ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 16

সবকিছু খোলাসা করলেন আইনমন্ত্রী

0

*প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে সংবিধানের কোথাও এটা নেই।
*তত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই সর্বোচ্চ আদালত এটাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন।
*আমেরিকার ভিসা নীতি সরকারকে আতঙ্কিত করেনি ।
*খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে মুক্ত।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সময় মন্ত্রিদের পদত্যাগ করতে বলতে পারেন। এটা সংবিধানে আছে। সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভুলবশত মন্ত্রীদের পদত্যাগের স্থলে“প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ” শব্দটি চলে আসায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলে সঙ্গে সঙ্গে তা সংশোধনী দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এটা নিতান্তই ভুল এবং এ নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই।
আইনমন্ত্রী বলেন,’প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। একটা কথা পরিস্কার করতে চাই, ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণ শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারী সংসদের ৫ বছর পূর্ণ হবে, সরকারের মেয়াদও সে পর্যন্ত। সংবিধানে বলা আছে যখন একটা সংসদ তার সম্পূর্ণ মেয়াদ পূর্ণ করে থাকে এবং সংসদ যে দিন প্রথম অধিবেশন বসেছিল সেদিন থেকে পাঁচ বছর গণনা করা হবে। সেই পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার দিন থেকে ৩ মাস পেছনে এসে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন যে কোনো দিন নির্বাচন দিতে পারে। এটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তারা যখনই নির্বাচন করবেন আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।“চ্যানেল আই”র এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন,আমাদের গণতন্ত্র কি হবে,আমাদের গণতন্ত্র কিভাবে চলবে সেটা বাংলাদেশের জনগণ ঠিক করবে। সেখানে আমেরিকার ডিকটেশনে চলতে হবে এমন কথা নেই। এরকম কোনো কথা হতে পারে না। এদেশে গণতন্ত্র যে ভাবে বিকশিত হয়েছে ঠিক সে ভাবেই হবে। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার একটি পথ। বাংলাদেশের ইতিহাসে আওয়ামী লীগই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সবসময় করেছে। আওয়ামী লীগের হাত থেকে যখনই অন্য কারো হাতে গেছে তখনই ভোটাধিকার ছিনতাই হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ২০২৩ সালের শেষে অথবা ২০২৪ এর শুরুতে যে নির্বাচন করবেন সেই নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অবাধ হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে হবে সংবিধানের কোথাও সেটা নেই। কেয়ারটেকার সিস্টেম সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই সর্বোচ্চ আদালত এটাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তখন সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনিতে কেয়ারটেকার সিস্টেম বাতিল করা হয়েছে। কেয়ারটেকার সিস্টেম ফিরিয়ে আনার কোনো সম্ভাবনা নেই, আর কখনো ফিরে আসবে না।
তিনি বলেন জনগণের করা সংবিধান জনগণের জন্য। বিএনপি যে দেশে বিশ্বাস করে সেই দেশে আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সংবিধান হয় নি। সেটা হলো পাকিস্তান। বিএনপি সংবিধানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে নি। তাদের দলও সংবিধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা হয় নি। জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট সায়েম সাহেবের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলেছেন, এখন আপনি সরে যান আমি রাষ্ট্রপতি হবো। আমি চীফ মার্শাল’লো এডমিনিস্ট্রেটর হবো। তিনি সেভাবেই হয়েছেন। নির্বাচন নামে প্রতিষ্ঠানকে ধংস করেছে বিএনপি।
আমেরিকার ভিসা নীতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন,
“আমেরিকা একটি স্বাধীন দেশ। তারা তাদের যে কোনো ভিসা নীতি ঘোষণা করতে পারে। আমি মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে বলেছি এরকম একটা নীতি আমাদের দেশের জন্য করায় আমরা অবশ্যই অপমানিত হয়েছি। কিন্তু এটা যদি সকলের ব্যাপারে সুষ্ঠু ভাবে প্রয়োগ হয় তা হলে আমাদের আপত্তি নেই। তবে উনারা কী ভিসা নীতি করলেন সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় না। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল সুষ্ঠু নির্বাচন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন আমেরিকা কখনো বাংলাদেশে কেয়ারটেকার সরকারের কথা বলে নি।
তিনি বলেন, বিএনপি ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তারা ভয় পায়। ২০১৪ সালে তারা নির্বাচনে না এসে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারে সেজন্য ভীতি প্রদর্শন করেছে। ২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে প্রার্থী মনোনয়নের ব্যবসা করেছে। ১৫ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিএনপি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন ভয় পায়। তত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন,তত্বাবধায়ক সরকার অবৈধ, অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক। যেখানে এটা ডিসাইডেড সেখানে এটা নিয়ে আলাপ আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান অনুযায়ীই ভোট হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন,লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো ছিলোই। বিএনপিকে সংবিধানের কাঠামো বিশ্বাস করেই নির্বাচনে আসতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন আইন হলো। ভারত পাকিস্তানেও এই আইন হয় নি। এই আইন করে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলো। এই নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে সব ধরণের সহায়তা করবে।
অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের পদত্যাগ
করতে বলতে পারেন, ছোট্ট পরিসরে মন্ত্রীসভা দিয়ে
নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারের দৈনন্দিন কাজ করবে। সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার হবে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী
বলেন,এই আইন থাকতে হবে, সাইবার অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই। যে কোনো আইনই প্রয়োগের পর ত্রুটি বিচ্যুতি ধরা পড়ে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু কিছু ক্ষেত্রে অপপ্রয়োগ ও অপব্যবহার হয়ে থাকতে পারে। এই দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আশাকরা যায় আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সংশোধন করা হবে। কারণ অক্টোবরের পর নির্বাচনকালীন সরকার হয়ে যাবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,খালেদা জিয়া মুক্ত। প্রধানমন্ত্রীর বদন্যতায় আইনী বিধানমতে দুটি শর্তে তাঁর দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
শর্ত দুটি হলো তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, আর দেশে থেকে চিকিৎসা নিবেন। খালেদা জিয়া রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আংশ নিতে পারবেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি অসুস্থ বলেই তাঁর পরিবারের আবেদনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি যদি রাজনীতিই করতে পারেন তা হলে নিশ্চই তিনি সুস্থ। আর সুস্থ হলে দণ্ডাদেশ ভোগ করতে পারবেন না কেনো? তিনি দুটি আদালত দ্বারা দণ্ডিত। একটা বিচারিক আদালত আরেকটি আপিল আদালত হাইকোর্ট। সবকিছু বিবেচনায় তিনি অসুস্থ। একজন অসুস্থ মানুষ রাজনীতি করতে পারলে তা হলে তাঁর অসুস্থতা বলে যে দরখাস্ত করা হয়েছে সেটা মিথ্যা হয়ে যায়।

