ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 156

সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী’র মৃত্যুতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের শোক প্রকাশ

0

জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামী বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শওকত আলী এমপি’র মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।
এক শোক বার্তায় মন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) শওকত আলী ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। এক অকুতোভয় সেনানী হিসেবে তিনি একাত্তরের রনাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা বাঙালি জাতি চিরকাল স্মরণ রাখবে।
মন্ত্রী শোকাবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
**প্রস্তাবিত সিটিজেন ব্যাংকের এমডি সাইদুল হাসানের মৃত্যুতে আইনমন্ত্রীর শোক ঃ
প্রস্তাবিত সিটিজেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইদুল হাসানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি।

সাইদুল হাসান
এক শোকাবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ ছাড়া সাইদুল হাসানের মৃত্যুতে লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স টু হেল্পলেস প্রিজনার্স অ্যান্ড পারসনস ( এলএএইচপি) এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তৌফিকা আফতাব গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনিও মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য সাইদুল হাসান করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত হয়ে সোমবার দুপুরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।প্রস্তাবিত সিটিজেন ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী আর নেই

0

জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম আসামি শওকত আলী মারা গেছেন।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্ট থাকা অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয় বলে জাতীয় সংসদের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. তারিক মাহমুদ জানিয়েছেন।
 
৮৪ বছর বয়সী শওকত আলী কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। এসব কারণে বেশ কিছুদিন ধরে সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে হচ্ছিল তাকে।

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার লোনসিং বাহের দিঘীরপাড় গ্রামে ১৯৩৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন শওকত আলী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৫৯ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন পান।

পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা হয়েছিল, তাতে শওকত আলীকে ২৬ নম্বর আসামি করা হয়।
১৯৬৮ সালের ১০ জানুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে থাকা অবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তানে ক্যান্টনমেন্ট থেকে আটক করার পর ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
শওকত আলী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর আবার সেনাবাহিনীতে ফেরেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর শওকত আলীকে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয়।
সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়া হন এবং ১৯৭৯ সালে শরীয়তপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচন হন। সেবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের হুইপের দায়িত্ব পান তিনি।
শরীয়তপুরের ওই আসনটি থেকে এরপর আরও পাঁচবার এমপি হয়েছেন শওকত আলী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নবম সংসদে যখন স্পিকার ছিলেন, তখন শওকত আলী ছিলেন ডেপুটি স্পিকার। দশম সংসদে তাকে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শওকত আলী ৭১ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।
জাতীয় সংসদের পরিচালক (গণসংযোগ) তারিক মাহমুদ জানান, সোমবার মাগরিবের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে শওকত আলীর জানাজা হয়। তার আগে বিকাল সাড়ে ৩টায় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়।
মঙ্গলবার সকালে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়ায় তার গ্রামের বাড়িতে। নড়িয়া শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষে জোহরের নমাজের পর নড়িয়া বি এল উচ্চ বিদ্যালয়ে তার আরেক দফা জানাজা হবে।
সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিজের বাড়ি ‘স্বাধীনতা ভবন’ এর আঙ্গিনায় দাফন করা হবে শওকত আলীকে।

মাস্ক পরতে রাজধানীতে নামছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, কঠোর হবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

0

রাজধানীতে মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে শিগগিরই মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনাসহ শক্ত অবস্থানে যাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত আসে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আজকে ডিজাস্টার নিয়ে একটু আলোচনা হয়েছে। কোভিড নিয়ে বলা হয়েছে, আরেকটু স্ট্রিক্ট ভিউতে যেতে হবে। (করোনা) একটু বেড়েও যাচ্ছে মনে হচ্ছে। সেজন্য আরেকটু প্রি-কশান (সতর্কতা) নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ডিজাস্টারকে আরেকটু কম্প্রিহেনসিভ প্রেজেন্টেশনের জন্য ক্যাবিনেটে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে।’ ঢাকাতে করোনার বিষয়ে কোনো সেফটি মেজার্স দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অলরেডি আমরা গতকাল বলে দিয়েছি- যাতে ঢাকাতেও বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট বা ল-এনফোর্সিং এজেন্সি (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) যাতে আরেকটু স্ট্রং (শক্ত অবস্থানে) হয়।’
কবে থেকে এটা দেখা যাবে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আশা করি আগামী ২/৩ তিনদিনের মধ্যে দেখা যাবে।’
বৈঠকে, আমার বাড়ি আমার খামার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য সঞ্চয় স্কিম করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর্থিক ব্যবস্থাকে পুরো ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে ‘জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল’ এর খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
এছাড়া তুরস্কে রফতানি বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ- তুরস্ক মিউচুয়াল অ্যাসিস্টেন্ট ইন কাস্টমস ম্যাটার চুক্তি’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১০০ মিলিয়ন ডলার রফতানি কমায় এই চুক্তি করা হয়েছে। বৈঠকে ‘জাতীয় পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয়তা বিষয়ক জরুরী অবস্থায় প্রস্তুতি ও সাড়াদান পরিকল্পনা ‘ খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নারীদের নিরাপত্তায় পুলিশের নতুন উদ্যোগ, চালু হলো,’সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ ইউনিট

