ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 153

মামলাজট দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা, সমাধানে চেষ্টা চলছে, জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

0

দেশের মামলাজট সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই দেশের মামলাজট সমস্যা সমাধানে প্রথম সচেষ্ট হয়েছেন। এ জট নিরসনে সময় লাগবে। কারণ রাতারাতি একজন বিচারক বানানো যায় না। একটি সিস্টেম রাতারাতি পরিবর্তন করা যায় না। রবিবার ঢাকায় সিরডাপ মিলনায়তনে ‘‘ডিভেলপমেন্ট প্লানিং এক্সপরেয়িন্সে ইন বাংলাদেশ’’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বনানীর বাসা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ২০০৭ সালের পহেলা নভেম্বর বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের সময় বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছিল না। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবকাঠামো নির্মাণসহ নতুন নতুন বিচারক নিয়োগ দিচ্ছে, বিচারকদের প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সুবিধা দিচ্ছে। পাশাপাশি আদালতের বাইরে বিকল্প উপায়ে অর্থাৎ এডিআর-এর মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করে মামলাজট কমানোর চেষ্টা করছে। এর সুফল আমরা অবশ্যই পাবো।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে বিচারকদের স্বাধীনতা, বেতন ভাতা, সুযোগ সুবিধা- সবক্ষেত্রে তাদের প্রতি অন্যান্য সরকারের সবচেয়ে বেশি অনীহা ছিল। মন্ত্রী বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৩-৯৪ সাল পর্যন্ত এমন পর্যায় হয়েছিল যে, আসামির সাজা খাটা হয়েছিল অথচ কোর্টে মামলা করতে পারা যায় নাই এবং সে কারণেই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান তত্ত্ববধায়ক সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর সাজা কমিয়ে অনেককে জেল খানা থেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন।
সেমিনারে এক প্রশ্নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্টোরেজ এবং মজুতদারী দুটি এক বিষয় না। মজুতদারীর ব্যাপারে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। সরকার জনগণের কষ্ট লাঘব করার জন্য মার্কেটে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন হলে সেটা করবে। কারণ ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর আমলে এরকম একটি সংকট তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সে জন্যই মূলত বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ প্রনয়ণ করা হয়েছিল এবং এই আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি হলো মজুতদারী এবং চোরাকারবারী। তিনি বলেন, মজুতদারীর ব্যাপারে সরকার শুধু মার্কেটে হস্তক্ষেপ করবে না, আইন অনুযায়ী মজুতদারদের শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার লাভ করার জন্য ব্যবসা করে না। যেখানে বেসরকারি খাতের কোন অবদান নাই, সেখানে সরকার ব্যবসা করে।
সেমিনারে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির সভাপতিত্ব করেন, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও সিনিয়র সচিব ড. শামসুল আলম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন।

ভাস্কর্যের সুরক্ষা চেয়ে হাইকোর্টে রিট,সোমবার শুনানি

0

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যসহ দেশের সব ভাস্কর্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উত্তম লাহিড়ী রোববার সকালে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন।
পরে তা বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়।
আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথি রিটটি উপস্থাপন করে শুনানির আরজি জানান। তার সঙ্গে ছিলেন এবিএম শাহজাহান আকন্দ মাসুম। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সোমবার এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আইনজীবী যুথি।
ভাস্কর্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি জাতির পিতার ভাস্কর্য স্থাপন নিয়ে সৃষ্ট ‘নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা’ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- সেই মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে এই রিটে।   
এছাড়া জাতির জনকের ভাস্কর্য স্থাপন এবং ভাস্কর্য নিয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও বায়তুল মোকারম মসজিদের খতিবের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র সচিব, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ প্রধান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ও বায়তুল মোকারম মসজিদের খতিবকে এই রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে।

বিতর্কের অবসান, যাবজ্জীবনে ৩০ বছর, রায়ে ‘আমৃত্যু কারাদণ্ড’ বললে বাকি জীবন জেলে: আপিল বিভাগের রায়

0

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ৩০ বছর। তবে আদালত নির্দিষ্ট করে আমৃত্যু কারাদণ্ড বলে দিলে আসামিকে বাকি জীবন জেলেই কাটাতে হবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে আমৃত্যু কারাবাস’ আপিল বিভাগেরই এমন রায় ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ দাবি করে আসামিপক্ষ যে পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেছিল, সে আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দিয়েছে।

আবেদনটি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সংক্ষিপ্ত রায়ে বলেন,

প্রাথমিক অর্থে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মানে হল, দণ্ডিত ব্যক্তি তার স্বাভাবিক জীবনের বাকি সময় কারাভোগ করবেন।

দণ্ডবিধির ৪৫ এবং ৫৩ ধারার সাথে দণ্ডবিধির ৫৫, ৫৭ ধারা এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫(ক) মিলিয়ে পড়লে যাবজ্জীবনের সাজা কমে ৩০ বছর কারাদণ্ডের সমতুল্য হয়।

তবে আদালত, ট্রাইব্যুনাল অথবা ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গঠিত ট্রাইব্যুনাল যখন কোনো আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়, তিনি কার্যবিধির ৩৫(ক) ধারার (রেয়াতি) সুবিধা পাবেন না।

রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষে আদালতে যুক্ত ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “যাবজ্জীবন মানে আসামিকে সর্বোচ্চ ৩০ বছর সাজা খাটতে হবে। তবে আদালত যদি আমৃত্যু সাজা দেয়, তাহলে সেটাই গণ্য করতে হবে উল্লেখ করে রিভিউ রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ।“

যাবজ্জীবনে ৩০ বছর- এ নিয়ম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মামলায় দণ্ডিত আসামিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলেও স্পষ্ট করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “যাবজ্জীবন মানে কতদিন, আসামিকে কতদিন সাজা ভোগ করতে হবে এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল। আমরা সে ব্যপারে রিভিউ পিটিশন করে বলেছিলাম, বর্তমান আইনের বিধান অনুযায়ী যাবজ্জীবনে ৩০ বছর হবে। কারণ ৩০ বছর যদি না হয়, তাহলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫(ক)সহ অন্য আইনের বিধানগুলো এবং জেলকোড, সব বাতিল হয়ে যাবে।

“আজকের রায়ে আপিল বিভাগ বলেছে, যাবজ্জীবন বলতে একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন যতদিন, ততদিন। কিন্তু আইন অনুযায়ী যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামির ৩০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে। যদি আদালত বা ট্রাইব্যুনাল বিশেষভাবে আদেশ দেন, তাহলে আমৃত্যু জেলখানায় থাকতে হবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব বলেন, “রায়ে আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। তবে আমৃত্যু সাজাটা মানবতাবিরোধী এবং আমৃত্যু সাজা যদি থাকে, তাহলে জেলাখানায় ওল্ডহোম করতে হবে। একটি মানুষ যখন অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে যাবে, তখন তার চলাফেরার শক্তি থাকবে না। তখন তার সেবা- শুশ্রুষার বিষয়টিও আদালতকে বিবেচনা করতে হবে।
 
“আমি এখনও মনে করি, আমৃত্যু সাজার প্রশ্ন যখন আসবে, আদালত থেকে এমন একটা আদেশ আসবে একসময়, যখন প্যারোলের বিধান থাকবে। একটি লোক যখন অথর্ব হয়ে যাবে, বৃদ্ধ হয়ে যাবে, চলাফেরায় অক্ষম হয়ে যাবে, সেক্ষেত্রে বর্তমানে যে বিধান রয়েছে, সরকার তাকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু এ রায়ের পর যখন আমৃত্যু সাজা হবে, সেখানে সরকারের সেই ক্ষমতাও (প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা) থাকবে না। তাই এটাকে প্রয়োজনবোধে আবার পুনর্বিবেচনার জন্য দ্বিতীয়বার আবেদন করতে পারি।”
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ গত বছর ১১ জুলাই শুনানি শেষে রিভিউ আবেদনটির রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছিল।

রিভিউ শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত এ বিষয়ে পাঁচ অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্য শোনে। তারা হলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এ এফ হাসান আরিফ, আবদুর রেজাক খান, মুনসুরুল হক চৌধুরী ও এ এম আমিন উদ্দিন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে আমৃত্যু কারাবাস জানিয়ে আপিল বিভাগ যে রায় দিয়েছিল, তা ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ দাবি করে ২০১৭ সালে এই রিভিউ আবেদন করে আসামিপক্ষ।

তখন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, এক হত্যা মামলার চূড়ান্ত বিচারে (ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে) দেওয়া ওই রায় আপিল বিভাগেরই আগের আরেকটি রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সেদিন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ওই রায়ের কারণে আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে ‘অনিশ্চয়তার’ সৃষ্টি হয়েছে। ‘সঠিক বিবেচনায়’ ওই রায় দেওয়া হয়নি। বিভ্রান্তি দূর করার জন্য পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হয়েছে।

২০০১ সালে সাভারের ব্যবসায়ী জামান হত্যা মামলায় দুই আসামির আপিল শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ ওই রায় দেয়। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল।

সেখানে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারা ও ৪৫ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে আমৃত্যু কারাবাস। এর ফলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত সবাইকে আমৃত্যু কারাগারে থাকতে হবে।

আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দিয়ে সেদিন ওই সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, প্রচলিত ফৌজদারি আইন ও কারাবিধি অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ ৩০ বছর সাজা। এরপর আসামি রেয়াত পেলে ওই সাজার সময় আরও কমে যাবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(ক) ধারা অনুযায়ী সাজার মেয়াদ থেকে বিচারিক সময়ের হাজতবাসের সময়ও বাদ যাবে।

খন্দকার মাহবুব আরও বলেছিলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ২০১৩ সালে এক রায়ে বলেছিল, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অর্থ হল সাড়ে ২২ বছর কারাদণ্ড।

আপিল বিভাগের ওই রায় ও আইন বলবৎ থাকা অবস্থায় বিচারপতি সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের অপর রায় আসে; সেখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানে ‘আমৃত্যু কারাদণ্ড’ বলা হয়।