খালেদা জিয়া জেলখানায় গিয়ে পুরো সাজা খাটলে পুরোপুরি মুক্ত হবেন। আর অসুস্থতার কারণে, বাসায় থাকলে সাজা স্থগিত থাকবে। তাকে সাজা খাটতে হবে। উনি সুস্থ হয়ে রাজনীতি করতে পারলে সুস্থ হয়ে কেনো বাকি সাজা খাটতে পারবেন না এমন প্রশ্ন রাখেন আইনমন্ত্রী।
আমেরিকার ভিসানীতি সরকারকে আতঙ্কিত করে নি জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন,প্রধানমন্ত্রী বারবার বলে এসেছেন দেশে একটি সুস্ঠু নির্বাচন তিনি করতে চান। যদি কেউ গণতন্ত্রে সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে তা হলে তাকে নির্বাচনে এসে জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে হবে। আইনমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। বিএনপি নৈরাজ্য করেছে। এখনো তাদের আগের ঘোষিত অবরোধ তুলেনি। বিএনপি অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি চায়, এর মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় আসতে চায়। বিএনপিকে কখনো জনগণ ক্ষমতায় বসায় নি, যোগ করেন আইনমন্ত্রী।
নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন আছে বলেও মনে করেন না আইনমন্ত্রী। বিদেশীদের দ্বারস্থ হওয়ারও দরকার নেই। তিনি বলেন, আমরা বিদেশের উপর নির্ভরশীল নই। বাংলাদেশের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশের জনগণ।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে যেসব উদ্বেগ তৈরি হতে পারে

0

১৯৭২ সালের অগাস্ট মাসে বাংলাদেশের সদস্যপদ নিয়ে যখন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভোট হয়, তখন ১৫টি দেশের মধ্যে একমাত্র চীন তাদের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। পঞ্চাশ বছরের মধ্যে সেই চীনই এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী।
চীনের সাথে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির পরিসংখ্যান অথবা দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা দ্বিপাক্ষীয় চুক্তির সংখ্যা দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ব্যপ্তিটা আসলে বোঝা যায় না। চীন আর বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে ব্যাবসায়িক মাত্রার পাশাপাশি রাজনৈতিক আর কৌশলগত অনুষঙ্গও যোগ হয়েছে গত কয়েক দশকে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নের পাশাপাশি যুগপৎভাবেই পশ্চিমের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের আগ্রহ:
বাংলাদেশ সবসময়ই কোনো দেশের সাথে শত্রুতামূলক বা বৈরি সম্পর্কে না জড়িয়ে নিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি মেনে চলেছে।
উন্নয়নের সহযোগী দেশগুলোর – ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান – সাথে সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে চললেও সেসব দেশের সাথে কখনো কোনো জোটের অংশ ছিল না বাংলাদেশ।
এই ‘কোনো জোটে না থাকা’র বিষয়টি বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের সামনে নিরপেক্ষ একটা পরিচয় দিতে পেরেছে বলে মনে করেন চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।
“গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের মত দেশের আগ্রহ বেশ জোরেসোরে প্রকাশিত হয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি নিয়ে অনেক জোর কথাবার্তা হয়েছে। সেসব কারণে এরকম একটা আলোচনা তৈরি হয়েছিল যে বাংলাদেশ পশ্চিমের দিকে কিছুটা ঝুঁকছে কিনা।”
“চীনও হয়তো আমাদের বন্ধু হিসেবে সেটা জানার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার মনে হয় বাংলাদেশ চীনকে আশ্বস্ত করবে যে বাংলাদেশ সবার সাথে বন্ধুত্ব রাখতে চায় এবং কোনো নির্দিষ্ট পক্ষ বা জোটের সাথে বন্ধুত্ব চায় না।”
মি. আহমেদ বলছিলেন, “আমরা চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত বা জাপান কাউকেই ছাড়তে পারবো না। কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের সাথে বন্ধুত্ব বা শত্রুতা রাখলে বাংলাদেশ যেরকম উন্নয়নের ধারায় রয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে পারবে না।”
মুন্সী ফয়েজ আহমেদের মতে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি গত কয়েক দশকের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণেও বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
তার ভাষায়, “অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে বাংলাদেশে মানুষের যেহেতু ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে, আগামী কয়েক বছরে আরো প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস রয়েছে – তাই অন্যান্য দেশও এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার হতে আগ্রহী।”
পাশাপাশি সম্প্রতি ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ার পর আরো বিপুল পরিমাণ সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ার বিষয়টিও একটি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন মি. আহমেদ।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ:
বাংলাদেশের ওপর চীনের প্রভাব বাড়তে থাকার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে বলে বলা হয়ে থাকে।
উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করা নিয়ে হওয়া টানাপোড়েনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে চীনে গিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন কক্সবাজার উপকূলে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য। চীন বেশ আগ্রহের সঙ্গেই এই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছিল।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আর ভারতের চাপে শেষ পর্যন্ত ঐ প্রকল্পটি থেকে পিছিয়ে এসে জাপানের সহায়তায় মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরির প্রকল্পে হাত দেয় বাংলাদেশ।
কিছুদিন আগে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মাহমুদ আলী বলছিলেন, “বাংলাদেশ এই সাহায্য পাচ্ছে বাংলাদেশের কারণে নয়, মূল কারণ হচ্ছে চীন যেন বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে। চীন যেন বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহারের সুযোগ বা অনুমতি না পায়।”
তবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব এরকম নয় বলে ধারণা প্রকাশ করেন সাবেক কূটনীতিক ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।
তিনি বলছিলেন, “বাংলাদেশের অনেক প্রয়োজন আছে যেগুলোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা অনেক পশ্চিমা দেশ সহায়থা করতে পারে না। সেরকম ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদি চীনের কাছ থেকে সহায়তা পায় তাহলে, তারা খুশি হবে না, কিন্তু আপত্তিও করবে না।”
এ ধরণের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও যথাযথ যোগাযোগের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এক্ষেত্রে ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ চলাকালীন সময় রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনার উদাহরণ দেন তিনি। বলেন, “ভারত রাশিয়া থেকে তেল কিনেছে, এস-৪০০ মিসাইল কিনেছে – তারা কিন্তু আমেরিকার সাথে বিষয়টা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যে রাশিয়া থেকে তেল না কিনলে তাদের পক্ষে তেল পাওয়াটা কঠিন। আমেরিকাও কিন্তু সেখানে ভারতের যুক্তি মেনে নিয়েছে।”
এ ধরণের বিষয়ে আমেরিকার সাথে আলোচনা ও দর কষাকষির জন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আরো জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।
যেসব বিষয় নিয়ে চীনের সাথে দন্দ্ব তৈরি হতে পারে:
চীনের সাথে বর্তমানে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক ভালো হলেও ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
জার্মানি ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা মেরকাটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজ চীনের সাথে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে একটি গবেষণা পত্র প্রকাশ করে ২০২২ সালের অগাস্টে। ঐ গবেষণা পত্রে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের বিষয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো ড. আনু আনোয়ার।
ড. আনোয়ারের ধারণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য তিনটি ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।
প্রথমত, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে মিয়ানমার যেহেতু চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই চীন বাংলাদেশের আশা অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে হয়তো ভূমিকা রাখতে চাইবে না।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের এই অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে চীনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে বাড়তে থাকা বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বোঝাতে ড. আনোয়ার ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন, যেখানে চীন থেকে প্রায় ১৮০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশের চীনে রপ্তানি করে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের পণ্য।
আর তৃতীয় সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ব্রহ্মপুত্র নদের উপরের অংশে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনার উল্লেখ করেন ড. আনোয়ার।
হিমালয়ের পাদদেশে তিব্বতের স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলে ৬০ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ‘সুপার হাইড্রোপাওয়ার’ বাধ তৈরির পরিকল্পনা চীনের রাষ্ট্রায়ত্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের নভেম্বরে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় থাকা বাংলাদেশের এলাকাগুলোর পাশাপাশি অরুনাচল প্রদেশ ও আসামের অনেক এলাকার জীববৈচিত্র ও মানুষের জীবিকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বিবিসি বাংলা।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