0

সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনে হওয়া ৭ হাজার মামলার বেশীরভাগেরই ভুক্তভোগী নারী। এছাড়া অনলাইন ব্যবহারকারী ১০০ জন নারীর মধ্যে ৭৩ জনই সাইবার বুলিং বা হয়রানির শিকার হন। সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের অন্তত ৫টি ইউনিট থাকলেও পুরুষ সদস্য দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় সেগুলোতে যান না নারীরা।
এ বাস্তবতায়, শুধু নারী পুলিশ সদস্যদের পরিচালনায় ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ নামে নতুন ইউনিট গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সাইবার অপরাধ দমন এবং পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে যে সব মামলা হয়েছে তার অধিকাংশতেই দেখা যায় ভিক্টিম নারী।’
সাইবার জগতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে চালু হলো ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’। পুলিশ সদর দপ্তরের এলআইসি শাখার অধীনে এই সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সোমবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানে এ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। সাধারণত দেশে ১৬ থেকে ২৪ বছরের নারীরা এই অপরাধে সবচেয়ে বেশি শিকার হয়। জাতিসংঘের একটি পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার ভিকটিমের চার ভাগের তিন ভাগ হল হলো নারী। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সাইবার স্পেস নিরাপদ রাখতে আমাদের এই উদ্যোগ। নতুন এই ইউনিট এর বিশেষত্ব হলো এখানে যারা সেবা দেবেন, তদন্ত করবেন, তারা সবাই পুলিশের নারী সদস্য। যার ফলে ভিকটিমরা নির্দ্বিধায় তাদের সমস্যাগুলো বলতে পারবেন।’
আইজিপি আরও বলেন, ‘কোনো ভিকটিম চাইলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ৯৯৯ এর মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন। আমরা চাইবো, আজকে এটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে যারা চাইবেন তারা যেন আমাদের থেকে সেবা নেন। আমরা সাইবার জগতকে  নিরাপদ করতে চাই।
সাইবার জগতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে এক নির্দেশনায় তিনি বলেন, এর ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতন হতে হবে। তিনি সবাইকে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের নির্দেশনা দেন।
যে সব অপরাধের ক্ষেত্রে এখানে অভিযোগ করা যাবে তা হল, ব্যক্তিহত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার আইডি হ্যাক করা বা হ্যাক করার মাধ্যমে প্রতারণা, ছবি বা ভিডিও এডিট করে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি, কারও ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর কন্টেন্ড দিয়ে ফেইক আইডি তৈরী করা, ফোন নম্বর বিভিন্ন খারাপ পোস্টে/সাইটে ছড়িয়ে দেয়া, সাইবার বুলিং ও হ্যারেসমেন্ট, অনলাইনে আপত্তিকর ছবি/ভিডিও/তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবী করা এবং যৌন হয়রানিমূলক মেসেজ/মেইল/লিংক পাঠানো।
নতুন এই কার্যক্রমের সেবা দেওয়ার জন্য একটি হটলাইন নাম্বার (০১৩২০-০০০৮৮৮) চালু করা হয়েছে। এছাড়াও ই-মেইল (cybersupport.women@police.gov.bd) ও ফেসবুক পেইজে (URL: https://m.facebook.com/PCSW.PHQ/)  মেসেজ করে ভুক্তভোগী নারীরা তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  

