ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, শেয়ার ও ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি এবং অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বাইরে অর্থ পাচারের অভিযোগে ৫০ জনকে চিহ্নিত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ৩ বছর আগে একটি উদ্যোগ নিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু সেই উদ্যোগের এখন আর সাড়াশব্দ নেই। থমকে আছে সেই উদ্যোগ।
এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ৪ বছর আগে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। কথা ছিল এই টাস্কফোর্স বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের বিচারের জন্য দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের নামের তালিকা প্রণয়ন, আসামিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ, দেশে ফিরিয়ে আনার উপায় নির্ধারণ, ফেরত আনার কার্যক্রম তদারকি এবং কোনো আসামি ইতিমধ্যে বিদেশে নাগরিকত্ব গ্রহণ করে থাকলে সে ক্ষেত্রে তাকে ফিরিয়ে আনার উপায় নির্ধারণ ও এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি করার। কিন্তু সেই কাজও গতি পায়নি।
ফলে দুদক ও টাক্সফোর্স দুটির কার্যক্রমই এখন স্থবির।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দায়িত্বে থাকা কালিন ৫০ জনের একটি তালিকা তৈরী করে তাদের পাচার করা অবৈধ অর্থের সন্ধান দিতে বেশ কয়েকটি দেশে এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
ওই তালিকায় নাম ছিল মানবপাচারের অপরাধে কুয়েত কারাগারে বন্দি সাবেক এমপি শহীদুল ইসলাম পাপুল, আর্থিক খাতের কেলেঙ্কারির হোতা প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) যুবলীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী, বেসিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলাম, ঢাকা ট্রেডিংয়ের কর্ণধার টিপু সুলতান, এবি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী, শেয়ার খাতের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বাদল, নিম্ন আদালতের একজন বিচারকও।
এদের দেশে ফেরত আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়ার কথা বলা হয়েছিল। বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে দুদকের কাছে তথ্য ছিল এরা দেশ থেকে অবৈধ উপায়ে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া,ভারত ও হংকংয়ে অর্থ পাচার করেছেন। এজন্য এমএলএআর পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এই অনুরোধের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে আর কিছুই জানেনা দুদক। এখন আর এ নিয়ে মাথাই ঘামাচ্ছে না সংস্থাটি।
দুদক সূত্রে জানা যায়, কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের তদন্তে অন্তত একশ’ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য মিলেছে। তিনি মালয়েশিয়া ও ভারতে টাকা পাচার করেছেন বলে দুদকের তদন্তে ওঠে আসে।
লিজিং কোম্পানি ও আর্থিক খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা পাচারে জড়িত প্রশান্ত কুমার হালদার। যিনি ভারতের কারাগারে আটক আছেন। পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অন্তত ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অফিসিয়াল তথ্য পায় দুদক। দুদক ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে।
বেসিক ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলাম দুদকের ৬১ মামলার আসামি। বেসিক ব্যাংক থেকে ঋণের নামে অন্তত সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা লোপাটে জড়িত কাজী ফখরুল এখন কানাডায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এবি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তিনি পাচারের টাকার একটি অংশ দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে কয়েকটি বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করেছেন।
একই ব্যাংকের মোহাম্মদ আলীও অর্থ আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে যান। ঢাকা ট্রেডিংয়ের কর্ণধার টিপু সুলতান ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৯০ কোটি টাকা ও বিডিবিএল ব্যাংক থেকে ১৩০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশের চলে যান।
