ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 145

ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0

দেশের ব্যাংকগুলো তাদের শেয়ারধারীদের কত লভ্যাংশ দিতে পারবে, তা নির্ধারণ করে নতুন নীতিমালা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রোববার জারি করা এই নীতিমালা অনুযায়ী, কোন ব্যাংক কত লভ্যাংশ দিতে পারবে, তা তাদের মূলধন কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে। তবে কোনো ব্যাংক নগদ ও বোনাস মিলিয়ে ৩০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দিতে পারবে না।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা এবং ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের রিটার্নের বিষয়টি বিবেচনা করে লভ্যাংশ দেওয়ার এই নীতিমালা করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
নীতিমালায় বলা হয়, মহামারীর সঙ্কেটে ব্যাংকগুলো যাতে মুনাফা যথাসম্ভব অবণ্টিত রেখে মূলধন শক্তিশালী করার মাধ্যমে পর্যাপ্ত তারল্য বজায় রাখতে পারে, সেজন্য গত বছরের ১১ মে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। ওই সার্কুলার শুধু ২০১৯ সালের জন্য প্রযোজ্য ছিল।

কিন্তু সামনের বছরগুলোতে ব্যাংকগুলোর মূলধন কাঠামো আরও সুসংহত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। সেজন্য সামগ্রিকভাবে বিবেচনায় শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে এই নতুন নীতিমালা অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে।

>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নেয়নি এবং যেসব ব্যাংক মূলধনের পরিমাণ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১৫ শতাংশ বা তার বেশি, ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ২.৫ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১৫% বা তার বেশি মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদসহ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।

>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নেয়নি এবং ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ২.৫ শতাংশ ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ১৩.৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা ১২.৫ শতাংশ নগদসহ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিতে পারবে।
>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নেয়নি এবং ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১১.৮৭৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা সাড়ে ৭.৫ শতাংশ নগদসহ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিতে পারবে।
>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নিয়েছে, মুনাফা থেকে তা সমন্বয়ের পর লভ্যাংশ দিতে পারবে। সে ক্ষেত্রে যেসব ব্যাংক ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১২.৫ শতাংশ বা তার বেশি মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা ৬ শতাংশ নগদসহ ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।
>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নিয়েছে, মুনাফা থেকে তা সমন্বয়ের পর যারা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ন্যূনতম ১১.৮৭৫ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা ৫ শতাংশ নগদসহ ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে।
>> যেসব ব্যাংক প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নিয়েছে, মুনাফা থেকে তা সমন্বয়ের পর যারা ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ১০.৬২৫ শতাংশ থেকে ১১.৮৭ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ করেছে, তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে।
৩১ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে সমাপ্ত বছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি, আসামীকে পুলিশে দিলো হাইকোর্ট

0

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সামরিক সচিবের সীল-স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় লালমনিরহাটের মো. করিম মিয়া নামের এক আসামীকে জামিন না দিয়ে পুলিশে দিয়েছে হাইকোর্ট।
তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেয়। আদালত থেকে করিম মিয়াকে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আমজাদ হোসেন।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সামরিক সচিব মো. সাইফ উল্লাহর সীল-স্বাক্ষর জাল করেছে আসামি মো. করিম মিয়া। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা হয়। এই মামলায় দুই আসমি গ্রেফতার হলেও করিম মিয়া পলাতক ছিলেন। এর মধ্যে তিনি হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আজ তার আবেদনটি শুনানির পর জামিন না দিয়ে তাকে শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোর ৫টায় রংপুর-বগুড়া মহাসড়কে বড় ঈদগাহ হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে রাত্রীকালীন পাহাড়ার সময় বরাগ বাঁশ বোঝাই লালমনিহাট থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রাক থামায় হাইওয়ে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে ট্রাকের ড্রাইভার মো. আজিম উদ্দিন ও তার সহযোগী (হেলপার) মো. মোতালেব হোসেন জানায় এই বাঁশ প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবনে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সামরিক সচিব মো. সাইফ উল্লাহর সীল-স্বাক্ষর দেয়া একটি চিঠি দেখায়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ড্রাইভার আজিম উদ্দিন জানান, এ চিঠিটি ট্রাকের মালিক মো. করিম মিয়া তাকে দিয়েছে। এতে পুলিশের সন্দেহ হলে বাঁশভর্তি ট্রাক ও চিঠিটি জব্দ করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা হাইওয়ে পুলিশের বগুড়া অঞ্চলের সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারকে জানান। পুলিশ সুপার (এসপি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহকারী সামরিক সচিব মো. সাইফ উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। এ পর্যায়ে আসামিরা স্বাক্ষর জালের কথা স্বীকার করেন।
পরে ট্রাকের মালিক করিম মিয়াসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন রংপুরের পীরগঞ্জের বড়দরগাহ পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেন।
ট্রাকের মালিক আসামি মো. করিম মিয়ার বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর বালাপাড়া গ্রামে। ট্রাকের ড্রাইভার মো. আজিম উদ্দিনের বাড়ি একই উপজেলার উত্তর বত্রিশ হাজারী গ্রামে। আর ড্রাইভারের সহযোগী (হেলপার) মো. আজিম উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার হরেরাম গ্রামে।

