বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাদন্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছে তার পরিবার। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির জানান, “রবিবার (১১ সেপ্টেম্বর) খালেদা জিয়ার পক্ষে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার, বিএনপি প্রধানের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার ও তার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুস সাত্তার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুমতি চেয়েছেন শামীম ইস্কান্দার।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা আবেদনটি গ্রহণ করেছি এবং আইনি মতামতের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে, আইন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশসহ আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে।”
এর আগে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ পাঁচবার বাড়ানো হয়েছে। সাজা স্থগিতের চলমান মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর।
শনিবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, “যদি খালেদা জিয়ার পরিবার সাজা স্থগিতের আবেদন করে, তাহলে বিএনপি প্রধানের দুর্নীতির দু’টি মামলার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো হবে।”
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের সময়, ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে, খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করা হয়। খালেদা জিয়া গুলশানে তার বাসভবনে থাকবেন এবং দেশত্যাগ করতে পারবেন না, এই শর্তসাপেক্ষে তখন ছয়মাসের জন্য তাকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার কারাদন্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন
জজ মিয়াকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আলোচিত জজ মিয়ার জন্য ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে, হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চ থেকে রিট আবেদনটি করার অনুমতি নেয়া হয়।
রিট আবেদনে, জজ মিয়াকে ফাঁসানোর ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গঠনের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। জজ মিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবীর পল্লব এ রিট দায়ের করেন।
স্বরাষ্ট্রসচিব, ঢাকার জেলা প্রশাসক, মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ওসি, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), তৎকালীন আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, তৎকালীন এএসপি আব্দুর রশিদ, তৎকালীন এএসপি মুনশি আতিকুর রহমান এবং তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে,সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, সাবেক এএসপি আব্দুর রশিদ, মুন্সি আতিকুর রহমান, সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় জড়িতদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে, তা থেকে এই ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করে দিতে আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে, জজ মিয়াকেক ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে, বিবাদীদের প্রতি গত ১১ আগস্ট এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের জবাব না পেয়ে এই রিট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার পল্লব।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ ২৪ জন নিহত হন। পরে ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে ধরে আনা হয় জজ মিয়াকে। তাকে ১৭ দিন রিমান্ডে রেখে, ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে একটি জবানবন্দি আদায় করে সিআইডি।
পরে, ২০০৭ সালে তত্বাবধায়ক সরকার এসে নতুন করে এই মামলার তদন্তের উদ্যোগ নেয়। তদন্ত শেষে, ২০০৮ সালের ১১ জুন এ সংক্রান্ত মামলা দুটির অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অব্যাহতি দেয়া হয় জোট সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হওয়া জজ মিয়াকে। সে সময় বিনা অপরাধে পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হয়েছিল জজ মিয়াকে। ভয়েস অফ আমেরিকা।
আবেদন পেলেই খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হবে, জানালেন আইনমন্ত্রী; পরিবার থেকে ফের বিদেশ নেয়ার আবেদন করা হবে
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দন্ড স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে বিবেচনা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ১৪৭তম রিফ্রেশার কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তির মেয়াদের আবেদন পেলেই সরকার তা আবারও বাড়াবে।
