ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 161

জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ব্র্যাক ব্যাংককে হাইকোর্টের নির্দেশ, দুদকের প্রতি একগুচ্ছ পর্যবেক্ষণ

0

আসামি না হয়েও ঋণ জালিয়াতির মামলায় তিন বছর জেল খাটার ঘটনায় পাটকলকর্মী জাহালমকে ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে ব্র্যাক ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি এফ আর নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের ভার্চুয়াল হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেয়।
ব্র্যাক ব্যাংককে বলা হয়েছে, রায়ের কপি পাওয়ার এক মাসের মধ্যে জাহালমকে ওই ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। আর টাকা দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তরে হলফনামা আকারে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দিতে হবে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১২ সালের এপ্রিলে ৩৩টি মামলা করে দুদক। দুদক তদন্ত করে বলে, জালিয়াত চক্র সোনালী ব্যাংকের ক্যান্টনমেন্ট শাখায় আবু সালেকসহ তিনজনের হিসাব থেকে ১০৬টি চেক ইস্যু করে। চেকগুলো ১৮টি ব্যাংকের ১৩টি হিসাবে ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জমা করে ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। ওই ১৮টি ব্যাংকের মধ্যে একটি হল ব্র্যাক ব্যাংক।
কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে গ্রেপ্তার করা হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে। তাকে ‘আবু সালেক’ হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা। সে কারণে ব্র্যাক ব্যাংককে এই জরিমানা দিতে বলা হয়েছে।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, “এ ঘটনায় জাহালমের কোনো দোষ ছিল না। তবু তার জীবনের তিনটি বছর জেলে কাটাতে হয়েছে। এর ফলে তাকে তার পেশা হারাতে হয়েছে। এতে জাহালমের ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি রাখেন। তিনি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী।”

এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংক কোনো নথিতে জাহালমের নাম উল্লেখ করেনি বা জাহালমকে শনাক্তও করেনি। ফলে এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংকের কোনো দায় খুঁজে পায়নি হাই কোর্ট।

তবে দুদককে হাই কোর্ট সতর্ক করে দিয়ে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছে, “দুর্নীতি দমন কমিশন দেশের একটি সাংবিধানিক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা। দুর্নীতি রোধ করাই যাদের প্রধান কাজ। আদালত প্রত্যাশা করে, দুদকের করা মামলায় এভাবে যেন আর কাউকে জেল খাটতে না হয়। জাহালমের এই ঘটনাই যেন হয় শেষ ঘটনা।”

আদালত বলেছে, দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তার ‘অযোগ্যতা, অদক্ষতা, অনভিজ্ঞতা, অবহেলা’ ছিল। এই ধরনের ‘দুর্বল’ কর্মকর্তাদের দিয়ে যেন কোনো তদন্ত করানো না হয়।

“দুদক আইনের আলোকে জাহালমের ঘটনায় দুদককে দায়ী করা না গেলেও, এ ঘটনায় দুদেকের নবীন কর্মকর্তাদের অনভিজ্ঞতা, অদক্ষতা প্রতিয়মান হয়েছে। তবে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।

“গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি মামলায় অনভিজ্ঞ, অদক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ ছিল দুদকের একটি বড় ভুল। তবে দুদককে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। আর এক্ষেত্রে তত্ত্বাবধানকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেন দায় না এড়িয়ে যান।”

একটি ‘সাংবিধানিক নিরপেক্ষ স্বাধীন শক্তিশালী সংস্থা’ হিসেবে দুদক জাতির সবার অধিকারকে সংরক্ষণ করে। দুদকের কোনো বিষয় নিয়ে যাতে জনগণের মাঝে কোনো ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি না হয়, সবার কাছে যেন দুদকের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন থাকে, সেই তাগিদ এসেছে রায়ে।

জাহালমের ঘটনায় দুদকের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে, সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছে, “আমরা এ নিয়ে একটি স্বচ্ছ চিত্র দেখতে চাই।”        

আর ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত ৩৩ মামলায় নতুন করে তদন্তের কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাহালম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার জীবনের যে তিনটা বছর চলে গেছে, সেটা তো আর ফিরে পাব না। আমি চাই মহামান্য আদালত যে টাকাটা আমাকে দিতে বলেছেন, সেটা যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পাই। তাহলে ঋণটিন পরিশোধ করে কিছু একটা করে খেতে পারব।”

