ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 146

পি কে হালদারের আইনজীবী ও তার মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে দুদক

0

পি কে হালদারের ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের’ মামলায় গ্রেপ্তার তার ব্যক্তিগত আইনজীবী সুকুমার মৃধা ও তার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধাকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে দুদক।
বৃহস্পতিবার দুদকের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি করে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন।
ঢাকার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সুকুমার ও অনিন্দিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করেন মামলার অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন।
তিনি বাবা-মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। অন্যদিকে একজন আইনজীবী আদালত কক্ষেই দুই আসামির ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে গেলে বিচারক তাতে আপত্তি জানিয়ে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে স্বাক্ষর নিতে বলেন।
দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের সঙ্গে যোগশাজসে সুকুমার ও অনিন্দিতা ‘নামে বেনামে সম্পদ অর্জন করেছেন।
প্রশান্ত বিদেশে পলাতক রয়েছেন। তদন্তকালে জানা যায়, এই দুই আসামিও বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া দরকার।”
কাঠগড়ায় দাঁড়ানো আসামিরা এ সময় কোনো কথা বলেননি। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন বলে দুদকের প্রসিকিউশন কমকর্তা মো. জুলফিকার জানান।
এর আগে দুদকে সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধাকে গ্রেপ্তার করার পর কমিশন সচিব মুহা. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, “পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পর তার অবৈধ সম্পদ দেখাশোনা করতেন সুমুকার ও অনিন্দতা মৃধা। পি কে হালদারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানও করেন সুকুমার মৃধা।
“পি কে হালদার ভুয়া ঋণ দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় ১০০ কোটি টাকা তার মা লিলাবতী হালদারের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে রাখেন। পরে লিলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাব থেকে সুকুমার মৃধা, অবন্তিকা বড়াল ও অনিন্দিতা মৃধার মাধ্যমে আবার পি কে হালদারের কাছে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করা হয়। এভাবে তারা মানিলন্ডারিং করেছেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য পেয়েছেন।”
এছাড়া সুকুমার মৃধার প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদ এবং তার মেয়ে অনিন্দিতার প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে দুদক সচিব বলেন, এসব আসলে পি কে হালদারের অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ।”
গ্রেপ্তারের পর আদালতে নেওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুকুমার মৃধা বলেন, “পত্রপত্রিকায় যা লেখালেখি হচ্ছে, সেই বিষয়ে পি কে হালদারের কোনো ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। তিনি কেবল আমার ক্লায়েন্ট।”
গত ১৩ জানুয়ারি পি কে হালদারের আরেক সহযোগী অবন্তিকা বড়ালকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেয় দুদক। মামলার তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গত ৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করা হয় পি কে হালদারের আরেক সহযোগী শংখ ব্যাপারীকে।
শংখ ব্যাপারীর নামে ধানমণ্ডি এলাকায় একটি ‘বিলাসবহুল’ ফ্ল্যাটের সন্ধান পাওয়া যায়, যা পি কে হালদারের টাকায় কেনা বলে দুদকের ভাষ্য।
এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।
এই চার কোম্পানি হল- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।
এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য।
এর মধ্যে আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে গত বছরের শুরুতে পি কে হালদারের বিদেশ পালানোর পর দুদক তার ২৭৫ কোটি টাকার ‘অবৈধ সম্পদের’ খবর দিয়ে মামলা করে।
দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, পি কে হালদার তার নিজের, আত্মীয়দের, বন্ধু ও কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে আটটি কোম্পানিতে ৬৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ১৯৯ টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যার ‘বৈধ কোনো উৎস’ অনুসন্ধানে মেলেনি।
পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে। তার মা লীলাবতী হালদার এবং অবন্তিকা বড়ালসহ ২৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাই কোর্ট। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

ভারতের উপহার ২০ লাখ টিকা পেলো বাংলাদেশ; দুদেশের শক্তিশালী সম্পর্কের পরিচয়, বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0

ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে করোনাভাইরাসের ২০ লাখ ডোজ টিকা উপহার দেওয়াটা দুই দেশের বিদ্যমান ‘শক্তিশালী’ সম্পর্কের পরিচয় দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর কাছ থেকে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই টিকা গ্রহণের আয়োজনে একথা বলেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ওই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন, ভারত সরকার আমাদের ২০ লাখ টিকা উপহার হিসাবে দিচ্ছে। আমাদের কোম্পানিগুলো যে চুক্তি করেছে তার ৩ কোটি ডোজ আসবে। আমরা এজন্য ভারত সরকার ও ভারতের জনগণকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।
“এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করেছেন, তারই একটি পরিচয় বহন করে।”

