ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 29

আইজিপি: বেনজীরের মেয়াদবৃদ্ধি না নতুন মুখ?

0

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদের চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। পরবর্তী পুলিশ প্রধান কে হবেন এ নিয়ে ইতিমধ্যেই চলছে নানা জল্পনা। বর্তমান আইজিপি বেনজির আহমেদের চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে তাকেই রাখা হচ্ছে ? না কি নতুন মুখ আসছেন? বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। আইন আদালতের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুলিশ প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার সর্বোচ্চ বিবেচনায় থাকবে আগামী জাতীয় নির্বাচন। কারণ, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা থাকবে অগ্রগণ্য।
এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় নানা সংকটে পরীক্ষিত বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি রয়েছে সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। পুলিশ প্রধান হিসেবে বাহিনীতে নানামুখী যুগান্তকারী পদক্ষেপের কারণে সমাদৃত বর্তমান আইজিপিকেই আরেকটি বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারে সরকার।

এছাড়া আরও কয়েকজন কর্মকর্তাও রয়েছেন আইজিপি হওয়ার দৌড়ে। যাদের নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে চলছে আলোচনা। বেনজীর আহমেদকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া না হলে ৩১তম পুলিশ প্রধান হিসেবে দেখা যাবে নতুন মুখ।

সূত্র জানায়, পুলিশ প্রধানের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অনেক সিনিয়র অফিসারের বিষয়গুলোই আলোচনায় আসে। এর মধ্যে পুলিশ হিসেবে কর্মজীবনের সফলতা, গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা বিবেচনায় পদটিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
যাদের নিয়ে আলোচনা
ড. বেনজীর আহমেদ
বর্তমান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা চার্লস স্ট্রার্ট ইউনিভার্সিটি ও সিঙ্গাপুরে বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পড়াশোনা করেন ড. বেনজীর আহমেদ। ২০১৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার বেনজীর আহমেদকে দেশের ৩০তম পুলিশপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়। এরপর থেকে তার নানা পদক্ষেপের কারণে ‘জনমুখী পুলিশি সেবা’ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। থানা থেকে বের করে পুলিশকে মানুষের দোরগোড়ায় নিতে একের পর এক সাহসী ও সময়োপযোগী নির্দেশনাও দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
আইজিপি হিসেবে যোগদানের পর ড. বেনজীর আহমেদের হাত ধরে এসআই-কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ পুলিশে বেশকিছু সংস্কার এসেছে। যোগ হয়েছে নতুন নতুন বিষয়, আধুনিক হয়ে উঠেছে পুলিশ বাহিনী। পুলিশকে জনবান্ধব করতে তার রয়েছে নানা উদ্যোগ। সহজে পুলিশি সেবা পাওয়ায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বেড়েছে।
যে কোনো সংকটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জঙ্গি ও মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত অভিযানসহ তার নানামুখী পদক্ষেপ পেয়েছে প্রশংসা। করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে সামনে থেকে মানুষকে সেবা দিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পুলিশ।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদকে র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি দায়িত্ব বুঝে নিয়ে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে ভূমিকা পালন করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান তিনি। হলি আর্টিসান হামলায় প্রাথমিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানও বেগবান রেখেছেন তিনি। সুন্দরবনের জলদস্যুতার অবসান ঘটিয়ে একটি স্বস্তির উপকূলীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছেন ড. বেনজীর আহমেদ।
র‌্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেনজীর আহমেদ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে সপ্তম বিসিএস-এ সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করা ওই কর্মকর্তা কিশোরগঞ্জ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন ঢাকা উত্তর, পুলিশ একাডেমি, পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন
বাংলাদেশ পুলিশের ৩১তম আইজিপি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। অষ্টম বিসিএস ব্যাচের ওই কর্মকর্তার আগামী ১১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বাহিনী ও সরকারের কাছে তার সুনাম থাকা এই কর্মকর্তাকে আইজিপি হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে সরকার। বাংলাদেশ পুলিশে অসামান্য অবদান ও অনন্য সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) পদকে ভূষিত হয়েছেন। গত বছরের ১৮ অক্টোবর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার শ্রীহাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে ঢাকা রেঞ্জে ও ডিআইজি হিসেবে ডিআইজি (অপারেশনস্), ডিআইজি (প্রশাসন), রেঞ্জ ডিআইজি হিসেবে ময়মনসিংহ ও ঢাকা রেঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে তিনি অতিরিক্ত আইজিপির (এইচআরএম) দায়িত্ব পান। র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের আগে তিনি সিআইডি প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এস এম রুহুল আমিন