আসামি না হয়েও তিন বছর জেল খাটতে হয়েছে জাহালমকে ঃ

আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত প্রথম আলোতে প্রকাশিত ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চের নজরে আনলে গত বছর ২৮ জানুয়ারি দুদকের ব্যাখ্যা জানতে কমিশনের চেয়ারম্যানের মনোনীত প্রতিনিধিসহ চারজনকে তলব করে আদালত।

কারাগারে থাকা ‘ভুল’ আসামি জাহালমকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না, তাকে মুক্তি দিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং তাকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত একটি রুলও জারি করা হয়।

এরপর দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ দুঃখ প্রকাশ করে ভুলের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

আদালতের আদেশে গত বছর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

পাটকল শ্রমিক জাহালমের তিন বছর কারাগারে থাকার ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি ছিল কি না- তা খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করে দুদক।

তবে হাই কোর্টে দুদকের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, সেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের ওপর দায় চাপিয়ে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর অনুসন্ধান প্রতিবেদনের তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করেই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগপত্র দিয়েছিলেন।

দুদকের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে ৩৩টি মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (এফআইআর), অভিযোগপত্র (সিএস)সহ যাবতীয় নথি তলব করে হাই কোর্ট। দুদকের কার্যক্রমে উষ্মা প্রকাশ করে বিচারক বলে, “ইঁদুর ধরতে না পারলে সেই বিড়ালের প্রয়োজন নেই।”

জাহালম কেমন আছেন, কীভাবে জীবনযাপন করছেন- তার মুখ থেকে তা শুনতে তাকে আদালতে নিয়ে আসতে আইনজীবী অমিত দাস গুপ্তকে নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্টের এই বেঞ্চ। সে অনুযায়ী জাহালম গত বছর ১৭ এপ্রিল আদালতে হাজিরও হয়েছিলেন।

কিন্তু দুদক এক মাসেও নথি দাখিল করতে না পারায় ২ মে শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে ওই সময়ের মধ্যে ৩৩ মামলার নথি ও দুদকের প্রতিবেদন জমা দিতে বলে আদালত। পাশাপাশি আসামি না হয়েও জাহালমের কারাভোগের জন্য কে বা কারা দায়ী তা দেখতে দুদকের কাছে প্রতিবেদন চায় হাই কোর্ট।

ওইদিনই আদালত জানায়, ২ মে দুদক তাদের প্রতিবেদন দিলে তখনই হাই কোর্ট জাহালমের মুখ থেকে তার কথা শুনবে। এরপর দুদক গত ২১ এপ্রিল হাই কোর্টের ওই বেঞ্চের এখতিয়ার চ্যালেঞ্জ করে চেম্বার আদালতে যায়।

দুদকের যুক্তি ছিল, হাই কোর্টে দুদকের মামলা শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ রয়েছে। যে বেঞ্চ রুল দিয়েছে, দুদকের মামলা শোনার এখতিয়ার সেই বেঞ্চের নেই। কিন্তু আপিল বিভাগ দুদকের ওই আবেদন খারিজ করে দেয়।

পরে জাহালমের ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।

আদালতে সোনালী ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জাকির হোসেন। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী আনিসুল হাসান। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাসার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এম সাইফুল আলম।

রায়ের পর আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “দুদকের যে ১২ জন তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন শিক্ষানবিশ তদন্তকারী কর্মকর্তা। তাদের অভিজ্ঞতা, দক্ষতার অভাব ছিল। কিন্তু তাদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে যেসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন তারা সে দায়িত্ব পালন করেননি। ফলে রায়ে আদালত অসন্তুষ্টি প্রকাশের পাশাপাশি দুদককে সতর্ক করেছেন।”

এই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জেনারেল ক্লজ অ্যাক্টের ৩ ধারা, দণ্ডবিধির ৫০ এবং দুদক আইনের ৩১ ধারায় সরকারি কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তারারা যদি ‘সরল বিশ্বাসে’ কোনো কাজ করেন, সেটা ‘ভুল হবে না’।

