ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 22

অর্থপাচার: সেই পাপুলের ২ কুয়েতি সহযোগীর ৫ বছর করে কারাদণ্ড

0

বাংলাদেশের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শহীদুল ইসলাম পাপুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা অর্থপাচার মামলায় তার ২ কুয়েতি সহযাগীকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের উচ্চ আদালত।
একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার জরিমানা করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি শেখ মাজেন আল-জাররাহ এবং পার্লামেন্টের সাবেক প্রার্থী নাওয়াফ আল-শালাহি।
গত বুধবার কুয়েতের আরবি সংবাদপত্র দৈনিক কাবাস এবং আরব টাইমসের অনলাইন সংস্করণে এ খবর প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কাউন্সেলর ওয়ায়েল আল-আতেকির নেতৃত্বে আপিল আদালত ফৌজদারি আদালতের রায় বাতিল করে পাপুলের কাছ থেকে পাওয়া ঘুষের টাকা পাচারে ২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় ঘোষণা করেন।
পাবলিক প্রসিকিউশন অভিযুক্ত ২ জনের বিরুদ্ধে চেকের মাধ্যমে ৮ লাখ ৬০ হাজার কুয়েতি দিনার পাচারের অভিযোগ করে, যা পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নেয়া হয়েছিল।
এর আগে গত বছরের ২৮ নভেম্বর কুয়েতের আপিল আদালত মানবপাচার ও অর্থপাচারের মামলার চূড়ান্ত রায়ে পাপুলকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৭ লাখ কুয়েতি দিনার (সে সময়ে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৭ কোটি টাকা) জরিমানা করেন। সাজার পর পাপুলকে কুয়েত থেকে বিতাড়িত করার নির্দেশও দেন আদালত।
একই মামলায়, ঘুষ নেয়ার অভিযোগে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল মাজেন আল-জাররাহ এবং জনশক্তি বিভাগের পরিচালক হাসান আল খিদরকেও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। তাদেরকে সরকারি পদ থেকে বরখাস্ত করারও আদেশ দেয়া হয়।
এ ছাড়া, আদালত একই মামলার কুয়েতের সাবেক এমপি সালাহ খুরশেদকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৭ লাখ ৪০ কুয়েতি দিনার জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দেন।
২০২০ সালের ৭ জুন পাপুলকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। সে সময় তিনি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ছিলেন।
৫ জন বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মানবপাচার, অর্থপাচার এবং কোম্পানির কর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ আনে সিআইডি।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে পাপুল অর্থের বিনিময়ে জাল চুক্তিতে অভিবাসী শ্রমিক আনার ক্ষেত্রে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনশক্তি বিভাগ, জনপ্রতিনিধির সহায়তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
সাধারণ প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে পাপুল দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে ছিলেন। এক সময় জনশক্তি আমদানির মাধ্যমে বড় ব্যবসায়ী হয়ে উঠেন তিনি। পরে দেশে ফিরে সংসদ সদস্য হন। পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। সূত্র-ডেইলী স্টার।

সংবাদের উৎস জানাতে সাংবাদিকদের চাপ দেয়া যাবে না : হাইকোর্ট

0

সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়টি প্রকাশ হয়েছে। এতে আদালত বলেছেন সংবাদের উৎস জানাতে কোনো সাংবাদিককে চাপ দেয়া যাবে না । রোববার রাষ্ট্র বনাম দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর এ মামলার ৫১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনায় আমাদের মতামত হলো সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা সাংবিধানিকভাবে এবং আইনত দুর্নীতি এবং দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে সংবাদ পরিবেশন করতে পারবেন।’
কোনো সাংবাদিক তার সংবাদের তথ্যের উৎস কারও কাছে প্রকাশে বাধ্য নয় বলে জানান আদালত।
আদালত বলেন, বর্তমান সময়ে প্রতিটি সেক্টরে দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। গণমাধ্যম দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি বিশেষের দুর্নীতি-অর্থ পাচার ফলাও করে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে হলুদ সাংবাদিকতা কখনো সমর্থন করা যায় না।
আদালত আশা প্রকাশ করে বলেন, সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে মনোযোগী হতে হবে। দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও জনস্বার্থ আছে— এ ধরনের সব সংবাদ সাংবিধানিকভাবে ও আইনগতভাবে সাংবাদিকরা তুলে ধরতে পারেন। সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে যে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে তাতে সাংবাদিকরা তাদের নিউজের তথ্যের সোর্স প্রকাশ করতে বাধ্য নন।
রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেন, ‘সংবাদের সোর্স জানাতে সাংবাদিকদের বাধ্য করা যাবে না। কোনো সংবাদে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি প্রেস কাউন্সিলে প্রতিকার চাইতে পারবেন।’
’২০ কোটিতে প্রকৌশলী আশরাফুলের দায়মুক্তি! দুর্নীতি দমনে দুদক স্টাইল’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্ট একথা বলেন।
একপর্যায়ে আদালত এ সংক্রান্ত স্বতঃপ্রণোদিত রুল নিস্পত্তি করে গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রীর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বিষয় অনুসন্ধানে আগের কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নতুন তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। রায়ে আশরাফুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে পুনরায় অনুসন্ধানে দুদককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। রায় প্রাপ্তির ৬ মাসের মধ্যে এই অনুসন্ধান শেষ করতে বলা হয়েছে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি গণহত্যাকে স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে

0

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) দেশটির দুই আইনপ্রণেতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত রো খান্না এবং স্টিভ চ্যাবট এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ভারতীয় বার্তাসংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) এই খবর দিয়েছে।
প্রস্তাবটিতে ১৯৭১ সালে বাঙালি এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবটির নাম ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি’।
এ ছাড়া পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার জন্য এবং যেসব অপরাধী এখনো বেঁচে আছে তাদের বিচার করার জন্যও আহ্বান জানানো হয় এতে।
প্রস্তাব উত্থাপনের পর এক টুইট বার্তায় চ্যাবট বলেন, ওই বছরের লাখ লাখ মানুষকে হত্যার স্মৃতি আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। ওই হত্যাযজ্ঞকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তা ইতিহাসের দলিলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের সহকর্মী আমেরিকানরা তা থেকে শিক্ষালাভ করবে। আর অপরাধীরা জানবে এই ধরনের অপরাধ মেনে নেয়া হবে না বা ভুলে যাওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে একটি গণহত্যা হয়েছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, এখন যেটি বাংলাদেশ- সেখানে লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহতদের ৮০ ভাগ ছিল হিন্দু। আমার মতে, তা অন্যান্য গণহত্যার মতোই গণহত্যা ছিল। যেমনটা হলোকাস্টে ঘটেছিল। অন্যান্য যে গণহত্যা হয়েছিল সেটিও তেমন একটি ছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত সত্যিই গণহত্যার সংজ্ঞা দিয়ে তা ঘোষিত হয়নি। আমরা এখন এটি নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া রো খান্না টুইটে বলেন, তিনি চ্যাবটের সঙ্গে মিলে ১৯৭১ সালের বাঙালি গণহত্যার স্মরণে প্রথম প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেছেন। ১৯৭১ সালে লাখ লাখ বাঙালি ও হিন্দুকে হত্যা বা বাস্তুচ্যুত করা হয়েছিল যা বর্তমান সময়ে ভুলে যাওয়া গণহত্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
প্রস্তাবটিতে বলা হয়, ১৯৭০ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচনে জয়লাভ এবং পরবর্তীতে ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সঙ্গে তাঁর আলোচনা ব্যর্থ হয়। জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তার জেনারেলদের বলেছিল ৩০ লাখ বাঙালিকে হত্যা করো এবং বাকিরা আমাদের হাত চাটবে। এতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার এবং সামরিক বাহিনী ও উগ্র ইসলামিক দলের সহায়তায় অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। এদিকে উত্থাপিত এ প্রস্তাবটিকে বাংলাদেশিরা স্বাগত জানিয়েছেন।
জাতীয় গণহত্যা দিবস:
১৯৭১ সালের এই দিনে রাতের আঁধারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। অপারেশন সার্চলাইট নামে তারা মেতে ওঠে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যায়। জাতির জীবনে আসা এই ‘ভয়াল কালরাত’-এ ঘুমন্ত বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।
জাতীয় সংসদে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ এদিন অর্থাৎ ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। তখন থেকে দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
ওইদিন পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একযোগে আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। মেশিন গানের গুলিতে, ট্যাংক-মর্টারের গোলা আর আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়, তাদের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পায়নি রোকেয়া হলও। বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ।
ওই রাতে বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তান নিয়ে যায় হানাদার বাহিনী। তার আগেই ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে (২৫ মার্চ মধ্যরাতে) দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীনতা।

তামাকজনিত মৃত্যুর প্রতীকী লাশের কফিন নিয়ে রাজধানীতে মানববন্ধন

0

অবিলম্বে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে প্রতীকী লাশের কফিন নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) এবং প্রত্যাশা মাদক
বিরোধী সংগঠন। এসময় বক্তারা বলেন বাংলাদেশে বছরে তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ মারা যায়। আইন সংশোধনে যত দেরি হবে তামাকজনিত মৃত্যু ততই বাড়তে থাকবে। মানববন্ধন শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, তামাকের ব্যবহার হ্রাসে সংশোধনীর মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
ইতিমধ্যে খসড়া সংশোধনী প্রস্তাব ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং অংশীজনের মতামত গ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো সরকারের এই মহতি উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে নানাবিধ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এফসিটিসি-তে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা ও পদক্ষেপসমূহ তামাক কোম্পানির ব্যবসায়িক ও অন্যান্য স্বার্থ থেকে সুরক্ষা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ এ তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে সরকারকে তামাক কোম্পানির প্রভাবমুক্ত থাকতে সুপারিশ করা হয়েছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে আরো জানানো হয়, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫.৩ শতাংশ (৩ কোটি ৭৮ লক্ষ) তামাক ব্যবহার করে। দেশে তামাক ব্যবহারজনিত মৃত্যু ও অসুস্থতায়
বছরে ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়, যা তামাকখাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। তামাক ব্যবহারজনিত এই ক্ষয়ক্ষতি এবং ভয়াবহতা উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল- এফসিটিসি’র সাথে সামঞ্জস্য রেখে ২০১৬ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া সংশোধনীতে যেসব প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তারমধ্যে রয়েছে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ রাখার বিধান বিলুপ্ত করা; বিক্রয়কালে তামাকজাত দ্রব্য বা প্যাকেট প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা; তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা; সব ধরনের খুচরা বা খোলা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা; ই-
সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ এধরনের সকল পণ্য উৎপাদন, আমদানি ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা; এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৯০ শতাংশ করা ইত্যাদি। ক্যাম্পেইন ফর
টোব্যাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে) এর সহায়তায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, টিসিআরসি, ডরপ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, নাটাব, ধূমপান মাদক ও দুর্নীতি বিরোধী ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত বাংলাদেশ

