ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 178

করোনাভাইরাসঃ হাইকোর্টের নির্দেশ পালিত হয়নি,আদালত অবমাননার মুখে স্বাস্থ্য সচিব, ডিজিসহ সংশ্লিষ্টরা

0

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম তৈরি না করা, এবং বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে টেস্টের সুযোগ না রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের আইনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। স্বাস্থ্য সচিব,স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক( ডিজি)সহ সংশ্লিষ্টরা আদালত অবমাননার মুখেমুখি হচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনী নোটিশ দিয়েছে নাগরিক অধিকার রক্ষায় যুক্ত দুটি সংগঠন। একটি নোটিশে চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মিদের কাছে নিরাপত্তা সামগ্রী ঠিক মতো না পৌঁছানোসহ আদালতের দেওয়া নির্দেশনা প্রতিপালন না করায় আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে। আরেক নোটিশে বিনামূল্যে করোনা টেস্ট এবং বেসরকারি হাসপাতালে কোনো প্রকার ফি আরোপ না করতে বলা হয়েছে।

রোববার (৩ মে) ই-মেইলের মাধ্যমে পৃথক দুটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোটিশকারী আইনজীবীরা।

তিন দিনের মধ্যে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক করোনাকে মহামারি ঘোষণার পরেও করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকার বিষয় গত ২০ মার্চ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।
ওই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ জনস্বার্থে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। সংস্থাটির আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অন্তবর্তী কিছু আদেশ দেন।

আদেশে স্বাস্থ্য সচিবকে দ্রুত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করতে বলা হয়। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় পিপিই, গ্লাভস, স্যানিটাইজার, সার্জিক্যাল মাক্স, গাউন, সু-কাভার, স্বাস্থ্য সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ও মেডিসিনের তালিকা করে তা তৈরির নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে ওই নিরাপত্তা সামগ্রী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট পৌঁছানোর জন্য নির্দেশ দেন।
নোটিশে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত না হওয়ায় প্রায় ৩ শ-এর বেশি চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর দায়-দায়িত্ব তারা এড়াতে পারেন না। এখনো অনেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সামগ্রী পৌঁছায়নি এমন সংবাদও প্রকাশ হচ্ছে।

আদালতের এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালিত না হওয়ায় স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, অতিঃসচিব (হাসপাতাল) সিরাজুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল্লাহকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে প্রত্যেক নাগরিককে করোনাভাইরাসের বিনামূল্যে টেস্ট এবং বেসরকারি হাসপাতালে করোনা টেস্টে কোনো প্রকার ফি আরোপ না করতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আরো দুই আইনজীবী।
রোববার স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি এবং আইইডিসিআরের পরিচালকসহ ৬ জনকে এ নোটিশ পাঠান ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউসার।

আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, “করোনা টেস্টের বাণিজ্যিকীকরণ প্রতিরোধে বিনামূল্যে টেস্ট সাধারণ জনগণের জন্য ব্যবস্থা করার জন্য ল’ এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে এ আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে করোনা টেস্টের অনুমতি দিয়েছে যেখানে সরকার একটি নির্ধারিত মূল্য টেস্টের জন্য দিয়েছেন সেটা হল তিন হাজার পাঁচশত টাকা। যেটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধকরণের পরিবর্তে তাদের নিরুৎসাহিত করা হবে। যেহেতু করোনা একটি জাতীয় সমস্যা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে যত বেশি টেস্ট করা সম্ভব হবে অল্প সময়ে তত তাড়াতাড়ি এবং সঠিকভাবে এই করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। কিন্তু একটি টেস্টের দাম যদি নির্ধারণ করা হয় ৩৫০০ টাকা তাহলে আমাদের সাধারণ মানুষ টেস্টে আগ্রহী হবে না এবং এখানে একটি বাণিজ্যিকীকরণ হবে টেস্ট নিয়ে।’
এটি একটি বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, ‘কিছু মানুষ বিনামূল্যে টেস্ট করতে পারবে আর কিছু মানুষ ৩৫০০ টাকায় টেস্ট করাতে হবে এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলো এই বিষয়টি নিয়ে একটি ব্যাপক বাণিজ্য করার সুযোগ পাবে যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপ্রত্যাশিত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’ না হলে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে বলা হয়েছে।

অনুপ্রবেশ মামলায় সাংবাদিক কাজলের জামিন,৫৪ ধারায় কারাগারে

0

নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে অনুপ্রবেশ মামলায় জামিন দিলেও ৫৪ ধারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে বিজিবি রঘুনাথপুর সীমান্ত থেকে আটক করে বেনাপোল বন্দর থানায় হস্তান্তর করে। দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক এ আদেশ দেন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হওয়ার পর প্রায় দুই মাস ধরে নিখোঁজ সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের খোঁজ মিলেছে বেনাপোল সীমান্তে।

