত্যাদি হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটা ফটোকপি সংযুক্ত করতে হতে পারে।
এরকম দুইটি কপি নিয়ে স্থানীয় থানায় গেলে জিডি নথিভুক্ত করে সেই নম্বর বসিয়ে একটি কপি জিডি করা ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী সব জিডির তদন্ত হবার কথা। কারণ প্রতিটি জিডি তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিতে হয়।
তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আলোচিত বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না হলে হারিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়ের সাধারণত পরবর্তীতে আর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ঢাকায় পাইলট প্রকল্প আকারে অনলাইনে জিডি চালু করা হলেও সেটি খুব বেশি ব্যবহৃত হয় না।

(প্রতিকী ছবি)

মামলা ঃ

মামলা করা মানে হচ্ছে কোন ঘটনার আইনি বিচার চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা।
মামলার কয়েকটি প্রকার রয়েছে।
যেমন ফৌজদারি ও দেওয়ানী মামলা।

ফৌজদারি মামলা বা ক্রিমিনাল কেস থানায় অথবা আদালতে- উভয় স্থানে দায়ের করা যায়। দেওয়ানী মামলা বা সিভিল কেস আদালতে দায়ের করা হয়ে থাকে।
মামলার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সবসময়েই আইনজীবীদের সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হালিমা ফেরদৌস বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অপহরণ, হুমকি, অগ্নিসংযোগ, চুরি, ছিনতাই ইত্যাদির মতো ঘটনায় ফৌজদারি মামলা করা হয়ে থাকে।‘’

‘’জমিজমা সংক্রান্ত, সম্পত্তি, পারিবারিক বিরোধ, অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ, মানহানি ইত্যাদি ক্ষেত্রে দেওয়ানী মামলা করা হয়।‘’

তিনি বলছেন, কোন ফৌজদারি ঘটনার শিকার হলে প্রথমেই স্থানীয় থানার সহায়তা নেয়া উচিত। সেখানেই তাদের মামলা করার কথা। পুলিশ মামলা নিয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেবে, আসামীদের গ্রেপ্তার করবে। তারপর বিচার শুরু হবে।

‘’তবে থানা যদি কোন কারণে মামলা নিতে না চায়, গড়িমসি করে, তাহলে ওই ব্যক্তি সরাসরি আদালতে মামলা করতে পারেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিলে থানাকে এজাহার আকারে নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিতে পারেন।‘’

থানায় মামলা
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলছেন, ‘’অহেতুক থানার কর্মকর্তাদের মামলা নিতে অস্বীকার করার কথা নয়। এরপরেও এরকম ঘটলে সেটা সেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো উচিত। তাহলে তারা আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।‘’

তিনি জানান, মামলা করার ক্ষেত্রে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব থানাকে অবহিত করতে হবে। সেখানে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরার পাশাপাশি আলামত যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
যে সাদা কাগজে অভিযোগকারীর বিস্তারিত বর্ণনা, অভিযুক্তদের নাম ঠিকানা ইত্যাদি লিখে অভিযোগটি দেয়া হয়ে থাকে, সেটাকে বলে এজাহার। থানার যে রেকর্ড বইতে এই এজাহার সংযুক্ত করে নথিভুক্ত করা হয়, সেটিকে বলা হয় এফআইআর বা ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট। পরবর্তীতে তদন্তে আরও কারো নাম পাওয়া গেলে, আরও তথ্য যোগ হলে, সেটাও এই এফআইআর ও এজাহারের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো মামলার ক্ষেত্রে আলামত রক্ষা করা, প্রমাণ সংরক্ষণ করা এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধর্ষণের মতো ঘটনায় অনেকে গোছল করে ফেলেন। সেক্ষেত্রে আলামত অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। আবার অনেক সময় হত্যা বা দড়িতে ঝুলে মৃত্যুর সময় স্বজনরা সেখানকার আলামত নড়াচড়া করেন, যা মামলার তদন্তে ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে।
অনেক সময় অভিযোগকারী পাওয়া না গেলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে থাকে।