একইভাবে শেয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িত লুৎফর রহমান বাদলও বিদেশে টাকা পাচার করে পালিয়ে আছেন। এসব ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল তা থমকে আছে।
এদিকে,২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর ১১ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এর সভাপতি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী। সদস্য হিসেবে রয়েছেন-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অ্যাটর্নি জেনারেল, পররাষ্ট্র সচিব, জননিরাপত্তা সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক। জননিরাপত্তা বিভাগ এ টাস্কফোর্সকে সাচিবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু টাক্সফোর্স গঠনের পর আজ পর্যন্ত একজন পলাতককেও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি রয়েছে মাত্র দুই দেশের। দেশ দুটি হচ্ছে-ভারত ও থাইল্যান্ড। এ ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (দুবাই) সঙ্গে বন্দিবিনিময় (দণ্ডিত) চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। অন্যান্য দেশ থেকে অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে হলে বন্দিবিনিময় চুক্তি করতে হবে । এ ছাড়া ইন্টারপোলের সহায়তা নিতে হবে। কিন্তু এ ধরণের কার্যক্রমে গতি মন্থর হওয়ায় বিদেশে পাচারকৃত অর্থ আদৌ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কী না এ প্রশ্ন রয়েছে।
থমকে আছে পাচারকৃত অর্থ ও পলাতকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ: নিস্ক্রিয় দুদক, টাস্কফোর্স
শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ ফজলুল হক উলুম বহুমুখী মাদ্রাসা থেকে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার ওসি মজিবুর রহমান।
গ্রেপ্তার সিরাজুল হক (২৫) ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও নাটোর জেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের আইনাল হকের ছেলে।
এর আগে শনিবার দুপুরে নির্যাতিত শিশুটির বাবা বলাৎকারের অভিযোগে সিরাজুলকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারের সূত্রে ওসি জানান, মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে শুক্রবার রাত ১২টার দিকে নিজ কক্ষে ডেকে নেন সিরাজুল হক। এ সময় তিনি শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে শিশুটি শনিবার সকালে বলাৎকারের ঘটনা তার বাবাকে জানায়।
এ বিষয়ে হোসেনাবাদ ফজলুল হক উলুম বহুমুখী মাদ্রাসার সুপার শামসুজ্জোহা বলেন, “এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষক সিরাজুল হককে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।”
ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে মাদ্রাসা শিক্ষক সিরাজুলকে আটক করে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেন।
রোববার ওই শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান ওসি। সূত্র-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
বাফুফের সালাউদ্দিনসহ তিনজনের দুর্নীতি তদন্তে রিট
দুর্নীতি ও লুটপাটের তদন্ত চেয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের রিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন এক আইনজীবী। রোববার ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।
পরে ব্যারিস্টার সুমন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ ৯ জনকে বিবাদী করে রিট আবেদন করা হয়েছে। আশা করি আগামীকাল(১৫ মে) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চে এ রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। তিনি বলেন, যে পরিমাণ অর্থ ফিফা থেকে পায় তার পুরোটাও যদি অনিয়ম করে তাহলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ফিফা থেকে টাকা বাংলাদেশের নামে এনে পুরোটাও যদি লুটপাট করে ফেলে তাহলে বাংলাদেশে এই ভাবে আইনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে তাকে সাজা দেবে। তিনি আরো বলেন, এদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি হচ্ছে না। ফুটবলকে বাঁচাতে হলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
রিট আবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, ক্রীড়া সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যান, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
