প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আওতায় আনার প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য দেশটির কাছে অনুরোধ করছি।’
শুক্রবার (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা-কর্মী ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী খুনিদের আশ্রয় দেয়া সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকারের কথা বলে।
তিনি বলেন, খুনিরা এমনকি চার বছরের শিশু ও নারীসহ শিশুদেরও রেহাই দেয়নি।
শেখ হাসিনা বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক ও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে হত্যা, গুম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির রাজনীতির সূচনা করেছিলেন।
তিনি বলেন, কিছু সংস্থা বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছে এবং দুই ভারতীয়র নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি তালিকা (নিখোঁজের শিকার) দিয়েছে।
কিন্তু, তাদের এখন বিএনপি’র মিছিলে দেখা যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
‘আমাদের দ্বারা নির্মিত ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধার জন্য কিছু লোক প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যা খুশি বলছে,’। তিনি তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের উদ্দেশ হচ্ছে, মিথ্যা অভিযোগ এনে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
তিনি বলেন, কিছু বাংলাদেশি যারা বিভিন্ন অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের স্বজনরা রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের পেছনে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামাত জোটের দ্বারা সংঘটিত অগ্নি সন্ত্রাস ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে বিশ্বকে জানাতে আহবান জানান।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কারণ এর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চলেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই ষড়যন্ত্রের পেছনে ছিলেন। কিন্তু, আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে শেষ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছি।’
তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ায় আঞ্চলিক ও স্থানীয় যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার দেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ ইতিমধ্যে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।
তিনি আবারও জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সব ধরনের শোষণমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার করেন।
প্রধানমন্ত্রী মার্কিন রাজনীতিবিদদের কাছে এই সমস্ত বিষয় উপস্থাপন করতে বলেন, যখন তারা তাদের ভোটের সময় অভিবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ভোট চাইতে আসেন।
তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচিত বিদেশিদের কাছে প্রকৃত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা।
তিনি তাদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, যে কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিবর্তে পাসপোর্ট ব্যবহার করে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। বাসস।
বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে : প্রধানমন্ত্রী
কেয়ারটেকার সরকার ধ্বংস করেছে বিএনপি : চীফ হুইপ
জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেছেন, কেয়ারটেকার সরকার ধ্বংস করেছে বিএনপি। কেয়ারটেকার সরকার বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগ সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিল।
শহিদ ময়েজউদ্দিনের ৩৮তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজ সেবক, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারী জাতীয় বীর শহীদ ময়েজউদ্দিনের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দেওপাড়া শহীদ ময়েজউদ্দিন ফেরীঘাট ঈদগা মাঠে এই স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আবুবকর চৌধূরীর পরিচালনায় স্মরণসভায় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি এমপি, ইকবাল হোসেন সবুজ এমপি, সিমিন হোসেন রিমি এমপি, অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি এমপি, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডল বক্তব্য রাখেন।
নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন আরো বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন পাগল ছাড়া কোন নিরপেক্ষ ব্যক্তি নেই। তাহলে আজকে তারা নতুন কোন পাগল পেয়েছেন কিনা? যাতে করে তারা আবার নতুন কোন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসতে চায়।
তিনি শহিদ ময়েজ উদ্দিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন দলকে নেতৃত্ব দেয়ার মত কোন স্থান ছিলনা, তখন ময়েজউদ্দিন তার নিজ বাসায় বসে দিশেহারা দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। শহীদ ময়েজউদ্দিন ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশ প্রেমিক। তাঁকে হারিয়ে শুধু কালীগঞ্জ বা গাজীপুর নয়, পুরো দেশ হারিয়েছে একজন সত্যিকারের দেশ প্রেমিককে।
মেহের আফরোজ চুমকি এমপি বলেন, সারাবিশ্বে প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বাংলাদেশ তথা দেশের মানুষকে সম্মানিত করেছেন। আমরা গর্বিত পিতার সন্তান হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সুযোগ না দিলে এদেশের মানুষের জন্য কিছুই করতে পারতাম না।
উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সারাদেশে ২২ দলের আহ্বানে হরতাল চলাকালে মিছিলে নেতৃত্বদানকালে শহীদ হন ময়েজউদ্দিন। বাসস।