পরবর্তী আইপিজি হিসেবে আলোচনায় আছেন ১২তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) এস এম রুহুল আমিন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর থানায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে স্নাতকসহ (সম্মান) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
এস এম রুহুল আমিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার, সিলেট জেলার পুলিশ সুপার, ঢাকায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার হিসেবে যোগদান করে বরিশালে পুলিশি সেবার নবদিগন্তের সূচনা করেন।

তথ্য জানতে সুইস ব্যাংকে ৩ বার চিঠি দেয় বিএফআইইউ: রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য রাষ্ট্রকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে: হাইকোর্ট

0

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তিদের অর্থ রাখার বিষয়ে তথ্য চেয়ে তিনবার চিঠি দেয়া হয়েছিল। এটা জানার পরও বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অত্যন্ত দূ:খজনক। তার এই বক্তব্য প্রত্যাহার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য রাষ্ট্রকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রতিবেদনের ওপর শুনানিকালে রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান।
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তিদের অর্থ রাখার বিষয়ে তথ্য জানাতে মোট তিন বার চিঠি দেয়া হয়েছিল বলে হাইকোর্টকে জানায় বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
সে প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত কীভাবে বললেন, বাংলাদেশিদের অর্থ জমার বিষয়ে কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি- তা আমাদের বোধগম্য নয়। সুইস রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য রাষ্ট্রকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। আপনারা (রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবী) যে তথ্য উপস্থাপন করেছেন তাতে প্রমাণিত রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সাংঘর্ষিক।’
গত ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার্ড বলেছিলেন, ‘সুইস ব্যাংকে জমা রাখা অর্থের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য তথ্য চায়নি। সুইস ব্যাংকের ত্রæটি সংশোধনে সুইজারল্যান্ড কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তবে আমি আপনাদের জানাতে চাই, সুইজারল্যান্ডে কালো টাকা রাখার কোনো নিরাপদ ক্ষেত্র নয়।’
পরে গত ১১ আগস্ট বিষয়টি নজরে নিয়ে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমাকারীদের তথ্য কেন জানতে চাওয়া হয়নি তা রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানাতে বলেন হাইকোর্ট।
এদিকে, গত ১২ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সুইস রাষ্ট্রদূত মিথ্যা বলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ফিন্যান্স সেক্রেটারি আমাকে আগে জানিয়েছিলেন, তারা তথ্য চেয়েছিলেন, তারা (সুইস ব্যাংক) উত্তর দেননি।’

সুইস ব্যাংকের কাছে কেন তথ্য চায়নি সরকার, ব্যাখ্যা জানতে চায় হাই কোর্ট

0

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা করা বাংলাদেশিদের তথ্য কেন সরকার জানতে চায়নি, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে হাই কোর্ট।
এ বিষয়ে ঢাকায় সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি শুয়ার বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নজরে এলে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেয়।
আদালতে এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক, দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে আগামী রোববারের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে আদালত।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টকে’ সাংবাদিকদের প্রশ্নে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করা বাংলাদেশিদের বিষয়ে কোনো তথ্য সরকার তাদের কাছে চায়নি।
“এসব বিষয়ে (তথ্য পাওয়ার বিষয়ে) কীভাবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে সরকারকে সব ধরনের তথ্য আমরা দিয়েছি। কিন্তু আলাদাভাবে অর্থ জমা করার বিষয়ে কোনো অনুরোধ আসেনি।”
অর্থ পাচারের তথ্য চেয়ে সরকার কোনো অনুরোধ করেনি?- এমন প্রশ্নে রাষ্ট্রদূত বলেন, এরকম ‘সুনির্দিষ্ট’ কোনো অনুরোধ তারা পাননি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে সুইজারল্যান্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এ ধরনের তথ্য কোনো রাষ্ট্রের সাথে বিনিময়ের জন্য আমাদের কিছু নিয়ম এবং চুক্তি আছে।
”সুতরাং আমাদের (বাংলাদেশকে) এরকম কোনো প্রক্রিয়া বের করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা সরকারের সাথে কাজ করতে পারি।”
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল শেষে সেখানকার ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় ওই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
বিশ্বজুড়ে ধনী ব্যক্তিদের টাকা সুইস ব্যাংকে রাখার আগ্রহের পেছনে মূল কারণ দেশটির গোপনীয়তার নীতি। সুইজারল্যান্ডের আইনে ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। টাকার উৎসও তারা জানতে চায় না।
তবে কোন দেশের গ্রাহকদের কী পরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা আছে, তার একটি ধারণা প্রতিবছর সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের বাধ্যবাধকতা মেনে এসএনবি ওই তথ্য প্রকাশ করে। তবে সেখানে গ্রাহকের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাষ্য হল, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের যে টাকা জমা রয়েছে, তার বেশিরভাগটাই অবৈধভাবে অর্জিত এবং বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশের কতজনের কত টাকা আছে তার তালিকা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক আদেশে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল হাই কোর্ট। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে তাও জানতে চায় আদালত।
মন্ত্রীরা বরাবরই বলে এসেছেন, অর্থপাচারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি বলেছেন, দেশে রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতির পেছনে ‘এলসির আড়ালে টাকা পাচার’ একটি কারণ হতে পারে বলে তার সন্দেহ। বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম।

