ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 160

৪৯ বছর পর পাকিস্তান মুক্ত হলো দেশের সব সীমান্ত পিলার, PAK লেখা মুছে হলো বাংলাদেশের BD ; ইতিহাস সৃষ্টি করলো বিজিবি

0

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সব সীমান্ত পিলার থেকে মুছে গেল পাকিস্তান নামটাই। তার বদলে লেখা হলো বাংলাদেশ। এমন উদ্যোগ সম্পন্ন করেছে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনি বিজিবি।
এই সীমান্ত স্তম্ভগুলি ছিল পুরনো অবিভক্ত পাকিস্তান আমলের। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হয়। দুটি অংশ নিয়ে পাকিস্তান আত্মপ্রকাশ করে। তারই একটি ছিল পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা।
দেশভাগের পর ভারত ও তৎকালীন অখণ্ড পাকিস্তান তথা পূর্ব পাকিস্তানের সীমানা বরাবর স্তম্ভগুলিতে IND-PAK লেখা হয়েছিল। তারপর ১৯৭১ সালে রক্তাক্ত মহান মুক্তিযুদ্ধের পর আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ। কিন্তু এই দীর্ঘ ৪৯ বছরের মধ্যে আর IND-PAK লেখা সীমান্ত পিলারগুলি পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে খাতায় কলমে বাংলাদেশ- ভারত সীমান্ত থাকলেও বাস্তবে সীমান্ত পিলারে লেখা ছিল পুরনো IND-PAK শব্দ।
বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) জানিয়েছে, ভারত সীমান্তের বাংলাদেশের পিলারে লেখা ছিল PAKISTAN/PAK। বিষয়টি বিজিবির নজরে আসলে তা মুছে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয় সরকারের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে সে আবেদন। PAK শব্দ মুছে ফেলার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশ পেয়ে বিজিবি পিলারগুলি থেকে PAKISTAN লেখা শব্দ মুছে দেওয়ার কাজ শুরু করে।
বিজিবি নিজস্ব তহবিল থেকে সীমান্ত পিলার PAKISTAN/PAK লেখা পরিবর্তন করে BANGLADESH/BD লেখার কাজ সম্পন্ন করে। স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ ৪৯ বছর পর সেসব পিলার থেকে সম্পূর্ণ রূপে মুছে ফেলা হল পাকিস্তান শব্দটি। এর বদলে লেখা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত।
প্রসঙ্গত বাংলাদেশের সীমান্তে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, অাসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম রজ্য। এই সব এলাকার সঙ্গে সীমান্ত এলাকার দুর্গম ও জঙ্গল ঘেরা বহু পিলার খুঁজে বের করতে সময় লেগেছে বিজিবির।
একে একে সীমান্ত এলাকার ১০ হাজার ২৪০টি পিলার থেকে পাকিস্তানের নাম মুছে বাংলাদেশের নামের সংক্ষিপ্তরূপ ‘BD’ লেখা সম্পন্ন করেছে বিজিবি।


বুধবার (০৭ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান বিজিবির পরিচালক (অপারেসনস) লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান।
তিনি বলেন, একসময় আমাদের সীমান্ত পাকিস্তান-ভারত সীমান্ত ছিল। সে অনুযায়ী সীমান্ত পিলারে পাকিস্তানের নাম লেখা ছিল।
তবে স্বাধীনতার এত বছর পরও অনেক সীমান্ত পিলারে পাকিস্তানের নাম লেখা রয়ে গেছে। আমাদের বিজিবির টহল টিম বিষয়টি প্রথমে নজরে আনে, তারা এগুলো সংস্কারের প্রস্তাব দেয়।
এরপর একে একে বিজিবির পক্ষ থেকে ১০ হাজার ২৪০টি পিলার থেকে পাকিস্তানের নাম মুছে বাংলাদেশ লেখা সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে কোনো পিলারে আর পাকিস্তানের লেখা রইলো না।
সীমান্তে বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শুধু বিজিবি নয়, কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটাতে চায় না। আমাদের একমাত্র টার্গেট থাকে অপরাধীকে গ্রেফতার করা। গ্রেফতারের সময় অনেক অপরাধী আমাদের আক্রমণ করে, গুলি ছোড়ে, তখন আত্মরক্ষার্থে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষার্থে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিএসএফের গুলিতে কতজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, সংখ্যাটি নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে রয়েছে। সম্প্রতি বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএসএফের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আপনাদের জবাব দিয়েছেন। এর পর থেকে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী সীমান্ত দিয়েই মাদক প্রবেশ করছে, বিজিবি আরও তৎপর হলে বিষয়টি ঠেকানো যেত- এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা যিনি বলেছে, এটা তার ব্যক্তিগত মতামত বা অভিমত হতে পারে। এটা পুলিশ সদরদপ্তরের বক্তব্য না। আমরা প্রায়ই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বা সরাসরি পুলিশ সদরদপ্তরের সঙ্গে তথ্য বা মতামত শেয়ার করি। কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো সাজেশন আসলে বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করা হবে।
দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবির সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা হাজির রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেই মাদকই আসছে আমরা সেগুলো জব্দ করছি।

মাদক ব্যবসায় বিজিবি সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় আইনের পাশাপাশি বিজিবির নিজস্ব আইন রয়েছে। আমরা সেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে দায়িত্বপালন করি। তাছাড়া বিজিবি অনেকবার রিফর্মও করা হয়েছে। এটা বলতে পারি যে, বর্তমানে সীমান্তে মাদকের সঙ্গে বিজিবির সম্পৃক্ততা জিরো।

মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে সে দেশের সেনাবাহিনীকে তাদের সশস্ত্র উপস্থিতি বৃদ্ধি করতে দেখা গেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবির এ কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের কতটুকু উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা নিশ্চয়ই আরও ভালো জানেন। আমাদের সীমান্ত রক্ষার জন্য যতটুকু দরকার, ঠিক ততো পরিমাণ বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সীমান্তে আমাদের লোকজন সতর্ক রয়েছে। দায়িত্বশীলদের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজিবির বর্তমানে জনবল বেড়েছে, আমাদের অংশে যে দায়িত্ব রয়েছে, তার সর্বোচ্চটাই আমরা দিচ্ছি।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত আট মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্নস্থানে ৫ লক্ষাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে বিজিবি। এসব অভিযানে সর্বমোট ৩৭২ কোটি ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে ২ হাজার ৬৩ জন চোরাকারবারীকে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৩৪৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও ৯৬ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় ৮১৫ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩১৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মণ কাজ বাস্তবায়নাধীন। এছাড়াও ৭৩টি আধুনিক কম্পোজিট বিপি নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে।