কবিরাজের কাছে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোররাতে উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন- শহিদুল ইসলাম (৫৫), মালেক হাওলাদার (৫০) ও আলমগীর হাওলাদার (৩৬)। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে ছয়জনের নামে মামলা করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকার নারায়ণগঞ্জ এলাকায় ওই নারীর বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্বামীর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার বাবার বাড়িতে থাকা শুরু করেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওই গৃহবধূ তার স্বামীর ঘরে ফিরতে কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জে শহিদুল নামের এক কবিরাজের কাছে তদবির নিতে যান। পরের দিন সন্ধ্যায় শহিদুলসহ আরও দুজন তাকে কৌশলে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় তাদের সহায়তা করে আরও তিন ব্যক্তি। পরে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। ভয়ে ওই নারী কাউকে কিছু না বলে ঢাকা ফেরত যায়। পরে পরিবারকে বিষয়টি জানানোর পর গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কলাপাড়া থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. জসিম জানান, আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ফাঁসির অপেক্ষায় ২১০২ আসামি
কারাগারের কনডেম সেলে ফাঁসির অপেক্ষায় রয়েছেন ২১০২ আসামি। এদের মধ্যে অনেকের মামলা হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলছে। আবার অনেকের ডেথ রেফারেন্স শেষ হওয়ার পর আপিল করেছেন। যা আপিল বিভাগের বিচারাধীন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে কনডেম সেলে থাকতে হচ্ছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের। ডেথ রেফারেন্সের জটে কনডেম সেলে ফাঁসির আসামির সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি বছরই বাড়ছে ডেথ রেফারেন্স মামলার সংখ্যা। মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে ডেথ রেফারেন্স জট। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং মামলার সংখ্যা ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করতে কারা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। সম্প্রতি সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে কারাগারে থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মামলা জট কমানোর পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ বন্দিদের মুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া জেলখানায় বন্দিদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, কারা অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট ১৮টি নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর মধ্যে ৯টি নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাকি ৯টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রদত্ত আদেশগুলো দ্রুত কার্যকর করতে উদ্যোগ নিতে নির্দেশনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। প্রয়োজনে আলাদা সেল গঠন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সভায় জানানো হয়, গত ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত ২২৬৫টি মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ২১০২ জন। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বন্দিদের উচ্চ আদালতে চলমান ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা এবং এ বিষয়ে সরকারের নিকট সুপারিশ প্রদানের নিমিত্তে গঠিত কমিটির ১২তম সভার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে ২১৫ জন বন্দির অনিষ্পন্ন মামলার মধ্যে জুন পর্যন্ত হাইকোর্ট বিভাগে ২৯টি এবং আপিল বিভাগে ১০টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অ্যাপিলেট ডিভিশনে ২১৫ জন বন্দির অনিষ্পন্ন মামলার মধ্যে কোনো মামলা কতো বছরের পুরনো তার পরিসংখ্যান প্রতি মাসে সুরক্ষা সেবা বিভাগে প্রেরণ করা হচ্ছে।
চলমান মামলাসমূহের মধ্যে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে ২৯টি এবং আপিল বিভাগে ১০টি মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে এ বিভাগ থেকে দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং মামলাসমূহের মধ্যে চলতি বছরে কতোটি আপিল মামলা ছিল এবং কতোটি নিষ্পত্তি করা হয়েছে তা তালিকা করে সুরক্ষা সেবা বিভাগে প্রেরণের জন্য কারা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়। কারাবন্দিদের মধ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কারারক্ষীদের টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। এসময় সংশ্লিষ্টরা জানান, কারাবন্দিদের মধ্যে জঙ্গি সম্পৃক্ততা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম চলমান আছে। কারা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা দপ্তর, মার্কিন দূতাবাস, বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় ১৯৮ জন এবং ডেপুটি জেলার মৌলিক প্রশিক্ষণে আরও ১৩ জনসহ মোট ২১১ জন কারা কর্মকর্তাকে দেশে এবং ৮ জন কারা কর্মকর্তাকে বিদেশে টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কর্মরত ৮৭০৮ জন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীর মধ্যে ৪৪৯৩ জনকে টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে অবশিষ্ট ৪২১৫ জন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীকে টেরোরিজম প্রতিরোধ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কারাগারকে বন্দিশালা নয় সংশোধনাগারে পরিবর্তন করা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, কারাগারে আটক বন্দিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশ ও বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। কারাবন্দিদের সংশোধনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে কারা আইনকে যুগোপযোগী করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। কারাগারসমূহের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ বয়োবৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ কারাবন্দিকে কারামুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা সভায় জানান, জানুয়ারি ২০১৯ এ কারাগারের বন্দি ধারণক্ষমতা ছিল ৪০,৬৬৪ জন। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও কক্সবাজার কারাগারে নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে কারাগারসমূহের বন্দি ধারণক্ষমতা ১,৯৬২ জন বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে ধারণক্ষমতা ৪২,৬২৬ জন।
