ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 143

ঢাকা বারে সভাপতিসহ ১৫ পদে আওয়ামী লীগ,সাধারণ সম্পাদকসহ ৮ পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী

0

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২১-২২ সেশনের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সাদা প্যানেল সভাপতিসহ সম্পাদকীয় ৯ টি ও সদস্য ৬টিসহ মোট ১৫ পদে বিজয়ী হয়েছেন।
অপরদিকে বিএনপি ও সমমনাদের সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য সমর্থিত নীল প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ৩ টি সম্পাদকীয় ও সদস্য ৫ টিসহ মোট ৮ টি পদে বিজয়ী হয়েছেন।
শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট আব্দুল্লাহ আবু এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সভাপতি পদে সাদা প্যানেলের আব্দুল বাতেন ৪ হাজার ৪৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, আর নীল প্যানেল সমর্থিত মোসলেহ উদ্দিন জসিম পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৩৪ ভোট।
অপরদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের খোন্দকার হযরত আলী ৪ হাজার ২৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, সাদা প্যানেল সমর্থিত ফিরোজুর রহমান মন্টু পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩ ভোট।
সাদা প্যানেলের বিজয়ীরা হলেন- সভাপতি এডভোকেট আব্দুল বাতেন, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সালাহউদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম মনিরুজ্জামান (তারেক), কোষাধ্যক্ষ একেএম আরিফুল ইসলাম কাওছার, লাইব্রেরি সম্পাদক শারমিন সুলতানা হ্যাপী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শায়লা পারভীন পিয়া, অফিস সম্পাদক জাকির হোসাইন (লিঙ্কন), ক্রীড়া সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ এস ইমরুল কায়েশ।
এই প্যানেলের সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- এ বি এম ফয়সাল সারোয়ার, বাহারুল ইসলাম (বাহার), মো. মহিন উদ্দিন (মহিন), জুয়েল চন্দ্র মোদক, সুলতানা রাজিয়া রুমা ও মো. আহসান হাবিব।
নীল প্যানেলের বিজয়ীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সহ-সভাপতি পদে মো. আনিসুর রহমান (আনিস) ও সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মো. হযরত আলী। এই প্যানেলের সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- বাবুল আক্তার (বাবু), এম আর কে রাসেল, মো. হোসনী মোবারক (রকি), মো. সোহাগ হাসান রনি ও মোসা. তাসলিমা আক্তার।
এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মধ্যে একঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকা বার ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে মোট ১৭ হাজার ৭৫৬ জন ভোটারের মধ্যে ৮ হাজার ৭০৬ জন ভোট দিয়েছেন। এরপর শুক্রবার দুপুরের পর ভোট গণনা শুরু হয়।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল ও বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলে মোট ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর বাইরেও ক্রীড়া সম্পাদক পদ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে দুইজন প্রার্থী নির্বাচন করছেন। যা নিয়ে মোট প্রার্থী ছিল ৪৮ জন। বাসস।

রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের তালিকা তৈরী চলছে, প্রকাশ হবে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে

0

স্বাধীনতাবিরোধীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে চিঠি দেয়ার পর গত ৬ মাসে মাত্র দুই হাজার ৫০৪ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ৮৯৭ জন এবং বৃহত্তর রংপুর জেলা থেকে ১৬০৭ জনের নাম পাওয়া গেছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৮তম বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারী এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের তালিকা অানুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের উদ্যোগ নিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে যে গতিতে তালিকা তৈরির কাজ চলছে নির্ধারিত সময়ে নির্ভুল তালিকা তৈরী সম্ভব হবে কি না এ নিয়ে সন্দিহান সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা সংগ্রহে ঢিমেতালে গতিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। মাঠ পার্যায়ে প্রশাসনিক কাজের গতি নিয়েও তারা ক্ষুব্ধ। তবে এখন পর্যন্ত যতটুকু পাওয়া গেছে, তা যাচাই বাছাই করে অবিলম্বে গেজেট আকারে প্রকাশের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আল-শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যদের সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উপ-কমিটির কাছ থেকে তালিকা পাওয়া গেলে প্রাপ্ত তালিকাসহ যাচাই-বাছাইপূর্বক গেজেট আকারে প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের কাছে পাঠানো হবে।
সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে কমিটির সদস্যরা বিশেষ করে কমিটির সভাপতি ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাচাই-বাছাই অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না এবং এটাকে ‘নিয়মিতকরণ’ বলে সংজ্ঞায়িত করে প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্নের সুপারিশ করা হয়।
উল্লেখ্য ২০২০ সালের ৯ আগষ্ট সংসদীয় কমিটির সভায় স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসদের তালিকা তৈরি ও তা প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে তালিকা তৈরির জন্য একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়।
রাজাকারদের তালিকা তৈরির জন্য গঠিত সাব-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, এবি তাজুল ইসলাম, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও মোসলেম উদ্দিন আহমেদ।
এই তালিকা তৈরিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্যে যারা সংসদ সদস্য আছেন, তাদের সহযোগিতা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এই সাব-কমিটি যুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড থেকে রাজাকারদের তথ্য সংগ্রহ করবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ‘বিতর্কিত’ তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে তা বাতিল করা হয়। এবার তড়িঘড়ি করে রাজাকার, আল বদরদের তালিকা প্রকাশ করেও যাতে কোনো সমালোচনার মুখে না পড়তে হয় কমিটি সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বলে জানিয়েছেন একজন সদস্য।
এ জন্য প্রত্যেক জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের ব্রিফ করে দেওয়া হয়েছে। তারা তালিকা তৈরি করবেন। কোনও একক কর্তৃপক্ষ তালিকা করবে না।
কমিটির সভাপতি শাজাহান খান এ প্রসঙ্গে’ “আইন আদালত”কে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের সরকারি চাকরি দেওয়া হয় না। ‘ভিয়েতনামে তিন প্রজন্ম পর্যন্ত চাকরি দেওয়া হয় না। অথচ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীরা মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে,ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। কাজেই স্বাধীনতাবিরোধীদের সন্তানরা যাতে সরকারি চাকরি না পায়, সে বিষয়ে কিছু একটা করা দরকার। সেজন্য রাজাকারদের তালিকাটা দরকার। এই কাজটা এবার আমরা করবো।’

এমপি পাপুল সমাচারঃ টাকার জোরে স্বামী-স্ত্রী দু’জনই হয়ে যান সংসদ সদস্য, দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা

0

স্রেফ টাকার জোরে এমপি হয়ে যান লক্ষীপুর -২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপলু। শুধু তিনি নিজেই নন স্ত্রী’র আবদার মেটাতে সংরক্ষিত আসনে স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংসদ সদস্য বানান। দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটা এক বিরল ঘটনা। টাকার কী ক্ষমতা এটা হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন সাংসদ পাপলু ও তার স্ত্রী। টাকা হলে সব সম্ভব এটাও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন এই এমপি দম্পতি।
এদিকে সস্ত্রীক কাজী শহীদের এমপি হওয়া নিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। লক্ষীপুরের রাজনীতিতে অজ্ঞাতকুলশীল কাজী শহীদ ইসলাম হঠাৎ করেই টাকার বস্তা নিয়ে এলাকায় আসলেন, টাকা ঢাললেন আর হয়ে গেলেন এমপি। কোনো দল থেকেও মনোনয়ন নেননি। শুধু লাইন ঘাট ঠিক রেখেছেন। এই যা।

