ঢাকা   , ,     

Home Blog Page 35

অপসাংবাদিকতা করলে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আইনের খসড়ায় মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন

0

সাংবাদিকরা অন্যায় করলে প্রেস কাউন্সিল ১০ লাখ টাকা জরিমানা করতে পারবে এমন বিধান রেখে আইনের খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে ,অপসাংবাদিকতা করলে সংবাদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার ক্ষমতা পাবে প্রেস কাউন্সিল। এই বিধান রেখে ‘প্রেস কাউন্সিল (সংশোধন) আইন-২০২২’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা এ আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘খসড়া আইনে অপসাংবাদিকতার জন্য সংবাদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ডের কথা রাখা হয়েছে। আগে প্রেস কাউন্সিল শুধু তিরস্কার করতে পারত।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এই জরিমানার বিধান প্রিন্ট ও ডিজিটাল সব সংবাদমাধ্যমের জন্যই প্রযোজ্য হবে। গত ১৫ জুন রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেন, সাংবাদিকরা অন্যায় করলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে আইন হচ্ছে।
নতুন আইন সম্পর্কে বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেন, ‘নতুন আইনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এক দিনের জেলের পক্ষপাতী। জেলে গেলে তার মনে হবে যে আমার কাজটা অন্যায় হয়েছিল। আর করা যাবে না। এই আইনটা কেবিনেটে আছে। আশা করছি, আগামী সংসদেই পাস হয়ে যাবে।’ তবে তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছিলেন এমন কোনো আইন করা হবে না। সাংবাদিকরাও এই আইনের বিরোধিতা করে আসছেন। এটা সাংবাদিকতার উপর নতুন কালাকানুন বলে মনে করেন তারা।

জেসিসি বৈঠক: সাইবার নিরাপত্তা ও অভিন্ন নদ-নদীর ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ঢাকা-দিল্লী ঐকমত্য

0

বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন নদ-নদী, পানি ব্যবস্থাপনা, সাইবার সিকিউরিটি, জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা জোরদারে ঘনিষ্টভাবে কাজ করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে।
বৈঠকের ফলাফলের বিষয়ে দেয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যায় দিল্লীতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জেসিসি) সপ্তম দফা বৈঠকে এ সম্মতি জ্ঞাপন করা হয়।
বৈঠকের পর দেয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর নগরীর হায়দারাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।
মহামারি করোনাভাইরাস শুরুর পর এটি সশরীরে অংশ নেয়া প্রথম বৈঠক। আগের বৈঠকটি ২০২০ সালে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই মন্ত্রী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে উভয় দেশে অভিন্ন ত্যাগের কথা গুরুত্বসহকারে স্মরণ করেন, যার মধ্যদিয়ে কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রচলিত বিশ্বাস অতিক্রম করে দু’দেশের মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে ।
তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, মহামারি করোনাভাইরাসের চ্যালেঞ্জ দেখা দেওয়া সত্ত্বেও উভয় দেশ নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ঘনিষ্টভাবে কাজ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুই মন্ত্রী প্রশংসা করে বলেন, দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল, যা গত দশকে এ দু’দেশের মধ্যে কেবলমাত্র অভিন্ন বিশ্বাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমে জোরদার হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তারা ২০২২ সালের মে মাসে কান চলচ্চিত্র উৎসবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর যৌথভাবে প্রযোজিত বায়োপিক ‘মুজিব- মেকিং অব অ্যা নেশন’র ট্রেইলার প্রদর্শন উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করেন।
উভয় মন্ত্রী উচ্চ পর্যায়ের সফরের প্রশংসা করে বলেন, এক্ষেত্রে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক কর্ম-কৌশলের মাধ্যমে অনেক কাজ এবং তারা নিয়মিতভাবে আরো জোরদার অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে সম্মত হন।
এ ব্যাপারে উভয় মন্ত্রী সহযোগিতা জোরদারে তাদের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক স্বার্থের জন্য বিভিন্ন বিষয় মোকাবেলা এবং স্থায়ী সমাধান খঁজে বের করার ব্যাপারে আরও গুরুত্ব দেন।
রোহিঙ্গা ইস্যুর কথা উল্লেখ করে উভয় পক্ষ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত সেদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিয়ে দ্রুত ও স্থায়ীভাবে ফেরত নেওয়ার গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
দুই দেশের মধ্যে চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় থাকার কথা উল্লেখ করে তারা নেতাদের সিদ্ধান্ত দ্রুততার সাথে বাস্তবায়নে ঘনিষ্ট সহযোগিতার এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সকল ক্ষেত্রে পারস্পরিক কার্যক্রম জোরদারের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
নয়াদিল্লী সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি এম. ভেঙ্কাইয়া নাইডু ও ভারত সরকারের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ জেসিসি’র অষ্টম বৈঠক আগামী বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। বাসস।