সেবা প্রদানে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে বিচারকদের প্রতি পরামর্শ আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে সবসময় নিজেকে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। তাছাড়া কোন ব্যক্তি এমনকি কোন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না। সেজন্য সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিচারকদের নতুন নতুন আইন, জুডিসিয়াল ডিসিশন, পরিবর্তিত কর্মপরিধি ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে হালনাগাদ থাকতে হবে। চিন্তা-চেতনায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগাতে হবে। কার্যক্ষেত্রে পুরনো ধ্যান-ধারণা পরিহার করে আধুনিক প্রযুক্তি, কারিগরি জ্ঞান এবং তত্ত্বীয় বিষয় সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে, সেবা প্রদানে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে।
শনিবার (১৩ মে) ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সিনিয়র সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ১৪৯তম রিফ্রেসার কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সেবা সহজীকরণ প্রক্রিয়া চলছে। কে, কত দ্রুত ও কত সহজে মানসম্পন্ন সেবা দিতে পারে, তা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সামীল হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সেবাকে স্বল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে ও সহজে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই এর সুফল জনগণ ইতিমধ্যে পেতে শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিচারপ্রার্থী জনগণকে দ্রুত বিচারিক সেবা প্রদানে বিচার বিভাগকেও সমান তালে এগিয়ে যেতে হবে।
মি. হক বলেন, আমরা জনগণের সেবক। তাই আমাদের জবাবদিহিতার মূলে রয়েছেন জনগণ। তাদেরকে সেবা প্রদানের জন্যই আমরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব নিয়েছি। এই দায়িত্ব আমরা কে, কত সুন্দরভাবে পালন করতে পারি, তার উপরেই নির্ভর করে আমাদের সুনাম ও সফলতা, সর্বোপরি প্রতিষ্ঠানের সফলতা। জনগণকে সেবা প্রদানের দায়িত্ব নিয়ে, আমরা যদি যথাসময়ে তা দিতে না পারি বা সেবা প্রদানের নামে জনগণকে হয়রানি করি, তাহলে নিজের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন হবে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হবে।
তিনি প্রশিক্ষণার্থী উদ্দেশ্যে বলেন, জ্ঞান, দক্ষতা ও সামর্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়িয়ে যেকোন প্রতিযোগিতা মোকাবিলার উপযোগী হতে হবে, প্রতিযোগিতা মোকাবিলার মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে। কেননা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টি করে যেকোনো জটিল পরিস্থিতি সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের অভিযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ধাপে ধাপে সফলতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে। প্রথম ধাপ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের পথ ধরে এখন তাঁর সরকার এসডিজি ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের পথে দুর্বার গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। ২০৪১ সালে আমরা অবশ্যই নতুন এক বাংলাদেশ দেখতে পাবো, যে বাংলাদেশ হবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ-উন্নত বাংলাদেশ; আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার উপযোগী স্মার্ট বাংলাদেশ, যেখানে গড়ে উঠবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ। এই জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশের উপযোগী হতে হলে আমাদের দক্ষ মানব সম্পদ গড়ার বিকল্প নেই।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সাওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) শেখ আশফাকুর রহমান বক্তৃতা করেন।
কর্নেল নাজমুল হুদাকে হত্যার ৪৮ বছর পর কন্যার মামলা, ‘জিয়া-তাহেরের’ নির্দেশে হত্যার অভিযোগ