0

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক। দুদকের আইনজীবি খুরশীদ আলম খান জানান, দুদক যে মামলা করেছে সেখানে মি. ইউনূসসহ আসামী মোট ১৩ জন। দুদক আসামীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে ‘অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিং এর অভিযোগের সত্যতা’ পাওয়ায় এই মামলা দায়ের করা হয়।
আসামীদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকার বেশি ‘আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিং’ এর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করা হয়েছে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে।
এর আগে মানিলন্ডারিং-এর বিষয়ে দুদকের কাছে অভিযোগ করা হলে দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধান পরিচালনা করে।
মামলাটিতে বলা হয়েছে, গ্রামীণ টেলিকমের কর্মচারীদের পাওনা লভ্যাংশ বিতরনের জন্য শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাথে একটি সেটেলমেন্ট চুক্তি হয় ২০২২ সালের ২৭শে এপ্রিল। এরপর ৯ই মে গ্রামীন টেলিকমের বোর্ড সভায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত হয়। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক হিসাব খোলার আগেই সেটেলমেন্ট চুক্তিতে সেটিকে দেখানো হয়েছে।
এজন্য সেটেলমেন্ট চুক্তিটিকে ‘ভূয়া’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে মামলার নথিতে। এই মামলায় আরো অভিযোগ তোলা হয়, শ্রমিকদের লভ্যাংশ বিতরণের আগে তাদের না জানিয়ে তাদের পাওনা টাকা বেশ কয়েকজন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এমন কাজ করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
শ্রম আদালতের মামলা:
গত ৮ই মে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। ওই মামলাটি অভিযোগ গঠন পর্যায়ে থাকার কারণে সেটি বাতিল করা যাবে না বলে আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে এই মামলাটি চলছে এবং এর পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৫-৬ জুন।
২০২১ সালের ০৯ই সেপ্টেম্বরে শ্রম আইন লংঘনের অভিযোগ তুলে ঢাকার শ্রম আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের একজন শ্রম পরিদর্শক বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
এই মামলার অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ না দেয়া, বেশ কয়েক জন শ্রমিকের চাকুরী স্থায়ী না করা এবং গণছুটি না দেয়া। তবে কতজন শ্রমিক এর সাথে জড়িত তা সুনির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়েরের পর গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদের চার সদস্যের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর একটি অভিযোগ দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশনে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান করতে তিন সদস্যের একটি টিমও গঠন করেছিল দুদক।
সেসময় দুদক জানিয়েছিল যে, গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে তা হলো, অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ লোপাট করা, শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধের সময় অবৈধভাবে আইনজীবীর ফিসহ অন্যান্য ফিয়ের নামে ছয় শতাংশ অর্থ কেটে নেয়া, গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানি থেকে দুই হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর এবং শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের বরাদ্দকৃত সুদসহ ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৩ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ করা।
এর আগে ২০১৭ সালে গ্রামীণ টেলিকমের ১৭৬ জন কর্মচারী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ১১০টি মামলা দায়ের করেছিল। এরমধ্যে শ্রম আদালতে ১০৪টি এবং হাইকোর্টে ০৬টি।
সব মিলিয়ে মোট ৪৩৭ কোটি টাকা দাবি করে মামলা করেছিলেন ওই শ্রমিকরা। প্রায় পাঁচ বছর ধরে মামলা চলার পর ২০২২ সালের মে মাসে আদালতের বাইরে সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে ১১০টি মামলার সবকটি প্রত্যাহার করা হয়। বিবিসি বাংলা।

তথ্য অধিকার আইনে যে ভাবে তথ্য চাইবেন সাংবাদিকরা

0

তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে তথ্য পাওয়া খুব সহজ – এমন না ভাবাই ভালো। আবেদন করে পাওয়া তথ্য যে সবসময় আপনার কাজে লাগবে তা-ও নয়। তবু লেগে থাকলে ভালো ফল পাওয়া যায়। একারণে বিশ্বের যেখানেই এই আইন আছে, সেখানেই সাংবাদিকরা একে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন অসাধারণ সব রিপোর্ট। একের পর এক বাধা পেরিয়ে যারা শেষ পর্যন্ত কঠিন সব তথ্য হাতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, চাইলে তাদের পথ ধরে হেঁটে যেতে পারেন আপনিও। তখন, বিষয়টি সম্পর্কে আপনার ভয়ও কমে আসবে অনেকটাই।
একেক দেশের তথ্য অধিকার আইন একেকরকম হতে পারে। এই বৈচিত্র্যের কারণে, সবার কাজে আসবে এমন গড়পড়তা পরামর্শ দেয়া কঠিন। তবুও, অভিজ্ঞ সাংবাদিক এবং তথ্য অধিকার বিশেষজ্ঞদের দেয়া পরামর্শে উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া যায়।
ভারত, মেক্সিকো, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক-গবেষকদের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে জিআইজেএন তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের আটটি সাধারণ দিক খুঁজে পেয়েছে। এখানে রইল তাদের সেই পরামর্শ যা আপনাকে পরিচয় করিয়ে দেবে এই আইন ব্যবহারের কিছু কার্যকর কৌশলের সাথে।
জিআইজেএনের ৮ পরামর্শ