২১ আগস্টের গ্রনেড হামলায় যেভাবে ফাঁসানো হয় জজ মিয়াকে : ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ

0

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় বিনা অপরাধে চার বছর কারাভোগ করা মো. জালাল ওরফে জজ মিয়া তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে উল্লেখ করে তাঁকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেনে।
জজ মিয়ার পক্ষে বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির ও মোহাম্মদ কাউছার এই আইনি নোটিশ পাঠান।স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ ১১ ব্যক্তি বরাবর এই আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
যাঁদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবর, পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক খোদা বকশ চৌধুরী, সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান ও সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন রয়েছেন।
নোটিশে বেআইনিভাবে জজ মিয়াকে কারাবাসে রাখার জন্য লুৎফজ্জামান বাবর, খোদা বকশ চৌধুরী, আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান, রুহুল আমিন বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির দায় আছে কি না, তা নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।
জজ মিয়ার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ায় লুৎফজ্জামান বাবর, খোদা বকশ চৌধুরী, আবদুর রশীদ, মুন্সী আতিকুর রহমান, রুহুল আমিন বা অন্য কোনো ব্যক্তি দায়ী হলে তাঁদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে নোটিশে। নোটিশ গ্রহণের ১৫ দিনের মধ্যে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ জানাতে বলা হয়েছে। তা না হলে রিট দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, ২০০৪ সালের এই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০০৫ সালের জুনে জজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ মামলায় তাঁকে জজ মিয়া সাজিয়ে কারাগারে রাখা হয়। ২০০৯ সালের জুনে তিনি মুক্তি পান। কোনো দোষ ছাড়াই তাঁকে প্রায় চার বছর কারাগারে রাখা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে দলের নেতা-কর্মীসহ ২২ জন নিহত হন। আহত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ কয়েক শ নেতা-কর্মী।
শুরু থেকেই এ গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা হয়। প্রথমে শৈবাল সাহা পার্থ, পরে আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেসুর রহমানকে ফাঁসাতে না পেরে নোয়াখালীর সেনবাগ থেকে ধরে আনা হয় মো. জালালকে। তাঁকে দীর্ঘদিন রিমান্ডে রেখে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে একটি সাজানো জবানবন্দি আদায় করা হয়।
যে ভাবে ফাঁসানো হয় জজ মিয়াকে :

