ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 179

ঘরে বসে আইনগত সহায়তা

0

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে বসে যে কোনো আইনগত প্রয়োজনে আইনগত পরামর্শ বা তথ্য প্রাপ্তিতে সরকারি আইনগত সহায়তায় ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারের টোল ফ্রি (১৬৪৩০) নম্বরটিতে। বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা।

সংস্থার সহকারী পরিচালক (মনিটরিং) মাসুদা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আর্থিকভাবে অসচ্ছল সহায়-সম্বলহীন এবং নানাবিধ আর্থ-সামাজিক কারণে বিচার প্রাপ্তিতে অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশে আইনগত সহায়তা প্রদান আইন ২০০০ প্রণয়ন করা হয়।

এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে সারাদেশে সংস্থার তত্ত্বাবধানে সরকারি আইনগত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ এর বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘরে বসে যে কোনো আইনগত প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ বা তথ্য প্রাপ্তির উদ্দেশে সরকারি আইনগত সহায়তা জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টার টোল ফ্রি ১৬৪৩০ নম্বরটি ২৪ ঘণ্টা চালু হয়েছে।

পুরো দেশ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা

0

দুই-তৃতীয়াংশ জেলায় নভেল করোনাভাইরাসের দেড় হাজারের বেশি রোগী পাওয়ার পর গোটা দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “যেহেতু বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। সেহেতু সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ১১(১) ধারার ক্ষমতাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হল।”

এর আগে ৪৩ জেলায় এই পর্যন্ত এক হাজার ৫৭২ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনের মৃত্যু ঘটে করোনাভাইরাসে, এই সময়ে আক্রান্ত হন ৩৪১ জন। একদিনে এত বেশি নতুন রোগী আর মৃত্যু বাংলাদেশকে দেখতে হয়নি।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় ৫৪৬ জন, নারায়ণগঞ্জে ২১৪ জন, গাজীপুরে ৫৩ জন, চট্টগ্রামে ৩১ জন, নরসিংদীতে ২৮ জন, মুন্সিগঞ্জে ২১ জন, মাদারীপুরে ১৯ জন, কিশোরগঞ্জে ১৭ জন, কুমিল্লায় ১৪ জন; গাইবান্ধা ও জামালপুরে ১২ জন করে, বরিশালে ১০ জন; গোপালগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ৯ নয় করে করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়া গেছে।
এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৮ জন, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহে ৭ জন করে; চাঁদপুর, নিলফামারী ও রাজবাড়ীতে ৬ জন করে; মানিকগঞ্জ ও শরিয়তপুরে ৫ জন করে; বরগুনা, নেত্রকোণা, পিরোজপুর ও রাজশাহীতে ৪ জন করে; ঝালকাঠি, শেরপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ জন করে; ফরিদপুর, কুরিগ্রাম, লালমনিরহাট, মৌলভীবাজার, পটুয়াখালী ও রংপুরে ২ জন করে এবং চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, খুলনা, লক্ষ্মীপুর, নড়াইল, নোয়াখালী ও সুনামগঞ্জে একজন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।
ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে ইতোমধ্যে ৪৮টি জেলা লকডাউন করেছে প্রশাসন। এর বাইরেও কিছু উপজেলা এবং কিছু অঞ্চলে লকডাউন জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারী আকারে বিস্তার লাভ করেছে। এ কারণে লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে এক লাখের বেশি মানুষ। বাংলাদেশেরও বিভিন্ন জায়গায় এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে।
“এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ রোগের একমাত্র প্রতিষেধক পরস্পর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করা।”
সংক্রমণ এড়াতে মানুষের ঘরে থাকার উপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
“অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলো। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না।” আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

কৃষিখাতে ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি, ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষতি সামালে ভর্তুকি হিসেবে কৃষকদের জন্য ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে করণীয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক এই তথ্য জানান।

মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ ও বিপণনে গুরুত্ব দিয়ে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

“বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষকদের স্বার্থে সার, সেচ, ইক্ষুচাষসহ কৃষিখাতে ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।”
করোনাভাইরাসের কারণে বোরো ধান কাটার শ্রমিকের সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাওর অঞ্চলের ধান কাটার জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন ১৮০টি কম্বাইন হারভেস্টার এবং ১৩৭টি রিপার সরবরাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
“হাওরে গমনেচ্ছুক শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাবান, স্যানিটাইজার, মাস্ক প্রভৃতি উপকরণ প্রদান, নিরাপদ যাতায়াতের জন্য আলাদা গাড়ি, নির্বিঘ্ন গমনাগমন, ধান কাটা স্থলে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রাখার ব্যবস্থা ইত্যাদি কার্যক্রম চলছে।”

কৃষি শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাওরে যাওয়া শুরু করেছেন জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশা করা যায়, হাওরে ধান কাটায় কোনো সমস্যা হবে না।”
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষিখাতে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। এর সুদ ৪ শতাংশ হলেও কৃষিখাতে ৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকিসহ অন্যান্য প্রণোদনা বিবেচনায় নিলে এটি ‘অত্যন্ত ভালো’।
“এ প্রণোদনার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে মৎস্য ও প্রাণি খাতসহ কৃষির সকল সেক্টরে সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব প্রণোদনার বাইরে কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষি পুনর্বাসনে ১২০ কোটি টাকা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণ ও সমবায়ভিত্তিক চাষাবাদের জন্য ৫০ কোটি টাকা এবং ফসলে নতুন জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের জন্য প্রদর্শনী স্থাপন ও গ্রহণকরণ বাবদ ৭৫ কোটি টাকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও বীজ, সেচখাতে সহায়তা বাবদ ১৫০ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সার ও বীজ বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আউশ উৎপাদন নিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সাধারণত প্রতি বছর ৩০ লাখ মেট্টিক টন আউশ ধান উৎপাদিত হয়। আসন্ন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা হল ৩৫ লাখ মেট্টিক টন।
“এজন্য আসন্ন আউশ মৌসুমে বিএডিসির সেচের রেট ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সাড়ে ৬ হাজার মেট্টিক টন হাইব্রিড ও উফশি জাতের বীজ ইতোমধ্যে কৃষকদের বিতরণ করা হয়েছে।”
এছাড়া কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কোটি টাকায় ৮০০টি কম্বাইন হারভেস্টার এবং ৪০০টি রিপারসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বাকি ১০০ কোটি টাকা দিয়ে সমপরিমাণ কৃষি যন্ত্রপাতি অচিরেই কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের সংকটকালীন সাধারণ ছুটির সময় কৃষি কার্যক্রম সক্রিয় রাখতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“তাদেরকে নিয়মিতভাবে মাঠে গিয়ে এই দুর্যোগময় অবস্থায় কৃষকের সাথে এবং কৃষকের পাশে থাকতে বলা হয়েছে। যারা কর্মস্থলে থাকবেন না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আরিফুর রহমান অপু ও মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল এবং বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. সায়েদুল ইসলাম সভায় উপস্থিত ছিলেন। সূত্রঃ বিডি নিউজ।

র‌্যাব এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন চৌধুরী মামুন

0

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি সদ্য সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের স্থলভিষিক্ত হলেন।

বুধবার সকালে র‌্যাব সদরদপ্তর থেকে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির প্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শ্রীহেলা গ্রামের মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইলে।

১৯৮৬ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। গত বছরের মে মাসে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। এর আগে তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ছিলেন।

কর্মজীবনে আবদুল্লাহ আল মামুন পুলিশ সদর দপ্তর, মেট্রোপলিটন পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কাজ করার মাধ্যমে তিনি বিশ্ব শান্তিরক্ষার জন্য উজ্জ্বল অবদান রেখেছেন।

তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সার্কেল এএসপি, সিরাজগঞ্জের রাইগনজ সার্কেল এএসপি, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ সার্কেল এএসপি, চাঁদপুরের অতিরিক্ত এসপি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডিএমপি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এএসপি, এডিসি (ডিএমপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া নীলফামারী জেলার সুপারিনটেনডেন্ট পুলিশ (এসপি), ডিএমপির ডেপুটি কমিশনার (ডিসি), এআইজি (এস্টাবলিশমেন্ট) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (গোপনীয়) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। পরে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ও ডিআইজি হন।
অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন।

