ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 21

মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশন নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি করে দিলো হাইকোর্ট

0

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ ঝুঁকি বিবেচনায় মোবাইল টাওয়ারের রেডিয়েশনের আন্তর্জাতিক মাত্রা ১০ শতাংশের এক শতাংশ নির্ধারণ করা যৌক্তিক কিনা, সে বিষয়ে মতামত জানতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
চার মাসের মধ্যে এ কমিটিকে মতামত দিতে বলেছে উচ্চ আদালত।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) আবেদনে সোমবার (১৪ নভেম্বর) এ আদেশ দেন বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
সাত সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক সদস্য মো. কামরুজ্জামানকে।
সদস্য সচিব করা হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পরিচালক মো. গোলাম রাজ্জাককে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, যেসব দেশের ভিত্তিতে বিকিরণমাত্রা প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪ দশমিক ৫ ওয়াট করা হয়েছে সেসব দেশ শীত প্রধান। সেখানে জনবসতি কম। কিন্তু বাংলাদেশ উষ্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ।
ভারতে একটি রায়ের পর আন্তর্জাতিক মাত্রা নির্ধারণের পর নিজের দেশের প্রেক্ষাপটে মাত্রা দশমিক ৪৫ মাত্রা অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মাত্রার ১০ শতাংশের এক শতাংশ করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা করা হয়নি।
মোবাইল টাওয়ার বিকিরণের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হলে সেসব প্রতিবেদন যুক্ত করে মোবাইল ফোন টাওয়ারের রেডিয়েশন নিঃসরণ নিয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে রিট করে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। এ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে।
ওই বিশেষজ্ঞ কমিটি ঢাকার মতিঝিল, গুলশান ও মিরপুর এলাকায় ছয়টি মোবাইল কোম্পানির ১৮টি টাওয়ারের বিকিরণ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে তিন দফা সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব টাওয়ারের মধ্যে মাত্র একটি টাওয়ারে মাত্রাতিরিক্ত রেডিয়েশন পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের দেয়া নির্দেশনার আলোকে বিটিআরসি নীতিমালা করে। পরবর্তীতে আদালতের দেয়া আদেশে কয়েক দফা এ নীতিমালা সংশোধন করে বিটিআরসি। এ প্রেক্ষাপটে মামলাটি চলমান রেখে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল রায় দেন উচ্চ আদালত। রায়ে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিকিরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেন আদালত।
বিটিআরসি সম্ভাব্যতা যাচাই না করে নীতিমালা চূড়ান্ত করে তা আদালতে দেয়। বিটিআরসির চূড়ান্ত নীতিমালায় বিকিরণের মাত্রা আগের মতো রাখা হয়। পরে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মত নিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। সূত্র- বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

২০২৩ সালের মাঝামাঝি শ্রম আইন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে; জেনেভায় আইএলওর সভায় আইনমন্ত্রী

