ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 155

রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া গাড়ী চালালেই ডাম্পিং, কড়া নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

0

রেজিস্ট্রেশন বিহীন গাড়ী চালালেই তা ডাম্পিং করবে পুলিশ। রাস্তায় কোনো যানবাহন থেকে চাঁদা ওঠানো যাবে না। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই নির্দেশ দিয়েছেন।
ডিএমপি সদরদপ্তরে বৃহস্পতিবার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সংশ্লিষ্ট উপ-পুলিশ কমিশনারদের এ নির্দেশ দেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাস্তায় চাদাঁবাজি করলে গ্রেফতার করতে হবে। রাস্তায় কোন প্রকার চাঁদা উঠানো যাবে না। তবে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ উঠানো যাবে। ড্রাইভারদেরকে আইন মানার ক্ষেত্রে সচেতন করতে হবে।
পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা ঢাকা শহরের ট্রাফিক শৃংখলা আনয়নে করণীয় সম্পর্কে আলোচানা করেন। মালিক সমিতির নেতারা ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে বিআরটিএর সীমাবদ্ধতা ও জটিলতার কথা উল্লেখ করেন এবং বিষয়টি সু-নজরে দেখার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছে অনুরোধ জানান।
সভায় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকা মহানগরীতে ট্রাফিক শৃংখলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মালিকদের সহযোগিতা কামান করেন।
মতবিনিময় সভায় ডিএমপির উর্ধতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারী মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমের কুশপুত্তলিকাদাহ, শাহবাগ অবরোধ

0

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক ও চরমোনাই পীর ফয়জুল করীম কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের হুমকির প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

শনিবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বক্তব্য রাখেন ভাস্কর শিল্পী রাশা, গৌরব৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মিলন ঢালীসহ নেতারা। প্রায় এক ঘন্টা শাহবাগ অবরোধ করে রাখে সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রতিবাদ সমাবেশে ভাস্কর শিল্পী রাশা বলেন, “সৌদিআরব, ইরানসহ বিশ্বের সব মুসলিম দেশে ভাস্কর্য রয়েছে। জাতির পিতার ভাস্কর্য অপসারণের দাবি যারা তুলেছে, সেই মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে আমরা দেশ ও জাতির ‘সমূহ বিপর্যয়ের’ আশঙ্কা প্রকাশ করছি। আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা প্রদান এবং স্থাপিত ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলার ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতাকারীরা কখনোই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এহেন বক্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবিধান লঙ্ঘন করে জাতির পিতাকে অবমাননা করা হয়েছে। এদেরকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: আল মামুন বলেন,
“গত ১৩ নভেম্বর করোনাকালীন যাবতীয় বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে তারা যেভাবে গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে সমাবেশ করেছে এবং যে ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি বিষেদগার করেছে, তা রাষ্ট্রদ্রোহিতাতূল্য অপরাধ হলেও এখন পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে সরকারি ব্যবস্থা কিংবা সরকারদলীয় কোনো প্রতিবাদ আমাদের নজরে পড়েনি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কোন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। আওয়ামী লীগের নীরবতা আমাদেরকে ব্যথিত করেছে। জাতির পিতার অবমাননাকারী ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমকে দ্রুত গ্রেফতার করলে আমরা ধরে নিবো আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে। আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতাদের ন্যায় একাত্তরের পরাজিত অপশক্তিদেরকেও আমরা রাজপথেই মোকাবিলা করবো। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তির দোসররা তৌহিদী জনতার ব্যানারে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র চলমান রেখেছে। লালমনিরহাট, কুমিল্লার মুরাদনগরের ঘটনা ও সম্প্রতি ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হকের বক্তব্য একই সূত্রে গাঁথা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। কেউ অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। লালমনিরহাটে সহিদুন্নবী জুয়েল নামে এক মুসলিমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে যা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। কোন ধর্মই সহিংসতা ও মানুষ হত্যা সমর্থন করে না। ধর্মের নাম ব্যবহার করে এই উগ্রবাদী গোষ্ঠী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা। সকল ধর্মের মানুষদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করা প্রত্যেকটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। ধর্মীয় সভাগুলোতে উস্কানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এহেন কর্মকাণ্ড কখনোই বরদাশত করবে না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ধর্মীয় উগ্রবাদ শক্ত হাতে দমন করতে হবে। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দণ্ডপ্রাপ্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে যারা নাশকতা করে মানুষ হত্যা করেছিলো সেই মৌলবাদী অপশক্তিই সম্প্রতি ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এরা ইসলামের শত্রু। এরা কখনোই ইসলাম ধর্মের আদর্শ ধারণ করে না। ধর্মীয় লেবাশে রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্র করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে এরা জঙ্গিবাদ রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এরা দেশ ও জাতির শত্রু। একাত্তরের পরাজিত অপশক্তি পাকিস্তানের দোসররা এহেন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড দ্বারা বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ধর্মের নামে এরা অপরাজনীতি শুরু করছে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের আবেগকে পুঁজি করে নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্যে হাসিলের চেষ্টা করছে।”