১. আগাম পরিকল্পনা: খুঁজে বের করুন আপনি কী চান। তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগে বিশেষজ্ঞ কমবেশি সবাই জোর দিয়ে বলেছেন, নথিপত্র চাওয়ার আগে, পর্যাপ্ত গবেষণা করে নিন। নিশ্চিত হোন আপনি কী চান।
২. বিকল্প ভাবনা: ভিন্ন পথেও চেষ্টা করুন। আগে এদিক-ওদিক খুঁজে দেখুন, বিকল্প পথে সেই তথ্য পাওয়া যায় কিনা। সেটি আগে অনানুষ্ঠানিকভাবে চেয়ে দেখুন। না পেলে আরটিআই ব্যবহার করুন।
৩. অবস্থান: তথ্য চাওয়ার আগে নিশ্চিত হোন, সেটি কোথায় আছে। কী খুঁজছেন তা জানা যত জরুরি, সেটি সরকারের কোন অফিসে আছে, তা নিশ্চিত হওয়াও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
৪. পূর্বপ্রস্তুতি: আগে জেনে নিন আইন সম্পর্কে। তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করার আগে, সেটি সম্পর্কে ভালোমতো জেনে নিন। যেমন, কত টাকা ফি দিতে হয়? জবাব দেয়ার জন্য তাদের সময়সীমা কেমন? আপনার নিজের কী কী অধিকার আছে?
৫. সঠিক জায়গায় সঠিক প্রশ্নটি করুন। তথ্য অধিকার আইন নিয়ে যারা কাজ করেন তারা সবাই বলেছেন, প্রশ্ন যেন স্পষ্ট হয়। আপনার আবেদনে কোনো অস্পষ্টতা থাকলে, তা আপনার বিপক্ষেও চলে যেতে পারে। আপনার প্রশ্ন যত সুনির্দিষ্ট হবে, তথ্যও তত দ্রুত পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, তথ্য চেয়ে একটা বিশাল আকারের আবেদনের চেয়ে, ছোট ছোট কয়েকটি আবেদন বেশি কার্যকর। “যা আছে, সব কিছু দিন”- এই ধরণের আবেদন খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না। “কেন” জাতীয় প্রশ্ন কাজে আসবে না। আপনার জানবার বিষয় নিয়ে খুবই সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করুন। “আপনাদের পরিচালক কী করেন?” এই প্রশ্ন না করে বরং বলুন, “দয়া করে আপনাদের পরিচালকের কর্ম বিবরণীটা দিন।”
৬. হাল ছাড়বেন না: ফলোআপ সবসময়ই কাজে দেয়। তথ্য চেয়ে একটা আবেদন পাঠিয়ে শুধুই বসে অপেক্ষা করবেন না। সেই তথ্যের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, সম্ভব হলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখুন। ধৈর্য্য ও ধারাবাহিকতা খুবই জরুরি। দরকার হণে আলাপ-আলোচনা, এমনকি দরকষাকষিও চালিয়ে যান।
৭. আপিল করুন। তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর প্রবণতা খুবই সাধারণ ব্যাপার। এর জন্য তৈরি থাকুন। আপনি আপিল করুন।
৮. প্রকাশ করুন: সংকোচের কিছু নেই। তথ্য চেয়ে আবেদন করার পর থেকে শেষপর্যন্ত কী হলো, সব কিছু লিখে রাখুন। হার-জিত, যা-ই হোক; তথ্য পেলে ভালো, কিন্তু না পেলেও সেটি নিয়ে রিপোর্ট করুন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকরা তথ্য অধিকার ব্যবহার নিয়ে কলাম লিখেছেন। এখানে থাকছে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ। পরামর্শগুলো দেয়া হয়েছে সংক্ষিপ্ত আকারে।
কখনো রাগের মাথায়, প্রতিশোধের কথা চিন্তা করে বা খারাপ মেজাজ নিয়ে আরটিআই আবেদন লিখবেন না। এমন আবেদন ব্যর্থ হয়।
“গাইড টু ড্রাফটিং আ গুড আরটিআই অ্যাপ্লিকেশন” শিরোনামে প্রকাশিত লেখার শুরুটা সিজে কারিরা করেছেন এভাবে, “ভালো একটি আরটিআই আবেদন লেখা সাধারণ একটা ছুটির দরখাস্ত লেখার মতোই সহজ। তথ্য অধিকার আইনের মৌলিক জিনিসগুলো জানা থাকলে; কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন করার ব্যাপারটা মনে হবে ছেলেখেলা।”
• তথ্য পেতে হলে কী কী করতে হবে, জেনে নিন
• তথ্য অধিকারের আবেদনপত্র তৈরির প্রস্তুতি নিন
• তথ্য কেন দরকার, এবং পেলে, তা দিয়ে কী করবেন – নিশ্চিত হোন।
• শুধু তথ্যই জানতে চান, অন্য কিছু নয়।
• কী জানতে চান – সুনির্দিষ্টভাবে লিখুন। অস্পষ্ট অনুরোধ করবেন না।
• আরটিআই আবেদন বেশি বড় করবেন না।
• কোন সময়ের জন্য তথ্য চাওয়া হচ্ছে, সুনির্দিষ্টভাবে করে লিখুন।
• তথ্যটি এমনিতেই কোথাও পাওয়া যায় কিনা, খোঁজ নিন।
• তথ্য অধিকার আইন ব্যবহারের আগে নিজের ক্ষোভ প্রশমন করুন।
• কখনো রাগের মাথায়, প্রতিশোধের কথা চিন্তা করে বা খারাপ মেজাজ নিয়ে আরটিআই আবেদন লিখবেন না। এমন আবেদন ব্যর্থ হয়।