“আপিল বিভাগের আগের রায় বাতিল না করেই এ রায় দেওয়া হয়েছে। ফলে রায়ের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ (ক) ধারার কার্যকারিতা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির ক্ষেত্রে স্থগিত করা সমীচীন হয়নি। এটা দূর হওয়া প্রয়োজন,” বলেছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন।

জামান হত্যা মামলায় আপিলের রায়ে বলা হয়েছিল, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা মওকুফ (রেয়াত) পাওয়ার কোনো অধিকার নেই। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি অন্য কোনো সুবিধা (রেয়াত) পাওয়ার দাবি করতে পারে না।

ব্রিটিশ আমলে করা আইন ও কারাবিধির বর্তমান প্রেক্ষাপটে নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরতে গিয়ে বিচারপতি এস কে সিনহা আদালতের বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিয়ে ‘বিভ্রান্তির’ কথা বলেছিলেন।

২০১৬ সালের ২৬ জুন গাজীপুরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বলতে আপনারা মনে করেন ৩০ বছর। ধরে নেয়, সব জায়গায়। প্রকৃতপক্ষে এটার অপব্যাখ্যা হচ্ছে। যাবজ্জীবন অর্থ হল একেবারে যাবজ্জীবন, রেস্ট অফ দ্য লাইফ।”

এরপর আদালতে দেওয়া রায়েও একই মত প্রকাশ করেন তিনি। ওই রায় প্রকাশের পরদিন তার ব্যাখ্যায় তখনকার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, আপিলে যাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে, শুধু তাদের ক্ষেত্রেই আমৃত্যু কারাগারে কাটাতে হবে। আর বিভিন্ন মামলায় যাদের যাবজ্জীবন সাজা হবে, তাদের মৃত্যু পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হবে না। দণ্ডবিধি অনুযায়ী ৩০ বছর জেল খেটেই বের হবেন তারা।

দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাসহ চার আসামির জামিন বাতিল প্রশ্নে হাইকোর্টের ‍রুল

0

ফারমার্স ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা( এসকে সিনহা)সহ চার আসামির জামিন কেনো বাতিল করা হবে না,জানতে চেয়ে রুল জারী করেছে হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদেরকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
দুদকের  আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেল এর সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ  আদেশ দেন।
মামলায় আসামীরা হলেন সাবেক ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেড ( বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফল হক, একই ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, টাঙ্গাইলের মো. শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশিদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক,  সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা ও আন্না খানম কলি।
গত ১৮ আগস্ট ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। এর আগে জালিয়াতির মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার শুরু হয়। দুদকের এই মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ৫ জানুয়ারি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তাকে পলাতক দেখিয়েই এ মামলার বিচার কাজ চলছে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

দুদক কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর ১১ জনকে আসামি করে এ মামলার অভিযোগপত্র দেন। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে এস কে সিনহার ব্যাংক হিসাবের চার কোটি টাকা জব্দ করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ফারমার্স ব্যাংকে ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে সেই টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, উত্তোলন ও পাচার করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নানা নাটকীয় ঘটনার মধ্যে বিচারপতি সিনহা তিন বছর আগে বিদেশে পাড়ি জমানোর পর দুদক অভিযোগ পায়, তিনি ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ব্যবসায়ী পরিচয়ে দুই ব্যক্তির নেওয়া ঋণের চার কোটি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে নিয়েছিলেন।
অভিযোগ পেয়ে ওই বছরই তদন্তে নামে দুদক। তদন্তের পর সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর আসামি শাহজাহান ও নিরঞ্জন চন্দ্র ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখায় আলাদা দুইটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য পরদিন তারা ওই ব্যাংক থেকে দুই কোটি টাকা করে মোট চার কোটি টাকা ঋণের আবেদন করেন।
তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ঋণের আবেদনে উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের ১২ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করা হয়, যার মালিক ছিলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
ঋণের জামানত হিসেবে আসামি রনজিৎ চন্দ্রের স্ত্রী সান্ত্রী রায়ের নামে সাভারের ৩২ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয় ঋণের আবেদনে। ওই দম্পতি এস কে সিনহার পূর্ব পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার এজাহারে।

দুদক বলছে, ব্যাংকটির তৎকালীন এমডি এ কে এম শামীম কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই, ব্যাংকের নিয়ম-নীতি না মেনে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ দুটি অনুমোদন করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৭ নভেম্বর ঋণের আবেদন হওয়ার পর ‘অস্বাভাবিক দ্রুততার’ সঙ্গে তা অনুমোদন করা হয়। পরদিন মোট চার কোটি টাকার দুটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয় এস কে সিনহার নামে। ৯ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের সুপ্রিম কোর্ট শাখায় এস কে সিনহার অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
পরে বিভিন্ন সময়ে ক্যাশ, চেক ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে এস কে সিনহার ভাইয়ের নামে শাহজালাল ব্যাংকের উত্তরা শাখার অ্যাকাউন্টে দুটি চেকে দুই কোটি ২৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় ওই বছরের ২৮ নভেম্বর।
এজাহারে বলা হয়, “আসামি রনজিৎ চন্দ্র ঋণ দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রধান বিচারপতির প্রভাব ব্যবহার করেন। রনজিৎ চন্দ্রের ভাতিজা হলেন ঋণ গ্রহীতা নিরঞ্জন এবং অপর ঋণ গ্রহীতা শাহজাহান ও রনজিৎ ছোটবেলার বন্ধু। ঋণ গ্রহীতা দুইজনই অত্যন্ত গরিব ও দুস্থ। তারা কখনও ব্যবসা-বাণিজ্য করেননি।”