কারাগারের ধারণক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করার জন্য খুলনা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নরসিংদী ও জামালপুর কারাগার নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ করা হচ্ছে। ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং বর্তমানে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বয়োবৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ ১৪ জন বন্দির মুক্তির লক্ষ্যে যথাযথ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অচল, অক্ষম, দীর্ঘদিন যাবৎ জটিল এবং গুরুতর দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত বন্দিদের মুক্তির লক্ষ্যে সুরক্ষা সেবা বিভাগের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কারা অধিদপ্তর থেকে ১৪ জন বন্দির মুক্তির প্রস্তাব সুরক্ষা সেবা বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। জামালপুর, কুমিল্লা ও নরসিংদী কারাগারের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সৌজন্যে,দৈনিক মানবজমিন
মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির আসামি রাজাকার খলিলুর গ্রেফতার
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি রাজাকার খলিলুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। মঙ্গলবার রাতে সাভার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ২০১৭ সালের ৩০ জানুয়ারি খলিলুর রহমানসহ তার ভাই আজিজুর রহমান, একই এলাকার আশক আলী, জানিরগাঁও ইউনিয়নের শাহনেওয়াজ এবং একই এলাকার রমজান আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অবৈধ আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
পাঁচ আসামির মধ্যে খলিলুর রহমান ছাড়া সবাইকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিচারকাজ চলাকালীন সময় চার আসামি বিভিন্ন সময় মারা যান।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে গ্রফেতারদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চারটিতে মৃত্যুদণ্ড ও একটিতে দশ বছরের সাজা ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে র্যাব দণ্ডিত পলাতক আসামি খলিলুর রহমানকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। মঙ্গলবার রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১৪ সাভার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে খলিলুর রহমান র্যাবকে জানান, মামলার তদন্ত কাজ শুরু হলে ২০১৫ সাল থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ২০১৭ সালে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে গৃহীত হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। রাজধানীর দক্ষিণখান, তুরাগ ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন।
আত্মগোপনে থাকাকালীন গ্রেফতার এড়াতে তিনি নিয়মিত বাসা পরিবর্তন ও একা অবস্থান করতেন। যোগাযোগের জন্য মোবাইলফোনও ব্যবহার করতেন না। পরিবারের সদস্যরা গোপনে তার সঙ্গে দেখা করতেন। ছেলে-মেয়েরা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তার প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য তারা নিয়মিত অর্থ প্রদান করতেন।
গ্রেফতার খলিল ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্য ছিলেন। যুদ্ধের সময় তিনি রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। পরে চণ্ডীগড় ইউনিয়নের আল বদর বাহিনীর কমান্ডার হন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা থানা এলাকায় অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষণ, হত্যা ও গণহত্যায় জড়িত ছিলেন খলিল। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে ২২ জনকে হত্যা, একজনকে ধর্ষণ, একজনকে ধর্ষণের চেষ্টা, অপহৃত ৪ জনের মধ্যে দুজনকে ক্যাম্পে নির্যাতন, ১৪-১৫টি বাড়িতে লুটপাট ও ৭টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে।
দুদকের সাবেক এক ডিজির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ; অনৈতিক পন্থায় দায়মুক্তি দিয়ে গেছেন অনেক দুর্নীতিবাজের
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে বিদায় নেয়া সাবেক এক মহাপরিচালক(ডিজি)র বিরুদ্ধে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করে বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজকে দায়মুক্তি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ খোদ দুদকই অনুসন্ধানে নামতে চায়। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডারের উর্ধতন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদৌ অনুসন্ধান করা সম্ভব হবে কী না এ নিয়ে সন্দিহান দুদক কর্মকর্তারা। কারণ দুদকের সাবেক এই কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হয়ে দুদক থেকে সরে গেছেন। দুদকের সংশ্লিষ্টরা জানান, দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ )হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা যুগ্ম সচিব সাঈদ মাহবুব খান । এই পদটি দুদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, যাচাই বাছাই থেকে শুরু করে অভিযান পরিচালনার যতো দায়িত্ব রয়েছে এই টিমের।
অভিযোগ রয়েছে মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান ‘পিক এন্ড চুজ” এর ভিত্তিতে যাচাই বাছাই এবং অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশনা দিতেন। কোনো অভিযোগ সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধানের পর, এমন কিছু প্রভাবশালীকে তিনি দায়মুক্তি দেয়ার সুপারিশ করেছেন যার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এমন বেশকিছু তথ্য এসেছে গণমাধ্যমের হাতে।