কুমিল্লায় এক ফোনে ফল পাল্টে দেয়া অসম্ভব ও গুজব-সিইসি

0

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কোনো বিপর্যয় দেখিনি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা রাত ৮টা পর্যন্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছি। কোনো বিপর্যয় দেখিনি। সিসিটিভি’র মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি দেখছিলাম। একটা ফোনে ফলাফল পাল্টে গেলো এমন কথা শোনা যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে একটা ফোনে বক্তব্য পাল্টে যায় এটা একেবারেই অসম্ভব। একটা বা দুইটা টেলিফোন আমি নিজেও করেছিলাম। রিটার্নিং অফিসার আমাকে খুব বিমর্ষ অবস্থায় ফোন করে বললেন, ‘ স্যার, আমি বিপদে পড়েছি’। আমি সেখানে প্রচন্ড শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। ভাবলাম তাকে মারধর করা হচ্ছে।’
সিইসি বলেন, ‘এরপর আমি ডিসি-এসপিকে ফোন করেছিলাম। তারা তখন জানালেন তাৎক্ষণিক বিষয়টি দেখছেন। এরপর রিটার্নিং অফিসারকে বললাম সমস্যা হবে না। পরে তিনি জানালেন পুলিশ এসেছে মানুষ সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিচ্ছৃঙ্খল ঘটনা মাত্র ১৫ মিনিট ছিল। কোনোভাবেই ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। এর পর রিটার্নিং অফিসার স্বাচ্ছন্দ্যে ফল ঘোষণা করলেন সেটা আমরা দেখেছি।’
তিনি বলেন, ‘একটা ফোনে ফল পাল্টে গেলো এটা- একজন বলার পর হাজার মানুষ তাই বললো। আসলে আমাদের দেশের কালচারই এটা, এটা একটা গুজব। মেশিনের ফল অথবা হাতের রেজাল্ট আমরা ওয়েবসাইটে তুলে দিয়েছি। এমন ঘটনা ঘটেনি।’
ফল প্রকাশের সময় মিছিল হওয়ার বিষয়ে সিইসি বলেন, মানুষের আবেগ উচ্ছ্বাসের কারণে মিছিল হয়েছে। এটা আমাদের কাছে অনাকাক্সিক্ষত, কিন্তু তাদের কাছে কাক্সিক্ষত। তারা উচ্ছ্বাসের কারণেই এটা করেছেন।
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি, বিনীত অনুরোধ করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বাহাউদ্দিনকে প্রকাশ্যে প্রচারণায় অংশ নিতে দেখিনি। কিন্তু কেউ কেউ বলছেন উনি কৌশলে অংশ নিয়েছেন। আমাদের একটা প্রত্যাশা ছিল উনাকে যদি অনুরোধ করি তাহলে আর কথা উঠবে না। নির্বাচন কমিশন কাউকে এলাকা ত্যাগ করার আদেশ দিতে পারে না।’
সিইসি বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী উনি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাতে সন্দেহ নেই। আমরা তাকে এলাকা ত্যাগ করার আদেশ করিনি। তাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করেছিলাম, সেই চিঠি আছে। কিন্তু চারদিকে ছড়িয়ে গেলো আদেশ করার পরও তিনি প্রতিপালন করতে পারলেন না। এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়। সংসদ সদস্য কেন, কোনো সাধারণ মানুষকেও এলাকা ত্যাগ করার আদেশ দিতে পারে না নির্বাচন কমিশন।
তিনি বলেন, এর আগে বলা হয়েছিল একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী গিয়েছিলেন তাকে এক ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ত্যাগ করাতে পেরেছিলাম। সেটা ভিন্ন কথা। সেই মন্ত্রী ছিলেন বহিরাগত। আর বাহাউদ্দিনের তো ওটা স্থায়ী ঠিকানা। একজন মানুষ তার বাড়িতে থাকতে পারবে না তা তো নয়। হয়তো উনি ডিস্টার্ব করছেন বা কৌশলে প্রচারণা চালিয়েছেন। সেজন্য তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল। আমরা আইনকানুন দেখে চিঠি দিয়েছিলাম।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, বাহাউদ্দিন সাহেব কোনো আইন ভঙ্গ করেননি। অভিযোগ আসছিল তিনি গোপনে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাই তাকে অনুরোধ করেছি। তবে উনি চলে গেলে হয়তো ভালো হতো।
মতবিনিময় সভায় নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান, মো. আলমগীর ও ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার উপস্থিত ছিলেন। বাসস।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল ২২ বছর পর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার

0

২০০০ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক ব্যক্তিকে রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
গ্রেপ্তার শেখ মো. এনামুল হক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার বাসিন্দা। তিনি কোটালীপাড়ায় ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শনিবার (১৮ জুন) রাতে,তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব সদরদপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, “একটি অভিযানের সময় শেখ মো. এনামুল হককে উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের রায় ঘোষণার পর থেকেই এনামুল হক পলাতক ছিলেন।”
২০০০ সালের ২০ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি দোকানের সামনে ৭৬ কেজি ওজনের একটি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানে ২২ জুলাই এক সমাবেশে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। এছাড়া, ২০০০ সালের ২৩ জুলাই কোটালীপাড়া হেলিপ্যাডের কাছে সেনাবাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞ স্কোয়াড ৪০ কেজি ওজনের আরও একটি বোমা উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় তিনটি পৃথক মামলা করা হয়। ২০২১ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার একটি ট্রাইব্যুনাল, ২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যারচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ১৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে শেখ মো. এনামুল হক একজন।

তারেক-জোবাইদা ‘পলাতক’ কি-না, হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত জানা যাবে ২৬ জুন

0

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান পলাতক কি-না এবং তাদের পক্ষে আইনজীবী লড়তে পারবেন কি না; এমন প্রশ্নে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত জানা যাবে আগামী ২৬ জুন।
রবিবার (১৯ জুন) তৃতীয় দিনের মতো শুনানি গ্রহণ শেষে, বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ রায়ের ওই দিন ধার্য করেন।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও হিসাববিবরণীতে সম্পদ গোপন করার অভিযোগে করা মামলা দায়ের ও এর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে তারেক ও তার স্ত্রী জোবাইদা ১৫ বছর আগে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট করেন। তখন হাইকোর্ট রুল দিয়েছিলেন। রুল শুনানির জন্য তারেক রহমানের করা দুটি রিট ও জোবাইদা রহমানের করা একটি রিট গত ২৯ মে হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে।
সেদিন তারেক রহমানের পক্ষে আইনজীবী সময়ের আরজি জানাতে পারেন কি না-তা নিয়ে প্রশ্ন রাখেন দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের আইনজীবী। এরপর ৫ জুন তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমান পলাতক কি না এবং তাদের পক্ষে আইনজীবী লড়তে পারবেন কি না; এমন প্রশ্নে শুনানি হয়। এরপর ১২ জুন ও রবিবার (১৯ জুন) শুনানি হয়।
আদালতে তারেক-জোবাইদার রিটের বিষয়ে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কায়সার কামাল। দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন শুনানিতে অংশ নেন।
শুনানিতে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, “তিনটি মামলায় তারেক রহমান দণ্ডিত হয়েছেন। তার সাজা-পরোয়ানা এখনও ঝুলছে। যদি তিনি দণ্ডিত না হতেন, আর মামলাগুলোর বিচার শেষ না হতো, তাহলে ভিন্ন কথা। তারেক রহমান এ মামলায় পলাতক। একই মামলা বাতিল চেয়ে জোবাইদা রহমানের করা আবেদনের ওপর সর্বশেষ আপিল বিভাগ গত ১৩ এপ্রিল রায় দেন। ঐ রায়ে আপিল বিভাগ বলে দিয়েছেন, জোবাইদা রহমান পলাতক। পলাতক বলে তাদের পক্ষে আইনজীবী শুনানি করতে পারেন না।”
অন্যদিকে, তারেক ও জোবায়দার বিষয়ে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, “মামলাটি ভ্রূণ অবস্থায়। এখনো অভিযোগ আমলে নেয়া হয়নি। তাই আত্মসমর্পণ করার পর্যায়ে আসেনি। জোবাইদা রহমানের ক্ষেত্রে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করা হবে। তাই এ বিষয় নিয়ে বলছি না। তবে, তারেক রহমান যখন রিট করেন, তখন তিনি পলাতক ছিলেন না। কোনো মামলায় কেউ দণ্ডিত হলে বিচারাধীন অপর মামলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পলাতক হয়ে যাবেন; এমন নজির দেখছি না। তারেক রহমান এ মামলায় জামিন পেয়েছেন, যা আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন। তাই এ মামলায় তাকে পলাতক বলা যাবে না।”
এর আগে, শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, “আপিল বিভাগ রায়ে বলে দিয়েছেন, জোবায়দা রহমান পলাতক। এ মামলায় পলাতক হিসেবে বিবেচিত হবেন। ঐ মামলা বাতিল আবেদনে ২০০৮ সালের ৭ এপ্রিল জোবায়দা হাইকোর্টে হাজির হন। পরদিন হাইকোর্ট রুল ও স্থগিতাদেশ দেন। এমন চর্চা করা যাবে না বলে রায়ে বলেছেন আপিল বিভাগ।”