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা বীরবিক্রমকে হত্যার ৪৮ বছর পর তার মেয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামলায় ১০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর (অব.) আব্দুল জলিলকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। সে সময়কার সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান ও জাসদ নেতা কর্নেল তাহেরের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন নিহতের মেয়ে ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইজহার খান।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া মামলার বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, আমার বয়স যখন ৫ বছর ও আমার বড় ভাইয়ের ৮ বছর, তখন আমার বাবা রংপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭২ বিশেষ কমান্ডার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিপথগামী, বিশৃঙ্খল সদস্যদের হাতে নিহত (শহীদ) হন। তার সঙ্গে অপর ২ সেক্টর কমান্ডার শহীদ মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ বীর উত্তম এবং শহীদ লে. কর্নেল এ টি এম হায়দার বীর উত্তমও নিহত (শহীদ) হন।
পরবর্তীতে আমরা বড় হয়ে বাবার কোর্সমেট, কলিগ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে নিজেদের অনুসন্ধানে জানতে পারি, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সকালে বাবাসহ অপর ২ সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের অফিসে, যেটি তখন জাতীয় সংসদ ভবনের এমপি হোস্টেলে অবস্থান করছিল। সকালে বাবারা নাশতা করা অবস্থায় দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারি থেকে একটি টেলিফোন আসে দশম ইস্ট বেঙ্গলের সিও লে. কর্নেল নওয়াজেশের কাছে। এরপর বাবাসহ অপর ২ সামরিক কর্মকর্তাকে বাইরে নিয়ে আসে দশম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তারা। আমাদের অনুসন্ধানে আমরা আরও জানতে পারি, তৎকালীন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং জাসদের নেতা লে. কর্নেল আবু তাহেরের (অব.) নির্দেশে ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকরা সংঘবদ্ধভাবে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটায়। লে. কর্নেল সিরাজ (তৎকালীন ক্যাপ্টেন) ও মেজর মুকতাদির, সাবেক পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান (তৎকালীন ক্যাপ্টেন) ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আমরা আরও জানতে পারি ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের কর্মকর্তা, জেসিও ও সৈনিকদের সঙ্গে মেজর মো. আসাদউজ্জামান (অব.) এই ৩ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে গুলি করার পর বেয়নেট চার্জ করা হয়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধে বাবা যোগদান করেন এবং সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন যশোর ৮ নম্বর সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টর কমান্ডার। তার সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত বিখ্যাত গরিবপুরের ট্যাঙ্ক যুদ্ধ, চৌগাছা যুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরাজিত হয়েছিল এবং ৬ ডিসেম্বর বাবার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রথম জেলা হিসেবে যশোর মুক্ত হয়। আমাদের জন্য সময়টা এতটাই প্রতিকূল ছিল যে, একবার ঢাকার মেয়র সাদেক হোসেন খোকার কাছে আমার ভাই গিয়েছিল বাবার নামে রাস্তার নামকরণের জন্য। তখন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তার নামকরণ করা হচ্ছিল। তিনি ভাইয়ের আবেদনপত্র হাতে নিয়ে আমার বাবার নাম দেখে ভাইকে তার অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন।’
মামলায় বলা হয়, ‘বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সরকার ক্ষমতায় আছে। মানুষ ন্যায়বিচার পাচ্ছে। তাই আমি আমার বাবাসহ ৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তার হত্যার বিচার দাবি করছি।
‘সরকারের কাছে আবেদন এই ৩ বীর মুক্তিযোদ্ধা, সামরিক কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তদন্ত করে দোষীদের বিচার অনতিবিলম্বে করা হোক।সূত্র-ডেইলি স্টার,বিডি নিউজ।
ঢাকার আদালত চত্বরে ‘হিট স্ট্রোকে’ আইনজীবীর মৃত্যু
ঢাকায় আদালত এলাকায় তীব্র গরমের মধ্যে ‘হিট স্ট্রোকে’ এক আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম সৈয়দ শফিউল ইসলাম আলাউদ্দিন(৩০)। তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন।