আল মামুন আরো বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবমাননাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার না করলে শাহবাগসহ সমগ্র দেশে রাজপথ, রেলপথ ও সড়কপথ অবরোধ কর্মসূচী পালন করবে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।আমরা লক্ষ্য করছি, করোনা সংকটেও কিছু ধর্মীয় লেবাশধারী দেশে করোনা নেই বলে প্রতিনিয়ত গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষদের জীবনকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিভিন্ন মাদ্রাসায় গত এক মাসে প্রায় ২৪ জন শিশু বলাৎকারের শিকার হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ২ জন মৃত্যুবরণ করেছে। বলাৎকার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ হারাম। অথচ ইসলামী দলগুলো বলাৎকারের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করছে না। ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় সভায় ওয়াজের নামে গুজব ছড়ানো ও উস্কানিমূলক অপপ্রচার বন্ধ করার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের অনেক মাদ্রাসায় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় না, জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয় না, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানো হয়না যা দেশের সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধান বিরোধী এসব কর্মকাণ্ডই ধর্মীয় উগ্রবাদকে আরোও উসকে দিচ্ছে। মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি দেশের ইতিহাস চর্চা বাধ্যতামূলক করতে হবে। অন্যথায় দেশপ্রেম ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কে অবমাননা করার অপরাধে মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সমগ্র দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।”

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এর (৭) সাত দফা দাবি:

১। জাতির পিতাকে অবমাননা করার অপরাধে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমকে গ্রেফতার করতে হবে।

২। দেশের প্রতিটি বিশ্বিবদ্যালয়,কলেজ ও জেলা, উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করতে হবে।

৩। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

৪। বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

৫। ধর্ষণের ন্যায় বলাৎকারের অপরাধে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৬। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়াতে হবে।

৭। মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।

কসবার আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের পীর সাহেবের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের শোক

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার ঐতিহ্যবাহী আড়াইবাড়ী দরবার শরীফের পীর ও আড়াইবাড়ী ইসলামিয়া সাঈদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদীর করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে শনিবার ভোরে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে (সাবেক এ্যাপেলো হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি…..রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৫৪ বছর।
তাঁর আকষ্মিক ও অকাল মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন।
এক শোকবার্তায় আইনমন্ত্রী বলেন, মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদী এদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গান আলেমে দ্বীন সৈয়দ আজগর আহাম্মদের দৌহিত্র। তাঁর পিতা মরহুম পীর গোলাম হাক্কানী সাহেবের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গোলাম সারোয়ার সাঈদী সাহেব দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তির জন্য দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে এলেম দান করেছেন।
মন্ত্রী শোক বার্তায় আরো বলেন, মাওলানা গোলাম সারোয়ার সাঈদী সাহেবের সাথে আমার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক ছিলো। তাঁর মৃত্যুতে কসবাবাসী একজন ভালো মানুষকে হারালো। যে ক্ষতি পূরণ হবার নয়।

জাতীয় শ্রমিক লীগ সভাপতি মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোকঃ
এদিকে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
মন্ত্রী এক শোকাবার্তায় বলেন, মরহুম ফজলুল হক মন্টুকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেনেন ও জানেন। তিনি আজীবন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে গেছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। এজন্য তিনি চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
মন্ত্রী শোকাবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কাঠগড়ায় আসামির চিৎকার চেঁচামেচি , রুদ্ধদ্বার কক্ষে রায় ঘোষণা