সুপ্রিমকোর্ট বারে সভাপতি প্রার্থী হবেন ড. বশির আহমেদ

0

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে নির্বাচন করতে চান সমিতির সাবেক সম্পাদক, বিশিষ্ট আইনজীবী ড. বশির আহমেদ। এ উপলক্ষে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট বারের ২ নং হলে আইনজীবীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বারের সাবেক সিনিয়র সহ- সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াজি উল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভার্চুয়াল বক্তব্য রাখেন বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার।
সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট আবু সায়ীদ সাগর সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলি অ্যাডভোকেট প্রবীর কুমার হালদার ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম অ্যাডভোকেট শামীম সরদার। সভায় ড. বশির আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট বারের আগামী নির্বাচনে সভাপতি পদে তাকে সমর্থন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সম্পাদক থাকাকালে বারের উন্নয়নে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

যারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হবে- আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার।বাংলাদেশে যারাই মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে তাদেরকেই আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।
শনিবার “বঙ্গবন্ধু ও মানবাধিকার” শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার ভার্চুয়াল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত দেশব্যাপি অনুষ্ঠিত এ রচনা প্রতিযোগিতায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ৫২ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
মন্ত্রী বলেন, শিশু বয়সেই বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের মধ্যে পরোপকারী বৈশিষ্ট্য ও মানবিক গুণাবলীর পরিস্ফুটন ঘটে। কোন অসহায় লোক তাঁর কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে পায়নি এমন নজির নেই। মানুষের দুঃখ কষ্টে আমৃত্যু তাঁর মন কেঁদেছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে মানবাধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মূল চেতনা হচ্ছে স্বাধিকার, সুশাসন আর বৈষম্য বিলুপ্তির মাধ্যমে দরিদ্রতা দূর করা। আজকের পৃথিবীতেও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এবং সুরক্ষার বড় চ্যালেঞ্জ হলো সন্ত্রাস ও দরিদ্রতা দূর করা।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সব ধরনের সন্ত্রাস ও দরিদ্রতা মোকাবিলা ও দূরীকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সন্ত্রাস ও দরিদ্রতা দূরীকরণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে তাঁর সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।
তিনি বলেন, বিচারপ্রাপ্তির অধিকার মানবাধিকারের একটি অংশ। তাই জনগণ যাতে বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সরকার বিচার কার্যক্রমকে অনলাইনের আওতায় আনতে করোনা মহামারী শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন,২০২০ প্রণয়ন করায়। ফলে করোনার প্রকোপ যখন খুব বেশি তখনও বাংলাদেশের সকল আদালত বিচার কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ও ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধসহ বড় বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এদেশের মাটিতে হয়েছে। মানুষের মানবাধিকার রক্ষা এবং সুবিধা বঞ্চিত জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশ তিন তিনবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভ করেছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মূখার্জি প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হন।

চুরির অভিযোগ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমানসহ ৩ জনের শাস্তি

0

গবেষণায় চুরির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিয়া রহমানসহ ৩ শিক্ষককে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে পদাবনতি করা হয়েছে এবং একজনের ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমানকে তার পদ থেকে এক ধাপ নিচে নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করা হয়েছে। অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানকে শিক্ষা ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকার শাস্তি দেওয়া হয়েছে ।

(প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান,ছবি-সংগৃহীত)
আর পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির ঘটনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুককে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে অবনমন ঘটানো হয়েছে। তার ডিগ্রিও বাতিল করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।
দুটি ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই তিন শিক্ষকের শাস্তি নির্ধারণে দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “গঠিত দুটি ট্রাইব্যুনালের সুপারিশের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। পুরো প্রসিডিংস তৈরি হলে বিস্তারিত বলা যাবে।”
সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বিডিনিউজ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন, “যাদের শাস্তি হয়েছে, তাদের এখানে আর আপিলের সুযোগ নাই। তবে তারা চাইলে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা করতে পারবে।”
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামের আট পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।
এটি ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল বলে অভিযোগ ওঠে।

(সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুক, ছবি – সংগৃহীত)
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এই চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।
শুধু মিশেল ফুকোই নন, বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের পাতার পর পাতাও সামিয়া ও মারজান হুবহু নকল করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে গত বছর ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর তাদের একাডেমিক অপরাধের শাস্তির সুপারিশ করতে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শাস্তির বিষয়ে সুপারিশ জমা দিলে বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, “সামিয়া রহমানকে দুই বছরের জন্য সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপকে পদাবনমন করা হয়েছে। দুই বছর পর সিন্ডিকেট তার পদোন্নতির বিষয় বিবেচনা করবে।
“আর যেহেতু মারজান লেকচারার এবং বিদেশে অবস্থান করছে, তাই শিক্ষা ছুটি শেষে জয়েন করার পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে। দুই বছর লেকচারার হিসেবে চাকরি করার পর পদোন্নতির জন্য আবেদন করতে পারবে।”
অন্যদিকে পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৮ সালে সিন্ডিকেটের এক সভায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওমর ফারুকের ডিগ্রি বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু তখন তাকে একাডেমিক কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি।
তার শাস্তি নির্ধারণে গত ২৯ অক্টোবর সিন্ডিকেট সভায় সিন্ডিকেট সদস্য ও আইনজীবী এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর বলেন, “ওমর ফারুককে শাস্তি হিসেবে সহকারী অধ্যাপক থেকে লেকচারার পদে ডিমোশন দেওয়া হয়েছে এবং তার থিসির প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
সিন্ডিকেটের সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, “এত কম শাস্তির বিষয়ে সভায় বিরোধিতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। তার যুক্তি ছিল, নৈতিকতার স্খলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরি চলে যায়। এখন কারও ডিগ্রিতে যখন জালিয়াতি ধরা পড়ে, এর চেয়ে বড় নৈতিক স্খলন আর কী হতে পারে। তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য উনি প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সিন্ডিকেট তাতে দ্বিমত পোষণ করে তাকে ডিমোশন দিয়েছে।”

কুয়েতে লক্ষীপুরের এমপি পাপুলের চার বছর কারাদণ্ড, ৫৩ কোটি টাকার বেশি জরিমানা

0

অর্থ ও মানবপাচারের মামলায় লক্ষ্মীপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে চার বছরের কারাদণ্ড, ৫৩ কোটি টাকার বেশি জরিমানা করেছে কুয়েতের আদালত।
বৃহস্পতিবার কুয়েতের ফৌজদারি আদালতের বিচারক আবদুল্লাহ আল ওসমান এ রায় ঘোষণা করেন।
কুয়েতের সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে।
বাংলাদেশের কোনো আইনপ্রণেতার এভাবে বিদেশে দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা আর কখনও ঘটেনি।

আল-কাবাস ও আল-রাইয়ের খবরে বলা হয়, পাপুলের কাজে সহায়তাকারী হিসাবে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মাজেন আল জারাহ এবং কুয়েতি দুই কর্মকর্তাকেও চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ওই দুই কর্মকর্তা ছিলেন পাপুলের বিভিন্ন কাজের মধ্যস্থতাকারী এবং এজেন্ট। পাপুলসহ দণ্ডিত প্রত্যেককে ১৯ লাখ কুয়েতি দিনার যা বাংলাদেশের টাকায় ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে ওই রায়ে।

কুয়েতের দুই পার্লামেন্ট সদস্য সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি এবং সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদকে এ মামলার অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন বিচারক।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।
পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ মামলা করা হয়।
কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন পরে তদন্ত করে পাপুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানবপাচার, ঘুষ লেনদেন ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনে।


অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পাপুলের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য তারিখ ঠিক করে দেন বিচারক।
আসামিদের মধ্যে মেজর জেনারেল মাজেন আল-জারাহ নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট ও বসবাসের অনুমতি বিষয়ক দপ্তরের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি থাকা অবস্থায় ঘুষের বিনিময়ে পাপুলের বেশ কিছু কাজে সায় দেন বলে অভিযোগ ছিল।
আর কুয়েতের পার্লামেন্টের এমপি সাদুন হাম্মাদ ও সালাহ খুরশিদের বিরুদ্ধেও বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ‘ঘুষ নিয়ে’ অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে আদালতে তা প্রমাণিত হয়নি।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ওই নির্বাচনে ওই আসনটি আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থী শেষ মুহূর্তে ভোট থেকে সরে দাঁড়ালে ‘বিএনপি ঠেকানোর’ কথা বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ পাপুলের পক্ষে কাজ করে বলে দলটির নেতাদের ভাষ্য।
পাপুল নিজে এমপি হওয়ার পর স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কোটায় পাওয়া সংরক্ষিত একটি আসনে তার স্ত্রী সেলিনা ইসলামকে এমপি করে আনেন।
প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন পাপুল, যেখানে তার বড় অঙ্কের শেয়ার রয়েছে।
পাপুলের মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া গ্রুপে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন বলে কুয়েতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ধারণা।
বাংলাদেশে দুদকও পাপুল, তার স্ত্রী, শ্যালিকা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম সেই মামলায় জামিনে আছেন। বিডিনিউজ, বিবিসি।