দুদক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)র তৎকালীন কমিশনার মো. রেজাউল কাদেরকে দায়মুক্তি দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল। দুদকের উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল হক অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন। এই অনুসন্ধানটি হয় দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান-তদন্তের দায়িত্বে থাকা মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খানের নির্দেশে। কিন্তু অনুসন্ধান শেষে তাকে দায়মুক্তির সুপারিশ করা হয়। অথচ রেজাউল কাদেরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দষ্ট অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানকারি কর্মকর্তা এর সত্যতাও পেয়েছেন। কিন্তু সাঈদ মাহবুবের স্বাক্ষর চলতি বছর ১১ মে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০/৭৮/০০১.২২.৪০) দেয়া হয় মো. রেজাউল কাদেরকে। অভিযোগ,দুদকের বিদ্যমান গাইডলাইন বা ম্যানুয়াল অনুসরণ না করেই নথি পরিসমাপ্ত করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের জয়েন্ট কমিশনার (লজিস্টিক ও প্রকিউরমেন্ট) ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ছিল কেনাকাটায় অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়ার অভিযোগ। পুলিশের রেশন সামগ্রি কেনা-কাটা, অন্যান্য সামগ্রী ও গাড়ির যন্ত্রাংশ ক্রয়ের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন ইমাম হোসেন। তার বিরুদ্ধে মামলা রুজুর অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও দুদকের তৎকালীন মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান তাকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৪১.২২.৪১) দেন। গুরুতর এই দুর্নীতির অভিযোগ থেকে প্রভাবশালী এই পুলিশ কর্মকর্তাকে তিনি দায়মুক্তি দেন চলতি বছর ১২ মে। এ সময় তিনি সচিবের ‘রুটিন দায়িত্ব’ পালন করছিলেন।এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিউট (বিএসটিআই)র তৎকালীন পরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে রয়েছে নিয়োগ বাণিজ্য, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ। দুদক থেকে বদলি হয়ে যাওয়া তৎকালীন মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশনায় বিএসটিআই’এ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানকালে দুদক টিম নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ পায়। বিএসটিআইর অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষার টেবুলেশন শিট জালিয়াতির মাধ্যমে নম্বর পরিবর্তন করে ৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। টেবুলেশন শিটে নিয়োগ কমিটির সদস্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী থাকা সত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ৭৭টি শূন্যপদের বিপরীতে ৬৮জনকেই নিয়োগ দেয়া হয় অর্থের বিনিময়ে। দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ফরিদপুর অফিসের অফিস সহায়ক মো. রূহুল আমিন পরিচালক (প্রশাসন) খলিলুর রহমানের শ্যালিকার ছেলে। ফরিদপুর ডাটা এন্ট্রি ও কন্ট্রোল অপারেটর সফিকুল ইসলাম খলিলুর রহমানের ভাতিজা। ঢাকায় কর্মরত খালাসি মো. সালাউদ্দিন খলিলুর রহমানের চাচাতো শ্যালক। ফরিদুপরের ডাটা এন্ট্রি ও কন্ট্রোল অপারেটর মহিউদ্দিন পরিচালকের ভাতিজি জামাই। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানটিতে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও ইকবাল মাহমুদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়মুক্তি দেয়া চেষ্টা করেন। তবে তার চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নির্দশেনা দিয়ে যান সাঈদ মাহবুব খানকে। ফলে তিনি দায়মুক্তি দেন এ অভিযোগের। দুদকের সহকারী পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা ও উপ-সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযোগটি অনুসন্ধান করছিল। পরে উপ-পরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী সাঈদ মাহবুবের নির্দেশনায় পরিসমাপ্তির সুপারিশ প্রদানে বাধ্য হন। গত ২৫ এপ্রিল দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেনের স্বাক্ষরে মো. খলিলুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৭.২২.৩৭) দেয়া হয়।
জিওবি’র অর্থে উন্মুক্ত জলাশয়ে আহরণযোগ্য মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠির আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ এবং নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল মৎস্য অধিদফতরের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। দুদদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন। তাকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৬৭১.৩১.০২৫.২২.৩৭) দেয়া হয় গত ৮ মার্চ।
পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)র তৎকালীন ব্যবস্থপনা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৪.২২.৩৪) দেয়া হয় গত ১৯ এপ্রিল। তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, নামে বেনামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। উপ-পরিচালক (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পরিচালক) মো. মোশাররফ হোসেইন মৃধা অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)র প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। এছাড়া সিডিএ’র ঢাকা ট্রাঙ্ক রোডের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে পছন্দসই ঠিকাদার নিয়োগ প্রদান করেন তিনি। অভিযোগ ছিল, লালখান বাজার থেকে শাহ আমনত বিমান বন্দর পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে শর্ত পরিবর্তন করে ৬টি ঠিকাদারের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কার্যাদেশ ২০ কোটি টাকার লেনদেন করে ভাগভাটোয়ারা করে দেয়ার অভিযোগ ছিল। সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করেন উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ। এটিতেও মামলার পরিবর্তে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ‘পরিসমাপ্তি’র সুপারিশ করা হয়। আর এই পরিসমাপ্তির জন্য লেনদেন হয় বিপুল পরিমান অর্থের।