পুলিশ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বেনজীর আহমেদ

0

পুলিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ডক্টর বেনজীর আহমেদ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ইন্সপেক্টর জেনারেলের র‌্যাংক ব্যাজ পরানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন ব্যাজ পরিয়ে দেন।
এ সময় বিদায়ী আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ পুলিশ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশের নবনিযুক্ত আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। এসসময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরে বিদায়ী ও নবনিযুক্ত আইজিপির সম্মানে বরণ ও বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

ভারতীয় নাগরিক সেজে সংসার পেতেছিল মাজেদ,রোজ ফোন করতো বাংলাদেশে

0

বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ গত প্রায় ২০ বছর ধরে কলকাতাতেই ছিল। সেখানে নামধাম পাল্টে ভারতীয় নাগরিক সেজে ঘর সংসারও করে মাজেদ। রয়েছে স্ত্রী সন্তান। পেশা ছিল প্রাইভেট টিউশনি। ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে বেশ নামও হয়েছিল। পার্কস্ট্রিটের বাসিন্দারা তাকে চিনতেন ইংরেজীর মাষ্টারমশাই হিসেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ হল। গত ফেব্রুয়ারিতেই ধরা পড়ে মাজেদ। পরে তাকে আসামের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশে। ৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আর গত শনিবার রাতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কলকাতার দৈনিক পত্রিকা বর্তমান এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির রিপোর্টার সুজিত ভৌমিকের তিন পর্বের প্রতিবেদনের শেষ পর্বটি তুলে ধরা হল। *****
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: দুটি নম্বরে প্রতিদিন নিয়মিত ফোন করে বাংলাদেশে কথা বলতেন বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী আব্দুল মাজেদ। নম্বর দুটি হল +৮৮০১৫৫২৩৮৭৯১৩ এবং +৮৮০১৭১১১৮৬২৩৯। সম্ভবত এই ফোনালাপই কাল হয়ে দাঁড়াল তাঁর জীবনে!
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অনুমান, বাংলাদেশে মাজেদের পরিবারের সদস্যদের ফোনে নিয়মিত আড়ি পাততো সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। ফলে মাজেদ কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন, সেই তথ্য সহজেই জেনে যায় তারা। এরপরই মাজেদকে গ্রেপ্তারের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়। তবে কলকাতা শহরে মাজেদের অবস্থান জানতে খুব সম্ভবত ভারতের কোনও গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিয়েছিলেন বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। যদিও এনিয়ে কোনও সরকারই মুখ খোলেনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, কলকাতায় মাজেদ যে দুটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন, তার একটিও নিজের নামে ছিল না। তিনি স্ত্রীর নামে সিম কার্ড কিনেছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশে আওয়ামি লিগ সরকার গঠন হওয়ার পর রাতারাতি দেশ ছেড়েছিলেন মাজেদ। সেই সময় ভারত হয়ে লিবিয়া ও পাকিস্তানে যান তিনি। কিন্তু সুবিধা করতে না পারায় সেখান থেকে কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতায় কি কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির সাহায্য পেয়েছিলেন মাজেদ? সঙ্গত কারণেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে গোয়েন্দাদের মনে। তাঁর পার্ক স্ট্রিটের ভাড়া বাড়ি থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালে ওই পাসপোর্ট বানানো হয়েছে। নিয়ম মেনে পার্ক স্ট্রিট থানা পুলিস ভেরিফিকেশন করার পর পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে হাওড়া উল্লেখ করা হয়েছে। সত্যি কথা বলতে কী, ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের সব কাগজপত্রই ছিল মাজেদের। আধার কার্ডও বানিয়েছেন অনায়াসে। তাঁর আধার কার্ড নম্বর হল ৭৯৪১ ৯৫৯১ ২৮৬৪। এছাড়াও ২০১২ সালে মাজেদ সচিত্র ভোটার কার্ড বানিয়েছিলেন।
মাজেদের স্ত্রী সেলিনা ওরফে জরিনা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে চলতেন মাজেদ। এমনকী খেতে দিতে সামান্য দেরি হলে রেগে আগুন হয়ে যেতেন তিনি।
মাজেদ নিখোঁজ রহস্যের তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হয়েছেন যে, বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বেরনোর পর তাঁকে কেউ জোর করে অপহরণ করেনি। তেমন হলে চিৎকার কিংবা ধস্তাধস্তির প্রমাণ থাকত। তাছাড়া একজন হলেও প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যেত। এর মানে মাজেদ স্বেচ্ছাতেই ওই চার ষণ্ডামার্কা লোকের সঙ্গে গিয়েছিলেন। তবে কি সেদিন মাজেদের পরিচিত কাউকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন গোয়েন্দারা?
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, এমনিতে সুদের কারবার ও টিউশনির টাকায় সংসার চললেও সম্প্রতি তালতলা এলাকায় ২৫ লাখ টাকা দিয়ে একটি ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন মাজেদ। গোয়েন্দারা মনে করছেন, সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে টাকা আসত মাজেদের কাছে। কিন্তু সেই ফ্ল্যাটে আর পা দেওয়া হল না তাঁর। তার আগেই ফাঁসিকাঠে নিথর হলেন তিনি। (শেষ)