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট উপহারের এই টিকার চালান নিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিন থেকে বলে আসছেন, সব দেশ সহযোগিতার মাধ্যমে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করতে হবে। এই সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বের বড় নমুনা আজকে বাংলাদেশ ও ভারতের এই অর্জন। আমরা মনে করি, প্রত্যেক দেশেরই এই সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, “অনেকগুলো উন্নত দেশ এখনও ভ্যাকসিন পায় নাই, ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করে নাই। গুটি কয়েক উন্নত দেশ ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছে। আর আমরা প্রথমসারির দেশ হিসাবে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করব। শুরুতে ভ্যাকসিন পাওয়ার কারণে আমরা ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”
অনুষ্ঠানে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ ভারতের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সহযোগিতার অংশ হিসাবে এই টিকা উপহার বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, “ভারত সরকার আমাদের যেভাবে সাহায্য করেছিল স্বাধীনতা যুদ্ধে, সেভাবে আজকে তারা মহামারীর সময়েও আমাদের সাহায্য করল ভ্যাকসিন দিয়ে।
“প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদীর যে বন্ধুত্ব, দুই রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব, দুই রাষ্ট্রের জনগণের যে বন্ধুত্ব, যে সহানুভূতি-সহমর্মিতা- তার প্রমাণ রাখল এই ভ্যাকসিন প্রদানের মাধ্যমে। আমরা যে কোনো দুর্যোগ একসঙ্গে মোকাবেলা করব।”
বাংলাদেশ সরকারিভাবেও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেই চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত সরকারকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করি, সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে টিকা নিয়ে যে চুক্তি তা যেভাবে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা সেভাবে বাস্তবায়ন হবে।
“আমি ভারত সরকারকে অনুরোধ করব, এই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটাও যেন উনারা দেখেন। যাতে আমরা ভ্যাকসিনটি পাই, সময়মতো।”
সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, “আগামী ৬ মাসে ৫০ লাখ করে ভ্যাকসিন আসার কথা। এই মাসে আরও ৫০ লাখ ভ্যাকসিন আসবে। যদি আমরা পেয়ে যাই, তাহলে ৭০ লাখ ভ্যাকসিন আমাদের হাতে থাকবে। ৩৫ লাখ লোককে এই ভ্যাকসিন আমরা দিতে পারব।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, “ভারত সরকারের যে প্রতিবেশী প্রথম নীতি, সেটা গত এক বছর ধরে মহামারীর সময়ে আমরা দেখেছি। এখন ভ্যাকসিন আসার মাধ্যমে তাদের সে নীতি আবারও প্রমাণিত হয়েছে।”
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার ‘সাফল্য অর্জন করেছে’ দাবি করে এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ব্লুমবার্গের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়াতে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ এক নম্বরে এবং বিশ্বের মধ্যে ২০ নম্বরে রয়েছে। আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তৃণমূলের সব স্বাস্থ্যকর্মীকে ধন্যবাদ জানাই।”
সামনের দিনে এই ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই ২০ লাখ ডোজ টিকা এলো। ভারতে টিকা কার্যক্রম শুরুর চার দিনের মাথায় ভারত বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।
“যাতে আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রও একই সময়ে জনগণের ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে পারে।”
তিনি বলেন, “প্রতিবেশী প্রথমে নীতির অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।
“কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ উপহার আসলে ভারতের প্রতিবেশী কোনও দেশকে দেওয়া সবচেয়ে বড় পরিমাণ।”
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হাই কমিশন জানিয়েছে, উপহার হিসাবে দেওয়ার জন্য ভারত সরকার এসব টিকা তার নিজস্ব কোটা থেকে কিনেছে।

৪০ বছরেও কিনারা হয়নি জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের, মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে যাচ্ছেন এরশাদ

0

মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলা থেকে দায়মুক্তি পেতে যাচ্ছেন জেনারেল এইচ এম এরশাদ। একই কারণে দায়মুক্তি দেওয়া হতে পারে আরেক আসামী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফকে।
তাদের অব্যাহতি দিয়ে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, সিআইডি। মৃত্যু হওয়ায় তাদেরকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
মঞ্জুর হত্যা মামলাটি ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ছিলো। গত ১২ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এই সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ২৫ জানুয়ারি এর গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন আদালত নির্ধারণ করবেন মৃত্যুজনিত কারণে মঞ্জুর হত্যার প্রধান আসামী জেনারেল এরশাদকে অব্যাহতি বা দায়মুক্তি দেওয়া হবে কী না।

ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দনার আদালতের এ সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন।
জেনারেল এরশাদ ও জেনারেল আব্দুল লতিফকে অব্যাহতি দিয়ে মেজর (অব.) কাজী এমদাদুল হক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোস্তফা কামাল উদ্দিন ভূইঞা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শামসুর রহমান শমসেরকে অভিযুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি।
আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফৌজদারি আইন অনুযায়ী বিচার চলাকালে কোনো আসামী মারা গেলে তাকে মামলা ও বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়, এটাই নিয়ম। কারণ মরণোত্তর বিচারের কোনো নজির বিচারব্যবস্থায় নেই। ফলে ধরে নেওয়া যায়, জেনারেল মঞ্জুর হত্যার দায় থেকে এরশাদ অব্যাহতি পাবেন তাঁর মৃত্যুর কারণে। রাজনৈতিক নানা অংকে জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলাটি এরশাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। মরে গিয়ে এরশাদ সেই কাঁটামুক্ত হলেন।
এরশাদের নির্দেশেই মঞ্জুরকে হত্যা, নেপথ্যে নানা কাহিনী ঃ
৪০ বছর আগে ১৯৮১ সালের ৩০ মে দেশের প্রথম সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার একদিন পরই ১ জুন হত্যা করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর বীর উত্তমকে। ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলো বিএনপি আর প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। ওই বছরের ২৭ জুন জেনারেল এরশাদসহ ( এরশাদ তখন ছিলেন সেনাবাহিনীর প্রধান) পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

