ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 142

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন চার বাংলাদেশী নারী বিচারক; বিচার বিভাগের জন্য মাইলফলক, বললেন আইনমন্ত্রী

0

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মতো চার বাংলাদেশী নারী বিচারক অংশ নিতে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন দক্ষিণ সুদানে অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (ইউএনএমআইএসএস) এবং অন্যজন সোমালিয়ায় অবস্থিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে (ইউএনএসওএম) যোগ দিবেন। চার বিচারকের মধ্যে মুন্সীগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আফসানা আবেদীন ও টাংগাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন মাহবুবা আগামীকাল ৮ মার্চ সকাল সাড়ে দশটায় দক্ষিণ সুদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশের চার নারী বিচারকের জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যোগ বিচার বিভাগের জন্য এক মাইলফলক বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তথা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী বিচারকগণের এ অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ বিচার বিভাগের জন্য একটি মাইলফলক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের নারী বিচারকগণ তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবেন।

এদিকে এ উপলক্ষে রোববার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার তাঁদের বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বিভাগের যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহাসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজার জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক (জেলা জজ) জেবুন্নাহার আয়শা আগামী ১৯ মার্চ দক্ষিণ সুদানের উদ্দেশ্যে এবং জামালপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ লুবনা জাহান ১৫ মার্চ সোমালিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
তাঁরা সেখানে রুল অভ ল’ অ্যাডভাইজরি শাখায় এক বছর প্রেষণে জাস্টিস এডভাইজার হিসেবে বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও উন্নয়নে কাজ করবেন। এজন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে আইন ও বিচার বিভাগ থেকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ০১ মার্চ তারিখে পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত চারজন বিচারককে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। এ দিবসে দু‘জন নারী বিচারকের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যোগদান বাংলাদেশের বিচার বিভাগের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী নারী বিচারকের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি রক্ষা কার্যক্রম আরও মজবুত হবে।

অবশেষে হাইকোর্ট থেকে ৬ মাসের জামিন পেলেন কার্টুনিস্ট কিশোর

0

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যে মামলায় দশ মাস ধরে কারাবন্দি কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।
তার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেয়।
আদালত বলেছে, কিশোর যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আছেন এবং মামলাটিতে যেহেতু পুনঃতদন্ত চলছে, সে কারণে তাকে ছয় মাসের জামিন দেওয়া হল।
আদালতে কিশোরের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
ডিএজি বাপ্পী জানান, বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় পুনঃতদন্তের যে আদেশ দিয়েছে, আগামী ১৫ মার্চ তার তদন্ত প্রতিবেদেন দেওয়ার তারিখ আছে।
আর হাই কোর্টের আদেশ অনুযায়ী আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া এদিন মুশতাকের কারাগারে মৃত্যুর বিষয়টি হলফনামা করে আদালতকে জানান।

নাইকো দুর্নীতি মামলা: খালেদা জিয়ার অব্যাহতির আবেদনের পরবর্তী শুনানি ১৮ মার্চ

0

নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অব্যাহতির আবেদনের আংশিক শুনানি নিয়ে ১৮ মার্চ পরবর্তী দিন রেখেছে আদালত।
কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২ নম্বর ভবনে ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন মঙ্গলবার সশরীরে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেন। তার অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।
তিনি বলেন, “নাইকো চুক্তির সিদ্ধান্ত ও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন খালেদা জিয়ার আগের প্রধানমন্ত্রী। খালেদা জিয়া তা বাস্তবায়ন করেছিলেন মাত্র। সুতরাং এ মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য ও যথাযথ নয়।”
এদিন আংশিক শুনানি শেষে বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান অবশিষ্ট শুনানির জন্য ১৮ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
মহামারীর মধ্যে বাইরে বের হওয়া ‘নিরাপদ নয়’- এই যুক্তি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দফায় দফায় সময়ের আবেদন করায় নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি বার বার পিছিয়ে যায়।
এ বিষয়ে তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিচারককে বলেছি, এর আগে খালেদা জিয়া কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় অসুস্থ থাকায় তাকে এজলাসে আনা হয়নি বার বার। সেজন্যও শুনানি পিছিয়েছে। এটা আমাদের ব্যথর্তা নয়।”
কানাডীয় প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেন।
২০১৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সেখানে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এমএএইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।
আগে এই মামলার বিচারকাজ পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে চলত। পরে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন খালেদা জিয়ার মামলাগুলোর বিচার কেরানীগঞ্জের কারাভবনের অস্থায়ী এজলাসে স্থানান্তরের আদেশ দেয় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইতোমধ্যে ১০ ও সাত বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
দেশে কেরানাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়। পরে আরও ছয় মাসের জন্য তা বাড়ানো হয়।
তখন থেকে গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ফিরোজায় থেকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৫ বছর বয়সী খালেদা। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কলাবাগানে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ-হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ফের নতুন তারিখ