ফেব্রুয়ারিতেই আটক হয় মাজেদ,ডাউকি বর্ডার দিয়ে দেশে ফিরে

0

বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ গত ২২ ফেব্রুয়ারীই কলকাতায় আটক হয়। তাকে কোন সংস্থা আটক করে তা গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট না হলেও কলকাতার পুলিশ এটা নিশ্চিত যে তাকে আটক করে আসামের শিলং হয়ে ডাউকি বর্ডারে দিয়ে তুলে দেয়া হয়। প্রায় ২০ বছর ধরে কলকাতাতেই ছিল। সেখানে নামধাম পাল্টে ভারতীয় নাগরিক সেজে ঘর সংসারও করে মাজেদ। রয়েছে স্ত্রী সন্তান। পেশা ছিল প্রাইভেট টিউশনি। ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে বেশ নামও হয়েছিল। পার্কস্ট্রিটের বাসিন্দারা তাকে চিনতেন ইংরেজীর মাষ্টারমশাই হিসেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ হল। ধরা পড়ে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশে। ৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আর গত শনিবার রাতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কলকাতার দৈনিক পত্রিকা বর্তমান এ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির রিপোর্টার সুজিত ভৌমিকের দ্বিতীয় কিস্তির রিপোর্টটি তুলে ধরা হল। *****
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: এক ঝলক দেখলে যে কেউ ভুল করে তাঁদের কাবুলিওয়ালা ভাববেন। ষণ্ডামার্কা চেহারা। গালে ঘন কালো চাপ দাড়ি। ব্যাক ব্রাশ করা চুল। একজনের পরনে ডেনিম জিন্স আর নীল ফুল হাতা টি-শার্ট। অন্যজনের গায়ে বড় চেক শার্ট। দু’জনের হাতেই মোবাইল ফোন।
সিসিটিভি’র ফুটেজ ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, ২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর একটি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ। সেখানে মিনিট আটেক কাটানোর পর ঠিক ১০টা ১২ মিনিটে যখন রিপন স্ট্রিটের দিকে মুখ করে ফের পথ চলতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাঁকে অনুসরণ করা শুরু করে ওই দুই ব্যক্তি। পরে তাঁদের সঙ্গে আরও দু’জন যোগ দেন। মোট চারজন সেদিন পিছু নিয়েছিলেন মাজেদের। সিসিটিভি’র ফুটেজে সবার ছবিই ধরা আছে। তদন্তে নেমে পুলিস ও এসটিএফ-এর অফিসাররা পিছু নেওয়া ওই ষণ্ডামার্কাদের কাবুলিওয়ালা ভেবে প্রথমে ভুল করেছিল। উল্লেখ্য, মাজেদ ছোটখাট সুদের কারবারও চালাতেন।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিট ধরে এসে রাস্তা পার হয়ে এজেসি বোস রোডে আসেন মাজেদ। উদ্দেশ্য, বাস ধরা। গন্তব্য পিজি হাসপাতাল। এর পরের ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই চারজন মাজেদের সঙ্গে কথা বলছে। তবে ক্যামেরা উন্নত না হওয়ায় কী কথা হয়েছিল, তা শোনার উপায় নেই। ঠিক তখনই মৌলালির দিক থেকে আসা একটি সল্টলেক-সাঁতরাগাছি রুটের বাসে উঠতে দেখা যায় মাজেদকে। যথারীতি সেই বাসে চাপেন ওই চারজনও। এরপর আর কোনও ফুটেজ নেই।