0

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় একমাত্র আসামি মজনুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের জেল দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার( ১৯ নভেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল – ৭ এর বিচারক মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি মজনুকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। আদালতের কাঠগড়ায় তোলার সময় মজনু চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকে। পুলিশ ও আইনজীবীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। চিৎকার করে মজনু বলেন, ‘আমি ধর্ষণ করিনি, আমি বাড়ি যাবো, আমাকে ছেড়ে দাও। এ সময় মজনু বলেন, আমি ধর্ষণ করি নাই, ধর্ষণ করেছে চারজন মিলে। পুলিশ তাদের ধরে নি। আমি গরিব দেখে আমাকে ধরেছে। আমার নাম মজনু পাগল। আমাকে ছেড়ে দেন। ‘
মজনু কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন,’ কারাগারে খালি মশা। আমারে খেতে দেয় না। আমারে ছেড়ে দেন। ঢাকা আর আসবো না। ‘

মজনুর চিৎকার চেঁচামেচিতে এক পর্যায়ে আদালত কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিক ও আইনজীবীদের বাইরের বারান্দায় যেতে বলে শুধু সিনিয়র একজন আইনজীবীকে এজলাসে থাকার অনুমতি দেন বিচারক। পরে রুদ্ধদ্বার কক্ষে রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
রায় ঘোষণার পর মজনুকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
গত ৫ জানুয়ারি বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নেমে ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাবি ছাত্রিটি। আর্মি গলফ ক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে আসামি মজনু পেছন থেকে গলা চেপে ধরে পাশের ঝোপের আড়ালে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরেন। ভিকটিম চিৎকার করতে গেলে আসামি তাকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখালে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন মজনু ভিকটিমকে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করেন। মজনু একজন অভ্যাসগতভাবে ধর্ষণকারী। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে এসব।
এ ঘটনার পর র‌্যাব ৮ জানুয়ারি মজনুকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের পাকা রাস্তার ওপর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিমের ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
৬ জানুয়ারি ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা করেন।
আসামি মজনুকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১৬ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর থেকে মজনুকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।
গত ১২ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি তর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।
মামলার ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ জানান, ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, ক্যামেরা দেখে আসামি সিন ক্রিয়েট করেছে। ফলে বাধ্য হয়েই রুদ্ধদ্বার কক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মজনুর আইনজীবী ( সরকার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, রায়ে আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার আসামি মজনুর সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

0

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার রায় বৃহস্পতিবার( ১৯ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। মামলার একমাত্র আসামি মজনু কারাগারে আছেন। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে মজনুর সর্বোচ্চ সাজা হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ধারায় এখন ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। যা আগে ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
তবে আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান সংযোজন করলেও এ মামলায় তা প্রয়োগ হবে কী না তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। কারণ ধর্ষণের ঘটনাটির সময় রুজু করা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর আইনটি সংশোধন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করা হয়। যা সংসদের চলতি বিশেষ অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়েছে।
যদিও গত ১৩ আক্টোবর অধ্যাদেশ জারির পর ২০১৫ সালের টাঙ্গাইলে এক মাদ্রাসা ছাত্রী গণধর্ষণ মামলায় ১৫ অক্টোবর ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া আদালত ।
ঢাবি ছাত্রি ধর্ষণের মামলাটি গত ১২ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি তর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।
মামলার ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলি আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ জানান, ১৩ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হয়েছে।
গত ৫ জানুয়ারি বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নেমে ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছিলেন ঢাবি ছাত্রিটি। আর্মি গলফ ক্লাব মাঠ সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে আসামি মজনু পেছন থেকে গলা চেপে ধরে পাশের ঝোপের আড়ালে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরেন। ভিকটিম চিৎকার করতে গেলে আসামি তাকে কিল-ঘুষি মেরে ভয়ভীতি দেখালে ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন মজনু ভিকটিমকে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণ করেন। মজনু একজন অভ্যাসগতভাবে ধর্ষণকারী। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে এসব।
এ ঘটনার পর র‌্যাব ৮ জানুয়ারি মজনুকে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশের পাকা রাস্তার ওপর থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে ভিকটিমের ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও পাওয়ার ব্যাংক এবং ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি জিন্সের প্যান্ট ও একটি জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
৬ জানুয়ারি ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের মামলা করেন।
আসামি মজনুকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১৬ জানুয়ারি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর থেকে মজনুকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।