৩২ বছর আগের সীমা হত্যা মামলা ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট

0

 পুরান ঢাকার জগন্নাথ সাহা রোডে ১৯৮৮ সালের ২৬ এপ্রিল খুন হওয়া সীমা মোহাম্মদী (২০) হত্যা মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

একটি জাতীয় দৈনিকে ৬ অক্টোবর ‘৩২ বছর ঝুলে আছে সীমা হত্যার বিচার’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন বুধবার আদালতের নজরে আনার পর এ আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতের নজরে আনে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ও জামিউল হক ফয়সাল।

পরে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, আদালত তিন মাসের মধ্যে মামলাটি বিচারিক আদালতকে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘পুরান ঢাকার জগন্নাথ সাহা রোডে ১৯৮৮ সালের ২৬ এপ্রিল খুন হন সীমা মোহাম্মদী (২০)। বাড়িতে ঢুকে ছুরিকাঘাত করে সীমাকে হত্যা করে মোহাম্মদ আহমদ ওরফে আমিন নামে এক যুবক।
ঘটনার পরপরই ওই যুবকের বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন সীমার মা ইজহার মোহাম্মদী। দুই মাস পর ২৫ জুন পলাতক আমিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে সীমাকে বিয়ে করতে না পেরে সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। আদালত থেকে আসামিকে হাজিরের জন্য ১৯৯৯ সালের ২২ জুন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

২০০১ সালের ২৯ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের পরও সাক্ষ্য দিতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের অনীহার কারণে মামলার বিচারকাজ বারবার পিছিয়ে যায়। অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের তৎকালীন প্রভাষক আনোয়ার হোসেন সাক্ষ্য দিতে অদ্যাবধি আদালতে হাজির হননি। ওই চিকিৎসককে এ পর্যন্ত অর্ধশত অজামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক চমন বেগম চৌধুরীর আদালতে বিচারাধীন। ’

শপথ নিলেন পাবনার এমপি নুরুজ্জামান

0

পাবনা-৪ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী আওয়ামী লীগের মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস শপথ নিয়েছেন।
বুধবার স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নুরুজ্জমান বিশ্বাসকে শপথ পড়ান।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু গত ২ এপ্রিল মারা গেলে পাবনার ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনটি শূন্য হয়। মহামারীর কারণে সেখানে উপনির্বাচন হয় কয়েক মাস পরে।
২৬ সেপ্টেম্বরের ওই ভোটে আওয়ামী লীগের নৌকার পার্থী নুরুজ্জামান ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব পান ৫ হাজার ৫৭৬ ভোট।
শপথের পর নুরুজ্জামান বিশ্বাস রেওয়াজ অনুযায়ী শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, হুইপ ইকবালুর রহিম, হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনি এবং সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াসমিন জলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যের স্ত্রী রোকেয়া জামানও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
সাধারণত দুই-এক জনের শপথ অনুষ্ঠান স্পিকারের নিজ অফিসেই হয়। তবে করোনাভাইরাস মাহমারীর মধ্যে সামাজিক দূরত্ব রক্ষার জন্য শপথ কক্ষেই নুরুজ্জামানের শপথের আয়োজন করা হয়।

ধর্ষণবিরোধী মিছিলে পুলিশের বাধা, হাতাহাতি-লাঠিপেটা

0

সারাদেশে একের পর এক ধর্ষণ-নিপীড়নের বিচার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ বাধা দেওয়ার পর হাতাহাতি ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হয়ে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নবিরোধী ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্র ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী, লেখক, কবি, শিল্পী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নারী অধিকারকর্মীরাও তাতে যোগ দেন।

বেলা সোয়া ১টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় থেকে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ঘুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে যাত্রা করলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

এ সময় পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের হাতাহাতি হয়। পরে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে ছাত্র ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।

পরে মিছিলকারীরা সেখানেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা ধর্ষক ও নিপীড়কদের শাস্তির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের পদত্যাগের দাবি জানান।

‘ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই, ‘ধর্ষকের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘যে রাষ্ট্র ধর্ষণ পোষে, সেই রাষ্ট্র চাই না’, আমার বোনকে ধর্ষণ কেন, প্রশাসন জবাব চাই, ‘নিপীড়ক যেখানে, লড়াই হবে সেখানে’- ইত্যাদি স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ওই এলাকা।

প্রায় আধা ঘণ্টা সেখানে অবস্থান শেষে মিছিলকারীরা আবার শাহবাগে হয়ে টিএসসি এলাকায় ফিরে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। 

অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যায় ৩ আসামীর মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ

0

দুই দশক আগে চট্টগ্রামের নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যা মামলায় জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ।

আসামিদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেয়।
রায়ে সর্বোচ্চ আদালত আপিল খারিজের পাশাপাশি সাজা সংশোধন করে আসামিদের স্বাভাবিক মৃত্যু পর্যন্ত, অর্থাৎ আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে তিন আসামিকে।   

এই তিন আসামি হলেন- তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টু, মোহাম্মদ আজম  ও আলমগীর কবির ওরফে বাইট্টা আলমগীর। তিনজনই জামাত-শিবিরের কর্মী।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। আসামিদেরমধ্যে আলমগীর কবিরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মন্টু ও আজমের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হেলাল উদ্দিন মোল্লা।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত বিডিনিউজ টোয়ন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে শর্ট অর্ডার হয়েছে। আসামিদের আপিল ও জেল আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। তবে তাদের সাজা সংশোধন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন। কোন যুক্তিতে কেন সাজা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে তা পুরো রায় বের হলে জানা যাবে।”

তিন আসামি এতদিন কারাগারে কনডেম সেলে ছিলেন জানিয়ে অমিত দাশগুপ্ত বলেন, “তাদের এখন কারাগারে সাধারণ সেলে স্থানান্তর করা হবে।”

২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর জামাল খান রোডে অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরীর (৬০) বাসায় ঢুকে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা।