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ; ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আপিলে স্থগিত

0

নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ও নিহত ব্যক্তির পরিবারকে আপাতত পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন তৈমুর আলম খন্দকার।
গত ৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিভাগ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার আদেশ দিয়ে রুল জারি করেছিলেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এ টাকা দেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ৩৭টি পরিবারের কাছে এ টাকা বিতরণ করবেন।
রুলে দগ্ধ ও নিহতদের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে বিবাদীদের কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।
চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, নারায়ণগঞ্জের মেয়র, তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রাজউক, ডিপিডিসি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও এসপি, মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
ক্ষতিপূরণের আদেশ স্থগিত চেয়ে  আপিল বিভাগে আবেদন করে সরকার পক্ষ ও তিতাস গ্যাস। ১৩ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান স্থগিতাদেশ দিয়ে আবেদন ১ ডিসেম্বর শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর আদেশ দেন। সে অনুসারে আবেদনগুলো মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় উঠে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মার-ই-য়াম খন্দকার।
গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন ৩৭ জন মুসল্লি। দগ্ধদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। দগ্ধ ৩৭ জনের মধ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর ১২ শতাংশ দগ্ধ মামুন নামে এক রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

কানাডার বেগমপাড়া আসলে কোথায়? বাংলাদেশী কারা সেখানকার বাসিন্দা?

0

কানাডা’র বাংলাদেশী বেগমপাড়া একটি মিথ, এটি সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা নয়, আরও অনেক দেশেই রয়েছে এমন বেগম পাড়া। বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক, আমলা তাদের দুর্নীতির টাকা নির্বিঘ্নে পাচার করে কানাডা অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে বাড়ি গাড়ি কিনে স্ত্রী সন্তানদের রেখেছেন। দেশে লুট করা টাকা দিয়ে বিদেশের মাটিতে ভোগবিলাস করছেন। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ডহোমের পর গত কয়েকবছর ধরে আলোচনায় এসেছে কানাডার বেগমপাড়ার খবর। সরকারিভাবেও এই বেগমপাড়ার দু্র্নীতিবাজদের কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তারা অনুসন্ধান করে দেখেছেন, বিদেশে টাকাপাচারকারিদের মধ্যে রাজনীতিবিদদের চেয়েও সরকারি আমলাদের সংখ্যা বেশী। অর্থাৎ দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা পাচার করছেন সরকারি আমলারা বেশী। বেগমপাড়ার বিষয়টি এখন দুর্নীতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ। দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন,দুদক এসব বেগমপাড়ায় বসবাসকারিদের তালিকা চেয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর হয়েছে । কিন্তু আদৌ সেই তালিকা পাওয়া যাবে কি না, অনুসন্ধান হবে কি না, এ নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন সন্দেহ। তবে আশার কথা হলো দেশের এই লুটেরা, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন প্রবাসী অভিবাসীরা। যারা জীবিকার অন্বেষণে বিদেশ-বিভুঁইয়ে গিয়ে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেও সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারেন না, অথচ দেশের এক শ্রেণির আমলা, রাজনৈতিক নেতা কোটি কোটি টাকা পাচার করে তাদের স্ত্রী সন্তানদের সেখানে বিলাসিতার মধ্যে রেখে দেশে নির্বিঘ্নে রাজনীতি, চাকরি করে যাচ্ছেন।
কানাডার বেগমপাড়া আসলে কি? কারা সেখানকার বাসিন্দা? এ নিয়ে লিখেছেন
সাবেক ছাত্রনেতা, লেখক, গবেষক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট ডঃ মঞ্জুরে খোদা। পড়ুন বিস্তারিত।

বেগমপাড়া কি?
বাংলাদেশের অসৎ-দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী-আমলা-রাজনীতিকদের পরিবার কানাডার যে সব স্থানে বাসা-বাড়ী কিনে বসবাস করে সেসব স্থানকে কানাডার বাঙালিরা ‘বেগমপাড়া’ বলে অভিহিত করে। কানাডায় আসলে সুনির্দিষ্টভাবে ‘বেগমপাড়া’ বলে কোন জায়গা নেই। ‘বেগমপাড়া’ হচ্ছে বাংলাদেশের লুটেরা-দুর্নীতিবাজদের দ্বিতীয় আবাস ভূমির প্রতিকী নাম। বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে তাদের পরিবার এখানে আয়েশী, নিরাপদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপন করে।