0

কলাবাগানে মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তার বন্ধু ইফতেখার ফারদিন দিহানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ফের পিছিয়েছে।
মঙ্গলবার এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ ফ ম আসাদুজ্জামান তা দিতে পারেননি।
ঢাকার মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা এ মামলায় প্রতিবদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ মার্চ নতুন তারিখ রেখেছেন ।
তদন্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান এর আগে জানিয়েছিলেন, আসামি দিহানের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে, তবে রিপোর্ট তিনি পাননি। ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগ থেকে ডিএনএ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পর্যালোচনা করে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা যাবে।
গত ৭ জানুয়ারি কলাবাগানে দিহান তার বাড়ি থেকে তার বন্ধু ও লেভেলের ওই ছাত্রীকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।
এরপর দিহানকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন মেয়েটির বাবা। পুলিশ তখন দিহানকে গ্রেপ্তার করে।
ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেছিলেন, “মেয়েটির শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।”
দিহান ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘পরস্পরের সম্মতিতে’ তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয়েছিল।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ জানুয়ারি দিহানের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দেয় আদালত। দিহান উত্তেজক কোনো ওষুধ বা মাদক সেবন করেছিল কি-না তাও পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয় গত ১৩ জানুয়ারি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

গবেষণায় চুরির অভিযোগঃ সামিয়া রহমানের দাবি তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে

0

গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমান দাবি করেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি।
সামিয়া রহমান দাবি করেন, ‘ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মিথ্যা চিঠির উপর ভিত্তি করে’ তাকে ফাঁসানো হয়েছে।
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পেয়ে গত ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সামিয়া রহমান এবং ওই গবেষণায় তার সহযোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের পদাবনতি করে।
সামিয়াকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করা হয় এবং আগামী দুই বছর তিনি পদোন্নতির আবেদন করতে পারবেন না। অন্যদিকে শিক্ষা ছুটিতে থাকা মারজানকে  চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত আট পৃষ্ঠার একটি  গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির জন্য তাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়। বিডিনিউজ, বাংলা নিউজ।
ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন সামিয়া রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, আইনজীবী তুরিন আফরোজ। সামিয়ার স্বামী সৈয়দ ফিরোজ আহমেদ ও তার বন্ধু মিলু এইচ রহমানও সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।
সামিয়া বলেন, “প্রতিহিংসা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির নোংরামীর চরম শিকার হলাম আমি ।
“গত ৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের চাপে ও তদন্তাধীন বিষয় বলে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম। তার সুযোগে ষড়যন্ত্রকারীরা দিনের পর দিন প্রপাগান্ডা চালিয়েছে আমার বিরুদ্ধে। অবশ্যই বাংলাদেশের আদালতের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে আদালতেই যাচ্ছি।”
চার বছর আগে সামিয়া ও মারজানের ওই প্রবন্ধ প্রকাশের পর অভিযোগ ওঠে, এটি ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।
শুধু মিশেল ফুকোই নন, বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থ থেকেও সামিয়া ও মারজান নকল করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে ২০১৯ সালে ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে গত ২৯ অক্টোবর তাদের একাডেমিক অপরাধের শাস্তির সুপারিশ করতে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শাস্তির বিষয়ে সুপারিশ জমা দিলে গত ২৮ জানুয়ারি সিন্ডিকেটের সভায় তাদের শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়।
অ্যালেক্স মার্টিন নামে শিকাগো জার্নালের যে ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে তার শাস্তি হয়েছে, সেই সেই নামে কেউ নেই বলে দাবি করেছেন সামিয়া।
তিনি বলেন, “যে অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যার পরিচয় (শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্স মার্টিন পরিচয়ধারী) দিয়ে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস থেকে চিঠি এসেছে, সেই অ্যালেক্স মার্টিন বলেই তো ওই জার্নালে কেউ নেই এবং তারা এ ধরনের চিঠি পাঠায়নি। শিকাগো জার্নালের এডিটর নিজে এটি স্বীকার করেছেন।”
তিনি জার্নালের সম্পাদকের সঙ্গে তার নিজের একটি মেসেঞ্জারে কথা চালাচালির স্ক্রিনশট সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেন।
ওই প্রবন্ধটি নিজের লেখা নয় বলেও দাবি করেন সামিয়া।
তিনি বলেন, “প্রবন্ধের ওই লেখাটি আমার নিজের লেখা নয়। ছাত্র হিসেবে মারজানকে আমি বিভিন্ন সময় আইডিয়া দিয়েছিলাম। তার মধ্য থেকে সে এটি লিখে আমার নামও জুড়ে দেয়। আমাকে না জানিয়ে সেটি স্যোশাল সায়েন্স রিভিউ  জার্নালে প্রকাশের জন্য জমা দিয়েছে।”
বিষয়টি জানার পর তা প্রত্যাহারের জন্য ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের কাছে আবেদন করেছিলেন বলেও জানান সামিয়া।
“লেখাটি প্রত্যাহারের বিষয়ে তৎকালীন উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্যারকে অবহিত করলে সঙ্গে সঙ্গে তিনি সিন্ডিকেটে বিষয়টি তুলতে বলেন। কিন্তু ড. ফরিদ উদ্দিন বিষয়টি জিইয়ে রাখেন সময় ও সুযোগের জন্য। সাত মাস ধামাচাপা দিয়ে রাখার পর ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আরেফিন স্যার উপাচার্যের চেয়ার থেকে সরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ওই ভুয়া চিঠিটি তৈরি করা হয় শিকাগো জার্নালের নামে, অ্যালেক্স মার্টিনের পরিচয় দিয়ে। যেখানে অ্যালেক্স মার্টিন বলে কারও অস্তিত্ব নেই।”
সামিয়া বলেন, “যে প্লেইজারিজমের অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সেটির সঙ্গে জড়িত থাকার দালিলিক প্রমাণ ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত দিতে পারেনি। ট্রাইবুনালের সুপারিশ মওকুফ কমাতে পারে সিন্ডিকেট। কিন্তু যে অভিযোগের প্রমাণ তারা পায়নি, সেটা কীভাবে বাড়িয়ে শাস্তির মুখোমুখি করে?”
