একটি হত্যা মামলায় ৭ বছর আগে হাইকোর্ট থেকে খাালাস পেয়েছেন আবুল কাশেম। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে না পৌঁছায় মুক্তি মিলছে না কাশেমের । ৭ বছর ধরে কারাগারের কনডেম সেলে আটক আছেন তিনি। এ নিয়ে একটি অনলাইনে খবর প্রকাশ হলে একজন আইনজীবী তা আদালতের দৃষ্টিতে আনেন। আদালত বিষয়টি আবেদন হিসেবে দাখিল করার কথা বলেন এবং তা দেখা হবে বলে জানান।
এ বিষয়ে অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
আদালত আইনজীবীকে বলেন, আপনি আবেদন নিয়ে আসুন আমরা বিষয়টি দেখব। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
বুধবার ৩ আগস্ট ‘বিনা দোষে কারাগারে কনডেম সেলে ৭ বছর!’ এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজ পোর্টাল বাংলা নিউজ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, লোহাগাড়া থানার জানে আলম হত্যা মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেয়েছেন আবুল কাশেম। তার খালাস পাওয়ার আদেশ যথাসময়েই উচ্চ আদালত থেকে পৌঁছেছে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে।
কিন্তু আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেনি ৭ বছর ৩ মাস ১১ দিনও। একটি মামলায় ২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত হাজিরা দিতে এলে আবুল কাশেমকে শোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়। সেই দিন থেকে কারাগারের কনডেম সেলে আছেন আবুল কাশেম। আবুল কাশেম, লোহাগাড়া থানার আমিরাবাদ ইউনিয়নের রাজঘাটা আমিরখান চৌধুরী পাড়ার বেলায়েত আলীর ছেলে।
আদালত সূত্র জানা যায়, ২০০২ সালের ৩০ মার্চ রাজঘাটা আমিরখান চৌধুরী পাড়ায় জানে আলেম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন আবুল কাশেম। লোহাগাড়া থানার মামলা নম্বর ২১ (৩১.০৩.২০০২) ও দায়রা নম্বর ৩০৮/২০০৪। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালত ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই আবুল কাশেমসহ ১২ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৮ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন । হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি (নম্বর ৫৪/২০০৭) হয় ২০১৩ সালের ১১ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি । বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও শহীদুল করিমের বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে আসামি আবুল কাশেমকে খালাস দেন।
খালাসের পরও কনডেম সেলে ৭ বছর : আবেদন করতে বললেন হাইকোর্ট
ইউজিসির জালিয়াতি, ৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতিবেদন ‘টেবিলে বসে বানানো’: সংসদীয় কমিটির অসন্তোষ
শিক্ষার মান, গবেষণা এবং অবকাঠামোসহ ৪৬টি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ইউজিসির দেওয়া প্রতিবেদনকে ‘মনগড়া’ অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলমান এসব প্রকল্পের সব কটিতেই ভৌত এবং আর্থিক অগ্রগতি সমান দেখিয়ে ওই প্রতিবেদন দেয় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- ইউজিসি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এসময় কমিটির সদস্যরা আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি সমান হওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা অভিমত দেন, ব্যতিক্রম দু’একটির ক্ষেত্রে অগ্রগতি সমান হলেও সবগুলোর ক্ষেত্রে এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
বাস্তবতার ভিত্তিতে প্রতিবেদন না করে টেবিলে বসে তৈরি করা বলে এমন হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি একই হওয়ার বিষয়টি ইউজিসির কাছে জানতে চেয়েছিলাম। এটা কী করে সম্ভব হল, তারা সেটা জানাতে পারেনি।
“তারা কোনো জবাব দিতে পারেনি। তাদের কর্মকাণ্ডে গাফিলতি রয়েছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। আর এই কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডগুলো গতিশীল হচ্ছে না।”
বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উন্নয়নে ৪৬টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ২৫ শতাংশের নিচে রয়েছে ৮টি, ৫০ শতাংশের নিচে ১৬টি এবং ৫১ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে ২২টি।
বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প সময়মত শেষ না করে বার বার সময় ও ব্যয় বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বাস্তবায়নে সফলতা না থাকলেও বিভিন্ন প্রকল্পে বিদেশ যাওয়া এবং গাড়ি কেনার প্রবণতার বিষয়টিও উঠে আসে বৈঠকে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুস শহীদ বলেন, “সার্বিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে সব প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালকদের যোগ্যতা নিরূপণ করে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না।
“আমরা একটি বিষয় খুব বেশি দেখি, সেটা হল প্রকল্প হলেই গাড়ি কেনার দিকে ঝোঁক বেশি থাকে। বাস্তব কোনো অগ্রগতি নেই। কিন্তু আর্থিক ব্যয় বেশি।”