বঙ্গবন্ধুর প্রতি জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে গৃহীত

0

জাতীয় সংসদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বাসস।
সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৯ নভেম্বর সংসদ কার্যপ্রনালী বিধির ১৪৭ ধারায় জাতির পিতার জীবন, কর্ম, আদর্শ, দর্শন তুলে ধরে এ মহান নেতার প্রতি জাতির পক্ষ থেকে সংসদে বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
সংসদে পর পর ৫ কর্যদিবস সরকারী- বিরোধী দলের মোট ৭৯ জন সংসদ সদস্য বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ আর সংগ্রামমুখর জীবনের বিভিন্ন দিকের ওপর ১৯ ঘন্টা ৩ মিনিট বিস্তারিতভাবে আলোচনা, স্মৃতি রোমন্থন ও এ মহান নেতার আদর্শ ধারন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মাধ্যমেই রবিবার এ প্রস্তাব সংসদ গ্রহণ করে। এর মধ্য দিয়ে মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংসদের বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম শেষ হয়। গত ৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে বিশেষ অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষে সংসদে ১৯৭২ সালে ৪ নভেম্বর গণপরিষদে দেয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের রেকর্ড বাজানো হয়।
এর আগে আলোচনায় অংশ নেন, স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, চিফ হুইপ নূর-ই- আলম চৌধুরী, সরকারি দলের সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক, অধ্যাপক আলী আশরাফ, বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান এবং জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সংবিধানকে সুরক্ষিত ও সমন্বিত রাখার ক্ষেত্রে সবাইকে সদা জাগ্রত ও সচেতন থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে সংবিধানের সুফল বাংলার সকল মানুষের কাছে দেয়ার অঙ্গীকার করতে হবে।
স্পিকার বলেন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের অভিপ্রায় পরম অভিব্যক্তি এই সংবিধান। ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল প্রতিপাদ্য “ভবিষ্যৎ বংশধররা যদি সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে আমার জীবন স্বার্থক হবে, শহীদদের রক্তদান স্বার্থক হবে।”
তিনি বলেন, জাতির পিতার বক্তব্যের এই মর্মকথা সবাইকে উপলবদ্ধি করতে হবে। সংবিধানের মূল প্রতিপাদ্য স্মরণ রাখতে হবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ছড়িয়ে দিতে হবে। এই সংবিধানকে পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করার দায়িত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এ দেশপর জনগণ, ভবিষ্যৎ বংশধরদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরই ন্যাস্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর দর্শন ধারণ করে এই সংবিধান যেন বাংলার মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণের মধ্য দিয়ে অর্থবহ হয়। সেই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবো। এই সংবিধান তখনই স্বার্থক হবে যখন বাংলার মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য,বঞ্চনা ও বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে উন্নত জীবন পাবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যে তুলে ধরে স্পিকার বলেন, গত ১৩ নভেম্বর ২০২০ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এক বক্তৃতায় বলেন “আমি মানবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি।” বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুধাবন করে মানবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর আর একটি বক্তব্যের লাইন তুলে ধরে স্পিকার বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবকিছুর আগে মানবতাকে অগ্রাধিকার দিতেন এবং জনগণের প্রতি তার ভালবাসা ছিল সীমাহীন। আমি এখন যা করছি তা জাতির পিতার আদর্শের প্রতিচ্ছবি।”
ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দারিদ্র্য, ক্ষুধামুক্ত ও উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সকলের প্রতি আহবান জানান।
তিনি বলেন, বাঙালির প্রাণের গভীর হতে উৎসারিত নির্মল ভালবাসায় অশ্রুধারায় সিক্ত হৃদয় নিংড়ানো আবেগ ও পরম শ্রদ্ধায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব থাকবেন সদা সমুজ্জল। ইতিহাসের পাতায় চির জাগ্রত অমর এক নাম শেখ মুজিব। তারই প্রেরণায় বাঙালি গেয়ে যাবে জীবনের জয়গান। এক মুজিবের রক্ত থেকে লক্ষ মুজিব জন্ম নেবে।
কবি গুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি তুলে ধরে স্পিকার বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে বলেন, রবিন্দ্রনাথের ভাষায় এভাবেই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানে জন্মশতবার্ষিকী মুজিববর্ষে এই বিশেষ অধিবেশনে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই।
“তোমারই নাম বলব আমি বলব নানা ছলে, বলব বিনা ভাষায়, বলব আশায় ,বলব মুখের হাসি দিয়ে, বলব চোখের জ্বলে, তোমারই নাম বলব আমি বলব নানা ছলে” বিশ্ব কবির এ কবিতার পংক্তির আবৃতির মাধ্যমে স্পিকার তার বক্তব্য শেষ করেন।

জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনের সাক্ষি হলেন রাষ্ট্রপতি

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রবিবার সন্ধ্যায় একাদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনের সমাপনী দিনে বঙ্গবন্ধুর জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনার সাক্ষী হতে রাষ্ট্রপতি বক্সে বসেছিলেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে গত ৮ নভেম্বর এই বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়।
এর আগে রাষ্ট্রপ্রধান গত ৯ নভেম্বর জাতীয় সংসদে তাঁর বিশেষ ভাষণ প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ ভবনে পৌঁছালে চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী তাঁকে স্বাগত জানান।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার, রাষ্ট্রপতি তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বসে বসে বাংলাদেশের সংবিধান প্রনয়ণকালে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ শোনেন।
পরে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ‘প্রদর্শনীতে বঙ্গবন্ধু’ প্যাভেলিয়ন পরিদর্শন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের বিভিন্ন বিরল ছবি ঘুরে ঘুরে দেখেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, সংসদ সদস্য আতিউর রহমান আতিক এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনে নতুন আদেশ, গেজেটে নাম থাকতে হবে

0

মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শনের নতুন আদেশ জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। গত ১০ নভেম্বর মন্ত্রণালয় থেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শন আদেশ, ২০২০’ জারি করা হয়েছে। এ আদেশ দ্বারা এ সংক্রান্ত ২০০৫ সালের আদেশ রহিত করা হয়েছে।
নতুন আদেশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.molwa.gov.bd) প্রকাশিত প্রমাণকের যেকোনো একটিতে নাম থাকতে হবে। প্রমাণকগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা (পদ্মা), মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা (মেঘনা), মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা (সেক্টর) এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী)। লাল মুক্তিবার্তার মধ্যে রয়েছে লাল মুক্তিবার্তা (চূড়ান্ত লাল বই), লাল মুক্তিবার্তা স্মরণীয় যারা বরণীয় যারা।

ফাইল ছবি।

গেজেটের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, বেসামরিক গেজেট, প্রবাসে বিশ্বজনমত গেজেট, ধারণাগত জ্যেষ্ঠতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) গেজেট, শব্দ সৈনিক- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও কলা-কুশলীদের তালিকা, মুক্তিযোদ্ধাদের (বীরাঙ্গনা) তালিকা, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড়বৃন্দের তালিকা, ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়ন, বিশেষ গেরিলা বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে নিয়োজিত বা দায়িত্ব পালনকারী মুক্তিযোদ্ধা গেজেট, সরকারের মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীবর্গের তালিকা এবং মুজিবনগর কর্মচারী তালিকা এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশক্রমে মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত অন্য কোন নামীয় তালিকা সংক্রান্ত গেজেট।