সিআইডির দাখিল করা অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৯৮১ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়।
বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরউদ্দিন এ মামলায় দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, এরশাদের নির্দেশে মঞ্জুরকে হত্যা করা হয়।
মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ মামলায় পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন দায়িত্বশীল ও সংশ্লিষ্ট ২৮ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে সাক্ষী করা হয়েছে।
বেশির ভাগ সাক্ষীর জবানবন্দিতে এসেছে, এরশাদের নির্দেশেই মঞ্জুরকে হাটহাজারী থানার পুলিশ হেফাজত থেকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তাঁকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে ১৯৮১ সালের ১ জুন মধ্যরাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়।
মামলার নথিপত্রে দেখা যায়, মঞ্জুর হত্যার দুই দিন আগে, ৩০ মে (১৯৮১) ভোররাতে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সেনাশাসক জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি (জেনারেল অফিসার কমান্ডিং) ছিলেন এম এ মঞ্জুর। তিনি ১ জুন স্ত্রী-সন্তান এবং অনুগত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে সেনানিবাস থেকে পালিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর মো. রেজাউল করিম। মঞ্জুরের সঙ্গে তিনিও আটক হয়েছিলেন। মেজর রেজার জবানবন্দি অনুযায়ী, সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে তাঁরা ফটিকছড়ির রাস্তার দিকে রওনা হন। একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে এক চা-বাগানের ভেতরে একটি বাড়িতে ওঠেন। পরে ওই বাড়িটি পুলিশ ঘেরাও করলে মঞ্জুর ও মেজর রেজা আত্মসমর্পণ করেন। পরিবারের সদস্যদেরসহ তাঁদের হাটহাজারী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আসামি মেজর (তৎকালীন ক্যাপ্টেন) কাজী এমদাদুল হক, সাক্ষী মেজর রেজা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের জবানবন্দি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী ১ জুন সন্ধ্যার পরে মঞ্জুরকে হাটহাজারী থানায় নেওয়া হয়। পরে ব্রিগেডিয়ার আবদুল লতিফ (পরবর্তী সময়ে মেজর জেনারেল ও ডিজিএফআইয়ের প্রধান হন) ও ব্রিগেডিয়ার এ কে এম আজিজুল ইসলামের নির্দেশে ক্যাপ্টেন এমদাদ রাত সাড়ে আটটার দিকে হাটহাজারী থানায় যান। তিনি মঞ্জুর, তাঁর স্ত্রী-সন্তান ও মেজর রেজাকে পৃথক গাড়িতে তুলে সেনানিবাসে নিয়ে যান। জেনারেল মঞ্জুরকে হাত ও চোখ বেঁধে মেজর এমদাদের গাড়িতে তোলা হয়।
ওই গাড়িতে থাকা সুবেদার আশরাফ উদ্দীনসহ আরও কয়েকজন সেনাসদস্য জবানবন্দিতে বলেন, মঞ্জুরকে নিয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁরা সেনানিবাসে প্রবেশ করেন। পরে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মঞ্জুরের লাশের ময়নাতদন্ত করেন চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের চিকিৎসক কর্নেল এ জেড তোফায়েল আহমদ। সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে মঞ্জুরের মাথার ডান দিকে পেছনে একটি বুলেটের আঘাত দেখতে পান। তাঁর শরীরে আর কোনো জখমের চিহ্ন ছিল না।
এ মামলার সাক্ষী চট্টগ্রাম পুলিশের তৎকালীন উপকমিশনার আলী মোহাম্মদ ইকবাল জবানবন্দিতে বলেছেন, হাটহাজারী থানা থেকে সেনাসদস্যরা মঞ্জুরকে নিতে গেলে তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কমান্ডেন্ট ব্রিগেডিয়ার আজিজকে টেলিফোন করেন। তখন আজিজ জানান, সেনাপ্রধানের (এরশাদ) নির্দেশক্রমে মঞ্জুরসহ আটক করা ব্যক্তিদের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের জন্য তিনি ও ব্রিগেডিয়ার লতিফ ক্যাপ্টেন এমদাদকে পাঠিয়েছেন।
পরে আসামি এমদাদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, ব্রিগেডিয়ার লতিফ ও আজিজের নির্দেশে তিনি মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে নিয়ে আসেন এবং পরে হত্যা করা হয়।
মঞ্জুরকে হত্যার পর প্রচার করা হয় যে সেনানিবাসে নেওয়ার পর একদল উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্য তাঁকে হত্যা করেছে। কিন্তু এ মামলায় যেসব সেনাসদস্য জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁদের কেউ উচ্ছৃঙ্খল সেনাসদস্যের কথা বলেননি।
বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরউদ্দিন পরবর্তী সময়ে এ মামলায় সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে মঞ্জুরকে হত্যার জন্য সরাসরি এরশাদকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ১ জুন বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি বঙ্গভবনে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের অফিসে ছিলেন। তখন সেখানে জেনারেল এরশাদও ছিলেন। এ সময় টেলিফোন আসে। রাষ্ট্রপতি টেলিফোন রেখে জানান যে মেজর জেনারেল মঞ্জুর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। এ খবর শুনে জেনারেল এরশাদ চেয়ার থেকে উঠে রাষ্ট্রপতির লাল টেলিফোন দিয়ে কাউকে ফোন করে বলেন, ‘মঞ্জুরকে পুলিশ আটক করেছে। তাকে শিগগির নিয়ে আসো এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করো।’ তখন সদরউদ্দিন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এরশাদ বেশ উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘এয়ার চিফ, আপনি কিছুই বোঝেন না।’
