ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 163

ভিপি নুরকে নিয়ে পুলিশের ইঁদুর বিড়াল খেলা, দু’দফা আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয় মধ্যরাতে

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের সঙ্গে ইঁদুর বিড়াল খেলছে পুলিশ। তাকে দু দফা আটক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। নুর বলছেন, তাকে কেনো আটক করে আর কেনো ছেড়ে দেয় তা তিনিও জানেন না।
মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে সোমবার সন্ধ্যায় একবার আটক করে মুচলেকা দিয়ে ছাড়ার পর রাতে তাকে আবারও আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ। মধ্যরাতে আবার তাকেসহ আটককৃতদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী রোববার রাতে লালবাগ থানায় নূরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এই মামলার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যার পর টিএসসিতে সমাবেশ করে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় মৎস্য ভবন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় নুরের সমর্থকরা।
ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রীর মামলা করার পর তা ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে এই বিক্ষোভ করছিল নূরের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ে নূরসহ সাতজনকে সেখানে আটক করে পুলিশ। “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশকে মারধর করার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে মুচলেকা দিয়ে নুরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে নুর তার সহযোগিদের নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান পুলিশের হামলায় আহত নেতা-কর্মীরা চিকিৎসা করাতে।

সেখানে তাদের চিকিৎসা হয়। রাত সাড়ে ১১ টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ আবারও নুরকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে দ্রুত বের হয়ে যায়। এ সময় নুরের সমর্থকরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
নুরকে হাসপাতাল থেকে গোয়েন্দা পুলিশের মিন্টু রোডের দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখান তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে মধ্যরাতে নুরসহ সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাত ১টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে থেকে বেরিয়ে নুর সাংবাদিকদের বলেন, মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
নুর বলেন “আমরা বুঝলাম না, আমাদের উপর কেন আক্রমণ করা হল, কেন গ্রেপ্তার করা হল? আবার কেনইবা ছেড়ে দেওয়া হল? রাষ্ট্রযন্ত্রের কারও সাথে কারও মিল নাই, একজন মারে-ধরে, আরেকজন ছেড়ে দেয়। আমি আগেও বলেছি এদেশে বিচার নাই, আইনের শাসন নাই, গণতন্ত্র নাই।”
ডিবি কার্যালয়ে কোনো অত্যাচার হয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাকে তো পুলিশ স্পটেই সিনেমা স্টাইলে জাম্প করে লাথি মেরেছে, কাঠ দিয়ে মেরেছে। ডিবি কার্যালয়ে আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু রাস্তা থেকেই আমাদের আধা মরা করে ফেলছে।”
নূরসহ কোটা আন্দোলনের ৬ নেতার নামে ধর্ষণের মামলা :
এর আগে রোববার রাতে লালবাগ থানায় নূরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রী।
মামলার প্রধান আসামি ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হাসান আল মামুন, যিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। নূর এই পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক।
পরিষদের আরও দুই যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮) ও সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) ও কর্মী আবদুল্লাহ হিল বাকিকে (২৩) মামলাটিতে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, হাসান আল মামুন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বেলা ১টার দিকে ওই ছাত্রীকে মামুন লালবাগের নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ রোডে তার বাসায় যেতে বলে। ওই ছাত্রীর ভাষ্য, ‘বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে’ সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
এরপর মামুনকে বিয়ের কথা বললে তিনি টালবাহানা শুরু করেন বলে ওই ছাত্রীর অভিযোগ।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ২০ জুন নুরের কাছে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। নূর তখন ‘মীমাংসার আশ্বাস’ দিলেও পরে অবস্থান পাল্টে তাকে ‘বাড়াবাড়ি করতে’ নিষেধ করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, “নূর বলছে, আমি যদি বাড়াবাড়ি করি, তাহলে তাদের ভক্তদের দিয়ে আমার নামে উল্টাপাল্টা পোস্ট করাবে এবং আমাকে পতিতা বলে প্রচার করবে।”
কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্র অধিকার পরিষদ গত বছর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হন নুরু। এক সময় তিনি ছাত্রলীগে যুক্ত থাকলেও এখন তিনি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কড়া সমালোচক।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের মায়ের পরলোক গমন