জজ মিয়া। নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে অসহায় এক রহস্য-যুবকের মুখ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা যতটা আলোচিত; এর পর থেকে ততটাই আলোচিত এই ‘জজ মিয়া’ নামটি। গ্রেনেড হামলার হোতাদের আড়াল করতে আষাঢ়ে গল্পের ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল নিরীহ এই তরুণকে।
সে সময়ের তরুণ জজ মিয়া যৌবন পেরিয়ে এখন প্রৌঢ়ত্বে। ১৮ বছর পরও সেই দুঃসহ স্মৃতির ঘা তার মনে এখনো দগদগে। মুক্ত জীবনেও তাকে তাড়া করে ফেরে অজানা এক আতঙ্ক-আবার না পড়তে হয় সেই ঘাতকদের কবলে! এসব আশঙ্কা থেকেই পাল্টে ফেলেছেন নিজের নামও।
এখন তিনি ‘জালাল’ নামে পরিচিত। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম মো. জালাল আহমেদ। ড্রাইভিং লাইসেন্সেও ব্যবহার করেছেন এই নাম। ‘জজ মিয়া’ নামটি শুনলে নিজেই এখনো ভয়ে আঁতকে ওঠেন।
জজ মিয়া জানতেন না, কী ছিল তার অপরাধ। তবু রিমান্ডে নিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে নির্যাতন আর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল সাজানো গল্পের ‘নায়ক’ হতে। ভয়াবহ এই হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে। ২০০৫ সালে গ্রেপ্তার করা হয় জজ মিয়াকে। দুবছর আগে গণমাধ্যমে এক সাক্ষাতকার দেন জজ মিয়া। তাতে তিনি বলেন, গ্রেনেড হামলার কয়েক মাস পর তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে আসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। কার্যালয়ে এনে ক্রসফায়ার করে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে সাজানো জবানবন্দি দিতে বলা হয় তাকে। তার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দেয় তৎকালীন সিআইডির কর্মকর্তারা। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে সাজানো সাক্ষ্য দিতে রাজি হন তিনি। সিআইডির এক কর্মকর্তা তাকে একটি কাগজে জবানবন্দি লিখে দেন।
সেদিনের সেই গ্রেফতার ও রিমান্ডের রোমহর্ষক বর্ণনার শুরুতেই জজ মিয়া বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তারা যে নাটক করেছে, এই নাটক যেন আর কারো সঙ্গে তারা না করে। আমার মতো কোনো ফ্যামিলি যেন এভাবে ঝরে না যায়। দোষ না করেও আমি আসামি হয়েছি। জীবন তছনছ হয়ে গেছে। এখন আমার একটাই চাওয়া- ওই ঘটনার যেন সঠিক বিচার হয়।’
জজ মিয়া বলেন, ‘গ্রেনেড হামলার দিন আমি নোয়াখালীর সেনবাগে বীরকোট গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। বাবুল চাচার চায়ের দোকানে বসে টিভি দেখে গ্রেনেড হামলার ঘটনা জানছি। এ নিয়ে আমরা স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে তর্কবিতর্কও করছি। সন্ধ্যার পর বাজারে প্রতিবাদ মিছিলও করেছি। মিছিলে আমার সঙ্গে স্কুলের শিক্ষক, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও স্থানীয় অনেক লোক ছিল। সেই আমিই নাকি বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলা করেছি!’ জজ মিয়া বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনার পরের বছর ২০০৫ সালের ৯ জুন সেনবাগ থানার কবির দারোগা আমাকে গ্রামের বাড়ি থেকে অ্যারেস্ট করল। বলল, ঢাকায় আমার নামে মামলা আছে। এরপর আমাকে লকাপে ঢুকিয়ে রাখে। তিন চার ঘণ্টা পর ঢাকা থেকে সিআইডির অফিসাররা সেনবাগ থানায় যান। তখন অফিসাররা কবির দারোগাকে জিজ্ঞাস করলেন জজ মিয়া কোথায়? পরে লকআপ থেকে আমাকে বের করল। এরপর সিআইডি অফিসার উপস্থিত পুলিশের উদ্দেশে বললেন, আমি সিআইডির কর্মকর্তা আবদুর রশিদ। আপনারা সবাই রুমের বাইরে চলে যান। এরপর গামছা দিয়ে আমার চোখ বেঁধে আমাকে মারধর শুরু করল। বলল, তুই এত বড় একটা হামলা করে দেশে এসে বসে রইছস! মনে করছস তোকে ধরতে পারব না? এরপর আমাকে চোখ বেঁধে তারা থানা থেকে গাড়িতে করে ঢাকায় নিয়ে এলো।
আসার পথে প্রায় এক ঘণ্টা পর এক জায়গায় গাড়ি থামিয়ে চোখ বাঁধা অবস্থায় আমাকে নামিয়ে বলল আমরা যেটা বলি, তুই সেটা স্বীকার করিস, আর না হলে তোর নামে চার-পাঁচটা মার্ডার কেস দেখিয়ে তোকে শীর্ষ সন্ত্রাসী বানিয়ে ক্রসফায়ারে দিয়ে দেব। আমি বললাম, স্যার আমি কী বলব, আমি কী জানি? তারা বলল, আমরা যেমনে বলব, সেভাবেই তোর শুনতে হবে। এ কথা বলে আবার আমাকে গাড়িতে ওঠায়। ঢাকায় এনে যখন আমার চোখ খুলল, তখন দেখি আমি একটা রুমের ভেতর আছি। আমি কোথায় আছি, আমি বলতে পারি না। আমার সামনে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে বসে আছে। আমি তখন রীতিমতো আতঙ্কে। এই বুঝি আমাকে মেরে ফেলে। পরে সিআইডি অফিসাররা বললেন, যেভাবে ঘটনা হয়েছে, তা তোকে শিকার করতে হবে। আমি বললাম স্যার, আমি যা জানি না, তা কীভাবে স্বীকার করব। তারা বললেন, আমরা যেভাবে বলব, সেভাবেই তোকে বলতে হবে। আমি বললাম, না স্যার। আমি যেটা জানি না, সেটা স্বীকারোক্তি দেব না।