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সংশোধিত এ শ্রম আইন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন দুটির মধ্যে কোনটি- নতুন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রয়োগ হবে তা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ঘোষণা করেন, সংশোধিত বাংলাদেশ শ্রম আইনই বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রয়োগ হবে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) গভর্নিং বডির ৩৪৬তম অধিবেশনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে একথা বলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ।
আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ অধিবেশনে অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. এহছানে এলাহী, সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মো. সুফিউর রহমান এবং অতিরিক্ত শ্রম সচিব জেবুন্নেছা করিমও অংশ নিয়েছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্রগুলো কঠিন সময় অতিক্রম করছে। বিশ্বের বিভিন্ন অংশে রাজনৈতিক সংকটের কারণে এটি আরও প্রকট হয়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়৷ এই ধরনের দুর্দশার মধ্যে, বাংলাদেশ আইএলও কনস্টিটিউশনের ২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে৷ গত মার্চ মাসে আইএলও’র গভর্নিং বডির সভায় প্রতিবেদন দাখিল করার পর প্রায় সাত মাসে বাংলাদেশ সরকার রোডম্যাপ বাস্তবায়নে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি সাধন করেছে। সরকার দেশের সামগ্রিক শ্রম পরিস্থিতির সুষমভাবে উন্নতি করতে রোডম্যাপের চারটি ক্লাস্টারে অগ্রগতি সুরক্ষিত করার চেষ্টা করেছে। আইনমন্ত্রী বলেন, করোনার অতিমারির সময় লকডাউন, কর্মঘণ্টা সংক্ষিপ্তকরণসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শ্রম অধিকার বিষয়ক আইনি সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশ সরকার অবিচল ছিলো। সরকার ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধন করেছে এবং বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এই প্রক্রিয়ায় আইএলও বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যবেক্ষণকে যথাযথ বিবেচনা করা হয়েছে। আইএলও-কে আশ্বস্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনি সংস্কারের পরবর্তী ধাপ হিসেবে শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে৷ এবিষয়ে এখন পর্যন্ত ১৭টি স্টেকহোল্ডারের কাছ থেকে সংশোধনী প্রস্তাব পাওয়া গেছে৷ ত্রিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপ গুরুত্ব সহকারে এ সংশোধনী প্রস্তাবগুলো সংকোলনের কাজ করছে। তিনি জানান, ত্রিপক্ষীয় শ্রম আইন পর্যালোচনা কমিটি সংকলিত সুপারিশ/প্রস্তাবগুলোর ওপর আরও আলোচনা-পর্যালোচনা করবে এবং জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ কাউন্সিলের অনুমোদন চাইবে। আশা করি, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সংশোধিত এ শ্রম আইন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলেও প্রযোজ্য হবে। ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, অধিকতর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিকে পুরোপুরি ডিজিটাইজড করা হয়েছে। শ্রম অধিদপ্তর তার চারটি শিল্প সম্পর্কিত ইনস্টিটিউট এবং ৩২টি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের সহায়তায় শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এবিষয়ে সহায়তা করার জন্য শ্রম অধিদপ্তরে একটি প্রি-অ্যাপলিকেশন সার্ভিস চালু করা হয়েছে। প্রয়োজনে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। রোডম্যাপের সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রম পরিদর্শন এবং প্রয়োগকে শক্তিশালী করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করে মি. হক বলেন, শ্রম খাতে গুণগত পরিবর্তন আনতে দেশি-বিদেশি সামাজিক অংশীদার এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গভর্নিং বডির ৩৪৪ তম অধিবেশনে আইএলও’র মহাপরিচালকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর করার কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও বাংলাদেশ সরকার ‘জবরদস্তি শ্রম সম্পর্কিত আইএলও কনভেনশন, ১৯৩০’ এর প্রটোকল ২৯ অনুসমর্থন করেছে। স্পষ্টতই, এগুলো আইএলও শ্রম মানদণ্ডের প্রতি আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির প্রদর্শন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষার নির্দেশ হাইকোর্টের

0

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং সেখানে আর কোনো স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বুধবার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে আদালত অবমাননার আবেদন নিষ্পত্তি করে এ আদেশ দেন।
শুনানির সময় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে, প্রশাসন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত ৪১৭টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসককে আজই একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) দায়ের করা আদালত অবমাননার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মুরসেদ এবং কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন ফকির।
আইনজীবী মনজিল মুরসেদ জানান, হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৭ জুন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঝিলোঞ্জা, সুগন্ধা ও লাবনী এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা হাইকোর্টের রায় সঠিকভাবে বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেননি, যা আদালত অবমাননার সমতুল্য।

প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি করার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