তার স্ত্রী রেলওয়ের তৎকালীন অডিট কর্মকর্তা উমা মুহুরী সেদিনই চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রামের নাজিরহাট কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী হত্যার ওই মামলার বিচার শেষে নাসির ওরফে গিট্টু নাসির, আজম, আলমগীর ও মন্টুকে মৃত্যুদণ্ড দেয় জজ আদালত।

এছাড়া মহিউদ্দিন ওরফে মহিনউদ্দিন, হাবিব খান, সাইফুল ওরফে ছোট সাইফুল ও শাহাজাহানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় রায়ে।

বিচারিক আদালতের ওই রায়ের পর মামলার ডেথ রেফারেন্স হাই কোর্টে আসে, পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরাও আপিল করেন। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া গিট্টু নাসির ২০০৫ সালের ২ মার্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মারা যান যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ছোট সাইফুলও।

হাই কোর্ট শুনানি শেষে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০০৬ সালের ১৯ জুলাই রায় দেয়। সেই রায়ে যাবজ্জীবন সাজার আসামি শাহাজাহান ও সাইফুল ওরফে ছোটো সাইফুল খালাস পান, অন্যদের সাজা বহাল থাকে।

এরপর মৃত্যদণ্ডের তিন আসামির মধ্যে আলমগীর কবির খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আপিল করেন। আর তসলিম উদ্দীন ওরফে মন্টু, মোহাম্মদ আজম করেন জেল আপিল।

এসব আপিলের শুনানি করে সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার হাই কোর্টের রায় সংশোধন করে চূড়ান্ত রায় দিল।

সড়কপথে ঢাকা পৌঁছেছেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার; বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

0

ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। সোমবার তিনি আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে সড়ক পথে ঢাকায় আসেন।
ঢাকায় পৌঁছে প্রথমেই তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন ভারতীয় এই হাইকমিশনার। এরপর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে থাকা মন্তব্য খাতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করার কথা লেখেন তিনি।

এর আগে সকালে ভারতের ত্রিপুরা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। আগামী ৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো আব্দুল হামিদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করবেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
বাংলাদেশে এসে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ভারতের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী দেশ হলো বাংলাদেশ। আমি বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা শুনব। উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সেটি জানাব।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আরো কিভাবে অংশীদারিত্ব বাড়ানো যায় সেটি নিয়ে আমি কাজ করব। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো দুই দেশের মৈত্রী বন্ধনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের নৌ, সড়ক ও বাণিজ্য প্রসার গুরুত্ব পাবে।

রীভা গাঙ্গুলী দাসের উত্তরসূরি হিসেবে ঢাকায় নয়া দিল্লি মিশনের দায়িত্বে আসলেন দোরাইস্বামী।

১৯৯২ ব্যাচের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা বিক্রম দোরাইস্বামী সর্বশেষ অতিরিক্ত সচিব হিসেবে আন্তর্জাতিক সংগঠন ও সম্মেলন বিভাগের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।

তার জন্ম ভারতের তামিলনাড়ুতে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বিক্রম দোরাইস্বামীর বাবা বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মিত্রবাহিনীর পাশাপাশি থেকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধ করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেওয়ার আগে বিক্রম দোরাইস্বামী কিছু সময় সাংবাদিকতাও করেছেন। দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে পড়েছেন তিনি।

সাতাত্তরের কোর্ট মার্শাল: কমিশন করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, মরণোত্তর বিচার চাওয়া হয়েছে জিয়াউর রহমানের

0

কথিত অভ্যুত্থানের অভিযোগ তুলে ১৯৭৭ সালে ২রা অক্টোবর দেশের সুর্য সন্তান হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমান। সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের আগেই জিয়া ও তার অনুসারীরা হত্যার নৃশংসতায় মেতে উঠেন। কথিত বিচারের নামে সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে, ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যাসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে তা নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এমন দাবি জানানো হয়।
জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে ১৯৭৭ সালে মার্শাল ল ট্রাইব্যুনাল কোর্টের বিচারে ফাঁসি দেওয়া সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা নির্দোষ ছিলেন বলে জানান স্বজনরা। সরকারিভাবে তাদের নির্দোষ ঘোষণা করার দাবি জানানো হয় একইসঙ্গে আজিমপুর কবরস্থানে তাদের সমাধিতে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করতে সরকারের কাছে আবেদন করছেন তারা। 
কোর্ট মার্শালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজন এবং চাকরিচ্যুতদের ‘সাতাত্তরের ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা’ নামের সংগঠনের উদ্যোগে এই মানববন্ধন থেকে জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করা হয়েছে।
ফাঁসিতে নিহত বিমানবাহিনীর সার্জেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমানের ছেলে মো. কামরুজ্জামান মিয়া লেলিনের বয়স ১৯৭৭ সালে ছিল ছয় বছর। মানববন্ধনে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু আমি এতই হতভাগ্য যে, বাবার লাশ দেখার সুযোগ পাইনি। ১৯৯৬ সালে তিনি জানতে পারেন ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবরের ঘটনায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি হওয়া সেনা ও বিমান বাহিনীর ১২১ সদস্যের লাশ আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তার মধ্যে আমার বাবার লাশও ছিল। তিনি জানান তার বাবার ফাঁসি হয় ১৯৭৭ সালের ২৫ অক্টোবর।’
মো. কামরুজ্জামান মিয়া লেলিনের কথায়, ‘কথিত অভ্যুত্থানের অভিযোগে ১৯৭৭ সালের ৮ অক্টোবর থেকে সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি দিতে শুরু করেন তৎকালীন সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান। কিন্তু এর ছয় দিন পর তিনি মার্শাল ল আইন পাস করেন। তার মানে আগে ফাঁসি দিয়ে পরে আইনটি পাস হয়েছে।’
নিয়ম অনুযায়ী, মার্শাল ল ট্রাইব্যুনালে বিচারক থাকেন পাঁচজন সেনা কর্মকর্তা। মো. কামরুজ্জামান মিয়া লেলিনের দাবি, ‘তাদের মধ্যে একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং বাকি চারজন ক্যাপ্টেন থাকার কথা। সবার চাকরির বয়স ন্যূনতম তিন বছর হতে হয়। কিন্তু জিয়াউর রহমান তা পরিবর্তন করে নিজের মতো করে সিপাহী ও হাবিলদারদের বিচারক করেন। তারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো রায় দিয়েছে।’
বিচারের নামে আমার বাবাসহ যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা সবাই নির্দোষ ছিলেন। এটা প্রমাণিত, কিন্তু আনঅফিসিয়াল। আমরা এখন এ বিষয়ে সরকারি স্বীকৃতি চাই। তখন ফাঁসিতে নিহত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ১০-১২ বছর সরকারি চাকরি করেছিলেন। আমাদের চাওয়া, যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের ছেলেমেয়ে বা নাতি-নাতনিদের চাকরি বা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হোক।’
সেই সময় যাদের লাশ আজিমপুরে দাফন করা হয়েছে তাদের কবর চিহ্নিত করে সেখানে সরকারি স্বীকৃতি দিতে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে ‘সাতাত্তরের ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা’ সংগঠন। স্বজনরা অতি দ্রুত এর বাস্তবায়ন দেখতে চান।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে কোর্ট মার্শালে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। এ তথ্য উল্লেখ করে কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সামনে আবারও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবো। আশা করি, আমরা ন্যায়বিচার পাবো।’
কোর্ট মার্শালে সাজা পেয়ে চাকরিচ্যুত সার্জেন্ট মোবাহের আলীর ছেলে কে এম তমাল মানববন্ধনে বলেন, ‘বিনা অপরাধে যাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে ও চাকরিচ্যুত করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, তারা নির্দোষ ছিলেন। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তাদের কাছে একটাই দাবি, আমার বাবা ও তার সহকর্মীরা যে নির্দোষ ছিলেন, সেটি ঘোষণা করা হোক। বাবা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। আমরা ন্যায়বিচার পেলে বাবার আত্মা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।’