সদরউদ্দিন বলেন, তিনি ও তৎকালীন আইজিপি এ বি এম জি কিবরিয়া অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে বলেন, যেন মঞ্জুরকে বেসামরিক হেফাজতে রাখা হয় এবং বিচারের মুখোমুখি করা হয়। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে এরশাদের দীর্ঘ বাদানুবাদ হয়। পরে এরশাদের পরামর্শে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার জেনারেল মঞ্জুরকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেন।
সদরউদ্দিন আরও বলেন, ২ জুন রাত দেড়টা থেকে দুইটায় তিনি মঞ্জুরকে হত্যার খবর পান। পরদিন সকালে তিনি এরশাদকে টেলিফোন করে বলেন, ‘এরশাদ সাহেব, আপনারা জেনারেল মঞ্জুরকে মেরে ফেললেন? এইটা কিন্তু ভালো করলেন না।’ জবাবে এরশাদ বলেছেন, ‘বিক্ষুব্ধ সৈনিকেরা তাঁকে হত্যা করেছে।’
এ ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। ওই বছরের ২৭ জুন এরশাদসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অভিযোগপত্রভুক্ত বাকি আসামিরা হলেন মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল লতিফ, মেজর কাজী এমদাদুল হক, লে. কর্নেল শামসুর রহমান শামস ও লে. কর্নেল মোস্তফা কামাল উদ্দিন। ব্রিগেডিয়ার আজিজ ও নায়েক সুবেদার আবদুল মালেক মারা যাওয়ায় অভিযোগপত্রে তাঁদের আসামি করা হয়নি।
ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলার বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি এ মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু এরই আগে ২৯ জানুয়ারি বিচারক পদে রদবদল করা হয়। ফলে নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণা হয় নি।
নতুন বিচারক দায়িত্ব গ্রহণ করলে সরকার পক্ষের আইনজীবী মামলাটি অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান। এতে বলা হয় মঞ্জুরকে আটক ও হত্যা করার সময় তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। কিন্তু তাদের সাক্ষী করা হয়নি। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে তাদের সাক্ষী করার জন্য আদালতের কাছে অধিকতর তদন্তের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এই অধিকতর তদন্ত চলতে থাকে। এরশাদের জীবদ্দশায় তদন্ত আর শেষ হয় না। মঞ্জুর হত্যা মামলাটি অনেকটা রাজনৈতিক মামলার রূপ নেয় এবং এরশাদের সঙ্গে চলতে থাকে চোর পুলিশ খেলা।
এর মধ্যে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই মারা যান এইচ এম এরশাদ। পরবর্তী শুনানি ২ অক্টোবর এরশাদের মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য আদালতকে অবহিত করেন এরশাদের আইনজীবী আবদুর রশিদ। তিনি আদালতে দরখাস্ত দিয়ে জানান, এরশাদ গত ১৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁকে রংপুরে দাফন করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলতে পারে না। এর আগে মারা যান অপর আসামী জেনারেল লতিফ। সরকার পক্ষ থেকে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়।
শেষ পর্যন্ত এরশাদের মৃত্যুর দেড়বছর পর সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে এরশাদকে মৃত্যুজনিত কারণে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানালো তদন্তকারি সংস্থা সিআইডি।
৪০ বছর আগে এরশাদের নির্দেশেই যে জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা করা হয় মামলার সাক্ষ্য প্রমাণে তা স্পষ্ট। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতন হলেও বছর কয়েক যেতেই এরশাদ ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিণত হন। ফলে আরও অনেক মামলার মতো মঞ্জুর হত্যা মামলাটিও এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে এমনটিই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মামলাটির তদন্ত এবং বিচারকাজ চলার সময় কয়েকবার সরকার বদল হয়েছে, বিএনপি,আওয়ামী লীগ কয়েক দফায় ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু এ মামলাটির বিচার বিচারিক আদালতেই শেষ হয় নি। সব সরকারের সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দফায় দফায় সময় নেওয়া হয় আর বছরের পর বছর ঝুলে থাকে মামলার বিচার।
এখন মূল অভিযুক্ত জেনারেল এরশাদের মৃত্যুর পর সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হয়েছে, এরশাদকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে ।
চূড়ান্ত আদেশ দেবে আদালত ২৫ জানুয়ারী। যদি অব্যাহতি দেওয়া হয় তা হলে বলাই যাবে সৌভাগ্যবান, সামরিক শাসক এরশাদ, যার হাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা জেনারেল মঞ্জুর হত্যার রক্ত, জীবদ্দশায় তাঁর বিচারই করতে পারলো না রাষ্ট্র।