গাড়ী পোড়ানো মামলা ; গয়েশ্বরসহ শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর হাইকোর্টে আগাম জামিন

0

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের দিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাস পোড়ানো ও হাতবোমা ফাটানোর মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ শতাধিক নেতাকর্মী হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন।
বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার তাদের জামিন মঞ্জুর করে।  
জামিন আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, সালাউদ্দিন দোলন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, মজিবুর রহমান ও কাজী মো. জয়নাল আবেদিন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
১৬টি আবেদনে ১২০ জন নেতাকর্মীকে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত আগাম জামিন দিয়েছেন হাই কোর্ট। এই সময়ের আগে কিংবা পরে জামিনপ্রাপ্তদের মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।
ঢাকা-১৮ আসনের (উত্তরা) উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলও রয়েছেন জামিনপ্রপ্তদের মধ্যে।
গত ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়। ভোট চলাকালে একটি কেন্দ্রের সামনে হাতবোমা ফাটানো হয়।
এছাড়া দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মোট ১১টি বাস পোড়ানো হয়। এসব ঘটনায় ৯টি থানায় মোট ১৬টি মামলা করে পুলিশ।
বাস পোড়ানোর ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। অন্যদিকে বিএনপি দাবি করছে, তাদের ‘ফাঁদে ফেলতে ক্ষমতাসীনরাই’ বাস পুড়িয়েছে।

এসব মামলায় মোট ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসেন জানিয়েছেন।

অন্তঃসত্বা স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী ও দুই বন্ধুর ফাঁসির রায় আপিল বিভাগে বহাল

0

সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী ও তার দুই বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।
দন্ডিতদের ফৌজদারি আপিল খারিজ করে দিয়ে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন। বাসস।
রায়ে স্বামী সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে টিপু এবং তার দুই বন্ধু শহীদুল ইসলাম ও মো. খোরশেদের মৃত্যুণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। আসামিরা সবাই কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন।
হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড রায় বহাল রাখার পর তিন আসামিই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে সৈয়দ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে টিপু তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে যান। সঙ্গে ছিল তার দুই বন্ধু। পরে তার স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাসানী হলের পেছনে। সেখানে নিয়ে পেটে ছুরিকাঘাত করে স্ত্রীকে হত্যা করেন মাসুদ। এতে অংশ নেয় তার দুই বন্ধুও। হত্যার পর ওই নারীর গলা কেটে পানিতে ফেলে দেয়া হয়।
বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের আনা মামলায় বিচার শেষে নিম্ন আদালত ওই তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। ডেথ রেফারেন্স ও আপিলে যা বহাল রাখে হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায় বাতিল চেয়ে আসামিদের করা আপিল খারিজ করে দিয়ে মৃত্যুদণ্ড আপিল বিভাগেও বহাল রাখে।

সংসদে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিলসহ দু’টি বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন

0

জাতীয় সংসদে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল-২০২০’সহ দু’টি বিলের ওপর সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার উপস্থাপিত রিপোর্টের মধ্যে অপর বিলটি হচ্ছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২০।
রিপোর্ট দুটি উপস্থাপন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মেহের আফরোজ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট শামসুল হক টুকু। দু’টি বিলই সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়। বাসস।
দুটি’ বিলই গত ৮ নভেম্বর সংসদে উত্থাপন করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা।
এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিলে বিদ্যমান আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধানের স্থলে মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অধিবেশনেই বিলটি পাসের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। এর পরই রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, নারী ও শিশু ধর্ষণ একটি জঘন্য অপরাধ। নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মধ্যে দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটন সামাজিক গতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ও সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের ধারা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এমন অপরাধ দমনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় আইনে সর্বোচ্চ দন্ডের বিধান যুক্ত করতে এই বিলটি আনা হয়েছে।
বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল যাবজ্জীবন কারাদন্ড। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আলোচিত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দেশজুড়ে ধর্ষণ-নির্যাতনবিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার দাবি জানান। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার আইনটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ জারি করেন। এর আগে ১২ অক্টোবর অধ্যাদেশটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়।