“কীভাবে সবচেয়ে যথাযথ উত্তর পাওয়া যায় এবং প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে আনা যায়” তা নিয়ে লিখেছিলেন কিনি। এখানে থাকছে সেখান থেকে নেওয়া কিছু টিপস:
১. আপনার চাওয়া তথ্য পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় তথ্য অধিকার আইন।
২.মনে রাখবেন যে, শুধু মূল তথ্যটাই যেন জানতে চাওয়া হয়। যে কোনো বিষয়ে কে, কেন, কীভাবে- এসব প্রশ্নের উত্তর নয়।
৩. তথ্য অধিকার আইনের অধীনে আপনি তথ্য জানতে চাইতে পারেন কেন্দ্রীয়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। সংসদ, বিচারবিভাগ, পুলিশ, নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারী সেক্টরের কোনো কাজ বিষয়ে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত যেকোনো সংগঠন থেকে আপনি তথ্য জানতে চাইতে পারেন।
৪. আপনার ঠিক কী ধরনের তথ্য দরকার, সেটা শুরুতে খুব ভালোমতো চিন্তা করে নিন। এরপর সেটা খুব অল্প কথায় লিখে ফেলুন। বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা, সুপারিশ বা অস্পষ্ট ঘোরানোপ্যাঁচানো কথাবার্তা দিয়ে কিছু জানতে চাইবেন না।
৫. কোনো ঝামেলা মেটানো অথবা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেনস্তা করার উদ্দেশ্য নিয়ে কখনোই আরটিআই ব্যবহার করা উচিৎ নয়।
৬. কোনো তথ্য বের করে আনার পর সেটি কাজে লাগান। ফাইলবন্দি করে রাখবেন না।
৭. আপনি যে তথ্য চাইছেন সেই সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড, দলিলপত্র, মেমো, চিঠিপত্র, মতামত, পরামর্শ, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার, ছবি অথবা যে কোনো কম্পিউটার উৎপাদিত জিনিস, অর্ডার, লগবুক, কনট্রাক্ট, রিপোর্ট, কাগজপত্র, নমুনাপত্র, মডেল বা ইলেকট্রনিক ডেটা চাইতে পারেন।
৮. আগে থেকে সাক্ষাতের সময় ঠিক করে নিয়ে আপনি কোনো অফিসের দলিল, অফিসিয়াল কাগজপত্র ঘেঁটে দেখতে পারেন এবং সেগুলোর কপিও নিতে পারেন, কপি করার অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে।
৯. এই আইন আপনাকে কোনো সরকারী কাজ পরিদর্শন করা এবং সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহেরও সুযোগ দেয়।
১০. তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের জন্য খুবই সহজ সাধারণ একটা ফর্ম দেয়া আছে, যেটা সাদা কাগজে কপি করার পর নিজের সাক্ষর দিয়ে নিতে পারেন আবেদনকারী।
আপনি একজন নাগরিক, কোনো তদন্তকারী সংস্থা নন। অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষকে জানান। আরটিআই আবেদনে অভিযোগ আনার দরকার নেই।
১. ভালো একটা আরটিআই আবেদন, লন্ড্রি লিস্টের মতোই একঘেয়ে। নিছক কিছু তথ্যের একটি তালিকা, যেখানে কোনো যুক্তিতর্কের বালাই নেই।
২. একটি ভালো আরটিআই দরখাস্ত হবে সংক্ষিপ্ত।
৩. আপনার যদি অনেক তথ্য দরকার হয়, তাহলে অনেকগুলো ছোট ছোট আবেদন করুন।
৪. যে তথ্য চান তার সময়সীমা অল্পের মধ্যে রাখুন। বেশি উচ্চাকাঙ্খী হবেন না।
৫. আপনি একজন নাগরিক, কোনো তদন্তকারী সংস্থা নন। অভিযোগ থাকলে কর্তৃপক্ষকে জানান। আরটিআই আবেদনে অভিযোগ আনার দরকার নেই।
৬. প্রথমে লিখে ফেলা আবেদন জমা দিয়ে দেবেন না। প্রথমবারেরটাতে সবসময়েই কিছু ভুল থেকে যায়।
তথ্য অধিকার আইনের ধারায় যে শব্দগুলো দেওয়া আছে, সেগুলো উল্লেখ করে কাগজপত্র চান। যেমন রিপোর্ট, লগবুক, ইমেইল, অ্যাডভাইস, রুলস, রেগুলেশনস, ম্যানুয়ালস ইত্যাদি।
প্রায়শই আমরা আরটিআই আবেদন লিখতে বসি রাগের মাথায়, খারাপ মেজাজ নিয়ে। কিন্তু লেখার সময় মনোযোগ থাকা উচিৎ তথ্য পাওয়ার দিকে। তা না করে আমরা চিন্তা করতে থাকি কীভাবে কিছু অন্যায় থামানো যায়, কীভাবে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে শাস্তি দেওয়া যায়, কীভাবে অযত্ন-অবহেলার জন্য কর্তৃপক্ষকে ‘জবাবদিহি করা যায়, ইত্যাদি ইত্যাদি। এরকম পরিস্থিতিতে, আমরা পরিস্কারভাবে চিন্তা করতে ব্যর্থ হই। বুঝতে পারি না, ঠিক কী ধরণের তথ্য দরকার। রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট একটা আইন। এর কার্যকরিতা নির্ভর করে রাগ-বিরক্তি ইত্যাদির উর্ধ্বে থেকে তাকে ব্যবহার করতে পারার ওপর।
তাঁর চারটি গোল্ডেন রুল হচ্ছে:
১. আবেদনে সুনির্দিষ্ট নথিপত্রের কথা উল্লেখ করুন।
২. তথ্য অধিকার আইনের ধারায় যে শব্দগুলো দেয়া আছে, সেগুলো উল্লেখ করে কাগজপত্র চান। যেমন রিপোর্ট, লগবুক, ইমেইল, অ্যাডভাইস, রুলস, রেগুলেশনস, ম্যানুয়ালস ইত্যাদি।
৩. প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন না, কোনো ব্যাখ্যা চাইবেন না, আর কোনো অভিযোগ তুলবেন না।
৪. অস্পষ্ট অনুরোধ করা থেকে বিরত থাকুন। যেমন: আমার অভিযোগটির কী অবস্থা? আমার অভিযোগপত্র/চিঠির ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
নিচের নির্দেশনাগুলো পালন করতে পারেন:
১. প্রথমে চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নিন।
২. আরটিআই ছাড়াই যে তথ্য পাওয়া যায় সেগুলো দিয়ে শুরু করুন।
৩. প্রশ্ন করবেন না, শুধু তথ্যের কথা জানতে চান।
৪. আবেদন সহজ ও স্পষ্ট রাখুন। ফাঁকফোকর সম্পর্কে সচেতন থাকুন।
৫. অধিকার প্রয়োগ করার আগে জেনে নিন, কোন তথ্য পাওয়া যায় না।
৬. একই তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সব সরকারী কর্তৃপক্ষকে ব্যবহার করুন।
৭. দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচিত হয়ে নিন।
৮. প্রয়োজন বুঝে লক্ষ্য পরিবর্তন করুন।
৯. সাংবাদিক পরিচয় প্রকাশ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
১০. যেকোনো ধরণের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
১১. মনে রাখবেন, “না”-এর অর্থ সবসময়ই না-ই হবে, এমন কোনো কথা নেই।
১২. সময় নষ্ট করবেন না, আবেদন অনলাইনে জমা দিন অথবা ডাকে।
১৩. ধৈর্য্য ধরুন, হাল ছাড়বেন না।
১৪. তথ্য পাওয়ার জন্য বাড়তি কাজ করুন।
১৫. আরটিআই কর্মকর্তাদের প্রতি সংবেদনশীল হন।
১৬. তথ্য কমিশনারদের সাহায্য নিন।
১৭. কাগজপত্র পরিদর্শন করুন।
১৮. ফলোআপ চালিয়ে যান।
সৌজন্যে – জিআইজেএন