ছবি- বিবিসি বাংলা

কিভাবে এলো বেগমপাড়ার ধারণা?
অন্টারিও’র একটি ব্যয়বহুল ও অভিজাত ছোট শহর মিসেসাওগা। কানাডার বিখ্যাত লেক অন্টারিওর তীর ঘেসে টরন্টো শহরের পাশে এটি অবস্থিত। এই শহরের একটি বড় কন্ডোমিনিয়ামে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আসা বহু অভিবাসী পরিবার বসবাস করতো। এই সব পরিবারের কর্তারা কাজকর্ম করেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। আর স্বামীদের অনুপস্থিতিতে স্ত্রীদের নিঃসঙ্গ এবং কঠিন জীবন সংগ্রাম নিয়ে ভারতীয় পরিচালক রশ্মি লাম্বা একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যে তথ্যচিত্রের নাম ছিল ‘বেগমপুরা’। সেই ‘বেগমপুরা’ থেকেই বেগমপাড়া’র নামটি এসেছে।

বেগমপুরা থেকে বেগমপাড়া হলেও কাহিনী বিপরীত!
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উচ্চবেতনে কাজ করা ভারত-পাকিস্তানের নাগরিকরা জীবনের এক সময় পরিবার নিয়ে অভিবাসী হয়ে কানাডায় চলে আসেন। কিন্তু কানাডায় এসে তারা তাদের পেশাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ না পেয়ে কানাডায় পরিবার রেখে ফের মধ্যপ্রাচ্যেই চলে যান। সেখান থেকে অধিক আয়ের অংশ তাদের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য পাঠান। আর তাদের স্ত্রীরা’ স্বামীর অনুপস্থিতিতে একাই কঠিন সংগ্রাম ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তাদের সন্তান ও পরিবারকে সামলিয়েছেন। তার মানে বেগমপুরার কাহিনী ছিল অনেক সংগ্রামের ও চ্যালেঞ্জের।

আর বাংলাদেশের কথিত বেগমপাড়ার কাহিনী তার বিপরীত। বাংলাদেশের বেগমদের সাহেবরা দেশে চাকরি, ব্যবস্যা-বাণিজ্য, রাজনীতি করে দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে তাদের অর্জিত অবৈধ আয় কানাডায় পাচার করে তাদের বেগমদের কাছে পাঠায়। আর তাদের বেগমরা-সন্তানরা এখানে অভিজাত এলাকার দামী বাসা-বাড়ী-গাড়ীতে বিলাশবহুল আয়েশি জীবনযাপন করেন।

সেই প্রতিকী বেগমপাড়াগুলো কোথায়?
বেগমপাড়া বলে বাস্তবে কানাডায় কোন পাড়া, মহল্লা, এলাকা না থাকলেও এখানে এমন কিছু জায়গা আছে, যেখানে এ সব অসৎ-দুর্নীতিবাজ বাংলাদেশীরা বসতি গেড়েছেন। কোথায় সে সব? সাধারণত যে সব এলাকায় বাংলাদেশীদের আনাগোনা নেই, স্থানীয় প্রবাসী পেশাজীবীরা বসবাস করেন না, সে সব এলাকাকেই তারা বেছে নিয়েছেন বসবাসের জন্য। এবং সে সব এলাকাতেই বাসা-বাড়ী, এপার্টমেন্ট কিনে বসবাস করছেন। যে স্থানগুলোকে এখানকার অভিজাত এলাকা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
জানা যায়, টরন্টোর বেলভিউ এলাকায় বিলাসবহুল হাইরাইজ কন্ডোমিনিয়াম, টরন্টোর প্রাণকেন্দ্র সিএন টাওয়ারের আশেপাশে, টরন্টোর পাশের শহর রিচমন্ড হিল, মিসেসাওগা এবং মার্কহামের অভিজাত এলাকায় তারা বাস করে। অন্টারিও এলাকায় এমন প্রায় দুই শতাধিক বেগমপাড়ার সন্ধানের কথা শোনা যায়। এছাড়া আরো অনেকে কানাডার অভিবাসী হয়ে বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে পড়েছেন।

কি করেন এই বেগমরা?
অভিজাত এলাকার এসব বেগমদের এখানে কোন কাজ-কর্ম করেন না, কিন্তু তারা দুই-চার-পাঁচ মিলিয়ন ডলারের বাড়ীর মালিক। তারা এখানে থাকেন কিন্তু তাদের জ্ঞাত আয়ের সাথে দৃশ্যমান জীবনযাপনের কোনো মিল নেই। কানাডায় থাকা সাধারণ প্রবাসীদের পক্ষে সহজে এমন বাড়ী কেনা সম্ভব না। তাদের এরকম একটা বাড়ী কিনতে অনেক মেহনত করতে হয়। স্বামী-স্ত্রী ভাল চাকরি-ব্যবসা করে তবেই চিন্তা করতে পারেন এমন বাড়ীর কথা। যে কারণে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহজেই ধারণা হয়, তাদের এ সম্পদ তারা এখানকার আয় দিয়ে করেননি। বাংলাদেশ থেকে তারা অসৎ উপায়ে আয় করে অবৈধভাবে নিয়ে এসেছেন।

