বিশ্বে জুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য চীনকে আগেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, করোনার মতো মহামারি ছড়ানোর দায়ে চীনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্কই শেষ করে দেয়া হবে।
আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন আরো কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গত ২০ বছরে চীন থেকে পাঁচ ধরনের সংক্রামক ব্যধির আমদানি হয়েছে। এবার এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সময় এসেছে, সমগ্র বিশ্বের মানুষকে সমস্বরে বলতে হবে, চীন থেকে উৎপন্ন হওয়া সংক্রমণ আর আমরা সহ্য করব না।’
মার্কিন সংবাদ মাধ্যম ‘ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্ক’-কে ১৪ মে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, চীন সক্রিয় ভাবে প্রথমেই তা রুখে দিলে, গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ত না আর তা মহামারির আকারও নিত না। চীনের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘‘(করোনা-মোকাবিলায়) চীনের ভূমিকায় আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই। গোটা (করোনা) পরিস্থিতি নিয়েও সন্তুষ্ট নই। কারণ আমাদের বিশ্বাস, একে (করোনা-সংক্রমণকে) গোড়াতেই রোখা যেত। এবং দ্রুত রোখা হলে তা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত না।
করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেনি চীন। মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম করে দেখিয়েছে। কোভিড-১৯ ভাইরাস উহানের ল্যাবে তৈরি করে ছাড়া হয়েছে— বেজিং-এর বিরুদ্ধে এমন গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বার সরাসরি চীনের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বললেন। চীনের ভূমিকায় অত্যন্ত হতাশ বলে জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘‘ওঁর সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই না।’’
সাক্ষাৎকারে এ বছরের জানুয়ারিতে চীনের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল করার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের বক্তব্য, ‘‘ওঁদের এটা হতে দেওয়া উচিত হয়নি (করোনাভাইরাস ছড়াতে দেওয়া)। আমি যে বাণিজ্য চুক্তি করেছিলাম, সেটা বিশাল কিছু বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু এখন আর সেটা মনে হয় না।’’ রূপকের আশ্রয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘কালি শুকিয়ে গিয়েছে এবং মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। এখন আর আগের মতো মনে হয় না।’’
কিন্তু সম্পর্ক শেষ করবেন কী ভাবে? কোন পথে? নির্দিষ্ট কোনও বিষয় স্পষ্ট না করে বলেন, ‘‘আমরা অনেক কিছুই করতে পারি। আমরা সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারি। আর সেটা করলে কী হবে? ৫০০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে আমেরিকার।’’ চীন থেকে প্রতি বছর প্রায় এই পরিমাণ টাকার পণ্য আমদানি করে। সেটাই উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
হুশিয়ারী জাতীয় উপদেষ্টারঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন দাবি করলেন, গত ২০ বছরে চীন থেকে পাঁচ ধরনের সংক্রামক ব্যধির আমদানি হয়েছে। এবার এটা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের জেরে সমগ্র বিশ্বে এখনও পর্যন্ত আড়াই লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সংখ্যাটি কোথায় গিয়ে থামবে, বলা যাচ্ছে না। তাই সময় এসেছে, সমগ্র বিশ্বের মানুষকে সমস্বরে বলতে হবে, চীন থেকে উৎপন্ন হওয়া সংক্রমণ আর আমরা সহ্য করব না।’
বিশ্বের যাবতীয় বড় বড় ব্যধির জন্য চীনকে দায়ী করে ও’ব্রায়েন বলেন, ‘আমরা জানি, করোনা উহান থেকেই এসেছে। সেটা ভাইরোলজি ল্যাব অথবা বাজার থেকে আসতে পারে। যদিও চীনের কাছে এই প্রশ্নের সদুত্তর নেই। গত ২০ বছরে আমরা চীনের কাছ থেকে পাঁচটি সংক্রমক রোগ উপহার পেয়েছি। আমরা পেয়েছি, সিভিয়ার অ্যাকুয়েট রেসপাইরেটরি সিন্ড্রম (সার্স), এভিয়েন ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, কোভিড-১৯ ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন, আর কতদিন গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দ্বারা ছড়িয়ে পড়া রোগের জন্য বিশ্ববাসীকে ভুগতে হবে?’ চারটি রোগের কথা উল্লেখ করলেও পাঁচ নম্বর কোন ভাইরাসের কথা তিনি জানাননি।
এদিাে শুধু অভিযোগেই ক্ষান্ত থাকছে না আমেরিকা। চীনের প্রতি আক্রোশ মেটাতে এবার যাবতীয় অনুমোদন বন্ধ করতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবনা এনেছেন ন’জন প্রভাবশালী সিনেটর। তাঁদের বক্তব্য, করোনা মহামারী নিয়ে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা না করলে চীনের বিরুদ্ধে যাবতীয় অনুমোদন বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হোক।
করোনা নিয়ে চীন- মার্কিন দ্বৈরথ; ২০ বছরে ৫ ধরনের ভাইরাস ছড়িয়েছে চীন, সব সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাইকোর্টে প্রথম রিট, নিম্ন আদালতেও ‘ভার্চুয়াল কোর্ট ‘এ শুনানি
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে দেশের বিচারাঙ্গনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুমাস ধরে দেশের সবকিছু বন্ধ। আদালত বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এমনিতেই মামলাজটের কারণে আদালতে অচলাবস্থা, তার ওপর দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগের মাত্রা যে আরো বাড়বে তা নিশ্চিতই বলা যায়। এ থেকে পরিত্রানের পথ খুঁজতে গিয়ে আপাতত মিলেছে ভার্চুয়াল কোর্টের দাওয়াই। সিদ্ধান্ত হয় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আপতকালিন সময়ে বিচারকাজ চালানোর। সরকারি এ সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করে ভার্চুয়াল কোর্টের অনুমোদন দেয়া হয়। এর ফলে আইনজীবী ও আসামী বা বিচারপ্রার্থীকে সশরীরে আদালতে হাজির না হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শুনানি করবেন। এজন্য হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে পৃথক বেঞ্চ গঠন করা হয়ছে। জজ আদালত ও সিএমএম এবং সিজিএম আদালতেও দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আইনজীবীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই মামলা পরিচালনা করবেন।
মঙ্গলবার প্রথম দিনেই হাইকোর্টে এক রিটে চট্টগ্রামের হালদা নদীর ডলফিন হত্যা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালককে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে হাইকোর্টকে জানাতে বলা হয়েছে।