তিনি বলেন,“তদন্ত কমিটি ও সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ একপেশে, বিদ্বেষপ্রসূত ও পক্ষপাতদুষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। তারা ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত, সুপারিশ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবী মেজবাহউদ্দিন আহমেদের সিদ্ধান্তও মানেননি।
“সম্পূর্ণ উদ্দেশপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্টভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেটি তাদের তৈরি রিপোর্টেই কিন্তু স্পষ্ট।”
সামিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ।

মাদক মামলা থেকেও হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দিলো আদালত

0

অস্ত্র মামলার পর মাদক আইনের মামলাতেও ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত।
এ মামলার পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ঢাকার মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান সোমবার ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির আদেশ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে চকবাজার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন গত ৫ জানুয়ারি ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অস্ত্র মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে ওই মামলা থেকে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতি দেন ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ।
ইরফানের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ জানান,, “তার বিরুদ্ধে ৫ মামলার মধ্যে দুই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। আর আজকের মাদক মামলাসহ  দুই মামলায় অব্যাহতি পেলেন।”
এছাড়া নৌবাহিনীর কর্মকতাকে মারধরের মামলায় সম্প্রতি ইরফানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা পড়েছে আদালতে। সে মামলায় তিনি করাগারে রয়েছেন।
গত ২৪ অক্টোবর রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের একটি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনায় হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াসিফ।
পরদিন ২৫ অক্টোবর পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাটের দেবীদাস লেইনে হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালায় র‌্যাব। আটক করা হয় ইরফান ও তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদকে।
ওই ভবন থেকে দুটি অবৈধ পিস্তল, গুলি, একটি এয়ারগান, ৩৭টি ওয়াকিটকি, একটি হাতকড়া এবং বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করার কথা সে সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মদ আর ওয়াকিটকির জন্য ইরফান ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দেবীদাস লেইনে ওই অভিযানের মধ্যেই চকবাজারের আশিক টাওয়ারে ইরফানের ‘নির্যাতন কেন্দ্রের’ সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব।
পরে ইরফান সেলিমকে কারাগারে পাঠানো হয়। অস্ত্র ও মাদক আইনে আলাদা মামলা দায়ের করা হয়। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকেও বরখাস্ত হন তিনি।
র‌্যাবের ওই অভিযানের পর রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় হাজী সেলিমের ‘দখলদারিত্বের’ খবর আসতে থাকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয় তারাও হাজী সেলিমের ‘অবৈধ সম্পদ’ অনুসন্ধানে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে।
ইরফান ও তার দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে দায়ের করা র‌্যাবের মামলার এজাহারে বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুরান ঢাকায় ইরফানদের বাড়িতে সেই অভিযান চালানো হয়। ভবনের চতুর্থ তলা থেকে জাহিদুল মোল্লাকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪০৬টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
আর চতুর্থ তলার অপর একটি কক্ষ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং ইরফান সেলিমের কক্ষ থেকে ১২টি বিয়ারের ক্যান উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বলেছে, আগ্নেয়াস্ত্র বা মদ ও মাদক যে ইরফান সেলিমের, সে বিষয়ে সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
মামলার এজাহারে ‘মিসটেক অব ফ্যাক্টস’, অর্থাৎ, তথ্যগত ভুল ছিল জানিয়ে ইরফানের অব্যাহতি চাওয়া হয় সেখানে।
তবে জাহিদ মোল্লার কোমর থেকেই একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল, সঙ্গে ৪০৬টি ইয়াবা পাওয়া গিয়েছিল, সে কারণে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিএনপির আমীর খসরুকে দুই ঘন্টা দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