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেলেন শেখ মোরশেদ ও মেহেদী হাসান

0

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও মেহেদী হাসান চৌধুরী।

রোববার আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় বলে সলিসিটর রুনা নাহিদ আকতার জানিয়েছেন।

নিয়োগ সংক্রান্ত আইন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মহামান্য রাস্ট্রপতি দ্য বাংরাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার, ১৯৭২ এর ৩ (২) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর‌্যন্ত সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী জনাব শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ ও জনাব মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরীকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ প্রদান করিলেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার‌্যকর হইবে।’

২০০৯ সাল থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসা মাহবুবে আলম গত বছর ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এরপর গত ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনকে দেশের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

তার তিনদিন পরেই ১১ অক্টোবর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রের দুই আইন কর্মকর্তা মুরাদ রেজা ও মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির পদত্যাগ করেন।
মুরাদ রেজা ২০০৯ সালের ২৭ মার্চ থেকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আর মোমতাজ উদ্দিন ওই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন ২০১০ সালের ৪ জুলাই।
আমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নতুন নিয়োগ পাওয়া দুজনকে নিয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এখন তিনজন। গত বছর ১ সেপ্টেম্বর এম এম মুনীরকে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
এছাড়া ৬৭ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ১৫১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিলিয়ে মোট ২২২ জন আইন কর্মকর্তা রয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

শিশু ধর্ষণ, আশুলিয়ায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা তৌহিদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি

0

সাভারের আশুলিয়ায় নিজ মাদ্রাসার ১০ বছর বয়েসী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল মাওলানা তৌহিদ বিন আজহার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মনিকা খান শুক্রবার তার খাস কামরায় এই জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে জানিয়েছেন কোর্ট ইন্সপেক্টর মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল আজহারকে (৪৬)বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা।
গ্রেপ্তারর মাওলানা তৌহিদ বিন আজহার নাটোর জেলার গুরদাসপুর থানার বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় থেকে দুটি মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিন আগে মাওলানা তৌহিদ বিন আজহারের স্ত্রী বাসায় ছিল না। সেই সুযোগে কৌশলে ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানাতে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরে এক সহপাঠীর মাধ্যমে পরিবারকে বিষয়টি জানায় ওই ছাত্রী। ভুক্তভোগীর বাবা বিষয়টি জানার পর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির বলেন, ভুক্তভোগী শিশুকে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।

শিশু ধর্ষণ, আশুলিয়ায় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গ্রেফতার

0

সাভারের আশুলিয়ায় নিজ মাদ্রাসার ১০ বছর বয়েসী এক ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল মাওলানা তৌহিদ বিন আজহারকে (৪৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে বুধবার আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা।

গ্রেপ্তারর মাওলানা তৌহিদ বিন আজহার নাটোর জেলার গুরদাসপুর থানার বাসিন্দা। তিনি আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় থেকে দুটি মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

পুলিশ জানায়, গত কয়েক দিন আগে মাওলানা তৌহিদ বিন আজহারের স্ত্রী বাসায় ছিল না। সেই সুযোগে কৌশলে ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে না জানাতে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরে এক সহপাঠীর মাধ্যমে পরিবারকে বিষয়টি জানায় ওই ছাত্রী। ভুক্তভোগীর বাবা বিষয়টি জানার পর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন কবির বলেন, ভুক্তভোগী শিশুকে ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আসামিকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অর্থপাচার ঠেকানোর দায়িত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারা কারা ছিল, তালিকা চেয়েছে হাই কোর্ট