নাইকো দুর্নীতি মামলা: স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখিয়ে খালেদা জিয়ার সময়ের আবেদন

0

কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে সময় চাওয়ায় নাইকো দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ শেখ হাফিজুর রহমান ১ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ঠিক করেন বলে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল জানান।

খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার ও জিয়া উদ্দিন জিয়া আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক বলেন, “আপনারা অব্যাহতির আবেদন দেন না কেন? এক আসামির জন্য চার্জ শুনানি করা যাচ্ছে না।”

তখন মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, “আগামী তারিখে আবেদন দাখিল করব।”

বিচারক বলেন, “শেষবারের মতো সময়ের আবেদন মঞ্জুর করা হলো। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি চার্জ শুনানির পরবর্তী তারিখ। ওই দিন অব্যাহতির আবেদন না দিলে মামলাটির চার্জের আদেশ দেওয়া হবে।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার জানান, “আমরা বিচারককে বলি যে এর আগে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অন্তরীন অবস্থায় অসুস্থ থাকায় তাকে এজলাসে আনা হয়নি বার বার। এজন্য শুনানি পিছিয়েছে- এটা আমাদের কোনো ব্যথর্তা নয়।”

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি তদন্তের পর ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির,সংসদে ভাষণ

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে দল-মতের পার্থক্য ভুলে আরো ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় সংসদে বছরের প্রথম অধিবেশনে ভাষণে তিনি আরো বলেন, “দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সুশাসন সুসংহতকরণ, গণতন্ত্র চর্চা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।’
আবদুল হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের লক্ষ্যে আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আসুন, দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা লাখো শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।”
জাতীয় সংসদকে দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে সাংবিধানিক নিয়ম রক্ষার ভাষণে আবদুল হামিদ বলেন, “গণতন্ত্রায়ন, সুশাসন ও নিরবচ্ছিন্ন আর্থসামাজিক উন্নয়নে সকল রাজনৈতিক দল, শ্রেণি ও পেশা নির্বিশেষে ঐকমত্য গড়ে তোলার সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি সরকারি দল ও বিরোধী দল নির্বিশেষে মহান জাতীয় সংসদে যথাযথ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সংবিধান অনুযায়ি প্রতি বছরের প্রথম অধিবেশনে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছ। আর এ অধিবেশন ২০২১ সালের প্রথম অধিবেশন এবং একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশন। সে হিসেবে রাষ্ট্রপতি আজ সংসদে ভাষণ দেন। নিয়ম অনুযায়ি এ ভাষণে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের অধিবেশন মোটামুটি সংক্ষিপ্ত হবে। ফলে আলোচনাও সংক্ষিপ্ত আকারে হওয়ার কথা রয়েছে।
আজ রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় করোনাকালের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি ও বিরোধি দলের সংসদ সদস্যগণ অধিবেশনে অংশ নেন।
এর আগে আজ ৪টা ৫৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি অধিবেশনে প্রবেশ করেন। এ সময় নিয়ম অনুযায়ি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। বিকেল ৫টা ৫৮ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করেন।
ভাষণে তিনি বলেন, শত বাধা বিঘ্ন আর প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সরকার দেশের উন্নয়ন, সুসাশন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনগণের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ভাষণদানকালে রাষ্ট্রপতি অর্থনীতি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, খাদ্য-কৃষি, পরিবেশ-জলবায়ু, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কার্যক্রম ও সাফল্য তুলে ধরেন। এছাড়া দেশে আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত রাখা এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ২৪টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ২০২০ সালে উন্নয়ন খাতে প্রায় ১ হাজার ৫৩২ কিলোমিটার মহাসড়ক মজবুতিকরণসহ প্রায় ১ হাজার ৪১৬ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, ৮৫টি সেতু ও ৭৫২টি কালভার্ট নির্মাণ ও পুননির্মাণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’র দুই প্রান্তের মাওয়া ও জাজিরা সংযোগকারী সর্বশেষ ৪১তম স্প্যান স্থাপন করার মাধ্যমে সেতুর ছয় দশমিক এক-পাঁচ কিলোমিটার মূল অবকাঠামো দৃশ্যমান হয়েছে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ জুলাই ২০২২ সাল নাগাদ সমাপ্ত হবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে অন্যান্য অঞ্চলের সমম্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৩ দশমিক তিন-দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহু লেন বিশিষ্ট টানেলের নির্মাণকাজ ডিসেম্বর ২০২২ সাল নাগাদ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যে টানেলের ১ম টিউবের নির্মাণ শেষে গত ১২ ডিসেম্বর ২০২০ থেকে ২য় টিউবের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে ১১টি রুটের ২৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২১ সালের জুন নাগাদ সমাপ্ত হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বালিয়াপুর হতে নিমতলী-কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত ৩৯ দশমিক দুই-চার কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া করোনা মহামারি পরিস্থিতিতেও রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, “সরকার সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে সব ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। সম্প্রতি সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো সাফল্যের সাথে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ।
বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্বের ন্যায় আমাদের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পসহ অর্থনীতির সকল সেক্টরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩১ দফা নির্দেশনাসহ ভার্চুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে নানামুখী দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
শেখ হাসিনার দৃঢ়, প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাহসী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ করোনা পরিস্থিতি সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করে এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
আবদুল হামিদ বলেন, এর ধারাবাহিকতায় প্রথিতযশা সাময়িকী ‘ফোর্বস’ কর্তৃক প্রকাশিত বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সফল রাষ্ট্রনায়ক ও নারী নেতৃত্বের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯ জনিত প্যানডেমিকের সফল মোকাবিলা, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন ও জীবনমান সচল রাখার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ প্রণীত ‘কোভিড-১৯ সহনশীল র‌্যাংকিং’-এ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষ এবং বিশ্বে ২০তম স্থান অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। এজন্য তিনি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
আবদুল হামিদ বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিকেলস লিমিটেড এবং ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব লাইফ সাইনসেস প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরাসরি ক্রয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সিএমএসডি’র মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন ক্রয় বাবদ ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদান করা হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার খুব শিগগিরই দেশের জনগণকে কোভিড-১৯-এর টিকা প্রদান করতে পারবে।
আর্থিক খাত ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপ্রধান হামিদ বলেন, “সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও উৎকর্ষ সাধন এবং প্রাজ্ঞ রাজস্ব নীতি ও সহায়ক মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা রক্ষা, জনগণের আমানতকৃত অর্থের সুরক্ষা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থিক লেনদেন সহজীকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান এবং বিদেশ থেকে প্রত্যাবর্তনকারীদের ঋণ সুবিধা প্রদানের জন্য সরকার কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনকে দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল প্রদান করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে দুই লক্ষ প্রশিক্ষিত বেকার যুবদের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংক ঋণের সুদ হার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
গত এক দশকে গড়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ ও পর পর তিনবছর ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক এক-পাঁচ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে তিনি ভাষণে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিক অর্জন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে।
আবদুল হামিদ বলেন, ‘আমরা আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দারপ্রান্তে। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যে পথে আমরা হাঁটছি, সে পথেই আমাদেরকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। এ বছর মধ্য-আয়ের দেশ হিসাবে আমরা ‘স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী’ পালন করবো।’ বাসস।