জাহালমকে আবু সালেক হিসেবে শনাক্ত করায় ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা ফয়সাল কায়েস ও সাবিনা শারমিনের নাম রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, “এ দুই কর্মকর্তার মধ্যে তৎপরতা ছিল, উদ্দেশ্য ছিল যে কোনোভাবে হোক আবু সালেকের জায়গায় জাহালমকে শনাক্ত করে তার উপর দায় চাপানো। ফলে ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আদালত দায়ী করেছে।”
দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, “দুদকের কাছে দেশ ও জাতি অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। আমি আশা করি দুদক ভয়-ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে আরও সতর্ক হবে এবং আরও ভাল তদন্ত করবে।”

বরগুনার রিফাত হত্যা: স্ত্রী মিন্নিসহ ৬ জনের ফাঁসি ,খালাস চার; ১৪ জনের বিচার হচ্ছে শিশু আদালতে

0

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয় আসামির ফাঁসি এবং বাকি চার আসামি পেয়েছেন বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।
বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান বুধবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ছয় আসামির সবাইকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
১৫ মাস আগে পুরো বাংলাদেশকে স্তম্ভিত করে দেওয়া ওই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ যে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছিল, তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জনের বিচার চলে এ আদালতে।

মামলার ১ নম্বর আসামি রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী (২৩) বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে যে তিনজনকে রাম দা হাতে রিফাতকে কোপাতে দেখা গিয়েছিল, তাদের মধ্যে রিফাত ফরাজী একজন। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। 

আসামি আল কাইয়ুম ওরফে রাব্বি আঁকন (২১), মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯), রেজোয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় (২২) এবং মো. হাসানকেও (১৯) একই সাজা দিয়ে আদালত বলেছে, হত্যাকাণ্ডের সময় তারা চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছিল। হত্যাকাণ্ডে তাদের সহযোগিতার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।

রিফাতের স্ত্রী বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নিকে হামলার মুখে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল ভিডিওতে। তিনি ছিলেন মামলার এজাহারের এক নম্বর সাক্ষী। কিন্তু তদন্তের পর পুলিশ মামলার অভিযোগপত্রে মিন্নির নাম যুক্ত করে আসামির তালিকায়।
রায়ে আদালত বলেছে, মিন্নিও যে তার স্বামীকে হত্যার ‘ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত ছিলেন, প্রসিকিউশন তা ‘প্রমাণ করতে পেরেছে’।
হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত অভিযোগপত্রের চার আসামি মুসা (২২), রাফিউল ইসলাম রাব্বি (২০), সাগর (১৯) ও কামরুল হাসান সায়মুনকে (২১) খালাস দিয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
এই দশজনের মধ্যে মুসা পলাতক রয়েছেন। জামিনে থাকা মিন্নি রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। কারাগারে থাকা বাকি আসামিদেরও রায়ের সময় আদালতে হাজির করা হয়।
রায়ের জন্য সকাল ৯টার আগেই বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের মোটরসাইকেলে করে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন জামিনে থাকা মিন্নি। রায়ের আগে বাবাকে বলছিলেন, খালাস পাবেন বলেই তার বিশ্বাস।
কিন্তু রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মিন্নিকে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। দণ্ডিত বাকি আসামিদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমার মেয়ে ষড়যন্ত্রের শিকার। আমরা আপিল করব।”
মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলামও আপিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলেন, “আমরা বলেছিলাম, রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এই রায়ে সংক্ষুব্ধ।”

দণ্ডিত মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাতের বাবা দেলোয়ার হোসেন দাবি করেন, তার ছেলে জটলার মধ্যে ঘটনা দেখতে গিয়েছিল, হত্যাকাণ্ডে ‘ছিল না’। তিনি এই রায়ে বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন।
অন্যদিকে মামলার বাদী রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “মিন্নিসহ ছয় আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট।”
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ভূবন চন্দ্র হাওলাদার বলেন, “সাক্ষ্য প্রমাণে আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি বলেই আদালত ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন।”

কী ঘটেছিলঃ
গত বছর ২৬ জুন ভরদুপুরে বরগুনা জেলা শহরের কলেজ রোডে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাতকে। ওই ঘটনার একটি রোমহর্ষক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে শুরু হয় আলোচনা।
সেই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবক রামদা হাতে রিফাতকে একের পর এক আঘাত করে চলেছে। আর তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি স্বামীকে বাঁচানোর জন্য হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

বরগুনার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্রী মিন্নি হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারার কথা জানালেও নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীর নাম বলেন।
ওই ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়।