কেন বেগমপাড়া এত আলোচিত?
কানাডাই একমাত্র দেশ যেখানে দেশপ্রেমিক প্রবাসীরা লুটেরাদের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। যে সংবাদ দেশের সকল মিডিয়াতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হয়। যে আন্দোলন দেশ-বিদেশের বাঙালিদের দ্বারা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। মানুষের মধ্যে অনেক উৎসাহের সৃষ্টি করে। অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন তাদের ওখানেও এমন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য। বিশেষত কানাডা ছাড়া যে সব দেশে লুটেরারা অর্থ পাচার করেন। সেটা হলে লুটেরা বিরোধী এ আন্দোলন হয়তো একটি বৈশ্বিক আন্দোলন হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য বিশ্বব্যাপী করোনার ভয়ঙ্কর আক্রমন সে সম্ভবনাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। কিন্তু লুটেরা বিরোধী আন্দোলনের আলাপ-সংগ্রাম থেমে নেই।

কানাডায় বেগমপাড়া ও লুটেরা বিরোধী আন্দোলন ছিল বেগমপাড়া শব্দের ব্যাপক প্রচার ও আলোচনার বিষয়। এই আন্দোলনের আগে ও পড়ে কানাডার বেগমপাড়া নিয়ে মিডিয়াতে অনেক সংবাদ, প্রতিবেদন আলাপ-আলোচনা হয় যা এখন চলমান। যে আলোচনা দেশ-বিদেশে এক বিশাল মিথ ও কিংবদন্তির সৃষ্টি করে।

বেগমপাড়া কি শুধু কানাডাতেই আছে?
না বেগমপাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছে? বেগমপাড়ার মিথ বিবেচনায় দুনিয়ার অনেক দেশেই বেগমপাড়া বিদ্যমান। যে সব দেশে লুটেরারা দেশ থেকে অর্থসম্পদ লুট করে নিয়ে তাদের দ্বিতীয় বিলাসী ও নিরাপদ আবাস গড়ে তুলেছেন, সেখানেই এই বেগমপাড়া বর্তমান। সে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কেইম্যান আইল্যান্ডস ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসএ বেগমপাড়া আছে। এ তথ্য বাংলাদেশ সরকার ও জিএফআই এর।
(ডঃ মঞ্জুরে খোদা, লেখক, গবেষক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট)
————————————————————–
তথ্যসূত্রঃ কানাডায় বাংলাদেশের অর্থপাচারকারী বিত্তশালীদের বেগমপাড়া আসলে কোথায়? মোয়াজ্জেম হোসেন, বিবিসি বাংলা।

অন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খানের মৃত্যু

0

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক এম আব্দুল হান্নান খান।
রোববার বেলা পৌনে ১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয় বলে সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক জানান।
সত্তোরোর্ধ্ব এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হান্নান খান স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে রেখে গেছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। আব্দুল হান্নান খান এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেঠেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “আব্দুল হান্নান খান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড, জেল হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দলিলপত্র সংগ্রহ ও উপস্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্ত মামলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।”
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হান্নান খানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
অপর এক শোক বার্তায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যা মামলার তদন্তসহ দায়িত্ব পালনে হান্নান খানের নিষ্ঠা ও দক্ষতার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার হান্নান খানের জ্বর আসে। সেদিনই করোনাভাইরাসে পরীক্ষা করালে পজিটিভ আসে। জ্বর বেড়ে গেলে তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়।
“সেখানে গত দুইদিন তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু আজ  সকাল থেকে হঠাৎ করে অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পৌনে একটার সময় তিনি মারা যান।”
মাস খানেক আগে হান্নান খানের ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছিল। তবে সেটা থেকে সেরে উঠে বাসায় বিশ্রামেই ছিলেন। “উনার ‘ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যাটাক’ হয়েছিল বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।”
হান্নান খান পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে অবসরে যাওয়ার পর ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি তাকে আইজিপি পদমর্যাদায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আব্দুল হান্নান এর মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোক ঃ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হান্নান খান এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, এমপি। এক শোকবার্তায় আইনমন্ত্রী বলেন, আব্দুল হান্নান খান ছিলেন একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সাহসী এবং নীতি ও আদর্শবান ব্যক্তিত্ব। তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলা, জেল হত্যা মামলা এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এক বিরাট শূন্যতা তৈরি হলো। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

উদ্ভট দাবি চীনা বিজ্ঞানীদের; করোনা ভাইরাস বাংলাদেশ-ভারত থেকেই ছড়িয়েছে, নাকচ করলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও

0

মহামারি কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের উৎস চীনে নয়, বরং ভারত বা বাংলাদেশ থেকেই এটি ছড়িয়েছে। এবার চীনের বিজ্ঞানীরা এমন দাবি করেছেন।
সম্প্রতি চীনের সায়েন্স অ্যাকাডেমি প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এমন দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যে ল্যানসেট–এর প্রাক্‌-প্রকাশনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই প্রবন্ধ উদ্ধৃত করে গত শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য সান বলছে, উহানের দোষ এখন বাংলাদেশ বা ভারতের ওপর চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে।