এরপর দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে আমাকে ফ্যানে ঝুলিয়ে পায়ের তলায় পিটিয়েছে। আমার ডান হাতের হাড় ফাটিয়ে দিয়েছে। রিমান্ডে তারা ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গেছে। বলেছে, তাদের কথামতো যদি আমি স্বীকারোক্তি দিই, তাহলে বেঁচে থাকব। তা ছাড়া যত দিন আমি জেলে থাকব, তত দিন আমার পরিবারের ভরণপোষণ দেবে সিআইডি। ৩০ দিন নির্যাতনের পর তাদের কথায় রাজি হলাম। তারা আমাকে ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখাল। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ছবি দেখিয়ে নাম মুখস্থ করাল।
জজ মিয়া বলেন, রিমান্ডে থাকার সময় বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ ও মুন্সি আতিকুর রহমান নিয়মিত এসে আমার সঙ্গে দেখা করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখাতেন এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা আমিই করেছি- এমন কথা বলতেন।
তিনি বলেন, সিআইডির কর্মকর্তারা বলতেন, এ ঘটনার সুরাহা করতে ওপর থেকে যথেষ্ট চাপ আছে, সে স্বীকার না করলে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হবে। এরপর আদালতে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করাল। আমি ভয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দায় স্বীকার করে তাদের শেখানো গল্প বলে যাই। আমি যে পয়েন্টটা ভুলে যেতাম, বলতে পারতাম না, ওইগুলো তারা আমাকে বলে দিত। জবানবন্দিতে আমি বলি, পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে বড়ভাইদের নির্দেশে আমি অন্যদের সঙ্গে গ্রেনেড হামলায় অংশ নিই। বড়ভাইয়েরা হচ্ছেন সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, জয়, মোল্লা মাসুদ ও মুকুল। জজ মিয়া বলেন, আমি এসব সন্ত্রাসীকে কোনো দিন দেখিওনি। তিনি বলেন, আমি যে চাপে পড়ে স্বীকারোক্তি দিচ্ছি, তা বলার সুযোগও ছিল না। পাশেই সিআইডি কর্মকর্তারা বসা ছিলেন।
জজ মিয়া জানান, কারাগারে থাকার সময় সেনবাগ থানার দারোগা কবির হোসেনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে মায়ের সঙ্গে সিআইডির কর্মকর্তা রুহুল আমিনের কথা হতো। সিআইডির ওই তিন কর্মকর্তা তাদের কথা অনুযায়ী জবানবন্দি দেয়ার প্রতিদানস্বরূপ তার মাকে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে দিত।

এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৬ সালের আগস্টে এই নাটকের পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন। জজ মিয়াকে গ্রেনেড হামলা মামলার রাজসাক্ষী করতে সিআইডির প্রস্তাবের কথা ফাঁস করে দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জজ মিয়াকে গ্রেফতারের পর থেকেই তার পরিবারকে মাসে মাসে ভরণপোষণের টাকা দিয়ে আসছে সিআইডি।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলা তদন্তের নতুন করে উদ্যোগ নেয়া হয়। তদন্তে উঠে আসে, বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সহযোগিতায় গোপন জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) জঙ্গিরা শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ওই হামলা চালিয়েছিল।