0

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের মা মাজেদা বেগম(৭৫) আর নেই। সোমবার রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন) তিনি।

জানা গেছে, অসুস্থ হওয়ার পরে তাকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।  মৃত্যুর সময় তিনি চার ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে, গত বছরের এপ্রিল মাসে মারা যান প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর বাবা আব্দুল খালেক শেখ।

এদিকে, মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম তার মায়ের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলের দোয়া কামনা করেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার তারাবুনিয়া ঈদগাহ মাঠে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মহানুভবতায় নবজাতককে ফিরে পেলেন মা আঞ্জুলা বেগম

0

‘একজন মা গাইবান্ধার একটি ক্লিনিকে সন্তান জন্ম দিয়ে মেডিকেল বিল পরিশোধ করার জন্য ১৬ হাজার টাকায় তার সন্তানকে বিক্রি করেছেন।’ এ নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে খবর প্রকাশিত হলে তা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপির নজরে আসে। বিষয়টি তাঁর মনে দারুনভাবে পীড়া দেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তিনি গাইবান্ধার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং উক্ত টাকা ফেরত দিয়ে নবজাতককে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

আইনমন্ত্রীর অনুরোধে রোববার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন নবজাতককে জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলা থেকে উদ্ধার করে মা আঞ্জুলা বেগমের কোলে ফেরত দেয়। সেই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আঞ্জুলা বেগমকে ২০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ২ লিটার সয়াবিন তেল, একটি শাড়ী, একটি লুঙ্গি এবং নগদ দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া ক্লিনিকের বিল পরিশোধ করার জন্য যে টাকা গ্রহণ করা হয়েছিল তা ফেরত দেওয়ার জন্য আইনমন্ত্রীর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসন বরাবর ১৬ হাজার টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আঞ্জুলা বেগমের বোনের ছেলে ছানারুল ইসলাম জানান, আঞ্জুলা বেগমের স্বামী শাহজাহান মিয়া ছোট বেলায় গাইবান্ধার সদর উপজেলার সোলাগাড়ী গ্রামে আসেন এবং সেখানেই বসবাস করতে থাকেন। এরপর একই গ্রামের আঞ্জুলা বেগমকে বিয়ে করেন। ইতোপূর্বে তাদের ২ ছেলে ও ১ মেয়ে সন্তান হয়। তাঁদের নিজস্ব কোন জমি ও বাড়ি নেই। শাহজাহান মিয়া অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। স্ত্রী ও সন্তান সহ পাঁচ জনের পরিবারে খুব অভাব অনটন তাঁর।
গাইবান্ধার যমুনা ক্লিনিকের মালিক ফরিদুল হক সোহেল জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া বারটার দিকে চতুর্থ সন্তান জন্মদানের জন্য আঞ্জুলা বেগম তাঁর ক্লিনিকে ভর্তি হন এবং রাত একটার দিকে সিজারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্র সন্তান জন্ম লাভ করেন। অনেক চেষ্টায় বিল পরিশোধ করে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ক্লিনিক থেকে রিলিজ নেন আঞ্জুলা।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ আরও চার মামলার কার্যক্রম সুপ্রিমকোর্টে স্থগিত

0

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতার ৩ মামলা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।
২০১৫ সালে বিএনপি-জামাত জোটের হরতালের সময় নাশকতার অভিযোগে
রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা তিন মামলা এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা মামলা হয়েছিল।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদেন নিষ্পত্তি করে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন ভার্চ্যুয়াল আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির। খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট ও ২৩ আগস্ট চারটি করে মোট আট মামলার বিষয়ে একই আদেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।
২০১৫ সালে করা নাশকতা ও সহিংসতার অভিযোগে দারুস সালাম থানায় করা তিনটি মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে ওই আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়া।