0

নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ দলের প্রত্যেক সদস্যকে পাঁচ লাখ ও কোচিং স্টাফদের দুই লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে শিরোপাজয়ীদের সংবর্ধনা ও আর্থিক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কার তুলে দেন।
এ সময় লেখাপড়ার পাশাপাশি সন্তানদের খেলাধুলায় আগ্রহ করে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) করার ঘোষণাও দেন তিনি। ক্রীড়াক্ষেত্রে ভালো ফলাফলের জন্য প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৯৬ সালে সরকার গঠন করার পর থেকে এদিকে যেমন জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, অন্য দিকে খেলাধুলায় যাতে আরও উন্নতি হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিই। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল প্রথমবারের মতো আইসিসি ট্রফি পায়। ‘৯৮ সালে মিনি বিশ্বকাপের সফল আয়োজন আমরা করেছিলাম। আইসিসিতে যখন আমাদের ক্রিকেট দল জিতে আসে তখন বিরাট সংবর্ধনাও দিয়েছিলাম যাতে মানুষ উৎসাহিত হয়।
দুর্ভাগ্য যে, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ক্রীড়াঙ্গনে আবার একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় চলে আসে। বিকেএসপিকে উন্নত করা, খেলার মানের উৎকর্ষতা সাধন, বিশেষ করে মেয়েদের ফুটবল খেলা; প্রমীলা ফুটবল টিম গঠন করে এই প্রতিযোগিতা আমরা শুরু করি। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের একটি অঞ্চলে এই খেলা তখন হতে দেয়নি—মেয়েরা আবার খেলবে কেন? এ রকম প্রচণ্ড বাধা আসে। আমরা বাধ্য হয়েছিলাম রাজশাহীতে বন্ধ করে দিতে। এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। ২০০৯-এ সরকারে আসার পরে আমি শুরু করি প্রাইমারি থেকে প্রতিযোগিতা। স্কুলে স্কুলে যদি প্রতিযোগিতা হয় তাহলে এর মধ্য দিয়ে ভালো খেলয়াড় তৈরি হয় এবং আস্তে আস্তে তারা জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসে। আজকে সেটাই হচ্ছে। এখানে না বলে পারি না, আমাদের ছেলেরা যা পারে না মেয়েরা তার থেকে বেশি পারে। শুনলে আবার ছেলেরা রাগ করবে, রাগ করার কিছু নেই-ছেলেদের প্রতিযোগিতা একটু বেশি। তাও আমি বলবো, আমাদের মেয়েরা যথেষ্ট ভালো করছে—বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় নারীদের ক্রিকেট ও ফুটবল উন্নয়নে সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই ১৪ বছরে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে যথেষ্ট উৎকর্ষ সাধন হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড যারা, অটিস্টিক, প্রতিবন্ধী, তাদেরকেও উৎসাহিত করছি আমরা। কারণ সবার জন্য ক্রীড়া এই নীতিতে বিশ্বাস করি আমরা। তারা পিছিয়ে থাকবে কেন?
তাদের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দলও কিন্তু ভালো করছে। প্রতিবন্ধী ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৮টি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে সব কটায় তারা চ্যাম্পিয়ন। প্রতিবন্ধীদের জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে যে প্রায় সাড়ে ৪ একর জায়গা আছে সেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি। আসলে ওটা সমাজ কল্যাণেরই জায়গা ছিল। এক সময় সেখানে মুক ও বধির স্কুল ছিল। তাছাড়া আমরা তাদের জন্য একটা অ্যাকাডেমিও করে দিচ্ছি।
শিশুদের খেলার প্রতি মনোযোগ দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ঢাকার বাচ্চারা ফ্ল্যাটে থেকে ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে। খেলাধুলায় যায়-ই না। এটা হলো বাস্তব কথা। এখন তো ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, সারাক্ষণ হয় মোবাইল ফোন না হয় ট্যাব নিয়ে বসে থাকে। কাজেই ফিজিক্যাল চর্চা হচ্ছে না। কিন্তু এটা খুবই দরকার। প্রত্যেকটা অভিভাবকদের আমি অনুরোধ করবো, অন্তত কিছুক্ষণ হলেও আপনারা আপনাদের বাচ্চাদের খেলাধুলার দিকে নজর দিন। তাদের খেলতে নিয়ে যান।
প্রত্যেকটা ব্যবসায়ী-শিল্পকারখানার মালিকদের আমি আহ্বান করি, প্রত্যেকে যেন আমাদের খেলোয়াড়দের চাকরি দেয়, কাজ দেয়। হিজড়া-প্রতিবন্ধীদের যদি তারা চাকরি দেয় তাহলে কর মওকুফ করা হয়। সেইসঙ্গে আমি বলবো, তাদের উচিত খেলোয়াড়দেরও কাজ দিয়ে উৎসাহিত করা। প্রত্যেকে নিজস্ব টুর্নামেন্টও করতে পারে। নিজেদের টিম তৈরি করতে পারে। আগে তো তাই করতো, শুধু সরকার থেকে করবে কেন! যত বেশি প্রতিযোগিতা হবে ততবেশি আমাদের খেলাধুলায় উৎকর্ষতা বাড়বে। আর যারা খেলাধুলা শেষ করে ব্যবসা করে বেশ টাকা-পয়সার মালিক হচ্ছে তাদের তো উচিত এদিকটা আরও বেশি করে দেখা, বলেন শেখ হাসিনা।