তার বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। তিনি ২০২১ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার একটি মামলার শুনানি শেষ বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মেট্রো বারের সামনে কালো কোট ও গাউন পরা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে যান শফিউল। অন্য একজন আইনজীবী তাকে ধরে ফেলেন।
আইনজীবী মো. ওসমান গনি তখন তাকে রিকশায় তুলে ঢাকা বারের ক্লিনিকে নিয়ে যান। এ সময় আরও একজন আইনজীবী তাপদাহের শিকার শফিউলকে মাথা ও মুখে পানি ছিটিয়ে দেন।
তাকে দেখে ক্লিনিকের চিকিৎসক বলেন, “এটা গরমের কারণে হয়েছে। এটা হিট স্ট্রোক।”
এরপর সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে নেয়া হয় পাশের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় এই তরুণ আইনজীবীর।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান মামুন বলেন, “ডাক্তারের কাছ থেকে আমরা তথ্য পেয়েছি শফিউল হিট স্ট্রেকে মারা গেছেন। মাদারীপুরের কালকিনিতে তার গ্রামের বাড়িতে মরদেহ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছি।” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ইলিয়াস-বাবুলসহ ৪ জনের বিচার শুরু
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় বিদেশে পলাতক ইউটিউবার ইলিয়াস হোসেন ও সাবেক এসপি বাবুল আক্তারসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১১মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশেক ইমাম এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। আদালতের ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মাহফুজুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলায় ‘অসত্য তথ্য’ সরবরাহ করা এবং তা প্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাবুল আক্তার ও ইলিয়াস হোসাইনসহ চার জনের বিরুদ্ধে করা মামলাটির বিচার চলবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে।
মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আশেক ইমাম মামলাটি মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিমের কাছে পাঠান। তিনি সেটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর অনুমতি দেন।
আদালতে ধানমণ্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মাহফুজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সম্প্রতি ধানমণ্ডি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ইউটিউবার ইলিয়াস হোসেনকে পলাতক দেখিয়ে তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রের অন্য দুই আসামি হলেন বাবুল আক্তারের ভাই হাবিবুর রহমান লাবু ও বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।
গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার মামলাটি করেন। এতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অভিযোগ আনা হয়।
এজাহারে পিবিআই প্রধান লেখেন, তদন্তে মিতু হত্যায় তার স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
“জেল হাজতে থাকা বাবুল আক্তার ও বিদেশে অবস্থানরত ইউটিউবার ইলিয়াসসহ বাকি আসামিরা বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত ও পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেন ।
“এরই ধারাবাহিকতায় বাবুল আক্তার ও অন্যান্য আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ‘কথিত সাংবাদিক’ ইলিয়াস হোসাইন ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ‘স্ত্রী খুন স্বামী জেলে, খুনি পেয়েছে তদন্তের দায়িত্ব’ শিরোনামে একটি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন।
“ভিডিওতে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্যের মাধ্যমে মিতু হত্যা মামলার তদন্তকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। “
ইলিয়াসের সেই ভিডিওতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উসকানি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয় বনজের মামলায়। বলা হয়, সেই ভিডিওতে পুলিশ এবং পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থা পিবিআই ও বিশেষ করে তার ‘মান-সম্মান ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়।