কক্সবাজার সৈকতের ৫২ স্থাপনা উচ্ছেদের বাধা কাটল, হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগে বাতিল

0

কক্সবাজার সৈকতের ৫২ স্থাপনা উচ্ছেদের বাধা কাটল, হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগে বাতিল

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে ৫২ ব্যক্তির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হাই কোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

ফলে সমুদ্র সৈকতের ওই পয়েন্ট থেকে ৫২ ব্যক্তির অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

হাই কোর্টের আদেশ বাতিল চেয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।

আদালতের আদেশের পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, তারা এখন স্থাপনা উচ্ছেদে দ্রুতই উদ্যোগ নেবেন।

হাই কোর্টে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আর ৫২ ব্যক্তির রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কক্সবাজার পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নিয়ে ৫২ ব্যক্তি সৈকতে কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে ব্যবসা শুরু করে।

স্থাপনা তৈরির দুই মাস পর, অর্থাৎ ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্থাপনা সরাতে নোটিস দেয়।  

ওই নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই ৫২ ব্যক্তি হাই কোর্টে রিট আবেদন করলে আদালত ১৬ এপ্রিল রুলসহ স্থগিতাদেশ দেয়।

এরপর ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে। সে আবেদনের শুনানি করেই হাই কোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ ও রুল সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দিল। 

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষার জন্য অনেক আগেই আদালতের নির্দেশনা পেয়েছিলাম। ২০১১ সালে সমুদ্র সৈকত থেকে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়ে গিয়েছিল।

“পরবর্তীতে প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন এলাকা বিবেচনায় আপিল বিভাগ কিন্তু আরও কঠিন রায় দিয়েছে। সে রায়ে বড় বড় অবৈধ স্থাপনাগুলোও ভেঙে ফেলতে বলেছেন আদালত।”

তারপরও কিছু ‘স্বার্থান্বেসী লোক’ সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করে পৌরসভার কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে স্থাপনা তৈরি করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যখন উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়, তখন তারা গোপনে হাই কোর্টে এসে নোটিসের স্থগিতাদেশও নিয়ে নেয়।

“বিষয়টি আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। শুনানির পর আপিল বিভাগ হাই কোর্টের আদেশ বাতিল করে দিয়েছে।”

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মনজিল মোরসেদ বলেন, “আমার প্রশ্ন থাকবে প্রশাসন কেন সেখানে চোখ বুজে থাকে? প্রশাসন তো জানে এ নিয়ে আদালতের নির্দেশ আছে, রায় আছে। আর পৌরসভাই বা কেন তাদের লাইসেন্স দেবে!”

পৌরসভার যিনি বা যারা ওই ৫২ ব্যক্তিকে ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেবেন বলে জানান সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী।

এ নিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফোরকান আহমদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সৈকত এলাকায় এসব বৈধ-অবৈধ স্থাপনা তৈরি হয়ে আসছে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে।

“উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও জায়গাটার মালিক জেলা প্রশাসন। এটা খাস জায়গা। খাস জায়গার দায়িত্ব কালেক্টরের। আর কালেক্টরেট হলেন ডিসি, ল্যান্ড মিনিস্ট্রি।”

তাই এসব অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পর প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে মন্তব্য করেন তিনি।

“আমরা যদি যৌথভাবে এটা না করি, আমি সরাই দিলাম; অপসারণ করলাম। কিন্তু জেলা প্রশাসন যদি এটা ধরে রাখতে না পারেন, অন্য একটা কিছু করার মতো ব্যবস্থা না করেন; তাহলে এ সমস্যাগুলো হবেই।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, সৈকতের ৫২টি স্থাপনা উচ্ছেদের বিরুদ্ধে দায়ের রুল জারি ও স্থগিতাদেশ খারিজ করার আদেশের খবর আইনজীবীর মাধ্যমে জেনেছেন।

“আদালতের আদেশ হাতে পাওয়ার পর তা কার্যকর করার জন্য দ্রুত উচ্ছেদের ব্যবস্থা করা হবে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘরে করোনা থাবা, কোয়ারেন্টাইনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়া

0

করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তারপরেই কোয়ারেন্টাইনে গেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এবং ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। টুইট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন তিনি এবং তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের এক সহযোগীর করোনা ধরা পড়ায় বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন তিনি এবং ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া কোয়ারান্টাইনে যাবেন।
ইতিমধ্যে তাঁরা করোনা পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটারে বলেন, “হোপ হিকস এর কোভিড-১৯ পরীক্ষা ইতিবাচক এসেছে। ফার্স্ট লেডি আর আমি আমাদের পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি। আমরা আমাদের কোয়ারান্টাইন প্রক্রিয়া শুরু করব”।

সাতাত্তরে বিমান বাহিনীতে অভ্যুত্থান, হত্যা ও ১১৪৩ জন অফিসার ও সৈনিক নিখোঁজ রহস্য!

