বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায়।
জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার হোন্ডা তারো এবং জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সি (জাইকা) প্রেসিডেন্ট তানাকা আকিহিতো রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে জাপানের সহায়তা চেয়েছেন।
‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে এবং তারা এখন আমাদের জন্য বোঝা হয়ে উঠেছে,’ তিনি যোগ করেন।
জবাবে জাপানের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার হোন্ডা তারো বলেন, তাঁরাও রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রত্যাবাসন চান।
তিনি যোগ করেন, ‘জাপান রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায় এবং তাঁরা (জাপান) এই ইস্যুতে বাংলাদেশকে সমর্থন করছে।’
বাংলাদেশ ও জাপানের উভয় নেতাই দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জাপানের নেতা ও জাইকা প্রেসিডেন্ট নিজস্ব অর্থায়নে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সেতুটি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু ও যমুনা নদীর ওপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতু দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলকে দেশের অবশিষ্ট অংশের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, মহেশখালীতে কয়লাচালিত মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল, যা বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষভাবে সহায়ক হবে।
জবাবে, জাইকা তিনটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সর্বাত্মক সহায়তার প্রশংসা করে।
জাপানের নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তোরণেরও প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ ও জাপান উভয় নেতাই ২০১৪ সালে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বাংলাদেশে সফরের কথা স্মরণ করেন।
শেখ হাসিনা শিনজো আবের হত্যাকান্ডের নিন্দা করেন এবং তাঁকে বাংলাদেশের একজন মহান বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেন।
জাপানের নেতা বলেন, শিনজো আবের বাংলাদেশ সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি ব্যাপক অংশীদারিত্বে উন্নীত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাপান সফর আজকের বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছিল।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জাপানের আর্থ-সামাজিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একজন প্রশংসক ছিলেন এবং তিনি একটি কৃষিভিত্তিক দেশকে শিল্পোন্নত দেশে রূপান্তরের জন্য জাপানি মডেলের অনুকরণ করতে চেয়েছিলেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি উপস্থিত ছিলেন।বাসস।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে জাপানের সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
এমন কোনো সেক্টর খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগের, যেখানে বিচারপ্রার্থী জনগণ ভোগান্তিহীনভাবে দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন।
তিনি বলেন, তাঁর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বেশকিছু সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের জন্য অত্যাধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করছে। তিনি আরো উল্লেখ করেন ‘যার অন্যতম উদাহরণ ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাঙ্গামাটি সিজেএম আদালত ভবন। এ ভবনের নির্মাণ ব্যয়, নির্মাণ শৈলী, আয়তন এবং সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করলে নিশ্চয়ই বলা যায় এটি একটি অত্যাধুনিক স্থাপনা। এই স্থাপনা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙ্গামাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।’
মন্ত্রী রোববার ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে রাঙ্গামাটিতে নবনির্মিত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আজ রাঙ্গামাটিতে যে আদালত ভবন উদ্বোধন করা হলো তা বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের একটি খন্ডচিত্র মাত্র। বর্তমানে বাংলাদেশের এমন কোন সেক্টর খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে তাঁর সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বৃটিশ আমল, পাকিস্তান আমল এবং জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলে বিচার বিভাগের যে উন্নয়ন হয়েছে তার সবগুলো যোগ করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়কালের উন্নয়নের সমান হবে না। এটি নিছক মুখের কথা নয়। উন্নয়নের তথ্য-পরিসংখ্যান তাই বলে।’