বহু বিষয়ে অগ্রগতি নেই, তবে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের যোগদান আশাপ্রদ : তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

0

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বিশ্বকে রক্ষায় উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি, আন্ত:দেশীয় প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ নানা ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি না হওয়ার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি এবার কপ-২৭ সম্মেলনে বহু বিশ্ব নেতৃবৃন্দের যোগদানকে আশাব্যঞ্জক বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
মিশরের শান্তির নগর বলে খ্যাত শারম আল শায়খ শহরে ৬ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের ২৭তম আসরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে যোগদানরত ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ বছরের সম্মেলনে পৃথিবীর বহু দেশের রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানরা অংশগ্রহণ করছেন। যেটি প্যারিসে, কোপেনহেগেনে হয়েছিল, কিন্তু গত কয়েকটি কপে হয়নি। এটি আশার কথা। কারণ রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানরা যখন অংশ নেন তখন গ্লোবাল কমিউনিটি বা বিশ্বসমাজ, পরিবেশকর্মী এবং আমাদের মতো হার্ড-ভিক্টিম বা সর্বাধিক ভুক্তভোগীদের কথা তাদের কানে যায়। ফলে গ্লোবাল রেসপন্স ডেলিভার করার বৈশ্বিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটা নতুন মোমেন্টাম বা গতি সঞ্চারিত হয়। এটি ভাল দিক।
একইসাথে পরিবেশ বিজ্ঞানের শিক্ষক ড. হাছান বলেন, প্রতিটি কপ সম্মেলন থেকে অনেক আশা নিয়ে আমরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাই। যে আশার বাণীগুলো শোনানো হয়, সে অনুযায়ী পরবর্তী বছরে যে কাজগুলো হওয়ার কথা, সেগুলো যথাযথভাবে হয় না। এর সাথে নতুন অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে। সেটি হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এখন ফোকাসটা অন্যদিকে চলে গেছে। অর্থনীতি একটা টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি- এ বিষয়গুলো বহু আগে থেকে আলোচিত হচ্ছে কিন্তু, বছরে একশ’ কোটি ডলার যা ক্লাইমেট ফান্ড হিসেবে দেয়ার কথা ছিল, তা আশাই থেকে গেছে, আরো নানা ইস্যুতেও তেমন অগ্রগতি হয়নি’, উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের অন্যতম দাবি ছিল টেকনোলজি ট্রান্সফার। অর্থাৎ যে সব দেশে এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নেই, সে সব দেশে প্রযুক্তি সরবরাহ করা। এ বিষয়েও তেমন অগ্রগতি নেই।’
ঢাকা থেকে সোমবার শারম আল শায়খে এসে পৌঁছান মন্ত্রী। মূল সম্মেলনের পাশাপাশি ১০ ও ১১ নভেম্বর সেখানে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে যথাক্রমে খাদ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বাংলাদেশের খাদ্য ব্যবস্থায় জলবায়ু সহনীয়তা ও ওয়াটার এইড সংস্থা আয়োজিত ‘দেশে পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশনের ওপর দুর্যোগজনিত ক্ষতি’ সেমিনার দু’টিতে যোগ দেবেন ড. হাছান।
উল্লেখ্য মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সামেহ শুকরি ৬ নভেম্বর উদ্বোধনী সাধারণ অধিবেশনে কপ-২৭ এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২১ এ ১৯৬টি পার্টি স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় করণীয়গুলো কার্যকর করাসহ বিশ্বকে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে রক্ষার উদ্দেশে অন্তত ১২০টি দেশের শীর্ষ নেতারা এ বছর শারম আল শায়খে মিলিত হচ্ছেন। বাসস।

নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠাতে কানাডাকে বিকল্প পথ খোঁজার অনুরোধ আইনমন্ত্রীর

0

কানাডায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এসএমবি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে কানাডার হাইকমিশনারকে অনুরোধ জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে কানাডার হাই কমিশনার লিলি নিকোলস সৌজন্য সাক্ষাত করতে গেলে তাকে এ অনুরোধ জানান।
পরে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কানাডা আইনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ফেরত দেয়া সম্ভব না বলে হাইকমিশনার জানিয়েছেন। আমি তাদের অনুরোধ করেছি, বিকল্প পন্থা বের করা যায় কি-না। তাকে বলেছি একজন খুনিকে আশ্রয় দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন। তিনি বলেন, আমি হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেছি, যেসব আইন ও বিধি-বিধান আছে তা যদি পর্যবেক্ষণ করে দেখি তাহলে কানাডা যাতে তাকে ফিরিয়ে দিতে পারে সে পন্থা খুঁজতে পারে। হাইকমিশনার বলেছেন, কানাডা সরকারকে বিষয়টি তিনি জানাবেন৷ আইনমন্ত্রী বলেন, হাই কমিশনার জানতে চেয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ‘অ্যালাউ’ করবে কি-না? এ প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী সুষ্পষ্টভাবে জানান, এটা নির্বাচন কমিশনের ব্যাপার। তারা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচন করা। সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশ সরকার বদ্ধপরিকর যে, বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। ডাটা সুরক্ষা আইন নিয়ে আনিসুল হক হাই কমিশনারকে জনান এ আইনের খসড়া প্রণয়নের ব্যাপারে অংশিজনদের সাথে একবার সভা হয়েছে। আরও ২-৩ বার সভা হবে। ডাটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এ আইন করা হবে না, ডাটা সুরক্ষার জন্য করা হবে। তিনি বলেন, এবছর বাংলাদেশ-কানাডা সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। উভয় দেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এ সম্পর্ক দেখে। ফলে উভয় দেশের মধ্যে অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে।এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও গভীর হোক, বাংলাদেশ সেটাই চায়।