রিফাত হত্যার ঘটনা বরগুনা শহরে ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ দৌরাত্মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এইসব কিশোর তরুণের পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার খবর গণমাধ্যমে এলে হত্যার কারণ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলতে থাকে।  

এর মধ্যেই ২ জুলাই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

এদিকে মিন্নির শ্বশুরই পরে হত্যাকাণ্ডে পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুললে আলোচনা নতুন মোড় নেয়। ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সেদিন রাতে তাকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠান। পাঁচ দিনের রিমান্ডের তৃতীয় দিনেই মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই তরুণী হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর অভিযোগ করেন, ‘নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে’ মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত আছে বলেও তিনি সে সময় দাবি করেন। পরে ২৯ অগাস্ট হাই কোর্ট মিন্নির জামিন মঞ্জুর করে।

হত্যাকাণ্ডের দুই মাসের মাথায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির বরগুনার আদালতে মিন্নিসহ ২৪ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এজাহারের ১ নম্বর আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তার নাম অভিযোগপত্রে আসামির তালিকায় রাখা হয়নি।
দুই খণ্ডে বিভক্ত ওই অভিযোগপত্রের এক অংশে মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়। অন্য অংশে রাখা হয় অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের নাম। 
বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ মো. আছাদুজ্জামান চলতি বছরের প্রথম দিন রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
সে অনুযায়ী ৮ জানুয়ারি শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। ৭৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।
আর বরগুনার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১৩ জানুয়ারি।

প্রতারক সাহেদের অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, তার মত ‘ধুরন্ধরদের’ জন্য বার্তা: বলা হলো রায়ে

0

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে অস্ত্র আইনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার মহানগর ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
সাহেদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া কয়েক ডজন মামলার মধ্যে উত্তরা পশ্চিম থানার এই অস্ত্র আইনের মামলারই প্রথম রায় ঘোষণা করা হলো।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “আমাদের এই সমাজে সাহেদের মতো ভদ্রবেশে অনেক লোক রয়েছে, যাদের জন্য এই মামলার রায় একটি বার্তা হিসেবে কাজ করবে।”

অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় সাহেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড , যা এ আইনের সর্বোচ্চ সাজা। পাশাপাশি আরেকটি ধারায় সাহেদকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে তার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবনই প্রযোজ্য হবে।

গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। রিমান্ডের মধ্যেই ১৮ জুলাই রাতে তাকে নিয়ে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তার একটি গাড়ি থেকে গুলিসহ একটি পিস্তল এবং কিছু মাদক জব্দ করা হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, “সাহেদ ২০ লাখ টাকা লোন নিয়ে গাড়িটি ক্রয় করেন। কিন্তু তিনি আদালতের কাছে স্বীকার করেননি। সাহেদ আদালতের কাছে মিথ্যা তথ্য দেন। তিনি অত্যন্ত চালাক ও ধুরন্ধর ব্যক্তি। গাড়িতে অস্ত্র রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের কাছে তিনি কোনো অনুকম্পা পেতে পারেন না।”

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু রায়ের পর বলেন, “যে গাড়ি থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে, তার মালিকানা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে রায়ে । সাহেদ যে অপরাধী তা মামলার রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। এ রায় সমাজে দৃষ্টান্ত হিসেবে থাকবে।”

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. সাইরুল ইসলাম গত ৩০ জুলাই ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর ২৭ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু করে আদালত। অভিযোগ গঠন থেকে মাত্র আট কার্যদিবসে এ মামলা রায়ের পর্যায়ে আসে।

বাংলাদেশে এত কম সময়ে এর আগে আর কোনো ফৌজদারি মামলার রায় হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু জানান।
সে প্রসঙ্গ টেনে সাহেদের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “মাত্র ৮ কার্যদিবসে মামলা শেষ হয়ে গেল। তাড়াহুড়ো বেশি হয়ে গেল। ন্যায়বিচার পেলাম না । রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।”
এমএলএম ব্যবসা থেকে শুরু করে নানারকম জালিয়াতি-প্রতারণার মামলার খবর ঢেকে রেখে নিয়মিত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভিভিআইপিদের মাঝে হাজির হতেন রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদ।