বাহিনী গেজেটের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাহত সেনা মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা, যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ), যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) গেজেট, সেনা মুক্তিযোদ্ধাদের নামীয় তালিকা, বিমান বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা তালিকা, বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, নৌ-কমান্ডোদের তালিকা, বাংলাদেশ রাইফেলসের (বর্তমান বিজিবি) মুক্তিযোদ্ধাদের নামীয় তালিকা, পুলিশ বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা।
আদেশে বলা হয়েছে, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানাতে হবে। ঢাকায় অবস্থানরত খেতাবপ্রাপ্ত বা যুদ্ধাহত কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করবেন। বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আত্মীয়-স্বজন বা কোনো নাগরিক প্রশাসনকে অবহিত করতে পারবেন। এমনকি সংবাদ মাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও যাচাই করে প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
মহানগর ও জেলা সদরে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সরকারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবেন। রাষ্ট্রীয় বা জনগুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকলে জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান প্রদর্শনের নিয়মের বিষয়ে আদেশে বলা হয়েছে, মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার কফিন জাতীয় পতাকা দ্বারা আবৃত করতে হবে। তবে সৎকার বা সমাধিস্থ করার পূর্বে জাতীয় পতাকা খুলে ফেলতে হবে। সরকারের অনুমোদিত প্রতিনিধি কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। অনুমোদিত সংখ্যক পুলিশ বাহিনীর সশস্ত্র সদস্যদের দ্বারা সশস্ত্র সালাম প্রদান করতে হবে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজাতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গার্ড অব অনার পরিচালনা করবেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় বা জনগুরুত্বপূর্ণ কাজের কারণে থাকতে না পারলে থানার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। সশস্ত্র-বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে উক্ত বাহিনীর নিজস্ব রীতি অনুসরণ করতে হবে।
আদেশে আরো বলা হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধার অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী এবং ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী সৎকার বা সমাধিস্থ করতে হবে। অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণে হাইকোর্টের ১১ দফা নির্দেশনা, ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের সাবেক ৩ পরিচালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ

0

সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণে ১১ দফা নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ জনস্বার্থে জারি করা সুয়োমোটো রুলের শুনানি শেষে মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন আটটি জীবনরক্ষাকারী ভেন্টিলেটর কেনার ১২ বছর পরও স্থাপন না করায় প্রতিষ্ঠানটির সাবেক তিন পরিচালক ও আইসিইউ বিভাগের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।

রায়ে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে দুদকের দেয়া সুপারিশমালার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের ভেন্টিলেটর নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক। এরপর হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে রুল জারি করেছিল।
মঙ্গলবার হাইকোর্ট সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণে যে ১১ দফা নিয়ম অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে সেগুলো হলো-
১.চিকিৎসার জন্য যেকোনো যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের পূর্বে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ কমিটি দ্বারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। এ কমিটি দ্বারা চাহিদা নিরূপণ করে সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুসারে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন চিকিৎসা সামগ্রী বা যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে হবে।

২.চাহিদা চূড়ান্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে উক্ত চাহিদাসম্পন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ প্রয়োজন কি না তা নিরূপণ করতে হবে। অবকাঠামো প্রস্তুত হওয়া সাপেক্ষে যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে হবে।

৩.সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক উপযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ এবং তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

৪.যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে অবাস্তব ও অতিমূল্য নির্ধারণ করে প্রাক্কলন তৈরি করা হয়। এ ক্ষেত্রে সঠিক ও বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

৫.ঠিকাদারদের কাছ থেকে যন্ত্রপাতি বুঝে নেয়ার পূর্বে সরবরাহকৃত পণ্যের মান ও গুণ নিশ্চিত হতে হবে।

৬.জরুরিভিত্তিতে কোনো যন্ত্র ক্রয় ও চালু করার ক্ষেত্রে একইভাবে ১ ও ২ নম্বর শর্ত পূরণ করতে হবে।

৭.প্রতিটি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা সামগ্রীর যথাযথ মান নিরীক্ষা, যন্ত্রপাতিগুলো কার্যকর ও সচল রাখার বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকি করতে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করতে হবে।

৮.কোনো যন্ত্রপাতি মেরামত কিংবা ওভার হোলিংয়ের প্রয়োজন হলে অবশ্যই উক্ত যন্ত্রপাতি চালু ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা অবিলম্বে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিতভাবে জানাবেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তদারকির জন্য গঠিত কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করতে হবে।

৯.এ বিষয়ে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে দায় নির্ধারণ করবে এবং কোনো আর্থিক ক্ষতি হলে যার কারণে ক্ষতি হবে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।

১০.প্রতিটি স্থাপিত যন্ত্রের কক্ষের বাইরে উক্ত যন্ত্রের কর্মক্ষমতা ও মেয়াদকাল লিখিতভাবে উল্লেখ করে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখতে হবে।