“একই মামলা নিয়ে রিট ও বাতিল আবেদন করা যাবে না। আট সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করতে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের অংশবিশেষ বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ চাইতে হলে তাকে (জোবাইদা) আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এ অবস্থায় আপিল বিভাগের রায় কার্যকর থাকবে। রিট ও বাতিল আবেদনের পরিণতি একই হবে। আপিল বিভাগের অভিমত অনুসারে পলাতক জোবাইদার পক্ষে আইনজীবী লড়তে পারবেন না; জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানিতে আরও বলেন, “এ মামলায় তারেক রহমানকে ২০০৭ সালের ৩১ অক্টোবর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর হয়। রিট দুটির একটিতে লেটার অব অথরিটি (ক্ষমতা অর্পণপত্র) দেয়া হয়েছে ২০০৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। অন্যটিতে ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর, অর্থাৎ গ্রেপ্তার দেখানোর আগে। এখন তিনি পলাতক।”
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে রাজধানীর কাফরুল থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও শাশুড়ি ইকবাল মান্দ বানুকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে, মামলার কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে তারেক ও জোবাইদা এবং সম্পদের হিসাব চেয়ে দেয়া নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে তারেক রহমান একটি রিট করেন।

নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরার দাবিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সমাবেশ

0

নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে, বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পের ২৫টি ক্যাম্পে, ‘গো ব্যাক টু হোম ক্যাম্পেইন’ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা।
রবিবার (১৯ জুন) উখিয়ার ২৩টি ও টেকনাফের দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নির্ধারিত স্থানে, সকাল ৮টা থেকে মানববন্ধন ও মিছিল শেষে সমাবেশ শুরু হয়। এতে ক্যাম্পের প্রতিটি ব্লকের রোহিঙ্গারা অংশ নেন। মিছিল ও সমাবেশের মাধ্যমে, নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে অনুরোধ জানান রোহিঙ্গারা। ‘গো ব্যাক টু হোম’ স্লোগানে এই বিক্ষোভ সমাবেশে নানা বয়সের রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করেন।
২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্বৃত্তের গুলি নিহত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ, একই দাবিতে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন।
এবারের সমাবেশের একক কোনো আয়োজক কিংবা নেতৃত্ব পর্যায়ের কেউ সামনে না এলেও, প্রচারপত্রে আয়োজক হিসেবে নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী লেখা হয়েছে।
রোহিঙ্গাদের রোহিঙ্গা বলেই ডাকা, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে আরাকানের গ্রামে গ্রামে প্রত্যাবাসন, প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত প্রত্যেক চুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, ওআইসি, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বাংলাদেশ, এনজিওসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা, বার্মার ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন বাতিল, সম্পত্তি ফেরত, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকারসহ আরও কিছু দাবি উত্থাপন করা হয় এই বিক্ষোভে।
উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হেড মাঝি মোহাম্মদ হোসেন বলেন, “আমরা নিরাপদ প্রত্যাবাসন চাই এবং আমাদের আশা এবারের সমাবেশটির মাধ্যমে উত্থাপিত রোহিঙ্গাদের যৌক্তিক দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্ব পাবে।”
রোহিঙ্গা ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কিন মং বলেন, “সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আমাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরতে চাই আমরা, সমাবেশে আমরা এই মূল দাবিটাই জানাচ্ছি বিশ্ববাসীর কাছে। বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্বাস দিয়ে মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে, আমরা কৃতজ্ঞ।”
অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা বলেন, “রোহিঙ্গারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়নি।”
ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলায় নিয়োজিত ৮ এপিবিএন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসাইন জানান, “ক্যাম্পের বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংসতায়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা নির্যাতিত হয় এবং তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়। এটা রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে ভয়াবহ দেশত্যাগ হিসেবে বিবেচিত।
নির্যাতিত রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাতদফা দাবি উত্থাপন করেছেন।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সারাদেশেই রাত ৮টার পর দোকান শপিংমল বন্ধ রাখার নির্দেশ