বেনাপোল বন্দর থানার ওসি মামুন খান জানান, শনিবার গভীর রাতে বিজিবি রঘুনাথপুর সীমান্ত থেকে এ ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তি ঢাকা থেকে নিখোঁজ ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। বিজিবি অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করে ও পরে কোর্টে পাঠায়

এদিকে কাজলের স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী জানান, শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে বেনাপোল থানা থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ফোন করে তার স্বামীর সঙ্গে তাদের কথা বলিয়ে দেন।

“আমার ছেলেকে ও ফোনে বলেছে, ‘আব্বু আমি বেঁচে আছি, তোমরা সবাই আমাকে নিতে আস’।”
তাদের ছেলে মনোরম পলক সকালে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বেনাপোলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান বলে জানান জুলিয়া।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যটালিয়নের রঘুনাথপুর ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী বলেন, “বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশের সময় ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাকে আটক দেখিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে ‘জড়িত’দের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে, তাতে আসামির তালিকায় কাজলের নামও রয়েছে।
মাগুরা-১ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর গত ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পর গত ১০ মার্চ থেকে কাজলের খোঁজ মিলছে না জানিয়ে প্রথমে চকবাজার থানায় জিডি ও পরে মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক।
এক সময়ের জাসদ ছাত্রলীগ নেতা কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধান দাবিতে পুরনো রাজনৈতিক সহকর্মী, স্বজন ও সাংবাদিকরা মাঠে নেমেছিলেন।
তাদের আন্দোলনের মধ্যে এক পর্যায়ে কাজলের একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ভিডিওতে কাজল নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগের চিত্র উঠে এসেছে বলে দাবি সংস্থাটির।
ওই ফুটেজে কাজলকে একটি জায়গায় রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রেখে পাশের কোথাও যেতে দেখা যায়। বেশ কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে মোটরসাইকেল চালিয়ে যান তিনি। এর মধ্যে তার ওই মোটরসাইকেল ঘিরে কয়েকজনকে তৎপরতা চালাতে দেখা যায়।
তবে ওই ফুটেজ ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে তেমন কিছু মেলেনি বলে জানিয়েছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

টেংরাটিলায় গ্যাস কূপ বিস্ফোরণে দায়ী নাইকো, ৮ হাজার কেটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

0

সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খননের সময় ২০০৫ সালে দুবার বিস্ফোরণের ঘটনায় কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোকে দায়ী করে বিশ্ব ব্যাংকের আন্তর্জাতিক সালিশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটের (ইকসিড) ট্রাইব্যুনাল থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেওয়া ওই সিদ্ধান্তের ফলে নাইকোকে এখন টেংরাটিলা দুর্ঘটনার জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ক্ষতিপূরণের পরিমান ৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ রোববার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে মামলার রায়ের খবর প্রকাশ করেন।

ইকসিডে এই সালিশি মামলায় বাংলাদেশের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুদ্দিন বলেন, “ওই বিস্ফোরণে বাংলাদেশের যে ক্ষতি হয়েছে সে বিষয়টি রিকগনাইজ করেছে ট্রাইব্যুনাল। এই ক্ষতির জন্য নাইকোকে দায়ী করেছে, তাদেরকে এর ক্ষতিপূরণ বাংলাদেশকে দিতে বলেছে।”