0

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে আগামী তিন বছরের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সাল থেকে এ মেয়াদ শুরু হবে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের হলে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি সাবা কোরেসি।
এ নির্বাচনের ভোট প্রদানের সময় সাধারণ পরিষদের হলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। নির্বাচনে জয়লাভের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে ৪৭ সদস্যের এই কাউন্সিলে বাংলাদেশ পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হলো। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবদানের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গভীর আস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাউন্সিলের দায়িত্ব পালনে আমাদের দক্ষতারই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ।’
নির্বাচনকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত। বিপুল ভোটে বাংলাদেশকে মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত করায় সদস্য দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় জাতিসংঘের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করতে সবার সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত।
এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে সর্বোচ্চ ১৬০ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া এ অঞ্চল থেকে নির্বাচিত অন্য সদস্যরা হলো−মালদ্বীপ (১৫৪), ভিয়েতনাম (১৪৫) ও কিরগিজস্তান (১২৬)।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিশেষ করে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ছয়টি দেশ এ অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত চারটি আসনের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। জাতিসংঘ বিশেষ করে মানবাধিকার কাউন্সিলে আমাদের গঠনমূলক ও নীতিগত উপস্থিতির ফলে আজ আমরা বিপুলসংখ্যক ভোটে জয়লাভ করতে পেরেছি।’
নির্বাচনের পর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান। তাঁরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শাসন ব্যবস্থা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক নেতৃত্ব এবং বিশ্ব শান্তির জন্য তার সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন।
সবার প্রত্যাশা, মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকারের ক্ষেত্রে বিশেষ করে উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের আদর্শ বাস্তবায়নে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

ওয়াসার এমডি তাকসিম খানের বেতনভাতার হিসাব দিতেই হচ্ছে

0

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের বেতনভাতার হিসাব দাখিলের হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার ওয়াসা বোর্ডের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন কোন আদেশ (নোঅর্ডার) দেননি। ফলে গত ১৩ বছর ধরে ওয়াসার এমডি যে বেতন-ভাতা নিয়েছেন তার হিসাব আদালতে দাখিল করতে হবে। এ তথ্য জানিয়েছেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া।
গত ১৭ই আগস্ট ক্যাবের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকা ওয়াসার এমডিকে গত ১৩ বছর ধরে বেতন-ভাতা বাবদ কত টাকা নিয়েছেন তার হিসাব দাখিলের নির্দেশ দেয় বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ। আদেশে ৬০ দিনের মধ্যে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডকে এই হিসাব দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়।
সেই সাথে তাকসিম এ খানকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, তাকে অপসারণে বিবাদীদের ‘নিস্ক্রিয়তা’’ কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাই কোর্ট।
যতদিন পর্যন্ত তাকে অপসারণ করা না হবে, ততদিন ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী তার বেতন নির্ধারণে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে।
আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে ওয়াসা বোর্ডের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম মাসুম। ক্যাবের পক্ষে আদালতের অনুমতি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে (ইন পারসন) শুনানি করেন ক্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অধ্যাপক এম শামসুল আলম।
গতবছর ২৮ ফেব্রæয়ারী ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের ২৭৬তম সভায় কমিটির প্রস্তাবের ভিত্তিতে এমডির বেতন-ভাতা নির্ধারণ করা হয় ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এর মধ্যে তার মূল বেতন ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, বাড়িভাড়া ৩৫ হাজার, চিকিৎসা ও আপ্যায়ন ভাতা ৩৫ হাজার ৭৫০ টাকা, বিশেষ ভাতা ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৬ টাকা এবং বাংলা নববর্ষ ভাতা ৪ হাজার ৭৬৭ টাকা। তার উৎসব ভাতা ঠিক হয় ৪৭ হাজার ৬৬৭ টাকা।
এ খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হলে বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করতে গত ২০ মার্চ বিবাদীদের উকিল নোটিশ দেয় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় গত ৩১ জুলাই হাই কোর্টে রিট করা হয়।
এদিকে দেশের ব্যাংকগুলোতে তাকসিম এ খানের কত টাকা আছে, কী পরিমাণ লেনদেন হয়েছে, সেসব তথ্য জানতে চেয়ে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ- বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে প্রথমবারের মতো নিয়োগ পেয়েছিলেন তাকসিম এ খান। এরপর চার দফায় বাড়ানো মেয়াদ শেষ হয় ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর। তার সপ্তাহ দুয়েক আগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তাকসিমের মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ায় সরকার। সূত্র-মানবজমিন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতের উপায় খুঁজে বের করার ওপর প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতের সম্ভাব্য সর্বোত্তম উপায় বের করতে এবং দেশের মানুষকে এ ব্যাপারে সতর্ক করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ‘এই নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবের ফলে বিশ্ব আরো জটিল হয়ে উঠছে। বিশ্ব আজ একটি কঠিন সময় পার করছে এবং বাংলাদেশও এর বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে। তাই, দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দেশের অগ্রগতি ও উন্নতি অব্যাহত রাখতে এ ব্যাপারে সুপরিকল্পিত মতামত জরুরি।’
প্রধানমন্ত্রী সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে ন্যাশনাল ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সভায় তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ একটি জিডিটাল দেশে পরিণত হয়েছে এবং চলমান কোভিড-১৯ অতিমারিকালে এই ডিজিটাল প্রযুক্তির সম্পূর্ণ সুবিধা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, এর নেতিবাচক দিকটির বিরুদ্ধেও সতর্ক করা হয়েছে, যা মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য হুমকি।
ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই উন্নয়নের ফলে, সাইবার অপরাধ এখন একটি বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্ব এখন একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হচ্ছে এবং এখন কেউ আর বিচ্ছিন থাকতে পারে না। করোনা ভাইরাস মহামারি ও রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমরা এটা ভালভাবেই বুঝতে পেরেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কি করা উচিৎ এবং এব্যাপারে অন্যদের অভিজ্ঞতার আলোকে সেই উপায় বের করতে হবে।
শেখ হাসিনা সাইবার অপরাধ ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য যে কতটা ক্ষতিকর- সে ব্যাপারে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ভাল ও খারাপ দুটি দিক থাকলেও, কোন জাতি তাদের ছাড়া অগ্রসর হতে পারে না।
তিনি বলেন, ‘তাই বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির ওপর গবেষণা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গবেষণা ছাড়া কোন জাতিই উন্নতি লাভ করতে পারে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য কৃষি, শিল্প ও কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীনের পরপরই এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
জাতীয় ডিজিটাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যগণ এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