গত ১৮ মে দুদক সচিবের ‘রুটিন দায়িত্বে’ থেকে সাঈদ মাহবুব খান প্রভাবশালী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৪৪.২২.৪৪) দেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারি সচিব) আসিফ ইমতিয়াজকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৬৭১.৩১.৩০২.২১.৩১৮) দেয়া হয় গত ১৩ মার্চ। প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ লেনদেন, সরকারি অর্থ নিজের একাউন্টে রাখা এবং ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ প্রকৃত ভূমি মালিককে না দিয়ে ভুয়া দাবিদারদের প্রদান এবং বিপুল অবৈধ অর্থ অর্জনের অভিযোগ ছিলো। দুর্নীতির পর্যাপ্ত প্রমাণাদি সত্ত্বেও দায়মুক্তি দেয়া হয় আসিফ ইমতিয়াজকে।
বাংলাদেশ জুট করর্পোরেশনের (বিজেসি)র তৎকালীন চেয়ারম্যান, অতিরিক্ত সচিব মো. শামীম ইকবালসহ তিন জনকে দায়মুক্তি (স্মারক নং-০০.০১.০০০০.৫০০.৫০.০৩৫.২২.৩৫) দেয়া হয় গত ২০ এপ্রিল। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিলো। দায়মুক্তি পাওয়া বিজেসি’র অপর দুই কর্মকর্তা হলেন, পারচেজ অফিসার খায়রুল আলম ও পারচেজ অফিসার মো. হাবিবুর রহমান। হাবিবুর রহমান মারা যাওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। অভিযোগটি অনুসন্ধান করেন দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এমন আরও অভিযোগ ওঠেছে সাঈদ মাহবুব খানের বিরুদ্ধে। যিনি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে দুদক ছেড়ে চলে গেছেন।
জানা যায়, ইকবাল মাহমুদ দুদকের চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি তার পছন্দের প্রশাসন ক্যাডারের কয়েকজনকে দুদকে নিয়ে আসেন। তাদের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয় একটি বলয়। এই বলয়ের একজন সাঈদ মাহবুব খান। কথিত আছে, সাঈদ মাহবুব খান, দায়িত্ব পালনকালে মামলা দায়ের আর চার্জশিটের সুপারিশের চেয়ে দায়মুক্তির সুপারিশ করেছেন বেশী। অনেক নিরীহ ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, ভূমি অফিসের কানুনগো, ক্লার্ক, ড্রাইভার,এমএলএসের দুর্নীতি অনুসন্ধান-তদন্ত করতে আগ্রহ দেখাতেন বেশী। নিচুস্তরের কর্মচারীদের গ্রেফতার, জিজ্ঞাসাবাদ মামলা করে বাহবা নিতেন। দুদকের হটলাইনে আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দফতরে ‘অভিযান‘ পরিচালনার মাধ্যমে মিডিয়ায় খবর হতেন। কিন্তু দুর্নীতিবাজ রাঘব বোয়ালদের দায়মুক্তি দিতেন নিঃশব্দে। অনেককে ডেকেও আনাতেন। দুদকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা মনে করেন, বাইরে থেকে ডেপুটেশনে বিশেষ ক্যাডারের কর্মকর্তারা দুদকে কিছুদিনের জন্য এসে এটাকে বাণিজ্যিক কার্যালয় বানিয়ে ফেলেন। তারা বড় পদে পদায়ন হন এবং তাদের অনৈতিক নির্দেশ অধস্তনদের মানতে বাধ্য করা হয়। নির্দেশনা না মানলে কি পরিণতি হয় তার নজির তুলে ধরে চাকরিচ্যুত উপ- সহকারী পরিচালক শরিফ উদ্দিনের বিষয়টি মনে করিয়ে দেন। ডেপুটেশনে আসা কর্মকর্তারা তাদের মিশন শেষে আবার ফিরে যান ফুলফেঁপে। আর দুদকে রেখে যান কালিমা।
সাবেক এসপি বাবুল আক্তারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
স্ত্রী মাহমুদা খানম হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার(১২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. কামরুল হাসান। তিনি বলেন, আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেন এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক আবু জাফর মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
বুধবার জমা দেয়া এই অভিযোগপত্র দেখবেন আদালত। তা ছাড়া আগামী ১০ অক্টোবর মামলাটির শুনানির তারিখ ধার্য রয়েছে।
এই অভিযোগপত্রে বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। অন্য ৬ আসামিরা হলেন- মো. কামরুল ইসলাম শিকদার মুসা, এহতেশামুল হক ওরফে হানিফুল হক ওরফে ভোলা, মোতালেব মিয়া ওয়াসিম, আনোয়ার হোসেন, মো. খাইরুল ইসলাম কালু এবং শাহজাহান মিয়া।
আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জুন জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় ওই বছরের ৬ জুন জঙ্গিরা জড়িত দাবি করে স্বামী বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। পাঁচলাইশ থানা পুলিশের পর নগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। তারা প্রায় তিন বছর তদন্ত করেও অভিযোগপত্র দিতে ব্যর্থ হয়। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালতের নির্দেশে মামলা তদন্তের ভার পায় পিবিআই। ২০১৬ সালের ২৪ জুন বাবুল আক্তারকে ঢাকার ডিবি পুলিশ কার্যালয়ে এনে প্রায় ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আবু নসুর গুন্নু, শাহ জামান ওরফে রবিন, সাইদুল আলম শিকদার ওরফে সাক্কু, শাহজাহান, মো. আনোয়ার ও মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিমকে আটক করেছিল পুলিশ। হত্যায় অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আটক হন এহতেশামুল হক ভোলা ও তার সহযোগী মো. মনির। তাদের কাছ থেকে পয়েন্ট ৩২ বোরের একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়, যেটি মিতু হত্যায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছিল। গ্রেপ্তার আনোয়ার ও মোতালেব মিতু হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। তাদের স্বীকারোক্তিতে মিতু হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে নাম আসে বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে পরিচিত মো. মুছার।
আরও জানা গেছে, ২০২১ সালের ১১ মে বাবুলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। তদন্তে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জন্য ২০২১ সালের ১২ মে ওই মামলার ৫৭৫ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হয়। এই হত্যায় বাবুল জড়িত বলে সন্দেহ তৈরি হলে একইদিন মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন নগরীর পাঁচলাইশ থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন। এতে বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় ২০২১ সালের ১২ মে বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাবুলের করা মামলায় পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন তার আইনজীবী। আদালত ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে পিবিআইকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে নিজের করা মামলায়ও ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। গত ৬ মার্চ মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দেয়া হয়।