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের একটি ক্ষতিপূরণের দাবি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে। তবে ট্রাইব্যুনাল ওই ক্ষতির সঙ্গে পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির দিকটি যোগ করতে বলেছে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ব্রিফিংয়ে বলেন, “গত ১০ বছরে অনেক ডেটা হারিয়ে গিয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করব আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে স্বাস্থ্যগত ক্ষতি ও পরিবেশগত ক্ষতি নিরূপণ করতে। এর সঙ্গে রাষ্ট্রের যে ক্ষতি হয়েছে তাও যুক্ত করা হবে।”
চলমান কভিড-১৯ মহামারী কেটে গেলে ক্ষতি নিরূপণের জন্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ছাতকের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়নে ২০০৩ সালে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে চুক্তি করে রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী কোম্পানি বাপেক্স। নাইকো সেখানে অনুসন্ধান কূপ খনন করার সময় ২০০৫ সালের জানুয়ারি ও জুন মাসে দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটে।
সেই ঘটনায় গ্যাস মজুদ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিরাট এলাকায় সম্পদের ক্ষতি হয়। সেজন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা।
২০১০ সালের মে মাসে নাইকো পরিচালিত ফেনী গ্যাসক্ষেত্রটি বন্ধ হয়ে গেলে টেংরাটিলার জরিমানা আদায় না হওয়ায় নাইকোর গ্যাস বিল বাবদ পাওনা দুই কোটি ৭০ লাখ ডলার আটকে দেয় পেট্রোবাংলা। টেংরাটিলায় নাইকোর সম্পদও বাজেয়াপ্ত করে রাখা হয়েছে।
এরপর নাইকো ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিসি প্রতিষ্ঠান ইকসিডে দুটি মামলা করে। একটি গ্যাসের বকেয়া বিল আদায় সংক্রান্ত, অন্যটি টেংরাটিলা বিস্ফোরণে ক্ষতিপূরণ দাবির মামলার বৈধতা নিয়ে।
এর মধ্যে ক্ষতিপূরণ দাবির বিরুদ্ধে নাইকোর আবেদন ২০১৩ সালের অগাস্টে খারিজ করে দেয় ইকসিড। পরের বছর আরেক সিদ্ধান্তে এই সালিশি ট্রাইব্যুনাল জানায়, টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ফায়সালার আগে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাওনা অর্থ নাইকো পাবে না।
নাইকো এরপর এ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুললে ২০১৯ সালে তাও খারিজ হয়ে যায়। এক বছরের মাথায় টেংরাটিলার বিস্ফোরণের জন্য নাইকোকে দায়ী করে বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিল ইকসিড।
প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, “ওই গ্যাস ক্ষেত্রের কার্যক্রমে নাইকোর অনেক ত্রুটি ছিল, তারা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কাজ করেনি। যেভাবে পেট্রোবাংলা বা বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে সে চুক্তি তারা ভঙ্গ করেছে। ট্রাইব্যুনাল এই কথাগুলো স্পষ্ট বলেছে।”
তিনি জানান, এর আগে গ্যাসের ক্ষতি বাবদ ১১৮ মিলিয়ন এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি বাবদ ৮৯৬ মিলিয়ন ডলারের একটি হিসাব ট্রাইব্যুনালে দেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে এখন পরিবেশগত ক্ষতি ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির হিসাব যোগ করা হবে।
“২০০৫ সালে ওই বিস্ফোরণের পর এখন পর্যন্ত সেখানে গ্যাস বের হচ্ছে। সুতরাং এখানে রাষ্ট্রীয় বা পেট্রোবাংলার ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক এক্সপার্টরা সেটা যাচাই-বাছাই করে বের করবেন।”
আর ব্যারিস্টার মইন বলেন, “আগামী ছয় মাসের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। এর এক বছরের মধ্যে আমরা চূড়ান্ত রায় পাব।”
কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো ইতোমধ্যে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাহলে ক্ষতিপূরণের টাকা সরকার কীভাবে আদায় করবে তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।
উত্তরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ৯ নম্বর ব্লকে নাইকোর যে শেয়ার ছিল বাংলাদেশ তার পুরোপুরি মালিকানা নিয়ে নেবে। এছাড়া ফেনী গ্যাস ফিল্ডে বাংলাদেশ সরকারের কাছে গ্যাসের বিল বাবদ নাইকো যে ৩০ মিলিয়ন ডলার দাবি করছে সেটারও নিষ্পত্তি হবে। এর বাইরে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে তাদের যে সম্পদ আছে সেখান থেকে আমরা এ টাকা আদায় করার চেষ্টা করব।”
আইনজীবী মইন বলেন, ফেনী ক্ষেত্রের গ্যাসের বিল বাবদ নাইকোর দাবির পরিমাণ তিন কোটি ডলারের মত।
“আর ট্রাইব্যুনালের রায়ে বাংলাদেশের ইতোমধ্যে অন্তত এক বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য হয়েছে যা আরো বাড়বে। ফলে নাইকোকে আর কোনো টাকা বাংলাদেশের দিতে হবে না।
টেংরাটিলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তখনকার বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেনকে নাইকো একটি এসইউভি গাড়ি ঘুষ দেয় বলে তখন সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
কানাডার একটি আদালতেও নাইকোর কর্মকর্তারা ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে প্রতিষ্ঠানটিকে ৯৫ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়।
বাংলাদেশের ৯ নম্বর ব্লকে নাইকোর ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের মালিকানা রয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ ব্রিফিংয়ে।

করোনা নিয়ে চীন – আমেরিকা বিবাদ; হু’র প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ লাখ মানুষের পিটিশন

1

বিশ্বেজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার জন্য চীনকে আগেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, করোনার মতো মহামারি ছড়ানোর দায়ে চীনের কাছে মোটা অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারে তাঁর সরকার। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে করোনা-সংক্রমণ ছড়ানোয় চীনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন প্রশাসন।
এদিকে চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরও তা নিয়ে লুকোচুরি করা এবং ব্যবস্থা না নেয়ায় বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে বিশ্বজুড়ে অনলাইনে পিটিশন দেয়া শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যে আবেদনকারির সংখ্যা ১০ লাখ ছড়িয়ে গেছে।
খবর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের।
ট্রাম্প মনে করেন আগামী নির্বাচনে তিনি যাতে ফের জিততে না পারেন এ জন্য চীন নানামুখি চেষ্টা চালাচ্ছে।
করোনা-সংক্রমণ রোধে চীনের ভূমিকা নিয়েও অসন্তুষ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, চীন সক্রিয় ভাবে প্রথমেই তা রুখে দিলে, গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ত না আর তা মহামারির আকারও নিত না। চীনের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘‘(করোনা-মোকাবিলায়) চীনের ভূমিকায় আমরা একেবারেই সন্তুষ্ট নই। গোটা (করোনা) পরিস্থিতি নিয়েও সন্তুষ্ট নই। কারণ আমাদের বিশ্বাস, একে (করোনা-সংক্রমণকে) গোড়াতেই রোখা যেত। এবং দ্রুত রোখা হলে তা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ত না।’’