0

কলঙ্কিত ২ অক্টোবর। ১৯৭৭ সালের এই দিন বিমানবাহিনী থেকে এক ব্যর্থ অভ্যুত্থানের জের ধরে পরবর্তি ২ মাসে হাজার হাজার সৈনিককে ফাঁসি, ফায়ারিং স্কোয়াডে হত্যা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত কেউ টু শব্দটি করতে পারেনি।নানা ভয় ও ভীতির কারণে। লেখক ও গবেষক আনোয়ার কবির এ নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও অনুসন্ধান করেন এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ২ অক্টোবর ১৯৯৬ সালে এ লেখাটি লিখেন। বলা যায় জেনারেল জিয়ার শাসনামলে বিমান বাহিনীতে যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়ছিল তা নিয়ে মিডিয়ায় এটিই প্রথম প্রকাশ। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ” আইন আদালত” এর জন্য লেখাটি পুনরায় প্রকাশিত হলো। (সম্পাদক)


“গুলিবর্ষণের মধ্যে এগোতে না পেরে ফিরে এলাম ভি.আই.পি লাউঞ্জে। আর সেখান থেকেই দেখলাম এই বীভৎস দৃশ্য। হ্যাঙ্গারের সামনে কিছু জওয়ানের জটলা ছিল। তাদেরই কয়েকজন হ্যাঙ্গারের ভিতর থেকে অস্ত্রের মুখে বের করে নিয়ে এলো বিমান বাহিনীর একদল অফিসারকে। পরনে সবার ইউনিফর্ম, দু’হাত মাথার ওপর তোলা। ভি.আই.পি লাউঞ্জ থেকে কারও চেহারা স্পস্ট দেখা যাচ্ছিল না। শুধু দেখলাম, সবার সামনে যিনি ছিলেন তিনি খোঁড়াচ্ছিলেন। হাঁটতে পারছিলেন না। হাঁটতে গিয়ে পড়ে যাচ্ছিলেন। তবুও অস্ত্রের মুখে এসে হ্যাঙ্গারের সামনে খোলা জায়গায় দাঁড়ালেন এক লাইনে। গুনে দেখলাম ওরা সাতজন। বেশ কয়েকজন জওয়ান অস্ত্র তাক করে দাঁড়াল ওদের সামনে। তখনই বুঝলাম ওরা ফায়ারিং স্কোয়াড, ওরা এই সাতজন অফিসারকে গুলি করে হত্যা করবে। বেশি দেরি করেনি জওয়ানরা। সবার হাতের অস্ত্র একসঙ্গে গর্জে উঠল। ওদের প্রথম শিকার হলেন লাইনের প্রথম অফিসারটি। যিনি খুড়িয়ে হাটছিলেন। দাঁড়াতে পারছিলেন না। পড়ে যাচ্ছিলেন। তারপর একে একে বাকি ছয়জন। গুলি খেয়ে মানুষ ছিটকে পড়ে এ কথাই জেনে এসেছি এতদিন। কিন্তু এদিন স্বচক্ষে দেখলাম, কেউ ছিটকে পড়ল না। ঘাতকদের গুলিবৃষ্টিতে টগবগে স্বাস্থ্যের এই তরুণ অফিসাররা সবাই লুটিয়ে পড়লেন টারমার্কের কংক্রিটে বাঁধানো শক্ত মাটিতে, নিজেদের রক্তের সলিলে।”
২ অক্টোবর ১৯৭৭। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রাস্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান। এদিন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে সংঘটিত এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান সম্পর্কে এভাবেই প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ দেন সিনিয়র সাংবাদিক মনজুর আহমদ। অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পরে রাস্ট্রপতি জেনারেল জিয়া ডিজিএফআই প্রধান এয়ার মার্শাল আমিনুল ইসলামকে চাকরি হতে অপসারণ করেন। একইসঙ্গে তিনি ২২ ইস্ট বেঙ্গল, আর্মি ফিল্ড সিগন্যাল ব্যাটালিয়ন, সিগন্যাল সেন্টার এন্ড স্কুল এবং আর্মি সাপ্লাই এ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ব্যাটালিয়ন বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। জেনারেল মীর শওকত আলীকে যশোরে ৫৫ ডিভিশনের অধিনায়ক এবং জেনারেল মঞ্জুরকে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক হিসেবে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। এছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীতে চালানো হয় এক ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ। সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী পরবর্তী দু’মাসের মধ্যে এ হত্যাযজ্ঞের শিকার হিসেবে ১১৪৩ জন সৈনিকের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়, যার মধ্যে বিমান বাহিনীরই ছিল ৫৬১ জন। বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার এবং রুল ৩১ অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই এই হত্যাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিসহ জেলে ঢোকানো হয় কয়েক’শ সৈনিককে।
এ সময় জেনারেল জিয়া বিদ্রোহী সৈনিকদের বিচার করার জন্য যে স্পেশাল সামরিক আদালত গঠন করেছিলেন তা করেছিলেন মূলত দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার জন্যই। কারণ বাংলাদেশ আর্মি ও এয়ার ফোর্স এ্যাক্ট অনুযায়ী শুধুমাত্র জেনারেল কোর্ট মার্শাল মৃত্যুদন্ড দিতে পারে। সুবিচারের স্বার্থে এ সামরিক আদালত উর্ধতন ও বিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত হতে হবে। তাই এ রকম কোর্ট মার্শালে জজ হিসেবে কমপক্ষে ৫ জন সামরিক অফিসার থাকতে হবে। জজদের মধ্যে একজনকে অন্ততপক্ষে লে. কর্নেল হতে হবে এবং বাকি চারজনের কেউই ক্যাপ্টেনের নিচে হতে পারবে না এবং ক্যাপ্টেন হিসেবে কমিশন প্রাপ্তির পর কমপক্ষে তিন বছর চাকরি অতিবাহিত করতে হবে। অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। রাস্ট্রপতি জেনারেল জিয়া দেখলেন এই সকল নিয়ম-কানুন দ্রুত মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার উদ্দেশ্য সাধনের পথে বিরাট অন্তরায়। সেজন্য জিয়া একটি মার্শাল ল’ অর্ডার জারি করেন। ঐ অর্ডারে বিশেষ আদালতের নামে এমন কোর্ট