একই বছর হাইকোর্ট মামলাগুলোর কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এদিকে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ খালেদা জিয়া ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত’ মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। ওই মামলার বৈধতা নিয়ে আবেদনের পর ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ নিয়ে রুল জারি করেন।
এর বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আবেদন নিস্পত্তি করে স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন।

 

সিঙ্গাপুর চলে গেছেন বিজ্ঞানী ড. বিজন শীল, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না হলে আর আসতে পারবেন না

0

চলে গেলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। রোববার সকাল সাড়ে ৭ টার ফ্লাইটে তিনি চলে যান সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশী বংশদ্ভূত বিজন শীল সিঙ্গাপুরের নাগরিক। তাঁর ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার তাকে ফিরে যেতে হয়েছে। ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সরকার অনুমতি দিলে তিনি আবার ফিরে আসবেন। অনুমতি না পেলে কর্মউপলক্ষে ড. বিজন শীল বাংলাদেশে আসতে পারবেন না।
যাওয়ার আগে ড. শীল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে তো আমি সব সময়ই আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। এবার যাওয়ার আগে কেন যেন মনটা খুব বিষণ্ন। খুব কষ্ট অনুভব করছি। আমার ওয়ার্ক পারমিট হবে না, এমন সিদ্ধান্তও কিন্তু জানিয়ে দেওয়া হয়নি। কষ্টের কারণ হয়তো, এত মান সম্পন্ন কিট উদ্ভাবন করলাম, এখনো অনুমোদন পেলাম না। ভেতরে ভেতরে একটা ধারণাও হয়ত তৈরি হয়েছিল যে, অল্প সময়ের মধ্যে ওয়ার্ক পারমিট পেয়ে যাব।’
গণবিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ড. বিজনের ওয়ার্ক পারমিটের জন্যে আবেদন করা হয়েছে। নতুন করে তার পদের বিজ্ঞপ্তি দিতে বলা হয়েছিল। সেটা সম্পন্ন হয়েছে। ট্যাক্সসহ আরও কিছু কাগজ চেয়েছিল, তাও জমা দেওয়া হয়েছে। আরও একটি বিষয় বলা হয়েছে, ওয়ার্ক পারমিট পেলে বাংলাদেশের বাইরে থেকে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারপর আসতে হবে। এক প্রকার বাধ্য হয়েই ড. বিজনকে বাংলাদেশ ছাড়তে হচ্ছে। গণবিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র তার বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই খ্যাতিমান বিজ্ঞানীকে তারা কোনোভাবেই ছাড়তে চান না।


‘আমার ওয়ার্ক পারমিটের জন্যে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ধারণা করছি, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। প্রক্রিয়া বা আইনের প্রতি আমি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। যে দেশে জন্ম, বেড়ে ওঠা, কাদামাটির গন্ধ, বিশেষ কারণে আমি অন্য একটি ভৌগলিক অংশের বাসিন্দা। কাগজপত্র অনুযায়ী আমার সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট, আমি সিঙ্গাপুরের নাগরিক। কিন্তু, বাংলাদেশ তো আমার জন্মভূমি। সেই দেশের ওয়ার্ক পারমিট পাব না, কল্পনাও করতে চাই না। এমন তো না যে আমি অর্থের জন্যে চাকরি করতে এসেছি। এর চেয়ে পাঁচ-সাত গুণ বেশি সুবিধায় সিঙ্গাপুরসহ অন্য কোনো দেশে কাজ করা মোটেই কঠিন কিছু নয়। কিন্তু, আমি জন্মভূমিতেই কাজ করতে চাই। আমার তো আর অর্থ-সম্পদের দরকার নেই। যাই হোক, যদি ওয়ার্ক পারমিট পাই তবে সেই কাগজপত্র সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসে জমা দিতে হবে। তারা এমপ্লয়মেন্ট ভিসা দেবে। হয়তো ফিরে আসব প্রিয় জন্মভূমিতে। অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিট যে পর্যায়ে রেখে গেলাম, অনুমোদন পেলে উৎপাদনে যেতে পারবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। তবে, কিছু কারণে আমার উপস্থিত থাকার প্রয়োজন হতে পারে। যদি উপস্থিত থাকতে নাও পারি, সিঙ্গাপুর থেকেই সহায়তা করার চেষ্টা করব’, বলছিলেন ড. বিজন।

ড. বিজনের স্ত্রী ও দুই সন্তান সিঙ্গাপুরে থাকেন। গত সাত মাস গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবে সঙ্গীদের নিয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণা এবং করোনা পরিস্থিতির কারণে সিঙ্গাপুরে যেতে পারেননি। তার ওয়ার্ক পারমিট প্রক্রিয়া কতদিনে সম্পন্ন হবে, তা তিনি জানেন না। এখনো বিশ্বাস করেন তার উদ্ভাবিত অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিট সরকারের অনুমোদন পাবে। উৎপাদন শুরুর সময়ে তিনি বাংলাদেশে থাকতে চান।

‘বিশ্বাস করি, কারণ আমরা করোনাভাইরাস শনাক্তের অপরিহার্য কিট উদ্ভাবন করেছি। আমাদের কিটটি ইউনিক। আমাদের অ্যান্টিবডি কিট দিয়ে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না এবং নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা যায়। পৃথিবীর অন্যান্য র‌্যাপিড টেস্ট কিট দিয়ে শুধু অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা যায়, তা নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি কি না, সেটা শনাক্ত করা যায় না। অ্যান্টিবডির প্রকৃতি শনাক্ত করা অপরিহার্য দুটি কারণে। প্রথমত, যার শরীরে নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে, তার টিকার প্রয়োজন নেই। ১৭ কোটি মানুষের জন্যে আমরা টিকার ব্যবস্থা করতে পারব না। দ্বিতীয়ত, টিকা দেওয়ার পরে পরীক্ষা করে দেখতে হবে শরীরে নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। তৈরি না হলে বুঝতে হবে, টিকা কাজ করছে না। করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে হলে শুধু ভ্যাকসিন ভ্যাকসিন করলে হবে না। অ্যান্টিবডি টেস্ট করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই’, যোগ করেন তিনি।

কথা বলার সময় ড. বিজনের গলা ভারী হয়ে আসছিল। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিটের পেটেন্ট প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ র‌্যাপিড টেস্ট কিট উদ্ভাবন করে ব্যবহার শুরু করেছে। যদিও র‌্যাপিড টেস্ট কিট উদ্ভাবনের প্রথম ঘোষণা বাংলাদেশ দিয়েছিল।
ড. বিজন বলছিলেন, ‘পৃথিবীতে সবার আগে উদ্ভাবন করে বাজারে আনতে পারিনি, এই দুঃখ সারাজীবন থাকবে। তবে, ভালো সংবাদ হলো আমরা পেটেন্ট করে ফেলেছি। আমাদের ইউনিক কিট অন্য কোনো দেশে তৈরি করতে পারবে না। শুরু থেকে বেশ কয়েকটি দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তারা তাদের দেশে উৎপাদন করতে চায়। এখনো সেই চাহিদা আছে। দেখেন, আমি খুব সাধারণ একজন মানুষ। বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের মানুষের প্রতি মমত্ববোধ কথা বলে বোঝাতে চাই না। সত্যি বলছি, এই কিট অন্য কোনো দেশে উৎপাদন হোক তা আমরা কখনো চাইনি।
উল্লেখ্য, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ড. বিজন কুমার শীলদের উদ্ভাবিত অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিটের ঘোষণা দেয় মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। অনুমোদনের জন্যে আবেদন করে বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কাছে।  ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ৩০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএসএমএমইউ) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট পরীক্ষার অনুমতি দেয়। ২ মে বিএসএমএমইউ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট পরীক্ষার জন্যে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করে। তারপর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ট্রায়ালের জন্যে কিট জমা দেয়। প্রায় দেড় মাস পর ১৭ জুন বিএসএমএমইউ অ্যান্টিবডি টেস্ট কিট পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়। তার আগেই বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটের নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতিতে ত্রুটি ধরা পড়ে। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরীক্ষা স্থগিত রাখার আবেদন করে। অল্প সময়ের মধ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র অ্যান্টিজেন কিটের নমুনা সংগ্রহের ডিভাইস তৈরি করে দেয়। তারপর থেকে অ্যান্টিজেন কিট পরীক্ষা নিয়ে চিঠি চালাচালি চলছে। পরীক্ষা আর শুরু হয়নি।
বিএসএমএমইউ পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা ৭০ শতাংশ সফল হিসেবে প্রমাণ হয়। কিন্তু, আরও মান উন্নয়নের পরামর্শ দিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কিটের মান আরও উন্নত করেছে বলে একাধিকবার জানান ড. বিজন কুমার শীল ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। কিন্তু, পুনরায় পরীক্ষার জন্যে যে নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পূরণ করা অসম্ভব বলে মনে করেন ড. বিজন। তারপর থেকেই বিষয়টি আটকে আছে।

তরুণ ব্যারিস্টার আসিফের মৃত্যু আত্মহত্যা না হত্যা? দানা বাঁধছে রহস্য : স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের

0

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুকে প্রথমে আত্মহত্যা বলা হলেও এখন এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা বলে মনে করছেন আসিফের বাবা। ঘটনার ৫ দিন পর আসিফের স্ত্রী সাবরিনা শহীদ নিশিতা তার বাবা এএসএম শহিদুল্লাহ মজুমদার, মা রাশেদা শহীদ এবং ছোট ভাই সায়মান শহীদ নিশাতকে আসামি করে মামলা করেছেন ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজের বাবা সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কলাবাগান থানার ওসিকে অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে আইনজীবী ইকবাল হোসেন বলেন, “আসিফ ইমতিয়াজ খান জিসাদকে হত্যার পর বারান্দা থেকে ফেলে দেওয়া হয়, যদিও আসামিরা এটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চেয়েছিল।
“আসিফ ইমতিয়াজের শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কথায় বাদী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। কিন্তু পরে পারিপার্শ্বিক ঘটনা, সুরতহাল প্রতিবেদন ও আসামিদের আচরণে বাদী বুঝতে পেরেছেন আসিফ লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেননি বরং তাকে হত্যা করে উপর থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাই দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় নিহত আসিফের বাবা বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন। আদালত কলাবাগান থানাকে এই মামলার অভিযোগটিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।”

৩৩ বছর বয়সী আসিফ গত ১১ সেপ্টেম্বর কাঁঠালবাগানের ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে শ্বশুরবাড়ির নবমতলার বারান্দা থেকে ‘লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন’ বলে তার স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল পুলিশ।
ব্যারিস্টার আসিফের বাবা শহিদুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-কামারখন্দ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। পরিবার নিয়ে ঢাকার মিরপুরে থাকেন তিনি।
ঘটনার ১৫ দিন আগে আসিফ বাবার মিরপুরের বাসা থেকে কাঁঠালবাগানের শ্বশুরবাড়িতে উঠেছিলেন

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায় “আসিফের বাবা-মা প্রথমে বিয়ে মেনে না নিলেও পরে মেনে নেন। তবে আসিফের স্ত্রী অধিকাংশ সময় বাবার বাড়িতেই থাকতেন।”

ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে আসিফের শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে বলছিল, আসিফ বাসায় বিয়ার পান করত। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য থেকে সে ভোরে ফজরের নামাজের সময় বারান্দা থেকে লাফিয়ে পড়ে।

পরে আসিফকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ব্যারিস্টার আসিফের রহস্যজনক মৃত্যুতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন ও সেক্রেটারি রুহুল কুদ্দুস কাজল গত বুধবার এক বিবৃতিতে মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে সমিতির সদস্য ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে ঢাকার কলাবাগানে তাঁর শ্বশুর বাড়ির ৯তলা থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন ব্যারিস্টার আসিফ ইমতিয়াজ। তাঁর বাবা সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ শহীদুল ইসলাম খানও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। প্রাথমিকভাবে তাঁর মৃত্যুটি আত্মহত্যা মনে হলেও পূর্বাপর ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় এই মৃত্যু নিয়ে নানামুখী রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনজীবী আফিস ইমতিয়াজের মৃত্যু নিয়ে সৃষ্ট রহস্য অবিলম্বে নিরসন হওয়া জরুরী বলে মনে করে সুপ্রিম কোর্ট বার। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকরী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান সমিতির নেতৃবৃন্দ।

মানবপাচার : কুয়েতে গ্রেপ্তার সাংসদ পাপলুর বিচার শুরু, হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

0

মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষীপুরের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলর বিচার শুরু হয়েছে কুয়েতের আদালতে। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার, ঘুষ দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তায় হুমকির অভিযোগ এনেছে কুয়েতের প্রসিকিউশন।
পাপুলের সঙ্গে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন কুয়েতের দুই এমপি সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদ (বামে) ও সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি বরখাস্ত মেজর জেনারেল মাজেন আল-জাররাহও রয়েছেন অভিযুক্তদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় দেশটির অপরাধ আদালতের কাউন্সেলর আব্দুল্লাহ আল-ওসমানের আদালতে এ বিচার শুরু হয়।
কুয়েতের আরবি ভাষার দৈনিক আল-কাবাসের খবরে এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়, ১ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন বিচারক।
পাপুলের পক্ষ থেকে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে রাখার আদেশ দিয়েছে আদালত। খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের সেখানে বসবাসের অনুমতি রয়েছে।
পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন।
গ্রেপ্তারের পর ১৭ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এমপি পাপুলকে।
কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের তদন্তে পাপুলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, মানবপাচার, ঘুষ বিনিময় ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পাপুলের সঙ্গে অভিযুক্ত হিসাবে রয়েছেন কুয়েতের দুজন সংসদ সদস্য সাদুন হাম্মাদ আল-ওতাইবি ও সালাহ আবদুলরেদা খুরশিদ।
বাংলাদেশি এমপির কাছ থেকে ‘ঘুষ নিয়ে’ অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
জামিনে থাকা দুই কুয়েতি সাংসদ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হননি বলে জানিয়েছে আল-কাবাস পত্রিকা।
কুয়েতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে আরও তিন বাংলাদেশি নাগরিকের জামিন বাতিল করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
আল-কাবাসের খবরে বলা হয়, মামলার তদন্তের সময় অভিযুক্ত হিসাবে ১৩ জনের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে থেকে চারজনকে তদন্তকালে বাদ দেওয়া হয়।
সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কুয়েত গিয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়া পাপুল ২০১৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শুধু তাই নয়, নিজের স্ত্রী সেলিনা ইসলামকেও সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য করে আনেন তিনি।
তার মালিকানাধীন মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানি পরিচ্ছন্নতাকর্মী নেওয়ার কাজ করলেও কুয়েতে অন্যান্য ব্যবসার কাজও বাগিয়েছিলেন পাপুল।

সংসদের আতর আলী বরখাস্ত

0

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেয়ায় সংসদ এলাকায় নিষিদ্ধ মো. আতর আলীকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সংসদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা সমিতির সাবেক এই সভাপতির সংসদে যাওয়ার পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর তাকে পরিচয়পত্র জমা দেয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়।

সংসদের ডেপুটি সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স) এস এম সিরাজুল হুদা তার পরিচয়পত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। এরপর নিষিদ্ধ আতর আলী লোক মারফত বুধবার পরিচয়পত্র জমা দেন।

প্রসঙ্গত; গত ১৭ অগাস্ট সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে আতর আলী সেখানে তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ স্পিকার থাকার সময় ‘এ ধরনের অনুষ্ঠান হয়নি’।

সরকারি কর্মচারী হয়েও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য দেয়ায় আতর আলীকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। পরে তাকে সংসদ এলাকায় নিষিদ্ধ করা হয়। গত ৬ সেপ্টেম্বর সংসদের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ খালেদুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়।

ঢাকায় বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক : প্রাধান্য পেয়েছে সীমান্ত হত্যা ও মাদক দ্রব্য চোরাচালান বন্ধের বিষয়

0

রাজধানী ঢাকার পিলখানাস্থ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরে বিজিবি-ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) ডিজি পর্যায়ের বৈঠকের আলোচনায় সীমান্ত হত্যা ও মাদক চোরাচালান বন্ধের বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি ও বিএসএফ প্রধানের বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এছাড়া অস্ত্র ও মাদক পাচার বন্ধের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়েছে।
৪ দিনব্যাপী সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিটে পিলখানা বিজিবি সদর দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনের বৈঠক বিকেল ৩ টার দিকে শেষ হয়েছে বলে জানান বিজিবি। বাসস।
এবারের সম্মেলনে সীমান্তে নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের গুলি, হত্যা ও আহত করা, সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে বাংলাদেশে ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ, ইয়াবা, ভায়াগ্রা অথবা সেনেগ্রা ট্যাবলেটসহ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের চোরাচালান, অস্ত্র, গোলা-বারুদ ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাচার বন্ধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে বিজিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে নিয়ে যাওয়া অথবা আটক রাখা, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম অথবা বাংলাদেশে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ করানো, মানসিক ভারসাম্যহীন ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইন, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজ, উভয় দেশের সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ, বাংলাবান্ধা আইসিপিতে দর্শক গ্যালারী নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে যৌথ টহল পরিচালনা, রিজিয়ন ও ফ্রন্টিয়ার পর্যায়ের অফিসারদের নিয়মিত বৈঠক আয়োজন, পাবর্ত্য অঞ্চলে হিল ফ্লাইং প্রশিক্ষণ ও অপারেশন পরিচালনা এবং উভয় বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বিরাজমান সৌহার্দ্য বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্মেলনে বিএসএফ এর পক্ষে মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
এদিকে বিজিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সম্মেলনের যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সীমান্ত সম্মেলন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলন শেষে বিএসএফ প্রতিনিধিদল ঢাকা ত্যাগ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহন করেছেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালকবৃন্দ ও বিজিবি সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট স্টাফ অফিসারবৃন্দ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন এবং ভুমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রয়েছেন।
বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্থানার নেতৃত্বে ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদলে বিএসএফ সদর দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ এবং ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন।

১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ, সম্মিলিত চেষ্টায় ইলিশ আহরণে সাফল্য: শ ম রেজাউল করিম

0

চলতি বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এসময় দেশব্যাপী ইলিশ আহরণ, বিপণন, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, বিনিময় এবং মজুদও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মৎস্য ভবনে মৎস্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় । বাসস।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন ও শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরশেনের চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদ, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী শামস্ আফরোজ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, তথ্য মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী বিজিবি, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, র‌্যাব, নৌ-পুলিশ, ইকোফিশ প্রকল্পের প্রতিনিধি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মৎস্য খাত সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন মৎসীজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশের যে সাফল্য এসেছে তা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। দেশের সকল মানুষ এ কৃতিত্বের দাবীদার। আমাদের আন্তরিকতা, সততা, নিষ্ঠা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের কারণে এবছর ইলিশ আহরণে সাফল্য এসেছে। জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ সংরক্ষণ, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, জাটকা নিধন বন্ধে কঠোর অবস্থান এবং মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ইলিশের এ সাফল্য। ইলিশ উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোন বিকল্প নেই।’
দুবৃত্তায়ন রাষ্ট্রের উন্নয়নের পথে বাধা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন উন্নয়ন, অগ্রগতির পথে যে বাধা, তার কোন দল নেই। রাজনৈতিক প্রভাব যেন কাউকে কাজ করা থেকে বিরত করতে না পারে। আমাদের ছোট দেশে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় দায়িত্ব পালনকারীরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সে জায়গায় আমরা কোন প্রতিকূলতা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবো না। যারা দেশের উন্নয়নের পথে বাধা, মৎস্য সম্পদের বিকাশের পথে বাধা, আমাদের পুষ্টি ও আমিষের দুর্জয় সাফল্যের পথে বাধা তাদেরকে কোনভাবে আমরা ছাড় দেবো না।’