তদন্তে নেমে পুলিস এজেসি বোস রোডের প্রতিটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছে। না, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাস স্টপ থেকে পিজি হাসপাতাল পর্যন্ত কোথাও বাস থেকে নামতে দেখা যায়নি আব্দুল মাজেদকে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানিয়েছে, মাজেদের মোবাইলের সর্বশেষ টাওয়ার লোকেশন ছিল মালদহ। যা থেকে গোয়েন্দাদের অনুমান, মাজেদকে ঘুরপথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হাওড়া স্টেশনে। সেখান থেকে ট্রেনে প্রথমে গুয়াহাটি। পরে শিলং হয়ে ডাওকি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ যান তিনি। তবে তিনি স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন, নাকি বাধ্য করা হয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। মনে করা হচ্ছে, ট্রেন মালদহ স্টেশনের আশপাশে থাকাকালীন তিনি তাঁর মোবাইলটি একবার অন করেছিলেন।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই চারজন কারা? তাঁরা কি বাংলাদেশের কোনও গোয়েন্দা এজেন্সির অফিসার? সত্যিই এনিয়ে তদন্ত হাওয়া দরকার, বলছেন পার্ক স্ট্রিটের বাসিন্দারা।
কলকাতা পুলিসের অজান্তে কে বা কারা তুলে নিয়ে গেল মাজেদকে? কেননা, আইনত কোনও বিদেশি গোয়েন্দা এজেন্সি বিনা অনুমতিতে অন্য দেশে ঢুকে অভিযান চালাতে পারে না।
বাংলাদেশ সরকারিভাবে ৭ এপ্রিল জানিয়েছে, করোনার ভয়েই মার্চ মাসের শেষদিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি। বাংলাদেশের কাউন্টার টেররিজমের গোয়েন্দারা তাঁকে মীরপুর থেকে গ্রেপ্তার করেন।
এই যুক্তি অবশ্য ধোপে টিকছে না। কারণ ভারতে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ মেলে ৩০ জানুয়ারি। তাও আবার দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর খুনি লুকিয়ে ছিলেন কলকাতায়। এখানে করোনা ধরা পড়ে ১৮ মার্চ। ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি মাজেদ কলকাতা থেকে বাংলাদেশে যাবেন কেন?
আব্দুল মাজেদের নিখোঁজ হওয়া থেকে বাংলাদেশে তাঁকে গ্রেপ্তার—গোটা পর্বই রহস্যে ঘেরা।
সেই রহস্যের কি আদৌ কোনওদিন কিনারা হবে? (ক্রমশ)

ঋণ পাবেন ঢাকা বারের আইনজীবীরা

0

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আদালতপাড়া বন্ধ। এই অবস্থায় বিপাকে পড়া আইনজীবীদের বিনা সুদে দুই বছর মেয়াদি ঋণ দেবে ঢাকা আইনজীবী সমিতি। এ ঋণ পেতে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য ঢাকা বারের ওয়েবসাইটে ২০ এপ্রিলের মধ্যে আইনজীবীদের আবেদন করতে হবে। আবেদন বিবেচনা করে ঋণ দেয়া হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যনিবাহী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ২৪ মার্চ থেকে ঢাকার আদালতপাড়া বন্ধ। ঢাকা বারের ২৫ হাজার ২০৯ জন তালিকাভুক্ত সদস্য রয়েছেন। সদস্যদের সেল ফোনে মেসেজের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে আবেদন করার জন্য। আবেদনের পর আমরা সিদ্ধান্ত নেব কাকে কত ঋণ দেব। কতজন সদস্য আবেদন করবেন সেটার ওপর মূলত নির্ভর করবে কত টাকা দেয়া হবে।