স্ত্রীকে তালাক দিলেন ক্রিকেটার আল আমিন

0

ক্রিকেটার আল-আমিন হোসেন স্ত্রী ইসরাত জাহানকে তালাক দিয়েছেন ।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বৈবাহিক সম্পর্কের তিক্ততা ও অনৈতিক কার্যকলাপের কারণে গত ২৫ আগস্ট তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আল আমিনের আদালতে দেয়া লিখিত জবানবন্দিতে তালাকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে তার স্ত্রী তালাকের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে তিনি উপস্থিত হন। এরপর মামলার বিষয়ে ৭ পাতার একটি লিখিত জবাব দাখিল করেন ক্রিকেটার আল আমিন। এ বিষয়ে পাঁচ দিন পর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে বাদির আইনজীবী শামসুজ্জামান জানান।
তিনি বলেন , আসামি আল আমিন আদালতে উপস্থিত হয়ে হাজিরা দেন। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, তিনি গত ২৫ আগস্ট তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে তার স্ত্রী এখনো তালাক সংক্রন্ত কোন কাগজ পাননি।
আল আমিনের স্ত্রী ইসরাত জাহান বলেন,‘আমি তালাকের বিষয়ে কিছুই জানিনা। কোন কাগজও পাইনি। আমি আদালতের কাছে ন্যায় বিচার চাই।’
লিখিত জবাবে ক্রিকেটার আল আমিন উল্লেখ করেন,গত ২৫ আগস্ট তিনি স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তিনি তাকে দেনমোহর ও ভরণ পোষণ দিতে প্রস্তুত আছেন। তার দু’সন্তান তার নিজের বাসায় থাকেন ও তাদের পড়ালেখার খরচও তিনি বহন করবেন।
এরআগে ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে ক্রিকেটার আল আমিন আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় ৬ অক্টোবর পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
তারও আগে ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে মামলাটি করেন আল-আমিনের স্ত্রী ইসরাত জাহান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আল-আমিনকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন।
মামলায় বলা হয়, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ইসরাত জাহান ও আল-আমিন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দু’টি পুত্রসন্তান রয়েছে। বড় ছেলে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ইংরেজি ভার্সনে কেজিতে পড়াশোনা করছে। বেশ কিছুদিন ধরে আল-আমিন তার স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ-পোষণ দেন না এবং খোঁজ না রেখে এড়িয়ে চলেন। যোগাযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন। আল-আমিন স্ত্রী-সন্তানদের বাসা থেকে বের করে অন্যত্র বিয়ে করবেন বলে জানান। দু’বছর ধরে আসামি বাদির খোঁজখবর নেন না এবং বাসায় নিয়মিত থাকেন না। যার কারণে ইসরাত তার দু’ সন্তানসহ বসতবাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অধিকারসহ মাসিক ভরণ-পোষণ দাবি করে মামলাটি করেন। জীবনধারণের জন্য ৪০ হাজার, দু’সন্তানের ভরণ-পোষণ ও ইংলিশ মিডিয়ামে লেখাপড়াবাবদ মাসে ৬০ হাজার টাকা আল-আমিনের কাছে পাওয়ার হকদার বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এরআগে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে আল-আমিন বাসায় এসে স্ত্রীর কাছে যৌতুকের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। ইসরাত জাহান টাকা দিতে অস্বীকার করলে আল-আমিন তাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুসিসহ লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। সংসার করবেন না বলে জানান। ইসরাত জাহান ৯৯৯-এ টেলিফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ইসরাত জাহান। এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর মিরপুর মডেল থানায় মামলাও হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে ডাস্টবিন থেকে সাড়ে ৩ কেজি সোনা জব্দ