0

অর্থ পাচার রোধ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারক-নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের আভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে গত এক যুগে কোন কোন কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন, তাদের নাম, পদবী, ঠিকানাসহ বিস্তারিত জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
এই সময় (২০০৮ থেকে ২০২০ সাল) অর্থপাচার রোধে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এসব কর্মকর্তার ব্যর্থতা আছে কি না, ব্যর্থ হয়ে থাকলে কেন হলেন, অর্থপাচারের বিষয়টি তারা টের পেয়েছিলেন কি না, পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন কি না, তাদের ইন্ধন বা যোগসাজশে অর্থপাচার হয়েছে কি না, তাও জানাতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।
পি কে হালদারের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানার পর এ আদেশ দিয়েছে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ।
সেই সঙ্গে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হতে পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। 
আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের-দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মানিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ।
এছাড়া পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীর পক্ষে আইনজীবী মোশারফ হোসেন ও পি কে হালদারের স্বজন ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারীর পক্ষে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক এবং পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে আইনজীবী মেজবাহুর রহমান শুনানিতে ছিলেন।
গত বছর ১৮ নভেম্বর দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘পি কে হালদারকে ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা চাইবে দুদক’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পর গত ১৯ নভেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেয় এই হাই কোর্ট বেঞ্চ।
পি কে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বা গ্রেপ্তার করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানকে ১০ দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।
এছাড়া পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কিংবা গ্রেপ্তারে কী যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে ব্যাখ্যা জানাতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত।
দুদক চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, দুদক গত বছর ২ ডিসেম্বর একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এরপর গত ৯ ডিসেম্বর পি কে হালদারের আত্মীয় পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারী ও পি কে হালদারের সাবেক সহকর্মী পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জল কুমার নন্দীকে এ মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়।
সেই সঙ্গে ইন্টারপোলে পি কে হালদারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলে গত ৩ জানুয়ারি পরবর্তী আদেশের জন্য রাখে।
ওই দিন শুনানি শুরু হলে দুদক আইনজীবী আদালতে পাঁচ আমানতকারীর কথা বলে অনুমতি চান। আদালত অনুমতি দিলে এক এক করে তারা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
পরে ৫ জানুয়ারি পাঁচ আমানতকারীকে এ মামলায় পক্ষভুক্ত করে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের আবেদনে পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও সাবেক সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান এন আই খানসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় হাই কোর্ট।
সেদিন আদালত ২০ জানুয়ারি তারিখ রেখে আদালত পি কে হালদারকে ধরতে রেড নোটিস ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো ও তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলে।
এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার অগ্রগতি জানায় দুদক।
ইন্টারনেশনাল লিজিং ও পিপলস লিজিংকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমতি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেওয়া হয়েছিল কিনা, শুনানিতে সে বিষয়ে দুদকের আইনজীবী নির্দেশনা চান।
তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক নজরুল ইসলাম তালুকদার তাতে সাড়া না দিয়ে বলেন, “ওই দিকে আমাদের যাওয়ার দরকার নাই। তারা হয়ত প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী সেটা করেছে। এটা আমাদের দেখার বিষয় না।
“আমাদের দেখার বিষয় হল তাদের ব্যর্থতা কেন? কেন তারা ব্যর্থ হল, তারা কেন চিহ্নিত করতে পারল না? তাদের কোনো ইন্ধন ছিল কি না? যোগসাজশ আছে কি না? আমরা সেটা জানতে চাই।“
“তারা ওই খানে চাকরি করবে, এত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাবে, তারা কিছুই বলতে পারবে না। এটা তো হতে পারে না। তাদের অবশ্যই দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে। তারা পাবলিক সার্ভেন্টস। মানুষের প্রতি তাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে। কাজ করবেন কিছুই করতে-বলতে পারবেন না, খেয়েদেয়ে বাড়ি বানাবেন, বেতন-ভাতা নিবেন, দেশের জন্য, জনগণের জন্য কাজ করবেন না, তা তো হয় না।”
আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন,“বাংলাদেশের ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তারা ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ পর্যন্ত অর্থ পাচার রোধ সংক্রান্ত বিষয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন তাদের নাম, ঠিকানা, স্টেটাস জানাতে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
“এছাড়া পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপ মহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান খানের পক্ষভুক্তির আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।”
দুদক আদালতে কী প্রতিবেদন দিয়েছে- জানতে চাইলে খুরশীদ আলম বলেন, “পি কে হালদারের ৮৩ সহযোগীর নাম-পরিচয়সহ একটি প্রতিবেদন সারসংক্ষেপ আকারে আদালতে উপস্থাপন করেছি। এই ৮৩ জনের ব্যাপরে দুদক কী করেছে না করেছে সে ব্যপারে পরবর্তীতে বৃহৎ পরিসরে প্রতিবেদন দিব। সংক্ষেপে যেটা বলা হয়েছে তা হলো, এই ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলছে। তাছাড়া আর্থিক খাতের দুর্নীতি নিয়ে আরও ১০টি মামলার প্রস্তৃতি নেওয়া হচ্ছে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।