0

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে `অবৈধ সম্পদ’ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।
দুদকের তলবের আড়াই বছর পর সোমবার তিনি কমিশনে উপস্থিত হলে অনুসন্ধান কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, “কেন এখানে ডাকা হয়েছে, কী তার উদ্দেশ্য আপনারা বোঝেন।  আমাকে এখানে ডাকা হয়েছে আমার সম্পর্কে যা জানতে চেয়েছে, আমি তার জবাব দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “আমি সাধারণ জীবন-যাপন করি, আমার ইন্টিগ্রিটি নিয়ে প্রশ্ন করার কোনো সুযোগ নাই। আমার জীবনযাপন সম্পর্কে আপনারা জানেন।”
২০১৮ সালের ১৬ অগাস্ট `অবৈধ লেনদেন, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমীর খসরুকে তলব করে নোটিস দিয়েছিলেন দুদকের তৎকালীন পরিচালক কাজী শফিকুল।
ওই নোটিসে একই বছরের ২৮ অগাস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যকে সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল।
আমীর খসরুর বিরুদ্ধে ‘বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারের পাশাপাশি স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও নিজের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগ পাওয়ার কথা ওই নোটিসে বলা হয়েছিল।
ওই তলবে আমীর খসরু উপস্থিত না হওয়ায় পরে একই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর হাজির হতে আরেকটি নোটিস পাঠায় দুদক। কিন্তু তিনি নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন।
এরপর ২০১৮ সালেরই ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠান তিনি। হাই কোর্টে এই রিট ‘বিচারাধীন’ জানিয়ে এর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নিতে সেখানে অনুরোধ করা হয়।
পরে একই বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ওই রিট আবেদন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য তোলা হলে তা সরাসরি খারিজ করে দেয় আদালত।
পরে ২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট আমীর খসরু ও তার স্ত্রীকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করতে পৃথক নোটিস দেয় দুদক।
ওই নোটিসে আমীর খসরুর বিরুদ্ধে ‘নামে-বেনামে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদের প্রমাণ মেলার’ কথা বলা হয়েছিল।
এরপর সর্বশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আমীর খসরু, তার স্ত্রী তাহেরা খসরু আলম এবং ভায়রা (স্ত্রীর বোনের স্বামী) গোলাম সরোয়ারকে তলব করে নোটিস পাঠান দুদকের অনুন্ধান কর্মকর্তা।
এর আগে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর আমির খসরু ও তার স্ত্রী তাহেরা খসরু আলমকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক। সেই তলবে সোমবার তিনি হাজিরা দিয়ে গেলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

দুয়েকজনের পদস্খলনেও বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে: বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার

0

দুয়েকজনের পদস্খলনে পুরো বিচার ব্যবস্থা যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে প্রগতির ধারা যে বন্ধ হয়ে যাবে, কর্মজীবনের শেষ কার্যদিবসে সহকর্মী, আইনজীবী ও বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সেই সতর্কবাণী দিয়ে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়ায় রোববার বিচারিক দায়িত্ব থেকে অবসরে গেলেন এই বিচারক। এ উপলক্ষে তাকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়।
প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এবং আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল বিদায় সম্ভাষণ জানান।
বিদায় ভাষণে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “বিচার ব্যবস্থার সাথে জড়িত দুয়েকজনের পদস্খলনে পুরো বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। একবার যদি বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে যে কোনো সময় অপশক্তি আমাদের দেশ ও সমাজকে গ্রাস করে নিতে পারে। আমাদের প্রগতির ধারা অন্ধ প্রাচীরে বন্দি হয়ে যাবে।”
তবে সেই শঙ্কাকে মিথ্যে প্রমাণ করে সবার যৌথ প্রয়াসে বাংলাদেশের বিচার ব্যাবস্থা আরো পরিণত ও উন্নত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদায়ী এই বিচারক বলেন, “বিচার বিভাগে দুর্নীতির কালো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত অপপ্রচার আজকাল প্রায়শ আমাদের কানে আসে। বিচার ব্যবস্থায় কারো একক অধিকার নাই। কারো একক প্রয়াসেও তা চলতে পারে না।
“সমষ্টিগত প্রয়াসে ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পূর্বশর্ত। তাই বিচারক থেকে শুরু করে বিচার ব্যাবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলেরই একে অপরের সাথে নিবিঢ়ভাবে সংযুক্ত থেকে কাজ করতে হবে। সুবিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে বিচারালয়ের সর্বনিম্ন কর্মকর্তা থেকে সর্বোচ্চ পদাধিকারীর ঐকবদ্ধ থাকা একান্ত প্রয়োজন।”
কর্মজীবনের শেষ দিনে সর্বোচ্চ আদালতের এ বিচারক বলেন, একজন বিচারক সঠিকভাবে মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তা মোকাবেলা করতে হবে।
“একজন অভিভাবক যেমন সকলকে একত্রিত করে রক্ষা করেন। জ্যেষ্ঠ বিচারকগণও একইভাবে পরিবারের অভিভবকের মত কনিষ্ঠ বিচারকদের ভালোবাসবেন, স্নেহ করবেন, দিক নির্দেশনা দেবেন এটাই কাম্য। তাদের আগলে রেখে পথ দেখাতে হবে, যাতে তারা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে।”
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “সাংবিধানিকভাবে বিচার বিভাগ স্বাধীন। কিন্তু বাস্তবে কতটুকু, তা আমরা সকলেই জানি এবং বুঝি। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ- নির্বাহী বিভাগ, আইন  বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এই তিনটি বিভাগের চৌহদ্দি সংবিধান লক্ষণ রেখার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।
“সেখানে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে থাকারও নির্দেশনা আছে। এখানে প্রত্যেকেই নিজ নিজ পরিধির মধ্যে থেকে কে কতটুকু কাজ করবে, তা সংবিধানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ লক্ষণ রেখা অতিক্রম করতে না পারে।”
তিনি বলেন, “বিচার ব্যবস্থা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এটি তার নিজস্ব গতিতেই চলে। শত চেষ্টা চালিয়েও এর গতি কেউ রোধ করতে পারে না, পারবে না। তাই আমি বলি, যত বাধা বিপত্তি কিংবা ঘাত-প্রতিঘাতই আসুক না কেন, আমাদের ঐকান্তিক ও ঐকবদ্ধ প্রচেষ্টায় এর গতি (বিচার বিভাগের) কেউ কোনোদিন রোধ করতে পারবে না।”
বিচারকাজে বিচারক ও আইনজীবীর ভূমিকা, ন্যাবিচার, আইনের শাসন নিয়েও কথা বলেন সদ্য অবসরে যাওয়া এই বিচারপতি। তিনি মনে করিয়ে দেন, ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র বিচারক ও আইনজীবীদের পক্ষে সম্ভব না।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিচারকের আসনে বসে আমি আপনাদের বলেছিলাম, বিচারক ও আইনজীবী একটি পাখির দুটি ডানা। একটি ডানা যদি অচল হয় সে পাখির পক্ষে ওড়া অসম্ভব। একইভাবে বিচারক ও আইনজীবীর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ছাড়া সুবিচার সম্ভব না। সুবিচার, ন্যায় বিচার, আইনের শাসন আমরা যাই বলি না কেন- তা আইনজীবী ও বিচারকের সমন্বয়েই সম্ভব।
“তবে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র বিচারক ও আইনজীবীদের পক্ষে সম্ভব না। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং এর মর্যাদা বৃদ্ধি করতে বিচারক ও আইনজীবীগণের সাথে রাষ্ট্রের তথা সমাজের সকলের, সমাজের সমষ্টিগত প্রয়াসের প্রয়োজন। তা না হলে আইনের শাসন সুদূর পরাহত।”
আদালতের ঘোষিত রায় যেন কেউ বিতর্কিত করতে না পারে, সে আহ্বান রেখে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “সংবিধানে পরিচালিত বিচার বিভাগ যখন কোনো আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করেন, অথবা শাসন-প্রশাসনের কোনো ভুল সংশোধনের জন্য কোনো মন্তব্য করেন, আদেশ, নির্দেশনা দেন, তা সংবিধানের ১১১ ও ১১২ অনুচ্ছেদের আলোকে রাষ্ট্রের অন্য দুই বিভাগ তথা সকলেই মেনে চলতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য। আমার প্রত্যাশা, রাষ্ট্রের অঙ্গসমূহ তথা প্রশাসন যন্ত্র এই ব্যপারে সার্বক্ষণিকভাবে সতর্ক থাকবে।”
তিনি বলেন, “অনেক সময় বিচারবিভাগ প্রদত্ত আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। আমরা এক্ষেত্রে একজন বিচারক ও বিচার ব্যবস্থাকে এক করে ফেলি। আমারা ভুলে যাই যে বিচারকও একজন মানুষ। তার বিচার হল সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, দীর্ঘ দিনের সাক্ষী-সাবুদ ও আইনের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ফল।
“বিচারের রায় বিপক্ষে গেলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ বিচরককে বিতর্কিত করতে কোনো মন্তব্য করলে তা যেমন অন্যায়, তেমনি যার পক্ষে রায় যায়, তার স্তুতিবাক্যে বিচারককে বিভ্রান্ত করাটাও অন্যায়।
“আমার অনুরোধ, বিচার-বিশ্লেষণ না করে আইনের তথ্য-উপাত্ত স্পষ্টভাবে না জেনে কোনো রায়কে কেউ যেন বিতর্কিত না করে। অযৌক্তিকভাবে আদালতের ঘোষিত রায় বিতর্কিত করার এই চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে জাতি হিসেবে আমাদের অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।”
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “আপনাদের কাছে আমার সনির্বন্ধ অনুরোধ, আমরা যেন এমন কিছু না করি যাতে সুবিচারের প্রতি এই শ্বেতশুভ্র অট্টালিকার গায়ে এতটুকু কালিমা লাগে।”
১৯৫৪ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন মির্জা হোসেইন হায়দার। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন।
আইনে অনার্স ও মাস্টার্স করার পর ১৯৭৯ সালে জেলা আদালত, ১৯৮১ সালে হাই কোর্ট বিভাগ ও ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন হোসেইন হায়দার।
এরপর ২০০১ সালের ৩ জুলাই তিনি হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০০৩ সালের ৩ জুলাই স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যোগ দেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের কার কত টাকা, জানতে চায় হাই কোর্ট, বিশেষ তদন্ত দল গঠনের নির্দেশনা