হালদা নদীতে ডলফিন হত্যা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেয় বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, প্রযুক্তির মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম শুরুর পর প্রথম আদেশ আসলো উচ্চ আদালত থেকে।
এ দিকে ঢাকার সিএমএম কোর্টে চারটি ভার্চুয়াল আদালতে প্রথম দিনে ১৮ মামলায় ৩৪ জনকে জামিন দেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতেও ভার্চুয়াল কোর্টে মামলার শুনানি হয়েছে। যার মাধ্যমে দেশের বিচারবিভাগে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
সোমবার হাইকোর্টে ভার্চুয়াল আদালতে প্রথম রিট আবেদনটি করেন ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ুম লিটন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
এদিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের চারটি ভার্চুয়াল কোর্টে ১৮ মামলায় ৩৪ জনকে জামিন দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার এ চার আদালতে মোট ২৫টি জামিন আবেদন জমা পড়ে। চারটি কোর্টে ধারাবাহিকভাবে এসব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ১৮টির আবেদন মঞ্জুর হয় বলে আদালত সূত্রে জানা যায়।
এর আগে সোমবার হাজতি আসামিদের জামিন শুনানির জন্য ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চারটি ভার্চ্যুয়াল কোর্ট গঠন করা হয়। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এএম জুলফিকার হায়াত স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ আদালত গঠনের কথা জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’ এর ক্ষমতাবলে সুপ্রিমকোর্ট কর্তৃক জারি করা ‘বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ অনুসারে এ কোর্ট গঠন করা হয়। সাপ্তাহিক ছুটি ও অন্য সরকারি ছুটি ব্যতীত অন্য সময়ে এসব আদালতে ই-মেইল ও ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জামিন আবেদন করা যাবে।
ঢাকার সিএমএম আদালতে ভার্চ্যুয়াল কোর্ট ১ এর দায়িত্বে রয়েছেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাফুজ্জামান আনছারী, কোর্ট ২ এর দায়িত্বে সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী, কোর্ট ৩ এর দায়িত্বে দেবদাস চন্দ্র অধিকারী ও কোর্ট ৪ এর দায়িত্বে রয়েছেন রাজেশ চৌধুরী।
মঙ্গলবার এমন তথ্য জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।
গত ১০ মে নিম্ন আদালতের ভার্চ্যুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন। এ বিষয়ে ওইদিন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত সব আদালতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছুটির সময়ে বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, বিশেষ জজ আদালতের বিচারক, সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকক এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০ এবং উচ্চ আদালতের জারিকৃত বিশেষ প্র্যাকটিস নির্দেশনা’ অনুসরণ করে শুধু জামিন সংক্রান্ত বিষয়গুলো তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার উদ্দেশ্যে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
এরপর সোমবার থেকে জামিন শুনানি শুরু হয়। প্রথমবারের মতো কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ এক আসামিকে জামিন দেন।
মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্ট জানায়, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ৪টি মামলার শুনানি নিয়ে ৪ জনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। পাশাপাশি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালত ১৯ মামলার শুনানি নিয়ে ৩৪ জনকে জামিন দিয়েছেন।
নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিজেএম) মোট আবেদন ২০ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১০টির শুনানিতে ৪ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৭টি মামলার মধ্যে ২টির শুনানি হয়েছে। একটিতে একজনের মঞ্জুর করে অপরটি খারিজ করা হয়েছে।
ফেনীর সিজেএম আদালতে ২২টি আবেদনের মধ্যে ৩টির শুনানি শেষে ৬ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিজেএম আদালতে মোট আবেদন জমা পড়েছে ২০০টি। এর মধ্যে ২টি মামলার শুনানি শেষে ২ জন জামিন পেয়েছেন।
দিনাজপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৮টি মামলায় শুনানি নিয়ে ৬টি মঞ্জুর করে ৬ জনকে জামিন দিয়েছেন। অপর ২টি আবেদন খারিজ করা হয়।
দিনাজপুর সিজেএম আদালতে মোট আবেদন পড়েছে ৮০টি। এরমধ্যে ২৬টির শুনানি শেষে ২০টিতে ২৪ জনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। খারিজ করা হয় ৬টি আবেদন।
ঠাকুরগাঁও সিজেএম আদালতে একটি আবেদন মঞ্জুর করে একজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। খারিজ করা হয়েছে তিনটি আবেদন।
সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৫টির শুনানি নিয়ে তিনটি আবেদন খারিজ করা হয়েছে। অপর দুই মামলায় ২ জনকে জামিন দেন আদালত।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত ৮ আবেদনের মধ্যে ২টি মঞ্জুর করে ৮ জনকে জামিন দিয়েছেন।
সিলেট সিজেএম আদালতে ৯টির শুনানি নিয়ে ৮টিতে ১৫ জনকে জামিন দেওয়া হয়।
সিলেট সিএমম আদালতে ১৩টি আবেদনের শুনানি নিয়ে ৭টিতে ৭ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। খারিজ করা হয়েছে ৬টি আবেদন।
সিলেট শিশু আদালতে একটি আবেদনের শুনানি নিয়ে এক শিশুকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সিজেএম আদালতে ৮টি আবেদনের শুনানি নিয়ে ৫টি মঞ্জুর করে ৫ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনটি আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৪টি আবেদনের শুনানি নিয়ে ৪ জনকে জামিন দিয়েছেন।
নেত্রকোনা সিজেএম আদালতে তিনটি আবেদনের শুনানি নিয়ে ৪ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
মাগুরা সিজেএম আদালত ১৫টি আবেদনের মধ্যে ১৩টি মঞ্জুর করে ১৮ জনকে জামিন দিয়েছেন। বাকি দু’টি খারিজ করা হয়েছে।
আরো একটি বেঞ্চ গঠনঃ
সুপ্রিম কোর্টে ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে শুনানির জন্য আরও একটি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিচারপতি জেবিএম হাসান-এর বেঞ্চে অতিব জরুরি সব ধরনের ফৌজদারি মোশন ও তৎসংক্রান্ত জামিনের আবেদনপত্র ই-মেইলে পাঠানো যাবে।
এর আগে গত ১০ মে আপিল বিভাগে চেম্বার আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগে তিনটি বেঞ্চ গঠন করেছিলেন প্রধান বিচারপতি।