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁর বোন সেলিমা রহমান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরীক অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নেয়া জরুরী। এবারো তাকে বিদেশ নেয়ার আবেদন জানানো হবে।
এদিকে নি¤œ আদালতের বিচারকদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ঋণখেলাপিরা দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই ঋণখেলাপিদের মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ছাড়া মামলার শুনানিতে ঋণখেলাপিদের অযৌক্তির সময় দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
বিগত প্রায় সাড়ে ১৩ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঈর্ষণীয় উন্নয়ন ঘটেছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার ”অর্থনীতির শত্রæ” হিসেবে খ্যাত খেলাপি ঋণ- এর পরিমাণ কমিয়ে আনতে চায়। কারণ ঋণ খেলাপি মামলাজট দেশের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে আমাদের অবশ্যই ঋণ খেলাপি মামলাজট খুলতে হবে এবং এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে খেলাপি ঋণ বাড়ার লাগাম টানতে হবে। ঋণ খেলাপি মামলা দ্রæত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সরকার অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ সংশোধন করে আদালতের বাইরে এডিআর বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মামলার পক্ষগণের অনাগ্রহের কারণে এডিআর পদ্ধতির সফল প্রয়োগ হচ্ছে না। ঋণ খেলাপি মামলা দ্রæত নিষ্পত্তি করতে- এডিআর পদ্ধতিকে আরও কার্যকরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি শুনানি পর্যায়ে বিবাদীর অযৌক্তিক কালক্ষেপণ রোধ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ন্যায়বিচারের সঙ্গে সামাজিক অপরাধ, রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলা ও নাগরিক জীবনের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো নিবিড়ভাবে জড়িত। তাছাড়া ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন ব্যতিত রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি লাভ করা যায় না।
মামলাজটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, দেশের আদালতগুলোতে দায়েরকৃত সিভিল মামলার অর্ধেকেরও বেশি ভূমি সম্পর্কিত। অনেক ফৌজদারি মামলার মূলেও রয়েছে ভূমি বিরোধ। এসব মামলার বিচার পাওয়ার জন্য প্রতিদিন লাখ লাখ বিচারপ্রার্থীকে আদালতে ধরনা দিতে হয়। এতে যে কেবল তাদের সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে তা নয়, মূল্যবান কর্মঘণ্টাও নষ্ট হচ্ছে। যেসময়ে তাদের উৎপাদনের কাজে থাকার কথা, সেসময় আদালতের বারান্দায় ঘুরেঘুরে বিচার পাওয়ার প্রহর গুণতে হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন বিচারকগণ,এসব বিষয় গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিবেন এবং জনগণকে দ্রæত ন্যায়বিচার প্রদান করে তাঁদের বিচার পাওয়ার দুর্ভোগ লাঘব করবেন।
প্রশিক্ষণার্থী বিচারকদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সারা জীবনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে এমন এক স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল বিচার বিভাগের স্বপ্ন দেখেছিলেন – যেখানে শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত এবং অসহায় মানুষ স্বল্প খরচে দ্রæত ন্যায়বিচার পাবে। বঙ্গবন্ধুর এই স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন- বিচারক হিসেবে আপনাদের ওপরই নির্ভর করে। এই নির্ভরতা আপনাদেরকে যেমন দায়িত্বশীল করেছে, তেমনি মর্যাদাবানও করে তুলেছে। আপনাদের দায়িত্ব পালনে আমরা সহায়ক ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি মাত্র। আমরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, দক্ষতার সাথে সুচারুরূপে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের দাপ্তরিক সমস্যার যুক্তিসঙ্গত সমাধানসহ পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোটাও অপরিহার্য। আর পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। সেকারণে আমরা দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কোর্স আয়োজন করে যাচ্ছি। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন মন্ত্রণালয় এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অচলায়তন ভাঙছে দুদকের, মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেলেন বিভাগীয় তিন কর্মকর্তা