0

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের কতজনের কত টাকা আছে তার তালিকা চেয়েছে হাই কোর্ট।
সেসঙ্গে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের বেঞ্চ রোববার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
বিদেশি ব্যাংক বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে ১ ফেব্রুয়ারি রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস।
আবেদনের পক্ষে আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান নিজেই শুনানি করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
বিদেশি ব্যাংক বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের নাগরিক অথবা কোম্পানি এবং অন্য কোনো সত্ত্বার গোপনে গচ্ছিত টাকা উদ্ধারে বিবাদিদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
পানামা পেপার ও প্যারাডাইস পেপারে বাংলাদেশি যেসব নাগরিক ও কোম্পানির নাম এসেছে তাদের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং সে তদন্তের অগ্রগতি প্রতি মাসে আদালতকে জানাতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। 
সে সঙ্গে বাংলাদেশি কোনো নাগরিক অথবা কোম্পানি বা অন্য কোনো সত্ত্বার অর্থপাচার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নের বিষয় নিরীক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
অর্থ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাণিজ্য সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার ও পুলিশ প্রধানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আগামী ৩০ মার্চ পরবর্তী শুনানি ও আদেশের তারিখ রেখেছে আদালত। 
রোববার শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচিত পানামা ও প্যারাডাইস পেপারে যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এ পর্যন্ত যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও মুসা বিন শমসের।
সুইস ব্যাংক থেকে টাকা আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইমিগ্রেশন পুলিশ, বিএফআইইউ সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে।
পরে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “গত বছর ২২ নভেম্বর অর্থপাচারকারী, দুর্বৃত্তদের বিষয়ে আদালত যে স্বপ্রণোদিত রুল জারি করেছিল এ রিট আবেদনে একই ধরনের আরজি জানানো হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে রুল জারির বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত রুল জারি করেছেন। তবে স্বপ্রণোদিত রুল ও আজকে জারি করা রুলের শুনানি একসাথে হবে। ৩০ মার্চ আদেশের জন্য ধার্য্য করা হয়েছে।”
কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচারকারীদের নাম, ঠিকানাসহ অর্থ পাচারের যাবতীয় তথ্য জানতে চাওয়ার ধারাবাহিকতায় গত বছর ২১ ডিসেম্বর আদালত আরেকটি আদেশ দেয়।
অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মাধ্যমে যারা বিদেশে বাড়ি নির্মাণ করেছে অথবা কিনেছে, সেই বাংলাদেশিদের মধ্যে যাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট আছে এবং যারা দেশের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে দেশে-বিদেশে নির্বঘ্নে আসা-যাওয়া করছে, তাদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল সে আদেশে। 
ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুলিশের বিশেষ শাখার সুপারকে (ইমিগ্রেশন) এ তালিকা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, “দ্বৈত নাগরিকের তালিকা দেওয়ার বিষয়ে আমরা সময় চেয়েছিলাম। তবে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তা হচ্ছে, কমবেশি মিলিয়ে প্রায় ১৪ হাজারের মত দ্বৈত নাগরিক আছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাসপোর্ট জমা দিয়ে তারা ঘোষণা দিয়েছেন। সে তালিকা এখনও আমরা হাতে পাইনি। অনেক বড় ব্যপার তৈরি করতে হচ্ছে। সবগুলো মিলিয়ে ৩০ মার্চ শুনানি হবে।”
গত বছর ১৮ নভেম্বর ডিআরইউর মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশ থেকে কানাডায় টাকা পাচারের সত্যতা পাওয়ার কথা জানান।
প্রাথমিকভাবে অর্থপাচারে জড়িত যাদের তথ্য পাওয়া গেছে তার মধ্যে সরকারি কর্মচারীই বেশি বলে জানান তিনি।
এছাড়া রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীও রয়েছেন বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেলেন। তবে সেদিন কারও নাম তিনি প্রকাশ করেননি।
সে বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বাঙালি অধ্যুষিত কানাডার কথিত ‘বেগম পাড়ার’ প্রসঙ্গ উঠে আসে।
সেসব প্রতিবেদন নজরে আসার পর গত বছর ২২ নভেম্বর হাই কোর্ট অর্থপাচারকারী, দুর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা জানতে চায়।
স্বরাষ্ট্র সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।
এছাড়া প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করে অর্থপাচারকারী সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও অন্যদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।
নির্দেশ অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
এসব প্রতিবেদনের উপর শুনানির পর আদালত আবার অর্থ পাচারকারীদের নাম ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য চেয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ রাখে।
এদিকে বিদেশি ব্যাংক বিশেষ করে সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে এ রিট আবেদনটি করা হয়।
১০ ফেব্রুয়ারি রিটের শুনানির পর তা আদেশের জন্য রাখা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রুলসহ আদেশ দিল উচ্চ আদালত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশ, সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

0

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার কৃতিত্ব জনগণকে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের এই অর্জন তুলে ধরতে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, “এ কৃতিত্ব এ দেশের আপামর জনসাধারণের। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই মাইলফলক অর্জন করতে পেরেছি।”
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ভার্চুয়ালি এই সংবাদ সম্মেলন করেন শেখ হাসিনা।
তিনি শুরুতেই বলেন, “আজ অবশ্য আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি বাংলাদেশের একটি মহৎ এবং গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
“বাংলাদেশ গতকাল স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি।”

লক্ষ্য অর্জনের এই সময়ের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের এই উত্তরণ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি; আমরা মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের জন্য এ উত্তরণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা।”