জাতীয় সংসদের চলতি বছরের প্রথম অধিবেশন শুরু

0

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় চলমান একাদশ সংসদের একাদশ অধিবেশন শুরু হয়।
নিয়ম অনুযায়ী বছরের প্রথম অধিবেশনের শুরুর দিন সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
সাধারণত বছরের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদ সদস্যরা অধিবেশন জুড়ে ওই ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। বছরের শুরুর অধিবেশন ৩০ কার্যদিবস চলারও রেকর্ড আছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছেন সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম।
এবার ১২ থেকে ১৪ কার্যদিবস অধিবেশন চালানো হতে পারে। সাধারণত কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ঠিক করা হয়। তবে মহামারীর কারণে গত পাঁচটি অধিবেশনের আগে ওই কমিটির বৈঠক হচ্ছে না।
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার প্রথমে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন করেন।  এবার অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন নজরুল ইসলাম, আফতাব উদ্দিন সরকার, আব্দুস সালাম মুর্দেশী, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মমতাজ বেগম।
স্পিকার- ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে অগ্রবর্তীজন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

এদিন অধিবেশনে সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়নের পর স্পিকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

সাবে ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাবেক সংসদ সদস্য আখম জাহাঙ্গীর হোসাইন, খালেদুর রহমান টিটো, শাহ-ই-জাহান চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী মোহাম্মদ আবু হেনা, এম হাসেম, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, দেলোয়ার হোসেন খান, সামসুদ্দীন আহমেদ, নুরজাহান ইয়াসমিন, খালেদা পান্নার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারী কোরবান আলীর মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচী শেখ রাজিয়া নাসের, জা রওশন আরা ওয়াহেদ, এমপি হাজি সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়শা খানম, কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন, ভাষা সৈনিক জাহিদ হোসেন মুসা মিয়া, কবি মনজুরে মাওলা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান, অভিনেতা আলী যাকের, সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ শাহাদাৎ হোসেন খান, বীর উত্তম ক্যাপ্টেন আকরাম আহমেদ, অভিনেতা আব্দুল কাদের, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের স্ত্রী বুলা আহাম্মেদ, অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যুতেও সংসদে শোক প্রকাশ করা হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যারা মারা গেছেন, তাদের সবার মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করে সংসদ। সেই সঙ্গে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য শোক প্রকাশ করা হয়।

শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর এক মিনিট নীরাবতা পালন এবং মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

মহামারীকালের অন্য চারটি অধিবেশনের মত এবারও স্বাস্থ্যবিধির বাধ্যবাধকতার কারণে সীমিত সংখ্যক সংসদ সদস্য অধিবেশনে অংশ নেবেন। প্রথম দিন করোনাভাইরাস পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া সংসদ সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। এরপর প্রতি কার্যদিবসে সর্বোচ্চ ৯০ জনকে পর্যায়ক্রমে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মরতদেরও অধিবেশন চলার সময় সংসদ ভবনে প্রবেশ সীমিত থাকবে। একমাত্র দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সংসদে ঢুকতে পারবেন। তবে তাদের করোনাভাইরাস নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে।
সংসদ অধিবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করতে সাংবাদিকরা শুধুমাত্র প্রথম দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় সংসদ ভবনে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। সেজন্য প্রত্যেক সংবাদমাধ্যম থেকে একজন প্রতিবেদককে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ব্যবস্থাপনায় করোনাভাইরাস পরীক্ষা করানো হয়েছে।
পরের দিনগুলোতে সংসদ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার দেখে সংবাদ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ছাড়াও এ অধিবেশনে কয়েকটি বিল উত্থাপন ও পাসের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুই মামলার আর্জি, তাপসের বাজার মূল্য জানতে চান খোকন