অনেক সময় থানায় মামলার সংখ্যা কম দেখানোর উদ্দেশ্যে থানার কর্মকর্তারা ছিনতাই, চুরির মতো ঘটনায় মামলা না করে জিডি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর মামলা করা উচিত। থানার কর্মকর্তা মামলা নিতে না চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা উচিত।
মামলা হওয়ার পর থানার একজন কর্মকর্তাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়। অনেক সময় ওসি নিজেও তদন্ত কর্মকর্তা হতে পারেন। আবার মামলা গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি বা র‍্যাবে হস্তান্তরিত হলে সেখানে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তবে যে বাহিনীই তদন্ত করুক না কেন বা আটক করুক না কেন, মামলা স্থানীয় থানায় হতে হবে। এ কারণেই র‍্যাব বা সিআইডি, ডিবি কাউকে আটক করলেও সেটার মামলা স্থানীয় থানায় হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সেটার তদন্ত করে থাকতে পারে।
থানার পুলিশ, র‍্যাব, সিআইডি, ডিবি- যেকোনো বাহিনী তদন্ত করার পর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেখানে কাউকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ পত্র দেয়া হতে পারে আবার কাউকে তদন্তে নির্দোষ পেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হতে পারে। তার ভিত্তিতে আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হবে।
হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে মামলা হতেই হবে। সেক্ষেত্রে অনেক সময় অভিযোগকারী পাওয়া না গেলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে থাকে।

আদালতে মামলা

কোন কারণে থানা মামলা না নিলে বা থানায় মামলা করা সম্ভব না হলে ভুক্তভোগী ব্যক্তি আদালতে মামলা করতে পারেন।
আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করলে মামলাটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানাকে এফআইআর গ্রহণ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। অথবা আদালত সেই আবেদন খারিজও করে দিতে পারেন।

রাষ্ট্রদ্রোহের মতো কিছু মামলায় আদালতে সরাসরি বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে জমি-জমা, সম্পত্তি, পারিবারিক বিষয় (পারিবারিক নির্যাতন, নারী সহিংসতা ব্যতীত), অর্থ ইত্যাদি বিষয়ে আদালতে দেওয়ানী মামলা করা যায়।

মামলার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য সবসময়েই আইনজীবীদের সহায়তা নেয়া যেতে পারে।

সাধারণত ফৌজদারি এবং দেওয়ানী- উভয় মামলার ক্ষেত্রে আলাদা ধরণের আইনজীবী কাজ করেন। সুতরাং আইনজীবীর সহায়তা নিতে হলে সেটাও আগে জেনে নেয়া দরকার।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হালিমা ফেরদৌস বলছেন, ‘’মামলা ফাইলিংয়ের ক্ষেত্রে এফিডেভিট লাগে বিধায় একজন আইনজীবীর সহায়তা দরকার হয়। তবে ভুক্তভোগী ব্যক্তি চাইলে নিজের মামলা নিজেও পরিচালনা করতে পারেন।‘’

উচ্চ আদালতে রিট ও অন্যান্য

অ্যাডমিরালটি (সমুদ্র-সংক্রান্ত বিষয়) এবং কোম্পানি সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি উচ্চ আদালতে বিচার প্রার্থনা করা যায়।
এছাড়া জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে রিট দায়ের করা যায়।
নিম্ন আদালতের বিচারে সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জোবাইদা গুলশান আরা বলছেন, ‘’রিট দাখিলের একটি নির্দিষ্ট কাঠামো আছে। সেটা অনুসরণ করে যেকোনো ব্যক্তি নিজেই রিট দায়ের করতে পারেন। আদালতের সম্মতি নিয়ে তিনি তার রিটের ব্যাপারে শুনানিও করতে পারেন।‘’
তবে এফিডেভিট দাখিলে অভিজ্ঞ না হলে এসব ক্ষেত্রে কোন অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
তবে আগাম জামিনের আবেদন করা ছাড়া নিম্ন আদালতের যেসব মামলার বিচার হয়, সেসব মামলার ব্যাপারে সরাসরি উচ্চ আদালতে যাওয়া যায় না।
নিম্ন আদালতে রায় হলে তার বিরুদ্ধে আপীল বা বিচারে অসন্তুষ্ট হলে সেই ব্যাপারে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া যেতে পারে।