১১.যন্ত্রপাতিগুলোর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নজর রাখতে উপজেলা, জেলা এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করা যেতে পারে বলেও রায়ে বলা হয়েছে।

স্বপ্ন পূরণের সারথি ডিজিটাল সেন্টার

0

বাল্যকাল থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেন রংপুরের সদর উপজেলার সদ্যপুস্করিনী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের আকতারুল ইসলামের ছেলে আরিফুজ্জামান মুন (৩০)। আজ তিনিই একজন সফল আইসিটি উদ্যোক্তা।
২০১০ সালে সরকারের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে আবেদন করেন তিনি। সেখানে কাজ শুরুর পর থেকে অদ্যাবধি সাধারণ মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এই সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪০০ জন শিক্ষিত যুবক ও যুব মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা বর্তমানে আয়মূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত রয়েছেন। এখন তিনি আউটসোর্সিং ও অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রমের ওপর মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে কাজ করে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আয় করছেন। পাশাপাশি ২০১২ সালে তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে রসায়নে সম্মান ডিগ্রি লাভ করেন।

কেশবপুর গ্রামের মনোয়ারা বেগম জানান, তার হারানো জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি এ সেন্টার থেকে খুব সহজেই সংগ্রহ করতে পেরেছেন। পালিচড়া গ্রামের আফরোজা বেগম সাত দিনের মধ্যেই এখানকার সেবার মাধ্যমে তাঁর জমির পর্চা পেয়েছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরিফুজ্জামান মুনের মতো সারা দেশের আনাচে কানাচে ৬ হাজার ৬৮৬টি ডিজিটাল সেন্টারে কর্মরত ১৮ হাজারের অধিক উদ্যোক্তা এভাবেই বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। তাঁরা ব্যাংকিং এবং ই-কমার্স সেবাসহ ২৭০টির অধিক সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রদান করছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের আওতায় এই সেন্টার স্থাপিত হয়। বর্তমানে এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম-এর মাধ্যমে ডিজিটাল সেন্টারের কাজ চলছে সারাদেশে। দারিদ্র্যমোচন, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অধিকাংশ অর্জনে এই ডিজিটাল সেন্টার ভূমিকা রাখছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে জনগণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর ভোলা জেলার চর কুকরিমুকরি ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগ করে দেশের ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়নে একযোগে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন যা বর্তমানে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) নামে পরিচিত।
২০০৮ সালে রূপকল্প ২০২১ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার মোবাইল ফোন সহজলভ্যতার নীতি গ্রহণের পাশাপাশি সাবমেরিন কেবলের সংযোগ স্থাপন করে। দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে তারা ডিজিটাল সেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইন্টারনেট অবকাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া এবং দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপন করে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।
বর্তমানে দেশে ইন্টারনেটের মোট গ্রাহকসংখ্যা ১০৩ মিলিয়ন যা ২০০৮ সালে ছিল ৯৪ মিলিয়ন। একই সঙ্গে দেশকে ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে এগিয়ে নেয়ার জন্য নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে থ্রিজি ও ২০১৮ সালে ফোরজি টেকনোলজি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন আমরা ৫জি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ইন্টারনেটের সূত্রে ডিজিটাল সেবার বহুমুখীকরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যার সরাসরি উপকারভোগী গ্রামের সাধারণ গরিব মানুষ।
গ্রামাঞ্চলে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর উপস্থিতির কারণে গ্রাম ও শহরের ব্যবধান ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে। ডিজিটাল অবকাঠামো গ্রামীণ গতিশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে, তা বলাই বাহুল্যে। ২০১৮ সালে সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারের ৩.১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘আমার গ্রাম–আমার শহর’: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ-এর বাস্তবায়ন ঘটে চলেছে এভাবেই। নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করার অংশ হিসেবে ইন্টারনেট বা তথ্য প্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকার বাস্তবায়ন করে চলেছে।
বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে সেই নির্বাচনি ইশতেহারের ৩.২১ অনুচ্ছেদের অঙ্গীকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ বিশাল অবদান রয়েছে।
এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রাম-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল সেন্টার বর্তমানে ২৭০-এর অধিক সেবা প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জমির পর্চা, নামজারি, ই-নামজারি, পাসপোর্টের আবেদন ও ফি জমাদান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, হজ রেজিস্ট্রেশন, সরকারি সেবার ফরম, টেলিমিডিসিন, জীবন বীমা, বিদেশে চাকরির আবেদন, এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, বাস-বিমান-লঞ্চ টিকেটিং, মেডিকেল ভিসা, ডক্টরের এপয়েনমেন্ট, মোবাইল রিচার্জ, সিম বিক্রয়, বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ, ই-মেইল, কম্পোজ-প্রিন্ট-প্রশিক্ষণ, ফটো তোলা, ফটোকপি, সরকারি ফরম ডাউনলোড করা পরীক্ষার ফলাফল জানা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবদেন করা, অনলাইন ভিসার আবেদন করা, কৃষি পরামর্শ ও তথ্য সেবা ইত্যাদি।
একজন উদ্যোক্তা সেবা প্রদানের মাধ্যমে মাসে প্রায় ৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। গড়ে প্রতিমাসে ডিজিটাল সেন্টার থেকে ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সেবা গ্রহণ করে থাকে বলেও এটুআই সূত্রে জানা গেছে।
এ যাবৎ ডিজিটাল সেন্টার হতে মোট ৫৫.৪ কোটি সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে নাগরিকদের ১৬৮ কোটি সমপরিমাণ কর্মঘণ্টা ও ৭৬,৭৭৫ কোটি টাকা ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। নাগরিকদের জীবনমান পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল সেন্টার ২০১৪ সালে ই-গভর্নমেন্ট ক্যাটাগরিতে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU)-এর ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (WSIS) অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।
২০১৩ সালে দেশে দেশের সকল পৌরসভার ‘পৌর ডিজিটাল সেন্টার (পিডিসি) এবং ১১টি সিটি কর্পোরেশনের সকল ওয়ার্ডে ‘নগর ডিজিটাল সেন্টার (সিডিসি)’ চালু করা হয়, ২০১৮ সালে ৬টি ‘স্পেশালাইজড ডিজিটাল সেন্টার (এসডিসি)’ চালু করা হয়। যার মধ্যে গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য গাজীপুরে ৫টি এবং মৎসজীবী শ্রমিকদের জন্য খুলনার রূপসায় ১টি, ২০১৮ সালে সৌদিআরবে ১৩টি ‘এক্সপাট্রিয়েট ডিজিটাল সেন্টার (ইডিসি)’ স্থাপন করা হয়, বর্তমানে সারাদেশে ডিজিটাল সেন্টারের সংখ্যা ৬৬৮৬টি (ইউডিসি-৪৫৭১, পিডিসি-৩২৮, সিডিসি-৪৬৫, এসডিসি-৬, ইউপিডিসি-৪৯২, ইডিসি-১৩, সাবসেন্টার-৮৮১), মোট উদ্যোক্তা ১৩ হাজারের অধিক এবং নারী উদ্যোক্তা ৫ হাজারের অধিক।
করোনা মহামারির সময়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলো টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে জনগণকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষে’ তৃণমূল জনগণকে ই-সেবা সম্পর্কে অবহিতকরণ, সেবাগ্রহণে মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতির আশ্রয় নিরোধে ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ‘মুজিব শতবর্ষ ই-সেবা ক্যাম্পেইন-২০২০’ পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ১১ অক্টোবর হতে ১০ নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সারাদেশে চলছে।
নাগরিকদের ২ কি.মি. আওতায় মধ্যে সেবাপ্রদান কার্যক্রম আনয়নের জন্য ২০২৩ সালের মধ্যে ১০ হাজার ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে এটুআই। সেবা তালিকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নতুন নতুন সেবা সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় প্রায় ৫০০ সরকারি-বেসরকারি সেবা এসকল সেন্টারের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
আগামী দিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, রোবটিকসের মতো প্রযুক্তিগুলো নিয়ে কাজ করতে হলে আমাদের দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। ডিজিটাল সেন্টারগুলো আমাদের দেশের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সেই জনবল সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এখন আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়, সেটা আজ বাস্তবতা। আমরা এখন ঘরে বসে অনেক কাজ করছি, অনলাইনে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করছে, জরুরি মিটিং করা যাচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি হিসেবে ডিজিটাল সেন্টারকে সাথে নিয়ে আমাদের আরো দ্রুত এগোতে হবে। গ্রাম হবে শহর, এই স্বপ্নপূরণের দোরগোড়ায় আমরা প্রায় পৌঁছে গেছি।
পরীক্ষিৎ চৌধূরী, তথ্য কর্মকর্তা, তথ্য অধিদপ্তর।