আপিল বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য চেম্বার জজ হিসেবে বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানকে প্রধান বিচারপতি মনোনয়ন দিয়েছেন।
বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান আগামী ১৪ ও ২০ মে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু ভার্চ্যুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে চেম্বার কোর্টে শুনানি গ্রহণ করবেন।
করোনা থেকে বাঁচতে এক বছরের জন্য দেবী শেঠি’র ১৬ পরামর্শ
ভয়াবহ করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সবারই চাই বাড়তি সতর্কতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাবধানতা ২/১ মাস নয় বরং টানা ১ বছর মেনে চলতে হবে । আগামী এক বছরের জন্য আমাদের লাইফস্টাইল কেমন হবে সে পরামর্শ দিয়েছেন বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.দেবী শেঠি। তাঁর পরামর্শগুলো হচ্ছে,
(১) এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত।
(২) আগামী এক বছর বাইরের খাবার খাবেন না। (৩) বিয়ে বা অন্যান্য অনুরূপ অনুষ্ঠানে যাবেন না। (৪) অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ করবেন না।
(৫) কমপক্ষে এক বছর কোনো ভিড়ের জায়গায় যাবেন না।
(৬) সামাজিক দূরত্বের নিয়মাবলী সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করুন।
(৭) কাশি হাঁচি থেকে দূরে থাকুন।
(৮) বাইরে মাস্ক পরিধান করুন।
(৯ ) আগামী ৬ মাস সিনেমা হল, শপিং মল, ভিড়ের বাজারে যাবেন না। সম্ভব হলে পার্ক, পার্টি ইত্যাদিও এড়িয়ে চলবেন।
(১০) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।
(১১) নাপিতের দোকানে বা বিউটি পার্লারে থাকাকালীন খুব যত্নশীল হন।
(১২) অপ্রয়োজনীয় সভাগুলি এড়িয়ে চলুন, সর্বদা সামাজিক দূরত্বের কথা মাথায় রাখুন। (১৩) বাইরে বেরোনোর সময় বেল্ট, আঙুলের রিং, ঘড়ি পরবেন না।
(১৪) ঘরে জুতো আনবেন না। বাইরে রেখে দিন। (১৫) হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন।
(১৬) যখন মনে করবেন সন্দেহজনক রোগীর কাছ থেকে এসেছেন তখন ঘরে ফিরেই পুরো গোসল করুন।
সবশেষে দেবী শেঠি মনে করিয়ে দেন, করোনার ঝুঁকি কিন্তু খুব শিগগিরই শেষ হচ্ছে না। তাই নিয়মগুলো মানতেই হবে। সতর্ক থাকতে হবে।
বিচার বিভাগের নতুন অধ্যায় ; ভার্চুয়াল আদালতে কাজ শুরু,মিশ্র প্রতিক্রিয়া আইনজীবীদের
দেশের বিচারবিভাগের নতুন অধ্যায় শুরু হলো। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় দুমাস ধরে অফিস আদালত বন্ধ।। আদালতে বিচারপ্রার্থীরা চরম বিপদে। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তার নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালতে কার্যক্রম শুরু হলো। যেখানে শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। দেশের বিচারবিভাগের ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস।
উচ্চ আদালতে সোমবার সকাল থেকে আইনজীবীদের নিবন্ধন ও আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালত পরিচালনার ‘প্র্যাকটিস’ নির্দেশনা মেনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আবেদন করেন আইনজীবীরা।
সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান,সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান “সোমবার সকাল থেকে সারা দেশে ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উচ্চ আদালতেও বিজ্ঞ আইনজীবীরা আবেদন ফাইল করেছেন।
“একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে অনিবার্য কারণেই দেশে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু হল। বলা যায়, আজকের দিনটি দেশের বিচার বিভাগের জন্য একটি বিশেষ দিন। আশা করছি, এই প্রক্রিয়াটিতে বিচার বিভাগের কার্যক্রম সফলভাবেই সম্পন্ন হবে।”
কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালতের বিচারকাজ চালানোর অধ্যাদেশ জারির পর ‘প্র্যাকটিস ডাইরেকশন’ জারি করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তার ভিত্তিতে শুরু হল নতুন ধরনের আদালত কার্যক্রম।
মহামারীর কারণে সাধারণ ছুটি ও অবকাশের মধ্যে এই আদালত পরিচালনার জন্য হাই কোর্টে তিনটি বেঞ্চ পুনর্গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। এছাড়া আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত পরিচালনার জন্য মনোনয়ন দেন বিচারপতি নুরুজ্জামানকে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর, রেজিস্ট্রার মো. বদরুল আলম ভূঞা ও হাই কোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ভূঁইয়া এ সংক্রান্ত আলাদা তিনটি বিজ্ঞপ্তি দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বিচারকদের বিচারিক এখতিয়ার উল্লেখ করে বলা হয়, জরুরি সকল প্রকার রিট ও দেওয়ানি মোশন এবং এ সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্র গ্রহণ করবেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।
জরুরি সব ধরনের ফৌজদারি মোশন ও এ সংক্রান্ত জামিনের আবেদন গ্রহণ করবেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন।
আর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার আদীম অধিক্ষেত্রাধীন জরুরি বিষয়; যেমন,সম্পত্তি, বিয়ে,কোম্পানিসহ বিভিন্ন বিষয়ের আপিল ও আবেদন গ্রহণ ও শুনানি করবেন।
তিন ক্ষেত্রেই আইনজীবীরা তিনটি আলাদা ইমেইল ঠিকানায় আবেদন করছেন।
এদিকে চেম্বার আদালতের দিনক্ষণ উল্লেখ করে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আগামী ১৪ ও ২০ মে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শুনানি নেবেন।
কিছু সমস্যা দেখছেন আইনজীবীরা
ভার্চুয়াল আদালতে আবেদন জানিয়ে কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন আইনজীবীরা।
সোমবার সকালে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চে তিনটি জামিন আবেদন জমা পড়ে।
আইনজীবী দেওয়ান মো.আবু ওবায়েদ হোসেন, আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী মো.শাহীন মিয়া এ তিনটি আবেদন করেন। তিনটিই জামিন সংক্রান্ত আবেদন।
রাষ্ট্রেপক্ষে এ আদালতে দায়িত্বে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশিরুল্লাহ। তার সঙ্গে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
বশিরুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকাল ১১টা থেকে আবেদনের কার্যক্রম শুরু হয়।
সর্বমোট ১৬টি জামিন আবেদন জমা পড়ে প্রথম দিনে। এ আবেদনগুলো বেঞ্চ কর্মকর্তা স্বচ্ছতা যাচাই করে বিচারপতির কাছে পাঠাবেন। বিচারপতি দেখবেন আবেদনটি জরুরি কি না?