ডিজিটাল জালিয়াতি মামলা ; হাইকোর্টের নির্দেশনা না মানায় ৫ আসামি কারাগারে

0

ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ পাচার ও রাজস্ব ফাঁকির মামলায় বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ না করে ফের হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করায় পাঁচ আসামিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে হাই কোর্ট।
সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চের নির্দেশে আদালত কর্মকর্তারা আসামিদের পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পাঁচ আসামি হলেন-ফরিদপুরের মোফাজ্জেল হোসেন মোল্লা, মো. রাহাত হোসেন, আলাউদ্দিন মোল্লা, রমজান আলী ও পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মো. সুমন। পাচঁজনই চট্টগ্রামে বসবাস করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফয়সল হাসান আরিফ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
অর্থ পাচার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর এই পাঁচ আসামিসহ ৯ জনকে আসামি করে ঢাকার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা নিতাই চন্দ্র মন্ডল ও মো. আজিবর রহমান দুটি মামলা করেন।
মামলায় রুটি তৈরির যন্ত্র ও ধূমপানের যন্ত্রপাতি আমদানির ঘোষণা দিয়ে ১ কোটি ৩২ লাখ সিগারেট আমদানি ও ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে পণ্য খালাস করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে ২ কোটি ৪৭ লাখ ৫১ হাজার ২৪২ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করা হয়েছে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানি শুল্ক আদায়ে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অ্যাসাকুইডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে জালিয়াতি করে ঢুকে রাজস্ব পরিশোধ দেখিয়ে পণ্য খালাস করে নেওয়া হয়েছে। এভাবে ১৬ কোটি ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ২৮৩ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় উল্লিখিত ৫ আসামি গত বছর হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। হাই কোর্ট গত বছর ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের চার সপ্তাহের জামিন দেয়।
সেই সঙ্গে তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। কিন্তু সে আদেশ অনুযায়ী আসামিরা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করে আবার হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন।
এতে হাই কোর্ট জামিন না দিয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে নির্দেশ দেয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, “সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগ থানার পুলিশের হাতে পাঁচ আসামিকে হস্তান্তর করা হয়। আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে তাদের সংশ্লিস্ট আদালতে হাজির করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

মুজিব জন্মশতবর্ষ : জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন

0

স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ-বিদেশে বছরব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির করাল গ্রাসে মুজিববর্ষের এ কর্মসূচি অনেকটাই সীমিত করতে হয়। জাতির পিতাকে স্মরণ করে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ অধিবেশন হওয়ার কথা ছিলো মার্চেই। করোনাভাইরাসের কারণে সে অধিবেশন পিছিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৫ থেকে ১৫ নভেম্বর ২০২০। এতে জাতির পিতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, কর্ম, আদর্শ ও দর্শন – এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। গত সোমবার (৯ নভেম্বর) রাষ্ট্র্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের ভাষণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অধিবেশন শুরু হয়। রাষ্ট্র্রপতির ভাষণের পর জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনার মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংসদ কার্যবিধির ১৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে সকল দলের সংসদ সদস্যদের পাঁচ কর্ম দিবসের আলোচনায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী উত্থাপিত প্রস্তাব ১৫ নভেম্বর কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
রাষ্ট্র্রপতি ৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তাঁর ভাষণে বলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশকে জানতে হলে বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে হবে, বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। এই দুই সত্তাকে আলাদাভাবে দেখার চেষ্টা যারা করেছেন, তারা ব্যর্থ হয়েছেন। আজকের বাস্তবতা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। রাষ্ট্র্রপতি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়, বঙ্গবন্ধু একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সত্তা, একটি ইতিহাস। জীবিত বঙ্গবন্ধুর মতোই অন্তরালের বঙ্গবন্ধু শক্তিশালী। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, বাঙালি থাকবে, এদেশের জনগণ থাকবে, ততদিনই বঙ্গবন্ধু সবার অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবেন। রাষ্ট্র্রপতি বলেন, নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের মুক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে তিনি বিশ্বকে করেছেন আলোকময়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বঙ্গবন্ধুর নীতি, আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বেড়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান মোঃ আবদুল হামিদ।