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন সংস্থাটির নিজস্ব তিনি কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন—দুদকের পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, দুদক বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা-২ এর পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের বিশেষ পরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
বৃহস্পতিবার দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া পৃথক আরও দুটি আদেশে ৬ জন উপ-পরিচালককে পরিচালক ও ৮ জন সহকারী পরিচালককে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।
পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ছয় কর্মকর্তা হলেন; এস এম সাহিদুর রহমান, মো. লুৎফর রহমান, মির্জা জাহিদুল আলম, মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী, ঋত্বিক সাহা ও মো. মোশারফ হোসেইন মৃধা।
এছাড়া সহকারী পরিচালক থেকে ৮ আটজন উপ পরিচালক হলেন, মো. শহীদুল আলম সরকার, মো. এ.একেএম বজলুর রশীদ, সৈয়দ আতাউল কবীর, মো. শহীদুল ইসলাম মোড়ল, মো. হাফিজুর রহমান, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. ফজলুল বারী ও এ এক এম ফজলে হোসেন।
দুদকের মোট আটজন মহাপরিচালক পদের মধ্যে ডেপুটেশনে আসা সরকারের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার সাত কর্মকর্তা বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন। একটি পদ ছিলো খালি। এর মধ্যে একজনকে নির্ধারিত দায়িত্ব ছাড়াও অতিরিক্ত হিসেবে এই শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ উর্ধতন পদটিতে প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়ে আসা হতো,যার ফলে দুর্নীতি দমনে সংস্থাটির ভাবমূর্তী প্রশ্নের মুখে পড়ে। বিশেষ ক্যাডার থেকে আসা কর্মকর্তারা বিশেষ ক্যাডারের কারও দুর্নীতি তদন্তে অনাগ্রহ দেখাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তা ছাড়া স্বল্পকালীন সময়ের জন্য প্রেষণে এ পদে এসে তারা নিজেরাও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়তেন। দুদকের নিজস্ব পরিচালকদের মধ্য থেকে ডিজি পদে পদোন্নতি পাওয়ার যোগ্য হলেও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের পদোন্নতি না দেয়ায় ক্ষোভ ছিলো কর্মকর্তাদের মধ্যে।
এদিকে প্রেষণে আসা বিশেষ তদন্ত শাখার ডিজি সাঈদ মাহবুব খানকে পাঠানো হয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। তিনি প্রায় ৫ বছর ধরে দুদকে মহাপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর আইসিটি ও প্রশিক্ষণ শাখার ডিজি এ কে এম সোহেলকে বদলি করা হয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে। তিনিও ৪ বছরের বেশি সময় ধরে কর্মরত ছিলেন।
প্রেষণে এসে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকা এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার,বড় বড় দুর্নীতির দায় থেকে প্রভাবশালীদের দায়মুক্ত প্রদান,স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে কমিশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮ বছরের বেশি সময়ে দুদকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মাত্র চারজন ডিজি হতে পেরেছেন। সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত তিনজনসহ ১৮ বছরের বেশি সময়ে ডিজি হলেন মোট সাতজন। এই দীর্ঘ সময়ে প্রশাসন বা অন্য ক্যাডার থেকে প্রেষণে আসারাই এ পদগুলো দখল করে রেখেছিলেন।
মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়া তিনজন আক্তার হোসেন, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী ও সৈয়দ ইকবাল হোসেন ১৯৯৫ সালে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোতে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন হওয়ার পর তারা উপপিরচালক এবং ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে তাঁরা পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান। সাত বছর পর তাঁরা মহাপরিচালক হলেন।
এদিকে ‘একসঙ্গে তিনজন মহাপরিচালকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এত পদোন্নতি দুদকের ইতিহাসে কখনো হয়নি মন্তব্য করেছেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো:জহুরুল হক। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি যে নষ্ট হওয়ার দিকে যাচ্ছিল, তা অনেকখানি পুনরুদ্ধার হবে’।
তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস পদোন্নতি হওয়ায় আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্বেলিত ও উৎসাহিত হবেন। কর্মচারীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। এতদিনের হতাশা দূর হবে। যারা পদোন্নতি পাননি আক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করে পদোন্নতি দিয়েছে। যারা বাদ পড়েছেন তারা বিভিন্ন কারণে বাদ পড়েছেন। অনেক আগে থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট ছিল। যে কারণে তাদের আমরা বিবেচনা করতে পারিনি।
দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রতিটা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে একমাসের মধ্যে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে- আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে একটি করে অভিযোগ বাক্স
স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, একমাসের মধ্যে এ অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে এবং সেখানে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো উচ্চ পর্যায়ের
কর্মকর্তারা যাচাই করে দেখবেন।
বৃহস্পতিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধামরাই উপজেলার কালামপুর এলাকায় কালামপুর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের নতুন ভবন উদ্বোধন
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন সাংবাদিকদের ওপরে কোন অত্যাচার হোক, সেটা সরকার সহ্য করবেনা। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অভিযোগ করলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকেই দেখে এসেছি, আমাদের সাব-রেজিস্ট্রিার অফিসগুলোর ঠিকানা ছিল বৃটিশ বা পাকিস্তান আমলের পুরাতন, জীর্ণ কিংবা পরিত্যক্ত কোন সরকারি ভবন। অনেক রেজিস্ট্রি অফিসের ভাগে জীর্ণ কিংবা পরিত্যক্ত ভবন বরাদ্দ পাওয়াটাও ছিল দুষ্কর। আর দলিল লেখক ভাইদের ঠিকানা ছিল, মাথার উপরে টিনের শেড এবং নিচে মাটি, খুব ভালো হলে অর্ধপাকা মেঝে। তাদের ঘরে বেড়া ছিলো না বললেই চলে। এই অবস্থাতেই তারা মেঝেতে পাটি বিছিয়ে সেখানে বসেই অনেক কষ্টে আমাদের দলিল লিখে দিয়েছেন।
আনিসুল হক বলেন, শুধু অবকাঠামো সমস্যা নয়, রেজিস্ট্রি অফিসগুলো নানা ধরণের সমস্যায় জর্জড়িত ছিল। দলিল নকল করার
জন্য বালাম বহি ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। ফলে মূল দলিল ফেরত পাওয়ার জন্য আমাদের বছরের পর বছর অপেক্ষা
করতে হতো। নকলনবিশদের পারিশ্রমিক পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরনা দিতে হতো। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না।
সময়মত নিয়োগ না দেয়ায় অনেক পদ শূন্য থাকতো। সবমিলিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও ছিল চরম হতাশা।
তিনি বিশ্বাস করেন, অবহেলিত অবস্থাকে পিছনে ফেলে বিগত প্রায় সাড়ে সাত বছরে নিবন্ধন অধিদপ্তর অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যেও দূর হয়েছে হতাশা। কারণ বিগত প্রায় সাড়ে সাত বছরে নিবন্ধন অধিদপ্তরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে
বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করা হয়েছে। ঢাকার কালামপুরে নবনির্মিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন এর অন্যতম উদাহরণ।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শহিদুল আলম ঝিনুক এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী
মোসলেহ্ উদ্দীন আহাম্মদ, ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ভাস্কর দেবনাথ, ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ
মালেক বক্তৃতা করেন।
বিকাশ নগদ রকেটের মাধ্যমে এক বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার, সিআইডির অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য
গত একবছরে দেশ থেকে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে এই টাকা পাচার হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি এ তথ্য জানিয়েছে।
সিআইডি জানায়, দেশের ডলারের দাম বাড়াসহ নানা কারণে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, গত এক বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ ৭.৮ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা।
গ্রেফতাররা হলেন- আক্তার হোসেন (হুন্ডি এজেন্ট), দিদারুল আলম সুমন (হুন্ডি এজেন্ট), খোরশেদ আলম ইমন (হুন্ডি এজেন্টের সহযোগী), রুমন কান্তি দাস জয় (বিকাশ এজেন্ট), রাশেদ মাঞ্জুর ফিরোজ (বিকাশ এজেন্ট), মো. হোসাইনুল কবির (বিকাশ ডিএসএস), নবীন উল্লাহ (বিকাশ ডিএসএস), মো. জুনাইদুল হক (বিকাশ ডিএসএস), আদিবুর রহমান (বিকাশ ডিএসও), আসিফ নেওয়াজ (বিকাশ ডিএসও), ফরহাদ হোসাইন ( বিকাশ ডিএসও), আবদুল বাছির (বিকাশ এজেন্ট), মাহাবুবুর রহমান সেলিম (বিকাশ এজেন্ট), আবদুল আউয়াল সোহাগ (বিকাশ এজেন্ট), ফজলে রাব্বি (বিকাশ এজেন্ট)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮০ টাকা, চার সিমে তিন কোটি ৪৬ লাখ ৪৭ হাজার ২২৯ ইলেকট্রনিক মানি, মোবাইল ৩৪টি। এ ঘটনায় মোট ৪টি মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া।