আইনি সহায়তা

যেকোনো মামলায় বিচার কার্যক্রম শুরু হলে মামলা ফাইলিং, আইনজীবীদের খরচ থেকে শুরু করে আদালতে বিভিন্ন খরচ থাকে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের একটি আইনি সহায়তা তহবিল রয়েছে। প্রতিটি জেলা আদালতে এই তহবিল থেকে মামলা চালাতে অক্ষম ব্যক্তিরা সহায়তা নিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে তাদের তহবিল পাওয়ার শর্ত পূরণ করতে হয়।

এছাড়া বেসরকারি কিছু সংস্থা, যেমন ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র, লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস, মহিলা আইনজীবী সমিতির মতো বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা দুঃস্থ ও মামলা চালাতে অক্ষম ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে।
পুলিশ বাদী মামলাগুলো পরিচালনা করে থাকেন সরকারি কৌসুলিরা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হালিমা ফেরদৌস বলছেন, যেসব মামলা হয়ে থাকে, সরকারি কৌসুলি, যেমন পিপি, এপিপি সাধারণভাবে তার পক্ষের একজন আইনজীবী হয়ে থাকে। এছাড়া যিনি মামলা করেছেন, তিনিও আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন বা নিজেও আদালতের অনুমতি নিয়ে পরিচালনা করতে পারেন।‘’
(প্রতিবেদনটি তৈরীতে বিবিসি বাংলার সহায়তা নেয়া হয়েছে)।

হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম

0

হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেন হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম

নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে ‘মারধরের’ মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সংসদ সদস্য হাজি মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম।
তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এই রায় দেয়।
এ মামলায় জামিন পাওয়ায় ইরফান সেলিমের কারামুক্তিতে আর বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।
আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, “তিনি দুটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। আজকে হাই কোর্ট এ মামলায় তাকে জামিন দিয়েছেন। আজকের জামিন আদেশের অনুলিপি পেলেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।”
তবে রাষ্ট্রপক্ষ হাই কোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।
গত ২৭ এ মামলায় ইরফান সেলিমের জামিন প্রশ্নে দুই সপ্তাহের রুল দিয়েছিল হাই কোর্ট। তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, জানতে চাওয়া হয়েছিল রুলে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আর নেই