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে মধ্য চীনের উহান শহরে প্রথম নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। যা এখন ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। লকডাউন-সহ একাধিক বিধিনিষেধ সত্ত্বেও তাতে রাশ টানা যায়নি। বিশ্ব জুড়ে এই ভাইরাসে ৩০ লাখেরও বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লক্ষ ২০ হাজারের উপরে। তবে করোনায় আক্রান্তের নিরিখে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । সে দেশের সংক্রমিতের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখের বেশি। মৃত্যু হয়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি। এই ভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বে ছড়িয়ে প়ড়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও বহু বার চীনকে দায়ী করেছে। গোটা পরিস্থিতির জন্য ফের এক বার চীনকে দুষেছেন তিনি। সে জন্য চীনকে বড়সড় আর্থিক ক্ষতিপূরণও দিতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘নানা ভাবেই তাদের (চীন সরকারকে) দায়ী করা যায়।’’

শুধুমাত্র ট্রাম্প প্রশাসনই নয়, এর আগে জার্মানির একটি সংবাদপত্রও সংক্রমণ ছড়ানোর জন্য চীনকে দায়ী করেছে। এমনকি, ওই সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে মন্তব্য, চীনের উচিত জার্মানিকে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দেওয়া। চীনের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা বললেও, তার পরিমাণ কত হবে, তা নিয়ে এখনই অবশ্য কোনও মন্তব্য করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এখনও চূড়ান্ত আর্থিক অঙ্ক ঠিক করে উঠতে পারিনি। তবে তা বেশ বড়সড় অঙ্কের হবে। কারণ এতে শুধু আমেরিকার ক্ষত তৈরি করেনি, বিশ্বজোড়াই ক্ষতি হয়েছে।’’

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা মহামারি রুখতে একেবারে ব্যর্থ। হু প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসুস চীনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট। এই অভিযোগ তুলে হু প্রধানের পদত্যাগ দাবি করলেন অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ।

করোনা রুখতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে হু প্রধানের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন পিটিশন তৈরি করা হয়। যাতে লেখা ছিল, ‘গত ২৩ জানুয়ারি ২০২০ সালে টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসুস করোনা ভাইরাসকে মহামারি ঘোষণা করতে অস্বীকার করেন। আমরা সকলেই জানি এই মুহূর্তে করোনা ভাইরাসের কোনও প্রতিষেধক নেই। সেদিনের পর মাত্র ৫ দিনে করোনার সংক্রমণ এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়। আর এর দায় অনেকাংশে টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসুসের। তিনি এই ভাইরাসের ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেননি। আমাদের মনে হয় টেড্রোস আধানম হু প্রধানের পদে থাকার উপযুক্ত লোক নন। তাই, এখনই তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। আমরা বিশ্বাস করি হু রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ। কিন্তু চীন সরকার যে আক্রান্ত ও মৃতের তালিকা দিয়েছিল, সেটাই অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছেন ঘেব্রেইসুস।’ অনলাইনে এই পিটিশনটিতে এখনও পর্যন্ত ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সই করেছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চীনের তাবেদারি করার অভিযোগ তুলেছিলেন হু’র বিরুদ্ধে। তিনি বলেছিলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের যে সংখ্যা চীন দেখাচ্ছে, তাতে গলদ আছে। আসল তথ্য চেপে যাওয়া হচ্ছে।

আদালত আপাতত বন্ধই থাকছে, ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ

0

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টসহ দেশের সব আদালত আপাতত বন্ধই থাকছে। প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ফুল কোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফুল কোর্ট সভায় একটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করতে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানানোর সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, হাইকোর্ট বিভাগের রুলস সংশোধন করে ভার্চুয়াল আদালত স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফুল কোর্ট সভা।

ফুল কোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের অধিকাংশ বিচারপতি অংশগ্রহণ করেন।
মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে প্রায় একমাস ধরে আদালত বন্ধ রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানির জন্য ছুটির মধ্যে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এবং একজন বিচারক দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে কাজ পরিচালনার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল।

ওই সিদ্ধান্তে জেলা ও মহানগরের দায়রা জজ ও মুখ্য বিচারিক হাকিমের সুবিধা মতো সপ্তাহে দুই দিন নিম্ন আদালতে জরুরি জামিন শুনানির সিদ্ধান্তও এসেছিল সুপ্রিম কোর্ট থেকে।