ছবি-ইন্টারনেট।
চীনা বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনাভাইরাস চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়ার আগে ভারত-বাংলাদেশে দেখা দিয়েছিল। গত বছর এ অঞ্চলে তীব্র তাপদাহের সময় মানুষ ও বন্যপ্রাণীরা একই উৎস থেকে পানিপানের ফলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার প্রমাণও রয়েছে তাদের কাছে।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের মে থেকে জুন মাসে রেকর্ড দ্বিতীয় দীর্ঘতম দাবদাহ তাণ্ডব চালিয়েছিল উত্তর-মধ্য ভারত এবং পাকিস্তানে। ফলে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ পানির সংকট সৃষ্টি হয়। পানির অভাবে বানরের মতো বন্যপ্রাণী একে অপরের সঙ্গে ভয়াবহ লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছিল এবং অবশ্যই এটি মানুষ-বন্যপ্রাণী সংস্পর্শের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছিল।
চীনা গবেষক দলটি করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজতে ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তাদের মতে, সবচেয়ে কম রূপান্তরিত রূপটাই ভাইরাসের আসল রূপ হতে পারে।
এ ধারণার ভিত্তিতেই চীনা গবেষকরা দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ উহানে হয়নি। ভারত কিংবা বাংলাদেশের মতো জায়গাগুলো, যেখানে কম রূপান্তরিত ভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে, সেখানেই হতে পারে এর আসল উৎস।
ভারত-বাংলাদেশের পাশাপাশি করোনার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে রাশিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র ও চেক রিপাবলিকেরও নাম বলেছেন চীনের ওই গবেষকরা।
চীনা গবেষকদের এ দাবির সঙ্গে একমত নন অনেক বিশেষজ্ঞ। গ্লাসগো ইউনিভার্সিটির ভাইরাল জিনোমিক্স অ্যান্ড বায়োইনফরম্যাটিকস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডেভিড রবার্টসন চীনা বিজ্ঞানীদের গবেষণাপত্রকে খুবই ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ন্যূনতম রূপান্তরিত ভাইরাস সিকোয়েন্স শনাক্তকরণে লেখকদের দৃষ্টিভঙ্গি সহজাতভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট। লেখকরা মহামারির বিস্তৃতি সংক্রান্ত উপাত্তগুলো এড়িয়ে গেছেন, যাতে চীনে ভাইরাসের উত্থান এবং সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়া স্পষ্ট দেখা যায়।
চীনের বিজ্ঞানীদের দাবিকে পুরোপুরি অনুমাননির্ভর বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত শুক্রবার সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মাইক রায়ান এক ভার্চ্যুয়াল ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘চীন থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি হয়নি, এমন কথা বলা আমাদের জন্য একেবারে অনুমাননির্ভর হবে।’
চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্যের ব্যাপারে দেশের প্রভাবশালী সংবাদপত্র প্রথম আলোর পক্ষ থেকে দেশের চারজন বিজ্ঞানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে জিন বিশ্লেষণের যে তথ্য আছে, তাতে দেখা যায়, এই ভাইরাস অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে।’
গত বছর চীনের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চীনের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ভাইরাসের তথ্য প্রকাশ করে। বাংলাদেশে প্রথম রোগী শনাক্তের ঘোষণা আসে ৮ মার্চ।
দেশের বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নতুন করোনাভাইরাসের জিনের রূপান্তর বিশ্লেষণ করেছে। এসব বিশ্লেষণে বেশ কয়েকটি স্ট্রেইন বা ক্লেড (ধরন) চিহ্নিত হয়েছে। আইইডিসিআর ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি)। যৌথ গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীরা বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে ঘটে থাকতে পারে।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম জিন বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন চাইল্ড হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক সমীর সাহা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘চীনা বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা তাঁদের প্রবন্ধে প্রথম সংক্রমণ নিয়ে অপরিপক্ব মন্তব্য করেছেন।’ তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও বিশ্লেষণ হওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের মানুষকে বাক স্বাধীনতার জন্য লড়তে হচ্ছে, সেমিনারে অভিমত

0

জনগণের মৌলিক অধিকার ও বাক স্বাধীনতার নিশ্চয়তার পাশাপাশি মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। ‘মানবাধিকার সংরক্ষণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জোরদারকরণ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান তারা।
ইউএনডিপি-হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের সহায়তায় বেসরকারি গবেষণা সংগঠন ‘ভয়েস’ এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। রাজধানীর শ্যামলীতে সংগঠনের সেমিনার কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা সঞ্চালনা করেন ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভয়েসের প্রকল্প সমন্বয়ক জায়েদ সিদ্দিকী ও গবেষণা সহযোগী আফতাব খান শাওন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সালিম সামাদ। প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন, একলাব এর নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তারিকুল ইসলাম, নারী অধিকার নেত্রী মুশফিকা লাইজু এবং সংগঠক ও বাচিক শিল্পী সজল কোরায়শী। সংলাপটি একইসঙ্গে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় যাতে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মূল বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই আজ বাক স্বাধীনতা ও তাদের মৌলিক অধিকারের জন্য লড়াই করছে। বিশেষ করে সাংবাদিক, যোগাযোগ কর্মী ও সমাজকর্মীদের বাক স্বাধীনতার জন্য মূল্য দিতে হচ্ছে। তারা পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। সরকারের সমালোচনার কারণে গ্রেফতার হতে হচ্ছে।
তারা বলেন, করোনার সময়ে সাংবাদিক হয়রানির সংখ্যা বেড়েছে। করোনাকালীন দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ ও সরকারের সমালোচনা বন্ধ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে।
এ সময় ধর্মীয় উন্মাদনা, নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি বিষোদগারের কথাও উল্লেখ করেন বক্তারা। বক্তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ আইনের শাসন কায়েম ও গণতন্ত্র সংহতকরণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জোরদারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