মন্ত্রী বলেন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসীর স্থান সংকুলানের জন্য সরকার প্রত্যেক জেলা শহরে আট বা দশতলা বিশিষ্ট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর প্রথম পর্যায়ে ২,৪৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪২টি জেলায় সিজেএম আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩টি জেলায় নির্মিত সিজেএম আদালত ভবন ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। অবশিষ্ট জেলাগুলোতে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন অপরিহার্য। এই বিশ্বাস ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিচার বিভাগের ডিজিটাইজেশনে আইনি পদক্ষেপসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আদালত কর্তৃক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০ প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ সপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল কোর্ট প্রবর্তন- বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ডিজিটাইজেশনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আইনমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপের সুফল জনগণ ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করেছে। তদুপরি স্বপ্নের ডিজিটাল বিচার বিভাগ বিনির্মাণে আমাদের আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পুরো বিচার ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনার জন্য ২২০০ কোটি টাকার ই-জুডিসিয়ালি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক বিকাশ কুমার সাহা, রাঙ্গামাটির জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ফারুক প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আল বদর কমান্ডার রজব আলী গ্রেপ্তার
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলবদর নেতা কে এম আমিনুল হক ওরফে রজব আলীকে (৬৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শনিবার রাতে রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, আমিনুল হক ছিলেন আত্মস্বীকৃত আলবদর। ‘আমি আলবদর বলছি’ নামে একটি বই তিনি প্রকাশ করেছিলেন। ওই বইয়ে তার মানবতাবিরোধী অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগের আত্মস্বীকৃতি রয়েছে বলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর আমিনুল হকের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়। ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করে। ২০১৬ সালের ১৮ মে ট্রাইব্যুনাল আমিনুল হকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মানবতাবিরোধী অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে রায় দেন। এর আগে থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
খন্দকার আল মঈন আরও জানান, স্বঘোষিত এই আলবদর নেতার বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের আলীনগরে। তিনি মৃত কে এইচ এম এ গনির ছেলে। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে অষ্টগ্রাম থানা এলাকায় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ প্রমাণিত হয় ট্রাইব্যুনালে।
আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুসারে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থানার আলীনগর গ্রামের রজব আলী ১৯৭০ সালে ভৈরব হাজী হাসমত আলী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় ইসলামী ছাত্র সংঘের কলেজ শাখার সভাপতি হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে ভৈরবে পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তিনি অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে এলাকায় ফিরে আলবদর বাহিনী গঠন করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক হয়েছিলেন রজব। ১৯৭২ সালে তার বিরুদ্ধে দালাল আইনে তিনটি মামলা হয়েছিল, যাতে তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। কিন্তু দালাল আইন বাতিলের সুযোগে ১৯৮১ সালে রজব ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন। পরে ‘আমি আলবদর বলছি’ নামে একটি বই তিনি প্রকাশ করেন।
পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণের : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণে তার পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, এর সব কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণের। তিনি বলেন, ‘এভাবে আমার পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণের কাছে সত্যিই কৃতজ্ঞ। তাদের শক্তি (আমার জন্য) সবচেয়ে বড় শক্তি।’ রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সকলের উদ্দেশ্যে এ শুভেচ্ছা জানান। তিনি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় সভাপতিত্ব করেন। শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সহকর্মী এবং কর্মকর্তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছার উত্তরে বলেন, ‘এই শুভেচ্ছা আমার দেশের জনগণের জন্য। আমার জন্য নয়, বাংলাদেশের মানুষের জন্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রমত্তা পদ্মার বুকে সেতু তৈরী করাটাই একটি ইতিহাস। সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী এবং সচিব যারা ছিলেন অর্থ বরাদ্দে এতটুকু কার্পণ্য করেননি বরং কিভাবে আমরা নিজেদের টাকায় করতে পারি সে জিনিসটি আরো সহজ করে দিয়েছেন।
তিনি এজন্য অর্থমন্ত্রণালয়সহ কেবিনেট এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ২০১২ সাল থেকেই তো এই যুদ্ধ শুরু। কত অপবাদ, ষড়যন্ত্র এরজন্য মোকাবিলা করতে হয়েছে। আর সব থেকে দুঃখজনক যে আরো আগে সেতুর কাজ শুরু করা গেলে আরো আগেই শেষ করা সম্ভব হতো।
তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় আমার কাছে অবাক লাগে আমাদের কিছু অর্থনীতিবিদ এবং জ্ঞানী-গুণীরা যে বলেছিল- এটা ভায়াবল হবে না, কে এখান দিয়ে চলবে, কোনো টাকা উঠবে না। কিন্তু এখন কি দেখা যাচ্ছে?