0

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ কেজি ৪৮০ গ্রাম ওজনের ৩০ পিস সোনার বার পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম। জব্দকৃত সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ।
ঢাকা কাস্টম হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের সহকারি রাজস্ব কর্মকর্তা নাফিজ আমিন রিজভী এ খবর নিশ্চিত করে বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব সোনার বার জব্দ করা হয়।
তিনি জানান, সকালে শাহজালাল বিমানবন্দরের রক্ষিত ডাষ্টবিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি স্কচটেপ মোড়ানো দন্ড আকারের বস্তু পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে কাস্টমস হলে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে বস্তুটি খুলে ৩০ পিস সোনার বার পাওয়া যায়। তবে কাউকে আটক করা যায়নি।

জমিজমায় ই-নামজারি শুরু, সবকিছু হবে অনলাইনে, জেনে নিন কেমনে কী

0

ভূমি অফিসগুলোতে গ্রাহকদের নানা ধরণের সেবা নিতে যেন ভূমি অফিস বা সংশ্লিষ্ট দফতরে ছুটোছুটি করতে না হয় সে লক্ষ্যে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বেশ কয়েকটি সেবার অনলাইন আবেদনের সুযোগ চালু করা হয়েছে। এ অনুযায়ী পয়লা অক্টোবর থেকেই ভূমির নামজারির সব কাজ শুরু হয়েছে অনলাইনে, যেটাকে বলা হচ্ছে ই-নামজারি।
ভূমি সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, মানুষের ভোগান্তি লাঘব এবং জটিলতা এড়ানোর জন্য ই-নামজারি আবেদন ও নোটিশ ফির মত নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান সরবরাহ ফিও কেবল অনলাইনে নেয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।
ফলে ৩০শে সেপ্টেম্বরের পর থেকে নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড সংশোধন ও খতিয়ান সরবরাহ ফি আর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বা ক্যাশে দেয়া যাবে না।
ফি-ও অনলাইনেই প্রদান করতে হবে।
সচিব বলেন, নামজারির জন্য কারও যেন অতিরিক্ত অর্থ খরচ বা ত্রুটি সংশোধনের জন্য বাড়তি খরচ না হয় তা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
নামজারি:
কোন জমি কিনলে সেটি নিজের নামে নামজারি করতে হয়। এর মানে হল সরকারি ভূমি অফিসের রেজিস্ট্রারে আপনার নামে জমিটি লিপিবদ্ধ থাকে।
ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার প্রতি ১০ বা ১৫ বছর অন্তর ভূমি জরিপের মাধ্যমে ভূমির মালিকানা স্বত্বলিপি অর্থাৎ মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান প্রস্তুত করে থাকে।
জরিপ-পরবর্তী সময়ে যদি কোন জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়। যেমন মালিকের মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকার জমি পেলে কিংবা প্রকৃত মালিক বা উত্তরাধিকারীরা জমি কেনা-বেচা করলে বা হস্তান্তর করলে সেই জমির নতুন মালিকানা বা ভূমিস্বত্বের তথ্য হালনাগাদের প্রয়োজন হয়।
এজন্য সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আগে হাতে-হাতে নামজারি আবেদন করতে হতো।
ভূমির মালিকানা পরিবর্তনের সাথে সাথে সহজে ও দ্রুত নামজারি করার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় অনলাইনে নামজারি ফি পরিশোধের ব্যবস্থাসহ ই-নামজারি সিস্টেম চালু করেছে।
এজন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইন নামজারি সিস্টেমে “অনলাইনে আবেদন করুন” এবং “আবেদন ট্র্যাকিং” নামে দুটি অংশ রয়েছে। বাম পাশে “অনলাইনে আবেদন করুন” অংশের নীচে “নামজারি আবেদনের জন্য ক্লিক করুন” লেখায় ক্লিক করলে আবেদন ফর্ম আসবে। নির্ভুলভাবে সেই ফরম পূরণ এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে আবেদন জানাতে হবে।
আবেদন দাখিলের সময় আবেদন ফি ২০ টাকা ও নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা- মোট ৭০ টাকা শুধুমাত্র অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। এজন্য নগদ, রকেট, বিকাশ, উপায়, ভিসা কার্ড, মাস্টার্ড কার্ড সহ অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
ভূমির নামজারি প্রক্রিয়া সাধারণত ২৮ দিনে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে।
নামজারির জন্য আবেদন করা জমিটি আপনি ক্রয়, ওয়ারিশ, হেবা, ডিক্রি, নিলাম, বন্দোবস্ত, অন্যান্য কী সূত্রে পেয়েছেন তা চিহ্নিত করতে হবে।