সৃস্টি করা হয় যেগুলোতে বিচারের জন্য একজন লেঃ কর্নেলের সঙ্গে হাবিলদার ও নায়েক সুবেদারের মতো সৈনিক আদালতের জজ হন। এক কলমের খোঁচায় জেনারেল জিয়া রাতারাতি দুই ডজনেরও বেশি এই ধরনের কোর্ট সৃষ্টি করলেন। আর এ ধরনের আদালতে ন্যায় বিচারের প্রশ্নই উঠে না। এমন একটি কোর্টের উদাহরণ হলো মার্শাল ল ট্রাইব্যুনাল নং-১৮ ঢাকা। কেস নং-১/১৯৭৭, তাং ৮ই অক্টোবর ১৯৭৭। জজ- ঃ (১) লেঃ কর্নেল কাজী সলিমুদ্দিন মোঃ শাহরিয়ার, (২) সুবেদার মোঃ আবদুল হালিম, (৩) নায়েক সুবেদার আবদুল হাকিম, (৪) হাবিলদার আনোয়ার হোসেন, (৫) হাবিলদার এম এফ আহমদ। অভিযুক্তরা হলেন (১) ৬২৭৪০২৮ নায়েক এনামুল হক, (২) ৬২৮৪৫৪ সিগন্যালার কাজী সাইদ হোসেন, (৩) ৬২১১৮৬ নায়েক আব্দুল মান্নান, (৪) ৬২৮৪৭৩৬ সিগন্যালার এস কে জাবেদ আলী। বিশেষ সামরিক আদালত চারজনের সবাইকে মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রদান করে। পরদিন ৯ অক্টোবর স্বয়ং জেনারেল জিয়া তাদের মৃতুদন্ডাদেশ অনুমোদন করে মন্তব্য করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ওরা না মরে ততক্ষণ পর্যন্ত ওদের গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে রাখো। ১০ অক্টোবর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এ চারজন হতভাগ্য সৈনিককে হত্যা করা হয়। সে সময় ঢাকা জেলে সিকিউরিটি ওয়ার্ডের বন্দী রইস উদ্দীন আরিফ প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে এই হত্যাযজ্ঞের বর্ণনা দেন এভাবে- “১৯৭৭ সালের আগস্ট মাসে ঢাকা বিমান বন্দরে জাপান এয়ারলাইন্স-এর ৭০৭ বোয়িং বিমান হাইজ্যাকের উত্তপ্ত মুহূর্তে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিম্নস্তরের অফিসার ও জওয়ানদের মুস্টিমেয় কিছু লোক জেঃ জিয়ার বিরুদ্ধে একটি হঠকারী ক্যু-দেতা করার চেষ্টা চালায়। এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুষ্টিমেয় যে কয়জন অফিসার ও জওয়ান জড়িত ছিলেন তাদের সংখ্যা বড় জোর বিশ-পঁচিশ। কিন্তু এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে জেঃ জিয়া অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে যে পদক্ষেপ নিলেন তার ফলে এক রাতের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হৈ হৈ, রৈ রৈ কান্ড বেঁধে গেল। বিমান বাহিনীর প্রায় তের শ’ অফিসার ও জওয়ানকে একরাতে পাকড়াও করে জেলে পোরা হলো। এমনিতেই আওয়ামী লীগ ও অপরাপর সংগঠনের হাজার হাজার কর্মী দিয়ে জেলখানা ঠাসা। তার ওপর বাড়তি তেরশ’ লোকের আগমণে জেলখানা জুড়ে তুলকালাম কান্ড শুরু হয়ে গেল। একে তো জেল ভর্তি সকল কয়েদী, হাজতী ও রাজবন্দী জিয়া সরকারের বিরুদ্ধে দারুণ ক্ষ্যাপা। তার মাঝে জিয়া সরকারকে উৎখাতের জন্য সংঘটিত ক্যু-দেতার ‘নায়করা’ জেলখানায় ঢোকার পর সমগ্র জেলখানায় এক মারাত্মক থমথমে ভাব বিরাজ করতে লাগল। হয়ত এ কারণেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গ্রেফতারকৃত সৈনিকদের অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক রাতারাতি দেশের বিভিন্ন কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হলো। এর পরের ঘটনা এমন লোমহর্ষক, যা সে সময়ে যাঁরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন, আমি হলপ করে বলতে পারি, তাঁদের সবার কাছেই জেলখানার সে কয়টি বিভীষিকাময় রাতের স্মৃতি জীবনের এক দুঃস্বপ্নের স্মৃতি হয়ে বেঁচে আছে। সেই সব বিভীষিকাময় রাতের লোমহর্ষক ঘটনাবলী খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম বিশেষভাবে আমরা, যারা ছিলাম সিকিউরিটি ওয়ার্ডের বন্দী। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিকিউরিটি ওয়ার্ডের অবস্থানটি হলো কারা কর্তৃপক্ষের অফিসটি যেখানে ঠিক তার পাশেই। এই অফিসটিতে বসেছিল জিয়ার সংক্ষিপ্ত কোর্ট মার্শাল।
বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অফিসার-সিপাইদের এক সাথে পনেরো বিশজন করে বুকে পিঠে আড়মোড়া দিয়ে বেঁধে বলির পাঁঠার মতো টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে আসা হচ্ছিল কোর্ট মার্শালের সামনে। তারপর এক তেলেসমাতি কান্ড। রামরাজত্বের বিচার। দুই মিনিটে রায়। ৯ জনের ফাঁসি, ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা। আবার এই ফাঁসির হুকুম কার্যকরী করার সময়টি ছিল যেন রায় ঘোষণার সময়ের চেয়েও কম। পারেতো এক মিনিটেই ৯ জনকে একসাথে ঝুলায়। কিন্তু বাস্তবে তা কি আর সম্ভব? প্রথমত যাদের ফাঁসির হুকুম হলো তাদেরকে তো আগে বধ্যভূমিতে নিয়ে যেতে হবে। কোর্ট মার্শাল থেকে বধ্যভূমির দূরত্ব তাও নেহাৎ কম নয়। দেড় দু’শ গজতো হবে। কোর্ট মার্শাল থেকে বধ্যভূমিতে যাওয়ার পথটি ছিল আমাদের ওয়ার্ডের ঠিক পাশেই। তার জন্যই এ লোমহর্ষক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হতে পেরেছিলাম আমরা। একপাল ছাগলকে জবাই করার জন্য যেমন করে কসাইখানায় নিয়ে যাওয়া হয় এদেরকেও সেভাবে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্চে বধ্যভূমিতে। কিন্তু তফাতটি হচ্ছে- এরা অবুঝ জানোয়ার নয়, এরা মানুষ। এদের ফাঁসির হুকুম নিজেদের চোখের সামনেই ঘোষিত হয়েছে এবং দড়িতে ঝুলানোর জন্য তাদেরকে সে মুহূর্তে জোর করে টেনে নেয়া হচ্ছে বধ্যভূমিতে।”