দুদকের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা শহীদ খানের আরও তিন বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকের মামলায় বরখাস্তকৃত সেনাকর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. শহিদ উদ্দিন খানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামির ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দণ্ডিত আসামি পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটর রফিকুল হক বেনু জানান মামলাটিতে আদালত গত ৮ আগস্ট চার্জগঠনের পর গত ২৩ আগস্ট এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২ কার্যদিবসে ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর মঙ্গলবার যুক্তিতর্কের পর রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপর একই বছর ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির মামলায় শহীদ উদ্দিন খানের নয় বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. শহিদ উদ্দিন খান ১৯৮৩ সালে সেনাবাহিনীতে অষ্টম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১০ সালে কর্নেল পদ থেকে অবসর নেন। তিনি ১৯৮৯ সালে মোসাম্মৎ ফারজানা আঞ্জুমকে বিয়ে করেন। তার শেহতাজ মানসী খান ও ফারিসা পিনহাজ খান নামে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, শহিদ উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। রাজধানীর বারিধারা তার পরিবারের সদস্যদের নামে একটি ফ্ল্যাট এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দুটি বাড়ি আছে, যার মূল্য কম-বেশি মোট ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তাছাড়া তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে ১২টি একাউন্ট রয়েছে। স্ত্রী-কন্যার নামে ঢাকাস্থ প্রচ্ছায়া লি. নামীয় ব্যবসায়েক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শেয়ার ১০০/-হিসাবে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লক্ষ শেয়ার এবং কুমিল্লায় কোটি টাকা মূল্যের বন্দীশাহী কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। লন্ডনেও তাদের নামে জুমানা ইনভেস্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সাইপ্রাসেও ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে।
শহীদের সহোদর ভাই মোহাম্মাদ আলী খানের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ব্যাংকে ৩০ লাখ ৩৯ হাজার দিরহাম জমা ছিল, যা জুমানা ইনভেষ্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লি. নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরিত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, শহিদ উদ্দিন খানের নিজ নামে বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে কম-বেশি ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করাসহ বিদেশে তাদের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অস্বাভাবিক। অর্থাৎ তার/পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। এ কারণে তাকে ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু আসামি সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ মামলাটি করেন। মামলায় একই কর্মকর্তা তদন্ত করে গত বছর ১৪ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন।
উল্লেখ্য এর আগে ২০২১ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদ উদ্দিন খান ও তার স্ত্রী ফারজানা আনজুমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিলো ঢাকার আরেক আদালত।
ওই মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ উদ্দিন খানের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ছয়টি গুলি, দুইটি শটগান ও তিন লাখ সমমানের জাল টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ১৭ই জানুয়ারি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট শহীদ উদ্দিন খানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নগদ ও জাল টাকা উদ্ধার করায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এছাড়া, অস্ত্র আইনেও একটি মামলা করা হয়।
অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
অস্ত্র আইনের একটি মামলায় এর আগে ২০২০ সালের ১০ই নভেম্বর শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো আজ।
এছাড়া, ২০২০ সালের ২০শে ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির একটি মামলায় শহীদ উদ্দিন খানকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত।
আয়কর ফাঁকির মামলায় নথি থেকে জানান যায়,তিন অর্থবছরে ১৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ১০৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে মামলা করেন সহকারী কর কমিশনার শেখ আলী হাসান।
মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, শহীদ উদ্দিন খান ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকার আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকির অপরাধ করেছেন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৭ লাখ ১৪ হাজার ২২১ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়।
তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। মামলার আরজিতে তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে শহীদ উদ্দিন খানের ১ কোটি ৩০ লাখ ১৫ হাজার ১৩২ টাকা জমা ছিল।
আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে ৭৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৮ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১২টি হিসাবে ২৯ কোটি ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৪ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নয়টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ টাকা জমা ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ৪০ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৫ টাকা।