রাজধানীতে সমাবেশে পুলিশের নিষেধাজ্ঞার বিধি কেন অবৈধ নয় জানতে হাই কোর্টের রুল

0

রাজধানীতে সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পুলিশ অধ্যাদেশের ২৯ ধারার বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সরকারের কাছে তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল জারি করে।
আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবদুল মোমেন চৌধুরী, কে এম জাবির, চাঁদপুর আইনজীবী সমিতির সদস্য সেলিম আকবর এবং ঢাকার বাসিন্দা শাহ নুরুজ্জামান, মোহাম্মদ ইয়াসিন ২০ অক্টোবর ‘জনস্বার্থে’ এ রিট আবেদন করেন। এরপর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার আদালতে শুনানি হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর ২৯ ও ১০৫ ধারা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে এ রিট মামলায়।
পুলিশ অধ্যাদেশের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের শান্তি বা নিরাপত্তা রক্ষার জন্য পুলিশ কমিশনার যখনই প্রয়োজন মনে করবেন এবং যতদিনের প্রয়োজন বিবেচনা করবেন, লিখিত আদেশ দিয়ে সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করতে পারবেন। তবে শর্ত হল, সরকারের অনুমতি ছাড়া ৩০ দিনের বেশি এমন নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে না।
১০৫ ধারায় বলা হয়েছে, এ অধ্যাদেশের কোনো বিধান অথবা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন বা তদুদ্দেশ্যে প্রণীত কোনো বিধি, প্রবিধান আদেশ বা নির্দেশের অধীন ‘সরল বিশ্বাসে কৃত’ কোনো কাজ বা ক্ষতির জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাবে না।
আর সমাবেশের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনে উল্লেখিত ‘যুক্তিসঙ্গত’ বিধি নিষেধ-সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকিবে।
রিট আবেদনে বাদী দাবি করেছেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ অধ্যাদেশের ওই দুটি ধারা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিডি নিউজ।

লালবাগ থানার ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

0

সাড়ে চার লাখ টাকা লুটপাট ও মারধরের অভিযোগে রাজধানীর লালবাগ থানার ওসি এমএস মুর্শেদসহ পুলিশের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম ফারাহ দিবা ছন্দার আদালতে মো. বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি মামলাটি করেন।
এদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। শুনানি শেষে মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) আগামী ৩০ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- লালবাগ থানার উপপরিদর্শক তারেক নাজির, তারেক আজিজ, মো. আতোয়ার হোসেন ও কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও তিন পুলিশকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর লালবাগ থানার পৃথক দুই মামলায় বিল্লাল হোসেনকে আসামি বানিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে ভুক্তভোগী বিল্লালকে গ্রেপ্তার করতে লালবাগ ইয়াছিন সমবায় সমিতি লিমিটেড অফিসে যায় পুলিশ। এ সময় আসামিরা তার অফিসের টেবিলের ড্রয়ারে সংরক্ষিত চার লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার, সিসি ক্যামেরার ডিবিআর ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি ড্রয়ারের তালা ভেঙে লুটপাট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে মারধর এবং গালাগাল করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারের সাত দিন পর বিল্লাল আদালত থেকে দুই মামলায় জামিন পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত ২২ অক্টোবর তিনি লালবাগ থানায় যোগাযোগ করে ওই টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কারের বিষয়ে জানতে চান। তখন আসামিরা পুনরায় তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। তাকে গা ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয় এবং হুমকি দিয়ে বলে, ‘তুই যা পারিস করিস’। সূত্র-দৈনিক কালবেলা।