0

বিদ্যুৎ, জ্বালানি সাশ্রয়ে শুধু ঢাকা সিটি করপোরেশনে নয় সারাদেশেইে রাত ৮টার পর দোকানপাট,শপিংমল, বাজার বন্ধ রাখতে সরকার নির্দেশ জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর শনিবার সরকারি সব দফতরকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়। সরকারের এই নির্দশেনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ণ করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে প্রতিদিন রাত ৮টার পর দোকানপাট, শপিংমল, মার্কেট ও বিপণী বিতান বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন।
বিশ্বব্যাপী অব্যাহত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে জারি করা এক চিঠিতে যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাতে জননিরাপত্তা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, কল-কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সব বিভাগীয় কমিশনার, সব রেঞ্জের মতো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের তা পালন করতে বলা হয়েছে। পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক, সকল জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১১৪ ধারা অনুযায়ী কঠোরভাবে আদেশ কার্যকর করার জন্য বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশেনের মেয়র ফজলে নূর তাপস রাজধানীতে যানজট কমাতে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টার পর জরুরী সেবা ছাড়া দোকানপাট বিপণি বিতান বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সারাদশেই এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশনা দেন।

জমি-জমা নিয়ে বিরোধ কমাতে নিবন্ধন ব্যবস্থা ডিজিটাইজড করা হচ্ছে, জানালেন আইনমন্ত্রী

0

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যেখানে টালমাটাল সেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও ভালো আছে বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
শনিবার (১৮ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন (বিআরএসএ) আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি
একথা বলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, একটা দেশ আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকতে ৩ মাসের আমদানী বিল পরিশোধ করার মত রিজার্ভ থাকতে হয়। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও করোনাভাইরাসের অতিমারির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখন অনেক ক্ষেত্রে টালমাটাল। পাকিস্তানের যেখানে ২ মাস এবং শ্রীলঙ্কার মাত্র ১
দিনের আমদানী বিল পরিশোধের সামর্থ্য রয়েছে সেখানে আমাদের বাংলাদেশের সাত থেকে সাড়ে-সাত মাসের আমদানী বিল পরিশোধ করার মত রিজার্ভ রয়েছে। কিন্তু এর পরেও আমরা সতর্ক। আমরা চাই
মিতব্যয়ী হতে। জনগণকে মানসম্মত সেবা প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে এখন বাংলাদেশ বদলে গেছে, এই বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারদের খাপ খাইয়ে চলতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই মামলা জট কমুক। কিন্তু অনেক মামলার শুরু হয় জমি-জমা বিরোধ নিয়ে। এ বিরোধ কমানোর জন্য রেজিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট ডিজিটাইজড করা হচ্ছে। দেশের সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চালু করা সম্ভব হলে জনগণকে দ্রুত রেজিস্ট্রেশন সেবা দেয়া সম্ভব হবে। সাথে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধও কমবে। আনিসুল হক বলেন, দক্ষতার সাথে ই-রেজিস্ট্রেশন সেবা দেয়ার জন্য সাব-রেজিস্ট্রারদেও সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এই বিভাগে এখন পিএসসি থেকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবন বানিয়ে দেয়া হচ্ছে। বিআরএসএ’র দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী নিবন্ধন পরিদপ্তরকে উন্নীত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিআরএস’এর সভাপতি মো. জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, নিবন্ধন অধিদফতরের মহাপরির্শক শহীদুল আলম ঝিনুক, বিআরএসএ’র মহাসচিব মো.জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