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশিরুল্লাহ বলেন, “যদি জরুরি মনে করেন তাহলে মঙ্গলবার আমাদের কাছে আবেদনের অনুলিপি পাঠাবেন। মাননীয় বিচারপতি আবেদনগুলো শুনানির জন্য গ্রহণ করলে মঙ্গলবার কার্যতালিকায় আসবে এবং পরশু শুনানি হতে পারে। ওইদিন থেকে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে বলা যায়।”
বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের ভার্চুয়াল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্বে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার ও সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
এই আদালতে একটি রিট আবেদন জমা পড়েছে। চট্টগ্রামের হালদা নদীতে ডলফিন শিকার বা হত্যা বন্ধ চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আসলে জানতে পারব উনারা (বিচারপতি) যাচাই-বাছাই করে আমাদের আমাদের কাছে পাঠানোর পর। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো আবেদনের অনুলিপি আসেনি।”
বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের ভার্চুয়াল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে দায়িত্বে আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল মাগমার ও অমিত দাশগুপ্ত।
অমিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে খোঁজ নিয়েছি। কোনো আবেদন জমা পড়েনি এই আদালতে।”
আদালত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটাতে আসলে এক ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে।
“ক্লিয়ার পিকচার কেউ দিতে পারছে না। ইউএনডিপি বলছে, তারা একটি লিঙ্ক দেবে এবং একটি সফটওয়ার দেবে। এটা উদ্বোধনের পর তারা একটা ইমেইল ক্রিয়েট করে দেবে, সেটার মধ্যে সবাই আবেদন পাঠাবে। এখন আইনজীবীরা আবেদন কীভাবে জমা দিয়েছেন, বুঝতে পারছি না।”
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের বেঞ্চে জমা পড়া তিনটি জামিন আবেদনের মধ্যে একটি করেছেন আইনজীবী শিশির মনির।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জরুরি বিবেচনায় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদ সাহেবের জামিন চেয়ে আবেদনটি করা হয়েছে। পাঁচ মাস ধরে কাস্টডিতে আছেন তিনি।”
ভার্চুয়াল আদালত নিয়ে শিশির মনির বলেন, “সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করলে বলতে হবে, কোর্ট খুলেছে, এটাই তো একটা বিরাট সুবিধা। অন্ততপক্ষে কিছুটা জরুরি বিষয় আদালতের নজরে আনা যাবে। আমি এটিকে সমর্থন জানাই। কারণ এই পদ্ধতি থাকলে দুর্নীতিটাও কম হবে।”
দুটি সমস্যা তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, “আমি যখন আবেদন করলাম, আমি কিন্তু আবেদনটাকে ট্রেক করতে পারছি না। আমাকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে উনারা সেটার রিপ্লাই দেওয়ার পর। এখানে এই সিস্টেমটার উন্নতি দরকার আছে বলে মনে করি।
“আরেকটি বিষয়ও আছে। সেটি হলো আমাদের ওকালতনামা সংগ্রহ করতে হয় জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। এই পরিস্থিতিতে জেল থেকে ওকালতনামার হার্ডকপি আমি কেমনে পাব? আমাকে তো যেতে হবে। অথবা আসামির আত্মীয়-স্বজনদের যেতে হবে। তাইলে তো আর ভার্চুয়াল থাকল না।
“জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ওকালতনামারও যদি একটি ভার্চ্যুয়াল সিস্টেম করা যেত অর্থাৎ আবেদন করলে জেল কর্তৃপক্ষ আমাদের ইমেইলে ওকালতনামা পাঠিয়ে দিতেন, তাহলে আর কোনো অসুবিধা হত না। এই দুটি জায়গায় উন্নতি করার আছে বলে আমি মনে করি।”
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এই সঙ্কটকালে ভার্চুয়াল আদালত চালু হওয়া ‘অসম্ভব ভালো’ একটি পদক্ষেপ।
“এই মুহুর্তে এর চেয়ে ভালো পদক্ষেপ আর কিছু হতে পারে না। মানুষের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটা ব্যবস্থা করে দেওয়া হল।”
অনভ্যস্ততার কারণে শুরুতে কিছু সমস্যা হলেও পরে তা কেটে যাবে বলে আশাবাদী আইনজীবীদের এই নেতা।
“বিচারকরা এই প্রক্রিয়াটির সাথে অভ্যস্ত না থাকার কারণে, আইনজীবীরা অভ্যস্ত না থাকার কারণে, কোর্টের স্টাফরা অভ্যস্ত না থাকার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা হয়ত কিছুটা সমস্যার সম্মুখীন হব। তবে আমি বিশ্বাস করি যে আমরা যদি প্রশিক্ষণ নিই, সবাইকে যদি এই প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করতে পারি, তাহলে এর সুফল আমরা পাব।”
ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই আদালত ব্যবহারে ‘আমার আদালত : ভার্চুয়াল কোর্টরুম ব্যবহার ম্যানুয়াল’ ও দেওয়া হয়েছে।
আবেদন, শুনানি সবই হবে ওই পোর্টালে। ইমেইলে শুনানির সময় ও ভিডিও কনফারেন্সের লিংক পাঠানো হবে আইনজীবীকে। এসএমএসে দেওয়া হবে অ্যালার্ট। নির্দিষ্ট সময়ে বিচারক ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী যুক্ত হবে ভিডিও কনফারেন্সে।
শুরুতে এ পদ্ধতিতে শুধু জামিন আবেদন দাখিল, শুনানি ও বেইল বন্ড দাখিলের সুযোগ পাবেন আইনজীবীরা।
এজন্য mycourt.judiciary.org.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে একজন আইনজীবীকে মোবাইল নম্বর, নিজের পূর্ণ নাম, ছবি, ইমেইল দিয়ে নিবন্ধন করতে হচ্ছে।
৪৩ টি ভেজাল পণ্য নিষিদ্ধ করেছে বিএসটিআই; রয়েছে ড্যানিস,বোম্বে ফুডের শিশুখাদ্য, সুরেশসহ শর্ষের তেল রয়েছে ১০ কোম্পানীর
খোলাবাজার থেকে পণ্য কিনে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে যথাযথ মানের না হওয়ায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৩ টি পণ্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারি সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডাডর্স অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন,বিএসটিআই। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানিয়েছে, পণ্যগুলোর মান উন্নত করে নতুন করে অনুমোদন ছাড়া উৎপাদনকারী, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের বিক্রি-বিতরণ ও বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। পাশাপাশি উৎপাদনকারীদের বাজার থেকে তাদের পণ্য তুলে নিতে হবে।
বিএসটিআইয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সংস্থাটি বিভিন্ন পণ্যের ৫২১টি নমুনা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে প্রাপ্ত ২৫১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৭টি নিম্নমানের পাওয়া যায়। যা আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাকি ২৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩টি নিম্নমানের পাওয়া যায়। এসব পণ্যের সংশ্লিষ্ট ব্যাচ/উৎপাদনের তারিখ/লটের বিক্রিত নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