যারা দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ঐক্য। জনগণের ঐক্য, বিশেষকরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ঐক্য। যে ঐক্য একাত্তরে আমাদের এক করেছিল, সে ঐক্যই গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা, অসহিষ্ণুতা ও হিংসার বিরুদ্ধে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা বোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। যারা বাস্তবকে অস্বীকার করে কল্পিতকাহিনী ও পরিস্থিতি বানিয়ে দেশের সরলপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও বিপদগামী করে, দেশের শান্তি অগ্রগতির ধারাকে ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে একাত্তরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই প্রতিষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা, সার্থক হবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন।
জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তাব উত্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশ, লাল সবুজ পতাকা ও সংবিধান উপহার দিয়েছেন, বিশ্ব সভায় বাঙালিকে আত্মপরিচয় দিয়ে গর্বিত জাতি রূপে মাথা উচুঁ করে চলার ক্ষেত্র রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের মধ্যেই দেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন।
সংসদ নেতা বলেন, ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা নির্মমভাবে নিহত না হলে বাংলাদেশ বহু আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করতে পারাকে সৌভাগ্য হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বঙ্গবন্ধুর হত্যা পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় বঙ্গবন্ধুর নাম এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়। তিনি বলেন, এমনকি ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। সে ঐতিহাসিক ভাষণ এখন বিশ্ব প্রামাণ্য হেরিটেজ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস মুছে ফেলা সহজ নয়, ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। তিনি বলেন, এখন থেকে আর কেউ ইতিহাস থেকে সেই নাম (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) মুছতে পারবে না, এটাই বাস্তবতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’, ‘আমার দেখা নয়া চীন’ পড়ে জনগণ প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে। ‘পাকিস্তানি ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট অন ফাদার অভ্ দ্য ন্যাশন’ থেকেও প্রকৃত ইতিহাস জানা যাবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘স্মৃতিকথা’ শিরোনামে জাতির পিতার লেখা আরেকটি বইয়ের প্রকাশের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বিশ্বাস করতেন দেশের মানুষ তাঁকে অত্যন্ত ভালবাসে এবং তারা তাঁকে মারতে পারবে না। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বাঙালি জাতি জাতির পিতার সে বিশ্বাস রক্ষা করতে পারেনি।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু (মৃত্যুর আগে) বিশ্বাসঘাতকদের দেখে গিয়েছিলেন, কিন্তু পেছনের ষড়যন্ত্রকারীদের তিনি দেখে যেতে পারেননি। তিনি বলেন, বিরাট সংখ্যক নয়, গুটিকয়েক ব্যক্তি এ ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানি জেল থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাধীন দেশে ফিরে প্রথম ভাষণে জাতির পিতা দেশবাসীকে বলেছিলেন, ষড়যন্ত্র চলছে, ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কিন্তু তারা ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে ব্যর্থ হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আজ আমাদের মাঝে নেই। তাঁর আদর্শ, তাঁর প্রতিটি কথা, বাক্য আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলো আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। দুঃখ, দুর্দশা দূর করে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে জাতির পিতার আজন্ম স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসে নবাব সিরাজউদ্দৌলা, ফকির মজনু শাহ, তিতুমীরসহ অনেকেই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু সফল হননি। কেবল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই সফল হয়েছেন এবং আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়ে গেছেন