সরকারের মন্ত্রী, এমপি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সরকারি আমলাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তোলা অসংখ্য সেলফি ফেইসবুকে দিয়ে নিজেকেও তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দেখাতে চাইতেন।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা বেরিয়ে আসতে থাকে।

নারী পাচার: রিমান্ড শেষে কারাগারে নৃত্যশিল্পী ইভান , পাওয়া গেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

0

বিদেশে নারী পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার ইভানকে আদালতে তোলা হলে ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস অধিকারী তাকে করাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাংলাদেশি নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার এবং জোর করে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গত ২ জুলাই মানবপাচার চক্রের হোতা আজম খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মৃনাল কান্তি শাহ।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- আলামিন হোসেন ওরফে ডায়মন্ড (২৬), স্বপন হোসেন (২৮), নাজিম (৩৬), এরশাদ ও নির্মল দাস (এজেন্ট), আলমগীর, আমান (এজেন্ট) ও শুভ (এজেন্ট)।

এদের মধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করার পর তাদের জবানবন্দিতে নাম আসায় গত ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিকেতনের বাসা থেকে ইভান শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয় । পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ইভানের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। মানবপাচারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের কে বা কারা জড়িত তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদের দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা শুনানি শেষে তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

২০১৭ সালে ‘ধ্যাততেরিকি’ চলচ্চিত্রের নৃত্য পরিচালনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ইভান শাহরিয়ার সোহাগ। তিনি ‘সোহাগ ড্যান্স গ্রুপ’ নামে একটি নাচের দল পরিচালনা করেন। ‘এক্সপ্রোজার বিডি’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও আছেন তিনি।
তার রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা লিখেছিলেন, “ইভানসহ এই মামলার আসামিরা ভুক্তভোগীদের নাচ শিখিয়ে ভালো বেতনে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবে ভুক্তভোগীরা রাজি হলে তাদের থাকা-খাওয়া নিশ্চিতসহ ক্লাবে নাচ-গান করার বিনিময়ে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে বলে মৌখিক চুক্তি করেন।

“ভুক্তভোগীরা সরল বিশ্বাসে আসামিদের ওপর ভরসা করে দুবাইসহ অন্যান্য দেশে যেতে রাজি হন। আসামি আজম খান, তার ভাই নাজিম ও এরশাদের সহায়তায় এমন এক ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাজগপত্র প্রস্তুত করে দেন। তারপর ২০১৯ সালের মে মাসে তাকে দুবাইয়ের শারজায় নিয়ে যান। পরবর্তীতে আজম খান সেখানে তাকে নিজেসহ বিভিন্ন লোক নিয়ে যৌন নির্যাতন চালান। কিন্তু দুবাই গমনের পর আসামিরা তাকে কোনো বেতন দেননি।

“আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিবাদী নির্মল দাস, আলমগীর, আমান ও শুভসহ অজ্ঞাতনামা এজেন্টের সহায়তায় ভুক্তভোগী অপর দুই নারীকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ড্যান্স ক্লাব থেকে প্রলোভনের মাধ্যমে নির্বাচন করেন। এভাবে বহু বাংলাদেশি নারীর সরলতার সুযোগ নিয়ে আসামিরা দুবাইসহ অন্যান্য দেশে পাচার করেন এবং জোরপূর্বক আটক রেখে যৌন নির্যাতন চালান।

“আসামি নির্মল চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হলে গত ১৩ অগাস্ট আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি বলেন, ইভান বিদেশে পারফর্ম করার জন্য অধরা ও বিথী নামে দুজন আর্টিস্ট দেন। আসামি ইয়াছিনও ২০ অগাস্ট আদালতে স্বীকোরোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একই কথা বলেন।”
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, “আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি তরুণীদের দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনজন ভুক্তভোগী ইতোমধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আসামিরা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও আসামিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের কে বা কারা জড়িত তা বের করার জন্য ইভানকে সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডে নেয়া প্রয়োজন।”
ইভানের পক্ষে আগের আইনজীবী খান মাহমুদুল হাসানের জায়গায় সোমবার নতুন আইনজীবী সুমন কুমার রায় জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই স্বপন কুমার মণ্ডল ছিলেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে ইভানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বেসরকারি মেডিকেল-ডেন্টালে থাকতে হবে ৭৫% স্থায়ী শিক্ষক, নতুন আইন হচ্ছে