এরফলে মানুষের জীবন-জীবিকার আমুল পরিবর্তন ঘটবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু তৈরীর আগে প্রতিবছরই উত্তরবঙ্গে মঙ্গা দেখা দিত অথচ এই একটি সেতু নির্মাণের পর সেখানের মঙ্গা আর নেই। সেখানে পদ্মা সেতু দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সাপ্লাই চেইন স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইলিশের মওসুম এসে যাওয়ায় রাজধানীতে বসেই তাজা ইলিশ প্রাপ্তিও সম্ভব হবে, অন্যদিকে জেলেরাও লাভবান হবে, বলেন তিনি।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের একটা বিরাট মাইলফলক। সেতু নির্মাণের শুরুতে বিশ্ব ব্যাংকের মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটা কখনোই গ্রহণযোগ্য ছিল না এবং এরপরেই ঘোষণা দিলাম নিজের টাকাতেই পদ্মা সেতু করবো, অন্যের টাকা নেব না। বাসস।
পাকিস্তানে সেনাবাহিনীকে কটাক্ষ করায় মারধর ও লাঞ্ছনা বর্ষীয়ান সাংবাদিককে
পাকিস্তানের সেনা কর্তারা আসলে ‘ব্যবসায়ী’। এমনই কটাক্ষ করার জন্য দেশটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আয়াজ আমিরকে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে মারধর করেছে অজ্ঞাতরা। মারধর করার পাশাপাশি ছিঁড়ে দেয়া হয় তার পোশাক। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তাঁর মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে পাকিস্তানে কীভাবে ফ্যাসিজম চরম আকার ধারণ করেছে।
গত বৃহস্পতিবার একটি সেমিনারে অংশ নিয়েছিলেন ওই সাংবাদিক। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি। পাকিস্তানের সেনাকর্তাদের ‘ব্যবসায়ী’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া দীর্ঘ ৬ বছর ধরেই পদে রয়েছেন। এবং এরপরও তিনি ‘এক্সটেনশনে’র অপেক্ষায় রয়েছেন।
এরপরই বিতর্ক চরমে ওঠে। আর তার জেরেই হামলার সম্মুখীন হতে হয় আমিরকে। তিনি জানিয়েছেন, আততায়ীদের মুখে কাপড় বাঁধা ছিল। তারা তাঁকে গাড়ি থামাতে বাধ্য করেন। তারপর গাড়ি থেকে বের করে এনে বেধড়ক মারধর করেন। ছিঁড়ে দেয়া হয় তাঁর পোশাক। পাশাপাশি তাঁর ফোন, ওয়ালেটও ছিনিয়ে নেয় তারা। রাস্তায় ততক্ষণে ভিড় জমতে শুরু করেছে। বেগতিক দেখে দ্রুত সেখান থেকে চম্পট দেয় আততায়ীরা।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ইমরান খান। তিনি জানিয়েছেন, ”আমি কড়া ভাষায় এই ধরনের হামলার নিন্দা করছি। পাকিস্তান অত্যন্ত খারাপ ধরনের ফ্যাসিজমের মধ্যে দিয়ে চলেছে। সাংবাদিক, বিরোধী রাজনীতিক ও আমজনতার বিরুদ্ধে এফআইআর হচ্ছে।
তবে ইমরান আমিরের পাশে দাঁড়ালেও বৃহস্পতিবারের সভায় কিন্তু আমির আগের সরকারকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত ইমরান সরকারের ভুলের কারণেই এপ্রিলে সরকার পড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্য়মন্ত্রী হামজা শেহবাজ তদন্তের নির্দেশ দিলেও এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। ডন/সংবাদ প্রতিদিন।
ভিসা থাকলে ৩ মাসের মধ্যে ভারতে পুনরায় প্রবেশ করা যাবে না খবরটি ভিত্তিহীন
মাল্টিপোল এন্ট্রি ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের পেট্রাপোল দিয়ে তিন মাসের মধ্যে ভারতে পুনরায় প্রবেশ করা যাবে না বলে যে খবর বেরিয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। রোববার (৩ জুলাই) ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।
এতে উল্লেখ করা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু প্রতিবেদন মিথ্যা দাবি করছে যে মাল্টিপোল এন্ট্রি ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের পেট্রাপোল দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না যদি তাদের পূর্ববর্তী ভারত সফর তাদের বর্তমান ভ্রমণের আগের তিন মাসের মধ্যে হয়। ভারতীয় হাইকমিশন স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মাল্টিপোল এন্ট্রি ভিসাধারী বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সড়ক, রেল বা আকাশপথে ভারতে প্রবেশ-সংক্রান্ত নিয়মনীতিতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। বাংলাদেশি বন্ধুদের সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ধরনের মিথ্যা পোস্ট এড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি সোহরাব উদ্দিন, মহাসচিব খোরশেদ আলম
অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলমকে মহাসচিব করে আগামী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের(বিটিএলএ) কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এই সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশনার ও ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ মল্লিক, বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব ও ও ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু আমজাদ, ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাকারিয়া খান স্বপন । এছাড়াও সভায় দেশের সকল ট্যাক্সেস বার থেকে আগত বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নতুন আয়কর আইনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আদলে একটি ট্যাক্স কাউন্সিল গঠনের উপর জোর দাবি জানান আইনজীবী নেতারা। বিজ্ঞপ্তি।
সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরু
সাপ্তাহিক ছুটি, পবিত্র ঈদুল আজহার সরকার ঘোষিত ছুটি ও অবকাশ মিলিয়ে রোববার থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত এই অবকাশ চলবে।
এ সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের ৯টি অবকাশকালীন বেঞ্চে অবকাশকালীন বিচার কার্যক্রম চলবে। এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট বিচারিক এখতিয়ার দিয়ে এসব বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি।অবকাশকালীন বিচারপতিদের তালিকা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
একই সময়ে আপিল বিভাগে জরুরি বিষয়াদি নিষ্পত্তির জন্য চেম্বার জজ হিসেবে বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ আগামী ৫ জুলাই, ৬ জুলাই, ১৩ জুলাই এবং ১৮ জুলাই চেম্বার আদালতে বিচারকাজ পরিচালনা করবেন।
৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস
বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট সংসদে পাস করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন’ শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।
বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯ টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।
এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ১৩ জন সংসদ সদস্য মোট ৬৬৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগ ৪টি মঞ্জুরী দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।
ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, পনির উদ্দিন আহমেদ, মজিবুল হক, রওশন আরা মান্নান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, রুমিন ফারহানা, গণফোরামের মোক্কাবির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।
এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২ পাসের মাধ্যমে ২০২২- ২৩ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।
এর আগে গতকাল ২৯ জুন সংসদে অর্থ বিল ২০২২ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আর্থিক ও কর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুমোদন করা হয়।
এদিকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।
বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত ১৮ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতিত প্রাপ্তি ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫.৫ শতাংশ। ২০২১-২২অর্থ বছরের বাজেটে ঘাটতি ছিল জিডিপির ৬.২ শতাংশ।
এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ঋণ পরিশোধ খাতে ১৭ হাজার কোটি রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.০৫ শতাংশ; এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৮৬০ কোটি টাকা বা ২৯.৬২ শতাংশ; যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার ৭৯৮ কোটি; যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৭৯ হাজার ২৬ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২২.৫৯ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭.৮৪ শতাংশ; সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১.৮৫ শতাংশ; নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.০৪ শতাংশ।
বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।বাসস।
শেষ দিনে উত্তপ্ত সংসদ: নির্বাচন নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দল সদস্যদের তুমুল বিতর্ক
শেষ হলো সংসদের বাজেট অধিবেশন। আর শেষ দিনের অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং বিরোধীদলের কয়েকজন সদস্যের তর্ক বিতর্কের মধ্যে দিয়ে। আর এর মধ্যে দিয়ে অনেক দিন পর মনে হলো প্রাণবন্ত একটি সংসদ।
শেষ দিনের অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্যরা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি উত্থাপন করলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্পষ্ট জানিয়ে দেন এটা আর ফিরে আসবে না। কারণ উচ্চ আদালতের নির্দেশে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে। সরকার আদালতের রায় অমান্য করতে পারে না।
বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা চলতি অধিবেশনকে বাজেট অধিবেশন না বলে ‘পদ্মা অধিবেশন’ নামকরণ করাসহ নানা সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছিলেন। অধিবেশনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে রুমিন ফারহানার ছাঁটাই প্রস্তাবের বক্তব্যের জবাব দেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা নাকি এখানে (সংসদে) খালেদা জিয়াকে বকাবকি করি। আমরা নাকি পদ্মা সেতু নিয়ে বেশি বেশি কথা বলছি। এটা নাকি ছিল সংসদের কাজ। আমরা এই সংসদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আলাপ করেছি। পদ্মা সেতু অবকোর্স বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট অ্যাচিভমেন্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দেয়ার পরে যদি কোন ঐতিহাসিক তৎপর্যপূর্ণ স্থাপনা হয়ে থাকে, সেটা হচ্ছে পদ্মা সেতু।
পদ্মা সেতুকে স্বাধীনতার পর দেশের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অবকাঠামো উল্লেখ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পদ্মা সেতু নিয়ে কথা বলবো না কী নিয়ে কথা বলবো? আমরা কি উনার (রুমিন ফারহানা) কাপড়-চোপড় নিয়ে কথা বলবো? আমি তো তা করবো না।’
পরে জননিরাপত্তা বিভাগের বরাদ্দের ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘যুক্তিবিদ্যার সবচেয়ে বড় ফ্যালাসি হচ্ছে যখন কোন যুক্তি থাকে না, তখন ব্যক্তিগত আক্রমণ করা। যখন যুক্তি থাকে না, তখন ব্যক্তিগত আক্রমণ আসে। উনি যুক্তি না পেয়ে আমার পোশাক নিয়ে আলোচনা হবে কিনা, এমন অভব্য বক্তব্য দিয়েছেন, যা আমরা আইনমন্ত্রীর কাছে আশা করি না। প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, সংসদের স্পিকার একজন নারী। এই বক্তব্য পুরো সংসদের জন্য লজ্জার।’
উচ্চ আদালতে জামিন জালিয়াতি প্রসঙ্গ:
উচ্চ আদালতে জামিন জালিয়াতির কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় একের পর এক জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটার তথ্য সঠিক নয়। সংসদের প্রশ্নোত্তরে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, উপযুক্ত বিচার না হওয়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একের পর এক জামিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে, এমন তথ্য সঠিক নয়। উচ্চ আদালতে জামিন জালিয়াতির কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অনভিপ্রেত জামিন জালিয়াতি বন্ধে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত করে ফৌজদারি আইনে বিচারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কাজিম উদ্দিন আহমেদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত নকল নবিশ সংখ্যা ১৬ হাজার ২৪৫ জন। নকল নবিশদের চাকরি রাজস্ব খাতে ন্যস্ত করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হবে।
নির্বাচন নিয়ে সংসদে বিতর্ক :