তারেক-জোবাইদার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন তিন ব্যাংক কর্মকর্তা

0

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় পলাতক আসামি তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে তিন ব্যাংক কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামানের আদালত তারা এ সাক্ষ্য দেন। এ নিয়ে মামলাটিতে ৫৬ সাক্ষীর মধ্যে ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
সাক্ষীরা হলেন এবি ব্যাংকের এসএম মুসা করিম, ওবায়দুর রশিদ খান ও ইমরান আহমেদ।
২০২২ সালের ১ নভেম্বর পলাতক তারেক ও জোবাইদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি আদালত গ্রেপ্তার পরোয়ানার তামিল প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। এরপর তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেন আদালত। এরপর গত ১৩ এপ্রিল আদালত পলাতক তারেক ও জোবাইদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। গত ২১ মে আদালতে মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হুদা সাক্ষ্য দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘোষিত আয়ের বাইরে চার কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা করে দুদক। মামলায় তারেক রহমান, জোবাইদা রহমান ও তার মা অর্থাৎ তারেক রহমানের শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে আসামি করা হয়। ২০০৮ সালে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপরই মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন জোবাইদা। ওই বছরই এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে আপিল করলে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট জোবাইদার করা মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দেন। একই সঙ্গে ওই মামলায় আট সপ্তাহের মধ্যে জোবাইদাকে বিচারিক আদালতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেয়া হয়। উচ্চ আদালতের এ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে ওই বছরই লিভ-টু-আপিল করেন জোবাইদা। এরপর প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ লিভ-টু-আপিল খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সূত্র –দৈনিক কালবেলা।

ঢাবির পরীক্ষায় ছাত্রীদের কান-মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে: আপিল বিভাগ

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পরীক্ষা ও প্রেজেন্টেশন চলাকালে প্রত্যেক ছাত্রীর কান ও মুখমণ্ডল খোলা রাখতে হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে আগামী ২ মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত রিট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেন। আপিল বিভাগ বলেন, শিক্ষকরা পিতার সমতুল্য। সেজন্য পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য তারা ছাত্রীদের মুখ মণ্ডল দেখতে পারেন।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পরীক্ষা ও প্রেজেন্টেশন চলাকালে প্রত্যেক ছাত্রীর কানসহ মুখ খোলা রাখার নোটিশের বৈধতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের একটি আইন নোটিশ দেয়া হয়। তবে সে নোটিশের জবাব না পেয়ে ঢাবি কর্তৃপক্ষের নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থীর পক্ষে আইনজীবী মো. ফয়জুল্লাহ ফয়েজ এ রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে ঢাবি ভিসি, বাংলা বিভাগের প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়। সূত্র-মানবজমিন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে মাদকের পাচার ঠেকানো যাচ্ছে না