যেসব পণ্য নিম্নমানের পাওয়া যায় সেগুলো হলো নরসিংদীর অন্নপূর্ণা অয়েল মিলসের সুরেশ ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন, তারিখ ১২/২০১৯), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বেঙ্গল অয়েল মিলসের চাওলি ফ্লাওয়ার ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ ০৯-০২-২০২০), ময়মনসিংহের বিএল অয়েল মিলসের রুবি ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০৪-১১-২০১৯), ময়মনসিংহের পদ্মা অয়েল মিলসের হিলসা ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০১/০১/২০২০), ময়মনসিংহের রূপন অয়েল মিলসের রিং ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০১/০৩/২০২০), নরসিংদীর লোকনাথ অয়েল মিলসের টাইগার ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল, জামালপুরের আলী ন্যাচারাল অয়েল মিলস অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কল্যাণী ব্র্যান্ডের ফর্টিফাইড এডিবল রাইস ব্রান অয়েল (উৎপাদন তারিখ: ১৫/০৩/২০২০), গাজীপুরের ময়মনসিংহ অ্যাগ্রো লি.–এর সান ড্রপ ব্র্যান্ডের ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল জুস (অ্যলো ভেরা) (উৎপাদন তারিখ: ১০/০৮/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের ড্যানিশ ফুডসের ড্যানিশ ব্র্যান্ডের ধনেগুঁড়া (উৎপাদন তারিখ: ২৪/০২/২০২০), নারায়ণগঞ্জের ড্যানিশ ফুডসের ড্যানিশ ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (বিফ মাসালা) (উৎপাদন তারিখ: ১৩/০৯/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের ড্যানিশ ফুডস লিমিটেডের ড্যানিশ ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (চিকেন মাসালা) (উৎপাদন তারিখ: ১২/০৯/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড-২–এর বোম্বে আলুজ ব্র্যান্ডের চিপস (আলুজ) (উৎপাদন তারিখ: ফেব্রুয়ারি, ২০২০), নারায়ণগঞ্জের আইডিয়াল অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস (প্রা.) লিমিটেডের আইডিয়াল ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (উৎপাদন তারিখ: ০২/০৫/২০১৯), নেত্রকোনার প্রিয়া ফুড প্রোডাক্টসের প্রিয়া স্পেশাল ব্র্যান্ডের প্রিয়া লাচ্ছা সেমাই, ঢাকার ধামরাইয়ের সাউদিয়া ফুড প্রোডাক্টস (প্রা.) লিমিটেডের সাউদিয়া ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ঢাকার ফোর স্টার ফুড প্রোডাক্টসের ফোর স্টার ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (বারবিকিউ মাসালা) (উৎপাদন তারিখ: অক্টোবর, ২০১৯), ঢাকার এ জেড এ আইডিয়াল অ্যাগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (প্রা.) লিমিটেডের এ জেড এ আইডিয়াল ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (মিট কালা ভুনা মাসালা) (উৎপাদন তারিখ: ০১/০২/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের সুরভী সল্ট আয়োডেশনের ডলফিন ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: নভেম্বর, ২০১৯), নারায়ণগঞ্জের সপ্তডিঙ্গা সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মেয়র ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ১৫/০৪/২০১৮), নারায়ণগঞ্জের পূবালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের পূবালী ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: জুন, ২০১৯), নারায়ণগঞ্জের আলী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের টমেটো ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ০১/১০/২০১৮), নারায়ণগঞ্জের নিউ কোয়ালিটি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের তৃপ্তি ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ০৫/২০১৯), নারায়ণগঞ্জের প্রগতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের দিগন্ত ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ০৩/২০১৭), নারায়ণগঞ্জের আলী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের আলী ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ (উৎপাদন তারিখ: ০১/১০/২০১৮), নারায়ণগঞ্জের শক্তি এডিবল প্রোডাক্টসের শক্তি ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০৭/১০/২০১৯), গাজীপুরের তুরাগ অয়েল মিলসের তুরাগ ব্র্যান্ডের সরিষার তেল (উৎপাদন তারিখ: জানুয়ারি, ২০২০), নারায়ণগঞ্জের এস কে অ্যাগ্রো ফুড প্রসেসরের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ২০/০৪/২০১৯), ঢাকার প্রমি অ্যাগ্রো ফুডসের প্রমি ব্র্যান্ডের শর্ষের তেল (উৎপাদন তারিখ: ০২/০২/২০২০), রংপুরের বদরগঞ্জের আনিস স্টোরের নামবিহীন খোলা ড্রামের ফর্টিফাইড পাম অয়েল, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ঈসমাইল স্টোরের নামবিহীন খোলা ড্রামের ফর্টিফাইড পাম অয়েল, লালমনিরহাটের পাটগ্রামের গরিবুল্লাহ শাহ স্টোরের নামবিহীন খোলা ড্রামের ফর্টিফাইড সয়াবিন অয়েল, ঢাকার আরামবাগের ফিহাত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের আমদানি করা রিফাইন্ড সুগার, ঢাকার আরামবাগের ফিহাত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্সের আমদানি করা অটোগি কারি হট ব্র্যান্ডের কারি পাউডার (উৎপাদন তারিখ: ২৯/১২/২০১৯), রাজশাহীর নওদাপাড়ার ছন্দা ফিলিং স্টেশনের হাই স্পিড ডিজেল, রাজশাহীর নওদাপাড়ার জিএম ফিলিং স্টেশনের হাই স্পিড ডিজেল, রাজশাহীর পবার মতিউর ফিলিং স্টেশনের হাই স্পিড ডিজেল, রাজশাহীর নওদাপাড়ার ছন্দা ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-প্রিমিয়াম (অকটেন), রাজশাহীর নওদাপাড়ার ছন্দা ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-রেগুলার (পেট্রোল), রাজশাহীর নওদাপাড়ার জিএম ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-প্রিমিয়াম (অকটেন), রাজশাহীর নওদাপাড়ার জিএম ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-রেগুলার (পেট্রোল), রাজশাহীর পবার আসাদুল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-প্রিমিয়াম (অকটেন), রাজশাহীর পবার আসাদুল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-রেগুলার (পেট্রোল) এবং রাজশাহীর পবার মতিউর ফিলিং স্টেশনের আনলোডেড মোটর গ্যাসোলিন-রেগুলার (পেট্রোল)।
ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম চালু হচ্ছে; অধ্যাদেশ জারি
করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রেখে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভা গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়ার পর শনিবার রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন যা লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে সবার সশরীরে উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনার সুযোগ না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যার যার অবস্থানে থেকে বিচার কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করতে সরকারকে অনুরোধ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী আদালতে মামলার পক্ষ-বিপক্ষ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীদের সশরীরে উপস্থিতি থেকে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।ভিডিও কনফারেন্সে বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় তার দরকার হবে না।
দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকায় মামলাজট বাড়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীরা বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে আইন মন্ত্রণালয়। কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ রেখে অধ্যাদেশ প্রকাশ হওয়ায় এখন সুপ্রিম কোর্ট প্র্যাকটিস নির্দেশনা জারি করবে।
সেই নির্দেশনার আলোকেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য বা যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দিতে পক্ষদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আদালতকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে অধ্যাদেশে।
সেখানে বলা হয়েছে, “সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বা ক্ষেত্রমত হাই কোর্ট বিভাগ, সময় সময়, প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) জারি করতে পারবে।”
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, “ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নতর যাই থাকুক না কেন, যে কোনো আদালত এই অধ্যাদেশের ধারা ৫ এর অধীন জারিকৃত প্র্যাকটিস নির্দেশনা (বিশেষ বা সাধারণ) সাপেক্ষে, অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষরা বা তাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীদের ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করে যে কোনো মামলার বিচার বা বিচারিক অনুসন্ধান বা দরখাস্ত বা আপিল শুনানি বা সাক্ষ্য গ্রহণ বা যুক্ততর্ক গ্রহণ বা আদেশ বা রায় প্রদান করতে পারবে।”
অডিও-ভিডিও বা অন্য কোনো ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে বিচারপ্রার্থী পক্ষ বা তাদের আইনজীবী বা সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তি বা সাক্ষীদের ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা ছাড়া অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধি বা ক্ষেত্রমতে দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে বলে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে।
“কোনো ব্যক্তির ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করা হলে ফৌজদারি কার্যবিধি বা দেওয়ানি কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনের অধীন আদালতে তার সশরীরে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।”
অধ্যাদেশে ভার্চুয়াল উপস্থিতির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, “অডিও-ভিডিও বা অনুরূপ অন্য কোনো ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির আদালতের বিচার বিভাগীয় কার্যধারায় উপস্থিত থাকা বা অংশগ্রহণ।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পক্ষে সাফাই আইনমন্ত্রীর; বাতিল চান সম্পাদকরা
বহুল বিতর্কিত ডিজিটাইল নিরাপত্তা আইনের পক্ষেই সাফাই গাইলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বললেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অপব্যবহারের দোষ হতে পারে, কিন্তু আইনের তো কোনো দোষ নেই। বড় বড় অপরাধ রোধকল্পে এ আইন থাকা দরকার বলেও মনে করেন তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চেয়ে সম্পাদক পরিষদের দেওয়া বিবৃতির বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন।
মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে অন্যের স্বাধীনতা হরণ করা মারাত্মক অপরাধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি আইন মানুষের সুরক্ষার জন্য। মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনের প্রয়োগ সঠিক হলে কোনো উদ্বেগ থাকার কথা নয়। প্রশ্ন ওঠে, আইনের প্রয়োগ নিয়ে। অপপ্রয়োগ হয় না, আমি তা অস্বীকার করছি না। কিন্তু তাই বলে কোনো আইনকে দোষারোপ করতে পারি না।
গত ৭ মে সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও লেখকের মুক্তি চান সম্পাদক পরিষদের নেতারা। সংগঠনের সভাপতি মাহফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক নঈম নিজাম এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
সম্পাদক পরিষদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, আটকের বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ অবগত না। কারা, কোন অপরাধে আটক হয়েছেন, তা বিস্তারিত জানি না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত না হলে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যেখানে অপব্যবহার হবে, সরকার নিশ্চয়ই সেখানে ব্যবস্থা নেবে। নির্দোষ কোনো মানুষ আদালতে হয়রানির শিকার হবে না বলে জানান তিনি।
প্রতিহিংসা নয়,সরকারের সঠিক সমালোচনা করুন।
করোনাকালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগের এতো তোড়জোড় কেনো? কি এমন ঘটনা ঘটছে যে বিতর্কিত এই আইনটি প্রয়োগের এতো এতো দরকার পড়ে গেলো? বিশেষ করে এ দুঃসময়ে? সুনামগঞ্জে এক এমপির মামলায় স্থানীয় এক সাংবাদিক এবং হবিগঞ্জে আরেক এমপির মামলায় ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার ঘটনাগুলোতো আছেই।
ত্রাণ নিয়ে অনিয়মের কথা বললেই দেখা যাচ্ছে মামলা, গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমি মনে করি সরকার পর্যাপ্ত ত্রাণ দিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তাঁর সাহসী নেতৃত্বে সবকিছু সামলাচ্ছেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী সবাই যার যার অবস্থান থেকে প্রাণপনে খাটছেন।
এসবের মাঝেও একটা দুষ্টচক্র রয়েছে। যারা এই ক্রান্তিলগ্নেও দুনাম্বারী স্বভাব ছাড়তে পারছে না। এই চক্রটি ত্রাণ নিয়ে অনিয়ম করছে, স্বাস্থ্যখাতের কেনাকাটায় দুর্নীতি করছে। এদের অপকর্মের দায়ভার পড়ছে সরকারের উপর, সরকারের নীতিনির্ধারকদের উপর। এই সুযোগসন্ধানী হাইব্রিডদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ আনেলেই এরা মামলা করে দিচ্ছে। প্রভাবখাটিয়ে জেলেও পুড়ছে। এরা নিজেরাই দুর্নীতিবাজ।
এ কথা তো সত্যি, সরকারের সব কাজের বিরোধিতা করার একটা চক্র রয়েছে। এদের বড় একটা অংশ বিরোধিতা করে রাজনৈতিক কারণে। এরা জন্মগত ও আদর্শগত কারণেই বর্তমান সরকারকে পছন্দ করে না, আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে না, শেখ হাসিনাকে পছন্দ করে না। ভারতের নাম শুনতে পারে না, হিন্দুদের দেখতে পারে না। এটা এদের মজ্জাগত স্বভাব। জিনগত সমস্যা। এরা কারা এবং এই পছন্দ কারা করেনা এটা বুঝিয়ে বলার কিছু নেই। তাদের মাইন্ডসেটই সরকার ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনা যদি নিজে গিয়েও এদের বাড়িতে ত্রাণ দিয়ে আসেন তাতেও এরা সমালোচনা করবে। এদের আমরা ভালো করেই চিনি।
এখন খবর আদানপ্রদানের সবচেয়ে বড় মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব রয়েছে। এর কল্যাণে সবাই সবকিছু লিখতে পারছেন,মন্তব্য করতে পারছেন। আপনি ফেসবুক আর ইউটিউবে ঘুরে আসুন দেখবেন সরকারের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করার লোকের অভাব নেই। নানা কল্পকাহিনী সাজিয়ে এরা প্রচার করছে। এসব দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হলে সরাকার কি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে না? নিতে পারবে না?