তিনি বলেন, যেই ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গত চার মাসে ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাচার হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া, এমএফএসের মাধ্যমে হুন্ডি করে এমন ৫ হাজারের বেশি এজেন্টের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা জানতে পারি তারা বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মাধ্যমে এই ৫ হাজার এজেন্ট গত ৪ মাসে ২৫ হাজার কোটি এবং বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে।
রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ উল্লেখ করে সিআইডি প্রধান বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতির ওপর যে চাপ তৈরি করেছে তা মোকাবিলা করার জন্য সরকার অত্যন্ত তৎপর। হুন্ডি সবসময় রিজার্ভের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সিআইডি হুন্ডি কার্যক্রমের উপর নজরদারী শুরু করে।
অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার এবং বিদেশে অবস্থানরত ওয়েজ আনরিদের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশ থেকে বাংলাদেশে না এনে স্থানীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করার মাধ্যমে মানি লন্ডারিং অপরাধ করে আসছে।
তিনি বলেন, সংঘবদ্ধ হুন্ডিচক্র প্রবাসে বাংলাদেশিদের উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে তা বাংলাদেশে না পাঠিয়ে উক্ত বৈদেশিক মুদ্রার সমপরিমাণ মূল্যে স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করে। এ কাজে অপরাধীরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজটি করে থাকে। প্রথম গ্রুপ বিদেশে অবস্থান করে প্রবাসীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করে, দেশ থেকে যারা টাকা পাচার করতে চায় তাদের দেয়। দ্বিতীয় গ্রুপ পাচারকারী ও তার সহযোগীরা দেশীয় মুদ্রায় উক্ত অর্থ এমএফএস এজেন্টকে দেয়। তৃতীয় গ্রুপ তথা এমএফএস এজেন্টরা বিদেশে অবস্থানকারীর কাছ থেকে প্রাপ্ত এমএফএস নম্বরে দেশীয় মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করে।
এসব চক্র প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে এমএফএস ব্যবহার করে ক্যাশ ইনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হুন্ডি করছে। এমএফএস এজেন্টদের সহযোগিতায় পাচারকারীরা বিদেশে স্থায়ী সম্পদ অর্জনসহ অনলাইন জুয়া, মাদক কেনাবেচা, স্বর্ণ চোরাচালান, ইয়াবা ব্যবসাসহ প্রচুর অবৈধ ব্যবসাও পরিচালনা করছে। বাংলানিউজ।
ঢাকায় পি কে হালদারের বিচার শুরু
সোয়া চারশ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং কানাডায় অর্থপাচারের মামলায় গ্লোবাল ইসলামী (সাবেক এনআরবি গ্লোবাল) ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৪ জনের বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকার ১০ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ২২ সেপ্টেম্বর দিন রেখেছেন।
পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া প্রায় তিন ডজন মামলার মধ্যে এই প্রথম কোনো মামলা বিচারে এল।
মামলার আসামিদের মধ্যে পি কে হালদার আছেন ভারতের কারাগারে। তাকেসহ দশজনকে পলাতক দেখিয়ে এ মামলার কার্যক্রম চলছে।
বাকি নয়জন হলেন: পি কে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, পূর্ণিমা রানী হালদার, উত্তম কুমার মিস্ত্রি, অমিতাভ অধিকারী, প্রীতিশ কুমার হালদার, রাজিব সোম, সুব্রত দাস, অনঙ্গ মোহন রায়, স্বপন কুমার মিস্ত্রি।
কারাগারে থাকা বাকি ৪ আসামি অবন্তিকা বড়াল, শঙ্খ বেপারী, সুকুমার মৃধা ও অনিন্দিতা মৃধাকে আদালতে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
বিচারক তাদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। পাশাপাশি সুকুমার ও অনিন্দিতার জামিন আবেদনও নাকচ করা হয় বলে দুদকের আইনজীব মীর আহমেদ আলী সালাম জানান। বিডি নিউজ।
জাহাঙ্গীরের ‘দুর্নীতি’ অনুসন্ধানে দুদক; মানহানি মামলায় হাইকোর্টে জামিন
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি মো.আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে এ জামিন দেন। ফরিদপুরে করা মানহানি মামলায় তাকে এই জামিন দেয়।
গত ৩১শে আগস্ট এ মামলায় ফরিদপুর আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম কে রহমান।
দুদকের অনুসন্ধান শুরু:
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমশিন,দুদক। এর অংশ হিসেবে নগর ভবনসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করছেন দুদক কর্মকর্তারা। রোববার তারা গাজীপুর সিটির নগর ভবন, কোনাবাড়ির আঞ্চলিক কার্যালয়, ব্যাংক ও দুটি পোশাক কারখানায় যান এবং নথিপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি ওই সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
দুদকের উপ-পরিচালক আলী আকবরকে প্রধান করে গঠিত এই অনুসন্ধান দলের অপর সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান।
আলী আকবর সাংবাদিকদের বলেন, “এসব অফিস থেকে কিছু নথির ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বাকি ডকুমেন্টস সংশ্লিস্ট অফিসগুলোকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
“আমরা প্রত্যেকটি অভিযোগ অনুসন্ধান করব। অনুসন্ধানে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ মিললে দুদকের নিয়ম ও আইন অনুয়ায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।“
বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীরকে গত বছরের ১৯ নভেম্বর দল থেকে বহিষ্কার করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ওই ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলাও হয়।
দল থেকে বহিষ্কারের এক সপ্তাহের মাথায় ২৫ নভেম্বর জাহাঙ্গীরকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়লে অনুসন্ধানের ঘোষণা দেয় দুদক।
কমিশন বলছে, জাহাঙ্গীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অনিয়মের মাধ্যমে ‘কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ’ করে সিটি করপোরেশনের নামে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ‘লেনদেন করেছেন’ বলে অভিযোগ উঠেছে।
ওইসব ভুয়া অ্যাকাউন্টে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সিটি করপোরেশনের নামে কয়েক কোটি টাকা জমা এবং উত্তোলন করে জাহাঙ্গীর আলম ‘আত্মসাৎ করেছেন’ বলে অভিযোগ করা হয়েছে সেখানে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মো. মজিবুর রহমান কাজল জানান, রোববার দুদক কর্মকর্তারা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আকবর হোসেন, হিসাব রক্ষক গোলাম কিবরিয়া, কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
“তারা আমাদের কাছে কিছু ডকুমেন্টের ফটোকপি চেয়েছেন। ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এসব ডকুমেন্টের কপি জামা দিতে বলেছেন।“
যশোরে সোনা পাচারকারিদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১ জন নিহত, ১০ কেজি স্বর্ণ জব্দ
যশোরের শার্শা উপজেলায় জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কেজি স্বর্ণ জব্দ করেছে। এসময় ডিবি পুলিশের ওপর ককটেল হামলা চালিয়েছে স্বর্ণ পাচারকারীরা।
এসময় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ও হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন এক স্বর্ণ পাচারকারী। তবে তার নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।
পাচারকারীদের ছোড়া ককটেলে তোহিদ ইসলাম ও রনবীর নামে পুলিশের দুই সিপাহি আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শার্শা উপজেলার জামতলা এলাকার মবিল ফ্যাক্টরির সামনে নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- কুমিল্লার সাজাদিয়া গ্রামের আবুল সরকারের ছেলে রবিন (৪৫) ও একই জেলার পাঁচ গাছিয়া গ্রামের কবির হোসেনের ছেলে কাশেম(৩৫)।
পুলিশ জানায়, রাত দেড়টায় নাভারন-সাতক্ষীরা মহাসড়কের জামতলা এলাকার মবিল ফ্যাক্টরির সামনে শার্শা থানা পুলিশ ও যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনার সময় দ্রুতগামী একটি সাদা প্রাইভেটকারের গতিরোধ করা হয়। এসময় প্রাইভেটকারে থাকা দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কুমিল্লা থেকে এসেছেন বলে জানান। এসময় তাদের কথায় সন্দেহ হলে তাদের দেহ ও প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে তাদের কাছে নয় কেজি ৭৫৮ গ্রাম স্বর্ণ পাওয়া যায়। এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় মহাসড়কের দুই দিক থেকে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলে ৬০-৬৫ জন ব্যক্তি এসে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাঁচটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটান। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে রাবার বুলেট ছুড়লে তারা পালিয়ে যান। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ককটেলে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে ঘটনাস্থলের ২০০ গজ দূরে গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেলের নিচে চাপা পড়া এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। এ অবস্থায় আহত ব্যক্তিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যশোরের নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান জানান, আটক ব্যক্তিদের দেহ ও প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে নয় কেজি ৭৫৮ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। এছাড়া পাচারের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং ককটেল হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। মোটরসাইকেলগুলোর সূত্র ধরে দ্রুত সন্ত্রাসীদের আটক করা হবে।
তিনি আরও জানান, আহত দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজার মূল্য সাত কোটি ৫৫ লাখ টাকা। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নামে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
সঞ্চয়পত্র কিনতে মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানা,সংসদে বিল পাস
জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনার সময় মিথ্যা তথ্য দিলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘সরকারি ঋণ বিল-২০২২’ সংসদে পাস হয়েছে। বিলটিতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিজের বা কারো পক্ষে সরকারি সিকিউরিটি বা জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের আওতায় ইস্যু করা সার্টিফিকেটের স্বত্ব অর্জনের জন্য মিথ্যা তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন। পরে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী গত বছরের ১৬ নভেম্বর বিলটি সংসদে তোলেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
জাতীয় সঞ্চয়পত্র কেনার বিদ্যমান আইনে কোনো জরিমানা সুনির্দিষ্ট করা ছিল না। ১৯৪৪ সালের এ সংক্রান্ত আইনটি বাতিল করে নতুন করে প্রণয়নের জন্য বিলটি প্রণয়ন করা হয়। সরকারের ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্যে আইনটি করা হয়েছে। টেকসই ঋণ নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়ন, ঋণ কৌশলপত্র তৈরি, ঋণের ঝুঁকি নিরূপণ এবং সরকারের দায়ের হিসাব আরও প্রসারিত করার লক্ষ্যে নতুন আইনে ৪০টি ধারা রয়েছে।
‘সরকারি ঋণ বিল-২০২১’ এ বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক বা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত মিথ্যা তথ্য সম্পর্কিত সংঘটিত অপরাধ আমলে নিতে পারবে না। কোনো সরকারি সিকিউরিটি বা জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের সার্টিফিকেটের মেয়াদ পূর্তির পর আসল ও মুনাফা দিয়ে দেওয়া হলে এ বিষয়ে সরকারের আর কোনো দায় থাকবে না।
সরকারি সিকিউরিটির ধারক কোনো প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হলে বা অবসান হলে ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিযুক্ত প্রশাসক সিকিউরিটির বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার সরকারি সিকিউরিটি নিয়ম মেনে হস্তান্তর করার পর ওই ব্যক্তিকে সিকিউরিটির আসল বা সুদের বিষয়ে দায়ী করা যাবে না।
সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকার যে ঋণ নেবে তার যথাযথ গ্যারান্টি এই বিলের মাধ্যমে থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। বিলে সরকারি ঋণ অফিসগুলোর ভূমিকা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
শরিয়াভিত্তিক সরকারি সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিধানাবলীর রাখা হয়েছে। স্বাভাবিক ডিপোজিট ব্যবস্থার পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক ডিপোজিট ব্যবস্থা ‘সুকুক’ নামে শুরু করা ‘বন্ড’ এই আইনের অধীনে আনা হয়েছে। এটা আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলার দিয়ে চালু করা হয়েছিল।
সরকার বাজেট ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অর্থায়ন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত বা দেশি-বিদেশি মুদ্রায় গৃহীত সুদ বা মুনাফা যুক্ত বা সুদ বা মুনাফা মুক্ত যে কোনো প্রকারের ঋণ ও বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পারবে। বিলে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ঋণ আইনের মাধ্যমে কত টাকা হলো এবং তার কী অবস্থা বা মুনাফা বা সুদ দেওয়া হলো তা জনগণকে জানানো হবে।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল সংসদে বলেন, যুগোপযোগী একটি ঋণ আইনের অধীনে বাংলাদেশে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য অধিকতর আধুনিক প্রক্রিয়ায় ঋণ সংগ্রহ, টেকসই ঋণনীতি ও ঋণ পরিকল্পনা প্রণয়ন, ঋণ কৌশলপত্র প্রস্তুত, ঋণের ঝুঁকি নিরূপণ, ঋণ বাজেট প্রস্তুতসহ সরকারের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন দায় হিসাবায়নের পথ অধিকতর সম্প্রসারিত হবে।