এলাকার পোড়খাওয়া রাজনৈতিক নেতারাও হতভম্ব। চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তাদের করার কিছুই ছিলোনা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের আসন ভাগাভাগি অনুযায়ী লক্ষীপুর-২ আসনটি পড়েছিল এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির ভাগে। সে অনুযায়ী সেখানে প্রার্থী হন জাতীয় পার্টি জেলা সভাপতি মোহাম্মদ নোমান । অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীক নিয়ে দাঁড়ান কাজী শহীদ। ভোটের কিছু দিন আগে নিরব হয়ে যান জাপা প্রার্থী। এক পর্যায়ে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাপা প্রার্থী। সমর্থন জানান কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে। গুঞ্জন রটে পাপুলের সঙ্গে তার সমঝোতা হয়। আর তা হয় বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি থেকেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের চিঠি দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী শহীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করার নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ড. সেলিম মাহমুদ স্বাক্ষর করে রহস্যজনক এই চিঠি পাঠান। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কের চিঠি পেয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা পাপুলের পক্ষে অবস্থান নেন এবং তাকে বিজয়ী করেন।
নিজে এমপি হওয়ার পর তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে এমপি বানানোর ইচ্ছে পোষণ করেন। কিন্তু স্ত্রীকে স্বতন্ত্র এমপি করতে না পেরে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের ধরে স্ত্রীকেও এমপি বানিয়ে নেন। সবকিছু ম্যানেজ করে স্বামী স্ত্রী দুজনই এমপি নির্বাচিত হয়ে দেশের সংসদের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন রেকর্ড স্থাপন করেন কাজী শহিদ ও সেলিনা ইসলাম।
এমপি পাপুলের পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে পারিবারিকভাবে তারা বিএনপির রাজনীতির সমর্থক। তার বড় ভাই কাজী মঞ্জুরুল আলম কুয়েত বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। তাদের পরিবারের কেউ কখনো আওয়ামী লীগ করাতো দূরের কথা সমর্থনও করে না। কিন্তু কাজী শহীদ গত কয়েকবছর ধরে কুয়েতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছেন। আর তার বড় ভাই আছেন বিএনপির নেতৃত্বে।
এমপি হওয়ার টার্গেট নিয়ে ২০১৬ সাল থেকে এলাকায় আসা-যাওয়া শুরু করেন কাজী শহীদ । করতে থাকেন দান খয়রাত। এলাকার যুবকদের নানাভাবে তার পক্ষে টানেন। মসজিদ মাদ্রাসায় দান করেন। এ ভাবেই এলাকায় সম্পৃক্ত হন।
কিন্তু এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর আর পারতপক্ষে এলাকায় যান না এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। তবে এলাকার এমপি মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকা এবং কুয়েতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার ঘটনায় সবাই ক্ষুব্ধ। বিষয়টি এলাকার জনগণের জন্য অপমানকর বলে মনে করা হচ্ছে।

কুয়েতে দণ্ডিত এমপি পাপুলের সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা

0

কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেট জারি করেছে সংসদ সচিবালয়।
সোমবার জারি করা গেজেটে বলা হয়েছে,” কুয়েতে ফৌজদারি আদালতে ঘোষিত রায়ে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে চার বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ায় লক্ষীপুর -২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য নন।

সংসদ সচিবালয়ের এই গেজেট সোমবারই নির্বাচন কমিশনে পৌঁছে যায়। নির্বাচন কমিশন এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। সাংবিধানিকভাবে পাপলুর আসন শূন্য ঘোষণার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সেখানে নির্বাচনের ব্যবস্থা নেবে ইসি।
উল্লেখ্য মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুয়েতের আদালত গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে কুয়েতের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজেন আল জারাহকেও পাপুলের মতো কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে কুয়েতের দুই পার্লামেন্ট সদস্য সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি এবং সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদকে এ মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেন বিচারক।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি ছিলো। পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ মামল করেন পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশী।
কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন পরে তদন্ত করে পাপুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানবপাচার, ঘুষ লেনদেন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনে।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাপুলের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ঠিক করে দেন বিচারক।
আসামিদের মধ্যে মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহ নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও বসবাসের অনুমতি বিষয়ক দপ্তরের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় ঘুষের বিনিময়ে পাপুলের বেশ কিছু কাজে সায় দেন বলে অভিযোগ ছিল।
আর কুয়েতের পার্লামেন্টের সদস্য সাদুন হাম্মাদ ও সালাহ খুরশিদের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ‘ঘুষ নিয়ে’ অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।নির্বাচনে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে ‘বিএনপি ঠেকানোর’ কথা বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করে বলে দলটির নেতাদের ভাষ্য।
পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে এমপি করে আনেন।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে জানা গেছে। পাপুলের কেলঙ্কারী ফাঁস হওয়ার পর বাংলাদেশে দুদকও পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম সেই মামলায় জামিনে আছেন।
কুয়েতের আদালতের দেওয়া রায়ের কপি গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে। “রায়ের কপি পর্যালোচনা করে সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী তার সদস্যপদ শূন্য ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হল সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারান। মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন না। ওই অনুচ্ছেদেই বলা আছে, কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলে কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে আর এমপি হিসেবে থাকতে পারবেন না।বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।

কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ২২ মার্চ

0

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ২২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার মামলার অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য ছিল। খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেন নি। এজন্য তার আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। ঢাকার-২ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন এদিন ধার্য করেন।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা উত্তোলন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম এবং রাষ্ট্রের ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় মামলাটি করা হয়। ওই বছরের ৫ অক্টোবর ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলায় খালেদা জিয়া ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান (মৃত), সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া (মৃত), সাবেক শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী (যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর), সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আলী আহসান মো. মুজাহিদ (যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর), ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার (মৃত), এম শামসুল ইসলাম (মৃত), আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নজরুল ইসলাম, পেট্রোবাংলার সাবেক চেয়ারম্যান এস আর ওসমানী, সাবেক পরিচালক মঈনুল আহসান, বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও খনির কাজ পাওয়া কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট হোসাফ গ্রুপের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন। বাসস।