জনগণকে সর্বোত্তম সেবা প্রদান করতে সাব-রেজিষ্ট্রারদের প্রতি আইনমন্ত্রীর নির্দেশ

0

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জনগণকে কোনরূপ হয়রানি না করে দ্রুততম সময়ে সর্বোত্তম সেবা প্রদান করতে রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দিয়েছেন। জাল-জালিয়াতি রোধে সাব-রেজিস্ট্রারদের সর্বদা সচেষ্ট থাকারও পরামর্শ দেন তিনি। বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত দু’দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে সকল মানুষ ভোগান্তিহীনভাবে দ্রুত নাগরিক সেবা পাবেন। সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, যোগাযোগ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলস ও নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকার আন্তর্জাতিকমানের প্রযুক্তি নির্ভর, আধুনিক, কর্মদক্ষ ও মেধাসম্পন্ন জনশক্তি তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। ফলে দৈনন্দিন সাধারণ কাজকর্ম থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে নাগরিকগণ আজ প্রযুক্তির সহায়তায় সেবাগ্রহণে তৎপর হয়ে উঠেছেন। নতুন প্রজন্ম সহজাত প্রবণতায় শুরু থেকেই সময়োপযোগী টেকনোলজির সাথে পরিচিত হয়ে বেড়ে উঠছে। সেবার ধরণ বদলে যাওয়ায় অপেক্ষাকৃত বয়োবৃদ্ধ নাগরিকগণও অনলাইন সেবা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। দেশের এই অগ্রযাত্রায় রেজিস্ট্রেশন বিভাগকে পিছিয়ে থাকলে চলবে না। এ বিভাগের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকেও যুগের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সেবাপ্রার্থী জনগণকে দ্রুত প্রযুক্তি নির্ভর সেবা প্রদানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের চিন্তা-চেতনা ও মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। আনিসুল হক বলেন, জনগণকে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর মানসম্মত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার নিবন্ধন অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত করে সমস্ত ভূমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে ডিজিটাইজড্ করতে চায়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিমধ্যেই আমরা ১৭টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ই-রেজিস্ট্রেশন পাইলটিং প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার আলোকে সারাদেশের সকল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে সারাদেশে ই-রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হলে কোন রকম জটিলতা ছাড়াই নির্ভুলতার সাথে হয়রানীমুক্ত পরিবেশে দলিলের দাতা এবং গ্রহীতা রেজিস্ট্রেশন কার্য সম্পাদন করতে পারবেন। ফলে সরকারি রাজস্ব আদায়েও গতিশীলতা বাড়বে। এছাড়া সারা দেশের রেকর্ড রুমে রক্ষিত বালাম বহিসমূহ ই-আর্কাইভে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যাবে। অনলাইন ব্যবস্থায় রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু হলে জনগণ সহজেই নিবন্ধিত দলিলের অনুলিপি তাৎক্ষণিক সংগ্রহ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং জাল-জালিয়াতির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহীদুল আলম ঝিনুকের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার বক্তৃতা করেন।

লেকভিউ বারের মালিককে আটকের পর ছেড়ে দিলো গোয়েন্দা পুলিশ

0

রাজধানীর উত্তরার কিংফিশার রেস্টুরেন্ট ও লেকভিউ বারের মালিক মো. মুক্তার হোসেনকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত রাতে দেশত্যাগের সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পরও মাদক মামলার এই আসামিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ডিবি পুলিশ। কারণ, উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন মুক্তার হোসেন। জামিনের নথি দেখিয়েই ডিবি পুলিশের কাছ থেকে মুক্ত হোন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি প্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, মামলার আসামি হওয়ায় দেশত্যাগের সময় বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ প্রথমে তাকে আটক করে। পরে তারা ডিবি পুলিশকে খবর দেয়।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মুক্তার অন্তর্বর্তী জামিনের একটি ছবি দেখায়। কিন্তু, সেটাতে ছিল না দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি। অন্তর্বর্তী জামিনের মূল কাগজ বাসা থেকে আনতে পাঠিয়েছেন মোক্তার। সেটা দেখাতে পারলে জিডি করে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠাবে ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর যদি জামিনের কাগজ দেখাতে না পারেন তাহলে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হবেন মোক্তার হোসেন। পরে জামিনের কাগজ দেখালে তাকে ছেড়ে দেয় ডিবি।
জানা গেছে, ২০০৮ সালের দিকে রাজধানীর বারিধারায় ‘এভিনিউ’ নামে একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েটার হিসেবে কাজ শুরু করেন মো. মুক্তার হোসেন। এরপর গুলশানে ‘লেক ভিউ’ রেস্টুরেন্টেও ওয়েটার হিসেবে ছিলেন। সেই মুক্তার এখন শতকোটি টাকার মালিক। তার যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি-বাড়ি আছে। সেখানে বসবাস করেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা।
রাজধানীর উত্তরায় মুক্তার হোসেনের একটি বার রয়েছে। এই বারে প্রতিদিন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের যাতায়াত ছিল। তাদের মধ্যে রয়েছেন সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, আইনজীবী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।সূত্র- মানবজমিন।