সংবিধানে সন্নিবেশিত ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল : হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল

0

সংবিধানে সন্নিবেশিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী এডভোকেট সুবীর নন্দী দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসস’কে বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন- সংবিধানে তা হুবহু দেয়া হয়নি। সংবিধানে সন্নিবেশিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণে শতাধিক ভুল পেয়েছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি।
২০২০ সালের ১০ মার্চ সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ভুলভাবে সন্নিবেশিত হয়েছে কি-না, তা যাচাই করতে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ৭ মার্চের ভাষণের সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিসহ বিশিষ্টজনদের এ কমিটিতে রাখতে বলা হয়েছিল। এছাড়া সংবিধানের পঞ্চম তফসিলে থাকা ভাষণের সঙ্গে এ সংক্রান্ত সকল অডিও-ভিডিও পর্যালোচনা করে, একটি প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। একইসঙ্গে সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সঠিক ভাষণ কেন অন্তর্ভুক্ত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
২০২০ সালের ৫ মার্চ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাস এ রিট দায়ের করেন। রাজবাড়ীর রায়নগর গ্রামের কাশেদ আলীর পক্ষে তিনি এ রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে সংবিধানে থাকা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ভুলটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। পাশাপাশি সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের পূর্ণাঙ্গ ভাষণটি বাংলা ও ইংরেজিতে অন্তর্ভুক্তি চাওয়া হয়। রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়। বাসস।

অবৈধ সম্পদ অর্জন : বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৩০ আগস্ট

0

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এস কে সিনহা) বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য থাকলেও দুদক প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ নতুন এ দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ১০ অক্টোবর দুদক উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদি হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন। মামলায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে নিজের ভাই ও আত্মীয়ের নামে ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করে তা স্থানান্তর ও হস্থান্তরের অভিযোগ আনা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে উত্তরা আবাসিক এলাকায় নিজের নামে একটি প্লট বরাদ্দ নেন। পরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহার নামেও রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে তিন কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ করান।
এরপর তিনি প্রভাব খাটিয়ে তিন কাঠার প্লটটি পাঁচ কাঠায় উন্নীত করান। এক পর্যায়ে পূর্বাচলের প্লটটিকে উত্তরার চার নম্বর সেক্টরের ৬ নম্বর সড়কে (বাড়ি নম্বর ১/এ) স্থানান্তর করিয়ে রাজউকের অনুমোদন করান। বরাদ্দ পাওয়ার পর এসকে সিনহা প্লটটির ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ নিয়োগ করেন তারই আত্মীয় জনৈক শংখজিৎ সিংহকে।
সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নিজেই উত্তরার ওই প্লটের অনুকূলে রাজউকে ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরে তার তত্ত্বাবধানেই ওই প্লটে নয়তলা ভবন নির্মাণ হয়। ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা। নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর মাধ্যমে এ নির্মাণ ব্যয় প্রাক্কলন করে দুদক।
দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজউকের প্লটের মূল্য ৭৫ লাখ টাকা ও ভবনের নির্মাণ ব্যয় ৬ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকাসহ সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা ব্যয় হয়। এর মধ্যে জনৈক খালেদা চৌধুরীর কাছ থেকে ভবনের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির অগ্রিম ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ টাকা বাদে অবশিষ্ট ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকা এবং আত্মীয় শংখজিৎ সিংহের নামে একটি ব্যাংক হিসাবে স্থায়ী ও নগদে ৭৮ লাখ টাকা জমা পাওয়া গেছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মোট ৭ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ৮৬৫ টাকার সম্পদ অর্জন করে ভাই ও আত্মীয়ের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্থান্তর করেন। এ সম্পদ অর্জনের বৈধ কোনো উৎস নেই এবং তা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। এ অপরাধে সংস্থাটির ২০০৪-এর ২৭ (১) ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২০১২-এর ৪ (২), (৩) ধারায় মামলা করে দুদক।
এছাড়াও ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলার পৃথক দু’ধারায় গত বছর ৯ নভেম্বর এস কে সিনহাকে ১১ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।বাসস।