বাজেটের মঞ্জুরি দাবির উপর আলোচনার সময় নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও বিতর্ক হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। বিএনপির সদস্যরা তুলেছেন নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি। তার জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আদালতের রায়ের বাইরে গিয়ে নির্দলীয় সরকার আনার কোনো সুযোগ নেই।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের এখনও দেড় বছর বাকি থাকলেও নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের পর সেই নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা চলছে।
বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির উপর আলোচনায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বরাদ্দের দাবি নিষ্পত্তির সময় নির্বাচন কমিশনের প্রসঙ্গ আসে।
জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, “সুষ্ঠু ভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা (ইসি) এখন দন্তহীন বাঘ।”

“নির্বাচন কমিশন যত শক্তিশালী হবে তত্ত্বাবধায় সরকারের দাবি তত যৌক্তিকতা হারাবে,” মন্তব্য করে ইসির অধীনে ‘নির্বাচনী পুলিশ’ গঠনের প্রস্তাব করেন শামীম হায়দার।
জাতীয় পার্টির সদস্য রওশন আরা মান্নান বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে কাজ করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
গত ১০ বছরে নির্বাচন কমিশনের উপর মানুষের ‘অনাস্থা তৈরি হয়েছে’ দাবি করে বিএনপির হারুনুর রশীদ কটাক্ষ করে নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ অর্থ প্রশাসন ও পুলিশকে দেয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, “এখন নির্বাচন কমিশন নির্বাচন করে না। নির্বাচন করে প্রশাসন।” সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে কোনভাবেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপির হারুন।
ইভিএমের বিরোধিতা করে বলেন, “সাবেক সিইসি নূরুল হুদা এখন বলছেন, ইভিএমে কিছু ত্রুটি আছে। তাহলে তিনি কেন ইভিএমে নির্বাচন করলেন? একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, গোপন কক্ষে থাকা ডাকাত বড় চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ ছাড়া কেউ ইভিএম চায় না।
“আওয়ামী লীগ এক সময় বলেছিল, আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। এখন বিএনপিকে ছাড়া কি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে? পারবেন না। বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনবেন সেটা বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে অবশ্যই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। সে জন্য নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ সরকার ক্ষমতায় থাকতে হবে।”
বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, “যখন দেশে নির্বাচন থাকে তখন নির্বাচন কমিশনের প্রশ্ন আসে। যদি নির্বাচন না থাকে, দিনের ভোট রাতে হয়, তখন নির্বাচন কমিশন দিয়ে কী হবে?

“এখন নির্বাচন মল্লযুদ্ধ। সিইসি বলেছেন, ভোটের মাঠে বিএনপিকে জেলেনস্কির মতো মাঠে থাকতে হবে। ভোট কি যুদ্ধ? একজন নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, গোপন বুথে ডাকাত বড় চ্যালেঞ্জ। এই ডাকাত শুধু দলীয় ডাকাত নয়। পুলিশ প্রশাসনও এই ডাকাতি করে। এই ডাকাতির পর যেভাবে পুরস্কৃত করা হয় ভবিষ্যতে ডাকাত আরও বাড়বে।”
রুমিন বলেন, “সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীনকে পুরস্কার হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। অবসরে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে তিনি ইউরোপ সফরে যান। সে সফরের অভিজ্ঞতা তিনি অবসর জীবনে কাজে লাগাবেন। এভাবে পুরস্কৃত করতে থাকলে বিনা ভোটে সংসদ গঠন চলতেই থাকবে।”
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সেখানে একজন সংসদ সদস্যকে নির্বাচন কমিশন সামাল দিতে পারেনি। তার হুমকি-ধমকি সহ্য করতে পারেনি। বারবার অনুরোধ করে তাকে এলাকা থেকে সরাতে পারেনি। যে কমিশন একজন সংসদ সদস্যকে সামলাতে পারে না তারা জাতীয় নির্বাচনে তিনশ সংসদ সদস্যকে কীভাবে সামলাবেন?”