ইতিহাস থেকে কখনো বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা যাবে না : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

0

ইতিহাস প্রতিশোধ নেয়, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, অতীতে বহুবার ইতিহাস থেকে জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হলেও তা মোছা যায়নি, আর কোনদিনও মোছা যাবেনা।
তিনি বলেন, ‘ইতিহাস আসলে মুছে ফেলা যায়না। ইতিহাসও প্রতিশোধ নেয়। আজকের ইতিহাস এবং সেই নাম আর কেউ মুছতে পারবেনা, এটা হচ্ছে বাস্তবতা।’
মুজিববর্ষে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ এর (১) বিধির আওতায়
প্রস্তাব উত্থাপনকালে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা একথা বলেন।
‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনা এবং জাতির পিতার প্রতি জন্মশতবার্র্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদনে’ এই প্রস্থাবটি সংসদ নেতা নিজেই উত্থাপন করেন।
এ সময় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
প্রধানমন্ত্রী ’৭৫ এর ১৫ আগষ্টের সেই বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে বলেন,‘ সেদিন কেবল একজন রাষ্ট্রপতিকেই হত্যা করা হয়েছে তা নয়, আমার ১০ বছর বয়সী ছোট ভাইটিও খুনীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। আমি ও রেহানা বিদেশে থাকায় বেঁচে যাই। তাওতো দেশে ফেরায় আমাদের অনেক বাঁধা ছিল। তারপরেও আমি ফিরে আসতে পারায় এবং সরকার গঠন করতে পারায় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।
নিজের ওপর বার বার হত্যা প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সরকার গঠন প্রসংগে বলেন, ‘জনগণ সেই সুযোগটা দিয়েছে বলেই আজকে আমরা তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করতে পারছি, আওয়ামী লীগ সরকারের রয়েছে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীও ২০২১ সালে আমরা উদযাপন করবো।’
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুহম্মদ ফারুক খান এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, সিমিন হোসেন রিমি এমপি এবং গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মোহম্মদ মনসুর এমপি আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ১৪৭ এর (১) বিধির সাধারণ প্রস্তাবে যে বিষয়টি তুলে ধরেন তা হল- “সংসদের অভিমত এই যে, ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও স্থপতি, বাঙ্গালির অবিসংবাদিত মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙ্গালী জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে তিনি সারা জীবন সংগ্রাম করেছেন। জেল-জুলুম অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন। কিন্তু অন্যায়ের সাথে কখনো আপস করেননি।”
“১৯৪৭-৪৮ থেকে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট গঠন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা ১৯৬৮ এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচন- দীর্ঘ ২৪ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১ এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণে বজ্রকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।”
“বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলার নিরস্ত্র জনগণ ঘরে ঘরে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলেছিল। ২৬ মার্চ ১৯৭১ এর প্রথম প্রহরে জাতির পিতা শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান লাভ করে। বঙ্গবন্ধু আমাদের দিয়েছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। লাল-সবুজের পতাকা ও সংবিধান।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রস্তাবে বলেন, “বঙ্গবন্ধু বিশ্বসভায় বাঙ্গালিকে আত্মপরিচয় নিয়ে গর্বিত জাতিরূপে মাথা উঁচু করে চলার ক্ষেত্র রচনা করেছেন। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়কালেই বাংলাদেশের উন্নয়নের সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন তিনি।”
বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং সংসদ নেতা আরো বলেন, “২০২০ সালে জন্মশতবার্ষিকীতে মুজিব বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক এবং কর্মজীবন ও দর্শনের উপর জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হোক।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতির পিতার অনুপম দেশ প্রেম এবং দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য আজন্ম জীবন সংগ্রামে জেল, জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতনের করুণ উপাখ্যানের কিয়দংশ জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতার ১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ সালে দেয়া ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃতি তুলে ধরেন।
জাতির পিতা বলেছিলেন,‘আমরা একটা আদর্শের জন্য সংগ্রাম করেছি। আমার সরকারের নীতি হচ্ছে স্বাধীনতার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। সাধারণ মানুষ আর মুক্তিযোদ্ধারা তাদের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাই স্বাধীনতার সুফল তারা যেন ভোগ করতে পারে অবশ্যই তার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।’
কাজেই বাঙ্গালি জাতির মুখে হাসি ফোটানোটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি,বলেন প্রধানমন্ত্রী।
১৯৭৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি জনসভায় দেওয়া ভাষণে জাতির পিতা আরো বলেন,‘ভিক্ষা করে কেউ কোনদিন সম্মান নিয়ে বাস করতে পারেনা। আমি আমার সাড়ে ৭ কোটি লোককে সারাজীবনের জন্য ভিক্ষুকের জাত করতে চাইনা। আমি চাই একটি স্বয়ংসম্পূর্ন দেশ, একটি শোষণহীন দেশ, যে দেশের মানুষ পেট ভরে ভাত খাবে,সুখে বসবাস করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা সব সময় বলতেন ভিক্ষুক জাতির কোন ইজ্জত থাকেনা। বাংলাদেশটাকেও আমরা বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শ নিয়েই গড়ে তুলতে চাই, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন,‘ দুর্ভাগ্য আমাদের বাঙ্গালির জীবনে ’৭৫ এর ১৫ আগষ্ট না আসলে জাতি হিসেবে বাঙ্গালি অনেক আগেই উন্নত হতে পারতো। কারণ জাতির পিতার মধ্যে একটা আত্মবিশ^াস ছিল । কারণ এই বাঙ্গালি জাতিকে নিয়েই তিনি মুক্তিযুদ্ধে করে বিজয় অর্জন করেছিলেন।