গত ২৩ এপ্রিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত পরিসরে সুপ্রিম কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছিলেন।

এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে সীমিত পরিসরে আদালত খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। সে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য ছুটিকালীন সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে বসবেন।

তাছাড়া ছুটিকালীন সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সব অধিক্ষেত্রের অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
আদালত পরিচালনার কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং সামাজিক দূরত্ব অনুসরণের নিয়ম-কানুন বিষয়ে বিচারপতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।
এ ছাড়া বিচার প্রার্থীদের কথা চিন্তা করে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ আদালত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজকে এবং মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজকে ছুটিকালীন সময়ে তার সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহে যে কোনও দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির জন্য সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ছুটিকালীন সময়ে তার/তাদের সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহে যেকোনও দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির (কারাগারে থাকা হাজতি আসামির আবেদনসহ) সীমিত আকারে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
এছাড়া ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গত ১১ এপ্রিলের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় পুনরায় উল্লেখ করা হচ্ছে যে, যেসব ফৌজদারি মামলায় আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা/স্থিতাবস্থা/স্থগিতাদেশের আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সেসব মামলার আদেশের কার্যকারিতা আদালত নিয়মিতভাবে খোলার তারিখ থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে ওই মামলাগুলোর বিষয়ে কোনও আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে না।’
‘একটি মামলার জামিন শুনানিতে কেবল একজন আইনজীবী অংশগ্রহণ করবেন। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে স্ব-স্ব আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে জেলা ও দায়রা জজ/মহানগর দায়রা জজ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।’
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে জামিন শুনানিকালে কারাগারে থাকা আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত প্রাঙ্গণে ও এজলাস কক্ষে হাজির না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আদালত খোলা রাখার এ সিদ্ধান্তে আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বেশিরভাগ আইনজীবী এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান এবং মনে করেন এর ফলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবেন আইনজীবীরা। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত খোলার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।।

সীমিত পরিসরে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত

0

চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সীমিত পরিসরে সুপ্রিম কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতির সঙ্গে সীমিত পরিসরে আদালত খুলে দেওয়ার বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন। সে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

এদিকে সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য ছুটিকালীন সময়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে বসবেন।
তাছাড়া ছুটিকালীন সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সব অধিক্ষেত্রের অতি জরুরি বিষয়গুলো শুনানির জন্য হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
আদালত পরিচালনার কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং সামাজিক দূরত্ব অনুসরণের নিয়ম-কানুন বিষয়ে বিচারপতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।
এদিকে, আইনজীবীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং বিচার প্রার্থীদের কথা চিন্তা করে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন দেশের সব জেলা ও দায়রা জজ আদালত খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজকে এবং মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজকে ছুটিকালীন সময়ে তার সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহে যে কোনও দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির জন্য সীমিত আকারে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
‘চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ছুটিকালীন সময়ে তার/তাদের সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহে যেকোনও দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির (কারাগারে থাকা হাজতি আসামির আবেদনসহ) সীমিত আকারে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
এছাড়া ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গত ১১ এপ্রিলের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় পুনরায় উল্লেখ করা হচ্ছে যে, যেসব ফৌজদারি মামলায় আসামিকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে বা যেসব মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা/স্থিতাবস্থা/স্থগিতাদেশের আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সেসব মামলার আদেশের কার্যকারিতা আদালত নিয়মিতভাবে খোলার তারিখ থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে ওই মামলাগুলোর বিষয়ে কোনও আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে না।’
‘একটি মামলার জামিন শুনানিতে কেবল একজন আইনজীবী অংশগ্রহণ করবেন। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে স্ব-স্ব আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে জেলা ও দায়রা জজ/মহানগর দায়রা জজ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।’
এছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে জামিন শুনানিকালে কারাগারে থাকা আসামিদের কারাগার থেকে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনোভাবে আদালত প্রাঙ্গণে ও এজলাস কক্ষে হাজির না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাহেবী মানসিকতা ছেড়ে মাঠে নামতে হবে সচিবদের