অনলাইনের মাধ্যমে যে ইমেইল ও ওয়েভ ঠিকানার মাধ্যমে আবেদন করা যাবে তা হল- Email: dhakabarassociation@gmail.com, Web: www.dhakabarassociation.com

   

সাহস নিয়ে দাঁড়ান,সরকার জনগণের পাশে আছেঃ শেখ হাসিনা

0

করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় দেশবাসীকে সাহস নিয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; এই লড়াইয়ে সরকার জনগণের পাশে আছে বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

মহামারী ঠেকানোর লড়াইয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের উৎসবে রাশ টানার মধ্যে সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ নিয়ে আসেন সরকার প্রধান শেখ হাসিনা।

সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপ তিনি তুলে ধরেন জাতির সামনে।
অর্থনীতির সম্ভাব্য ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নানা প্রণোদনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের কাতারে থাকা চিকিৎসাকর্মীদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাদের বিশেষ সম্মানী এবং স্বাস্থ্যবীমার ঘোষণাও দেন তিনি।

বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারণ করা নভেল করোনাভাইরাস বাংলাদেশে সংক্রমিত হওয়ার পর এনিয়ে টানা তৃতীয়বার জাতির সামনে দিক-নির্দেশনা দিতে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বজুড়ে লক্ষ প্রাণ হরণকারী ছোঁয়াচে এই রোগের বিস্তার এড়াতে গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটিতে রয়েছে দেশ; লকডাউনের মতো এই অবস্থায় দেশ কার্যত অচল হয়ে আছে।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতা দিবসের পর বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষের উৎসবও করোনাভাইরাস কেড়ে নিলেও প্রথা ভেঙে বৈশাখী আমেজের সেটে সোমবার জাতির সামনে আসেন শেখ হাসিনা।
তিনি শুরুতেই সবাইকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশ চলছে, তার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এবার পহেলা বৈশাখ ঘরে উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সবাইকে অনুরোধ করব কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজসহ নানা মওসুমী ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন।
“আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন।”
বৈশ্বিক মহামারীতে রূপ নেওয়া নভেল করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ১৮ লাখের বেশি মানুষ হয়েছে আক্রান্ত। বাংলাদেশেও ৬ শতাধিক আক্রান্তের মধ্যে ৩৯ জন মারা গেছে।
এই রোগের কোনো টিকা-ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত না হওয়ায় সংক্রমণ এড়ানোই একমাত্র পথ; তাই বিভিন্ন দেশ লকডাউন করে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এজন্য পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
“এটা করা হয়েছে বৃহত্তর জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই এই ভাইরাস আমাদের দেশেও ভয়াল থাবা বসাতে শুরু করেছে “ বলেন শেখ হাসিনা।

সঙ্কটময় এই পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে। কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সকলকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে।”

ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাঙালি বীরের জাতি। অতীতে নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বাঙালি জাতি সাহসের সঙ্গে সেগুলো মোকাবেলা করেছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি আমরা। আমরা সম্মিলিতভাবে করোনাভাইরাসজনিত মহামারীকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হব।”
নববর্ষের এই ক্ষণে অতীতের জঞ্জাল-গ্লানি ধুয়ে-মুছে আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দেশবাসীকে অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের যে গভীর আঁধার আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করেছে, সে আঁধার ভেদ করে বেরিয়ে আসতে হবে নতুন দিনের সূর্যালোকে।”
ভাষণে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার চরণ উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, “মেঘ দেখ কেউ করিসনে ভয়/ আড়ালে তার সূর্য হাসে/ হারা শশীর হারা হাসি/ অন্ধকারেই ফিরে আসে“।

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ ২০ বছর ধরে কলকাতায়, ছদ্মপরিচয়ে করেছিলো ঘর সংসার