সংসদে বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোচনার দ্বিতীয় দিনে (১০ নভেম্বর) জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু ৩৫ দিনে ৩২টি জনসভা করেছিলেন। এ সময় ৮ বার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তোফায়েল আহমেদ বলেন, এই পৃথিবীতে অনেক নেতা আসবেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মতো আর কোনো নেতা আসবেন না। তিনি ছিলেন বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ নেতা। তিনি মৃত্যুবরণ করেননি, তিনি আছেন, থাকবেন।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, ৬ দফা বঙ্গবন্ধুকে একক নেতায় পরিণত করেছিল। তিনি কেবল একটি দলের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন দেশের নেতা, মানুষের নেতা। তিনি শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি জাতির জনক।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, খুনিরা বুঝেছিল, বঙ্গবন্ধুর রক্তের ছিটেফোঁটাও যদি থাকে, তাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। এ কারণে তারা শিশু রাসেলকে পর্যন্ত ক্ষমা করেনি, কাউকেই রেহাই দেয়নি। সৌভাগ্যক্রমে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর অসম্পন্ন কাজ সম্পন্ন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তৃতীয় দিনের (১১ নভেম্বর) আলোচনায় অংশ নিয়ে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ স্কুল-কলেজের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।
সংসদ সদস্য আবদুল মতিন খসরু কমিশন গঠনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ‘মাস্টারমাইন্ড’দের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের নামের সাথে ব্রিগেডিয়ার বা কর্নেল এর মতো র‌্যান্ক ব্যবহার না করার কথা বলেন।
মুজিববর্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনের চতুর্থদিনের (১২ নভেম্বর) আলোচনায় আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু এমপি বলেন, ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির ষড়যন্ত্রে নিহত বঙ্গবন্ধু তাঁর সোনার বাংলার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি পতাকা, একটি আন্দোলন, একটি বিপ্লব, একটি ইতিহাস। বঙ্গবন্ধু একজন রাজনীতির কবি এবং ইতিহাসের একজন মহানায়ক। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী রাজনীতিবিদ এবং ‘স্ট্যাটেজিস্ট’। তিনি সকল বাঙালিকে এক এক জন মুজিবে পরিণত করেছিলেন।
সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙা বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ইতিহাসের ভয়াবহ ঘটনা। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পুরো জাতি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। যদিও খুনিদের বিচার হয়েছে, কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশিলবরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর রাজাকার আলবদরদের স্থান এ সংসদে হবে না, এ দেশের কোথাও হবে না।
বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশনে বক্তৃতাকালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছার একটি লেখা পাঠ করেন যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের বর্ণনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তিনি যদি পালিয়ে যেতেন বা ভারতে আশ্রয় নিতেন, তাহলে তাঁকে বিছিন্নতাবাদী নেতা বলা হতো। বিএনপি নেতা বলেন, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান যে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ আলোচনার শেষ দিনে (১৫ নভেম্বর) তাঁর বক্তৃতায় বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল, তারাই ইতিহাস থেকে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রসংসা করে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্বকালে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধুর দর্শণ ধারণ করে তাঁর হাতে রচিত ১৭২-এর সংবিধানের ভিত্তিতেই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।
সংসদে কণ্ঠভোটে জাতির পিতাকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন প্রস্তাব পাশের ঠিক আগে ৫ম দিনে (১৫ নভেম্বর) আলোচনায় অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে জাতির পিতা বাংলাদেশ কৃষখ শ্রমিক আওয়ামী লীগ-বাকশাল গঠন করেন। কিন্তু পুরো ধারণাটা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সংসদ নেতা বলেন, সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার দ্রুত উন্নয়নে জাতির পিতা দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি সংবিধান সংশোধন করেন এবং ৫ বছরের কর্মসূচি হাতে নেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, তিনি যদি সে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারতেন, আজ বাংলাদেশ বিশ্বের একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো।’ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁকে তা করতে দেয়া হয়নি।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন থাকবে বঙ্গবন্ধুর নাম। জাতি যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী স্মরণে জাতীয় সংসদের এ বিশেষ অধিবেশন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে প্রথম বিশেষ অধিবেশন যা একাদশ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশন। এর আগে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আর হয়নি। তবে, দু’টি বিশেষ বৈঠকের কথা জানা যায়। ১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ও ১৮ জুন অনুষ্ঠিত সংসদের বিশেষ বৈঠকে ভাষণ দেন যথাক্রমে তৎকালীন যুগোস্লাভ রাষ্ট্রপতি মার্শাল যোসেফ ব্রোজ টিটো এবং ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি। (পিআইডি ফিচার)।
মুহ.সাইফুল্লাহ ঃ সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর ।