ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 165

ট্রান্সফ্যাটজনিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

0

ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের ফলে হৃদরোগ ও হৃদরোগজনিত মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। বিশ্ব জুড়ে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে প্রশংসনীয় অগ্রগতি হলেও থেমে নেই এই মৃত্যু। ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত “WHO REPORT ON GLOBAL TRANS FAT ELIMINATION 2020” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয় বিশ্বে ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ঘটে ১৫টি দেশে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে যত মানুষ মারা যায় তার ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ি ট্রান্সফ্যাট। ১৫টি দেশের তালিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লাটভিয়া ও স্লোভেনিয়া ইতোমধ্যে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত সর্বোত্তম নীতি গ্রহণ অর্থাৎ সকল ফ্যাট, তেল এবং খাবারে প্রতি ১০০ গ্রাম ফ্যাটে  ট্রান্সফ্যাটের  সর্বোচ্চ পরিমাণ ২ গ্রামে সীমিত করা, অথবা পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল- পিএইচও’র উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। বাকি ১১টি দেশকে (বাংলাদেশ, ইরান, ভারত, মেক্সিকো, নেপাল, পাকিস্তান, কোরিয়া, মিশর, আজারবাইজান,  ভুটান, ইকুয়েডর) দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে ডব্লিউএইচও। প্রকাশিত প্রতিবেদনে  আরো বলা হয় এ পর্যন্ত মোট ৫৮টি দেশ ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের নীতি গ্রহণ করেছে যার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে ৩.২ বিলিয়ন মানুষ সুরক্ষা পাবে। তবে নীতিমালার অভাবে এখনও ১০০ টির অধিক দেশ ট্রান্সফ্যাট ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এই বৈশ্বিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, এমন একটা সময় যখন গোটা বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারী নিয়ে লড়াই করছে এবং আমাদের অবশ্যই একইসাথে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এরমধ্যে অবশ্যই অসংক্রামক রোগ মোকাবিলার জন্য সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে কারণ করোনাভাইরাসে এগুলো আরও তরান্বিত হয়ে অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তিনি আরো বলেন, “২০২৩ সালের মধ্যে ট্রান্সফ্যাট মুক্ত বিশ্ব অর্জনের যে লক্ষ্য রয়েছে তাতে আমাদের কোনাভাবেই বিলম্ব করা যাবে না।” রিজলভ টু সেইভ লাইভস (আরটিএসএল) এর প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডা. টম ফ্রিডেন বলেন, “বিশ্ব জুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশসমূহ জনস্বাস্থ্যের জন্য সাশ্রয়ী পন্থা খুঁজছে। খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট মুক্ত করার মাধ্যমে একইসাথে জীবন ও অর্থ দুটোই বাঁচবে, এবং সেইসাথে হৃদরোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার উপর চাপও কমানো যাবে।”
এ বছরের প্রতিবেদনে দুইটি বিশেষ ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রথমত, ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের জন্য যেসমস্ত দেশ নতুন আইন বা নীতি গ্রহণ করেছে তারা এ বিষয়ে সর্বোত্তম পন্থাই বেছে নিয়েছে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা যায় ব্রাজিল, তুরস্ক এবং নাইজেরিয়ার নাম। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক সংগঠনসমূহ যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), প্যান অ্যামেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন (পাহো), গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) অঞ্চল ভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে অধিক রাষ্ট্রে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে উৎসাহ যোগাচ্ছে। তবে এই অর্জনের বিপরীতে একটি শঙ্কার বিষয় হলো, উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশসমুহ ট্রান্সফ্যাট নির্মূলে সর্বোত্তম পন্থা গ্রহণ করলেও নিম্ন বা নিম্নমধ্যম আয়ের কোনো দেশই এধরনের নীতিমালা এখনও গ্রহণ করতে পারেনি।
অতিসম্প্রতি ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডসমূহের নমুনার ৯২ শতাংশে ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২% মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) পেয়েছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট এর গবেষকগণ।  গবেষণায় ঢাকার পিএইচও নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রতি ১০০ গ্রাম পিএইচও নমুনায় সর্বোচ্চ ২০.৯ গ্রাম পর্যন্ত ট্রান্সফ্যাট এর উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে, যা ডব্লিউএইচও এর সুপারিশকৃত মাত্রার তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি। বাংলাদেশে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে জনস্বাস্থ্য। এমতাবস্থায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবধরনের ফ্যাট, তেল এবং খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্সফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

 

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার: ন্যাদারল্যান্ডস থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বাংলাদেশে স্থানান্তরের অনুরোধ আইনজীবীদের

0

রোহিঙ্গাদের হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে শুনানি হবে, সেটি যেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পরিবর্তে অন্য কোন দেশে, বিশেষ করে বাংলাদেশে আদালত বসিয়ে করা হয়, সেরকম একটি আবেদন পেশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির সব কার্যক্রম সাধারণত চলে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে। কিন্তু এই প্রথম এরকম কোন উদ্যোগ নেয়া হলো, যেখানে ভিক্টিম বা নির্যাতিতদের শুনানির জন্য আদালতকেই অন্য কোন দেশে বসানোর আবেদন জানানো হয়েছে। বিবিসি বাংলার সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন বুধবার এই সংবাদ পরিবেশন করেন।


বিবিসি বাংলা জানায়, আইসিসিতে এরকম একটি আবেদনের কথা জানা গেল এমন এক সময়, যখন মিয়ানমারের দুজন সৈন্য, যারা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনায় সরাসরি অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন এবং দ্য হেগে গিয়ে পৌঁছেছেন বলে খবর বেরিয়েছে।

মিয়ানমারকে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য যে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন, সেখানে এই দুটি ঘটনাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবীরা।

সম্ভাব্য দেশ বাংলাদেশ।
দ্য হেগের যে বিচার আদালতে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের হত্যা-নিপীড়নের অভিযোগের শুনানি হওয়ার কথা, সেই আদালত যেন অন্য কোন দেশে বসিয়ে শুনানি করা হয়, সেরকম একটি আবেদন পেশ করা হয় গত মাসে।

আবেদনটি করেন রোহিঙ্গাদের পক্ষে কাজ করছে এমন তিনটি ‘ভিকটিম সাপোর্ট গ্রুপ‌ে’র আইনজীবীরা। তারা এমন একটি দেশে এই শুনানির অনুরোধ জানিয়েছেন, যেটি নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের কাছাকাছি কোন দেশে হবে।

আবেদনে দেশের কথা উল্লেখ না থাকলেও, আইসিসি এই আবেদনের অগ্রগতির যে বিবরণী প্রকাশ করেছে, তাতে এই দেশটি ‘সম্ভবত বাংলাদেশ‌‌‌’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসির তিন নম্বর ‘প্রি ট্রায়াল চেম্বার‌’ আদালতের রেজিস্ট্রি বিভাগকে আদেশ দিয়েছে, দ্য হেগ থেকে অন্য কোন দেশ, যেমন বাংলাদেশে আদালতের কার্যক্রম সরিয়ে নেয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে। আগামী ২১শে সেপ্টেম্বরের আগেই এই সম্ভাব্যতা যাচাই করে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

কেন আদালত অন্য দেশে বসানোর উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবি আহমেদ জিয়াউদ্দীন বিবিসি বাংলাকে বলেন, অন্য দেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের শুনানির জন্য আদালত বসানোর উদ্যোগ খুবই বিরল এক ঘটনা। যেহেতু নির্যাতনের শিকার হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশেই আছেন, তাই এটি বাংলাদেশে হলে শুনানিতে তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ দেয়া সহজ হবে।
আবেদনকারি আইনজীবীরাও এরকম যুক্তিই দিয়েছেন।
শ্যানন রাজ সিং নামে একজন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবি এ নিয়ে একটি ব্লগে লিখেছেন, “পাখির মত উড়ে গেলে, বৃষ্টিস্নাত দ্য হেগ থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব আনুমানিক ৮,০০০ কিলোমিটার। সেখানকার শরণার্থী শিবিরে নির্যাতনের শিকার যে রোহিঙ্গারা থাকেন, তাদের জন্য এই দূরত্ব একেবারেই অনতিক্রম্য‍।”

এই ব্লগে তিনি আরও বলেছেন যে, আইসিসির রুল অনুযায়ী, স্বাগতিক দেশের (নেদারল্যান্ডস) বাইরে অন্য কোন দেশেও এই আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ আছে। রোম স্ট্যাটিউটের একটি ধারা উল্লেখ করে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আদালত প্রয়োজন অনুযায়ী কোন মামলার পুরো বা আংশিক শুনানির জন্য অন্য কোন স্থানেও বসতে পারে।

মিয়ানমারের জন্য বড় ধাক্কা

এ সপ্তাহে প্রকাশ পাওয়া এই দু্টি ঘটনা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচারের দাবিতে যারা সোচ্চার, তাদের ভীষণভাবে উৎসাহিত করেছে। তাদের মতে, এর ফলে মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) বড় ধরণের চাপের মুখে পড়তে পারে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এবং কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন দেশত্যাগ করা মিয়ানমারের দুই সৈনিকের অপরাধের স্বীকারোক্তির যে বিশদ বর্ণনা প্রকাশ করেছে, সেটিকে অবশ্য মানবাধিকার আইনজীবীরা খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

ব্রাসেলসে কর্মরত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী আহমেদ জিয়াউদ্দীন বিবিসি বাংলাকে বলেন, নিউ ইয়র্ক টাইমস বা অন্যান্য মিডিয়ার রিপোর্টে এই দুই সৈনিকের যে ভিডিও টেস্টিমোনি বা স্বীকারোক্তিমূলক ভাষ্যের কথা বলা হচ্ছে, সেটার হয়তো সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতদিন যে অভিযোগগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে করা হচ্ছিল, তাদেরই দুজন সদস্য সেই অপরাধের কথা স্বীকার করছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এখনো পর্যন্ত এই দু্ই সৈনিকের ব্যাপারে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। প্রসিকিউটরের অফিস থেকেও কিন্তু বলা হয়নি এরকম দুজন সৈনিক তাদের তত্ত্বাবধানে আছে। যদি এই খবর সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের তদন্তে হয়তো এই দুই সৈনিকের ঘটনা একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে মিয়ানমারের বিপদে পড়ার সম্ভাবনা আছে। এটা একদিক থেকে খুবই ভালো খবর।

কিন্তু নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে যে ভিডিও সাক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে, সেটার কি কোন মূল্য আছে?

আহমেদ জিয়াউদ্দীন বলছেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট বা আইসিসির কাছে এই সাক্ষ্যের কোন মূল্য সেভাবে নেই।

“এর প্রথম কারণ হচ্ছে, আইসিসি নিজেই এখনো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করছে। সেই তদন্ত এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে। তদন্ত চলাকালে আইসিসি বিভিন্ন সূত্র থেকে বিভিন্ন তথ্য পেতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের যে রিপোর্টটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে দুজন সৈনিকের যে বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে, আইসিসির তদন্তকারীরা সেসব তথ্যকে কেবল অতিরিক্ত কিছু তথ্য হিসেবে গণ্য করবেন। এর চেয়ে বেশি কিছু করার নেই।

“কারণ কেউ যদি কোন অপরাধ স্বীকার করতে চান, সেটা আইসিসির আইন বা নিয়ম অনুসরণ করে হতে হবে। আর এই কাজটা কেবল মাত্র আইসিসির প্রসিকিউটর বা তদন্ত কর্মকর্তাই করতে পারেন। অন্য কারও কাছে দেয়া স্বীকারোক্তি, সেটা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছেই হোক, বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের কাছে হোক, আইসিসির এখন যে তদন্ত চলছে, এর চেয়ে বেশি কোন মূল্য তাদের কাছে আছে বলে আমার মনে হয় না।
“আমরা যারা মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এসব অপরাধের বিচার চাচ্ছি, তাদের কাছে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বলতে পারি, এতদিন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হচ্ছিল, এটা তার প্রমাণ। এটা আমাদের কাছে প্রমাণ বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আইসিসির কাছে এটা কোন প্রমাণ নয়।”

কিন্তু কথিত দুই সৈনিক যদি আইসিসির কাছে একই সাক্ষ্য দেন তখন কী হবে?

আহমেদ জিয়াউদ্দীন বলেন, এই দুই সৈনিক যদি আদালতের কর্মকর্তাদের কাছে একই সাক্ষ্য দেন, তাহলে সেটার অনেক মূল্য থাকবে। তবে আইসিসির তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে তারা যদি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়, শুধু দিলেই হবে না, তার সঙ্গে প্রমাণও দিতে হবে। তাহলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং আইসিসির বিচারকরা এসব কিছু বিবেচনা করবে।

এই সৈনিকরা নিজেরাই তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, কাজেই তাদের কি করা হবে?
আহমেদ জিয়াউদ্দীন বলেন, এই সৈনিকদের আসামী করা হবে, নাকি তাদের সাক্ষী বানানো হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে বিবেচ্য বিষয় হবে, সত্য উদঘাটন বা ঘটনার সুবিচার নিশ্চিত করা।

তবে তিনি বলেন, এই দুজন সৈনিক মনে হচ্ছে খুবই নিম্নপদস্থ। সাধারণত যারা “ফুট সোলজার’ বা সামনের কাতারের সৈনিক, তাদের খুব কম ক্ষেত্রেই আসামী করা হয়।

“আইসিসির আইনে আসামী করা হয় তাদেরই, যার সর্বোচ্চ দায়িত্ব আছে, ‍’দ্য পার্সন উইথ হাইয়েস্ট ক্রিমিনাল রেসপন্সিবিলিটি’। সেখান থেকেই শুরু হয় আইসিসির প্রক্রিয়া। যারা এর পরিকল্পনা করেছে তাদের, যারা এটি কার্যকর করেছে, বাস্তবায়ন করেছে, তাদের। এর মাঝে যারা আছেন, তাদের যে ধরা হবে না তা নয়, একমাত্র আইসিসি সিদ্ধান্ত নেবে এদের প্রসিকিউশন করা হবে কি হবে না।”

তিনি বলেন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হবে প্রসিকিউশনের জন্য। এই লোকগুলোকে সাক্ষী হিসেবে আনা হবে, নাকি অভিযুক্ত হিসেবে দাঁড় করানো হবে, এটা প্রসিকিউটর সিদ্ধান্ত নেবেন।

আহমেদ জিয়াউদ্দীন বলেন, আইসিসিতে এসে বা আইসিসির প্রসিকিউটরদের কাছে এরকম সাক্ষ্য দেয়ার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। কারণ ফুট সোলজার যারা থাকে, তারা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস যে কোন প্রসিকিউশন বা ইনভেস্টিগেশনের জন্য।
তিনি বলেন, “এরকম সাক্ষী দিতে আসা লোকজন যদিও নিজেরাই দোষী, তাদের কি করা হবে, সেই বিবেচনা প্রসিকিউটরকে করতে হবে। তারা দেখবে, ন্যায় বিচারের স্বার্থে, এদের বিচার করা ভালো হবে নাকি তাদের কাছ থেকে তথ্য আদায় করে আরও বড় বড় যারা আছেন, যাদের দায়িত্ব অনেক বেশি, তাদেরকে শাস্তি দেয়া ভালো।”

থানা হেফাজতে পিটিয়ে হত্যা, ৩ পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানা

0

রাজধানীর পল্লবী থানায় ২০১৪ সালে পুলিশ হেফাজতে ইশতিয়াক হোসেন জনি নামের এক যুবকের মৃত্যুতে দায়ের হওয়া মামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার যাবজ্জীবন এবং পুলিশের দুই সোর্সের সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত।
বুধবার দুপুরে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় পাঁচ আসামির মধ্যে তিন জন উপস্থিত ছিলেন। দুজন পলাতক।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ, এএসআই রাশেদুল ইসলাম, এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু। এছাড়া এ মামলায় পুলিশের দুই সোর্স রাসেল ও সুমনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রায়ে একই সঙ্গে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে । এছাড়া এই তিন পুলিশ সদস্যের প্রত্যেককে নিহতের পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মামলার অন্য দুই আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর-১১ নম্বর সেক্টরে স্থানীয় সাদেকের ছেলের গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান চলাকালে পুলিশের সোর্স সুমন মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। এ সময় জনি ও তার ভাই সুমনকে চলে যেতে বলেন। সুমন চলে গেলেও পরদিন এসে আবার আগের মতো আচরণ করতে থাকেন। তখন জনি ও তার ভাই তাকে চলে যেতে বললে সুমন পু্লিশকে ফোন করে তাদের ধরে নিয়ে যান। তাদের নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার লোকজন ধাওয়া দিলে পুলিশ গুলি ছোড়ে।
পরে থানায় নিয়ে জনিকে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে জনির অবস্থা খারাপ হলে ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিচারক তার রায়ে বলেছেন, ২০১৩ সালের নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে কোনো মামলায় দেশে এটাই প্রথম রায়। আর তিন পুলিশ সদস্যকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এ আইনে সেটাই সর্বোচ্চ সাজা।

রায়ের পর্যবেক্ষণে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ বলেন, “ভিকটিমের তিনজন বন্ধু এ মামলার চাক্ষুষ সাক্ষী। তারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন, নির্যাতনের সময় ভিকটিম পানি চাইলে তার মুখে থুথু ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কেবল আইনের বরখেলাপ নয়, মানবাধিকারের চরম লংঘন।”

জনির ভাই এ মামলার বাদী ইমতিয়াজ হোসেন রকি আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার রায় শুনে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, তারা জজ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

আসামিদের মধ্যে পল্লবী থানার তখনকার এসআই জাহিদুর রহমান খান ও পুলিশের সোর্স সুমন কারাগারে আছেন। এএসআই রাশেদুল জামিনে ছিলেন, রায়ের পর তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আর এএসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাসেল জামিনে গিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। তাদের পলাতক ঘোষণা করে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

মসজিদের সামনে নাচগান,ফেঁসে যাচ্ছেন নায়িকা মুনমুন, ক্ষমা চাইতে উকিল নোটিশ

0

মসজিদের সামনে কুরুচিপূর্ণ নৃত্যের ঘটনায় ফেঁসে যাচ্ছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মুনমুন। তাকে আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে জাতীয় দুটি পত্রিকায় ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। না হলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের চারজন আইনজীবী এই নোটিশ পাঠান। তারা হলেন- মেহেদী হাসান, নজরুল ইসলাম, রবিউল হাসান তুষার ও গোলাম ইমাম হোসেন।
এর আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের সখিপুরের পলাশতলী বাজার মসজিদের সামনে এই অভিনেত্রী অশ্লীল নৃত্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

নোটিশে বলা হয়, ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৯০.৪% মুসলমান এবং ধর্মভীরু মুসলমানরা ইবাদতের জন্য মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান করেছে। গত শুক্রবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইল জেলার সখিপুর উপজেলার পলাশতলী বাজার মসজিদের সামনে অশ্লীল ও কু-রুচিপূর্ণ নৃত্য করেন অভিনেত্রী মুনমুন। এতে ধর্মীয় উপশনালয়ের মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে।


এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। এতে মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ এবং দৃষ্টিকটু লেগেছে। যেহেতু ধর্মীয় উপাসনালয় এবং মসজিদের সামনে নাচ গানের কোনো বিধান নেই। আর এই ধরনের নৃত্য পরিবেশন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্মীয় চর্চার বাধার শামিল।

নোটিশে বলা হয়, অভিনেত্রী মুনমুন নৃত্য করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮ সহ দণ্ডবিধি আইনের ধারা ২৯৫, ২৯৫-ক এবং ২৯৮ ধারায় মুসলিম ধর্মানুভূতিতে আঘাতের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এমতাবস্থায়, তিন দিনের মধ্যে দুইটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় মসজিদের সামনে অশ্লীল নাচ-গান, নৃত্য পরিবেশনের জন্য ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ এবং নোটিশের মাধ্যমে অবগত করতে হবে। অন্যথায় এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মুনমুন যা বলছেন :
মসজিদের পাশে নাচের বিষয়ে মুনমুন বলছেন, ‘যদি জানতাম সেখানে মসজিদ আছে তাহলে কখনোই নাচতাম না।’

মুনমুন বলেন, ‘টাঙ্গাইলের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণে নৌকা ভ্রমণে গিয়েছিলাম। এক সময় নৌকা ভ্রমণের মাঝপথে আমরা এক জায়গায় সবাই খাওয়ার জন্য মিলিত হই। ওই জায়গাটা ছিল পরিত্যক্ত। সেখানে কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়ার আয়োজন করা হয়। খাওয়া শেষে আসরের পর অনেকের রিকোয়েস্টে সামান্য আমাকে নাচতে হয়। তবে মসজিদ লেখা সাইনবোর্ডটি আমি দেখিনি। যদি দেখতাম তাহলে ওখানে নাচ তো দূরের কথা বসে আড্ডাও দিতাম না। কারণ আমিও মুসলিম। আর আমি আমার ধর্মকে পালন করি।’

মুনমুন আরো বলেন, ‘আমার নাচের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, যে জায়গাটায় আমরা ছিলাম, ওই জায়গাটা অনেক আগে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে মসজিদ ছিল। তাই স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মসজিদ লেখা সাইনবোর্ড লাগানো ছিল। আমার সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সখীপুরের চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। সেই স্থানে মসজিদ রয়েছে তারা অবশ্যই জানতেন। কিন্তু তারা তো নিষেধ করেন নি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে যারা দাওয়াত দিয়ে নিয়েছেন তাদের রিকোয়েস্টে অল্প সময় নেচেছি। আর  সেখানে কোনো অশ্লীল নাচ কিন্তু করেনি। যেটা নিয়ে অনেকে মাতামাতি করছেন। আমি জেনে শুনে তো আর মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে নাচবো না। এই ভিডিও নিয়ে যারা মাতামাতি করছেন তাদেরকে বলবো এসব বন্ধ করুন।

অনুমতি ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা নয়, আইন সচিবকে মনে করিয়ে দিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

0

অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেন মামলা না হয় তা নিশ্চিত করতে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকারের অনুমতি না নিয়েই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, এতে মাঠ পর্যায়ে “শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালন বা সরল বিশ্বাসে করা কাজের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আইন যেসব বিধান রয়েছে চিঠিতে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

চলতি মাসের শুরুতে দুই ব্যবসায়ী ড্রেজার পোড়ানোর অভিযোগ এনে মাদারীপুরের ডিসি ড. রহিমা খাতুনসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন আদালতে।

জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত ওই মামলা গ্রহণ করে পিবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির সাব-সেকশন-১ থেকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, “বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার কর্তব্য/দায়িত্ব পালনে কৃত বা এ মর্মে দাবিকৃত কোনো কাজের জন্য সরকারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো অপরাধ আমলে গ্রহণ করা যাবে না।”

আর ১৮৫০ সালের ‘জুডিশিয়াল অফিসার্স প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ এর সেকশন-১ এ বলা হয়েছে, “কোনো জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে তার বিচারিক প্রকৃতির কার্যক্রম বা দেওয়া কোনো আদেশের কারণে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।”

চিঠিতে বলা হয়েছে, অপরাধ প্রতিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম অধিকতর কার্যকর ও গতিশীলতার সঙ্গে সম্পাদনের জন্য পরিচালিত মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমের ‘বিষয়ে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’ এর ১৪ ধারায় বিধান রয়েছে যে, এই আইন বা তার অধীনে প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে করা বা করা বলে বিবেচিত কোনো কাজের জন্য কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে, তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বা ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো প্রকার আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবেন না।

এছাড়া ১৯০৮ সালের ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর, এর সেকশন-৯ এবং অর্ডার-৭ রুল-১১ (ডি) এ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দেওয়ানি আদালতে এখতিয়ার বারিত হওয়া ও আরজি খারিজের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে, ‘আইনের শাসন’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সৎ সাহস এবং প্রভাবমুক্ত মনন ও বিবেচনাবোধের মাধ্যমে যথাযথ সিদ্ধান্ত প্রদান ও দৃঢ়ভাবে তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব বিধানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

“সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক/জেলা ম্যাজিস্ট্রেট/কালেক্টর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মচারীদের সরকারি দায়িত্ব পালনে করা কাজের জন্য তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে মামলা করা হচ্ছে।

“কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা প্রতিপালিত হচ্ছে না। এতে করে আইনের ব্যত্যয় ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ/দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নদী, খাল, বিল, বন, জলাশয়সহ সরকারি সম্পত্তি ও স্বার্থরক্ষা, অবৈধ ক্ষতিসাধন/জবরদখল প্রতিরোধ ও উচ্ছেদ অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।”

চিঠিতে বলা হয়েছে, যে কোনো সরকারি কার্যক্রম বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল দায়ের কিংবা প্রতিকার চেয়ে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে পারেন।

কোনো কর্মচারী আইনের গুরুতর অপপ্রয়োগ করলে, এখতিয়ারবিহীন ক্ষমতার অনুশীলন করলে কিংবা তার কোনো সিদ্ধান্তে মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে যেতে পারেন। অন্যদিকে অধঃস্তন আদালতগুলোর এখতিয়ার এবং কোন কোন ক্ষেত্রে সেটি বারিত থাকবে তা আইনে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।

“এ অবস্থায় বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট ও সরকারি কর্মচারীদের সরল বিশ্বাসে করা কাজের সুরক্ষা প্রদান সম্পর্কিত এবং বিচারিক/সরকারি দায়িত্ব পালনে করা বা এ মর্মে দাবিকৃত কাজের জন্য তাদের ব্যাক্তিগতভাবে দায়ী করে ফৌজদারি মামলা আমলে নেওয়ার আগে সরকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।”

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য নতুন আমীর ঘোষণা করেছে আইএস ; খবরের সত্যতা নিয়ে সংশয়

0

বাংলাদেশে আবারও কথিত ইসলামিক স্টেটের একজন নতুন প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে বলে একটি খবর বেরিয়েছে। ভারতের জি নিউজে কাজ করেন এমন একজন সাংবাদিক একটি টুইটে এই খবরটি দিয়েছেন।

পুজা মেহতা, যিনি জি নিউজের সন্ত্রাসবাদ এবং অপরাধ বিষয়ক একজন সংবাদদাতা, তার পোস্ট করা টুইটে বলা হয়েছে, আইএস বা আইসিস-পন্থী একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে বাংলাদেশে সংগঠনের নতুন আমীর নিয়োগের বিষয়টি ঘোষণা করা হয়েছে।

পুজা মেহতার টুইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের নতুন আমীরের নাম ‘আবুল আব্বাস আল বাঙ্গালি।’

কিন্তু আন্তর্জাতিক জিহাদি সংগঠনগুলোর তৎপরতার খোঁজ-খবর রাখেন এমন বিশেষজ্ঞরা এই দাবির ব্যাপারে গুরুতর সংশয় প্রকাশ করছেন। খবর বিবিসি বাংলা।

সুইডেনে অবস্থানরত বাংলাদেশি লেখক এবং সাংবাদিক তাসনীম খলিল বলছেন, এ নিয়ে গত কয়েক বছরে এমন তিন জনের নাম শোনা গেল, যাদেরকে বাংলাদেশে আইসিস এর নতুন প্রধান বলে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু এসব দাবির কোনটিরই সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে আইসিস নিজেই বিবৃতি দিয়ে এই দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এই দাবি নিয়ে কেন সংশয়?

তাসনীম খলিল বলছেন, ভারতীয় সাংবাদিক পুজা মেহতার টুইটে যে দাবি করা হয়েছে, তা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তাসনীম খলিল বলেন, “আইসিসের অফিশিয়াল কিছু টেলিগ্রাম চ্যানেল আগে ছিল। আইসিসের মিডিয়া ডিপার্টমেন্ট যারা চালাতো, তারা এগুলো পরিচালনা করতো। আমিও সেই চ্যানেলগুলোতে সাবস্ক্রাইব করতাম।”

তাঁর মতে, বাংলাদেশের ব্যাপারে খবর দেয়ার যে অফিশিয়াল চ্যানেলগুলো আইসিসের ছিল, সেগুলো এখন আর নেই। কাজেই এই টুইটে প্রো-আইসিস বাংলাদেশ টেলিগ্রাম চ্যানেলের বরাতে যা বলা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর।

‍”আর আইসিসের এখনো যে গুটিকয়েক চ্যানেল আছে, সেগুলোতে কিন্তু আমরা এখনো পর্যন্ত এ ধরণের কোন খবর দেখিনি যে তারা নতুন কোন আমীর বাংলাদেশে নিয়োগ করেছে।”

তাসনীম খলিলের মতে, বাংলাদেশে আইসিসের সাংগঠনিক অবস্থান এখন নেই বললেই চলে। কাজেই যে সংগঠনই নেই, সেই সংগঠনের আমীর নিযুক্ত করার বিষয়টি একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।

“আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আইসিসের আমির নিযুক্ত করারও কয়েকটা প্রক্রিয়া আছে। যে কেউ হঠাৎ করে টুইটারে বলে দিলেই কিন্তু নতুন আমীর নিযুক্ত হয়ে যায় না।”
বাগদাদীর মৃত্যুর পর ইসলামিক স্টেটের সংগঠন প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে

‍”এই জন্য সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি এই দাবিটা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়, হাস্যকরও বটে।”

তাসনীম খলিল বলেন, যেহেতু আইসিসের নিজস্ব যোগাযোগের চ্যানেলগুলোও এখন নেই, তাই এরকম কোন দাবির সত্যতা যাচাই করার সুযোগও নেই।

ছদ্মনাম নিয়ে প্রশ্ন

তাসনীম খলিল বাংলাদেশে আইসিসের কথিত নতুন আমীরের ছদ্মনাম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, পুজা মেহতার এই টুইটে বেশ কিছু ভুল আছে। এতে নতুন আইসিস আমীরের নাম ‘আবুল আব্বাস আল বাঙ্গালি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আইএস সাধারণত তাদের নেতা বা যোদ্ধাদের যে নাম প্রকাশ্যে প্রচার করে, সেটি আসলে ছদ্মনাম, বা তাদের ভাষায়, কুনিয়া। আইএসের এর কুনিয়া সাধারণত এরকম হয় না।

এই কুনিয়ার দুটি অংশ থাকে। একটি অংশে মূলত পারিবারিক সম্পর্কের ইঙ্গিত থাকে, আরেকটিতে থাকে তিনি কোন দেশ বা কোন অঞ্চলের মানুষ, সেটির ইঙ্গিত।

তাসনীম খলিল বলেন, ‘আবুল আব্বাস আল বাঙ্গালি’ নামটি যদি আইএসের দেয়া নাম হতো, এটি আসলে হতো ‘আবু আব্বাস আল বাঙ্গালী। আবু আব্বাস মানে আব্বাসের পিতা, আর আল-বাঙ্গালি মানে বাংলাদেশি বা বাংলাদেশের মানুষ।
বাংলাদেশে আইসিসের প্রথম ঘোষিত আমীর ছিলেন সাইফুল্লাহ ওজাকি, যার কুনিয়া বা ছদ্মনাম ছিল আবু ইব্রাহীম আল হানিফ। সাইফুল্লাহ ওজাকির একটি ছোট ছেলে ছিল, যার নাম ছিল ইব্রাহীম। তার ভিত্তিতেই এই কুনিয়া।

বাংলাদেশে আইসিসের নেতৃত্ব

বাংলাদেশে আইএসের এখনো পর্যন্ত স্বীকৃত আমির একজনই ছিল, তার নাম ছিল আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। তার প্রকৃত নাম ছিল সাজিথ দেবনাথ। ধর্মান্তরিত হয়ে জাপানে অবস্থানকালে তার নতুন নাম হয় সাইফুল্লাহ ওজাকি। তাকেই বাংলাদেশের গুলশানে হোলি আর্টিজানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী বলে মনে করা হয়। ২০১৯ এর মে মাসে খবর আসে যে ইরাকে কুর্দি বাহিনীর হাতে সাইফুল্লাহ ওজাকি ধরা পড়েছেন।

তাসনীম খলিল জানান, ওজাকির পর বাংলাদেশে আরও দুজন আইসিসের আমীর হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। এদের একজনের নাম বলা হয়েছিল আবু শফিক আল বাঙ্গালি (২০১৭) । অপরজনের নাম আবু মুহাম্মদ আল বাঙ্গালি। কিন্তু পরে এই দুটি দাবিরই কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

“বাকিয়া মিডিয়া স্ট্রাইক’ নামে বাংলাদেশে আইসিসের যে কমিউনিকেশন চ্যানেল ছিল, তারা নিজেরাই এর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তারা বলেছিল, এগুলো আইসিসের শত্রু এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কাজ করা ‘গুপ্তচরদের’ প্রচারণা।
‘হানিপট অপারেশন’

আইসিসের নতুন আমীর নিয়োগের এরকম দাবি যদি ভুয়া হয়ে থাকে, সেই প্রচারণার উদ্দেশ্য কী হতে পারে?

তাসনীম খলিল বলেন, বিভিন্ন দেশে যেসব নিরাপত্তা বাহিনী বা গুপ্ত সংস্থা ‘কাউন্টার টেররিজম’ কাজে যুক্ত, তারা নিজেরাই অনেক সময় ছদ্ম প্রচারণা চালিয়ে সম্ভাব্য জঙ্গিদের ফাঁদে আটকানোর চেষ্টা করে। এধরণের তৎপরতাকে বলা হয় হানিপট অপারেশন, অর্থাৎ মধুর লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা। বিভিন্ন নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাইবার সেলগুলো এরকম তৎপরতা চালিয়ে থাকে। এটা সেরকম কোন অপারেশনের অংশ হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

বাংলাদেশে আইসিসের তৎপরতা সম্পর্কে যে অনেক মিথ্যে প্রচারণা চালানো হয়, তার একটি সাম্প্রতিক উদাহারণ তুলে ধরেন তিনি।

“সম্প্রতি বাংলাদেশে খবর বেরিয়েছিল যে, ঢাকার এক পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় যুক্ত থাকার দাবি করেছে আইসিস। সাইট ইন্টেলিজেন্স থেকে অনেকেই এই খবরটি প্রচার করলো। অথচ এই ফাঁড়িতে বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে যে আইসিসের কোন সম্পর্ক ছিল না, সেটা বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজম পুলিশের তদন্তেও বেরিয়ে এসেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। মূলত পুলিশের চক্রান্তটি ভন্ডুল হয়ে যাওয়ার পর আইসিসের এই মিথ্যে দাবি ছড়ানো হয়।”

রোহিঙ্গাদের নিয়ে এনজিওদের কর্মকাণ্ড তদারকি হবে, গঠন হচ্ছে গোয়েন্দাদের সমন্বয় কমিটি

0

এনজিওর ব্যানারে কিছু কিছু সংস্থা রোহিঙ্গাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে এমন অভিযোগ রয়েছে সরকারের কাছে। অনেকেই রোহিঙ্গাদের অপরাধ কার্যক্রমে জড়ানোর চেষ্টা করছে। সরকার বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি শক্তভাবে তদারকি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া দেশের সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থা যাতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে এ জন্য একটি সমন্বয় কমিটি করার কথা ভাবা হচ্ছে। মঙ্গলবার আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানান, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সেখানে কিছু আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকতা আছে এনজিওদের নামে যাতে রোহিঙ্গারা বিভিন্নভাবে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে মারামারি, কাটাকাটি বা মাদকদ্রব্য ও ক্রাইমের সাথে জাড়িত হচ্ছে সেগুলোও নিয়ন্ত্রণের জন্য… ২৪টি টাওয়ার নির্মাণ করে সেখান থেকে সিসি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
“প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসি ক্যামেরা দিয়ে তাদের কার্যক্রম মনিটর করা হবে। ক্রাইমের সঙ্গে অল্প সংখ্যক জড়িত। কেউ কেউ মাদক পাচারেও জড়িত হয়ে যায়, বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।” খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/বাসস।
এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, “রোহিঙ্গাদের কারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে তা আরও সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। তারা কী অন্যায় কাজ করছে, কী খারাপ কাজ করছে সেটা দিতে বলেছি।”
গোয়েন্দাদের কাজ সমন্বয়ে কমিটিঃ
দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যেসব কাজ করছে সেগুলো সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি করবে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে সেই কমিটি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, “গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজের সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাকে একই আমব্রেলার নিচে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

“সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই কমিটি করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন এলে তারা কম্পাইল করবে।”

বাংলাদেশে মাদক কারবারে যে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়, তা দিয়ে সমাজের নেতৃত্বদাতাদের ‘অনেককে কিনে ফেলা হয়’ বলে মনে করেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

সেই উপলব্ধি থেকে মাদক কারবারিদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও শনাক্ত করতে গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “মাদক যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে, তারপরেও আরও উন্নত করতে চাই। বাংলাদেশের বিশাল বর্ডার, অনেক দুর্গম জায়গাও আছে। সেখান দিয়ে ক্রিমিনালরা সহজেই ঢুকে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে।

“আমাদের ধারণা যে ১০/২০ টাকার মাদকের ট্যাবলেট ৩০০-৪০০ টাকা করে বিক্রি করে, সেজন্য অনেকের মাথা কিনে ফেলে। যারা সমাজের নেতৃত্বকারি তারাও ইনভলভ হয়ে যাচ্ছে, যারা মাদকসেবী তারা তো আছেই। এছাড়া উচ্চ পর্যায়ের লোকেরাও, বড় বড় ব্যবসায়ীরা
মাদকদ্রব্য বেচাকেনা করে ‘সহজে অর্থ রোজগার করা যায়’ বলে অনেকেই এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন বলে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা এখন সব থেকে গুরুত্ব দেব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, (মাদক) আনা-নেওয়া করে শুধু তারা না, তাদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় সেগুলো গোয়েন্দা সংস্থাকে বলা হয়েছে আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের আইডেন্টিফাই করে হাত দিতে হবে।”

মাদকের দৌরাত্ম্য কমাতে বছর দুয়েক ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কথিত বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন অনেক মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। তারপরেও দেশে মাদকের কারবার চলছে।

মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও বেশি মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, “যারা মাদক চালানের সাথে জড়িত তাদের শাস্তি যেন দৃশ্যমান হয় সেজন্য আগের আইনের দুর্বলতা কাটিয়ে আইনকে আপডেট করার ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন না জানিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, “নিম্ন আয়ের লোকদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, আর্থিক সংকটে সারা জাতি আছে।

“এ অবস্থায়ও আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আছে এবং যেহেতু মানুষের আয় রোজগারের পথ কমে গেছে কাজেই ওই লোকজন হয়ত ক্রাইমের দিকে যাবে, কিন্তু সেটা আল্লাহর মেহেরবাণীতে, প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে বলে আমরা মনে করি।”
রাষ্ট্রবিরোধী ‘চ্যানেলে’ বিজ্ঞাপনদাতাদের চিহ্নিতের নির্দেশঃ
রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত থাকা ফেইসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেলে কারা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে এবং কীভাবে সেই বিজ্ঞাপনের বিল পরিশোধ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে এনবিআরকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

মন্ত্রী মোজাম্মেল বলেন, “আপনারা নিশ্চয় লক্ষ করেছেন ইউটিউব, ফেইসবুকে কিছু কিছু চ্যানেল বের হয়েছে, এসবের মাধ্যমে শুধু সরকারবিরোধী নয়, সরকারের বিরুদ্ধে বলার তো আপনার অধিকার আছে। তাদের বক্তব্য রাষ্ট্রবিরোধী।

“যারা এসব সংবাদ প্রচার করে সেখানে অনেক বিজ্ঞাপন আছে, টাকার উৎস কী, সেটা কারা দেয় এবং কিভাবে এই বিজ্ঞাপন দেয়, দেশে পেমেন্ট হয় নাকি বিদেশে হয়, সেগুলো যাচাই করে দেখতে এনবিআরকে বলেছি।

“বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে, মোবাইল বা অনলাইনে বা অত্যাধুনিক কোনো প্রক্রিয়ায়, সেজন্য এনবিআরকে আমরা অনুরোধ করেছি এই বিজ্ঞাপন দেয় কারা তা খতিয়ে দেখতে।”

তিনি বলেন, “সরকার প্রেসের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী উদার। কিন্তু কোনো লাইসেন্স নাই, পারমিশন নেই এ রকম… সেগুলোর ব্যাপারে আমরা বিটিআরসিকে অনুরোধ করেছি, যারা এগুলো চালাবে তাদের জবাবদিহি থাকতে হবে।”

সাইবার অপরাধগুলো এখন খুব ‘অ্যালার্মিং’ হয়ে গেছে উল্লেখ করে মোজাম্মেল হক বলেন, “সাইবার অপরাধ দমনের জন্য গোয়ন্দা তৎপরতা বাড়াতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার হেড কোয়ার্টার এখানে শিফট করার মাধ্যমে মনিটর করব।
“কোনো কিছু বন্ধ করে দেওয়া হবে না, আমরা বন্ধে করার পক্ষে না। সেগুলোর জবাবদিহি থাকবে. আমরা তার পক্ষে।”

সাবরিনার এনআইডি জালিয়াতির ঘটনায় অধ্যাপক মিজানুরকে জড়িয়ে খবর, ইসি সচিব ও সময় টিভিকে উকিল নোটিশ

0

ডা. সাবরিনা শারমিন হুসেন ওরফে সাবরিনা আরিফের দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের জন্য নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ও সময় টেলিভিশনের বার্তা প্রধান তুষার আব্দুল্লাহসহ চারজনকে নোকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে পাঠানো এই উকিল নোটিশে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই খবর   ও সেখানে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে সংবাদ সম্মেলন করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর ছাড়াও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট মো. শাহাবুদ্দিন এবং সময় টিভির তুষার আব্দুল্লাহর সঙ্গে প্রতিবেদক বেলায়েত হোসাইনের কাছে এই উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
অধ্যাপক মিজানুর রহমানের পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী মো. সাজ্জাদ হোসেন, খান মোহাম্মদ শামীম আজিজ, মোহাম্মদ বাকির উদ্দিন ভূইয়া, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব।

ডাক ও ইমেইলে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে জানিয়ে মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব সাংবাদিকদের বলেন, “নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইলেক্ট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রত্যাহার করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের মক্কেলের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে নোটিশ গ্রহীতাদের বিরদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” 

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে জেকেজি হেলথ কেয়ারের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বরখাস্ত চিকিৎসক ডা. সাবরিনা। দুদকের অনুসন্ধানে তার দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র থাকার তথ্য বেরিয়ে আসে, এ নিয়ে মামলা করেছে নির্বাচন কমিশন।

তিনি দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি। তার ওই আবেদনে তৎকালীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমানের একটি ভিজিটিং কার্ড পাওয়া গেছে বলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ঘটনা তদন্তে একটি কমিটিও করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেছিলেন, “যদি কেউ অন্যায় চাপ প্রয়োগ করে তদবির করেন, বা যেটা করা যাবে না ওটার বিষয়ে চাপ দিয়ে বলেন এটা দিতে হবে, তবে সেটা অন্যায়। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র আইন অনুযায়ী উনিও একজন আসামি হবেন।”

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীরের এ বক্তব্যের আগেই সময় টিভি সাবরিনা আরিফের দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার ঘটনায় অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করে।

পরে গত শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে পাঠানো এক বিবৃতিতে অধ্যাপক মিজানুর রহমান নির্বাচন কমিশনের সচিব ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের টেকনিক্যাল এক্সপার্টকে ক্ষমা চাইতে বলেন।

ক্ষমা না চাইলে ‘মানহানির জন্য’ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছিলেন তিনি। এছাড়া এ বিষয়ে সম্প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদন প্রত্যাহার করতেও সময় টিভির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন অধ্যাপক মিজানুর রহমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক মিজানুর রহমান বিবৃতিতে বলেছিলেন, “আমি এখনও আশা করি, সময় টিভি কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন কমিশন আমার কাছে অপেশাদার ও অপরাধমূলক আচরণের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইবে।

“নির্বাচন কমিশন সচিবকে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ সচিব যে শব্দ ব্যবহার করেছে,  শব্দ চয়ন করেছে- আসামি করা হবে। এত বড় শব্দ- উনি আসামি শব্দের অর্থ বুঝেন কি না আমি জানি না। যদি ক্ষমা না চায় কে আসামি হবে- আমি দেখব।”

এরপর নির্বাচন কমিশনের সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, তিনি অধ্যাপক মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। সে কারণে ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গ আসছে না।

বরং ওই ঘটনা নিয়ে সময় টেলিভিশন যে খবর প্রকাশ করেছে, তা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

অধ্যাপক মিজানের বিরুদ্ধে মামলা হবে- তা বলিনি: ইসি সচিব

ইসি সচিব ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থা: অধ্যাপক মিজান  

অধ্যাপক মিজানুর রহমানের নোটিশে বলা হয়েছে, “নোটিশ গ্রহীতারা পারস্পরিক যোগসাজশে অধ্যাপক মিজানুর রহমানের নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে ক্রমাগতভাবে মিথ্যা, সূত্রহীন সংবাদ প্রচার করেছে।”

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ এর ৪ ধারা তুলে ধরে এতে বলা হয়, “আইন অনুযায়ী একজন নাগরিককে কেবল একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার বিধান আছে।

“জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৪ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংরক্ষিত তথ্য উপাত্ত (সংশোধন, যাচাই এবং সরবরাহ) প্রবিধানমালা, ২০১৪ অনুযায়ী যাচাই বাছাই করে একজন নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার সম্পূর্ণ দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার। তাছাড়া এ আইন, বিধি, প্রবিধি ও নাগরিকের পরিচয়পত্র নিবন্ধন আবেদনের কোথাও সুপারিশের কোনো বিধান নাই।

“ফলে অধ্যাপক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নোটিশ গ্রহীতাদের আনা ‘কথিত সুপারিশ’র অভিযোগ আইন ও বিধি ও তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট।”

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, “পারস্পরিক যোগসাজশে মিজানুর রহমানকে জড়িয়ে সময় টিভি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে মিথ্যা, বানায়োট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে চরম মানহানি করা হয়েছে।

“তাই দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারা অনুযায়ী মানহানিকর এবং ৫০০ ধারা অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধ প্রমাণ হলে নোটিশ গ্রহীতারা দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

“এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী নোটিশ গ্রহীতারা মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করে অপরাধ করেছেন। এ আইনে অপরাধ প্রমাণ হলে প্রত্যেককে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত  অর্থদণ্ডে বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।”

এছাড়াও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী অধ্যাপক মিজানুর রহমানের ‘ক্ষতি ও মান সম্মানহানি করার কারণে’ নোটিশ গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের মোকদ্দমা দায়ের করার আইনি বিধান আছে বলেও উল্লেখ করা হয়ছে।

বিদেশ যেতে হবে না, দেশেই হবে আন্তর্জাতিক মানের রাসায়নিক পরীক্ষা, সংসদে বিল পাস

0

আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিভিন্ন রাসায়নিকের পরিমাপ নিয়ে গবেষণায় সংবিধিবদ্ধ সংস্থা তৈরিতে একটি খসড়া আইন সংসদে পাস হয়েছে।

নতুন এই আইনের অধীনে গবেষণাগার হলে রাসায়নিক পরীক্ষা করতে বিদেশে যেতে তো হবেই না, বরং অন্য কোনো দেশ এখান থেকে রাসায়নিক পরীক্ষা করতে পারবে।

মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস বিল-২০২০’ সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়ফেস ওসমান। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম।

এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি করা হয়।

গত ২৩ জুন বিলটি সংসদে তোলার পর সেটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

রাসায়নিকের পরিমাপ পরীক্ষা করার জন্য ২০১২ সালের ১০ জুন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) অধীনে সর্বোচ্চ জাতীয় রেফারেন্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেজিগনেটেড রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস- ডিআরআইসিএম চালু করা হয়।

বাংলাদেশে রাসায়নিক পরিমাপবিজ্ঞানে গবেষণায় সর্বপ্রথম ও একমাত্র রেফারেন্স ইনস্টিটিউট এটি। ওষুধ শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পে রাসায়নিক পরিমাপবিজ্ঞান বিষয়ক সব গবেষণার সুযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

দেশেই হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের রাসায়নিক পরীক্ষাগার

নতুন আইনে এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন সংবিধিবদ্ধ ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হবে, যার প্রধান হবেন মহাপরিচালক। পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব।

এই প্রতিষ্ঠান পরিমাপ ও রেফারেন্স পরিমাণ সেবা দেবে। এছাড়া প্রফিসিয়েন্সি টেস্টিং ও ইন্টার-ল্যাবরেটরি কমপ্যারিজন সেবা দেবে।

নতুন প্রতিষ্ঠান রাসায়নিক পরিমাপবিজ্ঞান সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা এবং সমধর্মী দেশীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান বলেন, আইনটি প্রবর্তন হলে একটি বিশ্বমানের ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য রাসায়নিক পরিমাপ সেবার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে, এক ব্যক্তিই খুলতে পারবেন কোম্পানী

0

বিশ্ব ব্যাংকের ব্যবসায় পরিবেশের সূচকে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিতে ‘এক ব্যক্তি কোম্পানি’ খোলার সুযোগ রেখে কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রস্তাব সংসদে উঠেছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সোমবার ‘কোম্পানি (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল- ২০২০’ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

কোম্পানি আইন অনুযায়ী এখন প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি পরিচালিত হয় পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে। এই পর্ষদ বা বোর্ডের পরিচালক ও চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।

প্রস্তাবিত আইনের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘এক ব্যক্তির কোম্পানি’ হল সেই কোম্পানি, যার বোর্ডে সদস্য থাকবেন কেবল একজন।

বিলটি সংসদে উত্থাপনের বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি এক ব্যক্তির সংজ্ঞা হিসেবে ‘একজন প্রাকৃতিক সত্তাবিশিষ্ট ব্যক্তি’ বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানান।

মন্ত্রিসভায় ব্যবসায়ীরা আছেন বলে এ আইন করা হচ্ছে কি না- সেই সন্দেহের কথাও বলেন ফখরুল ইমাম।

জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়গুলো সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করা হবে। নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথাও তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘কারও কাছে হাত পাতবেন না’ বলেই তিনি ব্যবসা করেন।

সংসদে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের কোম্পানি আছে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার এ আইন সংশোধনের উদ্যোগে নিয়েছে।

বিলটি উত্থাপনের বিরোধিতার করার প্রস্তাব পরে সংসদের কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলে বলা হয়েছে, এক ব্যক্তি কোম্পানির পরিশোধিত শেয়ার মূলধন হবে অন্যূন ৫০ লাখ টাকা এবং অনধিক ১০ কোটি টাকা। অব্যবহিত পূর্ববর্তী অর্থবছরের বার্ষিক টার্নওভার অন্যূন দুই কোটি টাকা এবং ১০০ কোটি টাকা হবে।

পরিশোধিত শেয়ার মূলধন এবং বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ বেশি হলে শর্তপূরণ সাপেক্ষে এক ব্যক্তির কোম্পানিকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বা ক্ষেত্রমত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা যাবে।

পরিচালক এবং প্রধান ব্যক্তি একজন থাকেন বলে এ ধরনের কোম্পানি পর্ষদ সভা করা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিয়মের ছাড় পাবে। তবে এক ব্যক্তির কোম্পানিকে বছরে কমপক্ষে একটি পরিচালক সভা করতে হবে। একমাত্র পরিচালক মারা গেলে সব শেয়ারের মালিক হবেন তার মনোনীত ব্যক্তি।

এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে হস্তান্তরকারীর ব্যক্তিগত উপস্থিতি এবং কমিশনের মাধ্যমে হস্তান্তর দলিলে স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। বিলে বলা হয়েছে, কোম্পানি উঠে গেলে পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কোম্পনি আইন সংশোধন করে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমান আইনে ১৪ দিনের নোটিসে বোর্ড মিটিং করার বিধান আছে। প্রস্তাবিত আইনে এটাকে ২১ দিন করা প্রস্তাব করা হয়েছে।