গ্রেপ্তার হয়েছে,মামলা হয়েছে এমন কয়েক জনের ফেসবুক বা ইউটিউব ঘুরে মনে হয়েছে তারা এমন সব বক্তব্য দিয়েছেন বা দিচ্ছেন যা শুধু অতিরঞ্জিতই নয় অবাস্তবও। এদের অনেককেই ব্যক্তিগত ভাবে চিনি পেশাগত কারণে। এরা বর্তমান সরকারকে, শেখ হাসিনাকে তাদের নীতিগতকারণেই শত্রু মনে করেন। শেখ হাসিনার জন্য ভালো একটি বাক্যও তাদের মুখ থেকে বের হয় নি। দেশ বিদেশ থেকে এরা বাঁশের কেল্লা চালান। তাদের পোস্টগুলোতে থাকে সরকারের বিরুদ্ধে বিষদাগার, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিষদাগার। তারা যে ভাষায় লিখে, মন্তব্য করে সেগুলো সমালোচনার ভাষা না। সেগুলো হলো প্রতিহিংসা।
আমার কথা হলো এই কঠিন সময়ে সবাই জান-প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে কাজ করছে। তাদের ভুলত্রুটি হবে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষায় ঝাপিয়ে পড়বেন কেনো? গঠনমূলক সমালোচনা করুন। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বাতলে দিন। এতে তারা উৎসাহ পাবে।
যারা দুর্নীতি করছে আর খবর হচ্ছে তারা কী রক্ষা পাচ্ছে? মাস্ক নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাইতো ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ এটা কি অস্বীকার করবেন? স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রাণ নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠছে তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে,জেলে দেয়া হচ্ছে। সরকারি বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে। সেখানে স্বজনপ্রীতি,দলপ্রীতি হতেই পারে। এই বাংলাদেশে এটা কী অবাস্তব? আমাদের নিজেদের জাতটাকেওতো চিনতে হবে।
সরকারিভাবে এমন কোথাও কি বলা হয়েছে যে বিএনপি বা জামাত সমর্থকদের ত্রাণ দেয়া হবে না? সহায়তা করা হবে না? বরং উল্টোটা শুনছি। বিএনপি জামাত অধ্যুষিত এলাকায় দল,মত, ধর্ম বিবেচনা করে ত্রাণ দেয়া হয়। জামাতের যে সব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে ত্রাণ দেয়া হয় তারা একজন ভিন্নধর্মী লোককেও ত্রাণ দেননা। কদিন আগে শ্রীমঙ্গলে জামাতের এক এনজিও ত্রাণ বিতরণ করে হিন্দুদের ধর্মান্তরীত করার চাপ দেয়া হয়েছে প্রকাশ্যে । এ নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। সিলেটে এক বিএনপি নেতা ত্রাণ দেয়ার সময় প্রকাশ্যে বলেছেন হিন্দুদের কোনো ত্রাণ দেয়া হবে না। যারা ত্রাণ আনতে গিয়েছিলো তারা ফেরত এসেছে৷ এগুলোতো সংবাদ মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু যেসব বিপ্লবীরা সরকারের গোষ্ঠী উদ্ধার করছেন,শেখ হাসিনার সমালোচনা করছেন তারা কী একটিবার সেই জামাতি এনজিও বিএনপি নেতাকে নিয়ে কথা বলেছেন? সমালোচক ডক্টররা তখন নিরব থাকেন কেনো?