বিদেশি ঋণের বোঝা জনগণের ওপর না চাপিয়ে অর্থপাচার রোধের দাবি টিআইবির

0

বিদেশি ঋণের বোঝা জনগণের ওপর না চাপিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতে লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান সহায়ক ‘কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড’ বা সিআরএস অবলম্বন করার মাধ্যমে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ দাবি জানায়। এতে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেয়া স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হলেও, সুদসহ ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগণের ওপর পড়বে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় বিনা খরচে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধের মাধ্যমে প্রস্তাবিত বৈদেশিক ঋণের বহুগুণ বেশি অর্থ বাৎসরিক ও টেকসইভাবে উপার্জন করার পথ সরকারের জন্য উন্মুক্ত আছে বলে মনে করছে টিআইবি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি মোকাবিলায় আইএমএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুদসহ এ ধরনের ঋণ পরিশোধের বোঝা পুরোটাই জনগণকে বইতে হয়। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে-আর্থিক সংকট, বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার ক্রমবর্ধমান ঘাটতি মোকাবিলায় বৈদেশিক ঋণ সহায়তাসহ অন্যান্য চলমান উদ্যোগ জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে গ্রহণ করা হয়েছে কি না! অর্থাৎ জনগণের ওপর ঋণের বোঝা না বাড়িয়ে বিকল্প উপায় অবলম্বনের পথ বিবেচনা করা হচ্ছে কি না। ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৫ মেয়াদে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার হওয়ার পরিমাণ বছরে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।
হালনাগাদ তথ্য প্রাপ্তি সাপেক্ষে এই পরিমাণ কমপক্ষে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান অর্থ পাচার বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না থাকলেও পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ যে গগনচুম্বী এ বিষয়ে কোনো বিতর্কের অবকাশ নেই। একইভাবে কোনো সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশের অর্থপাচারের সিংহভাগ আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে মিসইনভয়েসিং বা চালান জালিয়াতির মাধ্যমে সংগঠিত হয়। যার ফলে একদিকে যেমন ব্যাপক কর ফাঁকি দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে।’
‘সরকারকে মনে রাখতে হবে যে, চলমান সংকট পরিস্থিতিতে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পায়। উল্লিখিত বিশাল মাত্রার অর্থপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য কার্যকর সিআরএস অবলম্বন করা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। যার সুফল আইএমএফের থেকে এককালীন ঋণের তুলনায় বহুগুণ বেশি হারে ও বাৎসরিকভিত্তিতে সুলভ ও টেকসইভাবে বৈদেশিক মুদ্রা তথা জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে,’ বলেন তিনি।
বাংলাদেশের অর্থপাচারের গন্তব্য দেশগুলোতে এবং তথাকথিত কর-স্বর্গ দেশ বা অঞ্চলগুলোও ইতোমধ্যে সিআরএস আওতাভুক্ত হয়েছে এবং তথ্য আদান-প্রদান করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাংক-গোপনীয়তার জটিলতা থেকে মুক্তির উপায় এখন বাংলাদেশের নাগালের মধ্যে। সব প্রভাব, ভয়-করুণা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে থেকে স্বল্পমেয়াদে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় এবং মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদে টেকসইভাবে কর ফাঁকি ও অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে সিআরএস অবলম্বনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার উদাহরণ স্থাপনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশা করছি, অনতিবিলম্বে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সরকার জাতীয় পর্যায়ে প্রযোজ্য আইনি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’
টিআইবি জানায়, ২০১৪ সালে ওইসিডির উদ্যোগে প্রণীত এবং ২০১৭ সাল থেকে কার্যকর ব্যাংক ও আর্থিক খাতে দেশে-বিদেশে সব ধরনের লেনদেনের স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান সহায়ক কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডের (সিআরএস) মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিবেশী একাধিক দেশসহ বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশ ও তাদের দেশের বাইরে অবস্থানরত নাগরিকদের সব ধরনের ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবীক্ষণ করছে। যা দেশগুলোকে তথ্যের লেনদেনের মাধ্যমে একদিকে দেশে-বিদেশে কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব আদায় এবং অন্যদিকে অর্থপাচার প্রতিরোধ, চিহ্নিতকরণ, উদ্ধারসহ জবাবদিহি নিশ্চিতের সুযোগকে অবারিত করেছে।

এনটিএমসির প্রথম মহাপরিচালক হলেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান

0

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের-(এনটিএমসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থটির তিনিই প্রথম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এর আগে এ পদটি পরিচালক মদমর্যাদার ছিল এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিসেবে জিয়াউল হাসান এ দায়িত্বে ছিলেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। বিকালে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর দু’জনের মধ্যে কিছুক্ষণ একান্ত আলাপচারিতা শেষে কেক কাটা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব আব্দুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের নানামুখী সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি তার পেশাদারিত্বের ভূয়শী প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে মেজর জেনারেল হিসাবে তিনি আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
২১ জুলাই জিয়াউল আহসানকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ সময় তিনি এনটিএমসি’র পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতির পর এনটিএমসি’র পরিচালক পদটিকে মহাপরিচালক পদে উন্নীত করা হয়েছে। এনটিএমসি’র প্রথম মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব নিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।
জিয়াউল আহসান ২০০৯ সালে মেজর পদে প্রেষণে বদলি হয়ে প্রথমে র‌্যাব-২ এর উপ-অধিনায়ক পদে নিযুক্ত হন। পরের বছর ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৩ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি র‌্যাব সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হিসাবে দায়িত্ব পান। তিনি অসাম্প্রদায়িক এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নেপথ্যে থেকে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি স্কাই ডাইভার এবং কমান্ডো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসাবে জিয়াউল আহসান দু’বার বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক বিপিএম (সাহসিকতা) ও দু’বার পিপিএম (প্রেসিডেন্ট পুলিশ পদক) প্রাপ্ত হন। বাংলাদেশে তিনিই একমাত্র কর্মকর্তা যিনি এককভাবে টানা চারবার পুলিশের সর্বোচ্চ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক অর্জন করতে সক্ষম হন। জিয়াউল আহসান ১৯৭১ সালের ১ জানুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