0

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আর নেই। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
৮১ বছর বয়সী মওদুদ আহমদ কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত চরিত্র মওদুদ আহমদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন। জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি উপ প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, পরে এইচ এম এরশাদের সময়ে উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবং বুকে ব্যথা অনুভব করায় গত ৩০ ডিসেম্বর মওদুদ আহমদকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ জানুয়ারি তার হৃদযন্ত্রে পেস মেকার বসানো হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে।
মওদুদ আহমদের একান্ত সহকারী মোমিনুর  রহমান সুজন বলেন, “স্যার হাসপাতালে আইসিউতে ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরেই তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন ছিল। ফুসফুসে পানি জমা হচ্ছিল। তাতে অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়। পাশাপাশি উনার কিডনি জটিলতাও ছিল, ডায়ালাইসিস করতে হচ্ছিল।”
মওদুদ আহমদের নরওয়ে প্রবাসী মেয়ে সিঙ্গাপুর আসার পর পারিবারিকভাবে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হবে এবং তার দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
প্রবীণ এই আইনজীবীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, “মওদুদ আহমদের এই চলে যাওয়ায় জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। তিনি সারাদেশের একজন মুরুব্বি ছিলেন।… তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে, দেশের জনগণ একজন জনপ্রতিনিধিকে হারাল।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
১৯৪০ সালে নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের জন্ম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে তিনি যুক্তরাজ্যে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি নেন। পরে দেশে ফিরে যুক্ত হন আইন পেশায়।
কবি জসীমউদ্দীনের জামাতা ব্যারিস্টার মওদুদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মপক্ষ সমর্থন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাকে প্রথম পোস্ট মাস্টার জেনারেল করা হয়।
পরে দেশের প্রথম সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগ দেন মওদুদ। বিএনপি গঠনে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জিয়া তাকে মন্ত্রী ও পরে উপপ্রধানমন্ত্রী করেছিলেন।
জিয়ার মৃত্যুর পর মওদুদ সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাত ধরেন। এরশাদের নয় বছরের শাসনামলে তিনি মন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী এবং উপরাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
এরশাদ সরকারের পতনের পরও জাতীয় পার্টিতেই ছিলেন মওদুদ। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর তিনি বিএনপিতে ফেরেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে তিনি আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত মওদুদ, আইন ও সমকালীন রাজনীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। স্বায়ত্বশাসন থেকে স্বাধীনতা, বাংলাদেশ: শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনকাল, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ – প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের রাজনীতি ও সামরিক শাসন, এ স্টাডি অব দ্য ডেমোক্রেটিক রেজিমস, কারাগারে কেমন ছিলাম, বাংলাদেশ: ইমার্জেন্সি অ্যান্ড আফটারম্যাথ  ২০০৭-২০০৮ তার উল্লেখযোগ্য বই্।   
বিভিন্ন মহলের শোক ঃ
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রবীণ আইনজীবী মওদুদ আহমেদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “মওদুদ  আহমদের বর্নাঢ্য রাজনৈতিক  জীবন।  উপমহাদেশের অন্যতম আইনজ্ঞকে আমরা হারালাম, বিএনপি ও বাংলাদেশ হারালো একজন অভিভাবককে।

“তার এই মৃত্যুতে আমি ব্যক্তিগতভাবে শোকগ্রস্ত। কারণ তার সাথে আমার দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। তিনি আমাদের বিএনপির একজন অভিভাবক ছিলেন। এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়।’

মওদুদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “জাতি একজন বীর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও প্রবীন রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে।”  

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ নোয়াখালীর যে আসনের সাংসদ ছিলেন, এখন সেই আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এক শোক বার্তায় তিনি প্রয়াত এই বিএনপি নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও তাদের এই সহকর্মীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতা কাদের সিদ্দিকী, এলডিপির অলি আহমেদ, জেএসডির আ স ম আবদুর রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, আবু সাইয়িদ, সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং ২০ দলীয় জোটের নেতারা মওদুদ আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ কতজনকে ‘দায়মুক্তি’ দিয়েছেন, জানতে চায় হাই কোর্ট