উল্লেখ্য দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত শহীদ উদ্দিন খান পালিয়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
দুদকের মামলায় বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা শহীদ খানের আরও তিন বছরের কারাদণ্ড
দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকের আরও একটি মামলায় বরখাস্তকৃত সেনাকর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কর্নেল মো. শহিদ উদ্দিন খানের তিন বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামির ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
দণ্ডিত আসামি পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী প্রসিকিউটর রফিকুল হক বেনু জানান মামলাটিতে আদালত গত ৮ আগস্ট চার্জগঠনের পর গত ২৩ আগস্ট এবং ৭ সেপ্টেম্বর ২ কার্যদিবসে ৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এরপর মঙ্গলবার যুক্তিতর্কের পর রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। এরপর একই বছর ২০ ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির মামলায় শহীদ উদ্দিন খানের নয় বছরের কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মো. শহিদ উদ্দিন খান ১৯৮৩ সালে সেনাবাহিনীতে অষ্টম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০১০ সালে কর্নেল পদ থেকে অবসর নেন। তিনি ১৯৮৯ সালে মোসাম্মৎ ফারজানা আঞ্জুমকে বিয়ে করেন। তার শেহতাজ মানসী খান ও ফারিসা পিনহাজ খান নামে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, শহিদ উদ্দিন স্ত্রী-সন্তানসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। রাজধানীর বারিধারা তার পরিবারের সদস্যদের নামে একটি ফ্ল্যাট এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে দুটি বাড়ি আছে, যার মূল্য কম-বেশি মোট ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তাছাড়া তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংকে ১২টি একাউন্ট রয়েছে। স্ত্রী-কন্যার নামে ঢাকাস্থ প্রচ্ছায়া লি. নামীয় ব্যবসায়েক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শেয়ার ১০০/-হিসাবে ৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫ লক্ষ শেয়ার এবং কুমিল্লায় কোটি টাকা মূল্যের বন্দীশাহী কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে। লন্ডনেও তাদের নামে জুমানা ইনভেস্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সাইপ্রাসেও ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে।
শহীদের সহোদর ভাই মোহাম্মাদ আলী খানের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ব্যাংকে ৩০ লাখ ৩৯ হাজার দিরহাম জমা ছিল, যা জুমানা ইনভেষ্টমেন্টস অ্যান্ড প্রোপার্টিজ লি. নামে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরিত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, শহিদ উদ্দিন খানের নিজ নামে বা তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশে-বিদেশে কম-বেশি ৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করাসহ বিদেশে তাদের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অস্বাভাবিক। অর্থাৎ তার/পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হয়। এ কারণে তাকে ২০২০ সালের ১৬ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ ইস্যু করা হয়। কিন্তু আসামি সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি দুদকের উপপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ মামলাটি করেন। মামলায় একই কর্মকর্তা তদন্ত করে গত বছর ১৪ নভেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন।
উল্লেখ্য এর আগে ২০২১ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেক মামলায় বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শহীদ উদ্দিন খান ও তার স্ত্রী ফারজানা আনজুমকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস কারাদণ্ডের রায় দিয়েছিলো ঢাকার আরেক আদালত।
ওই মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ উদ্দিন খানের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুইটি পিস্তল, ছয়টি গুলি, দুইটি শটগান ও তিন লাখ সমমানের জাল টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ১৭ই জানুয়ারি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট শহীদ উদ্দিন খানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নগদ ও জাল টাকা উদ্ধার করায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেন। এছাড়া, অস্ত্র আইনেও একটি মামলা করা হয়।
অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
অস্ত্র আইনের একটি মামলায় এর আগে ২০২০ সালের ১০ই নভেম্বর শহীদ উদ্দিন খান, তার স্ত্রী ফারজানা আনজুম খানসহ মোট চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো আজ।
এছাড়া, ২০২০ সালের ২০শে ডিসেম্বর আয়কর ফাঁকির একটি মামলায় শহীদ উদ্দিন খানকে নয় বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার একটি আদালত।
আয়কর ফাঁকির মামলায় নথি থেকে জানান যায়,তিন অর্থবছরে ১৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ১০৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার আদালতে মামলা করেন সহকারী কর কমিশনার শেখ আলী হাসান।
মামলার কাগজপত্রের তথ্য বলছে, শহীদ উদ্দিন খান ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৬ টাকার আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকির অপরাধ করেছেন। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ২৫ লাখ ১২ হাজার ৬০০ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করে আয়কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শহীদ উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৭ লাখ ১৪ হাজার ২২১ টাকা আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়।
তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তিনি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি। মামলার আরজিতে তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে শহীদ উদ্দিন খানের ১ কোটি ৩০ লাখ ১৫ হাজার ১৩২ টাকা জমা ছিল।