রব-মান্নার নেতৃত্বে সাত দলের রাজনৈতিক জোট ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’; পাঁচ’টিরই নিবন্ধন নেই ইসিতে

0

বিএনপিকে বাদ দিয়ে এবার সরকার পতনের জন্য নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে। ৭টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত এই জোটের বেশির ভাগেরই নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন নেই। এই জোটের নাম দেয়া হয়েছে “গণতন্ত্র মঞ্চ।” নেতৃত্বে রয়েছেন আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, রেজা কিবরিয়া, জোনায়েদ সাকি।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসর“ল হামিদ মিলনায়তনে নতুন এই জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলো হলো- আ স ম রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার, নাগরিক ঐক্য, সাইফুল হকের, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন, রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নূরের গণ অধিকার পরিষদ, রফিকুল ইসলাম বাবলুর ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুমের রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
সাতটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন আছে আ স ম রবের জেএসডি এবং সাইফুল হকের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির। বাকিগুলোর নিবন্ধন নেই।
জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে গণতন্ত্র মঞ্চের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এতে জোটের রূপরেখাও ঘোষণা করা হয়।
এ সময় আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে জনতার সামনে কথা বলি। আমরা ষড়যন্ত্র করি না। ষড়যন্ত্র করে সরকার। অবৈধ সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র নয়, প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েই সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাবে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারবিরোধী লড়াই-সংগ্রামের বিকল্প নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে আগামী দিনের সংগ্রামে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণ-অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরীয়া, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বাবলু ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ উপ¯ি’ত ছিলেন।
এ সময় দেশে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদের আগামী ১১ই ঢাকায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে নতুন এই জোট। জোটের রূপরেখায় বলা হয় – আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা এবং অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করতে হবে এবং একটি রাজনৈতিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে গঠিত অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ- সংসদ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ও সরকারের জবাবদিহিতার কার্যকরী ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার। একইসাথে ফেডারেল পদ্ধতির সরকারব্যবস্থা বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় কমিশন গঠন।’
‘বিচার বিভাগের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, নিম্ন আদালতকে নির্বাহী বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তার পরিচালনা ও তদারকি উচ্চ আদালতের হাতে ন্যস্ত করা, প্রধান বিচারপতিসহ বিচারক নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের’ কথাও বলা হয় জোটের রূপরেখায়।
এছাড়াও, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের নীতিতে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জীবন ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানস ও অর্থনীতির টেকসই প্রকৃতিবান্ধব ভিত্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সকল জনগণের জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা তৈরি’ বিষয়েও উল্লেখ করা হয়েছে। এই জোটে বিএনপিকে অর্ন্তভ’ক্ত করা হবে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন কেউ আসতে চাইলে আমরা আপত্তি জানাব না। কারণ সবার উদ্দেশ্য সরকারের পতন।

বাসভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

0

জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার । সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ এর ৩৪ (২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
রোববার (৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুল আলম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুল আলম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
এতে বলা হয়, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা ২০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ১৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ০৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা নির্ধারিত হলো।
বিআরটিএ কর্তৃক অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বাস/মিনিবাসের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হলে উপরিউক্ত অনুচ্ছেদ ক অনুযায়ী আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার নির্ধারিত হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ কিংবা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি থেকে আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
ভাড়া বৃদ্ধি গ্যাসচালিত মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত ইতোপূর্বে জারিকৃত সকল প্রজ্ঞাপন ও আদেশ রহিত করা হলো। ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে টানিয়ে রাখতে হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ ভাড়ার হার রোববার থেকে কার্য
জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার । সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ এর ৩৪ (২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।
রোববার (৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুল আলম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
জ্বালানি তেলে মূল্যবৃদ্ধির পর ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব মো. মনিরুল আলম ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
এতে বলা হয়, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সার জায়গায় ২ টাকা ২০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটার যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ১৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ০৫ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪০ পয়সা; ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা নির্ধারিত হলো।
বিআরটিএ কর্তৃক অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বাস/মিনিবাসের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হলে উপরিউক্ত অনুচ্ছেদ ক অনুযায়ী আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার নির্ধারিত হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ কিংবা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি থেকে আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
ভাড়া বৃদ্ধি গ্যাসচালিত মোটরযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ডিজেল চালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত ইতোপূর্বে জারিকৃত সকল প্রজ্ঞাপন ও আদেশ রহিত করা হলো। ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে টানিয়ে রাখতে হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এ ভাড়ার হার রোববার থেকে কার্যকর হবে।