0

দুর্নীতি দমন কমিশনের সদ্য বিদায়ী চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অবসরে যাওয়ার আগের পাঁচ মাসে দুদকের অনুসন্ধান থেকে কতজনকে ‘দায়মুক্তি’ দিয়েছেন, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে থাকলে কেন তা দেওয়া হয়েছে, তাদের নাম, ঠিকানাসহ তালিকা আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে দুদককে দিতে বলা হয়েছে।
দুদকে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’- শিরোনামে  গত ১৪ মার্চ দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নজরে আসার পর মঙ্গলবার স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
সেই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবেদককে এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।
ইকবাল মাহমুদ ২০১৬ সালের ১০ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। প্রায় পাঁচ বছর তিনি দায়িত্ব পালন করে গত ৯ মার্চ তিনি বিদায় নেন।
এদিকে সরকারি সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশনে ১০ বছর ধরে ‘জায়িয়াতি’ এবং ২৬ কোটি টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে সংস্থাটির অবস্থান কী, তা জানতে চেয়েছে আদালত। সাধারণ বীমা কর্তৃপক্ষকে তা লিখিতভাবে ১১ এপ্রিলের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘১০ বছর ধরে জালিয়াতি, ২৬ কোটি টাকা আত্মসাত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন নজরে আনার পর হাই কোর্টের একই বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।  এ প্রতিবেদনের প্রতিবেদককেও যাবতীয় তথ্য আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। 
প্রতিবেদন দুটি আদালতের নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মানিক।
তিনি বলেন, “আজ সকালে দুটি পত্রিকার দুটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনলে আদালত দুটি প্রতিবেদনের বিষয়েই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দিয়েছেন।”
‘দুদকে ‘অনুসন্ধান বাণিজ্য’ শিরোনমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদায়ের আগে ‘দুর্নীতির বহু রাঘব বোয়ালকে’ ছেড়ে দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
“তাদের দায়মুক্তি আড়াল করতে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন কিছু নিরীহ ও দুর্বল ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে শেষ ৫ মাসে তিনি ২ শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি (দায়মুক্তি) দেন। তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের।
“সূত্রটি জানায়, ইকবাল মাহমুদ বিদায় নেয়ার আগে স্বীয় কৃতকর্মের অনেক দালিলিক প্রমাণই যথাসম্ভব ‘নিশ্চিহ্ন’ করে যান। এর পরও এ প্রতিবেদকের হস্তগত হয় বেশকিছু নথি। সে অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দুই শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।
“সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগগুলো সত্যিকারার্থে অনুসন্ধান হয়নি। হয়েছে অনুসন্ধান-বাণিজ্য। কথিত ‘নথিভুক্তি’ কিংবা ‘অনুসন্ধান পরিসমাপ্তি’র নেপথ্যে রয়েছে কোটি কোটি টাকার লেনদেন।”
আর বীমা করপোরেশনের জালিয়াতি নিয়ে মঙ্গলবার প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব খুলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) আয় থেকে ২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি চক্র।
“চক্রটির নেতৃত্ব দিয়েছেন এ সংস্থারই প্রধান কর্যালয়ের অডিট অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম। ১০ বছর ৬ মাস ধরে এ কাণ্ড ঘটে চললেও এসবিসি ছিল পুরোপুরি অন্ধকারে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

পি কে হালদার কেলেঙ্কারিঃ হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে নড়েচড়ে বসছে দুদক, গ্রেপ্তার হচ্ছেন এস কে সুর ও শাহ আলম

0

অর্থ ‘পাচার’ ঘটনায় পি কে হালদারের সহযোগী বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমের শেষ রক্ষা হচ্ছে না। তাদের জেলে যেতেই হচ্ছে । হাইকোর্টের কড়া নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এতোদিনেও কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হলো না তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে হাই কোর্ট।
হাইকোর্ট দুদককে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে অর্থপাচার ও দুর্নীতির সহযোগী এস কে সুর ও শাহআলমকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ না নিলে আদালত এ বিষয়ে আদেশ দিতে বাধ্য হবে। সোমবার কড়া ভাষায় দুদককে জানিয়ে দিয়েছে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল বেঞ্চ।
হাইকোর্টের এই কড়া অবস্থানের পর দুদকও তার অবস্থান পাল্টিয়েছে বলে জানা গেছে। যে কোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে দুজনকে। এ জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে দুদক।
সোমবার এ বিষয়ে শুনানির এক পর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক নজরুল ইসলাম তালুকদার দুদকের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, পি কে হালদারের অর্থ আত্মসাত এবং পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার যারা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং সেই জবানবন্দিতে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিষয়ে দুদক কী পদক্ষেপ নিয়েছে।
জবাবে দুদকের আইনজীবী বলেন, জবানবন্দিতে যাদের নাম এসেছে, তাদের কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কেউ কেউ পলাতক।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার তখন বলেন, “এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম বিভিন্ন মাধ্যমে আসছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন?”
দুদকের আইনজীবী তখন বলেন, কমিশনের চিঠির ভিত্তিতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তাদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে।
বিচারক তখন দুদকের আইনজীবীর কাছে প্রশ্ন রাখেন- “গ্রেপ্তার করছেন না কেন? আপনারা পদক্ষেপ না নিলে আদেশ দিতে বাধ্য হব। আগে তাদের ধরেন। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে মেহমানদারী করতে পারেন না। তাদের অবশ্যই কারাগারে নিতে হবে।” 
পলাতক পি কে হালদারের দুই সহযোগী ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাশেদুল হক ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দী আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে এস কে সুর ও শাহ আলমের নাম আসে।  