এখনে উল্লেখ্য যে ভূমি মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অনলাইনে ক্রয়-সূত্রে নামজারি আবেদন ফরমটি আরও তথ্য সমৃদ্ধ হয়েছে, তাই ক্রয়সূত্রে সিলেক্ট করলে আপনার সামনে নতুন একটি ফর্ম আসবে, এতে আপনাকে কিছু বর্ধিত তথ্য দিতে হবে।
অন্যান্য সূত্রের ক্ষেত্রে আগের ফরমটিই চলমান আছে। তবে পৃথক পৃথক ফরম ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন করার কথা রয়েছে।
খতিয়ান বা পর্চা:
সাধারণত একটি ভূমির নামজারি প্রক্রিয়া ২৮ দিনে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই আবেদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিলে অফিস সহকারী অনলাইনে এর খতিয়ান প্রস্তুত করে।
খতিয়ান প্রস্তুত হলে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিট) ফি দেয়ার জন্য সিস্টেমে দেয়া মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হবে।
এ পর্যায়ে land.gov.bd ঠিকানায় গিয়ে ই-নামজারি পেজে আবেদন ট্র্যাকিং অপশনে বিভাগ সিলেক্ট করে আবেদন নম্বর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে ট্র্যাকিং করে আবেদন মঞ্জুর হয়েছে কিনা যাচাই করতে পারবেন। পাতায় দেয়া মোবাইল ওয়ালেট কিংবা ইন্টারনেট ব্যাংকিং থেকে সুবিধাজনক একটি অপশনে ক্লিক করে অগ্রসর বাটন চেপে নির্দেশনা অনুসরণ করে আপনি নগদ, রকেট, বিকাশ, উপায়,ভিসা কার্ড, মাস্টার্ড কার্ড সহ অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ব্যবহার করে অনলাইনে ডিসিআর ফি ১,১০০ টাকা পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন।
অনলাইনে টাকা পরিশোধ করলে অনলাইনেই চালান প্রক্রিয়া শুরু হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালান পরিশোধিত হলে https://mutation.land.gov.bd/ এই লিঙ্ক এ গিয়ে আবেদন ট্র্যাকিং করে খতিয়ান প্রিন্ট এবং ডিসিআর প্রিন্ট কপিটি পাওয়া যাবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে কোডযুক্ত (কুইক রেসপন্স কোড) অনলাইন ডিসিআর ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দেয়া ডিসিআর-এর সমতুল্য এবং আইনগতভাবে বৈধ ও সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য ও ব্যবহারোপযোগ্য হবে।
তাই ভূমি অফিসে গিয়ে কোন ম্যানুয়াল ডিসিআর সংগ্রহ করতে হবে না।
এভাবে জমির খতিয়ান বা পর্চা ডাক বিভাগের মাধ্যমে হাতে চলে আসবে। এজন্য ডাক বিভাগের ফি-ও কাটা হবে অনলাইনে।
বাংলাদেশে কয়েকদফা ভূমির জরিপ হয়েছে – একটি ব্রিটিশ আমলে, একটি পাকিস্তান আমলে, এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যা এখনও চলমান। এছাড়া ঢাকায় মহানগর জরিপও হয়েছে। সবশেষ রেকর্ডে যে তথ্য থাকে সেটাই চূড়ান্ত বলে ধরা হয়।
জরিপের পরে প্রিন্টেড আকারে যে খতিয়ান আসে সেটা জেলা প্রশাসনের অফিসের রেকর্ড রুমে থাকে।
কোন জমি কেনার আগে ওটার কোন খতিয়ান আছে কিনা, কার নামে আছে সেটা রেকর্ড রুম থেকে জানা যায়। সেই রেকর্ড রুমের তথ্য পেতে land.gov.bd ঠিকানায় অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
খতিয়ান বা পর্চা বিভিন্ন কাজে লাগে- জমি কেনাবেচা, ব্যাংক লোনের জন্য সার্টিফাইড কপি লাগে। ওয়েবসাইটে অনলাইনে আবেদন করলে ও অনলাইনে পেমেন্ট দিলে গ্রাহকের ঠিকানায় পর্চার কপি পাঠিয়ে দেয়া হবে।
শুনানি:
ক্রয়, উত্তরাধিকার বা হেবাসূত্রে যিনি জমির নতুন মালিক হয়েছেন এবং নামজারির আবেদন করেছেন তাকে এবং এই জমির পূর্ববর্তী মালিককে শুনানির জন্য ডাকা হয়।
তবে পূর্ববর্তী মালিক মৃত হলে বর্তমান মালিককে শুনানিতে থাকতে হয়। এই শুনানি জমির মালিকার সত্যতা যাচাইয়ে কিংবা কারও কোন অভিযোগ থাকলে সেগুলো ফয়সালা হয়ে থাকে।
এখন থেকে সেই শুনানি অনলাইনে দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য একজন ব্যক্তি ঢাকায় বসে পটুয়াখালীর জমি কিংবা বিদেশে বসেই বাংলাদেশের জমির শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন।
অনলাইনে শুনানি করতে চাইলে নামজারির সময় পেমেন্ট করার পর্যায়ে এই প্রশ্নে হ্যাঁ নির্বাচন করতে পারেন অথবা http://oh.lams.gov.bd লিঙ্কে গিয়ে অনুরোধ জানাতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন এবং অনলাইন শুনানির জন্য একটি লিঙ্ক আবেদনে উল্লেখ করা মোবাইল নাম্বারে পাঠাবেন।
শুনানির আগে খসড়া খতিয়ানটি নাগরিক কর্নার থেকে দেখা যাবে। খসড়া খতিয়ানে কোন তথ্য ভুল থাকলে শুনানির সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে জানানো যাবে।