শিশু রাকিব হত্যা মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন আপিল বিভাগে বহাল

0

খুলনার শিশু রাকিব হত্যা মামলার আসামি ওমর শরীফ ও মিন্টুকে হাইকোর্টের দেয়া যাবজ্জীবন কারাদন্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির আনা আপিল সোমবার খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ বেঞ্চ।
আদালতের আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
২০১৫ সালের ৩ আগস্ট খুলনার টুটুপাড়া কবরখানা মোড়ে শরীফ মোটরস নামের এক গ্যারেজে চাকায় হাওয়া দেয়ার কমপ্রেশার মেশিনের মাধ্যমে মলদ্বারে হাওয়া ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় শিশু রাকিবকে। ঘটানার পরদিন রাকিবের বাবা মো. নুরুল আলম বাদী হয়ে শরীফ, মিন্টু ও শরীফের মা বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সে মামলা হওয়ার ৯৬ দিন পর বিচারপ্রক্রিয়া শেষে একই বছরের ৮ নভেম্বর রায় দেয় খুলনার আদালত। ওই রায়ে এই মামলার আসামি শরীফ মোটরসের মালিক ওমর শরীফ ও তার সহযোগী মিন্টুকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এরপর রায়সহ মামলার নথি ওই বছরের ১০ নভেম্বর হাইকোর্টে আসে এবং ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়। সেই সঙ্গে দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুত করা হয় এবং হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য আসে। এরপর একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ৪ এপ্রিল রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্ট বিভাগ রাকিব হত্যা মামলায় ওমর শরীফ ও মিন্টুকে বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদন্ডের সাজার পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়। পরে হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসামিরা। আজ সে আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। ফলে আসামিদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের রায়ই বহাল থাকলো বলে জানান আইনজীবীরা। বাসস।

সুপ্রিমকোর্ট বারের নির্বাচন ১০ ও ১১ মার্চ

0

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিমকোর্ট বার) ২০২১-২০২২ বর্ষের নির্বাচন আগামী ১০ ও ১১ মার্চ বুধ ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল এবং ওইদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটায় মনোনয়ন বাছাই করা হবে। মনোনয়ন প্রত্যাহারে ৩ মার্চ দিন ধার্য রাখা হয়েছে।
সুপ্রিমকোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সভাপতি, সহসভাপতি ২টি ও সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সহ -সম্পাদক ২টিসহ মোট ৭ টি সম্পাদকীয় পদ, কার্যনির্বাহী সদস্য পদ ৭টি।
এরইমধ্যে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদ সিনিয়র এডভোকেট আবদুল মতিন খসরুকে সভাপতি পদে ও এডভোকেট আব্দুল আলীম মিয়া জুয়েলকে সম্পাদক পদে মনোনয়ন দিয়েছেন ।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছেন। তারা সভাপতি পদে এডভোকেট ফজলুর রহমানকে ও সম্পাদক পদে (বর্তমান সম্পাদক) ব্যারিস্টার রৃুহুল কুদ্দুস কাজলকে মনোনয়ন দিয়েছেন ।
২০২০-২০২১ বর্ষে সভাপতি নির্বাচিত হন সিনিয়র এডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক হন ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
সিনিয়র এডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন এখন বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল। বাসস।

শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল, বললেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

বাঙালির বাক্‌ স্বাধীনতা রক্ষায় ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যতমভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে পকিস্তানিরা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারকে গুলি করে হত্যা করে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করেছিল। তাদের আত্মত্যাগকে আমরা ভুলি নাই। শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি পেয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কসবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন বিচার ও সংসদ-বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছিলেন। শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি ২০৪১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত দেশ হিসেবে পরিণত হতে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রথম দফায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ লোক করোনার টিকা নিয়েছেন অথচ বিশ্বের ১৩০টি দেশ এখনো টিকা পায়নি। কোভিড মোকাবিলায় বিশ্বের পাঁচটি দেশের মধ্য বাংলাদেশ অন্যতম একটি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রতিটি টিকা পাঁচ ডলারে ক্রয় করে বিনা পয়সায় বিতরণ করছেন।

কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ উল আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওসার ভূইয়া, কসবা পৌর মেয়র এমরান উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাছিবা খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা সিদ্দিকী, কসবা আওয়ামী লীগ যুগ্ম আহ্বায়ক এম জি হাক্কানী, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. আবদুল হান্নান প্রমুখ। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-ছাত্র, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কুয়েতে দণ্ডিত এমপি পাপুলের সদস্যপদ বাতিল করে রুলিং দেবেন স্পিকার

0

কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্যপদ বাতিল করে আজ কালের মধ্যেই রুলিং দেবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। কুয়েতের আদালতের রায়টি সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পৌঁছার পর এ নিয়ে সংবিধান ও সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি পর্যালোচনা করে সদস্যপদ বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানিয়েছে সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের সদস্যপদ বাতিল করে স্পিকারের রুলিং এর পর তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশন লক্ষীপুর -২ আসন শূণ্য ঘোষণা করে উপ-নির্বাচনসহ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

উল্লেখ্য মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কুয়েতের আদালত গত ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে কুয়েতের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মাজেন আল জারাহকেও পাপুলের মতো কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। তবে কুয়েতের দুই পার্লামেন্ট সদস্য সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি এবং সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদকে এ মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দেন বিচারক।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি ছিলো। পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ মামল করেন পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশী।
কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন পরে তদন্ত করে পাপুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানবপাচার, ঘুষ লেনদেন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনে।
অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাপুলের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ঠিক করে দেন বিচারক।

আসামিদের মধ্যে মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহ নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও বসবাসের অনুমতি বিষয়ক দপ্তরের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় ঘুষের বিনিময়ে পাপুলের বেশ কিছু কাজে সায় দেন বলে অভিযোগ ছিল।
আর কুয়েতের পার্লামেন্টের সদস্য সাদুন হাম্মাদ ও সালাহ খুরশিদের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ‘ঘুষ নিয়ে’ অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।নির্বাচনে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে ‘বিএনপি ঠেকানোর’ কথা বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করে বলে দলটির নেতাদের ভাষ্য।
পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে এমপি করে আনেন।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে জানা গেছে। পাপুলের কেলঙ্কারী ফাঁস হওয়ার পর বাংলাদেশে দুদকও পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম সেই মামলায় জামিনে আছেন।
কুয়েতের আদালতের দেওয়া রায়ের কপি গত ১৮ ফেব্রুয়ারী সংসদ সচিবালয়ে পৌঁছে। সে সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, “রায়ের কপি পর্যালোচনা করে সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান বলেন, “মামলার রায়ের কপি সংসদ পেয়েছে। এ বিষয়ে কাজও শুরু হয়েছে। স্পিকার মহোদয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।”
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হল সংসদ সদস্য থাকার যোগ্যতা হারান।মুক্তি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত তিনি আর সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য বিবেচিত হন না। ওই অনুচ্ছেদেই বলা আছে, কোন বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলে কিংবা কোন বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করলে আর এমপি হিসেবে থাকতে পারবেন না।বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়ার এটাই প্রথম ঘটনা।
এ দিকে কারাদণ্ড ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের কারণে পাপুল আর সংসদ সদস্য পদে থাকতে পারেন না বলে মনে করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।
আইন আদালতকে তিনি বলেন, “সংবিধানে যা বলা হয়েছে, সে ব্যাপারে সংসদকে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংসদের কাছে রেকর্ড পৌঁছালে ৬৬ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ আসন শূন্য ঘোষণা করবে।” কোনো সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার, আটক বা আদালতের রায়ে সাজা পেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা স্পিকারকে জানাতে হয়। পাপুল গ্রেপ্তার এবং সাজা পাওয়ার পর তা নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারকে জানানোয় এখন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায় অচিরেই বাংলায় দেওয়া হবে – প্রধান বিচারপতি

0

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, দেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় অচিরেই বাংলায় দেওয়া হবে, সেজন্য কাজ চলছে।
রোববার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, “অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের রায় বাংলায় দেওয়া হবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি অনুবাদ সেল গঠন করেছি। তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।”
বাংলায় রায় দেওয়ার জন্য গত ডিসেম্বরে একটি সফটওয়্যার ব্যবহার শুরু করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে সুপ্রিম কোর্টের সব রায় ইংরেজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। রূপান্তর কাজ শেষ হলে আমরা আরও গুছিয়ে নেব।”
সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ছিলেন।