পিপলস লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরাও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই দুই সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে আসছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ আমানতকারীর আবেদনে হাই কোর্ট গত ৫ জানুয়ারি ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে, যাদের মধ্যে এস কে সুর চৌধুরীর নামও ছিল।
অভিযোগ ওঠার পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী পরিচালক মো. শাহ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি অন্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন।
আর এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।
পিকে হালদার নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন এবং এ কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার ‘যোগসাজশ’ ছিল বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।
বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। ভুয়া ও কাগুজে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৫১ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাতের অভিযোগে পি কে হালদারসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা করেছে দুদক।

দুই প্রতিবেদন ঃ

পিকে হালদারের পালিয়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পৃক্ত বাংলাদেশে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে এদিন আদালতে দুটি প্রতিবেদন দেয় পুলিশ ও বাংলাদেশ ব্যাংক।
পিকে হালদার পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল ও শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের কতজন দায়িত্বে ছিলেন, কারা কারা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ভূমিকা কী ছিল, পুলিশের প্রতিবেদনে সেই তথ্য এসেছে।
পাসপোর্ট জব্দে হাই কোর্টের নির্দেশ থাকার পরও পি কে হালদার কীভাবে দেশ থেকে পালিয়েছে, তা জানতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। 
ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রতিবেদন সম্পর্কে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মানিক জানান , “২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর বিকেল পৌনে ৪টায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিনি (পি কে হালদার) দেশ ত্যাগ করেন। সেদিন ইমিগ্রেশন পুলিশের ৫৯ জন সদস্য বেনাপোল স্থলবন্দরে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।”
পিকে হালদার পালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতা ছিল কিনা, প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে এই আইন কর্মকর্তা বলেন, “এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কোনো ব্যর্থতা বা গাফিলতি ছিল না। পিকে হালদারের পালিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত দুদকের চিঠি তারা পেয়েছে সে পালিয়ে যাওয়ার পরে।”
ডিএজি মানিক বলেন, পি কে হালদার যাতে দেশত্যাগ করতে না পরে সেজন্য ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর পুলিশের বিশেষ শাখায়  (এসবি) চিঠি দেয় দুদক। ডাকযোগে পাঠানো সেই চিঠি এসবি পায় ২৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায়। পরে এসবি সে চিঠি দেশের সব স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে দায়িত্বপালনকারী ইমিগ্রেশন ইউনিটকে পাঠায়। ইমিগ্রেশন ইউনিট ওইদিন পৌনে ৬টায় চিঠি পায়। কিন্তু তার ঘণ্টা দুই আগে বিকেল ৩টা ৩৮ মিনিটে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পি কে হালদার দেশ ছেড়ে যান।
“প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিঠি পাঠানোর আগে দুদক যদি ২৩ অক্টোবর সকালে টেলিফোনে ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করত, তাহলে পিকে হালদারের পালানোর পথ হয়ত বন্ধ করা যেত।”
তবে দুদকের আইনজীবী শুনানিতে দাবি করেন, এক্ষেত্রে কমিশনের কোনো গাফিলতি ছিল না।
আইনজীবী খুরশীদ আলম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, “দুদকের লিখিত কপিটা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রিসিভ করেছেন ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। সেটা আরও কনফার্ম করতে সেই চিঠিটা হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো হয় ২টা ৪৩ মিনিটে। সেটা যে তারা রিসিভ করেছেন, সেটিও দুদকের কাছে আছে। সুতরাং দুর্নীতি দমন কমিশনের এখানে কোনো অবহেলা ছিল না।”
এদিকে অর্থ পাচার রোধ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ (আইএডি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ (এফআইআইডি) ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিভাগ (ডিএফআইআইডি) বিভাগে গত এক যুগ (২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত) কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নাম, পদবী, ঠিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগে (আইএডি) গত এক যুগে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৭৫ জন কর্মকর্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে (এফআইআইডি) দায়িত্ব পালন করেছেন ৫০ জন এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বাজার বিভাগ (ডিএফআইআইডি) বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন ১২৯ জন। মোট ৩৫৪ জন বাংলাদেশ ব্যাংকের এই তিন বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ সময়ে (২০০৮ থেকে ২০২০ পর্যন্ত) অর্থপাচার রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের ব্যর্থতা আছে কিনা, ব্যর্থ হয়ে থাকলে কেন হলেন, অর্থপাচারের বিষয়টি তারা টের পেয়েছিল কিনা, পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন কিনা,  তাদের ইন্ধন বা যোগসাজশে অর্থপাচার হয়েছে কিনা,বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে সে তথ্য ছিল না। 
ডিএজি মানিক জানান এসব বিষয় জানাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাত সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৬ এপ্রিল বিষয়টি পরবর্তী শুনানির জন্য রাখা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা।