কমিটি যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করতে বলেছে উল্লেখ করে সাবেক এই প্রধান হুইপ বলেন, “আমরা বলেছি, যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার কারণে সরকারের যে আর্থিক ক্ষতি ও অর্থের ওপর চাপ পড়ে তার দায় কে নেবে? “এজন্য আমরা ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশাসন দিয়েছি।” বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা যায়- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি দুটোই সমান, ২২ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫২ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ০ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ৮২ শতাংশ। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ০২ শতাংশ।
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ২৩ শতাংশ। বুয়েটের শিপ মডেল টেস্টিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিউইপি) উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৮২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ০৭ শতাংশ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৭ দশমিক ১৬ শতাংশ।
নেত্রকোণায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯০ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫৯ দশমিক ১৭ শতাংশ। বুয়েটের ইনকিউবিটর স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭৮ দশমিক ১৭ শতাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কলেজে এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সমীক্ষা প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৭৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯২ দশমিক ৭১ শতাংশ।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের ৫৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৬৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৫০ শতাংশ।
হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। টেক্সটাইল বিষয়ে জার্মান-বাংলাদেশ উচ্চ শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস স্থাপন প্রকল্পের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি ৪৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।
এদিকে সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারা কয়েকটি প্রকল্প পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিতে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে নেয়া প্রকল্পটি গত ৩০ জুন শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির এখন পর্যন্ত অগ্রগতি হয়েছে ২৬ শতাংশ।
আঞ্চলিক স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মূল মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগতি ৩ দশমিক ২০ শতাংশ। অবশ্য ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া এ প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সিলেট ও মৌলভীবাজারে স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের সময়সীমা ছিলো গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এরও কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। এই প্রকল্পটির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো- ব্যানবেইসের এস্টাবলিশমেন্ট অব ইনটিগ্রেডেট এডুকেশন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পটির মেয়াদ ছিলে গত ৩০ জুন। কিন্তু এর কাজের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।
ব্যানবেইসের আরেকটি প্রকল্পের মূল মেয়াদ গত এপ্রিলের শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি ২০ শতাংশ। এই প্রকল্পের আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি দুটোই সমান।
অবশ্য প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ধরনের আরও কিছু প্রকল্পের তথ্য মঙ্গলবারের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এ বি তাজুল ইসলাম, ফজলে হোসেন বাদশা, আহসান আদেলুর রহমান ও ওয়াসিকা আয়শা খান অংশ নেন। বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
কম তেল দেয়ায় রাজধানীর সেই পেট্রলপাম্পসহ আরও দুটিকে জরিমানা
মাপে জ্বালানি তেল কম দেয়ার অভিযোগে এক যুবকের প্রতিবাদী অবস্থানের পর রাজধানীর কল্যাণপুরে পেট্রলপাম্প সোহরাব সার্ভিস স্টেশনে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালায়। এ সময় পেট্রলপাম্পটির দুটি ইউনিটে প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ৪০ মিলিলিটার করে কম দেওয়ায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জ্বালানি তেল কম দেয়ার অভিযোগে সোমবার এই পেট্রলপাম্পের সামনে সাত ঘণ্টা ধরে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানান বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহমেদ। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে এসে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। এরপর অভিযানে নামে বিএসটিআই।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযানে দক্ষিণ কল্যাণপুরের খালেক ফিলিং স্টেশনে প্রতি ১০ লিটার ডিজেলে ৫০ মিলি কম, দুটি ইউনিটে অকটেনে যথাক্রমে ৪০ মিলি ও ৩১০ মিলি কম দেয়ায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় রহমান ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ইউনিটে প্রতি ১০ লিটারে ৬০ মিলি কম দেয়ায় ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তেলের পরিমাণ কম পাওয়ায় এই তিন ফিলিং স্টেশনের ৬টি ইউনিট সিলগালা করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসিব সরকার।
বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (সিএম) রিয়াজুল হক বলেন, মাপে তেল কম দেয়ার প্রমাণ পাওয়ায় সোহরাব ফিলিং স্টেশনকে দুই লাখ টাকা ও পার্শ্ববর্তী আরও দুটি ফিলিং স্টেশনকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে ইসতিয়াক আহমেদ অভিযোগ জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামানও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের মান ও পরিমাণ নিয়ে অভিযোগ আসছে। তাঁরা বিএসটিআইয়ের সঙ্গে কথা বলে সারা দেশে অভিযান পরিচালনা করবেন। সূত্র-প্রথম আলো।
কাবুলে ড্রোন হামলা চালিয়ে আল-কায়দা প্রধান জাওয়াহিরিকে হত্যা করলো যুক্তরাষ্ট্র
আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন আল কায়েদার শীর্ষ নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি। এ খবর নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রোববার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত এক ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হন। তাকে হত্যার খবর নিশ্চিত করে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, জাওয়াহিরির বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের হত্যা ও সহিংসতার প্রমাণ রয়েছে। এখন ন্যায় বিচার হয়েছে এবং এই সন্ত্রাসী নেতা আর নেই। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে জানানো হয়, জাওয়াহিরি মূলত তার একটি সেফ হাউজে পালিয়ে ছিলেন এবং সেখানে হামলা চালিয়েই তাকে হত্যা করা হয়। তাকে টার্গেট করে পরপর দুটি মিসাইল চালানো হয়। এতে তার বাড়ির বারান্দা ধ্বংস হয়ে যায়। হামলার সময় তিনি বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, হামলার সময় জাওয়াহিরির পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও সে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু তাদের কোন ক্ষতি হয়নি।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন জানিয়েছেন, ৭১ বছর বয়সী জাওয়াহিরিকে হত্যার জন্য হামলা করতে তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এজন্য কয়েকমাস ধরে পরিকল্পনা করা হয়। জাওয়াহিরিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলায় নিহতদের পরিবার বিচার পেলো। বাইডেন আরও বলেন, তাকে হত্যা করতে কত বছর লেগেছে সেটা বড় বিষয় নয়, কোথায় লুকিয়ে ছিল সেটাও কোন ব্যাপার নয়। কিন্তু কেউ যদি মার্কিন জনগণের জন্য হুমকি হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাকে খুঁজে বের করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার সময় তালেবানের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে যে, কাবুলের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন ড্রোন হামলা হয়েছে। ি এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক নীতির পরিষ্কার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে তালেবান।
আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন এবং আল-জাওয়াহিরি এক সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের টুইন টাওয়ারে আক্রমণের পেছনেও দুজনেরই হাত ছিল। বিবিসি জানিয়েছে, আল-জাওয়াহিরি মিশরের ‘ইসলামি জিহাদ’ নামক জঙ্গি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। এরপর থেকে আয়মান আল-জাওয়াহিরি আল-কায়েদার প্রধান হন। তার আগে আল-জাওয়াহিরিকে ওসামা বিন লাদেনের ডান হাত আর আল-কায়েদার মূল চিন্তাবিদ বলে গণ্য করা হত।
এদিকে আল-জাজিরার খবরে জানানো হয়েছে, আল-জাওয়াহিরিকে আশ্রয় দেয়ায় তালেবানকে দায়ি করছে যুক্তরাষ্ট্র। তালেবান চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। তিনি বলেন, দোহায় তালেবানের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিশ্বকে তালেবান বারবার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তারা বলেছিল, আফগানিস্তানে কোনো সন্ত্রাসীকে তারা আশ্রয় দেবে না।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ওয়াশিংটন এবং তালেবান একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ীই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়। অপরদিকে তালেবান প্রতিশ্রুতি দেয় তারা আল-কায়দা ও ইসলামিক স্টেটের মতো জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় দেবে না। তালেবানের আশ্বাস পেয়ে ২০২১ সালের ৩১শে আগস্ট দেশটি ছেড়ে আসে বিদেশী সেনারা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আল-কায়দাকে আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় দিয়ে তালেবান শুধু আফগান জনগণকেই ঠকায়নি, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে নিজেদের স্বীকৃতি আদায়কেও হুমকিতে ফেলেছে।
গ্রামীণ টেলিকমের অর্থ আত্মসাৎ: দুদকের অনুসন্ধান টিম গঠন, জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে
গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ ও প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের টিম গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। টিম প্রধান করা হয়েছে উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে। আর টিমে অপর দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার ও নূরে আলম সিদ্দিকী। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সোমবার (১ আগস্ট) সংস্থাটির এই অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানকালে গ্রামিণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠিাতা ও গ্রামিণ টেলিকমের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এমন আভাস দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।
এর আগে গত ২৮ জুলাই গ্রামীণ টেলিকম পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানান সংস্থাটির সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
দুদক সচিব বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ সম্বলিত একটি প্রতিবেদন দুদকে পাঠান। ওই অভিযোগ সম্বলিত প্রতিবেদন কমিশন পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অভিযোগগুলো হলো অনিয়মের মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনের জন্য সংরক্ষিত লভ্যাংশের ৫ শতাংশ অর্থ লোপাট।
শ্রমিক কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধকালে অবৈধভাবে অ্যাডভোকেট ফি ও অন্যান্য ফি’র নামে ৬ শতাংশ অর্থ কর্তন।
শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলে বরাদ্দ করা সুদসহ ৪৫ কোটি ৫২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৩ টাকা বিতরণ না করে আত্মসাৎ।
কোম্পানি থেকে ২ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের উদ্দেশে বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ।
নিয়োগ হওয়ার পরে আপনারাই জানতে পারবেন এর সঙ্গে কে কে সম্পৃক্ত। দুদক সূত্র জানায় অভিযোগ অনুসন্ধানকারী টিম গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবে। সব বিধিবিধান অনুসারণ করেই দুদক কার্যক্রম চালাবে যাতে কোনো বিতর্কেও সৃষ্টি না হয়।
আওয়ামীলীগের আয় বেড়েছে, ব্যয় কমেছে
২০২১ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে ২১ কোটি ২৩ লাখ ৪৬ হাজার ১০৬ টাকা। আর ২০২১ সালে দলটির ব্যয় হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ১৯ হাজার ৮৫২ টাকা। আগের বছর ২০২০ সালে মোট আয় ছিল ১০ কোটি ৩৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৩৩ টাকা। আর ২০২০ সালে মোট ব্যয় ছিল ৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৩১ টাকা। এ হিসাবে, আওয়ামী লীগের আয় বেড়েছে ১০ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৫৭৩ টাকা। ফলে ব্যয় কমেছে ৩ কোটি ৬৪ লাখ ৩০ হাজার ৭৯ টাকা। রোববার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া দলটির হিসাব থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এদিন সকালে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকারের কাছে দলের ২০২১ সালের অডিট রিপোর্ট জমা দেন। আয়ের প্রধান খাত দেখানো হয়েছে, সম্পত্তি থেকে আয় এবং মনোনয়ন ফরম ও প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ ফরম বিক্রি।
ব্যয় হ্রাসের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে কোভিড অতিমারির কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু নগদ অর্থ বিতরণের পরিমাণ কম ছিল। আর ব্যয়ের প্রধান খাত দেখানো হয়েছে, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা, সংগঠন পরিচালন ব্যয়, অফিস ভাড়া, প্রচার ও প্রকাশনা বাবদ ব্যয়।
প্রতিনিধি দলে ছিলেন- প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বুড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান ও অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য জাফরুল শাহরিয়ার জুয়েল।
অডিট রিপোর্টে আরও বলা হয়, ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের বছর শেষে উদ্বৃত্ত ছিল ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ২৬ হাজার ২৫৪ টাকা। আর ২০২০ সালের তুলনায় ১৪ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৩ টাকা বেশি আছে।
এ ছাড়া ২০২১ পঞ্জিকা বছরে আওয়ামী লীগের বছর শেষে ব্যাংকে স্থিতি ছিল ৭০ কোটি ৪৩ লাখ ৭০ হাজার ১৬৬ টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০২০ সাল শেষে স্থিতি ছিল ৫০ কোটি ৭৬ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৪ ঢাকা।
সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশযাত্রা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট
সরকারি আদেশ অমান্য করে সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশযাত্রা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। রোববার জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন রিটটি দায়ের করেন।
পরে তিনি জানান, রিট আবেদনটির ওপর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে। রিট আবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, দুদকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে একজন মন্ত্রীর পিএস বিদেশে গেছেন। এভাবে অনেক কর্মকর্তা সরকারি প্রজ্ঞাপন অমান্য করে বিদেশে যাচ্ছেন বলেও রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১২ মে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বন্ধের বিষয়ে পরিপত্র জারি করে সরকার।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, করোনা–পরবর্তী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে পুনরায় আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এক্সপোজার ভিজিট, শিক্ষা সফর, এপিএ এবং ইনোভেশনের আওতামুক্ত ভ্রমণ ও ওয়ার্কশপ বা সেমিনারে অংশগ্রহণসহ সব ধরনের বৈদেশিক ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। এ আদেশ উন্নয়ন বাজেট ও পরিচালন বাজেট উভয় ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