0

বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে ‘বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ২৬টি ডেন্টাল কলেজ আছে। আর সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে ৩৬টি এবং ডেন্টাল কলেজ একটি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলো এতদিন দুটি নীতিমালার অধীনে চলত। নীতিমালা দিয়ে সব কিছু সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছিল না, এ জন্য নতুন আইন করা হচ্ছে।
“বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের প্রত্যেক বিভাগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত হবে ১:১০। এসব প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। ২৫ শতাংশের বেশি খণ্ডকালীন শিক্ষক রাখা যাবে না, ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক থাকতে হবে।”
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, রিজার্ভ ফান্ডে বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোকে তিন কোটি টাকা এবং ডেন্টাল কলেজগুলোকে দুই কোটি টাকা রাখতে হবে।
মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি মেডিকেল কলেজ করতে কমপক্ষে দুই একর জমি এবং অন্য জায়গায় স্থাপন করলে চার একর জমি থাকতে হবে বলে জানান তিনি।
আনোয়ারুল বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে যতগুলো শষ্যা থাকবে তার ১০ শতাংশ দরিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। মেডিকেল কলেজে কমপক্ষে ২৫০টি এবং ডেন্টালে কমপক্ষে ৫০টি শয্যা থাকতে হবে।
“আইন অমান্য করলে দুই বছর কারাদণ্ড, ১০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এছাড়া অনুমোদন বাতিল করাও হতে পারে।”
নতুন আইন পাস হলে মেডিকেল কলেজগুলোকে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি রাখতে হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, যে বিভাগে যে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ থাকবে, সেই বিভাগের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সেগুলো পরিচালিত হবে। ঢাকা বিভাগের সব বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকবে।
নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে যেসব মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ রয়েছে সেগুলোকে শর্ত পূরণ করতে সময় দেওয়া হবে জানিয়ে আনোয়ারুল বলেন, খসড়া আইনে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নেরও ক্ষমতা দেওয়া আছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত মাহবুবে আলম

0

মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে সোমবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। 
এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এবং সহকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে তার মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের (আপিল ও হাইকোর্ট) উভয় বিভাগের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতাসহ দেশের বিভিন্ন বারের আইনজীবী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
জানাজার পর মাহবুবে আলমের কফিনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পক্ষে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার সিএমএইচে মারা যান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।  
করোনা উপসর্গ থাকায় গত ৪ সেপ্টেম্বর মাহবুবে আলমকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই করোনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ সেপ্টেম্বর তার করোনা নেগেটিভ আসে। তবে পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

0

মুক্তিযোদ্ধারা যাতে আরও স্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করতে পারেন সেজন্য তাদের মাসিক সম্মানি ৮ হাজার টাকা বাড়িয়ে মোট ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ সুপারিশ করে।

এছাড়া নিজ নিজ এলাকার সড়কের নামগুলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক প্রাপ্ত সম্মানী আট হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে বিশ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক, কাজী ফিরোজ রশীদ এবং মোছলেম উদ্দিন আহমদ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন সংস্থা প্রধানগণসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সকল প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের নামের পূর্বে ‘বীর’ শব্দটি ব্যবহার সংক্রান্ত সচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ মুক্তিযোদ্ধাদের যোগাযোগ রয়েছে এমন সব প্রতিষ্ঠানে প্রদান করার জন্য সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের কিছু কার্যক্রমের বিপক্ষে সংসদীয় কমিটির নিকট বেশ কিছু লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে কমিটির সভাপতি শাজাহান খানকে আহ্বায়ক এবং কাজী ফিরোজ রশীদ ও মোছলেম উদ্দিন আহমদকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠকে জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের নামে কিছু ভুঁইফোঁড় প্রতিষ্ঠান নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় সংসদীয় কমিটির সুপারিশ মোতাবেক জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সে সকল প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় নিরূপণে গেজেটেড সংজ্ঞা রয়েছে। এ সংজ্ঞায় আরো কোনো শব্দ যোজন-বিয়োজন বা পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা নিয়ে আগামী বৈঠকে আরো বিশদ আলোচনা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

রক্ষণশীল কোনিকে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প, বিরোধীদের প্রতিবাদ