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ল আরও ৬ মাস, যেতে পারবেন না বিদেশ, আগের সব শর্ত বহাল

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানো হয়েছে। তবে এ সময়ে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাজা আরও ৬ মাসের জন্য স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন করেছেন। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতও প্রস্তাবের সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে গত ৮ মার্চ খালেদা জিয়ার শাস্তি স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়ে মতামত দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আগের শর্তগুলো বহাল রাখার বিষয়ে তাদের মতামতের কথাও জানায় আইন মন্ত্রণালয়।
আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় দফায় ৬ মাসের মুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৪ মার্চ।
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১-এ খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে দেশের অভ্যন্তরে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে এ মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
গত ২ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে এ-সংক্রান্ত আবেদন করেন।
খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো, মওকুফ এবং শর্ত শিথিল করে বিদেশে পাঠানোর আবেদন করা হয়।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এ মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
কারান্তরীণ অবস্থায়ই চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয় খালেদা জিয়াকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। এভাবে কয়েক দফায় তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এবং হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া হয়।
মামলা দুটি ষড়যন্ত্রমূলক বলার পাশাপাশি বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এ ক্ষেত্রে তারা আদালতেও আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বরাবরই বিফল হতে হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বকে।
এর মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার মুক্তির জোর দাবি তোলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ দুই বছর পর সরকার শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয়। প্রথম দফা মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসলে গত বছরের ২৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদন বিবেচনা করে সরকার দ্বিতীয় দফায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ মাসের জন্য তার মুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে।

৭ বছরের শিশু ধর্ষণ, জামালপুরে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0