১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপির সব শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে।

জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী, কোনো দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়।

সিডিপি তিনটি সূচকের ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ শর্ত পূরণ করে অনেক এগিয়ে গেছে।

উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশ ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৮২৭ ডলার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৬৪ ডলার। অর্থাৎ মানদণ্ডের চেয়ে প্রায় ১ দশমিক ৭ গুণ। মানবসম্পদ সূচকে নির্ধারিত মানদণ্ড ৬৬-এর বিপরীতে বাংলাদেশের অর্জন ৭৫.৪। অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে উত্তরণের জন্য মানদণ্ড নির্ধারিত ছিল ৩২ বা তার কম। কিন্তু ওই সময়ে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৭।

সিডিপির প্রবিধান অনুযায়ী, উত্তরণের সুপারিশ পাওয়ার পর একটি দেশ তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রস্তুতিকালীন সময় ভোগ করতে পারে।
নিউ ইয়র্কে ইউএন-সিডিপির ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, উন্নয়নের চলমান গতিধারা বজায় থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নত দেশের কাতারে উঠবে।  

“আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

তিনি বলেন, “আমি এই অর্জনকে উৎসর্গ করছি আমাদের দেশের নতুন প্রজন্মকে। যারা আজকের বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।”

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা পাকিস্তান আমলে বাংলার বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা অর্জনের পর উন্নয়নের লক্ষ্যে যাত্রার শুরুর কথাও বলেন তিনি।

“একটা প্রদেশের প্রশাসনকে তিনি (বঙ্গবন্ধু) অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে একটা স্বাধীন দেশের উপযোগী করে একেবারে শূন্য হাতে দেশের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন। ভারত থেকে ফিরে আসা এক কোটি শরণার্থীসহ দেশের অভ্যন্তরে উদ্বাস্তু হয়ে পড়া প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষকে পুনর্বাসন করেন। শহীদ পরিবার, নির্যাতিত পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা, ঘরবাড়ি হারানো সকলকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৭ শতাংশ অতিক্রম করে। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করে।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর বাংলাদেশের উল্টো পথে যাত্রা এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর আবার উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।

নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালে দেশে আসার পর আমি ব্যাপকভাবে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা সফর করি। আমি সে সময়ই প্রতিজ্ঞা করি যদি কোনোদিন আল্লাহ আমাকে সুযোগ দেন দেশ পরিচালনার, তাহলে গ্রামোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। গ্রামের মানুষের উন্নয়নে কিছু করব।

“তখন ৭০-৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করতো। আমার মনে হয়েছিল এদের যদি দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারি, তাহলেই বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। ১৯৯৬ সালে জনগণের রায় নিয়ে আমি প্রথমবার সরকার গঠন করে আমার চিন্তা-চেতনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “এক যুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।”

বদলে যাওয়া এই দেশকে বুঝতে আর্থিক এবং অন্যান্য সূচকগুলোর দিকে সবাইকে দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ বছরে জিডিপির আকার ছিল মাত্র ১০৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ সালে তা ৩৩০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮-০৯ বছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫.৫৭ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৮-১৯ বছরে তা ৪০ দশমিক পাঁচ-চার বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ বছরের ৭ দশমিক চার-সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪৪ দশমিক শূন্য-তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০১ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮.৯ শতাংশ এবং হত-দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৪.৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২০.৫ ভাগ এবং হত-দারিদ্র্যের হার ১০.৫ শতাংশে।

২০০৯-১০ সালে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ছিল ৫,২৭১ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে উন্নীত  এবং বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উৎপাদনেও স্বয়ং-সম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উৎপাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।
উন্নয়ন অভিযাত্রায় ’ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুবিধা শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়েও বিস্তৃত হওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ এর সুবিধা কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথাও তিনি বলেন।
করোনাভাইরাস মহামারীর এই সময়ে গণ টিকাদানের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ একটি প্রত্যয়ী ও মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে জায়গা করে নেবে।

তবে এ অর্জনকে সুসংহত এবং টেকসই করার উপর জোর দেন তিনি।

এলক্ষ্যে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পসহ বেশকিছু মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, দুই ডজনের বেশি হাইটেক পার্ক এবং আইটি ভিলেজ নির্মাণের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “বাঙালি বীরের জাতি। মাত্র নয় মাসে আমরা আমাদের স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

“আসুন, দলমত নির্বিশেষে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করি।”