খালাসের পরও ৭ বছর ধরে কনডেম সেলে কাসেম, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

0

খালাস পাওয়ার পরও চট্টগ্রামের একটি হত্যা মামলার আসামি আবুল কাশেমকে কীভাবে সাত বছর ধরে কনডেম সেলে রাখা হল, সে বিষয়ে বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আগামী ২৫ অগাস্টের মধ্যে হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত।
এ বিষয়ে এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাই কোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার জানে আলম হত্যা মামলার আসামি আবুল কাশেম জজ আদালতে মৃত্যুদণ্ড পেলেও ২০১৬ সালে হাই কোর্ট থেকে খালাস পান। কিন্তু এখনও তার মুক্তি মেলেনি।
রিট আবেদনের পক্ষে আদালতে শুনানি আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
আবুল কাশেমের ঘটনা সংবাদমাধ্যমে এলে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের নজরে আনেন। আদালত কথন তাকে লিখিত আবেদন করতে বলে।
ওই দিনই আবুল কাশেমের মুক্তি চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনাটির বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশনা চাওয়া হয় সেই রিট আবেদনে। আবুল কাশেমের ছেলেও রোববার এ বিষয়ে আলাদা একটি আবেদন করেন।
সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০২ সালের লোহাগাড়া রাজঘাটা আমির খান চৌধুরী পাড়ায় জানে আলেম হত্যাকাণ্ডের পর মামলা হলে তাতে আবুল কাশেমকেও আসামি করা হয়। ওই মামলায় ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই আবুল কাশেমসহ ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আট জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ওই রায়ের সময় আবুল কাশেম পলাতক ছিলেন।
এরপর ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি করে আবুল কাশেমসহ পাঁচ আসামিকে খালাস দেয়। কিন্তু করণির ভুলের কারণে হাই কোর্টের ওই রায়ে পলাতক আবুল কাশেমের বিষয়টি কার্যকর অংশে অন্তর্ভুক্ত করা ছিল না।
সে কারণে একই বেঞ্চ পরে ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সম্পূরক আদেশে আবুল কাশেমকে খালাস দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে।
অন্য একটি মামলায় ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে আবুল কাশেম চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “কার কারণে, কী জন্য অথবা কার অবহেলার কারণে খালাস পাওয়ার পরও আবুল কাশেম সাত বছর ধরে কনডেম সেলে বন্দি আছেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে ২৫ অগাস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।” বিডি নিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকম।

ঢাবি’র শিক্ষিকা সামিয়া রহমানের পদাবনতির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট

0

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষিকা সামিয়া রহমানকে পদাবনতির আদেশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে তাকে সব সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।
আদালতে সামিয়া রহমানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।
সামিয়া রহমানের আইনজীবী ব্যারিস্টার হাসান এম এস আজিম জানান, গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানকে পদাবনতি দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সামিয়া রহমানের গবেষণা জালিয়াতি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট, গঠিত ট্রাইব্যুনালের নথিসহ সব কাগজপত্র আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এ শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক থেকে এক ধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক করে দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।
এছাড়া পিএইচডি থিসিসে জালিয়াতির আরেক ঘটনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক ওমর ফারুককে সহকারী অধ্যাপক থেকে প্রভাষক পদে অবনমন করা হয়েছে। তার ডিগ্রিও বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। দুটি ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ তিন শিক্ষকের শাস্তি নির্ধারণে দুটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও মারজানের যৌথভাবে লেখা ‘এ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : এ কেস স্ট্যাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ শিরোনামের আট পৃষ্ঠার একটি গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।
এটি ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের একটি নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল বলে অভিযোগ ওঠে।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এক লিখিত অভিযোগে মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ চুরির কথা জানিয়েছিল ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো প্রেস।
শুধু মিশেল ফুকোই নন, বুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাঈদের ‘কালচার অ্যান্ড ইমপেরিয়ালিজম’ গ্রন্থের পাতার পর পাতাও সামিয়া ও মারজান হুবহু নকল করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে গতবছর ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর তাদের একাডেমিক অপরাধের শাস্তির সুপারিশ করতে আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মো. রহমত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শাস্তির বিষয়ে সুপারিশ জমা দিলে সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন সামিয়া রহমান।