জামালপুরের ইসলামপুরে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে হাফেজ মো. সাইদুল ইসলামকে (২০) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক এম আলী আহমেদ এই রায় দেন ।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইমাম সাইদুল ইসলাম ইসলামপুর উপজেলার মোহাম্মদপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. সাহাব আলীর ছেলে। তিনি ওই এলাকার পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি করতেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আকরাম হোসেন জানান, দণ্ডিত সাইদুল ইসলাম ধর্ষণের শিকার শিশুটির পিতার চাচার বাড়িতে থেকে মসজিদে ইমামতি করতেন এবং মক্তবে ছাত্রছাত্রী পড়াতেন। ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর সকালে মক্তবপাঠ শেষে তিনি বাড়ি ফিরে ওই শিশুকে ঘর পরিষ্কারের জন্য ডেকে নিয়ে যান। বাড়িতে লোকজন না থাকায় শিশুটিকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান।
শিশুটিকে প্রথমে ইসলামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তারি পরীক্ষায় শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে আলামত পাওয়া যায়।
পরে ২২ নভেম্বর শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ইমাম সাইফুল ইসলামকে আসামি করে ইসলামপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। সেই মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে আদালত এই রায় দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি: দুদুর বিরুদ্ধে চার্জশিট

0

টেলিভিশন টক শোতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে চট্টগ্রামে দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
সোমবার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুন নাহার বেগমের আদালত এই আদেশ দেয়া হয়।
২০২০ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুল আলম বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা করার ব্যবস্থা নিতে রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন।
এরআগে গত ৬ই সেপ্টেম্বর ডিবিসি নিউজের ‘রাজকাহন’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি মতিন খসরু,সম্পাদক কাজল; সংখ্যাগরিষ্ঠতা আওয়ামীপন্থিদের

0

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু।
আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপিপন্থী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুক্রবার ভোট গণনা শেষে রাত একটার দিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আহ্বায়ক সাবেক বিচারপতি এএসএম আবদুর রহমান ফল ঘোষণা করেন।
এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ হয়।
এবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৪টি পদের মধ্যে ৮টি পদে বিজয়ী হয়েছেন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত ‘সাদা প্যানেল’র প্রার্থীরা। আর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত নীল প্যানেলে’র প্রার্থীরা ৬টি পদে বিজয়ী হয়েছেন।
সভাপতি, একটি সহ-সভাপতি, একটি সহ-সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও চারটি সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাদা প্যানেলের প্রর্থীরা।
আর সম্পাদক, একটি সহ-সভাপতি, একটি সহ-সম্পাদক ও তিনটি সদস্য পদ পেয়েছে বিএনপিপন্থি নীল প্যানেল।
সভাপতি পদে আবদুল মতিন খসরু ২ হাজার ৯৬৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নীল প্যানেলের মো. ফজলুর রহমান পেয়েছেন ২ হাজার ১৩২ ভোট।
সম্পাদক পদে নীল প্যানেল থেকে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস ৩ হাজার ৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাদা প্যানেলের আবদুল আলিম মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ২০৪ ভোট।
সহ-সভাপতির দুটি পদের একটিতে নীল প্যানেলের মো. জালাল উদ্দিন সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যটিতে ২ হাজার ৬১১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন সাদা প্যানেলের মুহাম্মদ শফিক উল্ল্যা।
কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন সাদা প্যানেলের প্রার্থী মো. ইকবাল করিম। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব পেয়েছেন ২ হাজার ১৫১ ভোট।  
সহ-সম্পাদকের দুটি পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছেন নীল প্যানেলের মাহমুদ হাসান, তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৭২৪ ভোট। অন্যটিতে সাদা প্যানেলের সাফায়েত সুলতানা রুমা ২ হাজার ৫১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
সাতটি সদস্য পদের মধ্যে সাদা প্যানেলের যে চার প্রার্থী বিজয় হয়েছেন তারা হলেন, হলেন এ বি এম শিবলী সাদেকীন, মাহফুজুর রহমান, মিন্টু কুমার মণ্ডল, মুনতাসীর উদ্দিন আহমেদ।
আর নীল প্যানেলের বিজয়ীরা হলেন, এস এম ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ, পারভীন কাওসার ও রেদওয়ান আহমেদ।
এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ভোটার ৭ হাজার ৭২১ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ৪৮৬ জন ভোট দিয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।