0

 
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসেবে রক্ষণশীল প্রার্থী অ্যামি কোনি ব্যারেটকে মনোনয়ন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে তার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, অতুলনীয় কৃতিত্বসম্পন্ন নারী তিনি।

অ্যামিকে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট তাকে ‘সংবিধানের প্রতি নিরপেক্ষ আনুগত্য’ সহকারে একজন ‘অগ্রণী কার্যক্ষম এবং বিচারক’ হিসেবে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। সিনেটরদের সমর্থন প্রয়াত উদারপন্থী বিচারপতি রুথ বাড গিন্সবার্গের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। রয়টার্স।

ট্রাম্পের এ মনোনয়নের ঘোর বিরোধিতা করছে ডেমোক্র্যাট দল। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্পের চক্ষুশূল সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্বাস্থ্যবীমা ওবামাকেয়ারকে নিশ্চিহ্ন করতেই তাকে বিচারপতি মনোনয়ন দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এ ষড়যন্ত্র ঠেকাতে শনিবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কোর্টে কোনির বিরুদ্ধে মামলা করেছে তারা। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট এবং পরবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন না করা পর্যন্ত সিনেটকে এই শূন্যপদ নিয়ে কাজ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান আদালতে কে কাজ করবে সে সম্পর্কে একবারই ভোটারদের আওয়াজ দেয়ার একটি সুযোগ দিয়েছে। সেই মুহূর্তটি এখন এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত।

বিচারক অ্যামি কোনি নিশ্চিত হয়ে গেলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের ৯ বিচাপতির মধ্যে রক্ষণশীলদের সংখ্যা হবে ৬। বাকি তিনজন উদারপন্থী বা ডেমোক্রেটিক। এই সংখ্যা আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে কোনো প্রেসিডেন্টের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৪৮ বছর বয়সী অ্যামি কোনি হবেন বর্তমান রিপাবলিকান রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত তৃতীয় বিচারপতি। এর আগে ২০১৭ সালে নেইল গরসাচ এবং ২০১৮ সালে ব্রেট কাভানফকে মনোনয়ন দেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টে ৯ জন বিচারপতিকে আজীবনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়। তাদের শাসন বন্দুক থেকে শুরু করে গর্ভপাত এবং প্রচারের অর্থের ক্ষেত্রে সব কিছুকে জননীতির আকার দিতে পারে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যান্সারে আক্রান্তে হয়ে গিন্সবার্গের মৃত্যুর পর নির্বাচনের বছরে সুপ্রিমকোর্টের মনোনয়নে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভণ্ডামির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

চলে গেলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম

0

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই৷
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়েছে।
মাহবুবে আলমের ছেলে সুমন মাহবুব বলেছেন, সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে তার বাবার মৃত্যু হয়েছে।

মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন মাহবুবে আলম।
তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।  সোমবার বেলা ১১ টায় মাহবুবে আলমের মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গনে নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে মরদেহ মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
গত ৪ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন মাহবুবে আলম। সেখানে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি ঘটলে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইসিইউতে নেওয়া হয়।

তবে সর্বশেষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এসেছি।
মাহবুবে আলম ২০০৯ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে নিয়োগ পান। তারপর মৃত্যু অবধি ওই পদে ছিলেন। পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে সর্বোচ্চ আদালতে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মাহবুবে আলম।
এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলা পরিচালনাও করেন তিনি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায়ও যুক্ত ছিলেন মাহবুবে আলম। আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
তার এসব ভূমিকা স্মরণ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, “মাহবুবে আলম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন একজন প্রথম সারির যোদ্ধা। ”
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি একজন প্রথিতযশা আইনজীবী হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক আইনি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ভূমিকা রেখেছেন এবং সবসময় ন্যায়নিষ্ঠ থেকে আইনপেশায় নিয়োজিত ছিলেন, যা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।”
মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি এক মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এবং এক মেয়াদে সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মাহবুবে আলমের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসনে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন তিনি।
ছাত্র জীবনে বাম আন্দোলনে যুক্ত মাহবুবে আলম পরে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টিতে বিভক্তির পর রাজনীতি ছেড়ে আইন পেশায় পুরোদমে সক্রিয় হন মাহবুবে আলম।
তিনি অবশ্য ১৯৭৩ সালেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন।  
মাহবুবে আলম ১৯৭৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে এবং ১৯৮০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতি পান। ১৯৯৮ সালে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।
১৯৯৩-৯৪ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক নির্বাচিত হন।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবে আলম।
২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন মাহবুবে আলম।
সেনা নিয়ন্ত্রিত ওই সরকার আমলে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার পর শীর্ষ আইনজীবীদের অনেকে পিছুটান দিলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পক্ষে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মাহবুবে আলম।
দৃশ্যত সেই কারণেই তার উপর আস্থাবান ছিলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান মাহবুবে আলম। তার পর থেকে টানা ১১ বছর তিনি এ দায়িত্বে বহাল ছিলেন।
সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে জন্মস্থান মুন্সীগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন মাহবুবে আলম। তবে তাকে প্রার্থী না করে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বই চালিয়ে যেতে বলা হয়।