0

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসকে নিয়ে ‘মানহানিকর বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুটি মামলার আবেদন হয়েছে ঢাকার আদালতে। কাজী আনিসুর রহমান এবং অ্যাডভোকেট মো. সারওয়ার আলম নামের দুই ব্যক্তি সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন দুটি করেন।
মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী দুই আবেদনকারীর আর্জি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে মঙ্গলবার আদেশ দেবেন বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিপন মিয়া জানিয়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ফুলবাড়িয়া মার্কেটে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসনের দাবিতে শনিবার ঢাকায় কদম ফোয়ারার সামনে মানববন্ধন করেন। সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে এসে বর্তমান মেয়র তাপসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন, “তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন এবং এই শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে অর্থের অভাবে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের গরিব কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।”

‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে’ তাপস সিটি করপোরেশন আইনের ৯(২)(জ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মেয়র পদে থাকার ‘যোগ্যতা হারিয়েছেন’ বলেও মন্তব্য করেন সাঈদ খোকন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মেয়র তাপস সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। যেহেতু মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন, সুতরাং আইনি ব্যবস্থা নেব।”
দুর্নীতির অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই দাবি করে তাপস বলেন, গত ১৭ মে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছেন। সেই অভিযান এখনও চলছে।
“সেখান গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে মার্কেট সংক্রান্ত দুর্নীতির কিছু তথ্য বের হয়ে এসেছে। সেখানে যে টাকা লেনদেন হয়েছে, তা বের হয়ে এসেছে। যাদের সঙ্গে টাকা লেনদেন হয়েছে, যারা এর সঙ্গে জড়িত তারাই এখন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।”
সাবেক মেয়রের দিকে ইংগিত করে বর্তমান মেয়র বলেন, “আমি কোনো অভিযোগ আনি নাই। এখানে যারা অবৈধভাবে দোকান দখল করেছে, টাকা লেনদেন করেছে… এখন তিনি পুরো দোষ আমার উপরে চাপাচ্ছেন। এটা অনভিপ্রেত এবং শুধু আক্রোশের বশবর্তী হয়ে।”
পরে জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ খোকন।
সেখানে বলা হয়, “তাপসের মান সম্মানের বাজারমূল্য কত? মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণী পাওয়ার পর সেটা আমি জানতে পারব। এ মামলার আইনি মোকাবেলার পাশাপাশি রাজপথে দেনা পাওনার হিসেব হবে, ইনশাআল্লাহ।”

অর্পিত সম্পত্তি: ইজারার জমি পুনঃইজারা দেওয়া যাবে না,ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

0

অর্পিত সম্পত্তির অস্থায়ী ইজারাকৃত জমি পুনঃইজারা দেওয়া যাবে না এবং জমির শ্রেণি বা আকার বা প্রকার কোনো রূপ পরিবর্তন করা যাবে না।
নতুন এই বিধান যুক্ত করে ভূমি মন্ত্রণালয় আগের একটি পরিপত্র সংশোধন করেছে বলে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর জারিকৃত ‘অর্পিত সম্পত্তির অস্থায়ী ইজারার সালামির হার পুনঃনির্ধারণ’ বিষয়ক পরিপত্রের সংশোধন করে গত ৬ জানুয়ারি আরেকটি পরিপত্র জারি করে এ বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, “অস্থায়ীভাবে ইজারাকৃত প্রত্যর্পণযোগ্য অর্পিত সম্পত্তির মেরামতের ক্ষেত্রে ইজারাগ্রহিতা জেলা প্রশাসক বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতিক্রমে অবকাঠামোর কোনো রূপ পরিবর্তন না করে অথবা কোনো নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করে নিজ ব্যয়ে বর্তমান স্থাপনার প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ করতে পারবেন। তবে, মেরামত বাবদ সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির বার্ষিক ইজারার টাকার সর্বোচ্চ ৫% ব্যয় করা যাবে।”
পূর্বের পরিপত্রের সাথে দুটি নতুন অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে সংশোধনীতে।
অনুচ্ছেদগুলো হচ্ছে, “ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপযুক্ত পরিপত্র অনুযায়ী, চালুকৃত অর্পিত বাড়ি ঘরের সালামি বর্গফুট নির্ধারণের হার বহাল থাকবে। তবে বাড়ি-ঘরের অবস্থা ও অবস্থান বিবেচনা করে নির্ধারিত ভাড়ার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কম-বেশি করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতা, ব্যাখ্যাসহ সুপারিশ বিভাগীয় কমিশনারের কাছ থেকে অনুমোদিত হতে হবে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।

“খালি জমি ইজারা নিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে নিজ খরচে ঘর উঠালে সে ক্ষেত্রে ওই খালি জমির নির্ধারিত ইজারা মূল্যের সঙ্গে অবকাঠামোর জন্য নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত হিসেবে আরও ২০% ইজারা গ্রহিতাকে পরিশোধ করতে হবে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ইজারাগ্রহিতা এবং জেলা প্রশাসকদের মতামতের ভিত্তিতে সালামির অর্থ আদায়যোগ্য এবং জনবান্ধব করার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় অর্পিত সম্পত্তি বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ভিত্তিতে ভূমি মন্ত্রণালয় ‘অর্পিত সম্পত্তির অস্থায়ীভিত্তিতে ইজারার সালামির হার পুনঃনির্ধারণ’ বিষয়ক পরিপত্র জারি করেছিল।

সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান আর নেই, আইন সাংবাদিকতায় অপূরণীয় ক্ষতি

0

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান (৫৩) আর নেই।সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মিজানুর রহমান খান মা, স্ত্রী, তিন সন্তান, পাঁচ ভাই, তিন বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মিজানুর রহমান খান করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন। করোনার নমুনা পরীক্ষায় গত ২ ডিসেম্বর পজিটিভ রিপোর্ট আসে। প্রথমে গত ৫ ডিসেম্বর তিনি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর শারীরিক সমস্যা বাড়লে সেখান থেকে গত ১০ ডিসেম্বর তাঁকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত শনিবার বিকেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। আজ সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন দায়িত্বরত চিকিৎসক।

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক জাহিদ আহমেদ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান গত ১০ ডিসেম্বর এই হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁকে কোভিড–১৯ জোনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর আবার করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হলে নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।পরে তাঁকে সবুজ জোনে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এত দিন তাঁকে অক্সিজেন দিতে হয়েছে। তিনি অক্সিজেন সাপোর্টে ছিলেন। ৯ জানুয়ারি তাঁর অক্সিজেনের চাহিদা বাড়তে থাকে। ওই দিন বিকেল পৌনে পাঁচটায় তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট (কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস) দেওয়া হয়। তাঁর রক্তচাপও কমে যায়। এর মধ্যেই আজ সোয়া পাঁচটায় হার্ট অ্যাটাক হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান ১৯৬৭ সালের ৩১ অক্টোবর ঝালকাঠির নলছিটিতে জন্মগ্রহণ করেন।
সাংবাদিক ও প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে। তার আগে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পারিবারিক সূত্র ও প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে তাঁর মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রথমে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে, এরপর সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এবং বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আরেক দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে দুপুর ১২টায় তাঁর মরদেহ কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে আনা হবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। পরে বাদ জোহর তাঁকে দাফন করা হবে।
বিশিষ্ট এই সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ, সংগঠন ও দল। অসংখ্য মানুষ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও শোক জানিয়েছেন। শোক বার্তায় বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, আইন বিষয়ে লেখালেখি ও সাংবাদিকতায় মিজানুর রহমান খান ছিলেন পথিকৃৎ। তাঁর মৃত্যু অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন একজন নীতিমান সাংবাদিক।

সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন তাপস, নেওয়া হবে আইনী ব্যবস্থা

0

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের বক্তব্যকে মানহানিকর উল্লেখ করে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। আজ বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর মানিকনগর এলাকার স্লুইসগেট ও পাম্প হাউস পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
তাপস বলেন, ‘অবশ্যই তিনি (সাঈদ খোকন) মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তাঁর বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছি। তিনি নিজে চুনোপুঁটি দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকার করেছেন। আর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্যই এটা মানহানিকর হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে পারি।’

আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন কি না, এ প্রশ্নে তাপস বলেন, মানহানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তো আইনি ব্যবস্থাই নিতে হবে।

তাপসকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল ছিল জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এর আগেই ৯ তারিখে আমরা লক্ষ করলাম, তিনি (সাঈদ খোকন) ঘটা করে একটা সভা ডেকে আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করলেন। আমার মনে হয়, এটা ওনার ব্যক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ।’

গত শনিবার দুপুরে হাইকোর্ট এলাকায় আয়োজিত এক মানববন্ধনে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নানা অভিযোগ তোলেন শেখ তাপসের বিরুদ্ধে। সাঈদ খোকনের এসব অভিযোগের বিষয়ে গতকাল রোববার তাপস বলেন, ‘কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কোনো কিছু বলে থাকেন, সেটার জবাব আমি দায়িত্বশীল পদে থেকে দেওয়াটা সমীচীন মনে করি না।’ গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শেখ ফজলে নূর তাপস।

ঢাকা দক্ষিণের সাবেক ও বর্তমান মেয়রের এই বাদানুবাদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়। আজ আবার সাঈদ খোকনের বক্তব্য নিয়ে বলেন মেয়র তাপস। তিনি বলেন, ‘আমরা ১৭ মে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান আরম্ভ করেছি। সেখানে আপনারা লক্ষ করেছেন, মার্কেটসংক্রান্ত কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সংবাদকর্মীরা আপনারাই সেগুলো অনুসন্ধান করে বের করেছেন। সেখানে বিভিন্নভাবে টাকা লেনদেন হয়েছে। যাঁদের সঙ্গে টাকা লেনদেন হয়েছে, যাঁরা লেনদেন করেছেন, তাঁরাই অভিযোগ এনেছেন।’

তাপস বলেন, ‘আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অথবা আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবেই কোনো অভিযোগ আনিনি। যেসব ব্যবসায়ী ও দোকানদারের অবৈধ দখলে জায়গাগুলো দখলে ছিল, তাঁরা অর্থ লেনদেন করেছেন। এখন তিনি পুরো দোষ আমার ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। সেটা আমি মনে করি খুবই অনভিপ্রেত।‌ শুধু আক্রোশের বশবর্তী হয়ে তিনি এই বিষয়গুলো তুলে ধরছেন।’