“রাষ্ট্রের হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট ও অস্থিরতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিরও অপপ্রয়াস করা হয়েছ “, এমন অভিযোগও করেন বনজ।
এজাহারে ওই ভিডিও ডকুমেন্টারি বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে নানা প্রমাণ এবং তথ্যও উপস্থাপন করেন বনজ কুমার।
এর আগে ৯ এপ্রিল মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে তিনি বিশেষ ক্ষমতা আইনে অব্যাহতির আবেদন করেন। চার্জশিটভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন বাবুল আক্তারের ভাই মো. হাবিবুর রহমান লাবু ও বাবা মো. আবদুল ওয়াদুদ মিয়া।
২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় পিবিআইপ্রধান বনজ কুমার মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই বছরের ১০ নভেম্বর বাবুল আক্তারকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় বাবুল আক্তারের ভাই লাবু ও বাবা ওয়াদুদ জামিনে রয়েছেন। তবে ইউটিউবার ইলিয়াস পলাতক।
যৌন নিপীড়নের দায়ে ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার জরিমানা
উনিশশ নব্বই’র দশকে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোরে একটি ম্যাগাজিনের কলামিস্টকে যৌন আক্রমণ করার জন্য ডেনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করেছে ম্যানহাটনের একটি জুরি।
তবে ই জিন ক্যারোল নামের ওই নারীকে বার্গডর্ফ গুডম্যান নামের স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ধর্ষণ করার বিষয়ে মি. ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
জুরি বলেছে , মিজ ক্যারোল-এর আনা অভিযোগকে “প্রতারণা এবং মিথ্যা” বলে অভিহিত করার মাধ্যমে মি. ট্রাম্প ওই নারীর মানহানি করেছেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো যৌন আক্রমণে জড়িত থাকার জন্য মি. ট্রাম্প আইনগতভাবে দায়ী হলেন।
এ ঘটনায় ম্যানহাটনের আদালত মি. ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার ছয় জন পুরুষ ও তিন জন নারীর সমন্বয়ে গঠিত জুরি তিন ঘণ্টারও কম সময় যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের পর তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রায়ের পর মিজ ক্যারোল এক বিবৃতিতে লিখেছেন, “আজ অবশেষে বিশ্ব সত্য জানলো।”
“এই জয় শুধু আমার জন্য নয় বরং প্রতিটি নারীর জন্য যারা এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন কিন্তু কেউ তাদের কথা বিশ্বাস করেনি।”
মি. ট্রাম্পের আইনজীবী বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট।
বিচারকাজটি ফৌজদারি আদালতে না হয়ে দেওয়ানি আদালতে হওয়ার কারণে মি. ট্রাম্পকে একজন যৌন নির্যাতক হিসেবে নথিবদ্ধ হতে হবে না।
সাবেক প্রেসিডেন্ট যিনি মিজ ক্যারোলের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি ম্যানহাটন ফেডারেল কোর্টে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিচারকাজে উপস্থিত ছিলেন না।
৭৯ বছর বয়সী মিজ ক্যারোল রায় পড়ার সময় তার দুই আইনজীবীর হাত ধরে ছিলেন এবং বিচারকরা তাকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার পক্ষে রায় দেয়ার পর তিনি হাসেন।
মি. ট্রাম্পের আইনজীবী জো টাকোপিনা বিচারকাজ শেষ হওয়ার পর তার সাথে করমর্দন করে বলেন, “অভিনন্দন এবং শুভ কামনা।”
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে জানান: “এই জয় শুধু ই জিন ক্যারোলের নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য এবং সব নির্যাতিতার জন্য।”
বিচারের পর ৭৬ বছর বয়সী ট্রাম্প তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে সব হরফে লিখেছেন: “আমার আসলেই কোন ধারণা নেই যে এই নারী কে?”
এই বিচারকে একটি ‘কলঙ্ক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মি, ট্রাম্প।
দেওয়ানি আদালতে যে ধরণের প্রমাণ হাজির করা হয়, তার গুণগত মান ফৌজদারি আদালতের চেয়ে কম।
বিচার অনুষ্ঠানের সময় মি. ট্রাম্প এবং মিস ক্যারোলের আইনজীবীরা উত্তেজনাপূর্ণ জেরায় অংশ নেন।
তার আইনি দল ১১ জন সাক্ষীকে ডেকে তার দাবির সত্যতা প্রমাণ করে যে মি. ট্রাম্প তাকে ১৯৯৫ বা ১৯৯৬ সালে বিলাসবহুল দোকানের অন্তর্বাস বিভাগে লাঞ্ছিত করেছিলেন।