ভাবুনতো কতো নিচু, অসভ্য মানসিকতার হলে এমনটা হতে পারে। মানুষের বিপদের সময়েও যারা জাত ধর্ম বিবেচনা করে এরা কি মানুষের সংজ্ঞায় পড়ে? বিপদেতো পশুও পরস্পরকে আশ্রয় দেয়। ঘূর্ণিঝড়ে সাপ আর ব্যাঙ একসাথে আশ্রয় নেয়ার ছবি আমাদের দেশের মিডিয়াতেইতো কতো ছাপা হয়েছে।
পক্ষান্তরে এটা যদি কোনো আওয়ামী লীগ নেতা করতো কিংবা অন্য কোনো ধর্মের এনজিও করতো তা হলে কি প্রতিক্রিয়া হতো ভাবা যায়? এই ডক্টররাই ঝাঁপিয়ে পড়তেন। সরকারের,শেখ হাসিনার গোষ্ঠী উদ্ধারতো হতোই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাও লাগাতো।
তাই বলছি সরকারের অন্ধ সমালোচনা করবেন না,প্রতিহিংসার মানসিকতায় সমালোচনা করবেন না। সরকার সবার। রাষ্ট্রের সবচেয়ে সংগঠন সরকার। সবার দায়িত্ব সরকারকে সহায়তা করা। সরকারের ভুল ত্রুটি তুলে ধরুন। আমলা কামলাদের ওপর সব দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। নিজেদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
ভারত যাওয়ার চেষ্টা,জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ১৭ সদস্য কারাগারে
রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাত- উল – মুজাহিদিন বাংলাদেশ, জেএমবির ১৭ সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হকিম সরাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে তাদের হাজির করলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসময় গ্রেফতারকৃতদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি, পুলিশও তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করেনি।
সোমবার জেএমবির এই সদস্যদের রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের উল্টোদিক থেকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট।
সংস্থাটির এডিসি তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৯ টি মোবাইল ফোন ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশী টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ হায়দার আলী (৪৪), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মোঃ জামিরুল ইসলাম (২৪), মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৮), মোঃ শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মোঃ ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫), মোঃ মোজাম্মেল হক (৩৩), মোঃ শাহজালাল(৩৪), মোঃ আক্তারুজ্জামান (৩০), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মোঃ আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মোঃ সোহাইল সরদার (৩৩), মোঃ ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মোঃ মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মোঃ সোহাগ হাসান (২০)।
প্রাথমিক জিজ্ঞসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, ভারতের কাশ্মীর,পাকিস্তান হয়ে সৌদিআরব যাওয়ার চেষ্টা করছিল তারা।
এ জন্য গত ১৮ মার্চ তারা রওনা হয়। ভারতে প্রবেশের জন্য প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করে। লক্ষ্য ছিলো তারা প্রথমে ভারতের কাশ্মীর যাবে।সেখানকার জঙ্গিদের সঙ্গেও রয়েছে তাদের যোগাযোগ। কাশ্মীরে জিহাদে অংশ নেবে, সেখান থেকে যাবে পাকিস্তান, তারপর সৌদি আরব। কিন্তু সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে পারে নি। ফিরে আসে ঢাকায়। অবস্থান নেয় কাকরাইল মসজিদে। সেখান তাবলিগ জামাতের সঙ্গে মিশে যায়। পরবর্তি লক্ষ্য সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতের আসাম হয়ে কাশ্মীর যাওয়া। সে অনুযায়ী সোমবার তাবলিগের বেশে রওনা হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। কাকরাইল এলাকা থেকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া এডিসি তহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, জনৈক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ থেকে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জিহাদের পক্ষে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহবান জানিয়ে অডিও ভিডিও প্রকাশ করেন। গ্রেফতারকৃতরা তাঁর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা পলাতক রবিউল সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তারা পরস্পর যোগাযোগ করে ভারত ও সৌদি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগ-জামাতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবে এটাই ছিলো লক্ষ্য।
গোয়েন্দারা জানায়, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালন করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সা’দ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরও ৭ জন ঈমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দ্যেশে সৌদিআরব গেছেন বলে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে।
চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, করোনায় মারা যাবে সব কাফের; ভারত যাওয়ার চেষ্টায় ১৭ জেএমবি গ্রেপ্তার
তাদের বলা হয়েছিলো করোনার দূর্যোগে আকাশ থেকে একধরনের গজব নেমে আসবে এবং সমস্ত কিছু ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে তখন বাংলাদেশ – ভারত সীমান্তে কোন পাহারা থাকবেনা। আগামী চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, আকাশ ধোঁয়ায় ছেয়ে যাবে, কাফেররা সবাই মারা যাবে, ঈমানদারদের শুধু হালকা কাঁশি হবে, এই রমজানেই ঈমাম মাহাদির আগমন ঘটবে সৌদি আরবে। তাই তারা যেভাবে পারে সেভাবেই যেনো আসার চেষ্টা করে। এই বিশ্বাস নিয়েই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ১৭ অনুসারী গত ১৮ মার্চ রওনা হয়। প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করে ভারতে যাওয়ার জন্য। তারা ভারতের কাশ্মীর যাবে, জিহাদে অংশ নেবে, সেখান থেকে যাবে পাকিস্তান, তারপর সৌদিআরব। কিন্তু সাতক্ষীরা ও যশোর সীমান্ত দিয়ে পার হতে না পেরে ঢাকা হয়ে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক তারা ঢাকায় আসে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জেএমবির ১৭ অনুসারীকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে সোমবার গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৯টি মুঠোফোন ২ লাখ ৩৪ হাজার বাংলাদেশী টাকা ও ৯২২ আমেরিকান ডলার জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জেএমবির সদস্য বলে স্বীকার করে
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ হায়দার আলী (৪৪), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে মাসুম, মোঃ জামিরুল ইসলাম (২৪), মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৮), মোঃ শেখ আরাফাত ওরফে জনি (৪৮), মোঃ ইমরুল হাসান ওরফে ইমন (২৫), মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫), মোঃ মোজাম্মেল হক (৩৩), মোঃ শাহজালাল(৩৪), মোঃ আক্তারুজ্জামান (৩০), মোঃ মাহমুদুল হাসান ওরফে সাব্বির (২৩), মোঃ আবিদ উল মাহমুদ ওরফে আবিদ (২২), মোঃ সোহাইল সরদার (৩৩), মোঃ ওবায়দুল ইসলাম ওরফে সুমন (৩০), মাহমুদ হাসান ওরফে শরীফ (১৮), মোঃ মাজেদুল ইসলাম ওরফে মুকুল ( ২৮) ও মোঃ সোহাগ হাসান (২০)।
অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের এডিসি তহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ৪ মে, সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় কাকরাইল মসজিদের উল্টোদিকে পাবলিক হেলথ্ কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, জনৈক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান বাংলাদেশ হতে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান এবং সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি জিহাদের পক্ষে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে বিভিন্ন বক্তব্য এবং গাজওয়াতুল হিন্দ নামক স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহবান জানিয়ে অডিও ভিডিও প্রকাশ করেন। গ্রেফতারকৃতরা তাঁর বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে ঈমাম মাহাদীর সৈনিক হিসাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা পলাতক রবিউল সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমান এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় তারা পরস্পর যোগাযোগ করে হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন। তাবলিগ-জামাতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপল সীমান্ত দিয়ে তারা ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি আরব পৌঁছাবে।
এডিসি তোহিদ বলেন, সৈয়দ মোস্তাক বিন আরমানের প্ররোচনায় এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ছাত্র গত জানুয়ারি মাসে ওমরা পালন করতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। এছাড়াও বিভিন্ন সময় সা’দ, কাউসার, শরীফ, তোফাজ্জল, গিয়াসউদ্দিন, আলী আজম এবং রাশেদ নামে আরও ৭ জন ঈমাম মাহাদির সৈনিক হিসেবে যোগদানের উদ্দ্যেশে সৈাদিআরব হিজরত করেছেন বলে গ্রেফতারকৃতরা জানান।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।