ভূমি ব্যাংক:
বাংলাদেশে জমি বা জায়গা সংক্রান্ত সমস্যার জটিলতার অবসান ঘটাতে সব মালিকের তথ্য নিয়ে গত বছর ভূমি তথ্য ব্যাংক চালু করা হয়েছে।
এই তথ্য ব্যাংকে সকল ভূমি মালিকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে যে কোন নাগরিক যেকোনো স্থান থেকে তার জমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বা সংগ্রহ করতে পারবেন।
বাংলাদেশের ভূমি অফিসে হয়রানি, অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রিতা, দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে সেটি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমি তথ্য ভাণ্ডারে সরকারি জমির তথ্য, খাস জমি, অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, হাটবাজার, বালুমহাল, জলমহাল, চা বাগান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত জমি – সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
সেই সঙ্গে থাকবে বর্তমান অবস্থাসহ এসএ খতিয়ান ও আরএস খতিয়ানের বর্ণনা।
ফলে বহু পুরাতন দলিলদস্তাবেজ হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলেও সরকারি রেকর্ড নিয়ে কোন জটিলতা থাকবে না। আবার অনলাইনে সংরক্ষিত থাকায় এসব রেকর্ড কেউ জালিয়াতি করতে পারবে না বলে কর্মকর্তারা উল্লেখ করছেন।
ভূমি উন্নয়ন কর:
যাদের জমি রয়েছে, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিকানার অংশ হিসাবে জমি পেয়েছেন, তাদের সবার জন্য ভূমি কর দেয়া বাধ্যতামূলক। প্রতিবছর সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে ভূমি কর জমা দিয়ে রসিদ নিতে হয়। তবে এখন থেকে এই কর অনলাইনেই দেয়া যাবে বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন। যারা অনলাইনে ভূমি কর দেবেন, সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার জমির অনুকূলে তালিকাবদ্ধ হয়ে যাবে।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য বাংলাদেশের ভূমি মন্ত্রণালয় একটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে।
প্রথমে ভূমির মালিককে এই অ্যাপের সঙ্গে নিজেকে নিবন্ধন করতে হবে। একবার নিবন্ধিত হলে তার পরবর্তীতে আর নিবন্ধন প্রয়োজন হবে না।
তিনটি প্রক্রিয়ায় এই নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে:
১. Land.gov.bd অথবা ldtax.gov.bd এই পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম তারিখ ও মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
২. ভূমি মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ৩৩৩ অথবা ১৬১২২ নম্বরে ফোন করে এনআইডি নম্বর, জন্ম তারিখ, ফোন নম্বর ও জমির তথ্য দিতে হবে।
৩. যেকোনো ইউনিয়ন ডিজিটাল অফিসে এনআইডি কার্ড, জন্ম তারিখ ও খতিয়ান নম্বর ব্যবহার করেও নিবন্ধন করা যাবে।
নিবন্ধনের পর এই পোর্টালে লগইন করে অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল অফিসে গিয়ে ভূমির উন্নয়ন কর দিতে পারবেন। এই সময় বিকাশ বা নগদের মতো মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করে করের টাকা পরিশোধ করা যাবে।
কর দেয়ার পর ইমেইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি জমার রসিদ চলে আসবে। এটিই ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ।