এদের মধ্যে দু’জন নারীও রয়েছেন যারা আরও বলেছে যে, তারা কয়েক দশক আগে মি. ট্রাম্পের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। একজন নারী বিচারকদের বলেছিলেন যে মি. ট্রাম্প ১৯৭০ এর দশকে একটি ফ্লাইটের সময় তাকে ধরেছিলেন। অন্য একজন নারী বলেছেন যে, ২০০৫ সালে লেখা একটি নিবন্ধের জন্য সাক্ষাৎকার নিতে গেলে মি. ট্রাম্প তাকে জোরপূর্বক চুম্বন করেছিলেন।
মিস ক্যারোলের দীর্ঘ দিনের দুই বন্ধু তাদের সাক্ষ্যতে বলেছেন যে, ওই ঘটনার পর পরই মিস ক্যারোল তা তাদেরকে জানিয়েছিলেন।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মিস ক্যারো তার সাথে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা তুলে ধরেন এবং এর কারণে তাকে যে মানসিক কষ্টদায়ক সময় পার করতে হয়েছে তাও তুলে ধরেন।
আদালতে তিনি বলেন, “আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাকে ধর্ষণ করেছিলেন এবং যখন আমি এটি সম্পর্কে লিখেছিলাম, তখন তিনি মিথ্যা বলেছিলেন এবং বলেছিলেন যে এটি ঘটেনি।”
মি. ট্রাম্প তার পক্ষে কোন সাক্ষীকে ডাকেননি এবং বিচারকদের জন্য চালানো একটি জবানবন্দিমূলক ভিডিওতেই তার উপস্থিতি ছিল। যেখানে তিনি ধর্ষণ করার কথা অস্বীকার করেছেন।
ভিডিওতে মি. ট্রাম্প বলেন, “এটি সবচেয়ে হাস্যকর, জঘন্য গল্প।” “এটা পুরোটাই বানোয়াট।”
মিস ক্যারোলের মামলায় আরও যুক্তি দেয়া হয়েছে যে, মি. ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে ২০২২ সালের অক্টোবরে একটি পোস্টে তার মানহানি করেছিলেন। যেখানে তিনি তার অভিযোগগুলোকে “সম্পূর্ণ ভুল কাজ” এবং “একটি প্রতারণা এবং মিথ্যা” বলে অভিহিত করেছিলেন।
তার আইনি দল যুক্তি দিয়েছিল যে, মি. ট্রাম্প তার জবানবন্দির সময় “নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষী” হিসাবে কাজ করেছেন। ওই জবানবন্দীতেও তিনি ২০০৫ সালে যে মন্তব্য করেছিলেন সেটিই আবারো বলেছেন।
অ্যাকসেস হলিউড টেপ নামে পরিচিত এবং ২০১৬ সালে ফাঁস হওয়া অডিওতে মি. ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে নারীরা তারকাদের যে কোনো কিছু করতে দেয় এমনকি তাদের যৌনাঙ্গ ধরার মতো কাজও।
মিস ক্যারোলের আইনজীবী বলেন, তিনি তার সাথে সেটিই করেছিলেন।
রেকর্ড করা ভিডিও জবানবন্দিতে, মি. ট্রাম্প এক পর্যায়ে মিস ক্যারোলকে তার প্রাক্তন স্ত্রী মার্লা ম্যাপলসের সাথে গুলিয়ে ফেলেন। যা মিস ক্যারোলের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়ে বলেন যে, এটি মি. ট্রাম্প যে দাবি করেছিলেন যে, তিনি(মিস ক্যারোল) “তাঁর টাইপ নন”, সেটিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
মি. টাকোপিনা মিস ক্যারোলের গল্পে সন্দেহ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন, যাকে তিনি “কল্পকাহিনী” বলে অভিহিত করেছিলেন।
তিনি প্রশ্ন করেছিলেন যে, কেন মিস ক্যারোল হামলার তারিখ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি। এই বিষয়টি ওই ঘটনার সময় মি. ট্রাম্প যে সেই স্থানে উপস্থিত ছিলেন না সেটি প্রমাণ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে বলে যুক্তি তুলে ধরেন।
“কোন তারিখ, কোন মাস, কোন বছর উল্লেখ না থাকলে আপনি এই আর্জি উপস্থাপন করতে পারবেন না, আপনি সাক্ষীদের ডাকতে পারবেন না,” মি. টাকোপিনা বলেছিলেন।
“তারা যা চায় তা হল আপনি তাকে এমন ঘৃণা করবেন যে সত্যটা আপনি জানতে পারবেন না।”
মি. টাকোপিনা আরো জোর দিয়ে বলেন যে, ঘটনা ঘটার পর পরই কেন তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেননি বা ঘটনা ঘটার সময় কেন তিনি চিৎকার করেননি।
প্রাক্তন এলি ম্যাগাজিনের কলামিস্ট ২০২২ সালে নিউইয়র্ক অ্যাডাল্ট সারভাইভারস অ্যাক্ট পাস করার পর মি. ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা আনতে সক্ষম হন।
রাজ্যটিতে এই আইনটি যৌন নিপীড়নের ভুক্তভোগীদের জন্য ঘটনা ঘটার এক বছর পর সময় পর্যন্ত মামলা দায়ের করার সুযোগ দিয়েছে।বিবিসি।
আরাভ খানকে ফিরিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ হত্যা মামলার আসামী আরাভ খানকে দেশে ফিরিয়ে আনা অসম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেন,বাংলাদেশ পারে না, এমন কিছু নেই। তাকে অবশ্যই ফিরিয়ে আনা হবে।
বুধবার (১০ মে)পুলিশ স্টাফ কলেজে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।
পুলিশ পরিদর্শক মামুন খান হত্যা মামলায় পলাতক আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খান দুবাইতে অবস্থান করছেন। ৯মে মঙ্গলবার অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