চাঁদপুরের বালুখেকো সেই সেলিম খানের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৩৪ কোটি টাকা রাখার দায়ে চাঁদপুরের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান সেলিম খানের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক। রোববার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে দুদকের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানান।
চাঁদপুর সদরের ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খানের বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুদক। তাঁর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণে কারসাজি এবং মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা।
দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে সেলিম খানের নামে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ৪ দশমিক ২১ একর (কৃষি-অকৃষি), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১০ তলা বাড়ি, ঢাকার কাকরাইলে ৪ তলা বাড়ি ও ১টি ফ্ল্যাট, ২টি জিপ গাড়ি, ৪টি ড্রেজার, ১টি শটগান, স্বর্ণালংকারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ২০ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের সচিব মাহবুব হোসেন জানান, সেলিম খানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কমিশনের অনুমোদনক্রমে তাঁর বরাবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন।
দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই শেষে সম্পদ বিবরণীতে ৬৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধ উপায়ে মোট ৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮১ হাজার ১১৯ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলের প্রমাণ মেলে। এ জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪–এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারায় কমিশন একটি মামলা করার অনুমতি দেয়।
এর আগে গত এপ্রিলে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেলিম খানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।
শপথ নিলেন ১১ অতিরিক্ত বিচারপতি
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নতুন নিয়োগ পাওয়া ১১ জন অতিরিক্ত বিচারপতি শপথ নিয়েছেন। রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ নেয়া বিচারপতিরা হলেন- পিআরএল ভোগরত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত আলী চৌধুরী, কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আমিনুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট মো. আলী রেজা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. বজলুর রহমান, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ, টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ ফাহমিদা কাদের, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট এস এম মাসুদ হোসেন দোলন ও সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট এ কে এম রবিউল হাসান।
এর আগে দুপূরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে তাদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিম্নোক্ত ১১ জন ব্যক্তিকে অনধিক দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ করেছেন। এ নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
ধর্মীয় সহিংসতা ঠেকাতে জেলা-উপজেলা, ইউপি পর্যায়ে কমিটি গঠন
ধর্মীয় সহিংসতা ঠেকাতে দেশের সব জেলা– উপজেলা,ইউনিয়ন পর্যায়ে ‘সামাজিক সম্প্রীতি কমিটি’ নামে কমিটি গঠন করেছে সরকার। জেলা পর্যায়ের কমিটিতে জেলা প্রশাসককে প্রধান করা হয়েছে। ২৩ সদস্যের কমিটিতে সংশ্লিষ্ট জেলার সব সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে উপদেষ্টা রাখা হয়েছে। পুলিশ সুপার এ কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও আলাদা সামাজিক সম্প্রীতি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। ২৪শে জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে সদস্য রাখা হয়েছে ২৪ জনকে। সংশ্লিষ্ট উপজেলার সংসদ সদস্যকে রাখা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ওই কমিটির উপদেষ্টা হবেন। ১৪ সদস্যের ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রধান হবেন। সদস্যসচিব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কমিটির সদস্যরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় সম্প্রীতি সমাবেশ করবেন
ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় প্রচার কার্যক্রম চালাবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে মানুষকে সচেতন করে তুলবেন। মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমিটি সহযোগিতা করবে।