0

প্রতি জেলায় একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আছেন।
তারা কোথায়? এমপিরা কোথায়? জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কোথায়? উপজেলা চেয়ারম্যান কোথায়?
পৌরসভার চেয়ারম্যান কোথায়? সিটি করপোরেশনের মেয়ররা কোথায়? ঢাকার দুই সিটির মেয়র কোথায়? কোথায়?
তাদের কোথাও দেখা মিলছে না।
ত্রাণ নিয়ে দৌঁড়াচ্ছেন শুধু ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আর মেম্বাররা।
করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্খ্যকর্মিরা। আর আছেন আইনশৃংখলা বাহিনী।
তা হলে জনপ্রতিনিধিরা কখন আসবেন? তারা গেলেন কোথায়?
জনতার কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই?
তারা সবাই কী ত্রাণ লুট করবে? তাদের প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই?
দেশের মানুষের এই বিপদের মুহূর্তে জনপ্রতিনিধিরা কী দেশপ্রেমের পরিচয় দেবেন না?
জনপ্রতিনিধি চাইলে প্রতিটি গ্রামে পাড়া মহল্লায় ত্রাণ নিতে ইচ্ছুক কিংবা দরিদ্র মানুষের তালিকা করা কোনো বিষয়?
২৪ ঘন্টার মধ্যেই তা করা সম্ভব।
প্রতিটা গ্রামে মহল্লায় স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করুন।
দলমতের উর্ধে উঠে তাদের নির্বাচিত করুন।
দেশের তরুণরা এগিয়ে আসবে।
ভালোভাবে ডাক দিন।
এ লড়াই বাঁচার লড়াই।
মাথার উপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকুন। তিনি আমাদের ভরসা।
কিন্তু একা সব পারবেন না।
অন্যদেরও ডাকুন।
এটা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা না। রাজনৈতিক সমস্যা না। আওয়ামীগ বিএনপির সমস্যা না। এটা বৈশ্বিক সমস্যা।
এ সমস্যায় মহা ক্ষমতাশালী রাষ্ট্র ধরাশায়ী হয়ে যাবে। কিন্তু টিকে যাবে বাংলাদেশসহ কৃষিপ্রধান দেশগুলো। আমরা যদি ফসলটা তুলতে পারি, জীবনের এই একটিবার অস্তিত্বের লড়াইয়ে দেশপ্রেমের পরিচয় দিই তা হলে আমাদের কোনো অভাব হবে না। আমাদের চাহিদা কম। ঘরে চাল ডাল থাকলেই হবে। মাছ, মাংস,ডিমের উৎপাদন নিশ্চিত করুন। এ শিল্পগুলোকে সহায়তা করুন। দেখবেন চাহিদার কয়েকগুণ বেশি উৎপাদন হবে। উর্বর মাটি আমাদের। যত্ন পেলে শাক সবজিতে ভরে যাবে দেশ। গার্মেন্টসওলাদের কথা পরে ভাবুন। তাদের প্রণোদনা পরে দিন। উন্নয়নকাজ বছরখানেক বন্ধ রাখুন। বিলাসী পণ্যের দরকার নেই। চুরি চামারিটা বন্ধ রাখুক। বিদেশে টাকা পাচারকারিরা টাকা ফেরত এনে দেশের কাজে লাগাক। মোটকথা এবার সবাই ভাবুন দেশটা আমার। এ দেশ ছাড়া কোথাও রক্ষা নেই। আমেরিকা,কানাডা,ইংল্যান্ড সব ধরাশায়ী। মুত্যুপুরি হয়ে গেছে। সবার ক্ষমতা শূণ্যে নেমেছে।
বড়ত্বের অহমিকা করে আর লাভ নেই।
সজাগ হোন।
জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা নেই বলেই হয়তো ৬৪ জেলায় ৬৪ সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হলো। জনগণের সেবক হিসেবে তারা মাঠে নামবেন এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু তাদের অফিসারগিরি মানসিকতা, সাহেবী মানসিকতা,আমলাতান্ত্রিকতা পরিহার করতে হবে। সেবক হিসেবে মাঠে নামবেন এটাই প্রত্যাশা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ থেকে দিকনির্দেশনা দেয়া আপাতত বন্ধ রাখবেন সচিবরা এটাই প্রত্যাশা।
হাওরে এ মুহুর্তে ধান ওঠছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কয়েকজন সচিব,সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য সেখানে পাঠান। তারা হাওর এলাকায় থেকে তদারকি করুন। দেখবেন সোনার ফসল নির্বিঘ্নে কৃষকের গোলায় ওঠবে। শুরুতেই সরকারি উদ্যোগে ধানচাল কিনে ফেলা হোক।
থানায় থানায় কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করতে বলুন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক ইঞ্চি জায়গাও পতিত না রাখার জন্য। কিন্তু বেশিরভাগ কৃষকই জানেন না কোন জমিতে কোন ফসল কখন এবং কোন উপায়ে ফলানো যাবে। তারা আন্দাজের উপর ফসল ফলান। ফলে শত শত একর জমি অনাবাদি থাকে সঠিক ফসল ফলে না। থানার কৃষিকর্মকর্তা যদি সঠিক পরামর্শ দেন তা হলে এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না এটা নিশ্চিত।
আবারো বলছি দেশের অস্তিত্বের লড়াই,আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই। হিংসা, দোষারোপ, রাজনৈতিক বাগবিতণ্ডা পরিহার করে সবাই চলুন দেশের জন্য দাঁড়াই । ##

সত্য বলা যাবে না?