মাহবুবে আলম ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ‘ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ’ থেকে সাংবিধানিক আইন ও সংসদীয় প্রতিষ্ঠান ও পদ্ধতি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভ্রমণপ্রিয় হিসেবে পরিচিত এই আইনজীবী দেশে ও দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে অংশ নিতে বিভিন্ন সময় ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, হংকং, কোরিয়া ও তানজানিয়াসহ অনেক দেশ সফর করেছেন।

বিচারবিভাগ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় আইনজীবীর বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্টের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা, মামলায় লড়তে পারবেন না, ফেইসবুক বন্ধের নির্দেশ

0

বিচার বিভাগ নিয়ে ফেসবুকে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করার কারণে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সুপ্রিমকোর্ট। ইউনুছ আলী আকন্দ নামের এই আইনজীবী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাই কোর্ট বিভাগে কোনো মামলা পরিচালনা করতে পারবেন না। শুধু তাই নয়,
এই আইনজীবীর ফেইসবুক পেইজ থেকে বিচার বিভাগ নিয়ে তার মন্তব্য অপসারণ করে তার অ্যাকাউন্ট ‘ব্লক করতে’ বিটিআরসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নৃতৃত্বে চার বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেন।
আদেশে ইউনুছ আলীর বিরুদ্ধে যে আদালত অবমাননার নোটিস জারি হয়েছে, আগামী ১১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চে উপস্থিত হয়ে তাকে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
কোনো ব্যক্তির ফেইসবুক বন্ধ করতে বিটিআরসিকে আদালতের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন অনেক আইনজীবী।
নানা কারণে আদালত অঙ্গনে আলোচিত আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। বিশেষ করে
যে কোনো বিষয় নিয়ে রিট করা নিয়ে তিনি আলোচিত। নামের আগে তিনি ডক্টরও লাগান। তার ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। আদলতও একবার এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।
গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে হেরে যান।
সম্প্রতি আইনজীবী ইউনুছ আলী বিচার বিভাগ নিয়ে ফেইসবুকে বিরূপ মন্তব্য করেন এমন অভিযোগে রোববার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চের নজরে আনেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
ইউনুছ আলীর সেসব মন্তব্যে ‘গুরুতর আদালত অবমাননা’ হয়েছে দাবি করে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনার আবেদন জানান তিনি।   
আদালত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, মনসুরুল হক চৌধুরী, আব্দুল মতিন খসরু, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন, আইনজীবী মনজিল মোরেসদ ও আইনজীবী সমিতির সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজলের বক্তব্য শুনেন। পরে আদেশ দেন। আদেশে এসব নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এর আগে গত আগস্ট মাসে বিচার বিভাগ নিয়ে ফেইসবুকে ‘বিরূপ মন্তব্য’ করায় আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল করেছিল সর্বোচ্চ আদালত।
পরবর্তিতে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আর ‘অবমাননাকর মন্তব্য ’না করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলে আপিল বিভাগ মামুন মাহবুবকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।
তবে সেই আদেশে আদালত বলে দেয়, “ভবিষ্যতের জন্য এই মামলার কার্যক্রম ধারণ করা হয়েছে এবং তা সংরক্ষণ করা হবে।’
আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ তার ফেইসবুকে বিচারবিভাগ নিয়ে কি মন্তব্য করেছেন তা জানা যায় নি। কারণ তার ফেইসবুক একাউন্ট লক করা থাকায় বন্ধু তালিকা ছাড়া কেউ ঢুকতে পারেন না।