0

বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ গত প্রায় ২০ বছর ধরে কলকাতাতেই ছিল। সেখানে নামধাম পাল্টে ভারতীয় নাগরিক সেজে ঘর সংসারও করে। রয়েছে স্ত্রী সন্তান। পেশা ছিল প্রাইভেট টিউশনি। ইংরেজীর শিক্ষক হিসেবে বেশ নামও হয়েছিল। পার্কস্ট্রিটের বাসিন্দারা তাকে চিনতেন ইংরেজীর মাষ্টারমশাই হিসেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সত্য প্রকাশ হল। ধরা পড়ে ফেরত পাঠানো হয় বাংলাদেশে। ৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। আর গত শনিবার রাতে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
কলকাতার দৈনিক পত্রিকা বর্তমান এ নিয়ে সোমবার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটির রিপোর্টার সুজিত ভৌমিকের রিপোর্টটি তুলে ধরা হল। *************
বঙ্গবন্ধুর ঘাতক মাস্টারমশাই! বিশ্বাস
হচ্ছে না পার্কস্ট্রিটের সেই মহল্লার

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: মহল্লা তাঁকে কখনও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখেনি। হিংসা-বিবাদ তো দূর অস্ত! লোকটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন নিয়ম করে। সেই তাদের মাস্টারমশাই নাকি বঙ্গবন্ধুর খুনি! এখনও ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না লকডাউনের পার্ক স্ট্রিট। এই পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের ভাড়া বাড়িতে থাকতেন বঙ্গবন্ধুর ঘাতক আব্দুল মাজেদ।

গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মীরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আব্দুল মাজেদ গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি দেখে রীতিমতো অবাক পার্ক স্ট্রিটের বেডফোর্ড লেনের বাসিন্দারা!
কিন্তু আব্দুল মাজেদ নয়। পার্ক স্ট্রিট তাঁকে চেনে আলি আহমেদ ওরফে ইংরেজির মাস্টারমশাই হিসেবে। এলাকার লোকে জানত, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে থেকে পাশ করেছেন মাস্টারমশাই। টিউশন পড়িয়ে সংসার চালাতেন তিনি। প্রথমে তালতলার ভাড়া বাড়িতে একাই থাকতেন মাজেদ। পরে পার্ক স্ট্রিটে চলে আসেন।
২০১১ সালে তাঁর থেকে ৩২ বছরের ছোট উলুবেড়িয়ার সেলিনা বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। তাঁদের ছ’বছরের এক মেয়ে রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই বছর বাহাত্তরের মাজেদের শরীরটা ভালো যাচ্ছিল না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পিজি হাসপাতালে একপ্রস্থ পরীক্ষা নিরীক্ষাও হয়।
দিনটা ছিল গত ২২ ফেব্রুয়ারি। পিজি হাসপাতাল থেকে সেই রিপোর্ট আনতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সেটাই শেষ। আর বাড়ি ফেরা হয়নি মাজেদের। স্বভাবতই উদ্বিগ্ন স্ত্রী রাতে পার্ক স্ট্রিট থানায় মিসিং ডায়েরি করেন। তদন্তে শুরু করে পার্ক স্ট্রিট থানা। পিজি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ তন্নতন্ন করে ঘাঁটলেও হদিশ মেলে না মাজেদের।
এরপর পুলিস মাজেদের ভাড়া বাড়ি থেকে একটি ব্যাগ পায়। সেই ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে সিম কার্ড, আধার কার্ড, ভোটার আইডি, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং এক মহিলা সহ তিনজন শিশুর ছবি পাওয়া যায়। স্ত্রী সেলিনা পুলিসকে জানায়, ব্যাগের মতো তাঁর অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসে কাউকে হাত দিতে দিতেন না মাজেদ।
মহল্লায় খুব একটা মেলামেশা করতেন না তিনি। টিউশনির পাশাপাশি বড়জোর এলাকার এক চায়ের দোকান, রেশন দোকান এবং এক বিল্ডার্সের দোকানে আড্ডা দিতেন মাজেদ। বাড়ির সদর দরজায় সব সময় তালা লাগানো থাকত। বাইরের কাউকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হতো না। এক আধ বছর নয়, এভাবেই আঠারো-উনিশ বছর ডেরা বেঁধে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন আব্দুল মাজেদ।
২২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪ মিনিটে বেডফোর্ড লেনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আব্দুল মাজেদের যাত্রাপথের একাংশের সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে পুলিসের। কী আছে সেই ফুটেজে? (ক্রমশ)