মর্গে মৃত নারীদের নিয়মিত ধর্ষণ করতো সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ডোম সহকারী মুন্না, যেভাবে ধরা পড়লো সিআইডির কাছে

0

ভয়ঙ্কর ও বিকৃত এক মানসিক বিকারগ্রস্ত মুন্না ভক্ত। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গের ডোমের সহকারী, মাত্র ২০ বছর বয়েসী মুন্না হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া নারীদের মরদেহের সঙ্গে ‘যৌন লালসা চরিতার্থ’ করতো। গত দেড় বছর ধরে মর্গে মৃত নারীদের সে ধর্ষণ করে আসছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভিগ, সিআইডির হাতে তাকে ধরা পড়তে হয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতারের পর বের হয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিকৃত রুচির ডোম সহকারি মুন্নাকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে মৃতদেহের সঙ্গে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে সিআইডি সূত্র জানিয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া মুন্না ওই হাসপাতালের মর্গের ডোমের সহকারী হিসেবে কাজ করতো।
সিআইডির ধারণা, অন্তত দেড় বছর ধরে মর্গে আসা নারীদের মরদেহের সঙ্গে যৌন মিলন করে আসছে অভিযুক্ত। বিশেষ করে আত্মহত্যার মতো ঘটনায় যেসব তরুণীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে আসতো মুন্না সেই তরুণীর মৃতদেহে সঙ্গে যৌনতায় মেতে ওঠতো।
সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে ধর্ষণ, হত্যাসহ যেসব ঘটনায় মরদেহ ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেসব আলামতের ডিএনএ পরীক্ষা এবং প্রোফাইল তৈরি করে থাকে সিআইডি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন সময়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে আসা ৫ নারীর মরদেহে একই পুরুষের শুক্রানুর আলামতের উপস্থিতি মিলে যাওয়ার পর ঘটনার তদন্তের শুরুতে সিরিয়াল কিলার কিংবা সিরিয়াল রেপিস্টদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ হয়। কিন্তু সুরতহাল কিংবা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এসব মরদেহের কোনোটিতেই কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় সন্দেহ বাড়তে থাকে। নানা প্রশ্নের জবাব খুঁজতে থাকে সিআইডি। এর মধ্যে একটি সন্দেহ, হাসপাতালের মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে না তো? কারণ অপরাধ বিজ্ঞানে এমন নজির রয়েছে। এমন বিকৃত রুচির ঘটনা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানেও এমন মানসিক রোগির কথা বলা আছে।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালটির মর্গের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে সিআইডি জানতে পারে যে, ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া মরদেহ ব্যবচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে পরের দিন মর্গে রেখে দেয়া হতো।
মর্গের কার্যপদ্ধতি বিশ্লেষণ করার পর তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, মর্গের ডোমদের কেউ অপরাধ সংঘটন করে থাকতে পারে।
সন্দেহের ভিত্তিতে ওই হাসপাতালের ডোমদের গতিবিধি নজরদারি করে তদন্তকারীরা। ওই তদন্তের সময় জানা যায় যে হাসপতালটির একজন ডোম মুন্না পাঁচটি ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর মরদেহ পাহারা দেওয়ার জন্য রাতে মর্গে ছিল।
এরপর বিস্তারিত তদন্তের পর তথ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে সিআইডি নিশ্চিত হয় যে অভিযুক্ত ডোম মুন্না এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত। সিআইডি কৌশলে মুন্নার ডিএনএ পরীক্ষা করে নেয়। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে গাঢাকা দেয় মুন্না। পরে গত ১৯ নভেম্বর রাতে সিআইডি তাকে গ্রেফতার করে।
সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুন্না তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ডোমের সহযোগী মুন্না গত দুই-তিন বছর ধরে এই কাজ করে আসছে । রাতে সে মর্গেই ঘুমাতো। রাতে ওই হাসপাতালে আসা লাশ সে পাহারা দিতো। আত্মহত্যার কারণে ময়নাতদন্তের জন্য কোনো তরুণীর লাশ আসলেই সে কৌশলে রাতে মেতে উঠতো বিকৃত যৌনাচারে। আত্মহত্যাকারী ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী মেয়েরাই ছিল মুন্নার বিকৃতির লক্ষ্য। মুন্না ওই হাসপাতালের স্টাফ না হয়েও মামার সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি আরও জানায়, ডিএনএ পরীক্ষায় আত্মহত্যাকারীদের লাশের ময়নাতদন্তের আগে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। প্রতিটি ধর্ষণই রাতের নিরিবিলি সময়ে হতো।