0

নার্সদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলতে নির্দেশ দিয়েছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। গত ১৫ এপ্রিল এ নির্দেশ জারি করা হয়।
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে খাবার সঙ্কটসহ নানাবিধ সমস্যার কথা গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন একজন নার্স। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হলো। এই নার্সের অপরাধ তিনি সত্য বলেছিলেন। এ জন্য তাদের সবার মুখ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। মনে হয় এই নার্সের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে।
নোয়াখালি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আবু তাহেরকে শোকজ করেছে তার উর্ধতন কতৃর্পক্ষ। কারণ ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি বলেছিলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রুগিদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের চিকিৎসকদের পিপিই,মাস্ক কোনো কিছুই নেই। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি, স্বাস্থ্য সচিব প্রতিদিন বলে আসছেন পর্যাপ্ত পিপিই মাস্ক সব চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে শুধু নোয়াখালীর এই চিকিৎসকই নন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অনেক হাসপাতালেই পিপিই পাওয়া যায় নি। অনেক চিকিৎসকই এমন অভিযোগ করেছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীর নিজ জেলা গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা পিপিই মাস্ক কিছুই পাননি।
পিপিই পেয়ে থাকলে চিকিৎসকরা মিথ্যা বলবেন কেনো? চিকিৎসা নিয়ে তো অবহেলার কথা বলা হচ্ছে না। যে রোগের ওষুধই আবিস্কার হয় নি তার আবার চিকিৎসা হবে কেমনে? আনুষাঙ্গিক অন্যান্য উপসর্গের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। কিন্তু যে রোগটা ভয়ংকর ছুঁয়াচে সেটা জানার পরও পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া একজন চিকিৎসক রোগি দেখবেন কেনো? একজন নার্স সেবা দিবেন কেনো? তার কী জীবনের মায়া নেই?
কিন্তু এ সত্য বলতে পারছেন না চিকিৎসকরা।বললেই গর্দান নেমে আসছে, তাকে শোকজ করা হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে। নোয়াখালীর চিকিৎসক আবু তাহেরের অপরাধ তিনি সত্য বলেছিলেন।
আমরা ভুলে যাইনি মিটফোর্ড হাসপাতালের সেই পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোর্শেদ রশিদের কথা। ২১ মার্চ যিনি নোটিশ দিয়ে জানিয়েছিলেন, সম্পদের স্বল্পতার কারণে পর্যাপ্ত মাস্ক না থাকায় চিকিৎসকরা যেনো নিজ নিজ উদ্যোগে তা সংগ্রহ করেন। এ নোটিশ প্রকাশ হলে হৈচৈ পড়ে যায়। কারণ একদিন আগেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি এমন কি মন্ত্রীও জানিয়েছিলেন, করোনা মোকাবেলায় সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতির কথা আর পিপিই মাস্কের কোনো সংকটও নেই। কিন্তু মিটফোর্ডের পরিচালক যখন থলের বেড়াল বের করে দিলেন তখন গেলো গেলো রব ওঠলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে।
এ ঘটনায়ও ক্ষিপ্ত হন মন্ত্রণালয়ের বড় সাহেবরা। দুদিন পরেই মিটফোর্ডের সেই পরিচালককেও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এখানেও তার অপরাধ তিনি সত্য বলেছিলেন।
১৮ এপ্রিল বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের এক জরিপে বলা হয়েছে কোভিট -১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের ২৫ শতাংশ এবং নার্সদের ৬০ শতাংশ পিপিই পাননি। আর যারা পেয়েছেন সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন এবং মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো তৈরী হয় নি।
মানদণ্ড অনুযায়ী যে হয় নি তার প্রমাণও মিলছে। অনেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা সেগুলো পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আইনশৃংখলা বাহিনী রাজধানীতেই অভিযান চালিয়ে ভেজাল মাস্ক,পিপিই উদ্ধার করেছে, কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। গণমাধ্যমে খবর এসেছে প্রভাশালী একটা সিন্ডিকেট এই ভেজাল এ নিম্নমানের পিপিই,মাস্ক তৈরির সঙ্গে জড়িত। এরা দেশের কারখানাতেই এন -৯৫ মাস্ক তৈরী করে ভুয়া আমদানি দেখিয়ে সরবারাহ করেছে। আশ্রয় নিয়েছে ভয়াবহ জালিয়াতির। প্যাকেটের গায়ে লেখা এন-৯৫ আর প্যাকেট খুলে পাওয়া যায় সার্জিক্যাল মাস্ক। মুগদা জেনারেল হাসপাতালে এসব মাস্ক পাওয়ার পর হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি এ নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালককে চিঠি দিয়ে এর কারণ জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদ উল্লাহ জানান, এসব সাধারণ সার্জিক্যাল মাস্ক। প্যাকেটের গায়ে ভুল করে এন-৯৫ লেখা হয়েছিল।
কি বিপজ্জনক কথা ! প্যাকেটের গায়ে সিল মারা একটা আর ভেতরে আরেকটা। কতোবড় জালিয়াতি।
এটা কী সাধারণ ভুল? যেখানে চিকিৎসকের জীবন মরণ প্রশ্ন। ডায়রিয়ার রোগীকে ক্যান্সারের ওষুধ খাইয়ে দিলে সেটা কী ভুল স্বীকার করলেই হয়ে যাবে? কারা এমন ভুল করলো? কেনো করলো? তা কী জানার অধিকার নেই দেশের নাগরিক হিসেবে?
কিন্তু না, তা না করে উল্টো হুমকি দেয়া হচ্ছে, এ নিয়ে লেখালেখি করলে ডিজিটাল আইনে মামলার করা হবে । তার মানে সত্য বলা যাবে না? প্রশ্ন তোলা যাবে না?
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে জীবন বাঁচাতেও সত্য বলা যাবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের সব কাজকে সঠিক বলতে হবে,সমর্থন দিয়ে যেতে হবে। অথচ স্তরে স্তরে তাদের ব্যর্থতা। তাদের কথা ও কাজে মিল নেই। এই ব্যর্থতার মাশুল পুরো জাতিকে দিতে হবে।
যেমন দিচ্ছে চীন আর চীনের কারণে ধুকছে বিশ্ববাসী। চীন যদি শুরুতেই মিথ্যার আশ্রয় না নিতো,লুকোচুরি না করতো তা হলে করোনাভাইরাস সারাবিশ্বে ছড়াতো না।
করোনা ভাইরাসের শুরুতেই গত ডিসেম্বরে চীনের উহানের একজন চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং এই ভাইরাসের কথা বলায় তাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। চীনের সাংবাদিক, চিকিৎসকরা এই ভাইরাস, মহামারী নিয়ে কোনো কথা বললে তার উপর নির্যাতন নেমে আসতো। অথচ চীন যদি শুরুতে তথ্য গোপন না করতো, তা হলে বিশ্ববাসীর আজ এ পরিণতি হতো না।
আমরাও কী চীনের পথ অনুসরণ করছি?