প্রহসনমূলক এ বিচার ছাড়াও অনেক সৈনিক এবং অফিসারকে সরাসরি ফায়ারিং স্কোয়াড গঠন করে মারা হয়। এ ফায়ারিং স্কোয়াডের স্থান ছিল পুরনো বিমান বন্দর ও আশপাশের কিছু এলাকা। সে সময়ে এ সকল এলাকায় বসবাসকারী কিছু লোকের কাছ থেকে জানা যায, এ ঘটনার পরে প্রায রাতেই তারা ঐসকল হতভাগ্য সৈনিক ও অফিসারদের আর্তচিৎকারে ঘুমাতে পারতেন না। ফাঁসি দেয়া, ফায়ারিং স্কোয়াডে মারা কোন সৈনিক, অফিসার-কারও লাশই আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফেরত দেয়া হয়নি। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এ সকল হতভাগ্য সৈনিক এবং অফিসারের লাশ হেলিকপ্টারে করে সদ্য আবিস্কৃত (তৎকালীন সময়ে) জনমানবহীন “নিঝুম দ্বীপ”-এ নিয়ে সাগরে ফেলে দেয়া হয়। আবার কিছু লাশ সেনানিবাসগুলোর ভিতরেও পুঁতে ফেলা হয়।
“বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস”-শীর্ষক পুস্তকে এ অভ্যুত্থানের নিম্নোক্ত বিবরণ ছাপা হয়-
“২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী দিবসে পুরনো বিমানবন্দরের নিকটস্থ বিমানবাহিনী মেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সামরিক বাহিনীর সকল পদস্থ কর্মকর্তাও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ.জি.মাহমুদকে এক চিঠিতে জানান, তারপক্ষে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা সম্ভব না। আগেরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় স্কোয়াড্রন লিডার ইসলামসহ আরও ২ জন মারা যায়। জাপানি রেড আর্মির ৫ সদস্য “হিদাকা কমান্ডো ইউনিটের” সদস্যরা ১৫৬ জন যাত্রীসহ জাপান এয়ারলাইন্সের একটি ডিসি-৮ বিমান ব্যাংককের পথে ঢাকা ত্যাগ করার পরই ঢাকায় অবতরণে বাধ্য করে। ঢাকায় এ নিয়ে ব্যাপক শোরগোল। বিমানবাহিনী প্রধান এজি মাহমুদকে বিমান ছিনতাইকারীদের সাথে আলোচনার দায়িত্ব দেয়া হয়। এই অবস্থায় বিমানবাহিনী দিবসের অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় তথাকথিত ২৮ সেপ্টেম্বরের ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এসময় বগুড়া সেনানিবাসের একটি রেজিমেন্টের সেনারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এতে দু’জন প্রাণ হারান। পরদিন পহেলা অক্টোবর ঢাকা সেনানিবাসেও উত্তেজনা দেখা দেয়। একটি ব্যাটালিয়নের কিছু বিপথগামী সৈন্য বিদ্রোহের উদ্যোগ নেয়। তাতে কতিপয় বিমানসেনাও যোগ দেয়। পহেলা অক্টোবর দিবাগত রাতে সেনা ও বিমানবাহিনীর সেনারা ২৫টি ট্রাক ও জীপ নিয়ে সেন্ট্রাল অর্ডন্যান্স ডিপোতে হানা দেয়। ২ অক্টোবর সকালে সাতটি ট্রাকে সেনা ও বিমানসেনারা রেডিও ষ্টেশন দখল করে এবং সেখানে তারা সিপাহী বিপ্লবে যোগ দেয়ার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে আহ্বান জানান। একজন বিমানসেনা (সার্জেন্ট আফসার) নিজেকে নেতা ঘোষণা দিয়ে বেতারে বক্তৃতা দেন। দেশবাসী এই বক্তৃতা শোনার আগেই নবম ডিভিশন হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে সাভার ট্রান্সমিশন কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেয়া হয়। ইতোমধ্যে বিদ্রোহ নৃশংস রূপ নেয়। বিদ্রোহীরা বিমানবন্দর হ্যাঙ্গারের সামনে বিমানবাহিনীর দু’জন অফিসারকে গুলি করে হত্যা করে। বিমানবাহিনী প্রধানের সামনেই গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাস মাসুদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিমানবাহিনী প্রধান কোনভাবে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। সেখানে গ্রুপ ক্যাপ্টেন আনসার উদ্দিন চৌধুরী, উইং কমান্ডার আনোয়ার শেখ, স্কোয়াড্রন লিডার এ মতিন, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শওকত জাহান চৌধুরী, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট সালাহউদ্দিন, ফ্লাইং অফিসার আখতারুজ্জামান, পাইলট অফিসার এম এইচ আনসার, পাইলট অফিসার নজরুল ইসলাম ও পাইলট অফিসার শরিফুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিদ্রোহীদের গুলিতে স্কোয়াড্রন লিডার সিরাজুল হকের ১৬ বছরের তরুণ ছেলেও নির্মমভাবে মারা যায়।” এই পুস্তিকায় ঘটনার বিবরণে আরও বলা হয়েছে- এই বিদ্রোহ বেশি দূর আগাতে পারেনি। কারণ বিদ্রোহের নায়করা অন্যান্য ইউনিট হতে সৈন্যদের দলে টানতে সক্ষম হয়নি। অবিলম্বে দেশপ্রেমিক অনুগত সৈন্যদের সহায়তায় বিদ্রোহ দমন করা হয়। কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন ধারণা করা হয়েছিল যে, জাপানী বিমান হাইজ্যাকের সঙ্গে বিমানবাহিনীর এই বিদ্রোহের যোগসূত্র ছিল।