0

বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মাদকের চালান আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। জব্দ করা মাদকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে ইয়াবা।
বিভিন্ন সময়ে পাচারের সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কথাও অনেক সময় উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত শুক্রবার রাতে কক্সবাজারে ২০ হাজার ইয়াবাসহ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর একজন এসআই ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্র্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এছাড়া চলতি বছরেই বিভিন্ন সময় কক্সবাজার, টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা জব্দ করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রকাশিত সবশেষ হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চ মাসেই প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৫০৯পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে।
আর বাংলাদেশের ২০২২ সালের বার্ষিক ড্রাগ রিপোর্ট অনুযায়ী, সব সংস্থা মিলে গত ৫ বছরে প্রায় ২১ কোটি ৬৬ লাখেরও বেশি ইয়াবা জব্দ করেছে।
ইয়াবার চালান ঠেকাতে সরকারি নানা পদক্ষেপ সত্ত্বেও ঠেকানো যাচ্ছে না এই মাদকের বিস্তার। এখন ইয়াবার পাশাপাশি ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের মতো ভয়ঙ্কর মাদকও আসছে বাংলাদেশে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক চক্র একসময় বাংলাদেশকে মাদকের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করলেও এই ব্যবসায় বাণিজ্যিক লাভের যে সুযোগ আছে তাতে অভ্যন্তরীণ বাজারও তৈরি হয়েছে।
অন্যতম রুট টেকনাফ :
বাংলাদেশে ইয়াবা-আইসের মতো মাদক প্রবেশের অন্যতম রুট হলো কক্সবাজার ও মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা টেকনাফ রুট।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক গবেষক ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এম ইমদাদুল হক বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন – আশির দশকে ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা ফেনসিডিলের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছিল মাদকসেবীদের কাছে। এরপর কিছু সময় হেরোইনে আসক্ত হয় মাদকসেবীরা। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই জায়গাটা দখল করে নিয়েছে মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা।
বিবিসিকে তিনি বলেন-“ স্বাধীনতার আগে থেকে টেকনাফ অঞ্চল মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট। আশির দশকে হেরোইন চোরাচালানের রুট হিসেবে এটা বেশ ব্যবহার করতো চোরাকারবারিরা। আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশকে একটা করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে”।
“মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে এখন ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট টেকনাফের রুট”- বলেন অধ্যাপক ইমদাদুল হক।
২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে যেভাবে মাদক কারবার বেড়েছে তাতে দেশের ভেতরে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন “মাদকসেবীদের প্রথম পছন্দই এখন ইয়াবা”।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে গত পাঁচ বছরে শুধুমাত্র কক্সবাজার জেলা থেকেই আট কোটির বেশি ইয়ারা উদ্ধার করা হয়েছে। আর গত দুই বছরে এই জেলা থেকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আইস উদ্ধার করা হয়েছে।
এই টেকনাফ রুট দিয়ে এলএসডি এবং আইসের মতো মাদক আসছে। যেটা বেশ ‘অ্যালার্মিং’ বলে উল্লেখ করছেন মি. হক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থায় গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের কাছাকাছি হওয়ায় সহজেই এই পথ বেছে নিতে পারছেন মাদক ব্যবসায়ীরা। তারা রাতের আঁধারে বা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন সময় এই রুট বেছে নিচ্ছেন।
টেকনাফের সীমান্ত ঘেঁষা মিয়ানমারে বেশ কিছু ইয়াবা কারখানা তৈরি হয়েছে, যেখান থেকে ইয়াবার চালানগুলো বাংলাদেশে এসে ঢুকছে।
“মিয়ানমার এবং বাংলাদেশি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন উপায়ে ইয়াবার চালান মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসছে এবং এখান থেকে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ার মতো দেশে সেগুলো পাচার করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় রাতের আঁধারে হয়তো তারা সীমান্ত অতিক্রম করছে, তখন হয়তো তাদের আটকানো যাচ্ছে না”- বলছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় কুমার চৌধুরী।
অন্যদিকে কক্সবাজারের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এর অধিনায়ক মো: আমির জাফর মনে করেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থাকার কারণে এখন মাদক পাচারের পরিধিও বেড়েছে।
“মিয়ানমারের যেখান থেকে মূলত ইয়াবার চালান এসে ঢুকে রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল সেই একই জায়গায়। পথঘাট চেনা। সেটা তাদের আনার জন্য সহজ। যেহেতু সংখ্যায় প্রায় দশ লাখের বেশি মানুষ বাস করছে”।
যেসব চালেঞ্জ তারা মোকাবেলা করছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো ইয়াবা, আইসের মতো মাদক পাচার ঠেকানো।
‘কম পরিশ্রমে বেশি লাভ’
ইয়াবার মতো মাদক ব্যবসায় বাণিজ্যিক লাভের যে সুযোগ রয়েছে সেই কারণে এর নিয়ন্ত্রণ সহজে সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
অধ্যাপক ইমদাদুল হক বলছেন, “ইয়াবা, আইসের মতো মাদক পাচার ঠেকাতে না পারার অন্যতম কারণ হলো বড় ধরনের বাণিজ্যিক লাভের যে সুযোগ এই লোভটা সংবরণ করতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, বিনিয়োগকারীর সংখ্যা যে বাড়ছে এর কারণ আন্তর্জাতিক চক্রও এখানে কাজ করছে”।
তার মতে, আর্থিক লাভের কথা ভেবেই বেপরোয়াভবে এই ব্যবসার কাজটি পরিচালনা করে যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চক্র।
অনেকটা একই ধরনের মত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক সঞ্জয় কুমার চৌধুরীর। তার ভাষ্য অনুযায়ী “যারা ইয়াবার ব্যবসা করেন তারা অতি কম পরিশ্রমে অনেক টাকা লাভ করতে পারেন। প্রতি পিস ইয়াবার দাম ২০০ টাকা যদি হয় তাহলে এর বাজারটা কত বড় সেটা নিশ্চয়ই আঁচ করা যায়। এজন্য মানুষ ঝুঁকি নিয়ে কাজটা করে”।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় যারা মাদকের পাচার রোধে কাজ করে তারাও লোভে পড়েই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যায় বলে মনে করেন মি. চৌধুরী।
তবে অধ্যাপক ইমদাদুল হকের মনে করেন, ২০১৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশের সরকার যে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু করেছিল সেই সময়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততাও বেড়ে যায়।
“মাদকবিরোধী যে অভিযান চলেছিল ফিলিপিন্সের অনুকরণে- যাদের দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা হবে ভাবা হয়েছিল তাদেরই একটা অংশ বেনেফিশিয়ারিতেপরিণত হয়। অর্থাৎ এই ব্যবসায় যে লাভ সেই সুবিধাটা তারা গ্রহণ করে। ফলশ্রুতিতে ওসি প্রদীপের মতো মানুষের সম্পৃক্ততাও তখন বেড়ে গিয়েছে। বাহিনীর অনেককে ব্যবসার প্রমোটারে পরিণত হতে দেখেছি” বলেন মি. হক।
এছাড়া মাদক পাচারের অভিযোগে বড় কোনও শাস্তিও হতে দেখেনি ব্যবসায়ীরা এটাও পাচার না ঠেকাতে পারার অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করেন ইমদাদুল হক।
তার মতে, আটককৃতরা বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্নভাবে পার পেয়ে যাওয়ায় তারা উৎসাহী হয় এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে।
“আন্তর্জাতিক চক্র তাদের নেটওয়ার্ক চেইন, বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে পরিবেশটা তৈরি করেছে, দেশে একটা চাহিদা তৈরি করেছে- এখন এই ব্যবসার সুযোগটা তারা নিচ্ছে”।
সার্বিকভাবে জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এই মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন মি. হক।
অন্যদিকে সঞ্জয় কুমার চৌধুরীর মতে – মাদক পাচার ঠেকাতে প্রত্যেকটা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, আলাদাভাবে কাজ করলে মাদকের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।
‘সীমান্তে কীভাবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে যুগপৎভাবে কাজ করতে হবে বাহিনীগুলোকে’ বলেন মি, চৌধুরী। বিবিসি বাংলা।

শ্রম আইন সংশোধনে দ্রুতগতিতে কাজ করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

0

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন নিশ্চিত করার জন্য জোরালোভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, আইন সংশোধন একটি জটিল প্রক্রিয়া, বিশেষ করে শ্রম আইন যা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যম ঘটে থাকে। তাই এই আইন সংশোধনে যুক্তিসঙ্গত সময়ের প্রয়োজন।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে শ্রম আইন সংশোধন বিষয়ক টেকনিক্যাল নোট ও গ্লোবাল গুড প্রাকটিস নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা সভার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক শ্রমিকের কাজের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রম মান এবং মৌলিক নীতি ও অধিকার অনুযায়ী শ্রম খাতকে উন্নত করার জন্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আইএলও গভর্নিং বডিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশের শ্রমের মান উন্নয়নে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা তিনি প্রতিবারই গভর্নিং বডির কাছে তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি।
শ্রম বিষয়ক আইনি কাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে এবং ইপিজেড শ্রম বিধিমালা জারি করা হয়েছে। শ্রম বিধিমালা সংশোধনের প্রথম রাউন্ডে বিশেষজ্ঞ কমিটির বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। আগামীতেও তাদের পর্যবেক্ষণ বিবেচনায় নেয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম সচিব মো. এহছানে এলাহী, আইএলও-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমো পুটিআইনেন, বাংলাদেশ এমপ্লোয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি আরদাশির কবির, এনসিসিডব্লিউই-এর সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বক্তৃতা করেন।
 

সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়-সিইসি

0

সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন করা কঠিন বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।
“নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এর মাধ্যমেই নির্বাচনে এক ধরনের ভারসাম্য গড়ে ওঠে”
নির্বাচনকালীন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করা ‘কঠিন হবে’ বলে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সোমবার নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি বলেন, “… এটা গ্রাউন্ড রিয়েলিটি যে, সরকারের যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকে তবে নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে এককভাবে অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন।”
পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে কিছু অভিযোগ ও কিছু দাবি জানাতে এদিন কমিশনে গিয়েছিল সংসদের প্রধান বিরোধী দলটির প্রতিনিধি দল।
দলটির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নুর অভিযোগ, সিটি নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে ‘ব্যাপক’, কিন্তু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। বরিশাল সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তকে প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।
সিইসি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন। আগামীতেও তা থাকবে বলে আশা করছেন তারা।
বরিশালে যা হয়েছে
বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তা সম্প্রতি বরিশালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে তদন্ত করে কমিশনে প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ ‘উপেক্ষা করে’ জাতীয় সংসদের উপনেতা বৃহস্পতিবার বরিশালে দলের প্রার্থীর পক্ষে সমাবেশে অংশ নিয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছে ইসি। এরপর সেদিনই নির্বাচন কমিশন থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ এলেও প্রতিবেদনে কী আছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্য, মন্ত্রীসহ সরকারি সুবিধাভোগী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের প্রচারে অংশ নেয়ায় বিধিনিষেধ রয়েছে।
জি এম কাদের সংসদ সদস্য। পাশাপাশি সংসদে উপনেতা হিসেবে তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমান মর্যাদা পান। তাই তাকে বরিশালে জাপা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে নিষেধ করেছিল নির্বাচন কমিশন।
জাপার কী বক্তব্য :
বৈঠক শেষে জাপা মহাসচিব অভিযোগ করেন, বরিশালের রিটার্নিং কর্মকর্তার ‘বাজে ব্যবহার’ এবং ‘পক্ষপাতমূলক’ আচরণ করেছেন।
বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানান সিইসি।
পাঁচ সিটি নির্বাচন নিয়ে চুন্নু বলেন, “পাঁচ সিটি ভোটে জাপা কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিল। সেগুলো সুরাহা করার জন্য এসেছি।
“…ভালো নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি মূলত ইসির দায়িত্ব, রাজনৈতিক দলেরও আছে। প্রার্থীদেরও আছে, যারা ক্ষমতায় আছেন তাদেরও আছে। কাজেই সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের মনের মধ্যে একটা শঙ্কা, যে নির্বাচনটা ফ্রি, ফেয়ার হয় কি না।”
গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ভোট বাতিল হলেও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘দৃশ্যমান’ ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলে জাপা প্রতিনিধি দল।

বৈঠকের পর জাতীয় পার্টির মহাসচিব মজিবুল হক চুন্নু সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
চুন্ন বলেন, “কমিশনকে আমরা বলেছি যে, শাস্তিমূলক বিষয়গুলো যদি দৃশ্যমান না হয়, জনগণ যদি জানতে না পারে তাহলে তো আস্থাটা আসবে না।”
সাহস দিতে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। বলেন, “ইসির প্রতি আমাদের আস্থা আছে। আছে বলেই তো আসছি তাদের সহযোগিতা করতে এবং সহযোগিতা নিতে।”
জাপা প্রতিনিধি দলের অন্যদের মধ্যে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম জহির, মোস্তফা আল মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন ভূইয়া, দপ্তর সম্পাদক-২ এম এ রাজ্জাক খানও উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের ওপর চাপ রাখবে ইসি :
সিইসি জাপার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন যত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, ততই অধিকতর অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।
“নির্বাচনটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হওয়া বাঞ্ছনীয়। এর মাধ্যমেই নির্বাচনে এক ধরনের ভারসাম্য গড়ে ওঠে”, বলেন তিনি।
হাবিবুল আউয়াল বলেন, “আমরাও স্বীকার করেছি এবং আমরাও জোর দিয়ে বলেছি যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে সরকার বিদ্যমান থাকবে, তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অবশ্যই প্রয়োজন হবে।”
অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিদ্বন্দ্বী দল, সরকারের যে প্রশাসন, পুলিশসহ সবার ‘সহযোগিতা’ পাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সিইসি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর সরকারের তরফ থেকে আজ অবধি কোনো নির্বাচনে হস্তক্ষেপ পাইনি। এখন সকলের দৃষ্টি জাতীয় নির্বাচনের দিকে। প্রশাসনের যে সহায়তা এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি উনারা যদি একটা নিউট্রাল অবস্থানে থাকেন তাহলে আমাদের পক্ষে নির্বাচন ভালোভাবে করা সম্ভব হবে।
“ভবিষ্যতে কী হবে আমরা তো নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সরকারের ওপর আমাদের তরফ থেকে চাপটা থাকবে।”
গণমাধ্যমের বরাতে নির্বাচন প্রভাবিত হলে দেখতে পেলে সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাসও দেন সিইসি।
তিনি বলেন, “নির্বাচন প্রভাবিত হলে, সোশ্যাল মিডিয়া নয়, (মূল ধারার) গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের কাছে তথ্য এলে… নেগেটিভ কোনো বিষয় যদি আমরা দেখি, তাহলে কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।”
‘লোম বাছতে গিয়ে কম্বল উজাড়’ বাস্তব নয় :
সিলেট সিটিসহ অনেক এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, “অসংখ্য আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। সবকিছু আমলে নেয়ার মত হবে না। কারণ হচ্ছে লোম বাছতে গিয়ে যদি কম্বল উজাড় করে ফেলি সেটা খুব বাস্তব হবে না।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল।
“আমি বলেছি- দিন শেষে মানুষ জানতে চায় যে নির্বাচনটা কেমন হলো।”
সিইসি বলেন, “নির্বাচনটা ভালো হয়েছে কিনা-দৃশ্যমান করতে হবে; দৃশ্যমান না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
“আমরা আশাবাদী সরকারের সদিচ্ছা থাকবে এবং জাপা মহাসচিবকে বলেছি প্রতিদ্বন্দ্বিতা আপনাদের করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। যদি ভালোভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন তাহলেও নির্বাচনের শুদ্ধতা বিঘ্নিত হতে পারে।”
সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান, ইসি সচিব জাহাংগীর আলমও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

সালাউদ্দিনসহ বাফুফে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদককে হাইকোর্টের নির্দেশ

0

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ সংস্থাটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমশিন,দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আগামী চার মাসের মধ্যে তদন্ত করে দুদককে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ সোমবার(১৫ মে) রুলসহ এই আদেশ দেন।
রুলে বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এর আগে বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে গত রোববার ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন হাইকোর্টে রিট করেন। সোমবার ওই রিটের ওপর শুনানি হয়। রিটের পক্ষে ব্যারিস্টার সুমন নিজেই শুনানি করেন। বাফুফে কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন ও ব্যারিস্টার মারগুব কবির। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।
এর আগে বাফুফের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে ৩ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক। এতে ফল না পেয়ে তিনি রিটটি দায়ের করেন।
রিটে মবাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম নিতে অনুসন্ধানে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে ব্যাপারে রুল চাওয়া হয়। রুল হলে তা বিচারাধীন অবস্থায় অভিযোগ অনুসন্ধান করতে বিবাদীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়ার আরজি জানানো হয়। পাশাপাশি ৩ মে দুদকে করা রিট আবেদনকারীর আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে সংস্থাটির (দুদক) চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। যুব ও ক্রীড়া সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুদক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাফুফের সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদককে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।