১৯৭৪ সালে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর দেয়া ভাষণে জাতির পিতা বলেন,‘এই বাংলায় সম্পদের অভাব নেই। কিন্তু তা সদ্ব্যবহারের জন্য সময়ের প্রয়োজন। আমরা যদি বাংলার সম্পদ বাংলার মাটিতে রাখতে পারি, সমাজতান্ত্রিক উপায়ে বিলি-বন্টন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে পারি এবং সকলে মিলে কঠোর পরিশ্রম করে কল-কারখানায়, ক্ষেতে-খামারে উৎপাদন বাড়াতে পারি তবে, ইনশাল্লাহ আমাদের ভাবি বংশধরদের শোষণমুক্ত সুখী ও সমৃদ্ধশালী এক ভবিষ্যত উপহার দিতে পরবো।’
অর্থাৎ জাতির পিতা কেবল স্বাধীনতাই দেননি, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কার্যকর পদক্ষেপও গ্রহণ করেছিলেন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ’৭০ এর নির্বাচন এবং নিখীল পাকিস্থানে আওয়ামী লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন প্রসংগে বলেন, ’৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ২০টি রাজনৈতিক দলের আরো একটি জোট অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের ধারণা ছিল আওয়ামী লীগ কখনও জিততে পারবেনা, কিন্তু গোটা পাকিস্তানেই আওয়ামী লীগ যখন সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেল তখন আর ক্ষমতা হস্তান্তর হলোনা। ’
সংসদ নেতা বলেন, তখনই তিনি (বঙ্গবন্ধু) অসহযোগের ডাক দিলেন, দিলেন ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ। তিনি পুরো ভাষণে একটি যুদ্ধের নির্দেশনা দিয়ে যান। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ছিল-‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
শেখ হাসিনা বলেন,যে ভাষণ আজ বিশে^ ঐহিহ্যের প্রামান্য দলিল হিসেবে স্থান করে নিয়েছে কিন্তু ’৭৫ এর পর তা এ দেশে বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নামও সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জাতির পিতার বিভিন্ন কুটনৈতিক সাফল্যের প্রতি আলোকপাত করে বলেন, ‘জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশ পুণর্গঠনকালেই ১৪০টি দেশের স্বীকৃতি আদায় করেন, ’৭২ সালে আমরা কমনওয়েলথ ও আইএমএফ এবং ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ এবং ওআইসি’র সদস্য পদ ও লাভ করি। কারণ জাতির পিতার মত বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দেশ প্রেমকে বিশ^ স্বীকৃতি দিয়েছিল। সে জন্য এত দ্রুত এতগুলো স্বীকৃতি এবং সুযোগ লাভ করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের কারাগার থেকে স্বদেশে ফিরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির ভাষণে বঙ্গবন্ধু সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে নাই। তাঁকে এই বাংলাদেশে, যাদেরকে তিনি গভীরভাবে ভালবাসতেন আর সেই মানুষের হাতেই তাঁকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে।
‘যেখানে ফিদেল ক্যাষ্ট্রো তাঁকে সাবধান করেছিলেন। মিসেস গান্ধীও বলেছিলেন- একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে সাবধান। অথচ, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন এরা আমার দেশের ছেলে, এরা আমার সন্তানের মত, কাজেই এরা আমাকে মারবেনা, মারতে পারেনা। আমি তাদের জন্য কাজ করি। তারা আমাকে কেন মারবে।,’যোগ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর (বঙ্গবন্ধু) একটা বিশ^াস এদেশের মানুষের ওপরে ছিল। তিনি এই বিশ^াস ঘাতকদের স্বচক্ষে দেখে গেলেন । কিন্তু কারা এর পেছনে রয়েছে জানতে পারলেন না। এটাই দুর্ভাগ্য যে তাঁর বিশ^াসটা বাঙ্গালি জাতি রাখতে পারলোনা। এরা অবশ্যই একটি মুষ্টিমেয় ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। এদেশের আপামা জনগণ নয়।’
তিনি বলেন, ‘কারণ কর্ণেল ফারুক বিবিসিতে দেয়া একটা স্বাক্ষাৎকালে বলেছেন তিনি (বঙ্গবন্ধু) এতই জনপ্রিয় ছিলেন যে, অনেক অপ্রপচার করেও তাঁর জনপ্রিয়তা এতটুকু কমানো যায়নি। তাই তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য হত্যা করা ছাড়া কোন উপায় ছিলনা। কাজেই তারাতো আত্মস্বীকৃত খুনী।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পকিস্তানের কারাগারে জাতির পিতা কেমন অত্যাচার নির্যাতনের মধ্যে দিন কাটান তা কখনও বলেন নি। রেহানা জিজ্ঞেস করলে শুধু বলতেন- জানতে চাসনা, সহ্য করতে পারবি না। ইয়াহিয়া খান তাঁকে ফাঁসির হুকুম দেয় এবং জেলখানার মধ্যে তাঁর সেলের কাছে তাঁর জন্য কবরও খোঁড়া হয়। অথচ তাঁর মৃত্যুর পর কত অপ্রচার চালানো হয়, কত অপবাদ দেয়া হয়।’
তৎকালিন বিখ্যাত সাংবাদিক ডেভিড ফ্রষ্টকে দেওয়া জাতির পিতার ঐতিহাসিক স্বাক্ষাৎকারের প্রসংগও টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন,ডেভিড ফ্রস্টের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তাঁর (বঙ্গবন্ধু) কোয়ালিফিকেশন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন,‘আই লাভ মাই পিপল।’ আর ডিসকোয়ালিফিকেশন-‘আই লাভ দেম টু মাচ।’
শেখ হাসিনা এ দিনের বিশেষ অধিবেশণে রাষ্ট্রপতির দেয়া ভাষণের ওপর আলোচনায় বলেন, রাষ্ট্রপতি অনেক সুন্দর একটা ভাষণ দিয়ে গেছেন। ইতিহাসের অনেক না জানা কথা অনেকে জানার সুযোগ পেয়েছেন। অনেক সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখবেন, যারমধ্য দিয়ে আরো অনেক কিছু জানার সুযোগ হবে। আর এর মাধ্যমে এই মহান নেতার প্রতি আমরা আমাদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবো।
প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের যে একটা আত্মপরিচয় দিয়েছেন, একটা রাষ্ট্র দিয়েছেন এটাই সব থেকে বড় কথা। এই রাষ্ট্রটাকে আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত করে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবো সেটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।’ বাসস।