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, “আওয়ামী লীগের একটি পুরনো খেলা আছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকলে তার আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো মোটামুটি সুষ্ঠু করা হয়। ২০১৪ সালেও এই খেলা দেখা গেছে।”
জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, “ইভিএমের কোনো দোষ নেই। যারা ইভিএমে প্রভাব খাটায় ব্যালটেও তারা প্রভাব খাটাতে পারে। এ বিষয়টি বন্ধ করতে হবে।”
একই দলের জ্যেষ্ঠ নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, “নির্বাচন করে রাজনৈতিক দলগুলো। তারা যদি সুষ্ঠু পরিবেশ করে দিতে না পারে তাহলে নির্বাচন কমিশন ঢাকায় বসে কিছুই করতে পারবে না। সবাই নির্বাচনে জিততে চায়। এখানে কোনো এথিকস মানে না। যেদিকে শক্তি বেশি থাকে, স্থানীয় প্রশাসনও সেদিকে চলে যায়।

“আসলে নির্বাচন কমিশনসহ কোনো কমিশনই স্বাধীন নয়। সব সরকারের আমলেই এটি হয়েছে, এটি চলতেই থাকবে।”
গণফোরামের মোকাব্বির খান বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার মূল কারণ তারা (ইসি) সরকারের আজ্ঞাবহ। চারটি দল শুধু ইভিএমের পক্ষে আর বেশিরভাগই বিপক্ষে। আজ্ঞাবহ না হয়ে নির্বাচন কমিশনকে জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইভিএম বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।”
বিরোধী সদস্যদের আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এখানকার আসনে বসে বলছেন নির্বাচন হয় না। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, উনি সংসদে গেলেন কীভাবে? এর জবাব উনি দেবেন।”
বিএনপি আমলে ভোটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ভোট কীভাবে হয়েছে, তা আমরা দেখেছি। ওই সময় কারও ভোট কেন্দ্রে যাওয়া লাগত না, ভোট হয়ে যেত। আজিজ মার্কা নির্বাচন কমিশন তাদের (বিএনপি) ছিল। মাগুরার ভোটের কথাও সবাই জানে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি কী করেছে, এগুলো কি উনারা ভুল গেছেন?”
বিএনপির সদস্যদের নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ ছাঁটাই করে এক টাকা দেওয়ার প্রস্তাবের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “উনারা বলেছেন এক টাকা দিতে। উনারা পারবেন এক টাকা দিয়ে কোনো নির্বাচন করে দিতে? পারবেন না। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের টাকা লাগবে। নির্বাচন কমিশন তার অর্থ ব্যয়ে পুরোপুরি স্বাধীন।”
অবসরের দুই দিন আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীনের বিদেশ সফর বিষয়ে রুমিন ফাহানার অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “বিদেশের আমন্ত্রণে মন্ত্রী মহোদয় এবং সচিব টিম নিয়ে ডেল্টা প্লান বিষয়ে গিয়েছিলেন। তারা সেখান থেকে শিখে এসেছেন। এটা হয়েছে বিদেশি সরকারের ব্যবস্থাপনায়। তখন তিনি সচিব ছিলেন। এখানে কি কোনো অন্যায় আছে? জানি না, উনি কোথা থেকে অন্যায় দেখলেন।”
নির্বাচন কমিশন আইন তৈরির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আনিসুল হক বলেন, “এখন বিএনপির দাবি হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হতে হবে, তাহলে উনারা ভোটে আসবে। এই সংসদে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্ববধায়ক সরকারকে অবৈধ ঘোষণা দিয়েছে। উচ্চ আদালতের এই রায়ের এক সুতাও বাইরে সরকার যাবে না।
“বিএনপি সদস্যরা বার বার বলছেন, তাদেরকে নির্বাচনে আনতে হবে। তারা কি পাকিস্তানে থাকে যে সেখান থেকে ডেকে আনতে হবে? তারা তো বাংলাদেশে থাকে। উনারা নির্বাচন করতে চাইলেই নির্বাচন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে প্লেইং ফিল্ড দরকার সেটা করা হবে। তার এ পদক্ষেপ হচ্ছে নির্বাচন কমিশন গঠন আইন। সেটা করা হয়েছে।”
পরে আরেকটি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ছাঁটাই প্রস্তাব তুলতে গিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বিএনপির হারুন বলেন, “বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে বলিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন।
“বিএনপি নির্বাচনে না এলে নির্বাচন জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। ফাঁকা মাঠে গোল দেয়াতে কোনো কৃতিত্ব নেই। মাঠে মূল প্লেয়ার দুটা, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। দুই দলকেই মাঠে রাখতে হবে।”