অস্ত্র মামলায় ১০ বছরের জেল:
রাজধানীর রমনা থানায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় দুবাই পলাতক স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানকে মঙ্গলবার ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মদ এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত অস্ত্র আইনের ১৯(এ) ধারায় তাকে সাজা প্রদান করেন। তবে ১৯(এফ) ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়। আসামি আরাভ খান পলাতক থাকায় সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আরাভ খান তার শ্বশুর সেকেন্দার আলীকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতে তার মগবাজারের বাসায় যান। খবর পেয়ে গুলিভর্তি রিভলবারসহ শ্বশুরের বাসার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আরাভের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন ডিবি পশ্চিমের গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিমের তৎকালীন উপপরিদর্শক সুজন কুমার কুণ্ডু। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ জামিন পান রবিউল।
এরপর পলাতক থাকায় ওই বছরের ২৪ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আরাভের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে পুলিশ পরিদর্শক মামুন হত্যা ও ডিএসএসআর চুরির মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। হত্যা মামলায় নিজের পরিবর্তে অন্য আসামিকে আদালতে উপস্থাপনের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার আরেকটি মামলা গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।
আরাভ খান সম্প্রতি আলোচনায় আসেন দুবাইয়ে বিশাল স্বর্ণের দোকান দিয়ে। যার উদ্ভোধন করতে গিয়েছিলেন সুপারস্টার ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান,অভিনেতা হিরো আলম।
‘পাকিস্তান’ শব্দ থাকা আইনের তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট
‘পাকিস্তান’, ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান’ ও ‘ইস্ট পাকিস্তান’ শব্দ যুক্ত থাকা দেশের প্রচলিত আইনগুলোর তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট।
জনস্বার্থে সুপ্রিমকোর্টের এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মুহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।
রুলে আইন অনুসারে দেশের প্রচলিত আইন থেকে পাকিস্তান, ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান এবং ইস্ট পাকিস্তান শব্দ বাদ দিয়ে সংশোধন করতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেনো অবৈধ হবে না- তা জানতে চেয়েছে আদালত। চার সপ্তাহের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. রবিউল আলম সৈকত। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও আইনজীবী কামরুল ইসলাম।
আইনজীবীরা জানান, স্বাধীনের পর প্রচলিত (পাকিস্তান আমলের) আইনগুলো অ্যাডাপ্ট করা হয়। তখন ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ লজ (রিভিশন ও ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট এ পাকিস্তান, ইসলামিক রিপাবলিক অব পাকিস্তান এবং ইস্ট পাকিস্তান শব্দগুলো বাদ দিতে বলা হয়। এরপর কিছু আইনে বাদ দেয়া হয়। তবে এখনও অনেক আইনে শব্দগুলো রয়ে যায়। যেমন- দ্য ক্যাটল (প্রিভেনশন অব ট্রেসপাস) অর্ডিন্যান্স ১৯৫৯, দ্য ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স ১৯৬১, দ্য এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটি অর্ডিন্যান্স ১৯৬১, দ্য এগ্রিকালচারাল পেস্টস অর্ডিন্যান্স ১৯৬২, দ্যা ইনডিসেন্ট অ্যাডভার্টাইজমেন্টস প্রভিহিশন অ্যাক্ট ১৯৬২, দ্য সেন্সরশিপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট ১৯৬৩, দ্য পাইলটেজ অর্ডিন্যান্স ১৯৬৯ এবং দ্য গভর্নমেন্ট লোকাল অথরিটি ল্যান্ডস অ্যান্ড বিল্ডিংস (রিকভারি অব পজেশন) অর্ডিন্যান্স ১৯৭০ উল্লেখযোগ্য।
এগুলোয় এ সব শব্দ থাকাটা ১৯৭৩ সালের আইনের লঙ্ঘন বিধায় আইনজীবী মো. রবিউল আলম রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন। আর আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এ সব আইনের তালিকা করতে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করতে বলেছেন। আর ৬০ দিনের একটি তালিকা দাখিল করতে বলেছেন আদালত। বাসস।