বিদ্রোহের অপরাধে সরকার অপরাধীদের প্রতি কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সরকার নির্দেশিত বিশেষ সামরিক আদালতে বিচার এবং পরবর্তীকালে রুল ৩১ অনুযায়ী যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয় তাতে মোট ৫৬১ জন বিমানসেনাকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। যা এই ক্ষুদ্র বিমানবাহিনীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই বিচারে বেশ কিছুসংখ্যক এমওডিসিও বিভিন্ন দন্ডে দ‌ন্ডিত হয়। এদিনের ঘটনা সারা দেশের সশস্ত্র বাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য “কালো দিন” ছিল বলে পুস্তিকায় উল্লেখ করা হয়। অভ্যুত্থানে জড়িত থাকার অভিযোগে ফাঁসি হওয়া অনেক পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় যে, ফাঁসি হওয়া অনেকেই ঘটনার সময়ে ছুটিতে বাসায় অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে তাদেরকে জড়ানো হয়। ফাঁসি দেয়া কোন ব্যাক্তিরই আত্মীয়-স্বজনের কাছে ফাঁসির বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। সম্ভবত ফাঁসি হওয়া একজন বিমান সৈনিক করপোরেল (corporal) আবদুল ওয়াদুদ B/D 440094 B.A.F Base Kurmitola -এর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, “অভ্যুত্থানের তিন হতে চার মাস পরে অফিস থেকে লোকজন এসে জনাব ওয়াদুদের ব্যবহৃত কিছু জিনিসপত্র দিয়ে যায় এবং বলে যায়, অভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।” পরিবারের লোকজন অফিশিয়াল সহকর্মী, সহ-অবস্থানকারী ও বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে জানতে পারে যে, অভ্যুত্থানের পর প্রায় প্রতিদিন রাতেই বিমানবাহিনীর মেস থেকে বিমানসেনা এবং অফিসারদেরকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। তারা আর ফিরে আসত না। এ রকমই এক রাতে হামলা চালানো হলে মেসের সকলে বাতি নিভিয়ে খাটের নিচে যেয়ে লুকিয়ে পড়ে। শরীর অসুস্থ থাকায় খাটের ওপর সৈনিক ওয়াদুদ শুয়ে থাকেন। শায়িত অবস্থা থেকেই তাকে তুলে চোখ বেঁধে নেয়া হয়। তিনি আর ফিরে আসেননি। তারা আজও তার খোঁজ পাননি। এভাবেই ফাঁসির প্রায় সকল অফিসার, সৈনিক নিখোঁজ হয়ে যায় এবং আর ফিরে আসেনি। এদের আত্মীয়-স্বজন আজও এদের খবর পায়নি। তারা তাদের লাশ দেখাতো পরের ব্যাপার, তাদের মৃত্যু সংবাদটিও সরাসরি নিশ্চিত হতে পারেনি। অথচ এরা ছিল দেশমাতৃকার এক একজন গর্বিত সৈনিক। এ ঘটনার পরে প্রাণের ভয়ে শত শত বিমান সৈনিক এবং কিছুসংখ্যক বিমান অফিসারও বিমানবাহিনীর চাকরি ছেড়ে দেন। বিমানবাহিনীর একজন সাবেক প্রধান থেকে জানা যায়, তিনি বিমানবাহিনীর প্রধান থাকা অবস্থায় এ সকল হতভাগ্য সৈনিক, অফিসারের নামের তালিকা তৈরি করান। এদের নামের তালিকা তৈরি করলেও তিনি পরিবারগুলোকে তাদের মৃত্যুর সংবাদ জানাতে পারেননি। আর এভাবেই চাপা পড়ে যায় এত মৃত্যু এবং লাশের খবর। ব্রিটিশ সাংবাদিক এন্থনি ম্যাসকারেনহাসের “এ লিগেসি অব ব্ল্যাড” বইয়ে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় এ মৃত্যুর খবর। এত মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও এন্থনি ম্যাসকারেনহাস তার বইতে এই সকল মৃত্যু, মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা, মৃত্যুস্থান সম্পর্কে কিছুই জানাননি। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ইতিহাস লিখতে গিয়ে বিমানবাহিনী হতে প্রকাশিত “বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ইতিহাস”-শীর্ষক পুস্তকে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয় এবং এদিনকে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি “কালো দিন’” হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে জনগণ সর্বদা সঠিক ইতিহাস আশা করে। আশা করে পূর্বে বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ করে রাজনৈতিক কারণে গায়েব হয়ে যাওয়া স্বল্প পরিচিত, সকল দলের নেতা-নেত্রীদের খবর জানতে। দেশে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার কারণেই জনগণ এবং নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যাক্তির পরিবারবর্গের এ সরকারের কাছে এই আশা। তারা প্রত্যাশা করে সরকার কিছু করতে না পারুক অন্ততপক্ষে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে হলেও স্বল্প পরিচিত ও নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এই সকল ব্যাক্তির রহস্য উদঘাটন করবে। তেমনিভাবে ’৭৭ সালে সশস্ত্র বাহিনী হতে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ব্যাক্তিদের পরিবারবর্গও দীর্ঘ ১৯ বছর পর হলেও তাদের নিখোঁজ ব্যাক্তিদের খবর জানতে চায়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে নির্বাচিত এসরকার কি তাদের সেই আশা পূরণ করবে? না, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতোই ধামাচাপা দিয়ে রাখবে ব্যাপারটি? এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে সরকার নিশ্চয়ই গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতা পাবে। আর এটি করা হলে এই সকল অফিসার ও সৈনিকের আত্মীয়-স্বজন বিদ্রোহের সঙ্গে ঐ হতভাগ্যদের জড়িত থাকা বা না থাকার সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। এতে করে কাটবে তাদের মনের কুয়াশা। প্রয়োজনে তারা আইনের আশ্রয়ও নিতে পারবে। বর্তমান সরকার কি এ সৎ উদ্যোগটুকু নেবে? উদঘাটন করবে কি সশস্ত্র বাহিনীতে এ গণহত্যার কারণসমূহ? নাকি পূর্ববর্তী সরকারগুলোর মতোই কুয়াশাচ্ছন্নই রাখবে পুরো ব্যাপারটি?

তথ্যসূত্র
১.আন্ডার গ্রাউন্ড জীবন- রইসউদ্দীন আরিফ
২.এ লিগেসি অব ব্ল্যাড- এন্থনি ম্যাসকারেনহাস
৩.বর্ষপূর্তি সংখ্যা ’৯৩ -দৈনিক বাংলা