সংসদের অধিবেশন বিকেলে বসছে

0

একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশন বসবে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল ৫টায়। করোনাভাইরাসের কারণে এই অধিবেশনের মেয়াদ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া সংসদ সদস্যদের অধিবেশন কক্ষে বসার সময় শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হবে। কোরাম (৬০ সদস্য) পূর্ণ হলেই অধিবেশন শুরু হবে।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘সংসদে জনসমাগম এড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি যাতে কম হয় তা নিশ্চিত করা হবে। দরকার নেই এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে।’

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এখন ঢাকায় আছেন এবং বয়সে তরুণ এমন এমপিদেরই শুধু সংসদে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হবে। সংসদে প্রবেশের সময় এমপিদের তাপমাত্রা মাপা হবে।
সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়সীমা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংসদের গণসংযোগ অধিশাখার পরিচালক তারিক মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে করোনাভাইরাসের কারণে জাতীয় সংসদের এই অধিবেশনে সাংবাদিকদের উপস্থিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সংসদ বিটে কর্মরত সব গণমাধ্যমের সাংবাদিক ভাইদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, একাদশ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ১৮ এপ্রিল শনিবার বিকাল ৫টায় আহ্বান করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে সবার জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে এ অধিবেশন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হবে। এ প্রেক্ষাপটে সব সাংবাদিক ভাইদের সরাসরি সংসদে না এসে সংসদ টেলিভিশন থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত অধিবেশন কভার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হচ্ছে।’
করোনভাইরাসের এই মহাদুর্যোগেও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সংসদের সপ্তম অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। এক অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে আবার বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সর্বশেষ ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয়েছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসাবে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের অধিবেশন শুরুর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। খবর বাসস।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মায়ের মৃত্যু

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এর মা জাহানারা হক, শুক্রবার দিবাগত রাত ৩:৪০ মিনিটে রাজধানীর এপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আজ শনিবার বাদযোহর বনানীর ১১ নম্বর রোড সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের জামে মসজিদে পারিবারিকভাবে ও সীমিত পরিসরে মরহুমার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

গতবছরের ২৭ অক্টোবর থেকে এপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ হৃদরোগ সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর ০৫ মাস ২১ দিন।

তিন বছরের ব্যবধানে মন্ত্রী তাঁর ভাই, বোনের পর মাকে হারালেন। ২০১৭ সালের ১০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে একটি হাসপাতালে মন্ত্রীর একমাত্র ছোট ভাই আরিফুল হক রনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা রেখে গেছেন।

মন্ত্রীর একমাত্র বড় বোন সায়মা ইসলাম ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই ঢাকায় মারা যান। তিনি স্বামী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

বিয়ের কিছুদিন পর ১৯৯১ সালের ২ জানুয়ারি সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী নূর আমাতুল্লাহ্ রিনা হককে হারান আইনমন্ত্রী। এরপর তিনি আর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি। তাঁর কোন সন্তান নেই।

২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর মারা যান বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ট সহচর আনিসুল হকের পিতা এডভোকেট সিরাজুল হক। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার, সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন।

আনিসুল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।