মৌজা ম্যাপ:
প্রতিটি মৌজার একটি ম্যাপ রয়েছে, যেটা https://www.eporcha.gov.bd/ লিঙ্কে গেলেই পাওয়া যাবে। সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কিংবা ব্যাংক লোন পেতে, জমি কেনা-বেচা করতে এই মৌজা ম্যাপ লাগে।
আপনার জমি ওই মৌজার কোন দিকটায় আছে সেটা জানার জন্য অনলাইনে ম্যাপের আবেদন করলে সেটিও আপনার ঠিকানায় কাগজে প্রিন্ট পাঠিয়ে দেয়া হবে।
এক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধ হবে অনলাইনে।
ইজারা ও টেন্ডার:
হাওর, বাওর, বিলের মতো যেসব জলমহাল বা যেসব বালিমহাল (যেসব জলাশয় থেকে বালু তোলা হয়) এসব ভূমি এতদিন ম্যানুয়ালি ইজারা দেয়া হতো।
এখন থেকে ইজারার আবেদন করা যাবে অনলাইনে। ইজারা বাবদ টেন্ডারও জমা নেয়া হবে অনলাইনে।
কাস্টমার কেয়ার:
নামজারি খতিয়ান আবেদন বিষয়ক তথ্যের জন্য কল সেন্টারের ১৬১২২ নম্বরে সার্বক্ষণিক সেবা পাওয়া যাবে বলে কর্মকর্তারা জানাচ্ছে। এছাড়া পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে +৮৮ ০৯৬১২ ৩১৬১২২ নম্বরে ফোন করা যাবে।
বিশেষ করে কেউ যদি নামজারি, খতিয়ানের মতো যাবতীয় প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল মনে করেন তাহলে তারা এসব নম্বরে কল করে অপারেটরের সহায়তা নিতে পারেন।
অপারেটর আপনার থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে সংগ্রহ করে আপনার হয়ে আবেদনের কাজ সম্পন্ন করবেন।
এজন্য বাড়তি কোন ফি দিতে হবে না।
আবেদন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ যেমন: যেমন নামজারির আবেদন করার এক মাস পরও নিষ্পত্তি হচ্ছে না, অনলাইনে পেমেন্ট করতে ঝামেলা হচ্ছে কিংবা সার্ভার জটিলতার বিষয় কল-সেন্টারে ফোন করে জানানো যাবে।
এছাড়া ভূমি-সেবা সংক্রান্ত সমস্যা জানানোর জন্য https://hotline.land.gov.bd লিঙ্কে এবং যেকোনো পরামর্শ পেতে সোশ্যাল মিডিয়ার লিঙ্ক facebook.com/land.gov.bd-তে গেলে সমাধান পাওয়া যাবে।
প্রয়োজনে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সাহায্য নেয়া যাবে।
অ্যাপ:
গুগল প্লে স্টোর থেকে ভূমিসেবা অ্যাপ, উত্তরাধিকার অ্যাপ, ই-নামজারি অ্যাপ, আর এস খতিয়ান অ্যাপ, ভূমি উন্নয়ন কর ক্যালকুলেটর নামিয়ে নেয়া যেতে পারে।
ভূমি সেবা প্রত্যাশীদের চাহিদা মেটাতে এই অ্যাপটি চালু করা হয়েছে।
এই অ্যাপটির মূল উদ্দেশ্য হল ভূমির বিভিন্ন সেবার বিষয়ে যেমন নামজারি, খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ, খাস জমি বন্দোবস্ত, অর্পিত/পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা, মহাল বিষয়ক তথ্য, জমি কর ইত্যাদি বিষয়ে অবহিত করা।
কোন সার্ভিস পেতে কতো সময় লাগবে, কতো খরচ পড়বে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কী কী লাগবে, সম্পদের বণ্টন কিভাবে হয়ে থাকে এবং ভূমি অফিস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও পাওয়া যাবে।
প্রশাসনিক কাজ:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ সম্পূর্ণ অনলাইনে হচ্ছে। এর নাম দেয়া হয়েছে প্রশাসন ব্যবস্থাপনা সিস্টেম।
মন্ত্রণালয়ের সবার তথ্য অনলাইনে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কোন কর্মকর্তার, বদলি,পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি,পুরস্কার, শাস্তি সব তথ্য অনলাইনে হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাজ এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার কাজ পরিচালনা সহজ হয়েছে বল কর্মকর্তারা উল্লেখ করছেন।
এছাড়া কমিউনিটি টুল-‘বার্তা’ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পাঁচ শতাধিক সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে বার্তা পাঠানো যায়।
প্রক্রিয়াধীন:
কিছু অনলাইন সেবার কাজ চলমান আছে। সেগুলো হল:
দলিলের পর সব অনলাইনে
জমি কেনার পর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে দলিল সংগ্রহ করতে হয়।
পরে নামজারির জন্য ওই দলিলের কপি এসি ল্যান্ডে নিয়ে যেতে হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিকল্পনা রয়েছে ভূমি নিবন্ধনের সময় দলিলটিকে ইলেকট্রনিক উপায়ে সম্পাদন করে, বায়োমেট্রিকসহ অন্যান্য তথ্য নিয়ে, এই কপি ইলেকট্রনিক উপায়ে এসি ল্যান্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।
এতে আলাদা দুটো অফিসে গ্রাহকের ধর্না দেয়ার প্রয়োজন নেই।
ডিজিটাল ল্যান্ড রেকর্ড:
বাংলাদেশের ৬১ জেলায় ১ লাখ ২০ হাজারের মতো মৌজা ম্যাপ আছে যার সবই কাগজে ছাপা অবস্থায় রেকর্ড করা হয়েছে।
এই মৌজা ম্যাপগুলোকে হাই রেজোল্যুশন ডিজিটাইজেশন করে সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া হাতে নেয়ার কথা জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র।
ডিজিটাল ডায়নামিক ওই ম্যাপের ওপর স্যাটেলাইট ইমেজ বসানো হবে।
এভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ওই ম্যাপ ও ছবির ওপর বিভিন্ন রঙ বসিয়ে জমির শ্রেণীবিন্যাস করা হবে।
এতে করে এদিকে যেমন মৌজার প্লটের ভাগগুলো স্পষ্ট হবে।
সেই সাথে সংরক্ষিত জলাশয়,লেক, নদী, কৃষি জমির দখল ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হয়।
এছাড়া ভূমি জরিপের কাজও হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।
আগে ম্যাপ ও খতিয়ান কাগজে ছাপা থাকতো। এখন ড্রোন দিয়ে জমির জরিপ করে মালিকের তথ্য নিয়ে ডিজিটাল ম্যাপ করা হবে।
সেখানকার তথ্য অটো কারেক্ট করা যাবে। ধরুন আপনি একখণ্ড জমি কিনলেন, সেটা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ম্যাপে পুরনো মালিকের নাম তুলে আপনার নাম বসানো হবে।বিবিসি বাংলা।