আর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে ৭৬ লাখ ২৪ হাজার ৪৬৮ টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ১২টি হিসাবে ২৯ কোটি ৮৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৪ টাকা এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নয়টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ২৪ লাখ ৬২ হাজার ৬৯৫ টাকা জমা ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আটটি ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ৪০ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৫ টাকা।
উল্লেখ্য দুর্নীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত শহীদ উদ্দিন খান পালিয়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ সর্বদা সহায়তা করবে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বশান্তি বজায় রাখায় তাঁর দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ সর্বদা বিশ্ব শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা যে বাংলাদেশ সর্বদা বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। জাতিসংঘের অধীনে বিশ্ব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের সেনাবাহিনী প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা এটি বজায় রাখতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর র্যাডিসন বøু হোটেলে ৪৬তম ইন্দো-প্যাসিফিক আর্মিজ ম্যানেজমেন্ট সেমিনার (আইপিএএমএস)-২০২২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছে। ২৭টি দেশ এতে অংশগ্রহণ করে।
শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি সহায়তা কার্যক্রমে মহান অবদানের জন্য বাংলাদেশ আজ বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ মিশনে এবং বিশ্বের যে কোনো স্থানে দেশ ও বিশ্ব শান্তির জন্য সর্বদা প্রস্তুত।’
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা গতিশীলতা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং দিন দিন জটিল হচ্ছে।
‘যেকোনো সংঘাত বা সংকট বিশ্বের প্রতিটি জাতিকে প্রভাবিত করে,’ তিনি বলেন, ’এটি রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল উন্নয়নকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্তকরে।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহুপাক্ষিকতাবাদে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণে তিনি (বঙ্গবন্ধু) আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সারমর্ম উচ্চারণ করেছিলেন: ‘সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বৈরিতা নয়’।
তিনি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বিশ্বনেতাদের সৎ ও শান্তিপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান।
‘আমরা সর্বদা আমাদের বৈদেশিক নীতি থেকে শক্তি নিয়ে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছি,’ উল্লেখ তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের একটি জাতি হিসাবে বেড়ে উঠতে দিয়েছে এবং ধীরে ধীরে আমাদের সম্প্রদায়ে আমাদের সঠিক অবস্থান দাবি করার ক্ষমতা দিয়েছে।’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রধান নীতিগত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটি দেশগুলোকে টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী সহযোগিতার দিকে নিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি যোগাযোগ, সংলাপ এবং শীর্ষ সম্মেলনের মত বেসামরিক এবং সামরিক কূটনৈতিক চ্যানেলের পথও প্রশস্ত করেছে।’
তিনি বলেন, তিনি দেখতে পাচ্ছেন যে আইপিএএমএস একটি অনুরূপ বহুজাতিক প্লাটফর্ম ‘বন্ধুত্ব এবং উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে যাতে এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করে’।
ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বন্ধুত্ব, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইপিএএমএস সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তা পর্যবেক্ষণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি মনে করি, এই ফোরামের মাধ্যমে মিথস্ক্রিয়া বাস্তবসম্মত বহু-পার্শ্বিক পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য অভিন্ন স্বার্থের বিষয়ে আলোচনা করতে সক্ষম হবে।’
তিনি বাংলাদেশে এই সেমিনারে যোগদানের জন্য অংশগ্রহণকারী দেশকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্বাস করেন যে এই ধরনের ফোরামের মাধ্যমে সিনিয়র সামরিক নেতাদের অবশ্যই কথা বলতে হবে, যোগাযোগ করতে হবে এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো দেশের সেনাবাহিনী সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার অন্যতম উপাদান। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি করেছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫১তম বছরে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ এবং গত ৫০ বছরে, দেশটির আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি এখন আমাদের সাফল্যের জন্য একটি উন্নয়ন বিস্ময় হিসাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কর্তৃক স্বীকৃত, বিশেষ করে দারিদ্র্য হ্রাস, খাদ্য স্বনির্ভরতা ও সুরক্ষা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেন্ডার সমতা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস ইত্যাদি ক্ষেত্রে।
তিনি অব্যাহত রাখেন যে ‘আমাদের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, কারণ, আমরা শান্তির সুবিধাগুলোতে বিশ্বাস করি এবং আমরা আমাদের জনগণের শক্তির দিকে মনোনিবেশ করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, বাংলাদেশ ১১ লাখের ও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের নিজেদের দুর্দশা ছাড়াও, তিনি বলেন, ‘জোর পূর্বেক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের দীর্ঘায়িত উপস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।’ বাসস।










